Home » নিউজ (page 37)

নিউজ

জেএসসি পরীক্ষায় গাইড থেকে বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ঘটনায় দায়ী ৫ শিক্ষক

জেএসসি পরীক্ষায় গাইড থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ঘটনায় ৫ শিক্ষক দায়ী। এদের মধ্যে একজন প্রশ্ন প্রণয়নকর্তা। বাকি চারজন পরিশোধনকারী। ৫ জনের চারজনই বিভিন্ন সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক। আরেকজন একটি ক্যাডেট কলেজের সহকারী অধ্যাপক। দায়ীদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে শোকজসহ আর কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা পর্যালোচনা চলছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রশ্নপত্রটির একমাত্র প্রণয়নকারী হলেন ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াহাব। পরিশোধনকারীরা হলেন- কুমিল্লা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক রিক্তা বড়–য়া, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিন, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসিমা খানম এবং নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম আক্তার।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেক বলেন, ‘আমরা মনে করি শুধু প্রশ্ন প্রণয়ন কর্তাই নন, পরিশোধনকারীরাও সমান দায়ী। কেননা, প্রশ্নপত্র পরিশোধন বা দ্বিতীয় গেট রাখাই হয়েছে প্রণয়নকারীর সার্বিক ভুলভ্রান্তি ধরার জন্য। তারা যেহেতু এটা ধরেননি বা ধরতে পারেননি, তাই তাদেরও এ অপকর্মের দায় নিতে হবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করিনি যে, গাইড থেকে প্রশ্ন সেট করার পেছনে মূল দায়ী কে বা কারা। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিকভাবে শোকজ করা হতে পারে। পরবর্তী সময় বিভাগীয় মামলা এমনকি সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থাও আছে। তবে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়া হবে তা রোববার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি বদলি বন্ধের সুপারিশ

পদায়ন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বন্ধের সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে তিন পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতি ও জেলা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও শিক্ষকদের পার্বত্য অঞ্চলে পদায়ন করার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে সংসদীয় কমিটির ছয় সুপারিশ

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। বৈঠকে কমিটি সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, উষাতন তালুকদার, ফিরোজা বেগম (চিনু) ও এম এ আউয়াল এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বদলি ও পদায়নের সময় জেলা পরিষদকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় পরিষদসমূহে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ২৪ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা

জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় ২৪ সহপাঠীকে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের উপড়গাও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ ছাত্রীকে ও ৫ ছাত্রকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ইতিকে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্ত্যক্ত করত একই উপজেলার উপরগাও গ্রামের সালাম দেওয়ানের ছেলে শামীম দেওয়ান (২৪)। বৃহস্পতিবার শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা দিয়ে স্থানীয় আঙ্গারিয় উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছিল তারা। এ সময় উপরগাও ভাঙ্গা রাস্তার কাছে পৌঁছালে শামীম ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে ইতিকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। ইতি এর প্রতিবাদ করায় বখাটেরা তাকে পিটিয়ে আহত করে।

ইতির অপর সহপাঠীরা প্রতিবাদ জানালে শামীম দেওয়ান, আমির দেওয়ান ও আবুল হোসেনসহ আরো ১০-১২ সন্ত্রাসী মিলে শিক্ষার্থীদের হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ইতি, মীম, সুরমা, রহিমা, জসিম, সজীব, মাসুদ, শরীফ, শাহাজালাল, সাইফুল, শিশির, কাওসার, আবু সিদ্দিক ও কালুসহ আরো ২৪ জন আহত হয়। আহতদের মধ্য থেকে গুরুতর ইতি, মীম, সুরমা, রহিমা, জসিম, সজীব, সাইফুল, কাওসার ও মাসুদকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মীম, সুরমা, শামীম ও কাওসার জানান, দীর্ঘদিন যাবত তাদের সহপাঠী ইতিকে শামীম দেওয়ান উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আজ তারা  পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ইতিকে কু-প্রস্তাব দেয় শামীম। এরপর ওকে হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে। ইতি প্রতিবাদ করায় প্রথমে ওকে মারপিট করে। পরে আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদেরকেও মারধর করে আহত করে।

শিক্ষার্থী মিম বলেন, এ সময় আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলে ওরা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমরা ২৪ জন শিক্ষার্থী আহত হই। আমরা এই সন্ত্রাসীদের যথাযথ শাস্তি দাবি করছি।

বিনোদপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল মিয়া বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। আমার স্কুলের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র পরে বিনোদপুর থেকে ৫ মাইল দূরে আঙ্গারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই পথে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। আর প্রতিদিনই শামীম দেওয়ানসহ আরো কয়েক বখাটে এক পরীক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে। আজ প্রতিবাদ জানানোয় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা করে তাদের আহত করে। আমি এর বিচার চাই।

রাজশাহীতে ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব শিক্ষা বোর্ডকে না জানিয়ে বিদেশ গমন

rajরাজশাহী প্রতিনিধি ঃ রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে   দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় কারণে ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

জানা গেছে সহকারী শিক্ষক শেখ মনিরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্ত্রী পুত্র অসুস্থ জনিত কারণে এবং আত্মীয় স্বজনকে দেখার উদ্দেশ্যে ভারত গমন করেন।

তার অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনসহ জুনিয়র সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা মোহনপুর-এ ১০৮ “কেন্দ্র সচিবের ” দায়িত্ব পালনের জন্য সহকারী শিক্ষক মোহাঃ সাইফুল ইসলামকে পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত দায়িত্বভার অর্পন করেন।

পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী বিষয়টি অবগত হলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তরুন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত পত্রের স্মারক নম্বর- রাশিবো/ জেএসসি/পনি-২০১৪/১৫-৩৫৭(৮), সূত্র মসউবি/১০৩/১৬। ৮ ই নভেম্বর  জেএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২(৩) উপ-ধারার পরিপন্থি এবং বিধিসম্মত না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক মোহাঃ সাইফুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ৯ ই নভেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহনপুর রাজশাহীকে দায়িত্ব প্রদান করেন এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে পত্রে নির্দেশ দেন।

এ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.কামাল আবদুল নাসের চৌধূরী স্বাক্ষরিত পরিপত্র যার স্মারক নম্বর শিম/শাঃ১১/৩-৯/২০১১/২৫৬ পরিপত্র মোতাবেক কোন  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ অবসর/শূণ্য/বদলী/অসুস্থ জনিত কারনে শূন্য হলে উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব অর্পণ নির্দেশনা থাকলেও।

সেই মোতাবেক উপরোক্ত পদ শূন্য থাকলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্বভার অর্পণ করতে হবে যাতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যাবস্থা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নীত না হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মনিরুল ইসলাম   পরিপত্রের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে  প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে তার পছন্দমত কনিষ্ঠ শিক্ষককে বিদ্যালয় পরিচালনারসহ অন্যানা দায়িত্ব অর্পন করেন।

যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যাবস্থা ভেঙ্গে পড়াসহ নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পুরণে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সমস্যা নিরসে জন্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকসহ এবং এলাকাসুধীজন বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য অত্র  শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক  দেওয়ার অনুরোধ জানান তানাহলে এ  অবস্থা চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি তার অতীত ফলাফলসহ ঐতিহ্য ও গৌরব হারাবে বলে মনে করেন একাধিক শিক্ষানুরাগী সূধী ও গুনীজন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তরুন কুমার সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বেলাকে জানান, কেন্দ্র সচিব হতে হলে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হতে হবে কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মনিরুল ইসলাম তার ইচ্ছামতো বিধি লঙ্ঘন করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দিয়েছিল সে জন্য সহকারী শিক্ষক মোহাঃ সাইফুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এবার প্রভাষককে কান ধরে উঠবস করালেন ইউপি চেয়ারম্যান

ময়মনসিংহ : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতীভাঙ্গা এমএম মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আসাদুজ্জামানকে কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এছাড়া অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও লোকজন দিয়ে মারধরেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটলেও ৫ দিন পর মঙ্গলবার এবিষয়ে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই প্রভাষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর উপজেলার হাতীভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিশে ইউপি চেয়ারম্যান দৌলত হোসেন চৌধুরী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, পরিষদের খাদ্য গুদামে ২-৩ ঘণ্টা তালা বন্ধ করে রাখা ও ১০ বার কান ধরে উঠাবসা করিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রভাষক আসাদুজ্জামান জানান, চাকরিচ্যুতির ভয়ে ঘটনার ৫ দিন পরে বিবেকের তাড়নায় ইউএনও বরাবর লিখিতভাবে ঘটনাটি জানিয়েছি। একইসঙ্গে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষকেও জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান দৌলত হোসেন চৌধুরী জানান, পরিষদে আদালত কার্যক্রম চলার সময় আসাদুজ্জামান তার উপর আক্রমণ করেন। এতে তিনি ওই প্রভাষককে বলেছিলেন, তুমি যে কাজ করেছো তাতে তোমার কান ধরে উঠাবসা করা উচিৎ। ওমনি আসাদুজ্জামান নিজের কান নিজেই ধরে উঠাবসা করেছেন। আমি তাকে বাধ্য করি নাই।

তিনি ওই প্রভাষক সম্পর্কে আরও বলেন, তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তার বাবাকে হাজত খাটিয়েছেন এবং স্ত্রীকেও নির্যাতন করেন।

রুয়েট শিক্ষককে অবরুদ্ধ করলো ছাত্রলীগ নেতা

ruetশিক্ষাঙ্গন ::   রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) জিয়া হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষককে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে লাঞ্ছিত করেছে। মঙ্গলবার রাতে রুয়েটের উপ-ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়কে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

পরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেন। রুয়েট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রুয়েটের জিয়া হল থেকে চারটি ল্যাপটপ চুরি হয়। হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার করতে রুয়েটের সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ওই হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালাতে গেলে রুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাকিল কবীর বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ শঙ্কর সাকিলকে চড় মারেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষককে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রাখেন।

এ সময় তাকে লাঞ্চিতও করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং রুয়েট ছত্রালীগের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আটকে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রুয়েটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষক সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বলেন, জিয়া হলে গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের রুমে রুমে গিয়ে চাঁদাবাজি, চাঁদা না দিলে মারধর এবং তালা ভেঙে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় কক্ষ তল্লাশি করতে গেলে শাকিল নামের ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে আমাদের বাধা দেয়া হয়। এ সময় আমাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখে তারা। শাকিলের বিরুদ্ধে এর আগে ডাকাতির অভিযোগের প্রমান পাওয়া গেছে বলে জানান এই শিক্ষক। এ ব্যাপারে রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল বলেন, ল্যাপটপ চুরি হওয়ার পরে স্যাররা প্রথমে যে রুমে খুঁজতে গেছেন সে মাইন্ড করছে। এ নিয়ে সিন ক্রিয়েট হয়েছে।

পরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু ভাই আসেন। তারপর বিষটি ঠিকঠাক হয়ে গেছে। রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক এনএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, জিয়া হলে অপ্রীতিকর একটা সিচুয়েশন ঘটেছিল। পরে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।

বর পছন্দ না হওয়ায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

attohattaবর পছন্দ না হওয়ায় বিয়ের রাতেই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জয়গুন আক্তার (২১) নামের এক কলেজছাত্রী। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে।

জয়গুন আক্তার উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পিকপাড়া গ্রামের মো. জয়নুদ্দিনের মেয়ে এবং বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার ইউনিয়নের পিকপাড়া গ্রামে মো. জয়নুদ্দিনের বাড়ি থেকে পুলিশ ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

বীরগঞ্জ থানার এসআই মো. আজম প্রধান জানান, সোমবার দুপুরে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পিকপাড়া গ্রামের জয়নুদ্দিনের মেয়ে জয়গুন আক্তারের  সাথে একই উপজেলার পাশের নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের কাবুল ইসলামের ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদের (২৩) বিবাহের কাবিন হয়। বীরগঞ্জ পৌরশহরের মেয়ের চাচা কাসেম আলীর বাড়িতে কাবিন রেজিস্ট্রি হয়। এ সময় পাত্রপক্ষকে যৌতুক হিসেবে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা দেন মেয়ের পরিবার।

এদিকে বিয়েতে মত না থাকায় বাড়ি ফিরে এসে রাতে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে জয়গুন আক্তার। বাড়ির লোকজন জয়গুন ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাছ আহম্মদ জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করে দাফনের নিদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জয়নুদ্দীন বাদী হয়ে থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা করেছে।

শিক্ষকের গায়ে গোবর: এমএম কলেজে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

2যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক ছোলজার রহমানের গায়ে গোবর ছুড়ে মারার প্রতিবাদে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। রবিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক পরিষদের মানববন্ধন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের এমএম কলেজ শাখার যুগ্ম সম্পাদক আরএমএ জাকারিয়া  বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে। তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান পরীক্ষা এবং অনার্স ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতা করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিউল সর্দার, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি এআইএম শরিফুল হোসেন প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষকরা এখনও লিখিত কোনও অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, লাঞ্ছনার শিকার কলেজের ভুগোল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ছোলজার রহমান জানান, তিনি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার করতে দেন না। পরীক্ষার হলে কড়া গার্ড দেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তার ওপর বিরক্ত ছিল। গত ২৩ অক্টোবরও তিনি পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের নকল করতে দেননি। এসব কারণেই কিছু শিক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তার ধারণা।

তিনি আরও জানান, তার কাছে পরীক্ষার বেশ কিছু খাতা ছিল। সেগুলো নষ্ট হয়েছে।

এখনও কেন থানায় অভিযোগ করেননি এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমি শনিবারই লিখিত অভিযোগের দুটি কপি ঘটনাস্থলে আসা কোতোয়ালি থানার এসআই বিপ্লবকে দিয়েছি। কিন্তু তিনি কেন ওই অভিযোগ এখনও থানায় দাখিল করেননি তা বুঝতে পারছি না।’

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে কলেজের প্রবেশ মুখ জিমনেশিয়ামের পাশে পাঁচ যুবক মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি বালতিতে গোবর ও কাঁদাজাতীয় জিনিস গুলিয়ে অধ্যাপক ছোলজার রহমানের শরীরে ঢেলে দেয়। তার কাছে কলেজের কাগজপত্রসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

1যশোর শহরের বারান্দিপাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তুহিন খান (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের কদমতলা এলাকার থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক তুহিন খান একই এলাকার জোনাব আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর স্বজনরা জানান, কয়েক মাস ধরে তুহিন ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এজন্য তারা ভাড়া বাসা পরিবর্তন করে গত মাসে শহরের বারান্দিপাড়ায় চলে আসেন। ছাত্রীর বাবা অটোরিকশা চালক আর মা অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ওই ছাত্রীর মা-বাবা কেউ বাসায় ছিলো না। এই সুযোগে তুহিন বাসায় ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে ওই ছাত্রীর মা এসে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে ওই ছাত্রী নির্যাতনের কথা তার মাকে জানায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রবিউল ইসলাম শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করছেন।

আটক তুহিন জানায়, সে মেয়েটিকে ভালবাসে। বাসায় কেউ না থাকায় মেয়েটি তাকে ডেকে নিয়ে যায়।

মেয়েটি তাকে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে তুহিন।

যশোর কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোকাদ্দেস হোসেন জানান, আটক তুহিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হচ্ছে।

‘মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত হলে জঙ্গিবাদ থাকবে না’

nahidশিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থাকবে না।

শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত ‘শিক্ষার উন্নত পরিবেশ ও জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

শিক্ষকদের আরো আন্তরিক ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।পাশাপাশি  মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সবাই সচেতন হলে জঙ্গিরা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি আরো বেশি নজর দিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের  চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ  হোসেন। সমাবেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব  চৌধুরী  মোফাত আহমেদ, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের  মহাপরিচাক বিল্লাল  হোসেন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক  গোলাম  মোস্তফা, বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক খন্দকার  গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ রংপুর বিভাগের আট  জেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনায় পা দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মিরাজুল

1পাবনা প্রতিনিধি :
পাবনার আটঘরিয়ার উপজেলার চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এক জেএসসি পরীক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিচ্ছে। সে আটঘরিয়া উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের মো: তোরাব আলীর ছেলে মো: মিরাজুল ইসলাম।

২০০৩ সালের ২৪ জুলাই মিরাজুল ইসলাম বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম হয়। জন্মগতভাবে তার দুটি হাত নেই। তারা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই সূর্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে এখন বাবার সঙ্গে যাত্রাপুর বাজারে একটি ছোট ব্যবসা করেন, ছোট বোন মুক্তা ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

মিরাজুল ইসলাম চলতি জেএসসি পরীক্ষায় উপজেলার দেবোত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক আসলাম হোসেন জানান, ওর পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই। দেখলাম সে পড়ায় ভালো, স্মরণশক্তি প্রখর। এখন সে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ওর লেখাপড়ার প্রতি আমরা বিশেষ নজর রাখছি।

আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব বলেন, আমি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। মিরাজুলের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেম কলেজ ছাত্রের চোখ তুলে ও পিটিয়ে হত্যা

vandariaমুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেমের দায়ে বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র জয়দেবকে চোখ তুলে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলাও করা হয়েছে।

জানা গেছে পিরোজপুরের ভা-ারিয়ার দক্ষিণ পূর্ব ভা-ারিয়া গ্রামের চায়ের দোকানী বাবুল চন্দ্র পাইকের ছেলে বরিশাল বিএম কলেজে অধ্যয়নরত জয়দেব কুমার পাইক। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ছোনাউটা গ্রামের শাহেদ আলী খানের মেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী খাদিজা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

এই অপরাধে স্থানীয় একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে জয়দেবের চোখ তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে গ্রামবাসির হাতে ডাকাত আটকের পর গণপিটুনীতে নিহত হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়।

এই ঘটনায় কাঁঠালিয়া উপজেলার ছোনাউটা গ্রামের গ্রামপুলিশ সোহেল খলিফা বাদি হয়ে গত ৭ অক্টোবর কাঁঠালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ৭০/৮০জনকে আসামী করা হয়।
তবে নিহত জয়দেবের পরিবারের দাবি,  জয়দেব পাইকের সাথে মাদ্রাসা ছাত্রী খাদিজা আক্তারের হৃদয় ঘটিত সম্পর্কের অপরাধে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ডেকে নিয়ে তার চোখ তুলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ ওই স্থানীয় গ্রামপুলিশ সোহেল খলিফা, খাদিজার পরিবাবের সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে এ নৃশংস হত্যাকা- চালায়। এ ঘটনায় নিহত জয়দেবের বাবা ছেলে হত্যায় ১৬জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৭ অক্টোবর ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজ শুক্রবাবার সকালে নিহত জয়দেবের পরিবার ভা-ারিয়ায় প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদ হোসেন বলেন,  জয়দেবের  বাবার আদালতের  মামলার কোন কাগজ পত্র তার কাছে আসেনি। আসলে আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী একত্রে দুই মামলার তদন্ত করা হবে।

সুত্র: মানবজমিন

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৬২ হাজার, বহিস্কার ২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন সারাদেশে ৬২ হাজার ৩১৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, বহিষ্কার হয়েছে ২৩ জন।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত জেএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং জেডিসিতে আকাইদ ও ফিকহ বিষয়ের পরীক্ষা হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিন ২২ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৫ জন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির এ সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিলেও অনুপস্থিত ছিল ৬২ হাজার ১১৮ জন।

জেএসসি-জেডিসিতে প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৫৯ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত এবং একজন পরিদর্শকসহ ১৫ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিল। দুই দিনে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৭ জন।

অনুপস্থিত

ঢাকা বোর্ডে ১২ হাজার ৪৩০ জন, রাজশাহীতে চার হাজার ৮৯৩ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ছয় হাজার ৪১০ জন, যশোরে পাঁচ হাজার ৮৪ জন, চট্টগ্রামে দুই হাজার ৭১৮ জন, সিলেটে দুই হাজার ৬৯৯ জন, বরিশালে তিন হাজার ৩০৯ জন, দিনাজপুর বোর্ডে তিন হাজার ৬৬৬ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে জেডিসিতে ২১ হাজার ১০৯ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

বহিষ্কার

জেডিসি পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ১৮ জন, জেএসসিতে দিনাজপুরে ছয়জন এবং কুমিল্লা বোর্ডের দুইজন পরীক্ষার্থীকে অসুদপায় অবলম্বনের জন‌্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেশের দুই হাজার ৭৩৪টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৭৬১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জেএসসি-জেডিসিতে এক থেকে তিন বিষয়ে অকৃতকার্যরা পরের বছর ফেল করা বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়া সুযোগ পায়।

কলেজ বন্ধ কিন্তু কাগজ-কলমে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম সচল

38444_151কথা ছিল ৬ মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত হবে। সরকারি বরাদ্দ হয়েছিল দ্বিতল একাডেমি ভবন। ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী আর আড়াইশ’ শিক্ষার্থী ছিল উচ্ছ্বাসিত কিন্তু বিগত ১৬ বছরেও সে প্রতিক্ষার অবসান হয়নি। সরকারি স্বীকৃতি পেয়েও কেবল আর্থিক অনটনের কারণে ১৬ বছর যাবৎ শিক্ষা প্রদানে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে একটি সাজানো-গোছানো কলেজ।

গত ১০ বছর কলেজের তালা খোলা না হলেও কাগজ-কলমে সচল রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছর কলেজের নামে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক রয়েছেন ২৪ জন। কিন্তু কোথায় সেটা কেউ জানেন না। কলেজের টিনশেড বিল্ডিং যা দুই বছর আগে ঝড়ে ভেঙে গিয়ে পুরোপুরি পরিত্যক্ত। মূল ভবনের তালাও খোলা হয়নি অনেক বছর। মাঠে চষে বেড়ায় গরু-ছাগল। আর চারপাশ জুড়েই আগাছার জঙ্গল।

পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের কারণেই এই দুরবস্থা বলে জানা গেছে। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার তারাইল এলাকার ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল আজিজ তার এবং তার স্ত্রী আয়েশা খাতুনের নামে ১৯৯২ আব্দুল আজিজ-আয়েশা খাতুন কলেজ নির্মাণ করেন। কলেজটি সুনামের সঙ্গে ৪ বছর একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পর আর্থিক টানাপড়েনের কারণে ১৯৯৬ সালে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সরকারের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৩৯ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করলে ১৯৯৮ সালে নতুন দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শামীম এন্টারপ্রাইজ।

২০০০ সালে রূপগঞ্জের তৎকালীন সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) সে ভবনের উদ্বোধন করেন। এরপর নতুন উদ্যোমে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। সে সময় এমপি মহোদয় ৬ মাসের মধ্যে কলেজটি এমপিও ভুক্ত করে দেয়ার আশ্বাস দেন। ভবন উদ্বোধনের কিছুদিন পর এমপিওভুক্ত করার জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর কাগজপত্র চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিও আসে কলেজে। যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক শর্ত পূরণ করতে হয় তা না করেই শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর কাগজপত্র প্রেরণ করে আব্দুল আজিজ-আয়েশা খাতুন কলেজ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে তখন তাদের এমপিওভুক্ত আটকে যায়। এরপর সরকারের ক্ষমতাবদল হলে কলেজটি সরকারিকরণের আশা পুরোপুরি চলে যায়। এরই মাঝে ২০০২ সালে মারা যান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ মিয়া।

এরপর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদানে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে আস্তে আস্তে অনুপস্থিত হতে থাকেন শিক্ষকরা। কমে আসে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ২০০৩ সালের দিকে কলেজটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও বিভিন্ন অনুমোদনবিহীন কলেজের শিক্ষার্থীরা এই কলেজের নামে পরীক্ষা দিতে থাকে। ৩ বছরের বেতনভাতা বকেয়া থাকায় স্বপদ থেকে ২০১০ সালে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শাখেরুজ্জামান সরে দাঁড়ান। এরপর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও আব্দুল আজিজ মিয়ার ছোট ছেলে ইব্রাহিম মিয়া সৈয়দ শাহ জামান নামে অপর আরেকজনকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিলেও তাকে আজ পর্যন্ত তারাইল এলাকার কেউ দেখেনি। এমন কি তিনি কোথায় থাকেন, বাড়ি কোথায় কেউ জানেন না।

কাগজ-কলমে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম সচল থাকলেও এই কলেজের শিক্ষক কারা বা শিক্ষার্থী কারা এবং তারা কখন কোথায় ক্লাস করেন তা কেউ জানে না। অথচ চলতি বছর আব্দুল আজিজ-আয়েশা খাতুন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৬৩ জন অংশগ্রহণ করে ৬০ জন কৃতকার্য হয়েছে। গত বছর উপবৃত্তি পেয়েছেন কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী কারা সে রহস্য আজও অজানা।

কলেজ লাগোয়া বাড়ির বাসিন্দা আব্দুস সামাদ জানান, দুই বছর আগে ঝড়ে কলেজের একতলা টিনশেড ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে সেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। তারাইল উত্তরপাড়া এলাকার মজিবর রহমান বলেন, শুনেছি প্রতি বছর অনেক ছেলেপেলে কলেজ থেকে পাশ করে কিন্তু তারা কোথায় পড়ে কোথায় ক্লাস করে সেটা জানি না।

অনেক বছর যাবৎ কলেজের তালা খুলতে দেখিনি কাউকে। কলেজ মাঠে গরু-ছাগল চষে বেড়ায়। চারপাশ জুড়েই আগাছার জঙ্গল। রাতের বেলায় পুরোপুরি ভুতুড়ে পরিবেশ। এছাড়া সবদিকে জুড়েই সাপ-গোপের নিরাপদ আস্তানা। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকী নূরে আলম বলেন, ২০১৬ ও ২০১৭ শিক্ষা বর্ষে এ কলেজে কোনো শিক্ষার্থী রয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলাম। তাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাইনি। সেজন্য আমরা শিক্ষা বোর্ডে এবার এ কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে চিঠি দিয়ে দিয়েছি।

আগে কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতো সেটা আমার জানা নেই। বর্তমানে কলেজের কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ রয়েছে বলে তিনি আরো জানান। অত্র কলেজের সাবেক করনিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোনো টাকা পয়সার বিনিময়ে নয় কলেজের নাম সচল রাখতে কেবল সরকারি নিবন্ধনের টাকা দিয়ে বাইরের ছেলেমেয়েরা আব্দুল আজিজ-আয়েশা খাতুন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। আমরা এই সুযোগ দেই কেবল আমাদের কলেজের নামটা টিকিয়ে রাখতে। কলেজটি একদিন এমপিওভুক্ত হবে এই আশায় এখনো আমরা এখনো হাল ধরে আছি।

এ ব্যাপারে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও আব্দুল আজিজ মিয়ার ছোট ছেলে ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি তাবলীগ জামায়াতে এলাকার বাইরে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কলেজটি পুনরায় সচল হলে উপজেলার দাউদপুরের উত্তরাঞ্চল, ভোলাব ইউনিয়ন এবং কাঞ্চন পৌরসভার ৩-৪টি ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার আরো অধিক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে স্থানীয়রা জানান।

সুত্র: মানবজমিন

ঢাকা মেডিক্যালে কিশোরী ধর্ষণ, ৬ আনসার সদস্য পলাতক

ঢাকা মেডিক্যালে এক কিশোরীকে নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বাহিনী আনসারের ছয় সদস‌্য ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে।  অভিযুক্তরা হলেন- এপিসি একরামুল, আনসার সদস্য আনিসুল, আতিকুল, সিরাজ, বাবুল ও মিনহাজ। আনসারের ঢাকা জেলার কমান্ডেন্ট সাইফুল্লাহ রাসেল  বলেন,  ধর্ষণের ঘটনার দিন (২৭ অক্টোবর)  চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তারা এখন কোথায় আছে, তা জানা নেই।  ধর্ষণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওই কিশোরীর বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়।  বুধবার মামলা করতে শাহবাগ থানায় যান। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।  হবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বিকালে  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরীর ভাই ঢাকা মেডিক্যালে সাংবাদিকদের জানান, তার বোন মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে-মাঝে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়, আবার ফিরেও আসে। এবার বেরিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল থেকে ফোন পেয়ে তারা এসে ধর্ষণের ঘটনা শোনেন। গত ২৭ অক্টোবর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের আউটডোরে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে।

ওই কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ করার পর তাকে চিকিৎসা দেওয়ারা কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter