বিশেষ প্রতিবেদন

বড়দিন: এক শরণার্থী শিশুর গল্প শোনাবে মার্কিন চার্চগুলো

বিপন্ন শরণার্থী জীবনের ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই উদযাপিত হচ্ছে এবারের বড়দিন। মার্কিন চার্চগুলো তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের বড়দিন উপলক্ষ্যে এক শরণার্থী শিশুর গল্প শোনাবে তারা। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে।
কিন্তু যে শরণার্থী শিশুর গল্প শোনানো হবে, সে আসলে কে? ইউএসএটুডের খবরে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের ছোট্ট শহরতলী বেথলহামে জন্ম নেয় সেই শিশু। স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে বাঁচতে  রাতের আঁধারে মায়ের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ে সেই শিশু।  সেখানকার রাজা হেরোদের ভয়ে তারা পালিয়ে যান মিসরে। এই মা-ই হলেন মাতা মেরি, আর শিশুটি যিশু। যিশু একজন শরণার্থী শিশু ছিলেন বলেই তার গল্প শোনানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন চার্চগুলো।
উল্লেখ্য, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজা হেরোদের শাসনে অতিষ্ট জুডিয়ার সাধারণ মানুষ ভাবতেন এমন এক মসিহা আসবেন, যিনি তাদের রাজ্যে সুবিচার আর পবিত্রতা কায়েম করবেন, পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করবেন আর সমস্ত পৃথিবীকে এক এবং অদ্বিতীয় বিধাতার বিশ্বাসে ফিরিয়ে আনবেন।
হেরোড প্রথমে তা আমলে নেননি। পরে এই শিশুকে হত্যা করার আদেশ দেন। আদেশ দেওয়া হয়, ওই স্থানে দুই বছর বা এর কম বয়সী সব শিশুকে হত্যা করার। কিন্তু শিশু যিশুকে ততক্ষণে মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বাইবেলের গসপেল ম্যাথিউ-এর দ্বিতীয় পর্বে বর্ণিত আছে, একটি শিশুর জন্ম হলো যার নাম যিশু (গ্রিক ভাষায় যশোয়া)। তার জন্ম হলো হেরোডের রাজ্যের শেষ প্রান্ত, বেথেলহামে। যিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষেই প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন বা ক্রিসমাস পালন করা হয়।

যিশুর শরণার্থী জীবনের কথা সামনে এনে শরণার্থী শিশুদের প্রতি মানুষের আবেগ জাগাতে চেষ্টা করবে মার্কিন চার্চগুলো।

এই বিবরণ চলতি বছরের আগস্টে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে বসা আলেপ্পোর সেই ছোট্ট শিশু ওমরান দাকনিশের কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় আহত হয় ওমরান।

ওয়ার্ল্ড রিলিফ-এর পরিচালক ম্যাথিউ সোয়েরেনস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি হয়ত পুরো গল্পটির অংশবিশেষ, যা আমরা সেভাবে আমলে নিই না। আমরা গল্পটির ইতি টানতে চাই যেখানে জ্ঞানী ব্যক্তিগণ যিশুর পাশে বসে আছেন। এরপর সবাই ঘরে গিয়ে বড়দিনের ডিনার করবেন। কিন্তু শাস্ত্রমতে, গল্পটি সেখানে শেষ হয় না।’

ওয়ার্ল্ড রিলিফ সেই নয়টি বেসরকারি সংস্থার একটি, যারা মার্কিন সরকারকে শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার জন্য কাজ করে আসছে। সোয়েরেনস জানান, তারা গত বছর থেকে শরণার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য চার্চের মধ্যে কাজ করছেন। তারা আশা করছেন, এই গল্প বলার মধ্য দিয়ে আরও অনেক মানুষ শরণার্থীদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবেন।

এর আগে পোপ ফ্রান্সিস সেইন্ট পিটারস স্কয়ারে দেওয়া ভাষণে শরণার্থীদের সঙ্গে শিশু যিশুর জন্মের সময়কালের সাদৃশ্য বর্ণনা করেছিলেন।

সোয়েরেনস বলেন, দেশজুড়ে যেসব চার্চের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড রিলিফের সম্পর্ক রয়েছে, সেখানেই এই গল্প শোনানোর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনও মজার বিষয় নয়। বরং এটি পুরো গল্পটির অংশ। আর আমি মনে করি, বর্তমান বিশ্বে যা হচ্ছে, তা এখানে উঠে আসে, আর এজন্যই তা এতো গুরুত্বপূর্ণ।’

এ প্রসঙ্গে শিকাগোর পার্কভিউ কমিউনিটি চার্চের জ্যেষ্ঠ পাদ্রি রে কোলবোকার বলেন, ‘এর আগে আমি যিশুকে এভাবে ভাবতে পারিনি। আমি গল্পটা জানি, আমি তা পড়েছি, কিন্তু তার পরও আমি তা ভাবতে পারিনি।’

পার্কভিউ কমিউনিটি চার্চের এক বার্তায় বলা হয়, ‘আপনি কি জানেন, এক শরণার্থীর জন্যই আমরা বেঁচে আছি।’

টেম্পে শহরের রিডেম্পশন চার্চের পাদ্রি জিম মুলিনস যিশুর ঘটনার সঙ্গে তিন বছর বয়সী শিশু আলান কুর্দির সাদৃশ্য খুঁজে পান। আলানের পরিবার সিরিয়া থেকে সমুদ্রপথে পালিয়ে ইউরোপে আসার সময় নৌকাডুবিতে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ ভেসে আসে ইউরোপে। গত দুই বছর ধরে রিডেম্পশন চার্চ শরণার্থীদের সাহায্যে কাজ করছে।

সোয়েরেনস জানান, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ১৩ লাখ শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৮৫ হাজার মানুষের ঠাঁই হয়েছে। যা মোট শরণার্থী পুনর্বাসনের ০.৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শরণার্থীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, তারা সিরিয়া থেকে আগত নন। এদের বেশিরভাগই কঙ্গো থেকে আসা। ওই শরণার্থীদের মধ্যে খ্রিস্টান ও মুসলিমের সংখ্যাও সমান। সোয়েরেনস বলেন, ‘মানুষ সবসময় পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হবেন, এমনটা নয়।’

পার্কভিউ চার্চের কোলবোকার বর্তমান পরিস্থিতি ও যিশুর অভিজ্ঞতার সাদৃশ্য তুলে ধরে একে মানুষের সামনে প্রকাশ করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক বিশাল সংকট। কিন্তু আমরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারি।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুর্লভ বইয়ের মার্কেট নীলক্ষেত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

দেশের যে কোনো প্রান্তে বইয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অবধারিতভাবে যেন রাজধানীর নীলক্ষেতের বই মার্কেট আলোচনায় চলে আসে। পাঠ্যবই থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য, কবিতা, উপন্যাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, চাকরির বই ছাড়াও একশ’ বছরের পুরনো বইসহ নানা ধরনের তথ্যভাণ্ডারসমৃদ্ধ বই মেলে নীলক্ষেতে। সরকারি খাস জমিতে ১৯৬৬ সালে গড়ে ওঠে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজকে কেন্দ্র করে প্রথমে এ এলাকায় শুরু হয় বই বিক্রি, যা বর্তমানে দেশের দুর্লভ বইয়ের মার্কেট হিসেবে পরিচিত।

উচ্চশিক্ষার পথে যিনি হেঁটেছেন তিনি নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটে একবারও আসেননি এমন ঘটনা বিরল। সব থেকে কম দামে বই বিক্রি হয় বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে লেগেই থাকে।

দেশের নামকরা লেখকদের পাশাপাশি নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় বিদেশি লেখকদের বই। দেশের বৃহত্তর এ বইয়ের মার্কেটে নির্ধারিত মূল্যের থেকে অর্ধেক দামে প্রায় সব ধরনের বই পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৬ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট, যার নাম ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট। এ মার্কেটে বর্তমানে বইয়ের সাড়ে চারশ’ স্থায়ী দোকান রয়েছে। এ ছাড়া আরো প্রায় একশ’র বেশি অস্থায়ী দোকান মার্কেটের চারপাশ ঘিরে রয়েছে।

ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে বলে ১৯৯৪ সালে এক মামলায় রায় দেন আদালত। এরপর থেকে এ জমি লিজ নেওয়ার চেষ্টা করে ইমলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতি। এ সমিতির সৃষ্টি হয় ১৯৮৩ সালে পাঁচশ’ সদস্য নিয়ে।

ইসলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আক্কাস জানান, সরকারি খাস জমি হিসেবে আদালত রায় দেওয়ার পর থেকে সমিতির নেতারা লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করেন দীনেশ রাম পাসি নামের একজন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখিয়ে এ সম্পত্তির মালিক তার পূর্ব পুরুষ বলে দাবি করেন তিনি। তবে আদালতের রায় এখনো সমিতির পক্ষে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নীলক্ষেত এলাকায় একাধিক মার্কেট রয়েছে। সব মার্কেট সরকারি খাস জমিতে। আর সব মার্কেটের লিজ হয়ে গেছে। এখন বাকি ইসলামিয়া মার্কেটের। সরকার থেকে আমরা লিজ নিয়ে এখানে বইয়ের বহুতল মার্কেট বানাব। সরকারি রেট অনুযায়ী ১০ লাখ ১২৫ টাকায় প্রতি শতাংশ লিজ নেব।’

বইয়ের মার্কেটের এখানে অন্য কোনো মার্কেট করার কথা শোনা যাচ্ছে— প্রসঙ্গ তুললেবে আলী আক্কাস বলেন, ‘বাপ-দাদার ব্যবসা বইয়ের। এর বাইরে অন্য কোনো ব্যবসা আমাদের জানা নেই। সরকার যদি আমাদের লিজ দেয় তাহলে এখানে বইয়ের বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হবে।’

‘ইসলামিয়া বইয়ের মার্কেট’ ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কথা জানেন না সাধারণ ক্রেতারা। পরিবর্তনের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্রেতাদের এ বিষয়ে জানালে একাধিক ক্রেতা বলেন, পুরোনো আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, টিন আর কাঠ দিয়ে তৈরি এ মার্কেটের আলাদা সৌন্দর্য। প্রয়োজনে এ মার্কেট টিন আর কাঠ দিয়ে সুন্দরভাবে নির্মাণ করা যায়। বহুতল ভবনে বইয়ের দোকানের সৌন্দর্য কমে যাবে। তখন আর নীলক্ষেতের সেই ঐতিহ্য থাকবে না। অন্য দশটা মার্কেটের মতো দেখতে লাগবে।

তবে বিক্রেতারা ও সমিতির নেতারা বলছেন, বহুতল ভবন হলে রাস্তার পাশের বই বিক্রেতারা স্থান পাবে। আরো লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান একটা পুরাতন ঐতিহ্য। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য বহুতল ভবনের হলে ভালো লাগবে না। এ ছাড়া আরও পাঁচটা ভবন হলেও রাস্তার পাশে দোকান বসবে।’ তিনি বলেন, ‘সব ঐতিহ্য কংক্রিটে মানায় না।’

ইসলামিয়া বই মার্কেটের বেশ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘বইয়ের দোকানিরা বই কেনার জন্য হাঁকডাক দিয়ে নিজের দোকানে ডাকেন, এর মাঝে একটা আলাদা ভালো লাগা রয়েছে। এখানে বহুতল ভবন হলে এ আন্তরিকতা থাকবে না। অন্য সব মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মতো আচরণ হয়ে যাবে তখন।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশে শিশুদের মারধর করা হয় কেন?

ডেস্ক: শিশুদের মারধর করা অনেকটা সামাজিক রীতিরই অংশ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। পরিবারের আত্মীয় স্বজন, মুরব্বি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণত: শিশুদের মারধর করা হয়ে থাকে।কথা না শুনলে বা পড়তে না বসলে দু এক ঘা বসিয়ে দেওয়া বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক চিত্র। শিশুকে বকুনি বা মারধর কেন বাংলাদেশের সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া?

সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিন বলছেন, ‘শিশুদের শাসন না করলে তারা মানুষ হবে না বাংলাদেশের সমাজে বহুদিন ধরে এমন একটা সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে। স্কুলেও এটা চলে। পরিবার মনে করে এটা তার ভালোর জন্যেই করা হচ্ছে বা তাকে শাসন করা পরিবারের অধিকার। বাংলাদেশে শিশুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা একেবারেই নেই।’

পারিবারিক শাসন হিসেবে মারধর বা বকাঝকা শিশুর ওপর কি প্রভাব ফেলে?

শিশুদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলছেন, এর প্রভাব তাৎক্ষণিক বোঝা না গেলেও দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় শিশুর ক্ষমতা বা সংগতির তুলনায় তার কাছে পরিবারের চাওয়া অনেক বেশি থাকে। পরিবার তখন তাকে বকাঝকা করে, তাকে বলতে থাকে তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না বা তাকে দরকারে মারধরও করে। পরিবার ভাবে তাতে হয়ত শিশুটি তার লক্ষ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু শিশু কতদূর পারবে তার সক্ষমতা যাচাই করা হয়না।’

তিনি বলছেন, ‘এতে শিশু বাড়তি চাপ অনুভব করে এবং মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যেতে থাকে। শিশু নিজেই মনে করতে থাকে বাবা মা যেহেতু বলছে অতএব আমি কোনো কিছুর জন্য ভালো না। শিশুরা এমনকি নেশা বা নানা অপরাধে জড়িয়ে পরে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সমস্যা নিয়ে শিশুরা তাদের কাছে আসে যার উৎস পরিবারেই।’

তার মতে, শিশুর সক্ষমতা যাচাই এবং সে অনুযায়ী তার ভালো ফল বা ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে ধৈর্য দরকার হয় বাংলাদেশে অনেক বাবা মায়েরই সেটা নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা, ইউনিসেফের শহরাঞ্চলে শিশুদের অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮২ শতাংশের বেশি পরিবারে নানা ধরনের শাসনের শিকার।

এর মধ্যে বকা থেকে শুরু করে রয়েছে মারধর পর্যন্ত। ৫৫ শতাংশ শিশুকে শারীরিক মারধর দিয়ে শাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ শিশুই মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার।

প্রকাশিত এই জরিপে আরো দেখা যাচ্ছে, বস্তিবাসী শিশুরা তুলনামূলক বেশি শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হলেও বস্তির বাইরের শিশুদের মধ্যেও এই সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হিন্দু হোস্টেলর অবস্থা খুবই করুণ আনন্দ মোহন কলেজে

ময়মনসিংহ:: ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ, ১০০ বছর পেরিয়েছে তা-ও আট বছর আগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার পরিসর, তারচেয়েও দ্রুত বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি সেভাবে। কলেজের অধ্যক্ষই স্বীকার করলেন আবাসন ও যানবাহন-সংকটের কথা।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে অনেক ক্লাসই হয় না। এর জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দুই পক্ষের অনীহা দায়ী। আর বছরজুড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ক্লাস হওয়ার সুযোগ আরও কমিয়ে দিয়েছে। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ক্লাস হয় একেবারেই কম। স্নাতকে বছরে বড়জোর সাড়ে তিন মাস ক্লাস হয়। তাই সিলেবাস শেষ করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়েন। আলাদা ভবনে তুলনামূলকভাবে উচ্চমাধ্যমিকে ক্লাস বেশি হলেও এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া আবাসন ও যানবাহনের সংকট, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় ছোট শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকাসহ আরও কিছু সমস্যায় ভুগছে কলেজটি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বললেন, আবাসন ও যানবাহনের সংকটই এই কলেজের বড় সমস্যা। তবে নতুন দুটি ছাত্রীনিবাস হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকের পদ বাড়াতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
১০ একর জায়গার ওপর ময়মনসিংহ শহরে শতবর্ষী সরকারি এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৮ সালে। এখন উচ্চমাধ্যমিক ছাড়াও ২০টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ১৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানো হয়। প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকের পদ ২০৭টি। তবে সংযুক্তি (অন্যত্র পদায়ন হলেও অস্থায়ীভাবে এই কলেজে) মিলিয়ে শিক্ষক আছেন ২১৬ জন। এ তথ্য গত ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একজন শিক্ষক বললেন, সৃষ্ট পদ অনুযায়ী সংকট না থাকলেও শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়ে যত হয়েছে, সেই তুলনায় শিক্ষকের পদ কম। এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ১৪৮। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২০ (সূত্র: ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন)। দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়।
প্রশাসনিক কাজে যুক্ত একজন শিক্ষক বললেন, ৭০টির মতো শ্রেণিকক্ষ থাকায় সাদা চোখে শ্রেণিকক্ষের সমস্যা মনে হবে না। কিন্তু বাস্তবে সমস্যা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিকের প্রতিটি বিষয়েই প্রতিবছর স্নাতকে সামান্য কমবেশি ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন। প্রিলিমিনারি থাকায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আরও বেশি। কিন্তু এত শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসিয়ে পড়ানোর মতো শ্রেণিকক্ষ নেই। সবাই ক্লাসে উপস্থিত থাকলে একসঙ্গে পড়ানো সম্ভব নয়।
ক্লাসে কম উপস্থিতি: গত ২৭ নভেম্বর কলেজের সমাজকর্মের একটি শ্রেণিকক্ষের বারান্দা থেকে দেখা গেল বড়জোর ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন একজন শিক্ষক। বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সাতজন শিক্ষার্থী নিয়ে আরেকজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। অথচ এ দুই বিভাগেই স্নাতকে প্রতিবছর প্রায় আড়াই শ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন।
কলেজের দুজন শিক্ষক বললেন, স্নাতকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ভালোই উপস্থিত থাকে। কিন্তু এরপর থেকে উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে রোজগার ও চাকরির পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরীক্ষার জন্য ক্লাসে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতাও মানা সম্ভব হয় না। ক্লাস না হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষকেরও অবহেলা আছে বলে জানালেন প্রশাসনিক কাজে যুক্ত এক শিক্ষক।
কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষক বললেন, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বছরে প্রায় ছয় মাস পরীক্ষা থাকে। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পড়ে। থাকে বিভিন্ন ধরনের ছুটি। ফলে বছরে সাড়ে তিন মাসের বেশি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এই সময়ে সিলেবাসও শেষ হয় না। ঘাটতি মেটাতে স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীরাও প্রাইভেট পড়েন। গণিতের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঝোটন কুমার সাহা বললেন, তিনি দুটি কোর্স প্রাইভেটে পড়েছেন। কোর্স ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে কলেজের কিছু শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটে পড়ান। উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র হুমায়ুন কবীর বলল, সে সকাল-বিকেল মিলিয়ে কলেজের তিন শিক্ষকের কাছে পড়ে। প্রতি মাসে ৮০০ টাকা দিতে হয়।
বন্ধের পর উচ্চমাধ্যমিক চালু হলেও ফল প্রত্যাশিত না: ঐতিহ্যবাহী কলেজটি একসময় উচ্চমাধ্যমিকের জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর একটি ছিল। কিন্তু স্নাতক-স্নাতকোত্তরকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে এখানে উচ্চমাধ্যমিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নানা চড়াই-উতরাই শেষে ২০০৮ সালে আবার চালু হলেও এইচএসসিতে ফল প্রত্যাশিত হচ্ছে না। চলতি বছর এইচএসসিতে ৮৯২ জন পরীক্ষা দিলেও ১৭৮ জন পাস করতে পারেননি। বিজ্ঞান শাখার ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় খারাপ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ৩০১ জনই বিজ্ঞানের। বাকি চারজন ব্যবসায় শিক্ষার। মানবিকে একজনও জিপিএ-৫ পাননি।
কলেজের উপাধ্যক্ষ গাজী হাসান কামাল  বলেন, কিছু সমস্যার কারণে এইচএসসিতে ফল খারাপ হয়েছে এটা ঠিক। তবে এখন পৃথক তদারক কমিটি করে উচ্চমাধ্যমিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন আগামী বছর থেকে এর ইতিবাচক ফল পাবেন।
আবাসন ও যানবাহনের সংকট: মোট ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ শতাংশ ছাত্র ও ৪৪ শতাংশ ছাত্রী। বর্তমানে ছাত্রদের জন্য তিনটি ছাত্রাবাসে (বিভিন্ন নামে সাতটি ভবন) বড়জোর ৯০০ ছাত্র থাকতে পারে। আর ছাত্রীদের জন্য থাকা দুটি ছাত্রীনিবাসে ২৫০ আসন থাকলেও থাকেন প্রায় ৩০০ জন। আবাসন-সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কলেজের আশপাশের এলাকায় মেস করে থাকেন। ফলে খরচও বেশি। ইংরেজির ছাত্রী ফাহমিদা রহমান মেসে থাকেন। এ জন্য শুধু মেসের ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা।
ছাত্রাবাসগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ।

হিন্দু হোস্টেল নামে পরিচিত সুকান্ত ভট্টাচার্য ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই করুণ। প্রশাসনিক কাজে জড়িত কলেজের একজন শিক্ষক বললেন, একতলার এই হোস্টেলটি কয়েকবার পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও ছাত্ররা ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। তরুণ ছাত্রাবাস ভবন, কবি জসীমউদ্দীন ছাত্রাবাসও জরাজীর্ণ। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নেই।
কলেজে শিক্ষার্থীদের অনেকে ত্রিশাল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসে। কিন্তু কলেজের বাস মাত্র একটি। তা-ও ২০ বছর আগের। কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষক বললেন, আরও কয়েকটি বাস হলে ওই সব এলাকার শিক্ষার্থীরা সহজেই বাড়ি থেকে এসেই ক্লাস করতে পারত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে এগিয়ে গেলেও উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে মেয়েরা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় এখনও ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে আছে মেয়েরা। এক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ নারী শিক্ষার নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এই প্রবণতা রোধে রাষ্ট্রের প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলছেন নারী নেত্রীরা।
নারীদের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষার্থী।
তাদের এসব কথার প্রতিচ্ছবি যেন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্যের পরিসংখ্যানও। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তির হার ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ যা মোট শিক্ষার্থীর ৫১ শতাংশ আর মাধ্যমিকে ভর্তির হার ৫৩ শতাংশ। তবে কলেজ পর্যায়ে তা ৪৭ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে।
গণস্বাক্ষরতা অভিযান নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে সমতা অর্জন হয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে মেয়েদের হার নিম্নমুখী হতে থাকে। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখনো মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ৪০ শতাংশের নিচে।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানালেন, উচ্চ শিক্ষায় নারীদের সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এক্ষেত্রে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর পরামর্শ নারী নেত্রীদের।
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে নারী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ শিক্ষায় নারীদের সংখ্যা বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অবদান। এমনটাই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিশুদের স্কুলভীতি

schoolbagডা. জিল্লুর রহমান খান রতন: স্কুলে যাওয়ার সময় এলেই অনেক শিশুর মধ্যে তীব্র আপত্তি, অনীহা ও উদ্বেগ লক্ষ করা যায়। কিন্তু যখন স্কুলে না যাবার দৃশ্যমান কোনো কারণ যেমন- শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক দুর্ঘটনা প্রভৃতি খুঁজে পাওয়া যায় না তখন বিষয়টি অভিভাবক ও স্কুলশিক্ষকের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি শিশুদের একটি উদ্বেগজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা স্কুলভীতি নামে বেশি পরিচিত।

শিশু মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগত শতকরা ৫ ভাগ শিশুর এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ কিংবা অন্য কোনো পারিবারিক কারণে (প্রিয়জনের মৃত্যু) দীর্ঘদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকার পর স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ সমস্যা শুরু হতে পারে। শুরুতে স্কুলে যেতে তীব্র আপত্তি, প্রতিবাদ, কান্নাকাটি, হাত-পা ছুড়ে চিৎকার ও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় শুধুমাত্র শারীরিক লক্ষণসমূহ যেমন, পেটে, মাথায় ও শরীরের অন্য স্থানে ব্যথা, অস্থিরতা, বমিভাব ও ক্লান্তি ও অবসাদবোধ নিয়ে স্কুলভীতি প্রকাশ পেতে পারে।

অভিভাবকগণ অনেক সময় এসব কারণে শিশুকে স্কুলে যেতে দেন না বা স্কুলে যাওয়ার মাঝ পথ থেকে শিশুকে ফিরিয়ে আনেন যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

লিঙ্গ ও বয়সভেদে যেকোনো শিশুর স্কুলভীতি বা স্কুলে যেতে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ৭-১১ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাধীনভাবে একাকী চলাফেরা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সাথে মেলামশার ক্ষমতা থাকার কথা তা যদি না থাকে তখন এ সমস্যা দেখা যায় যা ‘সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ নামক শিশু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নামে পরিচিত। এ ছাড়া, স্কুলে যাওয়ার পথে ভীতিকর পরিবেশ, অতিরিক্তি পড়াশুনার চাপ, পরীক্ষা ভীতি, স্কুলে শিক্ষক বা সহপাঠী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল প্রভৃতি কারণেও শিশুদের স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি হয়। স্কুল পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশ, পরিবারে শৃঙ্খলার অভাব, মা-বাবার প্রতি শিশুর অতি নির্ভরশীলতা, শিশুর সাথে পরিবারের নেতিবাচক  সম্পর্ক, শিশু নির্যাতন ও মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শিশুর স্কুলভীতির সাথে নিবিঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।

যে সকল শিশুর স্কুলভীতি রয়েছে তাদের দুই-তৃতীয়াংশের উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অতি চঞ্চলতা, সামাজিক ভীতি ও মানিয়ে চলার সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু মানসিক সমস্যা থাকে। এ জন্য স্কুলভীতির কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকারের জন্য মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু-বিশেষজ্ঞ, মনোবিদসহ অন্যান্য সহায়ক শিশু-মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলভীতির সমস্যার সফল সমাধানে ‘স্কুলে ফিরে যাওয়ার নীতি’ গ্রহণ দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর ক্ষেত্রে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও স্কুল-শিক্ষকের ইতিবাচক ও সহযোগী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নীতিতে আগে থেকে সুবিধামতো দিন ঠিক করে শিশুকে কিছু পূর্বপ্রস্তুতির পর স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কুল চলাকালীন বা অন্য সময় স্কুলের আশপাশে যাওয়া ও পরে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ ইত্যাদি কৌশল বের করে।

পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়লে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনোভাবেই স্কুল বাদ দিয়ে বাসায় পড়াশুনা উৎসাহিত করা যাবে না।

অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক সমস্যার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। স্কুলভীতির কারণে শিশুর পড়াশুনার দক্ষতা কমে যাওয়া, প্রাপ্তবয়সে বেকারত্ব, মনোদৈহিক রোগ, আতঙ্ক, সামাজিক ভীতিসহ বিভিন্ন মনোসামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য স্কুলভীতির সমস্যাকে অবহেলা না করে সময়মতো শিশু-মানসিক স্বান্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ ও সহায়তা নিতে হবে।

ডা. জিল্লুর রহমান খান রতন
সহকারী অধ্যাপক
শিশু-কিশোর মানসিক রোগ বিভাগ,
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আমার কেন আর দুর্ভাবনা নেই

dr-md-zafar-iqbalড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঃআজকাল বাংলাদেশে প্রতিবছর খুব হইচই করে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ আয়োজন করা হয়। এই বছরের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের একটি অনুষ্ঠানে আমার আমন্ত্রণ ছিল, সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া এবং অনুষ্ঠান শেষে আবার ফিরে আসা যথেষ্ট ঝক্কির ব্যাপার, যাব কি যাব না সেটা নিয়ে একটু দোটানার মাঝে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত চলেই গিয়েছিলাম। গিয়ে অবশ্যি খুব ভালো লেগেছে, বিশাল একটি আয়োজন বাংলাদেশে এ রকম বড় আয়োজন আমার খুব বেশি চোখে পড়েনি।

তবে আমি আজকে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে লিখতে বসিনি। সেখানে যাওয়ার কারণে আমার যে একটি বিশেষ উদ্যোগ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে সেটি নিয়ে লিখতে বসেছি!

একটা নির্দিষ্ট সেশানে আমাকে কথা বলতে হয়েছে, দর্শকদের বেশির ভাগই তরুণ, কাজেই অনুষ্ঠান শেষে সেলফি তোলার আরেকটি সেশান শুরু হয়ে গেল। ‘সেলফি সেশন’ যখন শেষ হয়েছে তখন লক্ষ্য করলাম তরুণদের ভীড়ে একজন বড় মানুষ আমার সাথে কথা বলার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি যখন ছাড়া পেয়েছি ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব, তাদের একটা উদ্যোগ নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চান।

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে আমার উৎসাহ আছে, তাই যখন কেউ শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে চান তখন আমি সেটা খুব আগ্রহ নিয়ে শুনি। সচিব মহোদয় তার একজন সহকর্মীকে নিয়ে হল ঘরের একটা কোনায় বসে আমাকে বললেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তারা একটা ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ তৈরি করেছেন, তারা সেটা নিয়ে একটু কথা বলতে চান।

আমি একটু অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকালাম। মাত্র কয়েকদিন আগে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেকের সাথে এই দেশের শিক্ষাবিদদের একটা সভা হয়েছে। সেখানে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে কয়টি প্রস্তাব গুরুত্ব পেয়েছে তার একটি হচ্ছে– একটা বড় ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ বানানো যেখানে অসংখ্য সৃজনশীল প্রশ্ন জমা থাকবে। শিক্ষকদের একটা বড় অংশ যেহেতু নিজেরা সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না কিংবা তৈরি করতে চান না, তাই তাদের যখন দরকার হবে তারা সেই প্রশ্ন ব্যাংক থেকে প্রশ্ন নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই মুহূর্তে শিক্ষকেরা অনেকেই গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা নেন, কাজেই ছেলেমেয়েরা শুধু পাঠ্যবইটা মুখস্থ করে না, পাঠ্যবইয়ের সাথে আরও কয়েকটা গাইড বই মুখস্থ করে। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, এই বছর যে জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে সেখানেও গাইড বই থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়েছে। এই গাইড বইয়ের প্রকাশকেরা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন-ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে পারে–

“আপনার ছেলেমেয়েদের আমাদের গাইড বই মুখস্থ করান, কারণ এই দেশের পাবলিক পরীক্ষায় আমাদের প্রকাশিত গাইড বই থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়!”

যাই হোক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেই সভায় কীভাবে প্রশ্ন ব্যাংক বানানো যায় সেটা নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কেউ বলেনি যশোর শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে সেটা তৈরি করেছে। যদি সত্যি সত্যি এত বড় একটা কাজ হয়ে থাকত উপস্থিত যারা ছিলেন তাদের কেউ না কেউ সেটা নিশ্চয়ই উল্লেখ করতেন। কাজেই খুব সংগত কারণে আমি যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দিকে খুবই সন্দেহের চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনারা সত্যি সত্যি এটা তৈরি করেছেন নাকি এটা তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন?”

তারা বললেন, শুধু যে তৈরি করেছেন তা নয়, সেটা ব্যবহার করে তাদের এলাকার সব স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে! কাজেই এই এলাকায় গাইড বই এবং কোচিং সেন্টারের বারোটা বেজে যাচ্ছে। শুনে আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম। যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা দুইজন বললেন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটা স্টল দেওয়া হয়েছে, বিশ্বাস না করলে আমি নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসতে পারি!

আমি নিজের চোখে দেখার জন্যে সাথে সাথে তাদের সাথে রওনা দিলাম।

২.

যশোর শিক্ষা বোর্ডের স্টলে তারা আমাকে প্রথমে একটা ভিডিও দেখালেন, ভিডিওটা শর্ট ফিল্মের কায়দায় তৈরি করা।

পরীক্ষার জন্যে একটি মেয়ে পড়ছে। পাঠ্যবই না পড়ে মুখ কালো করে মোটা মোটা গাইড বই মুখস্থ করছে। শুধু তাই নয় স্কুল ছুটির পরে কোচিং সেন্টারে ভীড় করছে, সেখানে চালবাজ ধরনের একজন সবার হাতে মুখস্থ করার জন্যে শিট ধরিয়ে দিচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা মুখ কালো করে নিরানন্দ এই জিনিসগুলো মুখস্থ করছে।

আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে, যখন ভিডিওতে দেখানো হয়েছে– দরজায় নিচ দিয়ে পেপারওয়ালা একটা ‘প্রথম আলো’ ঢুকিয়ে দিয়েছে। কঠিন চেহারার একজন মা পত্রিকাটি হাতে নিয়ে সেটি পড়ার কোনো চেষ্টা না করে সোজা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে “পড়াশোনা পৃষ্ঠা” নামে যে গাইড বইয়ের পাতা ছাপা হয় সেটি কাঁচি দিয়ে কেটে তার মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর সেটা মুখস্থ করার জন্যে একটুখানি দাবড়ানি দিয়ে এল। হতভাগা মেয়েটি কোচিং সেন্টারের শিট, গাইড বই এবং ‘প্রথম আলো’র “পড়াশোনা পৃষ্ঠা” মুখ কালো করে মুখস্থ করতে লাগল।

যারা এখনো জানেন না তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যায়, আমাদের দেশের সব কয়টি বড় বড় পত্রিকা দেশ, জাতি, সমাজ, শিক্ষা এসব নিয়ে বড় বড় আলোচনা করেন, কিন্তু তারা সবাই নিয়মিতভাবে তাদের পত্রিকায় ‘গাইড বই’ ছাপায়। যদিও এই দেশে গাইড বই বেআইনি। গাইড বই এবং পাঠ্যবইয়ের মাঝে পার্থক্য কী যারা জানেন না তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যায়, পাঠ্যবইয়ে একটা বিষয় সম্পর্কে লেখা হয়। গাইড বইয়ে শুধু প্রশ্ন এবং তার উত্তর লেখা হয়।

ছেলেমেয়েরা গাইড বই থেকে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানে না, তারা শুধুমাত্র কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর মুখস্থ করতে শেখে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেহেতু পরীক্ষা-নির্ভর হয়ে গেছে তাই কোনো কিছু শেখার থেকে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে সবাই আগ্রহী। দেশের বড় বড় পত্রিকাগুলো অভিভাবকদের বোঝাতে পেরেছে যে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে তাদের পত্রিকায় ছাপানো গাইড বইটি ছেলেমেয়েদের মুখস্থ করানো দরকার। দেশে যখন কোনো অন্যায় অবিচার হয় তখন মাঝে মাঝেই দেখি হাই কোর্ট নিজ থেকে এই অন্যায় অবিচারগুলোতে হস্তক্ষেপ করে বিষয়গুলোর সুরাহা করে দেয়।

আমি স্বপ্ন দেখি, অসংখ্য ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার সর্বনাশ করা খবরের কাগজের এই গাইড বইগুলো হাইকোর্টের নির্দেশে কোনো একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। (স্বপ্ন যখন দেখছি তখন পুরোটাই দেখে ফেলি, আমি স্বপ্ন দেখি, এই দেশের ছেলেমেয়েদের আলাদা আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার অমানবিক এই নিয়ম বন্ধ করে হাইকোর্ট একদিন নির্দেশ দেবে সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে!)

যাই হোক যশোর শিক্ষাবোর্ডের সেই ভিডিওর বিষয়বস্তুতে ফিরে যাই। সেখানে দেখানো হয়েছে গাইড বইয়ের প্রকাশকেরা বড় বড় বান্ডিল করে স্কুলে স্কুলে যাচ্ছে এবং দুর্নীতিপরায়ণ হেডমাস্টাররা সেই গাইড বই তাদের কাছ থেকে নিচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। যে স্কুলগুলো ভালো সেখানে গাইড বইয়ের লোকজন ঢুকতেই পারছে না এবং স্কুলের দারোয়ানের হুংকার শুনে প্রাণ নিয়ে পালাতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ছে।

লেখাপড়ার এই ভূমিকাটি দেখিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভিডিওটিতে তার প্রশ্ন ব্যাংকের মূল বিষয়টি ফিরে গেছে যারা সৃজনশীল প্রশ্ন করার বিষয়টি জানেন তারা শিক্ষকদের ট্রেনিং দিচ্ছেন। শিক্ষকেরা তারপর সৃজনশীল প্রশ্ন করছেন এবং সেই প্রশ্নগুলো প্রশ্ন ব্যাংকে জমা হচ্ছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে নেট থেকে পরীক্ষার জন্যে এক সেট প্রশ্ন নামিয়ে সেটা ছাপিয়ে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে পরীক্ষার শেষে ছেলেমেয়েরা নিজেরা নিজেরা কথা বলছে। যারা শুধু নিজেরা নিজেরাই পাঠ্যবইটা পুরো পড়ে এসেছে তারা বলছে তাদের পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। যারা গাইড বই, কোচিং সেন্টার আর খবরের কাগজের “শিক্ষা পাতা” মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়েছে তারা হতাশভাবে মাথা নেড়ে বলছে তাদের পরীক্ষা একেবারেই ভালো হয়নি। কারণ, মুখস্থ করে আনা অসংখ্য প্রশ্ন এবং উত্তর থেকে একটি প্রশ্নও ‘কমন’ পড়েনি!

৩.

ভিডিওটি কাল্পনিক ভিডিও এবং অবশ্যই যশোর শিক্ষা বোর্ড এটি তৈরি করেছে তাদের নিজেদের উদ্যোগটির প্রচারণা করার জন্যে। কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে লেখাপড়ার একেবারে মূল সমস্যাগুলো তারা কিন্তু দেখাতে পেরেছেন। এটি শুধুমাত্র একটা প্রচারণামূলক ভিডিও হতে পারত যদি তারা এর পেছনের কাজগুলো করে না রাখতেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আমাকে জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রশ্নের ব্যাংক বানানোর জন্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল এবং সেই নির্দেশনা পেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করার উদ্যাগটি নিয়েছিল। প্রশ্ন করার জন্যে একটা চমৎকার পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, কর্মকর্তারা আমাকে সেটি দেখিয়েছেন এবং দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে অভিভূত করেছে সেটি হচ্ছে প্রশ্নের সংখ্যা তারা আমাকে জানিয়েছেন তাদের প্রশ্ন ব্যাংকে ইতোমধ্যে এক লাখের মতো প্রশ্ন জমা হয়ে গেছে!

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেহেতু সব শিক্ষা বোর্ডকেই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, কাজেই হয়তো অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডও একইভাবে প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করে ফেলেছে কিংবা তৈরি করতে যাচ্ছে। আমি যেহেতু শুধুমাত্র যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগটি দেখেছি তাই শুধু তাদের কথাটিই বলছি! অন্যদের কথা জানলে সেটাও সমান আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে বলতাম।

আমাদের দেশে যখন প্রথম সৃজনশীল প্রশ্ন চালু করা হয়েছিল তখন আমরা সবাই এটা নিয়ে খুবই আগ্রহী হয়েছিলাম। এটা বাংলাদেশের আবিষ্কার নয়, সারা পৃথিবীতেই এভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়– আমরা একটু দেরি করে শুরু করেছি। যখন এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি চালু করা হয় তখন আমরা অনুমান করেছিলাম প্রথম প্রথম এভাবে প্রশ্ন করতে শিক্ষকদের একটু অসুবিধা হবে, কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই ব্যাপারটা ধরে ফেলবে। শিক্ষকদের সেজন্য ট্রেনিং দেওয়া হবে এবং প্রথম প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি করে স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে। আমরা আবিষ্কার করলাম পরীক্ষার মান বাড়ানো থেকে পরীক্ষায় পাসের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে একটা ঝোঁক তৈরি হল এবং যেনতেন পরীক্ষা হলে কিংবা প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলেও সেটা নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যাথা হত না। এখানে ‘কারো’ বলতে আমি যে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বোঝাচ্ছি তা নয়, আমাদের দেশের বড় বড় শিক্ষাবিদদের কথাও বলছি।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমি কাউকে তেমন সোচ্চার হতে দেখিনি এবং আমি চেষ্টা করেও বড় বড় শিক্ষাবিদদের এটা নিয়ে একটা সেমিনারের আয়োজন করাতে পারিনি। তখন যা হওয়ার কথা তাই হতে লাগল, গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হল এবং সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির যেটুকু ভালো ফল নিয়ে আমার কথা ছিল ঠিক ততটুকু খারাপ ফল আনতে শুরু করল। দুর্ভাগা ছাত্রদের পুরো বইয়ের সাথে সাথে কুৎসিত গাইড বই মুখস্থ করা শুরু করতে হল।

অন্য সবার মতো আমিও বিষয়টা নিয়ে অনেক ভেবেছি এবং আমার মনে হয়েছে এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ আর কার্যকর সমাধান হচ্ছে একটা ‘প্রশ্ন ব্যাংক’। সেখানে একশ-দুশ প্রশ্ন থাকবে না, আক্ষরিক অর্থে লাখ লাখ প্রশ্ন থাকবে। শিক্ষকেরা তাদের প্রয়োজনে সেখান থেকে প্রশ্ন নামিয়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন, ছাত্রছাত্রীরা সেখান থেকে প্রশ্ন নামিয়ে নিজেদের যাচাই করতে পারবে। (যেহেতু একই সাথে প্রশ্ন আর তার উত্তর নামিয়ে সেটা মুখস্থ করার কোনো সুযোগ থাকবে না, তাই সেটা কখনও গাইড বই হয়ে যাবে না!)

ছাত্রছাত্রীরা যখন আবিষ্কার করবে তাদের পরীক্ষার প্রশ্ন আর কোনো গাইড বই থেকে আসছে না কিংবা কোনো কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্ট থেকে আসছে না, তখন রাতারাতি এই বাণিজ্যগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু এই উদ্যোগটি সহজ নয়, ব্যক্তিগতভাবে করাও সম্ভব নয়, এটি করা সম্ভব শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। তাই যখন আমি আবিষ্কার করেছি যশোর শিক্ষা বোর্ড– আমি যে বিষয়টি নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম– হুবহু সেই বিষয়টিই করে রেখেছে, তখন আমার আর আনন্দের সীমা ছিল না! (আমার ছাত্র আর শিক্ষকেরা মিলে এই ধরনের একটা উদ্যোগ বেশ আগেই নিয়েছিল, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদাহরণটি দেখে তাদের উৎসাহ শত গুণে বেড়ে গেছে।)

কাজেই আমি অনুমান করেছি যশোর শিক্ষা বোর্ডে উদাহরণটি দেখে এ রকম অনেকগুলো একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব শিক্ষা বোর্ড যদি ইতোমধ্যে এটি করে ফেলে না থাকে নিশ্চয়ই তারাও এর কাজ শুরু করবে। (এবং হ্যাকাররা অবশ্যই এটা হ্যাক করে ফেসবুকে দেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেটা অন্য ব্যাপার! প্রযুক্তির সমস্যা আমাকে কখনও দুর্ভাবনায় ফেলে না)

কাজেই বলা যেতে পারে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা সঠিকভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন করা– তার একটা চমৎকার সমাধান বের হয়ে গেছে।

সৃজনশীল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর এটিকে নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যার একটা সম্পর্কে ভাসা ভাসাভাবে জানেন তাদের সবচেয়ে প্রিয় প্রশ্ন হচ্ছে এ রকম: “আমরা সৃজনশীল পরীক্ষা নিচ্ছি কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের আমরা কী সৃজনশীলভাবে পড়াচ্ছি?”

এই প্রশ্ন শুনে আমি হাসব না কাদব বুঝতে পারি না! কারণ, প্রশ্নের বেলায় ‘সৃজনশীল’ শব্দটি একটি নাম ছাড়া আর কিছু নয়; এর প্রকৃত নাম ‘কাঠামোবদ্ধ’। শব্দটি একটু কটমটে বলে এই নামটি দেওয়া হয়েছিল।

যাই হোক যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন ব্যাংক, সেই প্রশ্ন ব্যাংকে প্রশ্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সেই প্রশ্ন ব্যবহার করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখে আমার সমস্ত দুর্ভাবনা একেবারে কেটে গিয়েছে। তারা একটি চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছেন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এখন সেই উদাহরণটি অন্য সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে।

সে জন্যে বলছিলাম লেখাপড়া নিয়ে এখন আমার আর কোনো দুর্ভাবনা নেই।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা ব্যবস্থার এখন বিপুল পরিবর্তন

আগে যেখানে পাস করলে দেখতে ছুটে যেতো গ্রামবাসী,আর এখন ফেল করলে দেখতে যায় গ্রামবাসী।

childএস কে দাসঃ  “শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড”।যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত,সে জাতি তত বেশী উন্নত। 
আর তাই শিক্ষা গ্রহনের জন্য আমাদের ছুটতে হয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর দ্বারে দ্বারে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এখন বিপুল পরিবর্তন।আগে যেখানে পাস করলে দেখতে ছুটে যেতো গ্রামবাসী,আর এখন পাস করাটা পান্থা ভাতের মত হয়ে গেছে।এখন ফেল করলে দেখতে যায় গ্রামবাসী।

মেধা আর পুঁথিগত বিদ্যা এক নয়।সফলতা পুঁথির মধ্যে লেখা থাকে না। তাই বলে পুঁথি পড়তে হবে না এমন টা ও নয়!

জানার জন্য,শিখার জন্য পড়তে হবে।এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন হবে তোমার রেজাল্ট? ও বললো টেনশনে আছি,এ প্লাস না পেলে মুখ দেখাবো কি করে?

আমি হতবাক হয়ে গেলাম।জিপিএ ফাইভ না পেলে তার প্রেসটিজ পামছার হয়ে যাবে। তার মানে দাড়ায় সে জানার জন্য নয়,পড়ছে জিপিএ ফাইভ এর জন্য।

আবার দেখলাম টেষ্টে পাস করে ও কাঁদছে শিক্ষার্থী।কারন হিসাবে আশানুরুপ ফল হয়নি! এখন প্রশ্ন শুধু মুখস্ত করে পরীক্ষা দিলে জিপিএ ফাইভ কেনো লেটার মার্কস ও পাওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানর্জন করা সম্ভব নয়।

আমাদের মানুষিকতা একটু ব্যতিক্রম।আমরা ভাবি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলেই ভাল ছাত্র/ছাত্রী হওয়া যায়।জীবনে বড় চাকরি পাওয়া যায়,কোটিপতি হওয়া যায়,মান সম্মান বৃদ্ধি পায়।এগুলো দাম্ভিকতা ছাড়া কিছু নয়।

“পৃথিবীতে সকলের মেধা শক্তি এক নয়।কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নয়।সবাই সব বিষয় বিজ্ঞ ও নয়।ধরুন একই ক্লাসে কেউ গনিতে ভাল,কেউ ইংরেজি,কেউ সাধারন জ্ঞান।আবার কেউ ভাল ক্রিকেট খেলায়,কেউ ফুটবল,কেউ আবার গনিত-ইংরেজির চেয়ে ব্যবহারিক বিদ্যা অনেক প্রখর”।

এখন প্রশ্ন হলো কজনই বা মেধার মূল্যায়ন বুঝে?

ছোটবেলা যখন বাড়ি থেকে জিজ্ঞেস করতো,বড় হয়ে কি হতে চাও? বলতাম ডাঃ, ইঞ্জেঃ। আসলেই কি সকলের ইহা হয়ে উঠা সম্ভব হয়? না, সন্তান কোন দিকটায় পারদর্শী আমরা এর খবর না নিয়ে জিপিএ ফাইভ আর বইয়ের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিতে ব্যস্থ থাকি।

যে ছেলেটা বইয়ের সহজতম অংক কষতে না জানলে ও এইচ-টি,এম,এল – সি,এস,এস এর কোড দিয়ে ওয়েভসাইট ডেভোলাপ করতে পারে, তবে কি আপনি তাকে অশিক্ষিত বলবেন?

যে ছেলেটা বইয়ের সহজ ইংলিশটা না জানলে ও ঠিকই ডিউজ বলটা দিয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে দেশকে সম্মান এনে দিতে পারে তাকে অশিক্ষিত বলবেন?

আমাদের চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান গুলো ও কাগজের সার্টিফিকেট দেখে মেধার মূল্যয়ন করে। যা কখনোই আমার কাছে বোধগম্য নয়। সার্টিফিকেটে মেধা কিংবা যোগ্যতা লেখা থাকে না। অনেক সময় সন্তানকে বেশী পড়ালেখার চাপ দিলে সে মানুষিক ভাবে হেনস্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন বইয়ে বোঝা আর বাবা মায়ের মুখ উজ্জল করতে গিয়ে সামাজিকতা থেকে ও দূরে সরে যাচ্ছে যুব সমাজ।

সরকার বইয়ের বোঝা কমিয়ে, সৃজনশীলতার চর্চা করার ব্যবস্থা করে দিলে ও কোচিং আর গাইড বইয়ের কবল থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছেন না কোমলমতী শিশুরা। বেশী শিখানোর জন্য অল্প বয়সে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বোঝা! সমাজের সাথে না মেশার ফলে এরা খুব সহজেই ব্রেন ওয়াসে বিশ্বস্ত হয়ে পরে বলে মনে হচ্ছে।গতিক মনভাব,মানুষের প্রতি ভালবাসা মমত্ববোধ ও কমে যাচ্ছে তরুন প্রজন্মের মাঝে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ থেকে উত্তোরনের একটা ই উপায়। তা হলো আপনার সন্তান কি হতে চায় সেদিকে নজর দিন। আপনার স্বপ্ন সত্যি করতে সন্তানকে মানুষিক বেকারগ্রস্থ করে গড়ে তুলবেন না।

“কিছুদিন আগে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। কিছু কোমলমতী শিশুকে দেখলাম বই নিয়ে ছুটছে তখন প্রায় ছয়টা বাজে।সেই শিশুকে দেখলাম বিকেল ৪ টার পরে বাড়ি ফিরছে”!

এটা কেমন শিক্ষার্জন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবু শহরের থেকে ভালো,ওদের তো নিঃশ্বাস নেয়ার সময় নেই। কয়টা শিশু শহর থেকে গ্রামে এসেছে,ধান ক্ষেতে ধান দেখে ওরা জিজ্ঞেস করে এগুলো কি? অতচ এই ধান থেকে যে চাল হয়, সেই চালের ভাত খেয়ে বেঁচে আছে তারা।

এখন আপনি ভাবুন এ সন্তানকে কি শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন।জিপিএ ফাইভ পাওয়া নাকি সুশিক্ষিত নাগরিক করা। বলি কি জোর করে যেমন ভালবাসা হয় না,তেমনি অন্যের প্রতিভাকে নিজের স্বার্থে জলাঞ্জলি দিবেন না। সন্তানকে তার ইচ্ছে মতই বড় হতে দিন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিভাবকদের ‘অস্থিরতায়’ মানসিক ‘অশান্তিতে’ শিশুরা

রফিকুল ইসলাম একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার স্ত্রী সায়মা হক একজন ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা। রফিক-সায়মা দম্পতির সাত বছরের মেয়েশিশু নাহিয়ান এখনও কথা বলে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে গিয়ে দেখেন, নাহিয়ানের শারীরিক কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য মানসিক চিকিৎসকের কাছে পাঠান। দীর্ঘ ছয় মাস নিয়মিত যাতায়াতের পর নাহিয়ান কথা বলে ঠিকই, কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে সে কথা বলে না সচরাচর। মানসিক চিকিৎসকের মতামত, বাবা-মায়ের প্রতিনিয়ত ঝগড়া আর অত্যাচারের কারণে নাহিয়ানের এ অবস্থা।

জাহেদুল হক ও নাসিমা বেগমের সংসার দশ বছরের। একমাত্র সন্তান আবিরের বয়স যখন তিন বছর, তখন একবার সংসার বিচ্ছিন্ন হলেও পুনরায় একত্রিত হন তারা। যদিও সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি আজও। প্রতিদিনের ঝগড়ার মধ্যে স্বচ্ছল এই পরিবারের সন্তান আবিরের জিদ বেড়ে গেছে। স্কুলে পাঠানো হলেও সেখানে সে পড়তে চায় না। শিক্ষকদের কথা শুনতে চায় না।স্কুল থেকে বারবার অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। আবির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে এখনও কাউন্সিলিং এ আছে।

দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ২০১৬ সালের তথ্যচিত্রে দেখা যায়, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ১৬ দশমিক শূন্য এক ভাগ লোক মানসিক রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশই মানসিক রোগে আক্রান্ত।

এছাড়া, এই বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩ দশমিক ৮ ভাগ মানসিক প্রতিবন্ধী,২ ভাগ শিশু মৃগীরোগে আক্রান্ত এবং শূন্য দশমিক ৮ ভাগ শিশু মাদকাসক্ত।

মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের শিশু বর্ধন ও পারিবারিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘দাম্পত্য কলহের কারণে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা হ্রাস পায়। তাদের মধ্যেও কলহ প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এমনকি ব্যক্তিত্ব বিকারের মতো মারাত্মক সমস্যাও চিহ্নিত হতে পারে।’

ব্যক্তিত্বের বিকারের মধ্যে কোন ধরনের সমস্যাগুলো দেখা দেয় প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তার আচরণের সমস্যা হয়। অন্যের ওপর সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তারা যখন বড় হয়ে নিজেদের পরিবারে প্রবেশ করে, সেটাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার মানে দাঁড়ালো, জীবনের শুরু থেকে শিশু অবস্থায় সে যেমন খারাপ থাকে, বড় হয়েও সেসব স্মৃতির কারণে অশান্তিতে থাকে।’

মানসিক রোগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আসিফ মনে করেন, পরিবারই যেহেতু অন্যতম ইন্সটিটিউশন, সেহেতু সেখানে শিশু একটি সুস্থির পরিবেশ না পেলে, তার বেড়ে ওঠায় সমস্যা তৈরি হবেই। অভিভাবকদের শিশু পরিচর্যা নিয়ে আমাদের এখানে তেমন কোনও প্রশিক্ষণ নেই। ফলে শিশুর সামনে কী করা যাবে বা যাবে না, এসব নিয়ে আমরা কথা বলি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে শিশুদের ইগনোর করার একটা প্রবণতা কাজ করে। আমাদের ছোট ছোট আচরণ যে তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এটাও আমরা মনে রাখি না। কিন্তু এই একেকটি ইমেজ তার মনে যে প্রভাব ফেলে, সেখান থেকে তার আর বের হওয়ার উপায় থাকে না। কোনও সন্তানের মধ্যে অস্বস্তিকর কিছু দেখা গেলে তাকে কাউন্সিলরের কাছে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি মেডিসিন দেওয়া যেমন দরকার, একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও চিকিৎসা এবং কাউন্সিলিং দরকার।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইংরেজির জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ ফেল!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষা স্তরে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীরা নামেন ভর্তি যুদ্ধে। কিন্তু এই ‘যুদ্ধে’ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ৯২ ভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করছেন। কেন এই ফল বিপর্যয়, কারণ কী? শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই ইংরেজিতে ফেল করে। সমস্যা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের। ইংরেজি অনুশীলনের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলাফলে দেখা দেখা গেছে, পাশ করেছেন মাত্র ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে।  বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে ফেল করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

শিক্ষাবার্তাকে তিনি  বলেন,‘বাণিজ্যিক অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান এবং ম্যানেজমেন্ট সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন আসে। ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যাতে প্রশ্ন থাকে ১০০টি। পাস করতে হলে ইংরেজিতে ২৪ নম্বরের মধ্যে অনন্ত ১০ এবং সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। সমস্যা হচ্ছে ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা ১০ নম্বরই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন’।

তিনি বলেন, ‘গ ইউনিটে এবার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৯০ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। অনেকেই ১২০ নম্বরের মধ্যে ৬০-৭০ পেয়েছে। অথচ ইংরেজিতে ১০ নম্বরও তুলতে পারেননি’।

ইংরেজিতে এত ফেল করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ইংরেজির মান এখনও উন্নত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই সমস্যাটি হচ্ছে’।

ঢাবির গ ইউনিটের প্রশ্নপত্রে ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন কম ছিল, এতে পরীক্ষার্থীরা বেশ হতাশ হয়েছেন। এই একটি প্রশ্ন কম থাকা কি ফেলের কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিন বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি প্রশ্ন কম ছিল। তবে সেখানে আমরা সবাইকে ওই একটি প্রশ্নের নম্বর দিয়ে দিয়েছি। কারও নম্বর কাটা হয়নি।’

‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল  বলেন, ‘খ ইউনিটে পাস করতে হলে বাংলায় ন্যুনতম ৮ এবং ইংরেজিতেও ৮ পেতে হয়। ১২০ নম্বরের মধ্যে সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। কিন্তু আমরা হিসাব করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি।’

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গেছে, একই রকম চিত্র। বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। সি ইউনিটে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জবির ভর্তি পরীক্ষাতেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন ইংরেজিতে।

পরীক্ষায় এত ফেলের কারণ কি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা পরিসংখ্যান করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি আরও ভালোভাবে পড়াতে হবে। কারিকুলাম যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত ইংরেজিতে আরও ভালো কারিকুলাম প্রয়োজন কিনা। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ওপর ভীতি কাজ করে, তারা ইংরেজি পড়তে চায় না।’

ভর্তি পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা ফেল করছে না তো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা হওয়া একদমই অসম্ভব। কারণ সফটওয়ার প্রোগ্রাম অনেক ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই ঠিক করা থাকে। ভর্তি পরীক্ষার পরে প্রশ্নের উত্তর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটেও দিয়ে দেওয়া হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা তার উত্তরটি মিলিয়ে নিতে পারে। তারপরও কারও যদি নম্বর নিয়ে সন্দেহ হয় তাহলে ডিন অফিসে গিয়ে খাতা পূর্নমূল্যায়নের আবেদন করলে আমরা তা পূর্নমূল্যায়ন করে দেই। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভবনা নেই।’

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক শিক্ষা সচিব অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খানও মনে করেন ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা অনেক দুর্বল। শিক্ষার মানেরও অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্কুল-কলেজে ঠিকমত ক্লাস হয় না, ইংরেজি ভালো করে পড়ানো হয়না। শিক্ষার্থীরা কি শিখবে? এসব দেখার কেউ নেই।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ভোগান্তিতে কোটি গ্রাহক

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছে এক কোটি নাগরিক। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, জমি রেজিস্ট্রি, পাসপোর্ট করাসহ নানা কাজে ভোগান্তি হচ্ছে তাদের। স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা বলে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই কাগুজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়াও বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে দেশে ১০ কোটি ভোটার হলেও ৯ কোটি ভোটারের হাতে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টকার্ড। সে ক্ষেত্রে বাকি নাগরিকদের কাগুজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে নাকি স্মার্ট— তাও পরিষ্কার করে বলছে না নির্বাচন কমিশন। এদিকে অনলাইন থেকে সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও অনলাইন কার্যক্রমের সেবা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য লগইন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। অনেক সময় বলা হয় অফিস টাইমে লগইন করতে, কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনলাইনেও মিলছে না সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র। এমনকি বর্তমানে যারা ভোটার হচ্ছেন ইসির পক্ষ থেকে তাদের অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনলাইনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক নাগরিক।

২০১৪ ও ২০১৫ সালের হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন ভোটারের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন কাজে পরিচয়পত্র বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা। এসব নতুন ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও ঢাকার ভোটারদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আর গ্রামগঞ্জের ভোটারদের স্মার্টকার্ড পাওয়ার জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অনেকে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে স্মার্টকার্ড হাতে পেতে পারেন। অনেকে আবার স্মার্টকার্ড পাওয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন।

কেননা চুক্তি অনুযায়ী ৯ কোটি ভোটারের হাতে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্টকার্ড দেবে ইসি। এ ক্ষেত্রে ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড পেলে, বাকি ১ কোটি ভোটারের ভাগ্যে কী আছে তা কেউ জানে না। যদিও ইসি বলছে সরকারি তহবিল থেকে তাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ তা অনুমোদন হবে, তাও বলতে পারছে না ইসি।

শফিকুল ইসলাম পড়েন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভোটার হয়েছেন ২০১৪ সালে। এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। নির্বাচন কমিশনের থানা অফিস থেকে বলা হয়েছে, নতুন ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। সেই আশায় আছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া অনেক সেবাও নিতে পারছেন না। বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একটি মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করছেন, বায়োমেট্রিকও করেছেন বারার নামে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কোনো ব্যাংক হিসাবও খুলতে পারছেন না এই শিক্ষার্থী। অন্যদিকে শহর-গ্রামগঞ্জের মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাবে মেয়ের বিয়ে থেকে শুরু করে জমি রেজিস্ট্রিসহ অনেক কাজ করতে পারছেন না।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে হালনাগাদে ৪৭ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এরপর সব মিলে ১ কোটি ভোটার নতুন হয়েছেন। তারা বলেন, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। ৪০০ দিনে মোট ৯ কোটি ভোটারের হাতে তুলে দেওয়া হবে উন্নতমানের এ কার্ড। কিন্ত বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছেন ১০ কোটি। বাকি ১ কোটি নাগরিকের হাতে কবে আসবে স্মার্টকার্ড? এ নিয়ে ভোটারদের মনে তৈরি হয়েছে সংশয়। ইসি কর্মকর্তারাও জটিলতায় পড়েছেন এ হিসাব নিয়ে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, ২০১৭ সালের মধ্যে দেশের সব ভোটারের হাতেই তুলে দেওয়া হবে স্মার্টকার্ড। স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিস নামে এক সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি।

ইসি সচিবালয় বাস্তবায়নাধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেনসিং এক্সেস টু সার্ভিসেস—আইডিইএ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালের হালনাগাদে যারা ভোটার হয়েছেন, সেসব নাগরিকও স্মার্টকার্ড পাছেন প্রথম পর্যায়ে। যদিও সংশোধিত চুক্তিতে যেই ৯ কোটি ভোটারের হিসাব ধরা হয়েছিল, সেখানে ঢাকার নতুন ভোটার সংখ্যা উল্লেখ ছিল না। তাহলে ঢাকার এই ভোটারদের জায়গায় বাদ পড়ছেন কারা— এমন প্রশ্নও রয়েছে ভোটারদের মনে। ইসি কর্মকর্তারা বলেন, বাকি ১ কোটি ভোটারের জন্য নতুন করে চুক্তি করবে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য প্রাথমিক কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্মার্টকার্ড পাওয়া থেকে একজন ভোটারও বাদ পড়বেন না এবং ২০১৭ সালের মধ্যেই সবাই তথা ১০ কোটি ভোটার স্মার্টকার্ড হাতে পাবেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হুজুগেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

এস কে দাস: গত মাসের মাঝামাঝিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টন করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এতে ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েজ কোয়েশ্চন) বা বহুনির্বাচনী অংশ থেকে ১০ নম্বর কমিয়ে সৃজনশীল অংশে তা যুক্ত করা হয়। সৃজনশীল অংশে একটি প্রশ্ন বাড়ানোর পাশাপাশি এ জন্য সময়ও বাড়ানো হয়। সৃজনশীল বিষয়ে আগে একটি প্রশ্নের উত্তর করার জন্য শিক্ষার্থীরা ২১.৬৬ মিনিট সময় পেত। এখন পাবে ২১.৪২ মিনিট। ফলে সময় কোনোভাবেই কমছে না। কিন্তু এর পরও নতুন নম্বর বণ্টনের পরপরই শিক্ষার্থীরা আগের পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ব্যস্ততম সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি আজকের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরো বিষয়টি না বুঝে হুজুগেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সৃজনশীলে প্রশ্ন বাড়ানোয় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে সৃজনশীল ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। সাধারণত শেষ প্রশ্নের উত্তরটা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই সময় অভাবে ঠিকমতো লিখতে পারে না। এখন আরো একটি প্রশ্ন বাড়ানো হয়েছে। সময় বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১০ মিনিট। ফলে আড়াই ঘণ্টা সময়ে সাতটি প্রশ্নের উত্তর করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে একমত নয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, নম্বর পুনর্বণ্টনের পাশাপাশি সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সৃজনশীল অংশে ছয়টি প্রশ্ন লেখার জন্য দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় পেত শিক্ষার্থীরা। আর ওএমআর শিট পূরণের জন্য সময় দেওয়া হতো ১০ মিনিট। এখন শিক্ষার্থীদের সাতটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য আড়াই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, একটি প্রশ্নের জন্য সময় বাড়ছে ২০ মিনিট। কারণ আগে পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রথম পাঁচ মিনিটে শিক্ষার্থীদের ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) শিট পূরণ করা সম্ভব হতো না। তারা মূল সময়ের মধ্যেও ওএমআর পূরণ করত। এ ছাড়া দুই পরীক্ষার মাঝে বিরতিও ছিল। মূলত দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পরীক্ষা হলেও এর মধ্যে ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ ছিল ওএমআর শিট পূরণের জন্য। সৃজনশীল অংশের জন্য মূল সময় পেত দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট। ২০১৭ সাল থেকে পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল ও এমসিকিউয়ের ওএমআর শিট দিয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের মূল সময়ে হাত দিতে হবে না। এতে তাদের ১০ মিনিট সময় বাঁচবে। ফলে একটি প্রশ্ন বাড়লেও সে জন্য কার্যত ২০ মিনিট সময় পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

নম্বর পুনর্বণ্টন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আগে সৃজনশীল অংশে দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট হিসেবে একটি প্রশ্ন লেখার জন্য শিক্ষার্থীরা গড়ে সময় পেত ২১.৬৬ মিনিট। কিন্তু এখন সাতটি প্রশ্ন হওয়ায় প্রতি প্রশ্নোত্তরে সময় পাবে ২১.৪২ মিনিট। আর পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে ওএমআর শিট দেওয়ায় ও বিরতি না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের আরো কিছুটা সময়ের সাশ্রয় হবে। ফলে সব মিলিয়ে সময় কোনোভাবেই কমছে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) প্রফেসর মো. মশিউজ্জামান বলেন, ‘সৃজনশীল অংশে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার স্ট্যান্ডার্ড সময় ২১.৩০ মিনিট। আমরা সেই হিসাবেই সাতটি প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় ধরেই আড়াই ঘণ্টা নির্ধারণ করেছি। এতে সময় কোনোভাবে কমছে না বরং কিছুটা বাড়ছে। আর এমসিকিউ অংশের ৩০ মিনিট শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেই সৃজনশীলের প্রশ্ন ও খাতা দিয়ে দেওয়া হবে। এতে কারো যদি আগেই এমসিকিউ শেষ হয়ে যায় সে সৃজনশীল শুরু করতে পারবে। আসলে পুরো ব্যাপারটি শিক্ষার্থীরা না বুঝেই আন্দোলন করছে। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটি কেউ চিন্তা করে না। তারা যাতে লাভবান হয় সেটি চিন্তা করেই নম্বর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।’

শিক্ষক ও বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা বেশি করে লেখে। শুধু খাতা ভরতে থাকে। বেশি করে অতিরিক্ত পাতা নেয়। এই শিক্ষার্থীরা মনে করে, বেশি করে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। সৃজনশীল এমনই একটি পদ্ধতি যেখানে বেশি লেখার সুযোগ নেই। যথাযথ ও সঠিক নিয়মে উত্তর করলেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য ২১ মিনিট যথেষ্ট সময়। যেহেতু সিলেবাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি তাই এই সময়ের মধ্যেই সুন্দরভাবে প্রশ্নের উত্তর করা সম্ভব।

ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইনছান আলী বলেন, ‘নতুন নম্বর বণ্টন আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কেউ কেউ বুঝলেও অনেকেই একটি প্রশ্ন বেশি দেখেই মনে করছে এত প্রশ্ন কিভাবে লিখব? তবে টেস্ট পরীক্ষায় নতুন নম্বর বণ্টন অনুযায়ী পরীক্ষা নিলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আর এই শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই মফস্বল বা গ্রামের। তবে আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে না। মূলত আন্দোলন করছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও বড় শহরের নামিদামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিবছর বেশির ভাগ জিপিএ ৫ পায় শিক্ষার্থীরা। নতুন নম্বর বণ্টনের ফলে জিপিএ ৫ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। আগে এমসিকিউ অংশে ৪০ নম্বরের মধ্যে ৪০-ই পেত শিক্ষার্থীরা। আর সৃজনশীলের ৬০ নম্বরের মধ্যে ৪০ পেলেই জিপিএ ৫ নিশ্চিত হতো শিক্ষার্থীদের। এখন জিপিএ ৫ পেতে এমসিকিউতে ৩০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩০ পেলেও সৃজনশীলের ৭০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর পেতে হবে। যা কিছুটা কষ্টকর। ফলে নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে আগের মতো বেশি সংখ্যক জিপিএ ৫ পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে। মূলত এই কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বাদ দিয়ে আন্দোলন করলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, এমসিকিউতে নম্বর কমানোয় প্রশ্ন ফাঁসও অনেকাংশে রোধ হবে। চলতি বছরের পরীক্ষায়ও দেখা যায়, শিক্ষকরা এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্ন পেয়ে এমসিকিউ অংশ সমাধান করে ফেলে। এরপর আগে থেকেই চুক্তি করা শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো জানিয়ে দেয়। আবার প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলের জন্য সব শিক্ষার্থীরই এমসিকিউ অংশ সমাধান করে দেওয়া হয়। ফলে জিপিএ ৫ পাওয়া সহজ হয়। কিন্তু এমসিকিউ অংশে নম্বর কমে যাওয়ায় পুরো নম্বর পেলেও জিপিএ ৫ পাওয়া সহজ হবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাবিদদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে শিক্ষাবিদরা পর্যায়ক্রমে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তখনই মূলত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমসিকিউ থেকে ১০ নম্বর কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এমসিকিউর জন্য শিক্ষার যে পরিবেশ, যে মেথড দরকার তা আমাদের নেই। আমাদের ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, ক্লাসরুম, শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে এমসিকিউ থেকে যে সুফল পাওয়ার কথা তা আমরা পাচ্ছি না। তাই আমরা এমসিকিউ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সেই হিসেবে ১০ নম্বর কমানো হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের কেউ কি মিসগাইড করছে কি না তা বোঝা যাচ্ছে না। নইলে তাদের আন্দোলনে যাওয়ার কথা নয়।’

আন্তশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউতে কমছে ১০ নম্বর। আর সেই ১০ নম্বর বাড়ছে সৃজনশীল অংশে। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক আছে এখন থেকে সেসব বিষয়ে ৫০ নম্বর থাকবে সৃজনশীলে, ২৫ নম্বর এমসিকিউতে ও ২৫ নম্বর থাকবে ব্যবহারিকে। আগে এমসিকিউতে ৩৫ ও সৃজনশীলে ছিল ৪০ নম্বর। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই সেসব বিষয়ে সৃজনশীলে থাকবে ৭০ নম্বর ও এমসিকিউতে থাকবে ৩০ নম্বর। আগে সৃজনশীলে ছিল ৬০ নম্বর ও এমসিকিউতে ছিল ৪০ নম্বর। তবে এসএসসিতে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারু ও কারুকলাসহ কয়েকটি বিষয় এবং এইচএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, চারু ও কারুকলাসহ কয়েকটি বিষয়ে নম্বর বণ্টন অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যবহারিক ছাড়া সৃজনশীল বিষয়ে ১১টি প্রশ্ন থাকবে, সাতটির উত্তর দিতে হবে। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক রয়েছে সেসব বিষয়ে আটটি প্রশ্ন থাকবে, পাঁচটির উত্তর করতে হবে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এমসিকিউতে নম্বর কমানোর এই ঘোষণা কিন্তু আগেই দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অবশ্যই সেটা জানার কথা। তবে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে সেটা না বুঝেই। একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলে একটি প্রশ্নের জন্য তার কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। আর নতুন নম্বর বণ্টন অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছেও ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে ও তাদের আয়ত্তের মধ্যে চলে আসবে।’

আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র জোবায়ের রাইয়ান গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বলে, ‘আমরা এত দিন আমাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছি। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কারণ আড়াই ঘণ্টায় সাতটি প্রশ্নের উত্তর কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আবারও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি পুরনো পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। মঙ্গলবারের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো জবাব না পেলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’ কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবসরেও ভোগান্তি শিক্ষকদের

ntrcডেস্ক রিপোর্ট : মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। ব্রতী হয়ে জ্ঞানের আলো জ্বালান তারা। তাদের আলোকিত শিষ্যরা হয় রাষ্ট্রনায়কও। যে মানুষগুলো জীবনের শক্তিসামর্থ্যরে সময়টা ব্যয় করেন অন্যের ঘরে প্রদীপ জ্বেলে, বার্ধক্যে এসে তাদেরই হতে হয় অন্যের কৃপার পাত্র। এমন করুণ পরিণতি বরণ করতে হয় অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের।

শিক্ষকতা থেকে অবসরগ্রহণের পর বার্ধক্যে যোগ হয় নানা রকম অসুস্থতা। কেউ পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে সুচিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন। কেউ চলে যান না ফেরার দেশে। যথাসময়ে পান না কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ। ফলে জীবনের শেষপ্রাপ্তির অর্থ ভোগ করার ভাগ্য হয় না অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর। অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ হাতে পেতে ৪ থেকে ৫ বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।

বেসরকারি একটি কলেজের শিক্ষক মো. ইউনুস বৃহস্পতিবার আসেন বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে। তিনি জানান, ২০১৩ সালে অবসরগ্রহণ করেছেন। রাজধানীর পলাশী মোড়ে বেনবেইস ভবনে এসেছেন তার অবসর সুবিধার অর্থপ্রাপ্তির খোঁজ নিতে। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ২০১৭ সালে এসে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিলে অশ্র“সজল চোখে ভেঙে পড়েন ৭০ বছরেরও বেশি বয়সী এই শিক্ষক। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। ঢাকায় রাত্রিযাপনেরও সুযোগ নেই। সন্ধ্যায় রওনা হবেন বাড়ির পথে। পারিবারিক অসচ্ছতার কথা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হাঁস-মুরগি পালন আর সামান্য কৃষি জমি চাষ করেন। শস্য বিক্রির অর্থে চালান তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের সংসার।

কক্সবাজার থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ এসেছেন কল্যাণ ট্রাস্টে তার টাকা কবে পাবেন জানতে। তিনি জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অবসরগ্রহণ করেছেন। আবেদন জমা দিয়েছেন একই বছরের মার্চ মাসে। ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে জেনেছেন কমপক্ষে চার বছর লাগবে কল্যাণ ফান্ডের টাকা পেতে। হতাশ হয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘যাদের পড়িয়েছি তারাই আজ অনেক বড়-বড় পদে চাকরি করছে। আমরা তাদের কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছি জীবনের শেষ প্রাপ্তির আশায়।’

শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার দাবি জানান হাবিবুল্লাহ।

এই শিক্ষকদের মতোই প্রতিদিন বেসরকারি শিক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যালয় শত-শত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী আসেন। কোনো ফল না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। দুটি কার্যালয়ে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে তার ৪-৫ শতাংশ আবেদনও নিষ্পত্তি করা হয় না প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান না থাকায়।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদি জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে অবসরোত্তর সুবিধার অর্থপ্রাপ্তির জন্য। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে বোর্ডের প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, প্রতিমাসে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া ৪ শতাংশ অর্থ থেকে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার জোগান হয়। অথচ মাসে প্রয়োজন প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিমাসে ঘাটতি থাকে ৩৬ কোটি টাকা। আগে জমা নেওয়া আবেদন আগে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। ২০১২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি মাসে যারা আবেদন করেছেন তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা গেছে। এর পরের মাসের আবেদনগুলো নিয়ে দাপ্তরিক কাজ চলছে।

অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদি জানান, বিলম্বিত প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষকদের অবসর সুবিধা পেতে সময় লাগে ৫ বছরের অধিক। তবে হজ গমনেচ্ছু এবং ক্যানসারসহ কিছু দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য মানবিক কারণে সিরিয়াল ব্রেক করে আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়।

বেসরকারি শিক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্য মো. শাহজাহান আলম সাজু জানান, প্রায় ৩০ হাজার আবেদন জমা আছে ট্রাস্টে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। প্রতিদিনই বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান না হওয়ায় প্রায় ৪ বছর লেগে যায় শিক্ষকদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে।

তিনি জানান, সর্বশেষ বাজেটে বেসরকারি শিক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ারেে ত্র ভোগান্তি কমাতে সরকার এ খাতে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধার জন্য ৫০০ কোটি টাকা সিডমানি ও ১০০ কোটি টাকা থোক হিসেবে। আর কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য থোক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া এই খাতে শিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া মাসিক টাকার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান এই ট্রাস্টের সদস্য সচিব। নতুন পেেদপর ফলে আবেদন জমাকারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার চেক দেওয়ার পথ সুগম হবে।

ট্রাস্ট এবং বোর্ডের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালে গঠন করা হয় ট্রাস্ট। ৬ মাস চালুর পর ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে এই ফান্ডের অর্থ কেটে নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ছিল স্থবির। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার ফের কার্যক্রম চালু করে। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও সুবিধা বোর্ডের জন্য বার্ষিক ৫ টাকা হারে শিক্ষার্থীদের যে চাঁদা আদায় হতো সেটাও বন্ধ করা হয় ২০০২ সালে। এত দিনের অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ থাকায় ট্রাস্টে এখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতনক্রম অনুযায়ী কল্যাণ ও অবসর সুবিধা প্রদান করা হলেও সেই হারে বাড়ানো হয়নি ফান্ডে জমা চাঁদার পরিমাণ। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর পর এখন নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তাদের কাছ থেকেও আদায় করা চাঁদার হার বাড়ানোর। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বার্ষিক কিছু অর্থ শিক্ষকদের অবসরোত্তর ফান্ডে জমা নেওয়া হবে। দৈনিক আমাদের সময়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসক হতে আবেদনের হিড়িক

dhaka medicalডেস্ক: সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের হিড়িক শুরু হয়েছে। গত বুধবার (৩১ আগস্ট) দুুপুর ১২টা থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০১৬ ও ২০১৭) ভর্তির আবেদনপত্র অনলাইনে গ্রহণ শুরু হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ডসংখ্যক ৫৩ হাজারের বেশি অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১৮টি করে আবেদন জমা পড়ে। প্রথম ঘণ্টায় ১৫ হাজার ও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ২২ হাজার আবেদনপত্র জমা হয়।

একসঙ্গে হাজারো ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করায় একপর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সার্ভার হ্যাং হয়ে যায়। পরবর্তীতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ রেখে মেরামতের পর সার্ভার খুলে দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) শনিবার আলাপকালে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বল্পতম সময়ে ৫৩ হাজার আবেদন জমা হওয়ার রেকর্ড স্বাস্থ্য অধিদফতরে আছে বলে জানা নেই। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অনলাইনে প্রবেশ করায় সার্ভার হ্যাং হয়ে যায়।

বিগত ছয় বছরেরও বেশি সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, একইদিন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও চলতি বছর মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বছর মোট ২৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার কেন্দ্রের সংখ্যা ৭টি কমিয়ে ১৬টি করা হয়। এসব কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আবেদন গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কেন্দ্রগুলোতে মোট ৯০ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সর্বোচ্চ ১০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। ১০ হাজারের কোটা পূরণ হলে অন্য মেডিকেল কলেজের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্র ও আবেদনপত্রের সংখ্যানুসারে স্যার সলিমুল্লাহ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ৭ হাজার করে, সিলেট এমএজি, বরিশাল শেরেবাংলা, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান, ফরিদপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে ৫ হাজার করে, পাবনা ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে দুই হাজার ও ডেন্টাল কলেজে ৬ হাজার আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।

কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। যে ৭টি কেন্দ্র বাদ দেয়া হয়েছে সেগুলোতে এমনিতেই স্বল্প সংখ্যক পরীক্ষার্থী হতো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসা শিক্ষা : বছরে ৯ মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজ স্থাপন

Dental-studentদেশে প্রতি বছর গড়ে  ৯টি করে সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১০০টি মেডিকেল (সরকারি ৩০, বেসরকারি ৬৪ ও আমর্ড ফোর্সেস ৬টি) ও ৩৩টি ডেন্টাল (৯টি সরকারি ও ২৪টি বেসরকারি) রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র বছর ছয়েক আগে ২০১০ সালে সারাদেশে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৮টি। এর মধ্যে ১৮টি সরকারি মেডিকেল ও একটি কলেজসহ মোট পাঁচটি ডেন্টাল ইউনিট এবং বেসরকারি ৪৪টি মেডিকেল কলেজ ও ১২টি ডেন্টাল কলেজ ছিল। গত ছয় বছরে মোট ৫৫টি নতুন সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হয়।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধির সংখ্যার সঙ্গে আসন সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১০ সালে সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ৮৯৪টি থাকলেও বর্তমানে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৫১১টিতে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞবলেন, চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের নামে নতুন নতুন সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হলেও অধিকাংশই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের যে নীতিমালা রয়েছে (প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল থাকা অত্যাবশ্যক) তা অনুসরণ করে স্থাপিত হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের দুরবস্থা ফুটে ওঠে।

গত ২৯ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজের নামে নিজস্ব জমি নিবন্ধন না করলে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ এবং পপুলার মেডিকেল কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রী, সচিব, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক নেতা ও ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নেপথ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি।

চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, ফার্মাকোলজি ও প্যাথলজিকে মৌলিক বিষয় বলা হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এমবিবিএস কোর্সের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, সঠিক পরিসংখ্যান বলা না গেলেও মৃত্যু, অবসর ও চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগজনিত কারণে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি মেডিকেল কলেজে মৌলিক বিষয়ের শিক্ষকের সংকট রয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষকের সংকট আরো করুণ।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছয় বছর পর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। শুধু তাই নয়, ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বর ও জিপিএ বৃদ্ধি করা হয়।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রর ডা. জেড এইচ বসুনিয়া বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেল কলেজে মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free