প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষার ইতিবাচক দিক

আশরাফ-উল-আলম: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষার ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

১)সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম মানতে বাধ্য হচ্ছে।যেমনঃ এনজিও স্কুল, কেজি স্কুল, ইংরেজী মাধ্যম স্কুল।
২)শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে পিতামাতার নাম সঠিক রেখে একটা সনদ পাচ্ছে, যে সনদ অনুযায়ী পরবর্তী সনদ গুলো লেখা হচ্ছে।নামের ভুলগুলো এ স্তর থেকেই সংশোধন হয়ে যাচ্ছে।
২)কতজন প্রাথমিক শিখন চক্র সমাপ্ত করল তার একটা সহজ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।সে অনুযায়ী পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহন সহজ হচ্ছে।
৩)কতজন প্রাথমিক/মাধ্যমিক স্তর শেষ না করে ঝরে যাচ্ছে তাও সহজে জানা যাচ্ছে।
৪)শুধু পাশের কথা মাথায় রেখে হলেও পাঠদানে শিক্ষকগণ কিছুটা হলেও যত্নবান হচ্ছেন।
৫)সমাপনী না থাকলে ইংরেজী মাধ্যম এবং কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকের বই না পড়ালেও কিছু করার থাকতনা।
৫)আনন্দ স্কুলের মত ভুয়া ছাত্র দেখিয়ে স্কুল তৈরী বন্ধ হয়েছে।
৬)সমাপনীতে যেহেতু ৬ টি বিষয় থেকে প্রশ্ন হচ্ছে তাই শিশুরা অতিরিক্ত বই এর চাপ থেকে রেহাই পাচ্ছে।
৭)পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে অভিভাবকগণ ও কিছুটা দায়িত্ব পালন করছে।
৮)ছেলেমেয়েদের লেখার অভ্যাস তৈরী হচ্ছে।
৯)সার্টিফিকেট পাওয়ার বাড়তি আনন্দে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে উঠার প্রেরণা লাভ করছে।যা বাল্যবিবাহ রোধে তা সহায়ক হচ্ছে।
১০)যোগ্যতা ভিত্তিক প্রশ্ন হওয়ায় নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
১১)একই সাথে বৃত্তি নির্ধারণ হয়ে যাচ্ছে, আলাদা পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছেনা।
১২)বিভিন্ন স্কুলের শিশু এক জায়গায় হয়ে বাড়তি আনন্দলাভ করছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে খোলা চিঠি

ডেস্ক,১৫নভেম্বর:

বরাবর,
মহাপরিচালক
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,মিরপুর-২
ঢাকা
বিষয়ঃ প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে।

মহোদয়, আমরা ২০০৭ সালে জুলাই মাসে প্রধান শিক্ষক হিসাবে সারা দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগদান করি। গত ০৯/৩/২০১৪ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ইতিমধ্যে ১৫/১১/২০১৭ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকদের উন্নিত বেতনস্কেলের জটিলতা নিরসনের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয় কর্তৃক একটি পত্র ইস্যু করা হয়েছে। যার স্বারক নং ০৭.০০.০০০০.১৬১.৩৮.০০.০০১.১৭-২০১ ।

১৫/১২/২০১৫ ইং তারিখে অর্থ মনন্ত্রণালয়ের ৪নং ধারা অনুযায়ী ১৪/১২/২০১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত সরকারী চাকুরিজীবি সবাই টাইমস্কেল পাবে। যা ২৫/১/২০১৬ ইং তারিখে অর্থ মনন্ত্রণালয়ের পরিপত্র স্বারক নং ০৭.০০.০০০০.১০৩.১৮.০০১.১৫(অংশ)-৩৭ অনুযায়ী অনলাইনে বেতন নির্ধারন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ১০/৪/২০১৭ ইং তারিখে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং ৩৮.০১.০০০০.১৪১.১৯.০০৮.১৬-১৬৮ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর ১লা জুলাই ২০১৫ এর মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সরকারের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রাওগ মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিস্পত্তি হবে মর্মে পত্র ইস্যু করা হয়। যা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ ও ২৫/১/২০১৬ ইং তারিখে অর্থ মনন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের সাথে সাংর্ঘাষিক।
সকল সরকারী কর্মচারী যখন ১৪/১২/২০১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাবে/পেয়েছে এমনকি আমাদের ডির্পাটমেন্টের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পেয়েছে তখন আমরা প্রধান শিক্ষকরা কি অপরাধ করলাম তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যে ১৫/১১/২০১৭ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকদের উন্নিত বেতনস্কেলের জটিলতা নিরসনের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয় কর্তৃক একটি পত্র ইসু্যু করা হয়েছে। যার স্বারক নং ০৭.০০.০০০০.১৬১.৩৮.০০.০০১.১৭-২০১ ।

মহোদয়ের নিকট আবেদন,সবকিছু বিবেচনা করে ১০/৪/২০১৭ ইং তারিখের পরিপত্রটি বাতিলপূর্বক ১৪/১২/২০১৫ ইং তারিখ টাইমস্কেল পেতে পারে তার সুব্যবস্থা করতে মহোদয়ের মর্জি হয়।

বিনীত
প্রধান শিক্ষকদের পক্ষে
স্বরুপ দাস
সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক(কেন্দ্রিয় কমিটি)

সাধারন সম্পাদক(দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা)
প্রধান শিক্ষক সমিতি
ফোনঃ ০১৮১১৮৯৮০৬১psc

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

অক্টোবরে নিয়োগ পাচ্ছেন বিসিএস থেকে সুপারিশকৃত প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ৮৯৮ জন নন-ক্যাডারের মধ্যে অক্টোবরের শুরুতেই নিয়োগ হচ্ছে ৪৬৯ জন। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও নিয়োগ দেওয়া হবে।

এর আগে ৩৪তম বিসিএস থেকে দুই হাজার ৮৯৯ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ৮৯৮ জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মঞ্জুর কাদির  বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ৮৯৮ জনকে নিয়োগ করা হবে শিগগিরই। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। এর মধ্যে ৪৬৯ জনকে ১০ অক্টোবরের মধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের এসব পদ দ্রুত পূরণ করতে সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে গত ২৩ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ২১ হাজার পদ খালি আছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতির প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৬৩ হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব পদ পূরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব এখন পিএসসির হাতে। গত মার্চে পাঁচ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সে অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হয়। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর। আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করে দেয়ার নামে প্রতারনা

ডেস্ক,২৮ সেপ্টেম্বর: বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করে দেয়ার নামে একটি চক্র দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। এমন একাধিক অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে ‘পদ্মা সেতু’ উন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ টাকা হারে চাঁদা আদায়ের নির্দেশ সংবলিত একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে সক্রিয় অসাধুচক্রের এসব কর্মকা-ে রীতিমতো বিব্রত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর অপরাধী চক্রের বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই দেশের বিভিন্নস্থানে গড়ে তোলা বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করে দেয়ার নামে একটি চক্র দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন কিছু অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই এই চক্রকে ঠেকাতে দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়-১) পুলক রঞ্জন সাহা বলেছেন, একশ্রেণীর প্রতারক আমার স্বাক্ষর জাল করে সরকারীকরণের ভুয়া আদেশ সরবরাহ করে গরিব শিক্ষকের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আদায় করেছে। ভুয়া ওই আদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিদ্যালয়ের কমিটি সরকারীকরণ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটিতে চিঠি পাঠায়। বিষয়টি জানার পর আমরা বিদ্যালয়গুলোকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারীকরণ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটিতে কয়েকটি বিদ্যালয়ের সরকারীকরণের ভুয়া আদেশের চিঠি উপস্থাপিত হলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে পারে। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ পাঠানো হয় উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছেও। তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সকলকে সক্রিয় করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, প্রায়ই প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের নামে জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় উপস্থাপনের জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সই জাল অথবা স্ক্যান করে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিচ্ছেন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বেশকিছু জেলা থেকে এসব ভুয়া চিঠির সন্ধান পাওয়া গেছে।

নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় বলেছে, এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠির মূল কপি ইমেলে অথবা ডাকযোগে না পেলে এই চিঠির কোন ফটোকপি কোন ধরনের কার্যক্রমে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিদ্যালয় সরকারীকরণের কোন চিঠি নিয়ে সন্দেহ হলে টেলিফোনে বা ইমেলে বিষয়টি নিশ্চিত হতেও অনুরোধ জানানো হয় ওই নির্দেশনায়। দেশের সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় নতুন করে সরকারী হয়েছে ২৫ হাজার ২৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত একজন সচিব জনকণ্ঠকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা কিছুৃদিন ধরেই জটিলতার মধ্যে আছেন। প্রায়ই এমন অভিযোগ আসছে মন্ত্রণালয়ে। বিভিন্ন এলাকায় একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে যারা অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব বেসরকারী স্কুলের লোকজনকে বলছে যে তারা তাদের প্রতিষ্ঠান সরকারী করে দেবে। অনেক এলাকায় গিয়ে এরা মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে টাকা প্রয়োজন বলেও বলছেন। বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে বলছেন মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে যখন মন্ত্রণালয় বিব্রত ঠিক তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছেন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ‘পদ্মা সেতু’ উন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ টাকা হারে চাঁদা আদায়ের নির্দেশ দিয়ে একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে সামাজিক যোগাযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা রীতিমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট শাখার সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত গত ১৯শে সেপ্টেম্বর একটি ভুয়া পত্র অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। যার স্মারক নম্বর ৩৮.০০.০০০০.০০০৬.২০.০১৩০.১৬-২৭১.২(ক)।

এ ধরনের কোন নির্দেশনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হয়নি বলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (বাজেট ও অডিট) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নাম করে ‘পদ্মা সেতুর’ উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করার একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ঝঐঅঐ অখঅগ : ৭০১৭০১৫০৩৯৫৩০ নম্বরের ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বর দিয়ে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনুকূলে প্রেরণের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ভুয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে কোন কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক কেরাণীগঞ্জের শাহিনুর আল-আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৭-এ শিক্ষক(পুরুষ) ক্যাটাগরিতে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কেরাণীগঞ্জের শিক্ষক জনাব শাহিনুর আল-আমীন। তিনি কেরাণীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভূক্ত গুণী কন্ঠশিল্পী, বাংলাদেশ টেলিভিশনেও মাঝে মাঝে তিনি গান পরিবেশন করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনাব শাহিনুর আল-আমীন ১৯৯৯ সালে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলাধীন খামার মাথাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন। কালিয়া উপজেলায় তিনি তার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন য়ে, তার বদলী ঠেকাতে বিদ্যালয় ও তার বাড়ি ঘেরাও হয়েছিল। একই সাথে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।
এবছর জনাব শাহিনুর আল-আমীন ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক(পুরুষ) নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। বিগত ৫/৮/২০১৭ তারিখে তিনি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমি শিশুদের স্বপ্ন দেখাই,ওদের নিয়ে নিজেও স্বপ্ন দেখি। আমার বাবাও একজন আদর্শিক শিক্ষক ছিলেন, শিক্ষকতা আমার রক্তে মিশে আছে। শিক্ষকতা আমার পেশা এবং নেশা দুটোই। আমি ঢাকা জেলা ও ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আমার সারাটা শিক্ষকতা জীবনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করি: করব। আমাকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে খুবই প্রিয়। তিনি মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষের বাইরে নিয়ে পাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেন, ফলে শিখন-শেখানো হয় আনন্দের। জনাব শাহিনুর আল-আমীন পাঠ্যসূচির বাইরেও কিছু নতুন বিষয়ের উপর পাঠ দান করে থাকেন, যেমন- প্রকৃতি পাঠ, সৌন্দর্যবোধ, স্বপ্ন চার্ট, লাইফ স্কিল ইত্যাদি। এসমস্ত কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে সহযোগিতা করেন। শিক্ষক শাহিনুর আল-আমীন বাংলা, ইংরেজি ও সংগীত বিষয়ের একজন দক্ষ মাস্টার ট্রেইনার। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর একজন স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে ডিপার্টমেন্ট এর সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন এবং ২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গমন করেন। তাছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নস’ এর এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে শ্রীলংকা ও ভারতের দিল্লী, হায়দারাবাদ, নালগোন্ডা, পাটনা, নাগপুর, গুজরাট ও ভুবনেশ্বর গমন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিসার্স ইউনিয়নস’্-এর দিল্লী সম্মেলনে সদস্য পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে রুরাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন প্রদত্ত ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি পদক পান এবং ২০১১ সালে ফটোজার্নালিস্ট প্রদত্ত স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হন । তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থণা করেছেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত প্রধান শিক্ষকরা

ডেস্ক, ৪ সেপ্টেম্বর : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে এমাসেই নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত ৮৯৮ জন।  আগামী সপ্তাহ থেকে নন-ক্যাডার পদের এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে এবং দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা   প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে পিএসসির সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকে ৮৯৮ জনকে নিয়োগ দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিই।

 এর আগে ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৮৯৮ জনকে গত বছরের ১০ আগস্ট নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

ডিপিই মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, পিএসসির সুপারিশ করা ব্যক্তিদের প্রধান শিক্ষকের পদে এমাসেই নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেখানে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। সে লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিপিই মহাপরিচালক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ১১-১২ গ্রেডে নিয়োগ পাবেন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ পিএসসির সুপারিশে এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষকতার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সারাদেশের শূন্যপদ পূরণ করা হবে। পাশাপাশি একই সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পায়নি) দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে ২০১৪ সালের ১৬ জুন নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে সরকার।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঈদের পর নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত প্রধান শিক্ষকরা

২৫ আগস্ট ২০১৭:

ঢাকা থেকে নাহিদ হাসান: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শিগগিরই নিয়োগ পাচ্ছেন পিএসসির সুপারিশকৃত ৮৯৮ জন।  আগামী সপ্তাহ থেকে নন-ক্যাডার পদের এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে এবং দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা   প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে পিএসসির সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকে ৮৯৮ জনকে নিয়োগ দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিই।

 এর আগে ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৮৯৮ জনকে গত বছরের ১০ আগস্ট নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

ডিপিই মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, পিএসসির সুপারিশ করা ব্যক্তিদের প্রধান শিক্ষকের পদে ঈদের পরপরই নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেখানে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। সে লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিপিই মহাপরিচালক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ১১-১২ গ্রেডে নিয়োগ পাবেন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ পিএসসির সুপারিশে এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষকতার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সারাদেশের শূন্যপদ পূরণ করা হবে। পাশাপাশি একই সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পায়নি) দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে ২০১৪ সালের ১৬ জুন নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে সরকার।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষকেরই মান নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক: ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষকেরই মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে ডিপিই সূত্র জানায়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগেরই প্রশিক্ষণ নেই এবং চাকরি হয়েছে পরিচালনা পর্ষদকে টাকা দিয়ে। প্রাথমিকের চার লাখ শিক্ষকের মধ্যে এই জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা এক লাখের ওপরে। এ ছাড়া রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়ের জন্য ২০১২ সালে প্যানেল করা ২৮ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষের পথে। এসব শিক্ষকের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে মানের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষা।

জরিপেও প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের হতাশার চিত্র ধরা পড়েছে। গত বছর রিসার্চ ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব কমপ্লিট এডুকেশন (রেস) প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, ‘প্রাথমিকে ১৩ ভাগ শিক্ষক পুরোপুরি সৃজনশীল বা যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন বোঝেন না। ৪২ ভাগ সীমিত পরিসরে নিজেরা বুঝলেও ক্লাসে বোঝাতে পারেন না, বাকি ৪৫ ভাগ বোঝেন। সৃজনশীল না বোঝায় ৪৭ ভাগ শিক্ষক বাজারের গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করেন। ৩৫ ভাগ সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাকি ১৮ ভাগ নিজেদের ধ্যান-ধারণা থেকে পড়ান। ’

ইউনেসকোর এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল ব্যুরো ফর এডুকেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার মাত্র ৫৮ শতাংশ। অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের হার ৯০ শতাংশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ৮২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৭৮ শতাংশ এবং মিয়ানমারে শতভাগ শিক্ষকই প্রশিক্ষিত। আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অন্যতম পছন্দের চাকরিই প্রাথমিকের শিক্ষকতা। এই পেশায় আয় ও সামাজিক মর্যাদা দুটিই বেশি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন ৩০ হাজার টাকার ওপরে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কমিশন আছে। শ্রীলঙ্কায় প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি প্রথম শ্রেণির করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের অন্যতম মর্যাদায় বসানো হয়েছে। তবে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষিতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান না। ফলে বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই সব সময় শিক্ষকের পদ শূন্য থাকে। আর যাঁরা আছেন তাঁরা মান ও মর্যাদা দুটিতেই পিছিয়ে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া

এস কে দাস: সংকট থেকে বেরোতেই পারছে না প্রাথমিক শিক্ষা। ৬৪ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১ হাজারই চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জনকে সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই নিয়োগও  গত এক বছরে হয়নি। এদিকে একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে শ্রেণিকক্ষে সমস্যা হচ্ছে। ঊর্ধ্বধন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ধীরগতির মাসুল দিচ্ছে অল্প বয়সী শিশুরা। সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজার হাজার শিশু হয়ে পড়ছে নিরাপত্তাহীন। প্রশিক্ষিত, দক্ষ শিক্ষকের অভাব তো আছেই। মোট প্রায় ৬৪ হাজার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যাও প্রায় ৩০ হাজার। প্রধান শিক্ষক ছাড়া পরিচালিত ২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজ সাধারণত একজন সহকারী শিক্ষক চালিয়ে নেন। সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে কর্মঘণ্টার বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন প্রশাসনিক কাজে।

ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়। জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়ে ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ঝড়বৃষ্টি বা প্রচণ্ড রোদের মতো বৈরী আবহাওয়ার দিনগুলোতে বড় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করলেও শিগগির সেখান থেকে মুক্তির পথ নেই। কারণ এই পদটি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং এখন এই পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির দায়িত্ব পিএসসির। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের আগস্ট মাসে ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জনকে সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু অধিদপ্তর পদোন্নতির লক্ষ্যে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে পারেনি বলে পিএসসি নিয়োগ দিতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির বেশির ভাগ পদেই সরকারি কর্মকর্তারা দশম গ্রেডে বেতন পান। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। বিসিএস থেকে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হলে দশম গ্রেডেই দিতে হবে। কারণ একই সঙ্গে সুপারিশ পাওয়া অন্যান্য দপ্তরের  প্রার্থীরাও গ্রেডে বেতন পাবেন। এখন প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দিতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়াসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান  বলেন, ‘আগে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার। ২০১৩ সালে নতুন করে যোগ হয়েছে আরো ২৬ হাজার। এখন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য জ্যেষ্ঠতা গণনা করতে হলে সবাইকে নিয়েই করতে হবে। কিন্তু নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর জ্যেষ্ঠতা তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। ফলে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা হয়ে গেলেই আমরা পিএসসিতে পাঠিয়ে দেব। আর সরাসরি নিয়োগের পুরো দায়িত্বই পিএসসির। ’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্র জানায়, পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্য আসনের ৩৫ শতাংশ নিয়োগের বিধান রয়েছে। বাকি ৬৫ শতাংশ শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। পদটি তৃতীয় শ্রেণি থাকার সময় সরাসরি নিয়োগ দিত অধিদপ্তর। এখন দ্বিতীয় শ্রেণি হওয়ায় নিয়োগ দিতে হবে পিএসসিকে। কিন্তু তাদের পক্ষে কোনোভাবেই দ্রুততম সময়ে সাত হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াটাও পিএসসির পক্ষে দুরূহ ব্যাপার।

এসব ব্যাপারে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক  বলেন, ‘এখন আমরা যেমন চাহিদাপত্র পাই সেভাবে সুপারিশ করি। যদি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বড় রিক্যুইজিশন না দেয় তাহলে আমরা প্রার্থী দেব কিভাবে? আর পদোন্নতির কাগজ এলেও আমরা আটকে রাখব না। আমরা চাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হোক। তবে তাদের নিয়োগবিধিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। মূল উদ্যোগ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। আর ৩৪তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষক পদে যে সুপারিশ গেছে এটা আমরা দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে দিয়েছি। তবে তাঁরা কোন গ্রেডে বেতন পাবেন তা মন্ত্রণালয় ঠিক করবে। ’

জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দুটি জেলার সব বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে আরো সমস্যা দেখা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে দুই জেলার প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে একজন সহকারী শিক্ষক কমে গেছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পড়ালেখা।

লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ চররহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬২০। শিক্ষকের সাতটি পদ থাকলেও আছেন পাঁচজন। এর মধ্যে আবার প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষক মো. আবুল খায়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে চারজন শিক্ষক দিয়েই চলছে লেখাপড়া। এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজা আক্তারবলেন, ‘প্রথম শ্রেণিতে ১১১ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে দুই শাখা করা যাচ্ছে না। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি শাখা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। উপজেলা সদরে বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে হয়। ফলে আমরা অনেক কষ্ট করে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু একটি ক্লাসে যদি ১১১ জন শিক্ষার্থী থাকে, তাদের ৫০ মিনিটের ক্লাসে কী শেখানো যায়?’

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ১৪০ নম্বর মাখন নিগুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৬৫। তবে শিক্ষক তিনজন। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনজন শিক্ষকের মধ্যে জাকির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা সদরে বিভিন্ন মিটিংয়ে গেলে তাঁর পক্ষে আর ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। ক্লাসের সংখ্যা পাঁচটি, শিক্ষক দুজন। ফলে এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসে দৌড়াতে হয়। আমরা নিজেরাও সমস্যায় আছি। পড়ালেখাও ভালোভাবে হচ্ছে না। ’

দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই চারজন শিক্ষক, এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনারে অংশগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। আবার শিক্ষকদের ৬০ শতাংশ মহিলা হওয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানাভাবে একজনের ছুটি থাকে। অনেক সময় বাকি একজনকেই চালাতে হয় বিদ্যালয়। ফলে দু-তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একত্র করে পড়াচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাসের সময় আড়াই ঘণ্টা। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চারটি ক্লাস এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫ মিনিটের ছয়টি ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু দুজন শিক্ষকের পক্ষে এত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক বিদ্যালয়েই কোনো রকমে দু-একটি ক্লাস করেই ছুটি দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে সিলেবাস শেষ হচ্ছে না।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসেবেই ১০ হাজার জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা। বেরিয়ে এসেছে ছাদ ও বিমে মরীচিকা ধরা রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ থেকে চুইয়ে পানি পড়ে কক্ষে। আবার অনেক বিদ্যালয়েই টিনের ঘর। সেগুলো নড়বড়ে অবস্থায় টিকে আছে। এমন দুরবস্থার চিত্র মিলবে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায়।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সালে প্রকল্প নেওয়া হলেও জরাজীর্ণ সব ভবন পুনর্নির্মান করা সম্ভব হয়নি। এখন তো প্রকল্পের মেয়াদই ফুরিয়ে গেছে।   বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি প্রকল্প চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সম্প্রতি জানা যায়। সূত্র মতে, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর নাম নিয়ে তালিকা নিয়মিতই হালনাগাদ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে একযোগে প্রায় ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি ও এনজিও পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ভবনই হয়তো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। বর্তমানে জরাজীর্ণ ও জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল  বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে জরাজীর্ণ এক হাজার ৪০০ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু হবে। আর আগামী বছরের মধ্যে জরাজীর্ণ সব ভবনের নির্মাণকাজই শুরু হবে। আপাতত সংকট কাটাতে প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব পিএসসির। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে প্যানেল থেকে ২৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বাকি নিয়োগপ্রক্রিয়াও নিয়মিত চলছে। ’

সুত্র: কালের কন্ঠ

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত -শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ জুন: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০ হাজার ৫১৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিকের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পদ শূন্য আছে প্রায় ২ হাজার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম ও এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই তথ্য জানান।

এ কে এম মাঈদুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তাই এই পদের নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন থেকে সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৪ তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে সুপারিশ করে ৮৯৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রার্থীদের নিয়োগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রত্যয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ধর্ম, ভূগোল, ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, কৃষিশিক্ষা বিষয়ে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। পিএসসি গত বছরের ১৪ আগস্ট সহকারী শিক্ষকের (বিষয়ভিত্তিক) শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৪৫০ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে। সুপারিশ করা ব্যক্তিদের পুলিশি প্রত্যয়ন চলছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকদের ক্লাস নেয়াসহ ১৫ নির্দেশনা প্রাথমিকে-সংশোধনের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০জুন:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১ম ও শেষ পিরিয়ডে ক্লাস নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। যুগ্মসচিব মো. আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে শিক্ষকদের জন্য ১৫টি নির্দেশনা রয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলমুখী করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি নির্দেশনা গ্রহণ করেছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্নকরণ, ক্লাস রুটিনে প্রথম পিরিয়ড ও শেষ পিরিয়ডে প্রধান শিক্ষককে ক্লাস নিতে হবে, শিক্ষকদের ক্লসে প্রবেশের পূর্বে ‘লেসন প্লান’ অনুযায়ী ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা, কন্টেন্ট বা লেসন প্লান নিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে তা মূল্যায়ন করতে হবে, প্রতিটি শ্রেণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে যত্ন নিয়ে সক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা, স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন, শিক্ষকদের আচার আচরণ ড্রেস কোড নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ, স্বাস্থ্যগত পরামর্শ ও ফাস্ট এইড ব্যবহারসহ ১৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সব স্কুলগুলোকে এসব নির্দেশনা বাধ্যতামূলক অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়গুলো জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মনিটরিং করার নির্দেশানও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাথমিক স্কুলে ঝড়ে পড়ার হার রোধ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে এমন পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দান বলেন প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রান। একজন প্রধান শিক্ষক যেমন চান বিদ্যালয়টি তেমনই হতে পারে। সাধারনত বেশির ভাগ প্রধান শিক্ষক ক্লাস রুটিন অনুযায়ী গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রথম এবং শেষ ক্লাসে সাধারনত বাংলা এবং ধর্ম বিষয়ে ক্লাস নেয়া হয়।  সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যহত হতে পারে বলে মনে করেন ঐ শিক্ষক নেতা।

এক্ষেত্রে পরিপত্র সংশোধন করে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দক্ষতা অনুযায়ী ক্লাস নেবার দাবী জানান তিনি।

 

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তার ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাসিক ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তার মাসিক ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে মাসিক ভ্রমণ ভাতা ৫০০ টাকার পরিবর্তে তিন হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, যেসব সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলো প্রমাণ অনুযায়ী পরিদর্শনে সমর্থ হবেন তারা মাসিক তিন হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা পাবেন। প্রমাণ অনুযায়ী পরিদর্শনে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট হারে ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ হার উল্লেখ করা হয়নি।

আরও বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো ভাতা সুবিধা পাবেন না। এছাড়া ছুটি চলাকালীন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রমাণ অর্জন সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র দেবে, যা বিলের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারি সকল প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণের দাবি

ডেক্স : ২৫ এপ্রিল : সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন ‘বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’।  মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

শিক্ষকরা জানান, সারাদেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক স্কুল এখনও বেসরকারি রয়েছে। ২০১২ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ করা অপেক্ষমাণ ছয় হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী বাজেটে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের দাবি জানান তারা।

একইদিনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আলাদা সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বেতন বৈষম্য নিরসনে দাবি জানানো হয়।

দাবি আদায়ে আগামী ৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ১৫ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি এবং ১০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. শামসুল আলম। এ সময় বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

লালমনিরহাটে জাতীয়করনকৃত দুই শিক্ষক বরখাস্ত

লালমনিরহাটপ্রতিনিধি,২২এপ্রিল:   লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের গবাই মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও তহমিনা খানম এর জাল সনদ প্রমানিত হওয়ায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বরখস্ত করেন।

সরকারি গেজেটে নতুন বিদ্যালয়টিকে দ্বিতীয় ধাপে সরকারী করন করা হয়। চাকুরী নেওয়ার সময় জাহাঙ্গীর আলম আলিম পাস ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ পাস এর জাল সনদ জমা দেয়। তহমিনা খানম ১৯৯৩ সালে ফকিরের তকেয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন কিন্তু তা গোপন করে ১৯৯৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার জাল সনদ দিয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকুরীতে যোগদান করে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন। তার প্রেক্ষিতে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আল ইমরানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

উক্ত কমিটির তদন্ত পুর্বক গত ১০ এপ্রিল জেলা শিক্ষা অফিসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে আনিত অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হওয়ায় ঐ ২ জন শিক্ষককে সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল ) বিধি- ১৯৮৫ এর বিধি-১১ (১) অনুযায়ী চাকুরী হতে সাময়িক ভাবে বরখাস্তের লিখিত আদেশ দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক বেতন ও পদায়ন নিয়ে অসন্তোস। প্রধান শিক্ষক সমিতির ২জন প্রতিনিধি রাখার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক সংকট দূর করতে ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জন নন-ক্যাডারকে নিয়োগ করছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাদের পদায়ন ও বেতন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমানে যারা এ পদে নিয়োজিত রয়েছেন তারা দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন ও মর্যাদা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন বৈষম্য দূর করতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না নতুন বা পুরাতন কেউই।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, ‘শিক্ষকদের জন্য ভালো কিছু অবশ্যই করবো। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করতে চাই। সে কারণে তাদের দাবি-দাওয়া শুনেছি। আর যারা ৩৪তম বিসিএস থেকে আসছেন তাদের বিষয়টি নিয়েও কাজ চলছে, নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।’
প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৩৪তম বিসিএসের একাধিক প্রার্থী জানান, প্রাথমিকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি করা হলেও এখনও বেতন বা মর্যাদা কোনটিই দেওয়া হয়নি। নিয়োগের আগেই যদি তা ঠিক করা না হয়, ক্ষোভ মনে রেখেই চাকরিতে যোগ দেবেন সবাই।
এছাড়া, আগের প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ম মেনে ৩৪তম বিসিএস থেকে আসা ৮৯৮ জন নিয়োগ পাবেন গ্রামের বাড়ির কোনও স্কুলে। যারা এখন স্বামী অথবা স্ত্রীর সঙ্গে ঘর সংসার পেতেছেন অন্যখানে। এ কারণে অনেকেই চাকরি পরে ছেড়ে দিতে পারেন অথবা মনে চরম ক্ষোভ নিয়েই চাকরিতে যোগ দেবেন। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য অর্জন খানিকটা হলেও ব্যহত হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইদুল্লাহ বলেন, ‘২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘোষণা করলেও পদমর্যাদা ও বেতন কোনটিই পাওয়া যায়নি। হাইস্কুলের শিক্ষকসহ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সরকারি কর্মকর্তারা যে সুবিধা পান, আমাদের তা দেওয়া হয়নি। আজ অবধি গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান শিক্ষকদের নাম গেজেটভুক্ত হয়নি। যে কারণে আমাদের বেতনের জন্য থানা শিক্ষা অফিসারের জন্য বসে থাকতে হয়।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে বেতন পাচ্ছেন ১১ গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১২ গ্রেডে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১৪ গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১৫ গ্রেডে। সেই হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১০ হাজার ২০০ টাকা স্কেলে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন কম পাচ্ছেন মাত্র এক হাজার ১০০ টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদা ও বেতন কোনটিই পাচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ থাক বা না থাক গ্রেড একটি। অথচ প্রাথমিকে দ্বিতীয় শ্রেণি করা হলেও গ্রেড দু’টি। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়। এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করতে এবং উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গত মার্চ মাসে পাঁচ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিয়োগের আগেই বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন নামেন। তাদের আন্দোলনের ফলে গত ১০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির আরেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সাধারণ সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন কমিটিতে ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধিকেও অন্তভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। আমরা প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ২ জন প্রতিনিধিকে রাখার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন দিয়েছি। কারন সমস্যা আমাদের । তাই কমিটিতে আমাদেরকই রাখতে হবে। অন্য কোন সমিতির প্রতিনিধি থাকলে আমাদের সমস্যা কখনই সমাধান হবে না।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter