প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে ঘুষ: দেশব্যাপি অভিযানে দুদক

অনলাইন ডেস্ক,৮ এপ্রিল ২০১৯:

শিক্ষকদের পেনশন প্রদানে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে ঘুষ–বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়ে তিন জেলায় অভিযান চালানো হয়।

গতকাল রোববার এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যানবেইসে শিক্ষকদের অবসরোত্তর বিল পাস করানোর জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম রোববার এ অভিযান চালায়।

এ বিষয়ে দুদকের দলটি অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক মো. খসরুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পেনশন বিল অনুমোদন কমিটির সাবেক সদস্যসচিব শরীফ আহমদ সাদী এ বছরের ১২ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে কোনো বিলই পাস হচ্ছে না।

সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে দুদক দলটি জানতে পারে, সাবেক সদস্যসচিবের ব্যক্তিগত সহকারী মারুফ অবসর ভাতাভোগীদের কাছ থেকে দ্রুত বিল পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেন। দুদক দলের পর্যবেক্ষণকে আমলে নিয়ে ওই অফিস সহকারীকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়।

এদিকে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজশাহী, পাবনা ও সিলেট কার্যালয় হতে যথাক্রমে নওগাঁ, পাবনা ও সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রোববার অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক টিম শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করে। সব কাগজপত্র যাচাই করে টিম কমিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পেশ করবে।

অপরদিকে, বরগুনার তালতলী উপজেলায় শ্রেণিকক্ষের ছাদের গ্রেড বিম ভেঙে ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেটে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ এপ্রিল। সিলেট বিভাগের ৫১ জন প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের ৯/৩/১৪ হতে ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল মঞ্জুর করেছে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক এ কে এম সাফায়েত আলম। আজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং ৩৮.০০২.০০৫.০০.০০.০০১.২০১৪-১১৯ তারিখ ১১/১/২০১৯ মোতাবেক ৫১ জন প্রধান শিক্ষকের টাইমস্কের মঞ্জুর করে বিভাগীয় উপপরিচালক এ কে এম সাফায়েত আলম ।

জানা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশের ফলে ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত যা‌দের ১ম. ২য় এবং ৩য় টাইম‌স্কেল ‌ডিউ হ‌য়ে‌ছে তারা টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রনালয়।

এরই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক  সমিতির কেন্দ্রিয় সভাপতি রিয়াজ পারভেজ ও সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাসের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রির দপ্তর থেকে গত ৮ মার্চ ২০১৮ ইং তারিখে  ওয়াহিদা মুসাররত আনীতা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে  মতামত চেয়ে পত্র জারী করে  করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক ও ময়মনসিংহ বিভাগ টাইমস্কেল মঞ্জুর করেছে। বাকী বিভাগগুলো দ্রুত টাইমস্কেল মঞ্জুর করবে বলে আশা করেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দূর্গা পুজার ছুটি ৩দিন থেকে বাড়িয়ে ৭ দিন করার আবেদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ এপ্রিল ২০১৯: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ  বাংলাদেশ। এদেশে প্রচীনকাল থেকেই নানা ধর্ম -বর্নের মানুষ এক সাথে বসবাস করে আসছে। এ জন্যই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশের রোল মডেল হিসাবে পরিচিত।  এদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একত্রে তাদের ধর্মানুষ্ঠান পালন করেন। স্বাধীনতার পর এদেশের মুলমত্র ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সকলের সম অধিকার।

দূর্গা পুজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দূর্গা পুজার ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন করা হয়। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠী থেকে দশমি দূর্গা পুজার আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু এ বছর অষ্টমী থেকে ছুটি দেয়া হয় দশমী পর্যন্ত মোট ৩দিন ছুটি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত ভট্রাচার্য মনি বলেন, তার চাকুরিকালের এটি প্রথম এমন ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দূর্গাপুজার ছুটি ৩ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার পূর্ননির্ধারনের দাবী জানান।

বর্তমান সরকারের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা আসন্ন দূর্গা পুজা হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মিয় অনুষ্ঠান। দূর্গাপূজাই এক মাত্র সার্বজনীন অনুষ্ঠান যেখানে সকল ধর্ম-বর্নের মানুষ ৫ দিন ব্যপি অনুষ্ঠান পালন করেন। হিন্দুরা  ধর্মিয় দিক থেকে এদেশের দ্বিতীয় সংখ্যগরিষ্ঠ জাতি। সুতরাং এই বৃহৎ অনুষ্ঠানটিতে কমপক্ষে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হোক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২১ এপ্রিল ও ২২ এপ্রিল ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ এপ্রিল ২০১৯:

বাংলাদেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত ২১ এপ্রিল (রোববার) পালিত হবে। শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণে শাবান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গতকাল (শনিবারের) সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

ফলে শবে বরাতের ছুটি ২১ এপ্রিলের পরিবর্তে ২২ এপ্রিল এবং ইষ্টার সানডের ছুটি ২১ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক,৫ এপ্রিল২০১৯:

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ৯/৩/১৪ গতে ১৪/১২/২০১৫ ইং টাইমস্কেল মঞ্জুর করতে শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পত্রের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় টাইমস্কেল মঞ্জুরের ক্ষমতা দেয় বিভাগীয় উপপরিচালকদের হাতে।

প্রাথমিকের যেসব প্রধান শিক্ষক এখনও টাইমস্কেল পাননি তাদের টাইমস্কেল প্রাপ্তিতে জট খুলতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পত্রের উপর ভিত্তি করে এবং প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দে সাথে উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষের একাধিকবার বৈঠকের পর অবশেষে বিভাগীয় উপপরিচালকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর ক্ষমতা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন।

জানা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশের ফলে ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত যা‌দের ১ম. ২য় এবং ৩য় টাইম‌স্কেল ‌ডিউ হ‌য়ে‌ছে তারা টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রনালয়।

এরই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক  সমিতির কেন্দ্রিয় সভাপতি রিয়াজ পারভেজ ও সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাসের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রির দপ্তর থেকে গত ৮ মার্চ ২০১৮ ইং তারিখে  ওয়াহিদা মুসাররত আনীতা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে  মতামত চেয়ে পত্র জারী করে  করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক ও ময়মনসিংহ বিভাগ টাইমস্কেল মঞ্জুর করেছে। বাকী বিভাগগুলো দ্রুত টাইমস্কেল মঞ্জুর করবে বলে আশা করেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।


Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আবারো আন্দোলনে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,৪ এপ্রিল: জাতীয়করণ বঞ্চিত চার হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আবারো আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। বুধবার বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সংগঠনের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন।

সংগঠনের সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য দুই দফায় ৩৬ হাজার ১৬০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।

মামুনুর রশিদ বলেন, ঘোষণার মধ্যে ২৭ মে ২০১২ পূর্বে চার হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের আবেদনও ওই সময়ে ছিল। সংগঠনের মহাসচিব মো. কামাল হোসেন জানান, বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের দাবিতে গত বছর ২১ জানুয়ারী থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন ধর্মঘট পালন করা হয়। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আশ্বাসের পর কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষকরা। এত দিনেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকে শিক্ষকের ক্লাস নিচ্ছেন দপ্তরি!

নিজস্ব প্রতিবদক,৪ এপ্রিল: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরবেহেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক–সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকের বদলে দপ্তরি কাম প্রহরী দিয়ে চালানো হচ্ছে পাঠদানের কাজ। সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে পরির্দশনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষিকা, আরেক পাশে দপ্তরি। একটি কক্ষেই চলছে ২টি শ্রেণির ক্লাস। শিক্ষক থাকার কথা আটজন। আছেন মাত্র দুজন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলটিতে শিশু থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে ২৩৭জন শিক্ষার্থী আছে। একটি কক্ষেই চলে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দুই শিফটে চলে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ১৯৬৮ সালে চরবেহেরপাড়ায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে এটি সরকারি হয়। ১৯৮০ সালে দুটি কক্ষের পাকা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় স্কুলটি। তখন সদরের শিলই ইউনিয়নের শিলই এলাকায় টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

৯৯৬ সালে আবার চরবেহেরপাড়ায় টিনের ঘরে স্কুলটি চালু করা হয়। দুই বছর পর স্কুলটি ফের নদীভাঙ্গনের শিকার হয়। এর মধ্যে শিলই ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দিতে স্কুল চলে কিছুদিন। সর্বশেষ ২০০০ সালে চরবেহেরপাড়ায় টিনের একটি কক্ষে আবার শুরু হয় স্কুলের কার্যক্রম। টিনের ঘরটি এখন জরাজীর্ণ।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের বিদ্যালয়টির সামনের মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। ঘরটি পেছনের দিকে কিছুটা হেলে পড়েছে। সামনে এগোতেই চোখে পড়ে বিদ্যালয়ের ভাঙা দরজা-জানালা। জরাজীর্ণ ওই কক্ষ তিনটি অংশে ভাগ করে তিনটি ক্লাস চলে। সেখানে দেখা যায় দুজন শিক্ষক ও স্কুলের দপ্তরি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দুজনের বেঞ্চে কখনো জোর করে ও গাদাগাদি করে চারজনকে বসতে হয়। কখনো জায়গার অভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এদিকে এক কক্ষে তিনটি ক্লাস হওয়ায় চেঁচামেচিতে কী পড়ানো হয়, তা-ও ঠিকমতো বোঝা যায় না। কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে।


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সানজিদা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। তাই সব দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হচ্ছে। তিনি জানান, গত বছর এই বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই ভালো ফলাফল করে।

সানজিদা আক্তার আরো বলেন, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। চেষ্টা থাকলেও ভালোভাবে ক্লাস নেয়া যাচ্ছে না। জরাজীর্ণ টিনের বিদ্যালয়টিও ভাঙ্গা। বৃষ্টিতে পানি পড়ে। সানজিদা আক্তার আরও বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে তারা দপ্তরি দিয়ে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জমিদাতা বাদশা মিয়া ঢালী জানান, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো না। যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসিমা খানম বলেন,‘বিদ্যালয়টির অবস্থা সম্পর্কে জেনেছি। সরেজমিনেও দেখেছি। নতুন ভবন ও শিক্ষক সংকটের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছি। আশা করি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারীর সাথে তার সেল ফোনে কথা হলে তিনি শিক্ষা বার্তাকে জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে দ্রুত শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবনেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দ্রুত ভবনের কাজ শুরু হবে।



Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১২ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ,৪ এপ্রিল:

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ১২ কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব কর্মকর্তাসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের বিরুদ্ধেও ১৫ দিনের মধ্যে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ফাইল নোটে এ নির্দেশ দেন। ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন ডিপিইর সাবেক মহাপরিচালক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুয়া ভ্রমণভাতা গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের শেষ দিকে তদন্ত করা হয়। এতে তৎকালীন মহাপরিচালক ও বর্তমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের বিরুদ্ধে নানাভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কথা উঠে আসে। এছাড়া প্রতিবেদনে ১২ কর্মকর্তার নামে অতিরিক্ত ও অনিয়ম করে অর্থ গ্রহণের তথ্য উঠে আসে। কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- তৎকালীন উপপরিচালক শেখ মো. রায়হান, উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, সোনিয়া আকবর, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম, শিক্ষা অফিসার শামসুননাহার, শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান, শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান জুয়েল, সহ-শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম। প্রতিবেদনটি চার বছর আগের হলেও কয়েকদিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের নজরে আনেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এরপর ২ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ১২ জনকে তিন দিনের মধ্যে ডিপিই থেকে বদলির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা আছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিভাবক সমিতি (PTA) পূনর্গঠন সংক্রান্ত পরিপত্র ।



Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির সংশোধিত নির্দেশিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ মার্চ, ২০১৯

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলির (সংশোধিত) নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নিয়ম ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা, ২০১৮ (সংশোধিত) নামে অভিহিত হবে। নতুন নির্দেশিকায় প্রাক-প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষকরাও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের ন্যায় পদশূন্য থাকা সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। 

সোমবার (৪ মার্চ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা জারির ফলে ইতিপূর্বে জারিকৃত শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা, প্রজ্ঞাপন ও আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।

নিচের লিংকে ক্লিক করুন

 https://mopme.portal.gov.bd/sites/default/files/files/mopme.portal.gov.bd/policies/b41ded4e_3b29_4dd5_b871_d9ecffb0ef7c/131.pdf

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এক মাস‌ের মধ্য‌ে প্রধান শ‌িক্ষকদ‌ের ১০ম ও সহকারীদ‌ের ১২ তম গ্র‌েডে উন্নীত

ড‌েস্ক, ৬ মার্চঃ নতুন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রেড পরিবর্তনের নির্দেশনা জারি করা হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনস্কেল বৈষম্য দূরীকরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েক দফায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষক পদ ১০তম গ্রেড, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ৯ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে।

জানা গেছে, গত দুই মাস আগে এ প্রস্তাব জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নতুন পদ হিসেবে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ সৃষ্টি হলে সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু এতদিন শিক্ষক নিয়োগের সংশোধনী নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এ কার্যক্রমের তেমন অগ্রগতি হয়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিধিমালার অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে এর ভাষাগত সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে বিজি প্রেসে দেয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটির গেজেট প্রকাশ হবে। তাই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে আর কোনো বাধা রইল না।

কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী ১০ম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই ১০ম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন ১০ম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। কোনোভাবেই সেটি মেনে নিতে রাজি নন সহকারী শিক্ষকরা। তারা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন চান। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনও করেছেন সহকারী শিক্ষকরা।

এছাড়া সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ১০ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেড ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ষষ্ঠ গ্রেড। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদ দুটি ষষ্ঠ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জেলার প্রধান পদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি কর্মকর্তাদের।

জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের এ পরিবর্তনের কাজে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদটি চান না।

তারা মনে করছেন, এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেলেই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন চান।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিন‌িয়ার যুগ্ন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, আমাদের দাবি প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড এবং গেজ‌েটেড মর্যাদা । আমরা এ মুহূর্তে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ চাই না। প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে সহকারীদ‌ের বেতন দিল‌ে বৈষম্য কমব‌ে। তবে, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রমকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নতুন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাঠ্যবইয়ের অঙ্ক বোঝে না: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ৫ম শ্রেণির ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিজ পাঠ্যপুস্তকের অংশ দেয়া হলেও তাদের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন অঙ্ক করতে পারে। ফলে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাঠ্যবইয়ের অঙ্ক বোঝে না।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ব্যাংকের প্রাথমিকের ‘লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিজ-২০১৮’ শীর্ষক বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশের অংশ তুলে ধরেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান এডো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের যা শেখানো হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। ৫ম শ্রেণিতে ১১ বছর পর্যন্ত যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তা মূলত সাড়ে ছয় বছরে পাওয়ার কথা। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় সাড়ে চার বছর পিছিয়ে থাকছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে পারে। বাকি ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই বাংলা বই পড়তে পারে না। প্রাথমিক স্তরে ১১ বছর পর্যন্ত যা শেখানো হচ্ছে তা মূলত অন্যান্য দেশের বাচ্চারা সাড়ে ছয় বছরের মধ্যেই শিখছে। ফলে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর শেষ করলেও তারা সাড়ে চার বছর পিছিয়ে থাকছে।

এ সব সমস্যা সমাধানে বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সে সব সুপারিশের মধ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শিক্ষার মান মূল্যায়ন করতে হবে, প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের মান বাড়াতে হবে, এবং প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. রবাট জে সাম বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ক্লাসে যা শেখানো হচ্ছে তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকছে। মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সরকারি ব্যয় অনেক কম। এখানে মালয়েশিয়ার চেয়ে অর্ধেক জিডিপির অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে শিক্ষাখাতে। বাংলাদেশের বাজেটে শিক্ষাখাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করছে। উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনামের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী যে পরিমাণে জ্ঞান অর্জন করতে পারছে জামার্নির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়েই তা শিখছে।’

প্রধান অতিথির ব্যক্তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে শতভাগ স্কুলে ভর্তি শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমরা মানসম্মত শিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য সরকারি বিদ্যালয়গুলো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। মেধাবিরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ৯ বছর ধরে সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। গত এক বছরে ২ লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিগত আট বছরে শিক্ষাখাতে ৫ গুণ বাজেটে অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বাজেটে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে শিক্ষাখাতে। মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে বাজেটে অর্থ বাড়ানো হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- লিগো ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিস সারা বুচি, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি হেলসি রোগাস্টাস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকরা কেউ ক্লাসে থাকেন না: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, একজন শিক্ষক এক স্কুলে তিন বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না। অনেক শিক্ষক এক জায়গায় নয় দশ বছর থাকছেন। তাই এনিয়ে বদলি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা কেউ ক্লাসে থাকেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কারিতাস আলোঘর প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক টিও অফিসে কাজের কথা বলে চায়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দেন । যখন বিদ্যালয়ের অভিভাবক থাকে না তখন ঠিকমত ক্লাস হয় না। এই অবস্থা পাল্টাতে প্রত্যেক স্কুলে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগ দেয়া হবে। যাতে করে প্রধান শিক্ষককে টিও অফিসে যেতে না হয়।

মানসম্মত শিক্ষা চালু করতে গিয়ে কি করা প্রয়োজন তার সবই সরকার করবে জানিয়ে সবার সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্গম চর অঞ্চলে কিভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনার সুযোগ দেয়া হবে সে বিষয়টিও দেখবে সরকার।

জাকির হোসেন বলেন, ছোট বাচ্চাদের ঘাড়ে বইয়ের বোঝা দিয়ে তাদের মেধা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘কেজি, মেজি এই সেই করে সর্বনাশ করা হচ্ছে বাচ্চাদের’ । সরকার এব্যাপারে বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা চালু করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৃগোষ্ঠি, আদিবাসি উপজাতি বুঝিনা, বিভিন্ন ভাষাভাষি আছে তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা দেয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে শিক্ষক নেয়া হবে। তারা নিজেদের ভাষা শেখানোর পাশপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষাও শিক্ষা দেবেন।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষার মেরুদন্ড প্রাথমিক শিক্ষা তাই সবাই মিলে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা চালু করতে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে তাদের আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে দেখবো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের সব কিছু সম্ভব। কিন্তু সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শিক্ষা নিয়ে যেসব এনজিও কাজ করে আমার এলাকায় ঘুষ দুর্নীতি করে তেলবাজি করে। গ্রামের মহিলাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা নিচ্ছে চাকরি দেয়ার নামে। তাদের চাকরি হচ্ছে না। এনজিওগুলো সুন্দরভাবে বাছাই করতে হবে। যারা শিক্ষা বোঝে না, তারা যেন এনজিওর সুনাম নষ্ট করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

কারিতাস বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডক্টর ফাদার প্রশান্ত টি রিজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত হেড অব অপারেশনস দোরথে বোসে, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (অর্থ প্রশাসন ও বাস্তবায়ন) একেএম মাহবুবুর রহমান সরদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফ্রান্সিস অতুল সরকার, আলোঘর প্রকল্পের পরিচিতিমূলক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান শিশির অ্যাঞ্জেলা রোজারিও। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ।

ফ্রান্সিস অতুল সরকার বলেন, ‘কারিতাসের আলোঘর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কারিতাস ফ্রান্সের সহযোগিতায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারিতাস আলোঘর প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পৃক্ত করে দেশের ছয়টি বিভাগের (চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট) ২৭টি জেলার ১০৪টি উপজেলায় ১০০৫টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশের (৪-১৪ বয়সের) ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন শিশু প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ শিক্ষার্থী কখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি এবং ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু। এদের মধ্যে ১১ হাজার ৮১০ জন শিশু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪২ জন চরম প্রতিবন্ধী শিশুকে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্গম ও ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পার্বত্য এলাকার ৯৫৬ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে হোস্টেলে রেখে (খাবার, আবাসন ও শিক্ষা উপকরণ) প্রাথমিক শিক্ষায় অর্ন্তভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি এই সকল শিশুদের পিতামাতাদেরকে পারিবারিক জীবন দক্ষতার বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল নিয়ে অর্থ বিভাগের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৭ ফ্রেবু: ২০১৩ ও ১৪ সালে সরকারিকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের বেসরকারি আমলের চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়ার কারণ জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের কাছে কারণ জানতে চেয়ে অর্থ বিভাগ থেকে উপসচিব শরিফ মো. মাসুদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয় ও সুত্রোক্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে কোন কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা তথা বেতন, সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল ইত্যাদি প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে সার্ভিসেস এক্ট ১৯৭৫ এর অধীন জারীকৃত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ প্রযোজ্য। অন্য কোন বিধিমালা প্রযোয্য নয়। তদপুরি জাতীয়করণকৃ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির ইত্যাদি শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা-২০১৩ এর ৯ (১) বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বিধির অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের উপরে জেষ্ঠ্যতা পাবেন এবং ৯(৩) বিধি অনুযায়ী উপবিধি (১ ও ২) এর অধীন জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকগণ পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও প্রযোজ্য টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন। এ ক্ষেত্রেও সরাসরি নিয়োগবিধির অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের টাইমস্কেল প্রাপ্ততার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে (০৮/১২/১৫ বছর পূর্তির আগে) তদাপেক্ষা কনিষ্ঠ আত্মীকৃত শিক্ষকগণের টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তির কোনো সুযোগ না থাকা সত্বেও কোন কোনন হিসাবরক্ষণ অফিস জাতীয়করণকৃত শিক্ষকগণকে জাতীয়করণের পূর্ববর্তী চাকরিকালের ভিত্তিতে টাইমস্কেল প্রদান করছে মর্মে সুত্রোক্ত পত্রে উল্লেখ্য করা হয়েছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘কিসের ভিত্তিতে কোন কোন হিসাব অফিস থেকে কতজনকে উল্লিখিত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে এবং এ জন্য কোনো মঞ্জুরি আদেশ জারি করা হয়েছে কিনা না তা জানোনোর জন্য নির্দেশক্রমে জনুরোধ করা হলো।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

তিন বছর হলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৭ ফ্রেবু: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে তিন বছরের বেশি সময় রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষক একই স্থানে থেকে নিজের দায়িত্ব সর্ম্পকে সচেতন থাকছেন না। অনেকে আবার নয় বা দশ বছরও একই বিদ্যালয়ে থাকায় ঠিকমতো ক্লাসে থাকেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। তাই তিন বছর হলেই তাদের বদলি করতে হবে।’

বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কারিতাস আলোঘর প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ আছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা টিও অফিসে কাজের কথা বলে চায়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দেন। যখন বিদ্যালয়ের অভিভাবক থাকে না তখন ঠিকমত ক্লাস হয় না। এই অবস্থা পাল্টাতে প্রত্যেক স্কুলে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগ দেয়া হবে। যাতে করে প্রধান শিক্ষককে টিও অফিসে যেতে না হয়। মানসম্মত শিক্ষা চালু করতে গিয়ে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই সরকার করবে।

তিনি বলেন, দুর্গম চর অঞ্চলে কীভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনার সুযোগ দেয়া হবে সে বিষয়টিও দেখবে সরকার।

জাকির হোসেন বলেন, ছোট বাচ্চাদের ঘাড়ে বইয়ের বোঝা দিয়ে তাদের মেধা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। কেজি স্কুল বাচ্চাদের সর্বনাশ করছে। সরকার এ ব্যাপারে বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা চালু করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৃগোষ্ঠী-আদিবাসী-উপজাতি বুঝি না, বিভিন্ন ভাষাভাষী আছে, তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা দেয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে শিক্ষক নেয়া হবে। তারা নিজেদের ভাষা শেখানোর পাশপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষাও শিক্ষা দেবেন।

কারিতাস বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডক্টর ফাদার প্রশান্ত রিজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত হেড অব অপারেশনস দোরথে বোসে, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (অর্থ প্রশাসন ও বাস্তবয়ান) একেএম মাহবুবুর রহমান সরদার প্রমুখ।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফ্রান্সিস অতুল সরকার, আলোঘর প্রকল্পের পরিচিতিমূলক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান শিশির অ্যাঞ্জেলা রোজারিও।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free