নিউজ

নোয়াখালীতে কলেজছাত্রীকে হত্যা করল ‘মা’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না হৃদয় সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এক মা প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে নিয়ে কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাড়া জাগানো এই ছবিটি হয়তো আপনাকে মুগ্ধ করেছে।

যেখানে ফুটে উঠে এক অদম্য মায়ের তার প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, সেই সন্তানের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, বিধির কারণে সেখানে পড়া আটকে গেছে সেই ছেলেটির- হৃদয় সরকারের।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের খ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়ে হৃদয়ের সিরিয়াল ৩ হাজার ৭৪০। যদিও এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ২ হাজার ৩৮৩টি। সেখানে প্রতিবন্ধী কোটার আসন খালি রয়েছে।

প্রতিবন্ধী হিসাবে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে তালিকাভুক্তির সনদ গ্রহণ করেছেন ‘সেরিব্রালপালসি’তে আক্রান্ত হৃদয় সরকার, যিনি ছোটবেলা থেকেই হাটতে বা চলাফেরা করতে পারেন না।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটার ফর্ম সংগ্রহ করতে গেলে তাকে জানানো হয়, তিনি ওই কোটার মধ্যে পড়েন না।

হৃদয় সরকার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, আমার বাবা-মা যখন ফর্ম আনতে গেলেন, তখন তাদের বলা হয়েছে, আমি নাকি কোটার মধ্যে পড়িনা। এরপরে আমরা ডীন স্যার আর ভিসি স্যারের কাছেও গেলাম। তারাও বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির কারণে আমার কোটায় ভর্তির সুযোগ নেই।”

মা সীমা সরকারের স্বপ্ন ছিল, তার প্রতিবন্ধী সন্তান একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে
মা সীমা সরকারের স্বপ্ন ছিল, তার প্রতিবন্ধী সন্তান একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পরে হৃদয় সরকারের মা বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, সে ভর্তি হলে তারা স্বপরিবারে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় চলে আসবেন।

”তাকে নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবো। যেন আমি বেঁচে না থাকলেও তার চলতে কষ্ট না হয়।” তিনি বলেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে প্রতিবন্ধী কোটায় শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী-এই তিন ধরণের প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কোটা প্রযোজ্য হবে। এখানে শারিরিক বা অন্য কোন ধরণের প্রতিবন্ধীরা কোটায় ভর্তি হতে পারবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন ও ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক আবু মো দেলোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। কিন্তু কোটায় ভর্তি হতে পারেন শুধুমাত্র বাক, শ্রবণ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। এর বাইরের প্রতিবন্ধীদের আমাদের নেয়ার সুযোগ নেই।”

হৃদয় সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” তার সঙ্গে আমাদের তো কোন বিরোধ নেই। কিন্তু বিধির কারণেই সে কোটার আওতায় পড়ছে না।”

গত ২১শে সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ওই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যাতে ৩৩হাজার ৮৯৭জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৭৪৭জন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২ নভেম্বর:  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমপ্রতি শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমেই সাধারণত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। এখন এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এনটিআরসিএ নিয়োগের নামে যা শুরু করেছে তা নিবন্ধনধারীদের মনে রীতিমতো হতাশা ও  নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এনটিআরসিএ ২০০৫ সাল থেকে নিবন্ধন পরীক্ষা শুরু করেছে। তখন থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জাল সনদ বিক্রিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যেতে থাকে। এনটিআরসিএ এ পর্যন্ত ১৩টি পরীক্ষা সমপন্ন করলেও মামলাজনিত কারণে প্রায় দুই বছর ধরে কোনো নিয়োগই দিতে পারছে না। ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সরাসরি নিয়োগের কথা থাকলেও এনটিআরসিএ মামলার অজুহাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সমপন্ন করতে পারেননি।

এদিকে ১৪তম নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে শুধু পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ সমপন্ন না করাটা মোটেই কাম্য নয়। ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহামান্য হাইকের্টের নির্দেশে ১-১৩ তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে এনটিআরসিএ ১০-৭-২০১৮ তারিখে একটি সমন্বিত জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করলেও এখনো শূন্য পদসমূহে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেনি।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রায় ৬০ হাজার পদ শূন্য থাকায় একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি লাখ লাখ বেকার নিবন্ধনধারী এসব পদে নিয়োগ লাভের মাধ্যমে তাদের বেকারত্ব অবসানের স্বপ্ন দেখছে। তাই অতি দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা পাবেন ১০ম গ্রেড আর সহকারীরা ১২তম

নিজস্ব প্রতিবেদক,১ নভেম্বর: সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেলে বড় পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তনের বিষয়ে এরই মধ্যে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৬৫ হাজার পদ সৃষ্টি হচ্ছে। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে কাজ চলছে।

বিষয়টি স্বীকার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক যোগদান করছেন তাঁদের বেশির ভাগই অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা। অথচ এই শিক্ষকরা যে পদে যোগদান করেন সেই পদে থেকেই অবসরে যান। এতে অনেক সময়ই দেখা যায়, শিক্ষকরা দরদ দিয়ে পড়ান না। তাই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিক সম্মতির পর আমরা শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পরিবর্তন আনার বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।’

এই অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির কাজ চলছে। এতে সহকারী শিক্ষকরা দ্রুত এই পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। আর প্রধান শিক্ষকরা যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির, তাই তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর একধাপ নিচে থাকবেন সহকারী প্রধান শিক্ষকরা, আর পরের ধাপেই থাকবেন সহকারী শিক্ষকরা। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য নিয়োগ বিধিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।’

বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তাঁরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে।

বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। কোনোভাবেই সেটি মেনে নিতে রাজি নন সহকারী শিক্ষকরা। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন চান। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনও করেছেন সহকারী শিক্ষকরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এখন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা সভায় যোগ দিতে হয় তাঁদের। শিক্ষার বাইরে সরকারি নানা কাজেও তাঁদের ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বিদ্যালয়ে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না তাঁরা। এ জন্যই মূলত সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীতা অনুভব করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৬৫ হাজার পদ সৃষ্টি হলে সমসংখ্যক শিক্ষকের পদোন্নতিরও সুযোগ তৈরি হবে।

জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের এই পরিবর্তনের কাজে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন। তাঁরা সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদটি চান না। তাঁরা মনে করছেন, এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেলেই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন চান।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র এস এম ছায়িদ উল্লা  বলেন, ‘যদি প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড এবং এর একধাপ পর পর অন্য শিক্ষকদের অবস্থান হয়, তাহলে এটা হবে খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে এখনো আমাদের প্রশিক্ষণবিহীন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা আলাদা গ্রেড। আমরা চাইব, মাধ্যমিক শিক্ষকদের মতো এক পদে একটাই গ্রেড থাকুক। আর প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য একটা সময় বেঁধে দেওয়া হোক। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক থেকে ওপরের পদে কোনো পদোন্নতির ব্যবস্থা নেই। এ ব্যবস্থা না থাকলে মেধাবীরা প্রাথমিকের শিক্ষকতায় আসবে না।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দাবি প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি হলে আমরা যখন ওই পদে পদোন্নতি পাব, তখন এমনিতেই আমরা ওই পদের স্কেলে বেতন পাব। তাহলে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য থেকেই যাবে। তাই আমরা এ মুহূর্তে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ চাই না। আমরা প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে বেতন চাই।’

জানা যায়, দেশে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে প্রধান শিক্ষক আছেন। আর সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় ১২তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন, প্রশিক্ষণের পর তাঁরা যান ১১তম গ্রেডে। আর চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে দশম এবং ১৬ বছর পূর্তিতে যান নবম গ্রেডে। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় ১৫তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন, প্রশিক্ষণের পর তাঁরা যান ১৪তম গ্রেডে। ১০ বছর পূর্তিতে যান ১৩তম গ্রেডে এবং ১৬ বছর পূর্তিতে যান ১২তম গ্রেডে।

সুত্র: কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সেই জেডিসি পরীক্ষার্থী তানিয়া পেল নতুন দোকান-ঘর

অনলাইন সংস্করণ:

ভোলার লালমোহনের জেডিসি পরীক্ষার্থী তানিয়া অন্ধ মায়ের সঙ্গে ভিক্ষা করার সংবাদ শুক্রবার যুগান্তরের অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার পর ভাগ্য খুলে যায় তানিয়া ও তার মায়ের।

সংবাদটি ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক ও লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান রুমির দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শনিবার তানিয়ার বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় যুগান্তর প্রতিনিধি মো. জসিম জনিও সঙ্গে ছিলেন।

লালমোহন পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের সিকদার হাটবাজারসংলগ্ন তানিয়াদের বাড়ি। বাড়ি বলতে ছোট একটি ভাঙাচোরা খুপড়িঘর। ঘরের দরজা-জানালা জরাজীর্ণ।

ভিক্ষার টাকায় ঘরটি তৈরি করলেও জায়গাটি তাদের নয়। একজন তাদেরকে সেখানে থাকতে দিয়েছে। ভাঙা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন তানিয়ার মা অন্ধ রাশেদা বেগম।

তানিয়াকে পাওয়া গেল উঠানের মাঝে। মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা বললেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি।

ইউএনওকে রাশেদা জানান, মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগাতে আর তিন বেলা খাওয়ার জন্য তাদের ভিক্ষা করতে হয়।

তানিয়া গর্ভে থাকা অবস্থায় তানিয়ার বাবা ছেড়ে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। সেই তানিয়া এবার জেডিসি পরীক্ষা দেবে। পড়ালেখার প্রতি টান দেখে অন্ধ মা রাশেদা শত কষ্ট হলেও মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে আসছেন। অন্ধ হওয়ার কারণে প্রতি বৃহস্পতিবার তানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষা করে বেড়ান লালমোহন বাজারের দোকানে দোকানে।

এসব শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের জন্য একটি বসতঘর বরাদ্দ করে দেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে ঘর তৈরি সম্পন্ন করতে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেন।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে তাদের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করেন। ২০ হাজার টাকায় দোকান ও দোকানের জন্য ক্ষুদ্র মালামাল কিনে দেন ইউএনও হাবিবুল হাসান রুমি। মঙ্গলবার একসঙ্গে ঘর ও দোকান উদ্বোধন করবেন তিনি।

অন্যদিকে যুগান্তরে সংবাদটি প্রকাশ হলে বিভিন্ন স্থান থেকে এ প্রতিনিধির কাছে ফোন করে অন্ধ মা রাশেদা ও মেয়ে জেডিসি পরীক্ষার্থী তানিয়ার জন্য সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন অনেকেই।

লালমোহনের বেসরকারি সংস্থা দ্বীপ উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মো. ইউনুছ মিয়া একটি ছাগল কিনে দেবেন লালনপালন করার জন্য।

এছাড়া লালমোহন মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. নুরনবী ২ বছরের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চালের একটি ভিজিডি কার্ড করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজবাড়ীতে প্রতিমা ভাঙচুর

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের একটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ইউনিয়নের বিশয় সাওরাইল গ্রামে সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
পূজা কমিটির সভাপতি তুষার কুমার দাস বলেন, ‘রোববার রাত ১টা পর্যন্ত আমরা মণ্ডপে পাহারায় ছিলাম।এরপর সবাই বাড়ি ফিরে যাই। সোমবার সকালে মণ্ডপে এসে দেখি দুর্গাসহ অনান্য মূর্তির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। কে বা কারা এমন করেছে তা বুঝতে পারছি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও দোষিদের গ্রেফতারে পুলিশি কার্যক্রম চলছে।’
পাংশা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘দুর্গা পূজার প্রথম দিনে এমন ঘটনাটি দুঃখজনক। দ্রুত দোষিদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুদকের কাঠগড়ায় এনসিটিবির কর্তারা, ১৯ লাখ বই মূদ্রণে জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ বই ছাপানোর দরপত্রের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনেকদিন ধরেই তদন্ত করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বই মূদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান তারা টিপিএস কোম্পানির এমন অভিযোগে দুদকের কাঠগড়ায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুসন্ধানে দরপত্রে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বেশকিছু আলামত পেলেও এখনো দুদকের কাছে অনিয়মের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল নেই। ফলে অনুসন্ধান কাজ চলছে ঢিমেতালে।

এরই মধ্যে অভিযোগ অনুসন্ধানে এনসিটিবি ও তারা টিপিএসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম। টিপিএস দাবি করছে, এনসিটিবির সংশ্লিষ্টদের কারণে দরপত্র বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে এনসিটিবি বলছে, চাহিদাকৃত নমুণা কাগজ সংযুক্ত না করার জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে শিগগিরই দুদক এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিতে সক্ষম হবে বলে দুদকের উর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নে ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ কোটি ৮৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬৩১টি বই ছাপানোর জন্য মোট ২০টি প্যাকেজে ৯৮টি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে দরপত্রের মধ্যে ১৭টি লটের দরপত্র প্রক্রিয়ায়।

দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান তারা টিপিএস কোম্পানি লিমিটেড মোট ২৬টি লটে দরপত্র জমা দেয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এনসিটিবির প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অডিটোরিয়ামে সব উপস্থিত দরদাতা ও তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সামনে দরপত্র উন্মোচন  করে দেখা যায় তারা টিপিএস মোট ১৭টি লটে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মনোনীত হয়েছে। লটনম্বর গুলো হলো- ৭০৪, ৭১০, ৭১৩, ৭১৪, ৭৭৫, ৭৭৬, ৭৮৩,  ৭৮৪, ৭৮৫, ৭৮৬, ৭৮৭, ৭৮৮, ৭৯৩, ৭৯৪ এবং ৭৯৮। ওই বছরের ১ জুন সাত সদস্য বিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করেন এবং ৪ জুনের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন কাজ সম্পন্ন করে।

কিন্তু মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা টিপিএস কোম্পানি লিমিটেড ১৭টি লটে প্রাথমিকভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হলেও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রাথমিক মূল্যায়নের সময় তাদের দরপত্র নেয়া হয়নি। কারণ হিসেবে দেখা যায়, তারা টিপিএস কোম্পানি দরপত্রের সাথে প্রিন্টিং পেপার ও কভার পেপারের স্যাম্পল জমা দেয়নি। শুধু প্রিন্টিং পেপার ও কভার পেপারের একটি শিট দরপত্রের সাথে জমা দিয়ে, যাতে লট নম্বর উল্লেখ ছিল না। অথচ বিড ডকুমেন্টের সেকশন-৩ ‘এক্সপেরিয়েন্স ও টেকনিক্যাল ক্যাপাপাসিটি’ অংশে বলা আছে, প্রত্যেক বিডারকে প্রতিটি বিডের জন্য প্রচ্ছদের নমুনা কপি ও প্রিন্টিং পেপারের নমুনা কপির পৃথক তিন সেট দাখিল করতে হবে, যা বিড ইভালুয়েশন কমিটি কর্তৃক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরীক্ষায় যদি উত্তীর্ণ না হয় তাহলে বিড বাতিল বলে গণ্য হবে।

তবে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযোগে তারা টিপিএস বারবার দাবি করেছে তারা প্রয়োজনীয় সকল নমুনা কাগজ সংযুক্ত করেছেন। এনসিটিবির সংশ্লিষ্টরা ওই কাগজ সরিয়ে তাদের দরপত্র বাতিল করেছেন। বর্তমানে দুদক এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে সংস্থাটির উর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে  টিপিএস কোম্পানির বাংলাদেশের প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ সই করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা টিপিএস কোম্পানি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ৯৮টি লটের মধ্যে ২৬টি লটের ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। উক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণ করে বিধি ও দরপত্রের শর্তাবলি অনুযায়ী ২৬টি লটের প্রয়োজনীয় পে অর্ডার, ব্যাংক গ্যারান্টি, বাৎসরিক টার্ন ওভার, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কভারেজ ও প্রিন্টিং কপির নমুনা ও অভিজ্ঞতা সনদপত্রসহ এনসিটিবির টেন্ডার বাক্সে দাখিল করে। এরপর ২৬টি লটে সর্বনিম্ন দরদাতা মনোনীত হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু একটি চক্র তারা টিপিএস কোম্পানিকে টেন্ডারে অযোগ্য প্রমাণ করা জন্য কোম্পানির মূদ্রিতব্য কাগজের নমুনা ও স্যাম্পল কপি দরপত্রে সাথে জমা দেয়নি। অথচ তারা টিপিএস আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে তাদের দাখিলকৃত টেবিল অব কনটেন্টস-এ নমুনা জমা দেওয়ার বিষয় লিপিবদ্ধ করে, যা পরবর্তীকালে যাচাইকালেও সংযুক্তির বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই মধ্যে এ বিষয়টি প্রকিউরমেন্ট এনসিটিবির সচিব ও ন্যাশনাল কারিকুলাম অব টেক্সটবুক বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে ১৭টি লটে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্বেও কেন তারা টিপিএসকে কেন কার্যাদেশ দেওয়া হলো না সে বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দুদকের সাহায্য প্রয়োজন। অভিযোগটি ২০১৬ খ্রিসটাব্দের ৪ আগস্ট দুদকের দাখিল করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিনের কাছে জানতে চাইলে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্য্ন্ত কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। দরপত্রের শিডিউল ও পিপিআর অনুযায়ী যে সকল ঠিকাদাররা বিট করেছে, তারাই কাজ পেয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিও শিটে নাম না আসায় শিক্ষকের আত্মহত্যা

সাতক্ষীরা,১০ অক্টোবর: সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় এমপিও শিটে নাম না আসায় লোকলজ্জার ভয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বিধান চন্দ্র ঘোষ (৪২) নামে এক শিক্ষক।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিষপান করলে তাকে ভর্তি করা হয়।
বিধান চন্দ্র ঘোষ তালার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাঁতী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) এবং দৌলতপুর গ্রামের মৃণাল কান্তি ঘোষের ছেলে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, বিধান চন্দ্র ঘোষ ২০০২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের মিনিস্ট্রি অডিটের সময় তার সনদ সংক্রান্ত ত্রুটি দেখা যায়। তিনি নিয়মিত বেতনও উত্তোলন করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও শিটে তার নাম না থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে লোকলজ্জার ভয়ে তিনি বিষপান করেন।

তিনি জানান, পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাকা দিয়ে কেনা দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত।প্রধান শিক্ষককে তলব

টাকা দিয়ে কেনা দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী লাইব্রেরীয়ানকে তলব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। রোববার (৭ অক্টোবর) অধিদপ্তর থেকে তাদের কাছে এ সংক্রান্ত এক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সহকারী লাইব্রেরীয়ান মো: সামছুল আলম ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদর্শন করে হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান এবং পরে টাকার বিনিময়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ সংগ্রহ করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে সহকারী লাইব্রেরীয়ান মো: সামছুল আলম ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদর্শন করে হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। পরে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ সংগ্রহ করে ম্যানেজিং কমিটিকে টাকা দিয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী লাইব্রেরীয়ান মো: সামছুল আলম।

প্রধান শিক্ষককে সহকারী লাইব্রেরীয়ান মো: সামছুল আলমের সকল সনদ, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র সিএসকপিসহ স্বশরীরে উপস্থিত থেকে মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের কক্ষে প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের যারা বিত্তশালী, সম্পদশালী তাঁরা তো একটু হাঁচি-কাশি হলেও বিদেশে চলে যেতে পারে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো আর সেই সুযোগ পায় না। বড়লোক বিত্তবানরা যাক, তাতে আমাদের সিট খালি থাকবে। সাধারণ মানুষ চান্স পাবে। আমার আপত্তি নাই।’

রবিবার বিকেলে গণভবনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন- বিএমএর আয়োজনে চিকিৎসক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন ডাক্তার রোগীর সাথে কথা বলেও কিন্তু রোগীর অর্ধেক রোগ ভালো করে দিতে পারেন। ডাক্তারদের কাছ থেকে মানুষ সেই সেবাটাই চায়। আমি আশা করি সেই সেবাটাই দেবেন। আমার দেশের সাধারণ মানুষ যারা মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত যাদের বিদেশে যাওয়ার মতো সঙ্গতি নাই- তাদের চিকিৎসা সেবাটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ পুলিশের

ডেস্ক: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা সুবিধা বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের এডিসি আজিমুল হক নিজে শাহবাগে এসে এ অনুরোধ করেন। এর আগে বুধবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ৬ দফা দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমতে থাকে।রাত আড়াইটায় ভিড় কমে যায় ও ভোর ৪টার প্রায় খালি হয়ে যায়। তবে সকাল হতে হতে জনসমাগম বাড়বে বলেও জানান নেতারা।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের এডিসি আজিমুল হক শাহবাগে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বলেন, ‘রাত বলে কোনও বাঁধা দেওয়া হয়নি। দিনের বেলা রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না। ওপরের নির্দেশে এখানে আমি ছুটে এসেছি। দিনের বেলা রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না।’

এডিসির কথার জবাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা রাজপথেই থাকব। কোটা বাতিলের আন্দোলনেও রাস্তা অবরুদ্ধ ছিল।’

মেহেদীর এই কথার জবাবে এডিসির পাশে থাকা শাহবাগ থানার একজন এসআই বলেন, ‘তাহলে তাদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়েছে, আপনাদের ক্ষেত্রেও তাই হবে।’

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরি থেকে সব ধরনের কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগদান করে। রাত ৯টায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ৬ দফা দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- (১) সামাজিক মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। (২) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। (৩) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করতে হবে। (৪) মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। (৫) স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও বংশধরদের চিহ্নিত করে সরকারি সব চাকরি থেকে বহিষ্কার, নাগরিকত্ব বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত নিতে হবে। (৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৪ অক্টোবর উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক,৩ অক্টোবর: আগামী ৪ থেকে ৬ অক্টোবর ৪র্থ উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে এই উন্নয়ন মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) বিকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব নজীবুর রহমান এ তথ্য জানান।

নজীবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এ মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।’

নজীবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্ব নেতারা। তরুণ প্রজন্ম উন্নয়ন মেলায় এসে যেন নিজেদেরকে নতুনভাবে আবিস্কার করে সে আয়োজন থাকছে। তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতের জন্য একটা নতুন পাথেয় নিয়ে ফিরবে।’

তিনি বলেন, ‘মেলায় উদ্ভাবনী কিছু বিষয় থাকবে। শহরের সুবিধা কীভাবে গ্রামে পৌঁছাবে সেটা তরুণ প্রজন্ম উপলব্ধি করতে পারবে এই মেলায়। এই মেলায় ডেল্টা প্ল্যান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখ্যসচিব বলেন, ‘যেকোনও দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব একটা বিষয়। আমাদের উন্নয়ন নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে জনগণের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা এ মেলার অযতম উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা জেলা প্রশাসন শেরেবাংলা নগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে এবারে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা আয়োজন করেছে। এ মেলায় স্টল থাকবে ৩৩০টি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ মেলায় সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর অংশগ্রহণ করবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোঠা বাতিল

শিশির দাস: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বুধবার (৩ অক্টোবর) মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এর আগে গত সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সরকার গঠিত সচিব কমিটি।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেড রয়েছে। এর প্রথম গ্রেডে অবস্থান করেন সচিবরা। আর প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের শুরুটা হয় নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের মধ্যে। একজন গেজেটেড বা নন গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, ও শর্তসাপেক্ষে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা অর্থাৎ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিধান রেখেছে সরকার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে এই ৫৬ শতাংশ কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনও কোটা তুলে দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ দেয়নি ওই কমিটি।

এ প্রতিবেদনে মুক্তিযোদ্ধা কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার আদালতের পরামর্শ চাইবে এমন কথাও বলা হয়েছিল। সচিব কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার আগে এ বিষয়ে আদালতের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা উনি রাখবেন। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচিব কমিটি ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এখন আর পিছিয়ে পড়া কোনও জনগোষ্ঠী নেই। সবাই এগিয়ে গেছে। তাই তাদের জন্য কোনও কোটা রাখার সুপারিশ করা হয়নি।
কীভাবে ও কবে এ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে আবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুমোদনের জন্য যাবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ার পর এ প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।’

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবি বা সংস্কার নিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিন থেকেই। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ অসন্তোষ আন্দোলনে রূপ নিলে তা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এ ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও আটকের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১১ এপ্রিল সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বা সংস্কারের প্রয়োজন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সচিব কমিটি গঠন করে সরকার।
তবে এই কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ রাখা না রাখা বা পরিমার্জন, পরিবর্ধন করার এখতিয়ার সরকারের।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কালকিনিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণ-সচেতনতামূলক সভা

কালকিনি : ট্রাফিক সচেতনতা, প্রচলিত আইন কানুন ও সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য আইন সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণ-সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে বাল্য বিয়ে ও মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

আজ রোববার দুপুরে কালকিনি থানা পুলিশের উদ্যোগে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, উপজেলা চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান শাহিন, কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুল হক সিরাজী, ওসি কৃপা সিন্ধু বালা, আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক লোকমান সরদার, সহকারী অধ্যক্ষ মোঃ বশির আহম্মেদ, কলেজ শিক্ষক মুজিবুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক বিএম হেমায়েত হোসেন প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩২

মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

এ বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন।

সোমবার তিনি বলেন, “আলোচনা হচ্ছে, প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি, খুব তাড়াতাড়ি হবে। খুব তাড়াতাড়িই জানতে পারবেন।”

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হলেও অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, “এন্ট্রিটা বাড়তে পারে আশা করছি।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার সুপারিশ করে।

শফিউল বলেন, “স্থায়ী কমিটি সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা শেষ করেছেন, এখন আমরা প্রস্তাব তৈরির কাজে হাত দেব।”

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরিতে প্রবেশের বয়স দুই বছর বাড়তে পারে বলেও আভাস দেন ওই কর্মকর্তা।

২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। তবে অধ্যাদেশ জারির কারণে তা ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

এছাড়া গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬০ বছর করার ঘোষণা দেন।

অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর পর চাকরিতে প্রবেশের বয়সও বাড়ানোর দাবি ওঠে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে। এ নিয়ে আন্দোলনের পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন তারা।

চাকরিপ্রার্থীরা যুক্তি দেখান, সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে বেসরকারি ব্যাংকসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও ৩০ বছরের বেশি বয়সীদের নিয়োগ দেয় না। ফল বেসরকারি ক্ষেত্রেও চাকরির সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

২০১৬ সালের মে মাসে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমরা যুব বয়সের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে চাই। এজন্য আমরা চাই সকলে সময়মত পড়াশুনা করে চাকরিতে প্রবেশ করুক। এজন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।”

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free