Home » নিউজ (page 7)

নিউজ

‘কবে খুলবে স্কুল’ জানালেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা,২৬ জানুয়ারী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যাতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আদেশ পাওয়া মাত্রই প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত থাকতে পারে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে স্কুল খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্লাশরুম সঙ্কটের কারণে অলটারনেট ডে-তে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস হবে। সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় ক্লাসরুম সঙ্কটের কারণে মূলত এই অলটারনেট ডে-তে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস হবে।

বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলো খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তারা নেবে, এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৮ বছরের কম হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেয়ার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ভ্যাকসিন চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,২১ জানুয়ারী:
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে বৈঠকে বসছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এ তথ্য জানান।

সিনিয়র সহকারী সচিব জানান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকবেন।

এ বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসবে বলেও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ‌্য, করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ছুটি থাকবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরমধ্যে গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ফেব্রুয়ারিতে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!

ডেস্ক,১৮ জানুয়ারী:
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে খোলার দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই স্কুল-কলেজ খোলা হবে। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের আংশিক উপস্থিতিতে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হওয়া ক্লাসগুলোকে চলতি বছরের এসএসসি সমমান ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
রোববার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে সব শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরু হবে না। এ ক্ষেত্রে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করতে ক্লাস শুরু করা হবে। ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস শুরু করা হবে।

এর আগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল-কলেজের চলমান ছুটি ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ায় সরকার। তবে কওমি মাদরাসা এ ছুটির বাইরে আছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে জুনে এসএসসি ও জুলাই অথবা আগস্টে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী করোনার ভাইরাস মহামারির কারণে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারের ছুটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসময়ে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলোও বন্ধ থাকছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের ১৫ শিক্ষককে দুদকে তলব

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষককে নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে।

এ ব্যপারে গত ৫ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর পাঠানো হয়।

দুদকের চিঠি থেকে জানা যায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক হয়রানি, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ ও বৃত্তি পাইয়ে দেয়াসহ নানা অভিযোগে ওই ১৫ শিক্ষককে দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করা হয়।

দুদকে তলব করা শিক্ষকেরা হলেন, সঞ্জীব কুমার বর্মন, এ কে এম মিজানুর রহমান, ইয়াসিন আলি, আজহার আলী, প্রফুল্ল কুমার বর্মন, রমজান আলী, গৌরাঙ্গ দাস, আব্দুল মান্নান, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, ইমাম গাজ্জালী, জহরুল ইসলাম। অন্য দুজনের নাম জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, লিখিত কোনো চিঠি আমি পাইনি, তবে মৌখিকভাবে ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষককে দুদকে তলবের বিষয়টি জানতে পেরেছি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

আমরণ অনশনে যেতে চায় ৩১৫ কলেজের শিক্ষকরা

ডেস্ক,৬ জানু:
উচ্চ শিক্ষা চালু থাকা বেসরকারি ৩১৫টি কলেজের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার‌ও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষকরা।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এমপিওভুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক ফেডারেশন।

এ সময় শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বেসরকারি ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনার্স মাস্টার্স থাকবে না। পরিবর্তে শর্ট কোর্স চালু রাখা হবে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি ৩১৫টি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। যেখানে ২৮ বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধার বাইরে থেকে শিক্ষকরা উচ্চ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া করোনা মহামারির মাঝেও বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয় নিচ্ছেন।

বিগত বছরে তিন শতাধিক কলেজ জাতীয়করণ করা হলেও এক‌ই মানের এ সব কলেজের সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক বৈধ নিয়োগ পেয়েও এমপিওভুক্তির আওতায় আসেনি। তাই অচিরেই সরকারের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তি করে এমপিওভুক্তির দাবি জানান কর্মরত শিক্ষকরা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

আজ রাত থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহ শুরু

ডেস্ক,২৬ ডিসেম্বর:
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যে দু’দিন ধরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আবার কমতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার রাত থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুয়াশা পড়া আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে হঠাৎ গত দু’দিন আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে ওঠে। শুক্রবার টেকনাফে তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় তাপমাত্রা উঠেছিল ২৭ ডিগ্রিতে। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর ডিমলায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রির নিচে নামেনি।

আবহাওয়াবিদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের শুরুতে অনেক এলাকাজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন তা নেই। তাপমাত্রাও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে একই সময়ে বেড়েছে কুয়াশার পরিমাণ। বিশেষ করে নদী-তীরবর্তী এলাকায় এর পরিমাণ এখন বেশি। শনিবার রাত থেকেই তাপমাত্রা কোনো কোনো এলাকায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে এই শৈত্যপ্রবাহ। এটি মাঝারি মাত্রার এবং বেশিদিন স্থায়ী হবে।

কুয়াশার বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে যে বাতাস আসছে, তার সঙ্গে জলীয় বাষ্প মিশে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি এই মাসে এমনই থাকবে। জানুয়ারি মাসেও এই কুয়াশার দেখা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, শীতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে টানা আট দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। গত ১৮ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করে। শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুস্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া শুক্রবার মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

৫ অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি

ডেস্ক,২৫ ডিসেম্বর:
প্রশাসন ক্যাডারের ৫ অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. মোকাব্বির হোসেন, অর্থ বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা কামাল।

এরমধ‌্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. মোকাব্বির হোসেনকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অর্থ বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা কামালকে সচিব মর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর পিআরএলে যাচ্ছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ভালো নেই সরকারি কর্মচারীরা

ডেস্ক,২৫ ডিসেম্বর:
জাতীয় বেতন স্কেলে সূক্ষ্মভাবে বৈষম্যের অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। এমন অভিযোগ বেশিরভাগ কর্মচারীর। তাদের মতে, আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মচারীদের ব্যবধান অবশ্যই থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে ব্যবধানটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। অনেক বেশি। উপরন্তু মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রত্যাহার করা।

বিদ্যমান পে-স্কেলে এই কালো পেরেক যারা ঠুকে গেছেন, তারা প্রকারান্তরে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিঠে ছুরিকাঘাত করার মতো ভূমিকা রেখেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারের প্রতি তাদের কোনো ক্ষোভ নেই। বরং প্রধানমন্ত্রী সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুখে হাসি ফোটাতে একটি ঐতিহাসিক পে-স্কেল দিয়েছিলেন।

কিন্তু চূড়ান্তভাবে যারা ঘষামাজা করেছেন, তারা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের প্রাপ্য অনেক ‘হক’ কেড়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অনেকে বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন চাকরি করেও তারা বেতন স্কেলের কাক্সিক্ষত গ্রেডে পৌঁছাতে পারছেন না।

এ ছাড়া বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে নামিয়ে ১৬টি করা খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু সেটিও মানা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের কারও মূল বেতন প্রায় ৮০ হাজার টাকা, কারও গিয়ে ঠেকেছে সাড়ে ৮ হাজারে। কিন্তু বাজার তো এই ব্যবধান বিবেচনা করে না। বাজার সবার জন্য সমান।

যার খেসারত দিতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় অংশকে। এ জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কষ্টটা অপেক্ষাকৃত বেশি। বাড়িভাড়া ও প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তনের পর তারা হাতে বেতন যা পান, তা দিয়ে তাদের মাস পার করা খুবই কঠিন। এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংকট নিরসনে ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অনেকে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, বিদ্যমান জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১৫ ডিসেম্বর ৫ বছর পার করবে। ইতোমধ্যে ২০১৫ সালের তুলনায় জীবনযাত্রায় ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল দাবি করা অযৌক্তিক হবে না।

তবে সরকারও যেহেতু একটি সংসার; তাই নানামুখী সংকটকালীন এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকার তার সাধ্যমতো সিদ্ধান্ত নেবে-এটি তাদের প্রত্যাশামাত্র। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হিসেবে সরকার যদি মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার পাশাপাশি পূর্বের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল করে, তাহলে কিছুটা হলেও তাদের কষ্ট লাঘব হবে।

এদিকে অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা চেয়েছেন সচিবালয়ের বাইরে সারা দেশে কর্মরত বিভিন্ন দফতর সংস্থার কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ- নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা পৃথক হওয়ার কারণে সব সময় সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় দেশজুড়ে কর্মরত বড় অংশের কর্মচারী অনেক ক্ষেত্রে কম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এমন অনেক পদ আছে যেখানে পদোন্নতির তেমন কোনো সুযোগই নেই। সে কারণে ব্লক পদের মতো ২০/৩০ বছর ধরে একই পদে চাকরি করতে হয়। বছরে ইনক্রিমেন্ট ছাড়া বেতন বৃদ্ধির কোনো পথ নেই। তাই সমনীতির ভিত্তিতে এই সংকটের সুরাহা চান তারা।

এ বিষয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মহাসচিব মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত মহাসচিব ও সচিবালয় সমবায় সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সচিবালয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, সচিবালয় ১৬-২০ গ্রেড কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হালিম মিয়া প্রমুখ।

তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়া ছাড়াও নীতিনির্ধারণী মহলের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো সদুত্তর পাননি। তারা বলেন, সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে ভুক্তভোগী সবাই একমত ও একাট্টা। তবে দাবি আদায়ের নামে কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই।

তারা তাদের আবেদন-নিবেদন জানাতে থাকবেন। হয়তো এক সময় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে আসবে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন। তারা সে অপেক্ষায় আছেন।

বেতনবৈষম্যের বিষয়ে কয়েকজন প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (এওপিও) বলেন, বিদ্যমান বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল নেই। এর বিকল্প হিসেবে দেয়া হয়েছে দুটি উচ্চতর গ্রেড। যাকে অনেকে কাটছাঁট করা টাইম স্কেল মনে করেন। একই পদে কারও পদোন্নতি না হলে তিনি ১০ বছরে ১টি এবং ১৬ বছরে আরও ১টি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

কিন্তু কেউ যদি ইতঃপূর্বে ১টি সিলেকশন গ্রেড ও ১টি টাইম স্কেল, অথবা ২টি টাইম স্কেল পেয়ে থাকেন তাহলে তিনি এই উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। তারা মনে করেন, এটিই গুরুত্বপূর্ণ শুভংকরের ফাঁকি। শুধু এই সিদ্ধান্তের কারণেই বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম মাশুল দিয়ে আসছেন।

তাছাড়া এখানে আরও একটি বিষয় আছে, সেটি হল- প্রতিবছর স্বাভাবিকভাবে ১টি ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে থাকে। এতে ১০ কিংবা ১৬ বছর পর উচ্চতর গ্রেড পেয়ে তেমন একটা আর্থিক বেনিফিট পাওয়া যায় না। দেখা যায়, যখন উচ্চতর গ্রেড দেয়া হয় তখন মূল বেতন তার কাছাকাছি চলে এসেছে। তারা বলেন, ২০০৯ সালের পে-স্কেলে চাকরির ৪, ৮ ও ১২ বছর পূর্তিতে ৩টি টাইম স্কেল ছিল।

এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের পর প্রতিটি ধাপে প্রাপ্য পদোন্নতি বিলম্বিত হলে ফিডার পদধারী হিসেবে একটি সিলেকশন গ্রেড পাওয়া যেত। এর ফলে সাধারণ কর্মচারীরা অনেকখানি লাভবান হতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের এসব সুবিধার দ্বার এখন বন্ধ। তারা বলেন, আগের সুবিধা বহাল থাকলে বহু এওপিও ১০তম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেডে চলে যেতে পারত।

কিন্তু এখন তারা ১৬ বছর চাকরি করার পরও অষ্টম গ্রেডের ওপরে যেতে পারছেন না। এ ছাড়া প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এওপিওরা ২২-২৪ বছর একই পদে চাকরি করার পরও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মূলত ক্যাডার কর্মকর্তা ছাড়াও এই পে-স্কেলে অন্যদের ভালো কিছু হয়নি। আরও সহজ করে বলা যায়, ১০ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যারা আছেন তারা সবাই কমবেশি সমস্যার মধ্যে আছেন।

কেননা, নিচের দিকে একজনের ইনক্রিমেন্ট বাড়ে ৪০০ টাকা। বিপরীতে ওপরে বাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ধরনের বৈষম্যের লাগাম টেনে ধরতে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে জাতীয় বেতন গ্রেড ১০টি করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একশ্রেণির দুষ্টচক্র নানা অজুহাতে বাড়িয়ে ২০টি করেছে। এখন খাতা-কলমে ২০টি থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ২২টি।

সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, মা-বাবাসহ ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য বর্তমান পে-স্কেল দিলেও অনেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়েই ঠিকমতো চলতে পারছেন না। বিশেষ করে যারা রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে চাকরি করছেন তাদেরকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সচিবালয়ে এমএলএসএস বা অফিস সহায়ক (চতুর্থ শ্রেণি) পদে ১৭ বছর চাকরি করার পর একজন কর্মচারী বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেডে বেতন-ভাতা তুলছেন। ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তার বর্তমান বেসিক বা মূল বেতন দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮২০ টাকা। বাসাভাড়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তন করে তিনি প্রতিমাসে হাতে বেতন পান ১৩ হাজার ৮৮০ টাকা।

তার এক ছেলে পড়ে দশম শ্রেণিতে এবং এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে ঢাকা শহরে সন্তানদের টিউশন ফিসহ আনুষঙ্গিক পড়ালেখার খরচ মেটাতে চলে যায় কমপক্ষে ৭-৮ হাজার টাকা। একটু ভালো করে পড়াতে গেলে লাগে ১৫ হাজার টাকা।

তাহলে সংসার চালাব কীভাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বড় স্যাররা মিটিং করে আমাদেরকে প্রায় বলেন, তোমরা সেবাপ্রার্থী কাউকে হয়রানি করবা না। সরকার কিন্তু আমাদের বেতন-ভাতা অনেক বাড়িয়েছে। এসব কথা শোনার পর সঙ্গত কারণে আমরা চুপ থাকি। কারণ, সত্য কথা বলা যাবে না। বললে বিপদ।’

তিনি বলেন, ‘মূলত সরকার যখন পে-স্কেল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে তখন সেখানে তো আমাদের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। যে কারণে সুযোগ-সুবিধার অনেক কিছু পেয়ে যায় বড়রা। অথচ সরকারের কাছে সারা বছর যত রকম দাবিদাওয়া আমরাই দিয়ে থাকি। সরকার আমাদের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণাসহ নতুন পে-স্কেল দিতে বেশি আগ্রহী হয়। কিন্তু যখন খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, তখন বেতনবৈষম্য দূর করার প্রশ্নে আমাদের জন্য কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে সেটিকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বাদ দেয়া হয়।’

বৈষম্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করা কয়েকজন কর্মচারী বলেন, আমরা আসলে সুনীল গঙ্গপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ বিখ্যাত কবিতার চরিত্রের মধ্যে আটকে পড়ে গেছি। আমরা আর কত বললে, কীভাবে বললে আমাদের দীর্ঘদিনের বেতনবৈষম্য দূর হবে? হয়তো হবে, হয়তো হবে না কোনোদিন।

কারণ, আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয় সামনে এলে নীতিনির্ধারণী মহলকে বড়রা প্রথমে যে বিষয়টি বুঝিয়ে থাকেন, তা হল- কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ টাকা করে বাড়ালে অতিরিক্ত লাগবে ১ কোটি টাকা, আর কর্মচারীদের জন্য ১০ টাকা বাড়ালে লাগবে ১০০ কোটি টাকা। কারণ, আমাদের সংখ্যা বেশি। ফলে শুভংকরের ফাঁকি আমাদেরই পাওনা।

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান, ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় সরকার ইতঃপূর্বে ৭টি জাতীয় বেতন স্কেল জারি করে। এরমধ্যে ১৯৭৭ সালের পে-কমিশন থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের পে-কমিশন পর্যন্ত মোট ৬টি পে-কমিশনে সরকার তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করেছে।

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯-এ চার সদস্যের পরিবার হিসাব করে ৬৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়/বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ১০০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড, দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের ৫০ ভাগের পরিবর্তে ১০০ ভাগ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পদেও সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। এতে বেতন কিছুটা কম বাড়লেও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত খুশি ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে গঠিত পে-কমিশনে মা-বাবাসহ ছয় সদস্যের পরিবার হিসাব করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১০০ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশসহ প্রচলিত ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ১৬টি গ্রেড করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই সেখানে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রহিত করার কথা বলা হয়।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল রহিতকরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য তখন সচিবালয়সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে শত শত আবেদন করা হয়। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটি বহাল রাখার জন্য সরকারের কাছে বিভিন্নভাবে দাবি জানানো হয়।

কিন্তু সরকার কর্মচারীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত কুচক্রী মহলের কারণে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে শর্তসাপেক্ষে দেয়া হয় চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে দুটি উচ্চতর গ্রেড।

কিন্তু এই উচ্চতর গ্রেড দিয়ে কার্যত কোনো লাভ হচ্ছে না। যেমন: ২০নং গ্রেডের একজন কর্মচারী ১০ বছর চাকরি করার পর তার মূল বেতন হবে ১২৮৬০ টাকা। সেখানে ১০ বছর পূর্তিতে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে ৮৫০০ টাকা। তাই এ উচ্চতর গ্রেড পেয়ে ওই কর্মচারীর আর্থিকভাবে কোনো লাভ হবে না।

একইভাবে পরবর্তী ৬ বছর পূর্তিতে ওই কর্মচারীর মূল বেতন হবে ১৭২৭০ টাকা। সেখানে ৬ বছর পূর্তিতে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে ৮৮০০ টাকা। ফলে এ দুটি উচ্চতর গ্রেড থাকা না-থাকা একই কথা।-যুগান্তর

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মুখ্য সচিব কায়কাউসের চাকরির মেয়াদ ২ বছর বাড়লো

ডেস্ক,২৪ ডিসেম্বর:
আরও দুই বছরের জন‌্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. আহমদ কায়কাউস। তার অবসরোত্তর ছুটিসহ (পিআরএল) সংশ্লিষ্ট ছুটি স্থগিতের শর্তে একই পদে আরও দুই বছরের জন‌্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

আগামী ১ জানুয়ারি বা যোগদানের তারিখ থেকে কায়কাউসের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরির মেয়াদ শেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর আহমদ কায়কাউসের অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তার পিআরএল মঞ্জুর করে আদেশও জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব থাকার সময় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান আহমদ কায়কাউস। ১৯৮৪ সালের বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদমর্যাদায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হন। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সচিব পদে পদোন্নতি পান। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সচিব হন তিনি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সরকারি চাকরিতে স্থায়ী এবং অস্থায়ী পদ বরতে যা বুঝায়

ডেস্ক,২৩ ডিসেম্বর:
সরকারি চাকরিতে স্থায়ী এবং অস্থায়ী (রাজস্ব) কি ব্যাখ্যা জানতে চায় অনেক নতুন চাকরি প্রত্যাশীরা। সাথে পুরাতন বা চাকরিরত আছেন তারও অনেকেই অস্থায়ী পদটি সম্পর্কে অবগত নয়। আজ এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। রাজস্ব পদে চাকরির বিজ্ঞাপনে মাঝে মাঝে স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ লেখা থাকে, আসলে এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য কতটুকু সেটিই জানার বিষয়।

যখন কোনো একটা মন্ত্রনালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ইত্যাদি চালু করা হয়, তখনই ঐ দপ্তরে কতটি পদ থাকবে, কোন পদে কতজন লোক নিবে সেগুলো নির্ধারণ করা হয়! অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি সময়ই সে প্রতিষ্ঠানের জনবলের একটি জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম প্রস্তুত করা হয় সেগুলি হচ্ছে স্থায়ী পদ।

কিন্তু কোনো কোনো দপ্তরে পরবর্তীতে কাজের বাড়তি চাপের জন্য অধিক সংখ্যক লোকের প্রয়োজন পড়ে, আর সেই অতিরিক্ত লোক নেয়ার জন্য যে পদগুলো নতুন করে সৃষ্টি করা হয়, সেগুলোই মূলতঃ অস্থায়ী পদ!

সুতরাং রাজস্ব চাকরির ক্ষেত্রে স্থায়ী আর অস্থায়ী পদ বলতে উভয়কেই স্থায়ী পদই বুঝায়! অর্থাৎ চাকরিতে যোগদান থেকে শুরু করে অবসরে যাওয়া পর্যন্ত একই পদের স্থায়ী/অস্থায়ী লোক সমান সুবিধা পাবেন!

পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে কোন রকম তারতম্য হয় না। দুটি ক্ষেত্রে প্রথমে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থায়ীকরণ বা নিয়মিতকরণ করা হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে অস্থায়ী পদগুলো নিয়মিতকরণ করার পর প্রতি বছরই উক্তপদগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। একজন স্থায়ী ও অস্থায়ী রাজস্বপদগুলোর জন্য আলাদা বেতন বিল তৈরি করা হয়।

অস্থায়ীপদগুলো সৃষ্টির একটি প্রেক্ষপট হিসাবে একটি উদাহরণ তুলে ধরছি, ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে দীর্ঘ সময়ের জন্য কোন লোকবল দৈনিক ভিত্তিক, ওয়ার্কচার্জড বা মাস্টাররোল ইত্যাদির বেসিসে নিয়োগ করে সাময়িক কাজ সম্পন্ন করা হয়। এটি যদি ৫-১৫ বছর পর পর্যন্ত চলতে থাকে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনের তাগিদেও উক্ত জনবলগুলোকে অস্থায়ী পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগদান বা নিয়মিতকরণ করে থাকে।

মাসিক পেনশন সুবিধা, আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি, লাম্পগ্র্যান্ট, অর্জিত ছুটি ও অন্যান্য সকল সুবিধা স্থায়ী পদের মতোই অস্থায়ীপদগুলো ভোগ করে থাকে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

৭ অধিদপ্তরে নতুন প্রধান নিয়োগ

ডেস্ক,২২ ডিসেম্বর:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বাংলাদেশ পাট কর্পোরেশন, পাট অধিদপ্তরসহ সাত সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তীকে গ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ পাট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওয়াকফ প্রশাসক এম এম তরিকুল ইসলাম। খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হোসেন আলী খন্দকারকে পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিনা ইয়াসমীনকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল সাইন্টিফিক এন্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেনকে জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কর্পোরেশনের এমডি মো. ওমর ফারুককে অবসরের জন্য ওএসডি করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল আলমকে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আব্দুল হামিদ জমাদ্দারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফারহিনা আহমেদকে আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে। অবসর গমনের জন্য এই কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. হাবিবুর রহমানকে ওএসডি করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সরকারি চাকরিজীবীদের যত সুযোগ-সুবিধা

ডেস্ক,২১ ডিসেম্বর:
বাংলাদেশের শিক্ষিত প্রজন্মের যে বিষয়ে সবার আগ্রহ বেশি সেটি হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। ব্যাপক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটি চাকরি পাওয়াই দুঃসাধ্য ব্যাপার। সরকারি যেকোন চাকরি পাওয়ার আশায় মানুষ ব্যাপক প্রতিযোগীর সম্মুখীন হয়।

সরকারি জব এখন গ্রেডের উপর চলে আগে যেটা ৪ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল এখন ২০ গ্রেডে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যেমন আগে যেটা প্রথম শ্রেণি ছিল বর্তমানে সেটা ১ম থেকে ৯ম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণি হলো ১০ম গ্রেড শুধু ১০ম গ্রেডই দ্বিতীয় শ্রেণি। ১১-১৬ তম গ্রেড তৃতীয় শ্রেণির এরপর ১৭-২০ তম গ্রেড হলো সর্বশেষ চতুর্থ শ্রেণি।

১ থেকে ৯ নং গ্রেডে যিনি সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বা গেজেটেড অফিসার বা ক্যাডার। এদের নিয়োগের সময় সরকারি গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি বের হয়, স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় মান মর্যাদা, দায়িত্ব-কর্তব্যের পরিধি এবং সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসারগণ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকেন। তার উপরে আছে সচিব/মূখ্য সচিব।

পিএসসি কর্তৃক নিয়োগকৃত ২৭ ধরণের চাকরিকে ক্যাডার এবং পিএসসি কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্যান্য সরকারি চাকরিকে নন-ক্যাডার জব বলা হয়।

নন-ক্যাডার জব গ্রেড ৯ হলে ১ম শ্রেণি এবং গ্রেড ১০ হলে ২য় শ্রেণি বলা হয় ক্যাডার আর নন-ক্যাডার জব এর মধ্যে মূল পার্থক্য হল, ক্যাডারগণ প্রমোশন পেয়ে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যেতে পারেন, যা নন-ক্যাডারগণ যেতে পারেন না। প্রায় সব ক্যাডারই কমপক্ষে সর্বোচ্চ গ্রেড পর্যন্ত যেতে পারেন, অন্যদিকে নন-ক্যাডারে বেশির ভাগ পদই ব্লক পোস্ট।

বিসিএস ক্যাডার মূলতঃ দুই প্রকার জেনারেল (পুলিশ, এডমিন, পররাষ্ট্র ইত্যাদি) এবং টেকনিক্যাল (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক ও জনপদ ইত্যাদি)।

জেনারেল ক্যাডারে যে কেউ যে কোন সাবজেক্ট থেকে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি করতে পারেন, কিন্তু টেকনিক্যাল ক্যাডারে চাকরি করতে হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা লাগবে। যেমন, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ সরকারি ডাক্তার হয়ে চাকরি করতে পারবেন না।

এদের চেনার উপায় হল, সরকারি যে কোন অফিসে ৪ ধরনের স্টাফ থাকে। যার মধ্যে রয়েছে ক্যাডার, তার নীচে কর্মকর্তা তার নীচে কর্মচারী। এদের মাঝে ১ম, ২য় এদের গেজেটেড কর্মকর্তা বলা হয়। ৩য় শ্রেণির যারা তারাও হল কর্মকর্তা। ৪র্থ শ্রেণির যারা তারা হল কর্মচারী।

প্রথম শ্রেণি মানেই নূন্যতম ৯ম গ্রেড আর দ্বিতীয় শ্রেণি কেবল ১০ম গ্রেড। আর সকল ডিপার্টমেন্টের সহকারী পরিচালক (Assistant Director) প্রথম শ্রেণির বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি না সব এডিই প্রথম শ্রেণির।

পুলিশের এসআই দ্বিতীয় শ্রেণির এবং প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির। সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির।

প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির এবং সকল ডিপার্টমেন্টের অফিস সহকারী, কম্পিটার অপারেটর/ ষাট মুদ্রাক্ষরিক তৃতীয় শ্রেণির।

অফিস সহায়ক চতুর্থ শ্রেণির যার স্কেল ৮,২৫০ যেমন প্রাইমারি স্কুলের পিওন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন গ্রেডে কত বেতন ও সরকারি ভাতা রয়েছে।

সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা সুপারিশ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।

২০টি গ্রেডে পেশ করা পে কমিশনের সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা সুপারিশ করা হলেও, এই স্কেলের বেতন ভাতাসহ অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একইভাবে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা সুপারিশ করা হলেও সব মিলে দাঁড়াবে ২০ হাজার ১০ টাকা।

প্রথম স্কেলে বাড়ি ভাড়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা ৪০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা, ডোমেস্টিক এইড ভাতা ৩ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ১৩ হাজার ৩৩ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৩ হাজার টাকা ও শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

একইভাবে সর্বনিম্ন স্কেলের বাড়ি ভাড়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা, ধোলাই ভাতা ১৫০ টাকা ও টিফিন ভাতা ৩০০ টাকা।

অন্যান্য ভাতা ও সুবিধাদি
বাড়ি ভাড়া: ৪৫ হাজার টাকা ও এর উর্ধ্বে ঢাকা মেট্টোপলিটন এলাকার জন্য বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ২৮ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার ও সাভার এলাকার জন্য মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ২৩ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার টাকা।

জেলা শহরের জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ২১ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৩২ হাজার টাকা। অন্যান্য স্থানের জন্য মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১৯ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ২৮ হাজার টাকা। মূল বেতনের ২৫ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত ঢাকা মেট্টোপলিটন এলাকার জন্য ৬০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার ও সাভার এলাকার মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১৬ হাজার টাকা।

জেলা শহরের জন্য মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১৩ হাজার টাকা। অন্যান্য স্থানের জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। ১৩ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার ৯৯৯ পর্যন্ত ঢাকা মেট্টোপলিটন এলাকার জন্য মূল বেতনের ৬৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার ও সাভার এলাকার মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৮ হাজার ৫০০ টাকা।

জেলা শহরের জন্য মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৮ হাজার টাকা। অন্যান্য স্থানের জন্য মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৭ হাজার ২০০ টাকা। ১২ হাজার ৯৯৯ পর্যন্ত ঢাকা মেট্টোপলিটন এলাকার জন্য মূল বেতনের ৭০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার ও সাভার এলাকার মূল বেতনের ৬৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৬ হাজার।

জেলা শহরের জন্য মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যান্য স্থানের জন্য মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ হারে কমপক্ষে ৫ হাজার।

চিকিৎসা ভাতা
মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০ টাকা। অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছরের কম বয়স্কদের জন্য মাসিক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা। ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা। এর পাশাপাশি সরকার প্রদত্ত ৪০০ টাকা স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা এবং জীবন বীমাসহ সরকারি চাকরিজীবীর জন্য বীমা স্কিম চালু করা।

যাতায়াত ভাতা
দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ১০ নাম্বার থেকে ১৬ নাম্বার গ্রেডে চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা মাসে ৩৬০ টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

গাড়ির সুবিধা
সার্বক্ষণিক গাড়ির সেবার জন্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য নগদায়নের বিষয়টি চালু রাখা। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ৩ নং গ্রেডের উপরের কর্মকর্তাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতা
সকল শ্রেণির চাকরিজীবীদের সন্তান প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা, ২ সন্তানের জন্য ২ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর সন্তানদের ভর্তির জন্য সরকারি অর্থে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বুয়েট কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ সুপারিশ প্রযোজ্য হবে না।

টিফিন ভাতা
মাসে টিফিন ভাতা ৩০০ টাকা। তবে যে সব চাকরিজীবী তাদের প্রতিষ্ঠান দুপুরের খাবার পান কিংবা দুপুরের খাবারের ভাতা পান তাদের জন্য এ টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হবে না।

উৎসব ভাতা
সকল চাকরিজীবীদের জন্য প্রতি বছরে ২ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন অবসরভোগীর জন্য তার মাসিক নিট পেনশনের দ্বিগুণ হারে বছরে ২টি উৎসব ভাতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা
সকল শ্রেণির চাকরিজীবীকে বর্তমান প্রচলিত প্রতি তিন বছরের স্থলে ২ বছর অন্তর ১৫ দিনের গড় বেতনে অর্জিত ছুটিসহ ১ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা হিসাবে সুপারিশ করা হয়েছে।

ধোলাই ভাতা
৪র্থ শ্রেণির চাকরিজীবীদের জন্য ধোলাই ভাতা মাসে ১৫০ টাকার সুপারিশ করা হয়েছে।

কার্যভার ভাতা
কার্যভার ভাতার শতকরা হার অপরিবর্তিত রেখে সর্বোচ্চ সীমা মাসে ২ হাজার ৫০ টাকা উন্নীত করা।

গৃহকর্মী ভাতা
গৃহকর্মী ভাতা অপরিবর্তীত আছে।

পোশাক পরিচ্ছদ সুবিধা
প্রচলিত নিয়মে পোশাক পরিচ্ছদ প্রদানের সুবিধা চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

পাহাড়ি ও দুর্গম ভাতা
পার্বত্য এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা পুনঃনির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাওড়-বাওড়, দুর্গম দ্বীপ অঞ্চলে উপকূলীয় ভাতা।

আপ্যায়ন ভাতা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মূখ্য সচিব ৩ হাজার টাকা, সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা ২ হাজার ৫০০ টাকা, অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা ২ হাজার টাকা, যুগ্ম সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১ হাজার ৫০০ টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

ভ্রমণ ভাতা
বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা এককালীন সড়ক পথে ১০০ কি.মি. পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা, ১০১ থেকে ২০০ কি.মি. পর্যন্ত ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২০১ থেকে এর বেশি কি.মি. হলে ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষ ভাতা
বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এসএসএফ ইত্যাদি বিভিন্ন সার্ভিসের জন্য বিশেষভাতা বেতন কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বয় করা যেতে পারে।

অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল প্রথম গ্রেড থেকে ১৬ গ্রেড পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পেনশনযোগ্য চাকুরিকাল ৫ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর পর্যন্ত পেনশনের হার গ্রেড অনুযায়ী ২০ শতাংশ থেকে গ্রেড অনুযায়ী ৯০ শতাংশ সুপারিশ করা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক সমর্পিত ৫০ শতাংশ পেনশনের ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার ৫ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত প্রতি ১ টাকায় ২৭৫ টাকা থেকে শুরু করে ২৩০ টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের ক্ষেত্রে চাকরিকাল ২৫ বছর থেকে ২০ বছরে পুনঃনির্ধারনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জীবন, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা প্রবর্তন। সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য পে-কমিশনে এ বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

আবাসন ও গৃহ নির্মাণ ঋণ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঋণের পরিমাণ গ্রেড অনুযায়ী ১২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা গৃহ ঋণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে সুদের হার হবে ব্যাংক রেটে ৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে খাস জমি চিহ্নিত করে সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা।

৮ম থেকে ১ম গ্রেড স্কেলের কর্মকর্তাদের ২০ জনের জন্য ১০ কাঠা ও অন্যান্য চাকরিজীবী প্রতি ২০ জনের জন্য ৮ কাঠা প্লট দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সমৃদ্ধ সোপান ব্যাংক স্থাপন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সমৃদ্ধ সোপান ব্যাংক স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীতে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য মৃত্যুর পর দাফনের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানে কবরস্থান নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

আর্থিক সংশ্লেষ
বেতন কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাড়ি ভাড়ার জন্য আগামী অর্থ বছরে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে ৪৯ কোটি ৪০ লাখ ১১ হাজার টাকা।

চিকিৎসার জন্য ৯৯৮ কোটি টাকা, শিক্ষা সহায়ক ভাতার জন্য ১ হাজার ২৫০ কোটি ৪২ লাখ, যাতায়াত ভাতার জন্য ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ, উৎসব ভাতার জন্য ১৭ কোটি ১৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, শ্রান্তি বিনোদনের জন্য ৫৭১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, টিফিন ভাতা ১৫৪ কোটি টাকা, দুর্গম ভাতা ৮৩ কোটি ৭৯ কোটি টাকা, পেনশনাদির জন্য ৩৭ কোটি ৮৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা, অবসরভোগী চিকিৎসা ভাতার জন্য ৬৪৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ১৭ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

প্রতিবেদনে কর রাজস্ব বাড়ানোর বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- বিলাসবহুল পণ্য, বিভিন্ন ধরনের পানীয় দ্রব্যের উপর ক্রয়হার বাড়ানো। একই সঙ্গে বিড়ি, সিগারেট ও তামাকের উপর বর্ধিতহারে কর বাড়ানো।

এছাড়াও আয়করের আওতা সম্প্রসারণ করা ও কর ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

প্রতিবেদনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ও বিশেষায়িত চাকরিধারীদের জন্য বেতন কাঠামো সুপারিশ করা হয়েছে। লোকসানি প্রতিষ্ঠান লাভজনক না হলে সেগুলো বিরাষ্ট্রীয়করণের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও ব্যাংক বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেডের সংখ্যা জাতীয় বেতন পে-কমিশনের প্রস্তাবিত ১৬টির কম বা বেশি না হওয়াই ভাল বলে মনে করে কমিশন।

গবেষণা কাজে নিয়োজিত বিশেষায়িত চাকরিজীবীদের জন্য বেতন কাঠামো আলাদা রাখা। মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা সম্পর্কে কমিশন দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায় রাখার জন্য প্রাইস কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে।

উল্লিখিত, হিসেবগুলো ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী। পরবর্তীতে কিছু কমবেশি হতে পারে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দুই কোচিং সেন্টার সিলগালা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | ২০ ডিসেম্বর, ২০২০
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অগ্রাহ্য করে পাঠদান অব্যাহত রাখায় গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ শহরে দু’টি কোচিং সেন্টারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সিলগালা করে দিয়েছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উবায়দুর রহমান সাহেল ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কনফিডেন্স কোচিং সেন্টার ও সায়েন্স রেডিয়েন্ট প্রোগ্রাম নামে দু’টি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া মাস্ক ব্যবহার না করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোয় সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ মোতাবেক ৭ ব্যক্তিকে ৭ হাজার ৬শ’ টাকা জরিমানা করেছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

২৩ জেলায় চলছে শৈত্যপ্রবাহ

ডেস্ক,১৯ ডিসেম্বর:
প্রায় ২৩ জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসব প্রায় সারা দেশের ওপর দিয়েই বইতে শুরু করেছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। এরপর তাপমাত্রা আবার কিছুটা বাড়বে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এটি আগামীকাল রবিবার এবং পরশু সোমবার অব্যাহত থাকতে পারে। মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের এই প্রবাহের এলাকা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬। এই তাপমাত্রা আরও সামান্য কিছুটা কমতে পারে। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগসহ টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শীত বাড়ছে সারাদেশে

আবহাওয়া অফিস জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং আশেপাশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রংপুর বিভাগের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৬ যা, গতকাল ছিল তেতুলিয়ায় ৯। এ হিসেবে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি। রাজারহাট ছাড়াও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে এমন এলাকাগুলো হচ্ছে টাঙ্গাইলে ৬ দশমিক ৮, সৈয়দপুরে ৭, চুয়াডাঙ্গা ও বদলগাছিতে ৭ দশমিক ৫, দিনাজপুর ও ঈশ্বরদিতে ৭ দশমিক ৬, তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৮, রাজশাহী ও যশোরে ৮, শ্রীমঙ্গলে ৮ দশমিক ১, বগুড়া ও ডিমলায় ৮ দশমিক ৫, রংপুরে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এছাড়া ১০ এর নিচে আছে ফরিদপুর, মাদারিপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, তাড়াশ, কুমারখালি, বরিশাল ও ভোলা। এছাড়া অন্য এলাকগুলোর তাপমাত্রাও কমে এখন ১৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই আছে।

এদিকে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকাল ছিল ১৭ দশমিক ১, আজ তা ৩ ডিগ্রি কমে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামে ছিল ১৭ দশমিক ৪, আজ ১৫ দশমিক ৫, সিলেটে ছিল ১৪ দশমিক ২, আজ ১১ দশমিক ৩, খুলনায় ছিল ১৫ দশমিক ৫, আজ ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

একসঙ্গে নিভে গেল ১২টি তাজা প্রাণ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি,১৯ ডিসেম্বর:
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেল গেট এলাকায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১২ জন ও আহত হয়েছেন আরও তিনজন।শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়পুরহাট থেকে ছেড়ে আসা বাধন নামের একটি বাস হিলি স্থল বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেলগেট অতিক্রম করার সময় গেটম্যান গেট না ফেলার কারণে বাসটি রেললাইনের উপর উঠে যায়। সেসময় রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটি রেললাইন ধরে বাসটিকে প্রায় আধ কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা ১০ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরো পাঁচজন।

খবর পেয়ে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বাস চালক সদর উপজেলার হারাইল গ্রামের মামুনুর রশিদ, হিচমী গ্রামের মানিকের ছেলে রমজান, পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের সরোয়ার হোসেন, আরিফুর রহমান রাব্বি, আক্কেলপুর উপজেলার চকবিলা গ্রামের দুদু কাজীর ছেলে সাজু মিয়া ও নওগাঁর রানী নগর উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামের বাবু।

আহত তিনজনের হলেন- পাঁচবিবি উপজেলার ফারুখ হোসেন, একই উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে জিয়া, টাঙ্গাইলের মাটিকাটা গ্রামের শুকুর আলীর জুলহাস।

জয়পুরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান, ১০ জনের লাশ মর্গে আছে। আহত পাঁচজনকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করার পথে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

পাবর্তীপুর রেললাইনের পুলিশ সুপার সিদ্দীকি তানজিলুর রহমান বলেন, গেটম্যান না থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তবে তদন্ত করার পর আসল ঘটনা জানা যাবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter