টপ খবর

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা ,৬ অক্টোবর 555_6199: চলতি বছর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার বিকাল থেকে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানো শুরু হয়েছে বলে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন।

কিছু সময়ের মধ্যে অধিদপ্তরের ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ. বিজিএইচএস.জিওভি.বিডি ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষার দুদিন পরই ফল প্রকাশ হল।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ৯ হাজার ১৯৪টি আসনের মধ্যে স্থান করে নিতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৮ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ২৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহে ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মানব বন্ধন

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ, ০৫.অক্টোবর:ঝিনাইদহে ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। আজ দুপুরে স্থানীয় পায়রা চত্বরে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ঝিনাইদহ জেলা কমিটি এ কর্মসূচী পালন করে।
আজ দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তিসহ ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘন্টাব্যাপী মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানব বন্ধন কর্মসূচী চলাকালে তারা তাদের ৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ এমপিও ভুক্ত করা হলে বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর আগে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরলিপি প্রদান করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহ ভ্যাটের অজুহাতে দ্বিগুন টাকা নিয়ে ২ লক্ষাধিক টাকা আত্বসাতের অভিযোগ

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ থেকে, ০৪.অক্টোবরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নে বরাদ্ধ মাত্র ৩০ হাজার টাকা নিতে শিক্ষা অফিসে বিদ্যালয়গুলোকে নগদ জমা দিতে হয়েছে ৩ হাজার করে টাকা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে এই টাকা জমা দিতে বাধ্য করেছেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মোট ১৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জন্য বরাদ্ধ ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরনের সময় শিক্ষা অফিস নগদ হিসেবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা নিয়েছেন।
শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচ বাবদ শিক্ষকদের নিকট থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা কাজ শেষে ঠিকমতো ভ্যাট জমা দিতে চান না, যে কারনে তিনি এই টাকা জমা নিয়েছেন। অবশ্য শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন প্রতি বছর তারা এই টাকা পেয়ে থাকেন। যা স্কুলের নানা উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেন। কাজ শেষে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট জমা দেন। কিন্তু এবার তাদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ টাকা জমা নেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর ছোট ছোট নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার থেকে প্রতিবছর সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন। যাকে “বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা” অর্থাৎ স্লিপ বরাদ্ধ বলা হয়ে থাকে। যে অর্থ দিয়ে তারা স্কুলের রং এর কাজ, টিউবওয়েল সংষ্কার, চেয়ার-বেঞ্চ মেরামতসহ নানা কাজ করিয়ে থাকেন। শিক্ষকরা জানান, চলতি বছর তাদের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্ধ পেয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই টাকার চেক স্কুল গুলোকে দেওয়া হয়েছে। চেক দেওয়ার সময় তাদের তাদের নিকট থেকে ৩ হাজার করে নগদ টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। এই টাকা শিক্ষকরা পকেট থেকে দিয়েছেন। শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম তাদের এই টাকা জমা দিতে বাধ্য করেছেন। এভাবে তিনি ১৩৬ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককের নিকট থেকে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু অন্য বছরগুলোতে তারা চেক নিয়ে স্কুলের একাউন্টে জমা করেন। এরপর পরিচালনা কমিটির সভা করে স্কুলের উন্নয়নে টাকাটা খরচ করেন। কাজ শেষে ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যাংকে জমা দেন। ভ্যাটের অজুহাতে এবার তাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। জমা নেওয়া টাকার অর্ধেকের কোন হিসাব থাকবে না, যা সবটাই আত্বসাত করা হবে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভ্যাট বাবদ তাদের কাছ থেকে এই টাকা জমা নিয়েছেন। এটা নিয়ম না থকালেও প্রয়োজনে করতে হয়েছে। অন্যথায় শিক্ষকরা কাজ শেষে ভ্যাটের টাকা জমা দেন না। অতিরিক্ত টাকা গ্রহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে টাকা খরচ হবে বাকি টাকা তাদের ফেরত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ শত টাকা করে ফেরত দিয়েছেন। ফেরত পাওয়া এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখির খবর পেয়ে নামমাত্র কয়েকটি স্কুলের কিছু করে টাকা ফেরত দিচ্ছেন। কিন্তু যে টাকা জমা নিয়েছেন তার অর্ধেক খরচ হবার কথা।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এভাবে টাকা জমা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস!

