Home » টপ খবর (page 80)

টপ খবর

ডিএনএ কপি করে উদ্ভিদের পুনর্জন্ম

07এনামুল হক:কিছু কিছু লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে। তা হলো, আপনা থেকেই পুনর্জন্ম লাভ করা। এই বিস্ময়কর কাজটা তারা কিভাবে সম্পন্ন করে, বিজ্ঞানীরা এখন তা জানতে পেরেছেন। ওরা নিজেদের ডিএনএ-র প্রতিরূপ সৃষ্টি করে পুনর্জন্ম নেয়।

চারণরত প্রাণীরা যেমনÑ গরু, মহিষ বা মেষ লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের একাংশ হয়তো ছিঁড়ে খেয়ে নেয়। বাকি যে অংশ থাকে, সেটা এক সময় হয়তো মরে যায়। কিন্তু এ ধরনের কিছু উদ্ভিদ তার এই ক্ষতিটা মাত্রাতিরিক্তভাবে পুষিয়ে নেয়। তারা আরও বেশি পরিমাণে উদ্ভিদ পদার্থ তৈরি করে। এবং অন্য সময় যতটা উর্বর হতে পারত, তার চেয়ে বেশি উর্বর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে এরা আবার নতুন করে জন্মাতে থাকে। সেই পুনর্জন্মের রহস্যটা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন। তাদের এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ‘মলিকুলার ইকোলজি’ নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে যে, কাটছাঁট হবার পরও একটা উদ্ভিদের নাটকীয়ভাবে ফিরে আসার ক্ষমতাটা একটা প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, যাকে বলে জেনোম ডুপ্লিকেশন বা জিনের প্রতিরূপ সৃষ্টি। এক্ষেত্রে এক একটি কোষ তার মধ্যকার জিনেটিক উপাদানের সবগুলোর একাধিক প্রতিরূপ সৃষ্টি করতে পারে।
জেনোমের প্রতরিূপ সৃষ্টি বিজ্ঞানের কাছে নতুন কিছু নয়। গবেষকরা বেশ কয়েক দশক ধরে এই ব্যাপারটি জেনে এসেছেন। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই প্রতিরূপ সৃষ্টি করা হয়, তা নিয়ে খুব সামান্য ক’জনই মাথা ঘামিয়েছেন। আলোচ্য গবেষণাটি যিনি পরিচালনা করেছেন, তিনি ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক কেন পেইজ। তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদÑ আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে এ জাতীয় ৯০ ভাগ উদ্ভিদ তাদের জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে। কেন করে, তা নিয়ে ২০১১ সালে এক গবেষণায় পেইজ ও তার সহযোগী গবেষক ড্যানিয়েল স্কলেস দেখিয়েছেন যে, যেসব উদ্ভিদ দেদারসে জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে চলে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর আবার সবলদেহে ফিরে আসে। গবেষকদের ধারণা, জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উদ্ভিদরা সেই শক্তি লাভ করে থাকে, যা তাদের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন।
গবেষণায় এরাবিডোপসিস থালিয়ানা নামে সরিষা পরিবারের একটি উদ্ভিদের ওপর দৃষ্টি নিবন্ধ করা হয়। দেখা যায়, কিছু কিছু এরাবিডোপসিস উদ্ভিদ জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত থাকে, আবার অন্যগুলো থাকে না। যেগুলো থাকে, সেগুলো প্রতিটি কোষের মধ্যে তাদের সকল ক্রোমোজমের ডজনকে ডজন কপি সঞ্চিত করে রাখে। নতুন এক গবেষণায় স্কলেস এরাবিডোপসিস উদ্ভিদের মধ্যে যেগুলোর নিজেদের জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ক্ষমতা আছে এবং যেগুলোর তা নেই এই উভয় শ্রেণীর মধ্যে সঙ্কর প্রজনন ঘটায়। স্কলেস বলেন, ডিএনএর প্রতিরূপ সৃষ্টি এবং উদ্ভিদের পুনর্জন্মের মধ্যকার সম্পর্কটা যদি কাকতালীয় ব্যাপার হয়ে থাকত, তাহলে উভয়ের মধ্যকার সংস্রবটা তাদের বংশধরদের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেত। কিন্তু দেখা গেল যে, এই সম্পর্কটা বংশধরদের মধ্যেও বিরাজ করছে। অর্থাৎ, দুটো বৈশিষ্ট্য যে একে অপরকে প্রভাবিত করছে, এটা তার প্রথম প্রমাণ।
অনুমাননির্ভর এই ধারণাটি আরও পরীক্ষা করে দেখার জন্য স্কলেস পরীক্ষামূলকভাবে একটি এরাবিডোপসিস উদ্ভিদের জেনোম প্রতিরূপ তৈরির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন। তার জন্য তিনি সেটাকে এমন এক শ্রেণী থেকে বেছে নেন, যার জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ক্ষমতা নেই এবং চারণ হবার পর যার উর্বরতা বড় ধরনের হ্রাস পেয়েছে। তিনি যেমনটি প্রত্যাশা করেছিলেন ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল। দেখা গেল, রূপান্তরিত উদ্ভিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর আবার বলিষ্ঠভাবে ফিরে এসেছে বা জোরেশোরে পুনরুৎপাদিত হয়েছে। স্কলেস বলেন, জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ফলে কোষগুলোর আকার বড় হয়ে যায় এবং একেকটি জিনের অনেকগুলো কপি ধারণ করার ক্ষমতা জন্মে। এতে করে কোষের বৃদ্ধির পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন ও অন্যান্য মলিকুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

সরকারী কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার, সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা

ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত স্থায়ী পে-কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হচ্ছে ১১ ডিসেম্বর। আর বিজয় দিবসের আগেই কর্মকর্তাদের সুখবর দিতে চায় সরকার। এ জন্য নিরন্তর কাজ করছেন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শান্তি বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যৌক্তিক করার প্রস্তাব থাকছে পে-কমিশনের প্রতিবেদনে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, জীবনবীমা ও দুর্ঘটনাজনিত অক্ষমতা বীমার সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন।
সূত্র জানায়, শতকরা হিসাবে বর্তমান কার্যকর থাকা মূল বেতনের (বেসিক) চেয়ে গড়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন। প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ। এখন শুধু ঘষামাজার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়গুলোও যুক্ত করা হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে। অর্থাৎ দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন বা সংস্কার কীভাবে করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন বেতন স্কেলে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে; যা বর্তমান কাঠামোয় রয়েছে ২০টি। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমানের চেয়ে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে খুব দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সর্বশেষ ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সূত্রমতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবিলায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও থাকছে কমিশনের সুপারিশে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। তাদের জন্য কম সুদে অগ্রিম ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত অঙ্কের ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। পরে মাসিক হারে প্রত্যেকের বেতন থেকে তা সমন্বয় করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে করা, যাতে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান কাঠামোয় সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৪০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ১ জুলাই, ২০১৩ থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।গত বছরের নভেম্বরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে পে কমিশন গঠন করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ওই মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে চাকরিতে সক্রিয় আছেন প্রায় ১১ লাখ।

সরকারি অফিসের ফাঁকিবাজদের বেতন কাটা হবে

সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কঠোর বিধান হচ্ছে। এখন থেকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পর পর দু’দিন ‘লেট লতিফ’ হলে একদিনের মূল বেতন, অফিস শেষের আগে চলে গেলে একদিনের মূল বেতন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে একদিনের বেতন কাটা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পুনরায় একই অপরাধ করলে সাত দিনের মূল বেতন কাটা হবে। এমন বিধান রেখে এবারই প্রথম সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) আইন-২০১৪-এর খসড়া তৈরি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই চিঠিটি অনুমোদনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শিক্ষাবার্তাকে বলেন, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাজকর্মে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল করতে আইনটি করা হচ্ছে। আইনটি প্রণয়ন হলে একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর অফিস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমবে। কাজকর্মে অগ্রগতি হবে।

সূত্র জানায়, সরকারি অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিতির বিষয়ে উদাসীনতা দেখা যায়। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারদের ক্ষেত্রে এ চিত্র বেশি। গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালে ডাক্তারদের অনুপস্থিতি যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া সচিবালয়সহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সরকারি অফিসে একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে সঠিক সময়ে উপস্থিতির বিষয়ে অনীহা থাকে। আবার একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরিতে অফিসে এলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের ম্যানেজ করে অফিস শেষ হওয়ার আগে বাসায় চলে যান। এতে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। কর্মস্থলে অবস্থান না করা ও অফিস ফাঁকি দেওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে কাজে আসা মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সূত্র জানায়, অফিসের উপস্থিতি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ১৪তম

বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই অবস্থান। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা জানান।

দুর্নীতির এই ধারণা সূচক অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্কে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯২ পেয়ে দেশটি সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ডেনমার্ক গত বছর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ হয়েছিল। এবার ৯১ নম্বর পেয়ে নিউজিল্যান্ড এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে।

মাত্র ৮ পেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে সুদান ও আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ পেয়েছে ২৫ নম্বর। একই নম্বর পেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ১৪তম অবস্থানে আরও আছে গিনি, কেনিয়া, লাওস ও পাপুয়া নিউগিনি।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ১৪ যুগ্মসচিব বদলি

ডেস্ক: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার দুটি আদেশে প্রশাসনে ১৪ যুগ্মসচিব ও সমমর্যাদার পদে রদবদল আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ ইউসুফ হারুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আমজাদ আলীকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) যুগ্মসচিব (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষণরত) মোল্লা জালাল উদ্দিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে ১১ উচ্চ মাধ্যমিক মডেল বিদ্যালয় ও ছয়টি মহাবিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মানিক চন্দ্রদে-কে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই আদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল কাশেম মো. বদরুল মজিদকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব মানিক লাল বণিককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব, ওএসডি যুগ্মসচিব (অর্থ বিভাগে সংযুক্ত) মো. মহিউদ্দিন খানকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বদলির আদেশাধীন আবুল কালাম আজাদকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অপর আদেশে পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামকে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারন ইউনিটের মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক হরিপ্রসাদ পালকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক ও ওএসডি যুগ্মসচিব আনিস উল হক ভূইয়াকে বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক স্বপন চন্দ্র পালকে ‘ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে ১১ উচ্চ মাধ্যমিক মডেল বিদ্যালয় ও ছয়টি মহাবিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনীকে খাদ্য অধিদফতরের আইন উপদেষ্টা ও ওএসডি যুগ্মসচিব গোপাল কৃষ্ণ ভট্টচার্যকে মাল্টি পারপাস সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস: মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ‘পরীক্ষা না নিলে কী হয়’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও তথ্য বিভ্রাট বলার পর তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংবাদে জনমনে উদ্বেগ ও সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি অনুধাবন করে বুধবার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। ফেসবুকে প্রাপ্ত প্রশ্ন বা সাজেশন এবং এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পুংখানুপুংখভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে এ ধরনের ঘটনার উদ্ভব কিনা তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সার্বিক পর্যালোচনা শেষে প্রতীয়মান হয় যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নের সাথে সমাপনী পরীক্ষায় সরবরাহকৃত প্রশ্নের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

মন্ত্রণালয়লের এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


Anisul-Hoque

সারাদেশে সকল সরকারী হাইস্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু ২ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে রাজধানীর ৩২টিসহ সারাদেশের সকল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম। ওই দিন রাজধানীর স্কুলগুলোতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ফরম বিতরণ ও জমা দানের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে রাজধানীর বাইরের স্কুলের ফরম বিক্রি, লটারি ও পরীক্ষা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে নিতে পারবে জেলা ও উপজেলা ভর্তি কমিটি। প্রথম শ্রেণীর ভর্তি এবারও হবে লটারির মাধ্যমে। দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে আগের নিয়মেই হবে ভর্তিপরীক্ষা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকোটাসহ অন্য সকল বিধান বহাল থাকলেও ফরম মূল্য এবার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো কম খরচ আর মানসম্মত শিক্ষাদানের বিবেচনায় এগিয়ে। তাই অভিভাবকদের কাছে আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। এ কারণে প্রতিবছর অভিভাবকরা অপেক্ষায় থাকেন কবে নাগাদ স্কুলগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) জানিয়েছে, নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে রাজধানীর ৩২টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য ২ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ শুরু হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই ফরম পূরণ করা যাবে। প্রতি শ্রেণীতেই ভর্তি ফরমের মূল্য ১৫০ টাকা এবং মূল্য বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ভর্তিসংক্রান্ত সকল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়ে আগামী শনিবার অথবা রবিবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেবে অধিদফতর। অনলাইনে ভর্তির এ প্রক্রিয়া কেবল রাজধানীর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। জানা গেছে, রাজধানীর স্কুলগুলোকে এবারও এলাকা ভিত্তিতে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’-এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপে ১০টি, ‘খ’ গ্রুপে ১১টি এবং ‘গ‘ গ্রুপে রাখা হয়েছে ১১টি স্কুলকে। ৩২টি স্কুলের মধ্যে ১৪টিতে প্রথম শ্রেণী রয়েছে। তিন ক্যাটাগরির এই স্কুলগুলোতে আগামী ২৭ ডিসেম্বর প্রথম শ্রেণীর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভর্তিপরীক্ষা গ্রুপ অনুসারে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, নিউ গবর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল, ইসলামিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দারুস সালাম সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ জামাল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ‘খ’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছেÑ মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল, গবর্নমেন্ট মুসলিম হাইস্কুল, বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধানম-ি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানম-ি কামরুন্নেসা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, ডেমরার আলহাজ হাজী গফুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তরখানের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জুরাইনে শেখ কামাল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
‘গ’ গ্রুপে রয়েছেÑ ধানম-ি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, টিকাটুলী কামরুন্নেসা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, আরমানিটোলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও তেজগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজারীবাগ শেখ রাসেল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাসানটেক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
প্রথম শ্রেণী আছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, তেজগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল এবং মোহাম্মদপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ধানম-ি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আজিমপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, একই গুচ্ছের একাধিক স্কুল থেকে ভর্তি ফরম কেউ কিনতে পারবে না। একজন শিক্ষার্থী তিনটি গুচ্ছের প্রতিটি থেকে একটি করে সর্বোচ্চ তিনটি ফরম কিনতে পারবে।
ভর্তি নীতিমালায় এবার সরকারী স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর ১ জানুয়ারিতে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সের মধ্যে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে গত বছরের মতোই ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ১০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা ১৫, ইংরেজী ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার এবং অন্যান্য শ্রেণীতে বাংলা ৩০, ইংরেজী ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে।

জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর ॥ অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল 1415368189মুহিত জানিয়েছেন, সরকারী কর্মজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় যাবে। আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। বুধবার সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশন-এক) ওয়েনকাই ঝাং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এছাড়া ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পে-কমিশন নিয়ে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত খবর রাবিশ ও স্টুপিড রিপোর্টিং হয়েছে। ‘আমি শকড হয়েছি, স্টুপিড রিপোর্টিং করেছে। আমি বলব সে বাঙালী নয়। আই এম সরি টু সে, সে সাংবাদিক নয়। হি ইজ ওয়ার্থলেস।’ গত মঙ্গলবার একাধিক দৈনিকে পে-কমিশন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
পে-কমিশন নিয়ে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটা লিখিত বিষয়। তা যদি না ধরতে পারে তাহলে কীভাবে হয়। আমি বলেছি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে। এর পর আরও অনেক প্রক্রিয়া আছে। এটা কার্যকর হবে আগামী বছরের জুলাই নাগাদ। অথচ পত্রিকা কী লিখে দিল।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তারা বাংলাদেশে প্রকল্প আরও বাড়াতে চায়। আমরাও তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি। আমি তাদের জানিয়েছি, জাপান আগে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে বিনিয়োগ করত বছরে। এখন তারা আগামী তিন বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আমরা এডিবিকেও বলেছি আপনারা ঋণের পরিমাণ বাড়ান। কারণ বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকগুলোর খেলাপী ঋণ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংকই নেবে। কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণ বিষয়ে মুহিত বলেন, আমার মনে হয় তাদের ব্যবস্থাপনা দুর্বল। যেহেতু তারা ক্ষুদ্রঋণ দেয় তাই তাদের সুপারভিশনে জনবল বেশি লাগে। এজন্য এখন তারা এ্যাগ্রো বিজনেসে যাচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাঁচ বছর ধরে পিপিপি নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু এতদিনে মাত্র একটি প্রকল্প প্রস্তুত হয়েছে। নতুন বিষয় তাই প্রক্রিয়াটা বুঝতে সময় লাগছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন স্কেলে বর্তমানের ২০টির পরিবর্তে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে সরকার গঠিত পে কমিশন। নতুন বেতন স্কেলে বর্তমানের ২০টির পরিবর্তে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত

পে কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন  বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হলে তাদের আকর্ষণীয় বেতন দিতে হবে।
কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই উপকৃত হবেন। পে কমিশনের অন্যতম সদস্য আবুল কাসেম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্ঘটনার শিকার হলে যাতে আর্থিক সুবিধা পান, সে জন্য বীমা সুবিধা দেওয়ারও সুপারিশ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বর্তমানে যে বেতন কাঠামো রয়েছে, মূল বেতনের (বেসিক) চেয়ে গড়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করছে পে কমিশন। নতুন কাঠামোতে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শান্তি, বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যৌক্তিক করার প্রস্তাব থাকছে পে কমিশনের সুপারিশে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবেলায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। তাদের জন্য কম সুদে অগ্রিম ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে কমিশন। যার যার বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মাসিক বেতন থেকে এ ঋণ সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বীমা, জীবন বীমা ও দুর্ঘটনাজনিত অক্ষমতা বীমার সুপারিশ করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে করা, যাতে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান কাঠামোতে সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৪০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত আছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। যখন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে তখন মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত অর্থবছরের বাজেটে পে কমিশনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত বছরের নভেম্বরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে পে কমিশন কার্যকর করা হয়। ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও বটে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পে-কমিশন রিপোর্ট ॥ অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘বেতন ও চাকরি কমিশন- ২০১৩’ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশনের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর যতদ্রুত সম্ভব পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। হাজী সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ব্যাংক রেট কমে যাওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের যৌক্তিকতা সরকার পরীক্ষা করে দেখছে।
কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে মোট তিন হাজার আট দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় (ডিসবার্সমেন্ট) করা হয়েছে।
যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগী দেশ/সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড়ের পরিমাণ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১Ñ১২ হতে ২০১৩Ñ১৪ এই তিন অর্থবছরে সর্বমোট প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) হয়েছে ১৬ হাজার ৪৬৪ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট (ছাড়) হয়েছে সাত হাজার ৯৪৬ দশমিক ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে কমিটমেন্ট হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৮৮ দশমিক শূন্য আট মিলিয়ন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট হয়েছে দুই হাজার ৬৪৮ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাজটি কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। এজন্য ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের আন্তরিক হতে হবে। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা যখন বিনিয়োগ করেন তখন সুদের হার কমাতে বলেন, আবার তাঁরাই যখন কোন ব্যাংকের মালিক বা পরিচালক হন তখন সুদের হার কমাতে চান না। এই দ্বৈততা বন্ধ হওয়া দরকার।
সরকারী দলের ফরিদুল হক খানের অপর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে অর্থপাচাররোধে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে বাংলাদেশ হতে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার তথ্য বিএফআইইউতে নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হলে অর্থপাচার সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রংপুরে পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, ৫ শিক্ষকের কারাদণ্ড

শিক্ষাবার্তা ডটকম,রংপুর: রংপুরে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করার অপরাধে এক কেন্দ্র সচিবকে বহিষ্কারসহ চার শিক্ষকের তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার দুপুরে বাংলা বিষয়ের পীরগাছার চৌধুরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলিয়া ফেরদৌস জাহান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, সোমবার সকালে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের ১নং চৌধুরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব প্রধান শিক্ষিকা সোনিয়া আনসারী বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস করেন। এরপর তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, মোংলাকুটি মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন, মোংলাকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুফিয়া বেগম ও কুতুব্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমানকে দিয়ে ফাঁস করা প্রশ্নোত্তর মোবাইল ফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করেন।

বিষয়টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপজেলা বিআরডিবি অফিসার মনিরুজ্জামান হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলিয়া ফেরদৌস জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কেন্দ্র সচিব সোনিয়া আনসারীসহ জড়িত ওই চার শিক্ষকের তিন হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তাদের তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এছাড়াও কেন্দ্র সচিবকে বহিষ্কার ও চার শিক্ষককে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকী ফিরেছেন

বিমানবন্দর প্রতিনিধি : ইসলাম ও হজ নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় দল ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। রবিবার রাত ৮টা ২১ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ইমিগ্রেশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে কিছুক্ষণ ঘিরে রাখলেও ৯টা ২৬ মিনিটে ডমেস্টিক এয়ারপোর্টের টার্মিনাল দিয়ে একটি সিলভার কালারের প্রাইভেট গাড়িযোগে (ঢাকা মেট্রো ৩৫-৭৭৮৫) তিনি অজ্ঞাত স্থানের দিকে চলে যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কোথায় অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বিমানবন্দর ছাড়েন বলে গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কৃত এই নেতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত এসে কিছু দিন অবস্থান করেন। গতকাল তিনি কলকাতা থেকে দেশে ফিরলেন।
এদিকে হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত লতিফ সিদ্দিকীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে। নইলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।
তিনি বলেন, হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এ হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নেই। কোনো প্রডাকশন নে1414168314ই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।
তার এসব বক্তব্য তাত্ক্ষণিকভাবে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে আলোচনার ঝড় তোলে। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।’
গত ২৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘোষণা দেন, মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হবেন। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন।
উল্লেখ্য, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশের নানা জেলায় মোট ১৭টি মামলা হয়েছে এবং অধিকাংশ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ২৮ অক্টোবর আরও বলেন, ‘আদালত থেকে যে নির্দেশনা এসেছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করব।’
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরবর্তী সময় তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। বিবিসির সংবাদে বলা হয়, হজ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে থাকা বাংলাদেশের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি তার মন্তব্যে অনড়। তবে শুধু তার দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেই তিনি তার সম্মানে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। মেক্সিকো থেকে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, একজন স্বাধীন ও আধুনিক মানুষ হিসেবেই তিনি হজ সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘যা রেকর্ড করা আছে। সেটা ঠিকই আছে। আমি ওই কথার ১০০ ভাগ দায়িত্ব নিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে প্রভাবশালী সিদ্দিকীদের জ্যেষ্ঠ ভাই ৭৭ বছর বয়সী লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। গত মহাজোট সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর চলতি বছরের শুরুতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।
ষাটের দশকে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের দিনগুলোতে একাধিকবার কারাগারে যেতে হয় বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য লতিফ সিদ্দিকীকে।

ভারত থেকে এলো ৩২ লাখ ছাপানো বই

বেনাপোল সংবাদদাতা : বাংলাদেশের সরকারি প্রাথ1416490608মিক বিদ্যালয়ের ছাপানো ৯০ লাখ বইয়ের বিপরীতে প্রথম চালানের ৩২ লাখ বই ভারত হতে আমদানি হয়েছে। বুধবার রাতে বেনাপোল বন্দর থেকে এসব বই খালাশ প্রক্রিয়া শুরু হয়। বন্দরের ৪২ নম্বর শেড থেকে বইয়ের চালান খালাস দেয়া হচ্ছে দ্রুত।
এসব বইয়ের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় শিক্ষা নীতি ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এর রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্স। গত বছরও ভারত থেকে তিন কোটি বই আমদানি করা হয়েছিল।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুজহাত ইয়াসমিন জানান, এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। ৯৫টি প্যাকেজে ২১ টি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ করছে। এর মধ্যে ভারতের কৃষ্ণা টেড্রার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৯০ লাখ বই ছাপানোর কাজ নেয়। এ বইয়ের প্রথম চালানের ৩২ লাখ বই বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানির পর বুধবার রাত থেকে এসব বই খালাশ হতে শুরু করেছে। টেন্ডার পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানের বই ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বই স্কুলে পৌঁছে যাবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্য বই বিতরণ উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি। বই যাতে দ্রুত বন্দর থেকে খালাস নিতে পারে সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তারা।

সব প্রতিষ্ঠানই পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত হবে : অর্থমন্ত্রী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : অর্থমন্ত্রী আ1415368189বুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করছে। সব প্রতিষ্ঠানকেই পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে।
তিনি শুক্রবার জেলার বাহুবল উপজেলা হলরুমে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গৃহস্থালির জন্য নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে না। ঢাকায় নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
গ্যাস মূল্যবান খনিজসম্পদ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, গৃহস্থালির জন্য এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা শ্রমিকদেরকে ভোটাধিকার দিয়েছিলেন। চা শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তাঙ্গন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। হরতালের জন্য এই প্রবৃদ্ধির ধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কঠোরভাবে হরতাল বন্ধ করতে হবে।

৩৫তম বিসিএস: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারি

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter