বিনোদন খবর

অবশেষে একুশে পদক পাচ্ছেন হুমায়ুন ফরীদি

বিনোদন ডেস্ক: অভিনয়ের জাদুকর। মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র- অভিনয়ের সবখানে তিনি রাজত্ব করেছেন দুর্দান্ত প্রতাপে। মুগ্ধ করে রাখা সেই অভিনেতার নাম হুমায়ুন ফরীদি।

অভিনয়ে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন কয়েক দশক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মাননা না পাওয়ায় আক্ষেপ ছিলো তার ভক্ত-অনুরাগীদের। তার বন্ধুবর হুমায়ূন আহমেদও আক্ষেপ করেছিলেন ফরীদি একুশে পদক না পাওয়ায়।

ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় জাগো নিউজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে নানা রকম ফিচার। গেল বছর এক দল পাগল ভক্ত ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ার দাবিতে ফেসবুকে ইভেন্টও চালু করেছিলো।

অবশেষে পূরণ হলো সবার চাওয়া। জীবন্ত ফরীদি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি নিজের হাতে না পেলেও, মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হতে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালের একুশে পদকজয়ীদের তালিকায় তার নাম। এ খবরে আনন্দে ভাসছে ফরীদির ভক্ত-অনুরাগীরা। ফেসবুকে অনেকেই হুমায়ুন ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ায় রাষ্ট্রকে অভিনন্দিত করছেন।

আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এবারের পদকজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে হুমায়ুন ফরীদির মেয়ে বাবার হয়ে পদক গ্রহণ করবেন।

হুমায়ুন ফরীদির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৯ মে, ঢাকার নারিন্দায়। মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তিনি টিভি নাটকে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান। বিটিভিতে প্রচারে হওয়া ‘সংশপ্তক’ নাটকে কানকাটা রমজান চরিত্রে অনবদ্য ফরীদি জয় করে নিয়েছিলেন সারা দেশের দর্শকের মন।

পরবর্তীতে প্রয়াত চিত্রপরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘দিনমজুর’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নাম লেখান। বাকীটুকু ইতিহাস। তিনি একইসঙ্গে কমেডি ও খল চরিত্রে সাফল্য পেয়ে চলচ্চিত্রের অভিনয়ে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।

ব্যক্তি জীবনে সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিঃসঙ্গই ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান হুমায়ুন ফরীদি।

বাবা হিসেবে শাকিবের লজ্জা হওয়া উচিত ছিল : অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক : শারীরিকভাবে সুস্থ নন শাকিব খান। তারপরও শুটিংয়ের জন্য গত সোমবার দিবাগত রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তিনি। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন এ নায়ক।

তবে ঢাকা যাওয়ার আগে কিছু গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আফসোস করেছেন একমাত্র সন্তানের দেখা না পেয়ে। তার দাবি, বারবার ছেলেকে দেখতে চেয়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস ছেলেকে দেখতে দেননি। এ খবরে শাকিব ভক্তরা বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অপুর নামে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এদিকে অপু বিশ্বাস জানালেন, ছেলেকে দেখতে চেয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেননি শাকিব। তিনি বুধবার সকালে বলেন, ‘আমার ফোন সর্বক্ষণ আমার সঙ্গেই ছিল। শাকিবের কোনো কল এতে আসেনি। তার কোনো লোকও আমাকে কল দেয়নি। তবে কেন তিনি মিথ্যে কথা বলছেন যে আমি তাকে একবারের জন্যও বাচ্চার মুখ দেখতে দেইনি। আর যারা শাকিবের এসব যুক্তিহীন বক্তব্য ছাপছেন তারা কী একবারও মনে করেননি আমার সঙ্গে কথা বলে এ বক্তব্যের সত্যতা যাছাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আমি তো দেশেই রয়েছে, আমার নাম্বারটিও তাদের কাছে আছে।’

অপু আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাবা হিসেবে শাকিব চমৎকার। ছেলের জন্য আর সব বাবার মতোই তারও টান রয়েছে, নিয়মিত কাছে থাকতে না পারার কষ্টও হয়তো আছে। ব্যস্ততার কারণে সে কাছে থাকতে পারে না। কিন্তু যখন সে দেশে আসে সেই সময়টাতে তো ওর উচিত ছেলের কাছে থাকা। ও কখন দেশে আসে কখন যায় কিছুই জানি না আমি। ছেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে না।’

 

তিনি বলেন, ‘লোকে মন্দ বলবে সেই ভেবে ও নিজের দোষ বারবার আমার ওপর চাপাতে চায়। সেখানে সে বাচ্চার ইমোশন নিয়ে আসে। দেশের মানুষকে কী এতো বোকা মনে করে সে? ছেলেকে দেখতে চাইলে কে তাকে আটকে রেখেছিল? নাকি নিউজ করিয়ে আমাকে খারাপ স্ত্রী প্রমাণ করাই মূল উদ্দেশ্য? এতদিন পর এসে ছেলের পাশে একটু সময়ের জন্যও বসতে পারলো না, বাবা হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত ছিল তার। যে বয়সের বাচ্চা বাবা-মায়ের আদরে বড় হয় সে বয়সী জয়ের বাবাকে কাছে না পাওয়ার দুঃখ কী বোঝে শাকিব? উল্টো আমার নামে অভিযোগ করছে।’

ছেলেকে নিয়ে যাবার জন্য শাকিব খানের কাছের মানুষজন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আপনি নাকি না করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। কেউ যোগাযোগ করেনি আমার সঙ্গে। শাকিব যদি কাউকে দায়িত্ব দিয়েও থাকে সে হয়তো যোগাযোগ না করেই আমার নামে দোষ দিয়েছে। আগেও এমন অনেকবার হয়েছে। ওর কানে আমার নামে নামা কটুকথা ছড়িয়েছে তার চারপাশের মানুষেরা। যারা চায় না শাকিব-অপু সুখে থাকুক। শাকিব হয়তো এসব টের পায় না। আর পেলেও ওদের কথাই বিশ্বাস করে নেয় ভালো মন্দ না ভেবে’

তিনি বলেন, ‘আচ্ছা বলুন তো, বাবা আসবে তার ছেলেকে দেখতে, ছেলের জন্য নানা জিনিস নিয়ে তার জন্য প্রতিবারই এতো নাটকীয়তার কী আছে? বাসায় এসে ছেলেকে দেখতে পারে, সঙ্গে নিয়েও যেতে পারে। তবে ও কেন লোক দিয়ে যোগাযোগের প্রশ্ন আসবে? ছেলেকে দেখার ইচ্ছে থাকলে বাসায় আসতে পারতো। কেউ তাকে বের করে দিতো না। সেটা ভাবার অবকাশও নেই। এর আগেও কিন্তু ও আমার বাসায় এসে ছেলেকে দেখে গেছে। বারবার মনে হচ্ছে, ছেলেকে দেখতে চাওয়ার চেয়ে আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ করাটাই মুখ্য।’

অপু আরও যোগ করেন, ‘শাকিব এবারে এসেছে কবে সেটা আমি জানি না। কিছু নিউজ দেখে বুঝলাম ও চলেও গেছে। আমার এ বাসার ভাড়াটা সেই দেয়। এবারে তাও দিয়ে যায়নি। ওর এসবে কোনো টান নেই, সংসার নিয়ে হয়তো ভাবনাও নেই। ওর ক্যারিয়ার দরকার। ক্যারিয়ারের জন্য ও প্রেম, ভালোবাসা, সংসার, পরিবার সবই জলে ভাসিয়েছে। কিন্তু তাই বলে ক্যারিয়ারের জন্য বাচ্চার ইমোশনকে ব্যবহার করবে! কোনো বাবা এমনটি করে? ক্যারিয়ারই সব নাকি? জীবন কতো বড়ো, দিনশেষে সবাইকেই পরিবারের কাছে আসতে হয়। সন্তানের আদরে বাঁচতে হয়। ওসব কী শাকিব ভাবে কখনো?’

ঢালিউড কুইন খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বারবার স্ত্রী হিসেবে আমি খারাপ এটা প্রমাণ করতে ও আমার নামে মিথ্যে তথ্য ছড়ায়। যেসব তথ্যের কোনো ভিত্তিই থাকে না। সত্যটা প্রকাশ হলে নিজেই ছোট হয়। তবে কী দরকার এমন করে? ছেলেকে নিয়ে নোংরা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে? শাকিবের ক্যারিয়ার আরও রঙিন হোক, স্ত্রী হিসেবে সেই প্রত্যাশা করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কের জটিলতায় আমি কোনোকিছুতেই ছেলেকে দেখতে চাই না।’

সরাসরি খারাপ কাজের জন্য আমাকে অফার করা হয়েছে

ডেস্ক,২১ জানুয়ারী: মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র বলছে, ২০১৭ সাল জুড়ে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে যৌন সহিংসতায় নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতা। বাংলাদেশে টেলিকম কোম্পানির যেসব বিজ্ঞাপন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার একটি ছিল কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস নিয়ে নির্মিত একটি বিজ্ঞাপন, যেখানে অভিনয় করে রীতিমত তারকা হিসেবে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মডেল ফারহানা শাহরিন ফারিয়া। খবর বিবিসির।

সম্প্রতি মিডিয়া জগতের কাজের ক্ষেত্রে নানারকম হয়রানির কথা উঠে এসেছে তার এক মডেল ফারহানা শাহরিন ফারিয়ার সাক্ষাতকারে। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন মিডিয়া জগতে কাজ করতে হলে তার ভাষায় ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়।

ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে এবং একাধিক স্ট্যাটাসে হয়রানির বিষয়টিতে কথা বলেছেন ফারহানা শাহরিন ফারিয়া। তিনি বলেন, আমি ছিলাম লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ এর সেকেন্ড রানার আপ। মূলত যখন আমি বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ারের বিজ্ঞাপন করি তারপর থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বাজে প্রস্তাব পাই”, বলেন ফারিয়া।

কিন্তু এটি নিয়ে আগে মুখ খোলেননি কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, সবসময়ই তিনি এ বিষয়ে প্রতিবাদ করে আসছেন। যার জন্য অনেক বড় বড় কাজ হারাতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন ‘সরাসরি অফার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাদের সাথে ‘পার্সোনাল রিলেশন’ মেইনটেইন করতে হবে। কেন আমি পার্সোনাল রিলেশন রাখবো? আমার কোয়ালিটি, বিউটি দিয়ে আমি কাজ করবো। এই অফারগুলির কারণে আমাকে অনেক কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছে। যেখানে আমার মনে হয়েছে আমার কোয়ালিটির চেয়ে ‘স্যাক্রিফাইস’ টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

কেন আমাকে কাজের অফার দেয়া হলো তার সাথে এমন শর্ত দেয়া হলো? কিন্তু বাংলাদেশে কাজ দেয়ার নাম করে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তার মত অনেকের কাছ থেকেই সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। কিন্তু এগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেন ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব স্থানীয় পরিচালকরা?

চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজক সোহানুর রহমান সোহানের কাছে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে ভালো খারাপ অনেক মানুষ আছে। কেউ ফিল্মকে হয়তো খারাপভাবে ব্যবহার করছে। তিনি (ফারিয়া) হয়তো এরকম কারো পাল্লায় পড়েছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর কাজ করছি। তবে আমার ক্ষেত্রে এমন কখনো ঘটেনি। আবার অনেকসময় কেউ কেউ আমাদেরও প্রস্তাব দিয়ে সুযোগ নিতে চায়, যেটা কখনো সম্ভব না’।

তবে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ নিয়ে প্রযোজক বা পরিচালক সমিতিতে জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রথমবার নাটকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন জেসিয়া

বিনোদন ডেস্ক: মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৭ প্রতিযোগিতার বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম। চীনে মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অনেকটা আশা জাগিয়ে বাদ পড়লেও দেশের মানুষের বাহবা পেয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে মন দিয়েছিলেন পড়াশোনায়। বলেছিলেন, সুযোগ হলে কাজ করবেন সিনেমায়।

তবে এবার সিনেমায় নয়, অভিনয়ে জেসিয়ার অভিষেক হলো ধারাবাহিক নাটকে। ‘ব্যাচেলর ডটকম’ নাটকটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছেন এই তরুণী। নাটকটির নির্মাতা ইফতেখার শুভ।

ব্যাচেলর ডটকমে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জেসিয়া ইসলাম বলেন, ‘এ নাটকের গল্প বেশ মজার। তাই রাজি হয়েছি। এখানে আমার প্রবেশ ঘটবে নতুন ব্যাচেলর হিসেবে। প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছি এ নিয়ে অনেক এক্সাইটেড আমি। আপাতত পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। এ মাসের শেষের দিকে নাটকটির শুটিংয়ে অংশ নেব।’

ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র হলে নিয়মিত নাটকে কাজ করবেন বলে জানালেম জেসিয়া। এদিকে বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। চলছে যাছাই-বাছাই।

প্রসঙ্গত, ইফতেখার শুভ পরিচালিত ধারাবাহিক ব্যাচেলর ডটকমের বিভিন্ন চরিত্রে আরও রয়েছেন ছোটপর্দার এক ঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে তৌসিফ মাহবুব, নিলয়, জোভান, সিদ্দিক, নাদিয়া আফরিন মীম, নাদিয়া নদী, বাঁধন, আইরিন আফরোজ, তুলনা আল হারুন, তানিয়া বৃষ্টি, ফারজানা রিক্তা, ফারুখ আহমেদ, আহমেদ রুবেল, বরদা মিঠু ও কাজী উজ্জ্বল উল্লেখযোগ্য। নাটকটি প্রতি সপ্তাহের শনি থেকে সোমবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে একুশে টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে।

জয় এখন কোথায় যাবে?

বিনোদন ডেস্ক:ঢাকা: ঢালিউডের আলোচিত জুটি শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের সংসার ভাঙনের খবর গতকাল বিকেল থেকে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সবার এখন একটাই প্রশ্ন শাকিব-অপুর একমাত্র ছেলে আব্রাম খান জয় এখন কার কাছে থাকবে?

জানা গেছে, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান।

সোমবার অপু বিশ্বাসের বাসায় এই তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রযোজক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। দুদিন আগেই অপু বিশ্বাসের বাসার ঠিকানায় এই তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন শাকিব খানের আইনজীবী। তবে এই তালাক কার্যকর হবে তিন মাস পর।

শাকিব খানের গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ ইকবাল জানান, অপু বিশ্বাসকে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদের মাধ্যমে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে শাকিব খানকে এসএমএস পাঠালে তিনি ফিরতি এসএমএসে বলেন, বর্তমানে নোলক ছবির শুটিং এ হায়দ্রাবাদে শুটিংয়ে আছি, পরে কথা বলছি। তারপর একটু পরেই তালাকনামার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, ‘অপুর কাছে ডিভোর্সের চিঠি পাঠিয়েছি। ৩০ নভেম্বর হায়দ্রাবাদ আসার আগে ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর করেছি।’

অপরদিকে চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘গণমাধ্যমের খবরে জেনেছি শাকিব আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি তা হাতে পাইনি। কারণ আমি বাসায় ছিলাম না।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের ব্যাপারটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রেখে তারা দুজন সমানতালে সিনেমার শুটিং অব্যাহত রাখেন। গত এপ্রিলে ঢাকাই ছবির নতুন নায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে শাকিব ঘরোয়া পরিবেশে একটি ছবি তোলেন। ছবিটিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। এর পরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। এ বছর ১০ এপ্রিল বিকেলে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয় মাস বয়সের ছেলে আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন অপু। সেদিন অপু বলেন, আমি শাকিবের স্ত্রী, আমাদের ছেলে আছে।

আট বছর আগের সে বিয়ের খবর জনসমক্ষে আসার পর দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দেন। শুধু ছেলে আব্রামের কারণে মাঝেমধ্যে দেখা হলেও কথা হয়নি দুজনের। এবার তাদের সেই টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে। শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে।

এই দুই জনপ্রিয় চিত্রতারকার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন শাকিবকে কোনো কিছু না জানিয়ে হুট করে টেলিভিশনে শিশুসন্তানকে নিয়ে অপুর হাজির হওয়া, নানা সময়ে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাকিব খান আর তার পরিবার নিয়ে অপুর কটূক্তি করা, অন্য নায়িকাদের সঙ্গে শাকিব খানকে জড়িয়ে মুখরোচক কথা বলা, একমাত্র সন্তানের জন্মদিন বাবা শাকিব খানের অর্থে উদ্যাপন করা হলেও দাওয়াতপত্রে শুধু মা অপুর স্থিরচিত্র ব্যবহার করা, আর গত কয়েক মাসে দেশের সিনেমায় যারা প্রকাশ্যে শাকিব খানের বিরোধিতা করছিলেন, তাদের সঙ্গে অপুর সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং কাজ করা।

এর আগে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অপু বলেন, আমি ডিভোর্স নিয়ে এখনই কিছু বলব না। আর বিবাহবিচ্ছেদ হলে আপনারা তখন জানতেই পারবেন। বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত। যদি এমন কিছু ঘটে, তা আমি নিজেই আপনাদের ডেকে জানাব।

তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ টানা তিন দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, তার আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং রমজান আলী সিকদার।

অন্যদিকে আদালতে বাস মালিকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও ইমরান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর মামলাটি শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করে রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তা শেষ করা হয়েছে।

আইনজীবী সারা হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাসচালক ৩০ লাখ, বাসমালিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৮০ হাজার টাকা দেবে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ মোট সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলেন। আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে ৭ জন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে ৫ জন ও রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।

এরপর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিনেন্সের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন।

পরে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ দুটি মামলা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের স্ত্রী কানিজ এফ কাজী ও ছেলে সুহৃদ মুনীরের ওই দুটি আবেদন করেন। পরে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন।

রুলে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি কেন উচ্চ আদালতে বদলি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলা দুটির নথি তলব করা হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলা ও মোটর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে করা মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতির কাছে।

ইমরান ও নাদিয়া’র কেমেস্ট্রি

গানের নাম ‘লাগে বুকে লাগে’। গানটিতে রয়েছে একাধিক চমক। গানটিতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন ভারতের অন্বেষা দত্ত। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে গাইলেন তারা দু’জন ।

‘লাগে বুকে লাগে কেন জানিস/ আগলে রাখি তোকে নিজের আগে’ এমন কথার গানটি লিখেছেন জুলফিকার রাসেল। আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই। গানটি প্রকাশ করছে ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’ (ডি এম এস)। এই গানের ভিডিওতে ইমরানের সঙ্গে মডেল হয়েছেন নাদিয়া নদী। ইমরান ও নাদিয়া নদী জুটির এটিই প্রথম মিউজিক ভিডিও। তাদের কেমেস্ট্রি দর্শক-শ্রোতাদের নিয়ে যাবে ভাবনার রাজ্যে। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছে প্রডাকশন হাউজ ‘প্রেক্ষাগৃহ’। ঢাকার বেশ কয়েকটি মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত গানটির ভিডিও পরিচালনা করছেন-শাহরিয়ার পলক।

এ বিষয়ে ইমরান বলেন, ‘লাগে বুকে লাগে’ একটি আবেদনের গান। গানের কথায় জুলফিকার রাসেল ভাই যেমন মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি ভিডিওতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন পলক ভাই। গানটিতে যে আবেদন, আবেগ, অনুভুতি আশা করছি তা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে বেশ বড় আয়োজনের মিউজিক ভিডিওটিও দর্শকদের ভালো লাগবে।

অন্বেষা দত্ত বলেন, কিছু কিছু গানের কথা, সুর আর কম্পোজিশন এমন থাকে যে, গানটার ভেতরেই ‘লাভ এট ফার্স্ট লিসেনিং’ বিষয়টা থাকে। ‘লাগে বুকে লাগে’ ঠিক এমনই একটি গান। ইমরান আমার খুব পছন্দের একজন শিল্পী। তার বেশ কিছু গান আমি শুনেছি। খুবই ভালো লাগে তার গান। এবার একসঙ্গে গাইলাম। আশাকরি গানটির অডিও এবং ভিডিও দর্শক- শ্রোতার ভালো লাগবে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’ (ডিএমএস) সুত্রে জানা যায়, খুব শীঘ্রই তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে ‘লাগে বুকে লাগে। পাশাপাশি গানটি পাওয়া যাবে জিপি মিউজিক এবং ইয়োন্ডার মিউজিকে।

শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই

আগস্ট ৩০, ২০১৭:

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গুণী এই শিল্পীর ছেলে বাবু জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বাবার মৃত্যু হয়।

শনিবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে ছিলেন। তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবব্রত বণিক জানিয়েছিলেন, শনিবার রাত থেকেই আবদুল জব্বার সংজ্ঞাহীন হয়ে কোমায় আছেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার রক্তচাপ দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। শরীরের অন্য অর্গানগুলোও কাজ করছে না। তাই অবস্থা একদমই ভালো নয়।

শিল্পী আবদুল জব্বার বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের ৬২০ নম্বর কক্ষে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। চলতি বছরের ৩১ মে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখছ কভু জীবনের পরাজয়’সহ ছয় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আবদুল জব্বার। তিনি বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পদকে (১৯৯৬) ভূষিত হয়েছেন। আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালে ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাইতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভিতে (তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন) নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতে পথে-প্রান্তরে বিভিন্ন স্থানে সংগীত পরিবেশন করে যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ওই সময়ে এভাবে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশি শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পগুলোতে গান শুনিয়ে তাদের উজ্জীবিত করেছিলেন আবদুল জব্বার।

রবি ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস বিশ্বমানবতায় রবীন্দ্রনাথ

এস কে দাস: মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। তিনি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শনের অন্বেষণেই ছিলেন ।তিনি আমাদের রবীন্দ্রনাথ।

তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গণে যে ছাপ রেখে গেছেন, তা মুছে যাবার নয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারত- দু’দেশের মানুষের প্রাণের কবি। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনা শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য নয়।  তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য লেখনী মানুষকে আজো সেই অন্বেষণের পথে, তার উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…` গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও তার লেখা।

আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সশরীরে না থাকলেও তিনি গানে, কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, ছবিতে প্রবলভাবে রয়েছেন আমাদের মাঝে।

তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন এভাবে- ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। মেঘবরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট! রক্ত কমলকর, রক্ত-অধরপুট, তাপ বিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান।’ রবীন্দ্রনাথ প্রয়াত হওয়ার আগেই প্রয়াণ উপলব্ধি করেছেন নানাভাবে। আমরা তার কাব্যে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি শুনেছি বারবার। প্রতিবারই মৃত্যুকে জয়ের এক আরাধনাপ্রতিম প্রয়াস ছিল তার।

তিনি মৃত্যুকে বড় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে প্রিয়তমা স্ত্রীর বিয়োগে। কবি যখন দূরে থাকতেন স্ত্রী মৃণালিণী দেবীকে ‘ভাই ছুটি’ সম্বোধন করে চিঠি লিখতেন। কবির সেই ‘ছুটি’ যখন সংসার জীবন থেকে সত্যিই একদিন ছুটি নিয়ে চলে গেলেন, তার বয়স তখন মাত্র ঊনত্রিশ। কিশোর বয়সে হারান বন্ধুপ্রতিম বৌদি কাদম্বরী দেবীকে।

কবি জীবনস্মৃতিতে লেখেন : ‘জগৎকে সম্পূর্ণ করিয়া এবং সুন্দর করিয়া দেখিবার জন্য যে দূরত্ব প্রয়োজন, মৃত্যু দূরত্ব ঘটাইয়া দিয়াছিল। আমি নির্লিপ্ত হইয়া দাঁড়াইয়া মরণের বৃহৎ পটভূমিকার উপর সংসারের ছবিটি দেখিলাম এবং জানিলাম, তাহা বডডো মনোহর।’ এভাবেই তিনি সাহসের সঙ্গে মৃত্যুশোককে জয় করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়।  ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী ’প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্প’র বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মত্যুর পর ৩৬ খন্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী ’ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া ১৯ খন্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্ম’র সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে।

বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথ ভক্তদের কাছে একটি বেদনাময় দিন। জীবনের শেষ নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তার কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ লেখাটি। তারও ক’দিন পর রোগশয্যায় শুয়েই লিখলেন ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভালো। মৃত্যুর মাত্র সাত দিন আগে পর্যন্তও কবি সৃষ্টিশীল ছিলেন। ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মৃত্যু পথযাত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ঘড়িতে বেলা ১২টা বেজে ১০ মিনিট। কবি চলে গেলেন অমৃত আলোকের নতুন দেশে।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ রোববার বিকেল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘পরিবেশ, নির্মাণসংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট স্থপতি, রবীন্দ্র গবেষক ও পরিবেশবিদ অরুণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জমান। পরে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, শিশু একাডেমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

রাজনীতির দাপটে ব্লকবাস্টার থেকে নেমে গেল হলিউডের ছবি!

বিনোদন ডেস্ক: শাকিব খান-অপু বিশ্বাস অভিনীত রাজনীতি ছবিটি ঢাকার মধ্যে শুধুমাত্র ব্লকবাস্টার সিনেমাসে চলছে। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দর্শকদের বাড়তি আগ্রহের কারণে ব্লকবাস্টার সিনেমাস কর্তৃপক্ষ শুক্রবার থেকে রাজনীতি ছবির চারটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে।

আর এই রাজনীতি ছবির দাফটের কারণে হলিউডের `পাওয়ার রেঞ্জার্স` ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছে। যেটি ডিন ইসরাএলিট পরিচালিত ২০১৭ সালের বহুল আলোচিত আমেরিকান সুপার হিরো অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, সাইন্স ফিকশন ছবি।

এমনটাই জানিয়েছেন রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ।

শুক্রবার বিকেলে তিনি বলেন, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে রাজনীতি ছবি প্রতিদিন তিনটি করে প্রদর্শনী ছিল। এই সপ্তাহে চারটি করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে দর্শকদের চাপে।

সেজন্য বাধ্য হয়ে হলিউডের পাওয়ার রেঞ্জারর্স এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছি। যার ফলে সেখানে এখন রাজনীতি চলবে। মোট চারটি প্রদর্শনীর সময় হচ্ছে ১২:৩০ মিনিট, ৩:৩০ মিনিট, ৬:৪০ মিনিট এবং ৭:৩০ মিনিট।

তিনি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত যারা হলে রাজনীতি ছবি দেখছেন, কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। সবাই ছবিটির প্রশংসা করছেন। আমরাও ছবিটি চালাতে পেরে খুশি।

রাজধানীর ব্লকবাস্টারসহ দেশব্যাপী ৪০টি সিনেমাহলে রাজনীতি মুক্তি পেয়েছে। এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন বুলবুল বিশ্বাস।

জানা গেছে, রাজনীতি ছবিটি ব্লকবাস্টারে বসে উপভোগ করার জন্য আজ সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটের শোতে উপস্থিত থাকবেন শাকিব খান নিজেই। শাকিব-অপু ছাড়াও ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, ডিজে সোহেল, অমিত হাসান, শিবা শানু, আলী রাজ প্রমুখ।

রবীন্দ্রনাথকে পেলে জমিয়ে প্রেম করতাম: শাহনাজ সুমী

ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন করার কোনো অভিজ্ঞতা আমার নেই। যদিও আব্বু-আম্মু দুজনের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা। ওখানে আমাদের যাওয়া হয় না। আব্বু প্রবাসী, আঠারো বছর হলো সৌদি আরবে থাকেন। দুই বছর পর পর দেশে আসেন।

নানু বাড়ির সবাই ঢাকায় থাকে। আমরা তিন বোন আর মা একসঙ্গে নানু বাড়িতে থাকি; রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাসা। ঈদের দিন খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট মেলা বসে। ছোটবেলায় যেতাম। এখনো যে খুব একটা বড় হয়েছি তা নয়! এইচএসসি পরীক্ষা দেব। সুতরাং কিইবা বলা যায়- না বড় না ছোট। দারুণ একটা সময়ে আছি। তবে এখন আর যাই না।

ঈদের দিন মায়ের সাথে থাকি, ঘুরে ঘুরে খাওয়া দাওয়া করি। ছোটবেলায় নাচ শিখতাম, এই জন্য শাড়ি পরতাম। এক কথায় সবসময় বড়দের মতো হতে চাইতাম। কিন্তু ফ্রক পরতে চাইতাম না। যে কারণে ঈদে অনেক সালোয়ার কামিজ অথবা শাড়ি গিফট পেতাম। আমি ছোটবেলা থেকেই খুব সেনসিটিভ। অনেকেই গিফট করত। আমি চাইতাম যে, আমাকে যে পোশাকটা দেবে সেটা শুধু সেই দেখবে। যেমন ধরা যাক- পোশাকটা আম্মু দিলো তাহলে আম্মুই দেখতে পারবে। আমার বড় বোনকেও আমি দেখতে দিতে রাজি ছিলাম না। আমার ছোটবোন খুব শান্ত। ও কখনো এগুলো খুঁজে বেড়াত না। কিন্তু আমার বড় বোন খুঁজে বের করত সেগুলো। সে দেখে ফেললে আমি কাঁদতাম।

এই সময়ের কথা যদি বলি, তাহলে বলতে হবে ক্যাজুয়াল ড্রেস পরতে পছন্দ করি। শাড়ি পরা হয় অকেশনালি। শাড়ি পরতে ভালো লাগে। শাড়ি পরলেই স্পেশাল একটা ফিলিংস হয়। আর শাড়ির সঙ্গে সাজ অনুষঙ্গ-টিপ, টিকলি, চুড়ি এগুলো না থাকলে চলেই না। চুপিচুপি একটা কথা বলে রাখি- রবীন্দ্রনাথকে পেলে আমি জমিয়ে প্রেম করতাম।

আমার মনে হয়, শাড়ির সাথে রবীন্দ্রনাথের দারুণ একটা মেলবন্ধন আছে। তার গল্পের নায়িকাদের মতো সাজতে ইচ্ছে করে। কোনো এক ফাঁকে আমিও তার নায়িকা হয়ে যাই।

রোজার পুরোটা সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ঈদ কিছুটা অবসর পাব। শুটিং মানে মেকআপ-নতুন নতুন জামা কাপড়ের ছড়াছড়ি। শুটিং উপলক্ষে অনেক জামাকাপড় কেনা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আর নতুন কোনো পোশাক কেনা হয়নি। তবে ঈদের দিন মেজেন্টা রঙের সালোয়ার কামিজ পরব। বাইরে বের হলে চোখে মাশকারা দেব। মেকআপ দিতেও পারি, নাও পারি।

এবার ঝড় তুলেছে শচীন টেন্ডুলকারের গান

ডেক্স : ১১ মে: বড় হয়ে কণ্ঠশিল্পী হবে এই ভেবে কিংবদন্তি শচীন দেব বর্মণের নামে ছেলের নাম রাখেন বাবা রমেশ টেন্ডুলকার। হারমোনিয়াম, গিটার নয় ছেলে শচীন টেন্ডুলকার বেছে নেন ব্যাট ও বল। তাতে অবশ্য ক্ষতি হয়নি। খ্যাতিতে শচীন দেব বর্মণকেও ছাড়িয়ে যান শচীন টেন্ডুলকার। তবে বাবার স্বপ্নটা যে অপূর্ণ থেকে গেল! এই ভাবনা থেকেই হয়তো এবার গানের রেকর্ডিংয়ে নেমে পড়লেন শচীন টেন্ডুলকার।

ব্যাট-বল ছাড়ার পর এবার গান গাইতে নেমে গেলেন ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর। তাও আবার যেনতেন কারো সঙ্গে নয়, তারকা শিল্পী সনু নিগামের সঙ্গে। সনু নিগামের গান খুব পছন্দ শচীনের। তাই প্রথম গানটি প্রিয় শিল্পীর সঙ্গেই রেকর্ড করলেন শচীন। ব্যাট হাতে তো তারকাদের তারকা। গানের ক্ষেত্রে কেমন? উত্তরটা দিয়েছেন সনু নিগাম। ‘শচীনের কণ্ঠ ভালো, সুরও ঠিকঠাক। তার কণ্ঠ ঠিক করতে কিউরেটর ডাকতে হয়নি! ব্যাট হাতে যার এত প্রতিভা, সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নেওয়াটা তার জন্য খুব কঠিন নয়। আর তার মতো একজনের সঙ্গে গান গাওয়াটা আমার সারা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

কোন গান গাইলেন শচীন। জাতে ক্রিকেটার তাই স্বভাতবই ক্রিকেটবিষয়ক গানই গাইবেন শচীন। গানের বিষয় ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘিরে। গানের কথাগুলোও জমজমাট ‘গেন্দ আই, বল্লা ঘুমা, মার ছক্কা, শচীন, শচীন নাচো নাচো নাচো সব ক্রিকেট ওয়ালি বিট পে।’ (বল এল, ব্যাট ঘুরাও, শচীন ছক্কা মারো, নাচো নাচো নাচো সবাই ক্রিকেট বিটের সঙ্গে)। প্রথম দিক কিছুটা অস্বস্তি হলেও দ্রুতই নিজেকে গানের তালের সঙ্গে মানিয়ে নেন শচীন।

৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের গানটিতে কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার থেকে শুরু করে সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়, মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ প্রায় সব সতীর্থ তারকা ক্রিকেটারের নাম নিয়েছেন শচীন। গানের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর গত দুদিনে ইউটিউবে ২০ লাখের বেশি মানুষ শচীনের এই গানটি শুনছেন।

চলে গেলেন বলিউডের বর্ষিয়ান অভিনেতা বিনোদ খান্না

ডেক্স : ২৭ এপ্রিল : চলে গেলেন বলিউডের বর্ষিয়ান অভিনেতা বিনোদ খান্না। আজ সকালে মুম্বাইর এক হাসপাতালে তিনি ৭০ বছর বয়সে মৃত্যূবরণ করেন।

জানা যায়, গত ৩১ মার্চ থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ইউরিনারি ব্লাডার ক্যানসারে ভুগছিলেন। যদিও সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনোদের ছেলে রাহুল খান্না জানিয়েছিলেন, গত ৩১ মার্চ থেকে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বিনোদ।

ছেলে রাহুল খান্না জানান, শরীরে জলাভাবের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। কিছুদিন আগে রীতিমত অসুস্থ অবস্থায় তার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। পরিবার থেকে জানানো হয়, ভাল আছেন তিনি, সুস্থ হয়ে উঠছেন। যদিও তখনই শোনা যায়, সম্ভবত ক্যানসার হয়েছে তার।

বিনোদ পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদও ছিলেন। কিন্তু বিনোদ খান্নার রাজনৈতিক কেরিয়ারের সাফল্য কখনওই তার ফিল্মি ক্যারিয়ারকে ছুতে পারেনি। ১৯৬৮-তে বড় পর্দায় অভিষেক থেকে তিনি ১৪০-এর বেশি ছবিতে কাজ করেছেন। শাহরুখ খান-কাজলের দিলওয়ালে-তেও দেখা গিয়েছে তাকে।

টিপিক্যাল ম্যাটিনি আইডল এই নায়ক তার পরিশীলিত, শহুরে আবেদনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম সেরা সুদর্শন এই অভিনেতা অ্যাকশন রোলেও ছিলেন দুর্দান্ত। অমর আকবর অ্যান্টনি, কুরবানি, অচানক- একের পর এক সুপার ডুপার হিট ছবি দিয়েছেন তিনি। একটা সময় তাকেই মনে করা হত অমিতাভ বচ্চনের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু আধ্যাত্মিকতায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় কেরিয়ারের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি বলিউডে ছিলেন না। তার দুই পুত্র অক্ষয় ও রাহুলও রয়েছেন বলিউডে। তবে বাবার মত সাফল্য তারা পাননি।

শফিক তুহিনের বন্ধুয়ারে মিউজিক ভিডিও

তরুণ নাট্যনির্মাতা পলাশ শুদ্র নির্মিত মিউজিক ভিডিও ‘বন্ধুয়ারে’ প্রকাশ হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল মিউজিক ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়।

‘বন্ধুয়ারে’ শিরোনামে গানটির কথা, সুর, সংগীত এবং কণ্ঠ শফিক তুহিনের। চন্দ্রীকা এন্টারটেইনমেন্ট প্রোডাকশনস নির্মিত গানটি ঈগল মিউজিকের ব্যানারে প্রচারিত হচ্ছে।

গানটিতে মডেল হয়েছেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী, শামা ফারজানা, প্রাণ সরয়ার।

বৃষ্টিস্নাত বিদায় লাকী আখান্দের

রাত থেকেই কালো মেঘে ঢাকা ছিলো ঢাকার আকাশ। সকাল আটটার পরে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। কিছুক্ষণ পর পর বিকট শব্দে গর্জন। জনপ্রিয় সংঙ্গীত শিল্পী লাকী আখান্দের বিদায়েই হয়তো প্রকৃতির এমন আচরণ! কারণ শুক্রবার এই ক্ষণজন্মা সঙ্গীত শিল্পী লাকী আখান্দ অগণিত ভক্ত, স্রোতা ও শুভানুধ্যায়ীদের কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাকী আখান্দকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভক্ত, সহকর্মী ও সহযোদ্ধারা। অন্য সময়ের মতো এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

থেমে থেমে চলা বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রিয় শিল্পীকে বিদায় জানাতে শহীদ মিনারে আসেন সরকারের মন্ত্রী, রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, শিল্পীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

সকলের মুখে ছিল লাকী আখান্দের সৃষ্টি ও কর্মের গুণগান। দাবি ছিল, তার গাওয়া সব গানগুলো যেন সংরক্ষণ করা হয়। শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনেই যেন শেষ না হয় লাকী আখান্দকে স্মরণ। যুগ যুগ ধরে যেন তার সৃষ্টির চর্চা থাকে। যেন কোনোভাবেই হারিয়ে যায় তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

তবে অনেকে আবার জীবিত অবস্থায় এমন কীর্তিমানদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগও করেছেন। কেউ আবার সরকারের কাছে শিল্পীরা বেঁচে থাকতেই যেন সম্মানিত হন সে দাবি করেছেন। লাকী আখান্দের পরিবারের সদস্যসহ  কয়েকজন সংঙ্গীতশিল্পীরা মেধাসত্ত্বের সম্মানি অর্থাৎ রয়েলিটি প্রদানের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারের দুই মন্ত্রী তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী লাকী আখান্দের শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে ঢাকা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র চাকমার নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপরই ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, সৈয়দ ইকবাল, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক, সাধারণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, আওয়ামী লীগ নেতা শফী আহমেদ, মারুফা আক্তার পপি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কামাল পাশা চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান।

সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে শিল্পী খুরশিদ আলম, ফকির আলমগীর, তিমির নন্দী, খোরশেদ আলম, নকীব খান, আসিফ ইকবাল, গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, গীতিকবি কবির বকুল, জলের গানের সাইফুল জার্নাল, লেখক নাট্যকার শাকুর মজিদ বেলাল খান, কাজী হাবলু, ফুয়াদ নাসের বাবু প্রমুখ।

এছাড়াও নাট্যসংগঠন প্রাচ্যনাট, শিল্পীত, ঋষিজ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাসাস, খেলাঘর প্রভৃতি সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষে গোলাম কুদ্দুছের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হয়। এরপর এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

আসাদুজ্জামান নুর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন,‘যখন মানুষের শেখার বয়স তখন লাকী আখান্দ অন্যকে শিখিয়েছেন। বাংলা গানকে মানুষের অন্তরে স্পর্শ করাতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই অর্জনকে আমরা সংরক্ষণ করতে চাই। সংরক্ষণের মধ্যে দিয়েই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবো। একজন শিল্পী, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধাকে চিরদিন এদেশের শিল্পী সমাজ মনে রাখবে। মনে রাখতে বাধ্য হবে।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, লাকী আখান্দের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। বর্তমানে তাকে খুব প্রয়োজন ছিলো। তবে তার গাওয়া সব গান সংরক্ষণ করার জন্য যা যা করার তাই করবো। তথ্য মন্ত্রণালয় আর্কাইভে তার গান সংরক্ষণ করা হবে।

শিল্পীদের মেধাস্বত্ত্ব সম্মানীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই আইনটি ত্রুটিপূর্ণ। এটাকে কীভাবে কার্যকর করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, লাকী আখান্দ সঙ্গীত জীবনের চমক। আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। বয়স তাঁকে শান্তিতে থাকতে দেয় নি। রোগে শোকে তিনি অনেক দিন কষ্ট পেয়েছেন। গানের জীবনে তিনি নতুনত্বের স্বাদ এনে দিয়েছেন। ’

এসময় প্রত্যেক শিল্পীর মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘সরকার আসবে, সরকার যাবে। রাজনীতির ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে দেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।’

সঙ্গীতশিল্পী খুরশিদ আলম বলেন, ‘‘লাকীর মতো শিল্পী চলে গেল, সেই ক্ষতিপূরণ হওয়ার মতো নয়। আর তরুণ গায়কদের বলব, তারা যখন লাকীর গান কোথাও গাইবেন, তখন যেন তাঁর নাম উল্লেখ করেন।’

কণ্ঠশিল্পী নকীব খান বলেন, ‘আধুনিক বাংলা গানের এক ভিন্ন ধারার জন্ম দিয়েছিলেন লাকী আখান্দ। আমি তাঁর গান প্রথম শুনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। সে গানে অনুপ্রাণিত হই- কী গানে কী দেশপ্রেমে! সেই গানটি ছিলো ‘জন্মভূমি বাংলা মাগো। চলচ্চিত্র অঙ্গনের বাইরে এত জনপ্রিয় গান আর কেউ আমাদের উপহার দিতে পারেননি কিন্ত আমরা তাঁর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আজ তাঁকে বাঙালির শ্রেষ্ঠ স্থান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালাম। বিদায় জানালাম। আসলে তাদের কী বিদায় জানানো যায়! যায় না! এই লাল সবুজ পতাকার মতই তনি তিনি বেঁচে থাকবেন।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লাকী আখন্দদের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ জানাজা বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে লাকী আখান্দের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন আশির দশকের সঙ্গীত শিল্পী লাখী আখান্দ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাতে তাঁর মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter