বিশেষ প্রতিবেদন

অধঃপতিত শিক্ষা, দায়িত্বহীন গণমাধ্যম

chiro_daপ্রতিবেদক যে সব প্রশ্ন করেছেন, তবে বেশিরভাগই সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। কোন দেশের রাজধানী কোথায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস কত তারিখ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখ। শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় ইত্যাদি।

নৈতিকতার দিক থেকে দেখলে কোনো মতেই এই প্রতিবেদনটিকে মেনে নেয়া যায় না। যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কী সত্যিই কারও ‘জ্ঞান-মান’ মাপা যায়? আর এসব প্রশ্নের জবাব দেশের কয়জন ‘শিক্ষিত’ মানুষ জানে? শিক্ষকরা জানে তো? কয়জন পারবে ওই প্রশ্নগুলোর ঠিকঠাক উত্তর দিতে? সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ভুলভাল উত্তর দেওয়ায় অনেকের মধ্যেই ‘মজা লওয়া’র বিকার লক্ষ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের আনন্দে অনেকে লাখ লাখ কমেন্ট আর শেয়ার দিয়েছেন, কিন্তু কেউ তলিয়ে দেখেননি, এমন উত্তর তারা কেন দিয়েছে? তাদের কারা শেখায়? কী শেখায়?

উল্লিখিত প্রতিবেদনটিতে শিক্ষার্থীদের অজ্ঞতার একটা খন্ড চিত্র হয়তো পাওয়া গেছে। কিন্তু সামাজিক মানুষ হিসেবে আমরা কতটা মূর্খ ও বিকারগ্রস্ত-তার একটা অখন্ড চিত্রও বের হয়ে এসেছে! প্রতিবেদককে হয়তো এ ব্যাপারে ততটা দায়ী করা চলে না, একজন প্রতিবেদকের বুদ্ধি-বিচারের ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু টিভি চ্যানেলের যারা কর্তাব্যক্তি ছিলেন, তারা এমন একটা প্রতিবেদন কোন বিবেচনায় প্রচার করলেন? আর ফেসবুকেই বা তা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার দিলেন কেন? শিক্ষার ‘নিম্নমান’ দেখাতে কিছু নিষ্পাপ কিশোরকিশোরীকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপন করাটা কতটা নৈতিক? তবে কী সামিষ্টিকভাবেই আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পেয়েছে?

বিশেষ করে যে দুটি মেয়েকে কিছু আলটপকা প্রশ্ন করে বোকা বানানো হলো, গোটা দেশের মানুষের কাছে তাদের মানমর্যাদা বিনষ্ট করা হলো, তা কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করা যায় না। এটা শুধু নৈতিকতা বিরুদ্ধ নয়, অপরাধও বটে। কাউকে জনসমক্ষে হেয় করার অধিকার কোনো মিডিয়ার থাকতে পারে না।

এমনিতেই আমাদের সমাজে নারীকে অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। আমাদের পুরো সমাজেই নারীবিরোধী উপাদানে ভরপুর। সবাই তক্কে-তক্কে থাকে নারীর খুঁত ধরার জন্য, সেখানে দুটি মেয়েকে এভাবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তাদের পরবর্তী জীবনকে বিষিয়ে তোলার দায় কে নেবে? তাদের মধ্যে এরপর স্টিগমা তৈরি হতে পারে। আত্মবিশ্বাসহীনতা ও দ্বিধাও তৈরি হতে পারে। তাদের মধ্যে একটা ভয় ও হীনমন্যতা গ্রাস করতে পারে। এমনকি মেয়ে দুটির নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নেতিবাচক দিকে ঝুঁকে পড়ারও আশঙ্কা আছে। এটা কোনো মিডিয়াই করতে পারে না।

মেয়েদের বেলায় যে কোনো ঘটনা আলাদাভাবে এবং বিশেষভাবে ভাবতে হয় এ কারণে যে, আমাদের সমাজের প্রচলিত নিয়মে ছেলেদের কোনো ‘কলঙ্ক’ বা ‘অপমান’ হয় না। পুরুষশাসিত সমাজে তাদের ত্রুটি দুর্বলতাগুলো লঘু করে দেখা হয়। পুরুষবাদী ও পুরুষবান্ধব সমাজে ছেলেরা সহজেই যে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি এমনকি অপমান পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারে, কাটিয়ে উঠার সুযোগ পায়। কিন্তু মেয়েরা তা পারে না। তাদের সেই সুযোগ দেয়াও হয় না। কোনো ঘটনা ঘটলে সবাই মিলে মেয়েটিকেই কোনঠাসা করে ফেলা হয়। কাজেই মেয়েদের ব্যাপারে অধিক সংবেদনশীলতা সব সময় কাম্য। যা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিতে নেই।

আমাদের শিক্ষার মান খারাপ এটা সবাই জানে। তারপরও কেউ যদি এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে বা সমীক্ষা চালাতে চায়, এ জন্য বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়। যার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, তাকে আগেই প্রশ্ন দেখাতে হয়, সেটা যে মিডিয়ায় প্রচার করা হবে, এটাও আগেই জানাতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর নিয়ম মানা হলে কেউই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হতো না। প্রতিবেদনে যা দেখানো হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রশ্নগুলোর সঠিক জবাব দিতে পারেননি। জবাব না দিতে পারায় তাদের লজ্জা এবং আড়ষ্ট ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

তাহলে এমন একটা কাণ্ড কেন করা হলো? যারা হুজুগে ‘খারাপ মানের’ জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা প্রতিবেদনটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন তারা কী খুব উচ্চ মানের কাজ করেছেন? ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকলে কেউ এটা করতে পারেন না। একটি সভ্য-শিক্ষিত সমাজে সবারই দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত।

ওই টিভি চ্যানেলটি কয়েকটি শিশুকে ‘আহাম্মক’ হিসেবে দেখিয়ে নিঃসন্দেহে একটা গর্হিত কাজ করেছে। তাদের উচিত ছিল সাক্ষাৎকারদাতা শিশুদের মুখগুলো আবছা করে দেওয়া। সংবেদনশীল প্রতিবেদনে শুধু ভিকটিমদের নয়, দাগী অপরাধীদেরও চেহারা আবছা করে দেওয়াই নিয়ম। এখানে এই শিশুরা ‘ভিকটিম’ মাত্র। তাদের চেহারা স্পষ্ট করে দিয়ে কয়েকটি শিশুর সঙ্গে চরম অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষার সামগ্রিক মানের যে অধঃপতন-তা নিয়ে আলাপআলোচনা কিছু কম হচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিবেদনেও তা উঠে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘র্যাং কিং ওয়েব অফ ইউনিভার্সিটি’ এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষার গুণগত মান বিচারে বাংলাদেশের কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ই সেরা ২১০০ এর মধ্যে স্থান পায় নাই। এমনকি এশিয়ার সেরা ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ও আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নাই। এর থেকেই বোঝা যায় যে, আমাদের শিক্ষার মান কত নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

গত তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কথিত ‘মেধাবী’দের ৮০ ভাগই পাস নম্বর পাননি! বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৮ নম্বর পাননি এমন পরীক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৫৫% ও ৫৬%!

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা- এই চার স্তরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে মাধ্যমিক স্তর। কারণ এই স্তরেই শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠার সময়। অথচ এ পর্বের শিক্ষকরাই বেশি অদক্ষ। এই স্তরের বেশির ভাগ স্কুলই এমপিওভুক্ত। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক হতে গেলে দক্ষতা নয়, প্রয়োজন হয় টাকার। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণব্যবস্থাও তেমন জোরালো নয়। সরকার এই স্তরকে ঢেলে সাজাতে ২০০৮ সাল থেকে চালু করে সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু সেই সৃজনশীল এখন হয়ে গেছে নোট-গাইডনির্ভর।

শিক্ষকরা এখনো পারেন না সৃজনশীল প্রশ্ন করতে। তারা ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়ে পড়াতেই বেশি পছন্দ করছেন। তাই পড়ালেখায় মন না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে এক শিক্ষক থেকে থেকে আরেক শিক্ষকের কাছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া কোনো শিক্ষকই নিয়োগ পান না। কত টাকা দিতে হবে, তাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করে দেয়। যোগ্য প্রার্থীরা টাকা না দিতে পারলে নানা কৌশলে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। পরিচালনা কমিটির ওপর শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি না থাকায় তারা ইচ্ছামতো চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। মানের দিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই।

মূলতঃ শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে যে আশঙ্কাজনক অধঃপতন হয়েছে, তার জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থাটাই দায়ী। স্কুল-কলেজে ভাষা বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা না দেওয়া, বিষয়ভিত্তিক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারা, গভীর পাঠদান ও পাঠাভ্যাসের অনুপস্থিতি, পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বিষয়ে পাঠাভ্যাস কমে যাওয়া, ‘শর্টকাট’ উপায়ে সফল হওয়ার প্রবণতা, কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা, বাড়িয়ে বাড়িয়ে নম্বর দিয়ে কৃত্রিমভাবে মেধার বিস্ফোরণ ঘটানোর নীতি-এসব

কিছুর সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে শিক্ষার মানে ধস। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ফল গ্রাস করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে। সকলের টনক কবে নড়বে সেটাই দেখার বিষয়।

চিররঞ্জন সরকার : লেখক, কলামিস্ট।
chiroranjan@gmail.com

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে একই গ্রেড দরকার

2016_05_26_19_19_23_r স্কুল ও কলেজে একই রকম গ্রেডিং সিস্টেম থাকলেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তা আলাদা হয়ে যায়। তবে এই তিন পর্যায়ের গ্রেডিং একই রকম হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গ্রেডিং পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।’

বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড এর নির্ধারিত মোট মান জিপিএ ৫, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ এর মোট মান জিপিএ ৪ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত স্নাতক (পাস) পরিক্ষার মোট মান জিপিএ ৫! এতে করে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ সমান হলেও পরীক্ষা ভেদে মূল্যমান সমান হয় না।

একজন শিক্ষার্থীর স্নাতক (সম্মান) পরিক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৪ এবং অন্য একজন পরিক্ষার্থীর স্নাতক (পাস) পরিক্ষায় প্রাপ্ত পিপিএ ৫। উভয়ের প্রাপ্ত জিপিএ সংখ্যাগত ভাবে সমান হলেও এদের মান কিন্তু সমান নয়। আবার কোন শিক্ষার্থীর পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, অর্নাস ও মাস্টার্স সকল পরিক্ষায়ই প্রাপ্ত জিপিএ ৩.৫ করে হলেও সকল পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যমান কিন্ত এক হয় না। কারণ, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষায় মোট ৫ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫ অথচ অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় মোট ৪ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫।

এসব অসমতার কারণে ভর্তির বা চাকরির বিজ্ঞাপনদাতাকেও পড়তে হয় বিপাকে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উল্লেখ করতে হয় আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা। আবার প্রত্যেক আবেদনকারীর প্রতিটি পরিক্ষার গ্রেড-শিট বিশ্লেষণ করে বের করতে হয় প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী-ডঃ কামাল

নিজস্ব প্রতিdr.kamalবেদক : নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সবপক্ষের আইনজীবীরা। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন এই ঘটনাকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, নির্যাতনের শিকার শিক্ষক চাইলে তারা আইনি সহায়তা দেবেন তারা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে পৃথক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আইনজীবী নেতারা।

এক মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের আচরণ কল্পনা করা যায় না।’ ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য দেশে আইন আছে। ওই আইনে তদন্ত হয়, তদন্ত শেষে বিচার হয়। কিন্তু বিচারের আগেই ওই শিক্ষককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।’ অপরদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তিকে কান করে উঠ-বস করিয়ে শুধু তাকে অপমানিত করা হয়নি, ওই দৃশ্য দেখে দেশবাসীও অপমানিত হয়েছেন।

এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যে সব ব্যক্তি সম্পৃক্ত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ নির্যাতিত শিক্ষককে আইনি সহায়তা প্রদানের ঘোষণাও দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘এ নির্যাতনের ঘটনায় মানহানির মামলা হতে পারে। যদি শ্যামলকান্তি আইনি সহায়তা চান, তাহলে স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায়তা দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ রমজান আলী সিকদার, সহ-সম্পাদক একেএম রবিউল হাসান সুমন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পিয়ার সাত্তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে ছাত্র মারধর ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কান ধরে উঠবস করান সাংসদ সেলিম ওসমান। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠলেও ১৬ মে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বুধবার এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে তদন্তের পর বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল ও শিক্ষককে পুনর্বহালের ঘোষণা দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রয়াণ

ঢাকা: ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাবার্তা পাঠকদের জন্য  আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৪ মে ২০১৬, শনিবার। ৩১ বৈশাখ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
•     ১৬৪৩ – মাত্র চার বছর বয়সে চতুর্দশ লুই ফ্রান্সের সম্রাট হন।
•     ১৭৯৬ – এডওয়ার্ড জেনার পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দানের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেন।
•     ১৮১১ – প্যারাগুয়ে স্পেনের শাসন থেকে মুক্তি পায়।
•     ১৯৩৯ – লিনা মেডিনা মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন। চিকিৎসা ইতিহাসের তিনিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ মা হিসেবে চিহ্নিত।
•     ১৯৪৮ – সর্বশেষ ব্রিটিশ সেনাদল ফিলিস্তিন ছাড়লে ইজরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
•     ১৯৫৫ – সোভিয়েত রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে ওয়ারশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

জন্ম
•     ১৯০৭ – পাকিস্তানি সেনাশাসক ও রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান।
•     ১৯২৩ – চিত্রপরিচালক মৃণাল সেন।
•     ১৯৪৪ – মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জর্জ লুকাস।

মৃত্যু
•     ১৯২৫ – বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড।
•     ১৯৯৮ – কথাশিল্পী শওকত ওসমান। লেখক ও কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশু-কিশোর সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি

স্টাফ রির্পো১টার: সারা দেশে মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লক্ষের অধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বিনা বেতনে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিনা বেতনের এসব শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তাই আগামী বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি, সরকারের ভূমিকা এবং বাজেট বরাদ্দ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের উপর ০৫মে সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি মোঃ এশারত আলীর সভাপতিত্বে ও শরীফুজ্জামান আগা খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, ইতিহাসবিদ ও সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা বার্তার সম্পাদক এ এন রাশেদা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ’র কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী। বৈঠকে সংগঠনের পক্ষে প্রতিবেদন পাঠ করেন ড. বিনয় ভূষণ রায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার উল্লেখ করে তা দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনা বেতনের শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তিনি আসন্ন বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানান।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই নিয়ম নীতিতে পরিচালিত হয়। একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ তাদের কোন বেতন পাবে না তা মেনে নেয়া যায় না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতির পরিপত্র শিগগির

এস কে দাস: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০০৫-এর বিধিমালা সংশোধন করে নতুনভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অনুসরণীয় পদ্ধতিসংক্রান্ত পরিপত্র জারির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।
শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এসআরও বা নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে অনেক বিষয় খোলাসা করা নেই, তাই খুঁটিনাটি বিষয়ের জন্য পরিপত্র জারি করা প্রয়োজন। পরিপত্রটি শিগগিরই জারি করা হবে।
খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়োগ/পূরণযোগ্য পদের একটি চাহিদাপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার নিজ উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা একীভূত করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে একটি সমন্বিত চাহিদাপত্র জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি সমন্বিত চাহিদাপত্র এনটিআরসিএ-তে পাঠাবেন।
তারা প্রতিবছর প্রার্থী বাছাইসংক্রান্ত সব পরীক্ষা (এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক) গ্রহণ করবে এবং প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী বিষয় ও উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম প্রণয়ন করে ফলাফল ঘোষণা করবে।
পরিপত্রে নির্দেশনা দেওয়া হবে, ইতোপূর্বে পাশ করা সব প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী মেধা তালিকা প্রণয়ন করবে এনটিআরসি-এ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব যেমন, বিষয়, সংখ্যা, নিয়োগের সম্ভাব্য সময় ইত্যাদি উল্লেখসহ এনটিআরসিএতে পাঠাবে। এনটিআরসিএ উক্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীর মেধা তালিকা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাবেন।
এ ছাড়াও পরিপত্রে থাকছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের জন্য মেধাতালিকা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলার মেধা তালিকায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে জেলা মেধাতালিকা থেকে এবং তা-ও না পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় ও জাতীয় মেধাতালিকা পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে। মেধাতালিকা বিবেচনার ক্ষেত্রে পূর্বের তালিকাকে পরবর্তী তালিকার উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে চান তবে উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মতিক্রমে ক্ষেত্র বিশেষে নিজ উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসার বা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসারের কছে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দিবেন।
এছাড়াও থাকছে, ইতোপূর্বে পাশ করা নিবন্ধন প্রার্থীদের সনদের মেয়াদ এসআরও জারির তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকার বিষয়টি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের চিন্তা

এস কে দাস: muhid‘সরকারি চাকরিজীবীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক (প্রকৃচি) ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতীয় বেতনস্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল, উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা অফিস স্মারক সংশোধন এবং চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত তিন দাবি নিয়ে প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। কমিটির প্রধান বাহাউদ্দিন নাসিমের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. এম ইকবাল আর্সলান, প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, কৃষিবিদ মোবারক আলী, মো. ফিরোজ খান প্রমুখ।

বৈঠকে সংগঠনের আহ্বায়ক বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করলে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। ফলে উন্নয়নমূলক কর্মকা- থমকে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কোন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই পে-স্কেল থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেওয়া হয়েছে। অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে এবিষয়টি সুবিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব দাবি মানা সম্ভব নয়। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি যাতে সহজে হয় সেজন্য সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকের শুরুতে সংগঠনটির নেতারা তিন দফা দাবি সংক্রান্ত দাবিনামা অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এতে তারা অভিযোগ করেন, ‘সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে পদ অবনমন হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ পদোন্নতির পদ হিসেবে ৪র্থ গ্রেডে অধ্যাপক পদ লাভ করেন। এর মধ্যে থেকে ৫০ভাগ অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড হিসেবে ৩য় গ্রেডে উন্নীত হন। সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করায় অধ্যাপকগণ ৩য় গ্রেডে উন্নীত হতে পারবেন না। ফলে ৪র্থ গ্রেড থেকেই তাদের অবসরে যেতে হবে। অথচ এ ক্যাডারের শীর্ষপদ ১ম গ্রেডের। ২০১৫ বেতনস্কেল অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাই আর শীর্ষ পদ লাভ করতে পারবেন না।

তাদের দাবি, ‘উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত অফিস স্মারক : সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা ‘উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণকে উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে ন্যস্তকরণ এবং তাদের বেতনভাতাদি বাবদ সরকার প্রদেয় অর্থ পরিষদ তহবিলে স্থানান্তর’ শিরোনামে একটি অফিস স্মারক জারি করে। এ স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা ও দফতরের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করে বছরান্তে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়ন এবং সুপারিশ করে ডক্টর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত হয় পে-কমিশন। পরে মন্ত্রিসভায়ও তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিলেকশন গ্রেড এবং টাইম স্কেল বাতিলের তীব্র প্রতিবাদ করে তা পুনর্বহালের দাবি তোলেন।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালনকারী প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা আজ সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ এ মাসেই হওয়ার কথা রয়েছে। যা কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে। এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন তুলতে পারবেন আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে। তবুও আশার আলো দেখি

স্বরুপ দাস : জ্ঞানচর্চা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সে সমাজ থেকে মূল্যবোধ উঠে যায়। সর্বত্র মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে এখন শংকা জাগে- তবে কি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ আমরা হারিয়ে ফেলছি? অনেক আগেই মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে রাজনীতিতে। প্রশাসন ব্যবস্থার সর্বত্র দুর্নীতি প্রবল প্রতাপে জায়গা করে নিচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের গাঁথুনি ভেঙে পড়ছে। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতি থেকে গণতান্ত্রিক ধারা অপসৃত হয়ে এখন কর্তৃত্ববাদ জায়গা করে নিচ্ছে। কালো টাকা ও পেশিশক্তি এখন প্রকাশ্যে দাপট দেখাতে পারছে।

রাজনীতিককে এখন দাপুটে ব্যবসায়ী-আমলাদের অঙ্গুলি নির্দেশে চলতে হচ্ছে। জ্ঞানচর্চার চেয়ে বাগাড়ম্বর সর্বত্র নিজ অবস্থা পাকা করে নিচ্ছে। এসবের মধ্যেও মাঝে মধ্যে আশার আলো দেখতে পাই। এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখি।
রাজনীতি নষ্ট হয়ে না গেলে দর্শনার গন উন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ানকে সন্তানের দুধের টাকা থেকে পত্রিকার বিল মেটাতে হয়।
পাঠাগারে 10 টি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা আসে। মাসে প্রায় 3/4 হাজার টাকার পত্রিকা কিনতে হয়। অথচ সাহায্য করার নেই কোন রাজনীতিবিদ। অথচ রাজনীতির মঞ্চে আমরা বড় বড় বুলি ছড়াই।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা তখনই তীব্র হয়, যখন দেখি আমাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকরা অবকাঠামোকে উপেক্ষা এবং উপরিকাঠামোকে চকচকে করে চোখ ধাঁধিয়ে দিতে চান। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মজবুত হচ্ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। উচ্চ আয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এসবই ভালো কথা। কিন্তু পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনে যখন নানামুখী অবক্ষয় ঘটতে থাকে, তখন এ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কি জাতিকে স্বস্তি দেবে! গত প্রায় এক দশকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার জায়গাটিকে ভঙ্গুর করে ফেলা হয়েছে। শিক্ষাব্রতীদের বদলে স্কুল-কলেজ পরিচালনার কাঠামোয় রাজনীতিকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজনীতিক আর আমলাদের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব আর অর্থের খেলা যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থাটি যে কী ভয়ংকরভাবে শিক্ষার অবকাঠামো ভেঙে ফেলছে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন।

শিক্ষার গন্তব্য এখনও দূরতিক্রম্য। প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির মিটিং এ শিক্ষার উন্নয়ন ব্যতি রেখে আনুষাঙ্গিক বিষয়ে কথা বেশি হয়। শিক্ষা কমিটির সদস্যরা যে স্কুলের সাথে জড়িত সেসব স্কুলে হয় না পড়াশুনা। এই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। তবুও আমরা আশায় বুক বেধে থাকি নতুন নেতৃত্বের দিকে। হয়ত একদিন এই দেশ হবে উন্নত। রাজনীতিবিদরা শিক্ষাকে মূল্যায়ন করবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ভিশন ও মিশন

প্রায় ১৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অধীনে সারাদেশের প্রায় ২৩০০ প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। দেশের সর্ববৃহৎ এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন ২টি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি হলোÑ সেশনজট দূর করা, অন্যটি শিক্ষার মান নিশ্চিক করা। প্রায় ২ দশকে নানান প্রশাসনিক জটিলতা আর রাজনৈতিক প্রভাবে নেতিবাচকতায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-ব্যবস্থাপনা। ৪ বছরের অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে কারো কারো সময় লেগেছে ৬-৭ বছর। আর, কলেজে শিক্ষার মানও নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন। বর্তমান প্রশাসন এই ২টি চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য ঘোষণা করেছেন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। ২০১৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ সেশনজট মুক্ত করার জন্য কাজ করছে একটি অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসক টিম। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে ২ জন প্রোভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ বিরাট কর্মিবাহিনি কাজ করছেন নিরন্তর।
সেশনজটের কারণসমূহ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে গ্রহণ করা হয়েছে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ। ২জন পরীক্ষকের স্থলে এখন ১জন পরীক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাখা হয়েছে প্রধান পরীক্ষক। প্রতি ২০-২২ জন পরীক্ষকের মূল্যায়নকৃত উত্তরপত্র নিরীক্ষা করার পর ফলাফল প্রকাশের জন্য নম্বরপত্র চূড়ান্ত করা হচ্ছে। উত্তরপত্র হাতে হাতে গ্রহণ ও প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূর্বে ২জন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করলে যে সময় যেত এবং পোস্টঅফিসের মাধ্যমে খাতা একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে যে সময় লগতো, তা সম্পূর্ণভাবে রহিত করা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২/ আড়াই মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনার্স পর্বের ৩টি পরীক্ষা এবং ডিগ্রি পরীক্ষার ফলাফল খুব অল্প সময়ে প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় গত ২ বছর সময়কালে প্রায় ১ বছর সেশনজট কমে গেছে। পরীক্ষা কমিটি গঠন, প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক প্যানেল তৈরিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। টিএমআইএস (টিচার্স ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) পদ্ধতির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক নিবন্ধিত হয়েছেন। অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা বিবেচনায় মনোনীত হচ্ছেন পরীক্ষক। একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটির সদস্য কিংবা পরীক্ষক না রেখে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে এসব দায়িত্ব। প্রধান পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি দেখা হচ্ছে। ফলে বেশি সংখ্যক শিক্ষককে পরীক্ষার কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে সরাসরি উত্তরপত্র বিতরণের ব্যবস্থা পরিবর্তন করে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে স্থানীয়ভাবে শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এতে কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার পাশাপাশি নিশ্চিত হয়েছে দায়িত্বশীলতাও। তবে, চলমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে কেবল ২য় বর্ষ এবং ৪র্থ বর্ষে মৌখিক পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। ১ম বর্ষ এবং ৩য় বর্ষেও মৌখিক পরীক্ষা চালু করা প্রয়োজন। কেননা, ১ বছরে শিক্ষার্থী কী লেখাপড়া করলো, তা জানার জন্য শুধু লিখিত পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। আর পর্যায়ক্রমিক মান উন্নয়নের জন্যও প্রতি বছরের কোর্স শেষে মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। আর ইন্টারনাল পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মৌখিক পরীক্ষায় ইন্টারনাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় প্রধান ও পরবর্তী ১ জন সিনিয়র শিক্ষক। এ ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কমিটিতে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে বেশি সংখ্যক শিক্ষককে কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ, একই ব্যক্তিকে সকল পরীক্ষার দায়িত্ব না দিয়ে পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। তাহলে জুনিয়ররাও কাজের সুযোগ পাবেÑতাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এই পদ্ধতি বেশ ফলপ্রসূও হবে।
২২ বছরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ভাষা ইনস্টিটিউট কিংবা ভাষা-শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে অ্যাকাডেমিক ডিসিপ্লিনে প্রথমেই ভাষাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সম্প্রতি গাজীপুরে কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে একটি ডিজিটাল ল্যাবসহ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার এবং ৬টি প্রশাসনিক বিভাগে ৬ টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে আরো একধাপ এগিয়ে গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা থার্ড বা ফোর্থ ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। প্রফেশনাল ডিগ্রিও গ্রহণ করতে পারবে আগ্রহীরা। এছাড়া, সরকারের সাথে যুক্তভাবে ভাষাশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিদেশে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল রফতানি কাজে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা শিখে বিদেশে গেলে আমাদের শ্রমিক ও অন্যান্য পেশাজীবিরা যেমন অধিক বেতনে চাকুরি করার সুযোগ পাবে, তেমনই পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে আমাদের রেমিটেন্স। বাড়বে দেশের সুনামও।
সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সকল ভর্তি, ভর্তি বাতিল, অভিভুক্তি, ফলাফল প্রকাশ, কলেজ পরিবর্তন, নবায়ন প্রভৃতি কাজে অনলাইন সার্ভিস চালু করেছে। ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী কলেজে কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে হাজির না হয়েও কিছু দরকারি কাজ সেরে নিতে পারছে। কলেজগুলোও তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও গতিময়তা উপভোগ করতে পারবে। এই উদ্যোগের ফলে প্রাসঙ্গিক কিছু জটিলতা ও দুর্নীতি (যদি থাকে) কমে আসবে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সম্মানী পরীক্ষকের অ্যাকাউন্ট নম্বরে পাঠানোর জন্য চালু হয়েছে ‘সোনালী ব্যাংক সেবা সার্ভিস’। ফলাফল প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হচ্ছে তার প্রাপ্য টাকা। আগামী ২ বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইন সেবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে, অনলাইন সেবার পাশাপাশি একটি আপডেটেড ওয়েবপেজ নির্মাণ করাও জরুরি কাজ বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে, অ্যাকাডেমিক এবং ফ্যাকাল্টি বিষয়ক ইনফরমেশন যুক্ত হলে সারা বিশ্ব এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে।
কলেজ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যেই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। বছরে প্রায় ১০০০ শিক্ষককে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যেসব কলেজ থেকে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন, প্রশিক্ষণ শেষে ওইসব কলেজকে প্রদান করা হচ্ছে ২ হাজার (প্রতিটির জন্য) টাকা মূল্যমানের সিলেবাসভিত্তিক বই। এতে করে শিক্ষকের যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কলেজের লাইব্রেরিগুলোও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে জার্নাল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে গত বছর থেকে চলছে ‘মাস্টার্স ইন অ্যাডভান্স স্টাডিজ’। বাংলা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স, লাইব্রেরি সায়েন্সে চলছে এই প্রোগ্রাম। আগামী বছর ট্যুরিজমসহ আরো কিছু বিষয়ে চালু হবে থিসিস বেইজড এই বিশেষ মাস্টার্স ডিগ্রি। শিক্ষার্থীদের এইসব গবেষণা বা অভিসন্দর্ভ জাতীয় নীতি-নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। জাতীয় উন্নয়ন ও ভাবধারাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভিশন বাস্তবায়নে বর্তমান মিশন সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।

ড. ফজলুল হক সৈকত
লেখক: গবেষক ও প্রাবন্ধিক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা ও আজকের আন্দোলন

sarup pic

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদাসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকেরা  চেয়ার বর্জন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন।

যুক্তরাজ্য দলের দলনেতা ড. জেফ এর ভাষায় , প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার কারণে সমাজে ওনার স্ট্যাটাসের কোনো অবনতি যেমন হয়নি, তেমনি তাঁর আর্থিক অবস্থারও তেমন কোনো হেরফের হয়নি। যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আপনি অনেক উচ্চশিক্ষিত, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক পাবেন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। কারণ, সেখানে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেলই কেবল নেই, আছে যোগ্যতা অনুসারে সম্মানীর ব্যবস্থাও। কাজে যাঁদের আগ্রহ আছে, শুধু তাঁরা নন, যাঁদেরকে প্রয়োজন, তাঁরা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে পিছপা হন না।

আসলে কি তাই? প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকতা বরং অনেক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রিসার্চ গাইডেন্স ছাড়া যে শিক্ষকতা, তার চেয়ে কঠিন বৈ সোজা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পরিণত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে আসেন। এর আগের ১২ বছরের শিক্ষাজীবনে তাঁর কিছু না কিছু ধ্যানধারণা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেগুলোর বিকাশ হয়। হয় বলে অনেক জায়গায় দূরশিক্ষণে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া যায়। কিন্তু আপনি অনেক খুঁজেও এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বের করতে পারবেন না, যেখানে দূরশিক্ষণে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা হলো বুনিয়াদি শিক্ষা।

এই সময়ে একজন শিক্ষার্থীর মনোজগৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষার্থীর বয়স, চাহিদা, ভালো লাগা না-লাগা বা মনোভাব ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রেখে শিক্ষককে শিখনের পরিবেশ তৈরি করতে হয়। সেখানে ভুল করার অবকাশ কম।

প্রাথমিক শিক্ষককে তাঁর বিষয়গুলোতে যেমন খুবই দক্ষ হতে হয়, তেমনি শিক্ষার দর্শন, শিক্ষার সাইকোলজি ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে খুবই দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হয় যেন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন সম্ভব হয়। যত বেশি তাঁর এক্সপোজার থাকবে, ততই তিনি কুশলী শিক্ষক হবেন। তাঁর জানার ব্যাপ্তি হতে হবে অনেক বেশি। কারণ, শিশুমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়, যার জবাব দিতে হলে উত্তরদাতার জ্ঞানের পরিধি অনেক বেশি হতে হয়।

আবার কোন পদ্ধতিতে উত্তর করবেন, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হয়। এখানে ফাঁকি দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুল শিখেই বড় হবে। আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা, তাতে এটা কোনোভাবেই দাবি করা যাবে না যে একজন এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার মূল ব্যাপারগুলোতে সিদ্ধ হয়ে ওঠেন। কাজেই একজন এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে খুবই উন্নত শিক্ষক হবেন, এমনটা আশা করা বাতুলতা। যদিও তাঁর জন্য অনেক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
আমার মনে হয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগ্যতা কমিয়ে রাখার সম্ভবত অন্য একটি কারণ আছে এবং সেটি আর্থিক। সম্ভবত বললাম কারণ, এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আমি কোথাও পাইনি। বাংলাদেশ মনে হয় বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা হলো তৃতীয় শ্রেণীর।

শুধু মর্যাদা নয়, একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন স্কেল হলো চার হাজার ৭০০ টাকা এবং তিনি সব মিলিয়ে আট হাজার টাকা পান প্রতি মাসে। অন্যদিকে সরকারি গাড়িচালকদের বেতন স্কেল পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা এবং তাঁদের মোট বেতন হয় ১০ হাজার টাকার বেশি। সম্প্রতি সংবাদপত্রের জন্য যে অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে একজন পিয়নের শুরুর বেতন ধরা হয়েছে এর দ্বিগুণ। পোশাকশ্রমিকদের মজুরিও কমপক্ষে আট হাজার টাকা করার উদ্যোগ রয়েছে।
আবার শিক্ষাদানই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একমাত্র কাজ নয়। মাঠপর্যায়ে যত সরকারি অনানুষ্ঠানিক কাজ, সবই তাঁদের করতে হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে, তো পাঠাও প্রাইমারি টিচারদের। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করতে হবে—প্রাইমারি শিক্ষকেরা তো আছেন। বাচ্চাদের কৃমিনাশক বড়ি বা ভিটামিন ‘এ’ খাওয়াতে হবে—লোক তো আছে!
সৈয়দ মুজতবা আলী অনেক দিন আগে তাঁর ‘পাদটীকা’ গল্পের পণ্ডিত মশাইয়ের মাধ্যমে আমাদের সমাজে শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময়ের পণ্ডিতদের ‘পাণ্ডিত্য ছিল অন্যান্য শিক্ষকদের তুলনায় অনেক বেশি কিন্তু সম্মান এবং পারিশ্রমিক এঁরা পেতেন সবচেয়ে কম। শুনেছি কোনো কোনো স্কুলে পণ্ডিতের মাইনে চাপরাসীর চেয়েও কম ছিল।’
সৈয়দ মুজতবা আলী যে সময়কার কথা বলেছেন, সেটি ব্রিটিশ আমলের কথা। এরপর পাকিস্তানি শোষণের সময় পেরিয়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি, তা-ও প্রায় ৪৪ বছর হয়ে গেল। প্রতিবছর যে তিন কোটি ছেলেমেয়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যায়, তাদের মধ্যে এক কোটির বেশি আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। যে মমতা আর স্নেহ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকেরা তাদের গড়ে তুলছেন, তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি কিংবা তাঁদের সচ্ছল রাখার জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই?

স্বরুপ দাস

সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা

আহবায়ক (খুলনা বিভাগ)

বাসপ্রাবিপ্রশিস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী

সঞ্চিতা অধিকারী : Milestone-College-SSC-2015অনশ্চিয়তার দোলাচলে একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ভুগছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এসব কারণে তিন দফায় অনলাইনে ভর্তির তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে গেছে। ভর্তি তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

ঢাকা বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৩০০-এর ওপরে আসন থাকা কলেজের সংখ্যা প্রায় ৫০০। আর এতে ভর্তি হতে পারবে এক লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের কথা চিন্তা করেই অনলাইনে আবেদনের জন্য বুয়েটের সহায়তায় সার্ভার তৈরি করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করেই সব কলেজকে এই প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত দেয়। তাই এক লাখ ৮০ হাজারের উপযোগী সার্ভারকে ১২ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য তৈরি করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত লোড নিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর সার্ভারের অক্ষমতার বিষয়টি বুঝতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ জন্য রাত ১১টার দিকে বুয়েটে উপস্থিত হন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তখন সিদ্ধান্ত হয় যেভাবেই হোক সীমিত পর্যায়ে হলেও ফলাফল সাড়ে ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে দেওয়া হবে। কিন্তু সে চেষ্টাও বিফলে। এরপর ঘটে অন্য বিপত্তি। রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে থাকে। সাইট ওপেন করলেই ভেসে ওঠে ‘আ লাভ ইউ- লাভার গ্রুপ নামে একটি বাক্য। এতে সবাই আরো চিন্তায় পড়ে যান। তারা সিদ্ধান্ত নেন, তাড়াহুড়া করে ফল দেওয়ার চেষ্টা করতে গেলে ফের বিপত্তি ঘটতে পারে। এভাবেই রাত ৩টা বেজে যায়। শিক্ষাসচিব তখন ফল প্রকাশের তারিখ এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার রাত ১১টায় করার ঘোষণা দেন এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, দায়িত্ব অবহেলা ও অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আইটি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কবিরসহ তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীন বলেন, যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা মূলত এ বিষয়ে অভিজ্ঞ নয়। একারণে এমন বিপর্যের মধ্যে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি আমরা আগে বুঝতে পারলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতাম উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সকালে শিক্ষা সচিব এন আই খানের উপস্থিতিতে বুয়েটের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যাম মো. আবুবক্করসহ শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জরুরি সভা করা হয়েছে। কায়কোবাদে তত্ত্বাবধানে আগামী কাল রোববার ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২২০০ আসনের মধ্যে কোচিং থেকে চান্স পেয়েছে ২৫০০!

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যার চেয়ে কোচিং সেন্টার থেকে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী! এই অসাধ্যকে সাধন করেছে রাজধানীর পাঁচ কোচিং সেন্টার। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই মেধাক্রমে চান্স পাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে তিন-চারটি সেন্টারে। এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরিচালিত বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের প্রসপেক্টাসে। আর এসব ফোলানো-ফাঁপানো তথ্যে মন্ত্রমুগ্ধ হয়েই কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদে (খ ইউনিট) আসন সংখ্যা ছিল ২২২১। এই আসন সংখ্যার বিপরীতে ইউসিসি, ইউনিএইড(কবির-সুমন), ইউনিএইড(মনির-মল্লিক), আইকন ও আইকন প্লাস থেকে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫৬৪ জন। যাদের মধ্যে ইউসিসি’র শিক্ষার্থী ৮৫৬, ইউনিএইড’র (কবির-সুমন) ১০৪২, ইউনিএইড’র (মনির-মল্লিক) ২৬৬, আইকন ৩১০ ও আইকন প্লাস ৯০ জনের বেশি। এছাড়া এই পাঁচ কোচিং থেকে বাণিজ্য অনুষদের (গ ইউনিট) ১১৭০টি আসনের বিপরীতে চান্স পেয়েছন ১৭৪৪ জন। কোচিং সেন্টারগুলো তাদের প্রসপেক্টাসে আবার এসব শিক্ষার্থী তাদের প্রতিষ্ঠানেই কোচিং করেছেন দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

কোচিং সেন্টারের বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবছর শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা নানামুখি পদক্ষেপের কথা বললেও এসব প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য বন্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপই নেননি। এর ফলে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পকেট কেটে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। সচেতন অভিভাবকেরা এসব ধান্দাবাজির অপব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

UCC_BG1গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রথম বিশজনের মধ্যে আটজনই তাদের কাছে পাঠ নিয়েছে বলে দাবি করছে একাধিক কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও সতেরতম স্থান লাভ করা শিক্ষার্থীদের নাম, ছবি ও কলেজের নাম দিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে আইকন, ইউসিসি ও ইউনিএইড। আর খ ইউনিটে সেরা বিশের চার শিক্ষার্থী এসব কোচিং সেন্টারের আইকন প্লাস ছাড়া সবক’টিতেই পাঠ নিয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে শুধু এসব কোচিং সেন্টারে পাঠগ্রহণ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় না! প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আলাদাভাবে পড়তে হয় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রাইভেট ব্যাচে। একেকজন বিশেষজ্ঞ! পড়ান আলাদা আলাদা বিষয়। এদের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে দিতে হয় আরো চার-পাঁচ হাজার টাকা করে।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, কোচিংয়ে যেসব ভাইয়ারা পড়ান তাদের কাছে আলাদাভাবে না পড়লে কোচিং ক্লাসে বকাঝকা করেন। তাছাড়া এনারা পরিক্ষার্থীদের কাছে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস/জোগাড় করে দেওয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করেন।

ইউসিসিতে ইংরেজি পড়ান ‘আলী স্যার’ নামে পরিচিত একজন। সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে তাকে ফোন করা হলে ব্যাচে শিক্ষার্থী নেওয়া শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তুমি কোন কলেজে পড়? কাল সকাল এগারটার মধ্যে কোচিংয়ে চলে আসো। এসে আমাকে একটা ফোন দাও।’ পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি রং নাম্বার বলে ফোন রেখে দেন।

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এমন নানা প্রচারের ফাঁদে কোচিং করতে আকৃষ্ট করছে এসব প্রতিষ্ঠান। আর নানা কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। উপরে হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

যে ভাবে র‌্যাপিড্লি সড়ক দূর্ঘটনা কমানো সম্ভব

মোঃ সালাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্road accidentশক, শহর ও যানবাহন, ঝিনাইদহঃ সড়ক দূর্ঘটনা! সড়ক দূর্ঘটনা! সড়ক দূর্ঘটনা! এ নামটা যেন নিত্য দিনের ঘটনা। এটা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এতে প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে বহু তাঁজা প্রান। থমকে যাচ্ছে বহু পরিবার। পঙ্গু হাসপাতালে গেলে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সহজেই উপলব্দি করা যায়। সড়ক দূর্ঘটনায় বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই সমাজের সচেতন মানুষ এর থেকে পরিত্রানের পথ খোজার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন ভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত আমরা সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক ইনটেলেকচুয়াল ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এত সড়ক দূর্ঘটনা! এর প্রতিকার কি কোন ভাবেই সম্ভব নয়? এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৪ সালে সারা দেশে ৫,৯২৮টি সড়ক দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে ৮,৫৮৯ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১৭,৫২৩ জন। মহাসড়কগুলেতে এই সড়ক দূর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। এত আহত ও নিহত লোকের মধ্যে একটা বড় অংশ পথচারী। আমার ভাবতে অবাক লাগে, আমরা অনেক শিক্ষিত লোকও ট্রাফিক আইনের পথ চলার নিয়মটা জানি না। আর গ্রামের নিরক্ষর লেকের কথাতো বাদই দিলাম। কারন তারাতো রাস্তা পারাপার হয় রাস্তার একদিকে তাকিয়ে অথবা দৌড় দিয়ে। রাস্তা পারাপার হওয়ার নিয়ম হলো প্রথমে ডানে তাকাতে হবে, তারপর বামে এবং সর্বশেষ ডানে তাকিয়ে রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তা পার হতে হলে আপনাকে ডানে তাকাতে হবে কারন ডান দিকের গাড়ী আপনাকে প্রথমে আঘাত করবে। এরপর বামে তাকাতে হবে কারন উল্টা দিক থেকে যে কোন সময় গাড়ী আসতে পারে। সর্বশেষ ডানে তাকাতে হবে কারন এই সময়ের মধ্যে যে কোন গাড়ী চলে আসতে পারে। পথচারী হিসাবে সড়ক দিয়ে হাটার নিয়ম হলো- সব সময় রাস্তার ডান পার্শ্ব দিয়ে হাটতে হবে। কারন আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী গাড়ী বাম পার্শ্ব দিয়ে চলে। পথচারীও যদি বাম পার্শ্ব দিয়ে চলে তাহলে পিছন থেকে আগত গাড়ীগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আঘাত করতে পারে। আপনি ডান পার্শ্ব দিয়ে হাটলে আপনার সামনের গাড়ীগুলো দেখে নির্বিঘেœ রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে পথচারীকে পিছন থেকে কোন গাড়ী আঘাত করার সম্ভাবনা থাকে না। এই পথ চলার নিয়ম না জানার কারনে প্রতি বছর অনেকেই দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পথ চলার নিয়ম প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ওয়ান থেকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সড়ক দূর্ঘটনার অনেক কারন রয়েছে। যেমন চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালনা, রোড সাইন না বুঝে যেখানে সেখানে ওভারটেক করা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, রাস্তার ত্র“টি, ত্র“টি যুক্ত গাড়ী ব্যবহার, পথচারীদের পথ চলার নিয়ম না জানা, মহাসড়কে নছিমন, করিমন ইঞ্জিন চালিত গাড়ী চালনা, বিশ্রাম ব্যতীত একটানা গাড়ী চালনা, গাড়ীর ইঞ্জিন এবং চাকা চেক না করে গাড়ী বের করা। রাত্রিকালীন সময়ে বড় গাড়ীগুলো নিয়ম না মেনে হাইভীম ব্যবহার করা, হাইওয়েতে বাজার স্থাপন, রাস্তার উপর বালু বা মাটি রাখা, গাড়ী চালনার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলপার দিয়ে গাড়ী চালনা, গাড়ীর মালিকেরা চালকদের প্রতি উদাসীনতা, ঝুকি পূর্ণভাবে লোক বা মাল বহন করা, সঠিক পদ্ধতিতে লাইসেন্স গ্রহণ না করা, যাত্রীদের চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ী চালনায় উৎসাহীত করা সহ আরো কিছু কারনে সড়ক দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়। সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারন চালক নিজে। ত্র“টিযুক্ত গাড়ীর কারনে দূর্ঘটনা ঘটলেও এর জন্য দায়ী ড্রাইভার। কারন গাড়ীর সবকিছু ঠিক না থাকলে একজন ড্রাইভারের সড়কে গাড়ী বের করা উচিৎ নয়। বর্তমানে বেশী বেপরোয়া দুর পাল্লার বাসের চালকেরা। ট্রাকগুলোও বেপরোয়া, তবে লোডেড অবস্থায় চালকেরা অধিক গতিতে গাড়ী চালাতে পারে না। একজন চালককে বুঝতে হবে তার উপর নির্ভর করছে সমস্ত যাত্রীর জীবন। তার সাথে যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিশ্চয়তা। চালক যদি অন্য মনস্ক অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালায় তখনই ঘটে এই দূর্ঘটনা। একজন চালককে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে এবং সুস্থ মন নিয়ে ষ্টেয়ারিং ধরতে হবে। তবেই যাত্রীরা নিরাপদ ভাবে যেতে পারবে। তাই একজন ড্রাইভার সমাজের যে কত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই উপলব্ধি বোধ তার মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ চালক লেখাপড়া জানে না। তাদের রোড সাইন সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নেই। গাড়ী চালনার সময় কোথায় ওভারটেক করা যাবে এবং কোথায় যাবে না সে বিষয়ে তাদের কোন ধারনা নেই। রোড সাইন সম্পর্কে আমি দুটি সাইনের কথা বলব।

একটি হলো-রাস্তার মাঝখান দিয়ে সাদা দাগ যাহা লম্বালম্বিভাবে চলে গিয়েছে। এটাকে বলা হয় অভারটেকিং নিষিদ্ধ সাইন। এখানে কোন অবস্থায় ওভারটেক করা যাবে না। এধরনের সাইন সাধারনত রাস্তার টার্নিং পয়েন্টে, কোন ব্রীজের আগে বা বাজার এলাকাই দেখা যায়। অপরটি হলো-রাস্তার মাঝখানে ফাকা ফাকা সাদা দাগ। এখানে একজন চালক ইচ্ছা করলে সুবিধামত সময়ে অভারটেক করতে পারবে। এ ধরনের সাইন সাধারনত সোজা রাস্তায় দেখা যায়। হাই ওয়েতে চালার সময় এ দুটি সাইন জানা খুবই জরুরী।

দু’টি পদ্ধতিতে সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। প্রথমতঃ যেহেতু বেশীর ভাগ দূর্ঘটনা ঘটায় বাস এবং ট্রাকের চালকেরা। তাদের বেপরোয়া খামখেয়ালী অভারটেকিং এর কারনে এই দূর্ঘটনা গুলো ঘটছে। আমাদের দেশে যে মহাসড়ক আছে কোনটিকেই আন্তর্জাতিক মানের মহাসড়ক বলা যায় না। তাই প্রতিটি বাস এবং ট্রাকে বি,আর,টি,এ কর্তৃক সর্বোচ্ছ গতি ঘন্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়ে গভর্ণর সীল সংযুক্ত করে দিলে একজন চালক ইচ্ছামত নির্ধারিত গতির অধিক গতিতে গাড়ী চালাতে পারবে না। চালক পরবর্তীতে এই সীল পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে অবশ্যই গাড়ী আটকের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি আশির দশক পর্যন্ত প্রচলন ছিল।

দ্বিতীয়তঃ যেহেতু সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারণ চালক নিজে, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশকে পর্যাপ্ত স্পীড ডিটেক্টর সরবরাহ করা যেতে পারে।

স্পীড ডিটেক্টর সম্পর্কে আমাদের অনেকের ধারনা নেই। এটা দেখতে অনেকটা মুভি ক্যামেরার মত। একজন পুলিশ সদস্য কোন গাছের আড়ালে দাড়িয়ে গাড়ীর গতি স্পীড ডিটেক্টর এর মাধ্যমে সনাক্ত করে আগে থেকে নির্ধারিত র্কিলোমিটার দুরে অবস্থানকারী টিমকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে অবহিত করে সেই গাড়ীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দিলে চালক গাড়ী চালনার সময় সতর্ক থাকবে। সে বুঝতেও পারবে না কোথায় থেকে তার গাড়ীর গতি সনাক্ত করা হয়েছে। তখন প্রত্যেক চালক মনে করবে অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়া চালনার কারনে যে কোন সময় মহাসড়কে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। যেহেতু চালকের কারনে এই মামলা হচ্ছে তাই এর জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। জরিমানা দেওয়ার ফলে ঐ ড্রাইভার পরবর্তীতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাবে না। এই টিমের সঙ্গে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট থাকতে পারে। মহাসড়কে চালক অপরাধ করলে নগদ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা রেখে একটা টিমকে কম পক্ষে ত্রিশ কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে দিলে এবং তারা স্থান পরিবর্তন করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রসিকিউশন দ্বারা নগদ জরিমানা আদায় অব্যহত রাখলে চালকেরা বেপরোয়া ও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাতে সাহস পাবে না। এক্ষেত্রে যে নগদ জরিমানা করা হবে, তার ৫০% টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে এবং অবশিষ্ট ৫০% টাকা ম্যাজিষ্ট্রেট সহ পুরো টিমকে ইনসেনটিভ হিসাবে দেওয়া হলে তারা এই কাজ করতে উৎসাহিত হবে। ফলে উক্ত কাজে দুর্নীতির কোন সুযোগ থাকবে না। মহাসড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিটি জেলায় কম পক্ষে দুটি টিম কাজ করলে এবং তার সার্বিক দায়িত্বে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয় উভয়ই যদি দুই ঘন্টা পর পর হাইওয়েতে নিয়োজিত টিমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দিক নির্দেশনা দেয় তা হলে তাদের কাজের গতি বাড়বে এবং মহাসড়ক সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। এই পুলিশ টিমের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের পুলিশ সুপার কর্তৃক বাছাই করে স্মার্ট, ইন্টিলিজেন্ট, সৎ এবং পজিটিভ মনের অধিকারী সদস্যদের এই কাজে অন্তর্ভূক্ত করলে জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে। এছাড়া এই টিম মহাসড়কে নসিমন, করিমন সহ অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মহাসড়ক অনেকটা বিরাপদে থাকবে। ড্রাইভারদের খামখেয়ালী বেপরোয়া গাড়ী চালনার করনে আমরা আর এই ভাবে একটার পর একটা সড়ক দূর্ঘটনা দেখতে চাই না, আমরা দেখতে চাই না মিরেরসরাই এর মত সড়ক দূর্ঘটনা, যাতে ৩৫ জন কোমলমতি ছাত্র মারা গিয়েছিল। আজও সেই এলাকায় ঐ সমস্ত মায়েদের আহাজারি শোনা যায়। আমরা আর হারাতে চাইনা তারেক মাসুদ ও মিসুক মনিরের মত মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদেরকে। তাই বাস, ট্রাক মালিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তায় জরুরী ভিত্তিতে ট্রাফিক পুলিশ এবং বি,আর,টি,এ কর্তৃক প্রত্যেক চালককে ট্রাফিক আইন ও রোড সাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমার ধারনা সারা দেশে মহাসড়কে যদি একযোগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করে স্পীড ডিটেক্টর দ্বারা গাড়ীর গতি সনাক্ত করে নগদ জরিমানা আদায় করা চলতে থাকে তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সারা দেশের মহাসড়ক গাড়ী চালনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসা সহ জাতি অভিশপ্ত দূর্ঘটনার কবল থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাবে।  মোবাইল নং- ০১৭৩৩-৫৩৪৩৮৪

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাঁস ॥ শিক্ষা খাতে ক্যান্সার

  • এই অশুভ ঘটনায় সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান
  • অটোমোশন পদ্ধতি চালু করে চিরতরে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
  • জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
  • হোতা শনাক্তে তৎপর গোয়েন্দারা
বিভাষ বাড়ৈ/গাফফার খান চৌধুরী ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষা খাতের ক্যান্সার হয়ে দেখা দিয়েছে। এই অশুভ ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান করে দিয়েছে। সম্প্রতি অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এতে শুধু সরকারই বিব্রত হয়নি, বিপাকে পড়েছে লাখো শিক্ষার্থী। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য চলছে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা। এই পদ্ধতিতে পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্নপত্র সরাসরি ছাপার জন্য প্লেট আকারে তৈরি হয়ে যাবে। কয়েক ধাপে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রয়োজন হবে না। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত কার্যকরের নানাদিক নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে। সেইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি বিজি প্রেসসহ সরকারী ছাপাখানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র হস্তান্তরের পরই ফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর এবং বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হালনাগাদ অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ১৯৭৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রথম ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় প্রথম তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়। হালনাগাদ বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অন্তত ৩৩ বার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি যথারীতি রিপোর্টও দিয়েছে। কিন্তু সেসব রিপোর্টে কমিটির সুপারিশ অধিকাংশই কার্যকর হয়নি।
সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণীর গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে উপজেলাটির ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। তবে আগের মতো আর ঢালাওভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে না।
২০১০ সালের ৮ জুলাই রংপুরে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ভুয়া পরীক্ষার্থীর কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেটিই ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা ভিন্নজগত নামে একটি বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্রের তিনটি কক্ষ ভাড়া নেয়। সেখানে পরীক্ষার্থীদের আগাম পরীক্ষা নেয়ার সময় ৫ দালালসহ ১৬৭ জন পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন পরীক্ষার্থী ছাড়াও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী হামিদুল হক, বিজি প্রেসের কর্মচারী, কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান ও পটুয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশারসহ বিজি প্রেসের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় গবর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও বিজি প্রেসের বাইন্ডার লাবণী বেগম, পিএসসির (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এ রউফ।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, বিজি প্রেসের ভেতর থেকে ট্রাঙ্কে রাখা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দেয়া ২৮ লাখ টাকাসহ বিজি প্রেসের কর্মচারী আব্দুল জলিল গ্রেফতার হয়। ঘটনার দীর্ঘ তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গোপনীয় শাখাসহ পুরো বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ত্রুটির চিত্র উঠে আসে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনেও জানানো হয়, বিজি প্রেসের প্রধান ফটক ও গোপনীয় শাখায় প্রবেশ ও বহির্গমনে কোন তল্লাশি না থাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই একজন কর্মচারী অনায়াসে একটি ট্রাঙ্কে করে ২৮ লাখ টাকা নিয়ে বিজি প্রেসে ঢুকতে সমর্থ হয়েছিলেন। বিজি ও জিপি প্রেসের চক্রটিই সব সময় প্রশ্ন বের করে আনা-নেয়ার দায়িত্ব পালন করে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে পিএসসি ও বিজি প্রেসের অন্তত ১০ কর্মকর্তা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমল থেকেই এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পিএসসির বিতর্কিত সদস্য ড. মাহফুজুর রহমান ও তাঁর দুই ভাগ্নেসহ কয়েক পরিচালক কাজ করছিলেন। তাঁদের যোগসাজশেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য বিজি প্রেসের সার্বিক নিরাপত্তায় এপিবিএন’র (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ৬২ সদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠনসহ বিজি প্রেসের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেয়া হয়েছিল ওই বিশেষ প্রতিবেদনে।
বিজি প্রেস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পেপার ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার মুদ্রিত প্রশ্নপত্র সিলগালা করে রাখতে নতুন স্ট্রংরুম তৈরি করা হয়েছে। ছাপাকৃত সকল প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে রাখা হচ্ছে। বিজি প্রেসের মনিটরিং সেলের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে সিলগালা করা হয়ে থাকে। মূল গেট বন্ধের পর সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা রয়েছে। পুরো বিজি প্রেস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে গোপনীয় শাখার কার্যক্রম। গোপনীয় শাখায় কর্মরতদের পুরো শরীর তল্লাশি করে ঢুকতে দেয়া হয়। বের হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় পুরো শরীর তল্লাশি করা হবে। তাদের কোন অন্তর্বাস ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। পকেটহীন নীল রঙ্গের পোশাক ব্যবহার করতে হয়। ট্রাউজারে কোন বেল্ট বা পকেট থাকে না।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ২০১০ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে কঠোর নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশের পরই বিজি প্রেসের প্রশ্নপত্র শাখাকে অন্য মুদ্রণ শাখা থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলা হয়। এমনকি প্রশ্নপত্র ছাপার গোপনীয় শাখা পুরোপুরি মূল প্রেস ভবন থেকেই আলাদা করা হয়। প্রশ্নপত্র শাখায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর, পেপার ডিটেক্টর, ভল্ট ডোর, ক্যামকোর্ডার, গোপন ক্যামেরা আর পর্যাপ্ত সিসিটিভি। গোপনীয় ইউনিটের প্রবেশপথ ও বিজি প্রেসের সাধারণ শাখার আলাদা আলাদা প্রবেশপথও তৈরি করা হয়।
বিজি প্রেসের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত প্রতিবেদন মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে ২০১০ সালের পর হালনাগাদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। ৩২টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে প্রশ্নপত্র ছাপার গোপন শাখা সব সময় মনিটরিং করা হয়। প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর জেলা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের আর কোন দায়িত্ব থাকে না। সেখান থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা বেশি থাকে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত থাকেন। এসব প্রক্রিয়ায় জড়িতদের মাধ্যমেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এতে করে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হবে। অনেক শিক্ষক বা প্রশ্নপত্র প্রণেতা বা অন্যদের অংশগ্রহণ কমে আসবে। পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্ন সরাসরি অটোমেশন পদ্ধতিতে প্লেট আকারে তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এতে গোপনীয়তা রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। কয়েক হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরির জটিলতা থাকবে না। যত হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা তত বেশি থাকে। তাই অটোমেশন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা বা থানা থেকে প্রশ্নপত্রগুলো সরবরাহ করার প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতার বিষয় নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠিত হয়নি। তবে মিরপুর পুলিশ লাইন ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ৬০ সদস্যের একটি দল নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
এরপর ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও সরকারী চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিদর্শক মফিজুর রহমান মফিজ (৩৫) ১০ সহযোগীসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি আবারও ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। সহযোগীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় অত্যাধুনিক ঘড়ি সদৃশ ২০ মোবাইল ফোন ঘড়ি। গ্রেফতারকৃত চক্রটির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে প্রকাশ পায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হালে প্রশ্নপত্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাধ্যমে মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটছে। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্রের বান্ডেল খোলা হয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বা কর্মচারীর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মোবাইল ফোন দিয়ে প্রশ্নপত্র স্ক্যান করা হয়। এরপর স্ক্যান করা প্রশ্নপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের অপর সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। তারা ভাল ছাত্রদের দিয়ে প্রশ্নের সমাধান করে। এরপর সমাধান করা উত্তর এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিশেষ ডিভাইসযুক্ত হাতঘড়ি সদৃশ মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয়া হতো।
ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিটি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, সরকারী তিতুমীর কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁস সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সিন্ডিকেটটি ২০০৯ সাল থেকে সক্রিয়। চক্রটির হাত ধরে সরকারী চাকরি পেয়েছেন অন্তত ৫ হাজার। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধু প্রশ্নপত্র আনা-নেয়ার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। আনা- নেয়ার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন আশঙ্কা নেই। তারপরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। কিন্তু সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে না। যেসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঢালাওভাবে ফাঁস হয় শুধু সেসব খবরই প্রকাশ পায়। একটি প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে বহু লোক জড়িত থাকেন। অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে থাকে। প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত একাধিক কমিটি রয়েছে। প্রথমে প্রশ্নের খসড়া তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে জমা হয় অধিদফতরে।
তিনি বলেন, হয়তো কোন প্রশ্নপ্রণেতা দশটি প্রশ্নের প্রস্তাব করেন। তার মধ্যে হয়তো একটি প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রে জায়গা পায়। এভাবেই একেকটি প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। সমস্ত প্রশ্নপত্র এসে জমা হলে তা আলাদ স্ট্রংরুমে রাখা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নপত্রগুলো নানা বিষয় অনুযায়ী পৃথক করে সিলগালা করা হয়। পরে তা রাখা হয় স্ট্রংরুমে। এরপর ছাপার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণেই একাধিক প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করা হয়ে থাকে।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক একেএম মঞ্জুরুল হক প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের পর প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিদফতরের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্রুত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা জাতির মেরুদ- দুর্বল করে দিচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এরা দেশদ্রোহী। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। অন্যথায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আস্তে আস্তে ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিক্যাল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ প্রায় ৩০ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ ওঠে। প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বেআইনী বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-সহ অর্থদ-ের বিধান রয়েছে।
যদিও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে কাজ চলছে।
তথ্যসুত্র: জনকন্ঠ
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাঁস বাণিজ্য জাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনেক পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। আর পরীক্ষা নিয়ে এখানে একধরণের ব্যবসা হচ্ছে। বহু বাণিজ্যের মতো এদেশে পরীক্ষাও একধরণের বাণিজ্য।

রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড.মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আসলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সমাজ এবং ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ের মতলববাজদের দ্বারা নকল এবং প্রশ্ন ফাঁসের যে পরিস্থিতি তাতে জাতি একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো

রেডিও তেহরান: জনাব মাহবুব উল্লাহ, বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, জুনিয়র এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নকলের ছড়াছড়ি চলছে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই যতসব অভিযোগ। যেখানে প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে সেখানে উল্টো চিত্র। এর কারণ কি?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: দেখুন বাংলাদেশে একসময় মহামারীর মতো পরীক্ষায় নকল হত। তবে সেই নকলের বিরুদ্ধে একসময় ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। এরফলে পরবর্তীতে আমরা লক্ষ্য করলাম এস এস সি এবং এইচ এস সি পরীক্ষায় নকল প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আবারও সেই পুরনো অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস।

বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনেক পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। পঞ্চম, অষ্টম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা তো আছে। এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ফলে সাধারণত পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পাওয়া যায়। একশ্রেণীর দুষ্টুচক্রের হাতে গিয়ে পৌঁছায় এসব প্রশ্নপত্র। তারা এই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বাজারজাত করে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে। বলতে গেলে এখানে পরীক্ষা নিয়ে একধরণের ব্যবসা হচ্ছে। আমাদের দেশে অনেকরকম বাণিজ্য আছে যেটা সভ্য কোনো দেশে নেই, যেমন- ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বদলি বাণিজ্য এসব নানাধরণের বিষয় রয়েছে। আর এরসঙ্গে নতুন উপসর্গ হিসেবে যোগ হয়েছে পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে বাণিজ্য। অর্থাৎ এখানে যতরকম অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করা যায়, ধনাগম করা যায় সেই ধরণের অবস্থা বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে লক্ষ্য করছি।

আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রতিহত করার জন্য বা যাতে এটা আর বিস্তার লাভ করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি না! আসলে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

যেমন প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যিনি মন্ত্রী আছেন তাকে মিডিয়ার পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, এ ধরণের কোনো খবর তিনি জানেন না। জানলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমরা আরো লক্ষ্য করি এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায় না। এর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে সদ্ভাবে একাগ্রতা নিয়ে যারা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা যখন দেখে অন্যরা প্রশ্নপত্র পেয়ে গেছে এবং এরফলে তারা ভালো নাম্বার পাচ্ছে তখন তাদের মধ্যে একধরণের হতাশা সৃষ্টি হয়। এ কারণে আস্তে আস্তে কোমলমতি ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া বিমুখ হয়ে পড়ে বা শিক্ষা বিমুখ হয়ে পড়ে। এতে করে একটা জাতির জন্য শিক্ষা বিমুখতার অবস্থা সৃষ্টি হয়। আর এই অবস্থা যে কত বিপজ্জনক তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। আর ঠিক সেই অবস্থাটাই আমাদের দেশে হচ্ছে।

রেডিও তেহরান: নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তো এ পর্যন্ত তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাকে কি যথেষ্ট বলা যায়?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: না, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী এ পর্যন্ত যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তাকে আমি কোনোভাবেই যথেস্ট বলব না। যেটি করা হয়েছে বা বলা হচ্ছে সেটা সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার একটা চেস্টামাত্র। আর এভাবে সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ভাবনার জন্ম নেবে যে তারাও হয়তো এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ফলে তাদেরকে এ ব্যাপারে অবশ্যই কিছু করতে হবে।

রেডিও তেহরান: প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ওপর গজব নেমে আসবে। অনেকটা অসহায়ত্ব ফুঁটে উঠেছে মন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে। কি বলবেন আপনি এ বক্তব্য সম্পর্কে?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: মন্ত্রীর এ বক্তব্য আসলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা। আমাদের দেশে মানুষ যখন খুব অসহায় হয়ে যায়, অত্যাচারী, নিপীড়ক, বঞ্চনাকারীর ব্যাপারে রাষ্ট্রের কাছ থেকে যখন কোনো প্রতিবিধান পায় না; তখন মানুষ ভাগ্যের কাছে বা নিয়তির কাছে আত্মসমর্পন করে। শিক্ষামন্ত্রীও তাই করেছেন। পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা তার হাতে নেই।

রেডিও তেহরান: বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের সঙ্গে অনেক স্কুলের শিক্ষক জড়িত। অনেক শিক্ষক আবার অভিযোগ করছেন, স্কুল ও ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট ভালো করার বিষয়ে তাদের ওপর চাপ আছে। এছাড়া, বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে- প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে। কি বলবেন এসব অভিযোগ সম্পর্কে?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: আপনি প্রশ্নের মধ্যে যে তিনটি অভিযোগের কথা বললেন তার সবগুলোই সত্য। প্রথমত আমাদের দেশে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব চরমভাবে কাজ করে। দলীয়প্রভাব কাজ করে চরমভাবে। যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বাছবিচার করা হয় না।ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই শিক্ষকদের মধ্যে একটা অংশ অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে স্কুলগুলোর ওপর চাপ দেয়া যে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আমরা অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা এটাকে বলি নেগেটিভ ইনসেনটিভ সৃষ্টি করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভালো কিভাবে করা যাবে। ভালো দু’ভাবে করা যায় একটা হলো ভালোভাবে পড়িয়ে তাদেরকে ভালোভাবে প্রস্তুত করিয়ে ভালো ফলাফল করানো যায়।

আরেকটি খুব সহজপথ। অর্থাৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যোগাড় করে ছাত্রদের হাতে পৌঁছে দিয়ে ফল ভালো করানো। এতে আরো একটি সুবিধা আছে সেটা হচ্ছে এরমাধ্যমে কিছু টাকা পয়সাও পাওয়া যায়। ফলে এতে দুটো উদ্দেশ্য সাধন হয়। ভালো ফলও দেখানো যায় একইসঙ্গে কিছু অর্থও পাওয়া গেল। এই দুটো উদ্দেশ্য পূরণ হলো। এই ধরণের নেতিবাচক যে প্রণোদনা সৃষ্টি হয় সেটা একটা দুষ্টুচক্রের মতো কাজ করে।

রেডিও তেহরান: একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আপনি কি একটু বলবেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধের জন্য আসলে কার্যকর কি পদক্ষেপ নেয়া যায়?

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ: আমার কাছে প্রথমে যেটা মনে হয়েছে সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং অষ্টম শ্রেণী পর্যায়ে পরীক্ষা নেয়ার মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেটা আমাদের রয়েছে কি না!

দ্বিতীয়ত হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না; এর গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে তার জন্য সতিক্যকারের কোনো প্রস্তুতি আছে কি না? এটা একটা খুব বড় বিষয়।

তৃতীয়ত ১৬ কোটি মানুষের দেশে বহু মতলববাজ লোক থাকে। আর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো সমাজের বা ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে এ ধরণের লোক থাকে তখন এ ধরণের বিপদ থেকে মুক্ত থাকা খুব কঠিন হয়ে যায়। তো সেই পরিস্থিতিতে আমরা একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্যে আছি। জাতি একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য নানা জনে নানা কথা বলে থাকে। আমি সম্প্রতি মিডিয়াকে বলেছি এর বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করা ছাড়া আমাদের হাতে আর অন্য কোনো কৌশল বা সুযোগ নেই। এখন যারা প্রকৃত শিক্ষাবিদ, যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক; এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভালোবাসেন তাদেরকে ব্যপক জনমত গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। জনমতের শক্তি দিয়েই এটাকে রোধ করতে হবে। আইআরআইবি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free