নিউজ

রাশেদের মায়ের আকুতি আমার বাবারে মুক্তি দিন

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান ও তাঁর মা সালেহা বেগম। ছবি: সংগৃহীতনিজস্ব প্রতিবেদক: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান ও তাঁর মা সালেহা বেগম।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম তাঁর ছেলেকে ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার বাবার মুক্তি চাই। আমার বাবা রাশেদকে ফিরিয়ে দিন। সে সাধারণ ছাত্র। কত কষ্ট করে আমার বাবাকে মানুষ করেছি, তাকে মুক্তি দিন। তার জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শুক্রবার বিকেলে এক মানববন্ধনে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের গ্রেপ্তারকৃত নেতা রাশেদের মা। কোটা আন্দোলন করতে গিয়ে আটক ছাত্রদের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি তো মা; প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো মায়ের জ্বালা বোঝেন। আপনার কাছে আবেদন, আমার বাবাদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে দিন। আমার বাবারা তো কোনো রাজনীতি করে নাই, তারা তো কোনো অপরাধ করেনি। তারা শুধু চাকরির জন্য গেছিল। জেলে আটক সব বাবাদের মুক্তি দিন।’

মানববন্ধনে রাশেদের বাবা মো. নবাই বিশ্বাস বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মুক্তির দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, তার পড়াশোনাটা আবার আগের মতো স্বাভাবিক করে দেওয়া হোক। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারছি না।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গত ১ জুলাই রাজধানীর ভাষানটেক থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত রাশেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আটক ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজকের এই মানববন্ধন করে যুব ঐক্য প্রক্রিয়া। যুব ঐক্য প্রক্রিয়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একটি সহযোগী সংগঠন। এক ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আটক নেতাদের মা-বাবারা বক্তব্য দেন। তাঁরা সন্তানের মুক্তির দাবি জানান। অভিভাবকেরা বলেন, তাঁদের সন্তানেরা কোনো অন্যায় করেননি। তাঁদের সন্তানেরা কোটা সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মশিউর রহমানের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, ‘কী দোষ করেছিল আমাদের ছেলেরা? তাদের এভাবে কেন রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে, কারাগারে পাঠানো হচ্ছে? আমাদের খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি একজন রিকশাওয়ালা। আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।’

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবি ছাত্ররা তুলবেনই। এটা তাঁদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু ছাত্রদের ওপর নির্যাতন, গুম করা হচ্ছে কেন? ছাত্রদের কেন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে? দেশের সর্বস্তরে অব্যবস্থা। এটা চলতে দেওয়া যায় না। ঐক্যবদ্ধ হলে দেশের দুঃশাসন, দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রিকশাও চলে লাইন ধরে

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ আগষ্ট: রাজধানীর কুর্মিটোলায় দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছে। এর মধ্যেই রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজেও লেগে পড়েছে তারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সারিবদ্ধভাবে রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করে ট্রাফিক পুলিশের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সরেজমিন ধানমন্ডি ১ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ৩টি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে কিছু শিক্ষার্থী। সাইন্স ল্যাবে পুলিশ বক্সের সামনে, ১ নম্বর সড়কের মাঝামাঝি চৌরাস্তায় এবং ১ নম্বর সড়ক থেকে বের হয়ে সাত মসজিদ রোডের মোড়ে অবস্থান নিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি রাস্তায় পরিবহন ব্যবস্থায় কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায় তা দেখাতে চান তারা। তাদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের পক্ষেও এ কাজ সম্ভব যদি তাদের সদিচ্ছা থাকে। একটু চেষ্টা করলেই লাইনে আনা সম্ভব।.

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এক লেনে গাড়ি চালাতে বাধ্য করার পাশাপাশি গাড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভারের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। যারা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাস্তায় শৃঙ্খলা দেখে এই রাস্তায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী অনেকেই ছাত্রদের এ কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, ‘এই রাস্তা ধরে সপ্তাহের প্রতিদিন যাওয়া-আসা করি। মঙ্গলবার মার্কেট বন্ধ থাকে বলে এই রাস্তা একটু ফাঁকা থাকে। না হলে প্রত্যেক দিন জ্যাম লেগে থাকে। রিকশাগুলো লাইন করে ৫-৬টা। যার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িগুলো আসতে পারে না। শিক্ষার্থীরা যা করছে এটা তো পুলিশের করার কথা। তাদের একটি পুলিশ বক্স আছে মোড়ে। তারপরও তারা ব্যর্থ। শিক্ষার্থীরা শতভাগ সফল।’.

 

এই এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক মিজান জানান, ‘এই রাস্তায় সব এক লাইনে চললে তো জ্যাম থাকবো না। আমরাও সমর্থন করি। আমাদেরও জ্যামে সময় নষ্ট হয়। ভালা কাজ করসে তারা।’

অন্যদিকে ধানমন্ডি ল্যাবএইডের সামনেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে এক লেনে গাড়ি, এক লেনে রিকশা, আর আরেক লেনে মোটরসাইকেল প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত সিটি কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে সবাইকে লাইনে আনা সম্ভব। এই রাস্তায় আমরা প্রতিদিন যাওয়া আসা করি। মানুষের কী পরিমাণ দুর্ভোগ হয় আমরা জানি। তাই এই লাইনে আনার চেষ্টা। চাইলে ট্রাফিক পুলিশও করতে পারে এই কাজ। কিন্তু তাদের সদিচ্ছা নেই মনে হয়। থাকলে আমাদের উদ্যোগ নিতে হতো না।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১০ বার লেখেন ‘আমার লাইসেন্স নাই

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ আগষ্ট: রাজধানীর আসাদগেট সিগন্যালে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করছিল। লাইসেন্স বা কাগজ না থাকলে তারা চালককে ধরে ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে দেখা গেল বেশির ভাগ মোটরসাইকেলচালকের লাইসেন্স নেই। কাগজ ঠিক নেই অনেক গাড়ির। মামলা দিতে দিতে ক্লান্ত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টরা।

এবার শিক্ষার্থীরা নতুন বুদ্ধি বের করল। লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেলচালকদের আটক করে তাঁদের একটি খাতায় ১০ বার লিখতে বলা হলো ‘আমার লাইসেন্স নেই’। একজন ব্যবসায়ী তাঁর নতুন কেনা মোটরসাইকেলসহ আটকা পড়েন। তাঁর মোটরসাইকেলের কাগজ, লাইসেন্স বা হেলমেট কোনোটিই নেই। ওই ব্যবসায়ীকে প্রথমে ১০ বার করে লিখতে বলা হয় ‘আমার লাইসেন্স নেই’। এরপর তাঁকে দিয়ে লেখানো হয় ‘আমার হেলমেট নেই’।

ক্ষুব্ধ ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি কেবল মোটরসাইকেল কিনে যাচ্ছিলাম। এখন তারা এভাবে আমাকে হেনস্তা করল। এই কাজ তো পুলিশের।’

শিক্ষার্থীরা বলছে, ‘আমরা চাই বড়রা নিজেদের শুধরে নেবেন। তাই তাঁদের পুলিশের কাছে দিয়ে মামলা দেওয়া চলছে। তাঁদের লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যাতে তাঁরা পরবর্তী সময়ে ঠিক রাস্তায় চলেন। এই লোকই যদি কখনো দুর্ঘটনায় নিহত হন, তাহলে আবার আপনারাই রিপোর্ট করবেন, তাঁর লাইসেন্স ছিল না। পরে রিপোর্ট করে আর লাভ কী?’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ ॥ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার খরচটাকে আমি খরচ হিসেবে দেখি না, এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আজ আমরা যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছি তারাই একদিন এ দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে তারা এগিয়ে থাকবে। তখনই এ দেশ হবে সোনার বাংলা।

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬৩ জন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক পরিয়ে দেন।

তিনি বলেন, আজ যারা স্বর্ণপদক পেল তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আজকের ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলবে। আমরা ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত করছি। ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়বে -যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি। এ গতি যেন থেমে না যায়। এ দায়িত্ব তোমাদের। কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি খুব শান্তি পাচ্ছি। কারণ, এক সময় এ দেশে মেয়েদের শিক্ষায় বিরাট বাধা ছিল। আজ যে ১৬৩ জনকে স্বর্ণপদক দিলাম তার মধ্যে ১০১ জনই মেয়ে, আর ৬২ জন ছেলে। খুব ভালো লাগার পাশাপাশি একটু খারাপও লাগছে যে, ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? আমি চাই ছেলে-মেয়ে সমান গতিতে এগুবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রেখে অামাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এবার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এটাও ধরে রাখতে হবে। কারণ, প্রবৃদ্ধি বেশি থাকলে জনগণ তার সুফল পায়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেকে গড়তে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পদক পাওয়ার পর পদকপ্রাপ্ত দু’জন শিক্ষার্থী তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: |

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এক বছরে ১০ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্য মূলক আচরণেরও অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বেতন-সেশন হঠাৎ দ্বিগুন বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা ছুটিতে থাকা কালে নিয়ম অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষকের উপর দায়িত্ব দেয়ার নিয়ম থাকলেও জুনিয়র শিক্ষকদের উপর দায়িত্ব দেয়া হয় যা চাকরি বিধি লঙ্ঘন বলে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দার শিক্ষাবার্তা ডটকমকে বলেন, ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। রেজুলেশান আর ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই স্কুল পরিচালনা হচ্ছে। একজন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ভুল করে অভিযোগ করেছেন।

এসব বিষয়ে শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উসমান গনি  জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি গঠন সহ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে । তিনি সব কিছু খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মিটিংও করেছেন।

এসব নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনও করেছে। এরপর  বিদ্যালয়ের  সেসব অনিয়মের লিখিত ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে। ম্যানেজিং কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন তার স্বাক্ষর ছাড়ায় রেজুলেশন, চেকসহ সমস্ত তহবিল হিসাবে নানা জালিয়াতি করেছে প্রধান শিক্ষিক। আর বিদ্যালয়টির বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠনসহ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সন্তান পরীক্ষায় খারাপ করলে বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৯ জুলাই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সন্তান পরীক্ষার ফল খারাপ করলে বকাঝকা করবেন না। বকাঝকা করবেন না, এটা কোনো সমাধান নয়। বরং কী কারণে তার ফল খারাপ হলো তা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান করুন।

বৃহস্পতিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০১৮ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বার্টন টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল উন্মোক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত অালী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেত্রকোনাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান তারা লেখাপড়া শিখে কী করবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অান্তর্জাতিক মানের শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সোনার মানুষ গড়ে তুলতে চাই। যারা সোনার দেশ গড়বেন। শিক্ষা এমনই একটি সম্পদ যে, কেউ তা কেড়ে নিতে পারে না। সম্পদ কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু কোনো ছিনতাইকারী শিক্ষাকে কেড়ে নিতে পারে না। শিক্ষা থাকলে যে কেউ নিজের রোজগারের পথ বের করে নিতে পারে।

তিনি বলেন, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছো তাদের অামি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। যারা ভালো করতে পারোনি তারা ভেঙে পড়বে না। অাগামীতে অারও ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু অামাদের দেশে নয়। ডিজিটালের যেমন ভালো দিক অাছে তেমনি খারাপ কিছু দিকও অাছে। তারপরও অামরা নকলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। যে কারণে এবার এইচএসসি পরীক্ষা নকলমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অামাদের ছেলে-মেয়ারা খুব মেধাবী। তাদের এ মেধাকে কাজে লাগিয়ে অামরা বঙ্গবন্ধুর সোনার মানুষ এবং সোনার দেশ গড়ে তুলবো।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে এবারই প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ৫৫ দিনের মাথায় পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। এ বছর এইচএসসিতে ৬৬.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘সরকার চায় না কোটা প্রথা বিলুপ্ত হোক

ডেস্ক,৪ জুলাই: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিল বা সংস্কার সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা অথবা না করা নিয়ে বিব্রত সরকার। প্রথম দিকে কোটাবিরোধী আন্দোলন সরকার গুরুত্ব সহকারে না দেখলেও পরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। সরকারের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। কারণ সরকার চায় না কোটা প্রথা বিলুপ্ত হোক।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, এটি তাদের সুবিধার্থেই করা হয়েছে। এজন্য আন্দোলন চলাকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা নানাভাবে এ আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তারা আন্দোলনকারীদের বোঝাতে চেয়েছেন এই মুহূর্তে যদি কোটা বাতিল বা সংস্কার করা হয় তাহলে একটি অংশ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করতে পারে। কোটা সংস্কার বা বাতিল যে সিদ্ধান্তই সরকার গ্রহণ করুক সেই সিদ্ধান্তই হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এমনও বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই এ আন্দোলন থামেনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতারা। ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তী এক মাসের মধ্যে সরকার এ সমস্যা সমাধান করবে। ততদিন পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু একমাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন আন্দোলনকারীরা। তারা পুনরায় আন্দোলন শুরু করার আল্টিমেটাম দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা  জানিয়েছেন, সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে সরকার চেয়েছে, কোনোভাবে আন্দোলনটি ঝুলিয়ে দিতে পারলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবেন। একবার ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আর এ আন্দোলন দানা বাঁধবে না, কিন্তু তা হয়নি। এরই মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনও কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবো।  মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে ‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে হবে, কমানো যাবে না’ বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবশ্যই, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজ  আমরা স্বাধীন। তাদের অবদানেই তো আমরা দেশ পেয়েছি।তাই কোটা থাকবে।’ এ বিষয়ে কাজ করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম  জানান, কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। কারণ বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়ে এলে তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পরের কাজগুলো করতে পারবে। বিষয়টি জটিল এবং সময় লাগবে।

সোমবার (২ জুলাই) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই কমিটি গঠনের কথাই জাতীয় সংসদকে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ কমিটি বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যলোচনা, বাতিল ও সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সুপারিশ প্রণয়ন করবে এবং ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার বিষয়টি সরকারের ওপর মহলের বিষয়। এছাড়া বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ প্রধানমন্ত্রী চান না কোটা প্রথা বিলুপ্ত হোক। তাই ওপর মহলের নির্দেশনা ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তই দিতে পারবে না এ কমিটি। কমিটি যে সুপারিশই করুক, তা হতে হবে ওপর মহলের পরামর্শ মোতাবেক। তাই কমিটিকে দেওয়া ১৫ দিনের সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে কমিটি বাড়তি সময় চাইতে পারে। এতে আবার হতে পারে বিলম্ব।

কমিটি  মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিদ্যমান ৩০ শতাংশ কোটা কমিয়ে ২০ শতাংশ রাখার সুপারিশ করতে পারে। যদি সরকার কমিটির সুপারিশ মতো ২০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রেখে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট হতে পারে। এ রিটে কোটা সংস্কার হোক আর বাতিল হোক সে সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে স্থগিত। এমনটি যদি হয়, তখন আর কারোরই কিছু করার থাকবে না। সরকারের কোটা সংস্কার বা বাতিলের সিদ্ধান্ত  আদালত কর্তৃক স্থগিত হলে বিদ্যমান পদ্ধতি বা বিদ্যমান কোটাই বহাল থাকবে। এমনটি হলে সরকারের ইচ্ছাই পরোক্ষভাবে বাস্তবায়ন হবে বলেই মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব  বলেন, ‘সবেমাত্র কমিটি গঠিত হলো। অবশ্যই কমিটি অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। কারণ এটি অবশ্যই ওপর মহলের বিষয়।’

জানা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের কোনও নির্দেশনা না পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতদিন কোনও কাজই শুরু করতে পারেনি। সংসদ সচিবালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তারা কোনও লিখিত নির্দেশনাও পাননি। এ কারণে সরকারের এ দু’টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কোটা সংস্কারের কাজ শুরু করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও নির্দেশনা পাইনি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি বাতিলের বিষয়টি যেহেতু প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা আসবে। অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নির্দেশনা আসতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেভাবে অগ্রসর হতে বলবেন, আমি সেভাবে বাকি কাজ করবো।’

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কমিটিতে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে কেউ নাই। তাই এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য সবার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একজন অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার প্রায় তিন মাসেও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ফের আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, নারী কোটায় ১০ শতাংশ ও উপজাতি কোটায় পাঁচ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ পদে নিয়োগ পান মেধাতালিকায় থাকা প্রার্থীরা।এই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধও করছিলেন তারা।

দফায় দফায় কোটাবিরোধী আন্দোলন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। ১ মে মন্ত্রিপরিষদ সভায় তিনি এ বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এক সূত্র জানায় ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি তো একটা কথা বলেছি, কমিটি কাজ করছে। কেউ বসে নেই, এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। আমি একটা কথা দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট লোকজন তা নিয়ে কাজ করছে। আন্দোলনকারীরা বলে, ক্লাস করবে না। না করলে না করবে, এতে তাদেরই ক্ষতি। আমি তো বলেছি, হবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ বাস্তবায়নে কঠোর অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ জুলাই:  ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি)। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএবির এ সিদ্ধান্ত মাত্র দু-একটি ব্যাংক বাস্তবায়ন করেছে।

বেশির ভাগ ব্যাংক এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে চলতি সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলো শুধু শিল্প ঋণে ৯ শতাংশ সুদ নেবে। আর আমানতকারীদের তিন মাস মেয়াদে আমানতের সুদ দেবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে অন্য সব ক্ষেত্রে সুদহার কমানো হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এ জন্য ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও এটি বাস্তবায়নে বলা হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়েই শুধু আলোচনা হয়। কিন্তু এ খাতে যে অনেক বড় অর্জন আছে সেসব বিষয়ে কেউ নজর দেয় না।

সিনিয়র সচিব বলেন, এ খাতে আমানত সংগ্রহ, নতুন শাখা খোলা, অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ বিতরণ, লভ্যাংশ প্রদান- এসব ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে গত দশ বছরে ৩০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি বাস্তবায়নে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে গত সোমবার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ব্যাংকার্স সভা নামক ওই সভায় ডেপুটি গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, এক অংকে ঋণের সুদহার কার্যকর করতে কারও দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কয়েকটি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভায় এরই মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। যেসব ব্যাংক এখনও চূড়ান্ত করেনি তারাও চলতি সপ্তাহেই পরিচালনা পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত করবে।

তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন থেকে সরকারি আমানত পাবে ৬ শতাংশ সুদে। সরকারি ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখতে এর বেশি সুদ দাবি করবে না। এতে ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে মূলত এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ২০ জুলাই ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা। তবে সেদিন ব্যাংক হলিডে থাকায় ২ জুলাই থেকে কয়েকটি ব্যাংক এটি কার্যকর করে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চায় ঋণের সুদহার এক অংকে নেমে আসুক। এটি কীভাবে কার্যকর করব সেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। তবে এটি কার্যকর করতে যাতে কোনো নৈরাজ্য বা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ জন্য যদি ঋণ আমানতের নির্ধারিত হারে কিছুটা ছাড় দিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে। যাতে কোনো ব্যাংককে শাস্তি বা জরিমানা না করা হয় সেটি অনুরোধ করেছে ব্যাংকের এমডিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, সুদহার পুনর্নির্ধারণে কিছুটা আমানত চলে যেতে পারে। সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক সহনীয়ভাবে দেখবে। তবে সব ছাড় কেবল এক অংকে ঋণের সুদহার কার্যকর করার ওপরে। যদিও এটি রাতারাতি কার্যকর হবে না। সময় লাগবে। আমাদের কেউ কেউ সেটি শুরু করেছে। বাকিরাও শুরু করবে। সব ঋণের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডিজিট করা হবে।

চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। সংকট থেকে বেড়ে যায় সব ধরনের ঋণ ও আমানতের সুদহার।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার ঘাটতি মেটাতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এর আগে সরকারি আমানতের মাত্র ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিধান ছিল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটা আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনকে মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার

ডেস্ক,৩ জুলাই: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) মাসুদুর রহমান।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে পরিষদের নেতা কর্মীদের মারধর করে। ওই সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়।ওই মোটরসাইকেলটি এসবির উল্লেখ করে ওই সেটি পোড়ানোর মামলায় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে অভিযোগ ওঠে, গতকাল সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ চলার সময় ফারুককে তুলে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসেন ছাত্রলীগের এক কর্মী।মঙ্গলবার ফারুকের বড় ভাই মো. আরিফুল ইসলাম শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় গিয়ে তাঁর ভাইয়ের সন্ধান পাননি। শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ফারুক হোসেন নামের কেউ সেখানে গ্রেফতার নেই।

ফারুকের ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ভাইয়ের খোঁজে তিনি শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় যান। কিন্তু কোথাও পাননি। তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আল আমিন নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী তাঁকে জানান, তিনিই ফারুককে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসেন।

আজ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফারুককে তিনি তাঁর মোটরবাইকে করে শাহবাগ থানায় দিয়ে এসেছিলেন।

ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে ‘মহামারী’ অভিযোগ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘কোটা সংস্কার চাই’—এই ফেসবুক পেজ থেকে ‘সরকারবিরোধী’ কথাবার্তা ছড়ানো হয়। যেহেতু ফারুক হোসেন ওই প্ল্যাটফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক, তাই তিনিও দোষী।

আজ ফারুকের বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার রমজান হোসেন ফোন ধরে বলেন, থানায় ফারুক হোসেন নামের কেউ গ্রেফতার নেই। কোনো মামলাও নেই।

সূত্র : প্রথম আলো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এক অঙ্কে ঋণের সুদ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

নিউজ ডেস্ক: ব্যাংক হলিডের কারণে রোববার লেনদেন বন্ধ থাকায় ঘোষিত সুদের হার এক অঙ্কে নামানোর বিষয়টি কার্যকর করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। তবে আজ থেকে নতুন সুদহার কার্যকর করা হবে। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে আজ সব ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) বৈঠকে বসছেন। এ বৈঠকের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তারা।

২০ জুন এক বৈঠক থেকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ ও ছয় শতাংশ সুদে তিন মাস মেয়াদি আমানত নেয়া হবে। একই ঘোষণা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও দিয়েছে। সূত্র জানায়, সুদহার এক অঙ্কে নামানোর ঘোষণা কার্যকরই আজকের বৈঠকে মূল আলোচ্য।

