প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল নভেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। অক্টোবরে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। আর আগামী নভেম্বর মাসেই শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডটকমের পক্ষ থেকে করা প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
মহাপরিচালক জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জেলা পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৬১টি জেলার মৌখিক পরীক্ষা শেষ করা হবে। মৌখিক পরীক্ষা শেষে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে মোট ৫৫ হাজার ২৯৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রথম ধাপ গত ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপ ৩১ মে, তৃতীয় ধাপ ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছরের ৩০ জুলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ১২ হাজার আসনের বিপরীতে সারাদেশ থেকে ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৭ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

উপবৃত্তির টাকায় ভ্রমণে যাবেন খন্ডকালীন কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৭ সেপ্টেম্বর:

প্রাথমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) অর্থ দিয়ে আমোদ ভ্রমণে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্পে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ভ্রমণের জন্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।



আগামী ডিসেম্বরে তাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সফরসঙ্গী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) মো. ইউসুফ আলী ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) শর্ত লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের খুশি করতে বিদেশ সফরের এই প্রস্তাব করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিদেশ সফরের জন্য প্রকল্প থেকে সবে মাত্র নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন কোন কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন তা নির্ধারণ করা হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে নাম চূড়ান্ত করা হবে।’

সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করতে উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয় ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে। প্রাথমিক উপবৃত্তি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) ২০১৭ সালের জুনে শেষ হয়। পরে নতুন করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের মূল ব্যয় ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সুবিধাভোগীর লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৪০ লাখ নির্ধারণ করা হয়। উপবৃত্তির টাকা রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সার্ভিস চার্জ বাবদ রূপালী ব্যাংককে প্রকল্পের মোট বরাদ্দকৃত অর্থের দেড় শতাংশ দেয়া হতো। প্রকল্পের টাকায় বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা সুবিধা নিতে কর্মকর্তারা দেড় শতাংশের পরিবর্তে দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাড়িয়ে গত মাসের ২৫ তারিখ রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেন।

চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ করাবে রূপালী ব্যাংক। প্রতিবার ভ্রমণে ব্যাংকের পাঁচজন কর্মকর্তাও প্রকল্পের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ করবেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদেশ সফর বাবদ এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভ্রমণের কথা রয়েছে। আর সচিবের নেতৃত্বে অপর একটি টিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করবেন। বিদেশ ভ্রমণ করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের নাম পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিযোগপ্রাপ্ত মনিটরিং অফিসার রাশেদ ইসলাম ও অসীম চক্রবর্তী এবং হিসাবরক্ষক খোকন চন্দ্র সুত্রধরসহ চারজনের নাম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পে কর্মরত বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালকদের নাম নেই। রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই সরকারি চাকরিজীবী হতে হবে। কিন্তু প্রস্তাবকৃত কর্মচারীরা সরকারি চাকরিজীবী নন; তারা চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চাকরি শেষ হয়ে যাবে। এমনকি তাদের সরকারি পাসপোর্টও নেই।

সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ পার্সপোর্ট নিয়ে তারা উন্নত দুটি দেশ ভ্রমণ শেষে আর দেশে ফিরবেন না। যেকোনো একটি দেশে তারা থেকে যাবেন। কারণ, আগামী তিন মাস পরে তাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। প্রকল্পের মেয়াদও আর বাড়ানো হবে না। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাদের নাম বিদেশে সফরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা না। ডিসেম্বরের পর তাদের চাকরি না থাকায় সরকারি টাকায় বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে না। শুধু শুধু সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ নষ্ট হবে। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দুটি দেশ ভ্রমণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।
সুত্র: বিডি জার্নাল।

প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ক্রয়ে শুরুতেই বিতর্ক

ডেস্ক,১৪ সেপ্টেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনে ২৬ হাজার ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তিসামগ্রীর ক্রয় পদ্ধতি নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ডিপিএম প্রক্রিয়ায় শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ডিপিই কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ডিপিই’র কর্মকর্তাদের অনেকে বলছেন, ডিপিএম প্রক্রিয়ায় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় তা মানসম্মত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


ডিপিই সূত্র জানায়, দেশের প্রতি উপজেলায় একটি করে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক ক্লাসরুম পরিচালিত হচ্ছে। এর আলোকেই একসঙ্গে দেশের বিদ্যমান সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬০ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং ম্যাটেরিয়ালভিত্তিক ক্লাসরুম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগও করছে। এদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) কেনাকাটায় আগ্রহী বেসরকারি সরবরাহকারীরা। এ নিয়ে বেসরকারি সরবরাহকারীরা কয়েক দফা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে লিখিতও দিয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছিলাম, সেটা বাতিল করেছি। এটা সরকারের সিন্ধান্ত। পরবর্তীতে সরাসরি মাল কেনার জন্য টিএন্ডটি (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তাদের মতামত পেয়েছি; তারা আমাদের জানিয়েছেন, তারা সরকারি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও স্পিকার সরবরাহ করতে পারবেন। এখন সরকার সিন্ধান্ত নেবে, ডিপিএম হবে কিনা- তবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

ডিপিই’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিন্ধান্ত রয়েছে, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওটিএম (ওপেন টেন্ডার মেথড-উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) অনুসরণ করার। কিন্তু এই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রায় দেউলিয়া হতে যাওয়া ‘টেলিফোন শিল্প সংস্থা’র (টেশিস) মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য কেনার চেষ্টা করলে সেখানে দুর্নীতি বা লুটপাটের অভিযোগ আসতেই পারে। তাছাড়া টেশিস’র মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রকল্প আইসিটি ফেইজ-১’ এর অধীনে কেনা প্রায় ২৪ হাজার আইসিটি শিক্ষা উপকরণের অধিকাংশই অকেজো হয়ে পরেছে।’ টেশিস হলো ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা।

ডিপিই’র সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকার সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সব শিশুর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।

দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ৫০০টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু আছে। এবার চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) আওতায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য ২৬ হাজার ল্যাপটপ কেনা হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে ২৬ হাজার সাউন্ড সিস্টেম ও ২৬ হাজার প্রজেক্টর। এজন্য ৩৩৮ কোটি টাকার সংস্থান আছে।

৭ দফা দাবীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু

ডেস্ক,১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯:
বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর অফিস অভিমুখে পদযাত্রা, স্মারকলিপি প্রদান ও মানবন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা। শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একই সমিতির দুটি পৃথক ব্যানারে পৃথক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের যথাক্রমে দশম ও এগারোতম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে নামছেন তারা।



শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বেতন বৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অফিস অভিমুখে পদযাত্রা। তার আগে একইদিন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামেনে মানববন্ধন করবে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

অপর সংগঠনের সদস্যরা আগামী ২৩ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রীর অফিস অভিমুখে পদযাত্রা করে স্মারকলিপি পেশ করবেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে পদযাত্রা শুরুর আগে একই দিনে সকাল এগারোটায় তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর তোপখানায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে “প্রাথমিক শিক্ষকদের উন্নীত গ্রেডের বেতনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নাকচ করায় ০৭ দফা দাবিতে” এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা। উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি শফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবু ওয়াদুদ ভূইয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি কামরুল হাসান ভূইয়া, কমল বক্সী, তরিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আরিফ দেওয়ান, মনির হোসেন, মমতাজ মহল, সিরাজুল ইসলাম, ইউনুস, সৈয়দ নাজমুল হোসেন লিটু, জাকির আহমেদ, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

কর্মসূচি: ২৩ অক্টোবর বেলা ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষক মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর অফিস অভিমুখে পদযাত্রা। এর আগে ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মানববন্ধন। ৩০ ডিসেম্বরে মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রধান শিক্ষকদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি দেয়া হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে যাদের পাঠদানের মান ভালো হবে, তাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক করা হবে। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই দেয়া হচ্ছে- এটা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। আমরা নীতিমালা করেছি, সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে না। প্রধান শিক্ষকদের এটিও এবং টিও পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভাগীয় মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।



এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াহাবের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার স্মৃতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেডবৈষম্য নিরসনে অাবারো প্রস্তাব যাচ্ছে

শিশির দাস:১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেলেও তাঁরা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। অথচ একই পদমর্যাদার অন্য সরকারি কর্মকর্তারা বেতন পান ১০ম গ্রেডে। আর সহকারী শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন গ্রেড নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আওয়ামী লীগ তাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসন করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে তাতে অসম্মতি জানানো হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে চার লাখ শিক্ষক। তবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবারও নানা ধরনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।


প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা এখন বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১২তম গ্রেডে। তবে মন্ত্রণালয় শুধু প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এখন বেতন পাচ্ছেন ১৪তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৫তম গ্রেডে। মন্ত্রণালয় তাঁদের জন্য একটি মাত্র গ্রেড ১২তম দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেডবৈষম্য নিরসন ও বেতন বৃদ্ধি প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। এ বৈষম্য দূর করতে একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেটি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আবারও প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেতনবৈষম্য নিরসন নিয়ে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করব। শিক্ষকদের এ ব্যাপারে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মন্ত্রণালয় যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান অন্য যেকোনো পেশা থেকে আলাদা ও মর্যাদাকর। শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ঘটাতে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেল ও পদমর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রধান শিক্ষকরা যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদাপ্রাপ্ত, তাই তাঁদের বেতন অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার মতো ১০ম গ্রেডে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বর্তমানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা নার্সদের দশম গ্রেডে চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। কিন্তু স্নাতক ডিগ্রিধারী ১৮ মাসের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন শেষ করে একজন সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। তাই স্নাতক ডিগ্রিধারী ও উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল (গ্রেড) ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত ১২তম গ্রেডে নির্ধারণ করা যৌক্তিক। এতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং শিক্ষকদের হতাশা অনেকাংশে দূর হবে। ফলে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বেগবান হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র এস এম ছায়িদ উল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই শিক্ষকদের স্থান সবার ওপরে। অথচ আমাদের দেশের প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির। আবার বেতনও এক গ্রেড নিচে। অথচ এখন যাঁরা শিক্ষকতায় আসছেন তাঁরা সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। সরকার যদি শিক্ষকদের এতটুকু মর্যাদা না দেয় তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে মেধাবীরা আর প্রাথমিক শিক্ষায় আসবে না।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের গ্রেডবৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার করেছে। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। আর আমাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকরা যদি দশম গ্রেড পান, আমাদের দাবি ১১তম গ্রেড। যদি আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দাবি মেনে না নেয় তাহলে আমরা আবারও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে তিন লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।
সুত্র: কালের কন্ঠ

প্রধানদের ১০ এবং সহকারীদের ১২ তম গ্রেড কার্যকর হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক,১২ সেপ্টেম্বর:

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি নাকচ করে তা ফেরত পাঠিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সারা দেশের সহকারী শিক্ষকরা।


তবে এ বিষয়ে শিক্ষকদের হতাশ না হওয়ার অনুরোধ করছেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

বুধবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে রংপুর বিভাগের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপার ও কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে এক মত বিনিময় সভায় শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রেড উন্নয়নের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যত সমস্যাই আসুক শিক্ষকদের প্রস্তাবিত গ্রেড কার্যকর হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরাও সেটাই মনে করি। খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হবে। সেই সাথে টাইমস্কেল সমস্যারও সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য কমানোসহ গ্রেড উন্নীতকরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা।

বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে পাঠদানের কাজ করেন সহকারী শিক্ষকেরা। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকেরা বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা স্কেলে। (কোর্টের রায় অনুসারে যেহেতু বকেয়াও পাবেন)। এছাড়া সহকারী শিক্ষকেরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা স্কেলে।

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

ডেস্ক,১২ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার মান আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। ডিজিটাল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।




বৃহস্পতিবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষার কথা উল্লেখ্য করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় একযোগে জাতীয়করণ করেছিলেন। আমরা প্রত্যেকটা স্কুল যাতে উন্নত হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছি। সারাদেশে ডিজিটাল স্কুলের ব্যবস্থা করেছি। প্রাথমিক স্কুলে ছেলে মেয়েরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে সে লক্ষ্যে যা যা করার করেছি। প্রত্যেক স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা দেয়ার জন্য ভ্যানে করে লোক খুঁজে তার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় উৎসাহী হয় সেজন্য এককোটি ত্রিশ হাজার মোবাইল সিমে একাউন্ট খুলে বৃত্তি প্রদান করছি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার মান আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। ডিজিটাল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

কম্পিউটার শিক্ষার যাতে উন্নতি হয়, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রযুক্তির শিক্ষা লাভ করতে পারে সে লক্ষে ভ্যানে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে কাজ করছে সরকার। মেয়েদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ঝড়ে পড়া রোধে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

বর্তমান সরকার ২ কোটি ৩ লক্ষ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছে। এর মধ্যে ১ কোট ২০ লাখ শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা তাদের মায়েদের মোবাইলে পাঠয়ে দেয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাইনি: প্রাথমিক সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১ সেপ্টেম্বর:
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেতন বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা নাকচ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার সুযোগ নেই। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আপাতত দূর হচ্ছে না। তবে, এখনও অর্থমন্ত্রণালয়ের চিঠি হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছিল সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেতন বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

পরবর্তীতে দাবি আদায়ে প্রধান শিক্ষকরা হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ঢাকার সূত্রাপুরের গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টে ওই রিট দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। রায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ের আলোকে এবং শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই বেতন বৈষম্য দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষক পদের বেতন ১২ তে উন্নীত করার সুযোগ নেই।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ জারির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি প্রতিবাদ জানিয়েছে। সমিতির মুখপাত্র এস এম ছাইদ উল্লা বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় আদালত অবমাননা করেছে। হাইকোর্টের রায়ের পরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব নাকচ করা ঠিক হয়নি। আমরা আদালতের রায় হাতে পেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আদালতের রায় পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানাবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণারয়ের চিঠি এখনও হাতে পাইনি।’

উল্লেখ্য, প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককরা বর্তমানে ১১তম, প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষককরা ১২তম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

২৬৫ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক শূণ্য

অনলাইন ডেস্ক,১০ সেপ্টেম্বর:

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার মেকুরের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৩ মাস ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। একজন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় জুলাই মাস থেকে স্কুলে আসেন না তিনি। এমনটাই দেখা গেছে এই স্কুলে। স্কুলের ২৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য নিয়োজিত একমাত্র শিক্ষক ছুটিতে থাকায় ৩ মাস ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে স্কুলটিতে। স্কুলের এমন বেহাল দশায় হতবাক হয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।


শনিবার সকালেদেখা যায়, স্কুলের সব কক্ষ বন্ধ। স্কুলের মাঝখানে হেলে যাওয়া বাঁশে খুঁটিতে জাতীয় পতাকা উড়ছে। স্কুলের পাশেই খেলছে ২০ থেকে ২৫ জন শিশু। কোথায় পড়ে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, আমরা এই স্কুলে (পাশের মেকুরের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) পড়ি। আজ কেন স্কুলে যাওনি এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীরা জানান, স্যার নাই তাই।

শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে যায় স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে এক ব্যক্তি ছুটে এসে পরিচয় জানতে চান। তার নাম নুরে আলম সিদ্দিকী রতন ও তিনি স্কুলের প্যারা শিক্ষক বলা জানান ওই ব্যক্তি। পরে তড়িঘড়ি করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে নিয়ে বাংলা বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন প্যারা শিক্ষক রতন।

পরে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগমের স্বামী প্যারা শিক্ষক রতন। তবে স্কুলটির বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানায়, ওই স্কুলের শিক্ষক সাদিকা বেগম মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে কামাল খামার তেতুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. ইকরামুল হক নামের একজন শিক্ষককে ডেপুটেশন দেয়া হয়েছিল ওই বিদ্যালয়ে। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করে ডেপুটেশন বন্ধ করেছেন তিনি। পরে আবারো কুনারচর শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত এক মহিলা শিক্ষিকা ওই স্কুলে ডেপুটেশন দেয়া হয়। কিন্তু একই ভাবে স্কুলে না গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে ডেপুটেশন বন্ধ করেন এ শিক্ষিকাও।

এদিকে প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগম ছুটিতে থাকলেও কোন শিক্ষক স্কুলে আসেনি। শিক্ষার্থীরা জানায়, যে যার মত স্কুলে এসে শিক্ষক না দেখে বাড়িতে চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগম বলেন, আমি অসুস্থ। চলতি বছরের জুলাই থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছি। তাই স্কুলের খোঁজ খবর রাখার আমার বিষয় না। তবে, আমার স্বামীকে প্যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা অফিস। অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় আগেভাগেই স্কুল ছুটি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নরুজ্জামান জানান, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে কোন শিক্ষক থাকতে চান না। তাই পাঠদানে চরম অবহেলিত হচ্ছে। একজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। যে এক শিক্ষক ছিল তা আবার সরকারি ছুটি নিয়েছে।

উলিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মোজাম্মেল শাহ্ বলেন, ‘স্কুল বন্ধ রাখার প্রশ্নেই ওঠে না। আর অফিস থেকে দুইজন শিক্ষক ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু তারা ওই চরাঞ্চলের স্কুলে যেতে চায় না। তাই একজন প্যারা শিক্ষক দিয়েছি। যদি স্কুল বন্ধ থাকে তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের জানান, স্কুল বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের জরুরি সভায় যা হলো

ডেস্ক,১০ সেপ্টেম্বর:

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক নেতারা। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের লক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে এক জরুরি সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সভা শেষে বেতন বৃদ্ধির দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তারা জানান, শিগগিরই আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।


৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’

এদিকে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নাকচ করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা (ঠাকুরগাঁও), সিনিয়র সহ সভাপতি ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি এম এ ছিদ্দিক মিয়া, গোলাম মোস্তফা ( ময়মনসিংহ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল করিম (কুষ্টিয়া), এ কে এম শরিফুল হুদা সাগর ( রাজবাড়ী), সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদুর রহমান , বিল্লাল হোসেন ( চাঁদপুর) প্রমূখ।

শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড প্রদানের দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার বারবার এ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েও তা আবার নাকচ করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরেও তিনি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সে ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রণালয়ের এ ধরনের একটি সিদ্ধান্তে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই : অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। গত রোববার অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।


অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাবনা গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের দাবির মুখে এ প্রস্তাবনায় প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন ভাতা। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি সমালোচিত হয়েছিল শিক্ষক মহলে।

বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ প্রাথমিকের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডটকমকে বলেন, আমরা সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড চেয়েছিলাম। আমরা ১১মত গ্রেডের দাবিতে আছি। এ দাবি আদায়ে খুব তাড়াতাড়ি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বরুপ দাস দৈনিক শিক্ষা বার্তা ডটকমকে জানান, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিগগিরই জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক স্কুল নির্মাণ করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। রোববার সংসদে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি একেএম শাহাজাহান কামালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ করেছে এবং নতুন নতুন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিভাবে নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০টি বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়হীন গ্রামে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১ হাজার ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ায় এর আওতায় নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ এ পর্যায়ে নেই।

ভবিষ্যতে এ জাতীয় প্রকল্প চালু হলে নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিদ্যালয়হীন গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকে পুজার ছুটি মাধ্যমিকে সাথে মিল হচ্ছে

ডেস্ক,৬ সেপ্টেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজার ছুটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
জানা গেছে, এ বছর মধ্যমিক স্তরে পূজার ছুটি ৪ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে ১৩ অক্টোবর (রোববার) পর্যন্ত আট দিন। আর প্রাথমিকে ছুটি ৭ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ৯ অক্টোবর (বুধবার) পর্যন্ত মাত্র তিন দিন।


সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮৫ দিন আর প্রাথমিকে মোট ছুটি ৭৫ দিন হওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে প্রাথমিকের শিক্ষকদের।
বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রী মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আমারা আশা করছি আমাদের ছুটি মাধ্যমিকে সাথে সমন্বয় করা হবে।

দুর্গাপূজায় অন্যান্য বছর আটদিন বন্ধ থাকলেও এবার প্রাথমিকে তিন দিন কেন? সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির ছুটি পর্যালোচনার ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, এবার রমজানের ছুটির সঙ্গে শুক্র-শনিবার পড়ে ঈদের ছুটি বেড়ে গেছে। আমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করে বসা হবে। ছুটি যোগ করার সুযোগ থাকলে তা করা হবে। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ছুটি হেরফের হয়েছে। মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, সমাধানও করব।

২০২১ থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকবে না

ঢাকা,৫ সেপ্টেম্বর:
প্রাথমিক স্তরের শিশু শিক্ষার্থীদের উপর পরীক্ষার চাপ কমাতে ২০২১ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত গতাণুগতিক পরীক্ষা থাকবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।


প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষার বদলে সারাবছর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাচ্চাদের উপর পরীক্ষা চাপ কমানোর জন্য তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হেসেন বলেন, এখনই পরীক্ষা না থাকার বিষয় নয়।

বিষয়টি স্পস্ট করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হেসেন।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে সভা করেছি। ২০২১ সালে নতুন কারিকুলামে কার্যক্রম শুরু করবো। ২০২০ সালে সামেটিক পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত রাখবো না, ফরমেটিভ পরীক্ষা রাখবো অর্থাৎ রাউন্ড দ্য ইয়ার তারা পরীক্ষা দেবে। সেক্ষেত্রে ১০০টি স্কুলে ট্রাইআউট করবো।

‘এরপরে ২০২১ সালে নতুন কারিকুলামে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে। অর্থাৎ গতানুগতিক প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষা থাকবে না। তবে সারাবছরই ক্লাসে মূল্যায়ন করা হবে।’

সচিব বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ সবগুলো বিষয় মূল্যায়ন করে গ্রেড দেওয়া হবে।

শিক্ষা নীতিতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি প্রক্রিয়াধীন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি চলছে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter