Home » দৈনিক শিক্ষা

দৈনিক শিক্ষা

মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের আলোকে নিয়োগপত্র পেলেন প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী।

ডেস্ক,১৪ অক্টোবর:
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নং-৫০৬০/২০১৪ এর রায় এবং হাইকোর্ট বিভাগের কনটেম্পট পিটিশন নং-৭৬৩/২০১৯ এর রুল ও নির্দেশনা এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ০৮/১০/২০২০ ইং তারিখের পত্রের আলোকে ১৩/১০/২০২০ইং তারিখে নিয়োগপত্র পেলেন রাসেল ঢালী।
২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে মুন্সিগঞ্জ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। একই বছর ২১ জুন লিখিত পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন থানার ৫৭ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন, যার মধ্যে রাসেলও ছিলেন। পরে ওই বছরেরই ১৫ ডিসেম্বর ১৯টি পদের মধ্যে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী কোঠায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও রাসেল ঢালী প্রতিবন্ধী কোঠায় আবেদন করে উর্ত্তীন্ন হয়।
এ পরিস্থিতিতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন থেকে তৃতীয় শ্রেণির ওই পদে নিয়োগ বঞ্চিত রাসেল ঢালী হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেল ঢালী পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে ২৮ নম্বর পেয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রতিবন্ধী কোটা থাকার পরেও তিনি চাকরি পাননি।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পদে প্রতিবন্ধী কোটায় রাসেলকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একটি পদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিগত ১৬/১১/২০১৭ ইং তারিখ তাঁকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালীর পক্ষে মামলাটি শুনানী করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
মহামন্য হাইকোর্টের উক্ত রায়ের পরে দির্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বিবাদীগণ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে তাকে নিয়োগ প্রদান করেন নাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাসেল ঢালীর পক্ষে আদালতে Contempt Petition No. ৭৬৩/২০১৯ দাখিল করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিগত ১০/১২/২০১৯ বিবাদীদের প্রতি রুল জারী করলে কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ প্রদানের উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতের রায়ের আলোকে প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী অদ্য ১১/১০/২০২০ ইং তারিখ আজিমপুর অফিস থেকে যোগদান পত্র গ্রহণ করেন।
নিয়োগপত্র প্রসঙ্গে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগ পাওয়ায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং দেরীতে হলেও রাসেল ঢালী ন্যায় বিচার পেয়েছে।
নিয়োগ পত্র গ্রহন করার পরে রাসেল ঢালী বলেন, আমি আনন্দিত। দীর্ঘ তিন বছর অনেক কষ্ট করেছি। আইনজীবী ছিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া আমাকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর আমি প্রতিও কৃতজ্ঞ। আমার বাবার প্রত্যাশা ছিল আমি একটি সঠিক রায় পাব। তবে কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। আদালতের রায়ের আলোকে আমার যোগদান তিনি দেখে যেতে পারলে আরও ভালো লাগত।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডেস্ক,১৩ অক্টোবর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও আগের বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আগের বিধিমালা অনুসারে এসএসসি বা এইচএসসি পাস করা শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেয়া হচ্ছিল না। এ জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ও পুরাতন বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে সব শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতে অর্থমন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। সম্প্রতি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, গত ১১ অক্টোবর অর্থসচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে চিঠিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গতবছরের নভেম্বর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে।

এদিকে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের বিধিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হয়। তবে, এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে অনেক শিক্ষক এইচএসসি নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি , সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯১’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক।

অর্থ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সব শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই আগের বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সকল সহকারী শিক্ষক ১৩ তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে এ মন্ত্রণালয় মনে করে। এছাড়া ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধিমালা জারির পরে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধিমালা রহিত হবে। রহিতকরণ সত্ত্বেও ওই বিধিমালার অধীন যেসব কার্যক্রম নিষ্পন্ন হয়েছে তা এ বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

তাই, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গতবছরের বৃত্তির টাকা পেতে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির সুযোগ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ অক্টোবর, ২০২০
কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি না করায় ও ভুল তথ্য দেয়ায় বৃত্তিপাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়নি। বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বকেয়া টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেধা ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধন করতে পারবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আদেশ জারি করে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এন্ট্রি ও ভুল সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রাজস্বখাতভুক্ত সব ধরনের বৃত্তির টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে ইএপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। আগে বিভিন্ন সময় বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এমআইএসে (MIS) এন্ট্রি করতে বলেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে না পারায় ও কিছু প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যে ব্যাংক হিসেব নম্বর, শাখার নাম, পরীক্ষার বছর ইত্যাদি তথ্য ভুল থাকায় ৩০ জুনের মধ্যে এসব টাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেনি শিক্ষা অধিদপ্তর। এসব শিক্ষার্থীর টাকা দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের সময় আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এমআইএস সফটওয়্যারে (http://103.48.16.248:8080/HSP-MIS/login) লগইন করে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে হবে।

সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অধ্যয়নরত আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। পাঠবিরতি রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর তথ্য দেয়া যাবে না। মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করা যাবে না। দেশের অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন তফসীলভুক্ত ব্যাংকে শিক্ষার্থীর নিজ নামে বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একক বা বাবা-মা অথবা আইন সংগত অভিভাবকের সাথে যৌথ নামে ব্যাংক হিসাব বা স্কুল ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এমআইএসে এন্ট্রির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসারের অনুরূপ একক বা যৌথ নাম উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষার্থীর পরীক্ষার আইডি-রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম ও বছর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। বৃত্তির ক্যাটাগরি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ভুল বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নতুন বিধিমালায় ক্ষুব্ধ প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা।।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ অক্টোবর, ২০২০
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’ এর খসড়াটি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা। এই বিধি বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষকরা বয়সের বেরিক্যাড পার হয়ে কখনও অফিসার পদে পদোন্নতি পাবেন না। গত কয়েকদিনে তাই এই নিয়োগবিধি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা ।

খসড়া নিয়োগবিধিতে বলা হয়েছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ২৫৮৯টি পদে সরাসরি নিয়োগ হবে। নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং বাকি ২০ ভাগ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বুঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নূ্ন্যতম ৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে, বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে উন্মুক্ত প্রার্থীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অপর একটি পদ ‘ইনস্ট্রাক্টর’। উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগে মোট পদের ৩৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৬৫ ভাগ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে নতুন নিয়োগ বিধির খসড়ায়। তবে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতির জন্য উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের সহকারী ইনস্ট্রাক্টর/পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নূ্ন্যতম ৭ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির বিএডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স ৩০ বছর, তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়সের কোনো উল্লেখ নেই।

ইউআরসির সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগও একই নিয়মে হবে। তবে এখানেও বিভাগীয় প্রার্থী বলতে শুধু প্রধান শিক্ষকদের বোঝানো হয়েছে। দেশের ৬৭টি পিটিআইয়ে ইনস্ট্রাক্টর সাধারণ ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ইনস্ট্রাক্টর পদেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির বিধান রাখা হয়নি।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) পর্যন্ত হতে পারতেন। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগবিধি-১৯৮৫ এর ফলে শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পিএসসির নিয়োগবিধি ১৯৯৪ জারি হলে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারতেন।

২০০৩ সালের সরকারি গেজেটেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে বিভাগীয় প্রার্থী বলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের কথা বলা হয়েছে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের বোঝানো হয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগ পর্যন্ত এভাবেই চলছে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদ্দোন্নতি শুধু প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে সিনিয়ারটির মাধ্যমে পাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বয়সের যে বার দেয়া হয়েছে তাতে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি চিরতরে বন্ধ হওয়ার পথে। সহকারী শিক্ষক হতে যেমন শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে ঠিক তেমনি প্রধান শিক্ষক হতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে শতভাগ পদোন্নতির জোর দাবী করেন।

তিনি আরও বলেন,সারা দেশের প্রধান শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। ৪৫ বছর বয়সের বেড়াজাল হতে প্রধান শিক্ষকরা মুক্ত হতে চাই। আর এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে সকল প্রধান শিক্ষককে ঐক্যবদ্ধ হবার অনুরোধ করেন।

চট্রগ্রামের সিনিয়ার প্রধান শিক্ষক সবিনয় দেওয়া বলেন,৪৫ বছর বার মানিনা। রীট এর প্রস্থুতি নিন।

কুমিল্লার শিক্ষক নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন,১০০ ভাগ পদোন্নতি চাই।

মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,প্রধান শিক্ষকদের 100% পদোন্নতি চাই ।পঁয়তাল্লিশের বাধা মানিনা মানবোনা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলছি দয়া করে আর আমাদের সাথে তামাশা করবেন না । এভাবেই 26 বছর গত হয়েছে। তবে আর নয়।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ দিতে হবে। সব পদে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি দেয়া উচিত।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

স্কুলেও পরীক্ষা ছাড়া ‘প্রমোশনের’ চিন্তা, আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত

ডেস্ক,৯ অক্টোবর:

চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে এইচএসসি সহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসএসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার স্কুলেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই ‘অন্য কোনো উপায়ে’ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে ‘প্রমোশনের’ চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের পরীক্ষা না নিয়ে ‘অন্য কোনো উপায়ে’ মূল্যায়ন করা হবে কি-না, বা হলে কীভাবে হবে, সেটি সামনের সপ্তাহেই জানানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চিন্তা ছিল যদি অক্টোবর-নভেম্বরে স্কুল খোলা সম্ভব হতো তাহলে পাঠ্যসূচি কাটছাঁট করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো রকম একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এর আগে গত বুধবার করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এদিন এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতিতে নভেম্বরেও বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত আড়াই মাসের ক্লাসসহ আরো কিছু বিষয় মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এর আগে চলতি বছর করেনার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিগত জেএসসি এবং এইচএসসির ফল মূল্যায়ন করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়। এমন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছরের পড়াশোনার বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন না থাকায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকে। এ সিদ্ধান্তে অনেক পরীক্ষার্থী খুশি হলেও, কেউ কেউ অসন্তুষ্টও হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। করোনার কারণে তা স্থগিত করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

৪ শর্ত মেনে শুরু হল ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা

ঢাকা,১ অক্টোবর : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া ৪ শর্ত মেনে আজ বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা। আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ পরীক্ষা। এতে ৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, এ বছরের অক্টোবর-নভেম্বর (২০২০) সেশনের ইন্টারন্যাশনাল জিসিএসই, আইজিসিএসই, ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল পর্যায়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বলা হয়, দেশে প্রায় ৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী আছে, যারা অক্টোবর-নভেম্বরের পরীক্ষার জন্য জুলাই-আগস্টে রেজিস্ট্রেশন করেছে। সময়মতো এই পরীক্ষা দেয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক ফেস মাস্ক পরিধান, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব, পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়মিত পরিষ্কার, স্যানিটাইজেশনসহ ব্রিটিশ কাউন্সিলের সুরক্ষা প্রোটোকলগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার সব পরীক্ষা কেন্দ্রে মানা হবে।

এর আগে করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী মে-জুন সেশনের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ কাউন্সিল।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালনায় ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা চার শর্তে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত নেয়ার অনুমতি দিয়ে মন্ত্রণালয় সম্মতি জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২. সারা দেশের ৩৫টি ভেন্যুতে প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ পরীক্ষার্থীর বেশি জনের পরীক্ষা নেয়া যাবে না। পরীক্ষার হলে প্রতিজন শিক্ষার্থীর মাঝে দূরত্ব থাকতে হবে ৬ ফুট।

৩. পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় সরকার জনস্বার্থে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

৪. পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার দায়দায়িত্ব নিতে হবে ব্রিটিশ কাউন্সিলকেই।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সকল শিক্ষা প্র‌তিষ্ঠা‌নের ছু‌টি ৩১ অ‌ক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা,১ অক্টোবর: করোনা পরিস্থিতির কারণে আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের সব স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী করোনার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার করোনাকালীন শিক্ষার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ছুটি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ছে। আজ সেই ঘোষণা এল।

প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিগগিরই খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে স্কুল-কলেজ কবে নাগাদ খোলা হবে এবং পরীক্ষা কবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত ‘খুব শিগগিরই’ আসছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
মঙ্গলবার ঢাকার সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে- জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “স্কুল কবে খুলবে, পরীক্ষা কবে হবে, সেটা আপনাদের খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

“আগামীকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা মতবিনিময় সভা হবে। সেখানে আমি আপনাদের যে প্রশ্ন থাকবে, সেগুলোর জবাব দেব।”
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটি বাড়তে বাড়তে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষণা করা আছে।

পিইসি, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও এখনও ঝুলে আছে এইচএসসি পরীক্ষা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি এখনও হয়নি বলে সম্প্রতি মত জানিয়েছিল কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

তবে এক সপ্তাহ আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিগগিরই ক্লাস শুরুর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাচ্ছেন না জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষকরা

‌নিজস্ব প্রতি‌বেদক,২৯ সে‌প্টেম্বরঃ
সরকারি হওয়ার দিন থেকেই চাকরিকাল গণনা ধরেই টাইম স্কেল দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। ফলে চাকরির শুরু থেকে পঞ্চাশ শতাংশ চাকরিকাল হিসেবে কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না নব্য জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর যারা ৫০ শতাংশ চাকরিকাল ধরে টাইম স্কেল নিয়েছেন তাদের অতিরিক্ত টাকাও ফেরত দিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠি হিসাব মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময় তিন দফায় ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। প্রথম দফায় ২০১৩ সালে এবং আরও দুই ধাপে ২০১৪ সালের মধ্যে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আত্তীকৃত প্রাথমিক শিক্ষকরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির শুরুর সময় থেকে চাকরিকাল অর্ধেক গণনা করে টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড দাবি করে আসছিলেন।

২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী চাকরির ১০ বছরে এবং পরবর্তী ৮ বছরের উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণ করে সরকার। সেই হিসেবে জাতীয়করণের পর থেকে কোনও শিক্ষকের ১০ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে চাকরির শুরু থেকে চাকরিকাল গণনা না করলে সিলেকশন গ্রেড পাবেন না কোনও শিক্ষক। এই কারণে জাতীয়করণের আগে চাকরির শুরু সময় থেকে চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড দাবি করেন শিক্ষকরা। এই দাবিতে উচ্চ আদালতে অনেকগুলো মামলাও করেছেন তারা। মামলাগুলো চলমান রয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপ-সচিব রওনক আফরোজা সুমা স্বাক্ষরিত গত ২৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের আগের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড প্রদানের কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। অর্থ বিভাগের ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ১৫৫ নম্বর স্মারকের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। ফলে এ সংক্রান্ত পত্রালাপে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। অর্থ বিভাগের জারি করা গত ১২ আগস্টের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে। বিধায় সেই অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

অর্থ বিভাগের গত ১২ আগস্টের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩ -এর বিধি ২(গ) উল্লেখিত ‘কার্যকর চাকরিকাল’ একই বিধিমালার বিধি ১০-এ উল্লিখিত শুধু পেনশন গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ না করে উল্লিখিত বিধিমালার ২(গ), ৯ এবং ১০ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ৫ জুন জারি করা পরিপত্রের টাইম স্কেল গণনা সংক্রান্ত ৩.০১ অনুচ্ছেদ বিধিসম্মত নয়। বিধায় এ সংক্রান্ত মঞ্জুর আদেশ সংশোধনপূর্বক অতিরিক্ত প্রদানকৃত অর্থ কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিষয়ে আর্থিক সংশ্লেষ ছিল বিধায় অর্থ বিভাগের সম্মতি ছাড়া হিসাবরক্ষণ অফিসগুলো টাইম স্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিল পাস করা জিএফআর বিধি ৫০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধায় মহা হিসাব নিয়ন্ত্রককে দায়ী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিশোধিত বিধি মোতাবেক আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাতিল

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক,২৭ সে‌প্টেম্বরঃ জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাতিল ও এ বাবদ গৃহিত অতিরিক্ত টাকা ফেরতের বিষয়টি পূনর্বিবেচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিলো অর্থ মন্ত্রণালয়।

 

মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব রওনক আফরোজা সুমা স্বাক্ষরিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি পূণর্বিবেচনার প্রস্তাব নাকচ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিগত ১২ আগষ্ট তারিখের পত্রে জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহিত টাইমস্কেল বিধিসম্মত নয় বলে এ বাবদ গৃহিত অর্থ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনা পূনর্বিবেচনা করে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ( চাকরীর শর্তাদি নির্ধারণ ) বিধিমালা ২০১৩ এর ২ (গ ) ৯ এর ( ১,২,৩ ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮৮৯ নং পত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫৫ নং পত্রের আলোকে সহকারী শিক্ষকদের টাইমস্কেল এবং প্রধান শিক্ষকদের উভয় পদের সমষ্টির ভিত্তিতে দেয় টাইমস্কেল বৈধ মর্মে মতামত প্রদান করে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরন করা হয়। অতিরিক্ত মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ফাতেমা ইয়াসমিন এর ৬ সেপ্টেম্বর তারিখের পত্রে এ মত প্রদান করা হয়।

অর্থ মন্ত্রনালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখের পত্রে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয় হতে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বা সিলেকশনগ্রেড প্রদানের জন্য কোন পত্র প্রদান করা হয়নি৷ এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ১৫৫ নং পত্রটি বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পত্রে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পত্রালাপে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল।

এ পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের ১২ আগস্ট তারিখের ৯২ নং পত্রের আলোকে জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহিত টাইমস্কেল বাতিল ও এ বাবদ গৃহিত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাবস্থা গ্রহনের আদেশটি বহাল রইল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘সম্মানিত সহজ সরল নবজাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে,আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকারি প্রচলিত আইন ও বিধির বাইরে টাইমস্কেল নেয়ানো এবং পদোন্নতি ও জৈষ্ঠতা নিয়ে ৫০% সিনিয়রিটি কাউন্ট করার বিষয়ে কিছু নবজাতীয়করণকৃত নেতৃবৃন্দ শতশত মামলা করে নিরীহ শিক্ষকদের অনেক ক্ষতি করেছেন,বিভিন্ন অফিসে দেয়ার নামে বিধিবর্হিভূতভাবে শিক্ষকদের অর্থ নিয়ে কিছু কর্মকর্তাদের লাভবান করেছেন এবং তারা নিজেরা লাভবান হয়েছেন,সাধারণ শিক্ষকদের বিপদের মধ্যে ফেলেছেন।যা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা অবশ্যই প্রচলিত আইন এবং বিধি মোতাবেক তাদের দাবী ও অধিকারের সাথে একমত।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এইচএসসি পরীক্ষা হবে প্রশ্ন-উত্তরপত্র তৈরি

ঢাকা,২৬ সেপ্টেম্বর : করোনার প্রভাবে থমকে আছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বাতিল হয়েছে পিইসি, জেএসসিসহ সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু থমকে আছে এইচএসসি পরীক্ষা। কবে হবে পরীক্ষা? শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও মিটিংয়ে বসেছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরীক্ষা হবে এটা বলা হলেও কবে হচ্ছে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না কেউই।

গত বৃহস্পতিবারের বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষা হবে না এই মর্মে সরকার কোনো রকমের সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরীক্ষার্থীদের বারবার বলা হচ্ছে তারা যেন লেখাপড়া চালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ জানতে উদ্বিগ্ন প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী।
গত বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানদের বৈঠকের আগে বলা হয় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সভা শেষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে এই সভার মূল এজেন্ডা ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও পরবর্তী ক্লাসে কীভাবে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করবে। এটি করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এজন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেটি অনুসরণ করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রশ্ন ও উত্তরপত্র প্রস্তুত রয়েছে। কবে পরীক্ষা নেয়া হবে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আমরা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, এখন পাবলিক পরীক্ষা আগের মতো নেয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক বেঞ্চে একজন বা দুজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সব শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

১৭ই মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণার পর কয়েক দফা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত। করোনার সেকেন্ড ওয়েবের শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে শীতে।

সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক কিছুদিন আগে বলেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়াও এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার বিষয়ে মত দেন শিক্ষাবিদরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনায় সঙ্গত কারণেই পৃথিবীর অনেক দেশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেহেতু ভাবছে অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের শিক্ষার্থী ছিলাম আমাদের এমন কোনো ক্ষতি হয়ে যায়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে খুললে কী হবে? বিশ্বের অনেক দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর অনেক হারে শিক্ষার্থী সংক্রমিত হয়েছে। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তবে এটাও ঠিক এইচএসসি পরীক্ষাই সবকিছু নয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শুরু হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, বাড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজ করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে গত তিন সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে, অর্ধেকে নেমে এসেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। পরীক্ষার সংখ্যা অনেক কম হলেও পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হারও নেমে এসেছে দৈনিক ১০% এর কাছাকাছিতে।

আরো পড়ুন
প্র্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

খোঁজে জানা গেছে, করোনা মহামারীর মধ্যে এখন পর্যন্ত যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এর অন্যতম হলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। মহামারীর কারণে ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা। আটকে আছে এইচএসসি পরীক্ষাও। সার্বিক বিবেচনায় এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেই মনে করছেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের অনেকে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আবারও বাড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে।

এর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ থেকেও । গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩৯ দিনের জন্য প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সে সেময় গণমাধ্যমকে জানান, ‘‘অক্টোবর ও নভেম্বরকে দুটো টার্গেট করে দুটি লেসন প্ল্যান তৈরি করেছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নভেম্বর থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অক্টোবরে খোলার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই। পরিস্থিতি উন্নতি হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি নভেম্বরে স্কুল খোলা না যায় তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের অটো পাস ছাড়া উপায় নেই।’’

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া প্রজ্ঞার পরিচায়ক হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যারা আছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলতে পারবেন। তবে আমরা যেটা মনে করি যে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি যতদিন উচ্চমাত্রায় থাকবে ততদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। কারণ, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্পদ। তাদেরকে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান আছে যেমন:- জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, এগুলো খোলার আগে আরেকটু সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সেক্ষেত্রে শুধু নিজেদের দেশের নয় বরং আশেপাশের দেশগুলো বিশেষ করে যেসব দেশে সংক্রমণের মাত্র অনেত বেশি তারা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেটাও দেখার দরকার আছে। অর্থাৎ, করোনা পরিস্থিতি আমাদেরকে যে অবস্থায় নিয়ে এসছে সেটি নিয়ে আমাদেরকে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়াটা বাঞ্ছনীয়।

তিনি আরো বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সেটিকেও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ শীত আসন্ন। শীতের সময় সর্দি, কাশি এগুলো আরো বেড়ে যায়। যদি সেগুলো বেড়ে যায় আর করোনার সংক্রমণও থাকে তাহলে পরিস্থিতিতে যে জটিলতার দিকে যাবে সেটি সহজেই বোঝা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদেরকেও জীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে বিভিন্ন অবস্থান থেকে হল বা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার মতো বিভিন্ন দাবি তারা তোলে। এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা। তাদের সাথে সাথে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যও সংশ্লিষ্ট। এখনও আমরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পুরো মাত্রায় অর্জনের পথে আছি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শেষমেষ দুর্ভোগ-ভোগান্তি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের উপরেই বড় আকারে বর্তায়। এ বিষয়সহ আরো অনেক কিছু ভেবেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শীতে করোনার সম্ভাব্য প্রকপের বিষয়ে গুরাত্বারোপ করে ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ইউরোপ আমেরিকার শীতের সাথে আমাদের শীতের বিশেষ পার্থক্য থাকলেও শীতের বিষয়ে জীববিজ্ঞানী, ভাইরাসবিশেষজ্ঞরা যেটি বলেছেন সেটিকেও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

শীতকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আরো কঠিন হয়ে পড়ে উল্লেখ তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তনের জায়গাটি, সেটিকে আমাদের উপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এ সময় পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে সংসদ টিভি এবং বেতারে ক্লাস পরিচালনা ছাড়াও অনলাইনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলছে অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়া।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের গাইডলাইন তৈরি আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সব শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান সভায় বসবেন। সেখানে পরীক্ষা শুরুর একাধিক প্রস্তাব তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা ছয় মাস পিছিয়ে গেলেও করোনার কারণে এখনো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সবকিছু ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষাবোর্ড। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান সভায় বসছেন। সেখানে কখন কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া যায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেটি অনুমোদন হলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর স্বল্প পরিসরে পরীক্ষা নেয়া। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে জেএসসি-এসএসসি এবং কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মূল্যায়নের ওপর ফল (গ্রেড) ঘোষণা দেয়া যেতে পারে। অথবা আগামী মার্চ পর্যন্ত এ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সচিব তপন কুমার শিক্ষাবার্তাকে বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এইচএসসি পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। পরীক্ষা কবে ও কীভাবে নেয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ, করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়া স্কুলে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায় সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কবে শুরু করা হবে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্টেশনারি ব্যবসায় ধস

ডেস্ক,২২সেপ্টেম্বর:স্টেশনারি ব্যবসা, দেশে নীরব একটি চলমান ব্যবসা। যাতে কোনও শোরগোল নেই, কিন্তু চাহিদা প্রায় সারা বছরই সমান থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে ছয় মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই ব্যবসাটি প্রায় ধ্বংসের পথে। শুধু তাই নয়, স্টেশনারি পণ্যগুলোর উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নীলক্ষেত ও পুরান ঢাকার বাবু বাজারের সৈয়দ হাসান আলী লেনের পাইকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গিয়েছে, খুব একটা হইচই নেই পাইকারি দোকানগুলোতে। মাঝে মধ্যে দু-এক জন ক্রেতা আসছেন আবার কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। কারখানাগুলোও কমিয়েছে লোকবল।

দোকান মালিকদের তথ্য মতে, এই স্টেশনারি ব্যবসায়ে পাইকারি দোকানগুলোতে দিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতো। আর খুচরো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রি হতো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু করোনার কারণে এখন বিক্রি নেই। বর্তমানে অনেকেই চলছেন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে। আবার অনেকে দোকান ভাড়াই দিতে পারছেন না। যার ফলে অনেকটাই হতাশা ব্যবসায়ীরা।

নীলক্ষেতের স্টেশনারি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা খুব করুণ অবস্থায় আছি। বর্তমানে প্রতিদিন ১২-১৩শ’ টাকা বিক্রি হয়। নরমাল সময়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি হতো প্রতিদিন। এই ১২-১৩শ’ টাকা বিক্রি করে আমাদের তেমন কিছুই হয় না। দোকান ভাড়া আছে, আমাদের থাকা-খাওয়ার খরচ আছে, বাসা ভাড়া আছে—এমন একটা অবস্থা খাওয়ার পয়সাই উঠে না, ঘর ভাড়া কোথা থেকে দেবো। বর্তমানে আমরা ঋণগ্রস্ত।’

নীলক্ষেতে আরেক ব্যবসায়ী মমিনুর মিয়া বলেন, ‘৬ মাস ধরে ব্যবসা একেবারেই শেষ। এখন যে দোকানের মালামাল দেখছেন, এগুলো নতুন করে ঋণ নিয়ে কেনা। পুরো মার্কেটের বাকি ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা এখন। স্কুল-কলেজ না খুললে আমাদের ব্যবসা হয় না, স্কুল কলেজের সঙ্গেই আমাদের ব্যবসা। এখন সেই অপেক্ষাতেই আছি।’

স্টেশনারি ব্যবসার পাইকারি ব্যবসায়ীরা বসে আছেন গোমরা মুখে। করোনার সাধারণ ছুটিতে ২ মাস একেবারেই বন্ধ ছিল পাইকারি ব্যবসায়ের মার্কেট। পরবর্তীতে সরকার সব অফিস আদালত খুলে দেয় সীমিত পরিসরে। তখন থেকে শুরু হয় আবারও স্টেশনারি ব্যবসা। তবে স্টেশনারি ব্যবসা জড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যার ফলে ব্যবসা শুরু হলেও শুধুমাত্র ব্যবসা ধরে রাখার জন্য মাসের পর মাস পরিচালনা খরচ বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

পুরান ঢাকার বাবু বাজারের সৈয়দ হাসান আলী লেনের পাইকারি আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনা পরবর্তী সময়টায় আমাদের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। ব্যবসা ছিল এককেন্দ্রিক। শুধু অফিস-আদালতে মালামাল সাপ্লাই করি এখনও। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ব্যাপক মালামাল লাগতো সারা বছর, সেই অংশটা এখনও বন্ধ আছে। করোনার আগে আমাদের প্রতিদিন ৮০ থেকে এক লাখ টাকা বিক্রি ছিল। এখন আমাদের বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এদিকে বিদেশি মালামালের জন্য ঋণের চাপ আছে। আমাদের এখন একটাই চাওয়া, সরকারের কাছে স্কুল-কলেজ খুলে দিলে হয়তো আমাদের ব্যবসা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।’

আরেক ব্যবসায়ীইকরাম হোসেন বলেন, ‘আগে যখন সবকিছু খোলা ছিল তখন অনেক ভালো ব্যবসা হতো। এখন স্কুল বন্ধ, তবে অফিস-আদালত খোলা থাকার কারণে টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। এতে করে দোকান ভাড়াটা অন্তত দিতে পারছি। আগেই স্কুলের জন্য খাতা, ডায়েরি, ফাইলসহ অনেক কিছু অর্ডার হতো। এখন এগুলো বিক্রি বন্ধ, সেইসঙ্গে কাজও বন্ধ আছে। আগে ডেইলি এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতো, এখন হয় ২০-৩০ হাজার টাকা । বর্তমান অবস্থায় ব্যবসায় কোনও লাভ হচ্ছে না।’

উৎপাদনকারী ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘এই এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় লাখ খানেক কর্মী স্টেশনারি পণ্য উৎপাদনে কাজ করে। কিন্তু সেই কর্মী সংখ্যা এখন প্রায় ৬০ হাজার। বাকিদের বাধ্য হয়ে কাজ থেকে অব্যাহতি দিতে হয়েছে। কারণ নিয়মিত ইনকাম ছাড়া তাদের বেতন দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’

তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা মিলেছে স্টেশনারি উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ঘুরে। স্টেশনারি পণ্যের উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকা কর্মীর সংখ্যা কমেছে। মাসের পর মাস বেতন দিতে না পারায় মালিকরা আর কর্মীদের ধরে রাখতে পারেনি। বাধ্য হয়ে অনেক কর্মীকেই অব্যাহতি দিতে হয়েছে কাজ থাকে। প্রতিটি ১০ জন কর্মীর কারখানায় লোকবল কমেছে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।

ফাইলবক্স তৈরি কারখানার মালিক উজ্জ্বল সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাবা কী করবো, এখন তো সবাইকে বেতন দিতে পারি না। অর্ডার কম। দীর্ঘ দিন ধরে আমার এই কারখানাটিতে ১০ জন শ্রমিক কাজ করতো। করোনায় দুই মাস বন্ধ ছিল। এখন অর্ডার নাই বললেই চলে। মাত্র ৩ জন নিয়ে কারখানা চালাই। তারপরও অপেক্ষা করতে হয় আরেক অর্ডারের জন্য। আর আগে ১০ জনেও কাজ শেষ করতে পারতাম না।’

স্টেশনারি ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অপেক্ষায়। তাদের আশা স্কুল-কলেজ খুললেই ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। মেশিনের শব্দে কারখানা হবে মুখর, আর পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আবার জমজমাট হয়ে উঠবে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শপথ নিলেন পিএসসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান

ঢাকা,২২ সেপ্টেম্বর: শপথ নিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। মোহাম্মদ সাদিকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সোহরাব হোসাইন।

সোহরাব হোসাইনের নিয়োগের আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সোহরাব হোসাইনকে তার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিতের শর্তে জনস্বার্থে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদে বা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া- এর মধ্যে যা আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে দায়িত্বে থাকাবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অবসরোত্তর ছুটিতে যান।

২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সোহরাব হোসাইনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ দেয় সরকার। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সৃজন করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পান সোহরাব হোসাইন। শিক্ষা সচিব হিসেবে যোগদানের আগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সোহরাব।

১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সোহরাব হোসাইন এর আগে জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিববের দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র সোহরাব হোসাইন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দফার আমলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্বে ছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল ও নাট্যচক্রের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য।

সোহরাব হোসাইন ১৯৬১ সালে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter