Home » দৈনিক শিক্ষা (page 4)

দৈনিক শিক্ষা

শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক,৪ মার্চ:
রাজধানীতে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া কলেজগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব কলেজে অনুমোদিত আসনে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না সেসব কলেজের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ আসন বাতিল করা হবে। পরবর্তী বছরও অনুমোদিত আসনের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে সেসব কলেজের একাদশ শ্রেণির শতভাগ আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

এছাড়া অনুমোদনহীন অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদিত আসন বাতিল হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কত শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে বা কোথায় কী পরিমাণে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে না চাইলেও নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানোর অভিযোগও রয়েছে। বিগত বছরে এমন বেশ কয়েকটি কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

সূত্র জানায়, ঢাকা বোর্ডের অধীন প্রায় এক হাজার ৫২টি সরকারি-বেসরকরি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে দুই শতাধিক কলেজের বিভিন্ন বিভাগে ৫০ থেকে ১০০টি আসনের অনুমোদন দেয়া হলেও সেখানে এক থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা আলাতুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৫০টি আসনের মধ্যে চারজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যাত্রাবাড়ী শহীদ জিয়া গালর্স কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৫০টি আসনে আটজন, পাশেই রং মেলা আকবর মোল্লা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৫০টি আসনে দুজন, ধানমন্ডির প্রেসিডেন্সি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৫০টি আসনে দুজন, কাজী আব্দুল আওয়াল কলেজের ৫০টি আসনে দুজন, নয়া পল্টন লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০টি আসনে দুজন, ভাকুপ্তা ইউনিয়ন কলেজের ১০০টি আসনে একজন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা বোর্ডের অধীন ঢাকা মহানগর ও জেলাপর্যায়ে এমন দুই শতাধিক কলেজে ৫০ থেকে ১০০টি অনুমোদিত আসন থাকলেও সেখানে এক থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

অন্যদিকে, রাজধানীর অনেক নামিদামি কলেজ শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা চালু করে বোর্ড থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত আসনের অনুমোদন নেয়। অনুমোদন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত আসনের অনুমোদন বাতিলেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জাগো বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসনের অনুমোদন নেয়া হয়েছে অথচ সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে না সেখানে আসন অর্ধেক কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না সেসব কলেজে আসন কমিয়ে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যেসব প্রতিষ্ঠানে এক থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে তাদের অনুমোদিত আসনের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হবে। এরপরও যদি সেখানে ভর্তি না হয় তবে আগামীতে একাদশ শ্রেণির ভর্তির অনুমোদন বাতিল করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা চালু করে শিক্ষা বোর্ড থেকে ভর্তির অনুমোদন নিয়েছে। সেসব অনুমোদনও বাতিল করা হবে। অনুমোদন ছাড়া শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করার সুযোগ দেয়া হবে না। অনুমোদন পেলে সেখানে ভর্তির জন্য আসন অনুমোদন দেয়া হবে।

এদিকে আগামী ১০ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম। ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। এতে প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন আগামী ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। ২৭ থেকে ৩১ জুন যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। ৮ জুন প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তনকারীরা ১ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় ধাপের আবেদন ১৭ জুন শুরু হয়ে চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। একই দিন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় ধাপের আবেদন ২৩ জুন শুরু হয়ে চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। ২৫ জুন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া একাদশ শ্রেণির ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এ নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ নীতিমালার অনুমোদন দেয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

নতুন নীতিমালায় কোটা বাতিল, রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি, এসএমএস আবেদন বাতিলসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মাদরাসা শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারির এমপিওর চেক ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ মার্চ, ২০২০

মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি (২০২০) মাসের এমপিওর চেক ছাড় হয়েছে। অনুদান বণ্টনকারী রাষ্ট্রায়াত্ত চারটি ব্যাংকে চেক পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকরা আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা তুলতে পারবেন। সোমবার (২ মার্চ) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মাদরাসার এমপিও আদেশের স্মারক নম্বর ৫৭.২৫.০০০০.০০২.০৮.০০৪.১৯- ১১৩

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি (২০২০) মাসের এমপিওর চেক ছাড় হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৮ই মার্চ পর্যন্ত নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।

স্কুল কলেজের এমপিওর আদেশের স্মারক নম্বর: ৩৭.০২.০০০০.১০২.৩৭.০০৪.২০১৯/১৪৩৮/০৪


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ মার্চ, ২০২০
৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের সময় বাড়িয়েছে ঢাকা বোর্ড। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ফরম পূরণ ও ফি জমা দেয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যার্থ হলে দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর বর্তাবে। রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টাকা। রোববার (১ মার্চ) ঢাকা বোর্ড থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সঠিকভাবে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করার সময় বাড়ানো হল।

জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে OMES/eSIF বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য দিতে হবে। Dashboard থেকে eSIF JSC ক্লিক করে Payable fees of JSC 2020 এ Applicant name, mobile no. এবং Number of Student দিয়ে Print Sonali Seba এ ক্লিক করে সোনালী সেবার স্লিপটি প্রিন্ট করতে হবে।

ব্যাংকে ২০ ঘন্টার মধ্যে পেমেন্ট ক্লিয়ার করলে নির্ধারণকৃত শিক্ষার্থীদের eSIF পূরণ করা যাবে। পেমেন্ট ক্লিয়ারের পুনরায় সোনালী সেবার স্লিপ বের করতে পারবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
আদেশ দেখতে ক্লিক করুন।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মুজিববর্ষে মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের বিষয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মার্চ, ২০২০
মুজিববর্ষকে সামনে রেখে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে রোবটিক্স আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ইন্টারনেট অফ থিংসসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রথমে কতগুলো স্কুলকে পাইলট প্রকল্পের আওতায়ে এনে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এসব বিষয়গুলোকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলের শিক্ষাক্রমে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত স্কুলগুলোতে একটি করে রোবোটিক ক্লাব চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সভাকক্ষে শিক্ষাক্রমে রোবটিক্স ইন্টারনেট অফ থিংস এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অন্তর্ভুক্তকরণ সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
সভায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্তির কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে রিপোর্ট দেবে এ কমিটি।

সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে রোবটিক্স আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ইন্টার্নেট অফ থিংসসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপযোগী করে গড়ে তুলতে তাদেরকে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পারদর্শী করতে হব। এই লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে হতেই কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিগুলো যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মস্থ করতে পারে সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আহমেদ নুর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক, জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র সাহা ও সদস্যরা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের স্কুল শুরু হচ্ছে সকাল ১০টায়

ডেস্ক,২৭ ফেব্রুয়ারী:  এক সমাবেশে মায়েদের ১০টায় স্কুলের সময়সূচি করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নান্দাইল থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ১০টায় স্কুল শুরুর সময়ের একটা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এই পদ্ধতি সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিনামূল্যে বই বিতরণের পাশাপাশি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে পোশাক ও বেগ দেয়ার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হবে খুব শীঘ্রই। তাছাড়া নতুন ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ থেকেই স্নাতক পাস ছাড়া কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ ও একটি মা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন থেকে সারা বছরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন। কোনো রকম তদবির লাগবে না।’

অন্যদিকে সমাবেশে মায়েদের ১০টায় স্কুলের সময়সূচি করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নান্দাইল থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ১০টায় স্কুল শুরুর সময়ের একটা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এই পদ্ধতি সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজার ১৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেছিলেন। তার পর কত সরকার এল কিন্তু কোনো সরকারই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণ করেনি। বাবার পর আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের সারাবছর বদলির ব্যবস্থা করেছেন।’

জাকির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সরকার নারী বান্ধব সরকার। তার সরকার নারীদের জন্য সম্ভব সব কিছু করছেন।’

সমাবেশে আগত মা’দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা হচ্ছেন ছেলেমেয়েদের প্রথম শিক্ষক। আপনারা মা হিসাবে ছেলেমেয়েদের সহযোগিতা দেবেন। আমরা দেব মানুষ তৈরি করার যাবতীয় অস্ত্র।’

এরপর প্রতিমন্ত্রী উপজেলার চামারুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করেন। সমাবেশ শেষে বিকেল চারটায় স্থানীয় চন্ডীপাশা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সব প্রাথমিক শিক্ষককে একসাথে বদলী

ডেস্ক,২৬ফেব্রুয়ারীঃ

ছুটির সরকারি নির্দেশনা অগ্রাহ্য  করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়ায় গুইমারা উপজেলার বুদংপাড়া  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে অন্যত্র শাস্তিমূলক বদলি করা  হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদেরকে বদলিকৃত বিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার  নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে  স্টুডেন্টস কাউন্সিল পরিদর্শনে আসেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. নুরুল আমিন চৌধুরী। তিনি ওই দিন বেলা ৩টা ৪৫  মিনিটে বুদংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিটি কক্ষে তালা ঝুলতে  দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর প্রধান হিসেবে  খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীকে অবহিত করেন জেলা  শিক্ষা কর্মকর্তা। সেদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেলার  অন্তত ১৩টি স্কুল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা  মেহের ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বুদংপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরামর্শ চাওয়া হয়।  পরবর্তীতে তার নির্দেশ অনুযায়ী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা  আক্তারসহ সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলির আদেশ ২৪ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে।

গুইমারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  হিটলারুজ্জামান জানান, সেদিন স্টুডেন্টস কাউন্সিল থাকায় বেলা ১টা পর্যন্ত  স্কুল খোলা ছিল। কিন্তু  ছুটির নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষকরা ছুটি দিয়ে  চলে যাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া  হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উষেপ্রু  মারমা বলেন, ‘স্টুডেন্টস কাউন্সিলের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ছিলাম। অথচ সময়ের  আগেই ছুটি দেওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না।’

প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারকে অপেক্ষাকৃত  দুর্গম এলাকা বলে পরিচিত পাশের উপজেলা মাটিরাঙার যতন কুমার সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়। তার স্থলে মাটিরাঙা  শ্মশানটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজল কুমার ঘরজাকে  প্রধান শিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে বুদংপাড়ার অন্য ৬ শিক্ষকের মধ্যে  সুধন চন্দ্র দে, রেজাউল করিম, মমতা রানী দত্তকে মাটিরাঙা এবং আফরোজা  চৌধুরী, রাবাই মারমা ও মাসুইনু মারমাকে গুইমারার অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী  স্কুলে বদলি করা হয়। প্রত্যেককে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে  যোগদান করতে আদেশক্রমে নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় ১ মার্চ থেকে তারা বর্তমান  কর্মস্থল থেকে তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

বুদংপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক শামীমা আক্তার জানান, স্টুডেন্টস কাউন্সিল শেষে শ্রেণি কার্যক্রম না  থাকায় বেলা ৩.৪৫ মিনিটে বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, শামীমা আক্তার এ বছর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঢাবির সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

ঢাবি প্রতিনিধি,২৫ ফেব্রুয়ারী:
আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্সের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সান্ধ্য কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিসহ সব ধরনের কার্যক্রম আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার জন্য একটি সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে ১৮ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

উপাচার্য বলেন, সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার সময়োপযোগী নীতিমালা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “কমিটিকে আগামী ৫ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণ ক্ষমতানুযায়ী দেশে সান্ধ্য কোর্স নতুন করে খোলা হবে নাকি থাকবে না, তা নির্ধারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় সাতঘণ্টা একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের উপস্থিতিতে সান্ধ্য কোর্সের বৈধতার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করা হয়। এসময় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হতে যাওয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অংশ নেবে কিনা তা নিয়েও মতামত দেন শিক্ষকরা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

২০২২ সাল থেকে প্রাথমিকে দুই বছরের প্রাক্-প্রাথমিক

ডেস্ক,২৪ফেব্রুয়ারীঃ
দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হবে। আর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হবে দুই বছর মেয়াদি। ফলে শিশুরা চার বছরে স্কুলে ভর্তি হবে। এর আগে আগামী বছর থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের একটি স্কুলে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক চালু হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ক্লাসরুম উপযোগী করে তুলতে সারাদেশে নতুন করে আরো ৩০ হাজার ‘শিশু উপযোগী শ্রেণিকক্ষ’ নির্মাণ করা হবে। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের বয়স উপযোগী কারিকুলামও প্রণয়ন করা হবে।

২০১০ সাল থেকে সীমিত আকারে এবং ২০১৩ সাল থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। কিন্তু সরকারিভাবে বাংলাদেশে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস চালু না থাকায় বেসরকারি উদ্যোগে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রসার ঘটছে। এশিয়ার মধ্যে জাপান, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ভারতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দুই বছর মেয়াদি, যা সে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক এক বছরের পরিবর্তে দুই বছর করার জন্য নীতিগত অনুমোদন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সারসংক্ষেপে প্রাক-প্রাথমিক দুই বছরের করার যৌক্তিকতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৯৯টি বিদ্যালয়ে শুধু প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ আছে এবং ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক জন করে সহকারী শিক্ষক (প্রাক-প্রাথমিক) কর্মরত আছেন। এছাড়া, আরো ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এক জন করে সহকারী শিক্ষকের (প্রাক-প্রাথমিক) পদ সৃজন করা হয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলমান।

তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় চার বছরের বেশি বয়সি শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৪ জন। নতুন ক্লাস চালু হলে এ শিশুরা সেখানে ভর্তি হবে। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ জন শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষক নিয়োগে নতুন আদেশ নিয়ে তোলপাড়

শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সারাদেশের মাদাসায় শিক্ষক নিয়োগে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের প্রতিনিধি করার এক আদেশ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারকে বাদ দেয়ায় সৃষ্ট অসন্তোষের মধ্যেই বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের জারি করা আদেশ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষকদের মাঝে।

মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষায় সক্রিয় শিক্ষক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের ক্ষমতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচীর ডাক দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

এদিকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আদেশ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে রাজি না হলেও কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, এ আদেশে তারা করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। তবে সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠনের নেতারাও শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার এমন আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় এ ঘটনায় অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তার সুযোগ নেবে অনেকেই। যা সঙ্কটের কারণ হতে পারে। তাই এমন কিছু করা যাবে না যা সরকারকে বিব্রত করবে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির পদে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বাইরে গিয়ে নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই অসন্তোষ বেড়েছে। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার আগে মাদরাসা শিক্ষা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি শাখা। আর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে সব সময় আছেন বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষকরাই। ফলে নিয়োগে ডিজির প্রতিনিধিও রাখা হয় সরকারী কলেজর শিক্ষক কিংবা শিক্ষা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। কিন্তু মাদরাসা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পরই এ পদে নিয়োগ পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য। গত ১ বছর আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর এক আত্মীয়র সঙ্গে গোপন বৈঠকের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টির মধ্যেই বিদায় নিতে হয় মহাপরিচালকদের। সেখানে আবার নিয়োগ পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা। এখন ডিজি হিসেবে আছেন অতিরিক্ত সচিব সফিউদ্দিন আহমদ।
এসব ঘটনায় সৃষ্ট অসন্তোষের মধ্যেই মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে সরকারী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আদেশ জারি করেছে অধিদপ্তর। মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে মনোনয়ন দেয়া হবে বা তারা অন্য প্রতিনিধি দেবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ সকল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করারও নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদরাসার শীর্ষ পদ দুটিতে নিয়োগ দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একটি গ্রম্নপ নানা ধরনের বাণিজ্যে লিপ্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মাদরাসা অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে স্থানীয় ও অধিদপ্তরের একটি বলয় তৈরি করে। কখনো স্থানীয় বিষয়াদি না জেনেই হঠাৎ করে একজন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দেন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি।

এছাড়া মাদরাসা অধিদপ্তরের শিক্ষা ক্যাডারের একজন উপ-পরিচালক এবং একজন সহকারী পরিচালক মিলে সব নিয়োগ কমিটি যান। সারাদেশ থেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর উপ-পরিচালককে বদলি করলেও অদৃশ্য কারণে এখনও রয়েছেন অধিদপ্তরে। নানা চেষ্টায় এ বলয় ভাঙাতে না পেরে ডিসি-ইউএনওদের মাধ্যমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগ।

কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুনসী শাহাবুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদরাসা অধিপ্তরের কর্মকর্তা নাই বললেই চলে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও সুপার, ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ কমিটিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা থাকবে। জেলা পর্যায়ে ডিসির এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি থাকবে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কমার পাশাপাশি আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আমরা মনে করেছি। তাই অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা দিয়েছি।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়োগ সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলেই আমরা স্বচ্ছতা চাচ্ছি।

এ বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসীনের মহাসচিব সাব্বির আহমেদ মমতাজী আদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সারাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনকে মর্যাদা ও কর্তৃত্ব শূন্য করার এটা একটা উদ্যোগ। আমরা এ সিদ্ধান্ত কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করি না। মাউশি অধিদপ্তরের ডিজি শিক্ষক তাই সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনকে মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার জিডি শিক্ষা ক্যাডারের নয় বলেই তার কারণেই এ ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এটা মানব না। আমরা বহুবার দেখা করে বলেছি শিক্ষা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়োগ কমিটি করার জন্য। কিন্তু তা না করে এখন উল্টো যে কাজটা অধিদপ্তর করেছে তাতে সারাদেশে অসন্তোষ হবে। শিক্ষার ক্ষতি হবে। তাই এটা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।

এদিকে স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাজাহান আলম সাজু বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় সমস্যা বাড়তে পারে। তাছাড়া এতে নিয়োগে যে অনিয়ম দুর্নীতি বাড়বে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে। তাই হুট করে এটা করা কোনভাবেই উচিত নয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকে উত্তির্ণ সবাই যোগদান করতে পারবেন-সচিব

ডেস্ক,২০ ফেব্রুয়ারী :
আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ৪০ জেলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের বাকি ২১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে তাদের পদায়নও শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আদালতে মামলা দায়ের করায় দেশের ৩৮ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। ঠাকুরগাঁও এবং লক্ষ্মীপুর জেলার নিয়োগে কোটা অনুসরণ না করায় নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ কারণে মোট ৪০ জেলায় এ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
তবে সবার জন্য সুখবর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন। তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত সকলে যোগদান করতে পারবে।

তিনি বলেন, আদালতে দায়ের হওয়া সকল মামলার স্থগিতাদেশের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে আপিল কার্যক্রম শুরু করেছি। নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাই আমরা আশা করি দ্রুত সকল মামলার স্থগিতাদেশ আসবে। এরপরেই সকলকে যোগদান ও পদায়ন করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ২০০ ধাপ পেছাল ঢাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৯ ফেব্রুয়ারী:
বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে গত আট বছরে ২০০ ধাপ পিছিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। কুয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) এর একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

টপইউনিভার্সিটিস ডটকমের দেওয়া তথ্যমতে, কিউএসের ২০১২ সালের জরিপে ঢাবির বৈশ্বিক অবস্থান ছিল ৬০১তম। আর ২০২০ সালে এসে ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাবির অবস্থান ৮০১তম।

অন্য বছরগুলোর র‌্যাংকিংয়ে দেখা যায়, ২০১২ সালের পর ২০১৩ সালে কোনো জরিপ প্রকাশ করেনি কিউএস। ২০১৪ সালে হঠাৎ করে ১০০ ধাপ পিছিয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান হয় ৭০১+ তম। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে। ২০১৮ সালে গিয়ে কিছুটা অবনমন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দাঁড়ায় ৭০১তম, এই অবস্থান ৭৫০ এর মধ্যে। এরপর ২০১৯ সালে এসে বড় অবনমন হয়ে ১ হাজারের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দাঁড়ায় ৮০১তম। ২০২০ সালেও বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে একই অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

র‌্যাংকিং পেছানো নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বড় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কম অর্থের মধ্যেও সবচেয়ে ভালো আউটপুট আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আমাদের মূল লক্ষ্য র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জন না। আসলে র‍্যাংকিংয়ের উৎপত্তি হয়েছিল একটি কমার্শিয়াল ভেনচার নিয়ে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত এবং তার পেছনের বাজেট র‍্যাংকিং একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেই মানদণ্ডে রাশিয়ার অনেক নামকরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান র‍্যাংকিংয়ে থাকে না।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

চুয়াডাঙ্গা সরকারী মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রিন্সিপালের আপত্তিকর ডান্স

জামাল হোসেন , চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : শিক্ষকরা সমাজের এমন এক ব্যক্তি যাদের দিকে তাকিয়ে থাকে সব ছাত্রছাত্রীরা। কারণ তাদের আচরণের মুহূর্তগুলি ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে খুব অনুসরণযোগ্য। কিছু কার্যকলাপ যদি মানানসই না হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে তবে তা দৃষ্টিকটু হয়।

এমনই এক ঘটনা ঘটলো চুয়াডাঙ্গা জীবননগর সরকারী মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে আনন্দ ফুর্তি করতে গিয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাহেব মঞ্চে উঠে ভাষা শহীদদের মাসে হিন্দি গানের সাথে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল ডান্স করতে থাকে তা দেখে অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিরা, চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে।
আর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ফেসবুকে ভাইরাল হতে তুলকালাম কাণ্ড বাধে। সে সাথে অভিবাবক ও সমাজের সচেতন মহলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে চাপা ক্ষোভ।
কলেজের প্রিন্সিপাল শিক্ষার্থীদের সাথে এমন নাচের ভঙ্গি দেখে অনেকেই ‘অশ্লীল’ বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত যে শিক্ষাঙ্গনে একটু তাদের মানিয়ে চলা কারণ ব্যক্তিগত জীবন অবশ্যই তাদের আছে কিন্তু তা যেন কখনোই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে। তার উপর যদি এমন ঘটনা ঘটে শিক্ষাঙ্গনে, তাহলে তো সমালোচনার মুখে পড়াটাই স্বাভাবিক।
এব্যপারে কলেজ সভাপতি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কলটি রিসিব না করায় তিনার কোনো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের ২১ হাজার ৮১৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য।

ডেস্ক,১৮ ফেব্রুয়ারী:
দেশের ৭ হাজার ১৮টি প্রাইমারি স্কুল চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। প্রশাসনিক জটিলতায় শিক্ষকদের মধ্যেও বাড়ছে দ্বন্দ্ব। একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, দাপ্তরিক কাজে তাদের মাসে অন্তত ১০ কর্মদিবসে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। যেসব স্কুলে চার জন শিক্ষক, সেখানে বাকি তিন শিক্ষককে দিয়ে চলছে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ক্লাসসহ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির ক্লাস।

দেশে বর্তমানে প্রাথমিকের ২১ হাজার ৮১৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা, ভোট গ্রহণ, শিশু জরিপ, কৃষিশুমারি, আদমশুমারি, উপবৃত্তি তালিকা প্রণয়ন ও প্রাপ্তিতে সহযোগিতাসহ ১৩ ধরনের কাজ করতে হয় শিক্ষকদের। এর মধ্যে যদি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকে, তাহলে তো ভোগান্তির সীমাই থাকে না।

রফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের তেমন উদ্যোগ নেই। যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে এত বেশি শূন্য পদ থাকত না।

তথ্য অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ২৮ হাজার ৮৩২টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অবশ্য সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদ পূরণে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের জন্য পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৭ হাজার ১৮টি শূন্য পদের মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য শূন্যপদ ৪ হাজার ১৬৬টি এবং সরাসরি নিয়োগের যোগ্য শূন্যপদ ২ হাজার ৮৫২টি। নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের ৩৫ শতাংশ পূরণ করা হয় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ পূরণ করা হয় পদোন্নতির মাধ্যমে। প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের পদক্ষেপের বিষয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সংসদে জানিয়েছেন, সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৩৫ শতাংশ পদে নিয়োগের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী এ নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩, অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩ ও ননক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা, ২০১১ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

একজন থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, শিক্ষকদের মধ্য থেকে অস্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিলে অন্য শিক্ষকেরা তাকে মানতে চান না। তাদের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তিনি সহকারী শিক্ষক, আমিও সহকারী শিক্ষক। তার নেতৃত্ব কেন মানব?

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেডেশন তালিকা সঠিক না হওয়ায় পদোন্নতি প্রত্যাশী সহকারী শিক্ষকেরা এসব মামলা করেছেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি আপাতত বন্ধ রয়েছে। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, দেশের প্রাইমারি স্কুলে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েও যোগদানের তারিখ ভিন্ন হওয়ার কারণে অনেকে গ্রেডেশন তালিকার নিচে থাকছেন। এ কারণে তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ কারণে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন শিক্ষকেরা।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আগে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির ভিত্তিতে এবং পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হতো। এখন শতভাগ পদোন্নতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সচিব বলেন, অনেকে সহকারী শিক্ষক পদটাকে ‘ব্লক পোস্ট’ মনে করে থাকেন। তাই অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী এ পেশায় আসতে চান না। তাদের উত্সাহ দিতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বিসিএসে প্রবেশের সুযোগ ৩২ বছর কেন নয়? হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী
সাধারণ বিসিএসে প্রবেশের সুযোগ ৩২ বছর কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসাথে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কমিশনের বয়স, যোগ্যতা ও চাকরির আবেদনের বিধিমালা-২০১৪ এর ১৪ বিধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বয়স, যোগ্যতা ও চাকরির আবেদনের বিধিমালা-২০১৪ এর ১৪ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। রিটে সাধারণ বিসিএসে প্রবেশের সুযোগ ৩২ বছর চাওয়া হয়।

রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বয়স, যোগ্যতা ও চাকরির আবেদনের বিধিমালা-২০১৪ এর ১৪ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই বিধিতে বলা আছে, যারা সাধারণ বিসিএস ক্যাডারে পরীক্ষা দেবে, তারা ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পারবে।

অথচ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৩২ বছর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ১৪ উপবিধিতে বলা আছে, শিক্ষা ক্যাডারেও ৩২ বছর পর্যন্ত পরীক্ষার সুযোগ পাবে।

আইনজীবী বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসে ৩২ বছর পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ সাধারণ বিসিএসে অংশগ্রহণকারীরা ৩০ বছর পর্যন্ত সুযোগ পাবেন। এটা সাংঘর্ষিক। চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেন সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হয় রিটে আমরা তা চেয়েছি।

৩০ বছর পার হওয়ায় বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বিজিত শিকদারসহ পাঁচ শিক্ষার্থী রিটটি দায়ের করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের সকল সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেড পাবেন

অনলাইন ডেস্ক

সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করে ১৩তম গ্রেড করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও অনেকটাই খুশি। কারণ তাদের দাবি ছিলো ১১তম গ্রেড।

তবে গ্রেড উন্নীতকরণের পর কে পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেড কে পাচ্ছেন না, সেটা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দিয়েছে।

রাজীব আহমেদ নামে এক শিক্ষক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন গ্রেড উন্নীতকরণে কারা এর অধিভুক্ত।

বাংলাদেশ জার্নাল-এর পাঠকদের জন্য লিখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে বেতন উন্নীতকরণ করে ১৩তম গ্রেড নির্ধারণ করে। আসলে এতে বেতন বৈষম্য দূর হয়েছে কিনা তা আমার বোধগম্য নয়। সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল একটাই তা হলো প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে বেতন।

প্রধান শিক্ষকদের ১০ম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড। তারপরও কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে সেটাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সমস্যা হলো ৯ ফেব্রুয়ারির পরিপত্রটির ৫ নং কলামে শর্ত যুক্ত করে। আর এ নিয়ে আমাদের বিচক্ষণ কিছু শিক্ষক পূর্বের নিয়োগবিধীর আলোকে নিয়োগপ্রাপ্ত এসএসসি (হাতে গোনা), এইচএসসি (এদের অনেকেই বিভাগীয় অনুমতি না থাকার কারণে সার্টিফিকেট প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন না) এবং স্নাতক (তৃতীয় শ্রেণি) শিক্ষকগণকে ভিনগ্রহের প্রাণী ভাবছেন।

অনেকে অযৌক্তিকভাবে বলছেন, এসকল শিক্ষকগণ ১৩তম গ্রেড পাবেনা। যা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ শর্তাবলীর (খ) উপধারায় বলা আছে ‌‘এ বিষয়ে বিদ্যমান সকল বিধিবিধান ও আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে’।

শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ কী বলে তা একটু দেখে আসি। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর ১০ এর (১) উপধারায় বলা আছে ‘এই বিধিমালা কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ এতদ্বারা রহিত হইবে’।

এখন রহিতকরণের ব্যাখ্যায় ১০ এর (২) উপধারায় বলা আছে ‘উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত বিধিমালার অধীন যে সকল কার্যক্রম নিষ্পন্ন হইয়াছে তাহা এই বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিধিমালা জারির তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি যতদূর সম্ভব এই বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।

যদি এসকল নিয়মাবলী ঠিক থাকে তাহলে কিসের ভিত্তিতে বলছেন পূর্বের নিয়োগবিধীর আলোকে যথাযথ শর্ত মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক ১৩তম গ্রেড পাবেনা? তাই অতি বিচক্ষণ ঐ সকল শিক্ষকদের বিনয়ের সাথে বলি। সবাই মিলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি, সবাইকে যোগ্য শিক্ষক ভাবি। একাকী এগিয়ে যাবার চেষ্টা না করে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাই, তা না হলে যানজট অনিবার্য।

একই টিমে যখন সবাই আছি তখন টিম ওয়ার্ক ভালোভাবে করি, সাফল্য পাওয়া যাবে। নইলে ব্যর্থতার গ্লানি পিছু ছাড়বে না।

পরিশেষে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই এসএসসি, এইচএসসি অথবা স্নাতক (৩য় শ্রেণি) সকল সহকারী শিক্ষক ১৩তম পাবেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter