Home » দৈনিক শিক্ষা (page 30)

দৈনিক শিক্ষা

জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন থাকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। সঠিক তথ্য জানা না থাকলে বহুদিনের লালিত স্বপ্নও মাঝপথে এসে ব্যাহত হয়। স্বপ্ন বাস্তবায়ন তখন সুদূরপরাহত হয়। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলে প্রথমেই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার উচিত স্বচ্ছ ধারণা রাখা।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের কাছে জাপানের নাম তালিকার শীর্ষের দিকেই থাকে। সূর্যোদয়ের এ দেশটিতে বর্তমানে বহু বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। আর এর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিমাণটাও নেহাত কম নয়। জাপানে এত বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট হওয়ার কারণও আছে অনেক। সে বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে দেশটির উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ, জাপানের বন্ধুভাবাপন্ন সংস্কৃতি আর আবহাওয়ার কথা।
এসব দিক বিবেচনা করলে জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আপনার আগ্রহ বাড়বেই। কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে গিয়ে পড়াশোনা করার ঝক্কিটাও কম নয়। জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে শিক্ষার্থীরা প্রথমেই যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেটি হলো প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব। কীভাবে সেখানে যাবেন, কোথায় পড়বেন, কীভাবে ভর্তি হবেন, পড়াশোনার খরচ কেমন, দ্রব্যমূল্যÑ এসব জানতে গিয়ে পড়–য়াদের প্রচুর কাঠ-খড় পোড়াতে হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাপান শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাপান শিক্ষার্থী সেবা সংস্থা বাংলায় একটি সহায়িকা বই প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো আজকের এ আয়োজনে।
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে বেশকিছু উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো হলো প্রযুক্তি কলেজ, পেশাদার প্রশিক্ষণ কলেজ, জুনিয়র কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়Ñ জাতীয়, স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। জাপানে উচ্চশিক্ষা শুরু হয় ১২ বছর মেয়াদি প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ হওয়ার পর। তাই জাপানে যাওয়ার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে বাংলাদেশ থেকে ১২ বছর মেয়াদি বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করেছেন কি না। সাধারণত আমাদের দেশের জন্য উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পাস করলেই আবেদন করা যাবে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।
বিভিন্ন কোর্সগুলোর ধারণা
জাপানে রয়েছে নানামুখী বিষয়ে পড়াশোনা করার সুবিধা। দেশটির প্রযুক্তি কলেজ, পেশাদার প্রশিক্ষণ কলেজ, জুনিয়র কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুলগুলো থেকে আপনি বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরাল, ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্স ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। এসব ডিগ্রির কোর্সগুলো সাধারণত দুই থেকে ছয় বছর মেয়াদি হয়ে থাকে।
ভর্তির যোগ্যতা
জাপানে পড়াশোনা করতে হলে জাপানি ভাষা অবশ্যই জানতে হবে। এজন্য জাপানি ভাষার ওপর কমপক্ষে ৬ মাসের কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এর বাইরেও কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য টোফেল সিবিটি স্কোর ১৫০-এর বেশি অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৫২-এর বেশি থাকতে হবে। ভাষাগত যোগ্যতা প্রমাণে আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। আপনি যদি এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় এবং ব্যাচেলর্স ডিগ্রিতে উত্তীর্ণ হন, তাহলে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। অ্যাসোসিয়েটেড ডিগ্রি, ব্যাচেলর্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও ডক্টরেট প্রোগ্রামে পড়াশোনা এবং গবেষণার জন্য আপনি জাপানে যেতে পারেন।
কোথায় পাবেন ভর্তির তথ্য
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদালয় থেকে প্রকাশিত ব্রোশিয়ার, আবেদনের গাইডবুক থেকেও পাওয়া যায় ভর্তির নির্দেশিকা। তবে অনলাইনের এ যুগে ওয়েবসাইটগুলো থেকেই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে পারেন।
একনজরে ভর্তি প্রক্রিয়া
জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির জন্য কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভর্তির আগেই যদি এ ব্যাপারে টুকটাক জেনে নেওয়া যায়, তাহলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবেন অনেকটাই।
পরিকল্পনা এবং তথ্য সংগ্রহ : প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ে পড়বেন। এ বিষয়ে জাপানে কোন ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়, তা-ও জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি পছন্দের কোর্সটিতে খরচ কেমন সেটাও জেনে নেওয়া জরুরি।
স্কুল বাছাই : সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের পরই আসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের বিষয়টি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে পছন্দমাফিক একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। তারপর সেই তালিকা থেকে নিতে পারেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য জাতীয় মানের পরীক্ষা : জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে Examination for Japanese University Admission for International Students (EJU), Japanese Language Proficiency Test (JLPT), TOEFL, IELTS, TOEIC প্রভৃতি মূল্যায়ন পরীক্ষা। তবে কোনো কোনো বিষয়ে পড়ার জন্য এসব পরীক্ষার প্রয়োজন না-ও হতে পারে।
ভর্তির জন্য আবেদন করা : পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আবেদনের নথি প্রস্তুত করে আবেদন ফি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনার আকাক্সিক্ষত এনট্রান্স পরীক্ষা : কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে একটি সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া একটি একাডেমিক কৃতিত্ব পরীক্ষা দিতে হয় উত্তীর্ণদের।
ভর্তি : এই ধাপে নির্বাচিত প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তির জন্য প্রথম বছরের একাডেমিক ফি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
জাপানে অধ্যয়নের প্রস্তুতি : ভর্তির পরপরই ভিসা, জাপানে যাওয়া ও সেখানে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভিসা পাওয়ার পরপরই বাসস্থান, বিমানের টিকিট, বীমা প্রভৃতি বিষয়গুলো ঠিক করে নিতে হবে শিক্ষার্থীকে।
আছে বৃত্তির সুবিধা
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে বিভিন্ন বৃত্তি ও টিউশন ছাড়ের সুবিধা আছে। এ সুবিধার আওতায় সম্পূর্ণ বিনা খরচেই একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৃত্তি দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। একজন শিক্ষার্থী এসব বৃত্তিতে নির্বাচিত হয়ে জাপানে পড়ালেখার জন্য যেতে পারেন। আবার সেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও আবেদন করা যায় বৃত্তিগুলোয়

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ ॥ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার খরচটাকে আমি খরচ হিসেবে দেখি না, এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আজ আমরা যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছি তারাই একদিন এ দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে তারা এগিয়ে থাকবে। তখনই এ দেশ হবে সোনার বাংলা।

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬৩ জন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক পরিয়ে দেন।

তিনি বলেন, আজ যারা স্বর্ণপদক পেল তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আজকের ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলবে। আমরা ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত করছি। ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়বে -যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি। এ গতি যেন থেমে না যায়। এ দায়িত্ব তোমাদের। কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি খুব শান্তি পাচ্ছি। কারণ, এক সময় এ দেশে মেয়েদের শিক্ষায় বিরাট বাধা ছিল। আজ যে ১৬৩ জনকে স্বর্ণপদক দিলাম তার মধ্যে ১০১ জনই মেয়ে, আর ৬২ জন ছেলে। খুব ভালো লাগার পাশাপাশি একটু খারাপও লাগছে যে, ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? আমি চাই ছেলে-মেয়ে সমান গতিতে এগুবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রেখে অামাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এবার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এটাও ধরে রাখতে হবে। কারণ, প্রবৃদ্ধি বেশি থাকলে জনগণ তার সুফল পায়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেকে গড়তে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পদক পাওয়ার পর পদকপ্রাপ্ত দু’জন শিক্ষার্থী তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা

আদম মালেক: বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছা মতো অর্থ আদায় করা হয়। এমন অভিযোগে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালা করছে সরকার। নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বারবার। টিউশন ফিসহ নানা ধরনের অর্থ আদায় করলেও তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হয়। এসব কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা থাকে না। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ অন্য শিক্ষকদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এসব অনিয়ম দূর করে অর্থিক স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘শতভাগ বেতন দেওয়া হয় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সে কারণেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা দরকার। অনিয়ম রোধে নীতিমালা করা হচ্ছে।’

সরকারি স্কুলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের আয় করা অর্থ যথাযথ ব্যবহারের কথা বলা আছে। নির্ধারিত হারে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা অর্থ খাতওয়ারি আলাদা ব্যাংক হিসাবে জামা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার কথা বলা আছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব উৎস থেকে আদায় করা অর্থ বাৎসরিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতিতে। ফরম পূরণ, টিউশন ফি, নিবন্ধন সরকার নির্ধারিত হারে চালানের মাধ্যমে জমা করার নির্দেশনা রয়েছে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। এছাড়াও আসবাবপত্র, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী কেনার কথা হয়েছে। অডিটের ব্যবস্থা রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এসব ব্যবস্থা রেখে নীতিমালা প্রস্তুত করা হবে বলে জানা গেছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শতভাগ পাস ৪০০ প্রতিষ্ঠানে, ৫৫টিতে শূন্য

ডেস্ক,১৯ জুলাই

: এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আর একজনও পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৫টি। শতভাগ পাস ও শূন্য পাস করা উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কমেছে।

২০১৭ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ পাস ছিল ৫৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ বছর ১৩২টি প্রতিষ্ঠান কমে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। তবে এবার এই সংখ্যা কমে ৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

২০১৭ সালের তুলনায় এ বছর বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৮ হাজার ৯৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৭১টি। এ বছর ১৭৪টি প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রতিটি জেলায় আরও দু’টি করে হাইস্কুলের উদ্যোগ

ডেস্ক,১৮ জুলাই: সদেশের প্রতিটি জেলা শহরে নতুন করে একটি হাইস্কুল ও একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা নিয়েছে সরকার। জেলা শহরে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম হওয়ায় বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং চিফদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সমন্বয় সভা করেন। সভায় জেলা প্রশাসকদের মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় গত বছরের ডিসি সম্মেলনে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব ছিল জেলা শহরে একটি হাইস্কুল ও একটি বালিকা বিদ্যালয় নতুন করে স্থাপন করতে হবে। জানা গেছে, এবারও ডিসি সম্মেলনে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দেশের সব জেলা শহরে নতুন করে একটি হাইস্কুল ও একটি কলেজ  পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয় সমন্বয় সভায়। কারণ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি হিসেবে অভিমত উঠে আসে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও নানা সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে জানানো হয় বৈঠকে। এসব অভিমতের ভিত্তিতে দেশের যেসব জেলা শহরে নতুন হাইস্কুল ও গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে। এরপরই বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) অরুণা বিশ্বাস  বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিসি সম্মেলনে বিয়টি চূড়ান্ত হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। কারণ এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।’

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে হাইস্কুল ও একটি করে গার্লস স্কুল করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একজন জেলা প্রশাসক চেয়েছেন। তার বিষয়টি ধরে সারাদেশের সব জেলার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে।’

শিক্ষা অধিদফতরের ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৬ হাজার ১০৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৩৫টি। তবে এ সময়ের মধ্যে আরও কিছু বেসরকারি বিদ্যালয়ের একামিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি অনুযায়ী আরও কিছু বিদ্যালয় সরকারি করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমপিওভুক্তি ভালো কার্যক্রম নয়: অর্থমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক,৩জুলাই: চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, এটি ভালো কোনো কার্যক্রম নয়। এটি শিক্ষার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে না।

অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন তরীকত ফেডারেশনের সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, এমপিভুক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম। যা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। এমপিওভুক্তিতে যথেষ্ট জালিযাতি ছিলো। যা মন্ত্রী কমানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে এমপিভুক্তি কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং ছাত্রবৃত্তি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচী বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু আপনার সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বারবার এমপিওভুক্তির কথাই বলেন।

আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে জনমনে করভীতি দূর হয়েছে। আগে জনমনে ধারণা ছিলো, একবার কর দিলেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলেছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশে করদাতার সংখ্যা ছিলো ৭ লাখ। সরকারের পদক্ষেপে তা ১৫ লাখে উন্নীত হয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশের করদাতার সংখ্যা ৩৩ লাখে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে বড় অংশ তরুণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি দলের মো. মকবুল হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কোটা নিয়ে কোনো খবর নেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পিটুনির শিকার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশনে শিক্ষক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ জুন: এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা দুদিন ধরে আমরণ অনশন পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসে আন্দোলকারীরা বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এমন কঠোর কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তারা।

গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশের রাস্তার ওপর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা আন্দোলনের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পেয়ে গত সোমবার থেকে আমরণ অনশন মতো কঠিন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। ‘সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা টি-শার্ট গায়ে ও ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ফিতা মাথায় বেধে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দাবি আদায়ে তারা বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। শিক্ষক নেতারা নানা স্লোগানে আন্দোলনকে চাঙ্গা করে তুলছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাকতা করে বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা বার বার রাজপথে নেমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের শুধু আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফেরানো হয়েছে। নিজের ন্যায্য পাওনা আজও পাইনি। বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা মানবেতন জীবন যপান করছি। এমন জীবন আমরা চাই না। বাঁচলে বাঁচার মতো বাঁচবো নতুবা আন্দোলন করে রাজপথে জীবন দেব। তবুও দাবি আদায় ছাড়া রাজপথ পথ ছাড়বো না।

Teacher-Andolon-1

শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বর্তমানে নীতিমালা, কমিটিসহ নানা আইন তৈরি করে এমপিওভুক্তি না করে আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা তা মেনে নেব না। কোনো নীতিমলার আওতায় আমাদের আনা যাবে না। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নতুন প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় ভুষণ রায়  বলেন, আমরা টানা ১৬ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরণ অনশন পালনে নেমেছি।

Teacher-Andolon-1

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো না।

তিনি আরও বলেন, রাজপথে খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এতে যদি কোনো শিক্ষকের প্রাণ যায় তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমপিওভুক্তির দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামীকাল থেকে ফের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকায় শনিবার ‘শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের’ পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা জানান, এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না থাকায় রোববার থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। আশা করেছিলাম, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু সেটি না থাকায় আমরা হতাশ। তাই রমজানের মধ্যে শিক্ষকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশের সব শিক্ষক ঢাকামুখী যাত্রা শুরু করেছেন। রোববার সকাল ৯টা থেকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে প্রায় ৩-৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত হবেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এমপিওভুক্তিকরণ দাবির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন ছেড়ে বাড়ি ফিরব না।

এ সংগঠনের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫-২০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। অনেকের চাকরি আছে মাত্র ৫-১০ বছর। এ কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর অপেক্ষায় না রেখে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই সমস্যার সমাধান হবে। এত বছর পর কোনোক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আংশিক সমাধান সমীচিন হবে না। স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কিছু সংখ্যক এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে অসুস্থ প্রতিযোগিতার উদ্ভব ঘটবে। এ কারণে এমপিওভুক্তির সামগ্রিক সমাধান করতে হবে।

উল্লেখ্য, নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে গত বছরের ২৬-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা-কর্মচারীরা। এরপর একই জায়গায় গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশন করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ৫ জানুয়ারি আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হলেন নওশের আলী

চট্টগ্রাম:

বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হয়েছেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক পূর্বকোণের চীফ রিপোর্টার নওশের আলী খান।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তিনি সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হন।

সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রস্তাব অনুসারে নওশের আলী খানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষকদের মে মাসের বেতনের চেক ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ জুন:

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের মে-২০১৮ মাসের বেতন ভাতার সরকারি অংশের টাকার ৮টি চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রোববার বেতন-ভাতার অনুমোদন দেয়া হয়। সোমবার ঈদ বোনাসের (বেতনের ২৫ শতাংশ) অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে।

মাউশি উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী (সাধারণ প্রশাসন) বলেন, মাউশির অধীনস্থ স্কুল ও কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) বণ্টনকারী অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার ঈদুল ফিতরের বোনাসের অর্থও ব্যাংকে জমা দেয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাসের অর্থ আগামী ১০ জুনের মধ্যে এ অর্থ উত্তোলন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আগামী ১০ জুন পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাব নম্বরের মাধ্যমে বেতনভাতার টাকা তুলতে পারবেন বলে  জানা গেছে।

এদিকে, বেসরকরি শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বোনাস না দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বেসরকরি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধান্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ বোনাস দেয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি।

নজরুল ইসলাম রনি বলেন, দেশে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান বেসরকরিভাবে পরিচালিত হলেও সরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বেশি দেয়া হয়। তাদের তুলনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন কম পান, তারপরও মূল বেতনের মাত্র ২৫ শতাংশ বোনাস দেয়া হয়। বর্তমান বাজারে এ বোনাসের অর্থ দিয়ে তেমন কিছু করা সম্ভব হয় না। তাই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ বোনাস দাবি করছি।

এদিকে কারগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি (বিএম), এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং মাদ্রাসা (ভোকেশনাল ও বিএম) শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের এমপিওর (বেতন ভাতার সরকারি অংশ) চেক ছাড় হয়েছে। ১২ টি চেক অগ্রণী, জনতা, রুপালী ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড প্রধান/স্থানীয় কার্যালয়ে  বৃহস্পতিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্মারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০৯১.২০.০০৫.১৮-৪৮৩,৪৮৪,৪৮৫ ও ৪৮৬। ১৪ জুন পর্যন্ত শিক্ষকরা স্ব স্ব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন।

যারা এপ্রিল মাসের বেতনের সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারেননি তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এপ্রিলের বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে মাদ্রাসার শিক্ষকদের এমপিওর কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমপিওবিহীন তৃতীয় শিক্ষকদের নাম চেয়েছে অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ জুন: এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে বিষয় অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত এমপিওবিহীন তৃতীয় শিক্ষকদের নামের তালিকা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ তালিকা তৈরিতে অধ্যক্ষের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে অধিদপ্তর। শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এমপিওভুক্ত কলেজ অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে

চিঠিতে কলেজ অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ইমেইল থেকে চিঠিতে এমপিওবিহীন তৃতীয় শিক্ষকদের নামের তালিকার সফটকপি ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ইমেইলযোগে (ncollege@dshe.gov.bd) অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কোচিং সেন্টারের জন্য রেজুলেশন তৈরির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩১মে:

কোচিং সেন্টারকে ‘ছায়া শিক্ষা’ বা সহায়ক শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে কোচিং অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন। এজন্য একটি রেজুলেশন তৈরির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে কোচিং সেন্টার সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা ও ইফতার মহাফিলে এমন দাবি করা হয়।

আলোচনায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের প্রতিনিধিগণ কোচিং সেন্টারের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

তারা বলেন, সমাজে কোচিং সেন্টার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নিজেদের প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা স্ব-প্রণোদনায় কোচিংয়ে পড়তে আসছে। বছরের বিভিন্ন সময় সরকারি ছুটি উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় ক্লাস বন্ধ থাকে। বছরে ১৯০- ২০০ দিন কোনো পাঠদান কার্যক্রম থাকে না। বছরে অন্য দিনগুলোতে নানা ধরনের স্কুল পরীক্ষা লেগেই থাকে। এসব হিসেবে সারা বছরে ক্লাস হয় মাত্র ১১৫-১২৫ দিন। এ অল্প সময়ে সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয় না বিধায় ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টারের সহায়তা নিতে হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে কোচিং সেন্টার রয়েছে। কোথাও কোথাও সহায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কোচিং সেন্টার স্বীকৃত। এছাড়া বেকারত্ব সমস্যা সমাধানেও কোচিং সেন্টার ভূমিকা রাখছে বলে জানানো হয়।

আলোচনা ও ইফতার মহাফিলে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খাঁন (নিখিল), তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল রশীদ, মাহমুদুল হাসান সোহাগ, সৈয়দ মাহবুবুল হক পলাশ, আবু রায়হান, পলাশ সরকার, মাহবুব আরেফিন প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জুনে ১২০০০ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। জুনে এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ আওতাভুক্ত সরকারি রাজস্ব খাত থেকে এসব শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৮২০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। তাছাড়া এসব বিদ্যালয়ে ২০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণে লক্ষ্যেই রাজস্ব খাতে নতুন করে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। সম্প্রতি ডিপিই এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে সভায় সভাপত্বিত করেন ডিপিইর মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্য পদগুলো পূরণে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম রয়েছে। ২০১৪ সালের স্থগিত হওয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যেই রাজস্ব খাতে নতুন করে আরো ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় রাজস্ব খাতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত ক্লাসরুম তৈরি, প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। এসব বিদ্যালয়ে শূন্য শিক্ষক পদ, প্রয়োজন অনুযায়ী সৃষ্ট পদ, প্রাক-প্রাথমিক স্তর মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter