Home » নিউজ

নিউজ

‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২১জানুয়ারী:

আরও একবার শিক্ষাখাতে বড় সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বর্তমান সরকারের ২৬তম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের ৩২৯টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) নির্মাণ করা হবে। এতে সরকার খরচ করবে ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

আজকের একনেক সভায় প্রায় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিক শিল্প পার্ক, সিরাজগঞ্জ (তৃতীয় সংশোধনী)’ প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘এসআরডিআই-এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সিসিবিএস)’ প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন, জামালপুর (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প ও ‘কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা মড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, ‘লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক (আর-১৪৫) ও লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী (জেড-১৪০৫) সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প এবং ‘ভোলা (পরান তালুকদারহাট)-চরফ্যাশন (জরমানিকা) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।


মুজিববর্ষ উপলক্ষে ছবি আঁকা ও রচনা প্রতিযোগিতা

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ছবি আঁকা ও রচনা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন:



কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা। গত ১৩ জানুয়ারি সোমবার উপজেলা আইনশৃংখলার সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে এ নির্দেশ দেন।

আইনশৃঙ্খলা সভায় ইউএনও বলেন, নতুন বছরে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলার শিক্ষা সেক্টরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে শুদ্ধি অভিযান চালাবেন। তিনি বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর নানা বিষয় খতিয়ে দেখার ব্যাপারেও কঠোর ঘোষণা দেন।

আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ’কে উদ্দেশ্য করে ইউএনও বলেন, “আপনি উপজেলার সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ধরনের কোন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নিন।

উপজেলা প্রশাসনপাড়ায় অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা, সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) মো. নুরুল হক প্রমুখ।


দেশে সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৩ লাখেরও বেশি

ডেস্ক,১৯ জুলাই:

এই মুহূর্তে দেশে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৮ পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। এছাড়া দেশে মোট ১২ লাখ ১৭ হাজার ৬২ জন সরকারি চাকরিজীবী রয়েছে।

রোববার বিকেলে একাদশ সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক তিনটি প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। এর আগে, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৯০ জন কর্মকর্তা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত। সংসদে সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি’র ব্যাখ্যাও দেন প্রতিমন্ত্রী। বিএনপি’র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক বিভিন্ন কারণে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। জনস্বার্থে যেকোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই এটি একটি নিয়মিত পদায়ন হিসেবেই বিবেচিত হয়। সাধারণত বিশেষ কিছু কারণে কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওএসডি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৮ পদ শূন্য আছে। তিনি বলেন, ‘শূন্যপদ পূরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়মিত নিয়োগ হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭ তম বিসিএস এর মাধ্যমে ১ হাজার ২৪৮ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাডারে, ৩৯ তম বিসিএস এর মাধ্যমে ৪ হাজার ৬১২ জনকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। সর্বমোট ৫ হাজার ৮৫৯ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়। এছাড়া ৪০তম বিসিএস এর মাধ্যমে ১ হাজার ৯১৯ টি বিভিন্ন ক্যাডারে শূন্যপদে নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগ এবং দপ্তরে ৮৮ হাজার ১২৩টি পদ সৃজনের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৯ম থেকে ২০ তম গ্রেডের সর্বমোট ৮৬৪টি পদে নিয়োগের ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে। আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগবিধি কার্যক্রম শেষ না হয় এবং পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া কিছু শূন্যপদ পূরণ করা যায় না বলেও উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী।

চলতি মাসেই প্রাথমিকে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি!

অনলাইন ডেস্ক:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ধাপে সারাদেশে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ হাজার ৩০০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, নতুন করে আরো ২৬৩০০ জন প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। তবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা না করতে নিয়ম করা হয়েছে। তবে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকেই এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিকে নতুন চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণদের চলতি মাসেই পদায়ন দেয়া হবে। যোগদান পাওয়া এসব শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ক্লাস করানোর দায়িত্ব দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সারাদেশে শূন্য আসনের ভিত্তিতে মোট ১৮১৪৭ জনকে চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচন করা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে নিজ নিজ উপজেলায় এসব শিক্ষকদের পদায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জানা যায়, জানুয়ারি মাসের মধ্যে পদায়ন কার্যক্রম শেষ করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন সিদ্ধান্ত অনূযায়ী এসব সহকারী শিক্ষকরা সরাসরি ১৩ গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা পাবে। তবে যোগদানের পর তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। আগে সহকারী শিক্ষকদের ১৫ গ্রেডে যোগদান করতে হত। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে তারা ১৪ গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা দেয়া হত। বর্তমানে যোগদানের পরেই প্রশিক্ষণ ছাড়াই সহকারী শিক্ষকদের ১৩ গ্রেডে বেতন-ভাতা দেয়া হবে।

এদিকে, সরকার প্রাথমিকের শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন দাবি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপে বেতন বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই প্রধান শিক্ষকদের আরো এক ধাপ গ্রেড উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড দেয়া হবে।

মঙ্গলবার গোপালগঞ্জে মিড-ডে-মিল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করতে ও ঝরে পড়ার হার নির্মূলে মিড-ডে-মিল কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ১৬টি উপজেলার ২ হাজার ১৬৬ বিদ্যালয়ের ৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৮ শিক্ষার্থীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে মিড-ডে-মিল উদ্বোধন করা হয়।

এর অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩৩টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড- ডে-মিল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। আমরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করছি। ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের ১১ গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩ গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড দেয়া হবে।

জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক সব দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া হবে, তবে আমরা চাই, শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। পরবর্তী প্রজন্মকে যদি সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব না হয়, তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

বর্তমানে শতভাগ ছেলেমেয়েরা স্কুলে ভর্তি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যের বই বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ ও প্রতিটি শিক্ষার্থীর মায়েদের হাতে উপবৃত্তি বাবদ অর্থ তুলে দেয়া হচ্ছে।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমলমতি শিশুদের মুখে রান্না করা খাবার তুলে দিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতি: দায়িত্ব) সোহেল আহমেদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রতন চন্দ্র পন্ডিত, প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খান, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি মাহফুজ আলম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাকিব হোসেন তরফদার, পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা, কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


১ জানুয়ারী সুখবর পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ ডিসেম্বর: ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্বল্প সুদে গৃহ ঋণ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালে যে নীতিমালা করেছিল সুদের হারের দিক থেকে এখন তা আরো শিথিল করেছে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে তা কার্যকর হবে।

সোমবার নীতিমালা সংশোধন করে গৃহ ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এই হার আগে ছিল সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। সুদের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না।

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক প্রায় এক বছর ধরে স্বল্প সুদে এ ধরনের ঋণ দিয়ে আসছে।

মূল নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১০ শতাংশের মধ্যে ব্যাংক হার অর্থাৎ ৫ শতাংশ সুদ দেবেন ঋণ গ্রহণকারী, বাকি ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে। নীতিমালার ৭.১ (ঘ) (৩) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, নতুন সুদের হার শুধু নতুন ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী চাকরির গ্রেড মেনে ২০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ ঋণ পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। শুরুতে বেসামরিক ও সামরিক কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা চালু করা হলেও পরে বিচারক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও এ তালিকায় যুক্ত হন।

ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ডেন এওয়ার্ড পেলেন দর্শনার লিটিল এনজেলস ইন্টাঃ স্কুল

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,২৯ ডিসেম্বর: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত লিটিল এনজেলস ইন্টাঃ স্কুুল কে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক ‘জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ অর্জন করেছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ কুমার দ্ত্ত। প্রধান শিক্ষক বিকাশ কুমার দত্ত বলেন লিটিল এনজেলস ইন্টাঃ স্কুল প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে দর্শনার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে। ২০১৮ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি দামুড়হুদা উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৮ টি এ+ সহ ১৪ জন বৃত্তি পেয়েছে। ২০১৯ সালেও এ ধারাবাহিকাতা অক্ষুন্ন রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বলেন, ২০২০ সালকে আমরা হ্যান্ড রাইটিং দিবস ঘোষনা করেছি। সকল শিক্ষার্থী যেন হাতের লেখা সুন্দর করতে পারে সে লক্ষে কাজ করছি।
ঢাকা সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাাঁচার মেলা মিলনায়তনে গত শনিবার রাতে “আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের ভূমিকা” শীষক আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো: আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি শিকদার মকবুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী ও চেয়ারম্যান বিএলডিপি এম. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, উদ্বোধক ছিলেন আজকের সূর্যদয়’র সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মোজাম্মেল হক (গেদু চাচা), বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ গণ আজাদীলীগের মহাসচিব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ আলম চুন্নু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এমএইচ আরমান চৌধুরী।


নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় বিজয় দিবস পালন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,১৭ ডিসেম্বর:
সোমবার ভোরে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা করা হয়। পরে শহরের হাসান চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পতাকা উত্তোলনের পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সরকারি-বেসরকরি সংগঠনগুলো শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

এরপর সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন ষ্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জাতীয় পতাকা উত্তলোন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কুচকাওয়াজ প্রদর্শন। কুচকাওয়াজে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউট, শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র -ছাত্রীরা। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার জাহিদুল হাসান।

পরে সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


আজব কান্ড-শিক্ষা অফিসারের গলায় জুতা

পিরোজপুর প্রতিনিধি,১৪ নভেম্বর:

পিরোজপুরের কাউখালিতে শিক্ষা অফিসারকে জুতার মালা পড়ানোর মামলায় উপজেলার চার প্রাথমিক শিক্ষককে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এদের মধ্যে একজনকে এক বছর ৬ মাস ও তিনজনকে ৬ মাসের করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বুধবার দুপুরে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ এর বিচারক মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার কাউখালী উপজেলার ১নং সয়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়া, ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বাদল হালদার, ১৪নং মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শ্যামল হালদার ও ৩৭নং শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল খান।

আদালত মো: উজ্জ্বল মিয়াকে এক বছর ৬ মাস ও অন্য ৩ জনের প্রত্যেককে ৬ মাসের করে কারাদন্ড প্রদান করেন।

এর মধ্যে সয়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়া এক‌ই ঘটনায় বিভাগীয় মামলায় সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ (৩)(ঘ) মোতাবেক চাকরি হতে বরখাস্ত হয়েছেন। একই অভিযোগে বাকি তিনজনের মধ্যে বাদল হালদার ও শ্যামল হালদার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এবং আব্দুল জলিল খান চাকরির ৫৯ বছর পূর্তি হওয়ায় বেতন ভাতা না পেয়েই অবসরে আছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন জানান, শিক্ষক মো: উজ্জ্বল মিয়ার নেতৃত্বে অপর ৩ শিক্ষক তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি জুতার মালা প্রস্তুত করে ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল ইসলামের গলায় পরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

তারা নিজেরাই আবার এ ঘটনা নিজেদের ক্যামেরাম্যান দিয়ে ছবি করিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সরবরাহ করে। বিভাগীয় তদন্তে ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালে অভিযুক্ত ওই ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক বিভাগীয় মামলা দায়ের সহ তাদেরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিভাগীয় মামলার তদন্তে চার জন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককেই চাকিরী থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

পরবর্তীতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০৯ সালে পিরোজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি ৫০০/৫০১ ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।


দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বদলির দাবিতে মানববন্ধন

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুজ্জামানকে দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মকারী অভিযোগ তুলে বদলির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুলকার নাঈম বায়েজিদ।

মানববন্ধন চালাকালীন বক্তব্য দেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি দুলাল মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিংকু মাহমুদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সুইট মাহমুদ, শহর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সহসাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ বকুল, জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ। এ সময় মানবন্ধনে ছাত্রলীগ নেতা আশিক, আলিফ, জনি, মনি, হিরা, আরিফুল ইসলাম, তানমুন ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তরা বলেন, একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ শিক্ষককে মেহেরপুরে থেকে তাকে অন্যত্র দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষক মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি অনিয়মে সেøাগান সম্বলিত ফেস্টুন বহন করছিলো।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামানকে দুর্নীতির দায়ে ঝিনাইদহ থেকে মেহেরপুরে বদলি করা হয়। ঘুষ নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ছাত্র ভর্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকের খোলা চিঠি

ডেস্ক,৩০ অক্টোবর:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে দাবি মেনে নিতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকরা। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জন করবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর পরও সরকার দাবি মেনে নিতে গড়িমসি করলে পরে ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করবেন শিক্ষকেরা। এতেও সরকারের টনক না নড়লে শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ঝুলানোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার ধামরাইয়ের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমস্যা সমাধানে লিখেছেন খোলা চিঠি। সাইদুল ইসলাম নামে ঐ শিক্ষকের ফেসবুকে দেওয়া লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা আপা।

প্রথমে আমার সহস্র কদমবুচি নিবেন! আমি জানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আপনার নজরে আছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে সে ছুটাছুটি করবে এটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি মানবতার মা! আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন! শিক্ষকদের যেনো আর রাস্তায় নামতে না হয়! শিক্ষকেরা যেন বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারে এবং পাঠাদানে মনোযোগী হয় সেই ব্যাবস্থা করে দিবেন আশাকরি!

নার্সরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ম গ্রেড পেতে পারে কৃষিরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ গ্রেড পায় তাহলে আমরা ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা কেন ১১ গ্রেড পাবো না!

একজন শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে ৯৭০০ টাকা বেতন পান সর্বসার্কুল্যে ১৬০০০ টাকা! এই ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে তার পরিবার কে চালাবেন?

একটি বাসা ভাড়া নিতে গেলে নূন্যতম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। বাকি টাকা দিয়ে কি পরিবার চালানো সম্ভব? বাকি টাকা দিয়ে মাসের ১৫ দিন টেনেটুনে চলতে হয় এবং ১৫ দিন মুদির দোকানে ঋণ করে চলতে হয়। বর্তমানে এক কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা সেখানে শিক্ষকের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা!

একটা ছেলে যখন অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে চাকরিতে নিযুক্ত হয় তখন তার বাবা মা এবং তার পরিবার তার ওপরে অনেক আশা ভরসা করে! আমরা সেই হতভাগ্য শিক্ষক আমরা আমাদের বাবা মায়ের সেই আশাটুকু পূরণ করতে পারি না!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর! আপনি মানবতার মা! আপনি পারেন না এমন কিছুই নেই! আপনি চাইলে সবকিছু করতে পারেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি শুনেছি! আপনি একদিন এক বক্তব্যে বলেছিলেন,আওয়ামী লীগ মানে বিলাশ বহুল জীবন যাপন নয়!

আওয়ামী লীগ মানে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো!আমার বিশ্বাস আপনি এই অসহায় শিক্ষকদের ফিরিয়ে দেবেন না! আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের সসম্মানে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমরা শিক্ষকেরা যেনো আপনাকে সারা বিশ্বের মধ্যে আবারও একবার মাদার অব হিউম্যানিটি উপহার দিতে পারি।আমার সামান্য কথাগুলো আপনি বিবেচনা করে দেখবেন।


সাকিবের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ডেস্ক,২৯ অক্টোবর: বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের সমানে বিক্ষোভ করেছেন তারা। ‘নো সাকিব নো ক্রিকেট’ স্লোগানে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তারা। এ ছাড়া চট্টগ্রামেও বিক্ষোভ করেছেন সাকিবভক্তরা। এ ছাড়া সাকিবের জন্মস্থান মাগুরায় বুধবার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানবন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করলেও আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালকে না জানানোর কারণেই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে দোষ স্বীকার করায় শর্ত সাপেক্ষে এক বছরের শাস্তি স্থগিত করেছে আইসিসি। সেই শর্ত ভঙ্গ না করলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির হন সাকিব আল হাসান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আবার ক্রিকেটে ফিরে আসতে দেশবাসী, সকল ভক্ত, সরকার এবং মিডিয়ার সহায়তা চেয়েছেন। আগে যেভাবে ভক্তরা তাকে সহায়তা করেছেন সেটা করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। সকলের সমর্থন পেলে আরও ভালো ও শক্তভাবে ফিরে আসতে এবং দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন সাকিব আল হাসান।

সাকিব আল হাসান যে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে- মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে তা প্রথম প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি দেশে-বিদেশে এখন আলোচনায়। মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে প্রতিবেদনটি প্রথম সংস্করণ ও নগর সংস্করণে পৃথক শিরোনামে প্রকাশিত হয়। নগর সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘১৮ মাস নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব’। আর প্রথম সংস্করণের শিরোনাম ছিল, ‘জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করেন সাকিব’।

সোমবার গভীর রাতে সমকালের প্রিন্ট সংস্করণ বাজারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন ফেলে প্রতিবেদনটি। পত্রিকার ছবি তুলে পাঠকরা রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেশি সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি জায়গা করে নেয় বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও।


শিবির সন্দেহেই বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক,১৩ অক্টোবর:
শিবির সন্দেহেই বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৯ আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিদের জবানবন্দিতে বলা হয়, মূলত শিবির সন্দেহেই আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যার কারণ হিসেবে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের শুরুর দিকেই আবরার হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হবে। নভেম্বর মাসেই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার রাতে বুয়েটে পুলিশের কোনো টহল টিম ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন রাত ৩টা পর্যন্ত বুয়েট এলাকায় পুলিশের একটি টিম টহল দেয়। কিন্তু তারা এ সময় কোনো হইচইয়ের শব্দ পাইনি।

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ অক্টোবর, ২০১৯
শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আজ। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটছে বাঙালির শারদোৎসবের। পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে শেষ হয়েছে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিও।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এ জন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।



সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন)। দেবী স্বর্গলোকে বিদায়ও (গমন) নেবেন ঘোটকে চড়ে, যার ফল হলো ফসল ও শস্যহানি। অর্থাৎ এবার দুর্গা দেবীর আগমনে পৃথিবী থেকে শস্য ও ফসলের বিনাশ হবে।

এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ৪৮৩টি বেশি। আর ঢাকা মহানগরীর এবারের পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৩৭টি, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি বেশি।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রথম দিন আজ ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী তিথিতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, সোমবার মহানবমী এবং মঙ্গলবার বিজয়া দশমী। শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়ার শোভাযাত্রা।

দুর্গোৎসব চলাকালে পূজার প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগআরতির আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে দুর্গোৎসব চলাকালে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় পংকজ সাহা, রাহুল বড়ূয়া ও রবার্ট নিক্সন ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাপস বল জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা ঘটবে আজ। পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে বিজয়া শোভাযাত্রা।

রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে মহাষ্টমী ও কুমারী পূজার দিনে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ। রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যনাট্য ও নাটক পরিবেশিত হবে। গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বনানী পূজামণ্ডপে পূজার পাঁচ দিনই পরিবেশিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পূজামণ্ডপেও অনুরূপ আয়োজন থাকছে। জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দিরে আলোচনা সভা ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে দরিদ্রদের মধ্যে।

এ ছাড়া রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, পুরান ঢাকার অভয়নগর দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, ঢাকেশ্বরীবাড়ী, শাঁখারীবাজারের পান্নিটোলা, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজারের পঞ্চানন শিবমন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, ওয়ারী সর্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপ, উত্তর মৈশুণ্ডী, ফরাশগঞ্জ জমিদারবাড়ি, বিহারীলাল জিও মন্দির ও মতিঝিলের অরুণিমা সংসদ পূজা কমিটির মণ্ডপসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


ছাত্রীর সর্বনাশ করলেন পল্টন থানার ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ সেপ্টেম্বর:
রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ ‍উঠেছে। জানা যায়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক ছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের করেন তিনি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে মাসের পর মাস শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।


ওই তরুণীর অভিযোগ, তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে ওসি গর্ভপাতের শর্তে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি গর্ভপাত করান। তবে এরপর মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বিয়ে করেননি। একপর্যায়ে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দেন ওসি মাহমুদুল। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর অভিযোগ করেছেন ওসির বিরুদ্ধে। তদন্তে সে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, জমা পড়েছে তদন্ত প্রতিবেদনও। এরপরও মাহমুদুল হক পল্টন থানার ওসি হিসেবে বহাল তবিয়তেই কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র মতে, মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী ওই তরুণীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তরুণী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি সরকারি একটি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওসি মাহমুদুল হক আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাকে ঢাকায় ডেকে আনেন। আমাকে রাখার জন্য পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলের একটি রুমে নিয়ে যান। সেখানে হোটেল বয়কে দিয়ে আমার জন্য স্যুপ নিয়ে আসান। আমি খেতে না চাইলেও জোর করে খাওয়ান। এরপরই আমি ঘুমিয়ে পড়ি।’

ওই তরুণী বলেন, ঘুম ভাঙলে দেখি রাত ২টার মতো বাজে। ওই সময় মাহমুদুল হক আমার পাশেই শুয়ে ছিলেন। আমি বুঝতে পারি, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছি। মাহমুদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমাকে ভালোবাসেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় জানিয়ে তিনি আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই তরুণীর অভিযোগ, এরপর প্রতি সপ্তাহেই ওই তরুণীকে ঢাকায় ডেকে এনে একই হোটেলে নিয়ে যেতেন মাহমুদুল হক। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি বুঝতে পারেন, অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ কথা মাহমুদুল হককে জানালে তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গর্ভপাত করতে বলেন এবং একপর্যায়ে তার কথায় রাজি হয়ে গর্ভপাত করান ওই তরুণী।

তিনি জানান, দু’জনের সম্মতিতে তাদের মধ্যেকার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবিও ধারণ করা হয়েছে, যেগুলো ওই তরুণীর কাছে রয়েছে।

ওই তরুণী বলেন, মাহমুদুল হক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাকে বিয়ে করেননি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল আমার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করেন দেন। আমি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছি এসময়। পরে আমার পরিবার সবকিছু জানতে পারলে তারা মাহমুদুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। এসময় আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়, পল্টন থানার ওসির অনেক ক্ষমতা, বাড়াবাড়ি করলে আমার অনেক ক্ষতি হবে। আমি ঢাকার বাইরে একটি চাকরি করছি। সেখানেও আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন মাহমুদুল হক।

ওই তরুণী বলেন, সবশেষে বাধ্য হয়ে আমি মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানকে বিষয়টি জানাই। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন বলেও জানান। মাহমুদুলের বাবাকেও বিষয়টি জানাই। তবুও কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করি। মাহমুদুল হক আমাকে বিয়ে না করলে আমি আদালতে মামলা করব।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে ওসি মাহমুদুলের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোনালিসা বেগমকে। তদন্ত শেষ করে তিনি প্রতিবেদন ডিএমপি সদর দফতরে পাঠিয়েও দিয়েছেন। সেখান থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবেদনে মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। পল্টনের হোটেল ক্যাপিটালে নিয়ে যাওয়া বিষয়ে ওই তরুণী যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা ঠিক। প্রতি মাসেই ওই হোটেলে ওসি পল্টনের নামে এক বা একাধিক দিন বুকিংয়ের তথ্য মিলেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ বছরের ১৭ মার্চ ওই হোটেল থেকে চেকআউট করেন ওসি মাহমুদুল। এছাড়া কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও ওসি ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক রোববার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সূক্ষ্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

ওসি মাহমুদুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করেছেন সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোনালিসা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল ও ভুক্তভোগী মেয়েটির ব্যাপারে তদন্ত শেষ করে ডিএমপি সদর দফতরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কেবল বলেন, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

ডিএমপির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এডিসি মোনালিসার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার তা গত বুধবার পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর ওসি মাহমুদুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ওসি মাহমুদুল হক ২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি নওঁগা জেলায়। চাকরি জীবনে তিনি একটি গুরুদণ্ড-ব্ল্যাক মার্ক এবং ২২টি লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের ২ জুলাই পল্টন থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter