বিশেষ সংবাদ

এমন সম্মান ক্রিকেট জীবনে পাননি, এবার মোদীর থেকে তাই পেলেন যুবি

জাতীয় দলে জায়গা পাননি যুবরাজ সিংহ। তা নিয়ে যে আক্ষেপ ছিল যুবির, তা অনেকটাই সম্ভবত মিটে গিয়েছে এই ঘটনার পরে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর থেকে এমন সম্মান তিনি পেলেন, যা ক্রিকেট জীবনে এর আগে পাননি।

কী সেই সম্মান?

নরেন্দ্র মোদীর থেকে সম্প্রতি একটি চিঠি পেয়েছেন যুবরাজ। এই চিঠির আগাগোড়াই লেখা হয়েছে ক্যানসারজয়ী ক্রিকেটারকে প্রশংসা করে। যুবরাজের চ্যারিটি ওয়ার্ক দেখে আপ্লুত মোদী। ভারতীয়দের জন্য যুবরাজ এক প্রেরণা বলেই মনে করেন তিনি।। এই ভাল কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও যুবরাজকে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, যুবরাজের সংস্থা ‘ইউ উই ক্যান ফাউন্ডেশন’ বিভিন্ন সমাজ কল্যানমূলক কাজ করে। সেই কাজকেই যেন স্বীকৃতি দিল এই চিঠি।

প্রসঙ্গত, জাতীয় দলে যুবরাজের জায়গা না হওয়া নিয়ে যথেষ্টই জলঘোলা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই নির্বাচকরা জানিয়েছিলেন, যুবরাজকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। সেই নিয়ে কিছুটা হতাশ ছিলেন যুবিও। তবে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি যে তাঁর আক্ষেপ মিটিয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান বিচারপতি সংখ্যালঘু হওয়ায় তাকে হেয় করা হচ্ছে: হিন্দু মহাজোট

ঢাকা: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে হেয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
সোমবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সংগঠনের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, মর্যাদাহানিকর বক্তব্য, তাকে দেশত্যাগের হুমকি ও বিচারবিভাগের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মহাজোট নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন হওয়ার কারণে তাকে হেয় করা হচ্ছে। কেননা অন্য একজন বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়েছিলেন। এতে দেশের বেশিরভাগ মানুষ আহত হলেও তার বিরুদ্ধে এধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আদালতের ওই রায় ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এতে এমন কিছু নেই যা সরকারি দলকে ক্ষিপ্ত করে। রায়ে বঙ্গবন্ধুকে কোনোভাবেই খাটো করা হয়নি। তিনি তার বিচারক জীবনের প্রজ্ঞা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিচার কাজ করেছেন যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি মেধা ও যোগ্যতার বদলেই প্রধান বিচারপতি হতে পেরেছেন। কারো দয়া-দাক্ষিণে নয়। কাউকে ওভারটেক করে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি।
শীর্ষ নিউজ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাম রহিমের বিরুদ্ধে সাধ্বীর সেই চিঠি, পড়লে শিউরে উঠবেন

নিজস্ব প্রতিবেদন:

আমি পঞ্জাব থেকে আসা মেয়ে। সিরসা (হরিয়ানা)-র ডেরা সচ্চা সৌদায় একজন সাধ্বী হিসেবে সেবা করে চলেছি গত ৫ বছর ধরে । আমার মতো আরও কয়েকশো মেয়ে এখানে রয়েছেন, যাঁরা প্রতি দিন ১৮ ঘণ্টা করে সেবা করে চলেছেন।

কিন্তু এখানে আমরা যৌন নির্যাতনের শিকার। ডেরায় মেয়েদের ধর্ষণ করেন ডেরা মহারাজ (গুরমিত সিংহ)। আমি একজন স্নাতক। ডেরা মহারাজের উপরে আমার পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। পরিবারের সেই অন্ধবিশ্বাসের জেরেই আজ আমি একজন সাধ্বী। সাধ্বী হওয়ার বছর দুয়েক পর এক দিন রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ এক মহিলা ভক্ত আমার ঘরে আসেন। জানান, মহারাজ আমাকে ডেকেছেন। মহারাজ স্বয়ং ডেকে পাঠিয়েছেন শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। সাধ্বী হওয়ার পর সেটাই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে তাঁর ঘরে ঢুকি। দেখলাম ওনার হাতে একটা রিমোট এবং টিভিতে তিনি ব্লু ফিল্ম দেখছেন। বিছানায় তাঁর বালিশের পাশে একটা পিস্তল রাখা ছিল। এ সব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এর পর মহারাজ টিভিটা বন্ধ করে দেন। আমাকে ঠিক তাঁর পাশে নিয়ে গিয়ে বসান। খাওয়ার জন্য এক গ্লাস জল দেন। তার পর খুব আস্তে করে বলেন, ডেকে পাঠানোর কারণ আমাকে তিনি নিজের খুব কাছের বলে মনে করেন। এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।

এর পরই তিনি এক হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে তাঁর আরও কাছে টেনে নেন। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলেন, আমাকে তিনি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসেন। আমার সঙ্গে সহবাস করতে চান। বলেন, তাঁর শিষ্যা হওয়ার সময়ই আমার সমস্ত সম্পদ, আমার শরীর এবং আত্মা তাঁর কাছে উৎসর্গ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বর, এতে তো কোনও সন্দেহ নেই’। আমি তাঁকে বলি, ঈশ্বর কখনও এ রকম করেন না। আমাকে বাধা দিয়ে তিনি বলেন:

১) শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তাঁর ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাঁদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর বলে মানে। এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।

২) আমি তোমাকে এখনই এই পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারি। তোমার লাশ এখানেই পুঁতে দেব। তোমার পরিবারের প্রতিটা সদস্য আমার অন্ধ ভক্ত। তুমি খুব ভাল করেই জানো, তাঁরা কখনই আমার বিপক্ষে যাবেন না।

৩) সরকারের উপরেও আমার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের অনেক মন্ত্রীও আমার কাছে আসেন। আমার প্রতি তাঁদের ভক্তি দেখান। রাজনীতিবিদরা আমার কাছ থেকে সাহায্য নিতে থাকেন। সুতরাং তাঁরাও আমার বিরুদ্ধে কোনও রকম পদক্ষেপ করবে না। আমি তোমার পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি কেড়ে নেব এবং তাঁদের সেবাদার দিয়ে খুন করাব। আর সেই খুনের কোনও প্রমাণ থাকবে না। তুমি খুব ভাল করেই জানো, ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকেও আমি গুন্ডা দিয়ে খুন করিয়েছি। এখনও সেই খুনের কিনারা হয়নি। ডেরার দৈনিক আয় এক কোটি। এই টাকা দিয়ে আমরা রাজনীতিক নেতা, পুলিশ এমনকি বিচারক সকলকেই কিনে ফেলতে পারি।

ঠিক এর পরই মহারাজ আমাকে ধর্ষণ করেন। গত তিন বছর ধরেই মহারাজ এ ভাবে আমাকে ধর্ষণ করে আসছেন। প্রতি ২৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর আমার পালা আসে। আমি জানতে পেরেছি, আমার মতো যত জন সাধ্বীকে তিনি তলব করেছেন, তাঁদের সকলকেই ধর্ষণ করেছেন। বেশিরভাগেরই বয়স এখন ৩০ থেকে ৪০। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের কাছে এখন ডেরার এই আশ্রয় ছাড়া আর কোনও অবলম্বন নেই।

এই সমস্ত মহিলাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত। কারও স্নাতক তো কারও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। কিন্তু তাঁরা তা সত্ত্বেও এই নরকবাস করছেন। কারণ একটাই, মহারাজের উপরে তাঁদের পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। আমরা সাদা পোশাক পরি, মাথায় স্কার্ফ বাঁধি, পুরুষদের দিকে চেয়ে দেখি না। পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে ৫-১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখি। কারণ, এ সবই মহারাজের ইচ্ছা। তাঁর কথা মতোই আমরা এখানে চলাফেরা করি। সাধারণ মানুষ আমাদের দেবী গণ্য করেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, ডেরাতে আমরা আসলে রক্ষিতা। ডেরা এবং মহারাজের আসল সত্যিটা আমি আমার পরিবারকে জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। তাতে তাঁরা আমাকেই বকাবকি করেন। জানান, ডেরায় স্বয়ং ঈশ্বরের (মহারাজ) বাস। সুতরাং এর থেকে ভাল জায়গা আর নেই। এবং ডেরা সম্পর্কে যেহেতু আমার মনে খারাপ ধারণা জন্মেছে, তাই আমার উচিত ‘সতগুরু’-র নাম করা। শেষ পর্যন্ত আমাকে মহারাজের সমস্ত আদেশ পালন করতেই হয়, কারণ আমি সব মিলিয়ে অসহায়।

এখানে কাউকেই অন্যদের সঙ্গে বেশি কথা বলতে দেওয়া হয় না। পাছে ডেরার সত্য ফাঁস হয়ে যায়, তাই টেলিফোনেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। কোনও সাধ্বী যদি মহারাজের এই আচরণ ফাঁস করে দেন, তাহলে মহারাজের আদেশ মতো তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিছু দিন আগে, ভাতিন্দার এক তরুণী মহারাজের এই সমস্ত নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানান। মহারাজের নির্দেশে সমস্ত সাধ্বী মিলে তাঁকে বেধড়ক পেটান। মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট নিয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। তাঁর বাবা ডেরায় কাজ করতেন। কাজে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। মহারাজের ভয়ে এবং আত্মসম্মানের কথা ভেবে মুখ খোলেননি।

একই ভাবে, এই নির্যাতনের শিকার হন কুরুক্ষেত্রের এক তরুণীও। ডেরা ছেড়ে বাড়ি চলে যান তিনি। তাঁর কাছ থেকে এ সব কথা জানার পর তাঁর ভাইও ডেরার কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যান। পঞ্জাবের সঙ্গরুর এক তরুণী সাহস করে বাড়ি ফিরে ডেরার ভয়ঙ্কর দিকটা সবাইকে জানিয়েছিলেন। পর দিনই ডেরার অস্ত্রধারী সেবাদার বা গুন্ডারা তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। মুখ খুললে তাঁকে খুনের হুমকি দেন।

একই ভাবে মানসা, ফিরোজপুর, পাতিয়ালা এবং লুধিয়ানা থেকে এখানে আসা তরুণীরাও ভয়ে ডেরা নিয়ে কিছু জানাতে চাননি। তাঁরা ডেরা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তার পরও খুন হওয়ার ভয়ে মুখ বন্ধ করে আছেন। সিরসা, হিসার, ফতেয়াবাদ, হনুমানগড় এবং মেরঠের তরুণীরাও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন।

আমিও যদি আমার নাম জানাই, তাহলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে খুন করা হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই সত্য আমি সামনে আনতে চাই। এই মানসিক চাপ আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। খুব বিপদে রয়েছি। সংবাদমাধ্যম বা সরকারি কোনও সংস্থা যদি তদন্ত চালায়, তা হলে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন সাধ্বী এগিয়ে এসে এই সত্য জানাবেন আমি নিশ্চিত। আমাদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হোক। আমরা আদৌ সাধ্বী কি না তা জানা হোক। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় যে আমদের কুমারিত্ব নেই, তাহলে তদন্ত করে জানা হোক, কে আমাদের সতিত্ব হরণ করেছেন।

তাহলেই সত্য বাইরে আসবে। মহারাজ গুরমিত রাম রহিম সিংহই যে আমাদের জীবন নষ্ট করেছেন তার প্রমাণ মিলবে।

 

(২৫.০৯.২০০২ সালে ‘দেশ সেবক’ নামক পত্রিকায় এই চিঠিটা প্রকাশ পায়। মহারাজ রাম রহিমের নির্যাতন আর মেনে নিতে না পেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিটি লিখেছিলেন এক তরুণী সাধ্বী। সেই চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাম রহিমের বিরুদ্ধে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়।)

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছে ॥ প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে…করেছেন। শুধু বলব, আমাদের আরও কিছু পরিপক্বতার দরকার আছে।’

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আজ রবিবার রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বিষয়টির ওপর পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর তারিখ রেখেছেন।

সবশেষ গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করতে আপিল বিভাগ ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি আপিল বিভাগে ওঠে।

শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন দাখিল করেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, গত তারিখে কী করা হবে, বলা হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কার সঙ্গে, কে কে থাকবেন? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনমন্ত্রী।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আলাপ-আলোচনার কথা। আপনারা আলাপ-আলোচনা পর্যন্ত করলেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে আমার কী করার আছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা মিডিয়াতে অনেক কথা বলবেন, কোর্টে এসে অন্য কথা বলবেন। আপনাকে বলছি না, আপনাদের কথা বলছি। অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি বলেন, কবে রাখব (পরবর্তী তারিখ)। সবাই বসবেন।

একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সব বিষয় নিয়ে ঝড় উঠে গেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা তো কোনো মন্তব্য করছি না। সব তো আপনারাই করছেন। পরবর্তী (তারিখ) কবে চান? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বন্ধের এক সপ্তাহ পর।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার মতই আমরা রাখলাম। ৮ অক্টোবর তারিখ রাখলাম। এ পর্যায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ার বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দাঁড়ান মাসদার হোসেন মামলার অন্যতম কৌঁসুলি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেন আপিল বিভাগ। ওই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে তা দাখিল করতে গত বছরের ২৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ দফায় দফায় সময় নিয়েছে। সবশেষ সংশোধিত খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেয় আইন মন্ত্রণালয়। এই খসড়া সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ অনুসারে হয়নি বলে জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শাহবাগে ইমরান এইচ সরকারকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

ডেস্ক: রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জাতীয় জাদুঘরের সামনে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করছিলেন ইমরান এইচ সরকারসহ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে এলে বাগবিতণ্ডা হয়।

 এসময় জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে ইমরানসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

এ প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার  বলেন, কতিপয় দুষ্কৃতকারী হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বলে, কিসের বন্যা দেশে কোনো বন্যা নেই। এই বলে পাথর ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা শুরু করে। আমিসহ আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হয়। আমরা মামলা করব। বর্তমানে শাহবাগ থানায় আছি।

এ প্রসঙ্গে জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। আমি সিনেটে প্রোগ্রামে ছিলাম। তবে যেহেতু ইমরান এইচ সরকার দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করেছে সেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন করতে পারে।

জাগো নিউজ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্মার্ট কার্ড তুলতে পারবেন আপনি

মুমিন আহমেদ : রাজধানী ঢাকাসহ অনেক বিভাগীয় শহরে উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে অনেক আগেই। কোথাও কোথাও শেষও হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে এ কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে স্মার্ট কার্ড তুলতে পারেননি যারা, তাদের এখন বিশেষ ব্যবস্থায় এটি নিতে হবে।

ইসির (নির্বাচন কমিশন) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী থানা রয়েছে। বিতরণের সময় শেষ হলেও যারা স্মার্ট কার্ড তুলতে পারেননি তারা মূল আইডি কার্ডের একটি ফটোকপি নিয়ে ওই নির্বাচনী থানার কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে। ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিয়ে যেতে হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনে। সেখানে দশ আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি দেয়ার পর দায়িত্বরতরা ফটোকপি করা আইডিতে লিখে দেবেন, দশ আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেয়া হয়েছে। এরপর ওই কাগজ নিয়ে আবার যেতে হবে নিজ নিজ নির্বাচনী থানা অফিসে। সেখানে ফটোকপি ও আগের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্মার্ট কার্ড তুলতে হবে।

আর ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্য সিটির ভোটাররা থানা নির্বাচনী অফিসে গেলেই জানতে পারবেন কোথায় আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি দিতে হবে।

এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় ঘোষণা দেয়া হয়। কেউ সেই সময় তুলতে না পারলে বিশেষ এ ব্যবস্থায় তুলে নিতে পারবেন। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে এভাবে সারা বছরই স্মার্ট কার্ড তোলা যাবে। তবে দ্রুত তুলে নিলেই ভালো হয়।

সবাইকে স্মার্ট কার্ড দিতে আরও দুই বছর

জানা যায়, নয় কোটি ভোটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক কোটির বেশি নাগরিক স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেককে স্মার্টকার্ড দেয়ার ঘোষণা দিলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি এটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দরকারি সরঞ্জামের অভাবে থমকে আছে এ প্রকল্প। বিদেশি ঠিকাদারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় এখন নিজেরাই স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণের উদ্যোগ নেয় ইসির এনআইডি উইং। এজন্য ইসিকে কারিগরি সহযোগিতা দিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী  বলেন, সবাইকে কার্ড দিতে আরও অন্তত দুই বছর লাগতে পারে। আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেয়ার জন্য যে ১০০ জোড়া যন্ত্র দিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল, এর ৩৭ জোড়াই এখন অচল।

দেশেই স্মার্ট কার্ড তৈরির উদ্যোগ

চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করায় স্মার্ট কার্ড সরবরাহকারী ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ওবের্থার টেকনোলজিসের (ওটি) সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নিজেরাই স্মার্ট কার্ড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ  বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড সরবরাহ করতে পারেনি ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি। আগামীতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় স্মার্ট কার্ড তৈরি করবে কমিশন। এজন্য তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ইসি। ফলে স্মার্ট কার্ড বিতরণে দেরি হলেও টাকা সাশ্রয় হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ফান্সের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ৮১৬ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নয় কোটি স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্তু পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে মাত্র এক কোটি ৯৮ লাখ (১২ দশমিক ২০ শতাংশ) কার্ড পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এখনও দুই কোটি ৩৬ লাখ চার হাজার পিস ব্ল্যাঙ্ক (ফাঁকা) কার্ড আসেনি। ইতোমধ্যে ৫১ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কমবেশি আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার তাদের পাওনা রয়েছে। এজন্য ইসি চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

এখন বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ছাপানো হবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একাধিক নমুনা কার্ডও ইসিকে সরবরাহ করেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মানসম্মত শিক্ষায় বাধা উপবৃত্তি প্রকল্পের শিউর ক্যাশ

মো. মাসুদুর রহমান: ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গবন্ধু একযোগে সাইত্রিশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্যে মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য আই সি টি বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা হয়। দেওয়া হয় শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ।

সব শিশুই যাতে শিক্ষার আওতায় আসে সেজন্য শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়। ইতোপূর্বে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হতো ব্যাংকের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত উপবৃত্তি কার্ডে তথ্য সংযুক্ত করে বিতরণ করা হতো এই উপবৃত্তির অর্থ। এভাবে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস পর্যন্ত উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল।

২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ছয়মাসের এক কিস্তির অর্থ প্রদান করা হয় রুপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশের মাধ্যমে। তাই প্রয়োজন হয়েছিল প্রতিজন সুবিধাভোগীর জন্য শিওরক্যাশের একাউন্ট খোলার। রুপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের একাউন্ট খুলতে শিক্ষকদেরকে কাজে লাগিয়েছেন। দেখা গেছে, শিক্ষকরা শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে ৪/৫ দিন ধরে এক নাগারে এই শিওরক্যাশের একাউন্ট খোলার ফরম পূরণ করছেন। এর পরে আছে টপশিট তৈরি ও সংশোধন। এ এক মহা কর্মযজ্ঞ। অত:পর বিতরণ করা হয়েছিল জুলাই-ডিসেম্বর কিস্তির উপবৃত্তির টাকা।
শিওর ক্যাশের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদানে অনেক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। ২০ থেকে ২৫ ভাগ অভিভাবক এখন পর্যন্ত গত ছয় মাসের টাকা মোটেও পাননি। আবার গত কয়েকদিন থেকে শুরু হয়েছে নতুন বিড়ম্বনা। ভুলে ভরা শিওর ক্যাশের তথ্য আপডেট করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে শ্রম দিয়ে সেই তথ্য নির্দিষ্ট ছকে সংযোজন ও সংশোধন করতে হয় তাদের। আবার দু’এক দিন পর পর নতুন নতুন ফরম্যাটে তথ্য প্রদান, যেন এক বিরক্তিকর অবস্থা। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যের জন্য শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা কিছুই বলতে পারেন না। এভাবে ছোটাছুটি আর হয়রানির শিকার হতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

বহুবছর যাবৎ শিক্ষকগণ শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বহির্ভুত কিছু কাজে যুক্ত। যেমন- ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আদমশুমারি, অর্থনীতি শুমারি, কৃষিশুমারি, মৎস্যজীবী শুমারি, বিস্কুট বিতরণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম ইত্যাদি। অথচ শিক্ষকদেরকে শ্রেণিতে পাঠদানে ব্যস্ত থাকার কথা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৫৭ ধারায় মামলা : খুলনার সেই ওসিকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাগল মারা যাওয়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাংবাদিক গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় খুলনার ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে খুলনা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পুলিশ হেড কোয়াটার্সের নির্দেশে খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেন। রাত সাড়ে ৮টায় ওসি সুকুমার বিশ্বাস ডুমুরিয়া থানার ওসি তদন্ত আব্দুল খালেকের নিকট দায়িত্ব বুঝে দেন।

জানা যায়, গত ২৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি তার নিজ এলাকা ডুমুরিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের (এফসিডিআই) আওতায় কয়েকজন দুস্থের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। জুলফিকার আলী নামে দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির পাওয়া ছাগল ওইদিন রাতেই মারা যায় বলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে সুব্রত ফৌজদার নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সাংবাদিক লতিফ মোড়ল স্থানীয় একটি দৈনিকের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনায় খুলনাসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মামলা দায়েরের পর ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, মামলার বাদী সুব্রত। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করেন লতিফ। এতে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন তিনি। এদিকে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাংবাদিক লতিফ মোড়ল খুলনা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন।

-ইত্তেফাক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মরা ছাগলের খবর শেয়ার, গ্রেপ্তার সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) ৫৭ ধারার এক মামলায় খুলনার ডুমুরিয়ার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাগলের মৃত্যুর সংবাদ শেয়ার করার অভিযোগে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

আব্দুল লতিফ মোড়ল খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, সুব্রত ফৌজদার নামের এক ব্যক্তি সোমবার রাতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত খবর ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তার মানহানি করেছেন আব্দুল লতিফ।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ায় দুস্থদের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। বিতরণ করা ছাগুলগুলোর মধ্যে একটি ওই দিন রাতেই ওই এলাকার এক ব্যক্তির ঘরে মারা যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় এটি সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন সুব্রত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দর্শনায় মন্দিরের তালা ভেঙ্গে পাথর চুরি, থানায় মামলা

শামসুজ্জোহা পলাশ : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রামনগর কালি মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে ২ টি পাথরের শিব মুর্তি ভেবে পাথর চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ২৫ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ইতি পূর্বেও এই মন্দির থেকে শিব লিঙ্গ মুর্তি ও শিবের জিভ মুর্তি চুরে করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী যাদব সরকার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে বাবা দাদা আমলের বহুদিন ধরে রক্ষিত ২ টি শিব পাথর মূর্তি  মনে করে পাথর চুরি করে নিয়ে গেছে। প্রতিটি পাথরের ওজন হবে ১০ থেকে ১২ কেজি করে।তিনি আরও জানান, এ পাথর  দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ধর্মীয় অবলম্বনের লোকজন পূজা করে আসছিল। তবে এ পাথরের কত টাকা মূল্য বা কি পাথর সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

খবর পেয়ে দুপুর ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম ও দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল্যহীন ২ টা পাথর মূল্যবান ভেবে চোরেরা চুরি করে নিয়েগেছে। প্রতিটি পাথরের আনুমানিক ওজন ৪ থেকে ৫ কেজি হবে।

তিনি আরও জানান, এবিষয়ে থানায় একটি চুরি মামলা হয়েছে। মামলা নং ৪৪ তারিখ ২৬.০৭.১৭ ইং। পাথর দুটি উদ্ধার ও দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আবারো প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা বঞ্চিত!

বিসিএস নন-ক্যাডার পদে অপেক্ষমাণ সবাই চাকরি পেলেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৩৫ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পদ পাননি, তাদের মধ্য থেকে আরও এক হাজার ৪৬৬ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোন বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার পদের জন্য অপেক্ষমাণ সকল প্রার্থীই পেলেও প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক পদে দেয়া হয়নি কাউকে। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ বিসিএসে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন যেখানে দুই হাজার ১৫৮ সেখানে পিএসসির উদ্যোগে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পেলেন আরও বেশিসংখ্যক; দুই হাজার ১৬৩ চাকরি প্রার্থীকে। বিসিএসে নন-ক্যাডারের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা সকল প্রার্থীর নিয়োগের ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।

নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা অনুযায়ী মেধাক্রম ও বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নন-ক্যাডার পদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি)। একদিকে প্রথমবারের মতো অপেক্ষমাণ সকল প্রার্থীর নিয়োগ অন্যদিকে ক্যাডার পদ থেকেও নন-ক্যাডার পদে বেশি প্রার্থীর চাকরি নিশ্চিত করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেছেন, এটা আমাদের দেশের মেধাবী যুব সমাজের জন্য বড় একটা কাজ। এ কাজ আমরা করতে পেরেছি সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব, আমাদের সকল সদস্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সার্বিক সহযোগিতার কারণে। নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসির চেয়ারম্যান বলেছেন, ৩৫ বিসিএসের মাধ্যমে এক দফায় ১৩৯ জনকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলাম আমরা। আরেক দফায় ৩৯৮ জনকে এবং পরে আরেক দফায় ১৬০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। মোট ৬৯৭ জনকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলাম।

২০১৪ সালের ১৭ জুন নন-ক্যাডার নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০ সংশোধন করে বিসিএস উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়। জানা গেছে, নিয়ম অনাযায়ী ৩৫ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্যে যারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে যোগ দিতে আগ্রহী, তাদের কাছে আবেদন চায় কমিশন। তাতে দুই হাজার ৬০০ জন আবেদন করেন। ৩৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে নিয়োগের জন্য গেল বছর ৩০ আগস্ট সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় পিএসসি। এ ছাড়া চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের বিশেষ উদ্যোগে বেশিসংখ্যক প্রার্থী যেন নিয়োগ পায় সে জন্য কোটার প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেখানে মেধাবীদের নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। পরে সেটি মন্ত্রিপরিষদে গেলে কোটা শিথিলের সুপারিশ করা হয়।

২০১৪ সালে বিধিমালা সংশোধন করে প্রথম শ্রেণীর নন- ক্যাডার পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা পদেও নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত আগের বিসিএস থেকে নন- ক্যাডারে নিয়োগ চলে। এই নিয়ম কার্যকর থাকে পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত। পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ৩৫তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পরই আমরা সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শূন্য পদের তালিকা চেয়েছি। এবার প্রথমবারের মতো আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে চাহিদাপত্র পেয়েছি তার ভিত্তিতে প্রথমে প্রথম শ্রেণীর বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছি, এরপর দ্বিতীয় শ্রেণীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) ২১৭ জন, সামাজিক বিজ্ঞান পদে ১১০, ভৌতবিজ্ঞান পদে ১০৯, ব্যবসায় শিক্ষা পদে ১১০, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে ৫৪৫, রাজস্ব বোর্ডের কর পরিদর্শক পদে ৮০,

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুপ্ত সংকেত পরিদফতরের সহকারী সাইফার অফিসার পদে একজন, আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের নির্বাহী অফিসার ১৬, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদফতরের এক্সামিনার অব এ্যাকাউন্টস ২, সমাজসেবা অধিফতরের বিভিন্ন পদে ৩৭, শ্রম অধিদফতরের বিভিন্ন পদে ৭, কলকারাখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদফতরের বিভিন্ন পদে ১৭, পারিবেশ অধিদফতরে ২, গণযোগ অধিদফতরে ২২, তথ্য অধিদফতরে ১০, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ২, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ২, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে নিয়োগ পেয়েছেন ৫।

এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমরা একসঙ্গে তিন-চারটি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছি। ৩৫তম বিসিএসের নন- ক্যাডারদের রেজাল্ট হলো। ৩৬তমের ফল তৈরি করছি। ৩৭তমের মৌখিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, ৩৮তমের আবেদন ফর্ম গ্রহণ করছি। চারটি পরীক্ষা যদি চার বছরের মধ্যে শেষ করি, তাও এক বছর সময় লাগছে। একটা বিসিএস পরীক্ষা মানে শুধু একটা পরীক্ষা নয়। ২৭টি ক্যাডারের পরীক্ষা। এর মধ্যে সাবক্যাডার আছে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারেই ৭৯ রকমের বিষয় আছে।

এছাড়া এই ৭৯ রকমের প্রশ্ন করা, বিশেষজ্ঞ আনা, খাতাও দেখাতে হয় ৭৯ রকমের শিক্ষককে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে তাই সময় লাগে। দেড় বছরের বেশি সময় লাগছে। আমরা রোডম্যাপ করেছি। যদি দেড় বছরের মধ্যেও শেষ করতে পারি, সেটাও অনেক ভাল। আরও দ্রুত করতে হলে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। সেটি নিয়ে কাজ করছি।

তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ৩৬তম বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে দেব। এটি এর আগেও হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে নিতে পারব। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অক্টোবরের মধ্যে নিতে পারব বলে আশা করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জ্যেষ্ঠ স‌চিব হলেন চার কর্মকর্তা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার চার স‌চিব‌কে ‌জ্যেষ্ঠ স‌চিব ক‌রে আদেশ জারি ক‌রে‌ছে। এদের‌কে আগের কর্মস্থলেই পদায়ন করা হয়েছে।

এই কর্মকর্তারা হলেন-কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর (সচিব) এম আসলাম আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান এবং সেতু বিভাগের স‌চিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

নতুন চারজন‌কে নি‌য়ে জনপ্রশাস‌নে বর্তমা‌নে জ্যেষ্ঠ সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জন।

২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনপ্রশাসনে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদ চালু করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জন্ম হওয়া শিশুর মাথাপিছুঋণ ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা

ডেস্ক,৩০ জুন: ঠিক এই মুহূর্তে সদ্যজাত যে শিশুটির জন্ম হলো, আগামীকাল ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে তারও মাথাপিছু ঋণ ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি মানুষ ৪৬ হাজার টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে শুরু করছে ২০১৭-১৮ অর্থবছর।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী বড় বাজেট দিলেও বেশি আয় করতে পারছেন না। এতে বাড়ছে বাজেট ঘাটতি। আর তা মেটাতে তার ভরসা এখন ঋণ। এই ঋণ প্রতিবছরই বাড়ছে। এর ফলে জনগণের উপর ঋণের বোঝা বাড়ছেই।

তাদের মতে, এতে বাজেট শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে। বিশাল অংকের টাকাও খরচ হয়ে যাচ্ছে সুদ পরিশোধে। সুদ পরিশোধে এত বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখতে না হলে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি রাখতে পারত।

এ দিকে গত ১ জুন বাজেট পেশের দিন প্রকাশিত মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে চলেছে এবং সরকার বাধ্য হয়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রাষ্ট্রের মোট ঋণ দাঁড়াবে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা; যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পুরো দেশের মানুষের ওপর ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ ছিল। সুদসহ আগের বছরগুলোর মূল টাকাও সরকার প্রতিবছর পরিশোধ করে আসছে। পরিশোধ না হওয়া টাকা জমতে জমতেই ঋণের বোঝা এত বড় হয়েছে।

এ দিকে গত ৩০ মে দেশের জনসংখ্যার একটি হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। সে হিসেবে আগামী অর্থবছর শেষে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৫০ লাখ এবং মাথাপিছু ঋণ দাঁড়াবে ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাথাপিছু ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যয়বহুল ঋণ বেশি নিতে হচ্ছে। এর অর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ রাখতে পারছে না।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, সরকার ঠিক মতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে।

তিনি বলেন, একসময় দেশি-বিদেশি ঋণের হার ছিল অর্ধেক-অর্ধেক। বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি থাকে, সরকার তাই সে পথে যায় না। সরকার সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয় বেশি সুদের অভ্যন্তরীণ উৎসকে।

সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য আহসান এইচ মনসুর আলাদা একটি বিভাগ গঠনের পরামর্শ দেন।

এ দিকে নতুন ভ্যাট আইন থেকে পিছিয়ে আসায় এলোমেলো হয়ে গেছে নতুন বাজেট। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর। আর বেশি আয়ের ওপর নির্ভর করেই বিশাল একটি বাজেট তৈরি করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন অর্থমন্ত্রী ও সরকার। ফলে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বাজেট পাসের সঙ্গে সঙ্গেই। এমনকি সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের জন্য পাস হওয়া ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে অনুন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪ কোটি টাকার। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে রাখা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদই ৩৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।

মোট বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ অর্থই ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে। সুদ পরিশোধের পুরো বরাদ্দ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, বাজেটে তার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হবে সঞ্চয়পত্রের সুদে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হবে মেয়াদি ঋণের সুদে।

বাজেট সংক্ষিপ্তসারের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের সুদ দিতে বরাদ্দ রাখা আছে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ১৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে মেয়াদি ঋণের সুদ বাবদ।

যদিও ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) ৪৩ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। অথচ চলতি অর্থবছরে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে না : ব্যাংকের আবগারি শুল্ক তিন স্তরে

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে মূল্য সংযোজন কর বা ভাট আইনের বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই ঘোষণা দেন। ঈদের ছুটির পর গতকাল সংসদের মূলতবি বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নতুন ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা দুই বছর পেছানোর আহ্বান জানান। আগে থেকেই অবশ্য বলা হয়েছিলো যে, প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে খোলাসা বক্তব্য দেবেন।

গত পহেলা জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনকালে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এই আইনে ঢালাও   ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয় যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে বলে শুরুতেই সমালোচনায় পড়ে। সংসদ এবং সংসদের বাইরে ভ্যাট আইনটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত গতকাল এর সমাধান দেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো যে, আইনটির কার্যকারিতা দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে তার বক্তব্যে কর আরোপ প্রক্রিয়ায় মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাকে একটি উত্তম পন্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯১ সালে প্রণীত মূল্য সংযোজন কর আইনটি বহু সংশোধনীর পর অফলপ্রসূ হয়ে পড়ায় ২০০৮ সালেই একটি নতুন মূসক আইন প্রণীত হয়। এইটি নিয়ে প্রায় চার বছর নানা আলোচনা বিতর্ক চলে। অবশেষে ২০১২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, যা এই মহান সংসদে পাস হয়।

তিনি বলেন, এই আইনটির কার্যকারিতা কিন্তু ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। এ বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিধায় এবারের বাজেটে আইনটি কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছিলো। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের প্রাজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে মূসক আইনের পূর্ণ কার্যকারিতা পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করছি। আগের ধারাবাহিকতায় কিছু সংশোধন করে ২০১২ সালের আইনই যেভাবে গত ৪ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর ঢালাও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিষয়টি আর থাকছে না। এখন থেকে আগের গত চার বছর ধরে চলে আসা নিয়মই বহাল থাকবে। তবে ক্ষেত্রেভেদে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। অর্থমন্ত্রীও কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবসহ অর্থ বিল ২০১৭ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আবগারি শুল্ক কমেছে: এদিকে, বহুল আলোচিত আবগারি শুল্ক হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা লেনদেনের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আগে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বছরে দেড়শ’ টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখা হতো। নতুন বাজেটে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মওকুফ করে দিয়ে ১ লাখের বেশি হলে ৮শ টাকা শুল্ক আরোপ করা হয় যা আগে ছিলো ৫শ  টাকা। আলোচনা সমালোচনার পর এই হারেও পরিবর্তন আনা হয়। তিনটি স্তরে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

সংশোধিত প্রস্তাবে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে আবগারি শুল্ক হার মওকুফ করা হয়। ১ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেড়শ টাকা, ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫শ টাকা, ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আড়াই হাজার টাকা শুল্কারোপের প্রস্তাব করা হয়। ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি হলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কর্তনের নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়।

আরো যেসব সংশোধনী: অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও কিছু সংশোধনীর কথা তুলে ধরেন। তিনি সংসদে জানান, রাজস্ব প্রস্তাব সম্বন্ধে বিভিন্ন মহল থেকে শুল্ক-করাদি বাড়ানো অথবা কমানো অথবা বাদ দেয়ার জন্য অনেক প্রস্তাব গত কয়েক মাসে পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের আলোচনায় এই সব প্রস্তাবের অনেকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এই সব প্রস্তাবের বেশিরভাগই বাজেট চূড়ান্তকরণের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে একটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধ্যান অথবা যোগ (মেডিটেশন)-এর ওপরে আগামী ২ বছর ভ্যাট থাকছে না। কম্পিউটার, সেলুলার ফোন এবং তার যন্ত্রাংশ এখন দেশে তৈরি হচ্ছে জানিয়ে এগুলোকে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বহাল থাকছে শিপব্রেকিংয়ের বিষয়ে বর্তমানে বলবত প্রজ্ঞাপন। মোটরসাইকেল শিল্পের উপর স্থানীয় উত্পাদন পর্যায়ে আরোপনীয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড অনেক সফটওয়্যার আমদানি করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রদান করে এবং কতিপয় পণ্য বিনা আমদানি শুল্কে আমদানি করে। যেসব পণ্যে আমদানি শুল্ক  নেই  সেগুলোর উপরে প্রস্তাবিত ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। রেফ্রিজারেটর সংযোজনকারীদের উপর প্রযোজ্য ৩০ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এলপিজির ব্যাপক ব্যবহারের লক্ষ্যে কম্পোজিট অর্থাত প্লাস্টিক ও গ্লাস ফাইবার নির্মিত এলপিজি কন্টেইনারের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার এখনো আমদানি নির্ভর হওয়ায় স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে লৌহনির্মিত এলপিজি কন্টেইনারের ওপর ভ্যাট বহাল রাখার প্রস্তাব করছি। এক কথায় গত বছর যে ব্যবস্থাটি ছিলো সেটাই অব্যাহত থাকছে।

অর্থমন্ত্রীর সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সব যন্ত্রপাতি উত্পাদনকে সাহায্য করার জন্য গত বছরের অর্থ বিলে প্রগ্রেসিভ উত্পাদনকে কিছু কর/শুল্কের সুবিধা দেয়া হয়েছিলো। এবারও এই খাতের ওপর বর্ধিত শুল্ক করাদি মওকুফ করার প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী। একইভাবে প্রস্তাবিত সোলার প্যানেলের আমদানি শুল্ক বাদ দেয়া হয় চূড়ান্ত প্রস্তাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ নিয়োগে জটিলতা

ডেস্ক : আবার জটিলতা। ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ নিয়োগকে কেন্দ্র করে। বোর্ডের একাংশ যে রবি শাস্ত্রীকে কোচ অথবা ডিরেক্টর হিসেবে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, এটা এখন আর কোনো গোপন খবর নয়। তা করতে গিয়ে অপসারিত কর্তাদের একাংশ সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত প্রশাসকদের না জানিয়ে নতুন করে কোচ নিয়োগের আবেদন করার রাস্তা খুলে দিয়েছেন।

এতে প্রচণ্ড চটে গেছেন প্রশাসকরা। তা নিয়ে অবশ্য মোটেই চিন্তিত নন অপসারিত কর্তারা। ঠিক হয়েছে, ৯ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই মর্মে বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, প্রথম দফায় রবি শাস্ত্রী আবেদন না করায় তাকে সরাসরি শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণের সামনে পরীক্ষায় ডাকা সম্ভব হবে না, আইনি জটিলতার কারণে।

আবেদনের মেয়াদ ৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ায় রবি শাস্ত্রীকে সুযোগ করে দেয়া হলো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter