Home » নিউজ

নিউজ

দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বদলির দাবিতে মানববন্ধন

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুজ্জামানকে দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মকারী অভিযোগ তুলে বদলির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুলকার নাঈম বায়েজিদ।

মানববন্ধন চালাকালীন বক্তব্য দেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি দুলাল মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিংকু মাহমুদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সুইট মাহমুদ, শহর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সহসাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ বকুল, জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ। এ সময় মানবন্ধনে ছাত্রলীগ নেতা আশিক, আলিফ, জনি, মনি, হিরা, আরিফুল ইসলাম, তানমুন ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তরা বলেন, একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ শিক্ষককে মেহেরপুরে থেকে তাকে অন্যত্র দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষক মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি অনিয়মে সেøাগান সম্বলিত ফেস্টুন বহন করছিলো।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামানকে দুর্নীতির দায়ে ঝিনাইদহ থেকে মেহেরপুরে বদলি করা হয়। ঘুষ নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ছাত্র ভর্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকের খোলা চিঠি

ডেস্ক,৩০ অক্টোবর:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে দাবি মেনে নিতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকরা। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জন করবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর পরও সরকার দাবি মেনে নিতে গড়িমসি করলে পরে ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করবেন শিক্ষকেরা। এতেও সরকারের টনক না নড়লে শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ঝুলানোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার ধামরাইয়ের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমস্যা সমাধানে লিখেছেন খোলা চিঠি। সাইদুল ইসলাম নামে ঐ শিক্ষকের ফেসবুকে দেওয়া লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা আপা।

প্রথমে আমার সহস্র কদমবুচি নিবেন! আমি জানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আপনার নজরে আছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে সে ছুটাছুটি করবে এটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি মানবতার মা! আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন! শিক্ষকদের যেনো আর রাস্তায় নামতে না হয়! শিক্ষকেরা যেন বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারে এবং পাঠাদানে মনোযোগী হয় সেই ব্যাবস্থা করে দিবেন আশাকরি!

নার্সরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ম গ্রেড পেতে পারে কৃষিরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ গ্রেড পায় তাহলে আমরা ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা কেন ১১ গ্রেড পাবো না!

একজন শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে ৯৭০০ টাকা বেতন পান সর্বসার্কুল্যে ১৬০০০ টাকা! এই ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে তার পরিবার কে চালাবেন?

একটি বাসা ভাড়া নিতে গেলে নূন্যতম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। বাকি টাকা দিয়ে কি পরিবার চালানো সম্ভব? বাকি টাকা দিয়ে মাসের ১৫ দিন টেনেটুনে চলতে হয় এবং ১৫ দিন মুদির দোকানে ঋণ করে চলতে হয়। বর্তমানে এক কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা সেখানে শিক্ষকের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা!

একটা ছেলে যখন অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে চাকরিতে নিযুক্ত হয় তখন তার বাবা মা এবং তার পরিবার তার ওপরে অনেক আশা ভরসা করে! আমরা সেই হতভাগ্য শিক্ষক আমরা আমাদের বাবা মায়ের সেই আশাটুকু পূরণ করতে পারি না!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর! আপনি মানবতার মা! আপনি পারেন না এমন কিছুই নেই! আপনি চাইলে সবকিছু করতে পারেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি শুনেছি! আপনি একদিন এক বক্তব্যে বলেছিলেন,আওয়ামী লীগ মানে বিলাশ বহুল জীবন যাপন নয়!

আওয়ামী লীগ মানে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো!আমার বিশ্বাস আপনি এই অসহায় শিক্ষকদের ফিরিয়ে দেবেন না! আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের সসম্মানে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমরা শিক্ষকেরা যেনো আপনাকে সারা বিশ্বের মধ্যে আবারও একবার মাদার অব হিউম্যানিটি উপহার দিতে পারি।আমার সামান্য কথাগুলো আপনি বিবেচনা করে দেখবেন।


সাকিবের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ডেস্ক,২৯ অক্টোবর: বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের সমানে বিক্ষোভ করেছেন তারা। ‘নো সাকিব নো ক্রিকেট’ স্লোগানে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তারা। এ ছাড়া চট্টগ্রামেও বিক্ষোভ করেছেন সাকিবভক্তরা। এ ছাড়া সাকিবের জন্মস্থান মাগুরায় বুধবার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানবন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করলেও আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালকে না জানানোর কারণেই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে দোষ স্বীকার করায় শর্ত সাপেক্ষে এক বছরের শাস্তি স্থগিত করেছে আইসিসি। সেই শর্ত ভঙ্গ না করলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির হন সাকিব আল হাসান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আবার ক্রিকেটে ফিরে আসতে দেশবাসী, সকল ভক্ত, সরকার এবং মিডিয়ার সহায়তা চেয়েছেন। আগে যেভাবে ভক্তরা তাকে সহায়তা করেছেন সেটা করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। সকলের সমর্থন পেলে আরও ভালো ও শক্তভাবে ফিরে আসতে এবং দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন সাকিব আল হাসান।

সাকিব আল হাসান যে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে- মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে তা প্রথম প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি দেশে-বিদেশে এখন আলোচনায়। মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে প্রতিবেদনটি প্রথম সংস্করণ ও নগর সংস্করণে পৃথক শিরোনামে প্রকাশিত হয়। নগর সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘১৮ মাস নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব’। আর প্রথম সংস্করণের শিরোনাম ছিল, ‘জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করেন সাকিব’।

সোমবার গভীর রাতে সমকালের প্রিন্ট সংস্করণ বাজারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন ফেলে প্রতিবেদনটি। পত্রিকার ছবি তুলে পাঠকরা রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেশি সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি জায়গা করে নেয় বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও।


শিবির সন্দেহেই বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক,১৩ অক্টোবর:
শিবির সন্দেহেই বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৯ আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিদের জবানবন্দিতে বলা হয়, মূলত শিবির সন্দেহেই আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যার কারণ হিসেবে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের শুরুর দিকেই আবরার হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হবে। নভেম্বর মাসেই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার রাতে বুয়েটে পুলিশের কোনো টহল টিম ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন রাত ৩টা পর্যন্ত বুয়েট এলাকায় পুলিশের একটি টিম টহল দেয়। কিন্তু তারা এ সময় কোনো হইচইয়ের শব্দ পাইনি।

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ অক্টোবর, ২০১৯
শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আজ। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটছে বাঙালির শারদোৎসবের। পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে শেষ হয়েছে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিও।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এ জন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।



সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন)। দেবী স্বর্গলোকে বিদায়ও (গমন) নেবেন ঘোটকে চড়ে, যার ফল হলো ফসল ও শস্যহানি। অর্থাৎ এবার দুর্গা দেবীর আগমনে পৃথিবী থেকে শস্য ও ফসলের বিনাশ হবে।

এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ৪৮৩টি বেশি। আর ঢাকা মহানগরীর এবারের পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৩৭টি, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি বেশি।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রথম দিন আজ ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী তিথিতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, সোমবার মহানবমী এবং মঙ্গলবার বিজয়া দশমী। শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়ার শোভাযাত্রা।

দুর্গোৎসব চলাকালে পূজার প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগআরতির আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে দুর্গোৎসব চলাকালে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় পংকজ সাহা, রাহুল বড়ূয়া ও রবার্ট নিক্সন ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাপস বল জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা ঘটবে আজ। পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে বিজয়া শোভাযাত্রা।

রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে মহাষ্টমী ও কুমারী পূজার দিনে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ। রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যনাট্য ও নাটক পরিবেশিত হবে। গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বনানী পূজামণ্ডপে পূজার পাঁচ দিনই পরিবেশিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পূজামণ্ডপেও অনুরূপ আয়োজন থাকছে। জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দিরে আলোচনা সভা ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে দরিদ্রদের মধ্যে।

এ ছাড়া রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, পুরান ঢাকার অভয়নগর দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, ঢাকেশ্বরীবাড়ী, শাঁখারীবাজারের পান্নিটোলা, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজারের পঞ্চানন শিবমন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, ওয়ারী সর্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপ, উত্তর মৈশুণ্ডী, ফরাশগঞ্জ জমিদারবাড়ি, বিহারীলাল জিও মন্দির ও মতিঝিলের অরুণিমা সংসদ পূজা কমিটির মণ্ডপসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


ছাত্রীর সর্বনাশ করলেন পল্টন থানার ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ সেপ্টেম্বর:
রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ ‍উঠেছে। জানা যায়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক ছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের করেন তিনি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে মাসের পর মাস শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।


ওই তরুণীর অভিযোগ, তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে ওসি গর্ভপাতের শর্তে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি গর্ভপাত করান। তবে এরপর মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বিয়ে করেননি। একপর্যায়ে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দেন ওসি মাহমুদুল। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর অভিযোগ করেছেন ওসির বিরুদ্ধে। তদন্তে সে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, জমা পড়েছে তদন্ত প্রতিবেদনও। এরপরও মাহমুদুল হক পল্টন থানার ওসি হিসেবে বহাল তবিয়তেই কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র মতে, মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী ওই তরুণীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তরুণী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি সরকারি একটি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওসি মাহমুদুল হক আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাকে ঢাকায় ডেকে আনেন। আমাকে রাখার জন্য পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলের একটি রুমে নিয়ে যান। সেখানে হোটেল বয়কে দিয়ে আমার জন্য স্যুপ নিয়ে আসান। আমি খেতে না চাইলেও জোর করে খাওয়ান। এরপরই আমি ঘুমিয়ে পড়ি।’

ওই তরুণী বলেন, ঘুম ভাঙলে দেখি রাত ২টার মতো বাজে। ওই সময় মাহমুদুল হক আমার পাশেই শুয়ে ছিলেন। আমি বুঝতে পারি, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছি। মাহমুদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমাকে ভালোবাসেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় জানিয়ে তিনি আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই তরুণীর অভিযোগ, এরপর প্রতি সপ্তাহেই ওই তরুণীকে ঢাকায় ডেকে এনে একই হোটেলে নিয়ে যেতেন মাহমুদুল হক। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি বুঝতে পারেন, অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ কথা মাহমুদুল হককে জানালে তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গর্ভপাত করতে বলেন এবং একপর্যায়ে তার কথায় রাজি হয়ে গর্ভপাত করান ওই তরুণী।

তিনি জানান, দু’জনের সম্মতিতে তাদের মধ্যেকার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবিও ধারণ করা হয়েছে, যেগুলো ওই তরুণীর কাছে রয়েছে।

ওই তরুণী বলেন, মাহমুদুল হক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাকে বিয়ে করেননি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল আমার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করেন দেন। আমি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছি এসময়। পরে আমার পরিবার সবকিছু জানতে পারলে তারা মাহমুদুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। এসময় আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়, পল্টন থানার ওসির অনেক ক্ষমতা, বাড়াবাড়ি করলে আমার অনেক ক্ষতি হবে। আমি ঢাকার বাইরে একটি চাকরি করছি। সেখানেও আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন মাহমুদুল হক।

ওই তরুণী বলেন, সবশেষে বাধ্য হয়ে আমি মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানকে বিষয়টি জানাই। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন বলেও জানান। মাহমুদুলের বাবাকেও বিষয়টি জানাই। তবুও কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করি। মাহমুদুল হক আমাকে বিয়ে না করলে আমি আদালতে মামলা করব।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে ওসি মাহমুদুলের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোনালিসা বেগমকে। তদন্ত শেষ করে তিনি প্রতিবেদন ডিএমপি সদর দফতরে পাঠিয়েও দিয়েছেন। সেখান থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবেদনে মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। পল্টনের হোটেল ক্যাপিটালে নিয়ে যাওয়া বিষয়ে ওই তরুণী যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা ঠিক। প্রতি মাসেই ওই হোটেলে ওসি পল্টনের নামে এক বা একাধিক দিন বুকিংয়ের তথ্য মিলেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ বছরের ১৭ মার্চ ওই হোটেল থেকে চেকআউট করেন ওসি মাহমুদুল। এছাড়া কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও ওসি ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক রোববার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সূক্ষ্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

ওসি মাহমুদুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করেছেন সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোনালিসা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল ও ভুক্তভোগী মেয়েটির ব্যাপারে তদন্ত শেষ করে ডিএমপি সদর দফতরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কেবল বলেন, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

ডিএমপির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এডিসি মোনালিসার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার তা গত বুধবার পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর ওসি মাহমুদুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ওসি মাহমুদুল হক ২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি নওঁগা জেলায়। চাকরি জীবনে তিনি একটি গুরুদণ্ড-ব্ল্যাক মার্ক এবং ২২টি লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের ২ জুলাই পল্টন থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে।

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর-ইমেইল ঠিকানা পাওয়া যাবে অ্যাপসে

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ সেপ্টেম্বর:
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক ডিজিটাল টেলিফোন ডাইরেক্টরি (সাউ ডাইরেক্টরি) উদ্বোধন করা হয়েছে। অ্যাপসটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা পাওয়া যাবে।



রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এ ডাইরেক্টরির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সেকেন্দার আলী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

SAU-1

এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর্জা হাছানুজ্জামান বলেন, অ্যাপসটি প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা যাবে। আইফোন গ্রাহকদের এই অ্যাপসটি ব্যবহার করতে কিছুটা সময় লাগবে। অন্য সব অ্যাপসের মতো গুগল প্লে স্টোর থেকে SAU Directory অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইনস্টল করে এ সেবা পাওয়া যাবে।

জি কে শামীমের সুন্দরী নায়িকার তালিকায় যারা ছিলেন

ডেস্ক

‘টেন্ডার কিং’ জি কে শামীম র‌্যাবের হাতে ধরা পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। নিজের মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ব্যবহার করতেন সময়ের আলোচিত মডেল, অভিনেত্রীদের। উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তারা শামীমের পাঠানো তালিকা দেখেই বাছাই করে নিতেন মডেল, নায়িকাদের। জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ডিবি পুলিশের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।


শামীম জানায়, অনেকে কর্মকর্তারাই টাকার সঙ্গে নারীসঙ্গ চাইতো। পাঁচ তারকা হোটেলে কক্ষের ব্যবস্থাও করতে হতো। শামীমের সঙ্গে সখ্যতা অর্ধশতাধিক সুন্দরী তরুণীর। এরমধ্যে এক ডজনেরও বেশি পরিচিত নায়িকা ও মডেল। টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নেতাদের কাছে পাঠানো হতো তাদের।

দেশের বাইরের পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন যুবলীগ দক্ষিণের শীর্ষ এক নেতা। কখনও কখনও হাজির হতেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা ও সংসদ সদস্য। বেশ কয়েক পার্টি হয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন। দেশের মধ্যে গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো একান্তে সময় কাটানোর জন্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কয়েক নায়িকাকে ব্যবহার করেন জি কে শামীম। মোটা অঙ্কের টাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এসব নায়িকা-মডেলদের চাইতেন। এরমধ্যে এক নায়িকা রয়েছেন। জি কে শামীম তাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতাও এই নায়িকাকে ডাকতেন। ওই নেতার কাছেও পাঠিয়ে দেয়া হতো তাকে। পার্টিতে তাল মিলিয়ে এ্যালকোহল পান করেন এই নায়িকা। প্রকাশ্যেই শামীমকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। শামীমের সঙ্গে পরিচয়ের পর দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে খুলনার এই মেয়ের। শামীমের দরবারের আর্শীবাদের বদৌলতে রাতারাতি বদলে যায় তার আর্থিক অবস্থা। ২০১৪ সালে তার ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। যিনি অভিষেকেই মেরিল-প্রথম আলো শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। এই নায়িকা গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন প্রযোজক। ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্রী অভিনয় ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রযোজক হিসেবে। অভিনয় করেছেন ভোজপুরি চলচ্চিত্রেও। পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।

শামীমের প্রতিটি টেন্ডারে মোটা অঙ্কের ভাগ পেতেন যুবলীগের দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতা। ওই নেতার নিজেরও ছিলো সুন্দরী কানেকশন। যদিও তার ঘনিষ্ঠরা জানান, কাউকে ডাকতে হয় না। স্বেচ্ছায় হাজির হন সুন্দরীরা। ওই শীর্ষ নেতার হয়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য দেখাশোনা করতেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তাদের দরবারে প্রায়ই হাজির হতেন পরিচিত এক মডেল, উপস্থাপিকা। অবশ্য চারটি চলচ্চিত্রেও দেখা মিলেছে এই মডেলের। এখন তার যাত্রাপথ চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক। নৃত্যে তার রয়েছে ভালো দখল। ওয়ার্ল্ড ডান্স পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। আলোচিত এই মডেলের একটি সেলফি বেশ আলোচিত হয়েছিলো। সেলফিতে তার সঙ্গে ছিলো বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ। নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার ইচ্ছে ছিলো এই মডেল উপস্থাপিকার। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে হাজির হয়েছিলেন ওই নেতার দরবারে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত শেষে দাবি জানিয়েছিলেন শাকিবের সঙ্গে মুভিতে অভিনয় নিশ্চিত করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চলচ্চিত্রটি আর নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে টিভি নাটক ও সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় করছেন এ নায়িকা।

সূত্রমতে, এই দরবারের নেতাদের উৎসাহে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এক নায়িকা। ২০০২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অশ্লীল জগতের নায়িকা হিসেবে অনেকের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসন তিনি। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আজ থেকে কয়েক বছর আগে শীর্ষ ওই নেতার দরবারে বেশ কদর ছিলো এই নায়িকার। দরবার থেকে ডাক না এলেও নিজ থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করেন এই নায়িকা। তবে দরবারের নতুনদের আগমনে ঈর্ষা কাজ করতো পুরাতনদের মধ্যে।

এই সাম্রাজ্যের প্রমোদ সঙ্গী হিসেবে পরিচিত আরেক নায়িকা। রূপালি পর্দায় আসার পূর্বে তিনি গুলশান এভিনিউ, রঙের মেলা, বনবালা ও পণ্ডিতের মেলার মত টিভি নাটকে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে রোজার ঈদে একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে।চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি ‘সেরা নবীন অভিনয়শিল্পী’ বিভাগে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তার অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ ও ২ এপ্রিল দুটি মুক্তি পায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তাকে দেখা গিয়েছে মডেলিংয়ে। তিনি ব্রিটল বিস্কুট ও প্রাণ ফ্রুটোর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আসিফের গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। শীর্ষ নেতার দরবারে তাকে ডাকা হতো প্রায়ই। দরবারের ডাক এলে যে কাজই থাকুক তা ফেলে ছুটে যেতেন। দরবারের ডাককে আর্শীবাদ মনে করতেন এসব নায়িকা, মডেলরা।

‘টেন্ডার শামীম’ নামে পরিচিত জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি নিজেই ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি করছেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনে যুবদল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া শামীম নিজেকে পরিচয় দিতেন যুবলীগের সমবায় সম্পাদক হিসেবে।

সন্তানকে সরকারি প্রাথমিকে ভর্তি করালেন ইউএনও

ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর ছাগলনাইয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের তার একমাত্র পুত্র সন্তান শাদাব হাসানকে (৪) স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। বিষয়টি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোগন সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও তার পুত্র শাদাতকে ছাগলনাইয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তি করান।



সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির কারণ সম্পর্কে ছাগলনাইয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের বলেন, আমার ছেলের বয়স অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তি করা উচিত। আমি ছাগলনাইয়ার কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল পরিদর্শন করে দেখেছি প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য যে ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন তা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও নেই।

তিনি বলেন, ছাগলনাইয়া মডেল প্রাইমারি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের শ্রেণি কক্ষসহ প্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র রয়েছে। তাছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনসহ সকল শিক্ষক যোগ্যতা সম্পন্ন।

ইউএনও বলেন, আমি আশা করব সকল অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের পড়াবেন। সরকারি স্কুলে এখন শিক্ষা ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় অনেক ভালো বলেও দাবি করেন তিনি।

৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ডেকে চুমু খেলেন প্রধান শিক্ষকের

ডেস্ক

তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অফিস রুমে ডেকে চুমু দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু সালেহ মোহাম্মদ ইছার নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সোমবার বেলা ১১টার এই ঘটনায় স্কুল এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।



ইছার বালিয়াতলী ইউনিয়নের কাঙ্কুনিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, এ ঘটনায় প্রথমে ওই ছাত্রী তার এক বোনকে বিষয়টি বলে। বোন শিশুর বাবা মোস্তফা হাওলাদারকে খবর দেয়। স্কুলে পৌঁছে শিশুর কাছ থেকে সব শুনে বিষয়টি নিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ এনামুল হককে বলেন। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষককে ডেকে তিনি জিজ্ঞেস করলে পা ধরে ক্ষমা চান। এমনকি শিশুর বাবা শ্রমজীবী মোস্তফা হাওলাদারের পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইছা।

মোস্তফা হাওলাদার বলেন, ‘তারাও (শিক্ষকরা) মোগো সন্তানের বাপের মতো। ও (মেয়ে) দুই দিন স্কুলে যায়নি। একারণে রুমে একা ডাইক্কা মুখে চুমা দেয়’। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ মোহাম্মদ ইছাকে বারবার মোবাইল করলে তিনি এসব অস্বীকার করে বলেন, তাকে ওখান থেকে অন্যত্র বদলি করার জন্য এটি ষড়যন্ত্র। তবে কারা ষড়যন্ত্র করছে তা বলেননি। আর পা ধরে মাপ চাওয়ার কথাও অস্বীকার করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল বাশার জানান, তিনি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) অনুপ দাশ জানান, শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলবেন। মাত্র মাসখানেক আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে কলাপাড়ার একজন প্রধান শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পরে ফের এমন ন্যক্কারজনক অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ

ডেস্ক,১৬ সেপ্টেস্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের (২০১৮ সালের) লিখিত পরীক্ষার ফল রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৫৫ হাজার ২৯৫ জন প্রার্থী। তাঁরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।


এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৭ জন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

পরীক্ষার ফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd ) পাওয়া যাবে।

সেরা এক হাজারেও নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতি বছর বিশ্বের বিশ্ব্যবিদ্যালয়গুলোর যে র‍্যাংকিং প্রকাশ করে তাতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারের পরে। তালিকাটিতে ৯২টি দেশের ১৩শ’ বিশ্ববিদ্যালয় অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের এই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ই এই তালিকাতে স্থান পেয়েছে।


শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এখাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ ৫টি মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

র‍্যাংকিংয়ে বিদেশী ছাত্রের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শূন্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালটির ৪ হাজার ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন বিদেশী শিক্ষার্থী নেই কিংবা থাকলেও সেই সংখ্যা সন্তোষজনক নয়।

২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো ৬শ’ থেকে আটশর মধ্যে। তবে এর বছর দুই পরেই এটির অবস্থান হঠাৎই নেমে যায়। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজারেরও পরে।

এ বছরই মে মাসে সাময়িকীটি এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় উল্লেখিত এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও উল্লেখ ছিল না।

এদিকে তালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালো করেছে। এই তালিকায় তিনশ থেকে শুরু করে এক হাজারের মধ্যে রয়েছে ভারতের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমনকি রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিতিশীল দেশ পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো।

তালিকায় এক হাজারের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে প্রথম ৫শ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম ইউনিভার্সিটি। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীন এবং জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকায় উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় স্থান পেয়েছে।

এদিকে, বরাবরের মতোই এই তালিকায় কর্তৃত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ বছরের তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টিই যুক্তরাষ্ট্রের। যার মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি। তবে চতুর্থবারের মতো এবছরও তালিকায় প্রথম স্থানটি দখলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি। আর দশম স্থানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

তালিকা নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে যে, যুক্তরাজ্যের কথিত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ অর্থাৎ অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এবং লন্ডন ইউনিভার্সিটি বরাবরের মতোই খুব ভালো করছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর মানে হচ্ছে জার্মানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা অংশীদারিত্ব হারালে তহবিলের ক্ষেত্রে জার্মানির তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর লুইস রিচার্ডসন বলেন, ‘অক্সফোর্ডের সফলতার পেছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে বিশ্বের আরো অনেক খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের গবেষণা সহযোগিতা। আর এ কারণে, ব্রেক্সিটে যাই আসুক না কেন, আমরা এই অংশীদারিত্ব আরো প্রসার এবং গভীর করা অব্যাহত রাখবো।’ সূত্র: বিবিসি

২৬৫ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক শূণ্য

অনলাইন ডেস্ক,১০ সেপ্টেম্বর:

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার মেকুরের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৩ মাস ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। একজন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় জুলাই মাস থেকে স্কুলে আসেন না তিনি। এমনটাই দেখা গেছে এই স্কুলে। স্কুলের ২৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য নিয়োজিত একমাত্র শিক্ষক ছুটিতে থাকায় ৩ মাস ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে স্কুলটিতে। স্কুলের এমন বেহাল দশায় হতবাক হয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।


শনিবার সকালেদেখা যায়, স্কুলের সব কক্ষ বন্ধ। স্কুলের মাঝখানে হেলে যাওয়া বাঁশে খুঁটিতে জাতীয় পতাকা উড়ছে। স্কুলের পাশেই খেলছে ২০ থেকে ২৫ জন শিশু। কোথায় পড়ে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, আমরা এই স্কুলে (পাশের মেকুরের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) পড়ি। আজ কেন স্কুলে যাওনি এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীরা জানান, স্যার নাই তাই।

শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে যায় স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে এক ব্যক্তি ছুটে এসে পরিচয় জানতে চান। তার নাম নুরে আলম সিদ্দিকী রতন ও তিনি স্কুলের প্যারা শিক্ষক বলা জানান ওই ব্যক্তি। পরে তড়িঘড়ি করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে নিয়ে বাংলা বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন প্যারা শিক্ষক রতন।

পরে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগমের স্বামী প্যারা শিক্ষক রতন। তবে স্কুলটির বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানায়, ওই স্কুলের শিক্ষক সাদিকা বেগম মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে কামাল খামার তেতুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. ইকরামুল হক নামের একজন শিক্ষককে ডেপুটেশন দেয়া হয়েছিল ওই বিদ্যালয়ে। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করে ডেপুটেশন বন্ধ করেছেন তিনি। পরে আবারো কুনারচর শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত এক মহিলা শিক্ষিকা ওই স্কুলে ডেপুটেশন দেয়া হয়। কিন্তু একই ভাবে স্কুলে না গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে ডেপুটেশন বন্ধ করেন এ শিক্ষিকাও।

এদিকে প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগম ছুটিতে থাকলেও কোন শিক্ষক স্কুলে আসেনি। শিক্ষার্থীরা জানায়, যে যার মত স্কুলে এসে শিক্ষক না দেখে বাড়িতে চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সাদিকা বেগম বলেন, আমি অসুস্থ। চলতি বছরের জুলাই থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছি। তাই স্কুলের খোঁজ খবর রাখার আমার বিষয় না। তবে, আমার স্বামীকে প্যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা অফিস। অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় আগেভাগেই স্কুল ছুটি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নরুজ্জামান জানান, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে কোন শিক্ষক থাকতে চান না। তাই পাঠদানে চরম অবহেলিত হচ্ছে। একজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। যে এক শিক্ষক ছিল তা আবার সরকারি ছুটি নিয়েছে।

উলিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মোজাম্মেল শাহ্ বলেন, ‘স্কুল বন্ধ রাখার প্রশ্নেই ওঠে না। আর অফিস থেকে দুইজন শিক্ষক ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু তারা ওই চরাঞ্চলের স্কুলে যেতে চায় না। তাই একজন প্যারা শিক্ষক দিয়েছি। যদি স্কুল বন্ধ থাকে তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের জানান, স্কুল বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝটিকা সফরে মন্ত্রী, বরখাস্ত করলেন শিক্ষককে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ঝটিকা পরিদর্শনে রাজধানীর সূত্রাপুরের মহসিন আলী সোনার বাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্পিতা চৌধুরীকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এক বছর অনুপস্থিত থাকায় তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে নামেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।


প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান সাময়িক বরখাস্ত

মোস্তাফিজুর রহমান(মোস্তফা)লালমনিরহাট প্রতিনিধি,২৯ আগষ্ট :-লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি’র সভায় প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়। সভার রেজুলেশনে ১০ জন সদস্যের মধ্যে সভাপতিসহ ৭ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল জানান, বুধবার বিকালে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পরিচালনা কমিটির সভা চলছিলোএ সময় সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম নামে এক প্রার্থী দাবী করেন, প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।সভায় উপস্থিত সদস্যরা প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উওর দিতে পারেনি।

ফলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা ওই প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবী জানান। পরে সকলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্ন্দপ নারায়ন রায় জানান, আজ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পরিচালনা কমিটি’র সভা ছিলো। কিন্তু প্রধান শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন তথ্য তিনি এখনো পাননি। তবে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ঝামেলার কথা তিনি শিকার করেন

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter