প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাক-প্রাথমিকে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু

ডেস্ক: সারাদেশে সরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, পুল ও প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের মামলা জটিলতায় গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত ছিল। এ ক্যাটাগরির শিক্ষকদের নিয়োগ জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও সে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে।

জানা গেছে, বর্তমানে পুল-প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় নতুনভাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিপিইতে সভা হয়েছে। সে সভায় ২০১৪ সালের নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও এ নিয়োগ কার্যক্রম শেষে সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য আসনে নতুন করে নিয়োগ দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে ডিপিইর নিয়োগ কমিটিকে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ কাজ শুরু করা হবে বলে ডিপিই’র নিয়োগ শাখা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে আবেদন শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে আবেদন প্রক্রিয়া, সেখানে ১০ হাজার আসনে প্রায় ১২ লাখ আবেদন জমা পড়ে। পরে মামলা জটিলতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। এরপর পুল ও প্যানেলের সকল শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে গত ৩০ মার্চের মধ্যে এসব শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের সব জেলা থেকে শূন্য আসনের তালিকা সংগ্রহ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদফতর।

জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি শূন্য রয়েছে। তার মধ্যে ১৭ হাজার পুল ও প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ডিপিই’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী বলেন, ২০১০ সালের স্থাগিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করা হবে। চলতি সপ্তাহে সভা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট দূরীকরণে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পুল-প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছি। বয়স উত্তীর্ণ হওয়ায় সাতজন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমরা লিখিভাবে আদালতকে জানিয়েছি। ফলে এখন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই।

তিনি বলেন, সারাদেশের প্রাথমিক স্কুলগুলোতে সহকারী শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে স্থগিত নিয়োগ কার্যক্রম শেষে শূন্য আসনগুলোতে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইম‌স্কেল নিয়ে জ‌টিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩জানুয়ারী ২০১৮: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এই আদেশের ফলে ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত যা‌দের ১ম.২য় এবং ৩য় টাইম‌স্কেল ‌ডিউ হ‌য়ে‌ছে তারা টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রনালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৬০১। এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৫০ হাজারের মতো। অন্য সব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ ৫০ হাজারের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৫ হাজার ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১০ হাজারের কাছাকাছি।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল দুই ধাপ উন্নীত করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠকের পর গত ১৫ নভেম্বর যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ অংশই বাদ পড়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত কতজন টাইমস্কেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত আছে তার একটা খছড়া হিসাব চেয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে একটা খছড়া তালিকা তৈরি হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তালিকা মন্ত্রনালয়ে পৌছাবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। তারপরেই তারা অর্থমন্ত্রনালয়ে তালিকাসহ প্রস্তাব পাঠাবে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিয়ে আমরা মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে পারব।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষামন্ত্রনালয়ের সচিব আসিফ-উজ-জামান দৈনিক বর্তমানকে বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকে সুবিধামত বদলিতে লাগবে মেধা পরীক্ষা

প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা যোগ্যতার পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হলেই ঢাকায় সুবিধামত স্থানে বদলি হতে পারবেন। রাজধানীর সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে বদলির ক্ষেত্রে এমন বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের সংশোধিত বদলির নীতিমালা খসড়াতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বদলির আবেদন করা যাবে না। তবে বিশেষ কারণে যে কোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বদলির নীতিমালা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে স্কুল শিক্ষকদের যৌক্তিক কারণে বা প্রয়োজনে বদলি করা সম্ভব হয় না। চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে হলে স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যায় না। প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের স্কুলে যোগদান করতে হচ্ছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি নীতিমালা সংশোধনের কাজ শুরু করে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজধানীর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বদলির ক্ষেত্রে মেধা পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সে পরীক্ষায় উর্ত্তীণরাই শুধু এসব স্থানে বদলি হতে পারবেন। চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে, স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যেকোনো সময় বদলি হওয়া যাবে, দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ১০ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন, জাতীয়করণ অনেক শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা প্রেষণে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন। তবে, সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

জানা গেছে, আগের মতো শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন। আর দুই বছরের মধ্যেই নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে বিশেষ কারণে যেকোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে। ইতোমধ্যে বদলি সংশোধিত নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিজিই এ বিষয়ে সুপরিশ পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব মো আসিফুজামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঢাকায় বদলির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি অন্তভুক্ত করার পরামর্শ দেন সচিব। এছাড়াও শিক্ষক বদলিতে মন্ত্রণালয়ের কোনো হস্তক্ষেপ না রাখার বিষয়টি তিনি অন্তভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তী সভায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিক্ষক বদলি নীতিমালায় কিছু জটিলতা থাকার কারণে অনেক শিক্ষক নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। এসব কারণে বদলি নীতিমালায় সেসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় অনেকে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে আবার চাকরি ছেড়ে দেন বা ঝুঁকি নিয়েই চাকরিতে থাকছেন। এমন অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেই আলোকে আমরা বদলির নীতিমালা পরিবর্তনের কাজ করছি। এখন থেকে বিশেষ কারণে বছরের যেকোনো সময় শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে বদলি করা হবে। খসড়া তৈরি হয়েছে। সবার মতামত চাওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চান। এ কারণে সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে বদলিদের সুযোগ মেধাবী শিক্ষকদের দেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৩ ডিসেম্বর: প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।
এতে মহাজোটের বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এসেছেন অনশন কর্মসূচিতে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে।
জোটের নেতারা দাবি আদায়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, এখন থেকে বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরে যাব না।

দপ্তরের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায় থেকে বৈষম্য কমানোর আশ্বাস প্রদান করা হলেও দীর্ঘ চার বছরে বৈষম্য না কমিয়ে তাদেরকে চরম হতাশার মাঝে ফেলে রাখায় তাদের দাবী আদায়ের জন্য সহকারী শিক্ষকদের সব সংগঠন এক হয়ে মহা জোট গঠন করে অাজ ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়। সহকারী শিক্ষক সংগঠনের সাথে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি,প্রধান শিক্ষক সমিতি সহকারী সংগঠনগুলোর সাথে আন্দোলনে যোগ দিলে আজ শহীদ মিনার জনসমুদ্রে রুপ নেয়।

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরন অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানা যায়। অনশনে যোগ দেওয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও বনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিথুন আহমেদ বলেন আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত এখন অনশন চালিয়ে যাব।

অন্যদিকে অনশনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, আমরা প্রধান ও সহকারীদের মধ্যে এত ব্যবধান চাইনা,আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে আমাদের সহকারী ও প্রধানদের রেখে গেছেন আমরা সেভাবেই বেতন ব্যাবধান চাই, নইলে সহকারীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাদের বিদ্যালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করা দূরুহ হয়ে পড়বে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পাবনায় সমাবেশ

পাবনা:

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সমাবেশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে পাবনা শহরের পিটিআই স্কুলের মাঠে জেলার ৯টি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকরা এ সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানা হলে ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।

এতে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, একে এম শরিফুল ইসলাম, মো. তায়েজুল ইসলাম, মো. আব্দুল মান্নান, মামুনুর রশিদ, আরিফুল ইসলাম মিঠু, মৌসুমী দে প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অসামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষিকা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা : স্বামীর অনুপস্থিতিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে খুলনা সদর থানার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অসীত কুমার বর্মন এবং মহানগরীর পশ্চিম টুটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মহনগরীর দক্ষিণ টুটপাড়াস্থ দিলখোলা রোড এলাকায় নুসরাতের বাসা থেকে খুলনা সদরথানা পুলিশ তাদের আটক করে। এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলির স্বামী এসএম মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দু’ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

আটক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অসীত কুমার বর্মন সাতক্ষীরা জেলা সদরের রাজনগর গ্রামের অমল কুমার বর্মনের ছেলে এবং শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলি একই জেলার তালা উপজেলার হরিনগর গ্রামের জাহাতাব উদ্দিন গোলদারের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িত আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বাড়ই শুক্রবার বলেন, শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলির স্বামী এসএম মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। কিন্তু তিনি শহরের সাত রাস্তার মোড় পর্যন্ত গিয়ে আবার বাসায় ফেরেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে দেখতে পান তার স্ত্রী এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অসীত কুমার বর্মন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের আটক করে তিনি পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ পোদ্দার জানান শুক্রবার সকালে তিনি দু’জনের আটকের খবরটি শুনেছেন। কিন্তু অফিস ছুটি থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অফিস খুললে রোববার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১২তম গ্রেডে বেতন দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ও কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :

প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে বেতন স্কেলের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট গোপালগঞ্জ জেলা শাখা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আজ শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জ রিপোর্টার্স ফোরাম প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম সিকদার।

এ সময় তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। আর সহকারী শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে ১৫তম গ্রেডে। যা বৈষম্যমূলক। প্রধান শিক্ষকদের যে গ্রেডে বেতন দেওয়া হোক না কেন, তার নিচের গ্রেডে সহকারী শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় জেলা কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান শেখ, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান, কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি রসময় রত্ন ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, একই দাবিতে কুড়িগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা না হলে আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হর চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বকসী প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নিয়ে অর্থ বিভাগের নভেম্বর ১৫’র ‘গোঁজামিলের আদেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই আদেশকে ‘অস্পষ্ট’ ‘অসম্পূর্ণ’ ও ‘গোঁজামিলের’ আদেশ বলে আখ্যায়িত করেছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রধান শিক্ষকেরা। আদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরাই শুধু লাভবান হয়েছেন। দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানান প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নেতারা। শিক্ষক নেতারা বলেন, ওই আদেশে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
১৫ নভেম্বরের আদেশের ফলে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডেই রয়ে গেছেন। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা তিনটি টাইম স্কেল পেয়ে অষ্টম গ্রেডে বেতন পাবেন। জাতীয়করণকৃতরাও একই সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।যদিও নিয়ম অনুযাযী তারা পাবেন না। কারন জাতীয়করনকৃত প্রধান শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি হয় ২০০৮ সালে। অর্থাৎ ২০০৮ সালে সবাই পদ্দোন্নতীপ্রাপ্ত। সেই হিসাবে জাতীয়করনদের পাবার কথা নয়। কিন্তু শিক্ষা অফিস এবং হিসাব বিভাগ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে তাদের উন্নীত স্কেল দেবার সম্ভাবনা খুব বেশি।

প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা কি সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে ওপরের গ্রেডে বেতন পাবেন? সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আবার ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্তরা অষ্টম গ্রেড পাচ্ছেন না। বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে টাইম স্কেল পাওয়া-না-পাওয়া নিয়ে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা জানান, ৯ মার্চ ২০১৪’র পর যারা টাইস স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫’র পর যারা টাইম স্কেল প্রাপ্য হয়েছেন, তারাও ১৫ নভেম্বরের আদেশে ক্ষুব্ধ।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বঞ্চনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ১৫ নভেম্বরের আদেশে দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা উন্নীত স্কেলের বেতন নির্ধারণী সুবিধা পচ্ছেন না। তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদার ঘোষণা দেয়া হলেও তা পাননি, বেতন স্কেলের সুবিধাও তাদের কপালে জুটল না। এটা মানতে নারাজ প্রধান শিক্ষকেরা। তিনি বলেন, বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে অর্জিত সরকারি সুবিধা শুধু যেন ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া না হলে, হিতে বিপরীত হবে।
বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়  প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক  স্বরুপ দাস বলেন, ১৫ নভেম্বরের আদেশে ৯ মার্চ ২০১৪’র থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫’ পর‌্যন্ত  যারা টাইস স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন  তাদের ব্যাপারে সুনিদিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত নেই। ফলে তারা কি করবেন তা নিয়ে পড়েছেন দিধাদ্বন্দতে । এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পযায় থেকে আসেনি কোন সিদ্ধা্ত।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা না হলে, বেতন নির্ধারণের সব ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এটিকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৬০১। এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৫০ হাজারের মতো। অন্য সব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ ৫০ হাজারের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৫ হাজার ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১০ হাজারের কাছাকাছি।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল দুই ধাপ উন্নীত করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায় তিন বছরের দাবি-আন্দোলন, দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠকের পর গত ১৫ নভেম্বর যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ অংশই বাদ পড়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ফলে উন্নীত বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার নি¤œরূপ নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ক) বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার পূর্বে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ যিনি যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত পূর্বে তার সর্বশেষ আহরিত/প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ঐ ধাপে, ধাপে না মিললে বি.এস.আর. ১ম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নি¤œধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পি.পি. হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত পি.পি (চবৎংড়হধষ চধু) পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে সমন্বয়যোগ্য হবে।
খ) বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার পূর্বে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে যিনি যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত পূর্বে তার সর্বশেষ আহরিত/প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ঐ ধাপে, ধাপে না মিললে বি.এস.আর. ১ম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নি¤œধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পি.পি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত পি.পি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।
গ) উক্ত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণকালে মাঝখানে কোনো বেতন স্কেল/গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের এক দফা দাবিতে আল্টিমেটাম

২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশণে যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকেরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনশণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক মহাজোট। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল বাড়লেও সহকারী শিক্ষকেরা এখনো আগের অবস্থায়ই আছেন। সহকারী শিক্ষকেরা এখন প্রধান শিক্ষকদের তিন ধাপ নিচে বেতন পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকদের বেতন আরেক ধাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি জানান, এমনটা হলে তাদের সাথে বেতনবৈষম্য চার ধাপ বৃদ্ধি পাবে।  ফলে সহকারী শিক্ষকরা এ পেশায় থাকতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আমরা সহকারি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের শুধু আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। তাই সহকারি শিক্ষকরা দাবি আদায়ে আমরণ অনশনে যাচ্ছে।

শিক্ষক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,  সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর গণশুনানিতে ডিপিইর মহাপরিচালকের কাছে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে কি না জানতে চান। কিন্তু ডিপিইর ডিজি এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকেরা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা ভোগ করছেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষকেরা এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর স্তরে রয়ে গেছেন।

অথচ কিছু দিন আগেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা সমমর্যাদার (তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী) ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের শুরু থেকেই সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে ছিল। ২৯ আগস্ট ২০০৬ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের দুই ধাপ নিচে নির্ধারণ করা হয়। এ ধারা এখনো বিরাজমান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম ও সর্বশেষ পে-স্কেলেও এ ধাপ বজায় রাখা হয়।

গত ৪ বছর ধরে বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের জন্য অব্যাহত আন্দোলন করার পরও মন্ত্রণালয় এবং ডিপিইর কোনো ধরনের উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর এবং পয়লা ডিসেম্বর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ঢাকায়। এমন পরিস্থিতিতে সহকারী শিক্ষকদের সব কয়টি সংগঠন প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে জোটবদ্ধ হয়ে আগামী ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি দিয়েছেন।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রাথমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করা হবে। বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারাবিশ্ব প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ গাড়ি হবে চালকবিহীন। প্রযুক্তির এ সুফল বাংলাদেশও পেতে চায়। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে সরকার।

জয় বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তির ব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে।

প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। কনফারেন্সে ভুটান, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়াসহ পাঁচ দেশের মন্ত্রী ও সাত দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দামুড়হুদাসহ বাংলাদেশের স্কুলে শিক্ষার ভয়াবহ চিত্র

নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশে শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের পরিচালিত এক গবেষণা বলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষার মাত্র ৪০ শতাংশ স্কুল থেকে পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন শীর্ষক এই গবেষণায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। খবর বিবিসির

পঞ্চম শ্রেণীর ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীরই গণিত শিক্ষার মান নিম্ন। অন্যদিকে, তৃতীয় শ্রেণীর ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ভাষা শিক্ষার মান নিম্ন।

বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০০। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২কোটি ১৯ লাখ। ফলে, শিক্ষা গবেষকরা বলেন, এই সব স্কুলের শিক্ষার মানের সাথে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা গবেষক ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান এবং অপ্রতুলতা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, তাদের পরিচালিত ২০১৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্কুলে শিক্ষা না পেয়ে শিক্ষার্থী কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ছে।

সরকারের প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস-উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা এই গবেষণার ফলাফল গ্রহণ করছেন এবং সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছেন।

গণিতের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাথমিক স্কুল স্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তবে ঢাকার এক স্কুলের একজন প্রাথমিক শিক্ষক বলেছেন, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হলো শিক্ষক স্বল্পতা।

ঢাকার আমতলী স্টাফ কোয়ার্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাতিমা শারমিন জানান, তার স্কুলে ৫২৯ জন শিক্ষার্থীর বদলে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১০ জন।

অর্থাৎ একজন শিক্ষককে গড়ে ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে সামলাতে হয় যেখানে সরকারি নীতিতেই এই সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হওয়ার কথা নয়। গ্রামাঞ্চলে এই চিত্র আরো বেশি খারাপ।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে থাকার চেয়ে আনুষাঙ্গিক কাজে বেশি ব্যস্ত রাখা হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারে না। শি জরীপের নামে শিক্ষকদের করা হয় হয়রানী।

তিনি আরও বলেন একজন শিক্ষক যদি গণিতের যোগ শেখান তবে তাকে আগে ভাবে পাঠটীকা লিখতে হয়।  এটা না লিখলে কি ক্ষতি হয় তা আমাদের জানা নেই।

‘এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, তারপর একেকজনের মেধার স্তর একেক রকম। সবার প্রতি আমরা প্রয়োজনীয় নজর দিতে পারছি না, ফলে অনেক কম-মেধার ছাত্র-ছাত্রী হারিয়ে যাচ্ছে।’

‘প্রশিক্ষণের সময় আমাদের শেখানো হয় ক্লাস নেওয়ার আগে প্রস্তুতি নিতে, কিন্তু সময় কোথায়?’

বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এবং ঝরে না পড়ার দিকে নজর দিলেও, শিক্ষার মান নিয়ে দিন দিন আশঙ্কা তৈরি হচেছ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন একিভুত

ডেস্ক:আজ সকালে ঢাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সংগঠনগুলোর জোট “বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট” এর পক্ষ থেকে জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সকল সহকারী শিক্ষক সংগঠনগুলো মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বেতন বৈষম্য নিরসন, শতভাগ পদোন্নতি সহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় মহাজোটভুক্ত সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, আইনি লড়াই সহ শিক্ষক অধিকার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিবদ্ধ সংগঠনগুলো হলো:
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ(১২১৯৮),
জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন (১২১৯৯),
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ(১২০৪৮),
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি(১২০৬৮).

চুক্তিনামায় ২৩ টি ধারার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ:

১. বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট” নামেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা।
১. ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগ্রহণ।
২.দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে ঐক্যের নীতিমালা কার্যকর রেখে যার যার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৩. প্রতি সংগঠন থেকে ১ জন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে শিক্ষক অধিকার সংক্রান্ত মামলার কমিটি গঠন করা।
৪. লটারির মাধ্যমে যে কোন প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব সহ অন্যান্য দায়িত্ব বন্টন করা।
৫.মহাজোটের বাহিরে কোন সহকারী শিক্ষক সংগঠন থাকলে ঐ সংগঠনকে মহাজোটে অন্তর্ভূক্ত করা।

মামলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত :
বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত ৪০৩৮ /২০১৪ রীটসহ সকল রীটের কার্যক্রম মহাজোটের মাধ্যমে পরিচালনা করা। প্রয়োজনে আর্জি সংশোধন বা নতুন রীট করা।

কর্মসূচি :
বেতন বৈষম্য নিরসনসহ সহকারী শিক্ষকদের যোক্তিক দাবি আদায়ে আগামী ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১১:০০ ঘটিকায় ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং দেশের ৬৪ টি জেলা প্রেস ক্লাবে একযোগে সংবাদ সম্মলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২৩ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন চলবে।

মহাজোট নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
জনাব তপন কুমার মন্ডল,মোহাম্মদ শামছুদ্দীন, শাহিনুর আক্তার, শাহিনূর আল-আমিন, জাফরুল্লাহ জাফর, গোফরান মোস্তফা, লুৎফর রহমান শামীম,মাসুদ রানা,রফিকুল ইসলাম, আমিনুল হক ভুইয়া, নাসিম ফারুক প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ সময়ের প্রয়োজনে সবাইকে মহাজোটের পতাকাতলে এসে দাবী আদায়ের পথ সুগম করার আহবান জানান।।।।।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করন শিক্ষকরা কি উন্নিত বেতন স্কেলের সুবিধা পাচ্ছেন?

মুরাদ হোসেন,ঢাকা,২৭ নভেম্বর: সদ্য জাতীয়করণকৃত (রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলোনা।

শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিলো| ১৪-৭-২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ ( অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (জাতীয়কর) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।

সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২/৫/২০১০ স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮এ-১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত ( সদ্য জাতীয়করণকৃত) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে (৫৫০০-১২০৯৫/-) এমপিও ভুক্তকরণ করেছিলেন|

অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে তাদেরকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে গননা করা শুরু করলে কারও টাইমস্কেল পাবার কথা নয়। কিন্তু এক শ্রেণির সরকারী কর্মকর্তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে জাতীয়করনকৃত শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে তারা

(খ) চাকুরীকাল গণনার ক্ষেত্রে পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেলায় সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক উভয়ের সমষ্টির ভিত্তিতে চাকুরীকাল গণনা করতে বলায় (যদিও শর্তটি কেবলমাত্র চাকুরি গণনা ও ইনক্রিমেন্ট সুবিধার প্রয়োজনে ) তবুও এ নির্দশনাকে নিজেদের সুবিধার মানসে ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৮.০০০৭. ০১৫.০০০.০৩.০০.২০১৩.৮১১০৫ তারিখঃ ০৯ নভেম্বর ২০১৪ এর টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান অনুসরনের নির্দেশনাকে গোপনে রেখে (উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিধি ও নিয়ম বর্হিভূত ভাবে (১৪/৭/২০০৮ তারিখের পরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির পরে ১/২/৩ বছরের সময় ব্যবধানে ) ১/২/৩ টি টাইমস্কেল সুবিধা প্রদান করেছেন।

শূধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন নির্ধারণ চিঠি ইস্যু হয়েছে । ১৫ নভেম্বর ২০১৭ সংক্রান্ত একটি জিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনু বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে যার নং ০৭.০০.০০০০ .১৬১.৩৮.০০.০০১.১৭.২৩১ । এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদের উন্নীত স্কেলে বেতন পাবেন।

এটি ৯ মার্চ ২০১৪ থেকেই কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে। অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনু বিভাগের সহকারি সচিব মো: সামীম আহসান স্বাক্ষরিত সরকারি ওই আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ফলে উন্নীত বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার নিন্মরৃপ নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার আগে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা যিনি যে সংখ্যক টাইমস্কেল পেয়েছেন বা প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের ওপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত আগে তার সর্বশেষ আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ওই ধাপে, ধাপে না মিললে বিএসআর প্রথম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পিপি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং ওই পিপি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

বেতনস্কেল উন্নীত হওয়ার আগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষক পদে যিনি যে-সংখ্যক টাইমস্কেল পেয়েছেন বা প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত আগে তার সর্বশেষ আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ওই ধাপে, ধাপে না মিললে বিএসআর প্রথম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নিন্মধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পিপি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং ওই পিপি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

গ) ওই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণকালে মাঝখানে কোন বেতনস্কেল বা গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দু’ধাপ উন্নীত করে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ মর্যাদা ঘোষণা দেন। সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ মর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে   প্রধানশিক্ষক সমিতির  দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের দাবি ও আন্দোলন এবং দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নেতাদের বৈঠকের প্রেক্ষিতেই এ আদেশ জারি হয়েছে।
পূর্বের প্রায় সাড় ৩৭০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১২০০০ বিদ্যালয়ে দায়িত্বপালন করছেন সিনিয়র সহকারি শিক্ষকবৃন্দ, আবার ২০০৯,২০১০,২০১৩ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৪৫০০ শিক্ষকবৃন্দ ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মরত প্রায় ১৭০০০ প্রধান শিক্ষক বাদ দিলে মাত্র সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ ৪৫০০ থেকে ৫০০০ প্রধান শিক্ষক ক্রস্পন্ডিং সুবিধা পাবেন।

অথচ সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের নেতারা প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করে চলেছেন ৩২০০০ প্রধান শিক্ষক ক্রস্পন্ডিং সুবিধা পাবেন। সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকদের প্রায় ১০০০০ প্রধান শিক্ষক ২/৩ টি

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন করেছে ।

অনিয়মতান্ত্রিক টাইমস্কেলে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করায় এখনিই প্রতি শিক্ষক প্রতিমাসে প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করে আসছেন। তার উপরে সেই অবৈধ টাইমস্কেলগুলো গণনা করে যদি ক্রস্পন্ডিং সুবিধা নেয় তা হলে ঐ সকল প্রধান শিক্ষকের প্রতি মাসে প্রতিজনে প্রায় ১২০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা বেতন ভাতাদিসহ অতিরিক্ত উত্তোলিত হবে।

সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকেরা সেই অনিয়তান্ত্রিক সুবিধাদি নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে  জোর তদবির করে যাচ্ছেন।তাদের টাকার লোভে অনেক সৎ কর্মকর্তারা জরিয়ে পড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সচিব বরাবর আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকগণের টাইমস্কেল সুবিধা নেয়া কোন ভাবে বিধিসম্মত নয় তবে যেহেতু অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ টাইমস্কেলগুলো মঞ্জুর করেছেন সেহেতু সেই কর্তৃপক্ষকেই এটি বাতিল করে পুণঃ বেতন নির্ধারণের আদেশ দিতে হবে । আর তবেই তাদের কর্তৃক অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। এখন জনমনে প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অর্থ লোপাটের দায় কার ? শিক্ষা বিভাগের নাকি , হিসাব রক্ষণ অফিসের ?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ নভেম্বর ২০১৭: প্রাথমিক শিক্ষাকে একমূখী , বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত

শিক্ষা নিশ্চিকরণের লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাছিনা বিগত ০৯ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিঃ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে ঐতিহাসিক ঘোষনার মাধ্যমে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনয়নের ফলে ০১/০১/২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে তা কার্যকর।

সদ্য জাতীয়করণকৃত ( রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলনা। শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক ) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

১৪-৭ -২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ (অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (সদ্য জাতীয়করণকৃত) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০২/০৫/২০১০ তারিখের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮জি- ১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০,২০১১,২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ ( সদ্য জাতীয়করণকৃত ) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে ৫৫০০ -১২০৯৫/- এমপিও ভুক্তকরণ করে কার্যকরের তারিখ উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকগণকে পত্র প্রদান করেছিলেন।

তাছাড়া জাতীয়করনকৃত বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে সরাসরি কোন প্রধান শিক্ষক নেই। কারন সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ নিতে হলে মাষ্টার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। যা বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকের নেই।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও বাস্তবায়ন বিভাগের ১/১২/১৯৮৪ তারিখের স্মারকের অনুচ্ছেদ -৩ ও ২২/৩/১৯৯৫ অনুযায়ী সরকারি চাকুরি জীবিগণের টাইমস্কেল সুবিধা প্রাপ্তির বিধি অনুযায়ী ৩য় শ্রেণিভূক্ত কর্মচারি ( শিক্ষক ) গণ একই পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ০৮ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সুসম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১ম টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন। একই নিয়মে ১২ ও ১৫ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে ২য় ও ৩য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তেমনি ভাবে একজন ২য় শ্রেণিভূক্ত কর্মকর্তা (প্রধান শিক্ষক) একই পদে অথবা সম পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এক নাগাড়ে ৪ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পর সিলেকশান গ্রেড প্রাপ্য হবেন। ঠিক একই নিয়মে ৮ ও ১২ বছর চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে তিনি ১ম ও ২য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

সরকারি কর্মচারি, কর্মকর্তাবৃন্দের বেতন নির্ধারন সম্পর্কিত নির্দশনা যে কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ০১-১২-১৯৮৪ তারিখেরর স্মারকের গ এর নির্দেশনা মোতাবেক টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে একাধিক পদে চাকুরির ক্ষেত্রে পদ গুলী পরস্পর বদলীযোগ্য এবং একই স্কেলভূক্ত হলে তবেই সকল পদের চাকুরির দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ( চাকুরির সমষ্টি গণনা) টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া টাইমস্কেল প্রাপ্তির বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নতুন ভবন হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য ঢাকার মিরপুরে ১৫ তলা ভবন নির্মাণ হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এ ভবনটি নির্মিত হলে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা পূরণ হবে। তারা সুন্দর পরিবেশে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, দুটি পর্যায়ে ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দুই তলা ভবন নির্মাণ করা হবে, যার কার্যসম্পাদনের সময় ৮ মাস। নির্মাণের চুক্তি মূল্য ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার ৮২৬ টাকা। ৪৪টি গাড়ি রাখার সুবিধাসহ বেজমেন্ট থাকবে দুটি। এ ভবনের অন্যান্য সুবিধাসমূহ হচ্ছে- মাল্টিপল লিফট, আধুনিক কনফারেন্স কক্ষ, আধুনিক ডিজাইনের অফিস কক্ষ, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট, প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক টয়লেট, গাড়ি পার্কিংসহ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী, পরিচালক (প্রশাসন) ও মো. সাবের হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয় মিরপুরে অবস্থিত। তবে এতে স্থান সঙ্কুলান হয় না বলে নতুন ভবন নির্মাণ করছে সরকার। নতুন ভবন নির্মাণ হলে এটি অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free