বৈঠক থেকে ব্যাংকগুলোর এমডি বিএবির ঘোষণার আলোকে সুদহার কার্যকরের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারও চায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামুক। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জুনের বৈঠকে বিএবি সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। তবে সব ঋণে সুদহার এক অঙ্কে নামবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি তখন। পরে ২৭ জুন এমডিদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এখনই সব ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামবে না। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রিয়ালের কোচ হওয়ায় লোপেতেগিকে বরখাস্ত করেছে স্পেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাল রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে হুলেন লোপেতেগির নামটা যখন ঘোষণা দেওয়া হলো, চমকে গিয়েছেন সবাই। লোপেতেগি না স্পেনের কোচ, আর তিন দিন পরে পর্তুগালের বিপক্ষে ডাগ আউটে থাকার কথা তাঁর! ‘থাকার কথা’ শব্দটা ব্যবহার করতে হচ্ছে রুবিয়ালেসের কারণে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি যে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘোষণাকে বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে দেখছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ-বিরক্ত রুবিয়ালেসের মন্তব্য, ‘এটা কথা বলার সময় নয়। তবে জাতীয় দলের জন্য ভালো হয়, এমন সিদ্ধান্তই নেব।’ সভাপতির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এমন সময়ে কোচ ছাঁটাই না করতেই বলেছেন। কিন্তু রুবিয়ালেসকে থামানো যায়নি। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিয়ালেস লোপেতেগিকে বরখাস্ত করেছেন।

নতুন কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে রুবিয়ালেস জানিয়েছেন, ‘লোপেতেগিকে ছাড়াই এগিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা যতটা কম পরিবর্তন করা সম্ভব তাই করব।’ এ ব্যাপারে ফুটবলারদের কাছেই বাড়তি দাবি ফেডারেশন সভাপতির, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি নিশ্চিত করছি নতুন কোচের অধীনে জাতীয় দলকে যতটা সম্ভব এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চটাই দেবে ফুটবলাররা। আমরা খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’ তবে ফুটবলাররা কতটা দিতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন। লোপেতেগি রিয়ালের কোচ হওয়ার পরও খেলোয়াড়রা স্পেনের কোচ হিসেবে তাঁকেই রেখে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু রুবিয়ালেস রাজি হননি।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের ঠিক আগে জাতীয় দলের কোচ যখন কোনো ক্লাব দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন, তখন খেপারই কথা দেশের ফুটবল কর্তাদের। রিয়াল মাদ্রিদও কেন এ খবরটা এই মুহূর্তে প্রকাশ করতে গেল—এ নিয়েও চলছে বিতর্ক। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্পেন দলের মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের (কারভাহাল, রামোস, ইস্কো, ভাসকেজ, অ্যাসেনসিও ও নাচো) কোচ নিয়োগের সংবাদ দেওয়া হয়েছিল। সেটা স্পেন স্কোয়াডের অন্য এক খেলোয়াড়ও জেনে গিয়েছিলেন। তাই তাড়াহুড়া করে কোচ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াল।

কেন দেশের ফেডারেশনের ক্ষোভ জাগানোর সম্ভাবনা থাকা সত্তেও লোপেতেগিকে নিয়োগ দিল রিয়াল? কোচ হিসেবে কখনই জিদান, মরিনহো, গার্দিওলা, কন্তে, ক্লপ বা ওয়েঙ্গারের মতো আকর্ষণীয় নাম নন লোপেতেগি। কিন্তু এই লোপেতেগির অধীনেই নিজেদের আকর্ষণীয় ফুটবল খেলার পরিচয়টাকে আবারও নতুন করে ফিরে পেয়েছে স্পেন। ২০১৬ ইউরোতে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়া স্পেন এই লোপেতেগির অধীনেই আবারও পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করা শুরু করেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের সবচেয়ে আশার বিষয় হলো রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান খেলোয়াড়ের একটি বড় অংশ, যেমন কারভাহাল, রামোস, ইস্কো, ভাসকেজ, অ্যাসেনসিও, ক্যাসেমিরো, নাচো, ভ্যায়েহো—প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো সময়ে কোচিং করিয়েছেন লোপেতেগি। তাই এঁদের সবার সম্পর্কেই ভালো ধারণা আছে তাঁর। রামোস আর ক্যাসেমিরো ছাড়া এঁদের প্রত্যেকেই স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ আর অনূর্ধ্ব-২১ দলে ছিলেন, যে দলগুলো ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো আর ২০১৩ সালে অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোতে এই লোপেতেগির অধীনেই শিরোপা লাভ করেছিল।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর ম্যানেজার ছিলেন এই লোপেতেগি, তখন এক বছরের ধারে রিয়াল থেকে ক্যাসেমিরোকে নিয়ে আসেন, ওই এক বছরেই নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে গড়ে তোলেন ক্যাসেমিরো। তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার ব্যাপারেও যে বেশ সিদ্ধহস্ত লোপেতেগি—এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেসকে ১৭ বছর বয়সেই পোর্তোর অধিনায়কত্ব এই লোপেতেগিই দিয়েছিলেন।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা—উভয় দলের হয়েই খেলা গুটিকয়েক খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন এই লোপেতেগি। খেলোয়াড়ি জীবনে গোলরক্ষক ছিলেন, মাত্র একটি ম্যাচই খেলেছেন রিয়ালের হয়ে। পরে যদিও বার্সেলোনার হয়ে ৫ ম্যাচ খেলেছেন। পরে রিয়াল মাদ্রিদের যুবদলের হয়েও কোচিং করিয়েছেন তিনি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আর কত সুবিধা চান সরকারি চাকুরেরা : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:   অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘সরকারি চাকুরেদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকার দিয়েছে এর আগে তারা জীবনে তা চোখেও দেখিনি। বেতন ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।’

এরপরও তারা (সরকারি চাকরিজীবীরা) আর কত সুবিধা চান- বলে প্রশ্ন করেন মুহিত।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তুলেন। সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

muhit-2

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণকে বাস্তবসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন। সরকারি কর্মচারীরা বিশেষত নবীন কর্মকর্তারা যেন একটি ফ্ল্যাট বা গৃহের মালিক হতে পারেন সে দিক লক্ষ রেখে আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের বিষয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছি। আগামী অর্থবছরেই তা কার্যকর হবে বলে আশা রাখি।

তিনি বলেন, এ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যে কোনো স্থানে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। সহনীয় ও পরিশোধযোগ্য সুদে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঋণ সরকারি কর্মচারীদের দেয়া হবে। ঋণের প্রকৃত সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভতুর্কি বাবদ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে। আশা করি, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সরকারি সেবা প্রদানে কর্মচারীরা আরও উদ্যমী হবেন এবং সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাঁচ শতাংশ সুদহারে গৃহঋণের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। চূড়ান্ত নীতিমালার আওতায় জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। এই ঋণের মোট সদুহার ১০ শতাংশ। তবে এই ১০ শতাংশ সুদের ৫ শতাংশ সরকার এবং বাকি ৫ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধ শুরুর সময়) ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ জুন

বহুল প্রতিক্ষীত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৃহঋণ সুবিধা পেতে আর বেশি দেরি নয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন অর্থমন্ত্রণালয়ে। অর্থমন্ত্রীর সই হলেই ঋণ নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। এরপর থেকেই শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কম সুদ অর্থাৎ মাত্র ৫ শতাংশ ঋণে গৃহঋণ বরাদ্দ প্রক্রিয়া।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা কমাতে এ গৃহঋণের অনুমোদন দিয়েছে পে-কমিশন। ২০১৫ সালে এই অনুমোদন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনাপত্র প্রদান করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সেখানে বলা হয়, ৫ শতাংশ সুদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালে ঘোষিত পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৬০ থেকে ৮০ গুণের সমান গৃহঋণ দেওয়া হবে। এতে করে প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা এ সুবিধা পাবেন।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব নাজমুস সাকিব বলেন, প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ভাল একটি সুবিধা পাবেন। এতে তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়বে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, এই প্রকল্প থেকে সরকার ও ঋণ গ্রহীতা উভয়ই উপকৃত হবেন। কারণ সরকার ব্যাংকের অলস টাকা ইনভেস্ট করতে পারবে। ঋণের টাকার কিস্তি বেতন থেকে কেটে নেবে ব্যাংক। ফলে অর্থের সিকিউরিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।

এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকুরি করে ঢাকা শহরে একসাথে এতো টাকা সংগ্রহ করে একটি ফ্লাট কেনা তাদের জন্য ছিল অনেক কষ্টের। কিন্তু সরকারের এমন উদ্যোগ তাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। যেহেতু সরকার এ ঋণের বিপরীতে ৩ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে, তাই এটা তাদের জন্য বড় পাওয়া।

এদিকে, অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, আসছে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকছে। ফলে এবছরও বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারি চাকুরিদের বেতন-ভাতা। বিষয়টি সরকারি চাকুরিজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে এর প্রভাব বাজারেও পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিষয়ে গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এবার বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে কিনা এটা প্রথমে ভাবতে হবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সারাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রভাবে ইনফ্লুয়েন্স করছে কিনা সেটাও প্রশ্ন উঠবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রভাব প্রাইভেট সেক্টরেও পড়ে। ফলে প্রাইভেট সেক্টরেও বেতন বৃদ্ধির ডিমান্ড তৈরি হয়। ফলে প্রডাক্ট কষ্ট বৃদ্ধি পায়। এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবেই।

সরকারি কর্মকর্তাদের হোম লোন সুবিধা প্রদান ও আসছে বাজেটে বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, মূদ্রাস্ফীতির অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা নির্ভর করবে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির অর্থটা কোত্থেকে জোগান দেয় তার ওপর।

তিনি বলেন, সরকার যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বা নতুন নোট ছাপিয়ে এই বাড়তি বেতন জোগান দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মূদ্রাস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন বেসরকারি খাতের ওপরও বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। সেটা যদি হয়, তখন মূদ্রাস্ফীতির হার আবারও বাড়বে।

গৃহঋণের বিষয়ে এম এম আকাশ বলেন, এটা সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে উৎসাহিত করবে এটা ঠিক। কিন্তু সরকার এ ঋণের সুদে যে ৩ শতাংশ ভর্তুকি দেবে এটা রাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত বোঝা বয়ে আনবে। ফলে ব্যাংকের উপর সরকারের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এভাবে রাজস্বের উপর চাপ বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩জুন:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর করা হচ্ছে। ৩৫ বছর বয়সের পর কেউ আর শিক্ষক হতে পারবেন না। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সভায় প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

আজ সকাল ১১ টায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপত্বিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি যোগদানের বয়সসীমা নির্ধারণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে এই সভা করা হয়।

সভায় এনটিআসিএ’র দেয়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর করার পক্ষে মত দেয়া হয়েছে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী সভার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত সারাদেশে প্রায় ৬ লাখ প্রার্থী চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিবন্ধিত প্রার্থীরা নানাভাবে বঞ্চিত হয়ে এ পর্যন্ত ২৫০টি মামলা করেন। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬টি মামলার রায় দেন আদালত। আদালতে মামলাজনিত কারণে গত দুই বছর ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ফলে সারাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে তীব্র শিক্ষক সঙ্কট দেখা দিয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ বলেন, আদালতের রায়ের পর নিবন্ধিতদের চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে আমাদের কাছে চিঠি পাঠায় এনটিআরসিএ। তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা সভা করেছি। সেখানে শিক্ষকদের যোগদানের বসয়সীমা ৩৫ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শূন্য পদে নিয়োগ দিতে পুরুষ-মহিলাদের আলাদা করে তালিকা তৈরি করতে এনটিআরসিএ’কে নির্দেশনা দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরবর্তী সভা করা হবে। সেখানে সব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

এনটিআরসিএ’র সদস্য মো. হুমায়ন কবির বলেন, শিক্ষকদের যোগদানের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হলে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মেধাতালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে। যোগদানের এই বয়সসীমা নির্ধারণ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এরপর এনটিআরসিএ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিফিন বক্স, গায়ে নাম চিফ হুইপের

নিজস্ব প্রতিবেদক,২ জুন:

সরকারি বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রাথমিকের ৩০ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীকে একটি করে টিফিন বক্স দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এসব টিফিন বক্সের গায়ে অর্থায়নে সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজের নাম লেখা রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এন এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি (আ স ম ফিরোজ) সব সময় পানি দিয়ে দই পাততে চান। এর প্রমাণ নিজে কোনো টাকা না দিয়েও অর্থায়নে তাঁর নাম লেখানো।

জানতে চাইলে চিফ হুইপ ও সাংসদ আ স ম ফিরোজ  বলেন, তিনি টিফিন বক্সে তাঁর নাম লিখতে বলেননি। যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দেন তিনি।

যদিও গত ১৮ এপ্রিল টিফিন বক্স বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। নিজে টাকা না দিলেও প্রতিটি টিফিন বক্সের গায়ে অর্থায়নে আ স ম ফিরোজ ও স্লিপ ফান্ডের নাম লেখা রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ২৩৫টি বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে বিনা মূল্যে একটি করে টিফিন বক্স দেওয়া হবে। এর ব্যয় বহন করা হচ্ছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের স্লিপ ফান্ড ও বিশেষ বরাদ্দের টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের টাকা থেকে। মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ৩০ লাখ টাকার ওই কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছেন। তবে বর্তমানে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেছেন, উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বক্সগুলোয় চিফ হুইপের নাম লেখা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ৩০ লাখ টাকার কাজ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে করার কোনো সুযোগ নেই। আর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক জানান, খোলা ডাকের মাধ্যমে টিফিন বক্স কেনা হয়েছে।

এ ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের চাঁদপুরের ঠিকানা বরাবর গত ১৭ মে ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান। ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এতে দরপত্র ছাড়া অবৈধ পন্থায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে টিফিন বক্স ক্রয় ও বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর ছবি না দিয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের নাম লেখা ও হাটবাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free