Home » প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষা

আজব কান্ড-শিক্ষা অফিসারের গলায় জুতা

পিরোজপুর প্রতিনিধি,১৪ নভেম্বর:

পিরোজপুরের কাউখালিতে শিক্ষা অফিসারকে জুতার মালা পড়ানোর মামলায় উপজেলার চার প্রাথমিক শিক্ষককে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এদের মধ্যে একজনকে এক বছর ৬ মাস ও তিনজনকে ৬ মাসের করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বুধবার দুপুরে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ এর বিচারক মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার কাউখালী উপজেলার ১নং সয়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়া, ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বাদল হালদার, ১৪নং মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শ্যামল হালদার ও ৩৭নং শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল খান।

আদালত মো: উজ্জ্বল মিয়াকে এক বছর ৬ মাস ও অন্য ৩ জনের প্রত্যেককে ৬ মাসের করে কারাদন্ড প্রদান করেন।

এর মধ্যে সয়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়া এক‌ই ঘটনায় বিভাগীয় মামলায় সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ (৩)(ঘ) মোতাবেক চাকরি হতে বরখাস্ত হয়েছেন। একই অভিযোগে বাকি তিনজনের মধ্যে বাদল হালদার ও শ্যামল হালদার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এবং আব্দুল জলিল খান চাকরির ৫৯ বছর পূর্তি হওয়ায় বেতন ভাতা না পেয়েই অবসরে আছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন জানান, শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়ার নেতৃত্বে অপর ৩ শিক্ষক তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি জুতার মালা প্রস্তুত করে ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল ইসলামের গলায় পরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

তারা নিজেরাই আবার এ ঘটনা নিজেদের ক্যামেরাম্যান দিয়ে ছবি করিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সরবরাহ করে। বিভাগীয় তদন্তে ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালে অভিযুক্ত ওই ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক বিভাগীয় মামলা দায়ের সহ তাদেরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিভাগীয় মামলার তদন্তে চার জন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককেই চাকিরী থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

পরবর্তীতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০৯ সালে পিরোজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি ৫০০/৫০১ ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকরা সাক্ষাত চান

অনলাইন ডেস্ক,১৪ নভেম্বর:

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এটি একধরনের প্রহসন বলে মনে করছেন তারা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান । প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের সাথে এক ধরনের প্রহসন করা হয়েছে। তারা আগেও ১১তম গ্রেড পেয়েছেন আবার এখনও ১১ তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। যা হাস্যকর।

সুত্র জানায়,প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নাকচ করে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রাগম অর্থ মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে । নতুনভাবে আলোচনার মাধ্যমে প্রধানদের ১১তম ও সহকারী প্রধানদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের জন্য প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। তার ভিত্তিতে প্রাগম প্রস্তাব পাঠাই। সেটি তারা লিখিতভাবে সম্মতি জানিয়েছে, এখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

প্রাগম সচিব বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সমাপনী পরীক্ষার পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এ দাবিতে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন তারা। পরে বেতন বৈষম্য নিরসনে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন) জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এর ১১তম গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং সহকারী শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন) ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০ টাকা) বেতন পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু নতুন এ বেতন স্কেল প্রত্যাখ্যান করেন বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস। তিনি বলেন, ‘এটি একধরনের প্রহসন। আমরা আগেও ১১তম গ্রেড পেয়ে আসছি। আবার কিভাবে আমাদের ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করা হয় তা বোধগম্য নয়। তাছারা প্রধান শিক্ষকদের ৯/৩/১৪ থেকে ১৪/১২/২০১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত টাইমস্কেল আটকিয়ে আছে। যা দ্রুত সমাধানের দাবী জানান।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে হলে সন্তান পড়া বাধ্যতামূলক

ডেস্ক,১২ নভেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে সরকার। আর বিদুৎসাহী দুই সদস্যের যোগ্যতা হতে হবে এসএসসি পাস।

এসব শর্ত যুক্ত করে সোমবার সংশোধিত নীতিমালায় নতুন বিধানটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের ১১ সদস্যের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও এবং সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। পদাধিকার বলে সদস্য সচিব থাকবেন প্রধান শিক্ষক।

এতে আরও বলা হয়, এসব পদে নির্বাচন করতে হলে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সন্তানকে অবশ্যই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে।

এর বাইরে নীতিমালায় তেমন কোনো সংশোধন নেই। কমিটি গঠন পদ্ধতি, অ্যাডহক কমিটি, কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কমিটি বাতিলসহ বিভিন্ন বিষয় নীতিমালায় রাখা হয়েছে। এসব কমিটির মেয়াদ হবে ৩ বছর।

গত মে মাসে বেসরকারি হাইস্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং সদস্য নির্বাচনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিতর্ক হয়।

কমিটির একটি অংশ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পক্ষে মত দেন। অন্য অংশের দাবি, যেখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না, সেখানে পর্ষদের সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রয়োজন নেই।

তবে, আগের নীতিমালায় অনেক বিদ্যালয়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে নিরক্ষর ব্যক্তিকে নির্বাচন করায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে আসছে বলে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার মান বাড়াতে তারা কোনো ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন না। অনেক সময় শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন। সভাপতিরা স্থানীয় ব্যক্তি ও ক্ষমতাবান হওয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম করলেও শিক্ষকরা ভয়ে বাধা দেন না।

এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আসায় যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে সভাপতির ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক পাসের শর্ত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

২০১৫ সালে স্নাতক (পাস) ও অনার্স-মাস্টার্স কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পাস নির্ধারণ করা হয়। তবে বেসরকারি স্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ বা মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বা অন্য সদস্য হতে ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত নেই।


স্কুলের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি,১২ নভেম্বর:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকারের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ওই উপজেলার গোবদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমানের পক্ষে লালমনিরহাট জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন।

লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোবদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রুটিন মেইনটেন্যান্সে ৪০ হাজার এবং স্লিপ প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যথাযথ ভাবে কাজ সম্পন্ন করেন। সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহসিন আলীর সুপারিশ ও কাজের ব্যায় ভাউচার প্রদান করে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নম্বরে বরাদ্ধের বিল প্রদানের আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে সরকারী কোষাগার থেকে সমুদয় অর্থ উত্তোলন করলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিল পরিশোধ করেননি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সেই বিলের জন্য চাপ দিলে আজ কাল বলে টালবাহনা করেন শিক্ষা অফিসার।

এদিকে অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও বিল না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান। সরকারী অর্থ আত্মসাৎ মামলা করতে বিধিমতে প্রথমে অভিযুক্তকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন তিনি।

লালমনিরহাট জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের মাধ্যমে গত ৬ নভেম্বর স্বাক্ষরিত একটি লিগ্যাল নোটিশ শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠানো হয়। যেখানে নোটিশ প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে আত্মসাৎকৃত দুই প্রকল্পের ৯০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে প্রদান করতে বলা হয়। অন্যথায় সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করার অপরাধে কেন দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হবে না তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় নোটিশে।

লালমনিরহাট জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, বিধিমতে কাজ শেষে হলে অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা। কিন্তু শিক্ষা অফিসার তা না করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাৎ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।


প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে, তাহলে আবার ১১তম কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন,৮ নভেম্বর : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) প্রাথমিকের শিক্ষক নেতাদেরকে এ তথ্য জানিয়েছেন গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সচিবের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস জানান, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা এতদিন বেতন পেতেন ১১তম ও ১২তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একমাত্র সংগঠন প্রধান শিক্ষক সমিতি দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

আমরা যেহেতু ইতিমধ্যে ১১তম গ্রেডে বেতন পাই তাহলে এখন আবার ১১তম গ্রেড কেন?

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই দাবী প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দিতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে হাইকোর্টের রায়ের কপি মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছি। রায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড পদ মর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন)। অথচ নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ গ্রেডে বেতন পান।

পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ,সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এসএম সাইদুল্লাহ, স্বরুপ দাস, রঞ্জিত ভট্রাচার্য,সাংগাঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ ৪৫ জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।


প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের ১১, সহকারীদের ১৩তম গ্রেডের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক,৮ নভেম্বর:

গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন প্রাথমিক বিদ‌্যালয়ের শিক্ষকরা। দাবি না মানলে আসন্ন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

তবে ইতোমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর সহকারী প্রধান শিক্ষকদের পদ সৃজন করা হলে ১৩ তম গ্রেডে বেতন দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) প্রাথমিকের শিক্ষক নেতাদেরকে এ তথ্য জানিয়েছেন গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। বৈঠক শেষেএমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সচিবের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কথা হয়।

সভাশেষে শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১২তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেয়ার কথা গণশিক্ষা সচিব বলেছেন। সচিব জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। তবে, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের পদসৃজন হলে তাদের ১২ তম গ্রেডে বেতন দেয়া হবে। পদ সৃজনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

তবে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সচিব শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক পদে আর সরাসরি নিয়োগ দেয়া হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা জানান, আমরা পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অর্থাৎ পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল আছি। তবে, আগামীকাল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে বসবো। বৈঠক শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ১৭ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, শিক্ষক নেতা আনিসুর রহমান, মো. বদরুল আলম, আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, আবদুল্লাহ সরকার, আবুল কাশেম প্রমুখ।

জানা গেছে, গণশিক্ষা সচিব শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গণশিক্ষা সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সচিবকে জানান শিক্ষক প্রতিনিধিরা। এছাড়া প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণায়ও অটল বলে জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন, আমরা সচিবের কথায় সন্তুষ্ট। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিন সময় না পেলে আন্দোলন থেকে সরবো না। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সব সমস্যা ও বৈষম্য তুলে ধরা হবে। তিনি আমাদের যে প্রস্তাব দেবেন সেটাই মেনে নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাপনী পরীক্ষার আগে যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানানো হয় তবে পরীক্ষা বর্জনের আন্দোলন স্থগিত করা হবে। তা না হলে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।



প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য: সংসদীয় কমিটি যা বলল

ডেস্ক,৩১ অক্টোবর:
প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে প্রাথমিক শিক্ষকরা। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতারা।

বুধবার সংসদ ভবনে বৈঠকে বসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা আপাতত দশম গ্রেড পাবেন না। তাদের ১১তম গ্রেডই দেওয়া হচ্ছে। আর সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেড। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ উচ্চ পর্যায়ের পদগুলো আপগ্রেড হলে তারপর প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হবে। তবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের বেতন আপগ্রেড হওয়ার পর সহকারীদের কত দেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সচিব এর সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, আপাতত প্রধান শিক্ষকদের ১১তম আর সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়া হবে। আমরা নতুন নিয়োগ বিধির সুপারিশ করেছি। ওই নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবে। সেটা হলেই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্কেল আপগ্রেড করে ১০ গ্রেড করতে পারবো।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বিধি ১৯৮৫’ সংশোধনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন বিধিমালায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নবম গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদে সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদ সপ্তম গ্রেড করা হয়েছে। পদটি পুরোপুরি পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। বিধিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদও আপগ্রেড করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলী আজম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিবেচনাধীন আছে। শিগগিরই এর একটা সুরাহা হবে।


প্রাথমিক শিক্ষকদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে : ডিপিই মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩১ অক্টোবর:
প্রাথমিক শিক্ষকদের সব দাবি যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর কাদের। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিজি মনজুর কাদের শিক্ষক নেতাদের বলেন, আপনাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা আবারও প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড ১০ এবং সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ১১ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবো। মহাসমাবেশে অংশ নেয়া হাজার হাজার শিক্ষককে যে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেন মহাপরিচালক।

মনজুর কাদের আরও বলেন, আাগামী সপ্তাহে শিক্ষক নেতাদের নিয়ে আবারও বসবো। দরকার হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রাথমিক শিক্ষকদের মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে গত ১৪ অক্টোবর সারাদেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরদিন ১৫ অক্টোবর পালন করা হয় তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি। ১৬ অক্টোবর এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এছাড়া গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতিতে যান শিক্ষকরা।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৩ অক্টোবর শহীদ মিনারে মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকরা জমায়েত হতে থাকলে পুলিশ তাদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে ২১ অক্টোবর ডিপিই’র মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সমাবেশে যোগ না দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটির দিনে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। যেসব শিক্ষক মহাসমাবেশে অংশ গ্রহণ তাদের মধ্যে হাজার হাজার শিক্ষককে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকের খোলা চিঠি

ডেস্ক,৩০ অক্টোবর:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে দাবি মেনে নিতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকরা। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জন করবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর পরও সরকার দাবি মেনে নিতে গড়িমসি করলে পরে ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করবেন শিক্ষকেরা। এতেও সরকারের টনক না নড়লে শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ঝুলানোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার ধামরাইয়ের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমস্যা সমাধানে লিখেছেন খোলা চিঠি। সাইদুল ইসলাম নামে ঐ শিক্ষকের ফেসবুকে দেওয়া লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা আপা।

প্রথমে আমার সহস্র কদমবুচি নিবেন! আমি জানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আপনার নজরে আছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে সে ছুটাছুটি করবে এটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি মানবতার মা! আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন! শিক্ষকদের যেনো আর রাস্তায় নামতে না হয়! শিক্ষকেরা যেন বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারে এবং পাঠাদানে মনোযোগী হয় সেই ব্যাবস্থা করে দিবেন আশাকরি!

নার্সরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ম গ্রেড পেতে পারে কৃষিরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ গ্রেড পায় তাহলে আমরা ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা কেন ১১ গ্রেড পাবো না!

একজন শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে ৯৭০০ টাকা বেতন পান সর্বসার্কুল্যে ১৬০০০ টাকা! এই ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে তার পরিবার কে চালাবেন?

একটি বাসা ভাড়া নিতে গেলে নূন্যতম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। বাকি টাকা দিয়ে কি পরিবার চালানো সম্ভব? বাকি টাকা দিয়ে মাসের ১৫ দিন টেনেটুনে চলতে হয় এবং ১৫ দিন মুদির দোকানে ঋণ করে চলতে হয়। বর্তমানে এক কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা সেখানে শিক্ষকের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা!

একটা ছেলে যখন অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে চাকরিতে নিযুক্ত হয় তখন তার বাবা মা এবং তার পরিবার তার ওপরে অনেক আশা ভরসা করে! আমরা সেই হতভাগ্য শিক্ষক আমরা আমাদের বাবা মায়ের সেই আশাটুকু পূরণ করতে পারি না!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর! আপনি মানবতার মা! আপনি পারেন না এমন কিছুই নেই! আপনি চাইলে সবকিছু করতে পারেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি শুনেছি! আপনি একদিন এক বক্তব্যে বলেছিলেন,আওয়ামী লীগ মানে বিলাশ বহুল জীবন যাপন নয়!

আওয়ামী লীগ মানে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো!আমার বিশ্বাস আপনি এই অসহায় শিক্ষকদের ফিরিয়ে দেবেন না! আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের সসম্মানে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমরা শিক্ষকেরা যেনো আপনাকে সারা বিশ্বের মধ্যে আবারও একবার মাদার অব হিউম্যানিটি উপহার দিতে পারি।আমার সামান্য কথাগুলো আপনি বিবেচনা করে দেখবেন।


পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পড়ানোর সময় মারা গেলেন প্রধান শিক্ষক

ডেস্ক,৩০ অক্টোবর:

ক্লাসে পড়ানোর সময় হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক। মঙ্গলবার ক্লাসে পড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ৫১ বছর বয়সী এই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন। পড়াতে পড়াতে হঠাৎ করেই মেঝেতে ঢলে পড়েন। প্রিয় শিক্ষকের এমন অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীদের চিৎকারে ছুটে আসেন অন্য শিক্ষকরা। অচেতন শিক্ষককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়; কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

সহকারী শিক্ষক তপন কুমার রায় বলেন, স্যারকে দ্রুত লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গেছেন। আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় সকালে ক্লাসে পাঠদান করছিলেন শিক্ষক জিয়াউল হক নয়ন। এ সময় হঠাৎ অসুস্থ হলে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেয়; কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।


প্রাথমিকে শূন্য পদের তথ্য চেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের তথ্য চেয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩৩ জুন ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত সহকারি শিক্ষক শুন্যপদের উপজেলা/থানাওয়ারী তথ্য (প্রাক প্রাথমিক ও ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট বিদ্যালয়ের শুন্যপদ হিসাবে আনতে হবে এবং চলতি দায়িত্ব প্রদান জনিত শূন্য পদ আলাদা কলামে দেখাতে হবে) আগাহী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাইক্রোসফট এক্সেল ফরমেটে ইমেইল প্রেরণ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হলো।

পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৭ অক্টোবর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে আজ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।


এর আগে গতকাল অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা।
শেষ দিনে পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি পালন শেষে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহŸায়ক আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের কর্ম বিরতি আজ শেষ দিন। ২২শে অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। আমরা এর মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন চাই। ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সকল বিদ্যালয়ে কর্ম বিরতি পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবীর কথা জানিয়ে দিয়েছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদের দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন করতে কারণ তাঁর নির্দেশেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবী নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কর্মসূচি পালনে বাধ্য করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে চাইনা। তাই ২৩শে অক্টোবরের আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চাই। প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান বলেন, ২৩শে অক্টোবর মহা সমাবেশ থেকে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো। নীতি নির্ধারণী চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ সরকার বলেন, দাবী বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ শতভাগ আন্তরিক হোক আমরা এটাই চাই। তা না হলে আসন্ন প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা হুমকির মুখে পড়বে। প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ এর চেষ্টা করছি। সাক্ষাৎ এর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে কথা হচ্ছে। অন্যতম মুখপাত্র রবিউল হাসান বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ছাড়া আমরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করবো না। আমাদের দাবী যৌক্তিক তাই সকল শিক্ষকই কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রথম যুগ্ম আহŸায়ক আবুল কাশেম বলেন, ২৩শে অক্টোবর ৪ লক্ষ শিক্ষকই ঢাকায় উপস্থিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবেন। ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক গাজীউল হক, ছিদ্দিকুর রহমান, সাবেরা বেগম, শিবাজী বিশ্বাস, আবদুস সবুর, আবদুল হক, ইউএস খালেদা, আবদুল খালেক, মোজাম্মেল হক ও রোজেল সাজু কর্ম বিরতি পালনের জন্য শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান এবং ২৩শে অক্টোবর ঢাকায় উপস্থিত হওয়ার আহবান জানান।



কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

kormobiroti_shikkha
নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ অক্টোবর:
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ডাকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও সহকারি শিক্ষকগণের ১১ তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে বেতন ভাতাদি ঘোষণার দাবীতে ১৪ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর -২০১৯ তারিখ পর্যন্ত ঘোষিত কর্মবিরতির অংশ হিসেবে অদ্য ১৪ অক্টোবর সকাল ১০.০০ -১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত ২ ঘন্টা স্বতঃফূর্ত ভাবে বিদ্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি পালন করেছেন।


প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে আজ সারাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠনের সম্মিলিত মোর্চা ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ গত ৬ অক্টোবর এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আমাদের (প্রাথমিক শিক্ষকদের) পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে যেতে হচ্ছে।’

কিস্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে দীর্ঘ সময় পার হলেও বেতন বৈসম্য দূরীকরণ তো হয়ই নি বরং অর্থ মন্ত্রণালয় মতামত ব্যক্ত করেছেন বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নেই বলে। তারা আরো বলেন আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা নিরুপায় হয়ে আন্দোলনের কর্মসূচীতে রয়েছি, আগামি মাসেই ৫ম শ্রেণির শিশুদের সমাপনী পরীক্ষা এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শ্রেণির শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা সে বিষয়েও সজাগ রয়েছি। আমাদের দাবীর যৌক্তিকতা অনুধাবন করে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সহমত প্রকাশ করলেও আশার প্রতিফলন ঘটেনি।



আন্দোলন করলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-অতিরিক্ত মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ অক্টোবর:

বেতন বৈষম্যে নিরসনের আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।



পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ পর্যায়ে কোনো ধরণের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধিকন্তু সরকারি কর্মচারীগণ এ ধরণের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা-২০১৮ এর পরিপন্থী। বণির্ত অবন্থায় এধরণের কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সোমবার কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ডাকে এ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৪ অক্টোবর) সারাদেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়।

এছাড়া মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত তিন ঘন্টার কর্মবিরতি, বুধবার (১৬ অক্টোবর) এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন , পরদিন ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি, এরপরেও দাবি আায় না হলে ২৩ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সেখান থেকে দাবি আদায়না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসুচি পালন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলো শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন।

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। সর্বশেষ গত জুলাইতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকরা।


প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার জন্য যা পড়বেন

ডেস্ক ,১০ অক্টোবর:
ড্রেস কোড

ভাইভা বোর্ডে আপনার পোশাক, অ্যাপিয়ারেন্স, এক্সপ্রেশন, এটিকেট, ম্যানার—এ বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর এসব বিষয় বোর্ডের সদস্যরা খেয়াল করেন। তাই ভাইভার সময় নিজের জন্য উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন করুন।



ছেলেদের ড্রেস

শার্ট : সাদা ফুলশার্ট। সাদার ওপর যেকোনো স্ট্রাইপ হলেও চলবে। অন্য রঙের মানানসই শার্টও পরতে পারেন। পকেটে একটি কলম রাখবেন।

প্যান্ট : কালো রঙের ফরমাল প্যান্ট পরুন।

হাতঘড়ি, বেল্ট ও জুতা : চামড়ার ফিতার ফরমাল হাতঘড়ি, জুতা ও প্যান্টের সঙ্গে ম্যাচ করে কালো রঙের চামড়ার বেল্ট পরুন। কালো রঙের, রাবারের সোলযুক্ত ফরমাল শু পরিধান করবেন। টাই পরার প্রয়োজন নেই। যাঁরা পাঞ্জাবি-পাজামা পরতে চান, সাদা রঙের পরতে পারেন। ভাইভার পাঁচ-ছয় দিন আগে চুল কাটিয়ে নিন। ভাইভার দু-এক দিন আগে নখ ছোট করে নিন। ভাইভার আগের দিন বা ভাইভার দিন সকালে শেভ করে নিন।

মেয়েদের ড্রেস

মার্জিত রঙের শাড়ি পরিধান করতে পারেন। তবে শাড়ি যেন অতিমাত্রায় কারুকাজের চকমকে না হয়, সেই দিকটা খেয়াল রাখুন। চাইলে সালোয়ার-কামিজও পরতে পারেন। তবে তা যেন মার্জিত রং ও ডিজাইনের হয়।

ভাইভার জন্য যা যা পড়বেন বা জেনে রাখবেন

১. আপনার এবং আপনার মা-বাবার নামের অর্থ কী?

২. আপনার নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিখ্যাত ব্যক্তির নাম।

৩. আপনার বংশপরিচয় বা নামের সঙ্গে পদবি থাকলে সে সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

৪. আপনার গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ইত্যাদির নাম, আদি নাম ও নামকরণের ইতিহাস জেনে রাখুন।

৫. আপনার জেলা বিখ্যাত কেন? জেলার বিখ্যাত স্থান, নদীর নাম, পণ্য, ঐতিহ্য ইত্যাদি জেনে রাখুন।

৬. আপনার জেলার শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তি ও তাঁদের সৃষ্টিকর্ম ও অবদান।

৭. আপনি যে প্রতিষ্ঠান থেকে অনার্স/মাস্টার্স করেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম, প্রতিষ্ঠাকাল, বর্তমান ভিসি বা প্রিন্সিপালের নাম জেনে নেবেন।

৮. ভাইভার দিনের ইংরেজি, বাংলা ও আরবি তারিখ জেনে যাবেন। বিশেষ দিবস হলে সে সম্পর্কে জেনে যাবেন।

৯. ছোট ছোট ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করতে পারে। তাই সেগুলো চর্চা করুন।

১০. সাম্প্রতিক বিষয়াবলি এবং বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কয়েকজন কবি সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারেন।

১১. নিজের সম্পর্কে বলতে বলা এখন বেশির ভাগ ইন্টারভিউ বোর্ডের একটা কমন প্রশ্ন। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলার প্র্যাকটিস করুন।

১২. যে বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন, বিষয়ের ওপর স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হোন।

১৩. মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিশদ ধারণা গ্রহণ করুন।

১৪. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের সফলতা ও অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা গ্রহণ করুন।

১৫. প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত কিছু তথ্য—শিক্ষার হার, কতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, বই দিবস, উপবৃত্তি, মন্ত্রী ও সচিবের নাম ইত্যাদি।

১৬. ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১, মুজিববর্ষ, মেগাপ্রজেক্টস্, এসডিজি, এমডিজি ইত্যাদি দেখতে পারেন।

লিখেছেন স্বরুপ দাস,প্রধান শিক্ষক,আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দামুড়হুদা



Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter