বিনোদন খবর

‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮’ মেক্সিকান সুন্দরী ভেনেসা

লিহান লিমা: ২০১৮ সালের বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতে নিয়েছেন মেক্সিকান সুন্দরী ভেনেসা পোন্স দি লিওন। তাকে মুকুট পরিয়ে দেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী মানুষী চিল্লার। রানার্স আপ হন থাইল্যান্ডের নিকোলেনি পিচাপা লিমসনুকান।

শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫ টায় চীনের সানায়া শহরে শুরু হয় মিস ওয়ার্ল্ডের জমকালো আয়োজন। এর মধ্যে মিস ওয়ার্ল্ডের সিক্স কন্টিনেন্টাল কুইন ক্যাটাগরিতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড ইউরোপ’ জিতে নেন বেলারুশের মারিয়া ভাসিলিভিস, ‘মিস ওয়ার্ল্ড ক্যারিবিয়ান’ হন জ্যামাইকার কাদিজাহ রবিনসন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড আমেরিকা’ হন মেক্সিকোর ভেনেসা পোন্স দি লিওন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড আফ্রিকা’র খেতাব যায় উগান্ডার কুইইন আবেনাকেওর ঝুলিতে। ‘মিস ওয়ার্ল্ড এশিয়া ও ওশেনিয়া’ জেতেন থাইল্যান্ডের নিকোলেনি পিচাপা লিমসনুকান।

মিস ওয়ার্ল্ডের সেরা ১২তে জায়গা করে নেয় বেলারুশ, ফ্রান্স, স্কটল্যান্ড, জ্যামাইকা, মার্টিনিকো, মেক্সিকো, পানামা, মরিশাস, উগান্ডা, নেপাল, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশের জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশি সেরা ৩০-এ জায়গা করে নিলেও সেখান থেকেই ছিটকে পড়েন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন মেগান ইয়াং, বার্নি ওয়ালশ, অ্যাঞ্জেলা চো, ফার্নান্দো আলেন্দে ও স্টেফানি দেল ভালে। বিচারক ও দর্শক প্রতিক্রিয়া নেন ফ্রাঙ্কি চেনা। ওয়েব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

তার স্বজনরা জানান, আজ সকালে ধানমন্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাচ্চুর সংগীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠের প্রথম গান- ‘হারানো বিকেলের গল্প’। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তার জীবনে সফলতা বয়ে না আনলেও ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ তার জীবনে সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ড গঠনের পর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়।

১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে।

একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়।

‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ তার বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনও প্রকাশিত। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।

ছয় বছর পর ২০১৫ সালে তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প বাজারে আসে।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স ও জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। ঢাকার মগবাজারে ‘এবি কিচেন’ নামে তার নিজস্ব একটি মিউজিক স্টুডিও রয়েছে।

আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে যে কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তার মধ্যে এই গানটি অন্যতম। লিখেছেন জনপ্রিয় গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী।

এ ছাড়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ‘সেই তুমি’, ‘সে তারা ভরা রাতে’, ‘সুখের পৃথিবী’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘আমি বারো মাস তোমার আশাই আছি’, ‘মেয়ে’, ‘আম্মাজান’।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরলেন দীপিকা-রণবীর

বিনোদন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছুদিন একসঙ্গে  দারুণ সময় পার করেছেন দীপিকা ও রণবীর। এনডিটিভির খবরে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরা মুম্বাই ফিরেছেন।

মুম্বাই এয়ারপোর্টে পাপারাজ্জিদের তোলা ছবিতে দীপিকা ও রণবীরকে দেখা যায় বেশ খোশ মেজাজে। তাঁদের মুখে ছিল মিষ্টি হাসি। পাশাপাশি হাত ধরে হেঁটেছিলেন তাঁরা। দুজনই পরেছিলেন আরামদায়ক পোশাক।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দীপিকা ও রণবীরের কাটানো সময়গুলোর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন ভাইরাল ও আলোচিত। ঘুরে বেড়ানোর ছবির পাশাপাশি  ফ্লোরিডা থেকে ইনস্টাগ্রামে দীপিকা তাঁর ছোটবেলার একটা ছবি শেয়ার করেছিলেন গত বৃহস্পতিবার। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘টমবয় তখন, এখন এবং সবসময়।’  গোলাপি পোশাকে ছোট্ট দীপিকার ছবি তাঁর ভক্তদের মন কেড়ে নিয়েছে আরো একবার। হাজার হাজার ভ্ক্ততের মাঝে ছবিটিতে কমেন্ট করেছিলেন রণবীরও।

বোঝায় যাচ্ছে, দীপিকা ও রণবীরের মনে এখন সুবাতাস বইছে। আসছে নভেম্বরে তাঁদের দুজনের বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা। বলিউডের এই আলোচিত ঝুটির বিয়ে কোথায় হবে, এই নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। অনেকে বলছে তাঁদের বিয়ে হতে পারে ইতালিতে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘আমাকে রাতের পোশাকে দেখতে চেয়েছিলেন পরিচালক

‘আমাদের জগতে মেয়েদের নানাভাবে অত্যাচার করা হয়। আমার কাছেও এক কুরুচিকর প্রস্তাব এসেছিল। আমি তখন বলিউডে নতুন নতুন এসেছি। চলচ্চিত্রের একজন পরিচালকের সঙ্গে ছবির ব্যাপারে কথা বলতে যাই। তিনি আমাকে রাতের শয্যার পোশাকে দেখতে চান। পরিচালক বলেন, ‘স্লিভলেস নাইটি পরে আমাকে আগে দেখাও। এই কথা শুনে আমি ওখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসি।’ বললেন বলিউড তারকা মাহি গিল। গত ২৭ জুলাই মুক্তি পেয়েছে ‘সাহেব, বিবি ঔর গ্যাংস্টার থ্রি’। ছবিতে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, জিমি শেরগিল, মাহি গিল, চিত্রাঙ্গদা সিং, সোহা আলী খান প্রমুখ। মুক্তির আগে এই ছবির প্রচারণা করতে গিয়ে সাংবাদিকের মুখোমুখি হন মাহি গিল। ওই সময় ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।

মাহি গিলমাহি গিলবলিউডে নিজের সেই শুরুর দিনগুলো প্রসঙ্গে মাহি গিল বলেন, ‘ওই সময় প্রচুর লড়াই করেছি। তবে আমার “না” বলার ক্ষমতা ছিল। কাজ পাওয়ার জন্য ওই পরিচালকের প্রস্তাবে রাজি হইনি। অনেকের মধ্যে “না” বলার সাহস থাকে না। ওই পরিস্থিতিতে বুঝে উঠতে পারেন না, কী করবেন। বিশেষ করে যাঁরা ছোট শহর থেকে আসেন, তাঁরা খুব অসহায় বোধ করেন।’

এক সপ্তাহ পর জানা গেছে, ১০ কোটি রুপি বাজেটের ‘সাহেব, বিবি ঔর গ্যাংস্টার থ্রি’ ছবিটি ব্যবসায়িক দিক থেকে একেবারই সুবিধা করতে পারেনি। ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে ছবিতে মাহির অভিনয় খুব প্রশংসিত হয়েছে।

মাহি গিলমাহি গিলএদিকে ‘সাহেব, বিবি ঔর গ্যাংস্টার থ্রি’ ছবিতে মাহি গিলকে কিছু সাহসী দৃশ্যে বেশি দেখা গেছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গোড়ার দিকে ছবিতে আমি অনেক খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করেছিলাম। তারপর আমার কাছে এ ধরনের ছবির প্রস্তাব বেশি এসেছে। তবে চিত্রনাট্যে প্রয়োজন থাকলে এ রকম দৃশ্যে নিশ্চয়ই অভিনয় করব। শুধু শরীর প্রদর্শন করার জন্য তা কখনোই করব না।’

বলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়ে মাহি বলেন, ‘আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক ভালো। এখানে কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা হয় না। আমাদের জগতে ধর্ষণের মতো কুরুচিকর ঘটনা ঘটে না। সেদিক থেকে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক নিরাপদ। অন্য জগতের থেকে অনেক ভালো।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

যে কারণে ছেলেকে নিয়ে গণমাধ্যমে এসেছিলেন অপু

ঢাকা,১২ ফেব্রয়ারী : আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। ডিভোর্স মেনে নেয়ার পর অপু জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শাকিব তাকে অবহেলা করেছেন। তার শেষ অনুরোধটিও রাখেননি শাকিব।
অপু বিশ্বাস বলেন, আমি নই, বরং শাকিবই আমাকে বিয়ের পর থেকে অবহেলা করেছে। তার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তার অনুরোধে দীর্ঘসময় বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন রেখেছিলাম। তার কাছে আমার শেষ একটি অনুরোধ ছিল সে যেন বুবলীর সঙ্গে কাজ না করে। কারণ শাকিব আর বুবলীর সম্পর্কে নানাজন নানা কথা আমাকে বলছিল। যা স্ত্রী হিসেবে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কিন্তু শাকিব আমার এই অনুরোধকেও পাত্তা দেয়নি। তখন বাচ্চাকে নিয়ে আমার প্রকাশ্যে আসা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
অপু বলেন, যা হওয়ার তাতো হয়ে গেছে। এখন আমার ধ্যান জ্ঞান একমাত্র আমার সন্তান আবরাম খান জয়। তার জন্য বাঁচব আর তাকে মানুষ করতে পরিশ্রম করে যাব। শাকিবকে নিয়ে আর কখনো কোনো কথা বলতে চাই না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আজ রাত ৯:০০টায় লাইভে আসছেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক : বিচ্ছেদের মতো কঠিন বোঝা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ঢালিউডের কুইন অপুবিশ্বাস। তবে বর্তমানে এ যন্ত্রণা কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে সব কাজ করে বেড়াচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি বিনোদন ভিত্তিক অ্যাপস লিঙ্কআসের শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত হয়েছেন অপু। আর ইদানিং তিনি লিঙ্কাআসের প্রচারণার মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। ভক্তদের জন্য একটি সুখবর। আজ রাত ৯:০০টায় ভক্তদের সাথে আড্ডা দিতে লাইভে আসছেন আপনার প্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবশেষে একুশে পদক পাচ্ছেন হুমায়ুন ফরীদি

বিনোদন ডেস্ক: অভিনয়ের জাদুকর। মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র- অভিনয়ের সবখানে তিনি রাজত্ব করেছেন দুর্দান্ত প্রতাপে। মুগ্ধ করে রাখা সেই অভিনেতার নাম হুমায়ুন ফরীদি।

অভিনয়ে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন কয়েক দশক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মাননা না পাওয়ায় আক্ষেপ ছিলো তার ভক্ত-অনুরাগীদের। তার বন্ধুবর হুমায়ূন আহমেদও আক্ষেপ করেছিলেন ফরীদি একুশে পদক না পাওয়ায়।

ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় জাগো নিউজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে নানা রকম ফিচার। গেল বছর এক দল পাগল ভক্ত ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ার দাবিতে ফেসবুকে ইভেন্টও চালু করেছিলো।

অবশেষে পূরণ হলো সবার চাওয়া। জীবন্ত ফরীদি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি নিজের হাতে না পেলেও, মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হতে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালের একুশে পদকজয়ীদের তালিকায় তার নাম। এ খবরে আনন্দে ভাসছে ফরীদির ভক্ত-অনুরাগীরা। ফেসবুকে অনেকেই হুমায়ুন ফরীদিকে একুশে পদক দেয়ায় রাষ্ট্রকে অভিনন্দিত করছেন।

আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এবারের পদকজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে হুমায়ুন ফরীদির মেয়ে বাবার হয়ে পদক গ্রহণ করবেন।

হুমায়ুন ফরীদির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৯ মে, ঢাকার নারিন্দায়। মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তিনি টিভি নাটকে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান। বিটিভিতে প্রচারে হওয়া ‘সংশপ্তক’ নাটকে কানকাটা রমজান চরিত্রে অনবদ্য ফরীদি জয় করে নিয়েছিলেন সারা দেশের দর্শকের মন।

পরবর্তীতে প্রয়াত চিত্রপরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘দিনমজুর’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নাম লেখান। বাকীটুকু ইতিহাস। তিনি একইসঙ্গে কমেডি ও খল চরিত্রে সাফল্য পেয়ে চলচ্চিত্রের অভিনয়ে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।

ব্যক্তি জীবনে সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিঃসঙ্গই ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান হুমায়ুন ফরীদি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাবা হিসেবে শাকিবের লজ্জা হওয়া উচিত ছিল : অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক : শারীরিকভাবে সুস্থ নন শাকিব খান। তারপরও শুটিংয়ের জন্য গত সোমবার দিবাগত রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তিনি। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন এ নায়ক।

তবে ঢাকা যাওয়ার আগে কিছু গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আফসোস করেছেন একমাত্র সন্তানের দেখা না পেয়ে। তার দাবি, বারবার ছেলেকে দেখতে চেয়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস ছেলেকে দেখতে দেননি। এ খবরে শাকিব ভক্তরা বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অপুর নামে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এদিকে অপু বিশ্বাস জানালেন, ছেলেকে দেখতে চেয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেননি শাকিব। তিনি বুধবার সকালে বলেন, ‘আমার ফোন সর্বক্ষণ আমার সঙ্গেই ছিল। শাকিবের কোনো কল এতে আসেনি। তার কোনো লোকও আমাকে কল দেয়নি। তবে কেন তিনি মিথ্যে কথা বলছেন যে আমি তাকে একবারের জন্যও বাচ্চার মুখ দেখতে দেইনি। আর যারা শাকিবের এসব যুক্তিহীন বক্তব্য ছাপছেন তারা কী একবারও মনে করেননি আমার সঙ্গে কথা বলে এ বক্তব্যের সত্যতা যাছাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আমি তো দেশেই রয়েছে, আমার নাম্বারটিও তাদের কাছে আছে।’

অপু আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাবা হিসেবে শাকিব চমৎকার। ছেলের জন্য আর সব বাবার মতোই তারও টান রয়েছে, নিয়মিত কাছে থাকতে না পারার কষ্টও হয়তো আছে। ব্যস্ততার কারণে সে কাছে থাকতে পারে না। কিন্তু যখন সে দেশে আসে সেই সময়টাতে তো ওর উচিত ছেলের কাছে থাকা। ও কখন দেশে আসে কখন যায় কিছুই জানি না আমি। ছেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে না।’

 

তিনি বলেন, ‘লোকে মন্দ বলবে সেই ভেবে ও নিজের দোষ বারবার আমার ওপর চাপাতে চায়। সেখানে সে বাচ্চার ইমোশন নিয়ে আসে। দেশের মানুষকে কী এতো বোকা মনে করে সে? ছেলেকে দেখতে চাইলে কে তাকে আটকে রেখেছিল? নাকি নিউজ করিয়ে আমাকে খারাপ স্ত্রী প্রমাণ করাই মূল উদ্দেশ্য? এতদিন পর এসে ছেলের পাশে একটু সময়ের জন্যও বসতে পারলো না, বাবা হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত ছিল তার। যে বয়সের বাচ্চা বাবা-মায়ের আদরে বড় হয় সে বয়সী জয়ের বাবাকে কাছে না পাওয়ার দুঃখ কী বোঝে শাকিব? উল্টো আমার নামে অভিযোগ করছে।’

ছেলেকে নিয়ে যাবার জন্য শাকিব খানের কাছের মানুষজন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আপনি নাকি না করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। কেউ যোগাযোগ করেনি আমার সঙ্গে। শাকিব যদি কাউকে দায়িত্ব দিয়েও থাকে সে হয়তো যোগাযোগ না করেই আমার নামে দোষ দিয়েছে। আগেও এমন অনেকবার হয়েছে। ওর কানে আমার নামে নামা কটুকথা ছড়িয়েছে তার চারপাশের মানুষেরা। যারা চায় না শাকিব-অপু সুখে থাকুক। শাকিব হয়তো এসব টের পায় না। আর পেলেও ওদের কথাই বিশ্বাস করে নেয় ভালো মন্দ না ভেবে’

তিনি বলেন, ‘আচ্ছা বলুন তো, বাবা আসবে তার ছেলেকে দেখতে, ছেলের জন্য নানা জিনিস নিয়ে তার জন্য প্রতিবারই এতো নাটকীয়তার কী আছে? বাসায় এসে ছেলেকে দেখতে পারে, সঙ্গে নিয়েও যেতে পারে। তবে ও কেন লোক দিয়ে যোগাযোগের প্রশ্ন আসবে? ছেলেকে দেখার ইচ্ছে থাকলে বাসায় আসতে পারতো। কেউ তাকে বের করে দিতো না। সেটা ভাবার অবকাশও নেই। এর আগেও কিন্তু ও আমার বাসায় এসে ছেলেকে দেখে গেছে। বারবার মনে হচ্ছে, ছেলেকে দেখতে চাওয়ার চেয়ে আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ করাটাই মুখ্য।’

অপু আরও যোগ করেন, ‘শাকিব এবারে এসেছে কবে সেটা আমি জানি না। কিছু নিউজ দেখে বুঝলাম ও চলেও গেছে। আমার এ বাসার ভাড়াটা সেই দেয়। এবারে তাও দিয়ে যায়নি। ওর এসবে কোনো টান নেই, সংসার নিয়ে হয়তো ভাবনাও নেই। ওর ক্যারিয়ার দরকার। ক্যারিয়ারের জন্য ও প্রেম, ভালোবাসা, সংসার, পরিবার সবই জলে ভাসিয়েছে। কিন্তু তাই বলে ক্যারিয়ারের জন্য বাচ্চার ইমোশনকে ব্যবহার করবে! কোনো বাবা এমনটি করে? ক্যারিয়ারই সব নাকি? জীবন কতো বড়ো, দিনশেষে সবাইকেই পরিবারের কাছে আসতে হয়। সন্তানের আদরে বাঁচতে হয়। ওসব কী শাকিব ভাবে কখনো?’

ঢালিউড কুইন খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বারবার স্ত্রী হিসেবে আমি খারাপ এটা প্রমাণ করতে ও আমার নামে মিথ্যে তথ্য ছড়ায়। যেসব তথ্যের কোনো ভিত্তিই থাকে না। সত্যটা প্রকাশ হলে নিজেই ছোট হয়। তবে কী দরকার এমন করে? ছেলেকে নিয়ে নোংরা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে? শাকিবের ক্যারিয়ার আরও রঙিন হোক, স্ত্রী হিসেবে সেই প্রত্যাশা করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কের জটিলতায় আমি কোনোকিছুতেই ছেলেকে দেখতে চাই না।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরাসরি খারাপ কাজের জন্য আমাকে অফার করা হয়েছে

ডেস্ক,২১ জানুয়ারী: মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র বলছে, ২০১৭ সাল জুড়ে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে যৌন সহিংসতায় নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতা। বাংলাদেশে টেলিকম কোম্পানির যেসব বিজ্ঞাপন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার একটি ছিল কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস নিয়ে নির্মিত একটি বিজ্ঞাপন, যেখানে অভিনয় করে রীতিমত তারকা হিসেবে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মডেল ফারহানা শাহরিন ফারিয়া। খবর বিবিসির।

সম্প্রতি মিডিয়া জগতের কাজের ক্ষেত্রে নানারকম হয়রানির কথা উঠে এসেছে তার এক মডেল ফারহানা শাহরিন ফারিয়ার সাক্ষাতকারে। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন মিডিয়া জগতে কাজ করতে হলে তার ভাষায় ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়।

ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে এবং একাধিক স্ট্যাটাসে হয়রানির বিষয়টিতে কথা বলেছেন ফারহানা শাহরিন ফারিয়া। তিনি বলেন, আমি ছিলাম লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ এর সেকেন্ড রানার আপ। মূলত যখন আমি বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ারের বিজ্ঞাপন করি তারপর থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বাজে প্রস্তাব পাই”, বলেন ফারিয়া।

কিন্তু এটি নিয়ে আগে মুখ খোলেননি কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, সবসময়ই তিনি এ বিষয়ে প্রতিবাদ করে আসছেন। যার জন্য অনেক বড় বড় কাজ হারাতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন ‘সরাসরি অফার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাদের সাথে ‘পার্সোনাল রিলেশন’ মেইনটেইন করতে হবে। কেন আমি পার্সোনাল রিলেশন রাখবো? আমার কোয়ালিটি, বিউটি দিয়ে আমি কাজ করবো। এই অফারগুলির কারণে আমাকে অনেক কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছে। যেখানে আমার মনে হয়েছে আমার কোয়ালিটির চেয়ে ‘স্যাক্রিফাইস’ টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

কেন আমাকে কাজের অফার দেয়া হলো তার সাথে এমন শর্ত দেয়া হলো? কিন্তু বাংলাদেশে কাজ দেয়ার নাম করে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তার মত অনেকের কাছ থেকেই সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। কিন্তু এগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেন ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব স্থানীয় পরিচালকরা?

চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজক সোহানুর রহমান সোহানের কাছে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে ভালো খারাপ অনেক মানুষ আছে। কেউ ফিল্মকে হয়তো খারাপভাবে ব্যবহার করছে। তিনি (ফারিয়া) হয়তো এরকম কারো পাল্লায় পড়েছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর কাজ করছি। তবে আমার ক্ষেত্রে এমন কখনো ঘটেনি। আবার অনেকসময় কেউ কেউ আমাদেরও প্রস্তাব দিয়ে সুযোগ নিতে চায়, যেটা কখনো সম্ভব না’।

তবে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ নিয়ে প্রযোজক বা পরিচালক সমিতিতে জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রথমবার নাটকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন জেসিয়া

বিনোদন ডেস্ক: মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৭ প্রতিযোগিতার বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম। চীনে মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অনেকটা আশা জাগিয়ে বাদ পড়লেও দেশের মানুষের বাহবা পেয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে মন দিয়েছিলেন পড়াশোনায়। বলেছিলেন, সুযোগ হলে কাজ করবেন সিনেমায়।

তবে এবার সিনেমায় নয়, অভিনয়ে জেসিয়ার অভিষেক হলো ধারাবাহিক নাটকে। ‘ব্যাচেলর ডটকম’ নাটকটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছেন এই তরুণী। নাটকটির নির্মাতা ইফতেখার শুভ।

ব্যাচেলর ডটকমে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জেসিয়া ইসলাম বলেন, ‘এ নাটকের গল্প বেশ মজার। তাই রাজি হয়েছি। এখানে আমার প্রবেশ ঘটবে নতুন ব্যাচেলর হিসেবে। প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছি এ নিয়ে অনেক এক্সাইটেড আমি। আপাতত পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। এ মাসের শেষের দিকে নাটকটির শুটিংয়ে অংশ নেব।’

ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র হলে নিয়মিত নাটকে কাজ করবেন বলে জানালেম জেসিয়া। এদিকে বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। চলছে যাছাই-বাছাই।

প্রসঙ্গত, ইফতেখার শুভ পরিচালিত ধারাবাহিক ব্যাচেলর ডটকমের বিভিন্ন চরিত্রে আরও রয়েছেন ছোটপর্দার এক ঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে তৌসিফ মাহবুব, নিলয়, জোভান, সিদ্দিক, নাদিয়া আফরিন মীম, নাদিয়া নদী, বাঁধন, আইরিন আফরোজ, তুলনা আল হারুন, তানিয়া বৃষ্টি, ফারজানা রিক্তা, ফারুখ আহমেদ, আহমেদ রুবেল, বরদা মিঠু ও কাজী উজ্জ্বল উল্লেখযোগ্য। নাটকটি প্রতি সপ্তাহের শনি থেকে সোমবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে একুশে টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জয় এখন কোথায় যাবে?

বিনোদন ডেস্ক:ঢাকা: ঢালিউডের আলোচিত জুটি শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের সংসার ভাঙনের খবর গতকাল বিকেল থেকে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সবার এখন একটাই প্রশ্ন শাকিব-অপুর একমাত্র ছেলে আব্রাম খান জয় এখন কার কাছে থাকবে?

জানা গেছে, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান।

সোমবার অপু বিশ্বাসের বাসায় এই তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রযোজক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। দুদিন আগেই অপু বিশ্বাসের বাসার ঠিকানায় এই তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন শাকিব খানের আইনজীবী। তবে এই তালাক কার্যকর হবে তিন মাস পর।

শাকিব খানের গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ ইকবাল জানান, অপু বিশ্বাসকে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদের মাধ্যমে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে শাকিব খানকে এসএমএস পাঠালে তিনি ফিরতি এসএমএসে বলেন, বর্তমানে নোলক ছবির শুটিং এ হায়দ্রাবাদে শুটিংয়ে আছি, পরে কথা বলছি। তারপর একটু পরেই তালাকনামার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, ‘অপুর কাছে ডিভোর্সের চিঠি পাঠিয়েছি। ৩০ নভেম্বর হায়দ্রাবাদ আসার আগে ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর করেছি।’

অপরদিকে চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘গণমাধ্যমের খবরে জেনেছি শাকিব আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি তা হাতে পাইনি। কারণ আমি বাসায় ছিলাম না।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের ব্যাপারটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রেখে তারা দুজন সমানতালে সিনেমার শুটিং অব্যাহত রাখেন। গত এপ্রিলে ঢাকাই ছবির নতুন নায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে শাকিব ঘরোয়া পরিবেশে একটি ছবি তোলেন। ছবিটিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। এর পরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। এ বছর ১০ এপ্রিল বিকেলে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয় মাস বয়সের ছেলে আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন অপু। সেদিন অপু বলেন, আমি শাকিবের স্ত্রী, আমাদের ছেলে আছে।

আট বছর আগের সে বিয়ের খবর জনসমক্ষে আসার পর দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দেন। শুধু ছেলে আব্রামের কারণে মাঝেমধ্যে দেখা হলেও কথা হয়নি দুজনের। এবার তাদের সেই টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে। শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে।

এই দুই জনপ্রিয় চিত্রতারকার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন শাকিবকে কোনো কিছু না জানিয়ে হুট করে টেলিভিশনে শিশুসন্তানকে নিয়ে অপুর হাজির হওয়া, নানা সময়ে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাকিব খান আর তার পরিবার নিয়ে অপুর কটূক্তি করা, অন্য নায়িকাদের সঙ্গে শাকিব খানকে জড়িয়ে মুখরোচক কথা বলা, একমাত্র সন্তানের জন্মদিন বাবা শাকিব খানের অর্থে উদ্যাপন করা হলেও দাওয়াতপত্রে শুধু মা অপুর স্থিরচিত্র ব্যবহার করা, আর গত কয়েক মাসে দেশের সিনেমায় যারা প্রকাশ্যে শাকিব খানের বিরোধিতা করছিলেন, তাদের সঙ্গে অপুর সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং কাজ করা।

এর আগে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অপু বলেন, আমি ডিভোর্স নিয়ে এখনই কিছু বলব না। আর বিবাহবিচ্ছেদ হলে আপনারা তখন জানতেই পারবেন। বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত। যদি এমন কিছু ঘটে, তা আমি নিজেই আপনাদের ডেকে জানাব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ টানা তিন দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, তার আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং রমজান আলী সিকদার।

অন্যদিকে আদালতে বাস মালিকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও ইমরান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর মামলাটি শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করে রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তা শেষ করা হয়েছে।

আইনজীবী সারা হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাসচালক ৩০ লাখ, বাসমালিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৮০ হাজার টাকা দেবে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ মোট সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলেন। আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে ৭ জন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে ৫ জন ও রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।

এরপর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিনেন্সের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন।

পরে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ দুটি মামলা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের স্ত্রী কানিজ এফ কাজী ও ছেলে সুহৃদ মুনীরের ওই দুটি আবেদন করেন। পরে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন।

রুলে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি কেন উচ্চ আদালতে বদলি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলা দুটির নথি তলব করা হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলা ও মোটর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে করা মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতির কাছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইমরান ও নাদিয়া’র কেমেস্ট্রি

গানের নাম ‘লাগে বুকে লাগে’। গানটিতে রয়েছে একাধিক চমক। গানটিতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন ভারতের অন্বেষা দত্ত। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে গাইলেন তারা দু’জন ।

‘লাগে বুকে লাগে কেন জানিস/ আগলে রাখি তোকে নিজের আগে’ এমন কথার গানটি লিখেছেন জুলফিকার রাসেল। আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই। গানটি প্রকাশ করছে ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’ (ডি এম এস)। এই গানের ভিডিওতে ইমরানের সঙ্গে মডেল হয়েছেন নাদিয়া নদী। ইমরান ও নাদিয়া নদী জুটির এটিই প্রথম মিউজিক ভিডিও। তাদের কেমেস্ট্রি দর্শক-শ্রোতাদের নিয়ে যাবে ভাবনার রাজ্যে। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছে প্রডাকশন হাউজ ‘প্রেক্ষাগৃহ’। ঢাকার বেশ কয়েকটি মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত গানটির ভিডিও পরিচালনা করছেন-শাহরিয়ার পলক।

এ বিষয়ে ইমরান বলেন, ‘লাগে বুকে লাগে’ একটি আবেদনের গান। গানের কথায় জুলফিকার রাসেল ভাই যেমন মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি ভিডিওতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন পলক ভাই। গানটিতে যে আবেদন, আবেগ, অনুভুতি আশা করছি তা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে বেশ বড় আয়োজনের মিউজিক ভিডিওটিও দর্শকদের ভালো লাগবে।

অন্বেষা দত্ত বলেন, কিছু কিছু গানের কথা, সুর আর কম্পোজিশন এমন থাকে যে, গানটার ভেতরেই ‘লাভ এট ফার্স্ট লিসেনিং’ বিষয়টা থাকে। ‘লাগে বুকে লাগে’ ঠিক এমনই একটি গান। ইমরান আমার খুব পছন্দের একজন শিল্পী। তার বেশ কিছু গান আমি শুনেছি। খুবই ভালো লাগে তার গান। এবার একসঙ্গে গাইলাম। আশাকরি গানটির অডিও এবং ভিডিও দর্শক- শ্রোতার ভালো লাগবে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’ (ডিএমএস) সুত্রে জানা যায়, খুব শীঘ্রই তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে ‘লাগে বুকে লাগে। পাশাপাশি গানটি পাওয়া যাবে জিপি মিউজিক এবং ইয়োন্ডার মিউজিকে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই

আগস্ট ৩০, ২০১৭:

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গুণী এই শিল্পীর ছেলে বাবু জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বাবার মৃত্যু হয়।

শনিবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে ছিলেন। তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবব্রত বণিক জানিয়েছিলেন, শনিবার রাত থেকেই আবদুল জব্বার সংজ্ঞাহীন হয়ে কোমায় আছেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার রক্তচাপ দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। শরীরের অন্য অর্গানগুলোও কাজ করছে না। তাই অবস্থা একদমই ভালো নয়।

শিল্পী আবদুল জব্বার বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের ৬২০ নম্বর কক্ষে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। চলতি বছরের ৩১ মে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখছ কভু জীবনের পরাজয়’সহ ছয় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আবদুল জব্বার। তিনি বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পদকে (১৯৯৬) ভূষিত হয়েছেন। আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালে ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাইতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভিতে (তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন) নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতে পথে-প্রান্তরে বিভিন্ন স্থানে সংগীত পরিবেশন করে যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ওই সময়ে এভাবে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশি শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পগুলোতে গান শুনিয়ে তাদের উজ্জীবিত করেছিলেন আবদুল জব্বার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রবি ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস বিশ্বমানবতায় রবীন্দ্রনাথ

এস কে দাস: মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। তিনি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শনের অন্বেষণেই ছিলেন ।তিনি আমাদের রবীন্দ্রনাথ।

তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গণে যে ছাপ রেখে গেছেন, তা মুছে যাবার নয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারত- দু’দেশের মানুষের প্রাণের কবি। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনা শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য নয়।  তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য লেখনী মানুষকে আজো সেই অন্বেষণের পথে, তার উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…` গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও তার লেখা।

আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সশরীরে না থাকলেও তিনি গানে, কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, ছবিতে প্রবলভাবে রয়েছেন আমাদের মাঝে।

তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন এভাবে- ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। মেঘবরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট! রক্ত কমলকর, রক্ত-অধরপুট, তাপ বিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান।’ রবীন্দ্রনাথ প্রয়াত হওয়ার আগেই প্রয়াণ উপলব্ধি করেছেন নানাভাবে। আমরা তার কাব্যে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি শুনেছি বারবার। প্রতিবারই মৃত্যুকে জয়ের এক আরাধনাপ্রতিম প্রয়াস ছিল তার।

তিনি মৃত্যুকে বড় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে প্রিয়তমা স্ত্রীর বিয়োগে। কবি যখন দূরে থাকতেন স্ত্রী মৃণালিণী দেবীকে ‘ভাই ছুটি’ সম্বোধন করে চিঠি লিখতেন। কবির সেই ‘ছুটি’ যখন সংসার জীবন থেকে সত্যিই একদিন ছুটি নিয়ে চলে গেলেন, তার বয়স তখন মাত্র ঊনত্রিশ। কিশোর বয়সে হারান বন্ধুপ্রতিম বৌদি কাদম্বরী দেবীকে।

কবি জীবনস্মৃতিতে লেখেন : ‘জগৎকে সম্পূর্ণ করিয়া এবং সুন্দর করিয়া দেখিবার জন্য যে দূরত্ব প্রয়োজন, মৃত্যু দূরত্ব ঘটাইয়া দিয়াছিল। আমি নির্লিপ্ত হইয়া দাঁড়াইয়া মরণের বৃহৎ পটভূমিকার উপর সংসারের ছবিটি দেখিলাম এবং জানিলাম, তাহা বডডো মনোহর।’ এভাবেই তিনি সাহসের সঙ্গে মৃত্যুশোককে জয় করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়।  ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী ’প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্প’র বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মত্যুর পর ৩৬ খন্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী ’ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া ১৯ খন্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্ম’র সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে।

বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথ ভক্তদের কাছে একটি বেদনাময় দিন। জীবনের শেষ নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তার কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ লেখাটি। তারও ক’দিন পর রোগশয্যায় শুয়েই লিখলেন ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভালো। মৃত্যুর মাত্র সাত দিন আগে পর্যন্তও কবি সৃষ্টিশীল ছিলেন। ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মৃত্যু পথযাত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ঘড়িতে বেলা ১২টা বেজে ১০ মিনিট। কবি চলে গেলেন অমৃত আলোকের নতুন দেশে।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ রোববার বিকেল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘পরিবেশ, নির্মাণসংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট স্থপতি, রবীন্দ্র গবেষক ও পরিবেশবিদ অরুণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জমান। পরে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, শিশু একাডেমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free