Home » নিউজ (page 52)

নিউজ

চুয়াডাঙ্গায় প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ঈদ বোনাস পাইনি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার এমপিওভুক্ত ৩৪টি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে মূল বেতনের মাত্র ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসও জুটলো না ভাগ্যে । ঈদ বোনাস নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইদুর বিড়াল খেলা আর সোনালী ব্যাংকের ক্ষমাহীন গাফলতির কারনে ঈদ বোনাসের স্মারক নম্বর ব্যাংকের শেষ কার্য দিবসেও এসে পৌঁছাইনি । ফলে উপজেলার ৮শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারে এবার ঈদের আনন্দ পন্ড হতে বসেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার নানা নাটকীয়তার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পর ঈদ বোনাসের অর্থ ছাড় করা হয় এবং গত বৃহ¯পতিবার ছিল উক্ত টাকা উত্তোলনের শেষ তারিখ। বোনাসের টাকা উত্তোলনের জন্য সকাল থেকেই শিক্ষক কর্মচারীরা জীবননগর সোনালী ব্যাংকে এসে ভীড় জমায়। কিন্তু সারাদিনের অপেক্ষার পর বিকালে জানিয়ে দেয়া হয় আর বোনাস দেয়া সম্ভব নয়। এখনো পর্যন্ত স্মারক কপি আসেনি। ১ জুলাই থেকে সরকারি ছুটি থাকায় ঈদের আগে আর তাদের বোনাসের অর্থ দেয়া সম্ভব হবে না।
শিক্ষক-কর্মচারিরা অভিযোগ করে বলেন, সোনালী ব্যাংকের গাফলতির কারনে কোনো মাসেই এ উপজেলায় শিক্ষকরা সময়মত বেতন তুলতে পারেন না। গত মাসের বেতনের শেষ সময় সরকার ১৫ তারিখ ঘোষনা করলেও জীবননগর সোনালী ব্যাংকে বিল জমা হয়েছে ৫ দিন পর ১৯ তারিখ। অথচ পাশ্ববর্তী রুপালী ব্যাংক ১৪ তারিখেই বেতন প্রদান করেছে। প্রতি মাসেই এখানে একই ঘটনার পুনরাবৃতি ঘটে। তারা আরো বলেন সোনালী ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা অফিসের গাফলতির কারনে সেখানেই শিক্ষকদের বিলশিট ফাইল চাপ পড়ে থাকে। প্রায় মাসেই নির্ধারিত তারিখের পর শিক্ষকরা নিজ গরজে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে বিল নিয়ে আসে।
জীবননগর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদ জানান, আমাদেও সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্বেও অর্ডার শিট না আসায় শিক্ষকদের বোনাসের অর্থ দেয়া সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে আমার কোন গাফিলতি নেই।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ব্যাংক কর্মকর্তার উদাসীনতায় শিক্ষকগণ ঈদ বোনাস পেলেন না

pabnaআফতাব হোসেন, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া (দেবোত্তর) সোনালী ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজারের উদাসীনতা আর অবহেলায় অবশেষে বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা ঈদু ফিতর উৎসব বোনাস পেলেন না। ফলে মানবেতরভাবে বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা উৎসব বোনাস ছাড়াই ঈদু ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছেন। সরকার বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের আনন্দের সাথে ঈদ উৎসব উদযাপনের জন্য গত ২৭/৬/১৬ তারিখে ৩বি/০২হিঃ/২০১৫/৮৩৮২/৪হিসাব নং স্মারকে ৩০/৬/১৬ তারিখের মধ্যে ঈদ উৎসব বোনাস উত্তোলনের আদেশ জারী করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সমূহে টাকা হস্তান্তর করে। কিন্ত পাবনার আটঘরিয়া (দেবোত্তর) সোনালী ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজারের চরম অবহেলায় সরকারের আদেশও মারাত্বকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

জানা যায় সোনালী ব্যাংক লিঃ এর প্রধান কার্যালয় পাবনায় ৩০/৬/১৬ তারিখ বেলা ১১ টায় বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ঈদ উৎসব বোনাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসে। সে মোতাবেক পাবনা শাখার সংশ্লিষ্ট বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের পক্ষ হতে ঈদ উৎসব বোনাসের বিল দাখিল করে উত্তোলন করা হয়েছে।

অথচ পাবনার আটঘরিয়া (দেবোত্তর) সোনালী ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজারের চরম অবহেলায় আটঘরিয়ার বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ঈদ উৎসব বোনাসের বিল জমা দিতে পারেন নি। আটঘরিয়া (দেবোত্তর) সোনালী ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজার শিক্ষক/কর্মচারীদের সরকারের দেয়া ঈদ উৎসব বোনাস না দেওয়ার পায়তারা করে সোনালী ব্যাংক লিঃ এর প্রধান কার্যালয় পাবনা হতে বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র না এনে শিক্ষক/কর্মচারীদের ঈদ উৎসব বোনাস দেন নি।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়ার শিক্ষক সমাজ আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানালে তিনি ব্যাংক ম্যানেজারকে শিক্ষক/কর্মচারীদের ঈদ উৎসব বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন।

আটঘরিয়া (দেবোত্তর) সোনালী ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজার তাঁর নির্দেশও উপেক্ষা করে শিক্ষক/কর্মচারীদের ঈদ উৎসব বোনাস দেন নি। অনেক শিক্ষক কর্মচারী রোজা পালন করে দিনভর ব্যাংক সংশ্লিষ্ঠ এলাকায় এতিমের মত অবহেলার পাত্র হয়ে ঘুরে বিফল মনে বাড়ি ফিরেছেন।

উক্ত ম্যানেজারের মোবাইল নম্বরে বার বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ যে, বর্তমান ঐ ম্যানেজার মোঃ আকবর হোসেন অত্র শাখায় যোগদান করার পর থেকেই বে-সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারি বেতন প্রদানে দারুনভাবে গরিমসি করে আসছেন। গত মে/১৬ মাসের সরকারি বেতন উত্তোলনের সময়সীমা ১৫ জুন থাকা স্বত্তেও ১৯জুনে ঐ বেতন জমা করা হয়।

আটঘরিয়ার শিক্ষক সমাজ অনতিবিলম্বে তার অপসারণ চাইছে, অন্যথায় আন্দোলনে নামার ঘোষনা শোনা যাচ্ছে। অনেকের মন্তব্য উক্ত ম্যানেজার বর্তমান সরকারের অর্জন ম্লান করার একটি অশুভ পাঁয়তারা করছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শুক্রবার থেকে ৯ দিনের ছুটি

image_159586_0ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে আগামী ৪ জুলাই ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ৯ দিন এই ছুটি ভোগ করবেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পবিত্র শবে কদরের পরের দিন সরকারি অফিস খোলা ছিলো। ঈদের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা দিতে সরকার এই দিন ছুটি ঘোষণা করেছে।

তবে আগামী ৪ জুলাই সরকারি ছুটি ঘোষণা হওয়ায় আগামী ১৬ জুলাই শনিবার সরকারি চাকরিজীবীদের অফিস করতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৬ অথবা ৭ জুলাই বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

৬ জুলাই ঈদ ধরে আগামী ৫, ৬ ও ৭ জুলাই ঈদের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। আর ৩ জুলাই শবে কদরের ছুটি। ঈদের আগে শুধু শবে কদরের ছুটির পরের দিন ৪ জুলাই অফিস খোলা ছিলো। সে ক্ষেত্রে ১ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এক টানা ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

রোজার ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বৃহস্পতিবার শেষ অফিস। ১ ও ২ জুলাই যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। আর ৩ থেকে ৭ জুলাই ঈদের ছুটি। এর পরের দুই দিন শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) বাতিলের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি নাইমা খালেদ মনিকা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী চক্রবর্তী রিন্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইভা মজুমদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুষ্মিতা রায় সুপ্তি প্রমুখ।

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশও -মোতাহার হোসেন

ঢাকা: সাজানো গোছানো বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আলোচনা হবে খোলামেলা। থাকবে বড় মাঠ, খেলার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ। থাকতে হবে মাল্টিমিডিয়ায় শিক্ষার সুযোগ। আবার কারো চাওয়া- বিদ্যালয় ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনিও। এমন স্বপ্নের বিদ্যালয় চিত্রাংয়িত হয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভাষায়।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা’ নিয়ে জাতীয় সম্মেলনে বড়দের সামনে এমন বক্তব্য তুলে ধরে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা।

কচি-কাঁচাদের কণ্ঠে তাদের প্রত্যাশার কথা শুনে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিশুরাই তো বলে দিল মানসম্মত শিক্ষা কী?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৬৪টি জেলা থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ২৫৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ।

বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার কথাও বলে। মতামত দেয়, কীভাবে তা নিরসন করে গড়ে ওঠতে পারে তাদের স্বপ্নের বিদ্যালয়।

লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়েছেন পঞ্চগড়ের ২ নম্বর পঞ্চগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত জান্নাত ছোটন।

“সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত স্কুল। মধ্যে আধা ঘণ্টার বিরতি। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পর আর খেলাধুলার সময় থাকে না। স্কুলের সময়টা এমনভাবে করেন যেন আমরা খেলতে পারি।”

সিলেটের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিষা রায় অমি বলেন, “আমার স্বপ্নের স্কুল হবে সাজানো গোছানো।

“শিক্ষকরা হবে বন্ধুর মতো, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন। কোনো পড়া বুঝতে না পারলে তা নির্ভয়ে তা শিক্ষকদের জানাতে পারব। স্কুলে থাকবে সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ।”

পিরোজপুর সদরের পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিবা দেবনাথ দেশের সবগুলো স্কুলে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ চান।

“মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পড়ানো হলে তা সহজেই বুঝতাম। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ থাকলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশবিদেশের সব তথ্য জানা আমাদের জন্য আরো সহজ হত।”

নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন চাঁদপুরের ৫৬ নম্বর খলিশাডুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিফরিন হৃদিতা।

“আমাদের স্কুলে কোনো নিরাপত্তা দেয়াল নেই। ফলে বখাটে ছেলেরা স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের বিরক্ত করে।”

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার একটি স্কুলের শিক্ষার্থী অর্পণ স্কুলে ‘মিড-ডে মিলে’ দেওয়া বিস্কুট ভালো না লাগার কথা অকপটে জানান।

“এই বিস্কুট বেশি ভালো না। প্রতিদিন এক প্যাকেট দেয়।”

তাদের মতামত শুনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিশুরা তাদের চাওয়ার যে তালিকা দিয়েছে, তা-ই মানসম্মত শিক্ষা।

“আমরা তো মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার জন্য বিশাল সম্মেলন করছি। শিশুরাই তো আমাদের বলে দিল মানসম্মত শিক্ষা কী? আমরা যদি আজকে শিশুদের কথাগুলোর তালিকা তৈরি করি, তাহলেই মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে। এজন্য কনসালটেন্ট লাগবে না, টাকা লাগবে না।”

“শুধু শিখলে হবে না। যে শিক্ষা আমরা বুকের মধ্যে ধারণ করতে পারি তাই মানসম্মত শিক্ষা,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় বাধা এবং তা দূর করার ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে পরামর্শ দেন শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তরিফা নাজনীনা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় জোর এবং দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের হাতে বই তুলে না দেওয়ার সুপারিশ করেন।

“আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরাসরি বই তুলে না দিয়ে জুতোর ফিতা বাঁধা, পরিচ্ছন্নতা, আচরণ- এমন জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা দিতে পারি। সেসব বিষয়ের মূল্যায়ন করে তাদের তৃতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা যায়।”

স্কুল থেকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরী শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান শিক্ষার্থীদের স্বপ্নবান করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের কাজের উপর জোর দেন।

“শিক্ষক হবেন বন্ধুর মতো। তিনি পড়াবেন, আমাকে স্বপ্ন দেখাবেন। আবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পথ দেখাবেন।”

স্কুলের শিক্ষকদের সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত থাকা বলে জরুরি মনে করেন খুলনা টুটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এসএম মাসুদ মাহমুদ।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্কুলের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ তিনি করেন।

“বর্তমান সময়সূচি কমিয়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত করা উচিৎ। দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা। স্কুলে থাকতে চায় না, চলে যায়।”

শিক্ষার্থীদের স্কুলের উপস্থিতি বেশি মানেই মানসম্মত শিক্ষা নয় মন্তব্য করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিআরআইর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস। শিক্ষার মানোন্নয়নে দাতাদের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শও দেন তিনি।

“শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে দাতাসংস্থার সব পরামর্শ মানা যাবে না। এটা হলে করা হলে কোনোদিন মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্যপূরণ কোনোদিন সম্ভব নয়।”

জাতীয় সম্মেলনে আসা বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামত ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে কাজ করবে মন্তব্য করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, আন্তরিকতা দিয়ে সীমিত বাজেটের মধ্যেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

“সবাই সাজেশন দিচ্ছে খরচ বাড়ানোর জন্য। শিক্ষাখাতের সবাই যদি নিবেদিতপ্রাণ হয় তাহলে সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যে থেকেই মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। বেশি টাকা বেতন দিলে কি দেশপ্রেম বেশি হবে?”

প্রাথমিক শিক্ষায় যে বরাদ্দ হয়, তাও ঠিকমতো ব্যবহার হয় না বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন।

“একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বছরে ৪০ হাজার টাকার মেরামত খরচ দেওয়া হয়। কিন্তু সে টাকা প্রধান শিক্ষক, স্কুল কমিটি আর শিক্ষা কর্মকর্তারা খেয়ে ফেলেন।”

প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশও করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

“গরু-ছাগলের জন্যও ক্যাডার সার্ভিস আছে। তাহলে সাড়ে চার লাখ শিক্ষকের জন্য কেন ক্যাডার সার্ভিস থাকবে না?”

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঢাবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাদাৎ হোসেনের দুই ছাত্রী উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ২৭ জুন ড. শান্তনুর বিরুদ্ধে বিভাগের চেয়াম্যানের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এক ছাত্রী। উপাচার্যের কাছে অভিযোগ দিতে চাইলে ওই শিক্ষক নানাভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপাচার্য বরাবর লিখিত (জমা দেয়া হয়নি) অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ২০১৪-১৫ সেশনে এমফিল কোর্সে ভর্তি হন ওই ছাত্রী। ড. শান্তনু মজুমদার তার গবেষণা সুপাভাইজার। শুরু থেকেই তিনি ওই ছাত্রীকে ব্যক্তিগত এবং যৌনজীবন নিয়ে খোলামেলা হওয়ার পরামর্শ দিতেন।

একাডেমিক কাজে তার সাথে সাক্ষাৎ করলে, তিনি ওই বিবাহিত ছাত্রীর যৌনজীবন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেন ওই ছাত্রী।

গত ১ জুন ড. শান্তনু মজুমদার ছাত্রীকে ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে অশ্লীল-আপত্তিকর-বিব্রতকর কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার পর তাদের পরামর্শে গত ২০ জুন উপাচার্য বরাবর অভিযোগ লিখেন।

সাদা কাগজে লেখা হলেও স্পষ্ট করার স্বার্থে রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে

বিভাগের চেয়ারম্যানকে দেয়া লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনাকে আগেই অবহিত করেছিলাম। ড. শান্তনু মজুমদার আমার ও আমার স্বামীর কাছে করজোরে ও অশ্রুসজল চোখে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, যখন উনি জানতে পারেন আমি ভিসি ও ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিতে চাইছিলাম। পরে আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলেও এ বিষয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য আমার কাছে আসছে, যা চরম হতাশাজনক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী  বলেন, ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতার কথা অবহিত করে অভিযোগ দিয়েছে। ৩০ জুন তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন চেয়ারম্যান ব্যবস্থা নেবেন।

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ড. শান্তনু মজুমদার। তিনি বলেন, শুনেছি আমার বিরুদ্ধে অশালীন ব্যবহার ও নিরাপত্তার হয়রানির অভিযোগ আনছে। এটি ভিত্তিহীন। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

অপরদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ওই বিভাগের দুই ছাত্রী। গত সোমবার (২৬ জুন) উপাচার্য ও বিভাগের চেয়াম্যানের কাছে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. সাহাদাৎ হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষাবার্তাকে  বলেন, শুনেছি প্রাক্তন দুই ছাত্রী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। আমি নির্দোষ। আমার কোন দোষ নাই। ওরা পাস করে চলে গেছে। কি করণে কাদের প্ররোচনায় অভিযোগ আনছে জানি না।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের  বিষয়টা শুনেছি। এখনো লিখিত পাইনি। লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিষয়টা লিখিত পেয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ  বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই, এটা শিক্ষকের বিরুদ্ধে তো, এটা প্রথমে ডিপার্টমেন্টে দিবে পরে যদি দিয়ে থাকে ভিসি স্যারের কাছে দিতে পারে

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জমি নিবন্ধন না করলে ৩ মেডিকেল কলেজের ভর্তি স্থগিত

1467201378905ঢাকা: আগামী তিন মাসের মধ্যে তিন মেডিকেল কলেজের নামে জমি নিবন্ধন না করলে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সেগুলোর ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ এবং পপুলার মেডিকেল কলেজকে আগামী তিন মাসের মধ্যে জমি নিবন্ধন করতে হবে।

এছাড়াও যে সব মেডিকেল কলেজের নামে জমি নিবন্ধন করা নেই সেগুলোকেও আগামী তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন করার জন্য সভা থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের যাদুকরী রহস্য

begum-rokeya-university-550x316রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী একাই দায়িত্ব পালন করছেন ১৫টি পদে। উপাচার্য ছাড়াও তিনি রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, তিনটি অনুষদের ডিন, আটটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও কয়েকটি দপ্তরের পরিচালকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে।

একজন একাই এতগুলো পদ দখল করে নেয়ায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে জটিলতা। সমস্যা হচ্ছে এসবের পরিচালনায়। যোগ্য শিক্ষক থাকলেও দায়িত্ব পাচ্ছেন না তাঁরা। তবে উপাচার্য বলছেন, যোগ্য ব্যক্তি না থাকায় দায়িত্ব দিতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষকসংকট প্রকট। শিক্ষকের সংখ্যা ১৩২ জন আর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় পৌনে ৫০০। স্নাতকে সেশনজট না থাকলেও স্নাতকোত্তরে জট আছে প্রায় আড়াই বছরের। এ ছাড়া আছে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে আট হাজার। ২১টি বিভাগে শিক্ষক আছেন ১৩২ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষাছুটিতে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে একজন শিক্ষককে সপ্তাহে ১২ থেকে ১৪টি পর্যন্ত ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবীও বলেন, একেকটি বিভাগে কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন, কিন্তু আছেন কয়েকজন। তবে তিনি চেষ্টা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্র বলছে, কোষাধ্যক্ষের পদটি ২০১৩ সালের আগস্টে শূন্য হওয়ার পর উপাচার্য এই দায়িত্ব পালন করছেন। উপাচার্য বলেন, এই পদে যোগ্য একজনকে খোঁজা হচ্ছে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে উপাচার্য আটটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। বিভাগগুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং লোকপ্রশাসন বিভাগ। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের জের ধরে গত এপ্রিলে ১৪ জন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলে উপাচার্য পদগুলোর দায়িত্ব নেন। নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় প্রধান হতে হলে কমপক্ষে সহকারী অধ্যাপক হতে হয়। দুজন শিক্ষক বলেন, লোকপ্রশাসন ছাড়া বাকি সাত বিভাগেই পদত্যাগী শিক্ষক ছাড়াও বিভাগীয় প্রধান হওয়ার মতো সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন।

জীব ও ভূবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্বও পালন করছেন উপাচার্য। নিয়মানুযায়ী কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক ছাড়া ডিন হওয়া যায় না। সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন। প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, শিক্ষকদের একাংশ মাঝেমধ্যে আন্দোলন করেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব দিলে সমস্যা হতে পারে এই আশঙ্কায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

ড.ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্বেও আছেন উপাচার্য। অভিযোগ আছে, ইনস্টিটিউটটি প্রথমবারের মতো ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ২৩ জন গবেষক এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হলেও এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ ছাড়া উপাচার্য হিসাব দপ্তরের পরিচালক, বহিরাঙ্গণ বিভাগের পরিচালক, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং পরিবহন দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। শূন্য থাকা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদও কার্যত তিনিই চালাচ্ছেন।

এসব বিষয়ে উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, আন্দোলনের কারণে কিছু প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগ করলে এসব পদে সরকারের সিদ্ধান্তে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। কিছু পদে আইনানুযায়ী যোগ্য শিক্ষক না থাকায় দায়িত্ব নিতে হয়েছে। আর কিছু পদে মেয়াদ শেষে নিয়োগ না হওয়ায় দায়িত্ব নিয়েছেন। বিভাগীয় প্রধানদের পদে শিগগিরই বিভাগের শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সাবেক উপাচার্যের আমলে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত ‘অদক্ষ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সমস্যায় আছে বর্তমান প্রশাসন। ‘আন্দোলনের কারণে’ ওই আমলে অননুমোদিত পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৩৮ জনকে স্থায়ী নিয়োগ দিতে হয়েছে বর্তমান প্রশাসনকে। আরও ৭১ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। উপাচার্য বলেন, অনেকের যোগ্যতায় ঘাটতি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনও রয়েছে। তিনি বলেন, তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার আগের অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি খাদের কিনারে পড়েছিল, তিনি তুলে এনেছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

‘প্যান্ট খুলে চেক করলো আমি হিন্দু কিনা, তারপর চাকু চালালো গলায়, পেটে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মৃন্ময় মজুমদার। তিনি ভাবতে পারেননি তার সামনে কি রকম ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মৃন্ময়। রাত ৩টার দিকে তিনি ফকিরহাটের পলতিতা বটতলা বাসস্ট্যান্ডে নামেন। একটা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে নিজের গ্রাম পুটিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। গন্তব্যের একটু আগেই কলকলিয়া নামক স্থানে তার গতিরোধ করে তিন সন্ত্রাসী। তার কাছে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান যা কিছু ছিল সব অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেয় তারা। তারপর নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন ‘মৃন্ময় মজুমদার’। প্রকৃতপক্ষেই তিনি হিন্দু কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার তার প্যান্ট খুলে চেক করে সন্ত্রাসীরা। হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চাকু চালিয়ে দেয় গলায় ৩টা, বুকে ৪-৫টা, বাম হাতে ও পেটে কিডনী বরাবর।

মৃত্যুর ভয় গ্রাস করে মৃন্ময়কে। জীবন বাঁচাতে মৃত্যুর ভান করে পড়ে যান তিনি। সম্ভবত তাকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় তখন।

রক্তাক্ত অবস্থায় প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তার দিদির বাড়িতে ছুটে যান মৃন্ময়। নিজের বাড়ি থেকেও লোকজন সবাই ছুটে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে ‘গুরুতর’ বিবেচনায় ডাক্তার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। মঙ্গলবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময় মৃন্ময় খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

মৃন্ময়ের মা জানান, তার ছেলে এখন আশংকামুক্ত। একটু ভাল আছে। এইবেলা ডটকমের এই প্রতিবেদককে পুরো ঘটনাটা নিজেই জানান মৃন্ময় মজুমদার।

মৃন্ময় বলেন, আমাদের গ্রামটা হিন্দু অধ্যুষিত, অধিকাংশই অবস্থাসম্পন্ন পরিবার। ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়ি ফেরা শুরু করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

আহত মৃন্ময় মজুমদার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি বিভাগের ৪৪তম আবর্তন এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তার দেশের বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার পুটিয়া গ্রামে।

পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে বলে জানান মৃন্ময় মজুমদার।

ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  জানান, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রতিষ্ঠা হচ্ছে দেশে প্রথম এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়

1467127382928ঢাকা: প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার আশকোনায় সিভিল এভিয়েশনের ১২ একর জমি প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই তথ্য জানানো হয় দেশে প্রথম এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এক সভায়।

সভাটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে। উক্ত সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সভাপতিত্ব করেন। এতে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এয়ার কমোডর ইয়াজদানী।

এই সভায় জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে এভিয়েশন জগতে বিপুল উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) এর তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতিবছর বিমান পরিবহনে ২৩ হাজার পাইলট ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ হাজার জনবল প্রয়োজন। আগামী ২০ বছরে এভিয়েশন সেক্টরে ১৭ হাজার নতুন দ্রুতগামী বাণিজ্যিক বিমানসহ ২৫ হাজার নতুন এয়ারক্রাফট, ৪ লাখ ৮০ হাজার টেকনিশিয়ান এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হবে।

এভিয়েশনে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এভিয়েশন গ্রাজুয়েট তৈরি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ঢাকার আশকোনায় সিভিল এভিয়েশনের ১২ একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। এতে লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি, ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির সাথে এডুকেশন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুক এবং সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী।

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কলেজ শিক্ষার উন্নয়নে ১০৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহের শিক্ষার মান উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এক হাজার ৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় ওই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়,  ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কার্যকাল হবে জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২১। এ প্রকল্পের আওতায় কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫ বছর অগ্রবর্তী কৌশলপত্র তৈরি, কলেজ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি-মহিলা-শহর-মফস্বল নির্বিশেষে নির্বাচিত কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভার্চুয়াল ক্লাস রুম তৈরি, পাঠ্যক্রমসহ শিক্ষা সামগ্রীর আধুনিকীকরণ, শ্রেণি কক্ষভিত্তিক পাঠদানের পাশাপাশি দুর্শিক্ষণের ব্যবস্থা, ৭০০ কলেজ অধ্যক্ষ ও ১৬ হাজার কলেজ শিক্ষক উচ্চতর পর্যায়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করবেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাউশি, নায়েম, এনটিআরসিএ ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি কন্সর্টিয়াম গঠিত হবে। এ প্রকল্প বাংলাদেশে কলেজ পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটিকে একনেক অনুমোদন দেওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ একনেকের চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

উচ্চমাধ্যমিকে পৌঁছাতে পারেনি ১৩ লাখ শিক্ষার্থী

student1শিক্ষার্থীদের মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করে সরকার। পিইসি শেষ করে মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়েছে ১০ লাখেরও অধিক শিক্ষার্থী। মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চমাধ্যমিকে পৌঁছাতে গিয়ে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখে।

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, মেয়েদের উপবৃত্তি, ইংরেজি ও গণিতের অতিরিক্ত ক্লাসের পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না ঝরে পড়ার হার। বরং দীর্ঘ হচ্ছে ঝরে পড়াদের লাইন।

শিক্ষা পদ্ধতিতে সমাপনী পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, ‘এ সময়ে একটি শিশু অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারে না। বিকাশের প্রথম ধাপেই যদি তাদের প্রতিযোগিতায় ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে তারা এগুবে কীভাবে? উন্নত বিশ্বে এ জাতীয় কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয় না।’

এ পদ্ধতিকে শিক্ষা ব্যবস্থার রুঢ় অবস্থা বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

এবার (২০১৬ সাল) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এসএসসি), এসএসসি ভোকেশনাল এবং দাখিল সমাপনী পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন। এদের মধ্য নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৭ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এ ব্যাচটি ২০১০ সালে অংশ নিয়েছিল প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায়। ওই বছর নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৮ জন।

দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরের দৌড় শেষে মাধ্যমিক, ভোকেশনাল এবং দাখিল সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে এদের মধ্যে থেকে ঝরে পড়েছে ১০ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ জন শিক্ষার্থী। অথচ শিক্ষার্থীদের এ ঝরে পড়া বন্ধে সরকার অনেক আগে থেকেই বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে, মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি অব্যাহত রেখেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশের ৬১টি জেলার পিছিয়ে পড়া ১২৫টি উপজেলার ৫৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজি ভীতি দূর করতে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া। বরং দীর্ঘ হচ্ছে ঝরে পড়াদের মিছিল।

সরকারের দেওয়া হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১০ সালের প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিত এবং অকৃতকার্যের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৫২ জন। সে হিসেবে ওই বছর পাস করেছে এমন শিক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৬ জন। এদের প্রত্যেককে মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশ করেছে এমনটি ধরে নেওয়া হলেও ২০১৩ সালে অষ্টম শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় তাদের মধ্য থেকে অংশ নেয়নি ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৭১ জন। অর্থাৎ ওই স্তরে পাস করেছিল এমন শিক্ষার্থী ছিল ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৯ জন। যাদের প্রত্যেকে মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ভোকেশনাল এবং দাখিল সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে এমনটি ধরে নেওয়া হলেও ওই স্তরে এসে তাদের সংখ্যা ঠেকেছে ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৭ জনে। অর্থাৎ আবারো ঝরে পড়েছে ২ লাখ ১৮২ জন।

এদিকে, মাধ্যমিক ও সমমানের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়মিত এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯২১ জন এবং উত্তীর্ণ হয়েও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্যে আবেদন করেনি এমন শিক্ষার্থী ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৬ জন। অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে সব মিলিয়ে ঝরে পড়ার দলে পড়েছে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রাক-প্রাথমিকের মধ্য দিয়ে না আসায় তাদের অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলে, আনন্দটা পায় না। তাই প্রাথমিকেই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার মূল কারণ- সামাজিক এবং অর্থনৈতিক। দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মেয়ে। যারা বাল্যবিয়ে এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়ছে। আর ছেলেরা যোগ দিচ্ছে কাজে। কারণ, পড়া-লেখার চেয়ে কোনো কর্মে যোগ দেওয়াটাই তাদের কাছে লাভজনক বলে মনে হচ্ছে।’

দেশের সব শিক্ষার্থীকে সাধারণ শিক্ষায় অংশ নেওয়ার ভাবনাটাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট এ শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘তাই প্রতিটি স্তরে ফাঁকে ফাঁকে দরকার কারিগরি শিক্ষাসহ বিকল্প নানা সুযোগ। কিন্তু সেই বিকল্প সুযোগও আমরা দিতে পারছি না। ফলে যারা ঝরে পড়ছে, ধরে নিতে হবে, তারা পুরোপুরিই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পদ্ধতিটি যথাযথ নয়। এটি বন্ধ করা উচিত। তবে হুট করে সেটি করা সম্ভব নয়। ধারাবাহিকভাবে সেটি বন্ধ করতে হবে। তবে অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা রাখা যায়।’

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘প্রাথমিক লেভেলের একজন শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশে প্রয়োজন বিনোদন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশিদার করা। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে বিভিন্ন কোচিং, গা্ইড, প্রাইভেট, টিউটরের দ্বারস্থ হচ্ছে। এ কারণে মেধার সঠিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন স্কেলে উৎসবভাতা

education-smঢাকা: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে নতুন পে-স্কেলের হিসাবে উৎসবভাতা দেয়া হবে বলে আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আগের চেয়ে দ্বিগুণ ঈদ বোনাস পাবেন।

রোববার এ সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপরই আদেশটি জারি হয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে চান শিক্ষকরা যাতে সুযোগ-সুবিধা পান। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের যখন সরকার নতুন স্কেলে উৎসবভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।’

নতুন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব ধরনের ভাতা জুলাই থেকে কার্যকরের কথাও থাকলেও কিছুদিন আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে উৎসবভাতা দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এরপর এমপিওভুক্তদেরও একইভাবে উৎসবভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ইউএনও-ডিসির যৌথ স্বাক্ষরে বেতন তোলা যাবে

education-ministryঢাকা: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক-ডিসির যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা যাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

শনিবার (২৫ জুন) মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হয়ে থাকে। সংসদ সদস্যদের ইচ্ছামতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার বিধান সম্প্রতি বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এরপর থেকে এই নতুন ঘোষণা দেওয়া হলো।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অধ্যক্ষ/প্রধানশিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা যাবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ফিরোজ আহমেদ এক জীব্নত বীর

12আরিফ তরফদার: যে দেশ আর দশের প্রয়জনে জীবন উৎসর্গ করতে পারে, সেইতো বীর। আমি ৫২ দেখিনাই, আমি ৭১ ও দেখিনাই , তবে সেইসব বীরদের গল্প শুনেছি। এই প্রথম আমি কোন জীবন্ত বীরকে দেখলাম যে,নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চায় হাসতে হাসতে দেশ ও দশের জন্য। আইসিডিডিআর,বি কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অন্যায় সিদ্ধান্ত ড: ফিরোজ আহমেদ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাইতো সর্বদা সোচ্চার ছিলেন, আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কোন কর্নপাত করছিলেন না কতৃপক্ষ। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একা আমরন অনশন করবেন। করলেনও তাই। তার বুকে সাহস ছিলো অগাধ, কারন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়ছেন। টানা চারদিন অনশনের পর আজ কতৃপক্ষ বাধ্য হয়েছেন সব দাবী মেনে নিতে। আজ ড: ফিরোজ আহমেদ অনশন ভঙ্গ করে সকল কর্মচারীর মুখে হাসি ফুটিয়েছন। ড: ফিরোজ আহমেদ আপনাকে স্যালুট জানাই আর কামনা করি আপনি এভাবেই দেশ আর দেশের মানুষের পাশ্বে থাকবেন সারাজীবন। এ দেশে আপনার মত নেতার খুব প্রয়জন। কারন এ দেশের মানুষ খুব অবহেলিত। বৃটিশ অনেকদিন আগে এ দেশ থেকে চলে গেলেও, কিছু দোসর রেখে গেছে যারা তাদের কায়দায় শোষন আর নির্যাতন এ দেশে বসে এখনও চালিয়ে যাচ্ছে অনবরত। সেই শোষন আর নির্যাতন থেকে এদেশের অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই আপনার মত নেতার জন্ম। ড: ফিরোজ আহমেদ আমরা আছি আপনার সাথে, থাকবো আজীবন।

আরিফ তরফদার

লেখক ও রাজনীতিবীদ

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter