বিশেষ প্রতিবেদন

শিশুকে যেভাবে ভাষা শেখাবেন

জন্মের পর কোণ শিশুই কথা বলতে পারে না। কিন্তু প্রত্যেক শিশুই তার হাত-পা নাড়িয়ে হাসি-কান্নার মাধ্যমে তার সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানিয়ে দেয়। কিন্তু কয়েক মাস পর থেকেই তাদের ভাব প্রকাশের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

আর এই পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা শব্দের প্রতি সচেতন হতে। এ সময় শুরা কিছু উচ্চারণ করতে পারে না, কিন্তু সে তার বাবা-মার কণ্ঠস্বর শুনতে পায় ও সেটা বুঝতে চেষ্টা করে। তাই জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই শিশুর সঙ্গে কথা বলা শুরু করে দিন। এখন আপনার মনে হতে পারে, শিশুটি ছোট্ট, ও কী কিছু বঝবে নাকি।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত, “শিশুদের মস্তিষ্কে অন্যদের মুখে কথা শুনলেই সেই নতুন শব্দগুলো স্টোর হতে শুরু করে। এভাবেই এক সময়ে তাদের ভাষার পরিধি বেড়ে যায় আরা তারা কথা বলা শুরু করে দেয়। কারণ শিশুদের মস্তিষ্ক তখন অনেকটা ফাঁকা টেপের মতো হয়। তাদের সামনে যা ঘটনা ঘটতে থাকে তা সঙ্গে সঙ্গে রেকড হতে থাকে। তাই তো মস্তিষ্কে অন্য বাজে কিছু ভর করার আগে আপনি ফাঁকা জায়গাটা শব্দ দিয়ে ভরিয়ে তুলুন

তাহলে আর দেরি না করে আসুন জেনে নেয়া যাক শিশুদের ভাষা শেখাতে বাবা-মাকে কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিৎ-

১। শিশুর সঙ্গে কথা বলুন-

শিশুটি ছোট্ট কথা বুঝবে না, এটা ভেবে চুপ করে বসে থাকবেন না। সে কথা বুঝতে পারুক আর না পারুক, শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। শিশুর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গল্পের ছলে খেলার মাধ্যমে কথা বলুন। এতে সে দ্রুত কথা বলা শিখবে।

২। ভাষা শেখার দক্ষতা-

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমেই শিশুরা নতুন ভাষা শিখে ফেলে। এক্ষেত্রে শব্দ বা ব্যাকারণের কোনো ভূমিকা থাকে না বললেই চলে। তাই তো আমরা আমাদের মাতৃভাষার গ্রামার না জানা সত্ত্বেও ছোট বেলা থেকে বলতে পারি। শিশুদের সঙ্গে কথা বললেও এই একই ঘটনা ঘটে।

৩। ভাষা শেখার পদক্ষেপ-

ভাষা শেখার প্রথম পদক্ষেপ হল শোনা। নতুন কোনও কিছু শোনার পরেই কিন্তু আমরা তা উচ্চারণ করতে পারি। তাই তো বাবা-মারা শিশুর সামনে যত কথা বলবেন, তত তারা নতুন শব্দ শিখতে পারবে। তাই বাচ্চার সমানে কথা বলুন, দেখবেন অল্প দিনেই আপনার ছোট্ট শিশুর মুখে কেমন ভাষা ফুটে যাবে। তবে শিশুর সামনে প্রথমেই কঠিন শব্দ নয় ব্যবহার করবেন না।

৪। শিশুর কান্নায় সাড়া দিন-

শিশুর প্রথম যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে কান্না। কথা শেখার আগ পর্যন্ত কান্নার মাধ্যমেই ক্ষুধা, ভয়, অসুস্থতা প্রকাশ করে শিশুরা। তাই এসময় বিরক্ত না হয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন।

৫। একসঙ্গে অনেক ভাষা নয়-

শিশুদের সামনে মাতৃভাষায় বা সহজ ভাষায় কথা বলবেন। অর্থাৎ শুরুতে তাদের একটা ভাষাই শেখাবেন। যদি আপনি নানা ভাষা মিলিয়ে কথা বলেন, তাহলে ছোট থেকেই শিশুর ভাষা নষ্ট হয়ে যাবে। আর এমনটা আপনার সন্তানের সঙ্গে হোক, নিশ্চয় আপনি চান না।

৬। বাজে শব্দ উচ্চারণ করবেন না-

শিশুদের সামনে যা কথা বলা হয়, তাই তারা শিখে ফেলে। তাই ওদের সামনে কখনই বাজে শব্দ ব্যবহার করবেন না। আপনি নিশ্চয় চাইবেন না ছোট থেকেই আপনার সন্তান খারাপ কথাগুলো শিখুক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন লীলা নাগ

লীলা নাগ (জন্ম: অক্টোবর ২, ১৯০০ – মৃত্যু:জুন ১১ ১৯৭০) (বিবাহের পরে নাম হয় লীলা রায়) একজন বাঙালি সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন।

তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন। লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অবসর প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার পিতৃ-পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অমিত রায়কে।

লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অবসর প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার পিতৃ-পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। তাঁর ছাত্র জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন।

১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপাত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অমিত রায়কে। ১৯৭০ সালের ১১জুন ভারতে এই মহিয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

শিক্ষা

তাঁর ছাত্র জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

শিক্ষা বিস্তার

লীলা নাগ ঢাকা কলেজে পড়তেন। তার একক্লাস উপরের ছাত্র ছিলেন সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন। লীলা নাগ সম্পর্কে তিনি তার স্মৃতিকথা নামক প্রবন্ধ সংকলনে লেখেন, এঁর মত সমাজ-সেবিকা ও মর্যাদাময়ী নারী আর দেখি নাই। এঁর থিওরী হল, নারীদেরও উপার্জনশীলা হতে হবে, নইলে কখনো তারা পুরুষের কাছে মর্যাদা পাবে না। তাই তিনি মেয়েদের রুমাল, টেবলক্লথ প্রভৃতির উপর সুন্দর নক্সা এঁকে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই সব বিক্রি করে তিনি মেয়েদের একটা উপার্জনের পন্থা উন্মুক্ত করে দেন।”

বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির) প্রতিষ্ঠা করেন। বিয়ের পর তার নাম হয় শ্রীমতি লীলাবতী রায়। ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

রাজনীতি

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন।

মৃত্যু

১৯৭০ সালের ১১জুন ভারতে এই মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সাম্প্রদায়িক শিক্ষায় নত জানু দুই বাংলা

সরিতা আহমেদ : ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ ‘ গঠনের যে প্রয়াস জেহাদি-সন্ত্রাসীরা এদ্দিন মানুষ মেরে, বোমা ফাটিয়ে করে আসছিল, তার মান্যতায় মমতাজ বানু সরকার কয়েক কদম এগিয়ে।

মানুষকে পঙ্গু করে দিতে প্রধান মারটা দিতে হয় তার শিক্ষায়। কচি মগজে পাখি-পড়ার মতো করে ঢুকিয়ে দিতে হয় সন্ত্রাসের বিষাক্ত সীসা। জঙ্গিবাদ হলে তা খুলে-আম।

আর সরকারি স্তরে হলে … হ্যাঁ , অবশ্যই ধর্ম-নিরপেক্ষতার ‘সুগার কোটিং’ দিয়ে। নইলে পাবলিক খাবে না, উলটে সংবিধানের ঝাঁজে হাঁচতে হাঁচতে উল্টাবে।

কিছুদিন আগে এই ফেসবুকেই বাংলাদেশের বর্ণপরিচয়ের ভয়ংকর ইসলামাইজেশান, ছবিসহ দেখেছিলাম। হাসিনা-জামাত-মোল্লাতন্ত্রের এই ঘৃণ্য মুসলিমিফিকেশান এবার পশ্চিমবঙ্গেও ঘটতে চলেছে তৃণোমূলী শিক্ষাবিদদের হাত ধরে। ভাষা সন্ত্রাসের মাধ্যমে। তোষণের রাজনীতি যে কতোটা নীচ হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আজকের পশ্চিমবঙ্গ। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকও রাজনীতির বিষাক্ত ছোবল থেকে রেহাই পায়নি।

Rainbow= ‘রামধনু’ ব্যকরণ সম্মতভাবেই এতোদিন ছিল।

এখন নাকি তাতে বাবরিকাণ্ডের ‘বদবু’ উঠছে ; তাই ‘রাম’ কেটে ‘রং’ ভরা হলো (রংধনু)।

নাহ, বাবরি মসজিদ বা অযোধ্যার তাতে কী এল গেল জানি না, কিন্তু ১০০% সরলতায় বাচ্চাদের সরল মনে ইচ্ছাকৃত ঢুকিয়ে দেওয়া হলো মানবজগতের এক ঐতিহাসিক ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িকতার বীজ।

একটা বাচ্চা, এডাল্ট হওয়ার পরে নিজ বোধবুদ্ধি দিয়ে যে ইতিহাসটা জানতে পারতো, বোঝার চেষ্টা করতে পারতো ঠিক-বেঠিক ইত্যাদি, সেটা ক্লাস সিক্স-সেভেনেই সুচতুরভাবে জানিয়ে দেওয়া হলো। সৌজন্য — ধর্ম-নিরপেক্ষতা।

তারমানে ‘রাম’ একটা ধর্ম-অনিরপেক্ষ শব্দ ।

তাহলে রাম-নামের লোকগুলোকে কী অনিরপেক্ষ নামের দোষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাঁটাই করা হবে! নাকি এক্কেবারে ‘মরা’!! প্রশ্ন জাগে। সাথে বিতর্কও দানা বাঁধে।

Light Blue : Sky colour = আকাশি রং।খুব সহজ এই অর্থকে নতুন বইয়ে বলা হচ্ছে, ‘আসমানি রং’।

ইচ্ছাকৃত ফারসি, ঊর্দু শব্দ জোর করে বাংলার পরিবর্তে ঢোকানোর চেষ্টা খুব সাধুবাদ যোগ্য?

আজকের ছাত্র খুব সরল মনেই প্রশ্ন তুলবে… ”রামছাগল ‘কে তাহলে কি এবার থেকে ‘রংছাগল’ বলবো স্যার?” অকাট্য যুক্তি। খণ্ডাবে কোন শ্লা …
প্রশ্ন জাগে, আমরা, বা আমাদের মা-দিদিমা-বাপ-দাদারা যে মানে বই পড়ে জীবন কাটালাম .. তারা কি তাহলে ধর্ম-নিরপেক্ষ ছিলেন না? আমরা কি ভুল পড়েছি?

নাকি আমরা সব ধর্ম উন্মাদ?? প্রশ্নটা শিক্ষক-শিক্ষাবিদ সবার কাছে ।

এর সপক্ষে, শাক দিয়ে মাছ, থুড়ি, কাঁকড় ঢাকার মরিয়া চেষ্টায়, কিছু পণ্ডিত ইন্টারনেটের ‘বাংলা উইকি’ থেকে ‘মানে’ দেখাচ্ছে।
আজকের দিনে সামান্যতম নেট ঘাঁটা অভ্যাস হলে এটা জানা উচিৎ, ইন্টারনেটের বাংলা ওয়েবপেজের প্রধান কারবারিই হলো বাংলাদেশ (রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা)।

সেখানে ‘৮০ সালের আগে থেকে এই ভাষার নেট ভার্সান নিয়ে নানা গবেষণা চলছে। প্রচুর সফটওয়ার হয়েছে। ফলে তাদের জাতীয় সিলেবাস অনুযায়ী উচ্চারণ ও অর্থের কপি-পেস্ট দেওয়া উইকিপিডিয়াই এখনো নেটিজেন-দের কাছে যাচ্ছে।

একটা শরিয়া-অধ্যুষিত, মুসলিম প্রধান দেশের ওয়েবপোর্টালকেই ‘বাংলা ব্যকরণে’র একমাত্র আকর ভেবে নিলে বলতেই হয়, পবিত্র সরকারের মস্তিষ্কের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ তাঁর মতো শিক্ষাবিদদের কলম ও মগজ বিক্রিই শুধু হয়নি, বিকৃতও হয়েছে ষোল আনা।
রাজনীতি এখন স্কুলপাঠ্যে ঢুকে বর্ণ পরিচয় শিক্ষা- ভাষা শিক্ষার ইতিহাসে লজ্জাজনক অধ্যায় রচনা করছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ছাত্রদের বলবো “বইয়ে মানে ভুল দিয়েছে। তাড়াহুড়ায় প্রিন্টিং মিস্টেক হয়েছে সরকারের। ‘রংধনু আর আসমানি’ কেটে বাংলা অর্থ হিসাবে ‘রামধনু’ আর ‘আকাশি রং’ লিখৱ।”

হ্যাঁ, দায়িত্ব নিয়েই বলছি … ছাত্রদের মধ্যে নিজ মুখে সরকার-প্রণোদিত জঘন্য সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের মন্ত্র শিখিয়ে দিতে পারি না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের দীর্ঘদিন পরও পেনশন পাচ্ছেন না

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় ৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের দীর্ঘদিন পরও পেনশন পাচ্ছেন না। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন ৪ বছর ধরে অফিসে অফিসে ঘুরছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি টাকাও পাননি। পরিকল্পিতভাবে আর্থিক সংকটের অজুহাত তুলে এদের ঘোরানো হচ্ছে। প্রাপ্য অর্থ না মেলায় অধিকাংশেরই শেষজীবন কাটছে নিদারুণ কষ্টে । অনেকেই বয়সের ভারে রোগাক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু অর্থ সংকটে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অবসরের টাকা হাতে না পেয়ে শিক্ষকদের অনেকেই মারা গেছেন।
বেসরকারি শিক্ষকদের প্রতি মাসের বেতন থেকে ৬ শতাংশ হারে টাকা কেটে রাখা হয়। এর মধ্যে ৪ ভাগ যায় অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং বাকি ২ শতাংশ কল্যাণ ট্রাস্টে। দুই খাতের সঙ্গে সরকারি অর্থ যোগ করে শিক্ষকদের পেনশন দেয়ার কথা। সে অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ভাতার জন্য আবেদন করেন। ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৪৫ হাজার আবেদন করেছেন অবসর সুবিধা বোর্ডে। এখান থেকে অবসর ভাতা দেয়া হবে। ৩০ হাজার আবেদন করেছেন কল্যাণ ট্রাস্টে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী শুক্রবার বিকালে বলেন, মূলত আর্থিক সংকটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আবেদন নিষ্পত্তিতে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে দেড়শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবসর বোর্ডে দেয়া হয়েছে একশ’ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবসর বোর্ডের একটি এফডিআর ভেঙে আরও ৭১ কোটি টাকার সংস্থান করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতি মাসে সিডমানি থেকে প্রাপ্য মুনাফা বাবদ ৭২ কোটি টাকা এসেছে। আমরা এখন এই ২৪২ কোটি টাকা বণ্টন করব। এতে ১০-১২ হাজার শিক্ষকের দাবি মেটানো সম্ভব হতে পারে। আর কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, আমার এখানে প্রায় ৩০ হাজার আবেদনকারী আছেন। ইতিমধ্যে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিডমানির মুনাফা মিলিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দেড় থেকে পৌনে ২ হাজার শিক্ষকের দাবি মেটানো যাবে। উভয় কর্মকর্তা বলেন, ৭৫ হাজার শিক্ষকের পেনশন দাবি পূরণে কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে অবসর বোর্ডের জন্য লাগবে ১৮শ’ কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টে লাগবে অন্তত ৬শ’ কোটি টাকা। বড় আকারের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া শিক্ষকদের দুর্ভোগ লাঘব কিছুতেই সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। বছরের পর বছর একই চেয়ারে বসে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নানাভাবে অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করছেন। যে কারণে আবেদন করে তাদের বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে। অর্থ সংকট দেখিয়ে অনেককে প্রাপ্য দেয়া হয় না। অনেকে নির্দিষ্ট সময় পর অর্থ পাওয়ার উপযোগী হন। এমনকি তাদের পেনশনের চেকও হয়ে যায়। কিন্তু ঘুষ না দিলে চেক মেলে না। নাম প্রকাশ না করে অবসর বোর্ডের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণেই ৪৫ হাজার আবেদনের পাহাড় জমেছে। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে রাখা ৪ শতাংশ অর্থ দিয়ে কিছু দাবি মেটাতে পারতেন। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ওই কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে সরকারি ব্যাংক থেকে এই টাকা তুলে বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করেন। বিষয়টি নিয়ে অডিট আপত্তি উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে গত মার্চে অবসর বোর্ডের এক সভায় এফডিআর ভেঙে শিক্ষকদের পেছনেই ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেই অর্থই এখন শিক্ষকদের দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আরও একটি অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এফডিআরে ৭১ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার ৮১০ টাকা রাখা হয়েছিল। ওই টাকার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। এখন এফডিআরের লাভের টাকা শিক্ষকদের না দিয়ে অফিস খরচের জন্য রাখা হবে। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেটে অবসর ও কল্যাণ তহবিলে দেড়শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এবং অবসর বোর্ডে ৫শ’ কোটি টাকা সিডমানি বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়। এর প্রায় ৬ মাস পর গত ডিসেম্বরে বিশেষ বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়। অবসর বোর্ডের একটি নথিতে দেখা যায়, ১শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ওই টাকা ব্যয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অবসর বোর্ডকে দেয়া হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। সেই টাকার সঙ্গে আরও দুই খাতের (এফডিআর এবং সিডমানির মুনাফা) প্রায় ১৪২ কোটি টাকা মিলিয়ে এখন অবসর সুবিধা দেয়া হবে। সব মিলিয়ে এ খাতে মোট অর্থ দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি টাকা।
অবসর সুবিধা বোর্ডের এক নথিতে দেখা গেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ৪১ হাজার ৪৮টি আবেদন জমা পড়েছে। চলতি বছরের শেষ দশ মাসে আরও প্রায় ৪ হাজার আদেন জমা পড়ে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন ১৮শ’ কোটি টাকা। কল্যাণ ভাতার জন্য জমা পড়েছে ৩০ হাজার আবেদন।
এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর অবসর ভাতার জন্য যে আবেদন জমা পড়ে তা নিষ্পত্তিতে গড়ে ৪৩৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। ১ বছরে বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় ২১৬ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকে ২২০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বোর্ডের সভায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ সাদী বলেন, শিক্ষকদের দুর্দশা নিরসনে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের বিকল্প নেই। যুগান্তর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার করতে যা দরকার

একটি বিদ্যালয়ে বছরের শুরূ হতে শেষ পর্যন্ত অনেক কাজ করতে হয়। বার্ষিক কাজের তালিকা হল সুষ্ঠ ব্যাবস্থাপনার একটি অংশ। বিদ্যালয়ে কাজের তালিকা স্মরন করিয়ে দেয় কোন কোন সময়ে কোন কোন কাজ করা দরকার। আমরাও বিদ্যালয়ে অনুরুপ কাজের তালিকা তৈরি করতে পারি। নিম্নে বার্ষিক কাজের তালিকার একটি নমুনা দেয়া হলঃ

মাস কাজের নমুনা
জানুয়ারী ছাত্র হাজিরা খাতায় নাম তোলা, বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠান, মা সমাবেশ, বিভিন্ন শ্রেনিতে ছাত্র ছত্রি ভর্তি, ৫ম শ্রনির ছাত্র ছাত্রির মাঝে সনদ পত্র বিতরন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে বই বিতরন, শিশু জরীপ সম্পন্ন করা/যাচাইকরন, শ্রেণীর রুটিন প্রণয়ন, মাসিক এস, এম, সি,সভা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই সেলাইকরন নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিশেষ কাজের দায়িত্ব বন্টন,বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত মনিটরিং বোর্ড হালফিল ইত্যাদি।
ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস উতযাপন, সকল শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীদের পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত পোশাক তৈরি ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।শিশু জরিপের তথ্যাবলী মনিটরিং বোর্ডে সন্নিবেশিতকরণ,বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রনয়ন ও প্রস্তুতকরন।মাসিক এস,এম,সি সভা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য মার্জিত পোশাক প্রস্তুতকরণ।ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি সম্পন্নকরন, কাবদল গঠন,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন।
মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন,শিশুদের নিয়ে বনভোজন, উপবৃত্তির চাহিদা ও উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ, ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রনয়ন,
বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট ম্যাপ তৈরি,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন, এস, এম, সি সভা।
এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন, ছাত্র-ছাত্রী হাজিরা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহন।বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রী বাছাইকরনণ ও বিশেষ পাঠেদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিতকরণ,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন, এস,এম,সি-র সভা।
মে সিলেবাস অনুযায়ী ১ম সাময়িক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ষ্টাফ মিটিং প্রয়োজনে এস, এম,সি-র সহযোগিতা গ্রহন।প্রথম সাময়িক পরীক্ষা সম্পাদন ও ফলাফল প্রকাশ,ফলাফল প্রকাশের দিন এস, এম, সি-র সহযোগিতায় মা/অভিভাবক সমাবেশ এবং অভিভাবকের হাতে শিক্ষার্থীর প্রগ্রেস রিপোর্ট প্রদান।
জুন শিশুদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধিকরন,৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা প্রস্তুতকরণ।ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতির রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রণয়ন, উপবৃত্তির চাহিদা ও উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ,জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থাকরণ, এস, এম, সি-র সভা ও পি,টি, এ, সভা।
জুলাই ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা অফিসে প্রেরন, বৃক্ষরোপন অভিযান, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠের অগ্রগতি যাচাই ও প্রয়োজনীয়পরামর্শ প্রদান, এস, এম,সি-র সভা।
আগষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী ২য় সাময়িক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২য় সাময়িক পরীক্ষা সম্পাদন ও ফলাফল প্রকাশ, ফলাফল প্রকাশের দিন মা/ অভিভাবক সমাবেশ এবং অভিভাবকের হাতে শিক্ষার্থীর প্রগ্রে রিপোর্ট প্রদান, বৃক্ষ রোপন অভিযান, এস, এম, সি-র সভা।
সেপ্টেম্বর শিশুদের হাজিরা নিশ্চিত করণ ১০০% আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন, ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রণয়ন, উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ। এস, এম, সি-র সভা, সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহন।
অক্টোবর দুর্গা ও লক্ষ্মীপুজার ছুটী ভোগ, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ প্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের নামের তালিকা ও পরীক্ষার ফিস উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিলকরন,বাষিক পরীক্ষার জন্য পাঠদানের অগ্রগতি যাচাইকরণ, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুতি যাচাই বাচাইকরন ও এস, এম,সি-র সভা।
নভেম্বর মা/ অভিভাবক সমাবেশ, সিলেবাস অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট গ্রহণ।
ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষকদের মিটিং, বার্ষিক পরীক্ষা সস্মাদন ও ফলাফল প্রকাশ। ফলাফল প্রকাশের দিন এস, এম, সি-র সহযোগিতায় মা/ অভিভাবক সমাবেশ। ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন, পরবর্তী বছরের কাজের তালিকা প্রণয়ন। ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোট প্রণয়ন উপবৃত্তি চাহিদা ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পুরাতন পাঠ্যবই গ্রহন ও সংরক্ষণ।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

লিঙ্গ বৈষম্য শেখানোর পাঠ্যপুস্তক

১) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় যে সব পুরুষ এবং নারীরা আছেন তাদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা খুব নিম্নস্তরে। কিন্তু সেই নিম্নেরও যে একেবারে তলদেশ আছে, এবং তারা সেই তলদেশে পড়ে গেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেল এবছরের পাঠ্যপুস্তকে। প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে পাঠ ১২-তে ‘ও’ অক্ষর চেনানোর উপকরণ হিসেবে ‘ওড়না’কে ব্যবহার করা হয়েছে। মেয়ে শিশুর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে- ‘ওড়না চাই’। এর আগে ও আমরা বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ‘পৌরনীতি ও নৈতিক শিক্ষা’ দ্বিতীয় পত্রের পাঠ্য বই ও গাইড বই দশম অধ্যায়ে দেখেছি ইভ টিজিংয়ের কারণ হিসেবে মেয়েদের ‘অশালীন পোশাক ও বেপরোয়া চালচলন’ এর কথা লেখা হয়েছে। এবার মায়ের পেট থেকে পড়ার সাথে সাথেই আমাদের শিশুদের ওড়না চেনানো বাধ্যতামূলক করার ইজারাটা এনসিটিবিকে দেওয়া হয়েছে!
(২) এনসিটিবি’র তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইতে বহুবচন এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, ‘যা দিয়ে একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায় তাকে বহুবচন বলে। উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, ‘মায়েরা বড় দুর্বল’। বইটি লিখেছেন, অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন। একই বইতে তিনি মাতা-পিতার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়ক রচনায় লিখেছেন, ‘মা, দিনরাত সন্তানের সেবা যত্ন করেন, আর বাবা জোগান দেন সন্তান বেঁচে থাকার খাবার, ওষুধ ও কাপড়। বাবার পরিচয়ে সন্তান গড়ে উঠে’। আমার গ্রেড থ্রিতে পড়া শিশুপুত্র বইতেই এই লাইনটি কেটে দিয়ে লিখেছে, ‘মায়েরা বড় শক্তিশালী। কারণ মায়েরা অনেক টাকা রোজগার করতে পারে, আমাদের জন্ম দিতে পারে।’
দশ বছর বয়সী একটা শিশুর বোধটুকুও এই অধ্যক্ষের নেই যে, বাবা-মাকে আইডল বানিয়ে শিশুদের মনস্তত্ত্বে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষ ঢুকিয়ে দেন! তার কাছে মায়েরা দুর্বল! বাবার পরিচয়ে সন্তান গড়ে ওঠে! আর মা? মায়ের পরিচয় দরকার নেই সন্তানের জীবনে? বাবা হলেন রুটি-রুজির মালিক, সন্তানের পরিচয়দাতা! মানে সন্তানের জীবনের প্রথম ঈশ্বর পিতা? মায়ের কাজ সন্তানের সেবা যত্ন করা আর রান্না করা, মানে বুয়ার মহান ভার্সন?

(৩) চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ’ কবিতাটির নামকরণই বলে দিচ্ছে বীর কেবল পুরুষই হতে পারে, নারী নয়। কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে, একদল ডাকাতের সঙ্গে যুদ্ধ করে মাকে রক্ষা করছে তার শিশুপুত্র। মা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলছেন, ‘ভাগ্যিস খোকা ছিল!’ বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও কেবল নারী হওয়ার কারণেই তার রক্ষাকর্তার ভূমিকায় শিশুপুত্র? যে শিশুটি তৃতীয় শ্রেণিতে ‘মায়েরা দুর্বল’ শিখে বড় হচ্ছে সে-ই পরের ক্লাসে শিখছে মায়েরা এতো দুর্বল যে, নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য তাকে শিশুপুত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়!

(৪) ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তারা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ২৫ টি বইয়ের ৩ হাজার ৪৬৪ পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণার কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য পাঠকদের জানাতে চাই:

(ক) পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে সবাই পুরুষ। পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় মোট পুরুষ ছিলেন ১২৯ জন আর নারী ছিলেন ৩০ জন। চিত্রাঙ্কনে ও প্রচ্ছদে ৫ জন নারী আর পুরুষ ৫৬ জন।

(খ) বিভিন্ন টেক্সটের মাঝে ছবি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নারীর ছবি একেবারেই প্রাধান্য পায়নি। বিশেষ করে বিজ্ঞানের বইয়ে যেসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তার সব-ই ছেলেদের ছবি।

(গ) পাঠ্যপুস্তকে জ্ঞানের অথিউরিটি মানেই পুরুষকে দেখানো হয়েছে, এক্ষেত্রে নারীর উপস্থাপন একেবারেই দুর্বল।

(ঘ) পাঠ্যপুস্তকের গণিত বইয়ে বিভিন্ন অংকে সরাসরি বলা হয়েছে- ‘দুইজন পুরুষ যে কাজ ২ দিনে করতে পারে সেই কাজ ৩ জন নারী করে চারদিনে’ অর্থাৎ নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল।

(ঙ) মমতাময়ী চরিত্র মানেই সর্বদা নারীকে চিত্রায়িত করা হয়েছে আর পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একজন পুরুষ। বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় আর্থিক লেন-দেন বা ক্রেতার ছবি হিসেবে পুরুষকেই দেখানো হয়েছে।

(চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গদ্যগুলোতে নারীর অবদান উপেক্ষিত দেখানো হয়েছে।

(ছ) ছেলের কাজ মানেই কঠিন ও বাইরের কাজ আর মেয়ের কাজ মানেই কম পরিশ্রমের ও ঘরের কাজ দেখানো হয়েছে। পুরুষকে রোগী এবং নারীকে সেবিকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

(৫) তার মানে, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এমন করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র স্কুলের পাঠ্যপুস্তক পড়িয়েই আমাদের সন্তানদের সহিহ নারীবিদ্বেষী এবং জেন্ডার অসংবেদনশীল হিসেবে করে গড়ে তুলতে পারবো। ভালো, খুব ভালো। হুদাই দেশে ক্রমবর্ধমান নারী বৈষম্য, ধর্ষণ, ইভটিজিং, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, শিশুবিয়ে, যৌতুক ইত্যাদির কারণ খুঁজতে গিয়ে দিনের খাবার, রাতের ঘুম হারাম করে ফেলছি। আর অকারণেই পুরুষকূলের গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলছি। এই রকম উন্নত (?) মানের একটি শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে যে পুত্রশিশু বা মেয়েশিশুটি শিক্ষা অর্জন করবে, সে বড় হয়ে নিপীড়ক পুরুষ হবে, পুরুষতন্ত্রের সেবাদাসী নারী হবে এটি তো থিওরি অব রিলেটিভিটি’র মতোই সরল। অতএব, পুরুষতন্ত্রের জয় হোক। স্কুলগুলো সব মাদ্রাসা হোক। ঘরে ঘরে লিঙ্গ সমতার জন্য চেঁচামেচি বন্ধ করে বরং আমরা চলুন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই যেন তারা সহিহ পুরুষ এবং নারী হিসেবে তৈরি হতে পারে। কী দরকার সমাজে অহেতুক টেনশন তৈরি করার, তাই না?

এই পাঠ্যপুস্তকগুলো যারা লিখছেন তাদের মস্তিষ্কের উর্বরতা বা ঘনত্ব নিয়ে আমার কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়েছি এটা ভেবে যে, দেশের এতজন শিক্ষাবিদ যারা পাঠ্যপুস্তক রচনা থেকে পাঠ্যসূচি অনুমোদন দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে কাজ করেন, তারা সবাই একসাথে এত অসংবেদনশীল হলেন কি করে? তাদের মধ্যে এমন কি কেউ নেই, যারা মা’কে রোজগার করতে দেখেছেন? আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, নারীমন্ত্রী, সাংসদ, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে, ব্যাংকে, পুলিশে, সেনাবাহিনীতে, এমন কী গার্মেন্ট সেক্টরে কাজ করা মায়েদের কথা ভুলে যান এমন বই অনুমোদন দেওয়ার আগে? নিদেনপক্ষে সেলাই করে হলেও, হাঁস মুরগির ডিম বা মাচার লাউটা বিক্রি করে যে মায়েরা সংসারে অর্থ সরবরাহ করেন এমন লক্ষ লক্ষ মায়েদের উপেক্ষা করার সাহস তারা পান কি করে?

আমাদের নারী রাজনীতিবিদগণের কাছে একটা অনুরোধ করি। ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ কী জিনিস, কোন প্রক্রিয়ায় আসে তা আগে নিজেরা বুঝুন। ক্ষমতায়নের শিক্ষা, উদ্যম আর মানসিকতা মানুষের মগজেই তৈরি হয়। তাই নারীর প্রতি সংবেদনশীলতাটা আর সম্মানবোধ শিশুদের মগজেই দিন। পুরুষতন্ত্রের রাজনীতিটা আগে বোঝার চেষ্টা করুন, রাজনীতিটা ওখানটাতেই করুন। পুরুষের আনুকূল্যে ক’টা আসন আর পুরুষের নিয়ন্ত্রণে রাজনীতি করে আপনারা হয়তো মনে করছেন পুরুষ নারীর জন্য রাস্তা ছেড়ে দেবে। কিন্তু পুরুষ যে এক ইঞ্চি মাটি ও নারীর জন্য ছাড়ে না তা এইরকম বিশ্রী একটা শিক্ষাবোর্ড আর ‘গড়াল মার্কা’ পাঠ্যপুস্তকের দিকে তাকালে ও বোঝেন না? এতো অসংবেদনশীল লোকজন পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় থাকে কিভাবে? স্কুলের বইয়ে শেখাবেন ইভটিজিং এর জন্য নারীর পোষাকই দায়ী আবার নারী নির্যাতন বন্ধের আইন করবেন তা তো হয় না। এত আইন, এত সনদ আর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নাভিশ্বাস না তুলে বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরুষতন্ত্রের অভিশাপমুক্ত করুন। চিকিৎসার চেয়ে রোগের প্রতিকারে গুরুত্ব দিন। আমাদের শিশুদের বাঁচান।

আর আমাদের নারী অধিকার আন্দোলের নেতারা, প্রজেক্ট নির্ভর আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসুন দয়া করে। ইউনিসেফ এর কিছু উদ্যোগ ছাড়া এনজিওদের ও উল্লেখযোগ্য কোন কাজ চোখে পড়েনি এই বিষয়ে। শিক্ষা ব্যবস্থা জেন্ডার সংবেদনশীল হলে যে নারীর প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়ন এমনিতেই কমে যাবে সেই সত্যটুকু তো আপনাদের অন্তত না জানার কথা নয়। এত ইস্যু নিয়ে কাজ করার দরকার নেই তো। কাল থেকে একটাই আন্দোলন করুন না। পুরুষতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জায়গাটা চিহ্নিত করুন, কাজ করার জন্য সরকারকে চাপ দিন। প্রতিটি ক্লাসে, পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার এডুকেশন বাধ্যতামূলক করার জন্য আন্দোলন করুন। প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকদের জেন্ডার প্রশিক্ষণের প্রজেক্ট হোক। এই একটা বিষয়ে অন্তত আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, একসাথে আওয়াজ তুলুন।

লেখক: প্রধান নির্বাহী, সংযোগ বাংলাদেশ; কলামিস্ট

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা খাতে সমৃদ্ধির বছর ২০১৬

শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও অগ্রগতি হয়েছে চলতি বছরে। বলা যায় বছরটি ছিল শিক্ষা খাতে সমৃদ্ধ।

 

পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন : ২০১০ থেকে শুরু হয়েছে দেশে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসব। প্রত্যেক বছরের শুরুতে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দিবসটি পালন করা হয়। আগে কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হলেও ২০১৬ সাল থেকে দিবসটিকে পৃথকভাবে পালন করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

নতুন বেতন কাঠামো : গত ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেশে চার লাখ ৭৭ হাজার ২২১ এমপিওভুক্ত শিক্ষককে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত করা হয়।

 

কলেজ জাতীয়করণ : চলতি বছরের ১ জুন সারা দেশের ১৯৯টি বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুটি তালিকায় তিনি এ অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া একটি তালিকায় রয়েছে ১৫৪টি এবং আরেকটি তালিকায় রয়েছে ৪৫টি কলেজ।

 

সার্বিক স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সার্বিক সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ শতাংশ।

 

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী সভা, কমিটি গঠন : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ সেপ্টেম্বর জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জঙ্গিবাদে শিক্ষার্থীদের ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সে বিষয়ে নির্দেশনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে। এ ছাড়া ইভটিজিং বন্ধে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা আসে।

 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সাংসদরা ন: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গভর্নিংবডির বিধান অবৈধ করে চূড়ান্ত রায় দেয় উচ্চ আদালত।

 

দুই ভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় : প্রশাসনে কাজের গতি বাড়াতে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে সরকার। বিভাগ দুটি হলো- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ।

 

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন : কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই বন্ধের বিষয়টি নতুন শিক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

সমাপনী বাতিল নিয়ে বিতর্ক : ২১ জুন প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। ঘোষণার পরেই সমাপনী এখনো বাতিল করা হবে না বলে জানান মন্ত্রী। ফলে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে বিভ্রান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা।

 

১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বাতিল : ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের স্বাক্ষর করা ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে এসব সনদ ‘রেগুলারাইজ’ করার সুযোগ রয়েছে।

 

বিদ্যালয়ে সততা স্টোর : স্কুলপর্যায় থেকে শিশুদের সৎ শিক্ষা দেওয়া, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণ মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতাহীন সততা স্টোর চালু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

 

 

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে ৪৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে দেশের ৪৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভা, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থকমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা না করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের কাছে অসহায় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমশিন (ইউজিসি)। নখ-দন্তহীন হওয়ায় অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ ইউজিসির। ইউজিসি’র ৪২তম বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘আইন-২০১০’ অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যাবলি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধানের জন্য উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠিত হবে। একাডেমিক বিষয় দেখভালের জন্য গঠিত হবে একাডেমিক কাউন্সিল। এরও সভাপতি থাকবেন উপাচার্য। এছাড়া বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে গঠিত হবে অর্থ কমিটি।

ইউজিসি সূত্র জানায়, নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই করছে না বোর্ড অব ট্রাস্টি ও সিন্ডিকেট সভা, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থ কমিটির মিটিং। এতে একদিকে যেমন তারা আইনের লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড। এর প্রভাব পড়ছে একাডেমিক কার্যক্রমের উপর। ফলে মান কমছে এসব প্রতিষ্ঠানের।

এ বিষয়ে মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ট্রাস্টি বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট সভা ও অর্থ কমিটির বৈঠক হতে হবে নিয়মিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে এসব সভা করে না। এরা মূলত আইন না মানা রেওয়াজে পরিণত করেছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে সঠিক পথে পরিচালনার চেয়ে অর্থ প্রাপ্তিকেই মুখ্য মনে করে।

তিনি বলেন, অর্থ কমিটির বৈঠক না হলে সেখানে অর্থ নিয়ে নয়-ছয় হবে, এটাই স্বাভাবিক। সিন্ডিকেট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেট না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এ সভায় সরকার ও মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি থাকবেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ সভা করলেও প্রতিনিধিদের ডাকেন না। ডাকলেও সভার আগের দিন টেলিফোনে বলে থাকেন, যাতে কেউ সেখানে উপস্থিত না হতে পারে। ইউজিসিকে তোয়াক্কা না করায় আমরাও অপরাগ ভূমিকা পালন করছি।

ইউজিসির প্রতিবেদন বলছে, গত বছর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টির কোনো সভাই হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সিন্ডিকেট সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি। সেগুলো হচ্ছে- ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি), শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষাদান, শিক্ষা ও পরীক্ষার মান উন্নয়ন এবং তা বজায় রাখতে দায়ী থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিল।

এছাড়াও ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), কুইন্স ইউনিভার্সিটি, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফেনী ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর অর্থ কমিটিরই কোনো বৈঠক করেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বড়দিন: এক শরণার্থী শিশুর গল্প শোনাবে মার্কিন চার্চগুলো

বিপন্ন শরণার্থী জীবনের ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই উদযাপিত হচ্ছে এবারের বড়দিন। মার্কিন চার্চগুলো তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের বড়দিন উপলক্ষ্যে এক শরণার্থী শিশুর গল্প শোনাবে তারা। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে।
কিন্তু যে শরণার্থী শিশুর গল্প শোনানো হবে, সে আসলে কে? ইউএসএটুডের খবরে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের ছোট্ট শহরতলী বেথলহামে জন্ম নেয় সেই শিশু। স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে বাঁচতে  রাতের আঁধারে মায়ের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ে সেই শিশু।  সেখানকার রাজা হেরোদের ভয়ে তারা পালিয়ে যান মিসরে। এই মা-ই হলেন মাতা মেরি, আর শিশুটি যিশু। যিশু একজন শরণার্থী শিশু ছিলেন বলেই তার গল্প শোনানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন চার্চগুলো।
উল্লেখ্য, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজা হেরোদের শাসনে অতিষ্ট জুডিয়ার সাধারণ মানুষ ভাবতেন এমন এক মসিহা আসবেন, যিনি তাদের রাজ্যে সুবিচার আর পবিত্রতা কায়েম করবেন, পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করবেন আর সমস্ত পৃথিবীকে এক এবং অদ্বিতীয় বিধাতার বিশ্বাসে ফিরিয়ে আনবেন।
হেরোড প্রথমে তা আমলে নেননি। পরে এই শিশুকে হত্যা করার আদেশ দেন। আদেশ দেওয়া হয়, ওই স্থানে দুই বছর বা এর কম বয়সী সব শিশুকে হত্যা করার। কিন্তু শিশু যিশুকে ততক্ষণে মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বাইবেলের গসপেল ম্যাথিউ-এর দ্বিতীয় পর্বে বর্ণিত আছে, একটি শিশুর জন্ম হলো যার নাম যিশু (গ্রিক ভাষায় যশোয়া)। তার জন্ম হলো হেরোডের রাজ্যের শেষ প্রান্ত, বেথেলহামে। যিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষেই প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন বা ক্রিসমাস পালন করা হয়।

যিশুর শরণার্থী জীবনের কথা সামনে এনে শরণার্থী শিশুদের প্রতি মানুষের আবেগ জাগাতে চেষ্টা করবে মার্কিন চার্চগুলো।

এই বিবরণ চলতি বছরের আগস্টে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে বসা আলেপ্পোর সেই ছোট্ট শিশু ওমরান দাকনিশের কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় আহত হয় ওমরান।

ওয়ার্ল্ড রিলিফ-এর পরিচালক ম্যাথিউ সোয়েরেনস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি হয়ত পুরো গল্পটির অংশবিশেষ, যা আমরা সেভাবে আমলে নিই না। আমরা গল্পটির ইতি টানতে চাই যেখানে জ্ঞানী ব্যক্তিগণ যিশুর পাশে বসে আছেন। এরপর সবাই ঘরে গিয়ে বড়দিনের ডিনার করবেন। কিন্তু শাস্ত্রমতে, গল্পটি সেখানে শেষ হয় না।’

ওয়ার্ল্ড রিলিফ সেই নয়টি বেসরকারি সংস্থার একটি, যারা মার্কিন সরকারকে শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার জন্য কাজ করে আসছে। সোয়েরেনস জানান, তারা গত বছর থেকে শরণার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য চার্চের মধ্যে কাজ করছেন। তারা আশা করছেন, এই গল্প বলার মধ্য দিয়ে আরও অনেক মানুষ শরণার্থীদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবেন।

এর আগে পোপ ফ্রান্সিস সেইন্ট পিটারস স্কয়ারে দেওয়া ভাষণে শরণার্থীদের সঙ্গে শিশু যিশুর জন্মের সময়কালের সাদৃশ্য বর্ণনা করেছিলেন।

সোয়েরেনস বলেন, দেশজুড়ে যেসব চার্চের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড রিলিফের সম্পর্ক রয়েছে, সেখানেই এই গল্প শোনানোর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনও মজার বিষয় নয়। বরং এটি পুরো গল্পটির অংশ। আর আমি মনে করি, বর্তমান বিশ্বে যা হচ্ছে, তা এখানে উঠে আসে, আর এজন্যই তা এতো গুরুত্বপূর্ণ।’

এ প্রসঙ্গে শিকাগোর পার্কভিউ কমিউনিটি চার্চের জ্যেষ্ঠ পাদ্রি রে কোলবোকার বলেন, ‘এর আগে আমি যিশুকে এভাবে ভাবতে পারিনি। আমি গল্পটা জানি, আমি তা পড়েছি, কিন্তু তার পরও আমি তা ভাবতে পারিনি।’

পার্কভিউ কমিউনিটি চার্চের এক বার্তায় বলা হয়, ‘আপনি কি জানেন, এক শরণার্থীর জন্যই আমরা বেঁচে আছি।’

টেম্পে শহরের রিডেম্পশন চার্চের পাদ্রি জিম মুলিনস যিশুর ঘটনার সঙ্গে তিন বছর বয়সী শিশু আলান কুর্দির সাদৃশ্য খুঁজে পান। আলানের পরিবার সিরিয়া থেকে সমুদ্রপথে পালিয়ে ইউরোপে আসার সময় নৌকাডুবিতে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ ভেসে আসে ইউরোপে। গত দুই বছর ধরে রিডেম্পশন চার্চ শরণার্থীদের সাহায্যে কাজ করছে।

সোয়েরেনস জানান, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ১৩ লাখ শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৮৫ হাজার মানুষের ঠাঁই হয়েছে। যা মোট শরণার্থী পুনর্বাসনের ০.৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শরণার্থীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, তারা সিরিয়া থেকে আগত নন। এদের বেশিরভাগই কঙ্গো থেকে আসা। ওই শরণার্থীদের মধ্যে খ্রিস্টান ও মুসলিমের সংখ্যাও সমান। সোয়েরেনস বলেন, ‘মানুষ সবসময় পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হবেন, এমনটা নয়।’

পার্কভিউ চার্চের কোলবোকার বর্তমান পরিস্থিতি ও যিশুর অভিজ্ঞতার সাদৃশ্য তুলে ধরে একে মানুষের সামনে প্রকাশ করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক বিশাল সংকট। কিন্তু আমরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারি।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুর্লভ বইয়ের মার্কেট নীলক্ষেত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

দেশের যে কোনো প্রান্তে বইয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অবধারিতভাবে যেন রাজধানীর নীলক্ষেতের বই মার্কেট আলোচনায় চলে আসে। পাঠ্যবই থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য, কবিতা, উপন্যাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, চাকরির বই ছাড়াও একশ’ বছরের পুরনো বইসহ নানা ধরনের তথ্যভাণ্ডারসমৃদ্ধ বই মেলে নীলক্ষেতে। সরকারি খাস জমিতে ১৯৬৬ সালে গড়ে ওঠে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজকে কেন্দ্র করে প্রথমে এ এলাকায় শুরু হয় বই বিক্রি, যা বর্তমানে দেশের দুর্লভ বইয়ের মার্কেট হিসেবে পরিচিত।

উচ্চশিক্ষার পথে যিনি হেঁটেছেন তিনি নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটে একবারও আসেননি এমন ঘটনা বিরল। সব থেকে কম দামে বই বিক্রি হয় বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে লেগেই থাকে।

দেশের নামকরা লেখকদের পাশাপাশি নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় বিদেশি লেখকদের বই। দেশের বৃহত্তর এ বইয়ের মার্কেটে নির্ধারিত মূল্যের থেকে অর্ধেক দামে প্রায় সব ধরনের বই পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৬ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট, যার নাম ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট। এ মার্কেটে বর্তমানে বইয়ের সাড়ে চারশ’ স্থায়ী দোকান রয়েছে। এ ছাড়া আরো প্রায় একশ’র বেশি অস্থায়ী দোকান মার্কেটের চারপাশ ঘিরে রয়েছে।

ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে বলে ১৯৯৪ সালে এক মামলায় রায় দেন আদালত। এরপর থেকে এ জমি লিজ নেওয়ার চেষ্টা করে ইমলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতি। এ সমিতির সৃষ্টি হয় ১৯৮৩ সালে পাঁচশ’ সদস্য নিয়ে।

ইসলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আক্কাস জানান, সরকারি খাস জমি হিসেবে আদালত রায় দেওয়ার পর থেকে সমিতির নেতারা লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করেন দীনেশ রাম পাসি নামের একজন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখিয়ে এ সম্পত্তির মালিক তার পূর্ব পুরুষ বলে দাবি করেন তিনি। তবে আদালতের রায় এখনো সমিতির পক্ষে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নীলক্ষেত এলাকায় একাধিক মার্কেট রয়েছে। সব মার্কেট সরকারি খাস জমিতে। আর সব মার্কেটের লিজ হয়ে গেছে। এখন বাকি ইসলামিয়া মার্কেটের। সরকার থেকে আমরা লিজ নিয়ে এখানে বইয়ের বহুতল মার্কেট বানাব। সরকারি রেট অনুযায়ী ১০ লাখ ১২৫ টাকায় প্রতি শতাংশ লিজ নেব।’

বইয়ের মার্কেটের এখানে অন্য কোনো মার্কেট করার কথা শোনা যাচ্ছে— প্রসঙ্গ তুললেবে আলী আক্কাস বলেন, ‘বাপ-দাদার ব্যবসা বইয়ের। এর বাইরে অন্য কোনো ব্যবসা আমাদের জানা নেই। সরকার যদি আমাদের লিজ দেয় তাহলে এখানে বইয়ের বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হবে।’

‘ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট’ ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কথা জানেন না সাধারণ ক্রেতারা। পরিবর্তনের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্রেতাদের এ বিষয়ে জানালে একাধিক ক্রেতা বলেন, পুরোনো আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, টিন আর কাঠ দিয়ে তৈরি এ মার্কেটের আলাদা সৌন্দর্য। প্রয়োজনে এ মার্কেট টিন আর কাঠ দিয়ে সুন্দরভাবে নির্মাণ করা যায়। বহুতল ভবনে বইয়ের দোকানের সৌন্দর্য কমে যাবে। তখন আর নীলক্ষেতের সেই ঐতিহ্য থাকবে না। অন্য দশটা মার্কেটের মতো দেখতে লাগবে।

তবে বিক্রেতারা ও সমিতির নেতারা বলছেন, বহুতল ভবন হলে রাস্তার পাশের বই বিক্রেতারা স্থান পাবে। আরো লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান একটা পুরাতন ঐতিহ্য। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য বহুতল ভবনের হলে ভালো লাগবে না। এ ছাড়া আরও পাঁচটা ভবন হলেও রাস্তার পাশে দোকান বসবে।’ তিনি বলেন, ‘সব ঐতিহ্য কংক্রিটে মানায় না।’

ইসলামিয়া বই মার্কেটের বেশ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘বইয়ের দোকানিরা বই কেনার জন্য হাঁকডাক দিয়ে নিজের দোকানে ডাকেন, এর মাঝে একটা আলাদা ভালো লাগা রয়েছে। এখানে বহুতল ভবন হলে এ আন্তরিকতা থাকবে না। অন্য সব মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মতো আচরণ হয়ে যাবে তখন।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশে শিশুদের মারধর করা হয় কেন?

ডেস্ক: শিশুদের মারধর করা অনেকটা সামাজিক রীতিরই অংশ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। পরিবারের আত্মীয় স্বজন, মুরব্বি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণত: শিশুদের মারধর করা হয়ে থাকে।কথা না শুনলে বা পড়তে না বসলে দু এক ঘা বসিয়ে দেওয়া বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক চিত্র। শিশুকে বকুনি বা মারধর কেন বাংলাদেশের সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া?

সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিন বলছেন, ‘শিশুদের শাসন না করলে তারা মানুষ হবে না বাংলাদেশের সমাজে বহুদিন ধরে এমন একটা সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে। স্কুলেও এটা চলে। পরিবার মনে করে এটা তার ভালোর জন্যেই করা হচ্ছে বা তাকে শাসন করা পরিবারের অধিকার। বাংলাদেশে শিশুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা একেবারেই নেই।’

পারিবারিক শাসন হিসেবে মারধর বা বকাঝকা শিশুর ওপর কি প্রভাব ফেলে?

শিশুদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলছেন, এর প্রভাব তাৎক্ষণিক বোঝা না গেলেও দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় শিশুর ক্ষমতা বা সংগতির তুলনায় তার কাছে পরিবারের চাওয়া অনেক বেশি থাকে। পরিবার তখন তাকে বকাঝকা করে, তাকে বলতে থাকে তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না বা তাকে দরকারে মারধরও করে। পরিবার ভাবে তাতে হয়ত শিশুটি তার লক্ষ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু শিশু কতদূর পারবে তার সক্ষমতা যাচাই করা হয়না।’

তিনি বলছেন, ‘এতে শিশু বাড়তি চাপ অনুভব করে এবং মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যেতে থাকে। শিশু নিজেই মনে করতে থাকে বাবা মা যেহেতু বলছে অতএব আমি কোনো কিছুর জন্য ভালো না। শিশুরা এমনকি নেশা বা নানা অপরাধে জড়িয়ে পরে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সমস্যা নিয়ে শিশুরা তাদের কাছে আসে যার উৎস পরিবারেই।’

তার মতে, শিশুর সক্ষমতা যাচাই এবং সে অনুযায়ী তার ভালো ফল বা ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে ধৈর্য দরকার হয় বাংলাদেশে অনেক বাবা মায়েরই সেটা নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা, ইউনিসেফের শহরাঞ্চলে শিশুদের অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮২ শতাংশের বেশি পরিবারে নানা ধরনের শাসনের শিকার।

এর মধ্যে বকা থেকে শুরু করে রয়েছে মারধর পর্যন্ত। ৫৫ শতাংশ শিশুকে শারীরিক মারধর দিয়ে শাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ শিশুই মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার।

প্রকাশিত এই জরিপে আরো দেখা যাচ্ছে, বস্তিবাসী শিশুরা তুলনামূলক বেশি শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হলেও বস্তির বাইরের শিশুদের মধ্যেও এই সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হিন্দু হোস্টেলর অবস্থা খুবই করুণ আনন্দ মোহন কলেজে

ময়মনসিংহ:: ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ, ১০০ বছর পেরিয়েছে তা-ও আট বছর আগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার পরিসর, তারচেয়েও দ্রুত বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি সেভাবে। কলেজের অধ্যক্ষই স্বীকার করলেন আবাসন ও যানবাহন-সংকটের কথা।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে অনেক ক্লাসই হয় না। এর জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দুই পক্ষের অনীহা দায়ী। আর বছরজুড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ক্লাস হওয়ার সুযোগ আরও কমিয়ে দিয়েছে। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ক্লাস হয় একেবারেই কম। স্নাতকে বছরে বড়জোর সাড়ে তিন মাস ক্লাস হয়। তাই সিলেবাস শেষ করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়েন। আলাদা ভবনে তুলনামূলকভাবে উচ্চমাধ্যমিকে ক্লাস বেশি হলেও এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া আবাসন ও যানবাহনের সংকট, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় ছোট শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকাসহ আরও কিছু সমস্যায় ভুগছে কলেজটি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বললেন, আবাসন ও যানবাহনের সংকটই এই কলেজের বড় সমস্যা। তবে নতুন দুটি ছাত্রীনিবাস হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকের পদ বাড়াতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
১০ একর জায়গার ওপর ময়মনসিংহ শহরে শতবর্ষী সরকারি এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৮ সালে। এখন উচ্চমাধ্যমিক ছাড়াও ২০টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ১৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানো হয়। প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকের পদ ২০৭টি। তবে সংযুক্তি (অন্যত্র পদায়ন হলেও অস্থায়ীভাবে এই কলেজে) মিলিয়ে শিক্ষক আছেন ২১৬ জন। এ তথ্য গত ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একজন শিক্ষক বললেন, সৃষ্ট পদ অনুযায়ী সংকট না থাকলেও শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়ে যত হয়েছে, সেই তুলনায় শিক্ষকের পদ কম। এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ১৪৮। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২০ (সূত্র: ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন)। দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়।
প্রশাসনিক কাজে যুক্ত একজন শিক্ষক বললেন, ৭০টির মতো শ্রেণিকক্ষ থাকায় সাদা চোখে শ্রেণিকক্ষের সমস্যা মনে হবে না। কিন্তু বাস্তবে সমস্যা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিকের প্রতিটি বিষয়েই প্রতিবছর স্নাতকে সামান্য কমবেশি ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন। প্রিলিমিনারি থাকায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আরও বেশি। কিন্তু এত শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসিয়ে পড়ানোর মতো শ্রেণিকক্ষ নেই। সবাই ক্লাসে উপস্থিত থাকলে একসঙ্গে পড়ানো সম্ভব নয়।
ক্লাসে কম উপস্থিতি: গত ২৭ নভেম্বর কলেজের সমাজকর্মের একটি শ্রেণিকক্ষের বারান্দা থেকে দেখা গেল বড়জোর ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন একজন শিক্ষক। বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সাতজন শিক্ষার্থী নিয়ে আরেকজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। অথচ এ দুই বিভাগেই স্নাতকে প্রতিবছর প্রায় আড়াই শ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন।
কলেজের দুজন শিক্ষক বললেন, স্নাতকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ভালোই উপস্থিত থাকে। কিন্তু এরপর থেকে উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে রোজগার ও চাকরির পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরীক্ষার জন্য ক্লাসে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতাও মানা সম্ভব হয় না। ক্লাস না হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষকেরও অবহেলা আছে বলে জানালেন প্রশাসনিক কাজে যুক্ত এক শিক্ষক।
কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষক বললেন, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বছরে প্রায় ছয় মাস পরীক্ষা থাকে। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পড়ে। থাকে বিভিন্ন ধরনের ছুটি। ফলে বছরে সাড়ে তিন মাসের বেশি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এই সময়ে সিলেবাসও শেষ হয় না। ঘাটতি মেটাতে স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীরাও প্রাইভেট পড়েন। গণিতের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঝোটন কুমার সাহা বললেন, তিনি দুটি কোর্স প্রাইভেটে পড়েছেন। কোর্স ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে কলেজের কিছু শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটে পড়ান। উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র হুমায়ুন কবীর বলল, সে সকাল-বিকেল মিলিয়ে কলেজের তিন শিক্ষকের কাছে পড়ে। প্রতি মাসে ৮০০ টাকা দিতে হয়।
বন্ধের পর উচ্চমাধ্যমিক চালু হলেও ফল প্রত্যাশিত না: ঐতিহ্যবাহী কলেজটি একসময় উচ্চমাধ্যমিকের জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর একটি ছিল। কিন্তু স্নাতক-স্নাতকোত্তরকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে এখানে উচ্চমাধ্যমিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নানা চড়াই-উতরাই শেষে ২০০৮ সালে আবার চালু হলেও এইচএসসিতে ফল প্রত্যাশিত হচ্ছে না। চলতি বছর এইচএসসিতে ৮৯২ জন পরীক্ষা দিলেও ১৭৮ জন পাস করতে পারেননি। বিজ্ঞান শাখার ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় খারাপ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ৩০১ জনই বিজ্ঞানের। বাকি চারজন ব্যবসায় শিক্ষার। মানবিকে একজনও জিপিএ-৫ পাননি।
কলেজের উপাধ্যক্ষ গাজী হাসান কামাল  বলেন, কিছু সমস্যার কারণে এইচএসসিতে ফল খারাপ হয়েছে এটা ঠিক। তবে এখন পৃথক তদারক কমিটি করে উচ্চমাধ্যমিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন আগামী বছর থেকে এর ইতিবাচক ফল পাবেন।
আবাসন ও যানবাহনের সংকট: মোট ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ শতাংশ ছাত্র ও ৪৪ শতাংশ ছাত্রী। বর্তমানে ছাত্রদের জন্য তিনটি ছাত্রাবাসে (বিভিন্ন নামে সাতটি ভবন) বড়জোর ৯০০ ছাত্র থাকতে পারে। আর ছাত্রীদের জন্য থাকা দুটি ছাত্রীনিবাসে ২৫০ আসন থাকলেও থাকেন প্রায় ৩০০ জন। আবাসন-সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কলেজের আশপাশের এলাকায় মেস করে থাকেন। ফলে খরচও বেশি। ইংরেজির ছাত্রী ফাহমিদা রহমান মেসে থাকেন। এ জন্য শুধু মেসের ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা।
ছাত্রাবাসগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ।

হিন্দু হোস্টেল নামে পরিচিত সুকান্ত ভট্টাচার্য ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই করুণ। প্রশাসনিক কাজে জড়িত কলেজের একজন শিক্ষক বললেন, একতলার এই হোস্টেলটি কয়েকবার পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও ছাত্ররা ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। তরুণ ছাত্রাবাস ভবন, কবি জসীমউদ্দীন ছাত্রাবাসও জরাজীর্ণ। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নেই।
কলেজে শিক্ষার্থীদের অনেকে ত্রিশাল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসে। কিন্তু কলেজের বাস মাত্র একটি। তা-ও ২০ বছর আগের। কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষক বললেন, আরও কয়েকটি বাস হলে ওই সব এলাকার শিক্ষার্থীরা সহজেই বাড়ি থেকে এসেই ক্লাস করতে পারত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে এগিয়ে গেলেও উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে মেয়েরা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় এখনও ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে আছে মেয়েরা। এক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ নারী শিক্ষার নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এই প্রবণতা রোধে রাষ্ট্রের প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলছেন নারী নেত্রীরা।
নারীদের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষার্থী।
তাদের এসব কথার প্রতিচ্ছবি যেন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্যের পরিসংখ্যানও। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তির হার ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ যা মোট শিক্ষার্থীর ৫১ শতাংশ আর মাধ্যমিকে ভর্তির হার ৫৩ শতাংশ। তবে কলেজ পর্যায়ে তা ৪৭ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে।
গণস্বাক্ষরতা অভিযান নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে সমতা অর্জন হয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে মেয়েদের হার নিম্নমুখী হতে থাকে। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখনো মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ৪০ শতাংশের নিচে।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানালেন, উচ্চ শিক্ষায় নারীদের সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এক্ষেত্রে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর পরামর্শ নারী নেত্রীদের।
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে নারী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ শিক্ষায় নারীদের সংখ্যা বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অবদান। এমনটাই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিশুদের স্কুলভীতি

schoolbagডা. জিল্লুর রহমান খান রতন: স্কুলে যাওয়ার সময় এলেই অনেক শিশুর মধ্যে তীব্র আপত্তি, অনীহা ও উদ্বেগ লক্ষ করা যায়। কিন্তু যখন স্কুলে না যাবার দৃশ্যমান কোনো কারণ যেমন- শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক দুর্ঘটনা প্রভৃতি খুঁজে পাওয়া যায় না তখন বিষয়টি অভিভাবক ও স্কুলশিক্ষকের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি শিশুদের একটি উদ্বেগজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা স্কুলভীতি নামে বেশি পরিচিত।

শিশু মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগত শতকরা ৫ ভাগ শিশুর এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ কিংবা অন্য কোনো পারিবারিক কারণে (প্রিয়জনের মৃত্যু) দীর্ঘদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকার পর স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ সমস্যা শুরু হতে পারে। শুরুতে স্কুলে যেতে তীব্র আপত্তি, প্রতিবাদ, কান্নাকাটি, হাত-পা ছুড়ে চিৎকার ও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় শুধুমাত্র শারীরিক লক্ষণসমূহ যেমন, পেটে, মাথায় ও শরীরের অন্য স্থানে ব্যথা, অস্থিরতা, বমিভাব ও ক্লান্তি ও অবসাদবোধ নিয়ে স্কুলভীতি প্রকাশ পেতে পারে।

অভিভাবকগণ অনেক সময় এসব কারণে শিশুকে স্কুলে যেতে দেন না বা স্কুলে যাওয়ার মাঝ পথ থেকে শিশুকে ফিরিয়ে আনেন যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

লিঙ্গ ও বয়সভেদে যেকোনো শিশুর স্কুলভীতি বা স্কুলে যেতে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ৭-১১ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাধীনভাবে একাকী চলাফেরা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সাথে মেলামশার ক্ষমতা থাকার কথা তা যদি না থাকে তখন এ সমস্যা দেখা যায় যা ‘সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ নামক শিশু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নামে পরিচিত। এ ছাড়া, স্কুলে যাওয়ার পথে ভীতিকর পরিবেশ, অতিরিক্তি পড়াশুনার চাপ, পরীক্ষা ভীতি, স্কুলে শিক্ষক বা সহপাঠী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল প্রভৃতি কারণেও শিশুদের স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি হয়। স্কুল পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশ, পরিবারে শৃঙ্খলার অভাব, মা-বাবার প্রতি শিশুর অতি নির্ভরশীলতা, শিশুর সাথে পরিবারের নেতিবাচক  সম্পর্ক, শিশু নির্যাতন ও মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শিশুর স্কুলভীতির সাথে নিবিঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।

যে সকল শিশুর স্কুলভীতি রয়েছে তাদের দুই-তৃতীয়াংশের উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অতি চঞ্চলতা, সামাজিক ভীতি ও মানিয়ে চলার সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু মানসিক সমস্যা থাকে। এ জন্য স্কুলভীতির কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকারের জন্য মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু-বিশেষজ্ঞ, মনোবিদসহ অন্যান্য সহায়ক শিশু-মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলভীতির সমস্যার সফল সমাধানে ‘স্কুলে ফিরে যাওয়ার নীতি’ গ্রহণ দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর ক্ষেত্রে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও স্কুল-শিক্ষকের ইতিবাচক ও সহযোগী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নীতিতে আগে থেকে সুবিধামতো দিন ঠিক করে শিশুকে কিছু পূর্বপ্রস্তুতির পর স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কুল চলাকালীন বা অন্য সময় স্কুলের আশপাশে যাওয়া ও পরে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ ইত্যাদি কৌশল বের করে।

পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়লে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনোভাবেই স্কুল বাদ দিয়ে বাসায় পড়াশুনা উৎসাহিত করা যাবে না।

অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক সমস্যার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। স্কুলভীতির কারণে শিশুর পড়াশুনার দক্ষতা কমে যাওয়া, প্রাপ্তবয়সে বেকারত্ব, মনোদৈহিক রোগ, আতঙ্ক, সামাজিক ভীতিসহ বিভিন্ন মনোসামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য স্কুলভীতির সমস্যাকে অবহেলা না করে সময়মতো শিশু-মানসিক স্বান্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ ও সহায়তা নিতে হবে।

ডা. জিল্লুর রহমান খান রতন
সহকারী অধ্যাপক
শিশু-কিশোর মানসিক রোগ বিভাগ,
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আমার কেন আর দুর্ভাবনা নেই

dr-md-zafar-iqbalড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঃআজকাল বাংলাদেশে প্রতিবছর খুব হইচই করে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ আয়োজন করা হয়। এই বছরের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের একটি অনুষ্ঠানে আমার আমন্ত্রণ ছিল, সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া এবং অনুষ্ঠান শেষে আবার ফিরে আসা যথেষ্ট ঝক্কির ব্যাপার, যাব কি যাব না সেটা নিয়ে একটু দোটানার মাঝে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত চলেই গিয়েছিলাম। গিয়ে অবশ্যি খুব ভালো লেগেছে, বিশাল একটি আয়োজন বাংলাদেশে এ রকম বড় আয়োজন আমার খুব বেশি চোখে পড়েনি।

তবে আমি আজকে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে লিখতে বসিনি। সেখানে যাওয়ার কারণে আমার যে একটি বিশেষ উদ্যোগ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে সেটি নিয়ে লিখতে বসেছি!

একটা নির্দিষ্ট সেশানে আমাকে কথা বলতে হয়েছে, দর্শকদের বেশির ভাগই তরুণ, কাজেই অনুষ্ঠান শেষে সেলফি তোলার আরেকটি সেশান শুরু হয়ে গেল। ‘সেলফি সেশন’ যখন শেষ হয়েছে তখন লক্ষ্য করলাম তরুণদের ভীড়ে একজন বড় মানুষ আমার সাথে কথা বলার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি যখন ছাড়া পেয়েছি ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব, তাদের একটা উদ্যোগ নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চান।

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে আমার উৎসাহ আছে, তাই যখন কেউ শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে চান তখন আমি সেটা খুব আগ্রহ নিয়ে শুনি। সচিব মহোদয় তার একজন সহকর্মীকে নিয়ে হল ঘরের একটা কোনায় বসে আমাকে বললেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তারা একটা ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ তৈরি করেছেন, তারা সেটা নিয়ে একটু কথা বলতে চান।

আমি একটু অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকালাম। মাত্র কয়েকদিন আগে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেকের সাথে এই দেশের শিক্ষাবিদদের একটা সভা হয়েছে। সেখানে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে কয়টি প্রস্তাব গুরুত্ব পেয়েছে তার একটি হচ্ছে– একটা বড় ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ বানানো যেখানে অসংখ্য সৃজনশীল প্রশ্ন জমা থাকবে। শিক্ষকদের একটা বড় অংশ যেহেতু নিজেরা সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না কিংবা তৈরি করতে চান না, তাই তাদের যখন দরকার হবে তারা সেই প্রশ্ন ব্যাংক থেকে প্রশ্ন নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই মুহূর্তে শিক্ষকেরা অনেকেই গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা নেন, কাজেই ছেলেমেয়েরা শুধু পাঠ্যবইটা মুখস্থ করে না, পাঠ্যবইয়ের সাথে আরও কয়েকটা গাইড বই মুখস্থ করে। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, এই বছর যে জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে সেখানেও গাইড বই থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়েছে। এই গাইড বইয়ের প্রকাশকেরা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন-ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে পারে–

“আপনার ছেলেমেয়েদের আমাদের গাইড বই মুখস্থ করান, কারণ এই দেশের পাবলিক পরীক্ষায় আমাদের প্রকাশিত গাইড বই থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়!”

যাই হোক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেই সভায় কীভাবে প্রশ্ন ব্যাংক বানানো যায় সেটা নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কেউ বলেনি যশোর শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে সেটা তৈরি করেছে। যদি সত্যি সত্যি এত বড় একটা কাজ হয়ে থাকত উপস্থিত যারা ছিলেন তাদের কেউ না কেউ সেটা নিশ্চয়ই উল্লেখ করতেন। কাজেই খুব সংগত কারণে আমি যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দিকে খুবই সন্দেহের চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনারা সত্যি সত্যি এটা তৈরি করেছেন নাকি এটা তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন?”

তারা বললেন, শুধু যে তৈরি করেছেন তা নয়, সেটা ব্যবহার করে তাদের এলাকার সব স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে! কাজেই এই এলাকায় গাইড বই এবং কোচিং সেন্টারের বারোটা বেজে যাচ্ছে। শুনে আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম। যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা দুইজন বললেন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটা স্টল দেওয়া হয়েছে, বিশ্বাস না করলে আমি নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসতে পারি!

আমি নিজের চোখে দেখার জন্যে সাথে সাথে তাদের সাথে রওনা দিলাম।

২.

যশোর শিক্ষা বোর্ডের স্টলে তারা আমাকে প্রথমে একটা ভিডিও দেখালেন, ভিডিওটা শর্ট ফিল্মের কায়দায় তৈরি করা।

পরীক্ষার জন্যে একটি মেয়ে পড়ছে। পাঠ্যবই না পড়ে মুখ কালো করে মোটা মোটা গাইড বই মুখস্থ করছে। শুধু তাই নয় স্কুল ছুটির পরে কোচিং সেন্টারে ভীড় করছে, সেখানে চালবাজ ধরনের একজন সবার হাতে মুখস্থ করার জন্যে শিট ধরিয়ে দিচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা মুখ কালো করে নিরানন্দ এই জিনিসগুলো মুখস্থ করছে।

আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে, যখন ভিডিওতে দেখানো হয়েছে– দরজায় নিচ দিয়ে পেপারওয়ালা একটা ‘প্রথম আলো’ ঢুকিয়ে দিয়েছে। কঠিন চেহারার একজন মা পত্রিকাটি হাতে নিয়ে সেটি পড়ার কোনো চেষ্টা না করে সোজা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে “পড়াশোনা পৃষ্ঠা” নামে যে গাইড বইয়ের পাতা ছাপা হয় সেটি কাঁচি দিয়ে কেটে তার মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর সেটা মুখস্থ করার জন্যে একটুখানি দাবড়ানি দিয়ে এল। হতভাগা মেয়েটি কোচিং সেন্টারের শিট, গাইড বই এবং ‘প্রথম আলো’র “পড়াশোনা পৃষ্ঠা” মুখ কালো করে মুখস্থ করতে লাগল।

যারা এখনো জানেন না তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যায়, আমাদের দেশের সব কয়টি বড় বড় পত্রিকা দেশ, জাতি, সমাজ, শিক্ষা এসব নিয়ে বড় বড় আলোচনা করেন, কিন্তু তারা সবাই নিয়মিতভাবে তাদের পত্রিকায় ‘গাইড বই’ ছাপায়। যদিও এই দেশে গাইড বই বেআইনি। গাইড বই এবং পাঠ্যবইয়ের মাঝে পার্থক্য কী যারা জানেন না তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যায়, পাঠ্যবইয়ে একটা বিষয় সম্পর্কে লেখা হয়। গাইড বইয়ে শুধু প্রশ্ন এবং তার উত্তর লেখা হয়।

ছেলেমেয়েরা গাইড বই থেকে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানে না, তারা শুধুমাত্র কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর মুখস্থ করতে শেখে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেহেতু পরীক্ষা-নির্ভর হয়ে গেছে তাই কোনো কিছু শেখার থেকে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে সবাই আগ্রহী। দেশের বড় বড় পত্রিকাগুলো অভিভাবকদের বোঝাতে পেরেছে যে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে তাদের পত্রিকায় ছাপানো গাইড বইটি ছেলেমেয়েদের মুখস্থ করানো দরকার। দেশে যখন কোনো অন্যায় অবিচার হয় তখন মাঝে মাঝেই দেখি হাই কোর্ট নিজ থেকে এই অন্যায় অবিচারগুলোতে হস্তক্ষেপ করে বিষয়গুলোর সুরাহা করে দেয়।

আমি স্বপ্ন দেখি, অসংখ্য ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার সর্বনাশ করা খবরের কাগজের এই গাইড বইগুলো হাইকোর্টের নির্দেশে কোনো একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। (স্বপ্ন যখন দেখছি তখন পুরোটাই দেখে ফেলি, আমি স্বপ্ন দেখি, এই দেশের ছেলেমেয়েদের আলাদা আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার অমানবিক এই নিয়ম বন্ধ করে হাইকোর্ট একদিন নির্দেশ দেবে সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে!)

যাই হোক যশোর শিক্ষাবোর্ডের সেই ভিডিওর বিষয়বস্তুতে ফিরে যাই। সেখানে দেখানো হয়েছে গাইড বইয়ের প্রকাশকেরা বড় বড় বান্ডিল করে স্কুলে স্কুলে যাচ্ছে এবং দুর্নীতিপরায়ণ হেডমাস্টাররা সেই গাইড বই তাদের কাছ থেকে নিচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। যে স্কুলগুলো ভালো সেখানে গাইড বইয়ের লোকজন ঢুকতেই পারছে না এবং স্কুলের দারোয়ানের হুংকার শুনে প্রাণ নিয়ে পালাতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ছে।

লেখাপড়ার এই ভূমিকাটি দেখিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভিডিওটিতে তার প্রশ্ন ব্যাংকের মূল বিষয়টি ফিরে গেছে যারা সৃজনশীল প্রশ্ন করার বিষয়টি জানেন তারা শিক্ষকদের ট্রেনিং দিচ্ছেন। শিক্ষকেরা তারপর সৃজনশীল প্রশ্ন করছেন এবং সেই প্রশ্নগুলো প্রশ্ন ব্যাংকে জমা হচ্ছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে নেট থেকে পরীক্ষার জন্যে এক সেট প্রশ্ন নামিয়ে সেটা ছাপিয়ে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে পরীক্ষার শেষে ছেলেমেয়েরা নিজেরা নিজেরা কথা বলছে। যারা শুধু নিজেরা নিজেরাই পাঠ্যবইটা পুরো পড়ে এসেছে তারা বলছে তাদের পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। যারা গাইড বই, কোচিং সেন্টার আর খবরের কাগজের “শিক্ষা পাতা” মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়েছে তারা হতাশভাবে মাথা নেড়ে বলছে তাদের পরীক্ষা একেবারেই ভালো হয়নি। কারণ, মুখস্থ করে আনা অসংখ্য প্রশ্ন এবং উত্তর থেকে একটি প্রশ্নও ‘কমন’ পড়েনি!

৩.

ভিডিওটি কাল্পনিক ভিডিও এবং অবশ্যই যশোর শিক্ষা বোর্ড এটি তৈরি করেছে তাদের নিজেদের উদ্যোগটির প্রচারণা করার জন্যে। কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে লেখাপড়ার একেবারে মূল সমস্যাগুলো তারা কিন্তু দেখাতে পেরেছেন। এটি শুধুমাত্র একটা প্রচারণামূলক ভিডিও হতে পারত যদি তারা এর পেছনের কাজগুলো করে না রাখতেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আমাকে জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রশ্নের ব্যাংক বানানোর জন্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল এবং সেই নির্দেশনা পেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করার উদ্যাগটি নিয়েছিল। প্রশ্ন করার জন্যে একটা চমৎকার পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, কর্মকর্তারা আমাকে সেটি দেখিয়েছেন এবং দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে অভিভূত করেছে সেটি হচ্ছে প্রশ্নের সংখ্যা তারা আমাকে জানিয়েছেন তাদের প্রশ্ন ব্যাংকে ইতোমধ্যে এক লাখের মতো প্রশ্ন জমা হয়ে গেছে!

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেহেতু সব শিক্ষা বোর্ডকেই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, কাজেই হয়তো অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডও একইভাবে প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করে ফেলেছে কিংবা তৈরি করতে যাচ্ছে। আমি যেহেতু শুধুমাত্র যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগটি দেখেছি তাই শুধু তাদের কথাটিই বলছি! অন্যদের কথা জানলে সেটাও সমান আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে বলতাম।

আমাদের দেশে যখন প্রথম সৃজনশীল প্রশ্ন চালু করা হয়েছিল তখন আমরা সবাই এটা নিয়ে খুবই আগ্রহী হয়েছিলাম। এটা বাংলাদেশের আবিষ্কার নয়, সারা পৃথিবীতেই এভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়– আমরা একটু দেরি করে শুরু করেছি। যখন এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি চালু করা হয় তখন আমরা অনুমান করেছিলাম প্রথম প্রথম এভাবে প্রশ্ন করতে শিক্ষকদের একটু অসুবিধা হবে, কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই ব্যাপারটা ধরে ফেলবে। শিক্ষকদের সেজন্য ট্রেনিং দেওয়া হবে এবং প্রথম প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি করে স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে। আমরা আবিষ্কার করলাম পরীক্ষার মান বাড়ানো থেকে পরীক্ষায় পাসের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে একটা ঝোঁক তৈরি হল এবং যেনতেন পরীক্ষা হলে কিংবা প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলেও সেটা নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যাথা হত না। এখানে ‘কারো’ বলতে আমি যে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বোঝাচ্ছি তা নয়, আমাদের দেশের বড় বড় শিক্ষাবিদদের কথাও বলছি।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমি কাউকে তেমন সোচ্চার হতে দেখিনি এবং আমি চেষ্টা করেও বড় বড় শিক্ষাবিদদের এটা নিয়ে একটা সেমিনারের আয়োজন করাতে পারিনি। তখন যা হওয়ার কথা তাই হতে লাগল, গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হল এবং সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির যেটুকু ভালো ফল নিয়ে আমার কথা ছিল ঠিক ততটুকু খারাপ ফল আনতে শুরু করল। দুর্ভাগা ছাত্রদের পুরো বইয়ের সাথে সাথে কুৎসিত গাইড বই মুখস্থ করা শুরু করতে হল।

অন্য সবার মতো আমিও বিষয়টা নিয়ে অনেক ভেবেছি এবং আমার মনে হয়েছে এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ আর কার্যকর সমাধান হচ্ছে একটা ‘প্রশ্ন ব্যাংক’। সেখানে একশ-দুশ প্রশ্ন থাকবে না, আক্ষরিক অর্থে লাখ লাখ প্রশ্ন থাকবে। শিক্ষকেরা তাদের প্রয়োজনে সেখান থেকে প্রশ্ন নামিয়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন, ছাত্রছাত্রীরা সেখান থেকে প্রশ্ন নামিয়ে নিজেদের যাচাই করতে পারবে। (যেহেতু একই সাথে প্রশ্ন আর তার উত্তর নামিয়ে সেটা মুখস্থ করার কোনো সুযোগ থাকবে না, তাই সেটা কখনও গাইড বই হয়ে যাবে না!)

ছাত্রছাত্রীরা যখন আবিষ্কার করবে তাদের পরীক্ষার প্রশ্ন আর কোনো গাইড বই থেকে আসছে না কিংবা কোনো কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্ট থেকে আসছে না, তখন রাতারাতি এই বাণিজ্যগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু এই উদ্যোগটি সহজ নয়, ব্যক্তিগতভাবে করাও সম্ভব নয়, এটি করা সম্ভব শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। তাই যখন আমি আবিষ্কার করেছি যশোর শিক্ষা বোর্ড– আমি যে বিষয়টি নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম– হুবহু সেই বিষয়টিই করে রেখেছে, তখন আমার আর আনন্দের সীমা ছিল না! (আমার ছাত্র আর শিক্ষকেরা মিলে এই ধরনের একটা উদ্যোগ বেশ আগেই নিয়েছিল, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদাহরণটি দেখে তাদের উৎসাহ শত গুণে বেড়ে গেছে।)

কাজেই আমি অনুমান করেছি যশোর শিক্ষা বোর্ডে উদাহরণটি দেখে এ রকম অনেকগুলো একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব শিক্ষা বোর্ড যদি ইতোমধ্যে এটি করে ফেলে না থাকে নিশ্চয়ই তারাও এর কাজ শুরু করবে। (এবং হ্যাকাররা অবশ্যই এটা হ্যাক করে ফেসবুকে দেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেটা অন্য ব্যাপার! প্রযুক্তির সমস্যা আমাকে কখনও দুর্ভাবনায় ফেলে না)

কাজেই বলা যেতে পারে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা সঠিকভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন করা– তার একটা চমৎকার সমাধান বের হয়ে গেছে।

সৃজনশীল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর এটিকে নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যার একটা সম্পর্কে ভাসা ভাসাভাবে জানেন তাদের সবচেয়ে প্রিয় প্রশ্ন হচ্ছে এ রকম: “আমরা সৃজনশীল পরীক্ষা নিচ্ছি কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের আমরা কী সৃজনশীলভাবে পড়াচ্ছি?”

এই প্রশ্ন শুনে আমি হাসব না কাদব বুঝতে পারি না! কারণ, প্রশ্নের বেলায় ‘সৃজনশীল’ শব্দটি একটি নাম ছাড়া আর কিছু নয়; এর প্রকৃত নাম ‘কাঠামোবদ্ধ’। শব্দটি একটু কটমটে বলে এই নামটি দেওয়া হয়েছিল।

যাই হোক যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন ব্যাংক, সেই প্রশ্ন ব্যাংকে প্রশ্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সেই প্রশ্ন ব্যবহার করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখে আমার সমস্ত দুর্ভাবনা একেবারে কেটে গিয়েছে। তারা একটি চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছেন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এখন সেই উদাহরণটি অন্য সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে।

সে জন্যে বলছিলাম লেখাপড়া নিয়ে এখন আমার আর কোনো দুর্ভাবনা নেই।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter