বিশেষ সংবাদ

৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি যেকোনো চাকরিজীবী এখন থেকে চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে অথবা অক্ষম হয়ে অবসর গ্রহণ করলে তার কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের আসল ও সুদ বা দণ্ড সুদসহ অর্থ মওকুফ করা হবে।

সরকার এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার আলোকে আসল ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১), অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও সমন্বয়), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, যুগ্ম সচিব (বাজেট-১), সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের একজন প্রতিনিধি।

অর্থ বিভাগের একজন উপসচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব এই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি আসল, সুদ বা দণ্ড সুদ মওকুফের সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্র্যাচুইটি, বেতনের পেনশনযোগ্য অংশ (শেষ বেতনের ৫০ ভাগ) ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।

এই নীতিমালায় অক্ষম বলতে সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু হয়ে অবসর গ্রহণ করাকে বোঝাবে।

নীতিমালাসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা সরকারি কর্মকর্তাদের গৃহনির্মাণ, গৃহ মেরামত, মোটরকার ও মোটরসাইকেল এবং কম্পিউটার ঋণের বেলায় প্রযোজ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে নেওয়া ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ড সুদ মওকুফ করা হবে।

এর আগে এ ধরনের ঋণের অর্থ চাকরিজীবীদের পাওনা থেকে অথবা উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে আদায় করা হতো। তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালায় নেওয়া ঋণ এ নীতিমালার আওতায় বিবেচিত হবে না।

এদিকে গৃহঋণ সীমা বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে ৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ইতিমধ্যে এসব সুবিধা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে দেওয়া হবে বিশেষ রেয়াত সুবিধা। এ ছাড়া নতুন এ বেতন স্কেলে একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৬০ থেকে ৮০ মাসের বেতনের সমান গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন। সেই হিসাবে বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত হবে।

এতে দেখা যায়, সর্বনিম্ন গ্রেডের (গ্রেড-২০) একজন কর্মচারী সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা এবং গ্রেড-১-এর একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া ২০ জনের একটি গ্রুপ করে জমি কেনার জন্যও ঋণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গৃহনির্মাণ ঋণ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয় সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এই নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গৃহনির্মাণ ঋণের ব্যাখ্যায় পে-স্কেলে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ লাখ হলেও এর মধ্যে আবাসন সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ ভাগ। এ ছাড়া স্থানভেদে বাসা ভাড়ার হারের তারতম্য রয়েছে, যে কারণে চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশকে সরকারি আবাসিক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া দেখা গেছে সর্বোচ্চ শ্রেণি থেকে সর্বনিম্ন শ্রেণি পর্যন্ত সব স্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা খুব কম দেওয়া হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনা করে স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ চালু ও ফ্ল্যাট নির্মাণে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু  করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এ সুযোগের আওতায় থাকছেন না বলে জানা গেছে। গৃহঋণসংক্রান্ত এক বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে বলা হয়, এমপিওভুক্তদের এ সুবিধায় আনা হলে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষণ বেড়ে যাবে।

বৈঠকে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রস্তাবিত গৃহঋণ সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুধু বর্তমানে গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধার আওতায় যেসব সরকারি চাকরিজীবীর ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, কেবল তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে ঋণ মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকুরেদের জন্য আরও একটি সুযোগ সৃষ্টি করল সরকার। এখন থেকে চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেলে অথবা অক্ষম হয়ে অবসর গ্রহণ করলে তার কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদসহ মওকুফ করা হবে। সম্প্রতি সরকারের এ সিদ্ধান্ত নীতিমালা আকারে জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা সরকারি কর্মকর্তাদের গৃহ নির্মাণ, গৃহ মেরামত, মোটরকার ও মোটরসাইকেল এবং কম্পিউটার ঋণের বেলায় প্রযোজ্য হবে। এসব বাবদ নেওয়া ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফ করা হবে। এর আগে এ ধরনের ঋণের অর্থ কর্মকর্তার পাওনা থেকে অথবা উত্তরাধিকারীদের থেকে আদায় করা হতো। তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালায় নেওয়া ঋণ এ নীতিমালার আওতায় বিবেচিত হবে না।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের জন্য এসব খাতে একেক ধরনের ঋণ সুবিধা রয়েছে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা গৃহ নির্মাণ বাবদ ৫৫ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন। মোটরকার বাবদ ৪৫ থেকে ৬০ লাখ এবং মোটরসাইকেল বাবদ দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ এবং কম্পিউটার কেনা বাবদ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন।

এই নীতিমালায় অক্ষম বলতে সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু হয়ে অবসর গ্রহণ করাকে বোঝাবে। ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সুপারিশ করার জন্য অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ) সভাপতি করে আট সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

এই কমিটি আসল, সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফের সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্র্যাচুইটি, বেতনের পেনশনযোগ্য অংশ (শেষ বেতনের ৫০ ভাগ) ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধার সম্পাদক স্বরুপ দাস  জানান, সরকারের এ সিদ্ধান্তে সব সরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা উপকৃত হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন প্রতিবেদক: দশ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট ও একই মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড ও একটি বিশেষ সিলমোহরও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিবালয়ে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ জানুয়ারি উদযাপিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট, ১০ টাকা মূল্যের একটি উদ্বোধনী খাম (ফার্স্ট ডে কাভার) এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড ও একটি বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চায়’

খুলনা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, দেশের আড়াই কোটি সংখ্যালঘু মানুষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চায়। জাতীয় সংসদের ৬০টি আসন সংখ্যালঘুদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নগর ও জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদে ৭২ জন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্য ১৭ জন। আযম খানের আমলে চারজন মন্ত্রী ছিলেন। এখন মন্ত্রী দুইজন। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০০১-২০০৬ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের শাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশ আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়ন করতে পারছে না। রামু, নাসিরনগর ও নারায়ণগঞ্জে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সংখ্যালঘুদের বাড়ি দখল ও নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলা সোয়া ১২টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের খুলনা মহানগর সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ। স্বাগত বক্তৃতা করেন পরিষদের জেলা সভাপতি বিমান বিহারী রায় অমিত।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমল সেন ও সুজিত সাহা, সহসভাপতি বিজয় কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক তাপস পাল, নির্মল চ্যাটার্জী, নির্মল রোজারিও, ঐক্য পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন ব্যানার্জী, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত কোরাইয়া প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢামেক হাসপাতালে আবেদন ছাড়াই ৩৮ কর্মচারী নিয়োগ

ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবেদন ছাড়াই ৩৮ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও সুইপার নিয়োগের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এসব নিয়োগে লাখ লাখ টাকার নিয়োগ-বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে। আবেদনহীন নিয়োগ জালিয়াতিতে হাসপাতালের একজন সাবেক ওয়ার্ড মাস্টার জড়িত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৭১টি তৃতীয় ও চর্থ শ্রেণির শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাপকম/প্রশা-১/এডি/পদ পূরণে-০১/২০০৯/১৪৭২ স্মারক মতে বিগত ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর ছাড়পত্র মোতাবেক বিভিন্ন পদে ৩৫৪ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং অনিয়ম হওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাপকম/প্রশা-১/এডি/পদ/(কমিটি) ০৪/২০১৫/৭৭৪ স্মারক মতে গত ২৯/০৪/২০১০ তারিখে ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়।

ওই নিয়োগ বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে ৩৮৭ জনের পক্ষে উচ্চ আদালতে ৮টি ও পরবর্তীতে আরও ২টি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে অত্র দপ্তরে ঢামেকহা/প্রশা/১৯৩১৬ স্মারকে গত ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর এলএসএএস, সুইপার, সিকিউরিটি গার্ড কুক/মশালটা, গাড়ীচালক, পদে মোট ২৭৭ জনকে এবং ঢামেকহা/প্রশা/১৮৫৬৩ স্মারকে গত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ২৭৭ ও ৫৪ জনসহ মোট ৩৩১ জনকে চাকরিতে যোগদানের আদেশ জারি করা হয়।

আদালতের নির্দেশনার আলোকে কার্য সম্পাদনের নিমিত্তে অত্র কার্যালয়ের ঢামেকহ/প্রশা/১৭৪১২ নং স্মারক মোতাবেক ঢামেকের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোঃ আবদুল গনিকে সভাপতি করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট ইনভেন্টরি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি নিয়োগসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় রিভিউ পিটিশনকারী ৩৮ জনের কারও চাকরির আবেদনপত্র নেই এবং নিয়োগ কমিটি কর্তৃক নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত চূড়ান্ত তালিকায়ও তাদের কারও নাম নেই।

এ ৩৮ জন হলেন এমএলএসএস পদের মোঃ পারভেজ, মোঃ আলমগীর হোসেন, শাহেব আলী, বাদল, মোঃ আকবর হোসেন সাগর, সুশান্ত দেব, মোছাঃ সালমা বেগম, মোঃ উজ্জল মিয়া, হামিদা আক্তার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, শাহিনুর আক্তার, মায়া, মাহমুদ হোসাইন, শিপি, সাদ্দাম, মোঃ হারুন, মোঃ শাকিল মিয়া, মোঃ ইউসুফ আলী মারুফ, মোঃ ইউসুফ আলী অরুণ, আঃ কাদির, মোঃ শাহজাহান গাজী, মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, মোঃ মমিনুল ইসলাম, মোঃ আরশাদ, মোঃ শাহ আলম, শিরিন আক্তার, মোঃ আলী আহমেদ, মোঃ ফয়াসাল মামুন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাবিনা বেগম, মোঃ আলী হাসান (দুলাল), মোঃ আজিজুর রহমান। আর সুইপার পদের মাজেদা, রুনা, আশেক মিয়া, জায়দা ও রুনা বেগম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ৩৮ জনের চাকরির কোনো আবেদনপত্র নেই এবং নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর দিক নির্দেশনার জন্য ঢামেক কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র লেখেন। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাপকম/আইন শাখা/রিট ১৯/২০১৫/৩৮০ স্মারক মোতাবেক গত ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর রিভিউ পিটিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর ৩৮ জনের নিয়োগ স্থগিতসংক্রান্ত বিষয়ে আপিল করা হয়। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঢামেক সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক একজন ওয়ার্ড মাস্টারের নেতৃত্বে এ ৩৮ জনকে নিয়োগের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। অথচ এসব ব্যক্তির কেউ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর আবেদনই করেননি। শুধু তাই নয়, এদের অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটসহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মচারী পরিচয়ে কাজ করে আসছেন।

সূত্রটি আরও জানায়, ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ওই ৩৮ জনের একজন। তিনিই লাখ লাখ টাকা আদায় করে দুর্নীতিবাজ সাবেক ওই ওয়ার্ড মাস্টারকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এদের চাকরি বৈধ করতে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আদালতে বারবার রিট আবেদন করা হচ্ছে।

অপর সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢামেকের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ আবদুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ইনভেন্টরি কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডাঃ খাজা আব্দুল গফুর, ডাঃ মোঃ হোজাম্মেল হক, মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মোঃ মাজহারুল ইসলাম খান ও মোঃ রফিকুল ইসলাম।

উক্ত কমিটি যাচাই-বাছাইকালে উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের রায়ের প্রেক্ষিতে যোগদানের ৩৩ জন এমএলএসএস ও ৫ জন সুইপারসহ মোট ৩৮ জনের এমএলএসএস পদের চূড়ান্ত তালিকায় নিয়োগ প্রাপ্তির পর যোগদানের গৃহীত পত্রের স্মারক ঢামেকহা/প্রশা/যোগদান/২০১০/২৬১ তারিখ ১৪/০১/২০১০ইং, এবং সুইপার পদের যোগদানের গৃহীত পত্রের স্মারক ঢামেকহা/প্রশা/যোগদান/২০১০/২৬৫ তারিখ ১৪/০১/২০১০ইং আদেশের উক্ত রিটকারীগণের পূর্বের নিয়োগ প্রাপ্তির ৩৫৪ জনের মধ্যে উক্ত ৩৮ জন রিটকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত নেই। আর গত ২২/০৯/২০১৬ইং তারিখে উক্ত ৩৮ জন যে যোগদানপত্র ঢামেক কার্যালয়ে দাখিল করেছেন তা উক্ত কার্যালয়ে রক্ষিত রেকর্ড মোতাবেক তাদের পূর্বের যোগদানের কোনো প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি বলে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ইনভেন্টরি বোর্ড তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।

এরপর ঢামেক পরিচালক রিট পিটিশন নং- ২৪৯/২০১৪, ৩০১৯/২০১৪, ৮২/২০১৪ ও ৮২/২০১৪-এর আলোকে রিভিউ পিটিশন নং- ১০/২০১৫, ১১/২০১৫, ১২/২০১৫ জারিকৃত রায়ের আলোকে আপিল মোকদ্দমা দায়েরের প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি উক্ত আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আমার সংবাদ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক লাঞ্ছনা : হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানধরে উঠ-বসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জড়িত কি না- সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

ওই আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আজ বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আগামী রোববার এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত বছরের ১০ আগস্ট শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানধরে উঠ-বসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জড়িত কি না- সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। ওই দিন আদালত আদেশে বলেন, কানধরে উঠ-বসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা নেই মর্মে পুলিশের প্রতিবেদনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়নি। পুলিশের প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য।

এর আগে গত বছরের ১৮ মে নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষকের কান ধরে ওঠ-বস করার ঘটনায় প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বতপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

গত বছরের ১৪ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’র আবেদন এখন অনলাইনে

রোববার (১৫ জানুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম মিলনায়তনে ‘অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ শীর্ষক এ সেবা উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ আবেদনের জন্য pcc.police.gov.bd এড্রেসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি পরিশোধের চালান স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সে জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে থানায় আসার প্রয়োজন হবে না।

আবেদনের পর অনলাইনে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন। ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর, পুলিশ সুপার বা উপ-কমিশনারের প্রতিস্বাক্ষর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন হওয়ার আবেদনের সময় উল্লেখিত স্থান থেকে সশরীরে এটি সংগ্রহ করতে পারবেন। অথবা কুরিয়ারের ফি পরিশোধ সাপেক্ষে ঘরে বসেই সার্টিফিকেট নিতে পারবেন।

ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটটিতে একটি কিউ-আর কোড প্রিন্ট করা থাকে। যেকোনো স্মার্ট ফোন থেকে কিউ-আর কোডটি স্ক্যান করলে ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটের একটি অনলাইন লিংক পাওয়া যাবে। যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে লিংকটি ভিজিট করলে সার্টিফিকেটের একটি অবিকল ডিজিটাল কপি দেখা যাবে। ফলে এই সার্টিফিকেট জাল হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।

এই সেবাটি গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে কুমিল্লা জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নতুন সিস্টেমে প্রায় ১৪ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে।

উদ্বোধনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তখন অনেকেই হাসা-হাসি করেছেন, বিদ্রুপ করেছেন। কিন্তু তার কথা কতটা স্বার্থক তা পদে পদে বোঝা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এক সময় আমাদের সাবমেরিন কেবল ফ্রি দিতে চেয়েছিল, কিন্তু অজুহাত দেখিয়ে নেয়নি। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে দেশকে বর্তমানে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাগরিক সেবা জনগণের দোর-গোঁড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত উন্নত বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা তার প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বর্তমানে সবাই জানে ডিজিটাল বাংলাদেশ কী, ডিজিটাল শব্দটা এখন মানুষের মাথায় ঢুকে গেছে। পুলিশও এর থেকে পিছিয়ে নেই। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ডিজিটালাইজড হয়েছি।

নতুন এই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের অনলাইন সেবা সম্পর্কে আইজি বলেন, সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ক্লিয়ারেন্সের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে যে উপ-পরিদর্শকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাকে কাজ শেষ করতে যেন নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচদিন সময় লাগে, সেখানে হেল্প ডেস্ক বাড়ানো যায় কিনা তারা বিবেচনা করবে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোথাও যেন বিলম্ব না হয়।

নতুন নিয়মে সবমিলিয়ে আবেদন করার ১০ দিনের মধ্যেই এই ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানে আনন্দ মৌসুমী ও শাকিলার

‘প্রাইভেট পড়লে মেলা টেহার দরহার। গরিব মানুষ এত টেহা কইত্তে আনুম। দুই আপা হুনলাম পোলাপানরে বিনামূল্যে পড়ায়, তাই আমিও পড়তে আসি।’ এভাবেই বলছিল শিক্ষার্থী আরমান। তার মতো আরো অনেকের ভরসা ওই দুই আপু- মৌসুমী ও শাকিলা।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌসুমী ও শাকিলা পড়ালেখা করছেন হারুয়ায় অবস্থান করে। নিজেরা পড়ার পাশাপাশি চিন্তা করেন যারা অর্থাভাবে পড়তে পারে না তাদের জন্য কিছু করার। মাত্র একজন ছাত্র নিয়ে শুরু করেছিলেন, এখন সংখ্যাটা প্রায় অর্ধশত।

মৌসুমী ও শাকিলা নিজের প্রচেষ্টায় কিশোরগঞ্জের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জেলা শহরের হারুয়ায় একটি বাড়িতে বিনামূল্যে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছেন। গেল ইংরেজি নববর্ষের দিনটি তারা পালন করলেন ‘সমাজসেবা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের সূচনা করে। এ সংগঠনের মাধ্যমে চালু করেন ‘বিনামূল্য শিক্ষাদান কর্মসূচি’ সেবা। একজন ঝরে পড়া শিশুকে দিয়ে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় পাঠদানের। ঘরোয়া পরিবেশে আবৃত্তি, গান, সূরা ও গজল প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহী করা হয়।

শাকিলা জানান, প্রতিদিন বিকেলে তারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করেন। এ থেকে আনন্দ পান তিনি। অসহায় ও গরিব শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারার আনন্দই আলাদা।

ঝরে পড়াদের শিক্ষাদানের মূল উদ্যোক্তা মৌসুমী তার এই যাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘দিনটি ছিল ১ নভেম্বর। বাসা থেকে বের হয়ে ভাবছিলাম আজ যেখানেই একটি পথশিশু পাব, সেখানেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেব। কলেজের মাঠে পা দিতেই আমার দিকে আসা একটি মেয়ে বলতে লাগল, ‘আপু, পেটে খুব ক্ষুধা। কয়েকটা টেহা দিবেন কিছু খাইতাম।’ আমি সেই পথশিশুকে টাকা দিলাম আর জানতে চাইলাম পরিবারে কে আছে। তার কেউ নেই। পথই বাড়ি, পথই ঘর। ভিক্ষা করে খাবার জোটে।’ সেদিনই শুরু বিনামূল্যে শিশুদের মধ্যে পাঠদান। বর্তমানে আমাদের কাছে ৩৪ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন।’

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুধী মহল দুই শিক্ষার্থীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকারি ও সচ্ছল ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে তাদের পাঠদানস্থলটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। পথশিশুরা ফিরে পাবে তাদের ঠিকানা, সবার এটাই ভাবনা।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ বিধি বহির্ভুতভাবে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: সহকারী শিক্ষক থেকে নীতিমালা অনুসরণ করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি না দিয়ে জালিয়াতি ও তথ্যগোপন করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ। সম্প্রতি এক বিবৃতির মাধ্যমে এ দাবি জানান সমিতির সভাপতি তপন কুমার মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক মো. আছাদুজ্জামান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সদ্য জাতীয়করণকৃত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে সরকারি নিয়োগ বিধি বহির্ভুতভাবে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যার ফলে প্রকৃত পদোন্নতির দাবিদার শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নিয়োগ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই নিয়োগ দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ বলে সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। আর পদোন্নতি পেতে এসব শিক্ষকরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সমিতির নেতার এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নাসিক নির্বাচন ২০১৬ বেসরকারিভাবে আইভি বিজয়ী

ডেস্ক নিউজ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক নিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি ১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে বেসরকারিভাবে সবকটি কেন্দ্রেরই ফল পাওয়া গেছে । ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক নিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬০২ ভোট।

অপরপক্ষে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭০০ ভোট। ৭৭ হাজার ৯০২ ভোট বেশি পেয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

নারায়াণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

কোথাও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন পর দেশের কোথাও এমন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলো। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ নির্বাচনে ৭টি রাজনৈতিক দল থেকে ৭ জন মেয়র, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৫৬ সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৭৪ ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ৩০৪টি ভোট কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

এ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ এবং নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

যশোরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু

অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে যশোরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দুপুর ১টা পর্যন্ত ভারতীয় ভিসার আবেদন গ্রহণ করছেন।

যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারী বাগান এলাকায় স্থাপিত সেন্টারের কর্মকর্তা মফিজুর রহমান জানান, যশোরের ব্যবসায়ী ও ভারত গমনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রসেসিং সেন্টারটি চালু করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮শ’ আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। সাতদিন পর আজকের আবেদনকারীদের ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হবে।

এদিকে ভিসা প্রত্যাশীরা এ সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খুবই খুশি। এখন থেকে তাদের আর ঢাকা বা খুলনায় যেতে হবে না।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ইমপোর্ট এক্সপোর্ট সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভিসাপ্রাপ্তির জন্যে মানুষ বহু দুর্ভোগের শিকার হতো। সেই দুর্ভোগ কমাতে যশোরের এই প্রসেসিং সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে যশোর অঞ্চলের বাসিন্দাদের ভারতীয় ভিসার জন্য খুলনায় যেতে হতো। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অর্থেরও অপচয় হতো।

সেন্টারের কর্মকর্তা মফিজুর রহমান আরো জানান, যশোর কেন্দ্রে ইউক্যাশের মাধ্যমে ভিসা আবেদনের টাকা জমা দেয়া যাবে। টুরিস্ট ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে ই-টোকেন লাগবে। তবে ৬৫ বছরের উপরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ই-টোকেন লাগবে না।

এছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা, সাংবাদিক, ছাত্র বা অন্য কোনো ভিসার ক্ষেত্রে ই-টোকেন দরকার হবে না।

এ বিষয়ে স্টেট ব্যংক অব ইন্ডিয়ার খুলনা শাখার প্রধান মানিক চন্দ্র চক্রবর্তী মুঠোফোনে জানান, যশোর কেন্দ্র চালু হওয়ায় খুলনা কেন্দ্রের উপর চাপ কমবে। যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরার নাগরিকরা যশোর কেন্দ্রে ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে পারবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ট্রিপল সেঞ্চুরি করে নায়ারের ইতিহাস

৩ টেস্টের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে সেঞ্চুরি, তারপর ডাবলে রূপ দিয়ে সেটিকে ট্রিপল সেঞ্চুরি বানিয়ে ছাড়লেন করুন নায়ার! সোমবার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ট্রিপলে রূপ দেওয়া প্রথম ভারতীয় হলেন নায়ার। অপরাজিত ৩০৩! টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষটায় নায়ার ৩০০ করতেই প্রথম ইনিংস ঘোষণা করলেন বিরাট কোহলি। ততক্ষণে ভারত তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড গড়েছে। সংগ্রহটা ৭ উইকেটে ৭৫৯! ভারতের আগের সর্বোচ্চ ৯ উইকেটে ৭২৬ এর রেকর্ড ভাঙল। আর এই ইনিংস টেস্ট ইতিহাসের সপ্তম সর্বোচ্চ।

নায়ার ভারতের ইতিহাসের দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান ও তৃতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক। আগের দুটিই বীরেন্দর শেবাগের। এম চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে আদিল রশিদকে বাউন্ডারি মেরেই নায়ার 2৯৯ থেকে ৩০৩ এ গেলেন। উল্লাস করলেন। ফিরলেন দাঁড়ানো সব দর্শকের অভিবাদন নিয়ে। ইতিহাস গড়া ট্রিপল নায়ার গড়েছেন দলের নিয়মিত ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে খেলতে না পারায়। রাহানে ফিরবেন। কিন্তু নায়ার যে ভারতকে মধুর সমস্যায় ফেলে দিলেন! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি সিরিজের শেষ টেস্ট। ইংলিশরা প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪৭৭ রান। ২৮২ রানের লিড নিয়ে ছাড়ল ভারত। এটি শেষ টেস্ট। আগের চার টেস্টের তিনটি জিতে সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত।

নায়ার ১৩০ ওভার ব্যাট করলেন। ৩৮১ বলে ৩২ চার ও ৪ ছক্কায় তার ইনিংস সাজানো। ১৯৯ রান করা লোকেশ রাহুলের সাথে আগের দিন ১৬১ রানের জুটি গড়েছিলেন নায়ার। এপর ৬৩ রানের জুটি মুরালি বিজয়ের সাথে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (৬৭) সাথে সোমবার ইনিংস সর্বোচ্চ ১৮১ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। আর ৭.২০ রান গড়ে সপ্তম উইকেটে রবিন্দ্র জাদেজার (৫১) সাথে ১৩৮ রানের জুটি। সব মিলিয়ে ভারতের ইনিংসটি হয়ে থাকল নায়ারময়। আগের দিন ৭১ রানে অপরাজিত থাকা নায়ার এদিনই ১০০, ২০০ ও ৩০০ পেরিয়েছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ইনিংস।

২৫ বছরের ডান হাতি ব্যাটসম্যান নায়ার হঠাৎ আলোয় আসা কোনো ব্যাটসম্যান না। বারবার জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়ে এই বছরই জিম্বাবুয়েতে খেলেছেন ২ ওয়ানডে। কিন্তু বলার মতো রান পাননি। কিন্তু ৩৯ ম্যাচের ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ার বলছে, নায়ার লম্বা রেসের ঘোড়া। ৮টি সেঞ্চুরি আছে তার। সাউথ জোনের হয়ে খেলা তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ৩২৮ রানের। প্রথম শ্রেণিতে রানের গড় ৫১’র একটু বেশি। আর এবার টেস্টে যে ইনিংসটি খেললেন তা কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসের তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। স্যার গ্যারি সোবার্স (অপরাজিত ৩৬৫) ও বব সিম্পসন (৩১১) কেবল নায়ারের আগে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঢাকা:

শহীদ বুদ্ধিজীবী ‍দিবসে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের স্মরণে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শহীদদের স্মরণে বিওগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

এদিন ছয়টার কিছু সময় আগে প্রধানমন্ত্রী শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আসেন। পৌঁছেই তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

পরে রাষ্ট্রপতিও শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় শেখ হাসিনা মন্ত্রী সভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ছেড়ে যাওয়ার পর শ্রদ্ধা নিবেদনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অপেক্ষমান হাজারো লোকজন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন চলবে দুপুর পর্যন্ত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইন্টারনেটে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে লড়ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক: ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভুয়া সংবাদ, ছবি ও ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বাংলাদেশ। টোকিওভিত্তিক আন্তর্জাতিক অনলাইন সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ লেখা এক নিবন্ধে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

১২ ডিসেম্বর সাময়িকীটিতে ‘বাংলাদেশ ফাইটস ম্যালিসাস ফেসবুক পোস্টিংস, অনলাইন হেট’ শিরোনামে এ নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় তার নিবন্ধে লিখেছেন-

সম্প্রতি সত্য খবরের ভীড়ে ভুয়া খবরের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। ইন্টারনেটে ক্লিক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ আয়ের জন্য কাল্পনিক খবর তৈরির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য এখন সমস্যা। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ তার নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতোই বাংলাদেশেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বাংলাদেশের জঙ্গিরা ফেসবুকের মাধ্যমে ভুয়া খবর পোস্ট করে বিদ্বেষ ছড়ায়।

সম্প্রতি ফেসবুকে এ ধরনের একটি ভুয়া ছবি ছড়ানো হয়। এতে মুসলমানদের পবিত্র স্থান মক্কায় কাবা ঘরে হিন্দু দেবতার ছবি বসিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জের ধরে ইসলামি উগ্রবাদীরা ঢাকার উত্তর-পূর্বে নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০০ ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ছবিটি দেখলে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় তা দুর্বলভাবে ফটোশপে করা। কিন্তু বিষয়টি উগ্রবাদীরা বিবেচনায় নেয়নি। ছবিটি উগ্রবাদ ছড়ানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকার দ্রুত তার নাগরিকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ভিডিওর ভিত্তিতে এই অপরাধের জন্য প্রায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে দ্রুত বিচার পান, সে জন্য সরকার এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য কাজ করছে সরকার। হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য সরকার অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও আধা সামরিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের মোতায়েন করেছে। হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে- ভুক্তভোগীদের সেই সান্ত্বনা ও ভরসা দিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্বেষ ও সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে সরকার ৩৫টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নাসিকে স্কুলের গণ্ডি পেরোননি ১২৪ জন প্রার্থী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে সাতজন মেয়র, ১৫৬ জন কাউন্সিলর ও ৩৮ জন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ১২৪ জনই বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোননি।

এটা মোট প্রার্থীর প্রায় ৬২ শতাংশ। প্রার্থীদের হলফনামা থেকে নেয়া তথ্যানুযায়ী গড় হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বার্ষিক আয়, মামলার পরিসংখ্যান, কর প্রদানসহ আনুষঙ্গিক তথ্যাদি উপস্থাপন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

তারা জানিয়েছে, সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও দুজনের স্নাতক। বাকি দুজনের মধ্যে একজন এসএসসি এবং অন্যজন এরও নিচে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের তিনজনের মধ্যে দুজনের শিক্ষায় সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা তাঁরা কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে দাওরা এবং মুফতি এজহারুল হক শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে কওমি উল্লেখ করেছেন।

মোট ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৫৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৯৫ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। এছাড়া ১৮ জন এসএসসি ও ২০ জন এইচএসসি। স্নাতক ১৬ জন ও স্নাতকোত্তর তিনজন।

মোট ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনই এসএসসির গণ্ডি অতিক্রম করেননি। এ ছাড়া পাঁচজন এসএসসি ও তিনজন এইচএসসি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যথাক্রমে পাঁচ ও একজন।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ২০১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪৪ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতাই এসএসসি বা এর নিচে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাত্র ৩০ জন। ৫৯.৭০% (১২০ জন) প্রার্থী বিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রম করেননি। চারজন প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেননি। তাঁদেরসহ হিসেব করলে বিদ্যালয়ের গণ্ডি না পেরোনো প্রার্থীর হার দাঁড়ায় ৬১.৬৯% (১২৪ জন)।

পেশা : সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন ব্যবসায়ী, দুজন আইনজীবী, একজন চিকিৎসক ও একজন চাকরিজীবী। ১৫৬ জন কাউন্সিলরের দশ ভাগের নয় ভাগেরও বেশি (১৪১ জন বা ৯০.৩৮%) পেশায় ব্যবসায়ী। চাকরি ও কৃষিতে যুক্ত যথাক্রমে চার ও তিনজন। একজন আইনজীবীও আছেন।

সংরক্ষিত আসনে ৩৮ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনের পেশা ব্যবসা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ জন গৃহিণী। তিনজন চাকরিজীবীও আছেন। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২০১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮০.০৯ শতাংশই (১৬১ জন) ব্যবসায়ী।

মামলা : সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাহবুবুর রহমান ইসমাইল ও সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে দুটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা-সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৫৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে। ৩৮ জন সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, তিনজনের বিরুদ্ধে অতীতে ও একজনের বিরুদ্ধে উভয় সময় মামলা আছে বা ছিল।

বার্ষিক আয় : মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বছরে পাঁচ লাখ টাকার নিচে আয় করেন পাঁচজন এবং পাঁচ লাখ টাকার অধিক আয় করেন দুজন। সেলিনা হায়াত আইভীর বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সাখাওয়াত হোসেন খানের আট লাখ ৬৯ হাজার ১০০ টাকা। ১৫৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১২৩ জন বছরে পাঁচ লাখ টাকার কম আয় করেন। বছরে ২৫ লাখ টাকার বেশি আয় করেন দুজন। তাঁরা হলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম।

এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের ৩৮ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৩১ জনের আয় বছরে পাঁচ লাখ টাকা বা এর নিচে। পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয় করেন দুজন—৬ নম্বর ওয়ার্ডের আফসানা আফরোজ ও ফারজানা হক। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২০১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫৯ জনের (৭৯.১০%) বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার কম এবং দুজনের (০.৪৯%) ২৫ লাখ টাকার বেশি।

মোট ৯ জন প্রার্থীর আয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; যার মধ্যে সংরক্ষিত আসনেরই পাঁচজন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদের যে চিত্র উঠে এসেছে তা কোনোভাবেই প্রকৃত চিত্র বলা যায় না। কেননা প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিটি সম্পদের মূল্য উল্লেখ করেন না। আবার উল্লিখিত মূল্য বর্তমান বাজার মূল্য নয়।
সম্পদ : সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার নিচে, দুজনের পাঁচ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে, একজনের ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে এবং অবশিষ্ট একজনের ৫০ লাখ টাকার বেশি। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ সাখাওয়াত হোসেন খানের ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৯ টাকা।

১৫৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৯৮ জন পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যমানের সম্পদের মালিক। চারজনের কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের সম্পদ রয়েছে। তাঁরা হচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজি মো. আনোয়ার ইসলাম (তিন কোটি ১১ লাখ টাকা), ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল (দুই কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৮ টাকা) ও গোলাম মুহাম্মদ কায়সার (দুই কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অহিদুল ইসলাম (এক কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭০ টাকা)। সংরক্ষিত আসনে ৩৮ জনের মধ্যে ২৯ জনের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার নিচে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১ প্রার্থীর মধ্যে ১৩০ জনই পাঁচ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক।

ঋণ : মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে কেবল মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের পাঁচ কোটি ৮১ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১৫ জন এবং সংরক্ষিত আসনের দুজন ঋণগ্রহীতা। মোট ২০১ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। ২০১ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কোটি টাকার ওপরে ঋণ রয়েছে। তাঁরা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোহরাব হোসেন (দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা), ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম মুহাম্মদ কায়সার (এক কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৪৮৪ টাকা) ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম এক কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৩২ টাকা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free