বিশেষ প্রতিবেদন

শিক্ষা ব্যবস্থার এখন বিপুল পরিবর্তন

আগে যেখানে পাস করলে দেখতে ছুটে যেতো গ্রামবাসী,আর এখন ফেল করলে দেখতে যায় গ্রামবাসী।

childএস কে দাসঃ  “শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড”।যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত,সে জাতি তত বেশী উন্নত। 
আর তাই শিক্ষা গ্রহনের জন্য আমাদের ছুটতে হয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর দ্বারে দ্বারে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এখন বিপুল পরিবর্তন।আগে যেখানে পাস করলে দেখতে ছুটে যেতো গ্রামবাসী,আর এখন পাস করাটা পান্থা ভাতের মত হয়ে গেছে।এখন ফেল করলে দেখতে যায় গ্রামবাসী।

মেধা আর পুঁথিগত বিদ্যা এক নয়।সফলতা পুঁথির মধ্যে লেখা থাকে না। তাই বলে পুঁথি পড়তে হবে না এমন টা ও নয়!

জানার জন্য,শিখার জন্য পড়তে হবে।এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন হবে তোমার রেজাল্ট? ও বললো টেনশনে আছি,এ প্লাস না পেলে মুখ দেখাবো কি করে?

আমি হতবাক হয়ে গেলাম।জিপিএ ফাইভ না পেলে তার প্রেসটিজ পামছার হয়ে যাবে। তার মানে দাড়ায় সে জানার জন্য নয়,পড়ছে জিপিএ ফাইভ এর জন্য।

আবার দেখলাম টেষ্টে পাস করে ও কাঁদছে শিক্ষার্থী।কারন হিসাবে আশানুরুপ ফল হয়নি! এখন প্রশ্ন শুধু মুখস্ত করে পরীক্ষা দিলে জিপিএ ফাইভ কেনো লেটার মার্কস ও পাওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানর্জন করা সম্ভব নয়।

আমাদের মানুষিকতা একটু ব্যতিক্রম।আমরা ভাবি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলেই ভাল ছাত্র/ছাত্রী হওয়া যায়।জীবনে বড় চাকরি পাওয়া যায়,কোটিপতি হওয়া যায়,মান সম্মান বৃদ্ধি পায়।এগুলো দাম্ভিকতা ছাড়া কিছু নয়।

“পৃথিবীতে সকলের মেধা শক্তি এক নয়।কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নয়।সবাই সব বিষয় বিজ্ঞ ও নয়।ধরুন একই ক্লাসে কেউ গনিতে ভাল,কেউ ইংরেজি,কেউ সাধারন জ্ঞান।আবার কেউ ভাল ক্রিকেট খেলায়,কেউ ফুটবল,কেউ আবার গনিত-ইংরেজির চেয়ে ব্যবহারিক বিদ্যা অনেক প্রখর”।

এখন প্রশ্ন হলো কজনই বা মেধার মূল্যায়ন বুঝে?

ছোটবেলা যখন বাড়ি থেকে জিজ্ঞেস করতো,বড় হয়ে কি হতে চাও? বলতাম ডাঃ, ইঞ্জেঃ। আসলেই কি সকলের ইহা হয়ে উঠা সম্ভব হয়? না, সন্তান কোন দিকটায় পারদর্শী আমরা এর খবর না নিয়ে জিপিএ ফাইভ আর বইয়ের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিতে ব্যস্থ থাকি।

যে ছেলেটা বইয়ের সহজতম অংক কষতে না জানলে ও এইচ-টি,এম,এল – সি,এস,এস এর কোড দিয়ে ওয়েভসাইট ডেভোলাপ করতে পারে, তবে কি আপনি তাকে অশিক্ষিত বলবেন?

যে ছেলেটা বইয়ের সহজ ইংলিশটা না জানলে ও ঠিকই ডিউজ বলটা দিয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে দেশকে সম্মান এনে দিতে পারে তাকে অশিক্ষিত বলবেন?

আমাদের চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান গুলো ও কাগজের সার্টিফিকেট দেখে মেধার মূল্যয়ন করে। যা কখনোই আমার কাছে বোধগম্য নয়। সার্টিফিকেটে মেধা কিংবা যোগ্যতা লেখা থাকে না। অনেক সময় সন্তানকে বেশী পড়ালেখার চাপ দিলে সে মানুষিক ভাবে হেনস্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন বইয়ে বোঝা আর বাবা মায়ের মুখ উজ্জল করতে গিয়ে সামাজিকতা থেকে ও দূরে সরে যাচ্ছে যুব সমাজ।

সরকার বইয়ের বোঝা কমিয়ে, সৃজনশীলতার চর্চা করার ব্যবস্থা করে দিলে ও কোচিং আর গাইড বইয়ের কবল থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছেন না কোমলমতী শিশুরা। বেশী শিখানোর জন্য অল্প বয়সে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বোঝা! সমাজের সাথে না মেশার ফলে এরা খুব সহজেই ব্রেন ওয়াসে বিশ্বস্ত হয়ে পরে বলে মনে হচ্ছে।গতিক মনভাব,মানুষের প্রতি ভালবাসা মমত্ববোধ ও কমে যাচ্ছে তরুন প্রজন্মের মাঝে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ থেকে উত্তোরনের একটা ই উপায়। তা হলো আপনার সন্তান কি হতে চায় সেদিকে নজর দিন। আপনার স্বপ্ন সত্যি করতে সন্তানকে মানুষিক বেকারগ্রস্থ করে গড়ে তুলবেন না।

“কিছুদিন আগে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। কিছু কোমলমতী শিশুকে দেখলাম বই নিয়ে ছুটছে তখন প্রায় ছয়টা বাজে।সেই শিশুকে দেখলাম বিকেল ৪ টার পরে বাড়ি ফিরছে”!

এটা কেমন শিক্ষার্জন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবু শহরের থেকে ভালো,ওদের তো নিঃশ্বাস নেয়ার সময় নেই। কয়টা শিশু শহর থেকে গ্রামে এসেছে,ধান ক্ষেতে ধান দেখে ওরা জিজ্ঞেস করে এগুলো কি? অতচ এই ধান থেকে যে চাল হয়, সেই চালের ভাত খেয়ে বেঁচে আছে তারা।

এখন আপনি ভাবুন এ সন্তানকে কি শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন।জিপিএ ফাইভ পাওয়া নাকি সুশিক্ষিত নাগরিক করা। বলি কি জোর করে যেমন ভালবাসা হয় না,তেমনি অন্যের প্রতিভাকে নিজের স্বার্থে জলাঞ্জলি দিবেন না। সন্তানকে তার ইচ্ছে মতই বড় হতে দিন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিভাবকদের ‘অস্থিরতায়’ মানসিক ‘অশান্তিতে’ শিশুরা

রফিকুল ইসলাম একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার স্ত্রী সায়মা হক একজন ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা। রফিক-সায়মা দম্পতির সাত বছরের মেয়েশিশু নাহিয়ান এখনও কথা বলে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে গিয়ে দেখেন, নাহিয়ানের শারীরিক কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য মানসিক চিকিৎসকের কাছে পাঠান। দীর্ঘ ছয় মাস নিয়মিত যাতায়াতের পর নাহিয়ান কথা বলে ঠিকই, কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে সে কথা বলে না সচরাচর। মানসিক চিকিৎসকের মতামত, বাবা-মায়ের প্রতিনিয়ত ঝগড়া আর অত্যাচারের কারণে নাহিয়ানের এ অবস্থা।

জাহেদুল হক ও নাসিমা বেগমের সংসার দশ বছরের। একমাত্র সন্তান আবিরের বয়স যখন তিন বছর, তখন একবার সংসার বিচ্ছিন্ন হলেও পুনরায় একত্রিত হন তারা। যদিও সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি আজও। প্রতিদিনের ঝগড়ার মধ্যে স্বচ্ছল এই পরিবারের সন্তান আবিরের জিদ বেড়ে গেছে। স্কুলে পাঠানো হলেও সেখানে সে পড়তে চায় না। শিক্ষকদের কথা শুনতে চায় না।স্কুল থেকে বারবার অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। আবির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে এখনও কাউন্সিলিং এ আছে।

দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ২০১৬ সালের তথ্যচিত্রে দেখা যায়, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ১৬ দশমিক শূন্য এক ভাগ লোক মানসিক রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশই মানসিক রোগে আক্রান্ত।

এছাড়া, এই বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩ দশমিক ৮ ভাগ মানসিক প্রতিবন্ধী,২ ভাগ শিশু মৃগীরোগে আক্রান্ত এবং শূন্য দশমিক ৮ ভাগ শিশু মাদকাসক্ত।

মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের শিশু বর্ধন ও পারিবারিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘দাম্পত্য কলহের কারণে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা হ্রাস পায়। তাদের মধ্যেও কলহ প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এমনকি ব্যক্তিত্ব বিকারের মতো মারাত্মক সমস্যাও চিহ্নিত হতে পারে।’

ব্যক্তিত্বের বিকারের মধ্যে কোন ধরনের সমস্যাগুলো দেখা দেয় প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তার আচরণের সমস্যা হয়। অন্যের ওপর সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তারা যখন বড় হয়ে নিজেদের পরিবারে প্রবেশ করে, সেটাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার মানে দাঁড়ালো, জীবনের শুরু থেকে শিশু অবস্থায় সে যেমন খারাপ থাকে, বড় হয়েও সেসব স্মৃতির কারণে অশান্তিতে থাকে।’

মানসিক রোগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আসিফ মনে করেন, পরিবারই যেহেতু অন্যতম ইন্সটিটিউশন, সেহেতু সেখানে শিশু একটি সুস্থির পরিবেশ না পেলে, তার বেড়ে ওঠায় সমস্যা তৈরি হবেই। অভিভাবকদের শিশু পরিচর্যা নিয়ে আমাদের এখানে তেমন কোনও প্রশিক্ষণ নেই। ফলে শিশুর সামনে কী করা যাবে বা যাবে না, এসব নিয়ে আমরা কথা বলি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে শিশুদের ইগনোর করার একটা প্রবণতা কাজ করে। আমাদের ছোট ছোট আচরণ যে তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এটাও আমরা মনে রাখি না। কিন্তু এই একেকটি ইমেজ তার মনে যে প্রভাব ফেলে, সেখান থেকে তার আর বের হওয়ার উপায় থাকে না। কোনও সন্তানের মধ্যে অস্বস্তিকর কিছু দেখা গেলে তাকে কাউন্সিলরের কাছে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি মেডিসিন দেওয়া যেমন দরকার, একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও চিকিৎসা এবং কাউন্সিলিং দরকার।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইংরেজির জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ ফেল!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষা স্তরে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীরা নামেন ভর্তি যুদ্ধে। কিন্তু এই ‘যুদ্ধে’ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ৯২ ভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করছেন। কেন এই ফল বিপর্যয়, কারণ কী? শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই ইংরেজিতে ফেল করে। সমস্যা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের। ইংরেজি অনুশীলনের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলাফলে দেখা দেখা গেছে, পাশ করেছেন মাত্র ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে।  বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে ফেল করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

শিক্ষাবার্তাকে তিনি  বলেন,‘বাণিজ্যিক অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান এবং ম্যানেজমেন্ট সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন আসে। ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যাতে প্রশ্ন থাকে ১০০টি। পাস করতে হলে ইংরেজিতে ২৪ নম্বরের মধ্যে অনন্ত ১০ এবং সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। সমস্যা হচ্ছে ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা ১০ নম্বরই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন’।

তিনি বলেন, ‘গ ইউনিটে এবার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৯০ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। অনেকেই ১২০ নম্বরের মধ্যে ৬০-৭০ পেয়েছে। অথচ ইংরেজিতে ১০ নম্বরও তুলতে পারেননি’।

ইংরেজিতে এত ফেল করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ইংরেজির মান এখনও উন্নত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই সমস্যাটি হচ্ছে’।

ঢাবির গ ইউনিটের প্রশ্নপত্রে ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন কম ছিল, এতে পরীক্ষার্থীরা বেশ হতাশ হয়েছেন। এই একটি প্রশ্ন কম থাকা কি ফেলের কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিন বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি প্রশ্ন কম ছিল। তবে সেখানে আমরা সবাইকে ওই একটি প্রশ্নের নম্বর দিয়ে দিয়েছি। কারও নম্বর কাটা হয়নি।’

‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল  বলেন, ‘খ ইউনিটে পাস করতে হলে বাংলায় ন্যুনতম ৮ এবং ইংরেজিতেও ৮ পেতে হয়। ১২০ নম্বরের মধ্যে সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। কিন্তু আমরা হিসাব করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি।’

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গেছে, একই রকম চিত্র। বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। সি ইউনিটে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জবির ভর্তি পরীক্ষাতেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন ইংরেজিতে।

পরীক্ষায় এত ফেলের কারণ কি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা পরিসংখ্যান করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি আরও ভালোভাবে পড়াতে হবে। কারিকুলাম যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত ইংরেজিতে আরও ভালো কারিকুলাম প্রয়োজন কিনা। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ওপর ভীতি কাজ করে, তারা ইংরেজি পড়তে চায় না।’

ভর্তি পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা ফেল করছে না তো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা হওয়া একদমই অসম্ভব। কারণ সফটওয়ার প্রোগ্রাম অনেক ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই ঠিক করা থাকে। ভর্তি পরীক্ষার পরে প্রশ্নের উত্তর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটেও দিয়ে দেওয়া হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা তার উত্তরটি মিলিয়ে নিতে পারে। তারপরও কারও যদি নম্বর নিয়ে সন্দেহ হয় তাহলে ডিন অফিসে গিয়ে খাতা পূর্নমূল্যায়নের আবেদন করলে আমরা তা পূর্নমূল্যায়ন করে দেই। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভবনা নেই।’

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক শিক্ষা সচিব অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খানও মনে করেন ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা অনেক দুর্বল। শিক্ষার মানেরও অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্কুল-কলেজে ঠিকমত ক্লাস হয় না, ইংরেজি ভালো করে পড়ানো হয়না। শিক্ষার্থীরা কি শিখবে? এসব দেখার কেউ নেই।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ভোগান্তিতে কোটি গ্রাহক

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছে এক কোটি নাগরিক। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, জমি রেজিস্ট্রি, পাসপোর্ট করাসহ নানা কাজে ভোগান্তি হচ্ছে তাদের। স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা বলে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই কাগুজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়াও বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে দেশে ১০ কোটি ভোটার হলেও ৯ কোটি ভোটারের হাতে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টকার্ড। সে ক্ষেত্রে বাকি নাগরিকদের কাগুজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে নাকি স্মার্ট— তাও পরিষ্কার করে বলছে না নির্বাচন কমিশন। এদিকে অনলাইন থেকে সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও অনলাইন কার্যক্রমের সেবা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য লগইন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। অনেক সময় বলা হয় অফিস টাইমে লগইন করতে, কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনলাইনেও মিলছে না সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র। এমনকি বর্তমানে যারা ভোটার হচ্ছেন ইসির পক্ষ থেকে তাদের অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনলাইনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক নাগরিক।

২০১৪ ও ২০১৫ সালের হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন ভোটারের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন কাজে পরিচয়পত্র বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা। এসব নতুন ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও ঢাকার ভোটারদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আর গ্রামগঞ্জের ভোটারদের স্মার্টকার্ড পাওয়ার জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অনেকে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে স্মার্টকার্ড হাতে পেতে পারেন। অনেকে আবার স্মার্টকার্ড পাওয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন।

কেননা চুক্তি অনুযায়ী ৯ কোটি ভোটারের হাতে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্টকার্ড দেবে ইসি। এ ক্ষেত্রে ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড পেলে, বাকি ১ কোটি ভোটারের ভাগ্যে কী আছে তা কেউ জানে না। যদিও ইসি বলছে সরকারি তহবিল থেকে তাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ তা অনুমোদন হবে, তাও বলতে পারছে না ইসি।

শফিকুল ইসলাম পড়েন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভোটার হয়েছেন ২০১৪ সালে। এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। নির্বাচন কমিশনের থানা অফিস থেকে বলা হয়েছে, নতুন ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। সেই আশায় আছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া অনেক সেবাও নিতে পারছেন না। বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একটি মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করছেন, বায়োমেট্রিকও করেছেন বারার নামে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কোনো ব্যাংক হিসাবও খুলতে পারছেন না এই শিক্ষার্থী। অন্যদিকে শহর-গ্রামগঞ্জের মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাবে মেয়ের বিয়ে থেকে শুরু করে জমি রেজিস্ট্রিসহ অনেক কাজ করতে পারছেন না।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে হালনাগাদে ৪৭ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এরপর সব মিলে ১ কোটি ভোটার নতুন হয়েছেন। তারা বলেন, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। ৪০০ দিনে মোট ৯ কোটি ভোটারের হাতে তুলে দেওয়া হবে উন্নতমানের এ কার্ড। কিন্ত বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছেন ১০ কোটি। বাকি ১ কোটি নাগরিকের হাতে কবে আসবে স্মার্টকার্ড? এ নিয়ে ভোটারদের মনে তৈরি হয়েছে সংশয়। ইসি কর্মকর্তারাও জটিলতায় পড়েছেন এ হিসাব নিয়ে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, ২০১৭ সালের মধ্যে দেশের সব ভোটারের হাতেই তুলে দেওয়া হবে স্মার্টকার্ড। স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিস নামে এক সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি।

ইসি সচিবালয় বাস্তবায়নাধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেনসিং এক্সেস টু সার্ভিসেস—আইডিইএ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালের হালনাগাদে যারা ভোটার হয়েছেন, সেসব নাগরিকও স্মার্টকার্ড পাছেন প্রথম পর্যায়ে। যদিও সংশোধিত চুক্তিতে যেই ৯ কোটি ভোটারের হিসাব ধরা হয়েছিল, সেখানে ঢাকার নতুন ভোটার সংখ্যা উল্লেখ ছিল না। তাহলে ঢাকার এই ভোটারদের জায়গায় বাদ পড়ছেন কারা— এমন প্রশ্নও রয়েছে ভোটারদের মনে। ইসি কর্মকর্তারা বলেন, বাকি ১ কোটি ভোটারের জন্য নতুন করে চুক্তি করবে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য প্রাথমিক কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্মার্টকার্ড পাওয়া থেকে একজন ভোটারও বাদ পড়বেন না এবং ২০১৭ সালের মধ্যেই সবাই তথা ১০ কোটি ভোটার স্মার্টকার্ড হাতে পাবেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হুজুগেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

এস কে দাস: গত মাসের মাঝামাঝিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টন করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এতে ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েজ কোয়েশ্চন) বা বহুনির্বাচনী অংশ থেকে ১০ নম্বর কমিয়ে সৃজনশীল অংশে তা যুক্ত করা হয়। সৃজনশীল অংশে একটি প্রশ্ন বাড়ানোর পাশাপাশি এ জন্য সময়ও বাড়ানো হয়। সৃজনশীল বিষয়ে আগে একটি প্রশ্নের উত্তর করার জন্য শিক্ষার্থীরা ২১.৬৬ মিনিট সময় পেত। এখন পাবে ২১.৪২ মিনিট। ফলে সময় কোনোভাবেই কমছে না। কিন্তু এর পরও নতুন নম্বর বণ্টনের পরপরই শিক্ষার্থীরা আগের পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ব্যস্ততম সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি আজকের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরো বিষয়টি না বুঝে হুজুগেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সৃজনশীলে প্রশ্ন বাড়ানোয় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে সৃজনশীল ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। সাধারণত শেষ প্রশ্নের উত্তরটা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই সময় অভাবে ঠিকমতো লিখতে পারে না। এখন আরো একটি প্রশ্ন বাড়ানো হয়েছে। সময় বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১০ মিনিট। ফলে আড়াই ঘণ্টা সময়ে সাতটি প্রশ্নের উত্তর করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে একমত নয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, নম্বর পুনর্বণ্টনের পাশাপাশি সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সৃজনশীল অংশে ছয়টি প্রশ্ন লেখার জন্য দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় পেত শিক্ষার্থীরা। আর ওএমআর শিট পূরণের জন্য সময় দেওয়া হতো ১০ মিনিট। এখন শিক্ষার্থীদের সাতটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য আড়াই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, একটি প্রশ্নের জন্য সময় বাড়ছে ২০ মিনিট। কারণ আগে পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রথম পাঁচ মিনিটে শিক্ষার্থীদের ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) শিট পূরণ করা সম্ভব হতো না। তারা মূল সময়ের মধ্যেও ওএমআর পূরণ করত। এ ছাড়া দুই পরীক্ষার মাঝে বিরতিও ছিল। মূলত দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পরীক্ষা হলেও এর মধ্যে ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ ছিল ওএমআর শিট পূরণের জন্য। সৃজনশীল অংশের জন্য মূল সময় পেত দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট। ২০১৭ সাল থেকে পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল ও এমসিকিউয়ের ওএমআর শিট দিয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের মূল সময়ে হাত দিতে হবে না। এতে তাদের ১০ মিনিট সময় বাঁচবে। ফলে একটি প্রশ্ন বাড়লেও সে জন্য কার্যত ২০ মিনিট সময় পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

নম্বর পুনর্বণ্টন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আগে সৃজনশীল অংশে দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট হিসেবে একটি প্রশ্ন লেখার জন্য শিক্ষার্থীরা গড়ে সময় পেত ২১.৬৬ মিনিট। কিন্তু এখন সাতটি প্রশ্ন হওয়ায় প্রতি প্রশ্নোত্তরে সময় পাবে ২১.৪২ মিনিট। আর পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে ওএমআর শিট দেওয়ায় ও বিরতি না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের আরো কিছুটা সময়ের সাশ্রয় হবে। ফলে সব মিলিয়ে সময় কোনোভাবেই কমছে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) প্রফেসর মো. মশিউজ্জামান বলেন, ‘সৃজনশীল অংশে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার স্ট্যান্ডার্ড সময় ২১.৩০ মিনিট। আমরা সেই হিসাবেই সাতটি প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় ধরেই আড়াই ঘণ্টা নির্ধারণ করেছি। এতে সময় কোনোভাবে কমছে না বরং কিছুটা বাড়ছে। আর এমসিকিউ অংশের ৩০ মিনিট শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেই সৃজনশীলের প্রশ্ন ও খাতা দিয়ে দেওয়া হবে। এতে কারো যদি আগেই এমসিকিউ শেষ হয়ে যায় সে সৃজনশীল শুরু করতে পারবে। আসলে পুরো ব্যাপারটি শিক্ষার্থীরা না বুঝেই আন্দোলন করছে। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটি কেউ চিন্তা করে না। তারা যাতে লাভবান হয় সেটি চিন্তা করেই নম্বর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।’

শিক্ষক ও বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা বেশি করে লেখে। শুধু খাতা ভরতে থাকে। বেশি করে অতিরিক্ত পাতা নেয়। এই শিক্ষার্থীরা মনে করে, বেশি করে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। সৃজনশীল এমনই একটি পদ্ধতি যেখানে বেশি লেখার সুযোগ নেই। যথাযথ ও সঠিক নিয়মে উত্তর করলেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য ২১ মিনিট যথেষ্ট সময়। যেহেতু সিলেবাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি তাই এই সময়ের মধ্যেই সুন্দরভাবে প্রশ্নের উত্তর করা সম্ভব।

ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইনছান আলী বলেন, ‘নতুন নম্বর বণ্টন আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কেউ কেউ বুঝলেও অনেকেই একটি প্রশ্ন বেশি দেখেই মনে করছে এত প্রশ্ন কিভাবে লিখব? তবে টেস্ট পরীক্ষায় নতুন নম্বর বণ্টন অনুযায়ী পরীক্ষা নিলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আর এই শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই মফস্বল বা গ্রামের। তবে আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে না। মূলত আন্দোলন করছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও বড় শহরের নামিদামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিবছর বেশির ভাগ জিপিএ ৫ পায় শিক্ষার্থীরা। নতুন নম্বর বণ্টনের ফলে জিপিএ ৫ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। আগে এমসিকিউ অংশে ৪০ নম্বরের মধ্যে ৪০-ই পেত শিক্ষার্থীরা। আর সৃজনশীলের ৬০ নম্বরের মধ্যে ৪০ পেলেই জিপিএ ৫ নিশ্চিত হতো শিক্ষার্থীদের। এখন জিপিএ ৫ পেতে এমসিকিউতে ৩০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩০ পেলেও সৃজনশীলের ৭০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর পেতে হবে। যা কিছুটা কষ্টকর। ফলে নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে আগের মতো বেশি সংখ্যক জিপিএ ৫ পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে। মূলত এই কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বাদ দিয়ে আন্দোলন করলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, এমসিকিউতে নম্বর কমানোয় প্রশ্ন ফাঁসও অনেকাংশে রোধ হবে। চলতি বছরের পরীক্ষায়ও দেখা যায়, শিক্ষকরা এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্ন পেয়ে এমসিকিউ অংশ সমাধান করে ফেলে। এরপর আগে থেকেই চুক্তি করা শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো জানিয়ে দেয়। আবার প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলের জন্য সব শিক্ষার্থীরই এমসিকিউ অংশ সমাধান করে দেওয়া হয়। ফলে জিপিএ ৫ পাওয়া সহজ হয়। কিন্তু এমসিকিউ অংশে নম্বর কমে যাওয়ায় পুরো নম্বর পেলেও জিপিএ ৫ পাওয়া সহজ হবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাবিদদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে শিক্ষাবিদরা পর্যায়ক্রমে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তখনই মূলত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমসিকিউ থেকে ১০ নম্বর কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এমসিকিউর জন্য শিক্ষার যে পরিবেশ, যে মেথড দরকার তা আমাদের নেই। আমাদের ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, ক্লাসরুম, শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে এমসিকিউ থেকে যে সুফল পাওয়ার কথা তা আমরা পাচ্ছি না। তাই আমরা এমসিকিউ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সেই হিসেবে ১০ নম্বর কমানো হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের কেউ কি মিসগাইড করছে কি না তা বোঝা যাচ্ছে না। নইলে তাদের আন্দোলনে যাওয়ার কথা নয়।’

আন্তশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউতে কমছে ১০ নম্বর। আর সেই ১০ নম্বর বাড়ছে সৃজনশীল অংশে। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক আছে এখন থেকে সেসব বিষয়ে ৫০ নম্বর থাকবে সৃজনশীলে, ২৫ নম্বর এমসিকিউতে ও ২৫ নম্বর থাকবে ব্যবহারিকে। আগে এমসিকিউতে ৩৫ ও সৃজনশীলে ছিল ৪০ নম্বর। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই সেসব বিষয়ে সৃজনশীলে থাকবে ৭০ নম্বর ও এমসিকিউতে থাকবে ৩০ নম্বর। আগে সৃজনশীলে ছিল ৬০ নম্বর ও এমসিকিউতে ছিল ৪০ নম্বর। তবে এসএসসিতে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারু ও কারুকলাসহ কয়েকটি বিষয় এবং এইচএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, চারু ও কারুকলাসহ কয়েকটি বিষয়ে নম্বর বণ্টন অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যবহারিক ছাড়া সৃজনশীল বিষয়ে ১১টি প্রশ্ন থাকবে, সাতটির উত্তর দিতে হবে। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক রয়েছে সেসব বিষয়ে আটটি প্রশ্ন থাকবে, পাঁচটির উত্তর করতে হবে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এমসিকিউতে নম্বর কমানোর এই ঘোষণা কিন্তু আগেই দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অবশ্যই সেটা জানার কথা। তবে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে সেটা না বুঝেই। একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলে একটি প্রশ্নের জন্য তার কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। আর নতুন নম্বর বণ্টন অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছেও ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে ও তাদের আয়ত্তের মধ্যে চলে আসবে।’

আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র জোবায়ের রাইয়ান গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বলে, ‘আমরা এত দিন আমাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছি। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কারণ আড়াই ঘণ্টায় সাতটি প্রশ্নের উত্তর কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আবারও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি পুরনো পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। মঙ্গলবারের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো জবাব না পেলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’ কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবসরেও ভোগান্তি শিক্ষকদের

ntrcডেস্ক রিপোর্ট : মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। ব্রতী হয়ে জ্ঞানের আলো জ্বালান তারা। তাদের আলোকিত শিষ্যরা হয় রাষ্ট্রনায়কও। যে মানুষগুলো জীবনের শক্তিসামর্থ্যরে সময়টা ব্যয় করেন অন্যের ঘরে প্রদীপ জ্বেলে, বার্ধক্যে এসে তাদেরই হতে হয় অন্যের কৃপার পাত্র। এমন করুণ পরিণতি বরণ করতে হয় অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের।

শিক্ষকতা থেকে অবসরগ্রহণের পর বার্ধক্যে যোগ হয় নানা রকম অসুস্থতা। কেউ পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে সুচিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন। কেউ চলে যান না ফেরার দেশে। যথাসময়ে পান না কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ। ফলে জীবনের শেষপ্রাপ্তির অর্থ ভোগ করার ভাগ্য হয় না অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর। অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ হাতে পেতে ৪ থেকে ৫ বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।

বেসরকারি একটি কলেজের শিক্ষক মো. ইউনুস বৃহস্পতিবার আসেন বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে। তিনি জানান, ২০১৩ সালে অবসরগ্রহণ করেছেন। রাজধানীর পলাশী মোড়ে বেনবেইস ভবনে এসেছেন তার অবসর সুবিধার অর্থপ্রাপ্তির খোঁজ নিতে। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ২০১৭ সালে এসে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিলে অশ্র“সজল চোখে ভেঙে পড়েন ৭০ বছরেরও বেশি বয়সী এই শিক্ষক। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। ঢাকায় রাত্রিযাপনেরও সুযোগ নেই। সন্ধ্যায় রওনা হবেন বাড়ির পথে। পারিবারিক অসচ্ছতার কথা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হাঁস-মুরগি পালন আর সামান্য কৃষি জমি চাষ করেন। শস্য বিক্রির অর্থে চালান তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের সংসার।

কক্সবাজার থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ এসেছেন কল্যাণ ট্রাস্টে তার টাকা কবে পাবেন জানতে। তিনি জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অবসরগ্রহণ করেছেন। আবেদন জমা দিয়েছেন একই বছরের মার্চ মাসে। ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে জেনেছেন কমপক্ষে চার বছর লাগবে কল্যাণ ফান্ডের টাকা পেতে। হতাশ হয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘যাদের পড়িয়েছি তারাই আজ অনেক বড়-বড় পদে চাকরি করছে। আমরা তাদের কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছি জীবনের শেষ প্রাপ্তির আশায়।’

শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার দাবি জানান হাবিবুল্লাহ।

এই শিক্ষকদের মতোই প্রতিদিন বেসরকারি শিক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যালয় শত-শত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী আসেন। কোনো ফল না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। দুটি কার্যালয়ে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে তার ৪-৫ শতাংশ আবেদনও নিষ্পত্তি করা হয় না প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান না থাকায়।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদি জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে অবসরোত্তর সুবিধার অর্থপ্রাপ্তির জন্য। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে বোর্ডের প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, প্রতিমাসে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া ৪ শতাংশ অর্থ থেকে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার জোগান হয়। অথচ মাসে প্রয়োজন প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিমাসে ঘাটতি থাকে ৩৬ কোটি টাকা। আগে জমা নেওয়া আবেদন আগে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। ২০১২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি মাসে যারা আবেদন করেছেন তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা গেছে। এর পরের মাসের আবেদনগুলো নিয়ে দাপ্তরিক কাজ চলছে।

অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদি জানান, বিলম্বিত প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষকদের অবসর সুবিধা পেতে সময় লাগে ৫ বছরের অধিক। তবে হজ গমনেচ্ছু এবং ক্যানসারসহ কিছু দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য মানবিক কারণে সিরিয়াল ব্রেক করে আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়।

বেসরকারি শিক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্য মো. শাহজাহান আলম সাজু জানান, প্রায় ৩০ হাজার আবেদন জমা আছে ট্রাস্টে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। প্রতিদিনই বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান না হওয়ায় প্রায় ৪ বছর লেগে যায় শিক্ষকদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে।

তিনি জানান, সর্বশেষ বাজেটে বেসরকারি শিক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ারেে ত্র ভোগান্তি কমাতে সরকার এ খাতে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধার জন্য ৫০০ কোটি টাকা সিডমানি ও ১০০ কোটি টাকা থোক হিসেবে। আর কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য থোক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া এই খাতে শিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া মাসিক টাকার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান এই ট্রাস্টের সদস্য সচিব। নতুন পেেদপর ফলে আবেদন জমাকারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার চেক দেওয়ার পথ সুগম হবে।

ট্রাস্ট এবং বোর্ডের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালে গঠন করা হয় ট্রাস্ট। ৬ মাস চালুর পর ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে এই ফান্ডের অর্থ কেটে নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ছিল স্থবির। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার ফের কার্যক্রম চালু করে। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও সুবিধা বোর্ডের জন্য বার্ষিক ৫ টাকা হারে শিক্ষার্থীদের যে চাঁদা আদায় হতো সেটাও বন্ধ করা হয় ২০০২ সালে। এত দিনের অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ থাকায় ট্রাস্টে এখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতনক্রম অনুযায়ী কল্যাণ ও অবসর সুবিধা প্রদান করা হলেও সেই হারে বাড়ানো হয়নি ফান্ডে জমা চাঁদার পরিমাণ। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর পর এখন নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তাদের কাছ থেকেও আদায় করা চাঁদার হার বাড়ানোর। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বার্ষিক কিছু অর্থ শিক্ষকদের অবসরোত্তর ফান্ডে জমা নেওয়া হবে। দৈনিক আমাদের সময়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসক হতে আবেদনের হিড়িক

dhaka medicalডেস্ক: সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের হিড়িক শুরু হয়েছে। গত বুধবার (৩১ আগস্ট) দুুপুর ১২টা থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০১৬ ও ২০১৭) ভর্তির আবেদনপত্র অনলাইনে গ্রহণ শুরু হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ডসংখ্যক ৫৩ হাজারের বেশি অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১৮টি করে আবেদন জমা পড়ে। প্রথম ঘণ্টায় ১৫ হাজার ও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ২২ হাজার আবেদনপত্র জমা হয়।

একসঙ্গে হাজারো ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করায় একপর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সার্ভার হ্যাং হয়ে যায়। পরবর্তীতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ রেখে মেরামতের পর সার্ভার খুলে দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) শনিবার আলাপকালে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বল্পতম সময়ে ৫৩ হাজার আবেদন জমা হওয়ার রেকর্ড স্বাস্থ্য অধিদফতরে আছে বলে জানা নেই। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অনলাইনে প্রবেশ করায় সার্ভার হ্যাং হয়ে যায়।

বিগত ছয় বছরেরও বেশি সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, একইদিন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও চলতি বছর মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বছর মোট ২৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার কেন্দ্রের সংখ্যা ৭টি কমিয়ে ১৬টি করা হয়। এসব কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আবেদন গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কেন্দ্রগুলোতে মোট ৯০ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সর্বোচ্চ ১০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। ১০ হাজারের কোটা পূরণ হলে অন্য মেডিকেল কলেজের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্র ও আবেদনপত্রের সংখ্যানুসারে স্যার সলিমুল্লাহ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ৭ হাজার করে, সিলেট এমএজি, বরিশাল শেরেবাংলা, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান, ফরিদপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে ৫ হাজার করে, পাবনা ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে দুই হাজার ও ডেন্টাল কলেজে ৬ হাজার আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।

কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। যে ৭টি কেন্দ্র বাদ দেয়া হয়েছে সেগুলোতে এমনিতেই স্বল্প সংখ্যক পরীক্ষার্থী হতো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসা শিক্ষা : বছরে ৯ মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজ স্থাপন

Dental-studentদেশে প্রতি বছর গড়ে  ৯টি করে সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১০০টি মেডিকেল (সরকারি ৩০, বেসরকারি ৬৪ ও আমর্ড ফোর্সেস ৬টি) ও ৩৩টি ডেন্টাল (৯টি সরকারি ও ২৪টি বেসরকারি) রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র বছর ছয়েক আগে ২০১০ সালে সারাদেশে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৮টি। এর মধ্যে ১৮টি সরকারি মেডিকেল ও একটি কলেজসহ মোট পাঁচটি ডেন্টাল ইউনিট এবং বেসরকারি ৪৪টি মেডিকেল কলেজ ও ১২টি ডেন্টাল কলেজ ছিল। গত ছয় বছরে মোট ৫৫টি নতুন সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হয়।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধির সংখ্যার সঙ্গে আসন সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১০ সালে সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ৮৯৪টি থাকলেও বর্তমানে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৫১১টিতে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞবলেন, চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের নামে নতুন নতুন সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হলেও অধিকাংশই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের যে নীতিমালা রয়েছে (প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল থাকা অত্যাবশ্যক) তা অনুসরণ করে স্থাপিত হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের দুরবস্থা ফুটে ওঠে।

গত ২৯ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজের নামে নিজস্ব জমি নিবন্ধন না করলে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ এবং পপুলার মেডিকেল কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রী, সচিব, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক নেতা ও ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নেপথ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি।

চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, ফার্মাকোলজি ও প্যাথলজিকে মৌলিক বিষয় বলা হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এমবিবিএস কোর্সের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, সঠিক পরিসংখ্যান বলা না গেলেও মৃত্যু, অবসর ও চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগজনিত কারণে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি মেডিকেল কলেজে মৌলিক বিষয়ের শিক্ষকের সংকট রয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষকের সংকট আরো করুণ।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছয় বছর পর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। শুধু তাই নয়, ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বর ও জিপিএ বৃদ্ধি করা হয়।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রর ডা. জেড এইচ বসুনিয়া বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেল কলেজে মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৬৫ ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ ৫ বছর

visaডেস্ক: ৬৫ বছর বয়সের বেশি বয়সী বাংলাদেশি পর্যটকদের পর্যটক ভিসার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয় ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করায় এখন থেকে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকেরা মাল্টিপল ভিসা এন্ট্রির সুযোগ-সুবিধাও পাবেন।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে পর্যটক বাড়াতে সরকার ভিসা নীতি সহজ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের যে মিশন আছে, সেখান থেকে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগটাও বাড়বে। একই ভাবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বকেয়া থাকা বিষয়গুলোরও সন্তোষজনক সমাধান হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবিকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া : আজও পূরণ হয়নি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন

mujibডেস্ক: খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানোর প্রবল ইচ্ছেটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন দুঃখী মানুষের কাতারে। কখনো বা রাজনীতির মাধ্যমে মানবসেবায় নিজেকে উজাড় করে দেয়ার প্রবল ইচ্ছে। ধীরে ধীরে বড় হওয়া। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু মাতৃতুল্য এ বিদ্যাপীঠ থেকে।

অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বিজয়ের কেতন উড়িয়ে একদিন বাঙালি নেতৃত্ব দেবে বিশ্ব দরবারে- এমন স্বপ্নই তাড়া করতো। অথচ যে বিদ্যাপীঠ প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে, সেখান থেকেই হয়েছেন আজীবনের জন্য বহিষ্কার! অপরাধ- চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের কয়েকটি দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। বহিষ্কৃত হলেও তাতে কী? নিজেকে আর থামিয়ে রাখেননি। দেশ মাতৃকার জন্য লড়েছেন অবলীলাক্রমে। এক সময় তাঁর সাহসী নেতৃত্ব বাঙালিকে এনে দেয় লাল সবুজের একটি পতাকা। বিশ্ব মানচিত্রে আবির্ভাব ঘটে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।

বহিষ্কৃত হয়েও প্রিয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ছিলেন চিরঋণী। কারণ এ বিদ্যাপীঠই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বাতিলকে রুখে দিতে হয়। কৃষক শ্রমিক মানুষের পক্ষে সোচ্চার হতে হয়। তাইতো স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দিয়ে ঋণের বোঝাটা কিছুটা হালকা করবেন এমন প্রত্যাশা। কিন্তু ঘাতকরা সে ঋণ শোধ করতে দিল না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বুলেটের আঘাতে জাতির পিতার সব স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পেরিয়ে বাঙালি আজ বিশ্বময় নিজেদের জানান দিচ্ছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে শক্ত অবস্থান দাঁড় করিয়েছে। অথচ অপূরণীয়ই রয়ে গেলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সে মর্যাদা দেয়ার ইচ্ছে করলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সঙ্গে এক আলাপকালে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্ত কবে নাগাদ দেয়া হবে? জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে পারবেন তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাকি আবারো নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়বে?

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আশা করেন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পাবে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন বিশেষ মর্যাদা দিতে পারতেন, তাহলে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে বিশেষ অবস্থানে চলে আসতে পারতো।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কোনো আচার্য হিসেবে আগমনের কথা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিশেষ মর্যাদা) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন। কারণ সে সময় বাংলাদেশে কোনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। তাই দেশ শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠকে এ মর্যাদা দেয়ার ইচ্ছের কথা আগেই জানালেন বঙ্গবন্ধু। সেদিন সে লক্ষ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১৪ আগস্ট বিকেলের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বক্তব্য রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্য লেখা হয়েছে মানপত্রও। এদিন এ মানপত্র পড়বেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বঙ্গবন্ধুকে সমস্যার কথা জানাতে চেয়েছিল। মানপত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পূর্ব ঘোষণার কথাও উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি বলতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা। প্রত্যাশামাখা মানপত্রটির সমাপ্তি টানা হয়েছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ দিয়ে।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই মানপত্র বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার আগেই ঘটে গেছে ইতিহাসের এক কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞ। ওইদিন ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাড়িতে খুন হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্য।

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র তাওহীদ ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা দিতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়ে যেতো। স্বাধীনতার এতো বছর পরও বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।

বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন দেশটিকে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম নজর দেন শিক্ষাখাতে। যার জন্য তিনি দেশে প্রাথমিক শিক্ষার খরচ সরকারের দায়িত্বে নিয়ে আসেন। এরপর হাত দিতে চেয়েছেন উচ্চশিক্ষায় যার প্রথম হিসেবে শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখনকার সময়ও উচ্চশিক্ষার আলো ছাড়িয়েছে সাফল্যের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ দেখাতেও বলেছিলাম, যে বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন আসতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পেয়ে যেতো। তিনিও আশ্বস্ত করেছিলেন। কারণ বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পুরো জাতির স্বপ্ন ও প্রত্যাশা যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পাক। প্রধানমন্ত্রীর সাপোর্ট আছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী। তাছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভারও প্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। প্রশাসনেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ব্যক্তি ঢাবির শিক্ষার্থী। তারপরও অজানা কারণে হচ্ছে না। কে শোনে কার কথা। এটি বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে তৎকালীন ভেতরকার কিছু লোক জাতিকে বিভ্রান্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামে আলাদা একটা নাম রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল। যেটি আমরা পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা বঙ্গবন্ধুকে লেখা মানপত্রটিও প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করেছি। তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি চেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা দিতে। যদি সে মর্যাদা দিতে পারতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে বর্তমানে আরো ভালো অবস্থানে চলে যেতো।

source: jagonews

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: এই দিনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না, আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, চারদিক থেকে আমার হাত বাঁধা ছিল।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় কে এম সফিউল্লাহ এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিবস আমার জন্য কষ্টকর একটি দিন। এই দিনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। চারদিক থেকে আমার হাত বাঁধা ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় সেনাপ্রধান ছিলেন কে এম সফিউল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। উপস্থিত ছিলেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান খান, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী ও ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান, ফোরামের সহসভাপতি ও তৎকালীন টুঙ্গিপাড়ার পুলিশ কর্মকর্তা এডিআইজি নুরুল আলম, ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাসা ভাড়া পাচ্ছে না ব্যাচেলররা

Bacholor_সুব্রত রায়: ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক বাড়ির মালিক। কেউ কেউ ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে বাড়িওয়ালারা যেমন ভয় পাচ্ছেন তেমনি যারা ব্যাচেলর তারাও ভয়ে আছেন। কখন কোন সময় কার উপর কিভাবে বিপদ আসে তা বলা মুশকিল। রাজধানীতে বড় ধরনের দুটি জঙ্গি হামলার পর ব্যাচেলদের মধ্যে এ ভয় ঢুকেছে। মেসে যারা থাকেন সবার বাড়ি একই এলাকায় নয়। অপরিচিতদের সঙ্গে থেকে একে অপরের মুখ পরিচয়। সুযোগ হয়ে উঠে না মেসে কে ভালো, কে খারাপ।
রাজধানীতে বাড়িওয়ালারা আগে ব্যাচেলদের নাম-ঠিকানা কিংবা ভোটার আইর্ডি কাড না রাখলেও জঙ্গি হামলার ঘটনার পর তারা (বাড়িওয়ালারা) সতর্ক হয়েছেন। এখন প্রত্যেক বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের সব তথ্য রাখছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দিষ্ট ফরম ভাড়াটিয়াদের ছবি সহ পূরণ করে রাখছেন। থানায় তা জমা দিচ্ছেন। তারপরও অনেকে ব্যাচেলদের বাড়ি ভাড়া দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। ইতোমধ্যেই কিছু বাড়ির মালিক ব্যাচেলদের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেছেন। অনেক ব্যাচেলদের বাড়ি ছাড়ারও নোটিশ দিয়েছেন।
মেস ম্যানেজরা আগে অপরিচিত ব্যাচেলদের মেস নিলেও এখন তা বন্ধ। পরিচিত ছাড়া মেস ম্যানেজার কাউকে নিচ্ছে না। তেমনি একজন মেস ম্যানেজার রকিব উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মেসে এখন প্রায় ১৫ জন ব্যাচেলর রয়েছে। প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ড, কোথায় কাজ করে, পরিবারের কেউ ঢাকায় থাকে কিনা সব তথ্য রেখেছি। দেশের পরিস্থিতি ভাল নয় আমরাও চিন্তিত। পরিচিত ছাড়া কাউকে মেসে নিচ্ছি না। মেসে যারা আছে তাদের সঙ্গে কোনো পরিচিত মানুষ মেসে আসছে কিনা সে সম্পর্কেও সতর্ক আছি।
তেমনি একজন ব্যাচেলর জয়ন্ত রায় ৩ বছর ধরে একটি বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন। কখনো বাড়ির মালিকের সঙ্গে কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু আজ সকালে বাড়ির মালিক তাকে বলে গেছেন সম্ভব হলে আগামী ১ তারিখ থেকেই বাসা ছেড়ে দিতে। তা না হলে আগস্ট মাস শেষে অবশ্যই বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে মালিক তাদের জানিয়েছেন পুলিশ ও মালিক সমিতির নির্দেশ আছে। আমি (মালিক) কোন ঝামেলায় পড়তে চাই না।
জয়ন্ত রায় বলেন, বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলর কথা শুনলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। জঙ্গি হামলার পর থেকে তারা ব্যাচেলদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। আমাদেরও অনেক সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিছুদিন আগে রাজনীতিতে যে ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে ব্যাচেলর জড়িত তা ঠিক নয়। কিছু খারাপ ছেলে রয়েছে যারা বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালায়। তবে এসব ঘটনা সব ব্যাচেলর করে তা নয়। একজন খারাপ ছেলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেসে অপারেশন চালালে খারাপের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ভাল মানুষও মারা যাবে। কিছু বাড়িওয়ালা অনেক সচেতন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিলেও তাদের ভোটার আইটি কার্ড, জন্মনিবন্ধন কিংবা ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি বাড়ির মালিক দারোয়ানকে বলে দেয় ৫ জনকে ব্যাচেলর হিসেবে একটি ফ্লাট ভাড়া দিয়েছি। এই ৫ জনের বাইরে কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না।
তিনি বলেন, একজন ব্যাচেলর চাইলেই ব্যাচেলর শব্দটি দূর করতে পারবেন না। বাবা-মা লেখাপড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়েছেন তা শেষ না করে কিভাবে ব্যাচেলর শব্দটি দূর করবে। লেখাপড়া শেষে চাকরি এর পরে পরিবারের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করেই অনেক ব্যাচেলর শব্দটি দূর করে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজধানীতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা দেখা গেছে। সেই বোমা হামলার সঙ্গেও কিছু ব্যাচেলর ছেলে জড়িত ছিল। এরপরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাচেলরদের মেসে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। যখন দেশের পরিস্থিতি শান্ত হল তখন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। রাজধানী এবার পর পর দুটি জঙ্গি হামলার ঘটেছে এজন্য ব্যাচেলদের উপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূর হতে কিছুদিন সময় লাগবে। দু-একটা খারাপ ব্যাচেলর ছেলের কারণে তো পুরো ব্যাচেলর সমাজটি কলঙ্কিত হতে পারে না।
বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ব্যাচেলর ছেলেদের সাথে কি সমস্যা ? ব্যাচেলরদের যদি জাতীয় পরিচয় পত্র থাকে এবং বাড়িওয়ালা যদি তার ভাড়াটে সম্পর্কে পুলিশের নিকট থেকে অবহিত হয়ে থাকেন তাহলে বাড়িওয়ালার নিকট থেকে আর কোন ছুতা থাকতে পারে না। সরকারের উচিত বাড়িওয়ালাদের এই নোংরা অনুশীলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। ব্যাচেলররা এর বিরদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারে। আজকের ব্যাচেলররাই আগামীদিনের নেতা। তারাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে পারে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভূক্তি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর অসহায়ত্ব প্রকাশ

‍sangsadনিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নিয়ে আবারো সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। তারা সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একের পর এক প্রশ্নে কবে, কিভাবে এমপিওভূক্তির কাজ শুরু হবে তা জানতে চেয়েছেন। জবাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমার কোনো জবাব নেই। তবে, বিকল্পের অপেক্ষায় আছি। দ্রুতই শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখী হন শিক্ষা মন্ত্রী। এসময় সম্পুরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকারী দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন দিবো। সাবজেক্ট খোলার অনুমোদন দিবো। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মনিটারিং করবো। কিন্তু এমপিওভূক্ত করবো না। এটা হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এমপিওভূক্ত না করতে পারলে নিবন্ধন বন্ধ রাখেন। অনার্স-ডিগ্রি খোলার অনুমতি দিবেন না। এবিষয়ে সরকার কি ভাবছে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমি মাননীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে শতভাগ একমত। কিন্তু এবিষয়ে আমার কাছে জবাব নেই। আমি বেতন দিতে পারবো না, অথচ অনুমোদন দিবো। এটা আমিও চাই না। কিন্তু তারপরও সংসদ সদস্যদের চাপের মুখে অনুমোদন দিতে হয়। তিনি বলেন, এমপিওভূক্তির জন্য চেষ্টা চলছে। কোথা থেকে অর্থ পাওয়া যায়। এবিষয়ে নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই কোন একটা সমাধান আসবে বলে আশা করি।

এর আগে একই বিষয়ে সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও মনিরুল ইসলাম। তাদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, এনিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। সরকারের কাছে নানা ভাবে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অর্থের অপেক্ষায় আছি। অর্থ পেলেই এমপিও শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, এমপিওভূক্ত না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ হবে না, এটা ঠিক নয়। এমপিও’র সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কোন সম্পর্ক নেই। এমপিদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নিয়ে লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, বেগম সেলিনা আখতার বানু, আলী আজম, বেগম আখতার জাহান, বেগম নূর জাহান বেগম, নবী নেওয়াজ, বেগম জেবুন্নেসা আফরোজা ও মোর্শেদ আলম এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও তরিকত ফেডারেশনের এম এ আওয়াল। তাদের প্রশ্নের জবাবে অনেকটা অভিন্ন জবাব দেন শিক্ষা মন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মহাজোট সরকারের বিগম মেয়াদে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়েছে। এরপর বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর এমপিওভূক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম নাহিদ জানান, দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও তামাকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনিটারিং করার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি আছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫% শিক্ষার্থীই বিষাদগ্রস্ত

ডেস্nuক: অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ইন্টারনেটে আসক্তি— সর্বোপরি মুক্ত পরিবেশের অভাব, যা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত করে তুলছে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, দেশের প্রথম সারির এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষাদগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে আসার সহায়ক কোনো পরিবেশ নেই। আর এ কারণেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা কর্মকর্তা আতিয়া আরেফিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কবিরুল বাশার, আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ফারাহ পারিশা ভুঁইয়া, ইবনে সিনা হাসপাতালের সাইকোথেরাপিস্ট মাসুদা খানম তিথি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) জনস্বাস্থ্য বিষয়ের এমফিল শিক্ষার্থী মনোয়ারুল হক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জরিপটি পরিচালনা করেন। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধটি গত মে মাসে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ই-ক্রোনিকন জার্নালে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতায় ভোগার এ চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে ‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মুহাম্মদ ফয়সল চৌধুরী। অপ্রয়োজনীয় চাপের ফলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন, সে চিত্র উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনটিতে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৪০০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ২৬৮ জন শিক্ষার্থীই ছিলেন মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত। আর মানসিক এ অবসাদগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার। বিষাদগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ৩১ শতাংশ ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চারটি অনুষদের (স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস, স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস) প্রতি অনুষদ থেকে ১০০ করে মোট ৪০০ শিক্ষার্থী জরিপে অংশ নেন। অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৫৬ শতাংশ ছাত্র ও ছাত্রী ৪৪ শতাংশ।

জরিপে ‘ইয়াং ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডায়াগনস্টিক কোয়েশ্চেনারি’ শীর্ষক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আর হতাশার মাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে সিইএস-ডি স্কেল ব্যবহার করে। তাতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত। ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন শিক্ষার্থীর হার ৩৭ শতাংশ। আর দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

বিএসএমএমইউর মনোবিজ্ঞান বিভাগের চিকিত্সক ডা. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলে এর ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি একটি মোহ তৈরি হতে থাকে। ফলে ইন্টারনেটে আসক্ত ব্যক্তি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিষয়গুলোও বিশ্বাস করতে শুরু করে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এর সুযোগ নিতে পারে।’

‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় চাপের বিভিন্ন দিক উল্লেখ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্যাম্পাসের মধ্যে ধূমপান, নোংরা রান্নাঘর ও ক্যান্টিন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, মশার উপদ্রব, নোংরা শ্রেণীকক্ষ ও অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার। আর অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে রয়েছে— সপ্তাহ শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া, রি-অ্যাডভাইসিং, শিক্ষার্থীবান্ধব ওয়েবসাইটের অনুপস্থিতি, একদিনে টানা অনেকগুলো পরীক্ষা গ্রহণ, নিম্নমানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, খাবারের উচ্চমূল্য, কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতি ও জার্নাল সংগ্রহের অপ্রতুলতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

এদিকে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম আসায় আবার আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহত জঙ্গি নিরবাস ইসলামও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১১ সালের সামার সেমিস্টারে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ২০১২ সালের স্প্রিং সেমিস্টার পর্যন্ত শেষ করেন। এর পর থেকে বিনা নোটিসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের মাঠের কাছে পুলিশ ও হামলাকারীদের গোলাগুলির মধ্যে নিহত সন্দেহভাজন যুবক আবীর রহমান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তকারী দল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীরের জঙ্গিবাদী বইপত্র পান। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়। এর পরও নানা সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশী তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসও ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী। জানা গেছে, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে এখন পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন পাঁচ শিক্ষকসহ ১৪ শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, আগে মাদ্রাসাছাত্রদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আসত। কিন্তু সম্প্রতি পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইংলিশ মিডিয়ামসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগেও ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়। এটি অনেক বড় মাপের হুমকি। কিছু লোক সচ্ছল পরিবারের এসব শিক্ষার্থীকে অপার্থিব লোভ দেখিয়ে জঙ্গিবাদে উত্সাহিত করছে। তাই এদের মূলকে খুঁজে বের করতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিশুদের নিয়ে এই তামাশা কি সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক

২০০৯ সাল মহাজোট সরকার গঠন করে জানুয়ারি মাসে। সেই বছরের শেষে এসে ৫ম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২০০৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। এত অল্প সময়ের ভেতর খুব একটা ভাবনাচিন্তা করে পরীক্ষাটি চালু করা হয়েছিল বলে মনে হয় না। তবে শোনা যায় যে, পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল এবং তারা পুনরায় ক্ষমতায় এলে এরকম ব্যবস্থা চালু করবে এরকম ব্যাপার ছিল। এত কম বয়সের ছেলেমেয়েদের ওপর পাবলিক পরীক্ষা চাপানোর নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

বৃত্তি পরীক্ষা যেটি নেয়া হতো সেটিতে সীমিত শিক্ষার্থীরা অংশ নিত যা ঐচ্ছিক এবং পরীক্ষার বিষয়ও কম। এ ধরনের নির্যাতনমূলক পরীক্ষায় ছাত্রদের কোচিংয়ের আশ্রয় নেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। পিএসসির পর পর অষ্টম শ্রেণি শেষে জেএসসি চালু করা হয়। আর এসএসসি এবং এইচএসসি তো আগে থেকেই ছিল। এর ফলে বাংলাদেশ শিক্ষা সংক্রান্ত কোচিং ব্যবসার চারণভূমিতে পরিণত হয়। এখন এই কোচিং ব্যবসায় অর্থ সঞ্চালনের পরিমাণ নাকি বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে সহায়ক বইয়ের ব্যবসাও জমজমাট। এ বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে, তার একটি সহায়ক বইয়ের সেট বিক্রি করে একটি প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকা অর্জন করেছে বলে খবর বেরিয়েছে।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের জন্য কিছুকিছু আন্দোলন গড়ে উঠেছে। কেন এ পরীক্ষা বাতিল করা হবে না কারণ জানতে চেয়ে মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে রুল জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত কয়েক দিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ববান কর্মকর্তা জানালেন যে, এই প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল করা হলো এবং তা এ বছর থেকে কার্যকর হবে।

এখানে উল্লেখ্য, দেশের শিক্ষাবিদ এবং বৃদ্ধিজীবীরা বারবার দাবি জানাচ্ছিলেন যে, কিশোরদের পরীক্ষার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা হোক। অতএব তারা এ সংবাদকে সাধুবাদ জানালেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত এক টেলিভিশন আলোচনায় সরকারকে এই সিদ্ধান্তের জন্য অভিনন্দন জানালেন। এ কথাও তখন শোনা গেল যে, আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পরবর্তী মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সেই সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হবে।

এখানে উল্লেখ্য, পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল যে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের সম্মতি নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কথায় আমরা সবাই আশ্বস্ত হলাম। গত ২৭ জুন মন্ত্রিপরিষদের সভার পর কেবিনেট সেক্রেটারি জানালেন যে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। এবারেও পরীক্ষাটি হবে। মন্ত্রিসভায় এরকম হতে পারে কল্পনাও করা যায় না।

তবে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের কথার প্রতিধ্বনি করে বলতে হয় ‘সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ’। এখানে সবকিছু হতে পারে। তা না হলে একজন পূর্ণ কেবিনেট মন্ত্রীর কথা এভাবে উল্টে যেতে পারে? তিনি বলেছেন যে, আগে নাকি তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছিলেন। একজন পূর্ণ কেবিনেট মন্ত্রী যা বলবেন তা তো সব সময় সরকারের বক্তব্য বলে মনে করবে জনগণ। আর মন্ত্রী মহোদয় দেশের জন্য, জনগণের জন্য যা কল্যাণকর তা যদি তার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও না করতে পারেন তাহলে তো তার পদত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিভিন্নভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একটি কাগজে একটি খবর দেয়া হয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো পরীক্ষা বাতিলের মন্ত্রীর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সচিবের ভিন্নমত ছিল। বাংলাদেশে এখন আমলাদের প্রচণ্ড দাপট। কোনো মন্ত্রীর পক্ষে এই দাপট উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর ঐতিহ্যগতভাবে আমলারা জনবিমুখ এবং দাম্ভিক, তারা যেটা মনে করবেন সেটা করবেন। জনস্বার্থ বা কল্যাণের কথা তাদের কাছে বড় নয়। এই উপমহাদেশের আমলারা মূলত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির। পুরাতন বাতাবরণ ভেঙে নতুন বাতাবরণ তারা গড়তে চাইবেন না।

বর্তমান অবস্থায় যে বিষয়টিকে বড় করে দাঁড় করানো হচ্ছে, তাহলো পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে বৃত্তি দেয়া হবে কিভাবে। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব বোর্ডের হাতে নেই। এটি পরিচালনার দায়িত্ব ন্যাশনাল একাডেমি অফ প্রাইমারি এডুকেশনের। পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হয় উপজেলাভিত্তিক। অতএব বিষয়টি খুব সহজ।

প্রত্যেকটি স্কুল স্ব স্ব স্কুলের ছাত্রদের যোগ্যতা বিচার-বিবেচনায় নিয়ে কজন পরীক্ষা দেবে, তার তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাবেন। ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে। প্রায় ছয় মাস সময় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যে রকম উন্নতি হয়েছে এবং ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োগও বেড়েছে, তাতে আগে যে কাজ ৩০ দিনে করা যেত, তা এখন তিন দিনে করা সম্ভব। আর সেটা নির্ভুলভাবেই করা যায়। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। অতএব অনেক কিছু ভাববার রয়েছে। অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। সব ঠিক কথা। তবে যেসবের কথা আজকে বলা হচ্ছে তা তো আগেই বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল, হঠাৎ করে এর আগমন হয়নি। অতএব সবকিছু বুঝেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সেটা বুঝবে। এ নিয়ে অবাঞ্ছিত ও অনাকাক্সিক্ষত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের প্রযোজন নেই। আর এসবের জন্য কোমলমতি শিশুকিশোরদের কষ্ট দেয়া হবে কেন। তারা তো অষ্টম শ্রেণিতে গিয়ে একটা সমাপনী পরীক্ষা দেবেই।

একজন অভিভাবক খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার যে কোচিং সেন্টার চালু রয়েছে, সেখানে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের চেয়ে ছাত্রশিবির বেশ দক্ষতার সঙ্গে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নজর ছিল তৃণমূল পর্যায়ে কোচিং বিজনেস দখল করা, এতে তাদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই লাভ। যা হোক রাজনৈতিক কারণে তারা হয়তো তাদের ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে তাদের দৃষ্টি থাকবে এই ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্যের প্রতি যা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকবে। বর্তমান জনগণের সরকার কেন বুঝতে পারছে না যে, এই পরীক্ষায় কোনো ইতিবাচক দিক নেই। বাচ্চাগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকের মতো নাস্তা বেঁধে নিয়ে বাড়ি থেকে সকাল আটটায় বের হয়, তারপর সকাল এগারোটায় স্কুলে গিয়ে গোগ্রাসে সেই নাস্তা গিলে ক্লাসে যায়। এদের তো সকালে মায়ের কোলে বসে নাস্তা খাওয়ার কথা। অথচ আনন্দময় শৈশবের বিনিময়ে যে সার্টিফিকেট তারা পায় তার কোনো মূল্য নেই, এটি হলো কোরা কাগজ। আমাদের প্রত্যাশা যে, সরকার অবিলম্বে অর্থাৎ এই বছর থেকে সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে দেবে। জনগণের সরকার সব সময় জনগণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। নিশ্চয়ই সরকারও চাইবেন শিশুরা যেন ভারবাহী পশুর মতো কথিত সমাপনী পরীক্ষার ভারে ন্যুয়ে না পড়ে। আমাদের চাওয়া- শিশুদের অবাঞ্ছিত পরীক্ষার চাপমুক্ত করে তাদের চিত্ত বিকাশের এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হোক।

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ : সাবেক ইপিসিএস ও কলাম লেখক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter