নিউজ

লেকহেড স্কুলের বিরুদ্ধে ভয়াবহ তথ্য ছিল : অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া রাজধানীর ধানমন্ডি ও গুলশানের লেকহেড স্কুলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগে আমরা যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দাখিল করেছি তাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ ছিল। এই স্কুলের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ, সাবেক কিছু শিক্ষক ও অভিভাবকের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সদস্য সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

source: jagonews

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান

ডেস্ক: দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি এর আগে দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমা তুল জান্নাত স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আবু বকর সিদ্দিককে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালে তিনি উপাধ্যক্ষ হিসেবে দিনাজপুর সরকারি কলেজে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে তিনি অধ্যক্ষ হন।

মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পীরগঞ্জ পাইলট বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও পীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবার নাম মো. লুৎফর রহমান ও মায়ের নাম জেবুন নেছা।

নিয়োগলাভের পর মো. আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের সব কার্যক্রম যেন আবার প্রাণ ফিরে পায়, সেভাবেই কাজ করব। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত একটি শিক্ষা বোর্ড উপহার দিতে চাই।’

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

কোচিং বাণিজ্য : ৯৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদে

কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রাজধানীর আট নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর কমিশন থেকে ওই সুপারিশ রোববার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর  এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিন সই করা চিঠিতে পাঁচটি বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। চিঠির প্রথম দুই সুপারিশে এমপিওভুক্ত চারটি বিদ্যালয় ও চারটি সরকারি বিদ্যালয়ের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর মধ্যে এমপিওভুক্ত চারটি বিদ্যালয়ের ৭২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটি সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদকে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল শাখার ৩২ জন ও বনশ্রী শাখার চারজনসহ মোট ৩৬ জন, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪ জন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাতজন, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ও গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের আটজন শিক্ষকসহ ৯৭ জনের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

তবে দুদক টিমের সুপারিশে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ১৪ শিক্ষকের নাম থাকলেও চূড়ান্ত সুপারিশে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

শাস্তির বিষয়ে চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কোচিং বাণিজ্য রোধে এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদেরকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এক বিদ্যালয় হতে অন্য বিদ্যালয়ে, এক শাখা হতে অন্য শাখায়, দিবা শিফট হতে প্রভাতী শিফটে বা প্রভাতী শিফট হতে দিবা শিফটে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে। যারা একইসঙ্গে দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে বহাল থেকে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কারণ এ জাতীয় আয়ে কোনো প্রকার ভ্যাট বা কর দেওয়া হয় না। ফলে এভাবে উপর্জিত আয় অনুপর্জিত আয়ে পরিণত হয়, যা সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না।’ এ ছাড়া কোচিং বন্ধে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে সুপারিশে।

এ বিষয়ে দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিন  বলেন, ‘দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন তা যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।’

এর আগে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অনুসন্ধান শেষে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১১১ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ এ পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয় দুদকের অনুসন্ধান টিম। অনুসন্ধান পর্যায়ে দুদক টিম বেশ কয়েকবার রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রেখে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করেছে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে। আপাতত আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও টিম প্রধান মোহাম্মদ ইব্রাহীম  বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমত পরিশ্রম দিয়ে অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোচিংয়ে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হলেও কোচিংয়ে যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।’

২০১২ সালের ২০ জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে নীতিমালা তৈরি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং অথবা প্রাইভেট পড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিজ বাসায় পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীর নাম ও রোল নম্বরসহ তালিকা জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ওই ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজনকে পড়ালেও তাকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এমনকি কোনো শিক্ষক বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হতে পারবেন না।

শাস্তির বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে এমপিও স্থাগিত, বাতিল, বেতন-ভাতাদি স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন এক ধাপ অবনমিতকরণ ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকা :
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : নিজাম উদ্দিন কামাল (ইংরেজি), আব্দুল মান্নান (রসায়ন), উম্মে ফাতিমা (বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়), মো. আজমল হোসেন (বাংলা), গোলাম মোস্তফা (গণিত), আশরাফুল আলম (রসায়ন), বাবু সুবাস চন্দ্র পোদ্দার (রসায়ন), লাভলী আখতার, তাসমিন নাহার, মতিনুর (ইংরেজি), উম্মে সালমা (ইংরেজি), মো. আব্দুল জলিল (ব্যবসায় শিক্ষা, মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন (রসায়ন), মনিরা জাহান (ইংরেজি), ফাহমিদা খানম পরী (গণিত), লুৎফুন নাহার (গণিত), হামিদা বেগম (গণিত), নাজনীন আক্তার (গণিত), উম্মে সালমা (ইংরেজি), তৌহিদুল ইসলাম (ইংরেজি), সুরাইয়া জান্নাত (ইংরেজি), মো. সফিকুর রহমান-৩ (গণিত ও বিজ্ঞান), মো. শফিকুর রহমান সোহাগ (গণিত ও বিজ্ঞান), নুরুল আমিন (গণিত), মনিরুল ইসলাম (ইংরেজি), রফিকুল ইসলাম (সমাজ বিজ্ঞান), গোলাম মোস্তফা (গণিত), অহিদুজ্জামান (বাংলা), মাকসুদা বেগম মালা, আলী নেওয়াজ আলম করিম, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. আব্দুর রব এবং বনশ্রী শাখার মো. শফিকুল ইসলাম (ইংরেজি), মো. মাহবুবুর রহমান (পদার্থ বিজ্ঞান), মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (গণিত) ও আব্দুল হালিম (গণিত)।

মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, মেজবাহুল ইসলাম (ইংরেজি), সুবীর কুমার সাহা (গণিত), মো. সাইফুল ইসলাম,  মোহনলাল ঢালী, বাসুদেব সমদ্দার, বকুল বেগম, আসাদ হোসেন (ইংরেজি), প্রদীপ কুমার বসাক, আবুল খায়ের, শারমীন খানম, মো. কবীর আহমেদ, খ ম কবির আহমেদ, মো. দেলোয়ার হোসেন,  মাও. কামরুল হাসান, মো. রুহুল আমিন-২, মো. কামরুজ্জামান, শেখ শহীদুল ইসলাম, শুকদেব ঢালী, হাসান মঞ্জুর হিলালী, আমান উল্লাহ আমান, হামিদুল হক খান, রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও চন্দন রায়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ : প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার চৌধুরী (ইংলিশ ভার্সন), ড. ফারহানা (পদার্থবিজ্ঞান), সুরাইয়া নাসরিন (ইংরেজি), লক্ষ্মী রানী, ফেরদৌসী ও নুশরাত জাহান।

রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : এ বি এম মইনূল ইসলাম (গণিত), মো. আলী আকবর (গণিত), মো. রেজাউর রহমান (গণিত), মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (ইংরেজি) ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (রসায়ন)।

মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় : প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন মিয়া (ভৌতবিজ্ঞান), মো. মোখতার আলম (ইংরেজি), মো. মাইনুল হাসান ভূঁইয়া (গণিত), মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (গণিত), মুহাম্মদ আফজালুর রহমান (ইংরেজি), মো. ইমরান আলী (ইংরেজি), দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ কবীর চৌধুরী, এ বি এম ছাইফুদ্দীন ইয়াহ, মো. মিজানুর রহমান, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বেপারী।

মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় : প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষিক নূরুন্নাহার সিদ্দিকা (সামাজিক বিজ্ঞান), দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক শাহ মো. সাইফুর রহমান (গণিত), মো. শাহ আলম (ইংরেজি), মোসা. নাছিমা আক্তার (ভূগোল)।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল : মো. শাহজাহান সিরাজ (গণিত), মোহাম্মদ ইসলাম (গণিত), জাকির হোসেন (গণিত), মো. শাহজাহান (গণিত), মো. আবদুল ওয়াদুদ খান (সামাজিক বিজ্ঞান), মো. আলতাফ হোসেন খান (ইংরেজি), মো. আযাদ রহমান (ইংরেজি) ও রণজিৎ কুমার শীল (গণিত)।

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

দুদক ছয় সদস্যের অনুসন্ধান টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, মনিরুল ইসলাম, ফজলুল বারী ও উপসহকারী পরিচালক আতাউর রহমান।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

গাজীপুরে ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

জেলা প্রশাসকের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা পরও ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ না করায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গাজীপুরের এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. কুদরত-এ-খোদা জানান, সোমবার ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হাড়িনাল, দক্ষিণ ছায়াবিথী, রেল স্টেশন ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে লাগানো ব্যানার জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মতে অপসারণ না করায় চান্দনা চৌরাস্তায় শাহীন স্কুলকে ১০ হাজার এবং অগ্রণী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জ্ঞানবিকাশ কোচিং সেন্টারকে ১৫ হাজার করে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সতর্ক করা হয় ই-হক ও স্মৃতি কোচিং সেন্টারকে।

তিনি আরও জানান, নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে লাগানো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যানার গত বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপাসারণের নির্দেশ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ দেওয়ান হুমায়ূন কবীর। সে নির্দেশ না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এ জরিমানা করা হয়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

চারণকবি বিজয় সরকারের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ‘এ পৃথিবী যেমন আছে, তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে; ‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনি গো আমি একদিন ভাবিনী মনে; ও তুমি জানো না জানোরে প্রিয় তুমি মোর জীবনের সাধনা’-এসব বিখ্যাত মরমি গানের স্রষ্টা কবিয়াল বিজয় সরকার।

আজ ৩ ডিসেম্বর চারণকবি বিজয় সরকারের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নড়াইলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বিজয় সরকার মেলা। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিজয় মেলার তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে নড়াইলের বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মেঠোমঞ্চ স্থাপন করে সেখান থেকে প্রচার করা হচ্ছে বিজয় সরকারের গান। কবির ভক্তরা মেঠোমঞ্চে গান পরিবেশন করছেন। কবিগানের আসরের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শহীদ মিনার চত্বরজুড়ে সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার দুই দিনব্যাপী বিজয় মেলা উদ্বোধন করবেন বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।

মেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শিল্পী বলদেব অধিকারীর চিত্র প্রদর্শনী, বিজয়গীতি প্রতিযোগিতা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, কবিগানের আসর, বিজয়গীতি পরিবেশনা, ধুয়োগান ও বিজয় স্বর্ণ পদক প্রদান।

এবারের বিজয় মেলা উপলক্ষে সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.পবিত্র সরকার। এ ছাড়া মেলায় ২০১৫-২০১৭- এই তিন বছরের তিনজন কবিকে বিজয় সরকার স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে।

এরা হলেন কবিয়াল সঞ্জয় মল্লিক (নওয়াপাড়া), কবিয়াল স্বপন সরকার (কোটালীপাড়া) এবং কবিয়াল মো. আবু ইউসুফ (চট্টগ্রাম)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার কবিগানের জন্য আসছেন কবিয়াল বিজয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চারজন কবিয়াল। মেলার শেষ দিন ৫ ডিসেম্বর রাতভর গানের আসর মাতাবেন তারা।

বিজয় সরকার মেলার আয়োজক ও বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, ‘কবিয়াল বিজয় সরকার বাংলার গর্ব। তাকে নিয়ে দুই বাংলায় কাজ শুরু হয়েছে। মরমি এই কবিয়ালের গান ও তার সঠিক চর্চার জন্য নড়াইলে একটি বিজয় চর্চাকেন্দ্র যেমন প্রয়োজন, তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় সরকারের গানের মর্মবাণী ছড়িয়ে দিতে পাঠ্যপুস্তকে বিজয় সরকারকে অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন। ‘

চুন্নু আরো বলেন, ‘মরমি এই শিল্পীকে জাতীয় চারণ কবি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, নড়াইলে বিজয় সরকারের নামে ফকলোর ইনিস্টিটিউট, নিজ বাড়ি ডুমদি গ্রামে তার স্মৃতি সংগ্রহশালা, শিল্পীর বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা অবিলম্বে নির্মাণসহ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হোক তার গ্রাম- এটাই নড়াইলবাসীর প্রত্যাশা। ‘

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারি কলেজ সরকারি ! সেখানকার শিক্ষকরা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক

ডেস্ক: ঢাকা: বেসরকারি কলেজ সরকারি করার পর, সেখানকার শিক্ষকরা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আসা সদস্যরা এর বিরুদ্ধে। তবে বেসরকারি শিক্ষকদের মতে, এটা হীনমন্যতা।

বাংলাদেশে ২৮৩টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি (জাতীয়করণ) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গত এপ্রিল মাসে। এর আগেও ধাপে ধাপে কিছু বেসরকারি কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। এত বেশি সংখ্যক কলেজ একসঙ্গে সরকারি করার সিদ্ধান্ত এই প্রথম। এছাড়া এ পর্যন্ত ৫৩টি কলেজ সরকারি করার চূড়ান্ত আদেশ জারি হয়েছে।

সেখানকার শিক্ষকরাও ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোর ব্যাপারেও আদেশ জারি হবে। আর এতেই আপত্তি সরকারি কলেজে কর্মরত বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের। তাদের কথা, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি করা হোক। সুযোগ-সুবিধা দেয়া হোক। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তবে তারা বিসিএস পরীক্ষা না দিয়েই বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হবেন, এটা আমরা মানতে পারি না।’

দেশে বর্তমানে ১৫ হাজারের বেশি ক্যাডারভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এবং দু’হাজার এর আগে বিভিন্ন সময় জাতীয়করণকৃত কলেজের আত্মীকৃত শিক্ষক।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, সরকার এবার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মোট ২৮৩টি কলেজ জাতীয়করণ করছে। এতে করে ১৫-১৬ হাজার বেসরকারি শিক্ষক সরকারি হবেন। তাদের যদি ক্যাডারভুক্ত করা হয়, তাহলে আমরা যারা প্রকৃতই বিসিএস ক্যাডার, তারা কোণঠাসা হয়ে পড়বো, মাইনরিটি হয়ে পড়বো।

আমাদের পদ, পদোন্নতি, সিনিয়রিটি এ সব বিষয় নিয়ে আমরা জটিলতায় পড়বো। এই জটিলতায় মামলা-পাল্টা মামলা হবে। এটা ন্যায়নীতি বিরোধী। কারণ আমরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হয়েছি।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন যেসব কলেজ সরকারি হবে তার শিক্ষকরা ঐ কলেজেই থাকবেন। বদলি হবেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই কথাতেই ইঙ্গিত আছে যে, তারা বিসিএস ক্যাডার হবেন না। ক্যাডার হলে তো বদলির বিষয় থাকত। তাছাড়া ২০১০ সালের শিক্ষা নীতিতেও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সিনিয়রিটি ও তাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে।’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এ মাসে দু’দিন ( ২৬ ও ২৭ নভেম্বর) কর্মবিরতি পালন করেছি। ডিসেম্বর মাস যেহেতু বিজয়ের মাস, তাই ঐ মাসে কোনো কর্মসূচি দেইনি। জানুয়ারি মাসের ৬, ৭ ও ৮ তারিখে ফের কর্মবিরতিতে যাব। তাতেও যদি আমাদের দাবি আদায় না হয়, তাহলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দেবো।’

তার কথায়, ‘কলেজ জাতীয়করণ হোক তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের বেতন-ভাতাসহ আমাদের মতো অন্যান্য সুবিধা দিলেও আপত্তি নেই। আমাদের দাবি, ঐ সব শিক্ষককে নন-ক্যাডার মর্যাদায় রাখতে হবে। তাদের বদলি করা যাবে না এবং পদোন্নতির পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য আলাদা একটি বিধিমালা জারি করতে হবে।’

অন্যদিকে জাতীয়করণের আওতাভুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাদের ক্যাডারভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কলেজ জাতীয়করণের আদেশ ২০০০-এ এ কথা উল্লেখ আছে। তাই তারা মনে করেন, বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে না এলেও বিসিএস ক্যাডারদের চেয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কম নয়।

জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে মাত্র তিনটি কলেজ সরকারি ছিল। ১৯৭৮ সাল থেকে কলেজ জাতীয়করণ হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০০টি কলেজ সরকারি হয়েছে। ঐ সব কলেজের শিক্ষকরা ক্যাডার হিসেবেই নিয়োগ পেয়ে আসছেন। তবে এখন এটা নিয়ে কথা উঠছে কেন? যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারি কলেজ স্থাপনের বিরোধী, তারাই এখন এ সব কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘২০০০ বিধি অনুযায়ী, যেসব বেসরকারি কলেজ সরকারি কলেজ হিসেবে আত্মীকৃত হবে, সেসব কলেজের শিক্ষকরাও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে আত্মীকৃত হবে। সরকারের এবারের সিদ্ধান্তে বিসিএস শিক্ষায় নতুন ১৫ হাজার পদ সৃষ্টি হবে। কিন্তু এদের এই বিরোধিতার কারণে নতুন পদ সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই ১৫ হাজার শিক্ষকের বড় একটি অংশ ৫-৬ বছরের মধ্যে অবসরে চলে যাবেন। তখন নতুনদের জন্য বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা সরকারি কলেজের শিক্ষক হলে তাদের নন ক্যাডার করার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের অধিকার সংরক্ষণের কথা। তাদের কোনো অধিকার কেটে তো আমাদের দেয়া হবে না। আমাদের যা দেবে সরকার দেবে, রাষ্ট্র দেবে। তাতে তাদের আপত্তির কোনো কারণ থাকতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের যদি নন ক্যাডার করা হয় তাহলে তা হবে বৈষম্যমূলক।একই কলেজে একই সিলেবাসে পড়াবেন আর দু’জন শিক্ষকের মর্যাদার বৈষম্য হবে, এটা তো হয় না।’

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান এ নিয়ে ডয়চে ভেলের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’

এদিকে এই সঙ্কট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো দেয়নি। তবে গত রবিবার এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

প্রসঙ্গত, এখন সরকারি কলেজ ৩১৫টি। আর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরো ২৮৩টি কলেজ সরকারি হলে মোট সরকারি কলেজ হবে ৫৯৮টি।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১০ জনকে বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টোর কিপার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১০ জনকে বহিস্কার ও সাজা দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের “স্টোর কীপার ( গ্রেড-১৪) এর ৪২ টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ১ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকার ১৫টি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ। পরীক্ষায় মোট ৩১৯৪১ জন আবেদনকারির মধ্যে ১৫৫৬৫ জন অংশ নেয়।

বিভাগীয় নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সভাপতি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ উইং এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হাসেম জানান, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৫টি কেন্দ্রের ১০ জনকে বহিস্কার ও সাজা দেয়া হয়। এদের মধ্যে ৬জনকে অসদাচরণের জন্য পরীক্ষা চলাকালিন পরিদর্শক তাৎক্ষনিক বহিস্কার করেন। এদেরকে পুলিশ হেফাজতে রেখে পরীক্ষার পর ছেড়ে দেয়া হয়। অপর ৪ জনের মধ্যে ৩জনকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজসহ এবং ১ জনকে বদলী পরীক্ষার্থী হিসেবে হাতেনাতে ধরে পরীক্ষা চলাকালে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরীক্ষা শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড দেন। এই ৪ জন হচ্ছে; ঝিনাইদহ জেলার রমেশ রায়ের ছেলে রাজকুমার, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে মো. শৈকত হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরের নজরুল ইসলামের ছেলে ওমর ফারুক এবং নওগাঁ জেলার মান্দা এলাকার যুগল কুমার।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

জকিগঞ্জের শিক্ষা কর্মকর্তাকে রাঙামাটিতে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক,জকিগঞ্জ: দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিয়াকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২৭ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক বাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে রাঙামাটির রাজস্থলি উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়।

তবে এ বিষয়ে জানাতে শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গত অক্টোবর মাসে সিলেটের জকিগঞ্জের খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ স্কুল শিক্ষিকা দীপ্তি রানীর ঘুমন্ত ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে।

এদিকে ওই শিক্ষিকার স্বামী সুবিনয় মল্লিক জানান, ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছিলো। এজন্যই তাকে বদলি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে, ক্লাসে ঘুমিয়ে থাকার অভিযোগে সিলেটের জকিগঞ্জের খলাছড়া স্কুলের শিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাসকে শোকজ করেছিল উপজেলা শিক্ষা অফিস। জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিয়া ওই শোকজের চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মডেল টেস্টের দায়িত্ব পালনের সময় স্কুলশিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাস টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ক্লাস পরিদর্শনে যান স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ। তখন তার সঙ্গে থাকা লোকজন চেয়ারম্যানের মোবাইলে ছবি তোলেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। যা ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে দীপ্তি বিশ্বাস অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেন তার স্বামী সুবিনয় মল্লিক।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, মির্জা ফখরুলের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং আইন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বেপরোয়া আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকার যেন তার বিভিন্ন এজেন্সি দিয়ে বিরোধী দল ও মতের মানুষের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ওঁত পেতে আছে-তারা কে কখন কোথায় কী বলছে সেটি জানার জন্য।

তিনি আরো বলেন, ‘এই মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ড. আসিফ নজরুলকে হয়রানির মাধ্যমে বিপর্যস্ত করার কৌশল অবলম্বন করেছে-তার শাণিত লেখনী ও কথা বলাকে স্তব্ধ করার জন্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের আচরণে মনে হয়-যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারা সবাই অপরাধী। দেশে দেশে একদলীয় শাসনের বৈশিষ্ট্য এরকমই। সরকারের নানামুখী উৎপীড়নের মূল টার্গেট হচ্ছে জনগণ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের জাগরণ যেন না ঘটে সেজন্য জনগণকে পরাধীন করে রাখার জন্যই একের পর এক কালো আইন প্রনয়ণ করে চলেছে সরকার। আর এরই ধারাবাহিকতায় এই সময়ের রাজনীতির সাহসী ভাষ্যকার ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাসহ আরো কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ক্ষয়িষ্ণু সরকার দেশ পরিচালনার ভারসাম্য স্থির রাখতে না পেরে বিবেকশূন্য হয়ে কাজ করতে গিয়ে আরো বেশি হিংসা পরায়ণ রুপ ধারণ করে। ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের সরকারের সেই হিংসা পরায়ণ রুপরই বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষকে নির্যাতন করলে নির্যাতিত মানুষের প্রতি আরো মানুষের সহানুভূতি মিশ্রিত হয়ে এক অভূতপূর্ব দৃঢ় বন্ধনের সৃষ্টি হয়। মামলা দিয়ে আসিফ নজরুলের প্রতি গণতন্ত্রহারা দেশবাসী আরো বেশি জোরালো সমর্থন যোগাচ্ছে। সুতরাং মামলাসহ জুলুম-নির্যাতনের ভয় দেখানো হলেও নির্ভীক ড. আসিফ নজরুলকে তার সত্য উচ্চারণ থেকে সরকার কখনোই নিবৃত্ত করতে সক্ষম হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একদলীয় শাসনের ছাঁইপাশের সঙ্গে বন্য বর্বরতার নানা উপসর্গ যুক্ত হয়ে সরকার যখন অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে তখনই কান্ডজ্ঞানহীন উন্মত্ত আচরণ করতে শুরু করে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।’

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

বিসিএস শিক্ষক দ্বন্দ্বে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ নভেম্বর: বিসিএস শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে দুইদিন ধরে অচল দেশের সরকারি কলেজগুলো। কর্মবিরতির দ্বিতীয়দিন সোমবার কলেজগুলোতে কোনো ক্লাস হয়নি। জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারির দাবিতে রোববার থেকে দুইদিনের এ কর্মবিরতি শুরু করেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। ‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’ এই শ্লোগান নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান থেকে শুরু করে সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখেছেন তারা।

টানা দুদিন শিক্ষক আন্দোলনে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের আন্দোলনে বাতিল হয়েছে তৃতীয় বর্ষের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। শুধু তাই নয়, আন্দোলনে বন্ধ দেশের সাড়ে ৩০০ কলেজের পরীক্ষা, পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সজনী ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। আন্দোলনে দুইদিন কলেজে এসে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচদিন থাকে পরীক্ষা, আর দুইদিন কলেজে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও স্যার-ম্যাডামদের অফিসিয়াল মিটিং, প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ক্লাসে আসতে পারেন না। তার ওপর শিক্ষকদের আন্দোলন এমন করে ক্লাস বন্ধ বিপদে পড়তে হয়। অনেকেই পড়ালেখা থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার জানান, আমাদের একটাই দাবি বিসিএস ছাড়া বিসিএস ক্যাডার নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারি করতে হবে। আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি আবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা রয়েছে। এর আগে সরকার থেকে সিদ্ধান্ত এলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি এ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াবে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন চলবে, তবে আমরা শিক্ষার্থীদের পুষিয়ে দেব। প্রয়োজনে বাড়তি ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের সঙ্গে জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের ‘ক্যাডার’ মর্যাদা দেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বিসিএস দিয়ে যারা একটি পদের জন্য মনোনীত হয়, আর ভিন্ন একটি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে প্রবেশ করে উভয় একই যৌগ্যতাসম্পন্ন নয়।

তিনি বলেন, জাতীয়করণ ও বিসিএস শিক্ষকদের একই কাঠামোয় গণ্য না করে পৃথক রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে মন্ত্রণালয়কে। শিক্ষকদেরও দাবি আদায়ে একেবারে মাঠে নেমে আন্দোলন সংগ্রাম না করে সুশৃঙ্খলভাবে দাবির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

এ শিক্ষাবিদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদত হুসাইন। তিনি বলেন, ক্যাডার সার্ভিসে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়, যে বাছাই প্রক্রিয়া-পরীক্ষা, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় যোগ্য প্রার্থী। আরেকজনকে এসব প্রক্রিয়া ছাড়াই সমকক্ষে প্রবেশ করানো যৌক্তিক হবে না।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে বিধি দ্বারা (২০০০ সালে) ক্যাডার মর্যাদা দিয়েছে- এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কলেজ জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত সরকারের মহৎ উদ্যোগ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দায়িত্বশীলদের বিচক্ষণতার অভাবে এতদিনে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের বীজবপন করা হয়েছে। এতে জাতীয়করণকৃত শিক্ষক আর বিসিএস শিক্ষকদের মধ্যে আজীবন দ্বন্দ্ব থাকবে।

তিনি বলেন, যারা বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে প্রবেশ করবেন তারা জাতীয়করণকৃত কলেজে অন্যদের রোষানলে পড়বেন। সবসময় উভয় শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিবাচক প্রভাব পড়বে। যা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ওপর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি এডুকেশন ক্যাডারে প্রবেশের আগ্রহ থাকবে না চাকরিপ্রার্থীদের।

উল্লেখ্য, নতুন জাতীয়করণসহ বর্তমানে দেশের সরকারি কলেজ রয়েছে ৩৩৫টি। এর মধ্যে পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা ক্যাডার সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজার। ২৮৩টি কলেজ জাতীয়করণ হলেও সেগুলোর প্রায় ৭-৮ হাজার শিক্ষক আত্তীকৃত হবেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা কেন ৩০ বছরের বেশি নয়: যুবলীগ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা কেন ৩০ বছরের বেশি নয়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার সাবেক মেয়র হানিফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান এই প্রশ্ন করেন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি কেন নয়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আপনাকে বলতে হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আপনি বলেছেন সরকারি চাকরির বসসীমা ৩০ বছরের বেশি করা যাবে না। আপনাকে বলতে হবে, কেন এ দেশের যুব সমাজ দেশের সম্পদ না হয়ে, দেশের বোঝা হয়ে যাচ্ছে। আমরা জানতে চাই।’

আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘কল্পনা শক্তি ভালো, কিন্তু সে কল্পনার পথ অনেক সময় মানুষকে ভুল স্থানে পৌঁছে দেয়। এ দেশে ২৭-২৮ বছরের আগে শিক্ষা জীবন শেষ হয় না। এরপর চাকরিতে আবেদন করতে করতেই সময় চলে যায়,তাদের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ কই। এ দেশের যুবসমাজ চাকরি চায় না। মেধা প্রমাণের সুযোগ চায়।’

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নত বিশ্বে নানাভাবে প্রশংসা পাচ্ছে অথচ উন্নত দেশগুলোর চাকরির প্রক্রিয়ার দিকে তাকানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা নেই। আবার কোনো কোনো দেশে চল্লিশ,পঞ্চাশ, ষাট। পাশের দেশ ভারতেই এই প্রক্রিয়া ভিন্ন। এখানে এই প্রক্রিয়া নয় কেন?’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্বে করেন মেয়র সাঈদ খোকন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন,খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে

ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেছেন, একটি ইউনিক এফরোস নিয়ে আইসিটি বিভাগ কাজ করছে। সেটা হচ্ছে প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপ। এর মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে তারা যাতে আউটসোর্সিং করতে পারে সেজন্য তাদেরকে আমরা তৈরি করতে চাই। সে জন্য আমাদের কাজ চলছে। সারা বাংলাদেশে আমরা ২৮টি আইটি পার্ট নির্মাণের কাজ করছি এবং সেখানে আগামী ৩ বছরে ৩ লক্ষ জনকে ট্রেনিং দেব। যার মধ্যে দিয়ে ২০২১ সাল নাগাধ ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান আইটি সেক্টরে আমরা নিশ্চিত করবো। ইতোমধ্যে ৫ লক্ষ তরুণ-তরুণী ফ্রিলান্সিংয়ে কাজ করছে। আমাদের বেসিসের যে কোম্পানিগুলো আছে সেখানে আরো ৩ লক্ষ তরুণ-তরুণী কাজ করছে। প্রায় ১০ হাজার ই-কমার্স উদ্যোক্তা কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর ডিজিটাল ওয়াল্ড ২০১৭’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, আমাদের দেশে কর্মসংস্থান একটা বড় ইস্যু। ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রায় ৭০ ভাগ তরুণ। বিপুল পরিমান শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আমি অনেক সময় দেখি, সবাই সরকারি চাকরি কিংবা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির জন্য ঘুরে। তারা শুধু চাকরির পেছনে ঘুরলে আমরা এ কোটি-কোটি তরুণের চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবো না। আমরা চাই আমাদের তরুণরা শুধু চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দেবে। তারা জব ক্রিয়েটর হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। ২০০৮ সালে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৮ লাখেরও কম ছিল। মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এখন ৮ কোটি ছাড়িয়েছে। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি ছাড়িয়েছে। ব্রডব্যান্ড কানেকশন ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছি। আমরা আইটিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। যে ২৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে আমরা ২০০৮ সালে শুরু করেছিলাম সেটা এখন বেড়ে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যে বিলিয়ন ডলার অতিক্রম এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করা।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ নভেম্বর ২০১৭: প্রাথমিক শিক্ষাকে একমূখী , বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত

শিক্ষা নিশ্চিকরণের লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাছিনা বিগত ০৯ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিঃ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে ঐতিহাসিক ঘোষনার মাধ্যমে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনয়নের ফলে ০১/০১/২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে তা কার্যকর।

সদ্য জাতীয়করণকৃত ( রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলনা। শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক ) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

১৪-৭ -২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ (অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (সদ্য জাতীয়করণকৃত) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০২/০৫/২০১০ তারিখের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮জি- ১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০,২০১১,২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ ( সদ্য জাতীয়করণকৃত ) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে ৫৫০০ -১২০৯৫/- এমপিও ভুক্তকরণ করে কার্যকরের তারিখ উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকগণকে পত্র প্রদান করেছিলেন।

তাছাড়া জাতীয়করনকৃত বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে সরাসরি কোন প্রধান শিক্ষক নেই। কারন সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ নিতে হলে মাষ্টার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। যা বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকের নেই।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও বাস্তবায়ন বিভাগের ১/১২/১৯৮৪ তারিখের স্মারকের অনুচ্ছেদ -৩ ও ২২/৩/১৯৯৫ অনুযায়ী সরকারি চাকুরি জীবিগণের টাইমস্কেল সুবিধা প্রাপ্তির বিধি অনুযায়ী ৩য় শ্রেণিভূক্ত কর্মচারি ( শিক্ষক ) গণ একই পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ০৮ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সুসম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১ম টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন। একই নিয়মে ১২ ও ১৫ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে ২য় ও ৩য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তেমনি ভাবে একজন ২য় শ্রেণিভূক্ত কর্মকর্তা (প্রধান শিক্ষক) একই পদে অথবা সম পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এক নাগাড়ে ৪ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পর সিলেকশান গ্রেড প্রাপ্য হবেন। ঠিক একই নিয়মে ৮ ও ১২ বছর চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে তিনি ১ম ও ২য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

সরকারি কর্মচারি, কর্মকর্তাবৃন্দের বেতন নির্ধারন সম্পর্কিত নির্দশনা যে কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ০১-১২-১৯৮৪ তারিখেরর স্মারকের গ এর নির্দেশনা মোতাবেক টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে একাধিক পদে চাকুরির ক্ষেত্রে পদ গুলী পরস্পর বদলীযোগ্য এবং একই স্কেলভূক্ত হলে তবেই সকল পদের চাকুরির দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ( চাকুরির সমষ্টি গণনা) টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া টাইমস্কেল প্রাপ্তির বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই।

Read More »

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

কর্মবিরতিতে সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয়করণ করা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা।

সম্প্রতি সরকারিকরণ করা উপজেলা পর্যায়ের ২৮৫টি কলেজের শিক্ষকেরা যাতে ক্যাডার মর্যাদা না পান সেই দাবিতে রোববার তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। আগামীকাল সোমবারও কর্মবিরতি পালন করবেন তারা।

আন্দোলনরত এসব শিক্ষকের দাবি, ‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’। জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ও চাকরির অন্যান্য শর্তসহ স্বতন্ত্র বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। তারা যেন বর্তমানে ও ভবিষ্যতে কোনোভাবেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের অনুরূপ জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, পদায়নসহ কোনো সুযোগ-সুবিধার অন্তর্ভুক্ত না হতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যতীত কাউকে শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না।

সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান, পার্ট-৩) বিশেষ ও স্নাতক কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সোমবার স্নাতক পরীক্ষা রয়েছে। একই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত সাতটি কলেজেও আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাননি এই রকম শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা দেওয়া হলে, তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ২৪ নভেম্বর এই কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। নিয়োগ বিধিমালা না করে নতুন করে কলেজ জাতীয়করণ করা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে যাবারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া অবিলম্বে তাদের দাবি মানা না হলে আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি একইভাবে কর্মবিরতি পালন করবেন ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকেরা। ওই সময়ও পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের অস্থিরতা ও সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে এভাবে আন্দোলন ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়তে হবে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থীকে। এ ছাড়া এ সময় অন্যান্য শ্রেণির ক্লাসও বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আইকে সেলিমুল্লাহ খন্দকার বলেন, জাতীয়করণ করা কলেজ শিক্ষকদের কাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের ক্ষতি করে কিছুতেই তাদের ক্যাডারভুক্ত করার সিদ্ধান্ত মেনে নেব না। সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয়করণের ঘোষণা করার সময়েই প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, শিক্ষকেরা বদলি হতে পারবেন না। কারণ বদলি না হতে পারা হচ্ছে নন-ক্যাডার কর্মকর্তার বৈশিষ্ট্য। ক্যাডার কর্মকর্তারা বদলি হতে পারেন। তবু বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ২৮৫টি বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরনের ঘোষণা দিয়েছেন। অধিকাংশের ‘ডিড অফ গিফট’ শেষ হয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি কলেজ রয়েছে ৩৩৫টি। এর মধ্যে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা ক্যাডার সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজার। ২৮৫টি কলেজের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক আত্তীকৃত হওয়ার কথা রয়েছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তথ্য নেবে সরকার

রঞ্জিত ভট্রা:  বাংলাদেশে বর্তমানে শতাধিক ইংলিশ মিডিয়াম তথা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। এর তালিকা শিক্ষা অধিদফতরে থাকলেও অন্য কোনও তথ্য নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তারা এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কারা কিভাবে চালাচ্ছে সেই তথ্য সংগ্রহ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এ প্রসঙ্গে মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের কাছে শতাধিক স্কুলের তালিকা রয়েছে। প্রয়োজনে অন্য তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অনুমোদন দিয়ে থাকে শিক্ষা বোর্ড। এরপর অনুমোদিত স্কুলের তথ্য পাঠানো হয় মাউশির কাছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০০টির বেশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর নতুন স্কুল অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নিবন্ধন নিতে চলতি বছরের জুলাই মাসে বিধিমালা জারি করা হয়। এসব কারণে নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল খোলার জন্য অনেক ব্যক্তি বা সংস্থা অনুমোদন পেতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, লেকহেড স্কুল বন্ধের পর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর তথ্য থাকা জরুরি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। বিচ্ছিন্নভাবে তথ্য থাকায় জটিলতাও দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন এর কর্মকর্তারা।

এতদিন শিক্ষা বোর্ড, মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের কাছে গুরুত্ব পায়নি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। তবে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কারণে বদলে গেছে চিত্রটা। এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয় ও মাউশি।

লেকহেড স্কুল বন্ধের পর গত ১৪ নভেম্বর শিক্ষা অধিদফতরে ৩৫টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন মাউশি মহাপরিচালক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। বৈঠকে তিনি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ওপর নজরদারির নির্দেশ দেন মহাপরিচালককে। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এছাড়া ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ছাড়া ছাত্রছাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাউশি সূত্র জানিয়েছে, হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ স্কুলের নিজস্ব কোনও বাস নেই। অথচ রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের অনেকদূর থেকেও স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এক্ষেত্রে দুর্ভোগ পড়ে তারা। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব স্কুল বাস চালুর নির্দেশ দিতে ওই বৈঠকে বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

এ বছর ইংরেজি মাধ্যমের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭ জারি করে সরকার। বিধিমালা অনুযায়ী, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করতে হলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। দুই ধাপে স্কুলের অনুমোদন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রথমে দুই বছরের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন নিতে হবে। সন্তোষ জনক ভাবে স্কুল পরিচালিত হলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ফরমে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নবায়নে তিন বছরের অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রতি তিন বছর পর পর অনুমোদন নবায়ন করতে হবে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter