শিক্ষাঙ্গন

প্রাথমিক সমাপনীর খাতা মূল্যায়নে পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক,১০ নভেম্বর। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে মূল জেলায় আর খাতা পাঠানো হবে না। এক জেলার পরীক্ষার খাতা অন্য জেলায় মূল্যায়ন করেই কোড নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সার্ভারে পাঠাতে হবে। এছাড়া মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ও অভিযোগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রতিবছরই সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নম্বর কমিয়ে-বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আসে ডিপিইতে। প্রায় সব জেলার শিক্ষক-অভিভাবকরা এসব অভিযোগ দিয়ে আসছেন। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বহিষ্কারসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ডিপিই। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে জালিয়াতি বন্ধে খাতা মূল্যয়নে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে এক জেলার খাতা অন্য জেলায় মূল্যায়ন হলেও মূল জেলায় আর খাতা পাঠানো হবে না। এ বিষয়ে ডিপিই’র মহাপরিচালক আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম-জালিয়াতি বন্ধে আমরা আগের পদ্ধতির পরিবর্তন এনেছি। তিনি বলেন, এক জেলার পরীক্ষার খাতা অন্য জেলায় মূল্যায়ন করে তা আবার মূল জেলায় পাঠানো হলে নম্বর জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। এ কারণে আগের পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাই। সেখান থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন থেকে নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার ও অভিযোগ করার পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে। টেলিটক মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে ডিপিই’র এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে মোবাইলের মাধ্যমেই খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ও অভিযোগ করা যাবে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, পরীক্ষার খাতা উপজেলা পরিবর্তন করা হত,জেলা নয়। খাতা মূল্যায়ন শেষে আবার নিজ উপজেলায় পাঠানো হত খাতা। এতে করে পরীক্ষার খাতার নম্বর বাড়ানো মত কারসাজি হত। কিন্তু যে উপজেলা খাতা পাবে তারাই খাতা মুল্যায়ন করে নিদিষ্ট কোড নম্বরে নম্বর এন্টি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সার্ভারে পাঠাতে হবে । তা না হলে কোন লাভ হবে না। কারন কোড ধরে নম্বর পাঠিয়ে দিলে নিজ উপজেলা হতে কম্পিউটারে এন্টি করার সময় নম্বর বাড়ানোর মত কারসাজি ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। শেষ হবে ২৬ নভেম্বর। এই দুই পরীক্ষায় প্রায় ২৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা। প্রতিবছরই নভেম্বরে এ পরীক্ষা হয় এবং ডিসেম্বরে ফল প্রকাশ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের ৫ বছর পর যোগদান

শরীয়তপুর: ৩ দিনের ছুটির কথা কথা বলে ৫ বছর ইতালী থেকে প্রবাস জীবন কাটিয়ে এসে বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন শরীয়তপুরের নড়িয়ার ৬৯ নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুন নেছা ওই শিক্ষকের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি প্রতি মাসে রিটার্ন মিটিংয়ে মৌখিক ও লিখিতি অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ৫ বছর অনুপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ে যোগদান করায় অভিভাবক, শিক্ষকসহ স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির সরদার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নড়িয়ার ৬৯ নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুন নেছা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ৬৯ নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. দেলোয়ার হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে ঐ বিদ্যালয়ে চাকুরী করে আসছেন। তিনি গত ২০১২ সালের মার্চ মাসের ২১ তারিখ থেকে ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ঐ বছর ২৯ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর তিনি ৪ মাস ৮ দিন কর্মরত থেকে ৩ দিনের ছুটি নিয়ে ইতালী চলে যান। ২০১৪ সালের মে মাসে সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন পুনরায় ইতালী চলে যান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুন নেছা কর্তৃপক্ষ বরাবর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে কোন জবাব দেননি তিনি। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত এবং বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালামের বরাবরে আবেদন করেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম ২৮ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি প্রদান করেন। ৫ বছর অনুপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ে যোগদান করায় অভিভাবক, শিক্ষক ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়ে নিতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুন্নেছা বলেন, বিদ্যালয়ে ৩ দিনের ছুটির আবেদন করে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। এ বিষয়ে আমি একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কোন সুরাহা হয়নি। পরে শুনেছি সহকারী শিক্ষক ইতালী গিয়েছেন। গত ২৮ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন সরদার বলেন, একজন শিক্ষক ৫ বছর ইতালী থেকে দেশে ফিরে কিভাবে বিদ্যালয় যোগদান করেছে তা আমার জানা নেই। তবে এটা জালিয়াতি ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের এলাকার অধিকাংশ লোকজনই জানেন সহকারী শিক্ষক ৫ বছর ইতালীতে কাটিয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি জেলা শিক্ষা অফিসে যথাযথ কাগজপত্র দেখিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোন শিক্ষক ৫ বছরের কম সময় অনুপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে চাইলে সে যোগদান করতে পারবে। কিন্তু সে যদি অন্যত্র চাকুরী করে থাকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার চাকুরী চলে যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পা দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
০৬ নভেম্বর ২০১৭

মাত্র ছয় বছর বয়স। বিদ্যালয়ের চৌকাঠে পা রাখার আগেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় সিয়াম। এরপর তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। সেখানে চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তার দুই হাত রক্ষা করতে পারেননি। সিয়ামের দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু তাতে কি?

হাত না থাকলে তো আর জীবন থেমে থাকে না। দেখতে দেখতে সিয়ামের বয়স এখন ১২। তবু পঙ্গুত্ব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং নিজের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে তার শারীরিক অক্ষমতা। পা দিয়ে লিখে সে শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে। এবার অংশ নিচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সিয়াম এবার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার সহপাঠীরা যখন হাত খুলে লিখছে, তখন বেঞ্চের ওপরে বসে মাথা নিচু করে পা দিয়ে অনবরত লিখে যাচ্ছে সে। গত বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর জিজ্ঞেস করতেই হাসিমুখে সিয়াম বলল, ‘খুব ভালো হইছে।’

বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চরহোগলপাতিয়া গ্রামের দিনমজুর সামসুল হক চৌকিদারের ছেলে সে। বাবা দিনমজুরি করেন। সংসার আর চলছিল না। তাই পাড়ি জমান ঢাকায়। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে দারোয়ান হিসেবে কাজ পান। বেতন ৭ হাজার টাকা। ৩ হাজার টাকায় নিজের খাওয়া-থাকা বাদে বাকি ৪ হাজার টাকা পাঠান বাড়িতে। বাড়িতে স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে। বড় সিয়াম এবার অষ্টম, মেয়ে সিনথিয়া সপ্তম ও ছোট সাদিয়া শিশু শ্রেণিতে পড়ছে।

জমিজমা বলতে ৫ শতক জমির ওপর চৌচালা ঘর। এই ছোট্ট ঘরের মধ্যে ভিন্ন ভিন্নভাবে থাকে রুমা আক্তারের আরও তিন দেবরের পরিবার। ঘরের মধ্যে গাদাগাদি করে সন্তানদের আগলে আছেন রুমা আক্তার।

রুমা আক্তার বলেন, ‘ছেলেটার দুই হাত যখন কেটে ফেলে, তখন নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল। মনে হয়েছিল ছেলেটার জীবন বৃথা হয়ে গেল। কিন্তু ছোটবেলা থেকে ওর স্কুল-পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ দেখে মনটা খুশিতে ভরে ওঠে। বলতে গেলে নিজের ইচ্ছায় ও আগ্রহে এতদূর আসছে।’

আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজাফ্ফর আলী বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি সিয়ামের আগ্রহ অনেক। এ রকম মনোবলের শিক্ষার্থী কম দেখেছি। আর পড়াশোনায়ও খুব ভালো সে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জেএসসি-জেডিসি: দ্বিতীয় দিন অনুপস্থিত ৬২ হাজার, বহিষ্কার ২০

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভর্তি পরীক্ষায় ‘সাম্প্রদায়িক’ প্রশ্ন নিয়ে সমালোচনায় রাবি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘ম্যাস’ নিয়ে বিভ্রান্তি, পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নামে

 

ঢাকা: ইংরেজি ‘ম্যাস’ শব্দটি দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বোঝানো এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় শব্দটি মন্ত্রণালয়ের নাম থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুন্দর ও সাবলীল নাম আহ্বান করবে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম ‘Ministry of Primary and Mass Education’। ইংরেজি নামের ‘ম্যাস’ শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এএফএম মনজুর কাদির।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ম্যাস’ শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়। ইংরেজি ‘ম্যাস’ শব্দটি বস্তু, পিণ্ড, ভর, পরিমাণ, দল, স্তূপ, দলা, বস্তুসমূহ, বহু পরিমাণ ছাড়াও বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে জনসাধারণ বা গরিব দেশের জনগণ, খ্রিস্টের নৈশভোজের পর্ব উদযাপনসহ আরও নানা অর্থে ব্যবহার হয়ে আসছে শব্দটি। কোথাও কোথাও উপসর্গের মতো ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়।

সহজ-সরল অর্থে বিদেশি এবং দেশের মানুষের মধ্যে এসব বিভ্রান্তি দূর করতে নাম প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব ড. মনজুর কাদির।

তিনি বলেন, ‘ম্যাস’ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকেই সহজ-সরলভাবে বিষয়টি নিতে চান না। সভায় আলোচনা করে নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশন হলো মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও জীবনব্যাপী শিক্ষা। আর অভিলক্ষ্য প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও গুণগতমান উন্নয়নের মাধ্যমে সবার জন্য প্রাথমিক ও জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।

বাংলাদেশের শিক্ষার জন্য বর্তমানে দুটি মন্ত্রণালয় এবং দু’জন মন্ত্রী রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে রয়েছেন দু’জন সচিব। মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা দেখভাল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে পরিচালনা করা হয়। সরকারের অর্থের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকের তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের গেজেট অক্টোবরে

ডেস্ক রিপোর্ট,২৯ সেপ্টেম্বর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণে তৃতীয় ধাপে তালিকাভুক্তির গেজেটের জন্য কাজ শেষ হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে তা তা প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জাতীয়করণের তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন জেলার ৫৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকরা রয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউএনডিপির আওতাভূক্ত তিন পার্বত্য জেলার ৩১০ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত ২৯ এপ্রিল তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর উপর ভিত্তি করেই গেজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৮০টি স্কুল রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলেই তা প্রকাশ করা হবে। গেজেটভুক্ত শিক্ষকদের ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বেতন-ভাতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩৮৪৫ শিক্ষকের চাকরি তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে, দ্বিতীয় ধাপের ২০১৩ সালের জুলাই থেকে এবং তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের চাকরি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি যথাসময়ে জাতীয়করণ হলেও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষকদের জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশ হয় গত বছর।

প্রথম ধাপে সরকারি হওয়া স্কুলগুলো ছিল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হওয়া স্কুলগুলো আগে মূলত কমিউনিটি স্কুল, এনজিও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের অধীনে ছিল।

প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতা সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির এর  কাছে দাবী জানিয়ে বলেন নতুন করে জাতীয়করন বিদ্যালয়গুলোতে একজন করে প্রধান শিক্ষক বহাল রেখে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। যেমন করে ২০১৩ সালে করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শিক্ষক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১৯৩ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছে কিন্তু শিখছে না

ডেস্ক রিপোর্ট,২৯ সেপ্টেম্বর: কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডায় ক্লাস থ্রি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল একটি সাধারণ বাক্য ‘দ্যা নেম অব দ্যা ডগ ইজ পাপ্পি’ এটি পড়ার জন্য। তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী এই বাক্যের মানেই বোঝেনি। ৪৬ থেকে ১৭ বিয়োগ করলে কত হবে ভারতের গ্রামীণ স্কুলে পড়ুয়া পঞ্চম শ্রেণির অর্ধেক শিক্ষার্থী এটি সমাধান করতে পারেনি। বিশ্বে এমন লাখ লাখ শিশু রয়েছে যারা শুধু স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু কিছুই শিখছে না। তারা সাধারণ জ্ঞানটুকুও অর্জন করছে না। শিক্ষার মান নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এবারের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮-লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিজ’। এবারের প্রতিবেদনে শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে প্রতি একশ জনের ৯০ জন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাদের মধ্যে ৬১ জন নিম্ন মাধ্যমিক পার হতে পারছে। মাত্র ৩৫ জন উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারছে। এর মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যত্ উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু বিষয়টি সংখ্যার নয়, বিষয়টি হচ্ছে মানের। প্রাথমিক পর্যায়ের ৬০ ভাগ শিক্ষার্থীর গণিত ও পড়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও নেই। তবে শিক্ষার সঙ্গে শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠাও গুরুত্বের। বিশ্বে পাঁচ বছরের নিচে প্রতি তিনটি শিশুর একটি অপুষ্টির শিকার। এ ধরনের সমস্যা তাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্তরায়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এদেশে ১১ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা, এবতেদায়ীসহ বিভিন্ন এনজিওগুলো তাদের পৃথক কারিকুলাম অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুল পরিচালনা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত অনেক দেশেই স্কুলে ভর্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা স্কুলে কী শিখছে তার মূল্যায়ন করা হয় না। এসব দেশের স্বাক্ষরতার হার উন্নত দেশগুলোর মতো। তবে শিক্ষার্থীদের বড় অংশই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ে। ২০১০ সালের তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের ২৭ শতাংশ পায় দরিদ্রতম পরিবারের সন্তানরা। ধনীদের ক্ষেত্রে এ হার ১৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দেখা যায়, মাত্র ২ শতাংশ দরিদ্রতম পরিবারের সন্তানরা সরকারি ব্যয়ের উপকারভোগী হচ্ছে, যেখানে ধনী পরিবারের সন্তান সংখ্যা ৫৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে প্রচুর শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু তারা কিছু শিখতে পারছে না। শিখতে না পারায় স্কুলে যাওয়াটা তাদের ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনছে না। বেকার থাকছে অথবা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক শিক্ষা খাতের এ সংকট নিয়ে দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সবার জন্য শেখাকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা করতে হবে। ইত্তেফাক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অক্টোবরে নিয়োগ পাচ্ছেন বিসিএস থেকে সুপারিশকৃত প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ৮৯৮ জন নন-ক্যাডারের মধ্যে অক্টোবরের শুরুতেই নিয়োগ হচ্ছে ৪৬৯ জন। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও নিয়োগ দেওয়া হবে।

এর আগে ৩৪তম বিসিএস থেকে দুই হাজার ৮৯৯ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ৮৯৮ জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মঞ্জুর কাদির  বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ৮৯৮ জনকে নিয়োগ করা হবে শিগগিরই। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। এর মধ্যে ৪৬৯ জনকে ১০ অক্টোবরের মধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের এসব পদ দ্রুত পূরণ করতে সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে গত ২৩ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ২১ হাজার পদ খালি আছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতির প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৬৩ হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব পদ পূরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব এখন পিএসসির হাতে। গত মার্চে পাঁচ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সে অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হয়। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর। আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বড় পরিবর্তন আসছে, আট সদস্যের কমিটি

  • অনুমোদন ছাড়া স্কুল-কলেজ নয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোন রকম অনুমোদন ছাড়া স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতিমালায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক সভায় নীতিমালা পরিবর্তনে আট সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। আগের মতো আর ১৩টি শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা নেয়া হবে না। নীতিমালা পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠান অনুমোদন করতে হবে আগে। পরে জমি নির্ধারণ, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ণয় করা হবে। এছাড়াও যারা অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনে ১৩টি শর্তজুড়ে দেয়া হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের আগেই পূরণ করতে হতো। তার মধ্যে জমি ক্রয়, ভবন তৈরি, অবকাঠামো নির্ণয়, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। অথচ এতসব করার পরও শর্তানুযায়ী প্রাপ্যতা না থাকায় যুগের পর যুগ কেটে গেলেও সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। উদ্যোক্তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্কুল-কলেজ স্থাপন করছেন।

আবার অনেকে কোন অনুমোদন ছাড়াই কোন মতে প্রতিষ্ঠান চালু করে শিক্ষা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে শিক্ষা বোর্ডে আসছেন অনুমোদনের জন্য। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই নিয়মের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরি মুফাত আহমেদকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এ কমিটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তিন মন্ত্রণালয়, সকল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব ছালমা জাহান বলেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতিমালা সংশোধনীর জন্য কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলছে অথচ অনুমোদন দেয়া হয়নি সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। নামধারী স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনে নানা জটিলতা রয়েছে। এ কারণে দেশের সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও তাদের অনুমোদন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে এ আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের পরে জমি নির্ধারণ, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ণয় করা হবে। জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতি-১৯৯৭ অনুযায়ী নতুন স্কুল, মাধ্যমিক জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ অনুমোদন ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে।

জনসংখ্যা, প্রাপ্যতাসহ ১৩ শর্ত পূরণের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার প্রমাণ পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি দুদক পর্যন্ত গড়ায়। এরপর ২০১৫ সালে একটি আদেশ জারির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের সে ক্ষমতা শিথিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনে সে ক্ষমতা নেয়া হয়। নির্দেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপন, পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি দেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১ নভেম্বর থেকে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা: আগামী ১ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  সোমবার বেলা ১২ টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি হল আরও ৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনার প্রাইভেট-কোচিং নিয়ে ব্যস্ত একাধিক শিক্ষক নজরদারিতে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দুটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের মধ্যে ৪২ জনই নিয়ম ভেঙে প্রাইভেট-কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। বিদ্যালয়ে পাঠদানে মনোযোগী নন তাঁরা। একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাঁদের তালিকা তৈরির পর জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। তারা ওই শিক্ষকদের নজরদারিতে রেখেছে।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাইভেট ও কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ নিয়ম ভাঙেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটা নীতিমালাও তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু তার তোয়াক্কা করেন না বেশির ভাগ শিক্ষক।
চুয়াডাঙ্গার ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ দুটি বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষককে দেখে মনেই হয় না তাঁরা স্কুলে চাকরি করেন। তাঁরা সর্বদা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট-কোচিং নিয়ে। এসব শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীরা সাজেশন থেকে বঞ্চিত হয় ও পরীক্ষায় তাদের কম নম্বর দেওয়া হয়। যারা প্রাইভেট পড়ে, তাদের সাজেশনের নামে আগাম প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষায় দেওয়া হয় বেশি নম্বর।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রভাতি পালার চতুর্থ শ্রেণির এ ছাত্রীর অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, এই শ্রেণির সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটেছে। ওই পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী বেশি নম্বর পেয়েছে, তাদের কয়েকজনের খাতা নিরীক্ষা করলেই বিষয়টি ধরা পড়বে।
শিক্ষকদের বিষয়ে ওই তালিকা তৈরি করেছে একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা। তালিকাটি জেলা প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে। তালিকা মোতাবেক ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দুই পালায় প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৩৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রভাতি পালার ১২ ও দিবা পালার ১২ জন প্রাইভেট ও কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত। অন্যদিকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ দুই পালায় ২৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রভাতি পালার আট ও দিবা পালার ১০ জন শিক্ষক এতে জড়িত।
সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। তবে ওই ১০ জনের তালিকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে দিয়ে তার অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার ওই শিক্ষকদের একজনও এ নিয়ম মানছেন না। তাঁরা কমপক্ষে ৩০ থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এ ছাড়া অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের কোচিংয়ে পড়ানোর সুযোগ থাকলেও সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। এমন কোচিং থেকে উপার্জিত অর্থের ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। তারও তোয়াক্কা করেন না শিক্ষকেরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হোসেন বলেন, প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে পাঠদানের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের জানানো হয়েছে। সবাই দাবি করছেন, তাঁরা প্রাইভেট পড়ান না বা কোচিং করান না। চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকার একই কথা বলেন।
গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি প্রতিবেদনটি হাতে পাওয়ার পর গত ২২ জুলাই চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাধারণ ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাস নিশ্চিত করা; ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের আগমন ও প্রস্থানের বার্তা অভিভাবককে প্রেরণ; শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে উপস্থিতি; শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ পরিপত্রের নির্দেশনা মেনে চলা; বিদ্যালয়ে পাঠদান প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া এবং স্কুল চলাকালে সব ধরনের প্রাইভেট ও কোচিং বন্ধ রাখা।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার বেশির ভাগই তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়মিত পেয়ে আসছে। কিন্তু এই প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
জেলা শিক্ষক-অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মোত্তালিব প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষকদের এখন আর আন্তরিকতা নেই। ক্লাসে নামমাত্র লেকচার দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন। এ অবস্থা চললে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ জানে না।

এদিকে শুধু কোচিং না বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে চলছে কোচিং বানিজ্য। ৫০০-১০০০ টাকা নিয়ে ৬ষ্ট থেকে ১০ শ্রেণি নিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস করানো হয়। যেখানে দূর্বল ছাত্রচাত্রীদের অতিরিক্ত ক্লাস করানোর কথা সেখানে ক্লাসের ফাষ্ট বয় থেকে শুরু করে লাষ্ট বয় সবাই অতিরিক্ত ক্লাস করায় ব্যস্ত। সচেতন মহলের দাবি বিদ্যালয়গুলোতে সকল অতিরিক্ত ক্লাস বন্ধ করে শুধু বিদ্যালয়ের নিদিষ্ট ক্লাস মনোযোগ সহকারে পাঠদান করলে শিক্ষার মান যেমন বৃদ্ধি পেত তেমনি সকল অভিভাবক অতিরিক্ত অর্থ খরচ থেকে বাচত।

 

 

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঈদের পর নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত প্রধান শিক্ষকরা

২৫ আগস্ট ২০১৭:

ঢাকা থেকে নাহিদ হাসান: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শিগগিরই নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত ৮৯৮ জন।  আগামী সপ্তাহ থেকে নন-ক্যাডার পদের এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে এবং দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা   প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে পিএসসির সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকে ৮৯৮ জনকে নিয়োগ দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিই।

 এর আগে ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৮৯৮ জনকে গত বছরের ১০ আগস্ট নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

ডিপিই মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, পিএসসির সুপারিশ করা ব্যক্তিদের প্রধান শিক্ষকের পদে ঈদের পরপরই নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেখানে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। সে লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিপিই মহাপরিচালক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ১১-১২ গ্রেডে নিয়োগ পাবেন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ পিএসসির সুপারিশে এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষকতার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সারাদেশের শূন্যপদ পূরণ করা হবে। পাশাপাশি একই সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পায়নি) দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে ২০১৪ সালের ১৬ জুন নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে সরকার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

উচ্চ শিক্ষায় বড় পরিবর্তন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য উচ্চ শিক্ষা নয়। এখানে একটি বড় পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অনেক দায়িত্ব আছে।’

শুক্রবার রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল টাওয়ারে দুই দিনব্যাপী ‘ইনোভেটিভ টিচিং অ্যান্ড লার্নিং এক্সপো-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্ক ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান করতে হবে। এজন্য ইনোভেটিভ টিচিং ও লার্নিং গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা করতে হবে এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে এবং এর মাধ্যমে নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় গবেষণার ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

আমরা চিরকাল শুধু জ্ঞান ও প্রযুক্তির আমদানিকারক থাকব না, এ কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্ম বিশ্বমানের মেধার অধিকারী। তারা একদিন জ্ঞান ও প্রযুক্তি রপ্তানি করবে।’

তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ গড়ার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষ করতে হবে। সেজন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

‘প্রায় সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের মধ্যে সমতা অর্জিত হয়েছে। নারীশিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের সমাজে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। সবার জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বেসিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে,’ বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নুর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইউসুফ এম ইসলাম, এনসিসি এডুকেশন ইউকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলান নরটন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কালচারাল সেন্টারের প্রধান সারওয়াত রেজা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ইনোভেটিভ টিচিং-এর জন্য দুজন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান লাভ করেন গোপালগঞ্জ জেলার ডালনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লতিফা আক্তার শিউলি এবং দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাহ আলম মজুমদার।

৫৮টি ইনোভেটিভ টিচিং প্রকল্প প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আগামীকাল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইনোভেটিভ লার্নিং প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা করা হবে।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free