নিউজ

গাছে বাঁধা এক কিশোরীর ছবি,নজরে পড়ল নজরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক,২০ এপ্রিল ২০১৯:

গাছে বাঁধা এক কিশোরীর ছবি ঘুরছে ফেসবুকে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করার এই চিত্রটি দেখে নিন্দার ঝড় তুলছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। বিষয়টি নজরে পড়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানতে চেয়েছেন, কিশোরীর নির্যাতনকারীর পরিচয়।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাহেরা বেগম জলি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই কিশোরীর ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘হে সভ্যতা শিহরিত হও’।

তাহেরা বেগম জলি আরও লেখেন, ‘গত ১০০ দিনে আমাদের দেশে ৩৯৬ জন নারী শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই খবরগুলো প্রকাশ্যে এসেছে। দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ লোচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। ইট-পাথরের কারাগারে তারপরও পরম সুখে আছি আমরা।’

এরপরই ছবিটি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। একপর্যায়ে শেয়ার পোস্টটি চোখে পড়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের। তিনি নির্যাতকারীর পরিচয় জানতে চেয়ে তার ফেসবুকে লেখেন,  ‘কোনো সভ্য সমাজে কি এমনটি ঘটতে পারে? একটি কিশোরীকে এভাবে অত্যাচার করার জন্য বেঁধে রাখাটাই কি কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে? অনুগ্রহ করে খুঁজে বের করুন—অপরাধী কে। লামায় কি কেউ নেই?’

ইমতিয়াজ কানন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওয়াল থেকে ছবিটি শেয়ার করেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান, উপজেলার ফাইচং এলাকায় গত বছর একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর একটি দল অপর দলের লোকজনকে পুনরায় মারপিটের জন্য এসে ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

গতবছরের ছবি নতুন করে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ফেসবুকে কারও ওয়াল থেকে হয়তো মেমোরিতে আসে ছবিটি। পরে তিনি হয়তো আবার শেয়ার দেন। লামায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান করা হবে। অপরাধীরা ছাড় পাবেন না বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ

শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে গণমাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহীরা আবেদন করুন।

শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র অনলাইন জাতীয় পত্রিকা দৈনিকশিক্ষাবার্তা  http://shikkhabarta.com সাংবাদিকতায় আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে। যারা শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিখতে, বলতে ও পড়তে পারেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ্যাকটিভ শুধু তাদেরকেই খুঁজছে দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্রিকা।

এর জন্য ঢাকা সহ প্রতিটি জেলায় জেলা প্রতিনিধি ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি আবশ্যক । শিক্ষাগত যোগ্যতা নুন্যতম স্নাতক। শিক্ষকদের অগ্রাধিকার।

আবেদন পাঠানোর ইমেইল: info@shikkhabarta.com, shikkhabarta@gmail.com

যোগাযোগ : বরাবর, নির্বাহী সম্পাদক. “দৈনিক শিক্ষাবার্তা” ।
মোবাইলঃ ০১৫৫৭৬৩১০৯৭,০১৯২৮১২৩৫৪৬

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৭/৪/২০১৯

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

শীর্ষ কাগজডেস্কঃ  পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ১১ এপ্রিল দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন নুসরাত জাহান রাফি। এই একটি মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়ে গেছে পুরো দেশকে। যে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা সেখানে গিয়েই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নুসরাতকে।

নিচে স্ট্যাটাসটি হুবুহু উপস্থাপন করা হলো

আবার এসেছিল বৈশাখ, পাড়া প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে দেখছি আনন্দের বন্যা। আর আমাদের ছোট্টঘর নিকোষ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। অথচ গত বছরের এই সময় আমাদের এই সংসারে কতইনা আনন্দ ছিল। আজ আপুমণিকে হারিয়ে সকল উৎসব অশ্রুজলে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ঘাতকের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো আমাদের সোনালী সংসার।

কখনোও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের পোষাকধারী কিছু অসভ্য জন্তু-জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে কলিজার টুকরা আপুকে কখনোও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না। মানুষ কতটা নির্দয়-নির্মম হলে একজন মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে! কী অপরাধ ছিলো আমার আপুর ?

একজন লম্পটের যৌন নিপীড়ন রুখে দিতে প্রতিবাদী হয়েছিলো আমার আপু। সেই প্রতিবাদের মৃত্যু হয়েছে ১০৮ ঘন্টা বার্ণ ইউনিটে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) আপুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বাবা-মায়ের পর শিক্ষকরাই আমাদের বড় অভিভাবক। আর সেই অভিভাবক যখন একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, তখন মনে হয় এই সমাজ আর ভালো নেই। আবার লম্পটকে বাঁচানোর জন্য তার পক্ষে নিয়েছিল কিছু রাজনীতিবিদ ও মানুষরুপী লম্পট। লম্পটের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম ওসি সাহেবের কাছে। তিনি আমার আপুকে নিরাপত্তা না দিয়ে মানুষিক নির্যাতন করে ভিডিও করলেন। ওসি সাহেব যদি সচেতন হয়ে বিষয়টি তদন্ত করতেন কিংবা আমার আপুর নিরাপত্তা জোরদার করতেন, তাহলে আমার আপুকে পরপারে পাড়ি দিতে হতো না।

মনে পড়ছে আপুমণির আইসিউতে বলা শেষ কথাগুলো ‘রায়হান, আম্মা-আব্বার দিকে খেয়াল রাখিস। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করিস। আমাকে যারা পুড়িয়ে দিলো তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার আপুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লম্পটদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপুকে দেশের বাহিরে পাঠানোর জন্য ডাক্তারগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডাক্তারগণ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আপুকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকে তিনি একজন মমতাময়ী মায়ের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তার কাছে বলেছি, আমার আপুর হত্যাকারীদের যেন দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়। তিনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন, বিচারে কোন দুর্বলতা রাখা হবেনা। আসামীদের রেহাই দেয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিচার-প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে বলতে চাই, এই সকল জানোয়ারদের কঠিন শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন কোন ভাইয়ের বুক থেকে তার বোনকে কেড়ে নিতে না পারে।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় যখন বাড়ী ফিরে দেখি আপুর রুমটা খালি পড়ে আছে। যেই টেবিলে বসে পড়ালেখা করতো সেখানে বই খাতাগুলো ঠিকই আছে। আছে আপুর ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো। নেই শুধু আমার কলিজার টুকরা আপুটি। বিশ্বাস করুণ, একবুক চাঁপা কষ্ট, বেদনায় আমার ছোট্ট হৃদয়টি দুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়ে যায় আপুর কথা। ঘুমের ঘরে জেগে উঠি আপুর শেষ দিনগুলির নির্মম কষ্টের কথা স্বপ্নে দেখে। শেষ রাতে চোখে একফোঁটা ঘুম আসেনা আপুর কথা ভেবে।

 

আমাদের পরিবারের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ছিলো আপু। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সাথে তার ছিলো আন্তরিকতাপূর্ণ ভালোবাসার সম্পর্ক। শান্ত মেজাজের অধিকারী হওয়ায় পরিবারের সকল সমস্যা অত্যন্ত ধীরচিত্তে সমাধান করতো। আমাদের সাথে দূরের কথা পাড়া-প্রতিবেশীর কারও সাথে কোনদিন ঝগড়া-বিবাদে নিজেকে জড়ায়নি। আব্বুর অনেক আস্থাভাজন হওয়ার কারণে, আব্বু কোন দিন তার প্রিয় সন্তানের কোন চাহিদা অপূর্ণ রাখেননি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তার কোরআন তেলোয়াতের মধুর সুর এখনও আমার কানে বাজে।

 

বাড়ির সকল কাজে আম্মুকে সহযোগিতা করতো। আম্মু আমাদের নিয়ে টেনশন করলে, আপু অভয় দিয়ে বলতো আমরা এমন কোন কাজ করবো না যাতে আপনাদের সম্মান হানি হয়। বরং আমরা ৩ ভাইবোন পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে আপনাদের মুখ উজ্জল করবো। সেই উজ্জলতার প্রতিচ্ছবি ছিলো আমাদের সংসার। আপুর মতো ক্ষণজন্ম বোন আমাদের ছোট ঘরকে সবসময় আলোকিত করে রাখতো। যা আজ নিভে গিয়ে একমুঠো ছায়ায় পরিণত হয়েছে।

 

আজ সারাদেশে এমন কি দেশের বাহিরেও আমার আপুর হত্যাকান্ড মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে, তাতে আমার মনে পড়ে যাচ্ছে কবির বলে যাওয়া কথা…‘এমন জীবন করিবে গঠন / মরণে হাসিবে তুমি/ কাঁদিবে ভুবন’

 

আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আমার আপুকে যেন তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আর খুনিদের দুনিয়া ও আখেরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। (আমীন)

রায়হান

হতভাগা নুসরাতে ছোট ভাই

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র গ্রেপ্তার

শেকৃবি : মার্কস মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাধন মাতব্বর (২৩) নামের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে বাধনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেকৃবি’র অ্যাগ্রি বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন বাধন। এ সময় ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই ধারণকরা দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন।

 

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সী জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) ধারা ৭/৯ (১), তৎসহ প্যানাল কোড-৩৮৫/ ৫০৬ মামলার আসামি বাধন মাতব্বর।

 

ওসি বলেন, ‘আমরা ধর্ষণের অভিযোগে বাধনকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তাকে আমরা কোর্টে চালান করে দিয়েছি।’

 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে অবহিত করেছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করব।’

 

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বাধন মাতব্বর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে সময় কাটিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শবে বরাত উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিআএদক,১৮ এপ্রিল: শবে বরাত উদযাপন উপলক্ষ্যে পূর্ব ঘোষিত ২১ এপ্রিল ছুটির পরিবর্তে ২২ এপ্রিল সোমবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আগামী ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। অন্যদিকে ২২ এপ্রিল সোমবার ছুটি পড়ে শবে বরাতের। তবে শবে বরাতের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় ফের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয় চাঁদ দেখা কমিটি। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো টানা ২ দিন ছুটি পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাড়ির কাজ না করায় শিক্ষক পেটালেন ছাত্রকে। বরখাস্ত শিক্ষক

ডেস্ক,১৭ এপ্রিল:   নারায়ণগঞ্জে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বাড়ির কাজ করে না আনায় এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করায় এক শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল আলমকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

চেইঞ্জেস স্কুলের চাঁদমারি ক্যাম্পাসে গতকাল মঙ্গলবার আইসিটি বিষয়ে হোমওয়ার্ক করে না আনায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সৈকত কুমার পালকে বেত্রাঘাত করে আহত করেন শিক্ষক নাজমুল আলম। ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে নগরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা সুরিথ কুমার পাল বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ আজ তিনজন পরিচালক, অভিভাবক ও শিক্ষকদের যৌথ সিদ্ধান্তে আইসিটি শিক্ষক নাজমুল আলমকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে প্রধান শিক্ষক পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ এপ্রিল: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের চৌধুরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে মোজাম্মিল হোসেন নামে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর বাবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন খন্দকারের কাছেও দেওয়া হয়েছে। Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শবে বরাতের তারিখ ঘোষনা

ডেস্ক,১৬এপ্রিলঃ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিলই পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিজ দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। শাবান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্য কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেন তিনি।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৫তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ১৯ এ্রপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ এপ্রিল:

আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ১৫তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা।
ওই দিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টায় স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২৬ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২-এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দিন ২৭ জুলাই কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই লিখিত পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত চলবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫!

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ এপ্রিল : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ ও অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ করতে সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনা হচ্ছে। দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ এ দাবী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এটা তাদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। চাকরিতে বয়সসীমা বাড়াতে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ঢাকা-৮ আসনের এমপি রাশেদ খান মেনন এ প্রস্তাব আনবেন।

তথ্যমতে, প্রস্তাবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর করার প্রস্তাব করবেন রাশেদ খান মেনন। ইতোমধ্যে সংসদের আইন শাখা-২ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি জমা দিয়েছেন। সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি গ্রহীত হলে এ বিষয়ে সরকারের কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাত্রীদের ফোন করে ‘কুপ্রস্তাব’

ডেস্ক,১৫ এপ্রিল: নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানে  ছাত্রীদের  ফোন করে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানি, ভোগান্তি, হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ওই স্কুলের ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১১ জন অভিভাবক গত ১১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে অপসারণ ও তার কঠোর শাস্তির দাবিও করেছেন তারা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের গণিত বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রহমান রাতে ছাত্রীদের ফোন করে কুপ্রস্তাব দেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেশি নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন তিনি। প্রাইভেট পড়ানোর সময় একাধিক ছাত্রীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করেন ওই শিক্ষক।

তিন পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকের নামে মোট ১২টি অভিযোগ উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ফেনির মাদ্রাসাছাত্রী ছাত্রী নুসরাতের মতো ঘটনা এখানেও ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে গতকাল শনিবার স্কুলে গিয়ে পাওয়া যায়নি। আর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে ওই শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার ঘটনা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় জাবিতে শোভাযাত্রা বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ এপ্রিল : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশিক্ষার্থী নুরুজ্জামান নিভৃত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় শোভাযাত্রা বাতিল করছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগ শনাক্ত করতে না পাড়ায় সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার রাস্তায় শনিবার রাত ১০টার দিকে ইংরেজি বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের এ শিক্ষার্থী মারা যান।

আজ বর্ষবণের বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও নুরুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের অনুষ্ঠানে গান-বাজনা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে কলা ও মানবিক অনুষদ বর্ষবরণর বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানান, বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে নুরুজ্জামান সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. তরিকুল ইসলাম তাকে গ্যাস্ট্রিকের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এতে ব্যথা না কমলে তাকে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে রাতে সোয়া নয়টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হরনাথ সরকার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট থেকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়।’।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে শহীদ মিনারের পাদদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে পাঁচ শিক্ষার্থী। পরে বেলা ১টায় একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন শেষে মৌন মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে যায় এবং সেখানে ৪ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হলো নিভৃতের মৃত্যুর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বাস্তবায়ন করতে হবে, রোগীকে বাইরের হাসপাতালে রেফার করলে প্রশাসনকে এর ব্যয়ভার বহন করতে হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসাকেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে দাবি তুলেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল, এম্বুলেন্সযোগে পাঠাতে দেরি না হলে আর এম্বুল্যান্সে লাইফ সেভিং উপকরণ থাকলে অন্যরকম হতে পারত সব! এই আমাদের নববর্ষ! শুভ নববর্ষ!’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি, ফেসবুকে বর্ণনা দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

চবি প্রতিনিধি: তখন বিকেল ৩টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন এক ছাত্রী। কিন্তু চলন্ত বাসে পথেই যৌন হয়রানির শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী। ওইদিন বাসের হেলপার ও চালকের ‘যৌন হয়রানি’ থেকে বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন তিনি।

পরে চলন্ত বাসে আক্রান্ত হওয়ার বিবরণ তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ওই ছাত্রী।সেখানে তিনি লিখেছেন, জিইসি মোড়ে আসার পর তার সঙ্গী এক সহপাঠী বাস থেকে নেমে যান। এর পর বাসটি রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছালে অন্য যাত্রীরাও নেমে যায়।

কাছেই নিউমার্কেট মোড়ে শেষ স্টপেজে বাসটির দাঁড়ানোর কথা ছিল। সেখানেই নামার কথা ছিল ওই ছাত্রীর। কিন্তু চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে বাস ঘুরিয়ে স্টেশন রোডের দিকে মোড় নেয়।

ওই ছাত্রী লিখেছেন, তিনি বাস থামাতে বললে চালকের সহকারী এগিয়ে আসে এবং তার ওড়না টেনে গলায় পেঁচিয়ে ধরে। তাতে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

‘চিৎকার করার মতো পরিস্থিতিও আমার ছিল না। ওই মুহূর্তে আমার কেমন লাগছিল, আমি তা বলে বোঝাতে পারব না।’

তিনি লিখেছেন, হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে তিনি সজোরে আঘাত করলে তা চালকের সহকারীর চোখে লাগে। তাতে সে ওড়না ছেড়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে তখন চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি। ‘এ সময় শুনতে পাই চালক চিৎকার করে বলছে- মেয়েটারে ধর শালা।’

পরে বাস থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখে এক রিকশাচালক ওই ছাত্রীকে তুলে নেন এবং তার বাসায় পৌঁছে দেন। ইংরেজিতে লেখা ওই পোস্টের শেষে ওই ছাত্রী বাংলায় লিখেছেন- ‘এই দেশে আর থাকব না ভাই।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এবার চিঠি লিখে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছাত্রীদের

নাটোর,১৩ এপ্রিল : নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী ওই বিভাগের এক শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে নাটোর প্রেসক্লাব ও বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ছাত্রীরা।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল জানেন?

ডেস্ক,১৩ এপ্রিল:

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল কারা? কারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিল? পরীক্ষা কেন্দ্র সংরক্ষিত এলাকা, সেখানে অপরিচিত কারও যাওয়া কি সম্ভব? এলাকাবাসীর মুখে মুখে এখন এসব প্রশ্ন। তাদের কথা পরিচিত বিধায় বোরকার ছদ্মবেশে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীরা। আর নিরাপদে তাদের মিশন শেষে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। এ সময় কেন্দ্রে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী কী করছিল? এসব বিষয় এলাকাবাসীকে যেমন ভাবিয়ে তুলেছে তেমন রহস্যেরও জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর কথা- যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রতিবাদ ও মামলা করায় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় নুসরাতের সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একই কথা।

 

স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার আগে পুরো বিষয়টি রেকি করা হয়েছে। আগ থেকে সতর্ক প্রস্তুতির কারণে এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে গেছে অপরাধীরা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ও জেলা পুলিশও বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘটনার মূল হোতাদের ধরতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরাধীদের পালিয়ে যেতে মাদ্রাসার ভেতরের কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সে বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দোলাহসহ আটজন ও আরো অজ্ঞাতনামা চার জনকে। এদের মধ্যে এজাহারভূক্ত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এখনো স্পষ্ট হয়নি নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছিল কারা? এমনকি দগ্ধ হবার পর নুসরাতের ডাইং ডিক্লারেশনে উল্লেখ করা আলোচিত শম্পা চরিত্রেরও কোন কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। কোন চার জন নুসরাতকে ডেকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গেছে এবং তারপর আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে তাদের নিয়ে জোর গুঞ্জণ আছে এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

অনেকে ধারণা করছেন এজাহারভূক্ত আসামিদের কয়েকজন নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যুক্ত রয়েছে। তবে রিমাণ্ডে আসামিরা কতটুকু কী বলেছে তাও ক্ষতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যান নুসরাত জাহান রাফি।

এসময় শুধু প্রবেশপত্র ও কলমসহ একটি ফাইল নিয়ে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় তাকে। তার ভাইকে কেন্দ্রের গেটে আটকে দেয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে কাগজপত্র নিয়ে নিজের আট নম্বর কক্ষে চলে যান নুসরাত। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাতটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দাখিল বিভাগের ক্লাস চলে মাদ্রাসাটিতে। সাড়ে নয়টার দিকে একদিকে আলীম পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরাও গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের ধারণা, এ সুযোগটি কাজে লাগায় সন্ত্রাসীরা। তারা বোরকার ছদ্মবেশ কাজে লাগিয়ে নিমিষেই মিশে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মিশনে অংশ নেয়া বোরকা, হাতমোজা ও চশমা পরা চারজনের কথা উল্লেখ করা আছে মামলার এজাহারে। এদের মধ্যে দুইজনকে নারী হিসেবে উল্লেখ করলেও আরো দু’জন পুরুষ নারীর ছদ্মবেশে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে নারী একজন নুসরাতকে ডেকে ভবনের ছাদে নিয়ে যান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বাক্ষী ও নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে জানান ওই নারী। এ খবর পেয়ে নিজের কাগজপত্র রেখে বান্ধবীকে বাঁচাতে তিনতলার ছাদে চলে যান নুসরাত। সেখানে গিয়ে বোরকা পরা চারজনকে দেখতে পান। এদের মধ্যে দুইজন নুসরাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এই দু’জন নারী ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নুসরাতের দুই হাত দড়ি দিয়ে পেছনে বেঁধে ফেলে চারজন। পরে কেরোসিন দিয়ে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। আগুন লাগানোর পর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে অপরাধীরা। বোরকা পরেই মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যান বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। ঘটনার পরে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে নূর উদ্দিন (২০) বাইরে বের হয়ে এসে ছাদে কেরোসিন ও ম্যাচ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান।

পাশাপাশি আগুনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। ঘটনার পর তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অসংলগ্ন উত্তরও দেন স্থানীয় অনেককে। এরপর থেকে গা ঢাকা দেন নুর উদ্দিন। ঘটনার দিন সকালে ও আগের দিন রাতে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকবার সন্দেহজনক ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে নুর উদ্দিনকে। মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দোলাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আগুনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। যৌন হয়রানির মামলায় সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে সংগ্রাম পরিষদও গড়ে তুলেছিলো নুর উদ্দিন। এছাড়া, ঘটনার আগের রাতে কেরোসিন ও ম্যাচ ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে বৈঠকও করা হয়েছে। মূলত পুরুষ অপরাধীরা ছদ্মবেশ নিতে বোরকা পরলেও পুরুষ হিসেবে শনাক্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে হাতমোজা ও চশমা পরেন। নুর উদ্দিন উচ্চতায় খুব লম্বা না হওয়ায় নারী হিসেবে ছদ্মবেশ নেয়ার সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি অজ্ঞাত তিনজনের বিষয়েও বিশদ জানা যেতে পারে বলে দাবি নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান সোহাগের।

২০১৭ সালে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাতকে চুনের পানি দিয়ে ঝলসে দেন শ্রমিক থেকে অধ্যক্ষের কাছের বনে যাওয়া নুর উদ্দিন। এছাড়া, মামলার আরেক আসামি শাহাদাত হোসেনও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে দাবি করেছেন নুসরাতের পরিবার। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনুমোদিত কোন কমিটি না থাকলেও শাহাদাত ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ ঘোষিত ছাত্রলীগ সভাপতি।

ঘটনার পর থেকে শাহাদাত হোসেনও পলাতক রয়েছে। ঘটনার দিন পরীক্ষার কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা থাকলেও এ দুজনের প্রবেশে বাধা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বোরকা পরা চারজনের সঙ্গে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতের যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা যখন-তখন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কক্ষে অবাধে যাতায়াত করতেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, ৫ এপ্রিল রাতে ও পরদিন সকালে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতকে মাদ্রাসার মূল ফটকে দেখা গেছে।

তবে ঘটনার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত একজন উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কেন্দ্রের মূল ফটক ছেড়ে সোনাগাজী জিরো পয়েন্ট এলাকায় সকালের নাশতা করতে যান বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুলিশ ঘটনার সময় সতর্ক অবস্থানে থাকলে কেউ এমন অপরাধ করে পালাতে পারতো না। দায়িত্বে অনেকটা গাফিলতি করায় আগুন লাগানোর পরও অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পেরেছে। একইভাবে ২৭ মার্চের ঘটনার পরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে এমনভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হতো না বলেও মন্তব্য ছিল প্রতিনিধি দলের।

তবে ঘটনার পর বোরকা পরে সন্দেহজনকভাবে কাউকে বের হতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সদস্যরা। সেক্ষেত্রে অপরাধীরা আগুন লাগানোর পর মাদ্রাসার ভেতরের কারো সহায়তা নিয়ে পোষাক বদল করে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে সহজে পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এজাহারভুক্ত চার জনসহ মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মূল কিলিংয়ে অংশ নেয়াদের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরো দুইজন গ্রেপ্তার

নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিনকে গতকাল ময়মনসিংহ থেকে ও মকসুদ আলম কাউন্সিলরকে বৃহস্পতিবার ঢাকার ফকিরাপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তবে মামলার অপর আসামি শাহাদাতকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নুসরাত অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম গা ঢাকা দেয়। শুরুর দিকে স্থানীয় পুলিশ এদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে বরং এটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বক্তব্য দিয়েছিল। সে সুযোগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ-প্রশাসনের গাফিলতি ছিল

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিষয়ক পরিচালক আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির বলেছেন, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড হলো সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সিরাজ উদ দৌলা। তার শুভাকাঙ্খী, সহযোগী ও দোসররা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ২৭ মার্চের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো। সেদিনের ঘটনার জেরেই ৬ এগ্রিলের ঘটনাটি ঘটেছে। নুসরাতের হত্যাকান্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

২৭ মার্চ ঘটনার পর যদি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন সক্রিয় থাকতো তাহলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সোহেল পারভেজ। নুসরাতের চাচা শামীম অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকে যৌন হয়রানী, চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে মানবধিকার কমিশনের কাছে জানান।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free