বিশেষ সংবাদ

৫৭ ধারায় মামলা : খুলনার সেই ওসিকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাগল মারা যাওয়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাংবাদিক গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় খুলনার ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে খুলনা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পুলিশ হেড কোয়াটার্সের নির্দেশে খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেন। রাত সাড়ে ৮টায় ওসি সুকুমার বিশ্বাস ডুমুরিয়া থানার ওসি তদন্ত আব্দুল খালেকের নিকট দায়িত্ব বুঝে দেন।

জানা যায়, গত ২৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি তার নিজ এলাকা ডুমুরিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের (এফসিডিআই) আওতায় কয়েকজন দুস্থের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। জুলফিকার আলী নামে দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির পাওয়া ছাগল ওইদিন রাতেই মারা যায় বলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে সুব্রত ফৌজদার নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সাংবাদিক লতিফ মোড়ল স্থানীয় একটি দৈনিকের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনায় খুলনাসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মামলা দায়েরের পর ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, মামলার বাদী সুব্রত। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করেন লতিফ। এতে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন তিনি। এদিকে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাংবাদিক লতিফ মোড়ল খুলনা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন।

-ইত্তেফাক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মরা ছাগলের খবর শেয়ার, গ্রেপ্তার সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) ৫৭ ধারার এক মামলায় খুলনার ডুমুরিয়ার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাগলের মৃত্যুর সংবাদ শেয়ার করার অভিযোগে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

আব্দুল লতিফ মোড়ল খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, সুব্রত ফৌজদার নামের এক ব্যক্তি সোমবার রাতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত খবর ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তার মানহানি করেছেন আব্দুল লতিফ।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ায় দুস্থদের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। বিতরণ করা ছাগুলগুলোর মধ্যে একটি ওই দিন রাতেই ওই এলাকার এক ব্যক্তির ঘরে মারা যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় এটি সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন সুব্রত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দর্শনায় মন্দিরের তালা ভেঙ্গে পাথর চুরি, থানায় মামলা

শামসুজ্জোহা পলাশ : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রামনগর কালি মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে ২ টি পাথরের শিব মুর্তি ভেবে পাথর চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ২৫ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ইতি পূর্বেও এই মন্দির থেকে শিব লিঙ্গ মুর্তি ও শিবের জিভ মুর্তি চুরে করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী যাদব সরকার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে বাবা দাদা আমলের বহুদিন ধরে রক্ষিত ২ টি শিব পাথর মূর্তি  মনে করে পাথর চুরি করে নিয়ে গেছে। প্রতিটি পাথরের ওজন হবে ১০ থেকে ১২ কেজি করে।তিনি আরও জানান, এ পাথর  দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ধর্মীয় অবলম্বনের লোকজন পূজা করে আসছিল। তবে এ পাথরের কত টাকা মূল্য বা কি পাথর সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

খবর পেয়ে দুপুর ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম ও দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল্যহীন ২ টা পাথর মূল্যবান ভেবে চোরেরা চুরি করে নিয়েগেছে। প্রতিটি পাথরের আনুমানিক ওজন ৪ থেকে ৫ কেজি হবে।

তিনি আরও জানান, এবিষয়ে থানায় একটি চুরি মামলা হয়েছে। মামলা নং ৪৪ তারিখ ২৬.০৭.১৭ ইং। পাথর দুটি উদ্ধার ও দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আবারো প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা বঞ্চিত!

বিসিএস নন-ক্যাডার পদে অপেক্ষমাণ সবাই চাকরি পেলেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৩৫ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পদ পাননি, তাদের মধ্য থেকে আরও এক হাজার ৪৬৬ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোন বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার পদের জন্য অপেক্ষমাণ সকল প্রার্থীই পেলেও প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক পদে দেয়া হয়নি কাউকে। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ বিসিএসে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন যেখানে দুই হাজার ১৫৮ সেখানে পিএসসির উদ্যোগে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পেলেন আরও বেশিসংখ্যক; দুই হাজার ১৬৩ চাকরি প্রার্থীকে। বিসিএসে নন-ক্যাডারের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা সকল প্রার্থীর নিয়োগের ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।

নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা অনুযায়ী মেধাক্রম ও বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নন-ক্যাডার পদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি)। একদিকে প্রথমবারের মতো অপেক্ষমাণ সকল প্রার্থীর নিয়োগ অন্যদিকে ক্যাডার পদ থেকেও নন-ক্যাডার পদে বেশি প্রার্থীর চাকরি নিশ্চিত করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেছেন, এটা আমাদের দেশের মেধাবী যুব সমাজের জন্য বড় একটা কাজ। এ কাজ আমরা করতে পেরেছি সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব, আমাদের সকল সদস্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সার্বিক সহযোগিতার কারণে। নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসির চেয়ারম্যান বলেছেন, ৩৫ বিসিএসের মাধ্যমে এক দফায় ১৩৯ জনকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলাম আমরা। আরেক দফায় ৩৯৮ জনকে এবং পরে আরেক দফায় ১৬০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। মোট ৬৯৭ জনকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলাম।

২০১৪ সালের ১৭ জুন নন-ক্যাডার নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০ সংশোধন করে বিসিএস উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়। জানা গেছে, নিয়ম অনাযায়ী ৩৫ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্যে যারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে যোগ দিতে আগ্রহী, তাদের কাছে আবেদন চায় কমিশন। তাতে দুই হাজার ৬০০ জন আবেদন করেন। ৩৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে নিয়োগের জন্য গেল বছর ৩০ আগস্ট সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় পিএসসি। এ ছাড়া চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের বিশেষ উদ্যোগে বেশিসংখ্যক প্রার্থী যেন নিয়োগ পায় সে জন্য কোটার প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেখানে মেধাবীদের নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। পরে সেটি মন্ত্রিপরিষদে গেলে কোটা শিথিলের সুপারিশ করা হয়।

২০১৪ সালে বিধিমালা সংশোধন করে প্রথম শ্রেণীর নন- ক্যাডার পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা পদেও নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত আগের বিসিএস থেকে নন- ক্যাডারে নিয়োগ চলে। এই নিয়ম কার্যকর থাকে পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত। পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ৩৫তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পরই আমরা সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শূন্য পদের তালিকা চেয়েছি। এবার প্রথমবারের মতো আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে চাহিদাপত্র পেয়েছি তার ভিত্তিতে প্রথমে প্রথম শ্রেণীর বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছি, এরপর দ্বিতীয় শ্রেণীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) ২১৭ জন, সামাজিক বিজ্ঞান পদে ১১০, ভৌতবিজ্ঞান পদে ১০৯, ব্যবসায় শিক্ষা পদে ১১০, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে ৫৪৫, রাজস্ব বোর্ডের কর পরিদর্শক পদে ৮০,

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুপ্ত সংকেত পরিদফতরের সহকারী সাইফার অফিসার পদে একজন, আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের নির্বাহী অফিসার ১৬, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদফতরের এক্সামিনার অব এ্যাকাউন্টস ২, সমাজসেবা অধিফতরের বিভিন্ন পদে ৩৭, শ্রম অধিদফতরের বিভিন্ন পদে ৭, কলকারাখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদফতরের বিভিন্ন পদে ১৭, পারিবেশ অধিদফতরে ২, গণযোগ অধিদফতরে ২২, তথ্য অধিদফতরে ১০, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ২, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ২, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে নিয়োগ পেয়েছেন ৫।

এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমরা একসঙ্গে তিন-চারটি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছি। ৩৫তম বিসিএসের নন- ক্যাডারদের রেজাল্ট হলো। ৩৬তমের ফল তৈরি করছি। ৩৭তমের মৌখিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, ৩৮তমের আবেদন ফর্ম গ্রহণ করছি। চারটি পরীক্ষা যদি চার বছরের মধ্যে শেষ করি, তাও এক বছর সময় লাগছে। একটা বিসিএস পরীক্ষা মানে শুধু একটা পরীক্ষা নয়। ২৭টি ক্যাডারের পরীক্ষা। এর মধ্যে সাবক্যাডার আছে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারেই ৭৯ রকমের বিষয় আছে।

এছাড়া এই ৭৯ রকমের প্রশ্ন করা, বিশেষজ্ঞ আনা, খাতাও দেখাতে হয় ৭৯ রকমের শিক্ষককে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে তাই সময় লাগে। দেড় বছরের বেশি সময় লাগছে। আমরা রোডম্যাপ করেছি। যদি দেড় বছরের মধ্যেও শেষ করতে পারি, সেটাও অনেক ভাল। আরও দ্রুত করতে হলে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। সেটি নিয়ে কাজ করছি।

তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ৩৬তম বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে দেব। এটি এর আগেও হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে নিতে পারব। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অক্টোবরের মধ্যে নিতে পারব বলে আশা করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জ্যেষ্ঠ স‌চিব হলেন চার কর্মকর্তা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার চার স‌চিব‌কে ‌জ্যেষ্ঠ স‌চিব ক‌রে আদেশ জারি ক‌রে‌ছে। এদের‌কে আগের কর্মস্থলেই পদায়ন করা হয়েছে।

এই কর্মকর্তারা হলেন-কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর (সচিব) এম আসলাম আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান এবং সেতু বিভাগের স‌চিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

নতুন চারজন‌কে নি‌য়ে জনপ্রশাস‌নে বর্তমা‌নে জ্যেষ্ঠ সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জন।

২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনপ্রশাসনে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদ চালু করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জন্ম হওয়া শিশুর মাথাপিছুঋণ ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা

ডেস্ক,৩০ জুন: ঠিক এই মুহূর্তে সদ্যজাত যে শিশুটির জন্ম হলো, আগামীকাল ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে তারও মাথাপিছু ঋণ ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি মানুষ ৪৬ হাজার টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে শুরু করছে ২০১৭-১৮ অর্থবছর।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী বড় বাজেট দিলেও বেশি আয় করতে পারছেন না। এতে বাড়ছে বাজেট ঘাটতি। আর তা মেটাতে তার ভরসা এখন ঋণ। এই ঋণ প্রতিবছরই বাড়ছে। এর ফলে জনগণের উপর ঋণের বোঝা বাড়ছেই।

তাদের মতে, এতে বাজেট শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে। বিশাল অংকের টাকাও খরচ হয়ে যাচ্ছে সুদ পরিশোধে। সুদ পরিশোধে এত বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখতে না হলে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি রাখতে পারত।

এ দিকে গত ১ জুন বাজেট পেশের দিন প্রকাশিত মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে চলেছে এবং সরকার বাধ্য হয়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রাষ্ট্রের মোট ঋণ দাঁড়াবে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা; যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পুরো দেশের মানুষের ওপর ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ ছিল। সুদসহ আগের বছরগুলোর মূল টাকাও সরকার প্রতিবছর পরিশোধ করে আসছে। পরিশোধ না হওয়া টাকা জমতে জমতেই ঋণের বোঝা এত বড় হয়েছে।

এ দিকে গত ৩০ মে দেশের জনসংখ্যার একটি হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। সে হিসেবে আগামী অর্থবছর শেষে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৫০ লাখ এবং মাথাপিছু ঋণ দাঁড়াবে ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাথাপিছু ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যয়বহুল ঋণ বেশি নিতে হচ্ছে। এর অর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ রাখতে পারছে না।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, সরকার ঠিক মতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে।

তিনি বলেন, একসময় দেশি-বিদেশি ঋণের হার ছিল অর্ধেক-অর্ধেক। বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি থাকে, সরকার তাই সে পথে যায় না। সরকার সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয় বেশি সুদের অভ্যন্তরীণ উৎসকে।

সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য আহসান এইচ মনসুর আলাদা একটি বিভাগ গঠনের পরামর্শ দেন।

এ দিকে নতুন ভ্যাট আইন থেকে পিছিয়ে আসায় এলোমেলো হয়ে গেছে নতুন বাজেট। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর। আর বেশি আয়ের ওপর নির্ভর করেই বিশাল একটি বাজেট তৈরি করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন অর্থমন্ত্রী ও সরকার। ফলে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বাজেট পাসের সঙ্গে সঙ্গেই। এমনকি সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের জন্য পাস হওয়া ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে অনুন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪ কোটি টাকার। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে রাখা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদই ৩৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।

মোট বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ অর্থই ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে। সুদ পরিশোধের পুরো বরাদ্দ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, বাজেটে তার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হবে সঞ্চয়পত্রের সুদে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হবে মেয়াদি ঋণের সুদে।

বাজেট সংক্ষিপ্তসারের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের সুদ দিতে বরাদ্দ রাখা আছে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ১৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে মেয়াদি ঋণের সুদ বাবদ।

যদিও ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) ৪৩ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। অথচ চলতি অর্থবছরে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে না : ব্যাংকের আবগারি শুল্ক তিন স্তরে

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে মূল্য সংযোজন কর বা ভাট আইনের বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই ঘোষণা দেন। ঈদের ছুটির পর গতকাল সংসদের মূলতবি বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নতুন ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা দুই বছর পেছানোর আহ্বান জানান। আগে থেকেই অবশ্য বলা হয়েছিলো যে, প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে খোলাসা বক্তব্য দেবেন।

গত পহেলা জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনকালে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এই আইনে ঢালাও   ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয় যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে বলে শুরুতেই সমালোচনায় পড়ে। সংসদ এবং সংসদের বাইরে ভ্যাট আইনটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত গতকাল এর সমাধান দেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো যে, আইনটির কার্যকারিতা দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে তার বক্তব্যে কর আরোপ প্রক্রিয়ায় মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাকে একটি উত্তম পন্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯১ সালে প্রণীত মূল্য সংযোজন কর আইনটি বহু সংশোধনীর পর অফলপ্রসূ হয়ে পড়ায় ২০০৮ সালেই একটি নতুন মূসক আইন প্রণীত হয়। এইটি নিয়ে প্রায় চার বছর নানা আলোচনা বিতর্ক চলে। অবশেষে ২০১২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, যা এই মহান সংসদে পাস হয়।

তিনি বলেন, এই আইনটির কার্যকারিতা কিন্তু ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। এ বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিধায় এবারের বাজেটে আইনটি কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছিলো। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের প্রাজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে মূসক আইনের পূর্ণ কার্যকারিতা পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করছি। আগের ধারাবাহিকতায় কিছু সংশোধন করে ২০১২ সালের আইনই যেভাবে গত ৪ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর ঢালাও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিষয়টি আর থাকছে না। এখন থেকে আগের গত চার বছর ধরে চলে আসা নিয়মই বহাল থাকবে। তবে ক্ষেত্রেভেদে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। অর্থমন্ত্রীও কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবসহ অর্থ বিল ২০১৭ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আবগারি শুল্ক কমেছে: এদিকে, বহুল আলোচিত আবগারি শুল্ক হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা লেনদেনের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আগে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বছরে দেড়শ’ টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখা হতো। নতুন বাজেটে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মওকুফ করে দিয়ে ১ লাখের বেশি হলে ৮শ টাকা শুল্ক আরোপ করা হয় যা আগে ছিলো ৫শ  টাকা। আলোচনা সমালোচনার পর এই হারেও পরিবর্তন আনা হয়। তিনটি স্তরে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

সংশোধিত প্রস্তাবে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে আবগারি শুল্ক হার মওকুফ করা হয়। ১ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেড়শ টাকা, ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫শ টাকা, ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আড়াই হাজার টাকা শুল্কারোপের প্রস্তাব করা হয়। ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি হলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কর্তনের নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়।

আরো যেসব সংশোধনী: অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও কিছু সংশোধনীর কথা তুলে ধরেন। তিনি সংসদে জানান, রাজস্ব প্রস্তাব সম্বন্ধে বিভিন্ন মহল থেকে শুল্ক-করাদি বাড়ানো অথবা কমানো অথবা বাদ দেয়ার জন্য অনেক প্রস্তাব গত কয়েক মাসে পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের আলোচনায় এই সব প্রস্তাবের অনেকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এই সব প্রস্তাবের বেশিরভাগই বাজেট চূড়ান্তকরণের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে একটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধ্যান অথবা যোগ (মেডিটেশন)-এর ওপরে আগামী ২ বছর ভ্যাট থাকছে না। কম্পিউটার, সেলুলার ফোন এবং তার যন্ত্রাংশ এখন দেশে তৈরি হচ্ছে জানিয়ে এগুলোকে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বহাল থাকছে শিপব্রেকিংয়ের বিষয়ে বর্তমানে বলবত প্রজ্ঞাপন। মোটরসাইকেল শিল্পের উপর স্থানীয় উত্পাদন পর্যায়ে আরোপনীয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড অনেক সফটওয়্যার আমদানি করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রদান করে এবং কতিপয় পণ্য বিনা আমদানি শুল্কে আমদানি করে। যেসব পণ্যে আমদানি শুল্ক  নেই  সেগুলোর উপরে প্রস্তাবিত ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। রেফ্রিজারেটর সংযোজনকারীদের উপর প্রযোজ্য ৩০ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এলপিজির ব্যাপক ব্যবহারের লক্ষ্যে কম্পোজিট অর্থাত প্লাস্টিক ও গ্লাস ফাইবার নির্মিত এলপিজি কন্টেইনারের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার এখনো আমদানি নির্ভর হওয়ায় স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে লৌহনির্মিত এলপিজি কন্টেইনারের ওপর ভ্যাট বহাল রাখার প্রস্তাব করছি। এক কথায় গত বছর যে ব্যবস্থাটি ছিলো সেটাই অব্যাহত থাকছে।

অর্থমন্ত্রীর সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সব যন্ত্রপাতি উত্পাদনকে সাহায্য করার জন্য গত বছরের অর্থ বিলে প্রগ্রেসিভ উত্পাদনকে কিছু কর/শুল্কের সুবিধা দেয়া হয়েছিলো। এবারও এই খাতের ওপর বর্ধিত শুল্ক করাদি মওকুফ করার প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী। একইভাবে প্রস্তাবিত সোলার প্যানেলের আমদানি শুল্ক বাদ দেয়া হয় চূড়ান্ত প্রস্তাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ নিয়োগে জটিলতা

ডেস্ক : আবার জটিলতা। ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ নিয়োগকে কেন্দ্র করে। বোর্ডের একাংশ যে রবি শাস্ত্রীকে কোচ অথবা ডিরেক্টর হিসেবে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, এটা এখন আর কোনো গোপন খবর নয়। তা করতে গিয়ে অপসারিত কর্তাদের একাংশ সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত প্রশাসকদের না জানিয়ে নতুন করে কোচ নিয়োগের আবেদন করার রাস্তা খুলে দিয়েছেন।

এতে প্রচণ্ড চটে গেছেন প্রশাসকরা। তা নিয়ে অবশ্য মোটেই চিন্তিত নন অপসারিত কর্তারা। ঠিক হয়েছে, ৯ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই মর্মে বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, প্রথম দফায় রবি শাস্ত্রী আবেদন না করায় তাকে সরাসরি শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণের সামনে পরীক্ষায় ডাকা সম্ভব হবে না, আইনি জটিলতার কারণে।

আবেদনের মেয়াদ ৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ায় রবি শাস্ত্রীকে সুযোগ করে দেয়া হলো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরবর্তী অর্থমন্ত্রী ফরাসউদ্দিন!

অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের তীব্র সমালোচনা করছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সমালোচনা থেকে একধাপ এগিয়ে জাতীয় পার্টি। তাদের সমালোচনার কারণ আগামী বাজেটে আবগারি শুল্ক, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো এবং বাড়তি ভ্যাট কেন জনগণের ওপর চাপালেন অর্থমন্ত্রী। একদিকে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমালোচনা, অন্যদিকে বয়সের ভার সামলাতে কষ্ট হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর। ৮৪ বছর হয়েছে তার। অবশ্য তিনি নিজেও কিছুদিন আগে বলেছিলেন ২০১৮ সালে এ সরকারের শেষ বাজেট দিয়ে অবসর নেবেন। আগামী নির্বাচনও করবেন না। পরে আবার মত পাল্টিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন করবেন। এই যখন অবস্থা তখন পরবর্তী অর্থমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা।একটি সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো পরবর্তী অর্থমন্ত্রীও রাখা হতে পারে সিলেট বিভাগ থেকে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজে থেকে পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দিলে অথবা আগামী একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তার স্থলে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার মাধপুরে। এ সরকারের আমলে তাকে অর্থমন্ত্রী করা হলে টেকনোক্রেট কোটায় করতে হবে। কারণ তিনি নির্বাচিত এমপি নন। কেউ কেউ বলছেন ফরাসউদ্দিন যেমন একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ তেমনি আওয়ামী লীগের অনুগতও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন ড. ফরাসউদ্দিন।

তাই তিনি অর্থমন্ত্রী হলে ষোলকলা পূর্ণ হবে। দেশ যেমন পাবে দক্ষ অর্থমন্ত্রী, তেমনি সিলেট থেকেই অর্থমন্ত্রী হওয়ার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকল। ড. ফরাসউদ্দিন অর্থমন্ত্রী হতে পারেন-এমন আলোচনা বেশি হচ্ছে ঢাকায় বসবাসরত সিলেটের মানুষের মধ্যে। কিছু রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতবিদও এমন আলোচনা করছেন। একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও অর্থনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, ড. ফরাসউদ্দিনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক। তাছাড়া তার ব্যক্তিগত ইমেজও ক্লিন। গতবছর দেশের ইতিহাসে ব্যাংকিং খাতে সবথেকে আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্তভারও ছিল তার উপর এবং তিনি অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন সরকারের কাছে। এছাড়াও অর্থনীতি বিষয়ে বড় বিপর্যয় বা দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বে থাকেন ফরাসউদ্দিন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও দিগুণ হয়েছে তার প্রতিবেদনের আলোকে। তিনি পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন। তাছাড়া পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে তার বিকল্প আর কোনো অর্থনীতিবিদ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বড় বড় অর্থনীতিবিদ থাকলেও ফরাসউদ্দিনের মতো ততটা পরিচিত নন তারা। অনেকের ধারণা সিলেটের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও এম সাইফুর রহমানের বিকল্প হতে পারেন একমাত্র ড. ফরাসউদ্দিনই। জানা গেছে অর্থনীতি বিষয়ে অধিক যোগ্যতা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সিলেট এগিয়ে থাকার কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারই সিলেট থেকে অর্থমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন। অন্য জেলা থেকে খুব কমই অর্থমন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে। বিএনপির হয়ে দেশের ইতিহাসে বেশি বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান।

তবে একটানা বেশি বাজেট দিয়েছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি এরশাদ সরকারের আমলেও একাধিক বাজেট দিয়েছেন। বিশিষ্টজনরা বলছেন, এই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মতো ফরাসউদ্দিনেরও রয়েছে মেধা, অর্থনীতি বিষয়ে পা-িত্য ও বর্ণাঢ্য জীবন। ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল ফরাসউদ্দিনের জন্ম। অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যদিও এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।

ফরাসউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সোনালী ব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান (এই পদ থেকেই ড. ফখরুদ্দীন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছিলেন), জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর। এছাড়াও অনেক সংস্থা ও কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং আছেন। বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তিনি। ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ

ডেস্ক,১০ জুন : সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেটা মিমাংসা না করেই জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ করল সরকার। বিভিন্ন সময়ে মেধা কোটা বাড়ানোর দাবি উঠলেও এবার সেদিকে না গিয়ে শুধুমাত্র জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মেধার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েও তর্ক আছে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। কিন্তু প্রশাসনিক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে সেক্ষেত্রে পদ শূন্য রাখা হয়। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মেধা বা অন্যান্য কোটায় অগ্রগামীদের মধ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে জেলার কোটা পুনঃনির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত আদেশ তিনি পাননি। তবে এখন পর্যন্ত ২০০১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে করা জেলা কোটা অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জনসংখ্যা কোথাও হ্রাস বা বৃদ্ধি হতে পারে। সে বিবেচনায় সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস হওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে এখন মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০, জেলা ১০, নারী ১০ এবং উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ। ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। সাধারণত সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি কোটা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান  বলেন, ২০১১ সালে আদমশুমারির নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া, বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং নতুন করে দুটি বিভাগ সৃষ্টি হওয়ায় জেলাওয়ারি পদ বিতরণের শতকরা হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশ জারি হওয়ায় আগের জেলা কোটার হার বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন আদেশে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ঢাকা জেলার জন্য সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলার জন্য সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক কোটার হার

ঢাকা বিভাগ:  ঢাকা জেলা ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, গাজীপুর ২ দশমিক ৩৬, মানিকগঞ্জ শূন্য দশমিক ৯৭, মুন্সীগঞ্জ এক শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ ২ দশমিক ০৫, নরসিংদী ১ দশমিক ৫৪, ফরিদপুর ১ দশমিক ৩৩, গোপালগঞ্জ শূন্য দশমিক ৮১, মাদারীপুর শূন্য দশমিক ৮১, রাজবাড়ী শূন্য দশমিক ৭৩, শরিয়তপুর শূন্য দশমিক ৮০, কিশোরগঞ্জ ২ দশমিক ০২ এবং টাঙ্গাইল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জনসংখ্যা অনুযায়ী ময়মনসিংহ ৩ দশমিক ৫৫, জামালপুর ১ দশমিক ৫৯, নেত্রকোণা ১ দশমিক ৫৫ এবং শেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ কোটা  পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম ৫ দশমিক ২৯, বান্দরবান শূন্য দশমিক ২৭, কক্সবাজার ১ দশমিক ৫৯, ব্রাহ্মবাড়িয়া ১ দশমিক ৯৭, চাঁদপুর ১ দশমিক ৬৮, কুমিল্লা ৩ দশমিক ৭৪, খাগড়াছড়ি শূন্য দশমিক ৪৩, ফেনী এক শতাংশ, লক্ষ্মীপুর ১ দশমিক ২০, নোয়াখালী ২ দশমিক ১৬ এবং রাঙ্গামাটি জেলায় শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ১ দশমিক ৮০, জয়পুরহাট শূন্য দশমিক ৬৩, পাবনা ১ দশমিক ৭৫, সিরাজগঞ্জ ২ দশমিক ১৫, নওগাঁ ১ দশমিক ৮১, নাটোর ১ দশমিক ১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ দশমিক ১৪ এবং বগুড়া জেলা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

রংপুর বিভাগ: রংপুর জেলা ২ শতাংশ, দিনাজপুর ২ দশমিক ০৮, গাইবান্ধা ১ দশমিক ৬৫, কুড়িগ্রাম ১ দশমিক ৪৪, লালমনিরহাট শূন্য দশমিক ৮৭, নীলফামারী ১ দশমিক ২৭, পঞ্চগড় শূন্য দশমিক ৬৯ ও ঠাকুরগাঁওয়ের কোটা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

খুলনা বিভাগ: খুলনা ১ দশমিক ৬১, যশোর ১ দশমিক ৯২, ঝিনাইদহ ১ দশমিক ২৩, মাগুরা শূন্য দশমিক ৬৪, নড়াইল শূন্য দশমিক ৫০, বাগেরহাট ১ দশমিক ০২, সাতক্ষীরা ১ দশমিক ৩৮, চুয়াডাঙ্গা শূন্য দশমিক ৭৮, কুষ্টিয়া ১ দশমিক ৩৫ এবং মেহেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ১ দশমিক ৬১, ভোলা ১ দশমিক ২৩, ঝালকাঠি শূন্য দশমিক ৪৭, পিরোজপুর শূন্য দশমিক ৭৭, বরগুনা শূন্য দশমিক ৬২ এবং পটুয়াখালী ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

সিলেট বিভাগ: সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সিলেটে ২ দশমিক ৩৮, মৌলভীবাজারে ১ দশমিক ৩৩, সুনামগঞ্জে ১ দশমিক ৭১ এবং হবিগঞ্জের জন্য ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ জেলা কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এক পতিতা মায়ের কান্না

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি, এপ্রিল ২৯ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালকের সামনে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এক পতিতা মা অঝোরে কেঁদেছেন। নিজের সন্তানসহ যৌনপল্লীর সহস্রাধিক শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিতে ওই কর্মকর্তার কাছে আকুতি জানান ওই মা।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণে এক সমাবেশে এ আকুতি জানান তিনি। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় পল্লীর শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ও যুগ্ম সচিব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ।

সমাবেশের উন্মুক্ত আলোচনায় কথা বলতে গিয়ে ওই পতিতা মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ভাগ্যের দোষে আমি পতিতা হলেও আমার একমাত্র পুত্র সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ করার চেষ্টা করছি। এখন সে কলেজে প্রথমবর্ষে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের ইজ্জত বিক্রির পয়সা ও শ্রম-ঘাম দিয়ে তার জন্য সবটুকু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পেরে উঠছি না। কষ্ট করে পড়ালেখার পরই বা ভবিষ্যত কী? পল্লীর খারাপ পরিবেশে ওকে আমি কতদিন ভাল রাখতে পারব। হয়তো অন্য দশটা ছেলের মতো সেও খারাপ হয়ে যাবে।’

ওই মা বলেন, ‘আমার ছেলে সমাজে মাথা উঁচু করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। আমি বহুবার ওকে নিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। ওর প্রকৃত বাবা সন্তানের পরিচয় দিতে চায় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে সুযোগ সন্ধানীরা তার সঞ্চিত টাকা-পয়সা লুটে নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।ছেলে শিশুদের জন্য এ এলাকায় একটি নিরাপদ আবাসন ও মেয়েদের সেফ হোম কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য সরকার ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতি আকুতি জানান ওই মা।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আবদুল জব্বার ওই মাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনার সন্তানের পড়ালেখার খরচ জেলা পরিষদ থেকে বহন করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির দায়িত্বও আমি গ্রহণ করছি।’

যুগ্মসচিব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ জানান, পল্লীর শিশুদের সার্বিক কল্যাণে তার জায়গা থেকে তিনি যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে তিনি সেভ দ্য চিলড্রেনকেও এখানে তাদের প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য নুরজাহান বেগম, প্রধান অতিথির সহধর্মিনী ও মাগুরা জেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রিতা রাণী ঘোষ, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা হচ্ছে

এস দাস,২৮ এপ্রিল:বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণের চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালায় এটি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের অবসরের বয়স ৬০ বছর। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারিত না থাকায় চাইলে ৫৯ বছর বয়সেও কেউ নিয়োগ পেতে পারেন। অপরদিকে সরকারি চাকরি তথা সরকারি কলেজ, হাইস্কুল ও প্রাইমারি স্কুলে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। এসব বিষয় বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সূত্র জানায়, এটি চূড়ান্ত হবে এমপিও নীতিমালা চূড়ান্তকরণ কমিটির বৈঠকে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক) রুহী রহমান শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের এমপিও নীতিমালা আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। তাতেই শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণের চিন্তা-ভাবনা আছে।’

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন  বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমাকে আমি সমর্থন করি না। তবে সরকার চাইলে এ সেক্টরের নিয়োগে দুটি ক্ষেত্রে বয়সসীমা আরোপ করতে পারে।

এক. এমপিও দেয়ার বয়সসীমা, দুই. নিবন্ধন পরীক্ষা দেয়ার বয়সসীমা। তিনি বলেন, যদি বয়সসীমা নির্ধারণ করা যায়, তাহলে ওই বয়সের মধ্যে যে কেউ পরীক্ষা দিয়ে সনদ নিয়ে রাখবে। এরপর যে কোনো বয়সে তিনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে এমপিও দেয়ার বয়সসীমার মধ্যে যদি কেউ যোগ না দেন, তাহলে তিনি তা (এমপিও) পাবেন না। এ নিয়োগ হবে চুক্তিভিত্তিক।প্রতিষ্ঠান তার বেতন বহন করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উল্লেখ থাকে, তবে তা প্রয়োজনে শিথিল করা যেতে পারে। তবে নিয়োগের বয়সসীমাকে স্বাগত জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সাবেক একজন মহাপরিচালক এবং একজন শিক্ষক নেতা। মাউশির সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নোমান-উর-রশীদ শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ ভালো। কেননা পাসের পর অন্য কাজে সময় দিলে তার লেখাপড়া ও সিলেবাস আয়ত্তে নাও থাকতে পারে। তিনি বলেন, বয়সসীমা ৩৫ করা হলে সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়সের সঙ্গে তুলনা যৌক্তিক নয়।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালায় আরও বেশকিছু নতুনত্ব আসছে। এর মধ্যে আছে, এমপিও পেতে হলে পাবলিক পরীক্ষায় স্কুলের পাসের হার ৭০ শতাংশ এবং কলেজের জন্য পাসের হার ৬০ শতাংশ হতে হবে। মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী) স্কুলে এমপিওভুক্তির জন্য শহর এলাকায় ৬০ জন ও মফস্বল এলাকায় ৪০ জন পরীক্ষার্থী (পাবলিক পরীক্ষায়) থাকতে হবে। বর্তমানে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ জন। পাসের হার বর্তমানে ৫০ শতাংশ থাকতে হয়। মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম স্তরে এমপিওভুক্তির জন্য পাসের হার ৭০ শতাংশ লাগবে। পরীক্ষার্থী থাকতে হবে শহর এলাকায় ৪০ জন ও মফস্বলে ৩০। বর্তমানে আরও ১০ জন কম আছে।

স্নাতক (পাস) স্তরের কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষার্থী থাকতে হবে শহর এলাকায় ৫০ জন ও মফস্বল এলাকায় ৩৬ জন। বর্তমানে থাকতে হয় যথাক্রমে ৪০ জন ও ২৬ জন। পাসের হার লাগবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে এটি আছে ৫০ শতাংশ। ফাজিল (পাস) মাদ্রাসা ও কামিল মাদ্রাসায় পাসের হার হতে হবে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে পাসের হার লাগে ৫০ শতাংশ।

তবে দেশব্যাপী শত শত কলেজে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স প্রোগ্রাম চালু থাকলেও প্রস্তাবিত নীতিমালায় এসব কলেজের শিক্ষকদের এমপিও দেয়ার বিষয়টি এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে নীতিমালার প্রথম খসড়ায় প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর পদ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় এ সংখ্যা কমছে। নাম প্রকাশ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় মাধ্যমিক ও নিুমাধ্যমিক স্কুল-মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি ও সমাজের জন্য একজন শিক্ষক ছিলেন। প্রথম খসড়ায় সেটি ৩ জন করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় ২ জন করা হয়েছে। বিজ্ঞানেও একজন করে শিক্ষক বাড়ানোর প্রস্তাব বাদ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞানের বিষয়ে ১ জন শিক্ষক নিয়োগ করা যায়। প্রথম খসড়ায় ২ জন করার প্রস্তাব ছিল।

নাম প্রকাশ না করে এক শিক্ষক নেতা বলেন, তাদের প্রস্তাব ছিল- পদার্থ, রসায়ন, জীববিদ্যা প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একজন করে নিয়োগের। সেখানে না বাড়িয়ে কমানোর উদ্যোগ সঠিক নয়। কেননা পদার্থ-রসায়নের মতো ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষকের পক্ষে জীববিজ্ঞান পড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে তা হবে হাতুড়ে ডাক্তারের মতো।

তবে চারুকলা, কম্পিউটার শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক বাড়ছে। সরকার বাধ্যতামূলক করায় এই তিনটি বিষয়ে খোলার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও লাগবে না। এ ব্যাপারে গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের। এই ৪০ হাজারের মধ্যে ৩৮ হাজারই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের বেতন-ভাতা বা এমপিও দেয় সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৬৪ ভাগেরও বেশি অর্থ চলে যায় এ খাতে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করলেন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান

নিজেস্ব প্রতিনিধি : ২৫ এপ্রিল : চুয়াডাঙ্গায় দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করলেন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ॥
চুয়াডাঙ্গার একমাত্র ভারী শিল্প নগরী দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে ভিক্ষুকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় পৌর ভবনে মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান এর সভাপতিত্বে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের ৩৫ জন ভিক্ষুকের মাঝে এ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেব প্রসাদ পাল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান, দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধক্ষ্য মোশাররফ হোসেন, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু ও দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গাইন। এসময় দর্শনা পৌর এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৪৬ লাখ নারী-পুরুষ বেকার হয়েও রয়েছে বেকারের তালিকার বাইরে: বিবিএস

ডেস্ক,২৩ এপ্রিল : দেশের ৪৬ লাখ নারী-পুরুষ সত্যিকারের বেকার হয়েও রয়েছে বেকারের তালিকার বাইরে। তবে তাদের বেকার ধরা হয় না বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে। কিন্তু এই ৪৬ লাখ শ্রমশক্তিকে কর্মক্ষম হিসেবে ধরছে বিবিএস।

১৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টার জন্য কাজ না করে থাকে এবং এক মাসে কাজ খুঁজে থাকে কিন্তু কাজ না পেয়ে থাকে, তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিদ্যমান সংজ্ঞায় এমন কথাই উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটি থেকে আরও জানা যায়, ১৫ বছরের তদূর্ধ্ব কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘণ্টার জন্য হলেও মজুরির বিনিময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তাকে কর্মক্ষম ধরা হয়।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, এই হিসাবে দেশে এখন বেকারের সংখ্যা মাত্র ২৬ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আইএলওর সংজ্ঞা ব্যবহার করে জরিপ করে থাকে বিবিএস। আগামী ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিএসের শিল্প ও শ্রম উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, এ জরিপে এক সপ্তাহে এক ঘণ্টা কেউ কাজ করলে তাকে বেকার হিসেবে ধরা হয়নি। বলা হয়েছে, ১৫ বছরে ওপরে যারা গত এক সপ্তাহে এক ঘণ্টাও কাজ করেনি এমন বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ।

কিন্তু যারা কাজ করতে চায় বা এক মাসের মধ্যে কাজের খোঁজ করেছিল; কিন্তু পায়নি এ রকম মানুষের সংখ্যা ২৮ লাখ। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার চেয়ে কম কাজ করে এ রকম খণ্ডকালীন কাজে আছে ১৮ লাখ। আর বেকার আছে ২৬ লাখ। সব মিলিয়ে ধরা হলে বেকার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ লাখে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নববর্ষ ভাতা পাবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরীজীবিরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার,২১ এপ্রিল ॥ অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীকেও চলতি বছর থেকে নববর্ষ ভাতা দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতাভুক্ত অবসরে যাওয়া সব সরকারি সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের বাংলা নববর্ষ ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীরা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, তার ২০ শতাংশ হারে ১৪২৪ বাংলা সন থেকে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অবসরভোগীদের জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা দিতে সরকারের ১৩ কোটি টাকার দরকার পড়বে।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের আগে সিদ্ধান্ত হলেও প্রক্রিয়াগত কারণে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সময় লেগেছে। ১৪ এপ্রিল নববর্ষ অনুষ্ঠান পার হয়ে গেলেও অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীরা এ ভাতা পাবেন। বর্তমানে অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীরা বছরে দুটি করে উৎসব ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা পান। গত বছর থেকে নববর্ষ ভাতা চালু হলেও শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের দেয়া হয়নি। এ বছর থেকে তাঁরা বাংলা নববর্ষ ভাতার আওতায় এলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free