বিশেষ সংবাদ

পরবর্তী অর্থমন্ত্রী ফরাসউদ্দিন!

অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের তীব্র সমালোচনা করছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সমালোচনা থেকে একধাপ এগিয়ে জাতীয় পার্টি। তাদের সমালোচনার কারণ আগামী বাজেটে আবগারি শুল্ক, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো এবং বাড়তি ভ্যাট কেন জনগণের ওপর চাপালেন অর্থমন্ত্রী। একদিকে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমালোচনা, অন্যদিকে বয়সের ভার সামলাতে কষ্ট হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর। ৮৪ বছর হয়েছে তার। অবশ্য তিনি নিজেও কিছুদিন আগে বলেছিলেন ২০১৮ সালে এ সরকারের শেষ বাজেট দিয়ে অবসর নেবেন। আগামী নির্বাচনও করবেন না। পরে আবার মত পাল্টিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন করবেন। এই যখন অবস্থা তখন পরবর্তী অর্থমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা।একটি সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো পরবর্তী অর্থমন্ত্রীও রাখা হতে পারে সিলেট বিভাগ থেকে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজে থেকে পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দিলে অথবা আগামী একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তার স্থলে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার মাধপুরে। এ সরকারের আমলে তাকে অর্থমন্ত্রী করা হলে টেকনোক্রেট কোটায় করতে হবে। কারণ তিনি নির্বাচিত এমপি নন। কেউ কেউ বলছেন ফরাসউদ্দিন যেমন একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ তেমনি আওয়ামী লীগের অনুগতও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন ড. ফরাসউদ্দিন।

তাই তিনি অর্থমন্ত্রী হলে ষোলকলা পূর্ণ হবে। দেশ যেমন পাবে দক্ষ অর্থমন্ত্রী, তেমনি সিলেট থেকেই অর্থমন্ত্রী হওয়ার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকল। ড. ফরাসউদ্দিন অর্থমন্ত্রী হতে পারেন-এমন আলোচনা বেশি হচ্ছে ঢাকায় বসবাসরত সিলেটের মানুষের মধ্যে। কিছু রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতবিদও এমন আলোচনা করছেন। একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও অর্থনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, ড. ফরাসউদ্দিনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক। তাছাড়া তার ব্যক্তিগত ইমেজও ক্লিন। গতবছর দেশের ইতিহাসে ব্যাংকিং খাতে সবথেকে আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্তভারও ছিল তার উপর এবং তিনি অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন সরকারের কাছে। এছাড়াও অর্থনীতি বিষয়ে বড় বিপর্যয় বা দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বে থাকেন ফরাসউদ্দিন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও দিগুণ হয়েছে তার প্রতিবেদনের আলোকে। তিনি পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন। তাছাড়া পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে তার বিকল্প আর কোনো অর্থনীতিবিদ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বড় বড় অর্থনীতিবিদ থাকলেও ফরাসউদ্দিনের মতো ততটা পরিচিত নন তারা। অনেকের ধারণা সিলেটের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও এম সাইফুর রহমানের বিকল্প হতে পারেন একমাত্র ড. ফরাসউদ্দিনই। জানা গেছে অর্থনীতি বিষয়ে অধিক যোগ্যতা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সিলেট এগিয়ে থাকার কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারই সিলেট থেকে অর্থমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন। অন্য জেলা থেকে খুব কমই অর্থমন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে। বিএনপির হয়ে দেশের ইতিহাসে বেশি বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান।

তবে একটানা বেশি বাজেট দিয়েছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি এরশাদ সরকারের আমলেও একাধিক বাজেট দিয়েছেন। বিশিষ্টজনরা বলছেন, এই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মতো ফরাসউদ্দিনেরও রয়েছে মেধা, অর্থনীতি বিষয়ে পা-িত্য ও বর্ণাঢ্য জীবন। ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল ফরাসউদ্দিনের জন্ম। অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যদিও এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।

ফরাসউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সোনালী ব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান (এই পদ থেকেই ড. ফখরুদ্দীন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছিলেন), জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর। এছাড়াও অনেক সংস্থা ও কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং আছেন। বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তিনি। ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ

ডেস্ক,১০ জুন : সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেটা মিমাংসা না করেই জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ করল সরকার। বিভিন্ন সময়ে মেধা কোটা বাড়ানোর দাবি উঠলেও এবার সেদিকে না গিয়ে শুধুমাত্র জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মেধার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েও তর্ক আছে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। কিন্তু প্রশাসনিক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে সেক্ষেত্রে পদ শূন্য রাখা হয়। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মেধা বা অন্যান্য কোটায় অগ্রগামীদের মধ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে জেলার কোটা পুনঃনির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত আদেশ তিনি পাননি। তবে এখন পর্যন্ত ২০০১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে করা জেলা কোটা অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জনসংখ্যা কোথাও হ্রাস বা বৃদ্ধি হতে পারে। সে বিবেচনায় সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস হওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে এখন মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০, জেলা ১০, নারী ১০ এবং উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ। ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। সাধারণত সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি কোটা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান  বলেন, ২০১১ সালে আদমশুমারির নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া, বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং নতুন করে দুটি বিভাগ সৃষ্টি হওয়ায় জেলাওয়ারি পদ বিতরণের শতকরা হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশ জারি হওয়ায় আগের জেলা কোটার হার বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন আদেশে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ঢাকা জেলার জন্য সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলার জন্য সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক কোটার হার

ঢাকা বিভাগ:  ঢাকা জেলা ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, গাজীপুর ২ দশমিক ৩৬, মানিকগঞ্জ শূন্য দশমিক ৯৭, মুন্সীগঞ্জ এক শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ ২ দশমিক ০৫, নরসিংদী ১ দশমিক ৫৪, ফরিদপুর ১ দশমিক ৩৩, গোপালগঞ্জ শূন্য দশমিক ৮১, মাদারীপুর শূন্য দশমিক ৮১, রাজবাড়ী শূন্য দশমিক ৭৩, শরিয়তপুর শূন্য দশমিক ৮০, কিশোরগঞ্জ ২ দশমিক ০২ এবং টাঙ্গাইল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জনসংখ্যা অনুযায়ী ময়মনসিংহ ৩ দশমিক ৫৫, জামালপুর ১ দশমিক ৫৯, নেত্রকোণা ১ দশমিক ৫৫ এবং শেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ কোটা  পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম ৫ দশমিক ২৯, বান্দরবান শূন্য দশমিক ২৭, কক্সবাজার ১ দশমিক ৫৯, ব্রাহ্মবাড়িয়া ১ দশমিক ৯৭, চাঁদপুর ১ দশমিক ৬৮, কুমিল্লা ৩ দশমিক ৭৪, খাগড়াছড়ি শূন্য দশমিক ৪৩, ফেনী এক শতাংশ, লক্ষ্মীপুর ১ দশমিক ২০, নোয়াখালী ২ দশমিক ১৬ এবং রাঙ্গামাটি জেলায় শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ১ দশমিক ৮০, জয়পুরহাট শূন্য দশমিক ৬৩, পাবনা ১ দশমিক ৭৫, সিরাজগঞ্জ ২ দশমিক ১৫, নওগাঁ ১ দশমিক ৮১, নাটোর ১ দশমিক ১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ দশমিক ১৪ এবং বগুড়া জেলা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

রংপুর বিভাগ: রংপুর জেলা ২ শতাংশ, দিনাজপুর ২ দশমিক ০৮, গাইবান্ধা ১ দশমিক ৬৫, কুড়িগ্রাম ১ দশমিক ৪৪, লালমনিরহাট শূন্য দশমিক ৮৭, নীলফামারী ১ দশমিক ২৭, পঞ্চগড় শূন্য দশমিক ৬৯ ও ঠাকুরগাঁওয়ের কোটা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

খুলনা বিভাগ: খুলনা ১ দশমিক ৬১, যশোর ১ দশমিক ৯২, ঝিনাইদহ ১ দশমিক ২৩, মাগুরা শূন্য দশমিক ৬৪, নড়াইল শূন্য দশমিক ৫০, বাগেরহাট ১ দশমিক ০২, সাতক্ষীরা ১ দশমিক ৩৮, চুয়াডাঙ্গা শূন্য দশমিক ৭৮, কুষ্টিয়া ১ দশমিক ৩৫ এবং মেহেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ১ দশমিক ৬১, ভোলা ১ দশমিক ২৩, ঝালকাঠি শূন্য দশমিক ৪৭, পিরোজপুর শূন্য দশমিক ৭৭, বরগুনা শূন্য দশমিক ৬২ এবং পটুয়াখালী ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

সিলেট বিভাগ: সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সিলেটে ২ দশমিক ৩৮, মৌলভীবাজারে ১ দশমিক ৩৩, সুনামগঞ্জে ১ দশমিক ৭১ এবং হবিগঞ্জের জন্য ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ জেলা কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এক পতিতা মায়ের কান্না

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি, এপ্রিল ২৯ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালকের সামনে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এক পতিতা মা অঝোরে কেঁদেছেন। নিজের সন্তানসহ যৌনপল্লীর সহস্রাধিক শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিতে ওই কর্মকর্তার কাছে আকুতি জানান ওই মা।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণে এক সমাবেশে এ আকুতি জানান তিনি। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় পল্লীর শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ও যুগ্ম সচিব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ।

সমাবেশের উন্মুক্ত আলোচনায় কথা বলতে গিয়ে ওই পতিতা মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ভাগ্যের দোষে আমি পতিতা হলেও আমার একমাত্র পুত্র সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ করার চেষ্টা করছি। এখন সে কলেজে প্রথমবর্ষে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের ইজ্জত বিক্রির পয়সা ও শ্রম-ঘাম দিয়ে তার জন্য সবটুকু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পেরে উঠছি না। কষ্ট করে পড়ালেখার পরই বা ভবিষ্যত কী? পল্লীর খারাপ পরিবেশে ওকে আমি কতদিন ভাল রাখতে পারব। হয়তো অন্য দশটা ছেলের মতো সেও খারাপ হয়ে যাবে।’

ওই মা বলেন, ‘আমার ছেলে সমাজে মাথা উঁচু করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। আমি বহুবার ওকে নিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। ওর প্রকৃত বাবা সন্তানের পরিচয় দিতে চায় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে সুযোগ সন্ধানীরা তার সঞ্চিত টাকা-পয়সা লুটে নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।ছেলে শিশুদের জন্য এ এলাকায় একটি নিরাপদ আবাসন ও মেয়েদের সেফ হোম কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য সরকার ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতি আকুতি জানান ওই মা।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আবদুল জব্বার ওই মাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনার সন্তানের পড়ালেখার খরচ জেলা পরিষদ থেকে বহন করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির দায়িত্বও আমি গ্রহণ করছি।’

যুগ্মসচিব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ জানান, পল্লীর শিশুদের সার্বিক কল্যাণে তার জায়গা থেকে তিনি যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে তিনি সেভ দ্য চিলড্রেনকেও এখানে তাদের প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য নুরজাহান বেগম, প্রধান অতিথির সহধর্মিনী ও মাগুরা জেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রিতা রাণী ঘোষ, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা হচ্ছে

এস দাস,২৮ এপ্রিল:বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণের চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালায় এটি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের অবসরের বয়স ৬০ বছর। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারিত না থাকায় চাইলে ৫৯ বছর বয়সেও কেউ নিয়োগ পেতে পারেন। অপরদিকে সরকারি চাকরি তথা সরকারি কলেজ, হাইস্কুল ও প্রাইমারি স্কুলে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। এসব বিষয় বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সূত্র জানায়, এটি চূড়ান্ত হবে এমপিও নীতিমালা চূড়ান্তকরণ কমিটির বৈঠকে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক) রুহী রহমান শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের এমপিও নীতিমালা আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। তাতেই শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণের চিন্তা-ভাবনা আছে।’

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন  বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমাকে আমি সমর্থন করি না। তবে সরকার চাইলে এ সেক্টরের নিয়োগে দুটি ক্ষেত্রে বয়সসীমা আরোপ করতে পারে।

এক. এমপিও দেয়ার বয়সসীমা, দুই. নিবন্ধন পরীক্ষা দেয়ার বয়সসীমা। তিনি বলেন, যদি বয়সসীমা নির্ধারণ করা যায়, তাহলে ওই বয়সের মধ্যে যে কেউ পরীক্ষা দিয়ে সনদ নিয়ে রাখবে। এরপর যে কোনো বয়সে তিনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে এমপিও দেয়ার বয়সসীমার মধ্যে যদি কেউ যোগ না দেন, তাহলে তিনি তা (এমপিও) পাবেন না। এ নিয়োগ হবে চুক্তিভিত্তিক।প্রতিষ্ঠান তার বেতন বহন করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উল্লেখ থাকে, তবে তা প্রয়োজনে শিথিল করা যেতে পারে। তবে নিয়োগের বয়সসীমাকে স্বাগত জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সাবেক একজন মহাপরিচালক এবং একজন শিক্ষক নেতা। মাউশির সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নোমান-উর-রশীদ শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ ভালো। কেননা পাসের পর অন্য কাজে সময় দিলে তার লেখাপড়া ও সিলেবাস আয়ত্তে নাও থাকতে পারে। তিনি বলেন, বয়সসীমা ৩৫ করা হলে সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়সের সঙ্গে তুলনা যৌক্তিক নয়।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালায় আরও বেশকিছু নতুনত্ব আসছে। এর মধ্যে আছে, এমপিও পেতে হলে পাবলিক পরীক্ষায় স্কুলের পাসের হার ৭০ শতাংশ এবং কলেজের জন্য পাসের হার ৬০ শতাংশ হতে হবে। মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী) স্কুলে এমপিওভুক্তির জন্য শহর এলাকায় ৬০ জন ও মফস্বল এলাকায় ৪০ জন পরীক্ষার্থী (পাবলিক পরীক্ষায়) থাকতে হবে। বর্তমানে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ জন। পাসের হার বর্তমানে ৫০ শতাংশ থাকতে হয়। মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম স্তরে এমপিওভুক্তির জন্য পাসের হার ৭০ শতাংশ লাগবে। পরীক্ষার্থী থাকতে হবে শহর এলাকায় ৪০ জন ও মফস্বলে ৩০। বর্তমানে আরও ১০ জন কম আছে।

স্নাতক (পাস) স্তরের কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষার্থী থাকতে হবে শহর এলাকায় ৫০ জন ও মফস্বল এলাকায় ৩৬ জন। বর্তমানে থাকতে হয় যথাক্রমে ৪০ জন ও ২৬ জন। পাসের হার লাগবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে এটি আছে ৫০ শতাংশ। ফাজিল (পাস) মাদ্রাসা ও কামিল মাদ্রাসায় পাসের হার হতে হবে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে পাসের হার লাগে ৫০ শতাংশ।

তবে দেশব্যাপী শত শত কলেজে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স প্রোগ্রাম চালু থাকলেও প্রস্তাবিত নীতিমালায় এসব কলেজের শিক্ষকদের এমপিও দেয়ার বিষয়টি এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে নীতিমালার প্রথম খসড়ায় প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর পদ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় এ সংখ্যা কমছে। নাম প্রকাশ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় মাধ্যমিক ও নিুমাধ্যমিক স্কুল-মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি ও সমাজের জন্য একজন শিক্ষক ছিলেন। প্রথম খসড়ায় সেটি ৩ জন করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় ২ জন করা হয়েছে। বিজ্ঞানেও একজন করে শিক্ষক বাড়ানোর প্রস্তাব বাদ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞানের বিষয়ে ১ জন শিক্ষক নিয়োগ করা যায়। প্রথম খসড়ায় ২ জন করার প্রস্তাব ছিল।

নাম প্রকাশ না করে এক শিক্ষক নেতা বলেন, তাদের প্রস্তাব ছিল- পদার্থ, রসায়ন, জীববিদ্যা প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একজন করে নিয়োগের। সেখানে না বাড়িয়ে কমানোর উদ্যোগ সঠিক নয়। কেননা পদার্থ-রসায়নের মতো ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষকের পক্ষে জীববিজ্ঞান পড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে তা হবে হাতুড়ে ডাক্তারের মতো।

তবে চারুকলা, কম্পিউটার শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক বাড়ছে। সরকার বাধ্যতামূলক করায় এই তিনটি বিষয়ে খোলার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও লাগবে না। এ ব্যাপারে গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের। এই ৪০ হাজারের মধ্যে ৩৮ হাজারই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের বেতন-ভাতা বা এমপিও দেয় সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৬৪ ভাগেরও বেশি অর্থ চলে যায় এ খাতে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করলেন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান

নিজেস্ব প্রতিনিধি : ২৫ এপ্রিল : চুয়াডাঙ্গায় দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করলেন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ॥
চুয়াডাঙ্গার একমাত্র ভারী শিল্প নগরী দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় পৌর ভবনে মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান এর সভাপতিত্বে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের ৩৫ জন ভিক্ষুকের মাঝে এ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেব প্রসাদ পাল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান, দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধক্ষ্য মোশাররফ হোসেন, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু ও দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গাইন। এসময় দর্শনা পৌর এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৪৬ লাখ নারী-পুরুষ বেকার হয়েও রয়েছে বেকারের তালিকার বাইরে: বিবিএস

ডেস্ক,২৩ এপ্রিল : দেশের ৪৬ লাখ নারী-পুরুষ সত্যিকারের বেকার হয়েও রয়েছে বেকারের তালিকার বাইরে। তবে তাদের বেকার ধরা হয় না বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে। কিন্তু এই ৪৬ লাখ শ্রমশক্তিকে কর্মক্ষম হিসেবে ধরছে বিবিএস।

১৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টার জন্য কাজ না করে থাকে এবং এক মাসে কাজ খুঁজে থাকে কিন্তু কাজ না পেয়ে থাকে, তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিদ্যমান সংজ্ঞায় এমন কথাই উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটি থেকে আরও জানা যায়, ১৫ বছরের তদূর্ধ্ব কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘণ্টার জন্য হলেও মজুরির বিনিময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তাকে কর্মক্ষম ধরা হয়।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, এই হিসাবে দেশে এখন বেকারের সংখ্যা মাত্র ২৬ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আইএলওর সংজ্ঞা ব্যবহার করে জরিপ করে থাকে বিবিএস। আগামী ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিএসের শিল্প ও শ্রম উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, এ জরিপে এক সপ্তাহে এক ঘণ্টা কেউ কাজ করলে তাকে বেকার হিসেবে ধরা হয়নি। বলা হয়েছে, ১৫ বছরে ওপরে যারা গত এক সপ্তাহে এক ঘণ্টাও কাজ করেনি এমন বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ।

কিন্তু যারা কাজ করতে চায় বা এক মাসের মধ্যে কাজের খোঁজ করেছিল; কিন্তু পায়নি এ রকম মানুষের সংখ্যা ২৮ লাখ। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার চেয়ে কম কাজ করে এ রকম খণ্ডকালীন কাজে আছে ১৮ লাখ। আর বেকার আছে ২৬ লাখ। সব মিলিয়ে ধরা হলে বেকার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ লাখে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নববর্ষ ভাতা পাবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরীজীবিরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার,২১ এপ্রিল ॥ অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীকেও চলতি বছর থেকে নববর্ষ ভাতা দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতাভুক্ত অবসরে যাওয়া সব সরকারি সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের বাংলা নববর্ষ ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীরা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, তার ২০ শতাংশ হারে ১৪২৪ বাংলা সন থেকে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অবসরভোগীদের জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা দিতে সরকারের ১৩ কোটি টাকার দরকার পড়বে।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের আগে সিদ্ধান্ত হলেও প্রক্রিয়াগত কারণে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সময় লেগেছে। ১৪ এপ্রিল নববর্ষ অনুষ্ঠান পার হয়ে গেলেও অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীরা এ ভাতা পাবেন। বর্তমানে অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীরা বছরে দুটি করে উৎসব ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা পান। গত বছর থেকে নববর্ষ ভাতা চালু হলেও শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের দেয়া হয়নি। এ বছর থেকে তাঁরা বাংলা নববর্ষ ভাতার আওতায় এলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবসরের ঘোষণায় যা বললেন মাশরাফি

বয়স চলছে ৩৩। অবসর নিয়ে ছিলো কানাঘোষাও। সেটা আর দীর্ঘ হতে দিলেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টস করতে গিয়ে মাশরাফি জানিয়ে দিলেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের সিরিজটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

টসের পর ম্যাচ ছাড়াও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ব্যাপারে মাশরাফিকে প্রশ্ন করেন ধারাভাষ্যকার ডিন জোন্স। এসময় মাশরাফি বলেন, ‘হ্যাঁ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটাই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আমার পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ, বিসিবি এবং ভক্তদের আমি ধন্যবাদ জানাই এভাবে এতদিন আমাকে সমর্থন দিয়ে আসার জন্য।’

এরআগেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন মাশরাফি। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অবসর নিয়ে আবেগাপ্লুত এক স্ট্যাটাস দেন মাশরাফি। স্ট্যাটাসটি দেয়া হয়েছে টসের ১৩ মিনিট (৬টা ৪৭ মিনিটে) আগে।

মাশরাফির ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট।

ওই স্ট্যাটাসে মাশরাফি যা লিখেছেন ঠিক সেটাই তুলে ধরা হলো-

‘বাংলাদেশ টিম কে টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান দলটি একটি ভাল দল এবং দলে কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় আছে। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত চমৎকার দলের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আমার সকল ভক্ত, পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমাকে সবসময় সমর্থন করার জন্য। এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার ফ্যানদের কে খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ফ্যান এর কাছে তাদের কে প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা ভাল খেলছি। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ সামনের দিনগুলো তেও ভাল ক্রিকেট খেলবে। আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেয়ার জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময় যাতে অনেক তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে এবং বিসিবি তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আমি বাংলাদেশ এর টি-টোয়েন্টি টিম এর নতুন অধিনায়ক কে আগাম অভিনন্দন জানাই এবং আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সময় সামনে আসবে। শীঘ্রই আবার দেখা হবে। সকলের জন্য আমার আন্তরিক ভালবাসা।’

এই স্ট্যাটাস দিয়েই টস করতে নামেন বাংলাদেশের হয়ে ৩৬ টেস্ট, ১৭২ ওয়ানডে ও ৫২ টি-টোয়েন্টি খেলা মাশরাফি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন মাশরাফি। সেই থেকে এই ম্যাচ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬৬ টি-টোয়েন্টির ৫৩টিতেই খেলেছেন মাশরাফি। নিয়েছেন দেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ উইকেট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নয় : হাইকোর্ট

আদালতের আদেশ সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না করায় চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

নিজস্ব প্রতিবেদক: যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন- পরিবেশ ও বন সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিব, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ সচিব, নৌ-পরিবহন সচিব, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাব্যবস্থাপক (এমডি), কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা পরিষদ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক এবং সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন।

মঙ্গলবার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে আবেদনের পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবির শুনানিতে অংশ নেন।

আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবির জানান, সেন্টমার্টিন একটি পর্যটন এলাকা। সেখানে ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ২০১১ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে সেন্টমার্টিন এলাকায় বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রাক্ষায় নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু ওই রায় বাস্তবায়ন না করায় গত ২ ফেব্রুয়ারি চার সচিবসহ ১১ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশের জবাব না পেয়ে ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমনার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি করে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয় বলে জানান বেলার এ আইনজীবী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঐতিহাসিক জয়কে সমর্থকদের জন্য উৎসর্গ করলেন মুশফিক

টেস্টের শততম মাচে এসে শ্রীলংকার বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়কে সমর্থকদের জন্য উৎসর্গ করেছেন টাইগারদের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

রোববার কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে লংকানদের ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এটা শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের এটিই প্রথম জয়।

ম্যাচ জয়ের পর মুশফিক বলেন, এই জয় আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটার সমর্থকদের জন্য উৎসর্গ করলাম।

এছাড়াও জয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নৈপুণ্যে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মুশফিক।

মুশফিক বলেন, এই উইকেটেও সাকিব এবং মোস্তাফিজ যেভাবে বল করেছে এক কথায় চমৎকার। বোলিংয়েও তারা ভালো একটা জুটি গড়েছে। এটা আমি বেশ উপভোগ করেছি।

মুশফিক বলেন, অবশ্যই আমরা চাপে ছিলাম। তবে এখন এই জয়টাকে খুবই উপভোগ করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ওজনে কম দিলে ২ বছরের কারাদণ্ড

‘স্ট্যান্ডার্ডস ওজন ও পরিমাপ আইন ২০১৭’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ আইনে ওজনে কম এবং মানহীন পণ্য বিক্রি বা রফতানি করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভা নিয়মিত বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ আইনের ৩২ ধারায় মানদণ্ডহীন বাটখারা ও পরিমাপ ব্যবহারের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আইনে ছয়মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ধারা ৩৩ এ বলা হয়েছে, ‘ননস্ট্যান্ডার্ড (মানহীন) কোনো পরিপাক বা বাটখারা যদি কেউ বানায় তাহলে তার শাস্তি হল এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানির জন্য তৈরি বা উৎপাদিত পণ্যের ওজনে কম দিলেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে অপরাধী ব্যক্তিকে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেয়া হবে।’

এছাড়া বৈঠকে ‘বাংলাদেশ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন-২০১৭’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন আইন-২০১৭’ এর খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও জানান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েস এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভাই ও প্রকৌশলী বিশেষজ্ঞ আরিফুল হকের মৃত্যুতে দুটি পৃথক শোক প্রস্তাব পাস করা হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্তরাও উচ্চতর গ্রেড পাবেন

সরকারি চাকরিজীবীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সংক্ষুব্ধ চাকরিজীবীদের এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত মাসে এ রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ করে দেওয়া ব্যাখ্যা মূল পে স্কেলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ফলে এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি অবৈধ।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকার হাইকোর্টের রায় কার্যকর করলে যারা এরই মধ্যে একাধিক টাইম স্কেল কিংবা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন চাকরিতে বয়সের শর্তসাপেক্ষে তারাও উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন। অর্থাৎ পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা আরও বাড়বে। সূত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারি দেওয়া এ রায়ের কপি অর্থ মন্ত্রণালয় এখনও পায়নি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে আসার পর পর্যালোচনা করে আপিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ  বলেন, কাগজপত্র দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার ইব্রাহিম খলিল  বলেন, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূল পে স্কেলের দেওয়া সুবিধা অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্রের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় স্পষ্টীকরণ করেছে তা আইন অনুযায়ী হয়নি। পে অর্ডার ২০১৫ আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নির্বাহী আদেশ দিয়ে মূল আইন পরিবর্তন করা যায় না। ফলে পরিপত্রটি পে স্কেলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার ইব্রাহিম আলম ভূঁইয়া রিট আবেদনকারীর একজন।  তিনি বলেন, একই পদে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত থেকে একটি টাইম স্কেল পেয়েছি। হাইকোর্টের রায় কার্যকর হলে নতুন স্কেল অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাব। ইব্রাহিম আলম দাবি করেন, অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশের ফলে প্রায় ৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবী বাড়তি আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

পরিপত্রে যা বলা হয়েছে: গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, একই পদে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। তবে এরই মধ্যে একটিমাত্র টাইম স্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড পেলে নতুন স্কেলে শুধু একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারীদের প্রদত্ত এসব আর্থিক সুবিধা কোনোক্রমেই ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে দেওয়া হবে না। পরিপত্রের এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সংক্ষুব্ধ সরকারি চাকরিজীবীরা।

জানা গেছে, পরিপত্রটি জারি হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এটি জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে পদোন্নতিবঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা কমানো হয়েছে। এক পর্যায়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন উলি্লখিত পরিপত্রের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টে একাধিক রিট করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসারদের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ৪ জানুয়ারি একটি বেঞ্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া পৃথকভাবে রিট আবেদন করেন সরকারি কর্মচারী পরিষদ, প্রাথমিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অ্যাসোসিয়েশন অডিটর ও কৃষি ডিপ্লোমা সমিতি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে। বর্তমানে এসব রিট বিচারাধীন রয়েছে।

মূল পে স্কেলে যা বলা আছে: সরকারি চাকরিতে নিচের স্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। এসব পদোন্নতিবঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুল আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পুুরনো প্রথা বাতিল করে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড প্রথা প্রবর্তন করে। নতুন স্কেল অনুযায়ী কোনো কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এর মধ্যে একটি পাবেন চাকরির ১০ বছর পর ১১তম বছরে। অপরটি ১৬ বছর পর ১৭তম বছরে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল পে স্কেলে এ বিধান করা হলেও এ সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে মূল পে স্কেলে দেওয়া উলি্লখিত নিয়ম কার্যকর করতে স্পষ্টীকরণের ব্যাখ্যা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। মূল পে স্কেল কার্যকর হওয়ার তিন মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে এটি জারি করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে সম্মিলিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি শফিউল আলম  বলেন, তারা ২০১৫ সালের কার্যকর হওয়া মূল পে স্কেলের দেওয়া আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান। প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সেলিম উদ্দিন  বলেন, নতুন পে স্কেলে পদোন্নতিবঞ্চিতদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু পরে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্রের মাধ্যমে সেই সুবিধা কেড়ে নেয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পদোন্নতির জন্য ঘুষ তহবিলের শেষ দেখেনি পুলিশ

পদোন্নতি পেতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য বরিশালে বড় অংকের ঘুষের তহবিল করার ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করেনি পুলিশ। এই ঘটনায় বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক উপকমিশনার জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের কাকে বা কোন কর্মকর্তাদের এই ঘুষ দেয়া হতো, তা খুঁজে বের করতে চায়নি পুলিশ সদর দপ্তর।

৭৭ লাখ টাকা ঘুষের তহবিল করার ঘটনায় দুর্নীতি মামলাও হয়নি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষ নিয়ে পছন্দসই এলাকায় বদলির ব্যবস্থা করিয়ে দেয়া পুলিশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ইচ্ছে করেই বাঁচিয়ে  দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের জুনে বরিশাল মহানগর পুলিশের বিভিন্ন পদে কর্মকত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য ঘুষ দিতে ৭৭ লাখ টাকার তহবিল গঠন নিয়ে তোলপাড় হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর ১ জুলাই মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তারও আগের দিন ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ সদরদপ্তর। তারা হলেন: সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনিসুজ্জামান, মনির হোসেন ও হানিফ, নায়েক কবির হোসেন, কনস্টেবল তাপস কুমার, তিন গাড়ি চালক শহীদুল ইসলাম, বাবলু জোমাদ্দার ও দোলন বড়াল, এবং রেশন স্টোরকিপার আব্বাস উদ্দিন ও আরিফুর রহমান।

এই ঘটনায় জিল্লুর রহমানের বিভাগীয় শাস্তি হয়েছিল। তিনি বর্তমানে সিলেট উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেঞ্জের কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনায় তার শাস্তি হয় দুটি। তার চার বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি আটকে দেয়া হয়, আর এখনও তিনি কোনো দায়িত্ব পাননি। শুধু অফিসে যান এবং বেতন তুলে নেন।

ওই ঘুষের তহবিল গড়ার ঘটনায় আরো ১০ জন পুলিশ সদস্যকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তারাও বিভাগীয় শাস্তি পান। কিন্তু তারা এখন কোথায় আছে তাদের কী শাস্তি হয়েছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর।

২০১৪ সালে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পদোন্নতি হচ্ছিল না বরিশাল মহানগরে কর্মরত ২৩০ পুলিশ সদস্যের পদোন্নতি। তাদের পদোন্নতি পাইয়ে দেবেন এমন কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই অংক দাঁড়ায় ৭৭ লাখ টাকা।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরে বরিশালের পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

ঘুষের সেই টাকা রাখার জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংকের বরিশাল শাখায় যৌথ হিসাব খুলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনিসুজ্জামান, নায়েক কবির হোসেন ও চালক বাবলু জোমাদ্দার। ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছিল। বাকি ৬০ লাখ টাকা ছিল সে সময়ের বিএমপি উপ-কমিশনার জিল্লুর রহমানের কাছে।

জানতে চাইলে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ মহাপরির্দশক নজরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জিল্লুর রহমান এখনও আমাদের সিলেটের ডিআইজি অফিসে অ্যাটাচে আছেন। তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরই ভালো বলতে পারবেন।’

কার কাছে যেত এই টাকা?

পুুলিশে পদোন্নতি বা সুবিধাজনক স্থানে পোস্টিং পেতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পুরনো। বরিশালের ঘুষ তহবিল গঠনের পর বিষয়টি একেবারে প্রকাশ্যে চলে আসে। ঘুষের এই টাকা পুলিশ সদরদপ্তরের কোথায় যেত তা তদন্ত করে বের করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি ওঠে।

কিন্তু বরিশালে পুলিশের পদোন্নতির জন্য গড়া তহবিল সদরদপ্তরে কে বা কাদের কাছে আসত, সেই বিষয়ে কোনো তদন্ত করা হয়েছে কি না-এ বিষয়ে কর্মকর্তারা কিছুই বলছেন না। তবে এই ঘটনায় সদরদপ্তরের যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, সেটা নিশ্চিত করেছেন তারা।

জানতে চাইলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পদোন্নতির জন্য ঘুষের তহবিল করার ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা তো কোনো শাস্তি হলো না। এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচালিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে কার জন্য ঘুষের তহবিল করা হয়েছিল, সেটা তো খুঁজে বের করা জরুরি ছিল। পুলিশ সেটা না করলে এই তদন্ত পূর্ণাঙ্গ বলা যাবে না কোনোমতেই।’

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুনীতি দমন কমিশনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচায্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেছিল কি না তা আমার জানা নেই। এটা প্রায় তিন বছর আগের কথা।’

কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই শাস্তি যথেষ্ট নয়। এ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। তবে তখন কেউ অভিযোগ করেছিল কি না তা আমার জানা নেই। তখন অনেক গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।’ প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই যায়। তবে বিষয়টি দুদকের নলেজে আছে কি না তা আমি জানি না।’

এ ব্যাপারে জানতে বরিশালে ঘুষের তহবিল গড়া পুলিশ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি যেকোনো চাকরিজীবী এখন থেকে চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে অথবা অক্ষম হয়ে অবসর গ্রহণ করলে তার কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের আসল ও সুদ বা দণ্ড সুদসহ অর্থ মওকুফ করা হবে।

সরকার এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার আলোকে আসল ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১), অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও সমন্বয়), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, যুগ্ম সচিব (বাজেট-১), সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের একজন প্রতিনিধি।

অর্থ বিভাগের একজন উপসচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব এই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি আসল, সুদ বা দণ্ড সুদ মওকুফের সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্র্যাচুইটি, বেতনের পেনশনযোগ্য অংশ (শেষ বেতনের ৫০ ভাগ) ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।

এই নীতিমালায় অক্ষম বলতে সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু হয়ে অবসর গ্রহণ করাকে বোঝাবে।

নীতিমালাসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা সরকারি কর্মকর্তাদের গৃহনির্মাণ, গৃহ মেরামত, মোটরকার ও মোটরসাইকেল এবং কম্পিউটার ঋণের বেলায় প্রযোজ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে নেওয়া ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ড সুদ মওকুফ করা হবে।

এর আগে এ ধরনের ঋণের অর্থ চাকরিজীবীদের পাওনা থেকে অথবা উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে আদায় করা হতো। তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালায় নেওয়া ঋণ এ নীতিমালার আওতায় বিবেচিত হবে না।

এদিকে গৃহঋণ সীমা বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে ৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ইতিমধ্যে এসব সুবিধা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে দেওয়া হবে বিশেষ রেয়াত সুবিধা। এ ছাড়া নতুন এ বেতন স্কেলে একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৬০ থেকে ৮০ মাসের বেতনের সমান গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন। সেই হিসাবে বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত হবে।

এতে দেখা যায়, সর্বনিম্ন গ্রেডের (গ্রেড-২০) একজন কর্মচারী সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা এবং গ্রেড-১-এর একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া ২০ জনের একটি গ্রুপ করে জমি কেনার জন্যও ঋণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গৃহনির্মাণ ঋণ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয় সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এই নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গৃহনির্মাণ ঋণের ব্যাখ্যায় পে-স্কেলে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ লাখ হলেও এর মধ্যে আবাসন সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ ভাগ। এ ছাড়া স্থানভেদে বাসা ভাড়ার হারের তারতম্য রয়েছে, যে কারণে চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশকে সরকারি আবাসিক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া দেখা গেছে সর্বোচ্চ শ্রেণি থেকে সর্বনিম্ন শ্রেণি পর্যন্ত সব স্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা খুব কম দেওয়া হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনা করে স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ চালু ও ফ্ল্যাট নির্মাণে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু  করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এ সুযোগের আওতায় থাকছেন না বলে জানা গেছে। গৃহঋণসংক্রান্ত এক বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে বলা হয়, এমপিওভুক্তদের এ সুবিধায় আনা হলে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষণ বেড়ে যাবে।

বৈঠকে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রস্তাবিত গৃহঋণ সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুধু বর্তমানে গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধার আওতায় যেসব সরকারি চাকরিজীবীর ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, কেবল তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে ঋণ মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকুরেদের জন্য আরও একটি সুযোগ সৃষ্টি করল সরকার। এখন থেকে চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেলে অথবা অক্ষম হয়ে অবসর গ্রহণ করলে তার কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদসহ মওকুফ করা হবে। সম্প্রতি সরকারের এ সিদ্ধান্ত নীতিমালা আকারে জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা সরকারি কর্মকর্তাদের গৃহ নির্মাণ, গৃহ মেরামত, মোটরকার ও মোটরসাইকেল এবং কম্পিউটার ঋণের বেলায় প্রযোজ্য হবে। এসব বাবদ নেওয়া ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফ করা হবে। এর আগে এ ধরনের ঋণের অর্থ কর্মকর্তার পাওনা থেকে অথবা উত্তরাধিকারীদের থেকে আদায় করা হতো। তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালায় নেওয়া ঋণ এ নীতিমালার আওতায় বিবেচিত হবে না।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের জন্য এসব খাতে একেক ধরনের ঋণ সুবিধা রয়েছে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা গৃহ নির্মাণ বাবদ ৫৫ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন। মোটরকার বাবদ ৪৫ থেকে ৬০ লাখ এবং মোটরসাইকেল বাবদ দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ এবং কম্পিউটার কেনা বাবদ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন।

এই নীতিমালায় অক্ষম বলতে সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু হয়ে অবসর গ্রহণ করাকে বোঝাবে। ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সুপারিশ করার জন্য অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ) সভাপতি করে আট সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

এই কমিটি আসল, সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফের সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্র্যাচুইটি, বেতনের পেনশনযোগ্য অংশ (শেষ বেতনের ৫০ ভাগ) ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধার সম্পাদক স্বরুপ দাস  জানান, সরকারের এ সিদ্ধান্তে সব সরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা উপকৃত হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter