শিক্ষাঙ্গন

বউ পেটানো সেই আকতারুজ্জামানই শারীরিক শিক্ষার ডিডি!

নিজস্ব প্রতিবেদক,১০ এপ্রিল, ২০১৯ : বউ পেটানো ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় চার বছর বরখাস্ত ছিলেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ভূঞা। তিনটি মামলায় এখনও আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন তিনি। কঠোর শাস্তি হওয়ার কথা থাকলেও বাড়ৈ সিন্ডিকেটের সহায়তায় তার শাস্তি কমিয়ে শুধু ‘বেতনস্কেল এক ধাপ নিচে’ নামানো হয়। দণ্ড পাওয়ার তথ্য গোপন রেখে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন আকতারুজ্জামান

সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক পদও বাগিয়েছেন তিনি।  নতুন পদায়নে বাড়ৈ সিন্ডিকেটে খুশির জোয়ার বইলেও শিক্ষা ক্যাডারের সৎ ও আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তারা যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। তথ্য গোপন করা আকতারুজ্জামান গংদের প্রকৃত তথ্য ও রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে পুরান  ও নতুন সংসদ ভবনে ছুটেছেন ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা। আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিডিনিউ এবং ধানমন্ডির অফিসেও পৌঁছানো হয়েছে আকতারুজ্জামানদের প্রকৃত তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তথ্য গোপন করেছেন আকতারুজ্জামান। নিজ হাতে লেখা পার্সোনাল ডাটা শিটে (পিডিএস) বরখাস্তের তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এসিআরও নেই। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর তার বেতন স্কেল একধাপ নিচে নামিয়ে দেয়র তথ্যও নেই। শিক্ষা অধিদপ্তরের এসিআর-ডোসিয়ারেও তথ্য নেই।   বিএনপি-জামায়ত জমানায় তিনি ঢাকায় ভালো পদে থাকলেও সেই তথ্য চেপে রেখেছেন।

আকতারু্জ্জামানের পিডিএসে বদলি ও পদায়নের বিবরণে লেখা রয়েছে, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর তিনি ভোলা সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। শেষ কবে তা উল্লেখ নেই। তার আগে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই থেকে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত রামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক পদে ছিলেন। তারও আগে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ১৩ জুলাই পর্যন্ত প্রভাষক হিসেবে ছিলেন। সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে। একইদিনে ওই পদে যোগদান করেছেন লিথলেও কোথায় যোগদান করেছেন তা উল্লেখ করেননি। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ভূঞা দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, এখন আমি একটি প্রশিক্ষণে আছি। এ বিষয়ে কখা বলতে পরে যোগাযোগ করুন।

উল্লেখ্য, শারীরিক শিক্ষার উপপরিচালক পদটি অন্যতম লোভনীয় পদ। শিক্ষাবোর্ডগুলোর অঢেল টাকায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা আয়োজনের যাবতীয় কেনাকাটা আর লুটপাটের সুব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের বড় কর্তাদের নানাভাবে খুশি করে এর আগে একজন কর্মকর্তা টানা ৯ বছর এই পদে ছিলেন। 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২৮ বেসরকারি কলেজে পাঠদানের বিষয়ে অনুমতি

ডেস্ক,১০ এপ্রিল: আরও ২৮ বেসরকারি কলেজে পাঠদানের বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমতি প্রদানের বিষয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে ঐসব কলেজের নামে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৭ বছর পর প্রধান শিক্ষক হবেন প্রাথমিকের সহকারীরা

ডেস্ক, ৯এপ্রিলঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির বিবেচনায় আসবেন। এমন বিধান রেখে নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে তা পূরণ করা যাবে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং নিয়মানুযায়ী প্রশিক্ষণ থাকলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির বিবেচনায় আসবেন। আর সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই সরাসরি এবং পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি। এতদিন সব প্রধান শিক্ষক ও পুরুষ সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল। এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হতে নারী প্রার্থীদেরও শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (অনার্স) হতে হবে। আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য ২৫ থেকে ৩৫ বছর এবং সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যেত। এখন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর। বিধিামালায় বলা হয়েছে, সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে। নির্ধারিত কোটার শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে (মহিলা ৬০%, পোষ্য ২০% ও অবশিষ্ট পুরুষ ২০%) অবশ্যই ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।” তবে বিজ্ঞান ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের দিয়ে ওই ২০ শতাংশ কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে তা পূরণ করা যাবে বলেও বিধিমালায় বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদ তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। তখন থেকে প্রধান শিক্ষকের ৩৫ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয় সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন মঙ্গলবার বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে এখন নারী-পুরুষ সবার যোগ্যতাই স্নাতক করা হয়েছে।” সচিব বলেন, “আগে এইচএসসি পাস যোগ্যতা (নারী সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা) চাওয়া হত, তখন স্কেল ছিল একটা, এখন যেহেতু নূন্যতম যোগ্যতা স্নাতক সুতরাং অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে স্নাতকের যে স্কেল আছে তার থেকে কম হওয়া উচিত না, আমরা সেভাবেই অর্থ বিভাগের সাথে প্রাথমিক আলোচনা করেছি এবং সেভাবেই প্রস্তাব তৈরি করছি।”

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা: অনুমোদন পেল ২০ বিষয়ের সিলেবাস

ডেস্কঃ সিলেবাসে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য এনটিআরসিএ প্রণয়নকৃত ২০টি নতুন বিষয়  অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়ার জন্য ২০টি নতুন বিষয়ের সিলেবাস প্রণয়ন করে এনটিআরসিএ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিলেবাসগুলো পাঠানো হয়। এ বিষয়গুলোর সিলেবাসে অনুমোদন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

এ বিষয়গুলো হলো, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং, প্রিন্ট মেকিং, কমার্সিয়াল আর্ট ও কম্পিবুটার গ্রাফিক্স, সিরামিক, স্কাল্পচার, ক্রাফটস, সভ্যতার ইতিহাস ও শিকল্পকলার ইতিহাস, চারু ও কারুকলা, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স, প্রাণি চিকিৎসা ও উৎপাদন, মৎস, কৃষি প্রকৌশল, গণিত পরিমিতি ও পরিসংখ্যান, আদব, ফিকহ, হাদীস, তফসীর ও আইসিটি। 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল এ মাসেই

ডেস্ক রিপোর্ট : আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকাশিত হয়নি ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরীক্ষার খাতা দুজন পরীক্ষক দেখছেন বলে কিছুটা সময় লাগছে। তবে এই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। আলাদা আলাদা ক্যাডারের আলাদা আলাদা বিষয় থাকে। সেই খাতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষককে দেখতে দেয়া হয়। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার খাতা দুজন পরীক্ষক দেখছেন। আমরা চাই, প্রত্যেক প্রার্থীর খাতারই সঠিক মূল্যায়ন হোক। এ জন্য কিছুটা বেশি সময় লাগলেও প্রার্থীরাই লাভবান হবেন। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খাতা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’

তবে এপ্রিলের মধ্যেই এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মোহাম্মদ সাদিক।

৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত বছরের ১৩ আগস্ট। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এর ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি, শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।

সূত্র : যায়যায়দিন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করানোর শেষ সুযোগ পাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ,০৯ এপ্রিল, ২০১৯ :

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে এনটিআরসিএর সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের যোগদান করানোর শেষ সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের যোগদানে বাধা দেয়ায় সাড়ে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ প্রেক্ষিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সুপারিশপ্রাপ্তদের শিক্ষক পদে যোগদান করিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শেষ সুযোগ দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (৮ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্বস্ত সূত্র দৈনিক শিক্ষা বার্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে গত ডিসেম্বর মাসে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। এ প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে সাড়ে ৩১ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করায়নি অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। এ প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী প্রার্থীরা আবেদন করেছিলেন এনটিআরসিএতে। তাদের আবেদনগুলো আমলে নেয় মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ। সম্প্রতি সাড়ে তিনশর বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যনেজিং কমিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগে শেষ সুযোগ দেয়া হবে। এ প্রেক্ষিতে চিঠি দেয়া হবে। সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করিয়ে নিতে বলা হবে চিঠিতে। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন জারি করা বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর ১৮ এর (ঘ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এনটিআরসিএতে শিক্ষক চাহিদা দিলে উক্ত পদে মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে। প্যাটার্নের অতিরিক্ত চাহিদা দিলে উক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাহ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন ভাতা স্থগিত বা বাতিল করা হবে এবং পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিও শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার চেক ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক,৯ এপ্রিল ২০১৯: এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৪২৬ বঙ্গাব্দের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতার চেক ছাড় হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অনুদান বণ্টনকারী চারটি ব্যাংকে চেক পাঠানো হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ১৫২৯ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিজস্ব প্রতিবেদক,৮ এপ্রিল: নতুন করে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) পাচ্ছে দেশের ১৫২৯টি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনভাতার জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ২২৮ কোটি টাকারও বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের পর এমপিওভুক্ত এই শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতনভাতা পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘মোট এক হাজার ৫২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এমপিওভুক্ত করা হবে। বাজেটের পর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অনলাইনে আবেদন করে এমপিওভুক্ত হবেন এবং নিয়মিত সরকারি বেতনভাতার অংশ পাবেন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাবদ এক হাজার ২৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল এবং কলেজের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে ৭৪৯ কোটি টাকা। বাকি টাকা মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়। দেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করলেও এরমধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে খুবই কম। নতুন এমপিও’র জন্য চারটি শর্ত দিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চারটি শর্ত হলো— প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার। যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলো পূরণ করেছে তাদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে শীর্ষ এক হাজার ৫২৯টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১০ সালে সরকার এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২৭ হাজার ৮১০টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬২ জন। প্রতি মাসে এদের বেতনভাতা বাবদ সরকারের খরচ হয় প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এছাড়া, বর্তমানে দেশে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এক হাজার ২৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। আর অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির বাইরে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের রং হবে আলাদা

ডেস্ক,৮ এপ্রিল : পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন বিতরণে উল্টাপাল্টা হওয়ায় পাবলিক পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয় পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নের রং ভিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রশ্নের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাবর্ষের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। ভালো প্রস্তুতির পরও ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়ায় আশানুরূপ উত্তর দিতে সক্ষম হয়নি অনেকে।

অন্যদিকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। এদিন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তিন পরীক্ষা কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ২০১৯ সালের প্রশ্নের পরিবর্তে ২০১৬ ও অন্যান্য সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। অথচ অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য এসব প্রশ্ন তৈরি করা হলেও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার ভুল প্রশ্ন বিতরণ করার ঘটনা তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়া যায়। এসব ঘটনা আমলে নিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের রং ভিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউর হক রোববার বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন রংয়ের প্রশ্ন তৈরি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা থেকে ভিন্ন রংয়ের প্রশ্ন বিতরণ করা হবে। দ্রুতই বিজি প্রেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা বোর্ড আইনের খসড়া প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,০৮ এপ্রিল, ২০১৯: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ড আইন চূড়ান্ত করতে জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (৭ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আইনের খসড়াটি প্রকাশ করে।

জানা গেছে, আইনের খসড়া্র বিষয়ে মতামত গ্রহণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইমেইলে law1@moedu.gov.bd ঠিকানায় ৭ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আইনটির খসড়ার বিষয়ে মতামত পাঠানো যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কেন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই জাপানে? কারণ জানলে বিস্ময় জাগবে।

অনলাইন ডেস্ক,৮ এপ্রিল ২০১৯:

ছাত্রজীবনে সবারই কখনও না কখনও মনে হয়, ইশ যদি পরীক্ষার ঝামেলাই না থাকত কতই না ভাল হত! তার অন্যতম কারণ হতে পারে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন জাপানে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের কোনও পরীক্ষাই নেওয়া হয় না।

প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নত দেশগুলির মধ্যে একটি হল জাপান। তবে শুধু প্রযুক্তি কেন শিক্ষা, বিজ্ঞান-সব দিক থেকেই উন্নতির অন্যতম শিখরে রয়েছে এই দেশ। জাপানি সংস্কৃতি এতটাই বৈচিত্রপূর্ণ যে, প্রথম থেকেই পশ্চিমী দেশগুলির কাছে চর্চার অন্যতম বিষয়। কিন্তু এদেশে শিশুদের চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পরীক্ষা নেওয়া হয় না। জাপান সরকার মনে করে শুধুমাত্র পড়াশোনা করলে এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার চাপ দিলেই যে উন্নতি করা সম্ভব এমন ধ্যানধারণা সঠিক নয়। সেইকারণেই এদেশে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্গত কোনও বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয় না। বরং তার জায়গায় শিশুদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক বিকাশ সুনিশ্চিত করাই এখানকার স্কুলগুলির প্রধান লক্ষ্য।

জাপানের স্কুলগুলিতে খুব ছোট থেকেই ছেলে-মেয়ের আচার-আচরণ এবং শিষ্টাচারের ওপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লক্ষ্য থাকে যাতে খুব ছোট থেকেই যাতে শিশুদের মধ্যে মনুষ্যত্ত্বের বিকাশ ঘটে এবং তারা যাতে আদর্শবান মানুষ হয়ে উঠতে পারে সেই চেষ্টাই করেন তাঁরা। তাই ছোট থেকেই জীবন-যুদ্ধে সামিল হওয়ার চেয়ে জীবনকে কী করে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের সেই শিক্ষাই দেন তাঁরা। বিষয়টি খুব সহজ সরল এবং আকর্ষণীয় বলে মনে হলেও এই নিয়মকে বাস্তবে রূপায়িত করা খুব সহজ কাজ নয়।

কিন্তু কেন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই জাপানে? কারণ জানলে বিস্ময় জাগবে। স্কুলে ভর্তির পর থেকে প্রথম চার বছর প্রথম চার বছর পর্যন্ত শিশুদের তাদের দোষ-গুণের মানদণ্ডে বিচার করা হয় না। তাদের মধ্যে কে ভাল বা কে খারাপ সে বিচার না করে বরং কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ, কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল সে শিক্ষা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, বা কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় ইত্যাদি নীতিগত শিক্ষা প্রদানের ওপর জোড় দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পাশাপশি প্রকৃতির মধ্যে পশু-পাখির সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়,-সেই শিক্ষাও ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল থেকেই পায়। শুধু তাই নয়, শিশুরা যাতে খুব অল্প বয়স থেকে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য, জামাকাপড় পড়া, নিজে হাতে খাবার খাওয়া, নিজের জিনিস নিজেই গুছিয়ে রাখার মতো ছোট ছোট কাজ হাতে ধরে শিখিয়ে দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এইসবের মাঝে যে পড়াশোনাকে একেবারে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়, তা কিন্তু একেবারেই নয়। রোজের পড়াশোনা রোজ করতে হয় এবং প্রয়োজনে সপ্তাহান্তে এবং ছুটির দিনেও পড়াশোনা করতে হয়। বছরের পর বছর এক ক্লাসে থেকে যাওয়া সে দেশে বিরল। স্কুলের পরেও ছাত্র-ছাত্রীরা যোগ দেয় বিভিন্ন ওয়ার্কশপে। সাধারণত বিকেলের পর এই ওয়ার্কশপগুলি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গেম শো, ক্যুইজ-এর আয়োজন করা হয়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মাথায় পড়াশোনার পাহাড় চাপিয়ে না দিয়ে অন্য কৌশলে তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার এই পদ্ধতির জন্যই জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার কথা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাপানে শিশুদের পুঁথিগত শিক্ষার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তাদের স্বাস্থ্যের ওপর। এইজন্য ছোট থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সুস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ নজর দেয় সেখানকার স্কুলগুলি। শুধু তাই নয়, সহপাঠীদের সঙ্গে একসঙ্গে ভাগ করে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও শুরু হয় স্কুল থেকেই। অন্যান্য দেশে যেখানে পাঠ্যবই এবং পরীক্ষার বাইরে সেই অর্থে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় না, বা হলেও তা সর্বদাই গৌণ ভুমিকা পালন করে, সেখানে জাপানে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করে দিয়ে তার সঙ্গে সখ্যতা তৈরির ওপরেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সব ক্ষমতা হারাচ্ছে ম্যানেজিং কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ এপ্রিল : বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের কোনো ক্ষমতাই আর থাকছে না প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির হাতে। এবার থেকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ সব পদেই নিয়োগের লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিধিমালার কয়েকটি বিষয় সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সব পদে নিয়োগে বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ)।

এরপর গত বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) নিয়োগের বিধি সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে সভা করেছেন এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা। আগামী বছর থেকে এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এর আগে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর থেকে এন্ট্রি লেভেলের (প্রভাষক, সহকারি শিক্ষক, মৌলভি শিক্ষক) শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাত থেকে নিয়ে এনটিআরসিএকে দেয়া হয়। আর পরিচালনা কমিটির হাতে থাকে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ও সুপার এবং কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা। তৎকালীন শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খানের উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৃহস্পতিবারের সভা শেষে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, নতুন করে কী কী সংযোজন করা দরকার এবং কোন রূপরেখায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে আরও বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।

তবে এ কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময়ের প্রয়োজন এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সব পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এ কার্যক্রম শুরু করতে বিধিমালার রূপরেখা কেমন হতে পারে সেসব নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি নিয়ে আরও অনেক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, কর্মচারী পদগুলোতে নিয়োগ সুপারিশের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি কলেজে গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ এবং স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটির সদস্যরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগ দেন। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

সভায় জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সব পদে নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে দেয়ার জন্য কী কী পরিবর্তন করতে হবে তার একটি প্রস্তাব আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। একইসঙ্গে প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।

এব ব্যাপারে বাংলাদেশ অ্যধক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও নিয়োগের আংশিক ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাত থেকে নিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকিটুকু যত তাড়াতাড়ি নেয়া যায় ততই ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে। ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা মানসিক ও নৈতিকভাবে অসৎ। তারা নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সৃষ্টি করতে পারবেন না। ফলে লাখ লাখ সাটিফিকেটধারী সৃষ্টি হবে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত জনসম্পদ হবে না।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দূর্গা পুজার ছুটি ৩দিন থেকে বাড়িয়ে ৭ দিন করার আবেদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ এপ্রিল ২০১৯: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ  বাংলাদেশ। এদেশে প্রচীনকাল থেকেই নানা ধর্ম -বর্নের মানুষ এক সাথে বসবাস করে আসছে। এ জন্যই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশের রোল মডেল হিসাবে পরিচিত।  এদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একত্রে তাদের ধর্মানুষ্ঠান পালন করেন। স্বাধীনতার পর এদেশের মুলমত্র ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সকলের সম অধিকার।

দূর্গা পুজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দূর্গা পুজার ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন করা হয়। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠী থেকে দশমি দূর্গা পুজার আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু এ বছর অষ্টমী থেকে ছুটি দেয়া হয় দশমী পর্যন্ত মোট ৩দিন ছুটি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত ভট্রাচার্য মনি বলেন, তার চাকুরিকালের এটি প্রথম এমন ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দূর্গাপুজার ছুটি ৩ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার পূর্ননির্ধারনের দাবী জানান।

বর্তমান সরকারের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা আসন্ন দূর্গা পুজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। দূর্গাপূজাই এক মাত্র সার্বজনীন অনুষ্ঠান যেখানে সকল ধর্ম-বর্নের মানুষ ৫ দিন ব্যপি অনুষ্ঠান পালন করেন। হিন্দুরা  ধর্মিয় দিক থেকে এদেশের দ্বিতীয় সংখ্যগরিষ্ঠ জাতি। সুতরাং এই বৃহৎ অনুষ্ঠানটিতে কমপক্ষে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হোক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুই বছরের মধ্যে ৫৪৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৭ এপ্রিল, ২০১৯ :

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৫৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই জোন করে দেয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উদ্বুদ্ধ হয় বলে জানিয়েছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে BUP Info Tech এবং Robotics Club-এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘বিইউপি টেকসারজেন্স-২০১৯’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতার বাহিরে না থাকে, তার জন্যও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেক্টরে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদৃষ্টি ও চিন্তা-ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চ্যান্সেলর মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী, এনডিসি, পিএসসি, টিই এবং বিইউপির প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফ্যাকাল্টি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহিদুর রহিম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

ওই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে ছিল ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, হ্যাকাথন, রোবো সকার, ম্যাথ অলিম্পিয়াড, আইসিটি অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট শোকেসিং, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, গেমিং প্রতিযোগিতা, লাইট ফলোয়ার রোবট প্রতিযোগিতা ও আইটি বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এবারের প্রতিযোগিতায় ২০টি কলেজ ও ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিকসহ বিইউপির সব স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ,৬ এপ্রিল ২০১৯ : সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে সহজ সমাধান আর হলো না। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পূর্বে প্রাপ্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের দাবিতে দীর্ঘদিন অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ফল না পেয়ে আদালতে যেতে হলো শিক্ষকদের। ইতোমধ্যে টাইম স্কেল ও সিলেকসন গ্রেডের বিষয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশেব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ১৯৯৭ থেকে ২০০২ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকদের বকেয়া ২য় টাইম স্কেল প্রদান, ২০০৫ ও ২০০৬ ব্যাচের শিক্ষকদের বকেয়া প্রথম টাইম স্কেল প্রদান এবং ২০০৯ থেকে ২০১১ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকদের নবম গ্রেড প্রদান করার দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছিলো বাংলাদেশ সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। তাত্ওে কোনো ফল পায়নি শিক্ষকরা।

প্রায় ৬হাজার শিক্ষক কোন্ অজানা কারণে প্রাপ্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাচ্ছেন না তা তারা জানেন না। শিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় একে-অপরের উপর দায় চাপিয়ে দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন। দুই মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালিতে কোনো সমাধান না দেখে আদালতের স্মরণাপন্ন হতে বাধ্য হলেন শিক্ষকরা ।

চলতি বছরের ১১ মার্চ বকেয়া টাইম স্কেল আদায়ে বাংলাদেশ সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) ও ১২৬৮ জন শিক্ষকের পক্ষে প্রথম রিটটি করেন নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম । ওই রিটের প্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর ৭/২ এবং ৭/ ৯ ধারা অনুসারে যোগদান থেকে চাকরিকাল গণনা করে ৪বছর পূতিতে সিনিয়র গ্রেড ৮বছর পূতিতে ১ম টাইম স্কেল ১২ বছর পূতির্তে ২য় টাইম স্কেল কেন দেয়া হবেনা মর্মে রুল জারি করেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব এবং মাউশির মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আবার ২০১৫ সালে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপের বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ভোলার ফজিলাতুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোহাম্মাদ আলী বেলালসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩৮৮ জন সরকারি শিক্ষক। সেই রিটের উপর শুনানি শেষে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের সিলেকশন গ্রেড এবং টাইমস্কেল বাতিল করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাসচিব এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

গত বছরের ১২ এপ্রিল ১৯৯ ব্যাচের ১৬৫ জন শিক্ষক টাইম স্কেল সংক্রান্ত আরেকটি রিট দায়ের করেন মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. মঈন উদ্দীন। সেই রিটেও জবাব চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

প্রথম রিটকারী এবং টাইম স্কলে ও সিলেকশন গ্রেড বাস্তবায়ন উপ-কমিটির আহবায়ক মো. আব্দুস সালাম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ি ৪ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জবাব আদালতে দাখিল করেন নি। ঈদের পর শুনানী হবে বলে তাকে জানান মামলার আইনজীবিরা। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলেই টাইমস্কেল মঞ্জুরি আদেশ জারি করতে পারেন। যেহেতু শিক্ষকদের পাওনা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে জারি হওয়ার পূর্বের এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে জটিলতা নিরসনে ইতিবাচক সম্মতিও প্রদান করেছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রণালয়ের এই সম্মতি প্রদান করে দেওয়া চিঠিকে অস্পষ্ট বলে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা। তবে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এই চিঠিকে স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেছিলেন।

অষ্টম বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৫ সালের ১জুলাই থেকে। যেখানে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছিলো। আর সহস্রাধিক সহকারী শিক্ষক টাইমস্কেল পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন ২০১৩/২০১৪ সালে। এই হিসেবে এসব শিক্ষক এক/দুইবছর আগেই টাইম স্কেল সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু দুই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা ও ক্ষেত্রবিশেষ গাফিলতির কারণে হাইস্কুলের শিক্ষকরা এই আর্থিক ও মর্যাদার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ২০১২ সালের সরকার এক গেজেট জারি করে সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ মর্যাদা দেয় এবং পদ অনুযায়ী তাদের দুটি টাইমস্কেল ও একটি সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার কথা। কিন্তু ২০১৫ সালের পে-স্কেল আদেশ অনুযায়ী সিলেকশন গ্রেডও টাইমস্কেল বিলুপ্ত করা হয়।

গত ২১ মে মির্জা বায়জিদ আহমেদ নামের একজন শিক্ষক ফেসবুকে হতাশা ব্যাক্ত করে বলেন, গত বছরই চাকুরিকাল ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। আশা ছিল, একটা টাইমস্কেল পাবো; নিজের বেতনভাতা উন্নীত হবে; সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্তঃ এবং আন্তঃপ্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান আরেকটু এগিয়ে যাবে। কিন্তু সেই আশা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এর কুচক্র-কুটকৌশলের জিঞ্জিরে আটকা পড়ে গেল। অতঃপর, যা পেলাম তা শুধু একরাশ চাপাকান্না। এতদিনে বুঝে গেছি, `শিক্ষক` নামক এই নিরীহ শ্রেণিগোষ্ঠীকে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে ভাববার মতো এই বাংলাদেশে একজনও নেই, হ্যাঁ, একজনও না! কেনই বা ভাববে, শিক্ষকরা কি কারো ক্ষমতা রক্ষায় ও কুক্ষিগতকরণে অবদান রাখতে পারে? বাদ দিন, “জাতির কারিগর” নামক একটা ভাওতাবাজি। পান থেকে চুন কষলেই আজ যে কেউ শিক্ষকদের মাথায় গোবর লেপ্টে দেয়, কলার ধরে, থাপ্পড় মারে, ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেয়। এই হচ্ছে শিক্ষকদের বর্তমান সামাজিক অবস্থান। আফসোস!!

জানা যায় “জাতীয় বতেন স্কলে, ২০০৯ এর ৭(২) ধারা অনুযায়ী ১০ম গ্রডেে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকগণের ০৮ বছর চাকরকিাল পূর্ণ হয়েছে ২০০৫ ও ২০০৬ ব্যাচের এমন ১,৩৩৫ জন সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা ৮ম গ্রেডে‘প্রথম টাইম স্কেলে’ এবং ১২ বছর চাকুরিকাল পূর্ণ হয়ছেে ২০০১ ও ২০০২ ব্যাচের এমন ১,৩১৩ জন সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা ৭ম গ্রডেে ‘দ্বিতীয় টাইম স্কেল’ প্রাপ্য। আর ৭(৯) ধারা অনুযায়ী ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ ব্যাচের প্রায় ৩০০০ হাজার শিক্ষক চাকরির ৪ বছর পূর্তিতে ৯ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেডে যথাক্রমে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রাপ্য হয়ছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাধ্যমিক প্রফেসর ড. মো. আবদুল মান্নান এডুকেশন বাংলা’কে বলেন, আমি মনে করি জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পূবেরর্ প্রাপ্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড শিক্ষকরা পাবার অধিকার রাখে। শিক্ষামন্ত্রণালয়্ও এ ব্যাপারে আন্তরিক। শুনেছি অর্থমন্ত্রণালয়ে এ বিষয়টি আটকে আছে। তবে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সংক্রান্ত আদালতে রিটের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free