ঢাকা, ৪ অক্টোবর : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার শুরুর আগেই মোবাইলে স্ক্যান করা প্রশ্নের কয়েকটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে একযোগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতবছরের মতো এবারও সবার আগেই মেডিকেলের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোবাইলের স্ক্যান করা ইমেজে দেখা গেছে প্রশ্ন এবং প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে উত্তর চিহিৃত করা আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়েছে এসব প্রশ্ন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্ন মিলে গেলে এই পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছুরা।
source: www.news69

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা : দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারের আশ্বাসে তাদের আন্দোলন ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

সোমবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।

এর আগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগদানের সময় সুপারভাইজার নন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে জানানো হয়। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ যৌথসভা শেষে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও গৃহয়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এ বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গেজট প্রকাশ করা হবে।

গৃহায়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, “একটা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আমরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সবাইকে বলতে চাই কোনোভাবেই আমরা সুপারভাইজার পদ তৈরি করিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, চাকরিতে যোগদানের সময় তাদের পদ হবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী।”

শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “আশা করি শিক্ষার্থরা এখন তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।”

তিনি আরো বলেন, “আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব পরীক্ষা বর্জন করেছেন সে বিষয়ে দ্রুই সিদ্ধান্ত হবে।”

সভায় উপস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, “সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত অবিশ্বাস থেকে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিকালে ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষাসচিবদের বৈঠকের কথা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, পেশাগত বৈষম্য নিরসন ও সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনসহ দুই দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। রোববার এ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ছাত্ররা গতকাল ক্যাম্পাসসহ অনেক স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ও সড়ক অবরোধ করেন। এসব ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় আড়াইশ’ ব্যক্তি আহত ও ৬৪ জন আটক হন। সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশলীর সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ সালের বিতর্কিত গেজেট সংশোধন এবং ছাত্রদের বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সচিন, ধোনিকে পিছনে ফেলে শীর্ষে কোহলি

স্পোষ্টর্স ডেস্ক: শুধু কিংবদন্তী সচিন নন, তাঁর দাপটে পিছিয়ে পড়লেন দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ মহেন্দ্র সিংহ ধোনিও। মাঠের বাইরে কোহলি এবার অনেকটাই এগিয়ে গেলেন তাঁর অধিনায়ক ও প্রবীণ সতীর্থের থেকে। বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে টাকার চুক্তিতে একচেটিয়াভাবে প্রথম স্থান দখলে ছিল সচিনের। তাঁর সঙ্গে নাম লেখান ধোনিও। এবার তাঁদের থেকে এক কদম এগিয়ে বার্ষিক দশ কোটি টাকার বিরাট অঙ্কের চুক্তি করলেন দিল্লির মোস্ট এলিজেবল সুদর্শন ব্যাচেলার কোহলি। ওই অঙ্কে তিন বছরের জন্য তিনি গাঁটছড়া বাঁধলেন বহুজাতিক ক্রীড়াসরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাডিডাসের সঙ্গে। এছাড়াও একটি বহুজাতিক টায়ার কোম্পানির সঙ্গে বার্ষিক প্রায় সাত কোটি টাকার চুক্তিও করেছেন তিনি। ফলে বার্ষিক মোট চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা। যা এককথায় নজিরবিহীন।

খবরে প্রকাশ গত এক বছরে বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় করেছেন কোহলি। আগামী দিনে ভারতীয় অধিনায়কের মুকুট চড়তে পারে কোহলির মাথায়। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী ভালই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ইয়ং আইকনের। ব্যাটেও যথেষ্ট সফল। চলতি বছরে তাঁর নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছে দল। সবমিলে কোহলির সাফল্যের সূচক উর্ধ্বমুখী। ফলে বহু কোম্পানি তাঁদের বাজির ঘোড়া হিসাবে প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখছেন কোহলিকে। শুধু তাই নয়, কোহলি এখন ১৩টি সংস্থার পণ্যের বিপণন দূত হিসেবে কাজ করছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিন্ন-মানসম্মত হোক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রশ্নপত্র

সাহিদ সুমন: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahidsumon@yahoo.com

দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী থাকেন।

 

কিন্তু শিক্ষার্থী তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুব সামান্য। ফলে আগ্রহী প্রত্যেককেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া অসম্ভব। তাছাড়া দেশের সকল কর্মক্ষেত্রে লোকের যোগান দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যও নয়।

ফলে যেসব ক্ষেত্রের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষক বা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত লোক তৈরি করবে, সে ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যায়নে আগ্রহী ও অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সারা দেশ থেকে বেছে বের করে পড়াশুনার সুযোগ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ। সে কারণেই ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে সেটা ঠিকমতো নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পাবলিকের অসুবিধা করছে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে অসংখ্য পরিবার প্রতিবছর অর্থ ব্যয় করছেন, শিকার হচ্ছেন নানা ভোগান্তির।

ক্ষতি যে শুধু অভিভাবকদেরই হচ্ছে তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবীরা যোগ্য জায়গায় যেতে পারছেন না। হয়তো চট্টগ্রামের একজন তুখোড় মেধাবী ফোকলোরে বিশেষ আগ্রহী, কিন্তু দূরত্ব, অর্থসঙ্কট ইত্যাদি কারণে অভিভাবকদের নিরুৎসাহে সে রাজশাহীতে (যেখানে সমৃদ্ধ ফোকলোর বিভাগ আছে) পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। অথবা ঢাবিতে অল্পের জন্যে মনোবিজ্ঞান পায়নি এমন শিক্ষার্থী হয়তো চট্টগ্রামে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে সেখানে মনোবিজ্ঞানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতো।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জন্যে যদি অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগই আগের তুলনায় অধিকতর মেধাবীদের পাবে। কারণ, সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে সহজে পরীক্ষা দিতে পারার কারণে একই আসনের জন্যে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী চেষ্টা করবে। ঢাকার বাসিন্দা সুযোগ পাবে, অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চগড়ের বাসিন্দা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না এমনটি কম ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একত্রে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে এবিষয়ে যদি ঐক্যমতে পৌঁছা যায় তাহলে তার পরের সমস্যাটি দাঁড়ায় পরীক্ষা অনুষদভিত্তিক, গুচ্ছভিত্তিক নাকি বিষয়ভিত্তিক হবে।

ঢাকা ও জগন্নাথে অনুষদভিত্তিক পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হয় গুচ্ছভিত্তিক। অর্থাৎ কয়েকটি কাছাকাছি ধরনের বিষয় নিয়ে একটি গুচ্ছ (cluster) বানিয়ে সে-গুচ্ছের জন্যে একটি পরীক্ষা হয়। জাহাঙ্গীরনগরে গত বছর একটি অনুষদে (কলা ও মানবিকী) বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

 

এর কারণ বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার জন্যে এই অনুষদের বিভাগগুলো থেকে শিক্ষকরা জোর দাবি তুলেছেন। এমনিতে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে এমসিকিউ করার কারণে জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষার্থীদের গড় মানের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

অনুষদভিত্তিক এমসিকিউ পরীক্ষা হলে বিভাগগুলোতে আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থী আরো অপ্রতুল হয়ে উঠবে। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিটি বিভাগের জন্যে আলাদা পরীক্ষা নেওয়া গেলে। এর আয়োজনে ঝঞ্ঝাট যদি বেশি হয় তাহলে কিছু কিছু বিষয়কে একত্র করে গুচ্ছ বানানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

 

কারণ, এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে কোনো গুচ্ছে ফেলা মুশকিল (যেমন, চারুকলা, দর্শন)। এ ধরনের বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারের সব উদ্যোগই বৃথা যাবে যদি প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা না হয়। প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে ভর্তি পরীক্ষা হয় তা আসলে শিক্ষার্থীদের গাইড মুখস্থ করার দক্ষতার পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা গাইড কেনা, কোচিং সেন্টারে যাওয়া এসব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুঁটিয়ে পড়লে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো তৈরি হয় নিতান্ত দায়সারাভাবে। কোনো কোনো প্রশ্ন  শুধু বাজারের গাইডবই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। অথচ এই প্রশ্নপত্রই হচ্ছে সেই ছাঁকনি যা দিয়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্তদের তুলে আনা সম্ভব।

আমেরিকার প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্রেডে ভর্তির জন্যে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয় না। আমেরিকান বা অ-আমেরিকান যে কোনো শিক্ষার্থী আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে তাকে স্যাট (SAT) পরীক্ষা দিতে হবে। তার মানে, এদেশে আমরা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে সাধারণ যে পরীক্ষার কথা চিন্তা করছি তা নতুন কিছু নয়।

ইউরোপের অনেক দেশে অবশ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে এটা সম্ভব তার কারণ, আমাদের মতো মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যক-সাধারণ নিয়ে ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার গুণগত মান তারা নিশ্চিত করতে পেরেছেন (সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে আমাদের আরো সময় লাগবে)।

তাছাড়া ওসব দেশে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের জন্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে। স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস, জিআরই ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘাঁটলে বোঝা যায়, বহু লোকের বহু বছরের গবেষণা ও চিন্তাভাবনা রয়েছে এগুলোর পেছনে। অথচ আমাদের দেশে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় পরীক্ষার অল্প ক’দিন আগে, খুব তড়িঘড়ি করে এবং যথোপযুক্ত মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা ছাড়াই।

ভর্তি পরীক্ষার ধরন নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুধু পরীক্ষার আগের সময়টাতে নয়, সারা বছর ধরেই চলতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটি প্রশ্ন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন শিক্ষার্থীর বিশেষ কয়েকটি যোগ্যতা যাচাই হয়। এগুলো হচ্ছে বাঙলা ও ইংরেজি ভাষায় দখল, যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নপত্রেই বাংলা-ইংরেজি অংশ থাকে।

বাংলা অংশে সাধারণত ‘কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?’ বা ‘কবি সুধীন্দ্রনাথের জন্মস্থান কোনটি?’ এ জাতীয় প্রশ্ন থাকে। কিন্তু এসব মুখস্থনির্ভর, গাইডমুখী প্রশ্নের সাহায্যে বাংলা ভাষায় শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই হয় না। তাই ভালো বাংলা বই থেকে অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে কিংবা নতুন অনুচ্ছেদ রচনা করে তার উপর প্রশ্ন তৈরি করতে হবে।

 

ইংরেজি অংশেরও অনেকটা জুড়ে থাকা উচিত এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ (passage) ও সেগুলোর উপর প্রশ্ন।

 

এতে শিক্ষার্থীর পঠন দক্ষতা (reading skill) যাচাই হবে চমৎকারভাবে। একজন শিক্ষার্থী গাইড নাকি ভালো বই পড়ে অভ্যস্ত তাও ধরা পড়বে অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে। এছাড়া বাঙলা ও ইংরেজি অংশে অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণকরণ (sentence completion), শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বাক্য চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন রাখতে হবে।

যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই করতে হলে প্রাথমিক গণিতের কিছু প্রশ্ন রাখতে হবে। এটা করতে হবে এমনকি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার জন্যেও। .

 

এছাড়া লজিকের নানা সমস্যা, একাধিক বাক্যের মধ্যকার সঙ্গতি-অসঙ্গতি নির্ণয়মূলক, এবং সবল ও দুর্বল যুক্তির পার্থক্য নির্ধারণের প্রশ্ন রাখতে হবে। বিভিন্ন আইকিউ টেস্টের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা যাবে।

শিক্ষার্থী যে বিভাগেই ভর্তির সুযোগ পাক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত নানা গ্রন্থ ও প্রবন্ধাদি পড়তে হবে, চিন্তা করে বুঝতে হবে, প্রশ্নোত্তর, অভিসন্দর্ভ ইত্যাদি লিখতে হবে। সেজন্যেই ভাষায় দখল এবং যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই (অর্থাৎ বুদ্ধি যাচাই) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়ই একটি সাধারণ জ্ঞান অংশ থাকে। কিন্তু এ অংশটি শিক্ষার্থীর ঠিক কোন যোগ্যতা যাচাই করে তা স্পষ্ট নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-২০১১ সালের কলা অনুষদের প্রশ্নপত্রের সাধারণ জ্ঞান  অংশে প্রশ্ন ছিল – বাংলাদেশ কোন সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সদস্য পদ লাভ করে? একই বছর আরেকটি প্রশ্ন ছিল – কোন পাখি পাথর ও লোহার টুকরা খায়? এ জাতীয় প্রশ্নগুলোকে কেন “সাধারণ” জ্ঞান এর প্রশ্ন বলা হয় তা এক রহস্য। কেননা কোনো সাধারণ উপায়ে, যেমন পত্রপত্রিকা পড়ে, টিভির খবর দেখে, বই পড়ে, অভিজ্ঞ লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে যে-জ্ঞান হয় তা এরকম তথ্যমূলক জ্ঞান নয়।

এরকম জ্ঞান কেবল “অসাধারণ” উপায়েই, অর্থাৎ গাইড মুখস্থ করে অর্জন করা সম্ভব। মোদ্দাকথা, যাদের সত্যিকার অর্থে সাধারণ জ্ঞান আছে ভর্তি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশ তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দেয় না। বরং যারা না-বুঝে মুখস্থ করে তাদেরকেই সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য প্রশ্নের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটাতে যে শিক্ষার্থী অনুসন্ধিৎসু এবং নিজের কৌত‍ূহলেই দেশ-বিদেশের খোঁজখবর রাখে অথচ না বুঝে কোনোকিছু মুখস্থ করতে অনাগ্রহী সে পিছিয়ে পড়বে। আর এগিয়ে যাবে চিন্তাবিমুখ, মুখস্থবিদ শিক্ষার্থীরা।

তাই সাধারণ জ্ঞান অংশটি প্রশ্নপত্রে যদি রাখতেই হয় তাহলে এর পরিমাণ শতকরা দশ ভাগের বেশি হওয়া ঠিক হবে না। আর ওই দশ ভাগ প্রশ্নও শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তি নয়, সত্যিকার সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের উপযোগী হতে হবে। অর্থাৎ এতে তথ্যমূলক প্রশ্ন খুব কম থাকবে। বেশি থাকবে ধারণামূলক (conceptual) প্রশ্ন, যেমন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী, এসবের কার্য (effect) বা কারণ (cause), কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণার (concept) ব্যাখ্যা ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, প্রয়োজন মতো গুচ্ছভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্রের উচ্চমান নিশ্চিত করা গেলে আশা করা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের পাবে।

আর এ শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিকাশ ঘটাবে নিজেদের সম্ভাবনার।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আজ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু ভারত থেকে

কুষ্টিয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর : ভারত থেকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এই বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গিয়ে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

অন্যদিকে ভারতে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি ভারত থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এর আগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ মাসের মধ্যেই সিস্টেমের পরীক্ষা শেষ হবে। শুরুতে কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অক্টোবরের শেষ নাগাদ আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। নভেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে নভেম্বরে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলে লোডশেডিং অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি ভারতের বিদ্যুৎ এলে ডিসেম্বরে সেচ মৌসুম শুরু হলেও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লক্ষ্যে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার লিমিটেডের (এনটিপিসি) সঙ্গে গত সপ্তাহে একটি সম্পূরক চুক্তি করেছে পিডিবি।

ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নতুন নতুন কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নেয়।

প্রথম পর্যায়ে ভারতের সরকারি খাত থেকে আড়াইশ’ মেগাওয়াট এবং পরে বেসরকারি খাত থেকে আরও আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১১ সালে উভয় দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর দাবিতে আজ থেকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালন ॥

১ লা অক্টোবর থেকে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন ॥ Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বাড়ছে

ডেস্ক,২০ সেপ্টেম্বর:সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এটিইও) পদমর্যাদা বাড়ছে। প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণী এবং এটিইওরা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জন্যও রয়েছে সুখবর। তাদের বেতন বাড়ছে। জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩ গ্রেড থেকে তাদের বেতন ১১ গ্রেডে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এতে তাদের বেতন বর্তমানের চেয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়বে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ  বলেন, প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন হয়ে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। এতে প্রতি মাসে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে ১৩০০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা (প্রশিক্ষণবিহীন) ৫ হাজার ২০০ টাকার স্কেলে বেতন পান। আর প্রশিক্ষণ শেষে পান ৫ হাজার ৫০০ টাকার স্কেলে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ধান্যঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বরুপ দাস শিক্ষাবার্তাকে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে এসেছেন। তার মতো তার বহু সহকর্মী একই যোগ্যতা নিয়ে জ্ঞানের আলো বিতরণ করছেন। সরকারি আচার-অনুষ্ঠানে তাদের তৃতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা নিয়ে উপস্থিত হতে হয়। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এখন যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, তারা যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন। আমরা সব সময় শিক্ষার মানের কথা বলি। সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্নরা শিক্ষকতায় না এলে শিক্ষার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা যাবে না। তাই সহানুভূতির সঙ্গে তাদের পদমর্যাদা বাড়াতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো হচ্ছে। এতে বেতন বর্তমানের চেয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়বে। প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণ করা হবে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হলে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, দেশের ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ ৩৬ হাজার এবং বেসরকারি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ চার হাজার শিক্ষক আছেন। সম্প্রতি বেসরকারি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ হয়েছে। এ হিসাবে তিন লাখ ৪০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এ বেতন কাঠামো করতে চাইছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো করা হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের বেতন বর্তমানের চেয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়বে। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোয় বেতন প্রদানে প্রতি মাসে সরকারের অতিরিক্ত ১৩শ’ কোটি টাকা প্রয়োজন।
এটিইও :প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) পদ প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে এ পদে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করা হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ দেখাশোনা করেন একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
এটিইওরা দীর্ঘদিন থেকে প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা চেয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর

ঢাকা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ অনার্স ভর্তি পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক ফয়জুল করিম এ তথ্য জানান।

ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট (www.nu.edu.bd) সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সেঞ্চুরি করে অবজ্ঞার জবাব যুবরাজের

স্পোষ্টর্স ডেস্ক: দেjubশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, ওয়ানডেতে দেশের সর্বকালের সেরা ম্যাচ উইনারদের তালিকাতেও প্রথম দিকে আছেন। এরপরেও তাঁকে খেলতে হচ্ছে এ দলের হয়ে। সেই রাগই যেন ব্যাটে ফুটে উঠল যুবরাজের। বেঙ্গালুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলের বিরুদ্ধে আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন যুবরাজ সিং। মাত্র ৮৯ বলে ১২৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেন ভারতীয় ক্রিকেটের `সিং ইজ কিং`। মারলেন ৭টা লম্বা লম্বা ওভার বাউন্ডারি, আর ৮টা বাউন্ডারি।

হাফ সেঞ্চুরি করে ফিরে আসার বার্তা দিলেন ইউসুফ পাঠান। মাত্র ৩২ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেললেন ইউসুফ। ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেললেন মনদীপ সিংও। তবে ব্যর্থ হলেন উন্মুক্ত চাঁদ (১)। ভারতীয় এ দল নির্ধারিত ৪২ ওভারে  ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রানের ইনিংস গড়ল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকদের দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলন

ঢাকা : সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের ৭ দফা দাবী না মানলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেওয়া হবে এবং সরকারকে আন্দোলনের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানায় সংগঠনটি।
59721সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমাদের সাত দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য আমরা অনেক আন্দোলন করেছি। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল  প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে একটি চিঠি জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আজ অবধি আমাদের দাবী বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কিছু পাচ্ছি না। অপর দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের  উচ্চ পদস্থ কিছু কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কতিপয় শিক্ষককে একটি বে-আইনী সংগঠনের ব্যানারে সংগঠন পরিচালনায় উৎসাহিত করে শিক্ষকদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির মাধ্যমে দাবী আদায়ের অন্তরায় সৃষ্টির অপচেষ্ট করছেন। এতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকগন দায়িত্ব পালনে উদ্যোম হারিয়ে ফেলেছেন এবং তাদের নৈতিকতা বিবর্জিত কার্যকলাপে শিক্ষক সমাজ আজ প্রচন্ড ভাবে ক্ষুব্ধ।

বক্তারা আরো বলেন, মন্ত্রনালয়ের আশ্বাসে আমরা আমাদের আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। আরা সরকারি কর্মচারি, কোন রাজনৈতিক দল করিনা। তারপরও আমাদের দাবী বাস্তবায়নে কোন কর্মসূচী দিলে আমাদের সাথে বিরোধীদলের আতাত আছে বলে দোষ চাপানো হয়। আমরা বুঝতে পারছি যে, দাবী বাস্তবায়নের বিষয়ে দ’  একটি পত্র লিখে মূলা ঝুলিয়ে সরল প্রাণ শিক্ষকদের দাবী আদায়ের আন্দোলন কর্মসূচীকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে মাত্র। তাই বাধ্য  হয়েই আমরা নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করছি। এতও কাজ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেব।

সংগঠনের নতুন কর্মসূচী হল- ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সকল উপজেলা সদরে শিক্ষক সমাবেশ, ১-৩ অক্টোবর সকাল  ১০-১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি, ৫-১০ অক্টোবর সকাল ১০-১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি, ১২-২৪ অক্টোবর ঈদের ছুটির সময় জেলায় জেলায় শিক্ষক সমাবেশ এবং ২৬ অক্টোবর থেকে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি।

সংগঠনের সভাপতি মো: আ: আউয়ালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহা-সম্পাদক মিসেস সালেহা আক্তার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহিদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক  কামরুল ইসলাম শাহীন, প্রচার সম্পাদক আলাউদ্দিন মোল্লা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক  শফিকুর রহমান, কেন্দ্রিয় সদস্য রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গত ৪ বছরে স্বাক্ষরতা বেড়েছে ১২ শতাংশ

ঢাকা,৮ সেপ্টেম্বর: 130908-literacy-day_350_209স্বাক্ষরতার হারের সঠিক তথ্য নিয়ে সব সময়ই বিভ্রাট থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে বিভিন্ন তথ্য। এনিয়ে বরাবরই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে দেশে স্বাক্ষরতার হার ৫৮ শতাংশ। আর উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বলছে স্বাক্ষরতার হার ৫৩ শতাংশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে বর্তমানে দেশে স্বাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ। অপরদিকে শিক্ষাব্যুরোর তথ্যমতে স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৫৯.৮ শতাংশ। বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সময় ২০০৯ সালে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৫২ শতাংশ। চার বছরে স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে ২১ শতাংশ। স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে গত ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. মো. আফছারুল আমীন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ছিল তখন স্বাক্ষরতার হার ছিল ৬১ শতাংশ। পরে বিএনপির জোট সরকারের আমলে স্বাক্ষরতার হার নিম্নগতি হয়। এবার যখন মহাজোট ক্ষমতা গ্রহণ করে ২০০৯ সালে তখন স্বাক্ষরতার হার ছিল ৫২ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া সফল উদ্যোগের কারণে ঝরে পড়ার হারও কমেছে। বর্তমানে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর হার ২৯ শতাংশ। যা আগে ৪০ শতাংশেরও বেশি ছিল।

এর আগে গত ফেব্র“য়ারি মাসের ৫ তারিখে মহাজোট সরকারের ৪ বছরে স্বাক্ষরতার হার ১১ দশমিক ৭৫ ভাগ বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন (লিটারেসি সার্ভে) অনুযায়ী দেশের ১৫ ঊধের্ব জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, নিরক্ষর ৪০ দশমিক ১৮ শতাংশ। নারী স্বাক্ষরতা ৫৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। বর্তমান সরকারের আমলে স্বাক্ষরতার হার ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। ঐদিন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও জানান, সরকারি পরিসংখ্যান (বিবিএস) অনুযায়ী বর্তমানে সাত ও এর চেয়ে বেশি বয়সী শিক্ষিতের হার ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ (পুরুষ ৫৯ দশমিক ৮ ও মহিলা ৫৩ দশমিক ৯) এবং ১৫ ও এর চেয়ে বেশি বয়সী শিক্ষিতের হার ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ (পুরুষ ৬২ দশমিক ৯ ও মহিলা ৫৫ দশমিক ৫)।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘‘দেশে সাক্ষরতার হার শতভাগ করতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় দুটি প্রকল্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীতে এবং সহকারী শিকদের বেতনস্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলে নতুন ১ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর সারা দেশে দুই হাজার ২৭০টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৭২টি কমিউনিটি বিদ্যালয়কে সরকারের অনুদানভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে স্বাক্ষর করতে ৪৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর ৬৪ জেলায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প একনেকের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ৫৬টি জেলা শহরে ১০-১৫ বয়সী ৫ লাখ কর্মজীবী শিশুদের জন্য আরেকটি প্রশিক্ষণ প্রকল্প অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের জরিপের তুলনায় ২০১২ সালে দেশের জনসংখ্যার মধ্যে স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে চার ভাগ। তবে, নারী শিক্ষার হার চার বছর আগের চিত্রেই রয়ে গেছে, আর পুরুষের ক্ষেত্রে তা বেড়েছে সাত দশমিক পাঁচ ভাগ। সম্প্রতি শেষ করা পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ চিত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মতে ২০০৮ সালে ‘স্বাক্ষরতা হার ও শিক্ষার মান উন্নয়ন’ প্রতিবেদনে শিক্ষার হার ছিল ৪৯ দশমিক সাত ভাগ। যা এবারের প্রতিবেদনে ৫৩ দশমিক সাত ভাগ। গত জরিপে নারী স্বাক্ষরতার হার ছিল ৫০ দশমিক দুই ভাগ। যা এবারো অপরিবর্তিত রয়েছে। গত জরিপে পুরুষ স্বাক্ষরতার হার ছিল ৪৯ দশমিক চার ভাগ। যা এবার বেড়ে হয়েছে ৫৬ দশমিক নয় ভাগ।

আজ আট সেপ্টেম্বর সারা দেশে পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসের এবারের শ্লোগান ‘ সবাই হবো সাক্ষর ও দক্ষ, একুশ শতকে এই আমাদের লক্ষ্য’। শ্লোগানটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা বর্তমান সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’ এর অন্যতম লক্ষ্য ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যা অত্যন্তসময়োপযোগী। এ লক্ষ্য অর্জনে সকল স্তরের নাগরিককে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। স্বাক্ষরতা অর্জনের মাধ্যমে শুধু লেখাপড়া নয়, মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায় যা সুস্থ সমাজ ও উন্নত দেশ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদের কোন বিকল্প নেই। এর আলোকে সরকার ইতোমধ্যে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এবং ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে।

উল্লেখ্য ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো নিরক্ষর মানুষের মধ্যে অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে জাতিসংঘ এবং ইউনেস্কোর সদস্য হিসেবে সকল উন্নত এবং উন্নয়শীল দেশ প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপন করে আসছে। এদিকে অভিজ্ঞমহলের মন্তব্য সরকারের সুদূরপ্রসারী চিন্তা না থাকায় দেশে স্বাক্ষরতার হার বাড়ছে ঢিমে তালে। যেভাবে স্বাক্ষরতার হার বাড়ছে তাতে ২০১৪ সালের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব নয়। তবে বাড়ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দেদারছে চলছে রওশন কোচিংবাণিজ্য

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি,৬ সেপ্টেম্বরঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করলেও বাস্তবে তা কার্যকরী হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, এ ক্ষেত্রে ঝিনাইদহে শিক্ষকরা সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্য আরও জোরদার ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যা পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ব্যায় নির্বাহে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন।

এছাড়াও অনেক শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিং এ বেশি সময় ব্যায় করছেন। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ সম্পর্কিত মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৭৩৬৬/২০১১ এর আদেশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি গেজেট নোটিফিকেশন বা অন্য কোনরুপ আদেশ প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি ও হাইকোর্ট বিভাগের নিদের্শনার প্রেক্ষিতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কোন শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবে না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্বানুমতি স্বাপেক্ষে দৈনিক বা প্রতিদিন অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক (দশ জনের বেশি নয়) শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র ছাত্রীর তালিকা (রোল শ্রেণী উল্লেখসহ জানাতে হবে)। কোন শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোন কোচিং সেন্টারে নিজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না বা নিজে কোন কোচিং সেন্টারের মালিক হতে পারবেন না বা কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে পারবেন না এবং কোচিং সেন্টারের নামে বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে সারাদেশে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য কমিয়ে আনলেও ঝিনাইদহের কতিপয় দূর্নীতিবাজ শিক্ষকরা সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র বনানীপাড়ার বকুলতলা মোড়ে রওশন কোচিং সেন্টার গড়ে তুলে সেখানে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে জানা যায়, তিনি সরকারি গার্লস স্কুল, মডেল স্কুল, কাঞ্চন নগর মডেল হাইস্কুল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তরের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও জানা যায় জানা যায়, প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীদের ভর্তি বাবদ নেওয়া হয় নয়শত টাকা, মাসিক বেতন বাবদ আটশত টাকা নেওয়া হয়। এভাবেই তিনি স্কুল ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্যের দিকে ঝুকে পড়েছেন। এদিকে ভাল ফলাফলের আশায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে এই প্রতিষ্ঠানে কোচিং করাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার নিজস্ব কোচিং সেন্টার সহ আশেপাশের বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষকদের সাথে চুক্তি করে এসব কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি সরকারি নীতিমালার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। এছাড়াও সদর উপজেলার হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এভাবেই ঝিনাইদহ শহরের অনেক শিক্ষক সরকারি নিয়মনীতি উপক্ষো করে পর্দার আড়ালে থেকে তাদের এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন ঝিনাইদহবাসী অবিলম্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter