বিশেষ প্রতিবেদন

৬৫ ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ ৫ বছর

visaডেস্ক: ৬৫ বছর বয়সের বেশি বয়সী বাংলাদেশি পর্যটকদের পর্যটক ভিসার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয় ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করায় এখন থেকে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকেরা মাল্টিপল ভিসা এন্ট্রির সুযোগ-সুবিধাও পাবেন।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে পর্যটক বাড়াতে সরকার ভিসা নীতি সহজ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের যে মিশন আছে, সেখান থেকে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগটাও বাড়বে। একই ভাবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বকেয়া থাকা বিষয়গুলোরও সন্তোষজনক সমাধান হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবিকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া : আজও পূরণ হয়নি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন

mujibডেস্ক: খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানোর প্রবল ইচ্ছেটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন দুঃখী মানুষের কাতারে। কখনো বা রাজনীতির মাধ্যমে মানবসেবায় নিজেকে উজাড় করে দেয়ার প্রবল ইচ্ছে। ধীরে ধীরে বড় হওয়া। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু মাতৃতুল্য এ বিদ্যাপীঠ থেকে।

অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বিজয়ের কেতন উড়িয়ে একদিন বাঙালি নেতৃত্ব দেবে বিশ্ব দরবারে- এমন স্বপ্নই তাড়া করতো। অথচ যে বিদ্যাপীঠ প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে, সেখান থেকেই হয়েছেন আজীবনের জন্য বহিষ্কার! অপরাধ- চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের কয়েকটি দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। বহিষ্কৃত হলেও তাতে কী? নিজেকে আর থামিয়ে রাখেননি। দেশ মাতৃকার জন্য লড়েছেন অবলীলাক্রমে। এক সময় তাঁর সাহসী নেতৃত্ব বাঙালিকে এনে দেয় লাল সবুজের একটি পতাকা। বিশ্ব মানচিত্রে আবির্ভাব ঘটে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।

বহিষ্কৃত হয়েও প্রিয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ছিলেন চিরঋণী। কারণ এ বিদ্যাপীঠই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বাতিলকে রুখে দিতে হয়। কৃষক শ্রমিক মানুষের পক্ষে সোচ্চার হতে হয়। তাইতো স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দিয়ে ঋণের বোঝাটা কিছুটা হালকা করবেন এমন প্রত্যাশা। কিন্তু ঘাতকরা সে ঋণ শোধ করতে দিল না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বুলেটের আঘাতে জাতির পিতার সব স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পেরিয়ে বাঙালি আজ বিশ্বময় নিজেদের জানান দিচ্ছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে শক্ত অবস্থান দাঁড় করিয়েছে। অথচ অপূরণীয়ই রয়ে গেলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সে মর্যাদা দেয়ার ইচ্ছে করলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সঙ্গে এক আলাপকালে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্ত কবে নাগাদ দেয়া হবে? জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে পারবেন তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাকি আবারো নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়বে?

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আশা করেন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পাবে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন বিশেষ মর্যাদা দিতে পারতেন, তাহলে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে বিশেষ অবস্থানে চলে আসতে পারতো।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কোনো আচার্য হিসেবে আগমনের কথা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিশেষ মর্যাদা) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন। কারণ সে সময় বাংলাদেশে কোনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। তাই দেশ শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠকে এ মর্যাদা দেয়ার ইচ্ছের কথা আগেই জানালেন বঙ্গবন্ধু। সেদিন সে লক্ষ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১৪ আগস্ট বিকেলের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বক্তব্য রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্য লেখা হয়েছে মানপত্রও। এদিন এ মানপত্র পড়বেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বঙ্গবন্ধুকে সমস্যার কথা জানাতে চেয়েছিল। মানপত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পূর্ব ঘোষণার কথাও উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি বলতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা। প্রত্যাশামাখা মানপত্রটির সমাপ্তি টানা হয়েছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ দিয়ে।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই মানপত্র বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার আগেই ঘটে গেছে ইতিহাসের এক কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞ। ওইদিন ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাড়িতে খুন হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্য।

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র তাওহীদ ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা দিতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়ে যেতো। স্বাধীনতার এতো বছর পরও বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।

বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন দেশটিকে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম নজর দেন শিক্ষাখাতে। যার জন্য তিনি দেশে প্রাথমিক শিক্ষার খরচ সরকারের দায়িত্বে নিয়ে আসেন। এরপর হাত দিতে চেয়েছেন উচ্চশিক্ষায় যার প্রথম হিসেবে শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখনকার সময়ও উচ্চশিক্ষার আলো ছাড়িয়েছে সাফল্যের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ দেখাতেও বলেছিলাম, যে বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন আসতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পেয়ে যেতো। তিনিও আশ্বস্ত করেছিলেন। কারণ বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পুরো জাতির স্বপ্ন ও প্রত্যাশা যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পাক। প্রধানমন্ত্রীর সাপোর্ট আছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী। তাছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভারও প্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। প্রশাসনেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ব্যক্তি ঢাবির শিক্ষার্থী। তারপরও অজানা কারণে হচ্ছে না। কে শোনে কার কথা। এটি বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে তৎকালীন ভেতরকার কিছু লোক জাতিকে বিভ্রান্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামে আলাদা একটা নাম রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল। যেটি আমরা পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা বঙ্গবন্ধুকে লেখা মানপত্রটিও প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করেছি। তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি চেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা দিতে। যদি সে মর্যাদা দিতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে বর্তমানে আরো ভালো অবস্থানে চলে যেতো।

source: jagonews

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: এই দিনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না, আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, চারদিক থেকে আমার হাত বাঁধা ছিল।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় কে এম সফিউল্লাহ এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিবস আমার জন্য কষ্টকর একটি দিন। এই দিনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। চারদিক থেকে আমার হাত বাঁধা ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় সেনাপ্রধান ছিলেন কে এম সফিউল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। উপস্থিত ছিলেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান খান, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী ও ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান, ফোরামের সহসভাপতি ও তৎকালীন টুঙ্গিপাড়ার পুলিশ কর্মকর্তা এডিআইজি নুরুল আলম, ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাসা ভাড়া পাচ্ছে না ব্যাচেলররা

Bacholor_সুব্রত রায়: ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক বাড়ির মালিক। কেউ কেউ ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে বাড়িওয়ালারা যেমন ভয় পাচ্ছেন তেমনি যারা ব্যাচেলর তারাও ভয়ে আছেন। কখন কোন সময় কার উপর কিভাবে বিপদ আসে তা বলা মুশকিল। রাজধানীতে বড় ধরনের দুটি জঙ্গি হামলার পর ব্যাচেলদের মধ্যে এ ভয় ঢুকেছে। মেসে যারা থাকেন সবার বাড়ি একই এলাকায় নয়। অপরিচিতদের সঙ্গে থেকে একে অপরের মুখ পরিচয়। সুযোগ হয়ে উঠে না মেসে কে ভালো, কে খারাপ।
রাজধানীতে বাড়িওয়ালারা আগে ব্যাচেলদের নাম-ঠিকানা কিংবা ভোটার আইর্ডি কাড না রাখলেও জঙ্গি হামলার ঘটনার পর তারা (বাড়িওয়ালারা) সতর্ক হয়েছেন। এখন প্রত্যেক বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের সব তথ্য রাখছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দিষ্ট ফরম ভাড়াটিয়াদের ছবি সহ পূরণ করে রাখছেন। থানায় তা জমা দিচ্ছেন। তারপরও অনেকে ব্যাচেলদের বাড়ি ভাড়া দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। ইতোমধ্যেই কিছু বাড়ির মালিক ব্যাচেলদের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেছেন। অনেক ব্যাচেলদের বাড়ি ছাড়ারও নোটিশ দিয়েছেন।
মেস ম্যানেজরা আগে অপরিচিত ব্যাচেলদের মেস নিলেও এখন তা বন্ধ। পরিচিত ছাড়া মেস ম্যানেজার কাউকে নিচ্ছে না। তেমনি একজন মেস ম্যানেজার রকিব উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মেসে এখন প্রায় ১৫ জন ব্যাচেলর রয়েছে। প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ড, কোথায় কাজ করে, পরিবারের কেউ ঢাকায় থাকে কিনা সব তথ্য রেখেছি। দেশের পরিস্থিতি ভাল নয় আমরাও চিন্তিত। পরিচিত ছাড়া কাউকে মেসে নিচ্ছি না। মেসে যারা আছে তাদের সঙ্গে কোনো পরিচিত মানুষ মেসে আসছে কিনা সে সম্পর্কেও সতর্ক আছি।
তেমনি একজন ব্যাচেলর জয়ন্ত রায় ৩ বছর ধরে একটি বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন। কখনো বাড়ির মালিকের সঙ্গে কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু আজ সকালে বাড়ির মালিক তাকে বলে গেছেন সম্ভব হলে আগামী ১ তারিখ থেকেই বাসা ছেড়ে দিতে। তা না হলে আগস্ট মাস শেষে অবশ্যই বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে মালিক তাদের জানিয়েছেন পুলিশ ও মালিক সমিতির নির্দেশ আছে। আমি (মালিক) কোন ঝামেলায় পড়তে চাই না।
জয়ন্ত রায় বলেন, বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলর কথা শুনলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। জঙ্গি হামলার পর থেকে তারা ব্যাচেলদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। আমাদেরও অনেক সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিছুদিন আগে রাজনীতিতে যে ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে ব্যাচেলর জড়িত তা ঠিক নয়। কিছু খারাপ ছেলে রয়েছে যারা বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালায়। তবে এসব ঘটনা সব ব্যাচেলর করে তা নয়। একজন খারাপ ছেলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেসে অপারেশন চালালে খারাপের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ভাল মানুষও মারা যাবে। কিছু বাড়িওয়ালা অনেক সচেতন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিলেও তাদের ভোটার আইটি কার্ড, জন্মনিবন্ধন কিংবা ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি বাড়ির মালিক দারোয়ানকে বলে দেয় ৫ জনকে ব্যাচেলর হিসেবে একটি ফ্লাট ভাড়া দিয়েছি। এই ৫ জনের বাইরে কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না।
তিনি বলেন, একজন ব্যাচেলর চাইলেই ব্যাচেলর শব্দটি দূর করতে পারবেন না। বাবা-মা লেখাপড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়েছেন তা শেষ না করে কিভাবে ব্যাচেলর শব্দটি দূর করবে। লেখাপড়া শেষে চাকরি এর পরে পরিবারের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করেই অনেক ব্যাচেলর শব্দটি দূর করে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজধানীতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা দেখা গেছে। সেই বোমা হামলার সঙ্গেও কিছু ব্যাচেলর ছেলে জড়িত ছিল। এরপরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাচেলরদের মেসে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। যখন দেশের পরিস্থিতি শান্ত হল তখন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। রাজধানী এবার পর পর দুটি জঙ্গি হামলার ঘটেছে এজন্য ব্যাচেলদের উপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূর হতে কিছুদিন সময় লাগবে। দু-একটা খারাপ ব্যাচেলর ছেলের কারণে তো পুরো ব্যাচেলর সমাজটি কলঙ্কিত হতে পারে না।
বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ব্যাচেলর ছেলেদের সাথে কি সমস্যা ? ব্যাচেলরদের যদি জাতীয় পরিচয় পত্র থাকে এবং বাড়িওয়ালা যদি তার ভাড়াটে সম্পর্কে পুলিশের নিকট থেকে অবহিত হয়ে থাকেন তাহলে বাড়িওয়ালার নিকট থেকে আর কোন ছুতা থাকতে পারে না। সরকারের উচিত বাড়িওয়ালাদের এই নোংরা অনুশীলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। ব্যাচেলররা এর বিরদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারে। আজকের ব্যাচেলররাই আগামীদিনের নেতা। তারাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে পারে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভূক্তি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর অসহায়ত্ব প্রকাশ

‍sangsadনিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নিয়ে আবারো সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। তারা সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একের পর এক প্রশ্নে কবে, কিভাবে এমপিওভূক্তির কাজ শুরু হবে তা জানতে চেয়েছেন। জবাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমার কোনো জবাব নেই। তবে, বিকল্পের অপেক্ষায় আছি। দ্রুতই শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখী হন শিক্ষা মন্ত্রী। এসময় সম্পুরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকারী দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন দিবো। সাবজেক্ট খোলার অনুমোদন দিবো। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মনিটারিং করবো। কিন্তু এমপিওভূক্ত করবো না। এটা হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এমপিওভূক্ত না করতে পারলে নিবন্ধন বন্ধ রাখেন। অনার্স-ডিগ্রি খোলার অনুমতি দিবেন না। এবিষয়ে সরকার কি ভাবছে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমি মাননীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে শতভাগ একমত। কিন্তু এবিষয়ে আমার কাছে জবাব নেই। আমি বেতন দিতে পারবো না, অথচ অনুমোদন দিবো। এটা আমিও চাই না। কিন্তু তারপরও সংসদ সদস্যদের চাপের মুখে অনুমোদন দিতে হয়। তিনি বলেন, এমপিওভূক্তির জন্য চেষ্টা চলছে। কোথা থেকে অর্থ পাওয়া যায়। এবিষয়ে নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই কোন একটা সমাধান আসবে বলে আশা করি।

এর আগে একই বিষয়ে সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও মনিরুল ইসলাম। তাদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, এনিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। সরকারের কাছে নানা ভাবে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অর্থের অপেক্ষায় আছি। অর্থ পেলেই এমপিও শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, এমপিওভূক্ত না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ হবে না, এটা ঠিক নয়। এমপিও’র সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কোন সম্পর্ক নেই। এমপিদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নিয়ে লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, বেগম সেলিনা আখতার বানু, আলী আজম, বেগম আখতার জাহান, বেগম নূর জাহান বেগম, নবী নেওয়াজ, বেগম জেবুন্নেসা আফরোজা ও মোর্শেদ আলম এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও তরিকত ফেডারেশনের এম এ আওয়াল। তাদের প্রশ্নের জবাবে অনেকটা অভিন্ন জবাব দেন শিক্ষা মন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মহাজোট সরকারের বিগম মেয়াদে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়েছে। এরপর বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর এমপিওভূক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম নাহিদ জানান, দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও তামাকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনিটারিং করার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি আছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫% শিক্ষার্থীই বিষাদগ্রস্ত

ডেস্nuক: অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ইন্টারনেটে আসক্তি— সর্বোপরি মুক্ত পরিবেশের অভাব, যা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত করে তুলছে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, দেশের প্রথম সারির এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষাদগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে আসার সহায়ক কোনো পরিবেশ নেই। আর এ কারণেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা কর্মকর্তা আতিয়া আরেফিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কবিরুল বাশার, আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ফারাহ পারিশা ভুঁইয়া, ইবনে সিনা হাসপাতালের সাইকোথেরাপিস্ট মাসুদা খানম তিথি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) জনস্বাস্থ্য বিষয়ের এমফিল শিক্ষার্থী মনোয়ারুল হক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জরিপটি পরিচালনা করেন। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধটি গত মে মাসে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ই-ক্রোনিকন জার্নালে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতায় ভোগার এ চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে ‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মুহাম্মদ ফয়সল চৌধুরী। অপ্রয়োজনীয় চাপের ফলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন, সে চিত্র উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনটিতে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৪০০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ২৬৮ জন শিক্ষার্থীই ছিলেন মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত। আর মানসিক এ অবসাদগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার। বিষাদগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ৩১ শতাংশ ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চারটি অনুষদের (স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস, স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস) প্রতি অনুষদ থেকে ১০০ করে মোট ৪০০ শিক্ষার্থী জরিপে অংশ নেন। অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৫৬ শতাংশ ছাত্র ও ছাত্রী ৪৪ শতাংশ।

জরিপে ‘ইয়াং ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডায়াগনস্টিক কোয়েশ্চেনারি’ শীর্ষক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আর হতাশার মাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে সিইএস-ডি স্কেল ব্যবহার করে। তাতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত। ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন শিক্ষার্থীর হার ৩৭ শতাংশ। আর দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

বিএসএমএমইউর মনোবিজ্ঞান বিভাগের চিকিত্সক ডা. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলে এর ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি একটি মোহ তৈরি হতে থাকে। ফলে ইন্টারনেটে আসক্ত ব্যক্তি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিষয়গুলোও বিশ্বাস করতে শুরু করে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এর সুযোগ নিতে পারে।’

‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় চাপের বিভিন্ন দিক উল্লেখ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্যাম্পাসের মধ্যে ধূমপান, নোংরা রান্নাঘর ও ক্যান্টিন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, মশার উপদ্রব, নোংরা শ্রেণীকক্ষ ও অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার। আর অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে রয়েছে— সপ্তাহ শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া, রি-অ্যাডভাইসিং, শিক্ষার্থীবান্ধব ওয়েবসাইটের অনুপস্থিতি, একদিনে টানা অনেকগুলো পরীক্ষা গ্রহণ, নিম্নমানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, খাবারের উচ্চমূল্য, কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতি ও জার্নাল সংগ্রহের অপ্রতুলতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

এদিকে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম আসায় আবার আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহত জঙ্গি নিরবাস ইসলামও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১১ সালের সামার সেমিস্টারে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ২০১২ সালের স্প্রিং সেমিস্টার পর্যন্ত শেষ করেন। এর পর থেকে বিনা নোটিসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের মাঠের কাছে পুলিশ ও হামলাকারীদের গোলাগুলির মধ্যে নিহত সন্দেহভাজন যুবক আবীর রহমান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তকারী দল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীরের জঙ্গিবাদী বইপত্র পান। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়। এর পরও নানা সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশী তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসও ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী। জানা গেছে, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে এখন পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন পাঁচ শিক্ষকসহ ১৪ শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, আগে মাদ্রাসাছাত্রদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আসত। কিন্তু সম্প্রতি পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইংলিশ মিডিয়ামসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগেও ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়। এটি অনেক বড় মাপের হুমকি। কিছু লোক সচ্ছল পরিবারের এসব শিক্ষার্থীকে অপার্থিব লোভ দেখিয়ে জঙ্গিবাদে উত্সাহিত করছে। তাই এদের মূলকে খুঁজে বের করতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিশুদের নিয়ে এই তামাশা কি সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক

২০০৯ সাল মহাজোট সরকার গঠন করে জানুয়ারি মাসে। সেই বছরের শেষে এসে ৫ম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২০০৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। এত অল্প সময়ের ভেতর খুব একটা ভাবনাচিন্তা করে পরীক্ষাটি চালু করা হয়েছিল বলে মনে হয় না। তবে শোনা যায় যে, পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল এবং তারা পুনরায় ক্ষমতায় এলে এরকম ব্যবস্থা চালু করবে এরকম ব্যাপার ছিল। এত কম বয়সের ছেলেমেয়েদের ওপর পাবলিক পরীক্ষা চাপানোর নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

বৃত্তি পরীক্ষা যেটি নেয়া হতো সেটিতে সীমিত শিক্ষার্থীরা অংশ নিত যা ঐচ্ছিক এবং পরীক্ষার বিষয়ও কম। এ ধরনের নির্যাতনমূলক পরীক্ষায় ছাত্রদের কোচিংয়ের আশ্রয় নেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। পিএসসির পর পর অষ্টম শ্রেণি শেষে জেএসসি চালু করা হয়। আর এসএসসি এবং এইচএসসি তো আগে থেকেই ছিল। এর ফলে বাংলাদেশ শিক্ষা সংক্রান্ত কোচিং ব্যবসার চারণভূমিতে পরিণত হয়। এখন এই কোচিং ব্যবসায় অর্থ সঞ্চালনের পরিমাণ নাকি বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে সহায়ক বইয়ের ব্যবসাও জমজমাট। এ বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে, তার একটি সহায়ক বইয়ের সেট বিক্রি করে একটি প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকা অর্জন করেছে বলে খবর বেরিয়েছে।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের জন্য কিছুকিছু আন্দোলন গড়ে উঠেছে। কেন এ পরীক্ষা বাতিল করা হবে না কারণ জানতে চেয়ে মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে রুল জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত কয়েক দিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ববান কর্মকর্তা জানালেন যে, এই প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল করা হলো এবং তা এ বছর থেকে কার্যকর হবে।

এখানে উল্লেখ্য, দেশের শিক্ষাবিদ এবং বৃদ্ধিজীবীরা বারবার দাবি জানাচ্ছিলেন যে, কিশোরদের পরীক্ষার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা হোক। অতএব তারা এ সংবাদকে সাধুবাদ জানালেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত এক টেলিভিশন আলোচনায় সরকারকে এই সিদ্ধান্তের জন্য অভিনন্দন জানালেন। এ কথাও তখন শোনা গেল যে, আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পরবর্তী মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সেই সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হবে।

এখানে উল্লেখ্য, পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল যে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের সম্মতি নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কথায় আমরা সবাই আশ্বস্ত হলাম। গত ২৭ জুন মন্ত্রিপরিষদের সভার পর কেবিনেট সেক্রেটারি জানালেন যে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। এবারেও পরীক্ষাটি হবে। মন্ত্রিসভায় এরকম হতে পারে কল্পনাও করা যায় না।

তবে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের কথার প্রতিধ্বনি করে বলতে হয় ‘সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ’। এখানে সবকিছু হতে পারে। তা না হলে একজন পূর্ণ কেবিনেট মন্ত্রীর কথা এভাবে উল্টে যেতে পারে? তিনি বলেছেন যে, আগে নাকি তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছিলেন। একজন পূর্ণ কেবিনেট মন্ত্রী যা বলবেন তা তো সব সময় সরকারের বক্তব্য বলে মনে করবে জনগণ। আর মন্ত্রী মহোদয় দেশের জন্য, জনগণের জন্য যা কল্যাণকর তা যদি তার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও না করতে পারেন তাহলে তো তার পদত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিভিন্নভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একটি কাগজে একটি খবর দেয়া হয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো পরীক্ষা বাতিলের মন্ত্রীর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সচিবের ভিন্নমত ছিল। বাংলাদেশে এখন আমলাদের প্রচণ্ড দাপট। কোনো মন্ত্রীর পক্ষে এই দাপট উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর ঐতিহ্যগতভাবে আমলারা জনবিমুখ এবং দাম্ভিক, তারা যেটা মনে করবেন সেটা করবেন। জনস্বার্থ বা কল্যাণের কথা তাদের কাছে বড় নয়। এই উপমহাদেশের আমলারা মূলত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির। পুরাতন বাতাবরণ ভেঙে নতুন বাতাবরণ তারা গড়তে চাইবেন না।

বর্তমান অবস্থায় যে বিষয়টিকে বড় করে দাঁড় করানো হচ্ছে, তাহলো পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে বৃত্তি দেয়া হবে কিভাবে। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব বোর্ডের হাতে নেই। এটি পরিচালনার দায়িত্ব ন্যাশনাল একাডেমি অফ প্রাইমারি এডুকেশনের। পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হয় উপজেলাভিত্তিক। অতএব বিষয়টি খুব সহজ।

প্রত্যেকটি স্কুল স্ব স্ব স্কুলের ছাত্রদের যোগ্যতা বিচার-বিবেচনায় নিয়ে কজন পরীক্ষা দেবে, তার তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাবেন। ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে। প্রায় ছয় মাস সময় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যে রকম উন্নতি হয়েছে এবং ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োগও বেড়েছে, তাতে আগে যে কাজ ৩০ দিনে করা যেত, তা এখন তিন দিনে করা সম্ভব। আর সেটা নির্ভুলভাবেই করা যায়। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। অতএব অনেক কিছু ভাববার রয়েছে। অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। সব ঠিক কথা। তবে যেসবের কথা আজকে বলা হচ্ছে তা তো আগেই বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল, হঠাৎ করে এর আগমন হয়নি। অতএব সবকিছু বুঝেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সেটা বুঝবে। এ নিয়ে অবাঞ্ছিত ও অনাকাক্সিক্ষত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের প্রযোজন নেই। আর এসবের জন্য কোমলমতি শিশুকিশোরদের কষ্ট দেয়া হবে কেন। তারা তো অষ্টম শ্রেণিতে গিয়ে একটা সমাপনী পরীক্ষা দেবেই।

একজন অভিভাবক খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার যে কোচিং সেন্টার চালু রয়েছে, সেখানে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের চেয়ে ছাত্রশিবির বেশ দক্ষতার সঙ্গে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নজর ছিল তৃণমূল পর্যায়ে কোচিং বিজনেস দখল করা, এতে তাদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই লাভ। যা হোক রাজনৈতিক কারণে তারা হয়তো তাদের ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে তাদের দৃষ্টি থাকবে এই ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্যের প্রতি যা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকবে। বর্তমান জনগণের সরকার কেন বুঝতে পারছে না যে, এই পরীক্ষায় কোনো ইতিবাচক দিক নেই। বাচ্চাগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকের মতো নাস্তা বেঁধে নিয়ে বাড়ি থেকে সকাল আটটায় বের হয়, তারপর সকাল এগারোটায় স্কুলে গিয়ে গোগ্রাসে সেই নাস্তা গিলে ক্লাসে যায়। এদের তো সকালে মায়ের কোলে বসে নাস্তা খাওয়ার কথা। অথচ আনন্দময় শৈশবের বিনিময়ে যে সার্টিফিকেট তারা পায় তার কোনো মূল্য নেই, এটি হলো কোরা কাগজ। আমাদের প্রত্যাশা যে, সরকার অবিলম্বে অর্থাৎ এই বছর থেকে সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে দেবে। জনগণের সরকার সব সময় জনগণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। নিশ্চয়ই সরকারও চাইবেন শিশুরা যেন ভারবাহী পশুর মতো কথিত সমাপনী পরীক্ষার ভারে ন্যুয়ে না পড়ে। আমাদের চাওয়া- শিশুদের অবাঞ্ছিত পরীক্ষার চাপমুক্ত করে তাদের চিত্ত বিকাশের এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হোক।

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ : সাবেক ইপিসিএস ও কলাম লেখক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেধাবীরা উঠে আসছে না বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়

224567_1সবার আগে দরকার মেধার ক্ষেত্র তৈরি। মেধাবীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি থাকতে হবে তা পরিচর্যার পরিবেশ। নিশ্চিত করতে হবে তাদের ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। সর্বোপরি থাকতে হবে বৈশ্বিক জ্ঞানলাভের সুযোগ। এসবের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠে মেধাবীরা। কিন্তু বাংলাদেশ এর সবগুলোতেই রয়েছে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে। আর এ পিছিয়ে থাকার মূলে রয়েছে দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা। এ দুর্বলতার কারণেই উঠে আসছে না মেধাবীরা।
সম্প্রতি ‘দ্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট কমপিটিটিভনেস ইনডেক্স ২০১৫-১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যৌথভাবে ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনসিড, অ্যাডেকো গ্রুপ ও হিউম্যান ক্যাপিটাল লিডারশিপ ইনস্টিটিউট। প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে ছয়টি স্তম্ভ। এগুলো হলো— এনাবল, অ্যাট্রাক্ট, গ্রো, রিটেইন, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল, যার সবগুলোতেই বাংলাদেশ রয়েছে পেছনের সারিতে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ, উচ্চশিক্ষার মান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার মান, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ— মেধাবীদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এগুলোকে ধরা হয় গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে। এগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। প্রতিবেদনে এগুলোকে প্রকাশ করা হয়েছে গ্রো স্তম্ভের মধ্য দিয়ে।
এনাবল স্তম্ভটির মধ্যে রয়েছে সরকারের দক্ষতা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসার পরিবেশ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়, শ্রমিক-মালিকের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাগত ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়। গত কয়েক বছরে দেশে এগুলোর কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও, দুর্বলতা রয়ে গেছে অনেকগুলোতেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে এক্ষেত্রে। আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে। কাজের সুযোগ রয়েছে, এমন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। তা না হলে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব যেমন থাকবে, তেমনি মেধার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে।
মেধাবীদের বিকাশের সুযোগের পাশাপাশি তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি ও ধরে রাখার বিষয়টিও প্রতিবেদনের সূচকে প্রতিফলিত হয়েছে। এক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান, পেনশন ব্যবস্থা ও কর; বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র তৈরি, মেধাবীদের ধরে রাখা ও লিঙ্গসমতা; শ্রমপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তি, গবেষক ও পেশাজীবী তৈরির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে রিটেইন, অ্যাট্রাক্ট, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল স্তম্ভের মধ্য দিয়ে। এসব সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনাবল স্তম্ভে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫, অ্যাট্রাক্ট স্তম্ভে ৯১, গ্রো স্তম্ভে ১০৮, রিটেইন স্তম্ভে ৯৭, লেবার অ্যান্ড ভোকেশনাল স্কিল স্তম্ভে ৮১ ও গ্লোবাল নলেজ স্কিল স্তম্ভে ৯১তম। আর সব স্তম্ভের ভিত্তিতে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। এক্ষেত্রে ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩০ দশমিক ৮৯। তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৭২ দশমিক ৬৪৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলংকা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে আমাদের। তবে এ অবস্থানেই আটকে রয়েছি কয়েক বছর ধরে। এজন্য মানসম্মত শিক্ষা ও এ খাতে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে সম্প্রতি ‘দ্য হিউম্যান ক্যাপিটাল রিপোর্ট ২০১৬’ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ১৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম। ১০০-এর মধ্যে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৫৭ দশমিক ৮৪, যা গত বছর ছিল ৫৭ দশমিক ৬২। গত বছর এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৪টি দেশের মধ্যে ৯৯তম।
তালিকায় থাকা দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে শ্রীলংকা। ৭১ দশমিক ৬৯ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৫০তম। ৬১ দশমিক ৮৩ স্কোর নিয়ে ভুটান রয়েছে তালিকার ৯১তম স্থানে, ৫৭ দশমিক ৭৩ স্কোর নিয়ে ভারত ১০৫, নেপাল ৫৭ দশমিক ৩৫ স্কোর নিয়ে ১০৮ ও ৫৩ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ১১৮তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মানবসম্পদের চিত্রটি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিলতর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আর এ সময়ে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটির বেশি মানুষ কর্মহীন থাকবে। আগামী দশকগুলোয় প্রায় পাঁচ কোটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর ঘাটতি থাকবে।
হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৮৬। ৮৪ দশমিক ৬৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় নরওয়ে, ৮৪ দশমিক ৬১ নিয়ে তৃতীয় সুইজারল্যান্ড, ৮৩ দশমিক ৪৪ স্কোরে চতুর্থ জাপান ও ৮৩ দশমিক ৪৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। শীর্ষ দশে এর পরের অবস্থানগুলোয় রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও বেলজিয়াম।
মূলত দুটি স্তম্ভ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে সূচকটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলোর ফলাফল পরিমাপ করা হয়েছে শূন্য থেকে ১০০-এর একটি স্কেলে। সবচেয়ে ভালো অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে ১০০ স্কোরের মাধ্যমে। আর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বয়স শ্রেণীর ক্ষেত্রে এ ফলাফল বিবেচনায় নেয়া হয়।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবেদনটিতে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবস্থা যে আশাব্যঞ্জক নয়, এমন চিত্রই উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষার চিত্র এখনো খুবই করুণ। তার ওপর কর্মসংস্থানের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যহীন অবস্থায় রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা।
প্রতিবেদনে প্রতিটি স্তম্ভের অধীনে কয়েকটি উপসূচক রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার, শিক্ষিতের হার, শিক্ষার গুণগত মান, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও কাজ করতে গিয়ে শেখার হার। আর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো কর্মক্ষম মানুষের চাকরিতে নিয়োজিতের হার, বেকারত্বের হার, আংশিক বেকারত্ব, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, দক্ষতা, শিশুদের কাজে নিয়োজিতের হার। এর সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সার্বিকভাবে শিক্ষা খাতে কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। শিক্ষার মানের দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এ থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষার মান, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ

akbar‘শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বত্র প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন অতি দ্রুত হচ্ছে না। এটা সময় সাপেক্ষ।’

বুধবার বিকেলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের খুব কম সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যার যেখানকার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের অনুকূল নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো আধুনিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। অতিদ্রুত সেখানেও আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেব।’

শিক্ষাসচিব মো. হুমায়ুন খালিদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন―মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এর আগে সকালে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন। সে আলোকে সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা সমাধান করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাসপোর্টে ভোগান্তি

pasporitএসকেদাস: মিরপুরের বাসিন্দা নাসিমা বেগম। জরুরি কাজে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে চান তিনি। ফরম পূরণ করে ‘অতি জরুরি’ ক্যাটাগরিতে পাসপোর্ট করার জন্য টাকাও জমা দিয়েছেন। বলে দেওয়া সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তিনি তাঁর পাসপোর্ট পাননি। তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে জানানো হলো, পাসপোর্ট সরবরাহ করতে আরো দু-তিন দিন সময় লাগবে। এ কথা জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল নাসিমা বেগমকে।

শুধু তিনিই নন, গতকাল দুপুরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে এমন আরো অনেককেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা জানায়, এমনিতেই রোজার মাস, তার ওপর ভয়াবহ যানজট, এর মধ্যে পাসপোর্ট পেতে প্রতিদিন দৌড়ঝাঁপ তাদের চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জানা গেল, প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার পাসপোর্ট সরবরাহের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে। সরবরাহের সময় পার হয়ে যাওয়া দেড় লক্ষাধিক পাসপোর্টপ্রার্থীর ভোগান্তির সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে আরো ১৮ থেকে ২০ হাজার পাসপোর্টপ্রার্থী। সব মিলিয়ে পাসপোর্টের জন্য অফিসগুলোর সামনে যেন হাহাকার চলছে। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার্থে দ্রুত দেশের বাইরে যেতে চায় আর যারা নির্দিষ্ট দিনে দেশের বাইরে থাকার কথা, তাদের কাকুতিমিনতিতে পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরাও যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন বিড়ম্বনার পেছনে আছে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার সমস্যা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন অফিসের সার্ভারে সমস্যা শুরু ১১ দিন আগে। মাঝেমধ্যে সার্ভার কাজ করলেও বেশির ভাগ সময় থাকছে অকেজো। ফলে পাসপোর্ট (নতুন বা নবায়ন করা) প্রিন্ট দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সার্ভারের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ অংশ ব্যবহার করে ফেলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। কিন্তু কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।

এতে একদিকে যেমন পাসপোর্টপ্রার্থীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে, তেমনি পাসপোর্ট অফিসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারীদেরও নাজেহাল হতে হচ্ছে। কেউ কেউ তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্রে ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছে কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে। একই অবস্থা দেখা গেছে পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায়ও। সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারছেন পাসপোর্ট হয়নি। ফলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে কথা বলছে কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরা

জানিয়েছেন, এ অবস্থা শুধু আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসেরই নয়, দেশের সব পাসপোর্ট অফিসেই। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা নেওয়াসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ হলেও পাসপোর্টের প্রিন্ট দেওয়া হয় কেবল আগারগাঁও অফিস থেকে।

উল্লেখ্য, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ছাড়াও বিভাগীয় আঞ্চলিকসহ সারা দেশে আরো ৬৬টি পাসপোর্ট অফিস আছে।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়। গত ১১ দিন পাসপোর্ট প্রিন্ট করতে না পারায় এক লাখ ৬৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা যায়নি। ফলে ভীষণ চাপে পড়তে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিসকে। আগারগাঁও অফিসের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসের চাপও।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সার্ভার পুরোদমে ঠিক হলে আমরাও পুরোদমে কাজ শুরু করব। তার পরও পাসপোর্ট প্রিন্টের জট খুলতে কয়েক দিন লেগে যাবে। সে ক্ষেত্রে পাসপোর্টপ্রার্থীদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) শিহাব উদ্দিন খান গতকাল বলেন, ‘সার্ভারের ক্যাপাসিটির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজ চলছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হজযাত্রী, দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে যাওয়া এবং সরকারি কাজে যারা দেশের বাইরে যাবে—এমন জরুরি প্রয়োজনে যারা পাসপোর্ট করতে আসছে তাদের পাসপোর্ট করে দেওয়া হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্ভারের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজ অনেক দিন আগেই শুরু হয়েছে। কাজটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’

শেরে বাংলানগরের মো. আফতাব গতকাল দুপুরে জানান, তিনি বেশ কয়েক দিন আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। পাসপোর্ট অফিস থেকে যে কাগজ দেওয়া হয়েছে তাতে ২০ জুন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার কথা। তিনি গত ২০ জুন পাসপোর্ট নিতে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যান। সেদিন কাউন্টার থেকে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁর পাসপোর্ট হয়নি। দুই দিন পরে পেয়ে যাবেন। তাদের কথা অনুযায়ী গতকাল দুপুরে তিনি আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যান। গিয়ে জানতে পারেন এদিনও তাঁর পাসপোর্ট হয়নি। কিন্তু কী কারণে পাসপোর্ট হয়নি, সে বিষয়ে কাউন্টার থেকে তাঁকে কিছু বলা হয়নি। এ ঘটনায় মো. আফতাব হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এইভাবে না ঘুরিয়ে বলে দিলেই পারত ঠিক কোন দিন পাসপোর্ট দিতে পারবে।’

জরুরি পাসপোর্ট বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত দেওয়া হচ্ছে—পাসপোর্ট অফিসের এমন বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি গতকাল ওই অফিসে গিয়ে। গতকাল দুপুরে এক ব্যক্তিকে পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের সামনে চেঁচামেচি করতে দেখা গেল। জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, “চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাব। কিন্তু প্রতিদিনই তারা বলছে ‘কাল আসেন’। সব জানানোর পরও আমি তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাইনি।” এ সময় তাঁর পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল আরো অন্তত ৫০ জন। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন গিয়ে ওই ব্যক্তিকে শান্ত করে কাউন্টারের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে যারাই কাউন্টারে গিয়েছে তাদের সবাইকে পাসপোর্ট হয়নি জানিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী জানান, ১১ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। তাহলে সাধারণ মানুষকে এটা জানিয়ে দিচ্ছেন না কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মী বলেন, ‘ওপরের নির্দেশ ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। মানুষজন পাসপোর্ট না পেয়ে আমাদের সঙ্গে রাগারাগি করছেন, এটা তো আমাদেরও ভালো লাগে না।’

পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, লাইনে থাকা কিছু কিছু লোককে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে সেখানকার পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী জানান, এগুলো আগে তৈরি হওয়া পাসপোর্ট। এ ছাড়া সার্ভারে মাঝে মাঝে কিছু কাজ হয়। কিছু কিছু নতুন পাসপোর্টও করা যাচ্ছে। সেগুলো দেওয়া হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, পাসপোর্টের যে ফরম জমা পড়ে তাঁদের অফিসে, সেগুলো আগারগাঁও থেকে প্রিন্ট হয়ে সেখানে যায়। ফলে তাঁরাও সংকটে পড়েছেন।

আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট করতে আসা আবদুর রহিম অভিযোগ করেন বলেন, ‘আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। জমা দেওয়ার পর ছবি তুলতে গিয়ে গেছে আরো কয়েক ঘণ্টা। এখন পাসপোর্ট নিতে এসে দিনের পর দিন ভোগান্তি। সীমাহীন এই ভোগান্তি সমাধানের জন্য আমরা কার কাছে যাব। এর শেষ কোথায়?’

এ বিষয়ে কথা হলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান গতকাল বলেন, ‘সার্ভারে সংকট হয়েছে। আমাদের ক্যাপাসিটি আছে এক কোটি পাসপোর্টের তথ্য সংরক্ষণের। আমাদের এখানে আমরা এর মধ্যেই এক কোটি ৪৩ লাখের তথ্য সংরক্ষণ করে ফেলেছি। ফলে সার্ভারের ক্যাপাসিটি সংকট হয়েছে। কাজ চলছে। এখন আমরা দৈনিক ১১ হাজার প্রিন্ট দিতে পারছি। চাহিদা আছে ১৫-২০ হাজারের।’ এ ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে। তবে যে জট লেগেছে তা কাটাতে কিছু সময় তো লাগবেই—এ মন্তব্যও করেন তিনি। কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অধঃপতিত শিক্ষা, দায়িত্বহীন গণমাধ্যম

chiro_daপ্রতিবেদক যে সব প্রশ্ন করেছেন, তবে বেশিরভাগই সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। কোন দেশের রাজধানী কোথায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস কত তারিখ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখ। শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় ইত্যাদি।

নৈতিকতার দিক থেকে দেখলে কোনো মতেই এই প্রতিবেদনটিকে মেনে নেয়া যায় না। যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কী সত্যিই কারও ‘জ্ঞান-মান’ মাপা যায়? আর এসব প্রশ্নের জবাব দেশের কয়জন ‘শিক্ষিত’ মানুষ জানে? শিক্ষকরা জানে তো? কয়জন পারবে ওই প্রশ্নগুলোর ঠিকঠাক উত্তর দিতে? সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ভুলভাল উত্তর দেওয়ায় অনেকের মধ্যেই ‘মজা লওয়া’র বিকার লক্ষ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের আনন্দে অনেকে লাখ লাখ কমেন্ট আর শেয়ার দিয়েছেন, কিন্তু কেউ তলিয়ে দেখেননি, এমন উত্তর তারা কেন দিয়েছে? তাদের কারা শেখায়? কী শেখায়?

উল্লিখিত প্রতিবেদনটিতে শিক্ষার্থীদের অজ্ঞতার একটা খন্ড চিত্র হয়তো পাওয়া গেছে। কিন্তু সামাজিক মানুষ হিসেবে আমরা কতটা মূর্খ ও বিকারগ্রস্ত-তার একটা অখন্ড চিত্রও বের হয়ে এসেছে! প্রতিবেদককে হয়তো এ ব্যাপারে ততটা দায়ী করা চলে না, একজন প্রতিবেদকের বুদ্ধি-বিচারের ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু টিভি চ্যানেলের যারা কর্তাব্যক্তি ছিলেন, তারা এমন একটা প্রতিবেদন কোন বিবেচনায় প্রচার করলেন? আর ফেসবুকেই বা তা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার দিলেন কেন? শিক্ষার ‘নিম্নমান’ দেখাতে কিছু নিষ্পাপ কিশোরকিশোরীকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপন করাটা কতটা নৈতিক? তবে কী সামিষ্টিকভাবেই আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পেয়েছে?

বিশেষ করে যে দুটি মেয়েকে কিছু আলটপকা প্রশ্ন করে বোকা বানানো হলো, গোটা দেশের মানুষের কাছে তাদের মানমর্যাদা বিনষ্ট করা হলো, তা কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করা যায় না। এটা শুধু নৈতিকতা বিরুদ্ধ নয়, অপরাধও বটে। কাউকে জনসমক্ষে হেয় করার অধিকার কোনো মিডিয়ার থাকতে পারে না।

এমনিতেই আমাদের সমাজে নারীকে অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। আমাদের পুরো সমাজেই নারীবিরোধী উপাদানে ভরপুর। সবাই তক্কে-তক্কে থাকে নারীর খুঁত ধরার জন্য, সেখানে দুটি মেয়েকে এভাবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তাদের পরবর্তী জীবনকে বিষিয়ে তোলার দায় কে নেবে? তাদের মধ্যে এরপর স্টিগমা তৈরি হতে পারে। আত্মবিশ্বাসহীনতা ও দ্বিধাও তৈরি হতে পারে। তাদের মধ্যে একটা ভয় ও হীনমন্যতা গ্রাস করতে পারে। এমনকি মেয়ে দুটির নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নেতিবাচক দিকে ঝুঁকে পড়ারও আশঙ্কা আছে। এটা কোনো মিডিয়াই করতে পারে না।

মেয়েদের বেলায় যে কোনো ঘটনা আলাদাভাবে এবং বিশেষভাবে ভাবতে হয় এ কারণে যে, আমাদের সমাজের প্রচলিত নিয়মে ছেলেদের কোনো ‘কলঙ্ক’ বা ‘অপমান’ হয় না। পুরুষশাসিত সমাজে তাদের ত্রুটি দুর্বলতাগুলো লঘু করে দেখা হয়। পুরুষবাদী ও পুরুষবান্ধব সমাজে ছেলেরা সহজেই যে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি এমনকি অপমান পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারে, কাটিয়ে উঠার সুযোগ পায়। কিন্তু মেয়েরা তা পারে না। তাদের সেই সুযোগ দেয়াও হয় না। কোনো ঘটনা ঘটলে সবাই মিলে মেয়েটিকেই কোনঠাসা করে ফেলা হয়। কাজেই মেয়েদের ব্যাপারে অধিক সংবেদনশীলতা সব সময় কাম্য। যা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিতে নেই।

আমাদের শিক্ষার মান খারাপ এটা সবাই জানে। তারপরও কেউ যদি এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে বা সমীক্ষা চালাতে চায়, এ জন্য বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়। যার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, তাকে আগেই প্রশ্ন দেখাতে হয়, সেটা যে মিডিয়ায় প্রচার করা হবে, এটাও আগেই জানাতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর নিয়ম মানা হলে কেউই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হতো না। প্রতিবেদনে যা দেখানো হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রশ্নগুলোর সঠিক জবাব দিতে পারেননি। জবাব না দিতে পারায় তাদের লজ্জা এবং আড়ষ্ট ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

তাহলে এমন একটা কাণ্ড কেন করা হলো? যারা হুজুগে ‘খারাপ মানের’ জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা প্রতিবেদনটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন তারা কী খুব উচ্চ মানের কাজ করেছেন? ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকলে কেউ এটা করতে পারেন না। একটি সভ্য-শিক্ষিত সমাজে সবারই দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত।

ওই টিভি চ্যানেলটি কয়েকটি শিশুকে ‘আহাম্মক’ হিসেবে দেখিয়ে নিঃসন্দেহে একটা গর্হিত কাজ করেছে। তাদের উচিত ছিল সাক্ষাৎকারদাতা শিশুদের মুখগুলো আবছা করে দেওয়া। সংবেদনশীল প্রতিবেদনে শুধু ভিকটিমদের নয়, দাগী অপরাধীদেরও চেহারা আবছা করে দেওয়াই নিয়ম। এখানে এই শিশুরা ‘ভিকটিম’ মাত্র। তাদের চেহারা স্পষ্ট করে দিয়ে কয়েকটি শিশুর সঙ্গে চরম অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষার সামগ্রিক মানের যে অধঃপতন-তা নিয়ে আলাপআলোচনা কিছু কম হচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিবেদনেও তা উঠে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘র্যাং কিং ওয়েব অফ ইউনিভার্সিটি’ এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষার গুণগত মান বিচারে বাংলাদেশের কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ই সেরা ২১০০ এর মধ্যে স্থান পায় নাই। এমনকি এশিয়ার সেরা ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ও আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নাই। এর থেকেই বোঝা যায় যে, আমাদের শিক্ষার মান কত নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

গত তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কথিত ‘মেধাবী’দের ৮০ ভাগই পাস নম্বর পাননি! বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৮ নম্বর পাননি এমন পরীক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৫৫% ও ৫৬%!

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা- এই চার স্তরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে মাধ্যমিক স্তর। কারণ এই স্তরেই শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠার সময়। অথচ এ পর্বের শিক্ষকরাই বেশি অদক্ষ। এই স্তরের বেশির ভাগ স্কুলই এমপিওভুক্ত। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক হতে গেলে দক্ষতা নয়, প্রয়োজন হয় টাকার। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণব্যবস্থাও তেমন জোরালো নয়। সরকার এই স্তরকে ঢেলে সাজাতে ২০০৮ সাল থেকে চালু করে সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু সেই সৃজনশীল এখন হয়ে গেছে নোট-গাইডনির্ভর।

শিক্ষকরা এখনো পারেন না সৃজনশীল প্রশ্ন করতে। তারা ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়ে পড়াতেই বেশি পছন্দ করছেন। তাই পড়ালেখায় মন না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে এক শিক্ষক থেকে থেকে আরেক শিক্ষকের কাছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া কোনো শিক্ষকই নিয়োগ পান না। কত টাকা দিতে হবে, তাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করে দেয়। যোগ্য প্রার্থীরা টাকা না দিতে পারলে নানা কৌশলে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। পরিচালনা কমিটির ওপর শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি না থাকায় তারা ইচ্ছামতো চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। মানের দিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই।

মূলতঃ শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে যে আশঙ্কাজনক অধঃপতন হয়েছে, তার জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থাটাই দায়ী। স্কুল-কলেজে ভাষা বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা না দেওয়া, বিষয়ভিত্তিক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারা, গভীর পাঠদান ও পাঠাভ্যাসের অনুপস্থিতি, পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বিষয়ে পাঠাভ্যাস কমে যাওয়া, ‘শর্টকাট’ উপায়ে সফল হওয়ার প্রবণতা, কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা, বাড়িয়ে বাড়িয়ে নম্বর দিয়ে কৃত্রিমভাবে মেধার বিস্ফোরণ ঘটানোর নীতি-এসব

কিছুর সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে শিক্ষার মানে ধস। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ফল গ্রাস করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে। সকলের টনক কবে নড়বে সেটাই দেখার বিষয়।

চিররঞ্জন সরকার : লেখক, কলামিস্ট।
chiroranjan@gmail.com

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে একই গ্রেড দরকার

2016_05_26_19_19_23_r স্কুল ও কলেজে একই রকম গ্রেডিং সিস্টেম থাকলেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তা আলাদা হয়ে যায়। তবে এই তিন পর্যায়ের গ্রেডিং একই রকম হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গ্রেডিং পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।’

বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড এর নির্ধারিত মোট মান জিপিএ ৫, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ এর মোট মান জিপিএ ৪ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত স্নাতক (পাস) পরিক্ষার মোট মান জিপিএ ৫! এতে করে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ সমান হলেও পরীক্ষা ভেদে মূল্যমান সমান হয় না।

একজন শিক্ষার্থীর স্নাতক (সম্মান) পরিক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৪ এবং অন্য একজন পরিক্ষার্থীর স্নাতক (পাস) পরিক্ষায় প্রাপ্ত পিপিএ ৫। উভয়ের প্রাপ্ত জিপিএ সংখ্যাগত ভাবে সমান হলেও এদের মান কিন্তু সমান নয়। আবার কোন শিক্ষার্থীর পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, অর্নাস ও মাস্টার্স সকল পরিক্ষায়ই প্রাপ্ত জিপিএ ৩.৫ করে হলেও সকল পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যমান কিন্ত এক হয় না। কারণ, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষায় মোট ৫ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫ অথচ অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় মোট ৪ এর মধ্যে সে পেয়েছে ৩.৫।

এসব অসমতার কারণে ভর্তির বা চাকরির বিজ্ঞাপনদাতাকেও পড়তে হয় বিপাকে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উল্লেখ করতে হয় আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা। আবার প্রত্যেক আবেদনকারীর প্রতিটি পরিক্ষার গ্রেড-শিট বিশ্লেষণ করে বের করতে হয় প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী-ডঃ কামাল

নিজস্ব প্রতিdr.kamalবেদক : নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সবপক্ষের আইনজীবীরা। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন এই ঘটনাকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, নির্যাতনের শিকার শিক্ষক চাইলে তারা আইনি সহায়তা দেবেন তারা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে পৃথক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আইনজীবী নেতারা।

এক মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘কান ধরে উঠবস করানো সভ্য সমাজ ও সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের আচরণ কল্পনা করা যায় না।’ ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য দেশে আইন আছে। ওই আইনে তদন্ত হয়, তদন্ত শেষে বিচার হয়। কিন্তু বিচারের আগেই ওই শিক্ষককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।’ অপরদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তিকে কান করে উঠ-বস করিয়ে শুধু তাকে অপমানিত করা হয়নি, ওই দৃশ্য দেখে দেশবাসীও অপমানিত হয়েছেন।

এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যে সব ব্যক্তি সম্পৃক্ত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ নির্যাতিত শিক্ষককে আইনি সহায়তা প্রদানের ঘোষণাও দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘এ নির্যাতনের ঘটনায় মানহানির মামলা হতে পারে। যদি শ্যামলকান্তি আইনি সহায়তা চান, তাহলে স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায়তা দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ রমজান আলী সিকদার, সহ-সম্পাদক একেএম রবিউল হাসান সুমন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পিয়ার সাত্তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে ছাত্র মারধর ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কান ধরে উঠবস করান সাংসদ সেলিম ওসমান। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠলেও ১৬ মে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বুধবার এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে তদন্তের পর বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল ও শিক্ষককে পুনর্বহালের ঘোষণা দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রয়াণ

ঢাকা: ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাবার্তা পাঠকদের জন্য  আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৪ মে ২০১৬, শনিবার। ৩১ বৈশাখ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
•     ১৬৪৩ – মাত্র চার বছর বয়সে চতুর্দশ লুই ফ্রান্সের সম্রাট হন।
•     ১৭৯৬ – এডওয়ার্ড জেনার পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দানের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেন।
•     ১৮১১ – প্যারাগুয়ে স্পেনের শাসন থেকে মুক্তি পায়।
•     ১৯৩৯ – লিনা মেডিনা মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন। চিকিৎসা ইতিহাসের তিনিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ মা হিসেবে চিহ্নিত।
•     ১৯৪৮ – সর্বশেষ ব্রিটিশ সেনাদল ফিলিস্তিন ছাড়লে ইজরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
•     ১৯৫৫ – সোভিয়েত রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে ওয়ারশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

জন্ম
•     ১৯০৭ – পাকিস্তানি সেনাশাসক ও রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান।
•     ১৯২৩ – চিত্রপরিচালক মৃণাল সেন।
•     ১৯৪৪ – মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জর্জ লুকাস।

মৃত্যু
•     ১৯২৫ – বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড।
•     ১৯৯৮ – কথাশিল্পী শওকত ওসমান। লেখক ও কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশু-কিশোর সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি

স্টাফ রির্পো১টার: সারা দেশে মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লক্ষের অধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বিনা বেতনে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিনা বেতনের এসব শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তাই আগামী বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি, সরকারের ভূমিকা এবং বাজেট বরাদ্দ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের উপর ০৫মে সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি মোঃ এশারত আলীর সভাপতিত্বে ও শরীফুজ্জামান আগা খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, ইতিহাসবিদ ও সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা বার্তার সম্পাদক এ এন রাশেদা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ’র কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী। বৈঠকে সংগঠনের পক্ষে প্রতিবেদন পাঠ করেন ড. বিনয় ভূষণ রায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার উল্লেখ করে তা দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনা বেতনের শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। তিনি আসন্ন বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানান।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই নিয়ম নীতিতে পরিচালিত হয়। একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ তাদের কোন বেতন পাবে না তা মেনে নেয়া যায় না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free