প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিকে প্রতিটি ক্লাসের পর ১৫ মিনিট করে বিশ্রাম

ডেস্ক:
এবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিটি ক্লাসের পর শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট করে বিশ্রাম পাবে।

জানা গেছে, প্রতিটি ক্লাসের পর শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট করে বিশ্রাম পাবে। এ সময়ে তারা খেলার ছলে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনীমূলক কাজে নিয়োজিত থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের তিন জেলায় চারটি বিদ্যালয়ে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হবে।



এ লক্ষ্যে মডেল হিসেবে মাগুরা জেলার হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামে কুড়িগ্রাম ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রৌমারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নেত্রকোনায় ৩৬নং বালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুনভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন ও পাঠাদান কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শরীচর্চা ও ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ক্লাস শুরু হয়ে থাকে। কোথাও ৩৫ মিনিট আবার কোথাও ৪৫ মিনিট করে বিষয় ভিত্তিক ক্লাস করানো হয়ে থাকে। বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের স্কুল ছুটি দেয়া হয়।

দেখা গেছে, মডেল এ চার বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শরীরচর্চা শেষে ১০টায় ক্লাস শুরু হবে। মাঝে ৩০ মিনিট খেলার জন্য বিশ্রাম দেয়া হবে। এরপর পাঠদানের জন্য প্রতিটি বিষয়ের জন্য ক্লাস সময় ৪৫ মিনিট করে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট করে বিশ্রাম পাবে। সে সময়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের পচ্ছন্দ অনুযায়ী খেলার ছলে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা হবে। বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে ক্লাস শেষে বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে একঘেয়েমি দূর করতে ক্লাসের সময় ও খেলার ছলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি। মডেল হিসেবে চার বিদ্যালয়ে নতুন রুটিন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরবর্তী দুই মাস মনিটরিং করা হবে। এতে সফলতা আসলে যেখানে একটি শিফটে বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে সেখানে নতুন রুটিন অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৬৫ হাজার ৫৯০ সরকারি বিদ্যালয়ে এ পদ্ধতি চালু করা হবে।

সচিব বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আনন্দপূর্ণ করতে আমরা এমন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ পাবে। ক্লাসের জন্য নির্ধারিত ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি ক্লাসের পর শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট বিশ্রাম পাবে। এতে করে শিক্ষকরা পরবর্তী ক্লাসের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। শিক্ষার্থীরাও এ সময়টা খেলার ছলে নতুন জ্ঞানার্জন করতে পারবে। এ জন্য বিদ্যালয়গুলোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে বলেও জানা তিনি।

পোশাক কিনতে শিক্ষার্থীরা পাবে ২ হাজার টাকা, দ্বিগুণ হচ্ছে উপবৃত্তি

ডেস্ক,৩ সেপ্টেম্বর:
পোশাক কেনার জন্য প্রাথমিক স্তরের প্রত্যক শিক্ষার্থীকে দুই হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া উপবৃত্তির টাকার পরিমান দ্বিগুণ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

তবে, পোশাক কিনতে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের হাতে সরাসরি টাকা দেয়া হবে, নাকি পোশাক কিনে তা বিতরণ করা হবে সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় কোটি শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে প্রতিমাসে ১০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেয়া হয়। উপবৃত্তির টাকা যাতে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পায় সে জন্য রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মায়ের হাতে উপবৃত্তির টাকা তুলে দেয়া হয়। বিদ্যালয়গুলো অভিভাবক সভা করে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি চালু করার পর সারাদেশে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার প্রায় ৮৯ শতাংশ। এছাড়া উপবৃত্তির কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও অনেক কমেছে।

তাই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে এবং ঝরে পড়ার হার আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে উপবৃত্তির টাকা দ্বিগুণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন যেখানে একজন শিক্ষার্থী প্রতিমাসে ১০০ টাকা করে উপবৃত্তি পায়, তা দ্বিগুণ করে ২০০ টাকা করা হবে। প্রাথমিকে উপবৃত্তি দিতে এখন যেখানে মোট দেড় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়, সেখানে উপবৃত্তির টাকা দ্বিগুণ করা হলে প্রয়োজন হবে তিন হাজার কোটি টাকা।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির টাকার পরিমাণ খুব কম, এমন অভিযোগ করে উপবৃত্তির টাকার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অভিভাবকরা দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছেন। এছাড়া পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পোশাক ও খাতা, কলম ও স্কুলব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ কেনাকাটায় বরাদ্দ দেয়ার দাবি রয়েছে অভিভাবকদের।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, যারা স্কুলে যাবে তাদের প্রত্যেকেই উপবৃত্তির টাকা পাবে। মায়েদের হাতে উপবৃত্তির টাকা তুলে দেয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমেছে। অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন স্কুলে আসছে বলেও জানান তিনি।

টাইমস্কেল এবং বেতন ১০ম গ্রেড সহ বিভিন্ন জটিলতার দ্রুত নিরসন চান প্রধান শিক্ষকরা

ডেস্ক,১সেপ্ট‌েম্বর:
৯/৩/১৪ পরবর্তী টাইমস্কেল এবং বেতন ১০ম গ্রেড করাসহ বিভিন্ন জটিলতার দ্রুত নিরসন চান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে এবং দাবি আদায়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনাও ঠিক করেছেন শিক্ষকরা। শিগগিরই দাবি মানা না হলে আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন তারা বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের সূত্র জানিয়েছে, সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে বস‌েন রাজধানীর নবাবগঞ্জ সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বস‌েন সারা দ‌েশের প্রায় হাজারো প্রধান শিক্ষক। মিটিংয়ে টাইমস্কেল সমস্যার সমাধান, বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদ স্থায়ীকরণ, বিদ্যালয়ের সময় সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, বেতনস্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নতিকরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ আবেদন করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিত‌ির স‌িনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন‘টাইমস্কেলের ব্যাপারটি  মন্ত্রনালয়‌ের অনুদন‌ের অপ‌েক্ষায়।।এট‌ি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

১০ম গ্রেডের বিষয়ে সম‌িতির সভাপত‌ি র‌িয়াজ পারভ‌েজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ঘোষণা দিলেও ৫/৬ বছর ধরে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শ‌িক্ষাবান্ধব সচ‌িব জনাব আকরাম আল হাসান আমাদ‌ের জন্য সব সময় পজ‌িটিভ। ১০  গ্র‌েড ইত‌িমধ্য‌ে অর্থমন্ত্রনালয়‌ের বাস্তবায়ন শাখায়। আমরা দ্রুত দশমগ্রেড ও টাইমস্কেল প‌েতে যাচ্ছ‌ি। পাশাপাশ‌ি স‌িলেকশগ্রেড প‌েতে যাচ্ছি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দেনন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা দেয়াারও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সভায় কম‌িটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন,বিদ্যালয়‌ের সময়সুচ‌ি  কমানোর জন্য প্রধান শ‌িক্ষক সম‌িতি ইত‌িমধ্যে আব‌েদন দ‌িয়‌েছে। দ্রুত সেটা বাস্তবায়ন হব‌ে।

পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রুল জারি করেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেন এবং একই দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ রায়ের ফলে প্রাথমিকের ৬৫ হাজার ৫৯ জন প্রধান শিক্ষকের ভাগ্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৯ জন প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে এবং ৫০ হাজারের কাছাকাছি পদের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকদের জন্য ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ আদেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকদের এসব দাবি এখনো পূরণ হয়নি। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার তাগিদ শিক্ষকদের। অন্যথায় আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সভায় কম‌িটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন,বিদ্যালয়‌ের সময়সুচ‌ি কমানোর জন্য প্রধান শ‌িক্ষক সম‌িতি ইত‌িমধ্যে আব‌েদন দ‌িয়‌েছে। দ্রুত সেটা বাস্তবায়ন হব‌ে।
আরও বক্তব্য স‌িনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রঞ্জ‌িত ভট্রাচার্য,এসএম সাইদুল্লাহ, স‌িনিয়ার সহসভাপত‌ি জাহাঙ্গীর আলম, সব‌িনয় দ‌েওয়ান, ম‌োস্তাফ‌িজুর রহমান লাভলু,দেলনুর হ‌োসেন, জ‌িয়াউর রহমান, অরুন দাস, শাল‌িক আহম‌েদ, দ‌িলিপ মন্ডল, ম‌েহেরপুরের মোঃ তাল‌িম,দিদারুল আলম,ওমর ফারুক,জাহাঙ্গীর আব‌েদ, সাখাওয়াত হ‌োসেন, অর্থ সম্পাদক নুর‌েআলম, র‌িংকু মিত্র,কুতুব উদ্দিন, আব্দুল মোম‌িন,ফর‌িদপুরের স‌িরাজ,
সাংগাঠন‌িক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম,জেলা সাংগাঠন‌িক সম্পাদক আহসান হাবিব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

অবশেষে চুড়ান্ত- প্রাথমিকের প্রশ্ন প্রণয়ন স্ব স্ব বিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র স্ব স্ব বিদ্যালয়ে প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষকদের সৃজনশীল করতে এ নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষার সব প্রশ্ন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমানে উপজেলা/থানা পরীক্ষা পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।

শিক্ষকদের প্রশ্ন করার দক্ষতা না থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করতে প্রথমে শিক্ষকদের সৃজনশীল করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। এ কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব ক্লাসের পরীক্ষার (প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাদে) প্রশ্নপত্র স্ব স্ব বিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রণয়ন করতে হবে। উপজেলা বা থানা প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে বা অন্য কোনো সূত্র থেকে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করা যাবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রশ্নপত্র প্রণয়ন

দশম গ্রেড বাস্তবায়ন ও টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনে জরুরি সভা

ডেস্ক,২৮ আগষ্ট:
দশম গ্রেড বাস্তবায়ন ও টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনে জরুরি সভা ডেকেছে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টাই ঢাকার নবাবগঞ্জে নবাবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। জরুরী সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্য, জেলা/ উপজেলার প্রতিনিধি ও টাইমস্কেল বঞ্চিত সকল প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ ও সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম।


আলোচ্য সূচিতে আছে
(১) ১০ম গ্রেডের রায় বাস্তবায়নে করনীয়।
(২) বকেয়া টাইমস্কেল বাস্তবায়নে করনীয় ঠিক করা।
(৩) সমিতির গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়া।
(৪) পূর্বের ন্যায় টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ফিরিয়ে আনা।
(৫) প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে।
(৬) বিবিধ।
১০ গ্রেড রায় বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রধান শিক্ষক সমিতির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম,সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এস এম সাইদুল্লাহ,সাংগাঠনিক সম্পাদক খাইরুর ইসলামসহ প্রত্যেক বিভাগের বিভাগীয় সম্বনয়করা। এদিকে টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনে কাজ করছে প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ, সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস ও বিভাগের বিভাগীয় প্রতিনিধিরা। প্রধান শিক্ষকদের সকল সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন সমিতির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ।

প্রাথমিক সমাপনীতে ৩২ সেট প্রশ্ন তৈরি

নিজস্ব প্রতিবেদক,আগস্ট, ২৮, ২০১৯:
আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে ৩২ সেট প্রশ্ন তৈরি ও গোপনীয়তা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।



সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা প্রশ্নপত্রের পাণ্ডুলিপি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রণয়ন করে থাকে। গত তিন বছর একাধিক সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হলেও, এবার ৩২টি সেট প্রণয়ন করা হবে। সেখান থেকে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে ৮টি সেট। সেটগুলোর প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সারাদেশে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।

সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ পরীক্ষার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে সবাইকে অধিকতর যত্নবান ও সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে বেশকিছু দুর্নীতির অভিযোগের দায় সরকারকে নিতে হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সবাই সতর্কতার সঙ্গে ও আন্তরিকভাবে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল সেপ্টেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ আগস্ট , ২০১৯:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে এ ফলাফল। চারটি ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা হলেও ৬১ জেলার ফল একত্রে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।


সোমবার ডিপিইর মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মঞ্জুর কাদির সাংবাদিকদের বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কাজ শেষ পর্যায়ে। ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এ ফল প্রকাশের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। চারটি ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সব জেলায় একত্রে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তা জানান, লিখিত পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে নম্বর সিট তৈরি করা হচ্ছে। বুয়েটে ওএমআর সিট মূল্যায়ন কাজও শেষ হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দ্রুত ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত থাকলেও ফল তৈরির কাজ শেষ করতে দুই মাসের বেশি পার হয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনও তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রথম ধাপ গত ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপ ৩১ মে, তৃতীয় ধাপ ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়।

প্রাইমারি স্কুলে সভাপতির যোগ্যতা ডিগ্রি পাস হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি | ২৭ আগস্ট , ২০১৯
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি যোগ্যতায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ডিগ্রি পাস। আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বালাই ছিল না।


উল্লেখ্য, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাই সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ডিগ্রি পাস করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব আসার পর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১১ জনের পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব, একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, জমিদাতার একজন প্রতিনিধি, কাউন্সিলর বা ইউপি সদস্য, শিক্ষানুরাগী দুজন, অভিভাবক প্রতিনিধি চারজনসহ মোট ১১ জন সদস্য নির্বাচন করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে সভাপতি ও একজনকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

জানা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে নিরক্ষর ব্যক্তিকে নির্বাচন করায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার মান বাড়াতে তারা কোনো ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন না, বরং বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন। নানা সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। সভাপতিরা স্থানীয় ব্যক্তি ও ক্ষমতাবান হওয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম করলেও শিক্ষকরা ভয়ে তাদের বাধা দেন না। এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে আসায় যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তাদের অনেক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়। যদি সভাপতি অযোগ্য হন তবে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাকে সভাপতি হতে হলে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবনায়ই পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হবে। তারপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সভা করে সিদ্ধান্ত দেবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচিতে পরিবর্তন চান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪ আগষ্ট ২০১৯:
৫+ বয়স থেকে ১১+ বয়স পর্যন্ত শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর। এ স্তরে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। এ স্তরে শিশুরা অবাধ বিচরণের মাধ্যমে, খেলাধুলার মাধ্যমে, মুক্ত পরিবেশে ও প্রকৃতিকে চেনার মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করে। আমাদের দেশের প্রাথমিক স্তরের শিশুরা নানা কারণে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়না। এর মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে শিশুর দৈহিক ও মানসিকতার পরিপন্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি।



প্রাথমিক স্তরের শিশুরা বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪ পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। এতো দীর্ঘ সময় খাঁচার মধ্যে বন্দি থাকার মতো অবস্থায় ধরা বাঁধা নিয়মের মধ্যে থেকে কিভাবে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার বা না আসার প্রবণতা তৈরি হয়। তারা স্কুলকে ভয় পায়। যেটি ড্রপ আউট হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অনেকে।

এরই মধ্যে ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে’ মিল চালু খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। প্রতিদিন ব্যাপক সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জন্য খাবার প্রস্তুত করা বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যাপার। এতে দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

সোশাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নানান রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শিক্ষকরা। আবু জাফর মানিক নামে একজন লিখেছেন, ‘মিড ডে মিল এর পরিবর্তে কর্মঘন্টা কমিয়ে ও পিছিয়ে এক শিফট সকাল ৯-২ টা বেশি ফলপ্রসূ হবে। মিড ডে মিল ছাত্র,ছাত্রী, শিক্ষক, কমিটি সবাই রান্না ও বিতরণ নিয়ে সময় পার করবে। লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটবে।’

ওমর ফারুক লিখেছেন, মিড ডে মিল এর পরিবর্তে কর্মঘন্টা কমিয়ে দিলে, শিক্ষা উপকরন দিলে বেশি ফলপ্রসূ হবে আশা করি।

স্বপন কুমার দাশ লিখেছেন, যদি মিড ডে মিল প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্না করে শিশুদের খাওয়ানো হয়, তাহলে রান্না করা আর খাওয়া দাওয়ায় সারাদিন শেষ হয়ে যাবে,যা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের প্রধান অন্তরায় হবে।

মিজান রহমান লিখেছেন, ‘শুরু ৯.০০! বিরতি মাত্র ৩০ মিনিট! শিশুদের খেলাধুলা এবং মিড ডে মিল! ৪.১৫ ক্লাস শেষ! শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কতটুকু সম্ভব ?
প্রধান শিক্ষক সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যয় শিশুদের কর্মঘন্টা কমাতে হবে। কারন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় কর্মঘন্টা। তাছারা বিকাল সাড়ে ৪ টায় বিদ্যালয় শেষ হলে শিশুদের খেলার জন্য থাকে না সময়। ফলে শারিরিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার রুটিন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ আগস্ট , ২০১৯
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ নভেম্বর। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।



জানা গেছে, অন্যান্য বারের মতো এবারও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ রয়েছে।

 

সুচি দেখতে ক্লিক করুন

সূচি দেখুন:

১৩ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি

ডেস্ক,২২ আগষ্ট:
১৩ জন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে ৪ জন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।



এ ছাড়া ৫ জন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত পৃথক আদেশ জারি করা হয়েছে।

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

প্রাথমিকে দফতরি নিয়োগ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক,২১ আগষ্ট:
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগ স্থগিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন এই আদেশ দেন।


উল্লেখ্য, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগ চলছিলো আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।

তবে এই নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এই অভিযোগের পর বুধবার নিয়োগ স্থগিতের আদেশ দেন সচিব। পাশাপাশি যেসব বিদ্যালয়ে নিয়োগ চলমান রয়েছে সেগুলোও বাতিল করা হয় আদেশে।

আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে জনবল নিয়োগের কার্যযক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যযন্ত স্থগিত করা হলো। ইতোমধ্যে যদি কোনও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দফতরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকে তাহলে তা বাতিল করা হলো।

দূর্গাপুজায় ৭ দিনের ছুটি চান প্রাথমিকের শিক্ষকরা

ডেস্ক,২১ আগষ্ট:
দুর্গাপূজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন করা হয়। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠী থেকে দশমি দুর্গাপুজার আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু এ বছর অষ্টমী থেকে ছুটি দেয়া হয় দশমী পর্যন্ত মোট ৩দিন ছুটি দেয়া হয়।



বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত ভট্রাচার্য মনি বলেন, তার চাকুরিকালের এটি প্রথম এমন ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে ৩ দিনের পরিবর্তে কমপক্ষে ৭ দিন ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা আসন্ন দুর্গাপূজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। দুর্গাপূজাই একমাত্র সার্বজনীন অনুষ্ঠান যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান পালন করেন। হিন্দুরা ধর্মীয় দিক থেকে এদেশের দ্বিতীয় সংখ্যগরিষ্ঠ জাতি। সুতরাং এই বৃহৎ অনুষ্ঠানটিতে কমপক্ষে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হোক।

পাবনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ লেনদেন, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ আগষ্ট ২০১৯:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হেড কেরানীর (উচ্চমান সহকারী) ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ বরাদ্দ, মেরামত বাবদ অনুদান, ওয়াশ ব্লক ও রুটিন মেইনটেনেন্স বাবদ বরাদ্দকৃত টাকার ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের বিরুদ্ধে।



আলাউল হোসেন ও আরিফুল ইসলামসহ কয়েকটি ফেসবুক আইডিতে সোমবার রাত থেকে ঘুষ গ্রহণের এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনকে কাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনি ঘুষের টাকা প্রদান করছেন। তিনি টাকা টেবিলের নিচে নিয়ে গুণে তা প্যান্টের পকেটে রাখছেন। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর থেকে ভিডিওটি অনেকে শেয়ার করছে ও লাইক, কমন্টে বিভিন্ন মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের নির্দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ বরাদ্দ, মেরামত বাবদ অনুদান, ওয়াশ ব্লক ও রুটিন মেইন টেনেন্স বাবদ বরাদ্দকৃত টাকার ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিচ্ছেন অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ জানান, ১৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে জোরপূর্বক বিল তৈরি বাবদ উচচমান সহকারীর মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার বরাদ্দের ৮ থেকে ১০ ভাগ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছে।

সোনাতলা স. প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, হাটবাড়িয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেনসহ অনেকে বলেন, সরকার প্রদত্ত স্কুলের উন্নয়ন কাজের বিল গ্রহণে অগ্রিম ঘুষ প্রদানে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে। ঘুষের টাকা পরিশোধ না করলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর স্বীকার হতে হয়।

গত ১৮ আগস্ট উপজেলা আমোষ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পরিচয়ে স্লিপ বরাদ্দের টাকার চেক গ্রহণে উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বিল করতে রাজি হন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান খোকন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে ব্যবস্থা গ্রহণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম। এছাড়াও তিনি শিক্ষা অফিসারসহ অফিসের সকল কর্মকর্তাদের ডেকে অপরাধীদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন।

উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেন বলেন, ‘ঘুষের টাকা আমি গ্রহণ করিনি। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গোলজার হোসেনের ঘুষ গ্রহণের তথ্য আমি পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে ঘুষ গ্রহণে তার নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম জানান, ফেসবুকে পাওয়া ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নতুন প্রতিষ্ঠান নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ অাগষ্ট:
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাশে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন গড়ে না উঠতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খান মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত আদেশে সোমবার (১৯ আগস্ট) থানা/উপজেলা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


একাদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৪ জুলাই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাশে যাতে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য থানা বা উপজেলা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারেদের নজরদারি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়’।

বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter