বিশেষ প্রতিবেদন

খেলার মাঠ রক্ষায় পুকুরপাড়ে শিশু শিক্ষার্থীদের অবস্থান, চুয়াডাঙ্গার নূরনগর-জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে পদস্থ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার নূরনগর-জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি গ্রাস করছে পাশের পুকুর। গতকাল রোববার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার আগে মাঠগ্রাসী পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে ভাঙন রোধে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোমলমতি শিক্ষাথীরা। পুকুরের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি কিছুদিন পর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের অদূরেই নূরনগর-জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিন একজর জমির ওপর ১৯৩৩ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টির অবকাঠামো। উন্নয়নের ছোঁয়ালাগে মূলত ১৯৮৫ সালে। সম্প্রতি নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৫২। তিনটি গ্রামের শিশু-কিশোরদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করে চলেছে। এ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ হিসেবে কাজে লাগাতে হচ্ছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন জাফরপুর-বেলগাছি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কটি সংস্কার করা যেমন দরকার, তেমনই দরকার বিদ্যালয়ের সীমানা পাঁচিল। পাঁচিল দেয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পূর্বপ্রান্তের বিশাল পুকুরের পাড় বাধা জরুরি হয়ে পড়েছে। পুকুরের ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি বিলিন হতে বসেছে। তাছাড়া ওই ঝুঁকিপূর্ণ পাড় মাড়িয়েই শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। অভিভাবকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরপাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকলেও তেমন কেউই এদিকে নজর দেননি। গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে ভাঙন রোধের দাবি জানিয়ে বলেছে, ভাঙনের স্থানে মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে। কবে যে কার ওতে পড়ে মরতে হবে কে জানে!
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি মহাবুল হোসেন বলেছেন, বিদ্যালয়টির সীমানা পাঁচিল না থাকার কারণে শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হয়, তেমনই পুকুরের ভাঙনের কারণে স্কুলের জমি হারিয়ে যাচ্ছে। পুকুর মলিকদের এদিকে তেমন নজর নেই। ফলে শিক্ষা বিভাগের এদিকে বিশেষ নজর দেয়া দরকার। অপরদিকে বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা নাসিম বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দৈন্যদশা

ডেস্ক: প্রতিষ্ঠার অর্ধশত বছর পরও কোনো কোনো বিদ্যালয়ের নেই নিজস্ব জমি ও স্থায়ী ভবন। খেলার মাঠ নেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে। কোথাও কোথাও পরিত্যক্ত শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। বৃষ্টি হলে ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় মেঝে। কোনো কোনোটি ঝুঁকিপূর্ণ, ধসে পড়তে পারে যেকোনো সময়। কয়েকটি বিদ্যালয়ে নেই বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। সাইনবোর্ড থাকলেও নেই বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব। শিক্ষার মান নি¤œমুখী বলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। স্বল্প আয়ের দিনমজুর শ্রেণির পরিবারের শিশুরাই প্রধানত শিক্ষার্থী। সরেজমিনে ঘুরে ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এমন বেহাল দশা দেখা যায়।

অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে আছে শিক্ষক সংকট। পাঠদানে শিক্ষকদের উদাসীনতা দেখার কেউ নেই। বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে ত্রিশটি বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে ময়লার ভাগাড়, কিংবা প্রধান ফটকের সামনে বসছে হাটবাজার। দখল হয়ে আছে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার একমাত্র পথটি। সরকারি জমি দখল করে পশু বিক্রির স্থায়ী হাট বসানোয় কাপ্তানবাজার এলাকার খোদাবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি এখন তালাবদ্ধ।

তথ্যমতে, রাজধানীতে আছে ২৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখের কাছাকাছি। বস্তির বাসিন্দা, রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, পোশাককর্মীর মতো নিতান্তই স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানদের শিক্ষাদানের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে বিদ্যালয়গুলো। তাই ‘গরিবের পাঠশালা’ নামে পরিচিত এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন নেই। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দাবি, ‘সমস্যা চিহ্নিত করে কোন বিদ্যালয়ে কী করতে হবে, এ অনুযায়ী, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর নাজিরা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। বিদ্যালয়ের সামনের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। বিদ্যালয়ের নেই নিজস্ব ভবন ও জমি। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জাহান আরা জানান, বিদ্যালয়টিতে ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী আছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগী মনি বলে, ‘ওর বাবা রিকশাচালক। নিয়মিত পাঠদান হয় না বলে বিদ্যালয়ে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলে।’ মাঠ থাকলে খেলতে বেশি ভালো লাগত বলে জানায় সে।

কোতোয়ালির জিন্দাবাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের নেই পাকা ভবন ও খেলার মাঠ। টিন শেডের আধাপাকা একটা বাড়ির ছোট ছোট তিনটি কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান চলে। বৃষ্টি হলে কক্ষ ভিজে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিল্পী খাতুন  জানান, ‘শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এ জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে এখন আছে মাত্র ৭২ জন। শিক্ষক আছেন পাঁচজন।’ পাকা ও স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে কয়েকবার আবেদন করা হলেও তাতে কাজ হয়নি বলে তিনি জানান।

সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি বেহাল। রোকনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি জরাজীর্ণ। এর পাশে দুই কক্ষবিশিষ্ট পিডিবির একটি নতুন ভবনে একই সঙ্গে পাঠদান ও দাফতরিক কাজ চলে। মাদারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বাজারসংলগ্ন বলে এর সামনে প্রায় সব সময় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। এ এলাকার আহম্মদবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একটি ডোবা। এর থেকে প্রচ- দুর্গন্ধ ছড়ায়। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও ভারি করে তোলে দুর্গন্ধ। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে যায় বলে জানায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমন খান।

অনুসন্ধান বলছে, ডেমরার সারুলিয়া, কামারগোপ, কোতোয়ালির মাহুতটুলী রেনেসাঁ, ছোট কাটরা, হযরত নগর ও চম্পাতলী, গোয়ালঘাট, লালচাঁন ও পাড়া ডগাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশও নাজুক।  ভবন পুরনো, খেলার মাঠ না থাকাসহ শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশের সংকট হওয়ায় অনেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না।’

আবার ভিন্ন চিত্রও দেখা যায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আমিনউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা ১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়টিতে পাঠদান শুরু হয় পরের বছর ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা। সব শ্রেণি মিলিয়ে আছে মাত্র ৩৫ জন। জুরাইন বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ তুলনামূলক অনেক উন্নত। তবে এ বিদ্যালয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা নেই বলে জানান শিক্ষক আসাদুজ্জামান। মিরপুরের সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সেনপাড়া পর্বতা। আড়াইতলার বর্গাকৃতির ভবনটির সামনে একটি খেলার মাঠও আছে। ১৯ জন প্রশিক্ষিত শিক্ষক আছেন। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও সন্তানকেও নিজের বিদ্যালয়ের বদলে পড়াচ্ছেন বেসরকারি অন্য বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেনে। এরকম ১০জন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘শুধু শিক্ষকের সংকট নয়, সরকারের জবাবদিহি ও সুষ্ঠু পরিচালনা নীতির অভাবে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান একেবারে নি¤œমুখী। এসব বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ঝামেলা পোহাতে হয়।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তাও রাজধানীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জীর্ণদশা ও এসব বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর মানসম্পন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তির ঝামেলার বিষয়টি স্বীকার করেন। মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকার প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেখানে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নবীনগর, ইপিজেড, ধামরাই, পূর্বাচল, হেমায়েতপুর, জোয়ারসাহারা, সাইনবোর্ড, চিটাগাংরোড, শাহজাদপুর ও ঝিলমিল এলাকাগুলোতে ১০টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। চলতি সময় থেকে জুন ২০১৯ মেয়াদে বিদ্যালয় ১০টি স্থাপন হবে ৬৭৪ কোটি টাকা খরচে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-১) সমীর কুমার বিশ্বাস জানান, ‘দশটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীর সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শেষ তিন মাসে প্রাথমিকে ৩০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ডেস্ক: গত ২০১৬ সালের শেষ তিন মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক শাস্তি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে সারা দেশে ৩০ জন শিক্ষ-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক শাস্তির ঘটনায় ২৮ জনকে, মানসিক ১ জনকে ও যৌন হয়রানির অভিযোগে একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, বদলি প্রভৃতি শাস্তি দেয়া হয়।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদানসংক্রান্ত এই সমন্বিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) সঞ্জয় কুমার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যগুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ভুক্ত মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো থেকে নেয়া হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা শাস্তি পেয়েছেন। পাঁচজন করে শাস্তি পেয়েছেন ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে লক্ষ্মীপুর ও সুনামগঞ্জে। লক্ষ্মীপুরে দুটি স্কুলের পাঁচজন এবং সুনামগঞ্জে তিন স্কুলের চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেয়া হয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

ঢাকা বিভাগের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ১০ নং ধন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস (সাময়িক বরখাস্ত), ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ভাটিলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলজার হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত), একই জেলার নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান (সাময়িক বরখাস্ত), ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার রৌহ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিউদ্দীন (১টি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত), টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার পোস্টকামুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল করিম (বদলি)।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তারা হলেন- চট্টগ্রামের পাহাড়তলি উপজেলার দক্ষিণ কাট্টলী প্রাণহরি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইশরাক আহমেদ (চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে বদলির জন্য প্রতিবেদন), একই উপজেলার সারাইপাড়া হাজী আব্দুল আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল মোস্তফা (প্রশাসনিক বদলির সুপারিশ), লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রেহানা আফরোজ (সতর্কতা) ও রাহেনা আক্তার (বিভাগীয় মামলা রুজু), লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পুতুল রানী সাহা (সতর্কতা), অর্চনা রানী সাহা (সতর্কতা), জয়শ্রী রানী মজুমদার (সতর্কতা), চাঁদপুরের সদর উপজেলার কে আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহজাদী সাবিহা আক্তার (১টি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত), হাজিগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিত্য লাল দেবনাথ (১টি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত), ফরিদগঞ্জ উপজেলার শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিউদ্দীন (তিরস্কার), রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার পুলিপারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্পদ কর (বিভাগীয় মামলা রুজুর জন্য প্রতিবেদন), বরকল উপজেলার বরকল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লক্ষ্মীনাথ চাকমা (বিভাগীয় মামলা রুজুর অনুমোদনের নথি প্রেরণ), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মুক্তা রানী কর (বিভাগীয় মামলা রুজু), একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক কনক চন্দ্র দাস (বিভাগীয় মামলা রুজু), সেনবাগ উপজেলার জয়নুল আবেদিন ফারুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলি উল্লাহ (১টি ইনক্রিমেন্ট ২ বছরের জন্য স্থগিত)।

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ধাউড়াভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল লতিফ (তদন্ত চলমান)।

সিলেট বিভাগের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন- সিলেট জেলার গোয়াইনঘা্ট উপজেলার উপরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমিনা বেগম (অন্য বিদ্যালয়ে বদলিসহ বিভাগীয় মামলা রুজু), সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম (সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা রুজু), কুমনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশিকুর রহমান (কারণ দর্শানো ও বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পৈন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আলী হোসেন (বিভাগীয় মামলা রুজু), জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দীন (বিভাগীয় মামলা রুজু)।

রংপুর, খুলনা ও রাজশাহীর ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তারা হলেন- রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার পারকুন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম (বদলি), উলিপুর উপজেলার মহিদেব (নব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা রুজু), খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার ফকিরহান উপজেলার জারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার (কৈফিয়ত তলব), রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার চটমোহর উপজেলার রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনুর রহমান (বদলি)।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির বিষয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যাইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) একটি বুকলেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি আমাদের দেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। কিন্তু আমাদের এটা বুঝতে হবে যে, ভয় দেখিয়ে নয় ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাদের সামনে নেতিবাচক শৃঙ্খলা নয়, ইতিবাচক শৃঙ্খলা দেখাতে হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে ২০১০ সালের ৯ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০০৮ সালের ২১ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের প্রতি সঠিক আচরণ বা ব্যবহারের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা একটি পরিপত্র।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একজন ভাইস-চ্যাঞ্জেলরের খোঁজে এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

ড. আহমেদ ইমতিয়াজ: ১. আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের জন্য জব স্যাটিসফ্যাকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকতা পৃথিবীর যে কোনো দেশেই অতিমর্যাদা ও সম্মানের। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকরা এমন বিছু কর্ম করছে (রাষ্ট্র মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় আনপ্রোডাকটিভ কর্ম করতে পরোক্ষভাবে বাধ্য করা হচ্ছে) যাতে কিনা অনেক সময়ই তাঁদের মর্যাদা ধুলোয় মিশে যায়। বিদেশে আমাদের অনেক শিক্ষককে অর্থের লোভে আত্মসম্মান ও লজ্জাবোধ ছুড়ে ফেলে নি¤œ শ্রেণির কাজ ও জীবিকা গ্রহণে কুরুচি দেখে অনেকবার স্তম্ভিত হয়েছি। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার রাবি প্রতিনিধি জনাব মর্তুজা নূর “পিএইচডি করতে গিয়ে ফিরছেন না শিক্ষকরা” শিরোনামে একটি খবর ছেপেছে (২২/২/২০১৭)। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৪ জন শিক্ষক বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। রাবি থেকে গৃহীত বেতন-ভাতা ১০% সুদসহ ফেরত দেবার কথা থাকলেও ১৬ জনের নিকট থেকে এখনও অর্থ ফেরৎ পাওয়া যায়নি। প্রফেসর অরুণ কুমার বসাক স্যারের বরাত দিয়ে মূলত মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না থাকায় ব্রেইন ড্রেইন এর বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যাঁরা বিদেশে ডিগ্রী করতে গিয়ে আর ফেরেননি তাঁদের নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ-এর ‘তাঁরা ফেরেন নাই’ লেখাটিও একই ধরনের ছিল যা আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে (প্রথম আলো, ৪/১০/২০১১)। জনাব আবুল মকসুদ এর ভাষায় “তাঁদের (শিক্ষকদের) কোনো রেস্তোরাঁয় কিচেনে বসে তরকারি কুটতে, পেঁয়াজের খোসা ছাড়াতে, রাস্তায় গাড়ি মুছতে, কোনো বদমেজাজি বুড়ির বাগানের ঘাস সাফ করতে, কোনো সাহেবের ঘোড়ার ঘাস কাটতে, সপ্তায় ৫ বাড়িতে ৫ দিন গিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করতে, কোনো নিঃসঙ্গ বুিড়র ৪/৫টি কুকুরকে সকালে-বিকেলে পায়খানা করিয়ে হাওয়া খাইয়ে আনতে, কোনো ডিপার্টমেন্ট স্টোরে লরি থেকে মাল নামিয়ে ট্রলিতে করে ঠেলতে অরুচি নেই”। এই যদি সম্মানিত শিক্ষকদের রুচি হয় তবে জাতীয় রুচি ও মর্যাদার ঝাণ্ডা উড়াবে কে? যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় গর্ববোধ করে, নিজেকে অ্যারিসটোক্র্যাট বা এলিট সোসাইটির সদস্য ফলায় অথচ গভীর রাতে অন্ধকারে হকার সেজে বাড়ি বাড়ি পত্রিকা দিতে, কুলি হয়ে ট্রাক লোড/আনলোড করতে, কোনো জিমে/স্টেডিয়ামে ক্লিনিংয়ের কাজ বা চেয়ার-টেবিল গোজগাছ করার মতো কাজ পেতে লবিং করে তাদের পারিবারিক বড়াই তথা রয়ালিটি একেবারেই বেমানান। উর্দিতে শতেরটি বোতাম থাকলে বুঝি উনি চৌকিদার। কিন্তু শিক্ষক চেনার উপায় কী? সকাল দুপুর সন্ধ্যা আর আলো আধারের কর্ম-আয়ে যে শি¶ক (সব শিক্ষক নয়) গিরগিটির মত রং বদলায় তাঁদের শ্রেণিচরিত্র বুঝবো কেমনে? অনেকেই বলতে পারেন কোনো কাজই ছোট না। আমিও তাদের সাথে একমত। একজন প্রফেসর বা প্রকৌশলী তার নিজের গাড়ি নিজে চালানোতে মোটেও দোষ নাই কিন্তু তাঁদের দ্বারা ট্যাক্সি চালানো এক ধরনের অপচয় (brain waste)। অপকর্মও। অবসরে নিজের বাগানের ঘাস নিজে পরিস্কার করে ফুলগাছে পানি দেওয়া গেলেও অন্যের বাগানে মালীর চাকরি করা যায় না। যে শিক্ষক/কর্মকর্তা বিদেশে ওসব কাজ করেন তারা কিন্তু নিজ দেশে গেলে তা গোপন করবেন। যে কর্মের কথা অন্যকে বলা যায় না তাই এক ধরনের অপকর্ম। এই লুকোচুরির মধ্যেই বিচ্যুতি ও অবিচারের গন্ধ। মানুষের কর্মকর্তা যদি সীমাহীন না হয়ে থাকে তাহলে আয়মূখ্য অতিরিক্ত কর্মযজ্ঞের ক্ষতিকর প্রভাব প্রধান দায়িত্ব-কর্তব্য শিক্ষা-গবেষণাকে কোনো না কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবেই। তাই শিক্ষক বা অন্যান্য দায়িত্বশীল পদে কর্মরত (দেশে বা বিদেশে) মানুষের আত্মসম্মান ও লজ্জাবোধ যথার্থভাবে জাগ্রত হবে সেটাই দেশবাসীর কাম্য।

২. মার্চ ২০, ২০১৭ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস-চ্যাঞ্জেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মু. মিজানউদ্দিন এর দায়িত্বকাল শেষ হবে। কেমন চালিয়েছেন প্রফেসর মিজানউদ্দিন তা নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হতে পারে। অন্যান্য ভিসিদের মতো কিছুটা সফলতা ও খানিকটা ব্যর্থতা নিয়েই শেষ করতে যাচ্ছেন তাঁর মেয়াদকাল। সফলতা-ব্যর্থতার সমালোচনা আবার সরকার দলীয়দের কাছে একরকম এবং অদলীয় আম জনতার স্তরে থাকা সাধারণ শিক্ষকের কাছে অন্যরকম। সুবিধাবাদী ও অসুবিধাবাদীদের কাছেও বিশ্লেষণটা ভিন্নতর। আর ভিন্ন পথের লোকদের তো ভিন্ন মত থাকবেই। সর্বপরি একাডেমিক বিষয়ে একটি জটিল কাজের জন্য শিক্ষকদের মধ্যে আম জনতার কাতারে থাকা সত্তে¡ও বর্তমান ভিসি মহদয়ের সাথে একবার সাক্ষাত পাওয়ার সুযোগ জুটেছিল। তাতে মানুষ হিসাবে উনাকে অতটা ভিনডিকটিভ মনে হয়নি যতটা কানকথায় রটেছে। বরং বিভাগীয় সভায় আমার বিষয়টিকে যতটা কমপ্লে· স্ট্রাকচার দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে অনেক সহজতর সমাধান তিনি দিয়েছিলেন। এই হিসাবে আমার কাছে তিনি কিছুটা অতিরিক্ত ধন্যবাদ ও সম্মান সবসময়ই পাবেন। যাইহোক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের যে বিধি সম্মত পদ্ধতি তা আমরা বহুদিন দেখিনি। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রক্রিয়াটি জীবন্ত জীবাশ্মের মতো কোনো মতে টিকে আছে। যারা নিয়মগুলো সৃষ্টি করেছেন তারাই ওগুলোকে অকেজো কাগজের মর্যাদা দিয়ে মিউজিয়ামে স্থান পাবার মতো নগন্য বিষয়ে পরিণত করে বিকল্প পদ্ধতিটি বিশেষ স্বার্থে চালু রেখেছেন। ওসব নিয়ে খুব বেশি কথা বললে অনেকে প্রত্বতত্ববিৎও ভাবতে পারেন। আসলে এখন সময়ই চলছে অনির্বাচনের। অনির্বাচিত ফটোকপির ভিসি-র শাসন ও সংস্কৃতিতে আমরা অনেকটা অভ্যস্ত। যেমন অভ্যস্ত তরতাজা ফ্রেশ গাছপাকা সিদুরে আমের পরিবর্তে প্রিজারভেটিভ মিশ্রিত ম্যাংগো জুসে! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রাবি-তে সামনে যে ভিসি মহোদয় আসবেন তিনিও টেকনোক্র্যাট ভঙ্গিমায় ফটোকপির বলেই হবেন। তবে স্বাধীনতার মাসে রাবি-তে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণের তথা অধিকারের স্বাধীনতা টিকে থাকবে নাকি গণতান্ত্রিক দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্রপতি (চ্যাঞ্জেলর) কর্তৃক বঙ্গভবনের ক্ষমতার স্বাধীনতা টিকে থাকবে সেটা দেখার জন্য আরো কয়েকদিন বেঁচে থাকার আকাংক্সখা রইল। অনির্বাচিত ভিসি স্বভাবতই শিক্ষকদের মতামত হরণ করে শিক্ষা-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের স্থান থেকে সরিয়ে দলবাজদের গারদ বানানোর কৌশল বৈই অন্যথা নয়। কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত কিছুদিন যাবৎ রাবি-র সকল গেইটে তালা লাগিয়ে বাস সার্ভিস বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বানানোর যে মহড়া দেখেছি এসব তারই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, অনির্বাচিত ভিসি মানেই এমন লোকের আবির্ভাব সরকার তথা দলের কথা শুনলেই যাদের মেরুদণ্ড পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রী কোণে সামনের দিকে বেঁকে যায়। নেতাদের দেখলেই যাদের লেজ নাড়ানো শুরু হয়ে যায়! ভিন্নমতের সহকর্মী ও সমর্থকদের দমিয়ে রাখার জন্যও প্রতিভাসম্পন্ন (!) ওইরকম দল/নেতাপ্রিয় নির্ভিক ব্যক্তির দরকার হয়। সঙ্গত কারণেই এমন বিশেষ উপায়ে খুঁজে পাওয়া ব্যক্তি মানেই অ-একাডেমিক, অগবেষক এমনকি প্রশাসনিক কাজে অদক্ষ বাঙ্গালির আবির্ভাব।

৩. সততা, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি গুণসমূহ দিনে দিনে অদামি অপদার্থ বিষয়ের দিকে বিবর্তন হচ্ছে। গুণবাচক অধিকাংশ শব্দসমূহের প্রায়োগিক অর্থ ক্রমশ বিলুপ্তির পর্যায়ে। ‘সত্যদা একজন ভালো মানুষ’ এর অর্থ তিনি একজন অকেজো অপদার্থ মানুষ! যদি তাই না হবে তবে সরকার ফ্যা·পত্রের মাধ্যমে যে ভিসি নিয়োগ দেয় কেনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল ও স্বার্থক শিক্ষক-গবেষকদের তালিকায় তাঁর নাম থাকে না। কেনো বর্বর সমাজের মতো বুদ্ধির জোরকে গলা ও গায়ের জোরের কাছে বারবার হার মানতে দেখতে হয়? কেনো মনন ও সৃষ্টিশীলতাকে দমিয়ে লবিংকে প্রিফার করা হয়? সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনীতি মুক্ত থাকার পরামর্শ দেয় অথচ ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্লাব মাতানো দুর্বল প্রোফাইলের স্বভাবে অশিক্ষক কর্মে অগবেষক শ্রেণির লবিংপ্রিয় আনএডমিনিসস্ট্রাটিভ প্রফেসরদের প্রাধান্য দেখা যায়। ফলে কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি অন্ধকারে গুমরে মরে। অফুরন্ত কালো টাকার মালিক, মানুষের সীমাহীন ক্ষতি করার সামর্থবান ব্যক্তি, অসীম প্রতাপশালী এবং ভোগবিলাসীরাই জনগণের কাছে সফল ও স্বার্থক হোমো সেপিয়ান হিসাবে পরিগণিত হওয়ার জন্য যা কিছু দরকার রাষ্ট্র যেন তাই করছে। এত কিছুর পরেও আমরা নিরাশ হবো না। নিভে যাব না। সরকার আমাদের অনেক আশারবাণী শুনাচ্ছে, বাস্তবায়নযোগ্য স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আমরা সরকারের প্রতি ভরসা রাখতে চাই। হোক অনির্বাচিত তবুও সরকার একজন সুযোগ্য শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দিবে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় কার্যকর্মের মধ্যে ইনটিগ্রেটি বজায় রেখে তা এক্সিকিউট করার মতো মেচুউরিটি আছে। নীতিবান ও ডেডিকেটিভ মানুষ হিসাবে শ্রদ্ধেয়, একাডেমিশিয়ান হিসাবে প্রাজ্ঞ, গবেষক হিসাবে বিখ্যাত, শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসক হিসাবে পরিক্ষিত। ভিসি আর সিইসি বিষয় দু’টি সম্পূর্ন ভিন্নতর। সিইসি-র ব্যাপারটা যতটা না শ্রদ্ধার তার চেয়ে বেশি বিশ্বাস ও আস্থার। কিন্তু একজন ভিসিকে হতে হয় প্রথমত সম্মান ও শ্রদ্ধার অতঃপর বিশ্বাস ও আস্থার। শিক্ষার্থীরা যখন দেখবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি একজন সৎ মানুষ, ভালো শিক্ষক, খ্যাতিমান গবেষক, বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের প্রতিনিধি এবং পাণ্ডিত্ব সম্পন্ন তখন অমন ব্যক্তি হওয়ার ¯^প্ন পুরণের জন্য তারা তাদের শিক্ষকের পদাংক অনুসরণ করবে বৈকি। পিএইচডি ডিগ্রী ছাড়া একজন শিক্ষক কীভাবে ভিসি হোন তা মাথায় আসে না। আমার জানা মতে চট্রোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ভিসি বর্তমানে ইউজিসিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এমন ব্যক্তির পিএইচডি ডিগ্রী নাই (তথ্যটি অসত্য হলে দুঃখিত)। রাষ্ট্রের যে টেরিটোরিতে উন্নত দেশের বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে পিএইচডি ও পোস্ট পিএইচডি করা প্রফেসরের প্রাচুর্য সেখানে পিএইচডি বিহীন ব্যক্তিকে তাদের কর্তা বানানোর প্রথাটি নিশ্চয়ই কোনো অপ্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনায় করা হয়ে থাকে। অবশ্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তাঁর নিজের সম্পর্কে পর পর যে উপভোগ্য ভাষণ শুনিয়ে চলেছেন তাতে যুবসমাজ লেখাপড়া করে সময় ও মেধা নষ্ট করবে কি-না তা গবেষণার নতুন প্রসংগ হতে পারে। যাইহোক, এভাবে ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ভিশন সফল হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার মিশন অপূর্ণই রয়ে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের বর্তমান চিত্র তারই জীবাশ্ম। হ্যাঁ বলতে পারেন সত্যেন বোসের তো পিএইচডি ছিল না। ডিগ্রীর প্রয়োজন যদি না ই থাকবে তবে ড. মু. শহীদুল্লাহ, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, ড. মু. কুদরাত-এ খুদা, আচার্য্য প্রফুল্ল রায় প্রমূখদের বিদেশি ডিগ্রী কি নিতান্তই শখ তামাশা ছিল? বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার জন্য বিশ্বব্যাপি পিএইচডি ডিগ্রীর যে আবশ্যকতা তা কি শুধুই অপচাহিদা? রাজনৈতিক বিবেচনায় এভাবে ভিসি নিয়োগ করা হয় বলেই উনাকে পাড়ার নেতার ইশারায় চলতে হয়, ভিসির সাথে সাক্ষাত করতে একজন প্রফেসরকে ২/৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হলেও ওয়ার্ড কমিশনাররা কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই বীরদর্পে আসা যাওয়া করে, শিকক্ষ নিয়োগে মেধা ও সৃজনশীলতার পরিবর্তে দলীয় প্রার্থীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। পুলিশ, বিজিবি বা আর্মিতে তাদের ঊর্ধ্বতনকে সম্বোধন করার অফিসিয়াল টার্ম/ভাষা আছে। বিসিএস কর্মকর্তারাও তাঁর সিনিয়রকে নির্দিষ্ট শব্দ প্রয়োগে এড্রেস করে অথচ সর্বোচ্চ শিক্ষিত ও পদাধিকারী একজন প্রফেসর/শিক্ষককে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লার্ক বা কর্মচারীরা ভাই/চাচা বলে সম্বোধন করে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, টিভি, মোবাইল কোম্পানি, ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল ও বাস মালিকরা রমরমা ব্যবসা নিয়ে তরতর করে এগিয়ে চলছে অথচ দেশ ও জনগণের সম্পদ গরীব মেধাবী ছাত্রদের আশ্রয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষমতাসীনদের দাপটে ধ্বংস প্রায়।

৪. বিদেশ বিভুঁইয়ে নিজেকে, নিজের দেশকে এমনকি আমাদের আচার-আচরণকে অন্যের সাথে তুলনা করে আমাদের হীনতা, দীনতা, নষ্টামি, ভ্রষ্টামি তথা সীমাহীন অবস্থায়-অধঃপতন ধরা পড়েছে। জীবন, রক্ত ও ইজ্জত হারিয়ে যে দেশ আমরা পেয়েছি তার পাসপোর্টটি প্রায়শই অসহনীয় বিড়ম্বনা ও গ্লানির কারণ হয়েছে। সভ্য সমাজে পদে পদে নিজেকে অসভ্য-বর্বর সমাজের উপাদান মনে হয়েছে। সেই অসহনীয় উপেক্ষা থেকে মনের গহীনে বারবার রং বদলানোর স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে। সেই স্বপ্নে স্বেচ্ছাচারিতা ছিলনা বরং স্বাধীনতা ছিল। প্রতিটি মানুষ/জীব তার নিরাপত্তার জন্য স্বাচ্ছন্দের পরিবেশে যেতে চায়। তাতে কোনো অন্যায়ও হয়তো হতো না। না ফেরার বিপক্ষে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা ছিলনা, আইনও নাই। বরং আছে শাসক শ্রেণির সীমাহীন অজ্ঞতা, অদূরদর্শিতা আর ব্যর্থতা। যে মানুষ বিদেশে অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে কাজ করতে পারে সে দেশে ফিরে অচল অকেজো হয়ে যায়। এটা চলার দোষ? নাকি চালকের দোষ? তবুও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর কাক্সিখত স্বপ্ন নিয়েই অনেক শিক্ষক বিদেশে উচ্চ বেতনের অফার এবং নিরাপদ জীবন যাপনের সুযোগ মাড়িয়ে স্বদেশে ফিরেছেন। কিন্তু সেই কাক্সিখত স্বপ্ন পুরনের জন্য হয়তো আরোও বহুকাল অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের।

লেখক:

ড. আহমেদ ইমতিয়াজ

সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, রা.বি.।

E-mail: imtiaz269@yahoo.com

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি নিয়োগ ইংরেজি ভাষায় বিসিএস কেন?

ডেস্ক : বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৮৭ সালের বাংলা প্রচলন আইনে বলা হয়েছে, বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম বাংলায় হতে হবে। বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করা হলে সেটা বেআইনি ও অকার্যকর গণ্য হবে।

যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন অমান্য করেন, তবে তিনি অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি কর্মকমিশন ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষা ইংরেজিতেও নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্ত কি প্রথমত সংবিধান এবং দ্বিতীয়ত বাংলা প্রচলন আইনের পরিপন্থী নয়? পৃথিবীর কোনো দেশে কি রাষ্ট্রভাষা ভিন্ন অন্য কোনো ভাষায় সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার উদাহরণ আছে? জাপান, জার্মানি, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে রাষ্ট্রভাষার জন্য কোনো আন্দোলন হয়নি, কিন্তু জাপানি, জার্মান বা রুশ ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম চালানোর কথা কি ভাবা যায় এসব দেশে?
সরকারি কর্মকমিশন স্বীকার করেছে যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই দ্বৈত বিসিএসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম কেন ইংরেজিই হতে হবে?’ অথবা ‘ব্যবসায়, বিজ্ঞান, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয় কেন ইংরেজিতেই পড়তে হবে?’এসব সংগত প্রশ্নে আমরা যাচ্ছি না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার ছাগল লেজে কাটবে, নাকি মাথায় কাটবে, সেটা তার ব্যাপার।কিন্তু আগামীকাল যদি মাদ্রাসাগুলো দাবি করে যে বিসিএস পরীক্ষা আরবি-উর্দু-ফারসিতেও নিতে হবে, তখন কমিশন কী উত্তর দেবে? ইংরেজি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা নয়।ঔপনিবেশিক কারণে বাংলাদেশে ইংরেজির যদি একটি বিশেষ স্থান সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে ধর্মীয় শিক্ষাগত কারণে আরবি-উর্দু-ফারসিরও একটি বিশেষ স্থান সৃষ্টি হয়েছে।হাতে গোনা কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি, যেখানে আরবি বহু হাজার মাদ্রাসার শিক্ষার মাধ্যম।

ভাষার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।বাংলা ভাষার অবমূল্যায়নের সমান্তরালে বাংলাভাষী মানুষেরও অবমূল্যায়ন হবে।ইংরেজি না জানার কারণে নীতিনির্ধারণে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা থাকবে না

বাংলাদেশ সরকারের চাকরি করতে চাইবে বাংলাদেশের একজন নাগরিক অথচ সে রাষ্ট্রভাষা বাংলা শুদ্ধভাবে লিখতে, পড়তে, বলতে জানবে না—এমন সৃষ্টিছাড়া আবদার শুধু শিবঠাকুরের আপন দেশেই সম্ভব।বাংলা জানে না বলে যে ব্যক্তি ইংরেজিতে বিসিএস পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে,

সে কীভাবে প্রশাসনে বাংলা ব্যবহার করবে? প্রশাসন যেহেতু তার বাংলা না জানা মেনে নিয়েই তাকে নিয়োগ দিচ্ছে, সেহেতু বাংলা ব্যবহারে তাকে বাধ্য করার নৈতিক অধিকার প্রশাসনের থাকবে না।এর ফলে প্রশাসনে বাংলা প্রচলনে ইতিমধ্যে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে,সেটুকুও অনতিবিলম্বে হারিয়ে যাবে।
ইংরেজি ভাষায় বিসিএস পরীক্ষাকে যুক্তিযুক্ত প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে, প্রশাসনে যথেষ্ট ইংরেজি জানা লোক নেই।একসময় ইংরেজি কম জানার অজুহাতে পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে এবংপ্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের আর নেওয়াই হবে না।কালক্রমে আমলাতন্ত্রে ‘ইংরেজি’ এবং ‘বাংলা’—এই দুটি গোষ্ঠী সৃষ্টি হবে এবং দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে রেষারেষি শুরু হবে।এই প্রতিযোগিতায় ‘বাংলা’ আমলারা পরাজিত হবেন।কারণ বাংলা সাবান, বাংলা বাড়ি, বাংলা মদ, বাংলা ভাই, বাংলা সন ইত্যাদি বাংলা যেকোনো কিছুকে বাঙালিরা সাধারণত কিছুটা অবজ্ঞার চোখেই দেখে থাকে।
বিসিএস পরীক্ষায় ইংরেজি পেপারে যারা বেশি নম্বর পাবে, তাদের নিয়োগ দিয়ে ইংরেজি জানা লোকের ঘাটতি মেটানো যেতে পারে।ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত আমলাদের জন্য কথ্য ও লেখ্য ইংরেজি ভাষা কোর্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।কিন্তু বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা কোনো সমস্যার সহজ সমাধানে আগ্রহী নন।পরবর্তী প্রজন্মকে ইংরেজি শেখানোর জন্য ইংলিশ মিডিয়ামের অনুমতি দিয়ে তাঁরা অতীতে একটি ভুল করেছিলেন। এবার চোস্ত ইংরেজি জানা আমলা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইংরেজিতে বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে তাঁরা আরও একটি ভুল করতে চলেছেন।
নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ইংরেজিতে বিসিএস চালু হলে বাংলা মিডিয়াম এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব ধাপে ধাপে কমে আসবে। অভিভাবকেরা সামর্থ্য থাকলে ছেলেমেয়েদের বাংলা মিডিয়াম স্কুলে আর ভর্তি করতে চাইবেন না।বাংলা না শিখে যদি চলে, তবে সন্তানদের বাংলা শেখানোর ঝামেলায় বা তারা কেন যেতে চাইবেন? একসময় দেখা যাবে, পারতপক্ষে বাংলায় আর কেউ বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছে না। সবাই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রশাসনের চৌকস আমলারা নিজেদের মধ্যে ইংরেজি এবং জনগণের সঙ্গে বাংরেজি বলবেন।ইংরেজি শব্দবহুল এবং ইংরেজি উচ্চারণে বলা বাংরেজি চেপে বসবে সমাজের সর্বত্র, কারণ সেই উপভাষাটিকে তখন বেশি ফ্যাশনেবল মনে হবে।আদালতে এবং শিক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হয়নি।ধীরে ধীরে প্রশাসন, ব্যবসায় এমনকি সংস্কৃতিতেও বাংলার ব্যবহার হ্রাস পাবে।বিচিত্র ব্যবহার না হওয়ার কারণে বাংলার প্রকাশশক্তি এতটাই হ্রাস পাবে যে একসময় বাঙালিরাই বিশ্বাস করবে না, বাংলা সর্বস্তরে ব্যবহারের উপযুক্ত কোনো ভাষা। আফ্রিকার অনেক দেশে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।রুয়ান্ডার হুতু ও তুতসিরা ভাবতেও পারে না যে ফরাসিকে বাদ দিয়ে তাদের নিজেদের মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা কিংবা আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করা সম্ভব।
ভাষার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।বাংলা ভাষার অবমূল্যায়নের সমান্তরালে বাংলাভাষী মানুষেরও অবমূল্যায়ন হবে। ইংরেজি না জানার কারণে নীতিনির্ধারণে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা থাকবে না।ইংরেজি না-জানা বাঙালিদের উত্তরপুরুষেরা একসময় ইংরেজি শিখে আবার ক্ষমতাসীন হবে ঠিকই, কিন্তু তত দিনে অনেকগুলো প্রজন্ম হারিয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে অনেকখানি সময়। অন্যান্য জাতি ইত্যবসরে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে এবং বাঙালিরা তখনো ভিন জাতির দেশে গিয়ে কামলা খেটে খেটে শরীর ও মেধার অপচয় করতে বাধ্য হবে।
উত্তরপুরুষদের অর্থনৈতিক সৌভাগ্যের আশায় ’৪৮-৫২ সালে ভাষাশহীদেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সালাম-রফিক-বরকতের যাবতীয় অর্জন অচিরেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে একদিন স্মৃতির বিষয়ে পরিণত হবে।ফরাসি প্রেসিডেন্ট জর্জ পম্পিদ্যু একবার বলেছিলেন: ‘ফরাসি ভাষার প্রশ্নে আমরা যদি ছাড় দিই তবে আমরা একেবারে ভেসে যাব।’রক্তের দামে কেনা রাষ্ট্রভাষার অধিকারের প্রশ্নে আমরা যদি সদা সতর্ক না থাকি, তবে আমাদেরও পায়ের তলার মাটি সরে যাবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
শিশির ভট্টাচার্য : অধ্যাপক, আধুনিক ভাষাশিক্ষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে বিতর্ক, সমাধান খুঁজতে হবে শিগগির

শেখ আদনান ফাহাদ,৬ মার্চ ১৭: বাংলাদেশে হেন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে বিতর্ক নেই। ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক আছে, নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে পর্যন্ত বিতর্ক আছে। নানা বিতর্ক নিয়েই বাংলাদেশ এগুচ্ছে। বিপদজনক বিষয় হল,নতুন প্রজন্ম জাতীয় নানা ইস্যুতে ঐকমত্যে আসতে পারছেনা। প্রজন্ম যদি বিরোধ নিয়ে বড় হয় তাহলে জাতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক হতে পারেনা। পুরনো হলেও নতুন করে সামনে এসেছে সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যু।

বিশেষ করে, দৃষ্টিকটু এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক চলছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা সম্প্রতি মানববন্ধন করেছে। কোটা পদ্ধতিতে যে কোনো সংস্কারের  বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই সন্তানরা।

২০১০ সালে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট পদ সংরক্ষণ করতে হবে। পরের বিসিএসের মাধ্যমে এই শূন্যপদ মুক্তিযোদ্ধা কোটার মাধ্যমেই পূরণ করতে হবে। কিন্তু পরের বিসিএসের মাধ্যমেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্যপদ পূরণ করা যায়নি। কিছু পদ দীর্ঘদিন শূন্য থেকেছে। তখন সরকারকে কোটা সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করার অনুরোধ করা হলে মন্ত্রিসভা শুধু একটি বিসিএসের জন্য কোটার শূন্যপদ সংরক্ষণ করার নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যান ড.সাদিকের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। মানববন্ধন করে তারা ড. সাদিকের অপসারণের দাবি জানায়। অভিযোগ করা হয়, পিএসসির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন!

বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলো মেধা তালিকায় থাকা সাধারণ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে মর্মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে পরিবর্তনের দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

মানববন্ধনে ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সুযোগ সংকুচিত করার কোনো সুযোগ নেই। ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা’ মেধাবী নন, নানা পর্যায়ে এমন ঢালাও পর্যবেক্ষণের বিষয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার পদ সংরক্ষণ করার নিয়ম ৩৬তম বিসিএসের জন্য শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ শিথিল করা না হলে অনেক পদ শূন্য থেকে যাবে। বিশেষ করে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক ক্যাডারের পদ শূন্য থাকবে।

২৮তম থেকে ৩১তম এবং ৩৩তম থেকে ৩৫তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারগুলোর ক্ষেত্রে শূন্যপদের চেয়ে কৃতকার্য প্রার্থী বেশি থাকায় ওই সব ক্যাডারের মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় কোনো পদ খালি থাকেনি। কিন্তু কারিগরি ও পেশানির্দিষ্ট ক্যাডারের বিশেষ করে চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, প্রকৌশল ও শিক্ষকতা ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় পদের চেয়ে কৃতকার্য প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল। ফলে এসব কোটার সব পদ পূরণ করা যায়নি।

৩৬তম বিসিএসে দুই হাজার ১৮০টি শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হবে। এর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফলাফল তৈরির কাজ চলছে। এ বিসিএসে চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল, মৎস্য, পশুপালন ও শিক্ষকতা ক্যাডারের পদ এক হাজার ৬৩৮টি। এসবের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৪৯১টি (৩০ শতাংশ), নারী কোটার ১৬৪টি (১০ শতাংশ) ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার ৮২টি (৫ শতাংশ) পদ রয়েছে। এই ৭৩৭টি পদের অধিকাংশই খালি থাকবে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা অধিদপ্তর কর্মকর্তার অভাবে পড়বে বলে সেই দৈনিকের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

পত্রিকাটি জানায়, সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে পিএসসি বলেছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী কম থাকায় মেধা কোটার সব পদও পূরণ করা সম্ভব হয় না। মুক্তিযোদ্ধা কোটার পদ সংরক্ষণের নিয়ম থাকায় কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপূরণকৃত পদ সাধারণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা যায় না।

পিএসসিতে কথা বলে জানা গেছে,  সমালোচনা ও প্রতিবাদ হওয়ায় সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে কোনো সংস্কারের পথে যাচ্ছেনা। আপাতত না হয় গেলনা। তাই বলে সামনের বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে সরকার এই পথে যাবেনা এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায়না।  অথবা সরকার পরিবর্তন হলে এই কোটা বাতিল করা হবে না, তাও বলা যায়না। এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভেতরেই পক্ষ-বিপক্ষ আছে। যার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ আছে সে পক্ষে বলে, যার বাবার নেই সে মনে করে, সনদের জোরে কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। ফলে এক ধরনের বিরোধ নিয়ে প্রজন্ম বড় হচ্ছে। এই বিরোধ মোটেও কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক যে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানির কারণ হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কেন বাড়তি সুবিধা পাবে? এমন প্রশ্ন অনেকে করেন। এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। ফলে তাদের সন্তানরা একটু বাড়তি সম্মান, সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। বলা হয় যে মুক্তিযুদ্ধের সময় অল্পসংখ্যক রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ছাড়া সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ এত সরল বিষয় না। যারা যুদ্ধ পরিকল্পনা করেছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ-অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন,  মুজিবনগর সরকারের হয়ে কোনো না কোনোভাবে কাজ করেছেন, সশস্ত্র যুদ্ধে যারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন বা গাজী হিসেবে বেঁচে আছেন, মুক্তিযোদ্ধা শিবিরগুলোতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, গায়ে গতরে কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন তারাই আসলে মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে যারা কাজ করেছেন, গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছেন, বেতার যোগাযোগ জারি রাখতে প্রকৌশল সেবা দিয়েছেন, যারা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা শিবিরগুলোতে রাজনৈতিক ইন্সট্রাক্টরের কাজ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে যারা রান্নাবান্নার কাজ করে খাবার যোগান দিয়েছেন সবাই মুক্তিযোদ্ধা। এখন প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কাজগুলো কতজন করেছেন?

মুক্তিযোদ্ধারা খুবই স্পেশাল। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রাষ্ট্রে বেশিই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ৯ মাস বাড়ি-ঘর থেকে দূরে থাকায় কত পরিবার ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। যারা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিবার তো পথে বসে গিয়েছিল। গাজী হয়ে যারা বেঁচে আছেন, তাদেরও অনেক পরিবারের দুর্দশা কাটতে অনেক সময় নিয়েছে। এখনো অনেক পরিবার দৈন্যদশায় আছে। এদেশে গরিব রাজাকার পাওয়া মুশকিল হবে। কিন্তু হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা মিলবে ভূরি ভূরি। ফলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা, বাড়তি সুবিধা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু এই সেনসিটিভ দিকটিরই ফায়দা নিয়েছে কিছু শিক্ষিত টাউট।  এদেশে সচিব পর্যন্ত, তাও আওয়ামী লীগের আমলে, ভুয়া সনদ বানিয়ে সুবিধা নিয়ে ধরা পড়েছেন। অনেককে দেখেছি, বাবা/চাচার জন্য সনদ ম্যানেজ করার জন্যই শুধু ক্ষমতাসীন নানা সংগঠনের সাথে জড়িত হয়েছেন। একসময় তো  সনদ বানানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাই নির্ধারণ করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট আছে এদেশে! মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে বিতর্কের এগুলোও কিছু কারণ। এখন তো বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দুই প্রকার- আসল এবং ভুয়া!

এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করে একটা স্থায়ী ডকুমেন্ট তৈরি করতে হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা গেলে কোটা বিতর্ক অবসানে অনেকখানি আগানো যাবে বলে আমার ধারণা। কিন্তু কবে হবে, আওয়ামী লীগ গত ৮ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায়। অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বিষয়ে তেমন কোনো অর্জন নেই। রাজাকার তালিকা তৈরির দাবিও অনেক দিনের। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।

তবে মুক্তিযোদ্ধা  বা রাজাকার তালিকার সাথে কোটা বাতিলের কী সম্পর্ক সেটা অবশ্য চট করে বোঝা সহজ নয়। একটু গভীরভাবে ভাবলে এ কথার মর্মার্থ অনুধাবন করা যাবে। কিন্তু কোটা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতেই হবে। কীভাবে করা হবে, রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের ভাবতে হবে। কিন্তু প্রজন্মকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে রাখা যাবেনা। এত অশ্রদ্ধা, অবিশ্বাস নিয়ে থাকা যায়না।

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বইমেলার একাল-সেকাল: ‘মানসম্পন্ন বই অল্পই ভালো’

অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরু ১৯৭২ সালে, মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে। ওই বছর বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে চট বিছিয়ে কয়েকটি বই নিয়ে বসেছিলেন তিনি। পরের বছরগুলোতে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন প্রকাশক। ১৯৮৪ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এই মেলা। তখন থেকেই বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়ৈ আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ওই সময় ৫০-৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিত এই আয়োজনে। সময়ের পরিক্রমায় সেই মেলা এখন পরিণত হয়েছে জাতীয় উৎসবে। বাংলা একাডেমি চত্বরে স্থান জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গত চার বছর ধরে মেলার পরিধি বাড়ানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অমর একুশে গ্রন্থমেলা সবার কাছে বইমেলা নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।
লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ও পাঠক। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ওই সময়ের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই সময়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও বেড়েছে। কিন্তু ৩৫-৪০ বছর আগে যে প্রত্যাশা নিয়ে বইমেলার শুরু, তা শতভাগ পূরণ হয়নি বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, আগে বইমেলার যে গাম্ভীর্য ছিল তা এখন কমে এসেছে।
লেখক-সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ  বলেন, ‘এখন প্রকাশকরা চায় সংখ্যা বাড়াতে, মান নয়। এখনকার বইমেলায় হুজুগের মতো করে বই বের হয়। আগে অল্প বই বের হলেও তা ছিল মানসম্পন্ন। এখন বইমেলায় অংশ নিতে নির্দিষ্টসংখ্যক বইও লাগে। কিন্তু অনেক যাচ্ছেতাই বইয়ের চেয়ে ভালো বই অল্পও ভালো।’

গত কয়েক বছরে বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে, অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিণত হয়েছে উৎসবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বইমেলায় থাকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারির মতো দিনগুলোতে এই ভিড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
গতকাল মঙ্গলবারও (২১ ফেব্রুয়ারি) বইমেলা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল মেলায়। অনেকেই এসেছিলেন সপরিবারে। অন্য দিনগুলোর তুলনায় এদিন মেলায় বিক্রিও ছিল বেশি। তবে লোকসমাগমের তুলনায় মানুষের হাতে হাতে বইয়ের সংখ্যা ছিল কমই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের দিনগুলোতে মেলায় প্রকৃত পাঠকদের উপস্থিতিই ছিল বেশি এবং তাদের সবার হাতেই থাকত বই।
মাওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমেদ মাহমুদুল হক  বলেন, ‘পাঠক বেড়েছে। অনেকগুণ বেড়েছে। জনসংখ্যাও তো বেড়েছে। বইয়ের বাজারও বেড়েছে। তবে সেটা সৃজনশীল বা মননশীল বইয়ের চেয়ে টেক্সটবুকই সেই বাজার বেশি দখলে রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে প্রকাশকও কম ছিল, বই প্রকাশ হতো কম। এখন প্রকাশকের সঙ্গে বইয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।’
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশনা ব্যবসায় সম্পৃক্ত মাহমুদুল হক বলেন, ‘অনেক অনেক চকচকে বই প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বই পাঠকদের প্রলোভিত করছে। কিন্তু এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এতে পাঠক ঠকছে, বইয়ের প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলছে। আর প্রকাশকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ পাঠকরা ওই প্রকাশকদের বই কিনতে দ্বিতীয়বার ভাবছেন। এটা সার্বিকবাবে প্রকাশনা শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।’

প্রায় একই কথা বলেন লেখক জাকির তালুকদারও। তিনি বলছিলেন, ‘বইমেলাতেই বই প্রকাশ করতে হবে— এমন একটি মানসিকতা গড়ে উঠেছে। প্রকাশকরাও বিনামূল্যে প্রচারের সুযোগে এই মানসিকতাতে সায় দিয়ে থাকেন। এতে প্রকাশক, প্রকাশিত বই ও পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে। তবে প্রকৃত পাঠকের সংখ্যা ততটা বাড়েনি।’
জাকির তালুকদার আরও বলেন, ‘বর্তমানের বইমেলায় প্রকাশকদের এক ধরনের অসাধু ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। এতে মানহীন বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এই মান ঠিক করবে কে? এটা ঠিক করার কথা প্রকাশকদের, কিন্তু তারা তা করছেন না। ফলে মেলার পরিসর বাড়লেও এতে আদৌ লাভ হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।’
গত কয়েক ব্ছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বইমেলায় প্রতিবছর তিন থেকে চার হাজার নতুন বই ছাপা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘এত বইয়ের মধ্যে তিন থেকে চারশ বই মানসম্মত। বাকিগুলো শুধু সংখ্যা বাড়াতে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কারও লাভ হচ্ছে না। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
প্রকাশক আহমেদ মাহমুদুল হক অবশ্য ততটা হতাশ নন। তিনি বলছিলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বইয়ের কাটতি বেড়েছে। আমি মনে করি, সৃজনশীল বা মননশীল বইয়ের বাজার আরও বাড়বে। এটা সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ এছাড়া, এখনকার মেলায় আন্তর্জাতিক ছাপ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিশুকে যেভাবে ভাষা শেখাবেন

জন্মের পর কোণ শিশুই কথা বলতে পারে না। কিন্তু প্রত্যেক শিশুই তার হাত-পা নাড়িয়ে হাসি-কান্নার মাধ্যমে তার সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানিয়ে দেয়। কিন্তু কয়েক মাস পর থেকেই তাদের ভাব প্রকাশের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

আর এই পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা শব্দের প্রতি সচেতন হতে। এ সময় শুরা কিছু উচ্চারণ করতে পারে না, কিন্তু সে তার বাবা-মার কণ্ঠস্বর শুনতে পায় ও সেটা বুঝতে চেষ্টা করে। তাই জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই শিশুর সঙ্গে কথা বলা শুরু করে দিন। এখন আপনার মনে হতে পারে, শিশুটি ছোট্ট, ও কী কিছু বঝবে নাকি।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত, “শিশুদের মস্তিষ্কে অন্যদের মুখে কথা শুনলেই সেই নতুন শব্দগুলো স্টোর হতে শুরু করে। এভাবেই এক সময়ে তাদের ভাষার পরিধি বেড়ে যায় আরা তারা কথা বলা শুরু করে দেয়। কারণ শিশুদের মস্তিষ্ক তখন অনেকটা ফাঁকা টেপের মতো হয়। তাদের সামনে যা ঘটনা ঘটতে থাকে তা সঙ্গে সঙ্গে রেকড হতে থাকে। তাই তো মস্তিষ্কে অন্য বাজে কিছু ভর করার আগে আপনি ফাঁকা জায়গাটা শব্দ দিয়ে ভরিয়ে তুলুন

তাহলে আর দেরি না করে আসুন জেনে নেয়া যাক শিশুদের ভাষা শেখাতে বাবা-মাকে কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিৎ-

১। শিশুর সঙ্গে কথা বলুন-

শিশুটি ছোট্ট কথা বুঝবে না, এটা ভেবে চুপ করে বসে থাকবেন না। সে কথা বুঝতে পারুক আর না পারুক, শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। শিশুর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গল্পের ছলে খেলার মাধ্যমে কথা বলুন। এতে সে দ্রুত কথা বলা শিখবে।

২। ভাষা শেখার দক্ষতা-

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমেই শিশুরা নতুন ভাষা শিখে ফেলে। এক্ষেত্রে শব্দ বা ব্যাকারণের কোনো ভূমিকা থাকে না বললেই চলে। তাই তো আমরা আমাদের মাতৃভাষার গ্রামার না জানা সত্ত্বেও ছোট বেলা থেকে বলতে পারি। শিশুদের সঙ্গে কথা বললেও এই একই ঘটনা ঘটে।

৩। ভাষা শেখার পদক্ষেপ-

ভাষা শেখার প্রথম পদক্ষেপ হল শোনা। নতুন কোনও কিছু শোনার পরেই কিন্তু আমরা তা উচ্চারণ করতে পারি। তাই তো বাবা-মারা শিশুর সামনে যত কথা বলবেন, তত তারা নতুন শব্দ শিখতে পারবে। তাই বাচ্চার সমানে কথা বলুন, দেখবেন অল্প দিনেই আপনার ছোট্ট শিশুর মুখে কেমন ভাষা ফুটে যাবে। তবে শিশুর সামনে প্রথমেই কঠিন শব্দ নয় ব্যবহার করবেন না।

৪। শিশুর কান্নায় সাড়া দিন-

শিশুর প্রথম যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে কান্না। কথা শেখার আগ পর্যন্ত কান্নার মাধ্যমেই ক্ষুধা, ভয়, অসুস্থতা প্রকাশ করে শিশুরা। তাই এসময় বিরক্ত না হয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন।

৫। একসঙ্গে অনেক ভাষা নয়-

শিশুদের সামনে মাতৃভাষায় বা সহজ ভাষায় কথা বলবেন। অর্থাৎ শুরুতে তাদের একটা ভাষাই শেখাবেন। যদি আপনি নানা ভাষা মিলিয়ে কথা বলেন, তাহলে ছোট থেকেই শিশুর ভাষা নষ্ট হয়ে যাবে। আর এমনটা আপনার সন্তানের সঙ্গে হোক, নিশ্চয় আপনি চান না।

৬। বাজে শব্দ উচ্চারণ করবেন না-

শিশুদের সামনে যা কথা বলা হয়, তাই তারা শিখে ফেলে। তাই ওদের সামনে কখনই বাজে শব্দ ব্যবহার করবেন না। আপনি নিশ্চয় চাইবেন না ছোট থেকেই আপনার সন্তান খারাপ কথাগুলো শিখুক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন লীলা নাগ

লীলা নাগ (জন্ম: অক্টোবর ২, ১৯০০ – মৃত্যু:জুন ১১ ১৯৭০) (বিবাহের পরে নাম হয় লীলা রায়) একজন বাঙালি সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন।

তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন। লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অবসর প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার পিতৃ-পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অমিত রায়কে।

লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অবসর প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার পিতৃ-পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। তাঁর ছাত্র জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন।

১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপাত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অমিত রায়কে। ১৯৭০ সালের ১১জুন ভারতে এই মহিয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

শিক্ষা

তাঁর ছাত্র জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

শিক্ষা বিস্তার

লীলা নাগ ঢাকা কলেজে পড়তেন। তার একক্লাস উপরের ছাত্র ছিলেন সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন। লীলা নাগ সম্পর্কে তিনি তার স্মৃতিকথা নামক প্রবন্ধ সংকলনে লেখেন, এঁর মত সমাজ-সেবিকা ও মর্যাদাময়ী নারী আর দেখি নাই। এঁর থিওরী হল, নারীদেরও উপার্জনশীলা হতে হবে, নইলে কখনো তারা পুরুষের কাছে মর্যাদা পাবে না। তাই তিনি মেয়েদের রুমাল, টেবলক্লথ প্রভৃতির উপর সুন্দর নক্সা এঁকে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই সব বিক্রি করে তিনি মেয়েদের একটা উপার্জনের পন্থা উন্মুক্ত করে দেন।”

বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির) প্রতিষ্ঠা করেন। বিয়ের পর তার নাম হয় শ্রীমতি লীলাবতী রায়। ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

রাজনীতি

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন।

মৃত্যু

১৯৭০ সালের ১১জুন ভারতে এই মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সাম্প্রদায়িক শিক্ষায় নত জানু দুই বাংলা

সরিতা আহমেদ : ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ ‘ গঠনের যে প্রয়াস জেহাদি-সন্ত্রাসীরা এদ্দিন মানুষ মেরে, বোমা ফাটিয়ে করে আসছিল, তার মান্যতায় মমতাজ বানু সরকার কয়েক কদম এগিয়ে।

মানুষকে পঙ্গু করে দিতে প্রধান মারটা দিতে হয় তার শিক্ষায়। কচি মগজে পাখি-পড়ার মতো করে ঢুকিয়ে দিতে হয় সন্ত্রাসের বিষাক্ত সীসা। জঙ্গিবাদ হলে তা খুলে-আম।

আর সরকারি স্তরে হলে … হ্যাঁ , অবশ্যই ধর্ম-নিরপেক্ষতার ‘সুগার কোটিং’ দিয়ে। নইলে পাবলিক খাবে না, উলটে সংবিধানের ঝাঁজে হাঁচতে হাঁচতে উল্টাবে।

কিছুদিন আগে এই ফেসবুকেই বাংলাদেশের বর্ণপরিচয়ের ভয়ংকর ইসলামাইজেশান, ছবিসহ দেখেছিলাম। হাসিনা-জামাত-মোল্লাতন্ত্রের এই ঘৃণ্য মুসলিমিফিকেশান এবার পশ্চিমবঙ্গেও ঘটতে চলেছে তৃণোমূলী শিক্ষাবিদদের হাত ধরে। ভাষা সন্ত্রাসের মাধ্যমে। তোষণের রাজনীতি যে কতোটা নীচ হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আজকের পশ্চিমবঙ্গ। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকও রাজনীতির বিষাক্ত ছোবল থেকে রেহাই পায়নি।

Rainbow= ‘রামধনু’ ব্যকরণ সম্মতভাবেই এতোদিন ছিল।

এখন নাকি তাতে বাবরিকাণ্ডের ‘বদবু’ উঠছে ; তাই ‘রাম’ কেটে ‘রং’ ভরা হলো (রংধনু)।

নাহ, বাবরি মসজিদ বা অযোধ্যার তাতে কী এল গেল জানি না, কিন্তু ১০০% সরলতায় বাচ্চাদের সরল মনে ইচ্ছাকৃত ঢুকিয়ে দেওয়া হলো মানবজগতের এক ঐতিহাসিক ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িকতার বীজ।

একটা বাচ্চা, এডাল্ট হওয়ার পরে নিজ বোধবুদ্ধি দিয়ে যে ইতিহাসটা জানতে পারতো, বোঝার চেষ্টা করতে পারতো ঠিক-বেঠিক ইত্যাদি, সেটা ক্লাস সিক্স-সেভেনেই সুচতুরভাবে জানিয়ে দেওয়া হলো। সৌজন্য — ধর্ম-নিরপেক্ষতা।

তারমানে ‘রাম’ একটা ধর্ম-অনিরপেক্ষ শব্দ ।

তাহলে রাম-নামের লোকগুলোকে কী অনিরপেক্ষ নামের দোষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাঁটাই করা হবে! নাকি এক্কেবারে ‘মরা’!! প্রশ্ন জাগে। সাথে বিতর্কও দানা বাঁধে।

Light Blue : Sky colour = আকাশি রং।খুব সহজ এই অর্থকে নতুন বইয়ে বলা হচ্ছে, ‘আসমানি রং’।

ইচ্ছাকৃত ফারসি, ঊর্দু শব্দ জোর করে বাংলার পরিবর্তে ঢোকানোর চেষ্টা খুব সাধুবাদ যোগ্য?

আজকের ছাত্র খুব সরল মনেই প্রশ্ন তুলবে… ”রামছাগল ‘কে তাহলে কি এবার থেকে ‘রংছাগল’ বলবো স্যার?” অকাট্য যুক্তি। খণ্ডাবে কোন শ্লা …
প্রশ্ন জাগে, আমরা, বা আমাদের মা-দিদিমা-বাপ-দাদারা যে মানে বই পড়ে জীবন কাটালাম .. তারা কি তাহলে ধর্ম-নিরপেক্ষ ছিলেন না? আমরা কি ভুল পড়েছি?

নাকি আমরা সব ধর্ম উন্মাদ?? প্রশ্নটা শিক্ষক-শিক্ষাবিদ সবার কাছে ।

এর সপক্ষে, শাক দিয়ে মাছ, থুড়ি, কাঁকড় ঢাকার মরিয়া চেষ্টায়, কিছু পণ্ডিত ইন্টারনেটের ‘বাংলা উইকি’ থেকে ‘মানে’ দেখাচ্ছে।
আজকের দিনে সামান্যতম নেট ঘাঁটা অভ্যাস হলে এটা জানা উচিৎ, ইন্টারনেটের বাংলা ওয়েবপেজের প্রধান কারবারিই হলো বাংলাদেশ (রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা)।

সেখানে ‘৮০ সালের আগে থেকে এই ভাষার নেট ভার্সান নিয়ে নানা গবেষণা চলছে। প্রচুর সফটওয়ার হয়েছে। ফলে তাদের জাতীয় সিলেবাস অনুযায়ী উচ্চারণ ও অর্থের কপি-পেস্ট দেওয়া উইকিপিডিয়াই এখনো নেটিজেন-দের কাছে যাচ্ছে।

একটা শরিয়া-অধ্যুষিত, মুসলিম প্রধান দেশের ওয়েবপোর্টালকেই ‘বাংলা ব্যকরণে’র একমাত্র আকর ভেবে নিলে বলতেই হয়, পবিত্র সরকারের মস্তিষ্কের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ তাঁর মতো শিক্ষাবিদদের কলম ও মগজ বিক্রিই শুধু হয়নি, বিকৃতও হয়েছে ষোল আনা।
রাজনীতি এখন স্কুলপাঠ্যে ঢুকে বর্ণ পরিচয় শিক্ষা- ভাষা শিক্ষার ইতিহাসে লজ্জাজনক অধ্যায় রচনা করছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ছাত্রদের বলবো “বইয়ে মানে ভুল দিয়েছে। তাড়াহুড়ায় প্রিন্টিং মিস্টেক হয়েছে সরকারের। ‘রংধনু আর আসমানি’ কেটে বাংলা অর্থ হিসাবে ‘রামধনু’ আর ‘আকাশি রং’ লিখৱ।”

হ্যাঁ, দায়িত্ব নিয়েই বলছি … ছাত্রদের মধ্যে নিজ মুখে সরকার-প্রণোদিত জঘন্য সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের মন্ত্র শিখিয়ে দিতে পারি না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের দীর্ঘদিন পরও পেনশন পাচ্ছেন না

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় ৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের দীর্ঘদিন পরও পেনশন পাচ্ছেন না। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন ৪ বছর ধরে অফিসে অফিসে ঘুরছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি টাকাও পাননি। পরিকল্পিতভাবে আর্থিক সংকটের অজুহাত তুলে এদের ঘোরানো হচ্ছে। প্রাপ্য অর্থ না মেলায় অধিকাংশেরই শেষজীবন কাটছে নিদারুণ কষ্টে । অনেকেই বয়সের ভারে রোগাক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু অর্থ সংকটে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অবসরের টাকা হাতে না পেয়ে শিক্ষকদের অনেকেই মারা গেছেন।
বেসরকারি শিক্ষকদের প্রতি মাসের বেতন থেকে ৬ শতাংশ হারে টাকা কেটে রাখা হয়। এর মধ্যে ৪ ভাগ যায় অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং বাকি ২ শতাংশ কল্যাণ ট্রাস্টে। দুই খাতের সঙ্গে সরকারি অর্থ যোগ করে শিক্ষকদের পেনশন দেয়ার কথা। সে অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ভাতার জন্য আবেদন করেন। ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৪৫ হাজার আবেদন করেছেন অবসর সুবিধা বোর্ডে। এখান থেকে অবসর ভাতা দেয়া হবে। ৩০ হাজার আবেদন করেছেন কল্যাণ ট্রাস্টে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী শুক্রবার বিকালে বলেন, মূলত আর্থিক সংকটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আবেদন নিষ্পত্তিতে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে দেড়শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবসর বোর্ডে দেয়া হয়েছে একশ’ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবসর বোর্ডের একটি এফডিআর ভেঙে আরও ৭১ কোটি টাকার সংস্থান করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতি মাসে সিডমানি থেকে প্রাপ্য মুনাফা বাবদ ৭২ কোটি টাকা এসেছে। আমরা এখন এই ২৪২ কোটি টাকা বণ্টন করব। এতে ১০-১২ হাজার শিক্ষকের দাবি মেটানো সম্ভব হতে পারে। আর কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, আমার এখানে প্রায় ৩০ হাজার আবেদনকারী আছেন। ইতিমধ্যে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিডমানির মুনাফা মিলিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দেড় থেকে পৌনে ২ হাজার শিক্ষকের দাবি মেটানো যাবে। উভয় কর্মকর্তা বলেন, ৭৫ হাজার শিক্ষকের পেনশন দাবি পূরণে কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে অবসর বোর্ডের জন্য লাগবে ১৮শ’ কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টে লাগবে অন্তত ৬শ’ কোটি টাকা। বড় আকারের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া শিক্ষকদের দুর্ভোগ লাঘব কিছুতেই সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। বছরের পর বছর একই চেয়ারে বসে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নানাভাবে অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করছেন। যে কারণে আবেদন করে তাদের বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে। অর্থ সংকট দেখিয়ে অনেককে প্রাপ্য দেয়া হয় না। অনেকে নির্দিষ্ট সময় পর অর্থ পাওয়ার উপযোগী হন। এমনকি তাদের পেনশনের চেকও হয়ে যায়। কিন্তু ঘুষ না দিলে চেক মেলে না। নাম প্রকাশ না করে অবসর বোর্ডের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণেই ৪৫ হাজার আবেদনের পাহাড় জমেছে। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কেটে রাখা ৪ শতাংশ অর্থ দিয়ে কিছু দাবি মেটাতে পারতেন। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ওই কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে সরকারি ব্যাংক থেকে এই টাকা তুলে বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করেন। বিষয়টি নিয়ে অডিট আপত্তি উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে গত মার্চে অবসর বোর্ডের এক সভায় এফডিআর ভেঙে শিক্ষকদের পেছনেই ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেই অর্থই এখন শিক্ষকদের দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আরও একটি অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এফডিআরে ৭১ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার ৮১০ টাকা রাখা হয়েছিল। ওই টাকার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। এখন এফডিআরের লাভের টাকা শিক্ষকদের না দিয়ে অফিস খরচের জন্য রাখা হবে। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেটে অবসর ও কল্যাণ তহবিলে দেড়শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এবং অবসর বোর্ডে ৫শ’ কোটি টাকা সিডমানি বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়। এর প্রায় ৬ মাস পর গত ডিসেম্বরে বিশেষ বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়। অবসর বোর্ডের একটি নথিতে দেখা যায়, ১শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ওই টাকা ব্যয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অবসর বোর্ডকে দেয়া হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। সেই টাকার সঙ্গে আরও দুই খাতের (এফডিআর এবং সিডমানির মুনাফা) প্রায় ১৪২ কোটি টাকা মিলিয়ে এখন অবসর সুবিধা দেয়া হবে। সব মিলিয়ে এ খাতে মোট অর্থ দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি টাকা।
অবসর সুবিধা বোর্ডের এক নথিতে দেখা গেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ৪১ হাজার ৪৮টি আবেদন জমা পড়েছে। চলতি বছরের শেষ দশ মাসে আরও প্রায় ৪ হাজার আদেন জমা পড়ে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন ১৮শ’ কোটি টাকা। কল্যাণ ভাতার জন্য জমা পড়েছে ৩০ হাজার আবেদন।
এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর অবসর ভাতার জন্য যে আবেদন জমা পড়ে তা নিষ্পত্তিতে গড়ে ৪৩৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। ১ বছরে বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় ২১৬ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকে ২২০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বোর্ডের সভায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ সাদী বলেন, শিক্ষকদের দুর্দশা নিরসনে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের বিকল্প নেই। যুগান্তর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার করতে যা দরকার

একটি বিদ্যালয়ে বছরের শুরূ হতে শেষ পর্যন্ত অনেক কাজ করতে হয়। বার্ষিক কাজের তালিকা হল সুষ্ঠ ব্যাবস্থাপনার একটি অংশ। বিদ্যালয়ে কাজের তালিকা স্মরন করিয়ে দেয় কোন কোন সময়ে কোন কোন কাজ করা দরকার। আমরাও বিদ্যালয়ে অনুরুপ কাজের তালিকা তৈরি করতে পারি। নিম্নে বার্ষিক কাজের তালিকার একটি নমুনা দেয়া হলঃ

মাস কাজের নমুনা
জানুয়ারী ছাত্র হাজিরা খাতায় নাম তোলা, বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠান, মা সমাবেশ, বিভিন্ন শ্রেনিতে ছাত্র ছত্রি ভর্তি, ৫ম শ্রনির ছাত্র ছাত্রির মাঝে সনদ পত্র বিতরন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে বই বিতরন, শিশু জরীপ সম্পন্ন করা/যাচাইকরন, শ্রেণীর রুটিন প্রণয়ন, মাসিক এস, এম, সি,সভা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই সেলাইকরন নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিশেষ কাজের দায়িত্ব বন্টন,বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত মনিটরিং বোর্ড হালফিল ইত্যাদি।
ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস উতযাপন, সকল শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীদের পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত পোশাক তৈরি ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।শিশু জরিপের তথ্যাবলী মনিটরিং বোর্ডে সন্নিবেশিতকরণ,বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রনয়ন ও প্রস্তুতকরন।মাসিক এস,এম,সি সভা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য মার্জিত পোশাক প্রস্তুতকরণ।ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি সম্পন্নকরন, কাবদল গঠন,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন।
মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন,শিশুদের নিয়ে বনভোজন, উপবৃত্তির চাহিদা ও উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ, ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রনয়ন,
বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট ম্যাপ তৈরি,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন, এস, এম, সি সভা।
এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন, ছাত্র-ছাত্রী হাজিরা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহন।বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রী বাছাইকরনণ ও বিশেষ পাঠেদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিতকরণ,সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন, এস,এম,সি-র সভা।
মে সিলেবাস অনুযায়ী ১ম সাময়িক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ষ্টাফ মিটিং প্রয়োজনে এস, এম,সি-র সহযোগিতা গ্রহন।প্রথম সাময়িক পরীক্ষা সম্পাদন ও ফলাফল প্রকাশ,ফলাফল প্রকাশের দিন এস, এম, সি-র সহযোগিতায় মা/অভিভাবক সমাবেশ এবং অভিভাবকের হাতে শিক্ষার্থীর প্রগ্রেস রিপোর্ট প্রদান।
জুন শিশুদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধিকরন,৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা প্রস্তুতকরণ।ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতির রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রণয়ন, উপবৃত্তির চাহিদা ও উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ,জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থাকরণ, এস, এম, সি-র সভা ও পি,টি, এ, সভা।
জুলাই ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা অফিসে প্রেরন, বৃক্ষরোপন অভিযান, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠের অগ্রগতি যাচাই ও প্রয়োজনীয়পরামর্শ প্রদান, এস, এম,সি-র সভা।
আগষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী ২য় সাময়িক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২য় সাময়িক পরীক্ষা সম্পাদন ও ফলাফল প্রকাশ, ফলাফল প্রকাশের দিন মা/ অভিভাবক সমাবেশ এবং অভিভাবকের হাতে শিক্ষার্থীর প্রগ্রে রিপোর্ট প্রদান, বৃক্ষ রোপন অভিযান, এস, এম, সি-র সভা।
সেপ্টেম্বর শিশুদের হাজিরা নিশ্চিত করণ ১০০% আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন, ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রণয়ন, উপবৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ। এস, এম, সি-র সভা, সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহন।
অক্টোবর দুর্গা ও লক্ষ্মীপুজার ছুটী ভোগ, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ প্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের নামের তালিকা ও পরীক্ষার ফিস উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিলকরন,বাষিক পরীক্ষার জন্য পাঠদানের অগ্রগতি যাচাইকরণ, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুতি যাচাই বাচাইকরন ও এস, এম,সি-র সভা।
নভেম্বর মা/ অভিভাবক সমাবেশ, সিলেবাস অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষার ১০০% পাঠদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট গ্রহণ।
ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষকদের মিটিং, বার্ষিক পরীক্ষা সস্মাদন ও ফলাফল প্রকাশ। ফলাফল প্রকাশের দিন এস, এম, সি-র সহযোগিতায় মা/ অভিভাবক সমাবেশ। ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন, পরবর্তী বছরের কাজের তালিকা প্রণয়ন। ত্রৈমাসিক পাঠোন্নতি রিপোর্ট, ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোট প্রণয়ন উপবৃত্তি চাহিদা ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পুরাতন পাঠ্যবই গ্রহন ও সংরক্ষণ।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

লিঙ্গ বৈষম্য শেখানোর পাঠ্যপুস্তক

১) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় যে সব পুরুষ এবং নারীরা আছেন তাদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা খুব নিম্নস্তরে। কিন্তু সেই নিম্নেরও যে একেবারে তলদেশ আছে, এবং তারা সেই তলদেশে পড়ে গেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেল এবছরের পাঠ্যপুস্তকে। প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে পাঠ ১২-তে ‘ও’ অক্ষর চেনানোর উপকরণ হিসেবে ‘ওড়না’কে ব্যবহার করা হয়েছে। মেয়ে শিশুর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে- ‘ওড়না চাই’। এর আগে ও আমরা বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ‘পৌরনীতি ও নৈতিক শিক্ষা’ দ্বিতীয় পত্রের পাঠ্য বই ও গাইড বই দশম অধ্যায়ে দেখেছি ইভ টিজিংয়ের কারণ হিসেবে মেয়েদের ‘অশালীন পোশাক ও বেপরোয়া চালচলন’ এর কথা লেখা হয়েছে। এবার মায়ের পেট থেকে পড়ার সাথে সাথেই আমাদের শিশুদের ওড়না চেনানো বাধ্যতামূলক করার ইজারাটা এনসিটিবিকে দেওয়া হয়েছে!
(২) এনসিটিবি’র তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইতে বহুবচন এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, ‘যা দিয়ে একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায় তাকে বহুবচন বলে। উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, ‘মায়েরা বড় দুর্বল’। বইটি লিখেছেন, অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন। একই বইতে তিনি মাতা-পিতার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়ক রচনায় লিখেছেন, ‘মা, দিনরাত সন্তানের সেবা যত্ন করেন, আর বাবা জোগান দেন সন্তান বেঁচে থাকার খাবার, ওষুধ ও কাপড়। বাবার পরিচয়ে সন্তান গড়ে উঠে’। আমার গ্রেড থ্রিতে পড়া শিশুপুত্র বইতেই এই লাইনটি কেটে দিয়ে লিখেছে, ‘মায়েরা বড় শক্তিশালী। কারণ মায়েরা অনেক টাকা রোজগার করতে পারে, আমাদের জন্ম দিতে পারে।’
দশ বছর বয়সী একটা শিশুর বোধটুকুও এই অধ্যক্ষের নেই যে, বাবা-মাকে আইডল বানিয়ে শিশুদের মনস্তত্ত্বে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষ ঢুকিয়ে দেন! তার কাছে মায়েরা দুর্বল! বাবার পরিচয়ে সন্তান গড়ে ওঠে! আর মা? মায়ের পরিচয় দরকার নেই সন্তানের জীবনে? বাবা হলেন রুটি-রুজির মালিক, সন্তানের পরিচয়দাতা! মানে সন্তানের জীবনের প্রথম ঈশ্বর পিতা? মায়ের কাজ সন্তানের সেবা যত্ন করা আর রান্না করা, মানে বুয়ার মহান ভার্সন?

(৩) চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ’ কবিতাটির নামকরণই বলে দিচ্ছে বীর কেবল পুরুষই হতে পারে, নারী নয়। কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে, একদল ডাকাতের সঙ্গে যুদ্ধ করে মাকে রক্ষা করছে তার শিশুপুত্র। মা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলছেন, ‘ভাগ্যিস খোকা ছিল!’ বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও কেবল নারী হওয়ার কারণেই তার রক্ষাকর্তার ভূমিকায় শিশুপুত্র? যে শিশুটি তৃতীয় শ্রেণিতে ‘মায়েরা দুর্বল’ শিখে বড় হচ্ছে সে-ই পরের ক্লাসে শিখছে মায়েরা এতো দুর্বল যে, নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য তাকে শিশুপুত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়!

(৪) ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তারা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ২৫ টি বইয়ের ৩ হাজার ৪৬৪ পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণার কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য পাঠকদের জানাতে চাই:

(ক) পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে সবাই পুরুষ। পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় মোট পুরুষ ছিলেন ১২৯ জন আর নারী ছিলেন ৩০ জন। চিত্রাঙ্কনে ও প্রচ্ছদে ৫ জন নারী আর পুরুষ ৫৬ জন।

(খ) বিভিন্ন টেক্সটের মাঝে ছবি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নারীর ছবি একেবারেই প্রাধান্য পায়নি। বিশেষ করে বিজ্ঞানের বইয়ে যেসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তার সব-ই ছেলেদের ছবি।

(গ) পাঠ্যপুস্তকে জ্ঞানের অথিউরিটি মানেই পুরুষকে দেখানো হয়েছে, এক্ষেত্রে নারীর উপস্থাপন একেবারেই দুর্বল।

(ঘ) পাঠ্যপুস্তকের গণিত বইয়ে বিভিন্ন অংকে সরাসরি বলা হয়েছে- ‘দুইজন পুরুষ যে কাজ ২ দিনে করতে পারে সেই কাজ ৩ জন নারী করে চারদিনে’ অর্থাৎ নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল।

(ঙ) মমতাময়ী চরিত্র মানেই সর্বদা নারীকে চিত্রায়িত করা হয়েছে আর পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একজন পুরুষ। বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় আর্থিক লেন-দেন বা ক্রেতার ছবি হিসেবে পুরুষকেই দেখানো হয়েছে।

(চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গদ্যগুলোতে নারীর অবদান উপেক্ষিত দেখানো হয়েছে।

(ছ) ছেলের কাজ মানেই কঠিন ও বাইরের কাজ আর মেয়ের কাজ মানেই কম পরিশ্রমের ও ঘরের কাজ দেখানো হয়েছে। পুরুষকে রোগী এবং নারীকে সেবিকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

(৫) তার মানে, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এমন করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র স্কুলের পাঠ্যপুস্তক পড়িয়েই আমাদের সন্তানদের সহিহ নারীবিদ্বেষী এবং জেন্ডার অসংবেদনশীল হিসেবে করে গড়ে তুলতে পারবো। ভালো, খুব ভালো। হুদাই দেশে ক্রমবর্ধমান নারী বৈষম্য, ধর্ষণ, ইভটিজিং, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, শিশুবিয়ে, যৌতুক ইত্যাদির কারণ খুঁজতে গিয়ে দিনের খাবার, রাতের ঘুম হারাম করে ফেলছি। আর অকারণেই পুরুষকূলের গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলছি। এই রকম উন্নত (?) মানের একটি শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে যে পুত্রশিশু বা মেয়েশিশুটি শিক্ষা অর্জন করবে, সে বড় হয়ে নিপীড়ক পুরুষ হবে, পুরুষতন্ত্রের সেবাদাসী নারী হবে এটি তো থিওরি অব রিলেটিভিটি’র মতোই সরল। অতএব, পুরুষতন্ত্রের জয় হোক। স্কুলগুলো সব মাদ্রাসা হোক। ঘরে ঘরে লিঙ্গ সমতার জন্য চেঁচামেচি বন্ধ করে বরং আমরা চলুন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই যেন তারা সহিহ পুরুষ এবং নারী হিসেবে তৈরি হতে পারে। কী দরকার সমাজে অহেতুক টেনশন তৈরি করার, তাই না?

এই পাঠ্যপুস্তকগুলো যারা লিখছেন তাদের মস্তিষ্কের উর্বরতা বা ঘনত্ব নিয়ে আমার কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়েছি এটা ভেবে যে, দেশের এতজন শিক্ষাবিদ যারা পাঠ্যপুস্তক রচনা থেকে পাঠ্যসূচি অনুমোদন দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে কাজ করেন, তারা সবাই একসাথে এত অসংবেদনশীল হলেন কি করে? তাদের মধ্যে এমন কি কেউ নেই, যারা মা’কে রোজগার করতে দেখেছেন? আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, নারীমন্ত্রী, সাংসদ, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে, ব্যাংকে, পুলিশে, সেনাবাহিনীতে, এমন কী গার্মেন্ট সেক্টরে কাজ করা মায়েদের কথা ভুলে যান এমন বই অনুমোদন দেওয়ার আগে? নিদেনপক্ষে সেলাই করে হলেও, হাঁস মুরগির ডিম বা মাচার লাউটা বিক্রি করে যে মায়েরা সংসারে অর্থ সরবরাহ করেন এমন লক্ষ লক্ষ মায়েদের উপেক্ষা করার সাহস তারা পান কি করে?

আমাদের নারী রাজনীতিবিদগণের কাছে একটা অনুরোধ করি। ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ কী জিনিস, কোন প্রক্রিয়ায় আসে তা আগে নিজেরা বুঝুন। ক্ষমতায়নের শিক্ষা, উদ্যম আর মানসিকতা মানুষের মগজেই তৈরি হয়। তাই নারীর প্রতি সংবেদনশীলতাটা আর সম্মানবোধ শিশুদের মগজেই দিন। পুরুষতন্ত্রের রাজনীতিটা আগে বোঝার চেষ্টা করুন, রাজনীতিটা ওখানটাতেই করুন। পুরুষের আনুকূল্যে ক’টা আসন আর পুরুষের নিয়ন্ত্রণে রাজনীতি করে আপনারা হয়তো মনে করছেন পুরুষ নারীর জন্য রাস্তা ছেড়ে দেবে। কিন্তু পুরুষ যে এক ইঞ্চি মাটি ও নারীর জন্য ছাড়ে না তা এইরকম বিশ্রী একটা শিক্ষাবোর্ড আর ‘গড়াল মার্কা’ পাঠ্যপুস্তকের দিকে তাকালে ও বোঝেন না? এতো অসংবেদনশীল লোকজন পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায় থাকে কিভাবে? স্কুলের বইয়ে শেখাবেন ইভটিজিং এর জন্য নারীর পোষাকই দায়ী আবার নারী নির্যাতন বন্ধের আইন করবেন তা তো হয় না। এত আইন, এত সনদ আর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নাভিশ্বাস না তুলে বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরুষতন্ত্রের অভিশাপমুক্ত করুন। চিকিৎসার চেয়ে রোগের প্রতিকারে গুরুত্ব দিন। আমাদের শিশুদের বাঁচান।

আর আমাদের নারী অধিকার আন্দোলের নেতারা, প্রজেক্ট নির্ভর আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসুন দয়া করে। ইউনিসেফ এর কিছু উদ্যোগ ছাড়া এনজিওদের ও উল্লেখযোগ্য কোন কাজ চোখে পড়েনি এই বিষয়ে। শিক্ষা ব্যবস্থা জেন্ডার সংবেদনশীল হলে যে নারীর প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়ন এমনিতেই কমে যাবে সেই সত্যটুকু তো আপনাদের অন্তত না জানার কথা নয়। এত ইস্যু নিয়ে কাজ করার দরকার নেই তো। কাল থেকে একটাই আন্দোলন করুন না। পুরুষতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জায়গাটা চিহ্নিত করুন, কাজ করার জন্য সরকারকে চাপ দিন। প্রতিটি ক্লাসে, পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার এডুকেশন বাধ্যতামূলক করার জন্য আন্দোলন করুন। প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকদের জেন্ডার প্রশিক্ষণের প্রজেক্ট হোক। এই একটা বিষয়ে অন্তত আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, একসাথে আওয়াজ তুলুন।

লেখক: প্রধান নির্বাহী, সংযোগ বাংলাদেশ; কলামিস্ট

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা খাতে সমৃদ্ধির বছর ২০১৬

শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও অগ্রগতি হয়েছে চলতি বছরে। বলা যায় বছরটি ছিল শিক্ষা খাতে সমৃদ্ধ।

 

পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন : ২০১০ থেকে শুরু হয়েছে দেশে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসব। প্রত্যেক বছরের শুরুতে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দিবসটি পালন করা হয়। আগে কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হলেও ২০১৬ সাল থেকে দিবসটিকে পৃথকভাবে পালন করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

নতুন বেতন কাঠামো : গত ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেশে চার লাখ ৭৭ হাজার ২২১ এমপিওভুক্ত শিক্ষককে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত করা হয়।

 

কলেজ জাতীয়করণ : চলতি বছরের ১ জুন সারা দেশের ১৯৯টি বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুটি তালিকায় তিনি এ অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া একটি তালিকায় রয়েছে ১৫৪টি এবং আরেকটি তালিকায় রয়েছে ৪৫টি কলেজ।

 

সার্বিক স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সার্বিক সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ শতাংশ।

 

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী সভা, কমিটি গঠন : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ সেপ্টেম্বর জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জঙ্গিবাদে শিক্ষার্থীদের ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সে বিষয়ে নির্দেশনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে। এ ছাড়া ইভটিজিং বন্ধে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা আসে।

 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সাংসদরা ন: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গভর্নিংবডির বিধান অবৈধ করে চূড়ান্ত রায় দেয় উচ্চ আদালত।

 

দুই ভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় : প্রশাসনে কাজের গতি বাড়াতে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে সরকার। বিভাগ দুটি হলো- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ।

 

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন : কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই বন্ধের বিষয়টি নতুন শিক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

সমাপনী বাতিল নিয়ে বিতর্ক : ২১ জুন প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। ঘোষণার পরেই সমাপনী এখনো বাতিল করা হবে না বলে জানান মন্ত্রী। ফলে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে বিভ্রান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা।

 

১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বাতিল : ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের স্বাক্ষর করা ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে এসব সনদ ‘রেগুলারাইজ’ করার সুযোগ রয়েছে।

 

বিদ্যালয়ে সততা স্টোর : স্কুলপর্যায় থেকে শিশুদের সৎ শিক্ষা দেওয়া, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণ মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতাহীন সততা স্টোর চালু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

 

 

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে ৪৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে দেশের ৪৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভা, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থকমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা না করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের কাছে অসহায় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমশিন (ইউজিসি)। নখ-দন্তহীন হওয়ায় অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ ইউজিসির। ইউজিসি’র ৪২তম বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘আইন-২০১০’ অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যাবলি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধানের জন্য উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠিত হবে। একাডেমিক বিষয় দেখভালের জন্য গঠিত হবে একাডেমিক কাউন্সিল। এরও সভাপতি থাকবেন উপাচার্য। এছাড়া বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে গঠিত হবে অর্থ কমিটি।

ইউজিসি সূত্র জানায়, নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই করছে না বোর্ড অব ট্রাস্টি ও সিন্ডিকেট সভা, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থ কমিটির মিটিং। এতে একদিকে যেমন তারা আইনের লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড। এর প্রভাব পড়ছে একাডেমিক কার্যক্রমের উপর। ফলে মান কমছে এসব প্রতিষ্ঠানের।

এ বিষয়ে মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ট্রাস্টি বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট সভা ও অর্থ কমিটির বৈঠক হতে হবে নিয়মিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে এসব সভা করে না। এরা মূলত আইন না মানা রেওয়াজে পরিণত করেছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে সঠিক পথে পরিচালনার চেয়ে অর্থ প্রাপ্তিকেই মুখ্য মনে করে।

তিনি বলেন, অর্থ কমিটির বৈঠক না হলে সেখানে অর্থ নিয়ে নয়-ছয় হবে, এটাই স্বাভাবিক। সিন্ডিকেট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেট না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এ সভায় সরকার ও মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি থাকবেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ সভা করলেও প্রতিনিধিদের ডাকেন না। ডাকলেও সভার আগের দিন টেলিফোনে বলে থাকেন, যাতে কেউ সেখানে উপস্থিত না হতে পারে। ইউজিসিকে তোয়াক্কা না করায় আমরাও অপরাগ ভূমিকা পালন করছি।

ইউজিসির প্রতিবেদন বলছে, গত বছর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টির কোনো সভাই হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সিন্ডিকেট সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি। সেগুলো হচ্ছে- ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি), শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষাদান, শিক্ষা ও পরীক্ষার মান উন্নয়ন এবং তা বজায় রাখতে দায়ী থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিল।

এছাড়াও ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), কুইন্স ইউনিভার্সিটি, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফেনী ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর অর্থ কমিটিরই কোনো বৈঠক করেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, রণদাপ্রসাদ সাহা ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free