বিশেষ প্রতিবেদন

যে ভাবে র‌্যাপিড্লি সড়ক দূর্ঘটনা কমানো সম্ভব

মোঃ সালাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্road accidentশক, শহর ও যানবাহন, ঝিনাইদহঃ সড়ক দূর্ঘটনা! সড়ক দূর্ঘটনা! সড়ক দূর্ঘটনা! এ নামটা যেন নিত্য দিনের ঘটনা। এটা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এতে প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে বহু তাঁজা প্রান। থমকে যাচ্ছে বহু পরিবার। পঙ্গু হাসপাতালে গেলে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সহজেই উপলব্দি করা যায়। সড়ক দূর্ঘটনায় বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই সমাজের সচেতন মানুষ এর থেকে পরিত্রানের পথ খোজার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন ভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত আমরা সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক ইনটেলেকচুয়াল ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এত সড়ক দূর্ঘটনা! এর প্রতিকার কি কোন ভাবেই সম্ভব নয়? এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৪ সালে সারা দেশে ৫,৯২৮টি সড়ক দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে ৮,৫৮৯ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১৭,৫২৩ জন। মহাসড়কগুলেতে এই সড়ক দূর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। এত আহত ও নিহত লোকের মধ্যে একটা বড় অংশ পথচারী। আমার ভাবতে অবাক লাগে, আমরা অনেক শিক্ষিত লোকও ট্রাফিক আইনের পথ চলার নিয়মটা জানি না। আর গ্রামের নিরক্ষর লেকের কথাতো বাদই দিলাম। কারন তারাতো রাস্তা পারাপার হয় রাস্তার একদিকে তাকিয়ে অথবা দৌড় দিয়ে। রাস্তা পারাপার হওয়ার নিয়ম হলো প্রথমে ডানে তাকাতে হবে, তারপর বামে এবং সর্বশেষ ডানে তাকিয়ে রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তা পার হতে হলে আপনাকে ডানে তাকাতে হবে কারন ডান দিকের গাড়ী আপনাকে প্রথমে আঘাত করবে। এরপর বামে তাকাতে হবে কারন উল্টা দিক থেকে যে কোন সময় গাড়ী আসতে পারে। সর্বশেষ ডানে তাকাতে হবে কারন এই সময়ের মধ্যে যে কোন গাড়ী চলে আসতে পারে। পথচারী হিসাবে সড়ক দিয়ে হাটার নিয়ম হলো- সব সময় রাস্তার ডান পার্শ্ব দিয়ে হাটতে হবে। কারন আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী গাড়ী বাম পার্শ্ব দিয়ে চলে। পথচারীও যদি বাম পার্শ্ব দিয়ে চলে তাহলে পিছন থেকে আগত গাড়ীগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আঘাত করতে পারে। আপনি ডান পার্শ্ব দিয়ে হাটলে আপনার সামনের গাড়ীগুলো দেখে নির্বিঘেœ রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে পথচারীকে পিছন থেকে কোন গাড়ী আঘাত করার সম্ভাবনা থাকে না। এই পথ চলার নিয়ম না জানার কারনে প্রতি বছর অনেকেই দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পথ চলার নিয়ম প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ওয়ান থেকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সড়ক দূর্ঘটনার অনেক কারন রয়েছে। যেমন চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালনা, রোড সাইন না বুঝে যেখানে সেখানে ওভারটেক করা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, রাস্তার ত্র“টি, ত্র“টি যুক্ত গাড়ী ব্যবহার, পথচারীদের পথ চলার নিয়ম না জানা, মহাসড়কে নছিমন, করিমন ইঞ্জিন চালিত গাড়ী চালনা, বিশ্রাম ব্যতীত একটানা গাড়ী চালনা, গাড়ীর ইঞ্জিন এবং চাকা চেক না করে গাড়ী বের করা। রাত্রিকালীন সময়ে বড় গাড়ীগুলো নিয়ম না মেনে হাইভীম ব্যবহার করা, হাইওয়েতে বাজার স্থাপন, রাস্তার উপর বালু বা মাটি রাখা, গাড়ী চালনার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলপার দিয়ে গাড়ী চালনা, গাড়ীর মালিকেরা চালকদের প্রতি উদাসীনতা, ঝুকি পূর্ণভাবে লোক বা মাল বহন করা, সঠিক পদ্ধতিতে লাইসেন্স গ্রহণ না করা, যাত্রীদের চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ী চালনায় উৎসাহীত করা সহ আরো কিছু কারনে সড়ক দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়। সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারন চালক নিজে। ত্র“টিযুক্ত গাড়ীর কারনে দূর্ঘটনা ঘটলেও এর জন্য দায়ী ড্রাইভার। কারন গাড়ীর সবকিছু ঠিক না থাকলে একজন ড্রাইভারের সড়কে গাড়ী বের করা উচিৎ নয়। বর্তমানে বেশী বেপরোয়া দুর পাল্লার বাসের চালকেরা। ট্রাকগুলোও বেপরোয়া, তবে লোডেড অবস্থায় চালকেরা অধিক গতিতে গাড়ী চালাতে পারে না। একজন চালককে বুঝতে হবে তার উপর নির্ভর করছে সমস্ত যাত্রীর জীবন। তার সাথে যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিশ্চয়তা। চালক যদি অন্য মনস্ক অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালায় তখনই ঘটে এই দূর্ঘটনা। একজন চালককে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে এবং সুস্থ মন নিয়ে ষ্টেয়ারিং ধরতে হবে। তবেই যাত্রীরা নিরাপদ ভাবে যেতে পারবে। তাই একজন ড্রাইভার সমাজের যে কত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই উপলব্ধি বোধ তার মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ চালক লেখাপড়া জানে না। তাদের রোড সাইন সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নেই। গাড়ী চালনার সময় কোথায় ওভারটেক করা যাবে এবং কোথায় যাবে না সে বিষয়ে তাদের কোন ধারনা নেই। রোড সাইন সম্পর্কে আমি দুটি সাইনের কথা বলব।

একটি হলো-রাস্তার মাঝখান দিয়ে সাদা দাগ যাহা লম্বালম্বিভাবে চলে গিয়েছে। এটাকে বলা হয় অভারটেকিং নিষিদ্ধ সাইন। এখানে কোন অবস্থায় ওভারটেক করা যাবে না। এধরনের সাইন সাধারনত রাস্তার টার্নিং পয়েন্টে, কোন ব্রীজের আগে বা বাজার এলাকাই দেখা যায়। অপরটি হলো-রাস্তার মাঝখানে ফাকা ফাকা সাদা দাগ। এখানে একজন চালক ইচ্ছা করলে সুবিধামত সময়ে অভারটেক করতে পারবে। এ ধরনের সাইন সাধারনত সোজা রাস্তায় দেখা যায়। হাই ওয়েতে চালার সময় এ দুটি সাইন জানা খুবই জরুরী।

দু’টি পদ্ধতিতে সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। প্রথমতঃ যেহেতু বেশীর ভাগ দূর্ঘটনা ঘটায় বাস এবং ট্রাকের চালকেরা। তাদের বেপরোয়া খামখেয়ালী অভারটেকিং এর কারনে এই দূর্ঘটনা গুলো ঘটছে। আমাদের দেশে যে মহাসড়ক আছে কোনটিকেই আন্তর্জাতিক মানের মহাসড়ক বলা যায় না। তাই প্রতিটি বাস এবং ট্রাকে বি,আর,টি,এ কর্তৃক সর্বোচ্ছ গতি ঘন্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়ে গভর্ণর সীল সংযুক্ত করে দিলে একজন চালক ইচ্ছামত নির্ধারিত গতির অধিক গতিতে গাড়ী চালাতে পারবে না। চালক পরবর্তীতে এই সীল পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে অবশ্যই গাড়ী আটকের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি আশির দশক পর্যন্ত প্রচলন ছিল।

দ্বিতীয়তঃ যেহেতু সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারণ চালক নিজে, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশকে পর্যাপ্ত স্পীড ডিটেক্টর সরবরাহ করা যেতে পারে।

স্পীড ডিটেক্টর সম্পর্কে আমাদের অনেকের ধারনা নেই। এটা দেখতে অনেকটা মুভি ক্যামেরার মত। একজন পুলিশ সদস্য কোন গাছের আড়ালে দাড়িয়ে গাড়ীর গতি স্পীড ডিটেক্টর এর মাধ্যমে সনাক্ত করে আগে থেকে নির্ধারিত র্কিলোমিটার দুরে অবস্থানকারী টিমকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে অবহিত করে সেই গাড়ীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দিলে চালক গাড়ী চালনার সময় সতর্ক থাকবে। সে বুঝতেও পারবে না কোথায় থেকে তার গাড়ীর গতি সনাক্ত করা হয়েছে। তখন প্রত্যেক চালক মনে করবে অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়া চালনার কারনে যে কোন সময় মহাসড়কে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। যেহেতু চালকের কারনে এই মামলা হচ্ছে তাই এর জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। জরিমানা দেওয়ার ফলে ঐ ড্রাইভার পরবর্তীতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাবে না। এই টিমের সঙ্গে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট থাকতে পারে। মহাসড়কে চালক অপরাধ করলে নগদ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা রেখে একটা টিমকে কম পক্ষে ত্রিশ কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে দিলে এবং তারা স্থান পরিবর্তন করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রসিকিউশন দ্বারা নগদ জরিমানা আদায় অব্যহত রাখলে চালকেরা বেপরোয়া ও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাতে সাহস পাবে না। এক্ষেত্রে যে নগদ জরিমানা করা হবে, তার ৫০% টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে এবং অবশিষ্ট ৫০% টাকা ম্যাজিষ্ট্রেট সহ পুরো টিমকে ইনসেনটিভ হিসাবে দেওয়া হলে তারা এই কাজ করতে উৎসাহিত হবে। ফলে উক্ত কাজে দুর্নীতির কোন সুযোগ থাকবে না। মহাসড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিটি জেলায় কম পক্ষে দুটি টিম কাজ করলে এবং তার সার্বিক দায়িত্বে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয় উভয়ই যদি দুই ঘন্টা পর পর হাইওয়েতে নিয়োজিত টিমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দিক নির্দেশনা দেয় তা হলে তাদের কাজের গতি বাড়বে এবং মহাসড়ক সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। এই পুলিশ টিমের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের পুলিশ সুপার কর্তৃক বাছাই করে স্মার্ট, ইন্টিলিজেন্ট, সৎ এবং পজিটিভ মনের অধিকারী সদস্যদের এই কাজে অন্তর্ভূক্ত করলে জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে। এছাড়া এই টিম মহাসড়কে নসিমন, করিমন সহ অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মহাসড়ক অনেকটা বিরাপদে থাকবে। ড্রাইভারদের খামখেয়ালী বেপরোয়া গাড়ী চালনার করনে আমরা আর এই ভাবে একটার পর একটা সড়ক দূর্ঘটনা দেখতে চাই না, আমরা দেখতে চাই না মিরেরসরাই এর মত সড়ক দূর্ঘটনা, যাতে ৩৫ জন কোমলমতি ছাত্র মারা গিয়েছিল। আজও সেই এলাকায় ঐ সমস্ত মায়েদের আহাজারি শোনা যায়। আমরা আর হারাতে চাইনা তারেক মাসুদ ও মিসুক মনিরের মত মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদেরকে। তাই বাস, ট্রাক মালিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তায় জরুরী ভিত্তিতে ট্রাফিক পুলিশ এবং বি,আর,টি,এ কর্তৃক প্রত্যেক চালককে ট্রাফিক আইন ও রোড সাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমার ধারনা সারা দেশে মহাসড়কে যদি একযোগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করে স্পীড ডিটেক্টর দ্বারা গাড়ীর গতি সনাক্ত করে নগদ জরিমানা আদায় করা চলতে থাকে তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সারা দেশের মহাসড়ক গাড়ী চালনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসা সহ জাতি অভিশপ্ত দূর্ঘটনার কবল থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাবে।  মোবাইল নং- ০১৭৩৩-৫৩৪৩৮৪

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাঁস ॥ শিক্ষা খাতে ক্যান্সার

  • এই অশুভ ঘটনায় সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান
  • অটোমোশন পদ্ধতি চালু করে চিরতরে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
  • জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
  • হোতা শনাক্তে তৎপর গোয়েন্দারা
বিভাষ বাড়ৈ/গাফফার খান চৌধুরী ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষা খাতের ক্যান্সার হয়ে দেখা দিয়েছে। এই অশুভ ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান করে দিয়েছে। সম্প্রতি অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এতে শুধু সরকারই বিব্রত হয়নি, বিপাকে পড়েছে লাখো শিক্ষার্থী। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য চলছে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা। এই পদ্ধতিতে পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্নপত্র সরাসরি ছাপার জন্য প্লেট আকারে তৈরি হয়ে যাবে। কয়েক ধাপে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রয়োজন হবে না। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত কার্যকরের নানাদিক নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে। সেইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি বিজি প্রেসসহ সরকারী ছাপাখানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র হস্তান্তরের পরই ফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর এবং বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হালনাগাদ অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ১৯৭৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রথম ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় প্রথম তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়। হালনাগাদ বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অন্তত ৩৩ বার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি যথারীতি রিপোর্টও দিয়েছে। কিন্তু সেসব রিপোর্টে কমিটির সুপারিশ অধিকাংশই কার্যকর হয়নি।
সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণীর গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে উপজেলাটির ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। তবে আগের মতো আর ঢালাওভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে না।
২০১০ সালের ৮ জুলাই রংপুরে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ভুয়া পরীক্ষার্থীর কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেটিই ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা ভিন্নজগত নামে একটি বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্রের তিনটি কক্ষ ভাড়া নেয়। সেখানে পরীক্ষার্থীদের আগাম পরীক্ষা নেয়ার সময় ৫ দালালসহ ১৬৭ জন পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন পরীক্ষার্থী ছাড়াও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী হামিদুল হক, বিজি প্রেসের কর্মচারী, কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান ও পটুয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশারসহ বিজি প্রেসের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় গবর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও বিজি প্রেসের বাইন্ডার লাবণী বেগম, পিএসসির (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এ রউফ।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, বিজি প্রেসের ভেতর থেকে ট্রাঙ্কে রাখা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দেয়া ২৮ লাখ টাকাসহ বিজি প্রেসের কর্মচারী আব্দুল জলিল গ্রেফতার হয়। ঘটনার দীর্ঘ তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গোপনীয় শাখাসহ পুরো বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ত্রুটির চিত্র উঠে আসে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনেও জানানো হয়, বিজি প্রেসের প্রধান ফটক ও গোপনীয় শাখায় প্রবেশ ও বহির্গমনে কোন তল্লাশি না থাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই একজন কর্মচারী অনায়াসে একটি ট্রাঙ্কে করে ২৮ লাখ টাকা নিয়ে বিজি প্রেসে ঢুকতে সমর্থ হয়েছিলেন। বিজি ও জিপি প্রেসের চক্রটিই সব সময় প্রশ্ন বের করে আনা-নেয়ার দায়িত্ব পালন করে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে পিএসসি ও বিজি প্রেসের অন্তত ১০ কর্মকর্তা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমল থেকেই এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পিএসসির বিতর্কিত সদস্য ড. মাহফুজুর রহমান ও তাঁর দুই ভাগ্নেসহ কয়েক পরিচালক কাজ করছিলেন। তাঁদের যোগসাজশেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য বিজি প্রেসের সার্বিক নিরাপত্তায় এপিবিএন’র (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ৬২ সদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠনসহ বিজি প্রেসের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেয়া হয়েছিল ওই বিশেষ প্রতিবেদনে।
বিজি প্রেস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পেপার ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার মুদ্রিত প্রশ্নপত্র সিলগালা করে রাখতে নতুন স্ট্রংরুম তৈরি করা হয়েছে। ছাপাকৃত সকল প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে রাখা হচ্ছে। বিজি প্রেসের মনিটরিং সেলের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে সিলগালা করা হয়ে থাকে। মূল গেট বন্ধের পর সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা রয়েছে। পুরো বিজি প্রেস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে গোপনীয় শাখার কার্যক্রম। গোপনীয় শাখায় কর্মরতদের পুরো শরীর তল্লাশি করে ঢুকতে দেয়া হয়। বের হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় পুরো শরীর তল্লাশি করা হবে। তাদের কোন অন্তর্বাস ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। পকেটহীন নীল রঙ্গের পোশাক ব্যবহার করতে হয়। ট্রাউজারে কোন বেল্ট বা পকেট থাকে না।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ২০১০ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে কঠোর নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশের পরই বিজি প্রেসের প্রশ্নপত্র শাখাকে অন্য মুদ্রণ শাখা থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলা হয়। এমনকি প্রশ্নপত্র ছাপার গোপনীয় শাখা পুরোপুরি মূল প্রেস ভবন থেকেই আলাদা করা হয়। প্রশ্নপত্র শাখায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর, পেপার ডিটেক্টর, ভল্ট ডোর, ক্যামকোর্ডার, গোপন ক্যামেরা আর পর্যাপ্ত সিসিটিভি। গোপনীয় ইউনিটের প্রবেশপথ ও বিজি প্রেসের সাধারণ শাখার আলাদা আলাদা প্রবেশপথও তৈরি করা হয়।
বিজি প্রেসের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত প্রতিবেদন মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে ২০১০ সালের পর হালনাগাদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। ৩২টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে প্রশ্নপত্র ছাপার গোপন শাখা সব সময় মনিটরিং করা হয়। প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর জেলা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের আর কোন দায়িত্ব থাকে না। সেখান থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা বেশি থাকে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত থাকেন। এসব প্রক্রিয়ায় জড়িতদের মাধ্যমেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এতে করে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হবে। অনেক শিক্ষক বা প্রশ্নপত্র প্রণেতা বা অন্যদের অংশগ্রহণ কমে আসবে। পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্ন সরাসরি অটোমেশন পদ্ধতিতে প্লেট আকারে তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এতে গোপনীয়তা রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। কয়েক হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরির জটিলতা থাকবে না। যত হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা তত বেশি থাকে। তাই অটোমেশন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা বা থানা থেকে প্রশ্নপত্রগুলো সরবরাহ করার প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতার বিষয় নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠিত হয়নি। তবে মিরপুর পুলিশ লাইন ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ৬০ সদস্যের একটি দল নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
এরপর ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও সরকারী চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিদর্শক মফিজুর রহমান মফিজ (৩৫) ১০ সহযোগীসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি আবারও ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। সহযোগীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় অত্যাধুনিক ঘড়ি সদৃশ ২০ মোবাইল ফোন ঘড়ি। গ্রেফতারকৃত চক্রটির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে প্রকাশ পায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হালে প্রশ্নপত্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাধ্যমে মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটছে। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্রের বান্ডেল খোলা হয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বা কর্মচারীর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মোবাইল ফোন দিয়ে প্রশ্নপত্র স্ক্যান করা হয়। এরপর স্ক্যান করা প্রশ্নপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের অপর সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। তারা ভাল ছাত্রদের দিয়ে প্রশ্নের সমাধান করে। এরপর সমাধান করা উত্তর এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিশেষ ডিভাইসযুক্ত হাতঘড়ি সদৃশ মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয়া হতো।
ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিটি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, সরকারী তিতুমীর কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁস সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সিন্ডিকেটটি ২০০৯ সাল থেকে সক্রিয়। চক্রটির হাত ধরে সরকারী চাকরি পেয়েছেন অন্তত ৫ হাজার। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধু প্রশ্নপত্র আনা-নেয়ার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। আনা- নেয়ার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন আশঙ্কা নেই। তারপরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। কিন্তু সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে না। যেসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঢালাওভাবে ফাঁস হয় শুধু সেসব খবরই প্রকাশ পায়। একটি প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে বহু লোক জড়িত থাকেন। অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে থাকে। প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত একাধিক কমিটি রয়েছে। প্রথমে প্রশ্নের খসড়া তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে জমা হয় অধিদফতরে।
তিনি বলেন, হয়তো কোন প্রশ্নপ্রণেতা দশটি প্রশ্নের প্রস্তাব করেন। তার মধ্যে হয়তো একটি প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রে জায়গা পায়। এভাবেই একেকটি প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। সমস্ত প্রশ্নপত্র এসে জমা হলে তা আলাদ স্ট্রংরুমে রাখা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নপত্রগুলো নানা বিষয় অনুযায়ী পৃথক করে সিলগালা করা হয়। পরে তা রাখা হয় স্ট্রংরুমে। এরপর ছাপার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণেই একাধিক প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করা হয়ে থাকে।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক একেএম মঞ্জুরুল হক প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের পর প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিদফতরের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্রুত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা জাতির মেরুদ- দুর্বল করে দিচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এরা দেশদ্রোহী। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। অন্যথায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আস্তে আস্তে ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিক্যাল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ প্রায় ৩০ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ ওঠে। প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বেআইনী বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-সহ অর্থদ-ের বিধান রয়েছে।
যদিও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে কাজ চলছে।
তথ্যসুত্র: জনকন্ঠ
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাঁস বাণিজ্য জাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনেক পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। আর পরীক্ষা নিয়ে এখানে একধরণের ব্যবসা হচ্ছে। বহু বাণিজ্যের মতো এদেশে পরীক্ষাও একধরণের বাণিজ্য।

রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড.মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আসলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সমাজ এবং ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ের মতলববাজদের দ্বারা নকল এবং প্রশ্ন ফাঁসের যে পরিস্থিতি তাতে জাতি একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো

রেডিও তেহরান: জনাব মাহবুব উল্লাহ, বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, জুনিয়র এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নকলের ছড়াছড়ি চলছে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই যতসব অভিযোগ। যেখানে প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে সেখানে উল্টো চিত্র। এর কারণ কি?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: দেখুন বাংলাদেশে একসময় মহামারীর মতো পরীক্ষায় নকল হত। তবে সেই নকলের বিরুদ্ধে একসময় ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। এরফলে পরবর্তীতে আমরা লক্ষ্য করলাম এস এস সি এবং এইচ এস সি পরীক্ষায় নকল প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আবারও সেই পুরনো অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস।

বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনেক পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। পঞ্চম, অষ্টম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা তো আছে। এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ফলে সাধারণত পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পাওয়া যায়। একশ্রেণীর দুষ্টুচক্রের হাতে গিয়ে পৌঁছায় এসব প্রশ্নপত্র। তারা এই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বাজারজাত করে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে। বলতে গেলে এখানে পরীক্ষা নিয়ে একধরণের ব্যবসা হচ্ছে। আমাদের দেশে অনেকরকম বাণিজ্য আছে যেটা সভ্য কোনো দেশে নেই, যেমন- ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বদলি বাণিজ্য এসব নানাধরণের বিষয় রয়েছে। আর এরসঙ্গে নতুন উপসর্গ হিসেবে যোগ হয়েছে পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে বাণিজ্য। অর্থাৎ এখানে যতরকম অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করা যায়, ধনাগম করা যায় সেই ধরণের অবস্থা বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে লক্ষ্য করছি।

আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রতিহত করার জন্য বা যাতে এটা আর বিস্তার লাভ করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি না! আসলে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

যেমন প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যিনি মন্ত্রী আছেন তাকে মিডিয়ার পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, এ ধরণের কোনো খবর তিনি জানেন না। জানলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমরা আরো লক্ষ্য করি এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায় না। এর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে সদ্ভাবে একাগ্রতা নিয়ে যারা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা যখন দেখে অন্যরা প্রশ্নপত্র পেয়ে গেছে এবং এরফলে তারা ভালো নাম্বার পাচ্ছে তখন তাদের মধ্যে একধরণের হতাশা সৃষ্টি হয়। এ কারণে আস্তে আস্তে কোমলমতি ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া বিমুখ হয়ে পড়ে বা শিক্ষা বিমুখ হয়ে পড়ে। এতে করে একটা জাতির জন্য শিক্ষা বিমুখতার অবস্থা সৃষ্টি হয়। আর এই অবস্থা যে কত বিপজ্জনক তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। আর ঠিক সেই অবস্থাটাই আমাদের দেশে হচ্ছে।

রেডিও তেহরান: নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তো এ পর্যন্ত তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাকে কি যথেষ্ট বলা যায়?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: না, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী এ পর্যন্ত যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তাকে আমি কোনোভাবেই যথেস্ট বলব না। যেটি করা হয়েছে বা বলা হচ্ছে সেটা সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার একটা চেস্টামাত্র। আর এভাবে সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ভাবনার জন্ম নেবে যে তারাও হয়তো এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ফলে তাদেরকে এ ব্যাপারে অবশ্যই কিছু করতে হবে।

রেডিও তেহরান: প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ওপর গজব নেমে আসবে। অনেকটা অসহায়ত্ব ফুঁটে উঠেছে মন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে। কি বলবেন আপনি এ বক্তব্য সম্পর্কে?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: মন্ত্রীর এ বক্তব্য আসলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা। আমাদের দেশে মানুষ যখন খুব অসহায় হয়ে যায়, অত্যাচারী, নিপীড়ক, বঞ্চনাকারীর ব্যাপারে রাষ্ট্রের কাছ থেকে যখন কোনো প্রতিবিধান পায় না; তখন মানুষ ভাগ্যের কাছে বা নিয়তির কাছে আত্মসমর্পন করে। শিক্ষামন্ত্রীও তাই করেছেন। পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা তার হাতে নেই।

রেডিও তেহরান: বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের সঙ্গে অনেক স্কুলের শিক্ষক জড়িত। অনেক শিক্ষক আবার অভিযোগ করছেন, স্কুল ও ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট ভালো করার বিষয়ে তাদের ওপর চাপ আছে। এছাড়া, বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে- প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে। কি বলবেন এসব অভিযোগ সম্পর্কে?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: আপনি প্রশ্নের মধ্যে যে তিনটি অভিযোগের কথা বললেন তার সবগুলোই সত্য। প্রথমত আমাদের দেশে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব চরমভাবে কাজ করে। দলীয়প্রভাব কাজ করে চরমভাবে। যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বাছবিচার করা হয় না।ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই শিক্ষকদের মধ্যে একটা অংশ অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে স্কুলগুলোর ওপর চাপ দেয়া যে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আমরা অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা এটাকে বলি নেগেটিভ ইনসেনটিভ সৃষ্টি করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভালো কিভাবে করা যাবে। ভালো দু’ভাবে করা যায় একটা হলো ভালোভাবে পড়িয়ে তাদেরকে ভালোভাবে প্রস্তুত করিয়ে ভালো ফলাফল করানো যায়।

আরেকটি খুব সহজপথ। অর্থাৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যোগাড় করে ছাত্রদের হাতে পৌঁছে দিয়ে ফল ভালো করানো। এতে আরো একটি সুবিধা আছে সেটা হচ্ছে এরমাধ্যমে কিছু টাকা পয়সাও পাওয়া যায়। ফলে এতে দুটো উদ্দেশ্য সাধন হয়। ভালো ফলও দেখানো যায় একইসঙ্গে কিছু অর্থও পাওয়া গেল। এই দুটো উদ্দেশ্য পূরণ হলো। এই ধরণের নেতিবাচক যে প্রণোদনা সৃষ্টি হয় সেটা একটা দুষ্টুচক্রের মতো কাজ করে।

রেডিও তেহরান: একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আপনি কি একটু বলবেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধের জন্য আসলে কার্যকর কি পদক্ষেপ নেয়া যায়?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: আমার কাছে প্রথমে যেটা মনে হয়েছে সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং অষ্টম শ্রেণী পর্যায়ে পরীক্ষা নেয়ার মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেটা আমাদের রয়েছে কি না!

দ্বিতীয়ত হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না; এর গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে তার জন্য সতিক্যকারের কোনো প্রস্তুতি আছে কি না? এটা একটা খুব বড় বিষয়।

তৃতীয়ত ১৬ কোটি মানুষের দেশে বহু মতলববাজ লোক থাকে। আর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো সমাজের বা ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে এ ধরণের লোক থাকে তখন এ ধরণের বিপদ থেকে মুক্ত থাকা খুব কঠিন হয়ে যায়। তো সেই পরিস্থিতিতে আমরা একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্যে আছি। জাতি একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য নানা জনে নানা কথা বলে থাকে। আমি সম্প্রতি মিডিয়াকে বলেছি এর বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করা ছাড়া আমাদের হাতে আর অন্য কোনো কৌশল বা সুযোগ নেই। এখন যারা প্রকৃত শিক্ষাবিদ, যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক; এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভালোবাসেন তাদেরকে ব্যপক জনমত গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। জনমতের শক্তি দিয়েই এটাকে রোধ করতে হবে। আইআরআইবি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা হতাশ

এস কে দাস: govt-sm20131210134332_25818দিনের পর দিন শিক্ষার আলো বিলিয়ে বেড়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। অথচ অর্থের অভাবে নিজের ঘরেই আলো জ্বলছে না। ফলে অনেকটা অন্ধকারেই দিনযাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। বর্তমান বেতন কাঠামোতে সহকারী শিক্ষকদের সংসার চালানো তো দূরের কথা, নিজের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে এই মানুষ গড়ার কারিগরদের। সারাদেশের প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের এ অবস্থা। সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দুই ধাপ ও সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা সর্বসাকুল্যে পান ৯ হাজার তিনশ’ টাকা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পান ৯ হাজার সাতশ’ টাকা। এর মধ্যে কল্যাণ ফান্ডের জন্য ৫০ টাকা ও ভবিষ্যৎ তহবিলের জন্য বাধ্যতামূলক এক হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে নন ট্রেইনিরা ৮ হাজার একশ’ টাকা ও ট্রেইনি শিক্ষকরা ৮ হাজার ৬৫০ টাকা প্রতি মাসে বেতন পান। এ দিয়েই তাঁদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষকরা চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নিজেদের এ দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাবছি বিদেশ গিয়ে মানুষ যেভাবে বড় বড় ইটের বাড়ি বানাচ্ছে, বড় অফিসাররা যেভাবে জায়গাজমি রাখছেন, যেভাবে টাকার মান কমে যাচ্ছে, যেভাবে মানুষের বাড়িতে কাজের লোক কমে যাচ্ছে আর প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ধাপ নিম্নে চলে যাচ্ছে, তাতে আমি মুসলিম বিধানের কথাই বলছিÑ একদিন জাকাত দেওয়ার লোক অবশেষে প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষকদেরকেই শনাক্ত করতে হতে পারে। একজন রিকশাওয়ালারও সারাদিনে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করার নজির রয়েছে। কিন্তু আমরা সহকারী শিক্ষকরা সারাদিন তো স্কুলেই কাটাই। কিন্তু কত টাকা পাই? বাকি আর কি করার ক্ষমতা আর সামর্থ্য থাকে? আমরা যেন সরকারি কামলা।’ দিনাজপুর জেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌফিকুল ইসলাম রবি বলেন, ‘আমি যখন ২০০০ সালে চাকরিতে যোগদান করি, তখন আমার বেতন স্কেল ছিল ১৬২৫ টাকা। ওই একই বছর আমার বর্তমান স্কুলের প্রধান শিক্ষকও যোগদান করেন ১৭৫০ টাকা বেতন স্কেলে। তখন প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলের ব্যবধান ছিল এক ধাপের। আমাদের পদমর্যাদা ছিল একই। অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণি। ১৪ বছর পর আজ প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার সম্পর্কের ব্যবধান তৈরি না হলেও ব্যবধান তৈরি হয়েছে বেতন আর পদমর্যাদায়। ১২ বছরে আমরা একইসঙ্গে দ্বিতীয় টাইম স্কেল পাই। ব্যবধান তৈরি হলো তিন ধাপের। আমি ৫৫০০ আর আমার প্রধান শিক্ষকের ৮০০০ টাকা স্কেল। নতুন ফিক্সেশনে আমার হলো ৫৯০০ আর প্রধান শিক্ষকের ১১০০০ টাকা। এভাবে দূরত্ব তৈরি হতে থাকলে সত্যিই সহকারী শিক্ষকরা তাঁদের কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলবেন।
তিনি বলেন, এমনিতেই আমরা চরম বৈষম্যের শিকার; তারপরও কিছু কিছু প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য শুনলে কষ্ট হয়। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছি, প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধাচরণ তো করছি না।’
জানা গেছে, গত বছরের শেষদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য ও পদমর্যাদাসহ নানা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এসব দাবির মধ্যে সহকারী শিক্ষকদেরও দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন প্রদান, সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ করে সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি প্রদান, সারা বছর বদলি কার্যক্রম চালু রাখা, শিক্ষক নিয়োগে পোষ্য কোটা ২৫ শতাংশ করাসহ মোট ১১ দফা দাবি উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব মো. শামছুদ্দিন ভোরের পাতাকে বলেন, ১১ দফা দাবি আদায়ে কোনো সাড়া পাইনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈষম্য দূর করতে নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এই পে-স্কেলের মাধ্যমে কীভাবে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করা হবে, তার কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
গত ১৯ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, নতুন পে-কমিশন হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের সমাধান হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে মান বজায় রাখতে আলাদা কমিশন গঠনে তাগিদ দিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছে এবং নতুন পে-কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন বেতন স্কেলের পার্থক্য নিরসন করবে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা চারের পরিবর্তে ছয় হিসাব করে শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন পে-কমিশনের কাজ চলছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল যথাক্রমে ১০/১১ ও ১২/১৩ গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল যথাক্রমে ১১/১২ ও ১৪/১৫ গ্রেডে উন্নীত করে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে ব্যবধান এক ধাপ বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
এর আগে গত ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা তৃতীয় শ্রেণি থেকে এক ধাপ উন্নীত করে দ্বিতীয় শ্রেণি করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদেরও বেতন স্কেল বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এরপরই প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল রাখার দাবিটি সরকার মেনে নেয়নি বলে দাবি শিক্ষকদের।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোন রকম ঝামেলা অনলাইনে, সহজেই ছাড়াইপাসপোর্ট করার পদ্ধতি-

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাসপোর্ট কার,passport কখন, কোথায় প্রয়োজন হয় সেটা বলা যায় না , তাই নিজের পাসপোর্ট থাকা ব্যাপারটা মন্দ না। অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করা নিয়ে অনেকেরই বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে , সেটা নিয়ে নতুন অনেকেরই ভয় কাজ করে। আসলে এইরকম অফিসিয়াল ব্যাপারগুলো আত্মবিশ্বাসের সাথে করলে একটা না একটা উপায় সহজভাবেই বের হয়ে আসে।

আমিও তেমনটাই করেছিলাম, এবং বিশ্বাস করুন – কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই এবং একমাসের মধ্যে।

ফর্ম জমা আর ভেরিফিকেশান লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় নি ।
পরে একদম সরাসরি যেয়ে ছবি তুলে এসেছি ! তাও আবার নিজের পছন্দসই ডেটে।
দালালের খপ্পড় বা পাসপোর্ট অফিসের কারো কোন সমস্যার ছাড়াই !
একদমই ঝামেলা ছিল না এবং যাতায়াত মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩৫০০/- টাকার মত !

আপনিও খুব সহজেই পারবেন। কারণ অনলাইনে পাসপোর্ট পাওয়া অনেক অনেক সহজ একটা কাজ যদি একটু জানা থাকে । পাসপোর্ট হাতে পাওয়াসহ সব মিলিয়ে আপনাকে মাত্র তিনদিন যেতে হবে। আর সাথে টুকিটাকি যদি জানা থাকে তাহলে আর কথাই নেই ।

আসেন, একদম শুরু থেকে শুরু করি অনলাইনে পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করা এবং পরের ধাপের কাজগুলো নিয়ে।

প্রথম ধাপ : ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া

সোনালী ব্যাংকের  স্ব স্ব জেলার নিদিষ্ট  শাখায় পাসপোর্ট আবেদনের ফি হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। রেগুলার ফি ৩০০০/- টাকা ( ১ মাসের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে হলে) আর ইমারজেন্সি ফি ৬০০০/- টাকা ( ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে হলে) ।

প্রথমেই টাকা জমা দেয়া প্রয়োজন এই কারণে যে , অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার সময় টাকা জমা দেয়ার তারিখ এবং জমাদানের রিসিটের নাম্বার উল্লেখ করার প্রয়োজন হবে। তাই টাকা আগে জমা দেয়া থাকলে একবারেই ফর্ম পূরণ করা হয়ে যাবে।

লাইনে দাঁড়ালে ব্যাংকের কাজ শুরুর আগেই ব্যাংকের লোকজন রিসিট দিয়ে যাবে। বা নিজেই টাকা দেয়ার রিসিট সংগ্রহ করে নিন । রিসিট পেলে ইংরেজি ব্লক লেটার স্পষ্টভাবে পূরণ করুন।

 

দ্বিতীয় ধাপ – অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণ

অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণের জন্য প্রথমেই যান পাসপোর্ট অফিসের এই সাইটে – passport.gov.bd/ । নির্দেশনা ভালোভাবে দেখুন , সতর্কতার সাথে একাউন্ট করুন । আপনার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি ( যেমন নামের বানান, প্যারেন্টস এর নাম ) যেন শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের মতই হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

মেইল এড্রেস আর মোবাইল নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই রেগুলারটা দেবেন।

টাকা জমা দেয়ার তারিখ এবং রিসিট নাম্বার উল্লেখ করুন।

সবশেষে আপনি যেদিন ছবি তোলা ও হাতের ছাপ দেয়ার জন্য বায়োমেট্রিক টেস্ট দিতে যেতে চান, সুবিধামত সেইদিনটা নির্বাচন করে সাবমিট করুন। অর্থ্যাৎ আপনি নিজের পছন্দসই সময়েই যেতে পারছেন ! ব্যাপারটা দারূণ না ?

এবার , রিচেক করুন। দেখুন সব তথ্য ঠিক আছে কিনা।

সবশেষে সাবমিট করুন । সফলভাবে সাবমিশন শেষ হলে পূরণকৃত ফর্মের একটি পিডিএফ কপি আপনার মেইলে চলে আসবে । এইধাপ এইখানেই শেষ।

তৃতীয় ধাপ – জমা দেয়ার আগে ফর্মের প্রিন্ট এবং সত্যায়ন

আপনার পূরণকৃত ফর্মের যেই পিডিএফ কপিটা পেয়েছেন, সেটার ২ কপি কালার প্রিন্ট করে ফেলুন। যেসব জায়গা হাতে পূরণ করতে হবে সেগুলো করে ফেলুন । আপনার সাইন দিন।

এবার নিজের চারকপি ছবি , জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট ফর্ম নিয়ে পরিচিত কোন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিন। পরিচিত কাউকে দিয়ে সসত্যায়ন করানো দরকার এই কারণে যে, ঐ কর্মকর্তার নাম , যোগাযোগ ও ফোন নাম্বার ফর্মে লিখতে হয়।

সত্যায়ন শেষে পুরো ফর্মটি রিচেক করুন।

সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফর্মের সাথে যুক্ত করুন। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটি নিন।

আপনার ফর্ম জমা এখন দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

* আমার টিপস – ফর্মের প্রিন্ট করার সময় এক কপি এক্সট্রা করুন। ব্যাকআপ থাকা ভালো । আমার প্রথম পেজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষ সময়ে ব্যাকআপ কপির প্রথম পেইজ দিয়ে দিয়েছি।
ছবি দুই কপি লাগলেও এক্সট্রা দুই কপি করিয়ে রাখা ভালো , পাসপোর্ট অফিসে চেয়ে বসে মাঝে মাঝে। একই কথা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপারেও।

চতুর্থ ধাপ – ছবি তোলা এবং অন্যান্য

আপনার নির্বাচন করা তারিখে সকাল সকাল পাসপোর্ট অফিসে চলে যান । অবশ্যই সাদা পোষাক পরবেন না , ফর্মাল পোষাক পরার চেষ্টা করুন।

সকাল ৯ টার দিকে গেলেই হবে। কোন লাইনে দাঁড়াতে হবে না আপনাকে । সরাসরি মেইন গেইট দিয়ে মূল অফিসে যান। সেখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যকে জিজ্ঞেস করুন কোন রুমে যাবেন ।

প্রথমে আপনার ফর্মটি চেক করবে এবং সাইন করে দেবে।

সাইন শেষে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে ছবি তোলার জন্য কোন রুমে যাবে। ঐ রুমগুলো ঠিক পাশেই। সিরিয়াল আসলে ছবি তুলুন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিন। ব্যস , কাজ শেষ !

এবার আপনাকে পাসপোর্ট রিসিভের একটা রিসিট দেবে। সেটা যত্ন করে রাখুন । পুলিশ ভেরিফিকেশান সাপেক্ষে, রিসিট পাওয়ার একমাস বা ১৫ দিনের মধ্যেই আপনি পাসপোর্ট পাবেন ।

* আমার টিপস – আবারো বলছি , সাদা পোষাক পরবেন না , ফর্মাল পোষাক পরার চেষ্টা করুন।

আর সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপিসহ সত্যায়িত কপিগুলো নিয়ে যান। তিনতলায় যেয়ে সেখানকার সেনাসদস্যের কাছ থেকে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন , সব সংযুক্তি ঠিক আছে কিনা।

সাথে অবশ্যই কলম রাখুন।
আঠা, স্ট্যাপলার, এক্সট্রা ছবিও সাথে রাখুন।

আর যারা সরকারী কর্মকর্তা বা শিশুসহ যাচ্ছেন , তাদের কিছু আলাদা কাগজ লাগবে । সেটার জন্য নির্দেশনা দেখুন ।

পঞ্চম ধাপ – পুলিশ ভেরিফিকেশান ও পাসপোর্ট রিসিভ ডেট ( টিপস সহ)

পুলিশ ভেরিফিকেশানই আমার কাছে ঝামেলার মনে হয়েছে। যদি আপনার স্থায়ী আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয় , তবে দুই জায়গাতেই আপনার ভেরিফিকেশান হয়ে থাকে। পুলিশের এস বি ( স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এই কাজটা করে থাকে।

এবং এইটা করতে যেয়ে পুলিশ বখশিশ হিসাবে টাকা চেয়ে বসে। খুবই ইরিটেটিং একটা ব্যাপার । সেটা ৫০০-১০০০ পর্যন্ত হতে পারে !!!!!

তবে স্ট্রিক্ট থাকলে এটা এড়ানো সম্ভব। আপনি কীভাবে তাদের ফেইস করছেন সেটার উপর নির্ভর করে। সরাসরি বলে দিতে পারেন যে, এইটা আপনার দায়িত্ব, তো টাকা দেয়ার প্রশ্ন কেন। কিংবা বলতে পারেন যে, আপনি ছাত্র , টাকা দেয়া সম্ভব না । ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি !

যাই হোক, ভেরিফিকেশান শেষ হলে আপনার মোবাইলে এস এম এস আসবে। যেদিন এস এম এস আসবে তারপরেই আপনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

ব্যস, এইবার পাসপোর্ট হাতে নেয়ার পালা।

ষষ্ঠ ধাপ –পাসপোর্ট সংগ্রহ

এইখানে কাজ সহজ । পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। লাইনে দাঁড়ান।
সাথে রিসিট আর কলম রাখুন । ৯ টার দিকে গেইট খুলবে। লাইন ধরে প্রবেশ করুন।

রিসিট জমা দিন। অপেক্ষা করুন।

এবার আপনার নাম ডাকবে ।
সাইন করুন , বুঝে নিন আপনার পাসপোর্ট ।

*আমার টিপস – হাতে পেয়েই সবার আগে চেক করুন আপনার ইনফরমেশন গুলো ঠিক এসেছে কিনা। নিজের এবং পিতামাতার নাম , ঠিকানা এবং অন্যান্যসব তথ্যগুলো মিলিয়ে নিন।

সব ঠিক থাকলে , বলুন ইয়াহুউউউ !

এই হচ্ছে একটি ঝামেলাবিহীন পাসপোর্টের আত্মকাহিনী ।সবার জন্য শুভকামনা। হ্যাপি পাসপোর্টিং !

সংযুক্তি –

০১) আপনার বর্তমান ঠিকানা যদি ঢাকা হয় , তাহলে এখান থেকেই পাসপোর্ট করতে পারেন । আলাদা করে দেশের বাড়ির জেলা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না ।

০২) ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার জন্য যে স্লিপ লাগে , সেখানে আলাদা একাউন্ট নম্বরের প্রয়োজন নেই ।নতুন পাসপোর্ট করা বা রিনিউ এর জন্য আলাদা স্লিপই থাকে ।

০৩) GO: Government order

NOC: NO Objection Certificate

PDS: Proof of retired Date

সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবীরা এই ঘর পুরণ করবেন। আর কমেন্ট থেকে জানা গেল যে সরকারী কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট নীল রঙের । পুলিশ ভেরিফিকেশান এর ঝামেলা নাই ।

সপ্তম ধাপ – পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন চেক

পার্টপোর্ট ভেরিফিকেশন চেক এর জন্য immi.gov.bd/passport_verify.php -এ চেক করুন

পরবর্তিতে মনে রাখার জন্য শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে সেভ করে রাখুন ।

*আমার টিপস – অনলাইনে একাউন্ট খোলার পরপরই আপনাকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড জানিয়ে দেবে । সেটা সংরক্ষণ করুন। আর ছবি তোলার জন্য যেদিন সময় দেবেন সেদিনটা ফ্রি রাখবেন। সময় লাগতেও পারে এই দিনে যদি মানুষ বেশী হয় ।

ভাল লাগলে অামার পেজ এ লাইক করুন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শুধুমাত্র জিপিএ-৫ নয় – শিক্ষাই হউক সবার কাম্য!

মুহাম্মদ ওয়ালিউল্যাহ্: ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র ২ জন, অথচ এই বিভাগে আসন সংখ্যা ১২৫। সম্ভবত বিগত ২৪/২৫ তারিখে এক বন্ধুর ফোন থেকে নিউজটি জেনেছিলাম; খবরটি জানার পর থেকেই অজানা এক আশঙ্কায় মনটা কেমন যেন অস্থির হয়ে আছে, অস্বস্তি অনুভব করছি। সেই সূত্র ধরেই প্রচন্ড উৎগ্রীবতায় ঢাবির সাথে যোগাযোগ করে শিক্ষা সম্পর্কিত বেশ কিছু হতাশার তথ্য জানতে পারি।

২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গড়ে পাস করেছে ৭৮.৩৩%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন; এসএসসিতে পাস করেছে ৯৩% পরীক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লক্ষ ২২ হাজার ৩১৩ জন।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার গড়ে ১৭.১৮%; এর মধ্যে ‘ক’ ইউনিটে পাস করেছে ২১.৫০%, ‘খ’ ইউনিটে ৯.৫৫%, ‘গ’ ইউনিটে ২০.৬১%। অথচ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সবাই নন্যুতম জিপিএ – ৩.৫ এবং সর্বোচ্চ জিপিএ – ৫ অর্জনকারী।

২০১৩ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪.৩০%; জিপিএ – ৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ১৯৭ জন; একই বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৯.৭২%।
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির পাঁচ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেছিল ২ লক্ষ ১৭ হাজার ছাত্রছাত্রী, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ৪১ হাজার ৮৯১ জন; পাস নাম্বার তুলতে ব্যর্থ হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার। পাসের হার ছিল ১৯%; এর মধ্যে ‘চ’ ইউনিটে ৯৫%, ‘গ’ ইউনিটের ৯১%, ‘খ’ ইউনিটের ৮৬%, ‘ঘ’ ইউনিটের ৯১% ও ‘এ’ ইউনিটে ৫৮% শিক্ষার্থী নন্যুতম পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ৮৩% এবং ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৮১% শিক্ষার্থী নন্যুতম পাস নাম্বার তুলতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ঢাবির কেন্দ্রীয় ভর্তি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী – পাঁচ ইউনিটে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত ১২০ নাম্বারের ভর্তি পরীক্ষায় পাস নাম্বার ৪৮ (৪০% হিসাবে)। এর মধ্যে ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে বাংলায় ৮ (পূর্ণ নাম্বার ৩০), ইংরেজি ৮ (পূর্ণ নাম্বার ৩০) ও সাধারণ জ্ঞানে ১৭ (পূর্ণ নাম্বার ৬০) নাম্বার করে পেলে তিন বিষয়ে পাস হিসেবে ধরা হয়; ‘গ’ ইউনিটে ইংরেজিতে পাস নাম্বার ১২। ভাবতেও কষ্ট লাগে – দু’ই দু’ই বার দু’টো পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পাওয়া ছেলেমেয়েরা জীবনের প্রথম বাছাইয়ে ১২০ নাম্বারের মধ্যে নন্যুতম পাস মার্ক ৪৮-ও উঠাতে পারে না! তবে কি প্রশ্নপত্র অনেক কঠিন হয়েছিল? – মোটেও না।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে একই চিত্র দেখা গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভতি পরীক্ষায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ৪৬ হাজার ৯শ’ ৮৯ জন ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ৯ হাজার ৭শ’ ৬৭ জন; পসের হার ১৬.২৪%। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ৪.৮১% শিক্ষার্থী। এই সব কষ্টের খবর শুনতে শুনতে আর পড়তে পড়তে মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। কি লিখবো? কাকে উদ্দ্যেশ্য করে লিখবো? – মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে? – মন্ত্রী মহোদয় তো স্বপ্নের বেসে স্বপ্নের দেশে স্বপ্ন বিলাসে স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াচ্ছেন! তাঁকে বলে লাভ কি? বিগত কয়েক বছর ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার অস্বাভাবিক পাসের হার, গোল্ডেন ৫ এর ইঁদুর দৌড় সবই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর অতি উঁচ্চবিলাসী চিন্তার বহ্নিপ্রকাশ। দুঃখজনক হলেও সত্য – বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়াটা তাঁর চোখে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম দুর্বলতা!

কোরবানির গরুর হাটে যে সব গরু তোলা হয় সেইগুলোকে আর হাট থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয় না, বেশিদিন ঐগুলো পালা সম্ভব হয় না বলে; গৃহস্থ কখনোও কোরবানির হাটের গরু বাড়ি ফেরিয়ে নিয়ে যায় না। কারণ – মোটাতাজা করণের যত সব উদ্ভট প্রক্রিয়া আছে তার সবই প্রয়োগ করা হয় কোরবানির গরু তৈরি করতে। এদেশের বর্তমান শিক্ষার অবস্থাও অনেকটা কোরবানির হাটের মত । যে যেভাবে পারে পাবলিক পরীক্ষায় একটা এ+ এর নেশায় উন্মত্ত। পরবর্তিতে কি হতে পারে সে সবের কেউ-ই ধার ধারে না; যা হওয়ার তাই হয় – অন্তঃসার শূণ্য মেধা – পরীক্ষায় ৮০% স্কোর করেও জীবনের প্রথম ধাপেই ৮০% ফ্লপ সেজে যেতে হয়। তাই তো পাবলিক পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৮০%, অথচ সরকার ঘোষিত সেই সব ভাল ফলাফল করা ছাত্রছাত্রীরাই যখন জীবনের প্রথম বাছাই পর্বের পরীক্ষায় ৮০% ইউটার্নে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পরে যায় তখন তা ভাবতেও কষ্ট লাগে।

মনে হয় এদেশের কোন সরকারই সত্যিকার অর্থে জাতি গঠন করতে রাজি নয় বা চান না। তাই জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার এক গৃণ্য চক্রান্ত সব সরকারই করে থাকে এবং ধ্বংস লীলায় মেতে উঠে। জাতি শিক্ষিত হয়ে গেলে সুগঠিত হলে হয়তো তাদের মত নেতা-নেত্রীদের কপালে অন্ন জুটবে না, হদু/ যদু/ নদু মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে না। শিক্ষিত জাতি কোন দিনও তাদের মত অথর্ব নেতার নেতৃত্ব ও অন্যায় কার্যকলাপ মেনে নেবে না। তাই অত্যন্ত কূটকৌশলে জাতিকে দমিয়ে রাখার একটি গৃণ্য চক্রান্ত – শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধমিয়ে রাখা। যা বিগত কয়েক দশক ধরে প্রতিটি সরকারই করে এসেছে, আসছে। শিক্ষিত দাবীদার আমরা নির্বোধরা সাময়িক স্বার্থের লোভে সেই সব সরকারকেই সমর্থন যুগিয়ে আসছি। একটি বারের জন্যও ভাবছি না প্রজন্ম পরিক্রমায় কি ঘটতে পারে? কি ভয়াবহ অবস্থায় উপনীত হতে পারে এদেশ এজাতি?

আমি তো মনে করি নিকট ভবিষ্যতে এই দেশে সব হবুচন্দ্র রাজা আর গবুচন্দ্র মন্ত্রীর আবির্ভাব ঘটবে। শিক্ষাকে যে ভাবে ধবংস করা হচ্ছে তাতে জেনারেশন গ্যাপ অবশ্যম্ভাবী ও খুবই সন্নিকটবর্তী। নিকট ভবিষ্যতে এদেশে হয়তো ভালকে ভাল – মন্দকে মন্দ বলার মত কোন বিবেকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা অনেকেই এসব ভাবি, অজানা আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলি না। আর কত? – নিজ সন্তানকে ধবংসের হাত থেকে রক্ষায়, প্রজন্ম উজ্জীবনে একটু ঘুরে দাঁড়ান না। নয়তো অভিশাপের জন্য প্রস্তুত হন, যেদিন আপনারই আদরের সন্তান আপনাকে তিরষ্কার করবে, ধিক্কার দেবে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

সরকারের তড়িৎগতিসম্পন্ন ১০০% শিক্ষিত জাতি গঠনের অতি উচ্চবিলাসী প্রবণতা আজ জাতি ধবংসের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দল, রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা এই দেশের তথাকথিত সুশিলদের কারোই এই নেক্কারজনক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় নি, যাচ্ছে না। অথচ কাল বিলম্ব না করে এই মুহুর্তেই যদি শিক্ষার ধস রোধ করা না যায়, তবে নিশ্চিৎ এ জাতিকে আরো অনেক বেশি খেসারত গুনতে হবে। শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি যতটা তলানিতে নেমেছে, তন্ত্রীমন্ত্রী দিয়ে এসব এখন আর হবে না, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার চেইন অব কমান্ড পুরোপুরিভাবে ভেঙে গেছে; তাই আর কোন কালক্ষেপণের সুযোগও নেই, বিকল্পও নেই। চিনের মা উং সেতুং-এর মত আমাদের শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রীকেই হয়তো বলতে হবে – ” সার্টিফিকেটধারী দশজন শিক্ষিত চাই না – চাই একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ। ”

যে সব পদক্ষেপ এই মুহুর্তে অত্যন্ত জরুরী –

১। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে অপরিকল্পিত সৃজনশীল পদ্ধতি পরিকল্পিত করে এই পদ্ধতি অব্যাহত রাখা।
২। সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা কোচিং-এর প্রভাবমুক্ত রাখা এবং কঠোরভাবে কোচিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
৩। শ্রেণীকক্ষে সঠিক পাঠদানের ব্যবস্থা করা ও শিক্ষকদের যথাযত সম্মানী দেয়া।
৪। অনুপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন বন্ধ করে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করা।
৫। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পাস করার প্রবণতা তৈরি করে দেয়ার যে প্রবণতা তৈরী হয়েছে তা তড়িত বন্ধ করা।

ইদানিং স্কুল-কলেজগুলোতে ক্লাসরুমে পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ না দিয়ে নোট/গাইডের উপর গুরুত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পাঠ মুখস্ত করিয়ে জিপিএ – ৫ এর ইঁদুর দৌড়ের এক ধরনের মৌন প্রতিযোগীতা হচ্ছে; কে কার থেকে বেশি জিপিএ – ৫-এর গোল্ডেন ডিম পারতে পারবে এ যেন তার-ই অসম প্রতিযোগীতা; এ কারণে উচ্চশিক্ষার ভর্তিযুদ্ধে শিক্ষার্থীরা চরমভাবে হোঁচট খাচ্ছে। তাছাড়া জোর করে পাসের হার বাড়ানোর যে সরকারি প্রবণতা তাতে শিক্ষার প্রতিটি স্তর ভেঙে গেছে। ফলে এর প্রভাব পরেছে উচ্চশিক্ষায়ও, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাসও করতে পারছে না সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার মান বেড়েছে – এমন দাবিদার শিক্ষামন্ত্রী হয়তো ভাবতেও পারছেন না জাতির ভবিষ্যৎ তিনি কি ভাবে নষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য তাঁর কাছে আমার এসব কথার কোন মূল্য নেই বা এই লিখা তাঁর চোখেও পরবে না, কানেও ধরবে না। তাছাড়া তিনি কোন অভিযোগের তেমন গুরুত্বও দেন না বা মানতেও নারাজ। তিনি নাকি উপদেশ দেন- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসএসসি, এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো জন্য।
হায়রে বিবেক!

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আজ মহালয়া দেবীর আগমন নৌকায়,গমন দোলায়

এস কে দাস: বর্ষার সিক্ত বসুন্ধরা বৈচিত্রময় পৃথিবীকে নতুন রুপে সাজায় ।পত্র-পল্লবে,ফুলে-ফলে প্রফুল্লিত এক নতুন প্রকৃতিকে সে তুলে দেয় শরতের বরণডারায় ।দূর আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ বাসে ।মৃদু বাতাসে স্মতি হাসে কাশ ফুল ।শিউলীর শরীরে জাগে শিহরণ ।ঐ দূরে বেজে ওঠে ঢাক ।দরজায় কড়ানাড়ে দূর্গোৎসব ।

পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যায় মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ঘটের সামনে ফুল, বেলপাতা, ফল দিয়ে মা দুর্গাকে আহ্বান করা হয়। এরপর মহালয়ার দিন দশভূজা দেবী দুর্গাকে মন্ত্রের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিপদে ঘট স্থাপন করে দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থা, ও পঞ্চমীতে প্রতিদিন মায়ের ঘটে পূজা করা হয়। তিনি বলেন, ষষ্ঠিতে ঢাকঢোল শঙ্খ বাজিয়ে অধিবাস পূজা (আমন্ত্রণ) করে সেই ঘট স্থাপন করা হয় মায়ের মন্দিরে। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে মায়ের সামনে ২১টি ঘট স্থাপন করে প্রতিদিন মায়ের পুজো দেয়া হবে। দশমীবিহিত পূজা সমাপন করে দুর্গাপূজার ১০ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।


durga-puja

দুর্গোৎসব বাঙালি সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এই উৎসবের উৎসে অধিষ্ঠিত হিন্দু পুরাণের অন্যতম দেবী দুর্গা।
দুর্গা নামের বুৎপত্তিগত অর্থ যিনি দুর্গ অর্থাৎ সঙ্কট হতে ত্রাণ করেন। শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ শব্দটির একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে ‘দুর্গা’র ‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, ‘উ-কার’ ( ু ) বিঘ্ননাশক, ‘রেফ’ (রৃ ) রোগনাশক, ‘গ’ অক্ষর পাপনাশক ও ‘অ-কার’ ( া ) ভয়-শত্রুনাশক। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে দেবী দুর্গাই শিবের স্ত্রী পার্বতী। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গনেশ ও কার্তিকের জননী তিনি। কিন্তু কেন শিবজায়া পার্বতীর নাম দুর্গা হল?
স্কন্দপুরাণ অনুসারে, রুরু দৈত্যের পুত্র ‘দুর্গ’কে বধ করেছিলেন বলেই পাবর্তীর নাম ‘দূর্গা’। তবে বাঙালির দুর্গোৎসবে দেবী কিন্তু স্কন্ধপুরাণ-এ বর্ণিত দুর্গাসুর বধকারী রূপে পূজিত নন। বাংলাদেশে তিনি পূজিত হন মহিষাসুরমর্দিনী রূপে। দেবী দুর্গার এই রূপের পরিচয় পাওয়া যায় মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এ।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে, তীব্র যুদ্ধে অসুরদের রাজা মহিষাসুর পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত করলেন দেবতাদের। দেবরাজ ইন্দ্র দেবতাদের নিয়ে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মা তাঁদের নিয়ে মহাদেব ও বিষ্ণু সমীপে উপস্থিত হলেন। দেবতাদের দূরাবস্থা দেখে ক্রোধান্বিত হলেন বিষ্ণু। তাঁর মুখমণ্ডল থেকে নিঃসৃত হল মহাতেজ। বিষ্ণুর মুখমণ্ডলের সেই মহাতেজের সঙ্গে এসে মিশল অন্য দেবতাদের তেজও। দেখতে দেখতে সন্মিলিত এই তেজ পর্বতপ্রমাণ অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্যোতির্ময়ী মহাদেবীর রূপ ধারণ করল। এই জ্যোতির্ময়ী মহাদেবীই দুর্গা।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এর একটি নির্বাচিত অংশ দেবীমাহাত্ম্যম্ অনুসারে, ত্রিশূলধারী মহাদেব স্বীয় শূল থেকে শূলান্তর এবং বিষ্ণু স্বীয় সুদর্শনচক্র থেকে চক্রান্তর উৎপাদন করে মহাদেবীকে দিলেন। বরুণদেব দিলেন শঙ্খ, অগ্নিদেব শক্তি এবং পবনদেব দিলেন একটি ধনু ও দুটি বাণপূর্ণ তূণীর। সহস্রলোচন ইন্দ্র তাঁর বজ্র থেকে বজ্রান্তর এবং ঐরাবত নামক স্বর্গগজের গলদেশস্থ ঘন্টা থেকে ঘন্টান্তর উৎপাদন করে দেবীকে দিলেন। মৃত্যুরাজ যম নিজের কালদণ্ড থেকে দণ্ডান্তর, জলদেবতা বরুন নিজের পাশ থেকে একটি পাশ এবং প্রজাপতি ব্রহ্মা রুদ্রাক্ষমালা থেকে একটি মালা ও কমন্ডলু থেকে সৃষ্ট একটি কমণ্ডলু দেবীকে দান করলেন। দুর্গাদেবীর সমস্ত লোমকূপে দিবাকর-সূর্য নিজ কিরণরাশি, নিমেষাদিকালাভিমানিনী দেবতা একটি প্রদীপ্ত খক্ষ ও একটি উজ্জ্বল ঢাল দেবীর হস্তে প্রদান করলেন। ক্ষীরোদসমুদ্র দেবীকে উজ্জ্বল মুক্তাহার, চিরনতুন বজ্রযুগল, দিব্যচূড়ামণি, দুইটি কুন্তল ও হস্তসমূহের বলয়গুলি, শুভ্র ললাটভূষণ, সকল বাহুতে অঙ্গদ, নির্মল নূপুর, অত্যুত্তম কন্ঠভূষণ এবং সমস্ত অঙ্গুলিতে শ্রেষ্ঠ অঙ্গুরী দান করলেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা দেবীকে অত্যুজ্জ্বল কুঠার, নানাপ্রকার অস্ত্র এবং অভেদ্য কবচ প্রদান করলেন। সমুদ্র তাঁর শিরে অম্লান পদ্মের একটি মালা, তাঁর বক্ষে তাদৃশ অপর আরেকটি মালা এবং তাঁর হস্তে একটি পরম সুন্দর পদ্ম দান করলেন। গিরিরাজ হিমালয় বাহনস্বরূপ সিংহ ও বিবিধ রত্ন এবং কুবের সদা সুরাপূর্ণ একটি পানপাত্র দিলেন। যে নাগরাজ বাসুকি এই পৃথিবী ধারণ করেন, তিনি দুর্গাদেবীকে মহামণিশোভিত একটি নাগহার প্রদান করলেন। অন্যান্য দেবগণ-কর্তৃক অলঙ্কার ও অস্ত্র দ্বারা পূজিতা হয়ে দেবী বারংবার অট্টহাস্য ও হুঙ্কার দিয়ে যাত্রা করলেন যুদ্ধে। প্রচন্ড যুদ্ধের পর মহিষাসুর বধ করে দেবতাদের হৃতরাজ্য ফিরিয়ে দিলেন তিনি। অতপরঃ অসুর বধের আনন্দে শুরু হল উৎসব। দুর্গোৎসব।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে দুর্গোৎসবের প্রবর্তক স্বয়ং কৃষ্ণ। এই পুরাণে লিখিত বিবরণ অনুসারে, সৃষ্টির আদিতে গোলকস্থ আদিবৃন্দাবনক্ষেত্রের মহারাসমণ্ডলে কৃষ্ণ সর্বপ্রথম দুর্গাপূজা করেন। দ্বিতীয়বার দুর্গার আরাধনা করেন মধু-কৈটভ দৈত্যদ্বয়ের ভয়ে ভীত ব্রহ্মা। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধকালে চিন্তিত মহাদেব তৃতীয়বার দুর্গাপূজা করেছিলেন। দুর্বাসা মুনির শাপে শ্রীভষ্ট হয়ে দেবরাজ ইন্দ্র যে দুর্গাপূজা করেন, তা ছিল চতুর্থ দুর্গোৎসব। তারপর থেকেই সর্ববিশ্বে দেবতাগণ, মুনিগণ, সিদ্ধপুরুষ এবং মানবগণ বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন কালে দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন।
দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু পৃথিবীর শাসনভার পেয়ে ক্ষীরোদসাগরের তীরে মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মান করে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন রাজা সুরথ।
রাজা সুরথ দুর্গাপূজা করেছিলেন বসন্তকালে। সেই পুজা অনুসরন করে কোন কোন স্থানে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হলেও বাংলাদেশে দুর্গোৎসবের জনপ্রিয় সময় শরৎকাল।
শরৎকালে দুর্গোৎসব করেন রামচন্দ্র। কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে, রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত লঙ্কাধিপতি রাবণ আকুল সুরে দেবীর স্তব করলেন।
রাবণের কাতর স্তবে দেবীর হৃদয়ে করুণার উদ্রেক হল। রাবণকে অভয় দিলেন তিনি।
সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত এই খবরে আশঙ্কিত হলেন রাম। দেবতারাও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন। দেবরাজ ইন্দ্র ব্রহ্মার কাছে গেলেন। এই সংকটাপন্ন মুহুর্তে একটা কিছু করার অনুরোধ জানালেন ব্রহ্মাকে।
ব্রহ্মা রামের কাছে এলেন, বললেন, ‘দুর্গাপূজা করো। দুর্গাপূজাই এই সংকট থেকে পরিত্রানের একমাত্র উপায়।’
‘কিন্তু এখন যে শরৎকাল!’ রাম সংশয়পূর্ণ কন্ঠে বললেন, ‘দুর্গাপূজার প্রশস্ত সময় তো বসন্তকাল! শাস্ত্রমতে শরৎকাল অকাল। তাছাড়া বিধান রয়েছে অকালবোধনে নিদ্রা ভাঙাতে হবে কৃষ্ণানবমীতে। রাজা সুরথ প্রতিপদে পূজারম্ভ করেছিলেন। সেকাল তো আর নেই! সুতরাং কিভাবে করবো এখন দুর্গাপূজা?’
ব্রহ্মা বললেন, ‘আমি ব্রহ্মা, বিধান দিচ্ছি শুক্লাষষ্ঠীতে বোধন করো।’
ব্রহ্মার কথা শুনে আশ্বস্ত হলেন রামচন্দ্র। দেবী দুর্গার মাটির প্রতিমা গড়ে পূজা শুরু করলেন তিনি। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেল গাছের তলায় হল দেবীর বোধন। অধিবাসের সময় স্বহস্তে নবপত্রিকা বাঁধলেন রামচন্দ্র। সপ্তমীর দিন সকালে স্নান করে বেদবিধিমতে পূজা করলেন। অষ্টমীর দিনও তাই করলেন তিনি। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে করলেন সন্ধিপূজা।
রামচন্দ্রের নবমী পূজার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন কৃত্তিবাস ওঝা। সেই বর্ণনা অনুসারে, বহুরকম বনফুল ও বনফলে পূজার আয়োজন করা হল। তন্ত্রমন্ত্রমতে পূজা হল। কিন্তু দেবী দর্শন দিলেন না।
তখন বিভীষণ বললেন, ‘নীলপদ্ম সহযোগে পূজা করুন প্রভূ। দেবী নিশ্চয় দর্শন দেবেন।’
কিন্তু নীলপদ্ম যে দুর্লভ! পৃথিবীতে একমাত্র দেবীদহ নামক হ্রদেই নীলপদ্ম মেলে। সেই হ্রদ তো লঙ্কা থেকে বহুদূরে! এই দূরত্ব অতিক্রম করতে দশ বছর প্রয়োজন! কার সাধ্য এতটা পথ অতিক্রম করে নীলপদ্ম নিয়ে আসে! সমস্যার কথা শুনে এগিয়ে এলেন পবনপুত্র হনুমান। তাঁর ক্ষমতা সীমাহীন। নিমেষেই তিনি উপস্থিত হলেন দেবীদহে। এনে দিলেন একশো আটটি নীলপদ্ম।
নীলপদ্ম সহযোগে পূজা শুরু হল। কিন্তু দেবী দুর্গা মায়াবলে একটি পদ্ম লুকিয়ে রাখলেন। রামচন্দ্রকে ভক্তির পরীক্ষায় ফেললেন তিনি।
অঞ্জলি দেবার সময় রামচন্দ্র লক্ষ্য করলেন একশো সাতটি নীলপদ্ম রয়েছে সেখানে! অথচ আরেকটি নীলপদ্ম না পেলে যে অসম্পূর্ণ থাকবে পূজা!
রামচন্দ্র পদ্মলোচনা। পদ্মের মতো অপরূপ চোখ তাঁর। পদ্মের অভাব পূরণ করতে নিরুপায় রামচন্দ্র স্বহস্তে নিজের একটি চোখ উৎপাটন করে দেবীর পাদপদ্মে নিবেদনে উদ্যত হলেন। দেবী দুর্গা রামচন্দ্রের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হলেন। তিনি রামকে চোখ উৎপাটনে বাঁধা দিয়ে যুদ্ধ জয়ের আশীর্বাদ করলেন।
দেবী দুর্গার আশীর্বাদে শ্রীরামচন্দ্র সমাপ্ত করলেন দশমী পূজা।
রামচন্দ্রের দুর্গাপূজার এই ইতিহাস বাল্মীকি রামায়ণ-এ নেই। আছে খ্রীষ্টিয় নবম-দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাঙালি স্মার্তদের লেখা দেবীভাগবত পুরাণ ও কালিকাপুরাণ-এ। কৃত্তিবাসের আগেও যে বাংলায় দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রচলন ছিল, তার প্রমাণ একাদশ শতাব্দীতে লেখা ভবদেব ভট্টের মাটির মূর্তিতে দুর্গাপূজার বিধান, চতুর্দশ শতাব্দীতে লেখা বিদ্যাপতির দুর্গাভক্তি-তরঙ্গিনী, শূলপাণির দুর্গোৎসব-বিবেক ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে লেখা স্মার্ত রঘুনন্দনের দুর্গাপূজা-তত্ত্ব। কৃত্তিবাসের যুগে অর্থাৎ পঞ্চদশ শতাব্দীতে দুর্গাপূজা ছিল বাঙালির এক প্রধান উৎসব।
কৃত্তিবাসী রামায়ণ-এর দুর্গাপূজার বিবরণের চাইতে পৌরাণিক দুর্গাপূজার বিবরণ কিছুটা আলাদা। কালিকাপুরাণ অনুসারে, রাবণবধে রামচন্দ্রকে সাহায্য করার জন্য রাত্রিকালে দেবীর বোধন করেছিলেন ব্রহ্মা।
কিন্তু ‘রাত্রিকালে দেবীর বোধন’ অর্থ কি? শরৎকালকে রামচন্দ্র কেন দুর্গাপূজার পক্ষে ‘অকাল’ বলেছিলেন? ‘অকালবোধন’ বিষয়টাই বা কি?
পুরাণ মতে, সূর্যের উত্তরায়ন হচ্ছে দেবতাদের দিন। উত্তরায়ন অর্থ বিষুবরেখা থেকে সূর্যের ক্রমশ উত্তরে গমন। সূর্যের এই গমনে সময় লাগে ছয়মাস। এই ছয় মাস দেবতাদের একদিনের সমান। দিনের বেলায় জাগ্রত থাকেন দেবতারা। তাই দিনেই দেবতাদের পূজা করা শাস্ত্রের বিধান।
অন্যদিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত। দক্ষিণায়ন অর্থ বিষুবরেখা থেকে সূর্যের ক্রমশ দক্ষিণে গমন। সূর্যের এই গমনকালের ব্যপ্তিও ছয় মাস। দক্ষিণায়নের ছয় মাস দেবতাদের একরাতের সমান। স্বাভাবিকভাবেই এই সময় দেবতারা ঘুমান। সেকারণেই রাতে পূজার বিধান নেই শাস্ত্রে।
শরৎকাল দক্ষিণায়ণের সময়। দেবতাদের রাত্রিকাল। তাই শরৎকাল পূজার্চনার উপযুক্ত কাল নয়- ‘অকাল’। অকালে দেবতার পূজা করতে হলে তাঁকে জাগরিত করতে হয়। জাগরনের এই প্রক্রিয়াটিই হল ‘বোধন’।
বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। এই পুরাণ অনুসারে, রামচন্দ্রের মঙ্গলের জন্য স্বয়ং ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করে বললেন, ‘রাবণবধে রামচন্দ্রকে অনুগ্রহ করার জন্য তোমাকে অকালে জাগরিত করেছি। যতদিন না রাবণ বধ হয়, ততদিন তোমার পূজা করব। যেমন করে আজ তোমার বোধন করে পূজা করলাম, তেমন করেই মর্ত্যবাসী যুগ যুগ ধরে তোমার পূজা করবে। যতকাল সৃষ্টি থাকবে, তুমিও পূজা পাবে ঠিক এইভাবেই।’
একথা শুনে খুশি হলেন দেবী, বললেন, ‘সপ্তমী তিথিতে আমি প্রবেশ করব রামের ধনুর্বাণে। অষ্টমীতে মহাযুদ্ধ হবে রাম-রাবণের। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে বিচ্ছিন্ন হবে রাবণের দশমুণ্ড। সেই দশমুণ্ড জোড়া লাগবে আবার। কিন্তু নবমীতেই নিহত হবেন রাবণ। দশমীতে রামচন্দ্র করবেন বিজয়োৎসব।’
দেবীর কথামতোই হল সবকিছু। যথাযথভাবেই পালিত হল বিজয়োৎসব।
বিভিন্ন পুরাণে উল্লেখিত উদাহরন ছাড়াও গবেষণালদ্ধ নানা সূত্রমতে, দুর্গাপূজার প্রচলন প্রাচীন বৈদিক যুগে। ঋগে¦দ-এর দশম মণ্ডলের দশম অনুবাকে ‘দেবীসূক্ত’-এর উল্লেখ আছে। আট মন্ত্রবিশিষ্ট ঋগেদীয় দেবীসূক্তের মন্ত্রদ্রষ্টা মহর্ষি অম্ভৃণের কন্যা ব্রহ্মবাদিনী বাক্। এই দেবীসূক্তই দেবীবন্দনার মঙ্গলসূত্র।
বৈদিক হিন্দুধর্ম ছিল যজ্ঞ অনুসৃত। বৈদিক যজ্ঞ ও দুর্গাপূজার মধ্যে প্রভেদ পরিলক্ষিত হলেও উভয়ের উদ্দেশ্য একই। বৈদিক যজ্ঞের উদ্দেশ্য রোগমুক্তি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় কামনা, রূপ-যশ-সৌভাগ্য-ধন-পুত্র প্রার্থনা । দুর্গার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রও বলে, ‘আয়ুরারোগ্যং বিজয়ং দেহি দেবি নমস্তুতে। রূপং দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে। পুত্রান দেহি ধনং দেহি সর্ব্বকামাংশ্চ দেহি মে ॥’ ( হে ভগবতী, আপনাকে প্রণাম করি, আপনি আমাকে রোগমুক্ত করুন, বিজয়ী করুন, যশ ও সৌভাগ্য প্রদান করুন, পুত্র ও ধন প্রদান করুন এবং আমার সকল কামনা পূর্ণ করুন।)
বৈদিক যজ্ঞের মতো দুর্গাপূজার মন্ত্রেও ‘যজ্ঞ’ শব্দটির পরিব্যাপ্তি লক্ষ্যনীয়। দুর্গাপূজায় দেবীকে যজ্ঞভাগ গ্রহণে আহ্বান জানানো হয় (‘দেবি যজ্ঞভাগান্ গৃহাণ’)। বৈদিক যুগে প্রত্যেক ঋতুর প্রারম্ভেই অনুষ্ঠিত হত যজ্ঞ। যজ্ঞ হত শরৎঋতুর আরম্ভেও। মূলত বৈদিক শারদ যজ্ঞই তন্ত্র সমাচ্ছন্ন হয়ে পর্যবসিত হয়েছে আধুনিক দুর্গোৎসবে।
বাংলাদেশে দুর্গোৎসব সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ‘ষষ্ঠী’ থেকে দশম দিন অর্থাৎ ‘দশমী’ অবধি পাঁচ দিন অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত।
পূজার এই পাঁচদিনসহ সমগ্র পক্ষটিকে ‘দেবীপক্ষ’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন। এই দিনটি ‘মহালয়া’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি হয় পঞ্চদশ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমায়। এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত। দিনটি বাৎসরিক লক্ষ্মীপূজার দিন হিসাবে গণ্য হয়। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা হয় এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় হয় সমাপ্তি।
বাংলায় দুর্গোৎসবের বহুল প্রচলিত রূপ অর্থাৎ মহিষাসুরমর্দিনীর পূজার উল্লেখ পাওয়া যায় মার্কণ্ডেয় পুরাণ (মূল পুরাণটি চতুর্থ শতাব্দীর রচনা, তবে দুর্গাপূজার বিবরণ-সম্বলিত সপ্তশতী চণ্ডী অংশটি পরবর্তীকালের সংযোজন), ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (রচনাকাল আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী), বৃহন্নন্দীকেশ্বর পুরাণ (সঠিক রচনাকাল অজ্ঞাত), কালিকাপুরাণ (রচনাকাল ৯ম-১০ম শতাব্দী) ও বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ (রচনাকাল ১২শ শতাব্দী)। শুধু পুস্তকসূত্রই নয়, বাংলার বিভিন্ন স্থান থেকে আবিস্কৃত হয়েছে ৯ম-১২শ শতাব্দীর মধ্যকার সময়ে নির্মিত একাধিক মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তিও। তবে সেই সব মূর্তিতে মহিষাসুরমর্দিনী কিন্তু পরিবারসমন্বিতা নন।
মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার পরিবারসমন্বিতা মূর্তির প্রচলন হয় ষোড়শ শতাব্দির প্রথম পাদে। পরিবারসমন্বিতা এই মূর্তিকাঠামোর মধ্যস্থলে দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী ও মহিষাসুরমর্দিনী। তাঁর উপরিভাগে ধ্যানমগ্ন মহাদেব। মহিষাসুরমর্দিনীর ঠিক ডানপাশে উপরে দেবী লক্ষ্মী ও নীচে গণেশ; বামপাশে উপরে দেবী সরস্বতী ও নীচে কার্তিক।
পরিবারসমন্বিতা এই রূপে দুর্গাপূজা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার তাহিরপুরে। পণ্ডিত প্রবর রমেশ আচার্যের বিধানে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে মহাড়ম্বরে দুর্গাপূজা শুরু করেন তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ। কংসনারায়ণের পূজার পরপরই আড়ম্বরপূর্ণ দুর্গাপূজার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন অবিভক্ত বাংলার জমিদাররা। নতুন আঙ্গিকের এই পূজার শাস্ত্রীয় ও সামাজিক আয়োজন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দুর্গাপূজা পরিনত হয় জমিদারদের উৎসবে।
জমিদারী প্রথা বিলোপের পর দুর্গোৎসবে জমিদারদের অংশগ্রহণের হার কমে আসে স্বাভাবিকভাবেই। নব্য ধণিকশ্রেণীর উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গোৎসব আয়োজকগোষ্ঠীতে যুক্ত হয় অনেক নতুন মুখ। তবে প্রতিটি দুর্গোৎসবই তখন আয়োজিত হত সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে।
আনুমানিক ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে একটি ঘটনা ঘটে অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়ায়। গুপ্তিপাড়ার একটি ধনী পরিবারের আকস্মিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে অনিশ্চয়তার সন্মূখীন হয় বাড়িটির বাৎসরিক পূজার আয়োজন। গুপ্তিপাড়ার বারো জন বন্ধুস্থানীয় যুবক তখন এগিয়ে আসে সামনে। এই বারো জন ‘ইয়ার’ বা বন্ধু সংঘবদ্ধ ভাবে গ্রহণ করে পূজাটির দায়িত্ব্। গুপ্তিপাড়ার এই পূজাটি মানুষের কাছে পরিচিত হয় ‘বারোইয়ারি’ বা বারোয়ারি পূজা নামে।
বারোয়ারি পূজার সূত্র ধরে একক উদ্যোগে সম্পাদিত পূজা রূপান্তরিত হল একধিক জনের পূজাতে। ধনীর আঙ্গিনা থেকে পূজা নেমে এল অনেকটাই সাধারনের সন্নিকটে। গুপ্তিপাড়ার আদর্শ অনুসরণ করে সম্মিলিত উদ্যোগের বারোয়ারি পুজো ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলায় দুর্গাপূজার সংখ্যা বাড়ল ব্যাপকহারে। পূজার সংখ্যা বাড়লেও সে সব পূজার সঙ্গে সর্বজনের সংযুক্ততা সৃষ্টি হয়নি তখনও। ঊনবিংশ শতাব্দী বাংলার সামজিক আন্দোলনের স্বর্ণযুগ। একদিকে ব্রিটিশ বিরোধিতা, অন্য দিকে শিক্ষার প্রসার- এই দুইয়ের কারণে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সামাজিক প্রভেদ অনেকটাই কমে এল।
বিংশ শতকের প্রথম পাদে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় গড়ে ওঠা ‘স্বদেশি আন্দোলন’ বাংলার শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকে একত্রিত হবার সুযোগ এনে দিল। আন্দোলনের নেতৃত্ব ধণিক শ্রেণীর হাতে থাকলেও আন্দোলনের স্বার্থেই তাঁরা শ্রেণীগত ও জাতিগত বিভেদ নিয়ে আপস করতে বাধ্য হলেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের এই নৈকট্য সাধারন মানুষকে সাহস জোগাল দুর্গাপূজার মতো সুবৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বিত্তশালীদের একচেটিয়া অধিকারে ভাগ বসাতে, ব্যক্তি বা বারোয়ারির সীমা ছাড়িয়ে পূজাকে সর্বজনের উৎসবে পরিণত করতে।
বাংলায় দুর্গাপূজাকে সর্বজনের উৎসবে পরিনত করার অগ্রপথিক বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু। উত্তর কলকাতায় তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ‘সিমলা ব্যায়াম সমিতি’ ছিল সে যুগের বিপ্লবীদের আস্তানা। এই সমিতির উদ্যোগে ১৯২৬ সালে আয়োজিত হল ‘সর্বজনীন দুর্গোৎসব’। এই উৎসবে সর্বজনের অধিকার নিশ্চিত করা হল। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষকেই উৎসবের শর্তহীন অংশীদার করা হল। সিমলা ব্যায়াম সমিতির ওই পূজাদ্যোগের সাথে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হলেন বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরা ।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠল। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি সশস্ত্র বিপ্লবের পথে স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টাও চলল সমান তালে। ইংরেজের নজর এড়াতে দুর্গোৎসবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করল বিপ্লবীরা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছদ্মাবরণে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে সংঘবদ্ধ করার কাজের অন্যতম উপায় হয়ে উঠল দুর্গোৎসব।

পঞ্চদশ শতকে তৎকালীন শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) এলাকার রাজা গণেশ চন্দ্র প্রথম প্রতিমা স্থাপন করে দুর্গাপূজা শুরু করেন। এছাড়া, ষোড়শ শতকে রাজশাহী অঞ্চলে রাজা কংশ নারায়ণ দুর্গাপূজা শুরু করেন। অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র দুর্গাপূজা করেন। এভাবে দীর্ঘ দিন ধরে দুর্গাপূজা ছিল রাজা, জমিদার, জোতদার, মহাজন ও বিত্তবানদের দখলে। কিন্তু কালক্রমে দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীতে এসে ধীরে ধীরে দুর্গাপূজা সনাতন হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
কালের পরিক্রমায় ব্রিটিশ শাসনের অবসান হল ।বিভাজিত হল বাংলা ।পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে বিভাজিত বাংলার পূর্বাঞ্চল রুপান্তরিত হল বাংলাদেশ নামরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে। স্বাধীন বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের অসাম্প্রদায়িক প্রবণতা দূর্গোৎসবকে পরিনত করল প্রকৃত অর্থেই সর্বজনীন উৎসব ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কলকাতার চিকিৎসা ব্যবসা চলছে বাংলাদেশীদের ঘিরে

এস কে দাস: গত প্রায় দুই দশক ধরে কলকাতায় একের পর এক বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। এর ফলে দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসা করাতে যেতেন পূর্ব-উত্তরপূর্ব ভারতে যেসব মানুষ, তাঁদের অনেকেরই bangla_kolkataএখন হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার মানুষ কলকাতার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা করাতে যান প্রতিবছর। কিন্তু সার্বিক পরিকল্পনা আর পরিকাঠামোর অভাবে, কলকাতা এখনও পরিপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে নি।

বাংলাদেশী রোগীদের নিয়ে সেখানে চলে হাসপাতালগুলোর মধ্যে ব্যবসা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা, সঙ্গে রয়েছে দালালদের ফাঁদ। দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার ইস্টার্ন বাইপাসের ধারের মুকুন্দপুর এলাকাটা একসময়ে ছিল জলা জমি। কিন্তু এখন প্রায় চব্বিশ ঘণ্টাই ব্যস্ত।
“গত ৫ বছরে মানুষ আসলে কলকাতার চিকিৎসা-ব্যবস্থার ওপরে ভরসা করতে শুরু করেছেন”। গত দেড়-দুই দশকে সেখানে গড়ে উঠেছে একের পর এক বড় বেসরকারি হাসপাতাল।

বিশিষ্ট ক্যান্সার-সার্জেন গৌতম মুখোপাধ্যায় এই অঞ্চলের বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে একেবারে গোড়া থেকেই যুক্ত।

তিনি বলেন, সরকারী হাসপাতালগুলির যা অবস্থা হয়েছিল, যে বিপুল সংখ্যক রোগী সেখানে যেতেন, তা হাসপাতালগুলির পক্ষে সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, ‘সেই সুযোগটা নেয় কর্পোরেট সংস্থাগুলো। বছর কুড়ি ধরে তারা কলকাতায় আসতে শুরু করে। বাইপাসের ধারেই তো ১৫ – ২০ টা হাসপাতাল হয়ে গেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কার্ডিয়াক সায়েন্সেস হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের কাছে ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেট্টির হাসপাতাল নামেই পরিচিত।
ওই গোষ্ঠীর পূর্বাঞ্চলের পরিচালক দীপক ভেনুগোপালন বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ভারত বা বাংলাদেশের মানুষের কাছে দক্ষিণ ভারতই চিকিৎসার জন্য সেরা জায়গা হয়ে থেকেছে।
হাসপাতাল পাড়া ঘেঁষে গড়ে উঠেছে লজ আর হোটেলের সারি, যাদের বিশেষ ব্যবস্থা আছে বাংলাদেশীদের জন্য কিন্তু মানুষের সেই মনোভাব এখন বদলাচ্ছে ।
গত ৫ বছরে মানুষ আসলে কলকাতার চিকিৎসা-ব্যবস্থার ওপরে ভরসা করতে শুরু করেছেন, কারণ এখানে একের পর এক বিশ্বাসযোগ্য হাসপাতাল তৈরি হয়েছে, মি. ভেনুগোপালনের বলেন। তবে তিনি বলেন, এখনও বেসরকারি হাসপাতালগুলো পুরো ভর্তি হয় না।
মি. ভেনুগোপালনের বলেন, বাইপাস অঞ্চল আর মধ্য কলকাতা মিলিয়ে প্রায় হাজার তিনেক শয্যা রয়েছে বেসরকারি খাতে যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি হন, আর বাকিটা খালিই পড়ে থাকে।
অর্থাৎ বাজার বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে। ঢাকাতেও চিকিৎসা খারাপ হয় না, কিন্তু কলকাতা থেকে চেনাশোনা অনেকে চিকিৎসা করিয়ে ভাল হয়ে ফিরেছেন।

বাংলাদেশী রোগী
দক্ষিণপূর্ব কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থানীয় মানুষ ছাড়া আর সবথেকে বেশী যারা চিকিৎসা করাতে আসেন, তাঁরা বাংলাদেশের রোগী। এই অঞ্চলের সব থেকে পুরণো বেসরকারি হাসপাতাল হল পিয়ারলেস।
ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ সমাদ্দার বলছিলেন, তাঁর হাসপাতালে গত বছর প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশী চিকিৎসা করিয়েছেন। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কেন বাংলাদেশের মানুষ কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসেন এত বেশী সংখ্যায়?
মি. সমাদ্দার বলছিলেন, কলকাতায় এখন অনেক মানুষ চিকিৎসা করাতে আসছেন ঠিকই। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার যে ধারা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেটা বদলাতে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে আমরা এরকম অনেক রোগী পাই, যারা হয়ত আমাদের টপকিয়ে দক্ষিণ ভারতে গেছেন, কিন্তু এখানেই ফিরে এসে চিকিৎসা করাচ্ছেন আর ভালও হয়ে যাচ্ছেন।
তাহলে, বাংলাদেশ থেকে রোগী কী ধরনের চিকিৎসার জন্য কলকাতা আসেন?
সহনীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার আশায় অনেকে কলকাতা আসেন। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ পার্থ প্রতিম বিষ্ণু বলছিলেন, শিশু আর পূর্ণবয়স্কদের ব্রেন টিউমার, মেরুদ-ের সমস্যা বা চলাফেরার সমস্যা নিয়েই তাঁর বিভাগে বাংলাদেশ থেকে মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন।
কিডনি বিশেষজ্ঞ দীপক শঙ্কর রায় বলছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসপাতালে তাঁদের বিভাগে বাংলাদেশ থেকে আসা বেশীরভাগ রোগীই কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য আসেন।
একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাহায্যে দেখা হয়েছিল বাংলাদেশের থেকে আসা দুজন রোগীর সঙ্গে। তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কেন চিকিৎসার জন্য কলকাতাকে বাছলেন তাঁরা ।
যারা আসছেন, তাঁদের অনেক সময়েই দালালের পাল্লায় পড়ে ঠকতে হচ্ছে, বিশেষত বাংলাদেশী রোগীদের।
একজন বলেন, কলকাতা ঢাকার খুব কাছে আর ভাষা বা খাবারের সমস্যা এখানে হয় না।
আরেক মহিলা রোগী বলেন, ঢাকাতেও চিকিৎসা খারাপ হয় না, কিন্তু কলকাতা থেকে চেনাশোনা অনেকে চিকিৎসা করিয়ে ভাল হয়ে ফিরেছেন – সেই ভরসাতেই এখানে আসা।
মুকুন্দপুর অঞ্চলের হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা করাতে যারা বাইরে থেকে, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে আসেন, তাঁদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করার জন্য রীতিমতো একটা সমান্তরাল শিল্প গড়ে উঠেছে।
সেখানে হোটেল-লজ আর বাংলাদেশীদের পছন্দের খাবারের দোকান, যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কলকাতা-ঢাকা রুটের বাসের টিকিট কাউন্টার বা বিদেশ থেকে টাকা আনানোর ব্যবস্থা সহ নানা ধরনের সহযোগী পরিষেবা।
এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এই অঞ্চলেরই এক লজ মালিক অরূপ দাস জানান, হাসপাতালগুলো তৈরি হওয়ার পরেই এখানে লজ-হোটেল তৈরি হয়েছে, আরও হচ্ছে। যারা এখানে থাকতে আসেন – বেশীরভাগই বাংলাদেশী।
হাসপাতাল হোক বা লজ-খাবার দোকানের মতো সহযোগী পরিষেবা, সব কিছুই কিন্তু কর্পোরেট সংস্থা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে, বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে। কলকাতাকে চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার সার্বিক কোনও পরিকল্পনা নেই কোথাও।

দীপক ভেনুগোপালন মনে করেন, কলকাতার সব হাসপাতালগুলিকে এক জায়গায় এসে নিজেদের একটা সার্বিক পরিষেবা শিল্প হিসাবে পরিচিত করাতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের ভারতীয় ভিসা পাওয়াটা একটা বড় সমস্যা, বলছিলেন পিয়ারলেস হাসাপাতালের দিলীপ সমাদ্দার।
সরকারের তরফে সার্বিক পরিকল্পনার অভাবে আরও বেশী মানুষ সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসতে পারছেন না, বললেন পিয়ারলেস হাসপাতালের বিপণন বিভাগের প্রধান সুগত মজুমদার।
মি: মজুমদার বলেন, যারা আসছেন, তাঁদের অনেক সময়েই দালালের পাল্লায় পড়ে ঠকতে হচ্ছে, বিশেষত বাংলাদেশী রোগীদের। তবে শুধু যে বাইরে থেকে আসা দালালের কাছে ঠকতে হচ্ছে তা নয়।
অনেক হাসপাতালই একই চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশী রোগীদের কাছ থেকে একেক রকম টাকা নেয়। এই অভিযোগ হাসপাতালগুলি মানতে না চাইলেও বেশ কয়েকটি বড় হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত শল্য চিকিৎসক দিব্যেন্দু হালদার বলছিলেন সেটা।
বাংলাদেশের রোগীদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া আর সেদেশের রোগীদের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন জিন পরীক্ষা কেন্দ্র অ্যামপ্লিকনের কর্ণধার ড. সুরঞ্জনা চৌধুরী। তিনিও একই অভিযোগ করছিলেন
যদিও বেসরকারি বা কর্পোরেট হাসপাতালগুলিকে ঘিরেই কলকাতার চিকিৎসা পরিষেবা চলছে, তবে সবথেকে বেশী মানুষ এখনও চিকিৎসা করান সরকারী হাসপাতালগুলিতেই। আর বাংলাদেশের নিম্নআয়ের বহু মানুষ সেখানেও আসেন।
তাই রুবি জেনারেল হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ গৌতম মুখোপাধ্যায়ের কথায়, নজর দেওয়া দরকার সরকারী হাসপাতালের মানোন্নয়নের দিকেও।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করাতে যে অর্থের প্রয়োজন, তা গ্রামের মানুষদের অনেকেরই নেই। কিন্তু তাঁরাও যাতে ভাল মানের চিকিৎসা পান, তার জন্যই সরকারী হাসপাতালের দরকার, বললেন মি: মুখোপাধ্যায়।
কলকাতাকে চিকিৎসা পরিষেবার উন্নত কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানা যায় নি, কারণ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানাতে চান নি।
তবে বহুজাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ডেলয়েটের ভারতীয় কর্মকা-ের প্রধান রূপেন রায় প্রশ্নের এক লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, কলকাতাকে চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে হলে কী করা উচিত।
মি. রায় বলছেন, প্রথমত চিকিৎসার খরচ কমিয়ে পরিষেবার মানোন্নয়ন করতে হবে, যার জন্য স্বচ্ছতা আনা ও দুর্নীতি বন্ধ করা যেমন দরকার, তেমনই রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে।
বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতাল যেমন আরও প্রয়োজন, তেমনই সরকার আর বড় বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা ট্রাস্টগুলিকেও বড় হাসপাতাল আর উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য ডেলয়েটের কর্ণধারের। তবেই কলকাতা হয়ে উঠতে পারবে সত্যিকারের চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র – যাতে স্থানীয় মানুষ তো বটেই, উত্তরপূর্ব ভারত বা বাংলাদেশ, নেপাল,ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষও উপকৃত হবেন। অমিতাভ ভট্টশালী। বিবিসি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নাট্যকলা বা নাট্যতত্ত্বে পড়াশোনা

উত্তম সরকার : শিক্ষা এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। যেমন বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতাও। এখন অনেক শিক্ষার্থীই নাট্যকলা বা নাট্যতত্ত্বে পড়াশোনা করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আগে এই বিষয়ে আগ্রহী হলেও তেমন কেউ1405743794ই পড়াশোনা করতে চাইতেন না এমনকি অভিভাবকরাও এই বিষয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াতে চাইতেন না। তবে ইদানীং শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বিষয়ের ওপরে পড়াশোনা করার আগ্রহ বেশ বেড়ে গেছে। যেকোনোভাবেই তারা এই বিভাগে পড়তে চান। বলতে গেলে তাদের স্বপ্নই হচ্ছে নাট্যকলায় পড়া।

বর্তমানে হাতেগোনা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটি পড়ানো হয়। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগটির অনেক প্রশংসা রয়েছে। তবে ব্যবহারিকে এবং থিওরিতে সবচেয়ে ভালো পড়ানো হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিভাগটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য এমসিকিউ পরীক্ষার পরে একটা ব্যবহারিক ভাইভা দিতে হয়। তাই শিক্ষার্থীদের জেনে নিতে হবে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়ার কিছু বিষয়।

গান জানতে হবে
যদি নাট্যকলায় পড়াশোনা করতে চান তাহলে অবশ্যই গান গাইতে জানতে হবে। যদিও আপনি খুব ভালো গান গাইতে পারেন না, তবুও চেষ্টা করুন নিজের কণ্ঠটিকে সুরে আনতে। তা না হলে নাট্যতত্ত্বে ভর্তি হওয়াটা কিছুটা বিপজ্জনক হতে পারে।

নাচ জানতে হবে
আপনি ছেলে বা মেয়ে যাই হয়ে থাকেন না কেন আপনাকে নাচতে জানতে হবেই। আপনি হয়তো নাচে কিছুটা কাঁচা তাতে চিন্তার তেমন কিছু নেই। শুধু তালজ্ঞান থাকলেও চলবে। নাচের মুদ্রা না জানলেও শরীরে ছন্দ থাকতে হবে, রিদম থাকতে হবে।

মেধাবী না হলেই নয়
নাট্যতত্ত্ব বা নাট্যকলা মানে শুধু গান-নাচ জানতে হবে তা নয়। আপনাকে অবশ্যই একজন মেধাবী ছাত্র হতে হবে। কারণ মেধার দ্বারাই বিচার করা হবে যে আপনি এই বিভাগে পড়বার জন্য কতটা যোগ্য।

আবৃত্তি জানা প্রয়োজন
আবৃত্তি বলতে আমরা বুঝি কবিতা আবৃত্তি। নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়া যদি আপনার স্বপ্ন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে আবৃত্তি জানতে হবে, ভয়েসের ওঠানামা করতে জানতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে এখন থেকেই আবৃত্তি শিখে ফেলুন।

অভিনয়ও জানতে হবে
খুব কম মানুষই আছেন অভিনয় করে এসেছেন। এ বিষয়ে আপনাকে অভিনয় জানতে হবে এটা ঠিক তবে সেই অভিনয় যে সূক্ষ্মাণুসূক্ষ্মভাবে হতে হবে তা না। তবে ভালো করলে আপনার জন্যই প্লাস পয়েন্ট। তাই এখন থেকেই অভিনয় শেখার চেষ্টা করুন।

সব ধরনের বাদ্য বাজাতে জানা
যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র আপনাকে অবশ্যই বাজাতে জানতে হবে। বাঁশি, তবলা, ঢোল, খোল, গিটার, পিয়ানো, ড্রাম, মন্দিরা ইত্যাদি যেকোনো কিছু বাজাতে জানতে হবে। তবে চিন্তার কোনো বিষয় নেই যেকোনো একটিতে ভালো করতে পারলেই আপনার এই বিভাগে পড়ার সুযোগটি আসতে পারে।

ছবি আঁকা জানতে হবে
আপনি যদি নাট্যতত্ত্বে ভর্তি হতে চান তাহলে অবশ্যই ছবি আঁকা জানতে হবে।
এতকিছুর পরও আপনি কখনই চিন্তায় পড়ে যাবেন না যে হয়তো আপনি এগুলোর একটিতেও খুব ভালো না। এক্ষেত্রে আপনি এখন থেকে যেকোনো একটিতে খুব ভালোভাবে দখল নেয়ার চেষ্টা করুন। ভাইভাতে এমন পারফরম্যান্স দেয়ার চেষ্টা করুন যেন ভাইভাতে বসে থাকা টিচাররা আপনার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়ে যান এবং আপনাকে এই বিভাগে পড়ার সুযোগটি দেন।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হরিজন সম্প্রদায়ের ৩ মেয়ের দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

কুthree20140723123412ষ্টিয়া প্রতিনিধি : ওরা থাকে সুইপার কলোনিতে। দিনের বেলাতেও ঘরগুলোতে আলো-আঁধারির খেলা চলে। সন্ধ্যা হলে কলোনির অন্য শিশুরা যখন ঘুমাতে যায় তিন মেয়ে তখন বই হাতে নিয়ে পড়তে বসে।

হরিজন সম্প্রদায়ের এই তিন মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া শহরের মিল লাইন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পরিবারের পাশাপাশি সুইপার কলোনির নাম উজ্জ্বল করেছে ওরা।

আঁধার ঘরের এই তিন আলোর নাম ঝিনুক রানী বিশ্বাস, প্রতিমা রানী বিশ্বাস ও প্রিয়া রানী বিশ্বাস। এর মধ্যে ঝিনুক জিপিএ ৪ দশমিক ৮১, প্রতিমা ৪ দশমিক ০৬ ও প্রিয়া ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। ঝিনুক ও প্রতিমা থাকে কুষ্টিয়ার চৈতন্য হরিজন পল্লি সুইপার কলোনিতে।

এর পাশেই মিল লাইন সুইপার কলোনিতে থাকে প্রিয়া। তিনজনই কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলে অভাবের কারণে পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

অবশেষে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠী বলে পরিচিত হরিজন সম্প্রদায়ের এই তিন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াল কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন।

পড়ালেখার পাশাপাশি এই তিন মেয়ের চাকরি দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন এই তিন শিক্ষার্থীকে বাণিজ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় বই দিয়ে লেখাপড়ার দায়-ভার তার কাঁধে তুলে নেন।

এ সময় এডিসি জেনারেল মুজিব-উল ফেরদৌস, এডিএম আনার কলি মাহাবুব, এনডিসি রাসেল মিয়া, কুষ্টিয়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল গণিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে এই তিন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নেওয়ার জন্য কলেজ ফান্ড থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন।

সেই সঙ্গে বিনামূল্যে কলেজে প্রাইভেট পড়ার ব্যবস্থা করে দেন।

সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তাদেরকে সন্মানীসহ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যাতে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করতে পারে সেজন্য প্রত্যেকের নামে সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখায় একাউন্ট খুলে দেন জেলা প্রশাসক সৈয়দ  বেলাল হোসেন।

পূজা-পার্বনে তাদেরকে নতুন পোষাক উপহার দেওয়ারও ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন। এর পর তাদেরকে নিয়ে যান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এনজিও সমন্বয় কমিটির মিটিং-এ। সেখানে উপস্থিত এনজিওর প্রতিনিধিদের সাথে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের কাছে এই তিন মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান। এনজিওর প্রতিনিধিদের অনেকেই এই তিন মেয়েকে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

ঝিনুক, প্রতিমা ও প্রিয়া এই তিন মেয়েকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুধুমাত্র জন্মগত কারণে কেউ পিছিয়ে থাকতে পারে না। তোমরা আজ থেকে আর নিজেদের ছোট বলে মনে করবে না। পড়ালেখা করে মানুষের মত মানুষ হও, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন তোমাদের পাশে আছে থাকবে। জেলা প্রশাসক বলেন, তোমরা যদি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পার তাহলে আমি যেখানেই থাকি আমি তোমাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।’

জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাহায্য ও সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে তিন শিক্ষার্থীই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। বেসরকারি সংস্থা ফেয়ারের সহযোগিতায় ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের ছয় শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উর্ত্তীণ হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দামুড়হুদায় রাজহাঁস পালন করে স্বাবলম্বী গৃহিণীরা

Rajhas picদামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা:চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছী গ্রামসহ খাল-বিল, হাওড়-বাঁওর নদী-নালা ও মুক্ত জলাশয় তীরবর্তী গ্রামের গৃহিণীরা রাজহাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের উত্স খুঁজে পেয়েছেন। গৃহিণীরা বাড়িতে বসে এ আয়কে বাড়তি রোজগারের নতুন পথ বা আর্শীবাদ হিসেবে মনে করেন। দামুড়হুদা কুড়ুলগাছী গ্রামের ফাতেমা, রাবেয়া, মনিরাসহ একাধিক গৃহিণী বলেন, নদীর তীরবর্তী গ্রামে রাজহাঁস পালন করতে তেমন একটা পুঁজির দরকার হয় না। যেনতেনভাবে বাড়ির মধ্যে অবকাঠামো তৈরি করে রাতে তাদেরকে নিরাপদে রাখতে হয়। ধানের গুঁড়ো, ভাত ও সবুজ ঘাস তাদের প্রিয় খাদ্য। জলে থাকা অবস্থায় তারা নিজের খাদ্য নিজেই সংগ্রহ করে খায়। প্রতিদিন সকালে হাঁস পানিতে দেয়ার আগে ধানের গুঁড়ো, ফ্যান ও ভাত এক সাথে মেখে দিলে তারা পেট পুরে খেয়ে বাড়ি থেকে পানিতে যায়।
হাঁস ঘরে তোলার আগে তাদের সকালের মতো করে খেতে দিলেই চলে। রোগ বালাই কম হওয়ার কারণে দ্রুত তারা বেড়ে ওঠে। রাজহাঁস বছরে ১৫-২০টি ডিম দেয়। এক জোড়া ডিম ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গৃহিণীরা ডিম বিক্রি লাভজনক মনে করেন না। বর্তমানে কেজি দরে রাজহাঁস বিক্রি করার রেওয়াজ শুরু হয়েছে। একটি বয়স্ক হাঁস ৪-৫ কেজি ওজন হয়ে থাকে। বর্তমানে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব সময় রাজহাঁস বিক্রি হয় না। ডিম পাড়ার আগে কোনো গৃহিণী হাঁস বিক্রি করেন না। গ্রামীণ জনপদে শেয়াল তাদের বড় শত্রু।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. এএইচএম শামিমুজ্জামান বলেন, এ প্রাণীর রোগবালাই কম বলে গৃহিণীরা সাধারণভাবেই তা পালন করতে পারে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ কি তার বাপের সম্পত্তি, প্রধানমন্ত্রীকে তসলিমা

ডেস্ক:image_88664_0তসলিমা নাসরিন অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কি তার ( প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বাপের সম্পত্তি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিক্ত ভাষায় আক্রমণ করেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তিনি টুইটারে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে লিখেছেন, সুষমা স্বরাজজি অনুগ্রহ করে শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করুন তিনি কেন আমাকে বাংলাদেশে যেতে দিচ্ছেন না? বাংলাদেশ কি তার পিতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি? তাকে বলুন মুক্ত মতের প্রতি সম্মান দেখাতে।

আরেক টুইটে তিনি লিখেছেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি ভারতীয় শাড়ি উপহার দিয়ে পেয়েছেন জামদানি শাড়ি। প্রকৃত এই শাড়ির মতো যদি দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এরকম বিনিময় হতো।

আলাদা আরেক টুইটে তিনি লিখেছেন, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কেন বাংলাদেশের ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী বেপরোয়া হয়ে পড়েছিল?

আরেক টুইটে তসলিমা লিখেছেন, সুষমা স্বরাজকে অনুরোধ করেছেন শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে অনুরোধ করতে বলেছেন হাসিনা।

এখানেই শেষ নয়। সারা বিশ্বে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এ নিয়েও তিনি উপহাস করেছেন। বলেছেন, দীর্ঘ গরমের দিন এখন। এ সময়ে আপনার শত্রুও আপনাকে পান না করে থাকতে বলবে না। কারণ, আপনি পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন।

আরেক টুইটে তিনি রোজা রাখায় বিশ্বকাপ ফুটবলে আলজেরিয়ার পরাজয় কামনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, আলজেরিয়ার মুসলিম খেলোয়াড়রা রোজা রাখছেন। দিনের বেলায় তারা কোনো খাবার খাচ্ছেন না। পান করছেন না। তাই আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে অবশ্যই জিতবে জার্মানি। – ওয়েবসাইট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাস এবং সমাধান!

এস কে দাস : আধুনিক যুগে Prosno1-300x200তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের ফলে চাকরিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার মতো পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় আসবে। যার ফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম তথা পুরো দেশ।
এবার আসি, কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়?
উত্তর খুবই সহজ। বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে কিন্তু প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে বণ্টন ব্যবস্থার কোনো আধুনিকায়ন হয়নি। প্রশ্নপত্র টাইপিং, ছাপানো, প্যাকেটিং, বণ্টনে যত মানুষ নিয়োজিত তাদের মধ্যে দুএকজন অসৎ কর্মকর্তা থাকবে না এটা অস্বাভাবিক। প্রশ্নপত্র কমবেশি সব সময় ফাঁস হয়েছে কিন্তু আগে তথ্য প্রযুক্তি বা তথ্য আদান প্রদান অনেক কঠিন ছিল, তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও তা সীমিত কিছু মানুষের মধ্য সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু এখন ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বিভিন্ন সামাজিক সাইট বা ইমেইলের মাধ্যমেই দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো দেশে। ফলশ্র“তিতে মেধার অবমূল্যায়ন হচ্ছে।

এবার আসি সমাধানে,
১। প্রথম পদক্ষেপ: প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার জন্য ৭টি সেট প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। ৭ সেট প্রশ্ন সংরক্ষণ করবেন শিক্ষামন্ত্রী নিজেই। এবার, চূড়ান্ত প্রশ্ন যেটি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত হবে এই কাজটি সম্পন্ন হবে পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৭টায়। বলা বাহুল্য এত সকালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমস্যা থাকলেও দেশ ও দশের কল্যাণে এতটুকু কষ্ট তাদের করতেই হবে। এই প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তায় এবং শিক্ষামন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে। দৈব চয়নে লটারির মাধ্যমে এক সেট প্রশ্ন পছন্দ করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট সময় লাগবে।

২। দ্বিতীয় পদক্ষেপ: এবার শিক্ষামন্ত্রীর নিজস্ব একটি গোপন ইমেইল থেকে যেটার পাসওয়ার্ড শুধু শিক্ষামন্ত্রী একাই জানবেন। এই ইমেইল থেকে সব কয়টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিজস্ব গোপন ইমেইলে নির্ধারিত প্রশ্নের পিডিএফ ফরম্যাট পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। কারণ মেইল পাঠাতে এর থেকে বেশি সময় লাগবে না।

৩। তৃতীয় পদক্ষেপ: প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে একটি ল্যাপটপ, মডেম, ৩টি অফসেট প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন প্রদান করতে হবে। এবার পরীক্ষার দিন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উক্ত কেন্দ্রের প্রধান, সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মেইল গ্রহণ করবেন। এ ক্ষেত্রে বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মেইল পাওয়া মাত্র কেন্দ্রের প্রধানের কাছে পাঠানো শুরু করবেন। আগে থেকেই সব কেন্দ্রের প্রধানের তালিকা তৈরি করে তাদের মেইলে দ্রুত ফরোয়ার্ড করবেন। বাংলাদেশে এখন সব উপজেলায় মোবাইল টাওয়ার আছে তার মানে ইন্টারনেটও আছে। আর যে কেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ নেই সেই কেন্দ্রকে বাতিল করে অন্য কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪। চতুর্থ পদক্ষেপ: সময় ৮টা ১০ মিনিট। কেন্দ্রের অফসেট প্রিন্টারে পুলিশি পাহারায় ছাপানো শুরু হবে। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। সে ক্ষেত্রে ৩০০০ প্রশ্ন ছাপাতে ৩টি অফসেট প্রিন্টারের সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। আর প্যাকেটিং এ ৩০ মিনিট। সময় ৯টা। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত। বাকি ৩০ মিনিট সময় অতিরিক্ত রাখা হলো।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট লোকের সংখ্যা অনেক কমে যাচ্ছে কারণ প্রশ্নের সেট সংরক্ষণ হবে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। আর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। আর দুর্ঘটনাবসত যদি ফাঁস হয় (যদিও সম্ভাবনা মাত্র ১০%) তাহলেও এক ঘণ্টায় খুব একটা প্রস্তুতি নিতে পারবে না কোনো শিক্ষার্থী। এ পদ্ধতিতে সব মিলে খরচ হবে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা। যা বর্তমানের খরচের তুলনায় নগন্য। আশা করি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুনজর দেবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রযুক্তির অপব্যবহারে তছনছ পরীক্ষা, বিভ্রান্ত শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : আগে প্রশ্ন ফাঁসের উদ্দেশ্যই ছিল বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু গত বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে জেএসসি এবং এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে ভিন্নতা লক্ষ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন এবং এর উত্তরও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে একই মাধ্যমে। এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই বিনা পয়সায় এক শ্রেণির শিক্ষার্থী-অভিভাবক ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করছে প্রশ্ন। এসবের কিছু মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে আবার কিছু মিলছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুজব ছড়িয়েই বিভ্রান্ত করা হচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে।
আর এ ধরনের প্রযুক্তির অপতraq1153_89164-300x200ৎপরতা রোধ করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম সেলের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। বিটিআরসিকে অবহিত করা হলে তারা ফেসবুকের সংশ্লিষ্ট পেজ বন্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করছে।

পাশের দেশ ভারতেও পাবলিক পরীক্ষায় সীমিত আকারে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। সেখানে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের নমুনা দেওয়া হলেও গণমাধ্যমে তা ঘটা করে প্রকাশ পায় না। ভারতে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো গুজব সৃষ্টি হলেও তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে। যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো রকম বিভ্রান্তিতে না পড়ে। ত্বরিত পদক্ষেপ নেয় সে দেশের বিচার বিভাগও। ২০১১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভারতের মনিপুর রাজ্যের ইম্ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎপর হয় দিল্লির হাইকোর্ট।

এর বিপরীতে আমাদের দেশে তেমনটা দেখা যায় না। কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় না। মামলা করার পর তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন।

বাংলাদেশেও আইন আছে, তবে প্রয়োগ হওয়ার নজির নেই। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এবং সংশোধনী ১৯৯২ আইনের আওতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি ন্যূনতম তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-সহ অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। আইনটি প্রণয়নের পর থেকে বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্তত ৬২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কিন্তু এ কমিটিগুলো ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সুপারিশেই বন্দি থেকেছে তদন্ত। আর শাস্তি তো দূরের কথা, বারবার এই ব্যর্থতার পরও সরকারের অন্যান্য সংস্থার এ ব্যাপারে তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।

অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা বলছেন, আগের ঘটনা বা রটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত না করার কারণেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। একই সঙ্গে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য ছাড়াই গণমাধ্যম ও সামাজিক ওয়েবসাইটে প্রশ্নপত্র তুলে ধরার পেছনে অন্য কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, তাও খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে একটা চক্র কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি; কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি। এটা আটকাতে পারছি না। ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁস করার পেছনে কোনো আর্থিক ব্যাপার নেই। তাহলে বুঝতে হবে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে বিপদে ফেলতেই এ কাজ করছে। তবে সময় এসেছে নতুন করে ভাবার। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের বিষয় নিয়ে বসব।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর পেছনের সিন্ডিকেট খুঁজে বের করতে হবে। দুঃখ হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে কিন্তু তদন্তের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে না। প্রযুক্তি দিয়েই আমাদের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হবে। অন্যান্য জনবহুল দেশে যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয় সেটা জেনে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টিও চিন্তা করার সময় এসেছে।’

গত ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ থাকলেও শুধু ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত চলাকালেও সক্রিয় রয়েছে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র। তারা একের পর এক ফেসবুকের মাধ্যমেই ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রশ্ন। এইচএসসির গত ২৩ এবং ২৭ এপ্রিলের যথাক্রমে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফেসবুকের একটি সাইটে পাওয়া যায়। পরীক্ষার পর যার অধিকাংশই মিলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৫ মে অনুষ্ঠিত গণিত (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান আগের দিন থেকেই পাওয়া যায় ফেসবুকের তিনটি পেজে। এরও অধিকাংশ মিলে যায়।

গত বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি মামলা করে। এ ব্যাপারে এখনো তদন্ত চলছে।

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফেসবুকের যেসব পেজে ফাঁসকৃত প্রশ্ন দেওয়া হয় তাদের আইডি সঠিক থাকে না। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব প্রশাসনিক কাজই হয় দেশের বাইরে থেকে। আমরা কোনো তথ্য চাইলে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি না থাকায় কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। শুধু পেজ বন্ধ করা ছাড়া আমরা আর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়েও আমরা কাজ করছি। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। ফেসবুকের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে অনেক দূর অগ্রসর হওয়া যেত।’

গত ১০ এপ্রিল ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইনকে প্রধান করে আন্তমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেলেও কোনো উৎস খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস বের করার চেষ্টা চলছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। শিগগিরই এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ঠিক করা সুপারিশের মধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন ছাপানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় একটি বিষয়ের জন্য ২০ সেট প্রশ্নপত্র করা এবং তা একটি সিডি বা অন্য কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে একজনের দায়িত্বে রাখা হবে। পরীক্ষার দিন সকালে কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা ঠিক করে নির্ধারিত পাসওয়ার্ড জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বা কেন্দ্রের দায়িত্বরত ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়া হবে। সকালেই এ কাজের জন্য নির্ধারিত প্রিন্টারের মাধ্যমে সেটি প্রিন্ট করা হবে। বর্তমানে সৃজনশীলের প্রশ্নপত্র সারা দেশে একই হয় বলে এক জায়গায় প্রশ্ন ফাঁস হলে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। তাই কমিটি সব বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন করার সুপারিশ করবে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি গোয়েন্দাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া, প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে উন্নত নিরাপত্তা ট্যাগ ব্যবহার, যেখান থেকে প্রশ্ন বিতরণ করা হবে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট রাখাসহ বেশ কিছু সুপারিশ থাকছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সম্প্রতি এক মন্তব্য নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীও তাঁর এক কলামে তাঁদের পদক্ষেপের কথা বলেছেন। ড. জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ‘সরকার একটা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা দিতে পারে না! আমি বিশ্বাস করতে রাজি না যে, আন্তরিকভাবে চাইলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়া সম্ভব। একটি সমস্যা না দেখার ভান করলেই কি সমস্যাটা মিটে যায়? সমস্যা মেটাতে চাইলে সেটাকে সবার আগে স্বীকার করতে হয়; দেশের সর্বোচ্চ মহল এই সমস্যাটা স্বীকার করতেই রাজি না, তাহলে সমস্যাটা সমাধান হবে কেমন করে?’

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ড. জাফর ইকবাল প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কে যে মতামত ব্যক্ত করেছেন, আমি এর চেয়ে কম উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ নই। তিনি লিখে তাঁর ক্ষোভ, উদ্বেগ যেভাবে প্রকাশ করতে পারেন, আমাকে শুধু সেটুকু করলেই চলে না। আমাকে আরো বেশি কিছু করতে হয়। কঠোর সতর্ক থাকা সত্ত্বেও এবারই প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় এমন অচিন্তনীয় ঘটনা ঘটেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাপ্য ব্যক্তি পাচ্ছে না বয়স্ক ভাতা

এস কে দাস : চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেarfin1লার হাউলী ইউনিয়নের অবহেলিত একটি গ্রাম কুমারীদাহ। যেখানে ১১২টি পরিবারের বসবাস। এমনি একটি গ্রামে মৃত্যু রুহুল আমিনের স্ত্রী আরফিনা খাতুন ২২ বছর ধরে বিধবা হলেও আজ পর্যন্ত কোন বিধবা ভাতা কিম্বা বয়স্ক ভাতা পাননি। আরফানি খাতুনের বয়স বর্তমানে ৮৭ বছর। আর কত বয়স হলে বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাওয়া যাবে আক্ষেপের সুরে জানতে চান আরফানি? এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি কোন সদুত্তর। তবে ঐ গ্রামের অনেকেই বয়স্ক ভাতা পান বললেন, স্থানীয় লোকজন।

আরফানী এখন বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। বয়সের ভারে আধো আধো কথা বলতে পারেন তিনি। তবে ইসারায় বুঝানোর চেষ্টা করেন বেশি। ৯ মেয়ে ও ৩ ছেলের জননী ৮৭ বছরের এই আরফানি। ছেলে মেয়েরা তাদের সংসার নিয়ে যখন ব্যস্ত তখন আরফানি খাতুন বিছানায় শুয়ে অপেক্ষায় থাকেন কখন কে তার একটু খাবার দেবে।

গ্রামবাসীর মনে প্রশ্ন তাহলে আরফিনা খাতুন পাবেননা বিধবা ভাতা ? রাজনীতি যেখানে মানবতার জন্য সেখানে আরফিনা খাতুনের জন্য মানবতা উপেক্ষিত হয়েছে গ্রাম্য নোংরা রাজনীতির কারণে। যারা বয়স্ক ভাতার তালিকা প্রনয়ণ করেন তারা কি ইচ্ছে করেই আরফিনা খাতুনের নাম তালিকা ভূক্ত করেননি? তাই যদি হয় তাহলে প্রয়োজন কি বয়স্ক ভাতা প্রদাণের। বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছে সচেতল মহল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter