বিশেষ প্রতিবেদন

মেধাবীরা উঠে আসছে না বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়

224567_1সবার আগে দরকার মেধার ক্ষেত্র তৈরি। মেধাবীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি থাকতে হবে তা পরিচর্যার পরিবেশ। নিশ্চিত করতে হবে তাদের ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। সর্বোপরি থাকতে হবে বৈশ্বিক জ্ঞানলাভের সুযোগ। এসবের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠে মেধাবীরা। কিন্তু বাংলাদেশ এর সবগুলোতেই রয়েছে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে। আর এ পিছিয়ে থাকার মূলে রয়েছে দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা। এ দুর্বলতার কারণেই উঠে আসছে না মেধাবীরা।
সম্প্রতি ‘দ্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট কমপিটিটিভনেস ইনডেক্স ২০১৫-১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যৌথভাবে ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনসিড, অ্যাডেকো গ্রুপ ও হিউম্যান ক্যাপিটাল লিডারশিপ ইনস্টিটিউট। প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে ছয়টি স্তম্ভ। এগুলো হলো— এনাবল, অ্যাট্রাক্ট, গ্রো, রিটেইন, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল, যার সবগুলোতেই বাংলাদেশ রয়েছে পেছনের সারিতে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ, উচ্চশিক্ষার মান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার মান, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ— মেধাবীদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এগুলোকে ধরা হয় গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে। এগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। প্রতিবেদনে এগুলোকে প্রকাশ করা হয়েছে গ্রো স্তম্ভের মধ্য দিয়ে।
এনাবল স্তম্ভটির মধ্যে রয়েছে সরকারের দক্ষতা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসার পরিবেশ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়, শ্রমিক-মালিকের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাগত ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়। গত কয়েক বছরে দেশে এগুলোর কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও, দুর্বলতা রয়ে গেছে অনেকগুলোতেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে এক্ষেত্রে। আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে। কাজের সুযোগ রয়েছে, এমন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। তা না হলে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব যেমন থাকবে, তেমনি মেধার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে।
মেধাবীদের বিকাশের সুযোগের পাশাপাশি তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি ও ধরে রাখার বিষয়টিও প্রতিবেদনের সূচকে প্রতিফলিত হয়েছে। এক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান, পেনশন ব্যবস্থা ও কর; বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র তৈরি, মেধাবীদের ধরে রাখা ও লিঙ্গসমতা; শ্রমপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তি, গবেষক ও পেশাজীবী তৈরির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে রিটেইন, অ্যাট্রাক্ট, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল স্তম্ভের মধ্য দিয়ে। এসব সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনাবল স্তম্ভে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫, অ্যাট্রাক্ট স্তম্ভে ৯১, গ্রো স্তম্ভে ১০৮, রিটেইন স্তম্ভে ৯৭, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল স্তম্ভে ৮১ ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল স্তম্ভে ৯১তম। আর সব স্তম্ভের ভিত্তিতে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। এক্ষেত্রে ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩০ দশমিক ৮৯। তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৭২ দশমিক ৬৪৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলংকা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে আমাদের। তবে এ অবস্থানেই আটকে রয়েছি কয়েক বছর ধরে। এজন্য মানসম্মত শিক্ষা ও এ খাতে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে সম্প্রতি ‘দ্য হিউম্যান ক্যাপিটাল রিপোর্ট ২০১৬’ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ১৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম। ১০০-এর মধ্যে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৫৭ দশমিক ৮৪, যা গত বছর ছিল ৫৭ দশমিক ৬২। গত বছর এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৪টি দেশের মধ্যে ৯৯তম।
তালিকায় থাকা দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে শ্রীলংকা। ৭১ দশমিক ৬৯ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৫০তম। ৬১ দশমিক ৮৩ স্কোর নিয়ে ভুটান রয়েছে তালিকার ৯১তম স্থানে, ৫৭ দশমিক ৭৩ স্কোর নিয়ে ভারত ১০৫, নেপাল ৫৭ দশমিক ৩৫ স্কোর নিয়ে ১০৮ ও ৫৩ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ১১৮তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মানবসম্পদের চিত্রটি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিলতর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আর এ সময়ে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটির বেশি মানুষ কর্মহীন থাকবে। আগামী দশকগুলোয় প্রায় পাঁচ কোটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর ঘাটতি থাকবে।
হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৮৬। ৮৪ দশমিক ৬৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় নরওয়ে, ৮৪ দশমিক ৬১ নিয়ে তৃতীয় সুইজারল্যান্ড, ৮৩ দশমিক ৪৪ স্কোরে চতুর্থ জাপান ও ৮৩ দশমিক ৪৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। শীর্ষ দশে এর পরের অবস্থানগুলোয় রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও বেলজিয়াম।
মূলত দুটি স্তম্ভ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে সূচকটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলোর ফলাফল পরিমাপ করা হয়েছে শূন্য থেকে ১০০-এর একটি স্কেলে। সবচেয়ে ভালো অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে ১০০ স্কোরের মাধ্যমে। আর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বয়স শ্রেণীর ক্ষেত্রে এ ফলাফল বিবেচনায় নেয়া হয়।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবেদনটিতে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবস্থা যে আশাব্যঞ্জক নয়, এমন চিত্রই উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষার চিত্র এখনো খুবই করুণ। তার ওপর কর্মসংস্থানের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যহীন অবস্থায় রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা।
প্রতিবেদনে প্রতিটি স্তম্ভের অধীনে কয়েকটি উপসূচক রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার, শিক্ষিতের হার, শিক্ষার গুণগত মান, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও কাজ করতে গিয়ে শেখার হার। আর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো কর্মক্ষম মানুষের চাকরিতে নিয়োজিতের হার, বেকারত্বের হার, আংশিক বেকারত্ব, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, দক্ষতা, শিশুদের কাজে নিয়োজিতের হার। এর সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সার্বিকভাবে শিক্ষা খাতে কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। শিক্ষার মানের দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এ থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষার মান, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ

akbar‘শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বত্র প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন অতি দ্রুত হচ্ছে না। এটা সময় সাপেক্ষ।’

বুধবার বিকেলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের খুব কম সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যার যেখানকার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের অনুকূল নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো আধুনিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। অতিদ্রুত সেখানেও আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেব।’

শিক্ষাসচিব মো. হুমায়ুন খালিদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন―মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এর আগে সকালে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন। সে আলোকে সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা সমাধান করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাসপোর্টে ভোগান্তি

pasporitএসকেদাস: মিরপুরের বাসিন্দা নাসিমা বেগম। জরুরি কাজে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে চান তিনি। ফরম পূরণ করে ‘অতি জরুরি’ ক্যাটাগরিতে পাসপোর্ট করার জন্য টাকাও জমা দিয়েছেন। বলে দেওয়া সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তিনি তাঁর পাসপোর্ট পাননি। তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে জানানো হলো, পাসপোর্ট সরবরাহ করতে আরো দু-তিন দিন সময় লাগবে। এ কথা জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল নাসিমা বেগমকে।

শুধু তিনিই নন, গতকাল দুপুরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে এমন আরো অনেককেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা জানায়, এমনিতেই রোজার মাস, তার ওপর ভয়াবহ যানজট, এর মধ্যে পাসপোর্ট পেতে প্রতিদিন দৌড়ঝাঁপ তাদের চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জানা গেল, প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার পাসপোর্ট সরবরাহের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে। সরবরাহের সময় পার হয়ে যাওয়া দেড় লক্ষাধিক পাসপোর্টপ্রার্থীর ভোগান্তির সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে আরো ১৮ থেকে ২০ হাজার পাসপোর্টপ্রার্থী। সব মিলিয়ে পাসপোর্টের জন্য অফিসগুলোর সামনে যেন হাহাকার চলছে। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার্থে দ্রুত দেশের বাইরে যেতে চায় আর যারা নির্দিষ্ট দিনে দেশের বাইরে থাকার কথা, তাদের কাকুতিমিনতিতে পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরাও যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন বিড়ম্বনার পেছনে আছে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার সমস্যা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন অফিসের সার্ভারে সমস্যা শুরু ১১ দিন আগে। মাঝেমধ্যে সার্ভার কাজ করলেও বেশির ভাগ সময় থাকছে অকেজো। ফলে পাসপোর্ট (নতুন বা নবায়ন করা) প্রিন্ট দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সার্ভারের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ অংশ ব্যবহার করে ফেলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। কিন্তু কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।

এতে একদিকে যেমন পাসপোর্টপ্রার্থীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে, তেমনি পাসপোর্ট অফিসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারীদেরও নাজেহাল হতে হচ্ছে। কেউ কেউ তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্রে ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছে কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে। একই অবস্থা দেখা গেছে পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায়ও। সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারছেন পাসপোর্ট হয়নি। ফলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে কথা বলছে কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরা

জানিয়েছেন, এ অবস্থা শুধু আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসেরই নয়, দেশের সব পাসপোর্ট অফিসেই। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা নেওয়াসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ হলেও পাসপোর্টের প্রিন্ট দেওয়া হয় কেবল আগারগাঁও অফিস থেকে।

উল্লেখ্য, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ছাড়াও বিভাগীয় আঞ্চলিকসহ সারা দেশে আরো ৬৬টি পাসপোর্ট অফিস আছে।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়। গত ১১ দিন পাসপোর্ট প্রিন্ট করতে না পারায় এক লাখ ৬৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা যায়নি। ফলে ভীষণ চাপে পড়তে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিসকে। আগারগাঁও অফিসের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসের চাপও।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সার্ভার পুরোদমে ঠিক হলে আমরাও পুরোদমে কাজ শুরু করব। তার পরও পাসপোর্ট প্রিন্টের জট খুলতে কয়েক দিন লেগে যাবে। সে ক্ষেত্রে পাসপোর্টপ্রার্থীদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) শিহাব উদ্দিন খান গতকাল বলেন, ‘সার্ভারের ক্যাপাসিটির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজ চলছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হজযাত্রী, দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে যাওয়া এবং সরকারি কাজে যারা দেশের বাইরে যাবে—এমন জরুরি প্রয়োজনে যারা পাসপোর্ট করতে আসছে তাদের পাসপোর্ট করে দেওয়া হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্ভারের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজ অনেক দিন আগেই শুরু হয়েছে। কাজটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’

শেরে বাংলানগরের মো. আফতাব গতকাল দুপুরে জানান, তিনি বেশ কয়েক দিন আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। পাসপোর্ট অফিস থেকে যে কাগজ দেওয়া হয়েছে তাতে ২০ জুন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার কথা। তিনি গত ২০ জুন পাসপোর্ট নিতে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যান। সেদিন কাউন্টার থেকে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁর পাসপোর্ট হয়নি। দুই দিন পরে পেয়ে যাবেন। তাদের কথা অনুযায়ী গতকাল দুপুরে তিনি আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যান। গিয়ে জানতে পারেন এদিনও তাঁর পাসপোর্ট হয়নি। কিন্তু কী কারণে পাসপোর্ট হয়নি, সে বিষয়ে কাউন্টার থেকে তাঁকে কিছু বলা হয়নি। এ ঘটনায় মো. আফতাব হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এইভাবে না ঘুরিয়ে বলে দিলেই পারত ঠিক কোন দিন পাসপোর্ট দিতে পারবে।’

জরুরি পাসপোর্ট বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত দেওয়া হচ্ছে—পাসপোর্ট অফিসের এমন বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি গতকাল ওই অফিসে গিয়ে। গতকাল দুপুরে এক ব্যক্তিকে পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের সামনে চেঁচামেচি করতে দেখা গেল। জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, “চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাব। কিন্তু প্রতিদিনই তারা বলছে ‘কাল আসেন’। সব জানানোর পরও আমি তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাইনি।” এ সময় তাঁর পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল আরো অন্তত ৫০ জন। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন গিয়ে ওই ব্যক্তিকে শান্ত করে কাউন্টারের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে যারাই কাউন্টারে গিয়েছে তাদের সবাইকে পাসপোর্ট হয়নি জানিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী জানান, ১১ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। তাহলে সাধারণ মানুষকে এটা জানিয়ে দিচ্ছেন না কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মী বলেন, ‘ওপরের নির্দেশ ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। মানুষজন পাসপোর্ট না পেয়ে আমাদের সঙ্গে রাগারাগি করছেন, এটা তো আমাদেরও ভালো লাগে না।’

পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, লাইনে থাকা কিছু কিছু লোককে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে সেখানকার পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী জানান, এগুলো আগে তৈরি হওয়া পাসপোর্ট। এ ছাড়া সার্ভারে মাঝে মাঝে কিছু কাজ হয়। কিছু কিছু নতুন পাসপোর্টও করা যাচ্ছে। সেগুলো দেওয়া হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, পাসপোর্টের যে ফরম জমা পড়ে তাঁদের অফিসে, সেগুলো আগারগাঁও থেকে প্রিন্ট হয়ে সেখানে যায়। ফলে তাঁরাও সংকটে পড়েছেন।

আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট করতে আসা আবদুর রহিম অভিযোগ করেন বলেন, ‘আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। জমা দেওয়ার পর ছবি তুলতে গিয়ে গেছে আরো কয়েক ঘণ্টা। এখন পাসপোর্ট নিতে এসে দিনের পর দিন ভোগান্তি। সীমাহীন এই ভোগান্তি সমাধানের জন্য আমরা কার কাছে যাব। এর শেষ কোথায়?’

এ বিষয়ে কথা হলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান গতকাল বলেন, ‘সার্ভারে সংকট হয়েছে। আমাদের ক্যাপাসিটি আছে এক কোটি পাসপোর্টের তথ্য সংরক্ষণের। আমাদের এখানে আমরা এর মধ্যেই এক কোটি ৪৩ লাখের তথ্য সংরক্ষণ করে ফেলেছি। ফলে সার্ভারের ক্যাপাসিটি সংকট হয়েছে। কাজ চলছে। এখন আমরা দৈনিক ১১ হাজার প্রিন্ট দিতে পারছি। চাহিদা আছে ১৫-২০ হাজারের।’ এ ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে। তবে যে জট লেগেছে তা কাটাতে কিছু সময় তো লাগবেই—এ মন্তব্যও করেন তিনি। কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অধঃপতিত শিক্ষা, দায়িত্বহীন গণমাধ্যম

chiro_daপ্রতিবেদক যে সব প্রশ্ন করেছেন, তবে বেশিরভাগই সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। কোন দেশের রাজধানী কোথায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস কত তারিখ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখ। শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় ইত্যাদি।

নৈতিকতার দিক থেকে দেখলে কোনো মতেই এই প্রতিবেদনটিকে মেনে নেয়া যায় না। যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কী সত্যিই কারও ‘জ্ঞান-মান’ মাপা যায়? আর এসব প্রশ্নের জবাব দেশের কয়জন ‘শিক্ষিত’ মানুষ জানে? শিক্ষকরা জানে তো? কয়জন পারবে ওই প্রশ্নগুলোর ঠিকঠাক উত্তর দিতে? সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ভুলভাল উত্তর দেওয়ায় অনেকের মধ্যেই ‘মজা লওয়া’র বিকার লক্ষ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের আনন্দে অনেকে লাখ লাখ কমেন্ট আর শেয়ার দিয়েছেন, কিন্তু কেউ তলিয়ে দেখেননি, এমন উত্তর তারা কেন দিয়েছে? তাদের কারা শেখায়? কী শেখায়?

উল্লিখিত প্রতিবেদনটিতে শিক্ষার্থীদের অজ্ঞতার একটা খন্ড চিত্র হয়তো পাওয়া গেছে। কিন্তু সামাজিক মানুষ হিসেবে আমরা কতটা মূর্খ ও বিকারগ্রস্ত-তার একটা অখন্ড চিত্রও বের হয়ে এসেছে! প্রতিবেদককে হয়তো এ ব্যাপারে ততটা দায়ী করা চলে না, একজন প্রতিবেদকের বুদ্ধি-বিচারের ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু টিভি চ্যানেলের যারা কর্তাব্যক্তি ছিলেন, তারা এমন একটা প্রতিবেদন কোন বিবেচনায় প্রচার করলেন? আর ফেসবুকেই বা তা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার দিলেন কেন? শিক্ষার ‘নিম্নমান’ দেখাতে কিছু নিষ্পাপ কিশোরকিশোরীকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপন করাটা কতটা নৈতিক? তবে কী সামিষ্টিকভাবেই আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পেয়েছে?

বিশেষ করে যে দুটি মেয়েকে কিছু আলটপকা প্রশ্ন করে বোকা বানানো হলো, গোটা দেশের মানুষের কাছে তাদের মানমর্যাদা বিনষ্ট করা হলো, তা কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করা যায় না। এটা শুধু নৈতিকতা বিরুদ্ধ নয়, অপরাধও বটে। কাউকে জনসমক্ষে হেয় করার অধিকার কোনো মিডিয়ার থাকতে পারে না।

এমনিতেই আমাদের সমাজে নারীকে অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। আমাদের পুরো সমাজেই নারীবিরোধী উপাদানে ভরপুর। সবাই তক্কে-তক্কে থাকে নারীর খুঁত ধরার জন্য, সেখানে দুটি মেয়েকে এভাবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তাদের পরবর্তী জীবনকে বিষিয়ে তোলার দায় কে নেবে? তাদের মধ্যে এরপর স্টিগমা তৈরি হতে পারে। আত্মবিশ্বাসহীনতা ও দ্বিধাও তৈরি হতে পারে। তাদের মধ্যে একটা ভয় ও হীনমন্যতা গ্রাস করতে পারে। এমনকি মেয়ে দুটির নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নেতিবাচক দিকে ঝুঁকে পড়ারও আশঙ্কা আছে। এটা কোনো মিডিয়াই করতে পারে না।

মেয়েদের বেলায় যে কোনো ঘটনা আলাদাভাবে এবং বিশেষভাবে ভাবতে হয় এ কারণে যে, আমাদের সমাজের প্রচলিত নিয়মে ছেলেদের কোনো ‘কলঙ্ক’ বা ‘অপমান’ হয় না। পুরুষশাসিত সমাজে তাদের ত্রুটি দুর্বলতাগুলো লঘু করে দেখা হয়। পুরুষবাদী ও পুরুষবান্ধব সমাজে ছেলেরা সহজেই যে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি এমনকি অপমান পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারে, কাটিয়ে উঠার সুযোগ পায়। কিন্তু মেয়েরা তা পারে না। তাদের সেই সুযোগ দেয়াও হয় না। কোনো ঘটনা ঘটলে সবাই মিলে মেয়েটিকেই কোনঠাসা করে ফেলা হয়। কাজেই মেয়েদের ব্যাপারে অধিক সংবেদনশীলতা সব সময় কাম্য। যা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিতে নেই।

আমাদের শিক্ষার মান খারাপ এটা সবাই জানে। তারপরও কেউ যদি এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে বা সমীক্ষা চালাতে চায়, এ জন্য বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়। যার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, তাকে আগেই প্রশ্ন দেখাতে হয়, সেটা যে মিডিয়ায় প্রচার করা হবে, এটাও আগেই জানাতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর নিয়ম মানা হলে কেউই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হতো না। প্রতিবেদনে যা দেখানো হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রশ্নগুলোর সঠিক জবাব দিতে পারেননি। জবাব না দিতে পারায় তাদের লজ্জা এবং আড়ষ্ট ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

তাহলে এমন একটা কাণ্ড কেন করা হলো? যারা হুজুগে ‘খারাপ মানের’ জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা প্রতিবেদনটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন তারা কী খুব উচ্চ মানের কাজ করেছেন? ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকলে কেউ এটা করতে পারেন না। একটি সভ্য-শিক্ষিত সমাজে সবারই দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত।

ওই টিভি চ্যানেলটি কয়েকটি শিশুকে ‘আহাম্মক’ হিসেবে দেখিয়ে নিঃসন্দেহে একটা গর্হিত কাজ করেছে। তাদের উচিত ছিল সাক্ষাৎকারদাতা শিশুদের মুখগুলো আবছা করে দেওয়া। সংবেদনশীল প্রতিবেদনে শুধু ভিকটিমদের নয়, দাগী অপরাধীদেরও চেহারা আবছা করে দেওয়াই নিয়ম। এখানে এই শিশুরা ‘ভিকটিম’ মাত্র। তাদের চেহারা স্পষ্ট করে দিয়ে কয়েকটি শিশুর সঙ্গে চরম অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষার সামগ্রিক মানের যে অধঃপতন-তা নিয়ে আলাপআলোচনা কিছু কম হচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিবেদনেও তা উঠে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘র্যাং কিং ওয়েব অফ ইউনিভার্সিটি’ এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষার গুণগত মান বিচারে বাংলাদেশের কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ই সেরা ২১০০ এর মধ্যে স্থান পায় নাই। এমনকি এশিয়ার সেরা ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ও আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নাই। এর থেকেই বোঝা যায় যে, আমাদের শিক্ষার মান কত নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

গত তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কথিত ‘মেধাবী’দের ৮০ ভাগই পাস নম্বর পাননি! বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৮ নম্বর পাননি এমন পরীক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৫৫% ও ৫৬%!

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা- এই চার স্তরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে মাধ্যমিক স্তর। কারণ এই স্তরেই শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠার সময়। অথচ এ পর্বের শিক্ষকরাই বেশি অদক্ষ। এই স্তরের বেশির ভাগ স্কুলই এমপিওভুক্ত। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক হতে গেলে দক্ষতা নয়, প্রয়োজন হয় টাকার। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণব্যবস্থাও তেমন জোরালো নয়। সরকার এই স্তরকে ঢেলে সাজাতে ২০০৮ সাল থেকে চালু করে সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু সেই সৃজনশীল এখন হয়ে গেছে নোট-গাইডনির্ভর।

শিক্ষকরা এখনো পারেন না সৃজনশীল প্রশ্ন করতে। তারা ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়ে পড়াতেই বেশি পছন্দ করছেন। তাই পড়ালেখায় মন না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে এক শিক্ষক থেকে থেকে আরেক শিক্ষকের কাছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া কোনো শিক্ষকই নিয়োগ পান না। কত টাকা দিতে হবে, তাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করে দেয়। যোগ্য প্রার্থীরা টাকা না দিতে পারলে নানা কৌশলে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। পরিচালনা কমিটির ওপর শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি না থাকায় তারা ইচ্ছামতো চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। মানের দিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই।

মূলতঃ শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে যে আশঙ্কাজনক অধঃপতন হয়েছে, তার জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থাটাই দায়ী। স্কুল-কলেজে ভাষা বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা না দেওয়া, বিষয়ভিত্তিক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারা, গভীর পাঠদান ও পাঠাভ্যাসের অনুপস্থিতি, পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বিষয়ে পাঠাভ্যাস কমে যাওয়া, ‘শর্টকাট’ উপায়ে সফল হওয়ার প্রবণতা, কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা, বাড়িয়ে বাড়িয়ে নম্বর দিয়ে কৃত্রিমভাবে মেধার বিস্ফোরণ ঘটানোর নীতি-এসব

কিছুর সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে শিক্ষার মানে ধস। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ফল গ্রাস করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে। সকলের টনক কবে নড়বে সেটাই দেখার বিষয়।

চিররঞ্জন সরকার : লেখক, কলামিস্ট।
chiroranjan@gmail.com

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে একই গ্রেড দরকার

2016_05_26_19_19_23_r স্কুল ও কলেজে একই রকম গ্রেডিং সিস্টেম থাকলেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তা আলাদা হয়ে যায়। তবে এই তিন পর্যায়ের গ্রেডিং একই রকম হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গ্রেডিং পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।’

বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড এর নির্ধারিত মোট মান জিপিএ ৫, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ এর মোট মান জিপিএ ৪ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত স্নাতক (পাস) পরিক্ষার মোট মান জিপিএ ৫! এতে করে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ সমান হলেও পরীক্ষা ভেদে মূল্যমান সমান হয় না।

একজন শিক্ষার্থীর স্নাতক (সম্মান) পরিক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৪ এবং অন্য একজন পরিক্ষার্থীর স্নাতক (পাস) পরিক্ষায় প্রাপ্ত পিপিএ ৫। উভয়ের প্রাপ্ত জিপিএ সংখ্যাগত ভাবে সমান হলেও এদের মান কিন্তু সমান নয়। আবার কোন শিক্ষার্থীর পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, অর্নাস ও মাস্টার্স সকল পরিক্ষায়ই প্রাপ্ত জিপিএ ৩.৫ করে হলেও সকল পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যমান কিন্ত এক হয় না। কারণ, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষায় মোট ৫ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫ অথচ অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় মোট ৪ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫।

এসব অসমতার কারণে ভর্তির বা চাকরির বিজ্ঞাপনদাতাকেও পড়তে হয় বিপাকে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উল্লেখ করতে হয় আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা। আবার প্রত্যেক আবেদনকারীর প্রতিটি পরিক্ষার গ্রেড-শিট বিশ্লেষণ করে বের করতে হয় প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী-ডঃ কামাল

নিজস্ব প্রতিdr.kamalবেদক : নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সবপক্ষের আইনজীবীরা। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন এই ঘটনাকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, নির্যাতনের শিকার শিক্ষক চাইলে তারা আইনি সহায়তা দেবেন তারা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে পৃথক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আইনজীবী নেতারা।

এক মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের আচরণ কল্পনা করা যায় না।’ ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য দেশে আইন আছে। ওই আইনে তদন্ত হয়, তদন্ত শেষে বিচার হয়। কিন্তু বিচারের আগেই ওই শিক্ষককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।’ অপরদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তিকে কান করে উঠ-বস করিয়ে শুধু তাকে অপমানিত করা হয়নি, ওই দৃশ্য দেখে দেশবাসীও অপমানিত হয়েছেন।

এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যে সব ব্যক্তি সম্পৃক্ত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ নির্যাতিত শিক্ষককে আইনি সহায়তা প্রদানের ঘোষণাও দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘এ নির্যাতনের ঘটনায় মানহানির মামলা হতে পারে। যদি শ্যামলকান্তি আইনি সহায়তা চান, তাহলে স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায়তা দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ রমজান আলী সিকদার, সহ-সম্পাদক একেএম রবিউল হাসান সুমন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পিয়ার সাত্তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে ছাত্র মারধর ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কান ধরে উঠবস করান সাংসদ সেলিম ওসমান। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠলেও ১৬ মে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বুধবার এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে তদন্তের পর বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল ও শিক্ষককে পুনর্বহালের ঘোষণা দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রয়াণ

ঢাকা: ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাবার্তা পাঠকদের জন্য  আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৪ মে ২০১৬, শনিবার। ৩১ বৈশাখ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
•     ১৬৪৩ – মাত্র চার বছর বয়সে চতুর্দশ লুই ফ্রান্সের সম্রাট হন।
•     ১৭৯৬ – এডওয়ার্ড জেনার পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দানের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেন।
•     ১৮১১ – প্যারাগুয়ে স্পেনের শাসন থেকে মুক্তি পায়।
•     ১৯৩৯ – লিনা মেডিনা মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন। চিকিৎসা ইতিহাসের তিনিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ মা হিসেবে চিহ্নিত।
•     ১৯৪৮ – সর্বশেষ ব্রিটিশ সেনাদল ফিলিস্তিন ছাড়লে ইজরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
•     ১৯৫৫ – সোভিয়েত রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে ওয়ারশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

জন্ম
•     ১৯০৭ – পাকিস্তানি সেনাশাসক ও রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান।
•     ১৯২৩ – চিত্রপরিচালক মৃণাল সেন।
•     ১৯৪৪ – মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জর্জ লুকাস।

মৃত্যু
•     ১৯২৫ – বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড।
•     ১৯৯৮ – কথাশিল্পী শওকত ওসমান। লেখক ও কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশু-কিশোর সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি

স্টাফ রির্পো১টার: সারা দেশে মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লক্ষের অধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বিনা বেতনে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিনা বেতনের এসব শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তাই আগামী বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি, সরকারের ভূমিকা এবং বাজেট বরাদ্দ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের উপর ০৫মে সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি মোঃ এশারত আলীর সভাপতিত্বে ও শরীফুজ্জামান আগা খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, ইতিহাসবিদ ও সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা বার্তার সম্পাদক এ এন রাশেদা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ’র কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী। বৈঠকে সংগঠনের পক্ষে প্রতিবেদন পাঠ করেন ড. বিনয় ভূষণ রায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার উল্লেখ করে তা দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনা বেতনের শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তিনি আসন্ন বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানান।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই নিয়ম নীতিতে পরিচালিত হয়। একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ তাদের কোন বেতন পাবে না তা মেনে নেয়া যায় না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতির পরিপত্র শিগগির

এস কে দাস: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০০৫-এর বিধিমালা সংশোধন করে নতুনভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অনুসরণীয় পদ্ধতিসংক্রান্ত পরিপত্র জারির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।
শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এসআরও বা নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে অনেক বিষয় খোলাসা করা নেই, তাই খুঁটিনাটি বিষয়ের জন্য পরিপত্র জারি করা প্রয়োজন। পরিপত্রটি শিগগিরই জারি করা হবে।
খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়োগ/পূরণযোগ্য পদের একটি চাহিদাপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার নিজ উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা একীভূত করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে একটি সমন্বিত চাহিদাপত্র জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি সমন্বিত চাহিদাপত্র এনটিআরসিএ-তে পাঠাবেন।
তারা প্রতিবছর প্রার্থী বাছাইসংক্রান্ত সব পরীক্ষা (এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক) গ্রহণ করবে এবং প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী বিষয় ও উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম প্রণয়ন করে ফলাফল ঘোষণা করবে।
পরিপত্রে নির্দেশনা দেওয়া হবে, ইতোপূর্বে পাশ করা সব প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী মেধা তালিকা প্রণয়ন করবে এনটিআরসি-এ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব যেমন, বিষয়, সংখ্যা, নিয়োগের সম্ভাব্য সময় ইত্যাদি উল্লেখসহ এনটিআরসিএতে পাঠাবে। এনটিআরসিএ উক্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীর মেধা তালিকা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাবেন।
এ ছাড়াও পরিপত্রে থাকছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের জন্য মেধাতালিকা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলার মেধা তালিকায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে জেলা মেধাতালিকা থেকে এবং তা-ও না পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় ও জাতীয় মেধাতালিকা পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে। মেধাতালিকা বিবেচনার ক্ষেত্রে পূর্বের তালিকাকে পরবর্তী তালিকার উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে চান তবে উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মতিক্রমে ক্ষেত্র বিশেষে নিজ উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসার বা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসারের কছে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দিবেন।
এছাড়াও থাকছে, ইতোপূর্বে পাশ করা নিবন্ধন প্রার্থীদের সনদের মেয়াদ এসআরও জারির তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকার বিষয়টি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের চিন্তা

এস কে দাস: muhid‘সরকারি চাকরিজীবীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক (প্রকৃচি) ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতীয় বেতনস্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল, উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা অফিস স্মারক সংশোধন এবং চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত তিন দাবি নিয়ে প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। কমিটির প্রধান বাহাউদ্দিন নাসিমের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. এম ইকবাল আর্সলান, প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, কৃষিবিদ মোবারক আলী, মো. ফিরোজ খান প্রমুখ।

বৈঠকে সংগঠনের আহ্বায়ক বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করলে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। ফলে উন্নয়নমূলক কর্মকা- থমকে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কোন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই পে-স্কেল থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেওয়া হয়েছে। অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে এবিষয়টি সুবিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব দাবি মানা সম্ভব নয়। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি যাতে সহজে হয় সেজন্য সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকের শুরুতে সংগঠনটির নেতারা তিন দফা দাবি সংক্রান্ত দাবিনামা অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এতে তারা অভিযোগ করেন, ‘সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে পদ অবনমন হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ পদোন্নতির পদ হিসেবে ৪র্থ গ্রেডে অধ্যাপক পদ লাভ করেন। এর মধ্যে থেকে ৫০ভাগ অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড হিসেবে ৩য় গ্রেডে উন্নীত হন। সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করায় অধ্যাপকগণ ৩য় গ্রেডে উন্নীত হতে পারবেন না। ফলে ৪র্থ গ্রেড থেকেই তাদের অবসরে যেতে হবে। অথচ এ ক্যাডারের শীর্ষপদ ১ম গ্রেডের। ২০১৫ বেতনস্কেল অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাই আর শীর্ষ পদ লাভ করতে পারবেন না।

তাদের দাবি, ‘উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত অফিস স্মারক : সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা ‘উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণকে উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে ন্যস্তকরণ এবং তাদের বেতনভাতাদি বাবদ সরকার প্রদেয় অর্থ পরিষদ তহবিলে স্থানান্তর’ শিরোনামে একটি অফিস স্মারক জারি করে। এ স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা ও দফতরের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করে বছরান্তে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়ন এবং সুপারিশ করে ডক্টর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত হয় পে-কমিশন। পরে মন্ত্রিসভায়ও তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিলেকশন গ্রেড এবং টাইম স্কেল বাতিলের তীব্র প্রতিবাদ করে তা পুনর্বহালের দাবি তোলেন।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালনকারী প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা আজ সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ এ মাসেই হওয়ার কথা রয়েছে। যা কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে। এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন তুলতে পারবেন আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে। তবুও আশার আলো দেখি

স্বরুপ দাস : জ্ঞানচর্চা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সে সমাজ থেকে মূল্যবোধ উঠে যায়। সর্বত্র মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে এখন শংকা জাগে- তবে কি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ আমরা হারিয়ে ফেলছি? অনেক আগেই মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে রাজনীতিতে। প্রশাসন ব্যবস্থার সর্বত্র দুর্নীতি প্রবল প্রতাপে জায়গা করে নিচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের গাঁথুনি ভেঙে পড়ছে। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতি থেকে গণতান্ত্রিক ধারা অপসৃত হয়ে এখন কর্তৃত্ববাদ জায়গা করে নিচ্ছে। কালো টাকা ও পেশিশক্তি এখন প্রকাশ্যে দাপট দেখাতে পারছে।

রাজনীতিককে এখন দাপুটে ব্যবসায়ী-আমলাদের অঙ্গুলি নির্দেশে চলতে হচ্ছে। জ্ঞানচর্চার চেয়ে বাগাড়ম্বর সর্বত্র নিজ অবস্থা পাকা করে নিচ্ছে। এসবের মধ্যেও মাঝে মধ্যে আশার আলো দেখতে পাই। এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখি।
রাজনীতি নষ্ট হয়ে না গেলে দর্শনার গন উন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ানকে সন্তানের দুধের টাকা থেকে পত্রিকার বিল মেটাতে হয়।
পাঠাগারে 10 টি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা আসে। মাসে প্রায় 3/4 হাজার টাকার পত্রিকা কিনতে হয়। অথচ সাহায্য করার নেই কোন রাজনীতিবিদ। অথচ রাজনীতির মঞ্চে আমরা বড় বড় বুলি ছড়াই।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা তখনই তীব্র হয়, যখন দেখি আমাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকরা অবকাঠামোকে উপেক্ষা এবং উপরিকাঠামোকে চকচকে করে চোখ ধাঁধিয়ে দিতে চান। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মজবুত হচ্ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। উচ্চ আয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এসবই ভালো কথা। কিন্তু পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনে যখন নানামুখী অবক্ষয় ঘটতে থাকে, তখন এ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কি জাতিকে স্বস্তি দেবে! গত প্রায় এক দশকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার জায়গাটিকে ভঙ্গুর করে ফেলা হয়েছে। শিক্ষাব্রতীদের বদলে স্কুল-কলেজ পরিচালনার কাঠামোয় রাজনীতিকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজনীতিক আর আমলাদের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব আর অর্থের খেলা যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থাটি যে কী ভয়ংকরভাবে শিক্ষার অবকাঠামো ভেঙে ফেলছে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন।

শিক্ষার গন্তব্য এখনও দূরতিক্রম্য। প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির মিটিং এ শিক্ষার উন্নয়ন ব্যতি রেখে আনুষাঙ্গিক বিষয়ে কথা বেশি হয়। শিক্ষা কমিটির সদস্যরা যে স্কুলের সাথে জড়িত সেসব স্কুলে হয় না পড়াশুনা। এই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। তবুও আমরা আশায় বুক বেধে থাকি নতুন নেতৃত্বের দিকে। হয়ত একদিন এই দেশ হবে উন্নত। রাজনীতিবিদরা শিক্ষাকে মূল্যায়ন করবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ভিশন ও মিশন

প্রায় ১৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অধীনে সারাদেশের প্রায় ২৩০০ প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। দেশের সর্ববৃহৎ এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন ২টি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি হলোÑ সেশনজট দূর করা, অন্যটি শিক্ষার মান নিশ্চিক করা। প্রায় ২ দশকে নানান প্রশাসনিক জটিলতা আর রাজনৈতিক প্রভাবে নেতিবাচকতায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-ব্যবস্থাপনা। ৪ বছরের অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে কারো কারো সময় লেগেছে ৬-৭ বছর। আর, কলেজে শিক্ষার মানও নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন। বর্তমান প্রশাসন এই ২টি চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য ঘোষণা করেছেন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। ২০১৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ সেশনজট মুক্ত করার জন্য কাজ করছে একটি অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসক টিম। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে ২ জন প্রোভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ বিরাট কর্মিবাহিনি কাজ করছেন নিরন্তর।
সেশনজটের কারণসমূহ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে গ্রহণ করা হয়েছে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ। ২জন পরীক্ষকের স্থলে এখন ১জন পরীক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাখা হয়েছে প্রধান পরীক্ষক। প্রতি ২০-২২ জন পরীক্ষকের মূল্যায়নকৃত উত্তরপত্র নিরীক্ষা করার পর ফলাফল প্রকাশের জন্য নম্বরপত্র চূড়ান্ত করা হচ্ছে। উত্তরপত্র হাতে হাতে গ্রহণ ও প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূর্বে ২জন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করলে যে সময় যেত এবং পোস্টঅফিসের মাধ্যমে খাতা একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে যে সময় লগতো, তা সম্পূর্ণভাবে রহিত করা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২/ আড়াই মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনার্স পর্বের ৩টি পরীক্ষা এবং ডিগ্রি পরীক্ষার ফলাফল খুব অল্প সময়ে প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় গত ২ বছর সময়কালে প্রায় ১ বছর সেশনজট কমে গেছে। পরীক্ষা কমিটি গঠন, প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক প্যানেল তৈরিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। টিএমআইএস (টিচার্স ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) পদ্ধতির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক নিবন্ধিত হয়েছেন। অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা বিবেচনায় মনোনীত হচ্ছেন পরীক্ষক। একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটির সদস্য কিংবা পরীক্ষক না রেখে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে এসব দায়িত্ব। প্রধান পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি দেখা হচ্ছে। ফলে বেশি সংখ্যক শিক্ষককে পরীক্ষার কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে সরাসরি উত্তরপত্র বিতরণের ব্যবস্থা পরিবর্তন করে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে স্থানীয়ভাবে শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এতে কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার পাশাপাশি নিশ্চিত হয়েছে দায়িত্বশীলতাও। তবে, চলমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে কেবল ২য় বর্ষ এবং ৪র্থ বর্ষে মৌখিক পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। ১ম বর্ষ এবং ৩য় বর্ষেও মৌখিক পরীক্ষা চালু করা প্রয়োজন। কেননা, ১ বছরে শিক্ষার্থী কী লেখাপড়া করলো, তা জানার জন্য শুধু লিখিত পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। আর পর্যায়ক্রমিক মান উন্নয়নের জন্যও প্রতি বছরের কোর্স শেষে মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। আর ইন্টারনাল পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মৌখিক পরীক্ষায় ইন্টারনাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় প্রধান ও পরবর্তী ১ জন সিনিয়র শিক্ষক। এ ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কমিটিতে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে বেশি সংখ্যক শিক্ষককে কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ, একই ব্যক্তিকে সকল পরীক্ষার দায়িত্ব না দিয়ে পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। তাহলে জুনিয়ররাও কাজের সুযোগ পাবেÑতাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এই পদ্ধতি বেশ ফলপ্রসূও হবে।
২২ বছরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ভাষা ইনস্টিটিউট কিংবা ভাষা-শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে অ্যাকাডেমিক ডিসিপ্লিনে প্রথমেই ভাষাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সম্প্রতি গাজীপুরে কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে একটি ডিজিটাল ল্যাবসহ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার এবং ৬টি প্রশাসনিক বিভাগে ৬ টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে আরো একধাপ এগিয়ে গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা থার্ড বা ফোর্থ ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। প্রফেশনাল ডিগ্রিও গ্রহণ করতে পারবে আগ্রহীরা। এছাড়া, সরকারের সাথে যুক্তভাবে ভাষাশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিদেশে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল রফতানি কাজে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা শিখে বিদেশে গেলে আমাদের শ্রমিক ও অন্যান্য পেশাজীবিরা যেমন অধিক বেতনে চাকুরি করার সুযোগ পাবে, তেমনই পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে আমাদের রেমিটেন্স। বাড়বে দেশের সুনামও।
সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সকল ভর্তি, ভর্তি বাতিল, অভিভুক্তি, ফলাফল প্রকাশ, কলেজ পরিবর্তন, নবায়ন প্রভৃতি কাজে অনলাইন সার্ভিস চালু করেছে। ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী কলেজে কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে হাজির না হয়েও কিছু দরকারি কাজ সেরে নিতে পারছে। কলেজগুলোও তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও গতিময়তা উপভোগ করতে পারবে। এই উদ্যোগের ফলে প্রাসঙ্গিক কিছু জটিলতা ও দুর্নীতি (যদি থাকে) কমে আসবে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সম্মানী পরীক্ষকের অ্যাকাউন্ট নম্বরে পাঠানোর জন্য চালু হয়েছে ‘সোনালী ব্যাংক সেবা সার্ভিস’। ফলাফল প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হচ্ছে তার প্রাপ্য টাকা। আগামী ২ বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইন সেবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে, অনলাইন সেবার পাশাপাশি একটি আপডেটেড ওয়েবপেজ নির্মাণ করাও জরুরি কাজ বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে, অ্যাকাডেমিক এবং ফ্যাকাল্টি বিষয়ক ইনফরমেশন যুক্ত হলে সারা বিশ্ব এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে।
কলেজ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যেই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। বছরে প্রায় ১০০০ শিক্ষককে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যেসব কলেজ থেকে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন, প্রশিক্ষণ শেষে ওইসব কলেজকে প্রদান করা হচ্ছে ২ হাজার (প্রতিটির জন্য) টাকা মূল্যমানের সিলেবাসভিত্তিক বই। এতে করে শিক্ষকের যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কলেজের লাইব্রেরিগুলোও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে জার্নাল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে গত বছর থেকে চলছে ‘মাস্টার্স ইন অ্যাডভান্স স্টাডিজ’। বাংলা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স, লাইব্রেরি সায়েন্সে চলছে এই প্রোগ্রাম। আগামী বছর ট্যুরিজমসহ আরো কিছু বিষয়ে চালু হবে থিসিস বেইজড এই বিশেষ মাস্টার্স ডিগ্রি। শিক্ষার্থীদের এইসব গবেষণা বা অভিসন্দর্ভ জাতীয় নীতি-নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। জাতীয় উন্নয়ন ও ভাবধারাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভিশন বাস্তবায়নে বর্তমান মিশন সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।

ড. ফজলুল হক সৈকত
লেখক: গবেষক ও প্রাবন্ধিক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা ও আজকের আন্দোলন

sarup pic

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদাসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকেরা  চেয়ার বর্জন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন।

যুক্তরাজ্য দলের দলনেতা ড. জেফ এর ভাষায় , প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার কারণে সমাজে ওনার স্ট্যাটাসের কোনো অবনতি যেমন হয়নি, তেমনি তাঁর আর্থিক অবস্থারও তেমন কোনো হেরফের হয়নি। যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আপনি অনেক উচ্চশিক্ষিত, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক পাবেন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। কারণ, সেখানে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেলই কেবল নেই, আছে যোগ্যতা অনুসারে সম্মানীর ব্যবস্থাও। কাজে যাঁদের আগ্রহ আছে, শুধু তাঁরা নন, যাঁদেরকে প্রয়োজন, তাঁরা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে পিছপা হন না।

আসলে কি তাই? প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকতা বরং অনেক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রিসার্চ গাইডেন্স ছাড়া যে শিক্ষকতা, তার চেয়ে কঠিন বৈ সোজা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পরিণত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে আসেন। এর আগের ১২ বছরের শিক্ষাজীবনে তাঁর কিছু না কিছু ধ্যানধারণা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেগুলোর বিকাশ হয়। হয় বলে অনেক জায়গায় দূরশিক্ষণে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া যায়। কিন্তু আপনি অনেক খুঁজেও এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বের করতে পারবেন না, যেখানে দূরশিক্ষণে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা হলো বুনিয়াদি শিক্ষা।

এই সময়ে একজন শিক্ষার্থীর মনোজগৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষার্থীর বয়স, চাহিদা, ভালো লাগা না-লাগা বা মনোভাব ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রেখে শিক্ষককে শিখনের পরিবেশ তৈরি করতে হয়। সেখানে ভুল করার অবকাশ কম।

প্রাথমিক শিক্ষককে তাঁর বিষয়গুলোতে যেমন খুবই দক্ষ হতে হয়, তেমনি শিক্ষার দর্শন, শিক্ষার সাইকোলজি ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে খুবই দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হয় যেন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন সম্ভব হয়। যত বেশি তাঁর এক্সপোজার থাকবে, ততই তিনি কুশলী শিক্ষক হবেন। তাঁর জানার ব্যাপ্তি হতে হবে অনেক বেশি। কারণ, শিশুমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়, যার জবাব দিতে হলে উত্তরদাতার জ্ঞানের পরিধি অনেক বেশি হতে হয়।

আবার কোন পদ্ধতিতে উত্তর করবেন, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হয়। এখানে ফাঁকি দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুল শিখেই বড় হবে। আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা, তাতে এটা কোনোভাবেই দাবি করা যাবে না যে একজন এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার মূল ব্যাপারগুলোতে সিদ্ধ হয়ে ওঠেন। কাজেই একজন এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে খুবই উন্নত শিক্ষক হবেন, এমনটা আশা করা বাতুলতা। যদিও তাঁর জন্য অনেক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
আমার মনে হয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগ্যতা কমিয়ে রাখার সম্ভবত অন্য একটি কারণ আছে এবং সেটি আর্থিক। সম্ভবত বললাম কারণ, এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আমি কোথাও পাইনি। বাংলাদেশ মনে হয় বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা হলো তৃতীয় শ্রেণীর।

শুধু মর্যাদা নয়, একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন স্কেল হলো চার হাজার ৭০০ টাকা এবং তিনি সব মিলিয়ে আট হাজার টাকা পান প্রতি মাসে। অন্যদিকে সরকারি গাড়িচালকদের বেতন স্কেল পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা এবং তাঁদের মোট বেতন হয় ১০ হাজার টাকার বেশি। সম্প্রতি সংবাদপত্রের জন্য যে অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে একজন পিয়নের শুরুর বেতন ধরা হয়েছে এর দ্বিগুণ। পোশাকশ্রমিকদের মজুরিও কমপক্ষে আট হাজার টাকা করার উদ্যোগ রয়েছে।
আবার শিক্ষাদানই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একমাত্র কাজ নয়। মাঠপর্যায়ে যত সরকারি অনানুষ্ঠানিক কাজ, সবই তাঁদের করতে হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে, তো পাঠাও প্রাইমারি টিচারদের। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করতে হবে—প্রাইমারি শিক্ষকেরা তো আছেন। বাচ্চাদের কৃমিনাশক বড়ি বা ভিটামিন ‘এ’ খাওয়াতে হবে—লোক তো আছে!
সৈয়দ মুজতবা আলী অনেক দিন আগে তাঁর ‘পাদটীকা’ গল্পের পণ্ডিত মশাইয়ের মাধ্যমে আমাদের সমাজে শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময়ের পণ্ডিতদের ‘পাণ্ডিত্য ছিল অন্যান্য শিক্ষকদের তুলনায় অনেক বেশি কিন্তু সম্মান এবং পারিশ্রমিক এঁরা পেতেন সবচেয়ে কম। শুনেছি কোনো কোনো স্কুলে পণ্ডিতের মাইনে চাপরাসীর চেয়েও কম ছিল।’
সৈয়দ মুজতবা আলী যে সময়কার কথা বলেছেন, সেটি ব্রিটিশ আমলের কথা। এরপর পাকিস্তানি শোষণের সময় পেরিয়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি, তা-ও প্রায় ৪৪ বছর হয়ে গেল। প্রতিবছর যে তিন কোটি ছেলেমেয়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যায়, তাদের মধ্যে এক কোটির বেশি আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। যে মমতা আর স্নেহ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকেরা তাদের গড়ে তুলছেন, তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি কিংবা তাঁদের সচ্ছল রাখার জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই?

স্বরুপ দাস

সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা

আহবায়ক (খুলনা বিভাগ)

বাসপ্রাবিপ্রশিস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী

সঞ্চিতা অধিকারী : Milestone-College-SSC-2015অনশ্চিয়তার দোলাচলে একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ভুগছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এসব কারণে তিন দফায় অনলাইনে ভর্তির তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে গেছে। ভর্তি তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

ঢাকা বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৩০০-এর ওপরে আসন থাকা কলেজের সংখ্যা প্রায় ৫০০। আর এতে ভর্তি হতে পারবে এক লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের কথা চিন্তা করেই অনলাইনে আবেদনের জন্য বুয়েটের সহায়তায় সার্ভার তৈরি করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করেই সব কলেজকে এই প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত দেয়। তাই এক লাখ ৮০ হাজারের উপযোগী সার্ভারকে ১২ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য তৈরি করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত লোড নিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর সার্ভারের অক্ষমতার বিষয়টি বুঝতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ জন্য রাত ১১টার দিকে বুয়েটে উপস্থিত হন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তখন সিদ্ধান্ত হয় যেভাবেই হোক সীমিত পর্যায়ে হলেও ফলাফল সাড়ে ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে দেওয়া হবে। কিন্তু সে চেষ্টাও বিফলে। এরপর ঘটে অন্য বিপত্তি। রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে থাকে। সাইট ওপেন করলেই ভেসে ওঠে ‘আ লাভ ইউ- লাভার গ্রুপ নামে একটি বাক্য। এতে সবাই আরো চিন্তায় পড়ে যান। তারা সিদ্ধান্ত নেন, তাড়াহুড়া করে ফল দেওয়ার চেষ্টা করতে গেলে ফের বিপত্তি ঘটতে পারে। এভাবেই রাত ৩টা বেজে যায়। শিক্ষাসচিব তখন ফল প্রকাশের তারিখ এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার রাত ১১টায় করার ঘোষণা দেন এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, দায়িত্ব অবহেলা ও অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আইটি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কবিরসহ তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীন বলেন, যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা মূলত এ বিষয়ে অভিজ্ঞ নয়। একারণে এমন বিপর্যের মধ্যে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি আমরা আগে বুঝতে পারলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতাম উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সকালে শিক্ষা সচিব এন আই খানের উপস্থিতিতে বুয়েটের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যাম মো. আবুবক্করসহ শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জরুরি সভা করা হয়েছে। কায়কোবাদে তত্ত্বাবধানে আগামী কাল রোববার ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২২০০ আসনের মধ্যে কোচিং থেকে চান্স পেয়েছে ২৫০০!

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যার চেয়ে কোচিং সেন্টার থেকে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী! এই অসাধ্যকে সাধন করেছে রাজধানীর পাঁচ কোচিং সেন্টার। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই মেধাক্রমে চান্স পাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে তিন-চারটি সেন্টারে। এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরিচালিত বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের প্রসপেক্টাসে। আর এসব ফোলানো-ফাঁপানো তথ্যে মন্ত্রমুগ্ধ হয়েই কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদে (খ ইউনিট) আসন সংখ্যা ছিল ২২২১। এই আসন সংখ্যার বিপরীতে ইউসিসি, ইউনিএইড(কবির-সুমন), ইউনিএইড(মনির-মল্লিক), আইকন ও আইকন প্লাস থেকে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫৬৪ জন। যাদের মধ্যে ইউসিসি’র শিক্ষার্থী ৮৫৬, ইউনিএইড’র (কবির-সুমন) ১০৪২, ইউনিএইড’র (মনির-মল্লিক) ২৬৬, আইকন ৩১০ ও আইকন প্লাস ৯০ জনের বেশি। এছাড়া এই পাঁচ কোচিং থেকে বাণিজ্য অনুষদের (গ ইউনিট) ১১৭০টি আসনের বিপরীতে চান্স পেয়েছন ১৭৪৪ জন। কোচিং সেন্টারগুলো তাদের প্রসপেক্টাসে আবার এসব শিক্ষার্থী তাদের প্রতিষ্ঠানেই কোচিং করেছেন দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

কোচিং সেন্টারের বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবছর শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা নানামুখি পদক্ষেপের কথা বললেও এসব প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য বন্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপই নেননি। এর ফলে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পকেট কেটে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। সচেতন অভিভাবকেরা এসব ধান্দাবাজির অপব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

UCC_BG1গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রথম বিশজনের মধ্যে আটজনই তাদের কাছে পাঠ নিয়েছে বলে দাবি করছে একাধিক কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও সতেরতম স্থান লাভ করা শিক্ষার্থীদের নাম, ছবি ও কলেজের নাম দিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে আইকন, ইউসিসি ও ইউনিএইড। আর খ ইউনিটে সেরা বিশের চার শিক্ষার্থী এসব কোচিং সেন্টারের আইকন প্লাস ছাড়া সবক’টিতেই পাঠ নিয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে শুধু এসব কোচিং সেন্টারে পাঠগ্রহণ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় না! প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আলাদাভাবে পড়তে হয় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রাইভেট ব্যাচে। একেকজন বিশেষজ্ঞ! পড়ান আলাদা আলাদা বিষয়। এদের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে দিতে হয় আরো চার-পাঁচ হাজার টাকা করে।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, কোচিংয়ে যেসব ভাইয়ারা পড়ান তাদের কাছে আলাদাভাবে না পড়লে কোচিং ক্লাসে বকাঝকা করেন। তাছাড়া এনারা পরিক্ষার্থীদের কাছে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস/জোগাড় করে দেওয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করেন।

ইউসিসিতে ইংরেজি পড়ান ‘আলী স্যার’ নামে পরিচিত একজন। সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে তাকে ফোন করা হলে ব্যাচে শিক্ষার্থী নেওয়া শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তুমি কোন কলেজে পড়? কাল সকাল এগারটার মধ্যে কোচিংয়ে চলে আসো। এসে আমাকে একটা ফোন দাও।’ পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি রং নাম্বার বলে ফোন রেখে দেন।

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এমন নানা প্রচারের ফাঁদে কোচিং করতে আকৃষ্ট করছে এসব প্রতিষ্ঠান। আর নানা কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। উপরে হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter