বিশেষ সংবাদ

এনজিওর ঋণ পরিশোধে সন্তান বিক্রি

মো. দ্বীন ইসলাম। পেশায় জেলে। স্ত্রী কুলছুমা বেগম ও ৪ মেয়েকে নিয়ে থাকেন চাঁদপুরের মাদ্রাসা রোড এলাকায়। হতদরিদ্র ওই দম্পতি এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। উপায় না পেয়ে গত সোমবার তাদের নবজাতক কন্যা সন্তান হাফসাকে বিক্রি করে দেন মাত্র ৩০ হাজার টাকায়। এদিকে একই এলাকার নিঃসন্তান দম্পতি সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম হাফসাকে পেয়ে বেজায় খুশি। তারা নতুন করে শিশুটির নাম রেখেছেন মরিয়ম আকতার ফাতিমা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় চতুর্থ কন্যা সন্তান জন্ম দেন কুলছুমা বেগম। নাম রাখেন হাফসা। চতুর্থবার কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী দ্বীন ইসলাম খুশি ছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন। একদিকে চার কন্যা সন্তান অপর দিকে ঋণের ৭০ হাজার টাকা। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন কুলছুমা ও দ্বীন ইসলাম দম্পতির কাছে। বোনকে বিক্রির কথা স্বীকার করে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া বড় বোন লাবনী আক্তার বলে, ‘আর বইনেরে দিয়া দিছে। এক কাগজে নাম লিখে আর বাপ-মা, নানু ও মামা দিয়া দিছে। আর তারা আমাগোরে ত্রিশ হাজার টাকা দিছে।’ বিষয়টি স্বীকার করেছেন লাবনীর মা কুলছুমা বেগম। তিনি জানান, যেহেতু সন্তান মানুষ করার সাধ্য নেই; অন্তত সন্তান বেঁচে থাকুক এমন আশা থেকেই বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু টাকাও পেয়েছি। কী করব? এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। ঘরে তিন মেয়ে আছে। এনজিও ‘আশা’ থেকে ৭০ হাজার টাকা লোন নিয়েছি। সব মিলিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই দিয়ে দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে নবজাতক মেয়েটির নতুন মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার নিজের সন্তান নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক কেনার চেষ্টা করছিলাম। নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করবেন বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানকে অবগত করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনভরই আসাদগেট এলাকায় ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। প্রথম আলো ফাইল ছবিডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। প্রথম আলো ফাইল ছবিশিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনভরই আসাদগেট এলাকার রাস্তায় ছিলেন মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর এলাকার কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব তাঁদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। বিকেলের দিকে উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল হাসান রাস্তায় বসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

নাঈমুলের সঙ্গীরা বয়সে কিছু বড় হলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেয় দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের নানাভাবে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবিও প্রধানমন্ত্রী মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই আন্দোলনের পরিণতি আমরা দেখেছি। ফেসবুকে দেখলাম কোটার এক নেতার লাশ পাওয়া গেছে নদীতে। আমরা চাই সুস্পষ্ট ঘোষণা আসবে।’

ছাত্রলীগের সঙ্গে আলোচনার পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবারের মতো কর্মসূচি মুলতবি করে চলে যায়। শুক্রবার তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবে কি না, তা পরে জানানো হবে বলে জানায় তারা।

ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের নয় দফা দাবির কথা বলেছে। আমরা আমাদের তরফ থেকে সেই দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। আশ্বাস পেয়ে আপাতত তারা উঠে গেছে।’ শিক্ষার্থীরা নাঈমুলের মোবাইল নম্বর নিয়ে গেছে, নাঈমুলও শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের ফোন নম্বর নিয়ে রেখেছেন।

ভাঙলেই বলবে বিএনপি-জামায়াত
বেলা দেড়টার দিকে আসাদগেট ক্রসিং অতিক্রম করছিল দিশারী পরিবহনের একটি মিনিবাস। চালক কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের ভেতর উঠে পড়ে জানালার কাচ ভাঙা শুরু করে। তখন কয়েকজন ছাত্র তাদের বাস থেকে নামিয়ে শাসিয়ে বলেন, ‘খবরদার গাড়ি ভাঙবি না। ভাঙলেই বলবে বিএনপি-জামায়াত। একবার পলিটিক্যালি কালারড হয়ে গেলে খবর আছে।’

সুত্র: প্রথম আলো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা শনিবার

অনলাইন ডেস্ক,২০ জুলাই ২০১৮: দেশের উন্নয়ন ও অর্জনে অসামান্য অবদান রাখার জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ এখন সব ক্ষেত্রে সোনালী সময় পার করছে। ফলে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রশংসায় বহিঃবিশ্ব। তিনি বয়ে এনেছেন বিরল সম্মান।

এছাড়া ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অষ্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় এই গণসংবর্ধণা দেওয়া হচ্ছে তাকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এই গণসংবর্ধণা অনুষ্ঠানকে সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে বিপুল লোকের সমাগম হবে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ধারণা করছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের জেলার নেতা-কর্মীরা যোগদান করবেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে সংবর্ধনাস্থলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে। ইংরেজি বর্ণ এল আকৃতিতে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে।

পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আলোকসজ্জা করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের পদভারে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বিকেল ৩টা থেকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ত্রিশ মিনিটের একটি পরিবেশনা থাকবে।

আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল জানান, বিকেল ৩টায় আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা শুরু হলেও দুপুর বারোটা থেকে লোকজন আসা শুরু করবে। দুপুর ১২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। দেশের বরেণ্য শিল্পীরা এতে সংগীত পরিবেশন করবেন।

তিনি জানান, গণসংবর্ধনায় আসার জন্য ইতোমধ্যে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ গণসংবর্ধনায় যোগদান করবেন।

এ সভায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ গণসংবর্ধনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

উপহার পাওয়া বিএমডব্লিউ গাড়ি ফিরিয়ে দিলেন সেতুমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব  প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেওয়া বিএমডব্লিউ গাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর অনুকূলে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি বরাদ্দ দেওয়া বিএমডব্লিউ গাড়িটি (ঢাকা-মেট্টো-ভ-১১-১৯৪৭) তিনি ফেরত দিয়েছেন।’

বিএমডব্লিউ গাড়িটি প্রত্যাহার করে আগের ব্যবহৃত গাড়িটি বরাদ্দ দিতে মঙ্গলবার মন্ত্রীর দপ্তর থেকে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আবু নাছের।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীকে বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি দেন। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিএমডব্লিউ গাড়ি পাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তাদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও বিএমডব্লিউ গাড়িটি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ঋণ দেবে ৯ শতাংশ সুদে

ব্যাংকগুলোর মতো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও (এনবিএফআই) সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এ ছাড়া তাদের আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীরা এ কথা জানান। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্ব স্ব বোর্ডর সিদ্ধান্ত নিয়ে এটির (সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ) কাজ শুরু করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কয়েকমাস সময় লাগবে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের এমডি মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এ সময় দেশের আর্থিক খাতের প্রথম প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (আইপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম ও বে লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার আলী খান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকগুলোর মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার নামিয়ে আনবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর স্ব স্ব বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা বোর্ডর সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে কথা দিয়েছে।

loan

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিপোজিট রেট ব্যাংকের তুলনায় বেশি হলেও তাদের ঋণ-আমানতের ব্যবধান (স্প্রেড) কম। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড চারের বেশি হলেও তাদের আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট। এ জন্য তাদের আমানতের সুদহার একটু বেশি হলেও ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে পারবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিয়ে ডেপুটি গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিকল্প উপায়ে অর্থ বা আমানত সংগ্রহের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থ আনতে হবে। এ জন্য বন্ডের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের জন্য পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতা করতে বলা হয়েছে।

বিএলএফসিএ’র চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে আমরা সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর করতে চাই। শিল্পায়ন ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধির জন্য এটি সহায়ক। এ জন্য নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন ছিল। এটি করতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্যাংকের তুলনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার ১ থেকে ২ শতাংশ ব্যবধান থাকে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে সরকারি ব্যাংক থেকে আমানত নিতে পারবে। সেটি আমরা সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে পাবো বলে আশা করছি। আমরা আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ এবং ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করব।

loan

‘আগামীকাল (বুধবার) থেকে সুদ কমানোর কার্যক্রম শুরু হবে। বাস্তবায়ন হতে কয়েকমাস সময় লাগবে। প্রথমে উৎপাদনশীল খাত, রফতানি ও এসএমই খাতে বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদহার কমানো হবে। স্বল্প সুদে আমানত পাওয়ার পর অন্য খাতগুলোতে ঋণের সুদহার কমিয়ে আনা হবে’,- বলেন তিনি।

আইপিডিসির ফিন্যান্সের এমডি মমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সুদহার কমানোর জন্য বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করার জন্য বলা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন। বন্ড মার্কেট শক্তিশালী হলে দীর্ঘ মেয়াদের কম সুদে ঋণ দেয়া অনেক সহজ হবে।

তিনি বলেন, এখন ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। মেয়াদ শেষ হবার পর এটি কমিয়ে আনা হবে। ৭ শতাংশে আমানত সংগ্রহের পর ৯ শতাংশে ঋণ দেয়া সম্ভব হবে। এটি কার্যকরের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। খুব শিগগিরই এই অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হবে। প্রথম উৎপাদনশীল খাত এবং পরে গাড়ি-বাড়ির মতো ভোক্তা ঋণেও সুদহার কমানো হবে।

এদিকে গতকাল সোমবার ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ এবং আমানতে সুদ ৬ শতাংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে গভর্নরকে জানান ব্যাংকগুলোর এমডিরা। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কিছু নীতিগত সহায়তা চেয়েছেন তারা। এ সময় সুদ কমাতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে গত ২০ জুন ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ এবং ৬ শতাংশ সুদে ৩ মাস মেয়াদি আমানত নেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকদের দাবি যেন পূরণ না হয়

খুশি কবির : আমাদের শিক্ষকরা হলেন জাতি গড়ার কারিগর। আমাদের সংবিধানে রয়েছে, যারা যে চাকরি করে, তাদের নূন্যতম মজুরী দিতে হবে। সে মজুরী অনুযায়ী তারা যেন সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকতে পারে। শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে শিক্ষা দিয়ে থাকেন, তাহলে ২টি জিনিস তাদেরকে অবশ্যই দিতে হবে। শিক্ষাদান করার মানসিকতা বৃদ্ধি করতে হবে। তারা যেন ভালভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তারা শিক্ষাটাকে নিয়ে বাণিজ্য না করে, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য সকল শিক্ষকদের অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে সম্মান দেওয়া উচিত।

তাহলে তারা কেন আজ প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে নামবে? এজন্য তাদের এমনভাবে বেতন ধরা হয়, সেটি দিয়ে যেন তারা বেঁচে থাকতে পারে, স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে, এজন্য তাদের দাবিটি যৌক্তিক কি-না, সেটি বর্তমান সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। তাদের দাবিটি যেন নিরাশ না হয়ে যায়, তারা যেন নিরাশ হয়ে বাড়িতে না ফিরতে হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে, সকল শিক্ষক ছেলেমেয়েদে কে ভাল করে শিক্ষা দিবেন, এটা আম্র প্রত্যাশা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ – সময়সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপ এবার অনুষ্ঠিত হবে রাশিয়ায়। ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের এই আসরে অংশ নেবে ৩২টি দেশ। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের এটি ২১তম আসর। স্বাগতিক রাশিয়া ছাড়াও এতে অংশ নেবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানির মতো ফুটবলের বড় দলগুলো। ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ইতালি এবার বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি। ইউরোপের আরেক পরাশক্তি হল্যান্ডও বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব পেরোতে পারেনি। দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন চিলিও এবার চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এতটাই কঠিন হয়ে থাকে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। আসল আসর তো আরও রোমাঞ্চ ছড়ায়।
আর্জেন্টিনার মতো দুবারের চ্যাম্পিয়নও যেমন বাদ পড়ার শঙ্কার পড়েছিল। একেবারে শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনাসহ ৩১টি দল বাছাই পর্বের কঠিন বাধা পেরিয়ে এসেছে। স্বাগতিক রাশিয়াকে এই পরীক্ষা দিতে হয়নি। গতবারের রানার্স আপ আর্জেন্টিনাকে এবারও অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছে। যদিও ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে হতাশ হওয়া ব্রাজিলই এবার সবচেয়ে বড় ফেবারিট। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, একঝাঁক তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারে ভরা ফ্রান্স আর ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনও এবার শিরোপার দৌড়ে বেশ এগিয়ে থাকবে।
আটটি ভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে দলগুলো। গ্রুপ পর্ব থেকে সেরা দুই দল যাবে দ্বিতীয় পর্বে। দ্বিতীয় পর্ব থেকে শুরু বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ড। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হবে উদ্বোধন। ১৫ জুলাই একই স্টেডিয়ামে ফাইনাল

 

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা

ডেস্ক,৫ জুন: মঙ্গলবার (০৫জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশের চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সর্বপ্রথম জেলা হিসেবে বন্যপ্রাণী ও পাখির মুক্ত অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হলো এমন এলাকা, যেখানে বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের প্রজনন ও আবাস নিরাপদ রাখতে শিকারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সাধারণত বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাভাবিক কিংবা বর্ধিত প্রজনন পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক সংখ্যা এবং বৃক্ষরাজি কিংবা ঔষধি বৃক্ষরাজির নিরাপদ সংরক্ষণে সরকার কিংবা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।

অভয়ারণ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, ঐ এলাকার পাখি যেন ক্রয়/বিক্রয় বা ধ্বংস না হয়। পশুপাখিদের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কাজ থেকে যেন এই এলাকা মুক্ত থাকে। পাশাপাশি, বাইরে থেকে শিকারীরা যাতে সেখানে প্রবেশ না করতে পারে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জনাব জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসকের বাসভবন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ডিসি ইকো পার্ক এবং সার্কিট হাউজকে পাখির অভয়াশ্রম তৈরি ও ঘোষনা করা হয়েছে। সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রাম কয়েক বছর যাবত “পাখির গ্রাম” নামে পরিচিত, এখন পুরো গ্রামটিই পাখির অভয়ারণ্য। দামুড়হুদা উপজেলার দলকা বিল, আলমডাঙ্গা উপজেলার পাখির গ্রাম বন্ডবিল অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত। সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর, দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকা অফিস, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা রেল স্টেশন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারেও পাখির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ফরমান মন্ডলের বাগানবাড়িও পাখির অভয়ারণ্যের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ও পাখির মুক্ত অভয়ারণ্য হিসেবে প্রথম জেলা চুয়াডাঙ্গাকে ঘোষনা করে জেলাবাসীকে মঙ্গলবার (৫ জুন) থেকে এই সাফল্যের গর্বিত অংশীদার হিসেবে আইন মান্য করে সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ জুন

বহুল প্রতিক্ষীত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৃহঋণ সুবিধা পেতে আর বেশি দেরি নয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন অর্থমন্ত্রণালয়ে। অর্থমন্ত্রীর সই হলেই ঋণ নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। এরপর থেকেই শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কম সুদ অর্থাৎ মাত্র ৫ শতাংশ ঋণে গৃহঋণ বরাদ্দ প্রক্রিয়া।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা কমাতে এ গৃহঋণের অনুমোদন দিয়েছে পে-কমিশন। ২০১৫ সালে এই অনুমোদন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনাপত্র প্রদান করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সেখানে বলা হয়, ৫ শতাংশ সুদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালে ঘোষিত পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৬০ থেকে ৮০ গুণের সমান গৃহঋণ দেওয়া হবে। এতে করে প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা এ সুবিধা পাবেন।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব নাজমুস সাকিব বলেন, প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ভাল একটি সুবিধা পাবেন। এতে তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়বে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, এই প্রকল্প থেকে সরকার ও ঋণ গ্রহীতা উভয়ই উপকৃত হবেন। কারণ সরকার ব্যাংকের অলস টাকা ইনভেস্ট করতে পারবে। ঋণের টাকার কিস্তি বেতন থেকে কেটে নেবে ব্যাংক। ফলে অর্থের সিকিউরিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।

এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকুরি করে ঢাকা শহরে একসাথে এতো টাকা সংগ্রহ করে একটি ফ্লাট কেনা তাদের জন্য ছিল অনেক কষ্টের। কিন্তু সরকারের এমন উদ্যোগ তাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। যেহেতু সরকার এ ঋণের বিপরীতে ৩ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে, তাই এটা তাদের জন্য বড় পাওয়া।

এদিকে, অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, আসছে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকছে। ফলে এবছরও বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারি চাকুরিদের বেতন-ভাতা। বিষয়টি সরকারি চাকুরিজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে এর প্রভাব বাজারেও পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিষয়ে গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এবার বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে কিনা এটা প্রথমে ভাবতে হবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সারাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রভাবে ইনফ্লুয়েন্স করছে কিনা সেটাও প্রশ্ন উঠবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রভাব প্রাইভেট সেক্টরেও পড়ে। ফলে প্রাইভেট সেক্টরেও বেতন বৃদ্ধির ডিমান্ড তৈরি হয়। ফলে প্রডাক্ট কষ্ট বৃদ্ধি পায়। এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবেই।

সরকারি কর্মকর্তাদের হোম লোন সুবিধা প্রদান ও আসছে বাজেটে বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, মূদ্রাস্ফীতির অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা নির্ভর করবে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির অর্থটা কোত্থেকে জোগান দেয় তার ওপর।

তিনি বলেন, সরকার যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বা নতুন নোট ছাপিয়ে এই বাড়তি বেতন জোগান দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মূদ্রাস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন বেসরকারি খাতের ওপরও বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। সেটা যদি হয়, তখন মূদ্রাস্ফীতির হার আবারও বাড়বে।

গৃহঋণের বিষয়ে এম এম আকাশ বলেন, এটা সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে উৎসাহিত করবে এটা ঠিক। কিন্তু সরকার এ ঋণের সুদে যে ৩ শতাংশ ভর্তুকি দেবে এটা রাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত বোঝা বয়ে আনবে। ফলে ব্যাংকের উপর সরকারের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এভাবে রাজস্বের উপর চাপ বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পিছিয়ে যেতে পারে স্বর্ণ নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২জুন:

শিগগরিই হচ্ছে না স্বর্ণ নীতিমালা। সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ মন্ত্রিপরিষদ সভায় তুলতে পাঠানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আগের স্বর্ণ নীতিমালায় (১৯৯৬ সালের) কী ছিল তা দেখে চূড়ান্ত করা হবে নতুন নীতিমালা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগের নীতিমালাটি সংযোজন করে পুনরায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন ১৯৯৬  সালে করা খসড়া নীতিমালাটি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগে দেশে কখনও স্বর্ণ আমদানি করা হতো না। বরাবরই দেশের চাহিদার বড় অংশের যোগান আসতো চোরাচালানের মাধ্যমে। এখন বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করা হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন ও সুযোগ এলে বাংলাদেশ স্বর্ণ রফতানিও করবে— এমন বিধান রেখে তৈরি করা হচ্ছে স্বর্ণ নীতিমালা- ২০১৮। তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত স্বর্ণ নীতিমালায় স্বর্ণ শিল্পকে সুষ্ঠুভাবে ও অধিকতর স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনায় করণীয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। যাতে ভোক্তার স্বার্থ ও মানরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন সেসব ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

তবে পরিবর্তন যা-ই হোক, তা হবে দেশ ও জনস্বার্থে- বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে  তিনি জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকায় খোলাখুলি কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ১৯৯৬  সালে করা এ সংক্রান্ত  নীতিমালাটি সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হয় ভবিষ্যতে নতুন নীতিমালাটি আরও সমৃদ্ধ হবে। কারণ ১৯৯৬ ও ২০১৮ সালে করা দুটি নীতিমালা একত্রিত করে নতুন নীতিমালাটি তৈরি করা হলে অবশ্যই তা সমৃদ্ধ হবে।’

কবে নাগাদ আগের নীতিমালাটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক দিন আগের বিষয়। নীতিমালাটি কোথায় কী অবস্থায় আছে তা খুঁজে পেতে কয়েক দিন লাগতে পারে।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ২২ বছরে এ মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি হয়ে গেছেন। এসেছেন অনেক নতুন কর্মচারী-কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তাই পুরনো ডক্যুমেন্টস খুঁজে পেতে হয়তো কয়েক দিন দেরি হতে পারে। পাওয়া মাত্রই তা প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয়ে পাঠানো হবে।’

জানা গেছে, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে অনুমোদন পাওয়া স্বর্ণ নীতিমালার খসড়ায় অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে স্বর্ণ নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হলেও আবার নতুন করে তাদের মতামত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

সূত্র বলছে, যদি খসড়া নীতিমালায় কোনও পরিবর্তন আসে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবগত করতে হবে। তা না হলে উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাই হয়তো কিছুটা দেরি হতে পারে। যেকোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এটি করা হতে পারে।

জানা গেছে, গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পাওয়া স্বর্ণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, এটি জারি হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বর্ণ শিল্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক (মূল্য সংযোজন কর) মূসক নিবন্ধন সনদ নিতে হবে। একইসঙ্গে মজুদ স্বর্ণালঙ্কারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণাও প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। পাশাপাশি দেশে বৈধ স্বর্ণের ঘাটতি দূর করতে ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ, আমদানিতে বন্ড সুবিধা দেওয়া,  রফতানি বিকাশের সুযোগও থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বর্ণ বাণিজ্যকে নিয়মের আওতায় আনতেই এ নীতিমালা করা হয়েছে। স্বর্ণ আমদানির পর ‘ভ্যালু অ্যাড’ করে আবার তা রফতনি করার সুযোগ রয়েছে এই নীতিমালায়।

জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘এতদিন স্বর্ণ আমদানি হতো না, সব স্মাগল হতো। এখন স্বর্ণ আমদানি করা যাবে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালাটি এখন মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নীতিমালা পাস হলে স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে, তা সরবরাহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে। অধিকতর যাচাইবাছাই করতেই পুরানো কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।’ এতে নতুন নীতিমালাটি বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সব কিছু বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সোনা বেচাকেনার জন্য একটা রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। এই রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিলার নিয়োগ করবে, যাদের মাধ্যমে সোনা আমদানি হবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পদোন্নতি পেলেও ঝুঁকিভাতা আর কমবে না পুলিশের

ডেস্ক,১৩ এপ্রিল: অবশেষে চাকরির মোট মেয়াদকাল গণনা করে পুলিশকে ঝুঁকিভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জারি করেছে সরকার। ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনও বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে পদোন্নতি পাওয়ার পরও আর ঝুঁকিভাতা কমবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুই বছর ধরে ঝুলে থাকা পুলিশের ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হলো।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব লায়লা মুনতাজেরী দীনার সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বুধবার (১১ এপ্রিল) সই করা প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীর এসআই, সার্জেন্ট, টিএসআই এবং এর থেকে নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের চাকরির বয়সভিত্তিক ঝুঁকিভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করা হবে। এ লক্ষ্যে ঝুঁকিভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন পদ থেকে পদোন্নতি হলে মোট চাকরিকাল গণনা করে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, এই আদেশের ফলে ঝুঁকিভাতার আওয়াতায় থাকা পুলিশ সদস্যদের চাকরিতে প্রবেশের তারিখ থেকে ঝুঁকিভাতা পাওয়ার মেয়াদ গণনা করা হবে। পদোন্নতি পেলেও ওই উচ্চপদ থেকে নতুন মেয়াদ গণনা করা হবে না।
ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত গত বছরের ২৩ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনও বাতিল করা হয়েছে। এই আদেশ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন পুলিশ সদস্য কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হলে তার চাকরির মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হতো। ঝুঁকিভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার পদোন্নতির আগের চাকরির বয়স গণনা করা হতো না। এতে কনস্টেবল থাকাকালীন তিনি যে ঝুঁকিভাতা পেতেন, এএসআই হওয়ার পর তা কমে আসত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছিল পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। এ নিয়ে এ বছরের ৭ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনে ‘পদোন্নতির পর ঝুঁকিভাতা কমে যায় পুলিশের!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের তিন মাসের মাথায় পুলিশের ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করলো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঘর ভাঙলো ইমরান এইচ সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট : গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কন্যা নাদিয়া নন্দিতা ইসলামের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস জাকির হোসেন বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মেয়ের সম্মতিক্রমে তিন মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। উভয় পরিবারের মধ্যে বিষয়টি গোপন ছিল। মন্ত্রী সোমবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রধান ইন্ধনদাতা ইমরান এইচ সরকার। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উস্কানিদাতাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে, সে যে-ই হোক না কেন। ইমরান আর আমার মেয়ের স্বামী নন। তিন মাস আগেই পারিবারিকভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।

এ বিষয়ে ইমরান এইচ সরকারের মন্তব্য জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন। তিনি বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে বিষয়টি জেনেছেন।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে মন্ত্রীকন্যা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাদিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইমরান এইচ সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ গঠনের পর থেকে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান এইচ সরকার। এরপর থেকে বাংলাদেশে আলোচিত একটি মুখ চিকিৎসক ইমরান এইচ সরকার। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন কুড়িগ্রামের সন্তান ইমরান। ছাত্র থাকাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চলন্ত বাসে আবার ধর্ষণ ঢাকার ধামরাইয়ে

বিবিসি ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে একটি চলন্ত বাসে ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.রিয়াজউল হক বলছিলেন, লোকাল একটা বাসে একজন তৈরি পোশাক শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলছিলেন এই বাসের কোন নাম নেই, এটা লোকাল বাস এবং শ্রমিকরা এতে যাওয়া-আসার কাজ করে।

মি.হক বলছিলেন রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ঐ বাসে বাসের চালক, হেলপার এবং তাদের সাথে আরো তিনজন ছিল। তারা ধর্ষণ করে ঐ গার্মেন্ট শ্রমিককে।

পুলিশ বলছে মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলাটি করেছে।

মেয়েটি এখন তাদের হেফাজতে রয়েছে।

বাংলাদেশে এর আগেও চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের অগাস্টে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসের মধ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয়।

ঐ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

পুলিশ বলছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক তরুণীর মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।

তাঁর আত্মীয়-স্বজন ছবি দেখে লাশ সনাক্ত করার পর তরুণীটিকে বাসের মধ্যে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যার এই ঘটনা ফাঁস হয়।

সেই ঘটনার ছয় মাসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন হয় যেটা বাংলাদেশে বিরল। ঐ ঘটনায় পাঁচ আসামীর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড আর একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এ টাকা এবং যে বাসে ঘটনাটি ঘটেছে সে বাসটি আদালতের আয়ত্তে নিয়ে রূপার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কলাপাড়ায় চুরি-ডাকাতি আতংক, রাত জেগে গ্রামে গ্রামে পাহাড়া, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন

ড়মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডাকাতি ও ছিচকে চোরের উপদ্রপ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার দু’টি ইউনিয়নের অন্তত: ১০টি গ্রামে মানুষ রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর পর কয়েকটি বাড়ীতে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটায় মানুষ এখন নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে পাহাড়া দিতে শুরু করেছে।
গত এক মাসে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারায় হিট বাংলাদেশের অফিস, চাদঁপাড়া গ্রামের শিক্ষক শেখর মন্ডলের বাড়ী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সখানাত বিশ্বাস, অতুল চন্দ্র বিশ্বাস, বিকাশ বিশ্বাস এবং চাকামইয়া গ্রামের নিশানবাড়িয়া গ্রামের শিক্ষক নির্মল সরকার, পরিমল সরকারের বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি বাড়ীতে মুখোশধারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বার্নালংকার সহ নগদ টাকা লুট করে নেয়।
এছাড়া পৌরশহরের মংগলসুখ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বাড়ীতে দিনে দুপুরে ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে ঢুকে স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের যতিন্দ্র নাথের বাড়ী এবং সোমবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের চিংগড়িয়া এলাকার সুভাষ মজুমদারের বাড়ীতে চুরির ঘটনা ঘটায় মানুষের মধ্যে আতংক বেড়ে গেছে। এদের কেউই ভয়ে আইনের আশ্রয় নেয়নি এবং পুলিশও এটিকে চুরির ঘটনা বলে দায় এড়িয়ে গেছে জানিয়েছেন ভ‚ক্তোভোগীরা।
চুরি ঠেকাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা, নেয়ামতপুর, ইসলামপুর, চাঁদপাড়া, আদমপুর, আমিরাবাদ। এছাড়া চাকামইয়া গ্রামের কাঁঠালপাড়া, নিশানবাড়িয়া, গান্ধাপড়া সহ বিভিন্ন গ্রামে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ করে পাহাড়া দিচ্ছে। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক আনোয়ার হোসেন জানান, পরপর কয়েকটি বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটায় মানুষ রাত জেগে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ করে পাহাড়া দিচ্ছে। একই ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের অনিল চন্দ্র ডাকুয়া জানান, তার বাড়ীর কাছে যতিন্দ্র নাথের বাড়ীতে সন্ধ্যায় চুরির ঘটনা ঘটায় মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে।
ওই গ্রাম সহ পাশের গ্রামের মানুষ এখন নিজেদের জানমাল রক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে পাহাড়া দিচ্ছেন। চাকামইয়া ইউনিয়নের কাঁঠালপাড়া এলাকার গনি মিয়া জানান, শিক্ষক নির্মল সরকারের বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনার পর কাঁঠালাপাড়াসহ আশে পাশের গ্রামের মানুষ একেক গ্রুপে ৪/৫ জন করে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি কলাপাড়া পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকায় ডাকাতি রোধে পুলিশের হ্যান্ড মাইকিংয়ের কারনে নির্ঘুম রাত কাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের। পুলিশও রাতভর পেট্রোল ডিউটি করে ওই এলাকায়। চিংগড়িয়া অধিবাসী ও কলাপাড়া চৌকি আদালত আইনজীবি কল্যান সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাথুরাম ভৌমিক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কলাপাড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা আমার কানে এসেছে। যেসব এলাকায় মানুষ পাহাড়া দেয় সেখানে মাঝে মাঝে পুলিশ পেট্রোল ডিউটি করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরকীয়ার জেরে রথীশ চন্দ্রকে হত্যা করা হয়

রংপুর ব্যুরো,শিক্ষাবার্তা ডটকম:
রংপুর:  র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্ত মতে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে পরিবারের অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব, অশান্তির কারনে রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে গত ২৯ মার্চ রাতেই নিজ শয়ন কক্ষে হত্যা করা হয়।
এরপর তার লাশ আলিমিরাতে করে বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দুরে একটি পরিত্যক্ত বাসার খোলা কক্ষের মাটির নীচে বস্তাবন্দি করে পুতে রাখা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক, তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১২ টায় র‌্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, র‌্যাব-১৩ ভারপ্রাপ্ত অধিনায় মেজর আরমিনসহ পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এসময় র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, র‌্যাব-১৩ এর পাশাপাশি ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম আইনজীবি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তার ভাই সুশান্ত ভৌমিক কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাহিকতায় র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধাকে র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা বাবু সোনাকে হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ও মৃতদেহর অবস্থান জানায়।
এসময় স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা র‌্যাবকে জানায়, পারিবারিক কলহ, পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে সে তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। একাজে তাকে সহযোগিতা করে তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম।
ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও তার স্ত্রীদের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে, দুই মাস আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ রাতে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু সোনার স্ত্রীর দীপা ভৌমিকের সহকর্মী ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের নির্দেশে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সবুজ ইসলা ও রোকনুজ্জামান তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুলের বড় ভাইয়ের পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ের খোলা রুমের বালু খুড়ে রাখে।
এরপর ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ভাত ও দুধের সাথে ১০ টি ঘুমের বড়ি খাওয়ান বাবু সোনাকে। এরপর বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে প্রবেশ শয়ন কক্ষে প্রবেশ করায় প্রেমিক কামরুল ইসলামকে। এক পর্যায়ে বাবু সোনা অচেন হয়ে পড়লে  স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও পরকীয়াা প্রেমিক কামরুল মিলে বাবু সোনার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শয়নকক্ষেরর আলমিরাতে লাশ রেখে দেয়। পরের দিন ৩০ মার্চ শুক্রবার সকাল ৫ টায় শয়ন কক্ষ থেকে বের হয়ে যায় কামরুল। সকাল ৯ টায় কামরুল মাস্টার লাশ গুম করার জন্য একটি ভ্যান নিয়ে আসে এবং আলমিরা ঠিক করার কথা বলে ভ্যানে করে আলমিরাতে থাকা লাশ নিয়ে আগে থেকে মাটি খুড়ে রাখা সেই বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে বেলা ১১ টার মধ্যে আলমিরা থেকে লাশ নামিয়ে বস্তাতে ভরে পুতে রাখে। বাড়ি থেকে আলমারি বহন করে ভ্যানে তোলার জন্য তিনজন লোকও ঠিক করে ওই কামরুল মাস্টার।
স্ত্রীর দেখিয়ে দেয়া মুত দেহের অবস্থান মতে মঙ্গলবার রাতে মোল্লাপাড়ায় কামরুল মাস্টারের বড় ভাইয়ের পরিত্যাক্ত বাড়ির খোলা রুমের মাটির নিচ খুরে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
র‌্যাব মহা পরিচালক জানান, আমরা তার স্ত্রী এবং দুই ছাত্রকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। কি ধরনের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে তা মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে পরে জানা যাবে। আমরা আশাকরি এ ঘটনার সাথে জড়িতের আইনের আওতায় নিয়ে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে র‌্যাবের মহাপরিচালক হেলিকপ্টার যোগে রংপুরে আসেন। পরে তিনি লাশ উদ্ধার হওয়ার স্থান এবং বাবু সোনার বাড়ি পরিদর্শন শেষে র‌্যাব-১৩ সদর দপ্তরে যান।
প্রসঙ্গত: রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক হোসিও কোনি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার সরকার পক্ষের প্রধান কুশলী রংপুর বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এ্যাডভোকোটে রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা গত ৩০ মার্চ নিখোজ হয়েছেন মর্মে বেলা ৩ টার দিবে প্রথমে তার স্ত্রী দেবর সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিককে জানান। এসময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। ঢাকা থেকেই তিনি বিষয়টি রাত ১১ টায় পুলিশ সুপারকে জানান। এরপর থেকে তার সন্ধানে রংপুরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ আন্দোলনে নামে।
এ্যডভোকেট রশিথ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, রংপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছাড়াও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি, সম্মিলিক সাংস্কৃতিক জোট, সুজন, দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আজহারুলকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। মামলাটির এখন আপিল শুনানি চলছে।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free