Home » শিক্ষাঙ্গন (page 2)

শিক্ষাঙ্গন

নুতন করে এমপিওভুক্ত হলেন যেসব শিক্ষক

ডেস্ক,১৮ ডিসেম্বর:
এমপিওভুক্ত হলেন বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরও ১২৫ জন শিক্ষক। চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে তাদের এমপিও কার্যকর হবে। এদের মধ্যে এইচএসসি বিএম শিক্ষাক্রমের ৩০ জন এবং এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের ৯৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, এমপিও অনুমোদন কমিটির ৮ম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৭ ডিসেম্বর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

গত বছর জারি করা এমপিও নীতিমালার আলোকে এ ১২৫ শিক্ষকের পদের প্রাপ্যতা থাকায়, নিয়োগের শর্ত পূরণ করায় এবং সনদ সঠিক থাকায় এমপিও অনুমোদন কমিটির সভায় তাদের এমপিওভিুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

নতুন যে নিয়মে শিক্ষক নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ

ডেস্ক.১৭ ডিসেম্বর:
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে এনটিআরসিএ। ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে শিগগিরই। গত নিয়োগে হওয়া জাটিলতা এড়াতে ই-রিকুইজিশন বা শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে এনটিআরসিএ।

পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন বলেন, নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াটা গত বছরের মত আর থাকছে না।

এস এম আশফাক হুসেন বলেন, আগামী আবেদনের সময় যারা দরখাস্ত করবেন তারা দরখাস্ত করার সময় সব ক্লিন পাবেন। ওনাদের আর সন্দেহের মধ্যে থাকা লাগবে না। আগে যেটা ছিল সেটা হলো সিলেকশন করা লাগত। আসলে বেশি যে সমস্যা হয়ে গিয়েছিল কম্ববক্স থেকে ড্রপডাউন মেনু দিয়ে সিলেক্ট করতে হতো পদের নাম।

‘সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ ও ফিজিক্যাল সাইন্স এই দুইটা পাশাপাশি থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ই-রিকুইজিশনের জন্য যখন সিলেক্ট করতে গেছেন তখন ভুলে ফিজিক্যাল সাইন্সে না করে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজে ক্লিক করে ফেলছেন। এখন যে শূন্য পদ পেয়েছে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজে অথচ নিয়োগ দিয়েছে ফিজিক্যাল সাইন্স কিন্তু গিয়ে দেখা যায় সেখানে এই পদই নেই।’

এ সমস্যার পর এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন আমিতো এটা দেই নাই। অসলে ওনি মনে করেছেন আমি সিলেক্ট করেছি ফিজিক্যাল সাইন্স কিন্তু এটা যে সিলেকশনের সময় ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ সিলেক্ট হয়ে গেছে যেটা ওনি বুঝতেই পারেন নাই। আর তাই আমরা সফটওয়্যারকে অনেকগুলো কন্ডিশনাল মাসকিং করব, যাতে করে কেউ ভুল তথ্য না দিতে পারে।

উদাহরন হিসেবে এস এম আশফাক হুসেন বলেন- ধরুন সব পদ আমি দেখাব না, এই স্কুল যে কয়টা পদ আছে ক্লিক করলে শুধু ওই কয়টাই দেখাবে। আবার ধরুন- ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ নাই যেই স্কুলে এখানে এটা দেখাবেই না। কিন্তু এখন কম্ববক্সটাতে দেশের যত পদ আছে সব আছে।

তিনি বলেন, আমরা এগুলোকে আরো ফিল্টারিং করব। ফিল্টারিং করলে ওই স্কুলে যে কয়টা আছে শুধু ওই কয়টাই যদি আমি দেখাই তাহলে ভুল করার সম্ভাবনা কম থাকবে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের দরখাস্ত ও ই-রিকুইজিশন করার প্রক্তিয়াটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে। দরখাস্ত করার ক্ষেত্রেও আমরা সব দিক-নির্দেশন দিয়ে দিব কিভাবে ফিলাপ করতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা ই-অ্যাপ্লিকেশন ও ই-রিকুইজিশন দুটাই পর্যালোচনা করে ফেলেছি, এবং ফাইনাল পর্যালোচনা ই-রিকুইজিশন এই মাসের আগামী সপ্তাহে হবে। সেখানে যেসব জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বুঝতে সমস্যা হতে পারে সেগুলোকে আরো পরিক্ষার করে দিব। ইতোমধ্যে আমাদের টিম করে ফেলছে, ফাইনালটা আমি দেখব।

এস এম আশফাক হুসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাতেহাতে দেখিয়ে দেওয়ার পরেও যদি কেউ ভুল করেন তারপর আর কালেকশন করা হবে না। এবং প্রত্যেকেই যে যার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন তা সঠিকভাবে করতে হবে।

‘এখন আমি যদি হেড অব ইনস্টিটিউট হই, আমার দায়িত্ব সঠিক ই-রিকুইজিশন দেওয়া। যদি সঠিক ই-রিকুইজিশন না দিতে পারি তাহলে নিজের আয় থেকে বেতন দিব। ওনাকে এটা দিতে বাধ্য না করতে ওনি ঠিক হবে না। একইভাবে জেলা শিক্ষা অফিসার ক্ষেত্রেও। ওনি যদি ভুল করে শূন্য পদ নয় অথচ দেখিয়ে দিলেন শূন্য তারপর আমি লোক নিয়োগ দিলাম, এবার যদি এমপিও না হয় ওনাকে সেই সমস্যা একা সমাধান করতে হবে আমি আর দায়িত্ব নিব না।’


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

শিক্ষক নিয়োগে যাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বয়সসীমা প্রযোজ্য নয়

ডেস্ক,৯ ডিসেম্বর:

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০১৮ সালে করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় উল্লিখিত শিক্ষক নিয়োগে ৩৫ বছর বয়সসংক্রান্ত বিধান বৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত।

অর্থাৎ বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ২০১৮ সালে এমপিও নীতিমালা জারির আগে যারা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে না।

প্রায় ৭ মাস আগে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে দেওয়া রায়ের অনুলিপি রোববার প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বয়সসীমা নীতিমালা হওয়ার আগেই এনটিআরসিএর সার্টিফিকেট প্রাপ্তদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের বয়সসীমা আরোপ ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আবেদনকারীদের মধ্যে যারা সমন্বিত জাতীয় মেধা তালিকা অনুযায়ী যোগ্য তাদের আইন অনুযায়ী নিয়োগের।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৪ জুন সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পৃথক এমপিও নীতিমালা জারি করে।

এগুলো ছিল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামা ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮, বেসরকারি কারিগরি কারিগর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮। সব নীতিমালাতেই এমপিও দেওয়া, শিক্ষক নিয়োগ, প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের মৌলিক শর্তগুলো প্রায় অভিন্ন। জারি করা এসব নীতিমালায় বলা হয়, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন না। পাশাপাশি শিক্ষকদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর। এরপর একই বছরের ১০ জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম থেকে ১৩তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সম্মিলিত একটি জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএ। এর পর মেধাতালিকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু নীতিমালায় শর্তের কারণে অনেকের বয়স ৩৫ বছর পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেকেই নিয়োগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এর পর বঞ্চিতরা হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট করেন। এসব রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে পৃথক রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে এসব রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি করে গত ১৬ মে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

ভুয়া ডিগ্রি, চাকরি গেল ২১৪ স্কুল শিক্ষকের

ডেস্ক,২ ডিসেম্বর:

ভুয়া বিএড ডিগ্রি দেখানোয় ২১৪ জন স্কুল শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের বহিষ্কার করে। এর মধ্যে ভাতের উত্তর প্রদেশের এটাহ জেলায় ১১৬ জন ও মৈনপুরীতে ৭৪ জনসহ মোট ২১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

বিশেষ তদন্তকারী দল এই শিক্ষকদের পেশ করা নথিতে গরমিল পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেই সে রাজ্যের সরকার।

ভুয়া ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের সনাক্ত করতে ২০১৭ সালে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশের ডিজিপি। বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তে উঠে আসে, আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪,৭০৪ জনকে ভুয়া ডিগ্রি বিলি করেছে। তার মধ্যে ১,৪২৪ জন ওই শংসাপত্র দেখিয়ে স্কুল শিক্ষকের চাকরিও পেয়ে যান। শিক্ষা বিভাগে এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তারা।

উত্তর প্রদেশের শিক্ষা সচিব রুবি সিং বলেন, এখনো পর্যন্ত ২১৪ জনকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৬১৮ জনের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। উত্তর প্রদেশের আরও ১১টি জেলায় তদন্ত চলছে। আরও শিক্ষকের চাকরি যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় ৮ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

নওগাঁ প্রতিনিধি,৩০ নভেম্বর:

নওগাঁ সদর উপজেলার ‘ভীমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় আটজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট) উত্তীর্ণ হতে না পেরেও আত্মীয়, রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ার সুবাদে অনেকের ফরম পূরণ করার সুযোগ হয়েছে। তবে এই আটজন পরীক্ষার্থী তাদের ফরম পূরণ করতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিয়ে প্রধান শিক্ষক বছর শেষে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। বিদ্যালয়ের বিষয়গুলো বাহিরে যেন প্রকাশ না পায় এজন্য শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। মানবিক শাখায় অনলাইন খরচসহ ফরম পূরণে ফি ২ হাজার টাকা ও বিজ্ঞান শাখায় ফি ২ হাজার ১০০ টাকা করে নেয়ার নিয়ম।

কিন্তু নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফিয়ের সঙ্গে কোচিং ফি নামে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং টাকা নেয়ার কোনো রসিদ দেয়া হয়নি।

এবার বিদ্যালয় থেকে ৮৬ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে টেস্ট পরীক্ষায় সব বিষয়ে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখা থেকে ৩০ জন কৃতকার্য হয়। ৭৮ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে ৩৭ জন এবং মানবিক শাখা থেকে ৪১ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়।

তবে প্রধান শিক্ষক তার উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থী আবু নাঈম, স্বাধীন, মুকুল, মোস্তফা, বাঁধন ও মিসবাউলসহ আটজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ফয়সাল হোসেন গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। তার মামা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার সুবাদে কোচিং ফি ১ হাজার টাকাসহ ৩ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম জানায়, ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। আর্থিক দৈন্যতার কারণে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারতাম না। প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন-পরীক্ষা দেয়ার দরকার নাই। কারণ তুমি ঠিকমতো ক্লাস করনি। সে জানায়, ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় প্রধান শিক্ষক ১ হাজার ১০০ টাকা জরিমানাও করেছিলেন। পরে অনুরোধ করে ৭০০ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ফরম পূরণের কথা বলি- তখন স্যার আজ নয়, কাল বলে ৮/৯দিন ঘুরায়।

আবু নাঈম জানায়, আমার পরীক্ষা দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও স্যারের কারণে আর সম্ভব হচ্ছে না। যে ৭০০ টাকা দিয়েছিলাম সেটাও আর ফেরত দিবেন না বলে প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন। অথচ কয়েকটা বিষয় ফেল করার পর অনেকেই ফরম পূরণ করেছে।

মানবিক বিভাগের এক শিক্ষার্থী আবু রায়হান জানায়, তার ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ইনফেকশন হওয়ায় সাধারণ বিজ্ঞান ছাড়া বাকি সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ফলাফলের সময় প্রধান শিক্ষক সব বিষয়ে অকৃতকার্য (ফেল) করিয়ে দেয়। পরে ফরম পূরণ ও কোচিং ফিসহ ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। আর কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কোনো রশিদ দেয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা টেস্ট পরীক্ষা অকৃতকার্য হয়েছে বিশেষ বিবেচনায় কয়েকজনকে ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২১ নভেম্বর ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে গেছে। যাদের ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়নি তারা তো নিজের নাম লিখতে ভুল করে। এ ছাড়া কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াসিউর রহমান বলেন, কোচিং বাধ্যতামূলক করার কোনো নিয়ম নাই। এ ছাড়া বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়ার নিয়ম নাই। এসব বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

কুবিতে ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েও মেধা তালিকায়!

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ নভেম্বর:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার পরও এক আবেদনকারী ১২তম হয়েছেন।

ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. সাজ্জাতুল ইসলাম। বাবার নাম মো. রেজাউল করিম। ভর্তি পরীক্ষায় রোল নম্বর ২০৬০৫০।

গত ৮ নভেম্বর বি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং সাজ্জাতুলের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল কুমিল্লার টিচার্স ট্রেনিং কলেজ।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রে কোনো শিক্ষার্থী ভুলবশত অথবা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর রোল লিখেছে। অবশ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের অবহেলার কারণেও এটা ঘটতে পারে। এ বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ভাইবায় ওই শিক্ষার্থীকে আটক করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে ভাইবা দিতেও আসেনি। এখানে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কোনো দায় থাকতে পারে না। আমরা নিরাপত্তার স্বার্থেই বিষয়টি কমিটির সদস্যদের মধ্যে গোপন রেখেছি।’

ভর্তি পরীক্ষা ২০১৯-২০ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জানান, বরাবরের মতো ভর্তি পরীক্ষায় আমরা সর্বাধিক স্বচ্ছতা রাখার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়টি ভুলবশত হয়ে থাকতে পারে। কারণ যেহেতু সে পরীক্ষা দেয়নি সেহেতু তার ‘ওএমআর’ শিট ছাড়া ফলাফল আসার কথা না। তবে ফলাফল প্রস্তুতের ব্যাপারটি ইউনিট ভিত্তিক দায়িত্বশীলদের কাজ। তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলবো।

তবে এ বিষয়ে সাজ্জাতুল ইসলামের কোন মন্তব্যে পাওয়া যায়নি।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

এবার সব পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন!

ডেস্ক,২৭ নভেম্বর:

শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের আগেই প্রি-প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল পাঠ্যপুস্তকে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন।

এমনকি মাধ্যমিকে অর্থাৎ নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণি থেকে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের যেকোনো একটিতে যেতে পারে। এই বিভাগ তুলে দিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত সোম ও মঙ্গলবার এ বিষয়ে কক্সবাজারে এক আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করে এনসিটিবি। সেখানেই এসব প্রস্তাব ও পরিকল্পনা উঠে আসে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, গুচ্ছ পদ্ধতিতে সবাইকে সব বিষয় পড়তে হবে বা বিষয় পছন্দের সুযোগ থাকবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। নবম শ্রেণিতে বিভাগ উঠিয়ে দেওয়া হলে ২০২৩ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে বই দেওয়া হবে। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা ও নম্বর কমিয়ে আনার প্রস্তাবও এসেছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পরিমাণ বাড়বে। শ্রেণিকক্ষে সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নে ২০ নম্বর রাখা হবে। এতে পাবলিক পরীক্ষার নম্বর কমে যাবে। বর্তমানে গার্হস্থ্য অর্থনীতি/কৃষি পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নতুন কারিকুলামে যুক্ত হবে আরো কিছু বিষয়।

এ ছাড়া প্রাথমিকেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক এমন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাঠ্য বইয়ে দুর্যোগব্যবস্থা, জঙ্গিবাদ, নিরাপত্তা বিষয়গুলো যুক্ত করা হবে। শ্রেণিকক্ষে পড়ার পাশাপাশি কাজটি করে দেখানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুক্ত থাকবে খেলাধুলাও।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক,২৭ নভেম্বর:

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। সাধারণ (জেনারেল) এই বিসিএসে নেওয়া হবে ২ হাজার ১৬৬ জন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিকেলে (৫টার মধ্যে) এ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পিএসসির ওয়েবসাইডে এ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ৪১ বিসিএসে নতুন কোনো পরিবর্তন নেই। সাধারণ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সবচেয়ে বেশি নেয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেয়া হবে।

শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জন। পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫, পশুসম্পদে ৭৬, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ ও বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬, সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনকে এই বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

মাধ্যমিকে বাদ যাচ্ছে বিভাগ পদ্ধতি!

ডেস্ক,২৬ নভেম্বর:

নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা বিভাগ উঠে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী তার বিষয় নির্ধারণ করতে পারবে। ফলাফল ও মূল্যায়নে সমতা আনতে তিনটি গুচ্ছ ভিত্তিতে সব বিষয় ভাগ করা হবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে আবার বিভাগ পছন্দ করতে পারবে তারা। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে এসব সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৪ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতি চালু আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু বিভাগ নয়, পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে এনে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে অনেক কাজ এগিয়ে এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিকুলামের ব্যাপক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা গত দুই মাস ধরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মশালা করছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন কারিকুলামের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এর আগে দেশের ১৮ জেলার ৮৬ শিক্ষকের মতামত, ১১টি সভা, ৬টি কনফারেন্স, দুটি স্কুলের ১০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোকাস গ্রম্নপ ডিসকাশন (এফডিজি), ২১ জন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞের মতামতের আলোকে শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটি সুপারিশ দিয়েছে। এ সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন কারিকুলাম তৈরি করতে কাজ করছে এনসিটিবি।

এনসিটিবির বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের হাইস্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই। সরকারি হাইস্কুলে প্র্যাকটিক্যাল করানোর মতো পর্যাপ্ত ল্যাব বা সহকারী নেই। এরপরও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১০০ নম্বর ব্যবহারিকের মধ্যে প্রায় শতভাগ নম্বর পেয়ে যায়। এতে মানবিক ও ব্যবসা শাখার শিক্ষার্থীরা ফলাফলে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

যেভাবে বাস্তবায়ন হবে এ পদ্ধতি

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের নিয়ে ওই বছরের ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারে দুদিনের আবাসিক কর্মশালা হয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশকিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়। শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাব-কমিটি ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ৮ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেন। সেখানে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষাক্রম বিষয়বস্তুর গুরুত্ব অনুসারে তিন গুচ্ছে ভাগ করার পরামর্শ দেন। `ক` গুচ্ছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। ‘খ’ গুচ্ছে বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ (ইতিহাস পৌরনীতি ও ভূগোল)। ‘ক’ ও ‘খ’ গুচ্ছ বাধ্যতামূলক। আর ‘গ’ গুচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি, চারু-কারুকলা, শরীরচর্চা ও খেলাখুলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি ও গার্হস্থ্য, নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি। এছাড়া ‘ঘ’ গুচ্ছে প্রকৌশল প্রযুক্তি (বিদু্যৎ, যন্ত্র, কাঠ, ধাতু ইত্যাদির ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রয়োগ) যুক্ত করার মত দেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাবিদরা ‘গ’ গুচ্ছের বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে স্কুলে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও এর সঙ্গে যুক্ত সুচিন্তিত সহশিক্ষা ক্রমিক কার্যাবলির নিবিড় যোগ স্থাপন করবে বলে মত দেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ধারণা দিতে নির্দেশিকা তৈরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন। ভবিষ্যতের কর্ম ও পেশা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে আগের শ্রেণির গুচ্ছের সঙ্গে ‘ঘ’ গুচ্ছ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুচ্ছে রয়েছে পদার্থ, রসায়ন, জৈববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, হিসাব, বিপণন, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি। ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে যেকোনো দুটি বিষয় শিক্ষার্থীরা নিতে পারবে। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা করলে ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে ঐচ্ছিকভাবে আরো একটি বিষয় নিতে পারবে। তবে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাবিদরা ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয় বাধ্যতামূলক ও দুটি ঐচ্ছিক বিষয় প্রস্তাব দিয়েছেন। ধর্ম বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিলে একটি বিশেষ শ্রেণি ক্ষুব্ধ হতে পারে। সে বিবেচনায় ধর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক বিষয় করার মত দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ঐচ্ছিক বিষয় একটি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণিতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয় ছাড়া ‘গ’ গুচ্ছ থেকে দুটি ও ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে দুটি বা তিনটি বিষয় নিতে হবে। ফলে এসএসসি পরীক্ষায় ১৪টি থেকে চারটি বিষয় কমবে। অর্থাৎ ঐচ্ছিক বিষয়সহ মোট ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।

কমিটির ৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় চারু-কারুকলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শরীরচর্চা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়গুলো শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়নের সুপারিশ করেন। এছাড়া ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা কমানোর সুপারিশ করেন তারা। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে ৪র্থ বিষয়ের (গার্হস্থ্য অর্থনীতি/কৃষি) পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আগে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি- এ দুটি বিষয়ে ১৫০ করে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। শিক্ষাবিদদের সুপারিশে ২০১৮ সাল থেকে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা কমে গেছে। কমিটির আগের সুপারিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালে ৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১৩টি বিষয় থেকে ৩টি বিষয় পরীক্ষা কমিয়ে ফেলে। ২০১৭ সালের ৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু-কারুকলা বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ দুই বিষয়ে পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। মূল মার্কশিটে এসব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর উলেস্নখ থাকছে। তবে পরীক্ষার ফলে কোনো প্রভাব পড়ছে না।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. মশিউজ্জামান বলেন, নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ চলছে। কারিকুলামে ব্যাপক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একটি কর্মশালা চলছে। সবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি।

শিক্ষাবিদরা জানান, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে এক বিভাগ থেকে পাস করে উচ্চশিক্ষায় অন্য বিষয় নেয়। শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পাস করে উচ্চ মাধ্যমিকে অন্য বিভাগে ভর্তি হয়। তারা বিভাগ নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বা কখনও চাপিয়ে দেওয়া হয়। গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হলে এ সমস্যা থাকবে না। গুচ্ছ পদ্ধতিতে সব শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগ পছন্দ করে ভর্তি হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতি চালু আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের দাবি, বিভাগ তুলে দিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করলে বিজ্ঞান বিষয়ের গুণগত মান কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না। কারণ বর্তমানে ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের বইগুলোয় যেসব কনটেন্ট আছে, তা মানসম্মত নয়। এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সঙ্গতি রেখেই নতুন কারিকুলাম চূড়ান্ত করা হবে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক,২৬ নভেম্বর:

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিভিন্ন পদে ৬৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আগ্রহীরা nctb.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদন ফি: ১-৩ নং পদের জন্য ৫০০ টাকা, ৪-৮ নং পদের জন্য ১০০ টাকা, ৯-১০ নং পদের জন্য ৫০ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক সিমের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ সকাল ৯টা থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ

ডেস্ক,১৭ নভেম্বর:
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবারও লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সব প্রতিষ্ঠান থেকে কোন শ্রেণিতে কতটি আসন শূন্য রয়েছে তার তালিকা সংগ্রহ করবে। ভর্তির পর কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের আগে পাঠানো আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে কি না তা যাচাই করবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তির কার্যক্রম শুরুর আগে পাঠানো শূন্য আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করে তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীতিমালার বাইরে কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মহানগরী বা জেলা বা উপজেলা ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলের পাশাপাশি এবারই প্রথম বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির কারণে তাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বদলিজনিত কারণে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা হবে ছয় মাস। তবে শূন্য আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না। অতিরিক্ত ভর্তি করাতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে আগে থেকেই অনুমতি নিতে হবে।

নীতিমালায় সব মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সদরেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তবে নিয়ন্ত্রণ বর্হিভূত কোনো কারণে অনলাইনে না করা গেলে কেবল উপজেলার ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি ভর্তি করা যাবে।

ভর্তি ফরম : ভর্তির ফরম বিদ্যালয়ের অফিসে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ডিসি অফিস, বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এবার ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত থেকে বেশি হবে না।

ভর্তিপরীক্ষার সময় ও মান বণ্টন : দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০, এরমধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বর। ভর্তিপরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমাণ-১০০। এরমধ্যে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ এবং ভর্তিপরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা।

প্রথম-নবম শ্রেণি ভর্তি : নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। যমজ সন্তানের একজন আগে থেকে অধ্যায়নরত থাকলে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তি কমিটি বাছাই করতে হবে। গ্রুপ গঠন করবে প্রতিষ্ঠান।

কোটা সংরক্ষণ : ঢাকা মহানগরীতে সরকারি বিদ্যালয় এলাকায় ওই এলাকার ৪০ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা সন্তানদের ছেলে-মেয়ের জন্য ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান, শিক্ষার্থীদের সুবিধা/অসুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষা কমিটি বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ক্লাস্টারে বিভক্ত করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা আবেদন ফরমে পছন্দক্রম উল্লেখ করে দেবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

ছয় মাসের প্রশিক্ষণধারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ নভেম্বর:

হাইকোর্টের রায় অনুসারে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/সমমান এবং সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার বিষয়ে ছয় মাসের প্রশিক্ষণধারীদের নিয়োগে এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বুধবার (১৩ নভেম্বর) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুন নাহার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি হয়। ওই পরিপত্রের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএ-কে দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) এর শূন্য পদের চাহিদা অনলাইনে (e-Requisition) প্রদান করা হয়।

চাহিদাকৃত পদের জন্য প্রার্থী সুপারিশ কার্যক্রম ২০১৬ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্টে মামলার কারণে এ কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে মামলার নিষ্পত্তি হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ) শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়াও জনবলকাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ এ প্রণীত, মার্চ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদের ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়।

এমতাবস্তায় রায়ের আদেশ অনুযায়ী কেবলমাত্র ২০১৬ সালের সুপারিশপ্রাপ্তদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণের পূর্বের নীতি অনুসরণ করে অধীনস্থ অফিসসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধন সনদধারীদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে আবেদন বৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কম্পিউটার শিক্ষক পদে তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ও স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধন সনদধারীদের কম্পিউটার শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়। একই দিনে ওই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে বলা হয়, স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধন সনদধারীরা শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে আবেদনের সুযোগ পাবে না। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ কাজী মো. সাইফুদ্দিনসহ ১৮ জন আবেদনকারী হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন এবং স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধন সনদধারীদের শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। সে আলোকে ‘এনটিআরসিএ’ ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধন সনদধারীদের শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে আবেদনের সুযোগ দেয়।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে, তাহলে আবার ১১তম কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন,৮ নভেম্বর : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) প্রাথমিকের শিক্ষক নেতাদেরকে এ তথ্য জানিয়েছেন গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সচিবের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস জানান, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা এতদিন বেতন পেতেন ১১তম ও ১২তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একমাত্র সংগঠন প্রধান শিক্ষক সমিতি দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

আমরা যেহেতু ইতিমধ্যে ১১তম গ্রেডে বেতন পাই তাহলে এখন আবার ১১তম গ্রেড কেন?

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই দাবী প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দিতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে হাইকোর্টের রায়ের কপি মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছি। রায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড পদ মর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন)। অথচ নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ গ্রেডে বেতন পান।

পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ,সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এসএম সাইদুল্লাহ, স্বরুপ দাস, রঞ্জিত ভট্রাচার্য,সাংগাঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ ৪৫ জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য: সংসদীয় কমিটি যা বলল

ডেস্ক,৩১ অক্টোবর:
প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে প্রাথমিক শিক্ষকরা। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতারা।

বুধবার সংসদ ভবনে বৈঠকে বসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা আপাতত দশম গ্রেড পাবেন না। তাদের ১১তম গ্রেডই দেওয়া হচ্ছে। আর সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেড। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ উচ্চ পর্যায়ের পদগুলো আপগ্রেড হলে তারপর প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হবে। তবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের বেতন আপগ্রেড হওয়ার পর সহকারীদের কত দেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সচিব এর সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, আপাতত প্রধান শিক্ষকদের ১১তম আর সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়া হবে। আমরা নতুন নিয়োগ বিধির সুপারিশ করেছি। ওই নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবে। সেটা হলেই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্কেল আপগ্রেড করে ১০ গ্রেড করতে পারবো।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বিধি ১৯৮৫’ সংশোধনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন বিধিমালায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নবম গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদে সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদ সপ্তম গ্রেড করা হয়েছে। পদটি পুরোপুরি পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। বিধিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদও আপগ্রেড করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলী আজম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিবেচনাধীন আছে। শিগগিরই এর একটা সুরাহা হবে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

চুয়াডাঙ্গায় অটিস্টিক স্কুলে মিড ডে মিল উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজন বাড়তি যতœ আর সহযোগিতা। পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি মানুষ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের সহযোগিতা করা।

সঠিক পরিচর্যা পেলে এই শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে। একসময় অটিজম সমস্যাকে তেমন গুরুত্বের সাথে দেখা হতো না। কিন্তু বর্তমান সরকার এ বিষয়টিকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অটিস্টিক স্কুলে (প্রকাশ) মিড ডে মিল উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

ছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন অটিজম বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে দেশ-বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা আন্দোলন অন্য উচ্চতা পেয়েছে।

এক সময় প্রতিবন্ধীদের বোঝা মনে করা হতো। কিন্তু এখন এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধীরাও সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, একটু সুযোগ করে দিলেই তারা সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। সঠিক পরিচর্যা পেলে অটিস্টিক শিশুরাও প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াহ্ ইয়া খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদন সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সমাজকল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি মুন্সি আলমগীর হান্নান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উজ্জ্বল কুমার কু-ু, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন’র প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান প্রমুখ।


মাথাভাঙ্গা

Facebooktwitterlinkedinrssyoutube

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter