Home » দৈনিক শিক্ষা (page 30)

দৈনিক শিক্ষা

পিইসি তুলে দিলে অর্ধেক শিক্ষার্থী ঝড়ে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুলাই ১৩: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা তুলে দিলে অর্ধেক শিক্ষার্থী ঝরে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটা আলাদা কোনো পরীক্ষা নয়। আগেও প্রাথমিক ও ৮ম শ্রেণিতে পরীক্ষা হতো, এখনও সেইভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বুধবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই পরীক্ষা নিয়ে প্রায়ই কথা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষানীতিতেও বলা আছে। এটা রিভিউ করার যাবে না একথা বলছি না। তাছাড়া সমস্ত কেবিনেট বলছে এটা অব্যাহত রাখা উচিত। আমাদের অভিভাবকদের মাথায় ঢুকেছে এটা সাংঘাতিক। তাদের ধারণা বাচ্চাদের রেজাল্ট ভালো করতে হবে। এজন্য কোচিংয়ে দিয়ে আলাদা চাপ সৃষ্টি করছে। এজন্যই এটা সাংঘাতিক। তবে গ্রামে এ চাপ নেই।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা প্রাথমিক বা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বন্ধ করে দেয়। তাদের জন্যই এই পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রাথমিক ও ৮ম শ্রেণিতে একটি সার্টিফিকেটপাওয়ার জন্যই অনেকে পড়তে আসে। তাই গ্রামে এটার সুনাম রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমেছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার

ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আলেমদের শত বছরের দাবির প্রেক্ষিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো উচুমানের আলেম তৈরি হবে।

বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় প্রতিযোগিতা ২০১৭’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসলামের নামে যারা ছাত্র-শিক্ষকদের বিপথগামী করছে, তারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে। তারা দেশকে এবং ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ৫১ টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। ৩৫ টি মাদরাসাকে মডেল মাদরাসা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব মাদরাসায় কম্পিউটার ল্যাবসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ১ হাজার ৩শ ৩২ টি মাদরাসায় নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। আরো ১ হাজার ৮০০ মাদরাসায় ভবন নির্মানের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদরাসা শিক্ষার সাথে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে ৩ হাজার ১২১টি মাদরাসায় কম্পিউটার কোর্স চালু করা হয়েছে। ২৮১টি মাদরাসায় কারিগরি শিক্ষা কোর্স চালু করা হয়েছে।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জমিয়াতুল মোদার্রেছিন বাংলাদেশের মহাসচিব শাব্বির আহমদ মোমতাজী এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির প্রধান মাওলানা আবু বকর বক্তৃতা করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নড়িয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন

শরীয়তপুর: বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ১০ পার্সেন্ট সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্টের জন্য কর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা এক মানব বন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘন্টা ব্যাপী নড়িয়া উপজেলা চত্বরে এ মানববন্ধণ কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল আমিন রতন, সদস্য মাষ্টার হাসানুজ্জামান খোকন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম খান, মাষ্টার মোঃ ওবায়দুল হক ও মাষ্টার সমর কুমার মন্ডল প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঈশ্বরচন্দ্রপুর সপ্রা‌বি হঠাৎ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার

দর্শনা অফিস: দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ঈশ্বরচন্দ্রপুর সপ্রা‌বি মিড ডে মিল ও বৃক্ষরোপন কর্মসুচির উদ্ধোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম চলমান এ মিড ডে মিল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক কার‌্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কাজের সন্তোস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরতি হালসানা ও হারুন অর রশিদ জুয়েল প্রমুখ। শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপন করে তিনি ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যালয়ের ঝরে পড়া রোধ সম্ভব হবে।

এ ধরনের মহৎ কাজের উদ্যোগ নেওয়ায় এসএমসি এবং শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বাড়তি চাঁদার প্রতিবাদে সারাদেশে শিক্ষকদের বিক্ষোভ ১২ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের কাছ থেকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের ১০ শতাংশ চাঁদা গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (১২ই জুলাই) সারাদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। ওই দিন দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলাসহ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

শনিবার (৮ই জুলাই) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকগণ একই কারিকুলামের অধীন সিলেবাস ও সময়সূচিতে পাঠদান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে  বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিনের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কারণে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের  ‘বার্ষিক  ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়াসহ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ’ এর দাবি  নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল দাবিসমূহ পূরণের জন্য ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।’

কিন্তু কোন শিক্ষক সংগঠনের সাথে আলোচনা ছাড়াই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মারপ্যাঁচে ফেলে  নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুবিধাভোগী ও তথাকথিত শিক্ষক সংগঠনের কোন কোন নেতাদের প্ররোচনায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন থেকে  অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করার জন্য পৃথক দু’টি গেজেট প্রকাশ করেছেন বলে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন।

প্রকাশিত গেজেটে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ প্রদান করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাবেন সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত উল্লেখ না থাকায় নেতারা হতাশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষক-কর্মচারিদের  দাবি মেনে নেয়া না হলে সারাদেশের অবিরাম ধর্মঘট ও আমরন অনশনের মত কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা, অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়া, আলী আসগর হাওলাদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ কাওছার আলী শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান শামীম, প্রকাশনা সম্পাদক মণি হালদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরুন্নাহার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হেনা রাণী রায়, দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক আবু জামিল মোঃ সেলিম প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের কাছ থেকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের ১০ শতাংশ চাঁদা গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (১২ই জুলাই) সারাদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। ওই দিন দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলাসহ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা। শনিবার (৮ই জুলাই) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকগণ একই কারিকুলামের অধীন সিলেবাস ও সময়সূচিতে পাঠদান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিনের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কারণে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের ‘বার্ষিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়াসহ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ’ এর দাবি নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল দাবিসমূহ পূরণের জন্য ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।’ কিন্তু কোন শিক্ষক সংগঠনের সাথে আলোচনা ছাড়াই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মারপ্যাঁচে ফেলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুবিধাভোগী ও তথাকথিত শিক্ষক সংগঠনের কোন কোন নেতাদের প্ররোচনায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করার জন্য পৃথক দু’টি গেজেট প্রকাশ করেছেন বলে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন। প্রকাশিত গেজেটে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ প্রদান করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাবেন সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত উল্লেখ না থাকায় নেতারা হতাশা প্রকাশ করেন। শিক্ষক-কর্মচারিদের দাবি মেনে নেয়া না হলে সারাদেশের অবিরাম ধর্মঘট ও আমরন অনশনের মত কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা, অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়া, আলী আসগর হাওলাদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ কাওছার আলী শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান শামীম, প্রকাশনা সম্পাদক মণি হালদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরুন্নাহার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হেনা রাণী রায়, দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক আবু জামিল মোঃ সেলিম প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এইচএসসি পরীক্ষার ফল ২৩ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক :আগামী ২৩ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০১৭ এর ফল প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

রেওয়াজ অনুযায়ী, বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেবেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা গত ১৫ মে শেষ হয়। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ২৫ মে। ১০ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

হাইস্কুলের ২৬২৬ জন শিক্ষক টাইমস্কেল পাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি হাইস্কুলের দুই হাজার ছয়শ ছাব্বিশজন সহকারি শিক্ষককে টাইম স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রথম টাইমস্কেল পাবেন এক হাজার তিনশ তেত্রিশ জন। দ্বিতীয় টাইমস্কেল পাবেন একহাজার তিনশ তের জন। এছাড়াও ১৯০ জনকে তৃতীয় টাইমস্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড—এ দুটির মধ্যে কোনটি দেয়া হবে ঠিক করতে আরেকাটি সভার প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষকরা জানান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেলের ফাইল প্রায় তিন বছর যাবৎ আটকে থাকার পর ১৯শে জুন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬ জুলাই ডিপিসির সভা আহবান করেন।

সরকারি হাইস্কুলের দুই হাজার ছয়শ ছাব্বিশজন সহকারি শিক্ষককে টাইম স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম টাইমস্কেল পাবেন এক হাজার তিনশ তেত্রিশ জন। দ্বিতীয় টাইমস্কেল পাবেন একহাজার তিনশ তের জন। এছাড়াও ১৯০ জনকে তৃতীয় টাইমস্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড—এ দুটির মধ্যে কোনটি দেয়া হবে ঠিক করতে আরেকাটি সভার প্রয়োজন হবে। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস  এ খবর নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষকরা জানান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেলের ফাইল প্রায় তিন বছর যাবৎ আটকে থাকার পর ১৯শে জুন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬ জুলাই ডিপিসির সভা আহবান করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কলেজে ভর্তি বঞ্চিত ৪ লাখ শিক্ষার্থী!

নিজস্ব প্রতিবেদক :একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী। শনিবার থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হলেও এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঞ্চিতদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে। আগামী ১৫ জুলাই থেকে নতুনভাবে আবেদন গ্রহণ করে তাদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, এবার প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য তিন ধাপে কলেজ নির্ধারণ করে দিলেও পুনরায় এসএমএস দিয়ে নিশ্চয়ন (কনফার্মেশন) করেছে ১২ লাখ ৩৬ হাজার ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী।

এর মধ্যে ৮৪ হাজার শিক্ষার্থী কলেজ নিশ্চিত (নিশ্চয়ন) করে এসএমএস পাঠায়নি। আবার নিশ্চয়ন করেও ভর্তি হয়নি প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে এসব শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান জানান, আগামী ২, ৩ ও ৪ জুলাই পর্যন্ত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। তবে যারা ভর্তি হয়নি বা সুযোগ পায়নি তাদেরও নতুন করে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে।

৪ জুলাইয়ের পর ভর্তি থেকে বাদ পড়ার সঠিক সংখ্যা জানা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ভর্তি বঞ্চিত রয়েছে বা নিশ্চয়ন বা নিশ্চিত করেও এখনও ভর্তি হয়নি তাদের পুনরায় ১০টি কলেজ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেয়া হবে।

‘আগামী ১৫ জুলাই থেকে এসব আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে। ’

অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান জানান, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার রাতে সভা ডাকা হয়েছে। সব সিদ্ধান্ত ঢাকাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে একাধিক অভিভাবক  এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অনলাইনে ভর্তির জটিলতার কারণেই প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে রয়ে গেছে। ভালো ফল করেও অনেককে বিপাকে পড়তে হয়েছে, নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকরা বলেন, অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হোক নইলে ভর্তির বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হোক।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে থেকে অনলাইন ও এসএমএসে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রায় ২৫ দিন পর ৫ জুন প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে তিন দফায় আবেদন নেয়া হয়। আর ভর্তি শুরু হয় ২০ জুন থেকে, যা শেষ হয় ২৯ জুন।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করে ৪ জুলাই পর্যন্ত ভর্তির সময় বাড়ানোর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

অধ্যাপক হচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডারের আরও সহস্রাধিক শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক,২জুন:

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ চলছে পুরোদমে। শুধু সহযোগী থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সভা হবে এবারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রোববার (২ জুলাই)  জানান, পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের খসড়া তালিকা প্রস্তুত । খসড়া তালিকা কাল সোমবার অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেয়া হতে পারে। আগামী মঙ্গল অথবা বুধবার এসিআর যাচাই-বাছাই হবে। শিক্ষাসচিব দেশে ফিরেছেন গতকাল শনিবার। অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বিদেশে যাবেন ৯ জুলাই। ৭ জুলাইয়ের আগে ডিপিসির সভা অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নেই বলে  নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা অনুষ্ঠানের পরপরই  পদায়ন আদেশ জারি হতে পারে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ডিপিসি সভায় চূড়ান্ত হবে।

কারা পাবেন পদোন্নতি :  অধ্যাপক পদে বিভিন্ন বিষয়ে এবার প্রায় সর্বনিম্ন ২৫০ ও সর্বোচ্চ এক হাজার তিনশ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবসরে যাওয়া, রিজার্ভ পদ ইত্যাদি মিলে কমপক্ষে ২৫০ জন পদোন্নতির যোগ্য। এদের মধ্যে ৯ম, দশম ও এগারো ব্যাচের একজন করে। আত্তীকৃত রয়েছেন ১০ জন। বাদবাকীরা ১৪তম বি সিএসের। ১৪তম ব্যাচে প্রায় ১৮০০ কর্মকর্তা থাকলেও ১২৮৫ জন পদোন্নতিযোগ্য। তবে শিক্ষা ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

১৪তম ব্যাচের সব কর্মকর্তা অধ্যাপকের স্কেলে বেতন পাচ্ছেন।

অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, সেই হিসেবে ডিপিসি সভাপতিকে বোঝানো হবে যে, এঁদেরকে পদোন্নতি দিলে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি নেই। সচিব স্যার রাজী হলে প্রায় একহাজার তিনশজন পদোন্নতি পাবেন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষকরা জানান, তাদের একই পদে ১২ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে হয়। পদোন্নতির জন্য আর কোনো ক্যাডারে এভাবে অপেক্ষা করতে হয় না।

জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চনা চলছে। অন্য ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হলেও এই ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ কারণে বিভিন্ন কলেজে জুনিয়ররা চাকরিতে সিনিয়রদের ওপরে উঠে গেছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত -শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ জুন: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০ হাজার ৫১৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিকের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পদ শূন্য আছে প্রায় ২ হাজার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম ও এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই তথ্য জানান।

এ কে এম মাঈদুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তাই এই পদের নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন থেকে সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৪ তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে সুপারিশ করে ৮৯৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রার্থীদের নিয়োগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রত্যয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ধর্ম, ভূগোল, ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, কৃষিশিক্ষা বিষয়ে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। পিএসসি গত বছরের ১৪ আগস্ট সহকারী শিক্ষকের (বিষয়ভিত্তিক) শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৪৫০ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে। সুপারিশ করা ব্যক্তিদের পুলিশি প্রত্যয়ন চলছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি: ১০ শতাংশ কোটাধারীরাও থাকছেন

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক,৩০জুন:

বি সি এস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সহযোগী অধ্যাপকদের পদোন্নতির লক্ষ্যে তৈরি করা খসড়ায় শুরুতে বাদ দেয়া হয়েছিলো ১০ শতাংশ কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের।

তবে, আগামী রোববার নাগাদ খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে শতাংশ কোটাধারীদেরও তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিনে জনাবিশেক ১০ শতাংশ কোটাধারী পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা  জানান, ১০ শতাংশধারীদের বাদ দিয়েই খসড়া তৈরি হয়। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়।পিএসসির বিধান মেনে তাদেরকে পদোন্নতি দেয়া হবে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অবহেলায় এসিআর খোয়া যাওয়ায় ঈদের আগে পদোন্নতি কমিটির সভা বসতে পারেনি বলে জানান কর্মকর্তারা।

সরাসরি বি সি এস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান বেশিরভাগ সরকারি কলেজ শিক্ষক। এছাড়া জাতীয়কৃত কলেজ থেকে শিক্ষকরা আত্তীকৃত হয়ে ক্যাডারভুক্ত হন।  এছাড়া রাষ্ট্রপতির কোটায় ১০ শতাংশ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কোটায় নিয়োগ পেতে আলাদা আবেদন করতে হয়।

উচচতর ডিগ্রিধারী বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সরকারি কলেজে চাকরির সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ২০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি চালু করেন। এরশাদের আমলে সেটা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। সরকারি কলেজ শিক্ষকরাও এখন এই সুযোগ নিয়ে থাকেন। ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা, মানে এমফিল, পিএইচডি অথবা সব ফার্স্টক্লাশ অথবা প্রকাশনা না থাকলে ১০ শতাংশ কোটায় আবেদন করা যায় না।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা আছে: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৯ জুন:   শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সকলের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতি জেলায় একটি করে সাধারণ-বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা আছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার [২৯ জুন] সকালে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি বেগম পিনু খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে  সকাল ১০টা ৫ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়।

নুরুল ইসলাম নাহিদ সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তন্মধ্যে ৩৯টি সরকারি এবং ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ভর্তির জন্য মোট ৬ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৮টি আসন রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরও দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক আইন অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে বিলটি রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সকলের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রতি জেলায় একটি করে সাধারণ-বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত দেশে ৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নতুন বিধিতে জাতীয়কৃত কলেজে শিক্ষক নিয়োগ চায় বিসিএস শিক্ষা সমিতি

নতুন জাতীয়কৃত ও ভবিষ্যতে জাতীয়করণযোগ্য কলেজসমূহের শিক্ষকদের নন-ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ, পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা চায় সরকারি কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন বি সি এস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। এই সমিতির সদস্যদের মধ্যে ইতিপূর্বে জাতীয়কৃত কলেজ থেকে সরাসরি শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকৃত শিক্ষক রয়েছেন কয়েক হাজার।

বি সি এস শিক্ষা সমিতি নতুন জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে এ বিধিমালার খসড়াসহ এটি বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে এ সংক্রান্ত একটি পত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছেন তারা।

চিঠিতে সমিতির নেতৃবৃন্দ দাবী করেন, অন্যান্য ক্যাডারের মত পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগযোগ্য হবেন। নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে ক্যাডারে নিয়োগ, পদায়ন, আত্তীকরণ বা পদোন্নতি কোনটাই তারা মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে সমিতির নেতারা সংশ্লিষ্টদের জাতীয়করণের ক্ষেত্রে শিক্ষানীতির অধ্যায় ২৭ এর ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণের স্বার্থ সংরক্ষণ অক্ষুণ্ন রেখে নতুন জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করেন।

একইসাথে ওই বিধিমালায় জাতীয়করণের আওতাভুক্ত কলেজসমূহের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন ‘জাতীকরণকৃত কলেজের শিক্ষকগণ বদলি হতে পারবেন না।’ অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তারা।

আর এই বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করতেই এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করেছেন বলে দাবী করেছেন বি সি এস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা।

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গুণগতমানের শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক প্রয়োজন : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছি।

এখন সকল ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টার ফলেই আমরা অগ্রসর হতে পেরেছি। শিক্ষানীতি অনুসরণ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমবায় সমিতি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গুণগতমানের শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছনে পড়ে আছি। অনেক শিক্ষক নৈতিকভাবে শিক্ষকতা করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। আমরা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ভাল মানুষ তৈরি করতে চাই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হায়দার আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর উদ্দিন সিদ্দিক।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রধান শিক্ষক যখন ছাত্রী-শিক্ষিকার প্রধান আতঙ্ক

ডেস্ক,১৭ জুন: নারী সহকর্মীর গায়ে হাত দেওয়া, যৌন নিপীড়ন, কিশোরী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো –কোন অভিযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে? তাঁর এক নারী সহকর্মী যেমন বললেন, ‘সে বলত, এই পোশাক ভালো না, চলো আমি তোমাকে পোশাক কিনে দেব, জুতা কিনে দেব। প্রায় দিনই সন্ধ্যায় সে আমাকে ফোন দিত। ফোন দিয়ে বলত, তোমাকে নিয়ে বলধা গার্ডেনে যাব, হাতিরঝিলে যাব, পার্কে যাব। তোমাকে ফোন দিলে তুমি চলে এসো। তার ফোন দেখলেই আমি আতঙ্কে থাকতাম।’

শুধু বলেই ক্ষান্ত নন তিনি। করেও দেখান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় ক্ষমতা খাটিয়ে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের অনেক কিছু করতে বাধ্য করেন।

আলোচিত এই শিক্ষকের নাম সরদার হেলাল উদ্দিন। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক শিক্ষিকা। এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের পাহাড়।

ওই শিক্ষিকা  বলেন, গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তিনি খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ওই সময় হিজাবসহ বোরকা পরতেন। কিন্তু স্কুলটিতে যোগদানের দিনই সরদার হেলাল উদ্দিন তাঁকে জানান, এই স্কুলে বোরকা পড়া যাবে না। তখন ওই নারী শিক্ষক খেয়াল করেন, স্কুলটির অন্য শিক্ষিকারাও বোরকা পরেন না। পরে তিনি বিষয়টি মেনে নেন এবং হিজাব-বোরকা ছাড়াই কাজ শুরু করেন।

স্কুল ছুটি হওয়ার পর ওই প্রধান শিক্ষক তিনজন শিক্ষিকাকে অকারণে বসিয়ে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কাজ ছাড়াই বসিয়ে রাখত। বলত, আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি, আমাকে দেখতে এমন লাগছে। আমি যতদূর সম্ভব স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। তাঁর আচরণ সম্পর্কে স্কুলের দুজন শিক্ষিকাকে অল্প অল্প কিছু বলেছিলাম।’

ওই নারী বলেন, ‘১৩ জুন সকাল ১০টার সময় প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিন আমাকে ফোন দিয়েছে। ফোন দিয়ে বলেছে তোমার টাকা জমা দেওয়ার বইটা নিয়ে বের হও, তোমাকে নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাব। কাজ শিখানোর জন্য বোর্ডে কীভাবে এসে কাজ করতে হয় তা শিখে যাও। শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পথে রিকশায় করে শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে যায়।’

তবে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষক রিকশার হুড তুলে দেন জানিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, ‘আমি তাকে বলি স্যার হুড ওঠানোর দরকার নাই, আমি এভাবে বসতে পারছি না। রোদ নেই তবে কেন হুড উঠিয়ে দিচ্ছেন? রিকশায় কিছু দূর যাওয়ার পর সে আমার সাথে…। অনেক বাজেভাবে অশালীন আচরণ করেছে। সে আমার মোবাইলটাও হাতে রাখতে দেয় নাই, আমাকে জোরে চেপে ধরে রেখেছে। এমন সব বাজে বাজে কাজ করছিল, যা বলা অসম্ভব। এ সময় আমি লোকলজ্জার ভয়ে কিছুই বলতে পারছিলাম না। রিকশা থেকে নামার পর সে আমাকে বলে শুক্রবার আমাকে ফোন দিলে যেন আমি বের হই, সে আমাকে নিয়ে গাজীপুর যাবে। সেখানে গিয়ে তাঁর সাথে আমাকে সময় কাটাতে হবে। সে বলে ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে আমাকে দিবে।’

রিকশা থেকে নেমে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে মামলার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে স্কুলের অনেক ছাত্রী বলেছে যে তার চরিত্র ভালো না। সব কিছু মিলিয়ে আমি ১৪ জুন মামলা দায়ের করেছি। এ সময় স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল আমার সাথে। পিটি করাতে গিয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া, পিঠে হাত দেওয়াসহ ক্লাস এর ভেতরেও সে অনেক খারাপ কাজ করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এগুলো আমাকে বলেছে এবং অনেক শিক্ষার্থী এই সব ঘটনার বিষয়ে থানাতেও অভিযোগ করেছে।’

ওই নারীর মা  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর দুই ছেলে এক মেয়ে। গত বছর তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একটি বুটিক শপে কাজ শুরু করেন। সেই সঙ্গে তাঁর বড় মেয়ে সংসার চালাতে অনেকগুলো টিউশনি করতে শুরু করেন। কয়েক মাস আগে এক ভাইয়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তাঁর মেয়েকে স্কুলটিতে যোগদান করতে বলেন সরদার হেলাল উদ্দিন। তবে সেখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর ওই শিক্ষকের কুনজর পড়ে বলেও জানান ওই মা।

শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরার প্রসঙ্গে ওই মা বলেন, ‘কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় সে রিকশায় উঠে আমার মেয়ের সাথে বাসায় আসার আগে পর্যন্ত যা ইচ্ছা করেছে। এমন আচরণ করেছে যা বলতে পারছি না, আবার বলে এমন হয় এতে মনে করার কিছুই নাই। আমার মেয়ে যখন বাসায় ঢুকছে তখন হতভম্ব হয়েছে এবং কান্নাকাটি করে বাসায় ঢুকেছে। আমি জিজ্ঞাস করেছি কী হয়েছে বল। বলে না শুধু কান্নাকাটি করে। অনেক পরে বলছে, হেলাল স্যার আমার সাথে আজ এই এই করেছে। এরপর আমি নিজে প্রধান শিক্ষককে ফোন দেই, ফোনে তাকে এত কিছু বলি কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয় না। ফোন কেটে দেয়, এরপর আমার ফোন আর ধরে না।’

ঘটনার পরের দিন ওই নারী শিক্ষকের মা স্কুলে গিয়ে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শুধু আমার মেয়ে নয়, স্কুলের অনেক ছাত্রীদের সাথেই তাঁর এমন আচরণ। তাঁর বিচার হোক যেন অন্য কারো সাথে আর এমন না করতে পারে।’

স্কুলের মেয়েদের বুক ডাউন

সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবার নতুন নয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে যখন তিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে কিছু শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ‘শারীরিক শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনে হেলাল স্যার আমাদের অত্যাচার করেছে। তিনি জানেন স্কুলের মেয়েরা বুক ডাউন দিতে পারে না, তাঁর পরেও তিনি মেয়েদের বুক ডাউন দিতে বাধ্য করেছেন। আমাদের এমন সব কাজ করিয়েছেন, তাতে ছয়জন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার সরদার হেলাল স্যারের কঠোর শাস্তির আবেদন করছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হেলাল উদ্দিন সব সময় ছাত্রদের বিভিন্ন অজুহাতে আতঙ্কের মধ্যে রাখেন। আর ছাত্রীদের নানা রকম অজুহাতে গায়ে হাত দেন। এমন অভিযোগ অনেকবার স্কুল কমিটির কাছে করা হয়েছে। সর্বশেষ খিলগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ

এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খিলগাঁওয়ের স্থানীয়দের অনেক রকম অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের পাশের একটি বাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা আমরা এলাকবাসী সবাই জানি। তাঁকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই তিনি কিছু মাস্তান দিয়ে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখাতেন।’

স্কুল কমিটি ও সহকর্মীদের  অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুল কমিটির একাধিক সদস্য কাছে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘সরদার হেলাল উদ্দিনের নানা রকম অপকর্মের জন্য তাকে অনেকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে, ২০০৯ সালে অনেক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালের জুলাই মাসে তাঁর বরখাস্ত প্রত্যাহার চেয়ে তিনি একটি আবেদন করেছিলেন। ২০১১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা একটি লিখিত আবেদন করেছিল সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।’

ছাত্রদের এমন অভিযোগের পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হেলাল উদ্দিনের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। এর জবাবে তিনি কমিটির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চান বলেও জানান ওই সদস্য।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ জুন সরদার হেলাল উদ্দিনের নামে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্কুলের অন্য ছাত্রছাত্রীদের দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘কয়েক জন ছাত্রছাত্রী থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব কিছু শুনে আমরা ওই শিক্ষিকার দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করেছি এবং সরদার হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

Share
Tweet
Share
Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter