টপ খবর

প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণির ডিজিটাল কন্টেন্ট পেতে যা করবেন

আশা করি সবাই ভালো আছেন। আপনাদের জন্য ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পযর্ন্ত সকল বিষয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট পৌছে দিতে আমি চেষ্টা করছি । এই ডিজিটাল কন্টেন্ট গুলো মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে প্রদশর্ন করালে শিক্ষার্থীরা খুব আনন্দের সাথে তাদের শিখন সম্পন্ন করতে পারবে। ডিজিটাল কনটেন্ট গুলো পেতে যোগাযোগ করুন ।



স্বরুপ দাস
প্রশি
আজমপুর সপ্রাবি,চুয়াডাঙ্গা

জেলা আইসিটি অ্যাম্বাসেডর,
এটুআই -প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
০১৮১১৮৯৮০৬১

গ্রেডিং পদ্ধতি হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১ জুলাই:

পাবলিক পরীক্ষার ফল তৈরিতে বিদ্যমান গ্রেডিং পদ্ধতি সংস্কার চলতি বছর হচ্ছে না। কবে হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে, সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব আলোচনা করতে গিয়ে জিপিএর (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) পরিবর্তে শুধু ‘জিপি’-তে (গ্রেড পয়েন্ট) ফল তৈরির প্রস্তাবও এসেছে। আবার, বিদ্যমান ব্যবস্থা বহালের প্রস্তাবও আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা নীতিনির্ধারক ঠিক করবেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


বিদেশি কারিকুলামে (ইংরেজি মাধ্যম) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ফল জিপি পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া দেশে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বুয়েটসহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বিষয়ভিত্তিক জিপি মূল্যায়িত হয়।

বিদেশেও ভর্তির ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত জিপি মূল্যায়ন করা হয়। এসব কারণে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে এখন জিপিএর পাশাপাশি ‘জিপি’ও আলোচনায় এসেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, সনাতনী পদ্ধতি বাতিল করে ২০০১ সালে জিপিএ চালু করা হয়। ইতিমধ্যে ১৮ বছর চলে যাওয়ায় এ পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি সময়ের দাবি। কিন্তু আমরা হুট করে বা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কিছু চাপিয়ে দেব না। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক এবং সাংবাদিকসহ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। সেটি শেষ করে পদ্ধতিটি চালু করা হবে। আমরা এখন সেই সময়টা নিচ্ছি। পাশাপাশি এর প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।

১০ জুন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভায় গ্রেডিং পদ্ধতির সংস্কার প্রস্তাব তোলা হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এতে পাবলিক পরীক্ষায় বিদ্যমান শিক্ষার্থীর ফলের সর্বোচ্চ ধাপ (স্কেল) জিপিএ-৫-এর জিপিএ-৪ করার প্রস্তাব করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব জানান, এ সভা থেকে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি পরিবর্তনের আগে অধিক পর্যালোচনার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো এড়িয়ে প্রমাণ ও উপাত্তের ওপর নির্ভর করারও পরামর্শ দেন তিনি। এরপর এ পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোক্তারা গতি কমিয়ে দেন।

অন্যদিকে কতিপয় গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত হওয়ায় এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জামাতপন্থী কতিপয় অভিভাবক এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারও করছে। উদ্বিগ্ন অনেকে এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে এ পদ্ধতি সংস্কারের আগে আরও বেশি পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ কারণে আসন্ন জেএসসিতে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সেই চিন্তা থেকে সরে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের পরীক্ষা সংস্কার ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার প্রস্তাব আসার পর বিভিন্ন মডেল তৈরির কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চর্চা, বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এবং শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা, পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। কেননা প্রমাণ ও উপাত্তের জন্য ট্রাইআউট (পদ্ধতির পরীক্ষা) ও পাইলটিং (পরীক্ষামূলক প্রবর্তন) দরকার।

একাদশে ‘দেড় লাখ ভর্তি বঞ্চিতদের’ ফের আবেদন শুরু

ডেস্ক,১০ জুলাই:

চলতি মাসের এক তারিখ থেকে সারাদেশের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাশ শুরু হয়েছে। তবে এখনও ভর্তি হতে পারেনি দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৬ জন। অন্যদিকে, এবার কলেজ ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল ১৪ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। যাদের একটি বড় অংশ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



তবে একাদশ শ্রেণিতে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে ভর্তি হতে পারেনি কিংবা ভর্তির আবেদন করতে পারেনি তাদের ফের আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। আজ বুধবার থেকে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ আবেদন। কলেজে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভর্তি করা হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, এ বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ শিক্ষার্থী। দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় এই বোর্ডে শিক্ষার্থী ভর্তির হার সবচেয়ে বেশি। এ বোর্ডে এখনও আসন খালি রয়েছে প্রায় দুই লাখ। তাই শেষ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীই ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে ভর্তির জন্য আবেদন করে কলেজ পেয়েও ভর্তি হয়নি। অন্যদিকে, অনেকে আবার ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। কিন্তু এখন এদের ভর্তির প্রক্রিয়া কি হবে; তারা কি ভর্তি হতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, আবেদনকারী সকল শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ পাবে। কারণ অসংখ্য আসন খালি আছে। এক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছুরা কলেজে গিয়ে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সরাসরি ভর্তি হতে পারবে।

এর আগে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইন ও মোবাইলে এসএমএস করে আবেদনের সুযোগ পায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। একেকজন শিক্ষার্থী অনলাইনে পাঁচ থেকে ১০টি কলেজের জন্য আবেদন করার সুযোগ পায়। এদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেছেন ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থী। তবে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণদের মধ্যে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪২ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির জন্য প্রথম ধাপে আবেদন করেননি। গত বছরও প্রথম ধাপে আবেদনের বাইরে ছিল প্রায় আড়াই লাখ।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছরই এভাবে বেশকিছু শিক্ষার্থী কলেজ পর্যায়ে এসে শিক্ষার সাধারণ ধারায় থাকে না। তারা হয় কারিগরি ডিপ্লোমা বা বিদেশে চলে যায়। এভাবে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পরে। মেয়েদের অনেকের এই সময়ে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে তারা সাধারণ কলেজ ভর্তির বাইরে থেকে যায়।

এবার কলেজে ভর্তি হতে ১০ লাখ ৫২ হাজার ১৮৪ জন অনলাইনে এবং ৩ লাখ ৭৪ হাজার ২২২ জন এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছে। ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৬২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৯৫টি এবং এসএমএসের মাধ্যমে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫১টি আবেদন।

এবার ঢাকা বোর্ডে তিন লাখ ৯৯ হাজার ১৯৫ জন, রাজশাহীতে এক লাখ ৮৮ হাজার ৫৮২ জন, চট্টগ্রামে এক লাখ ২২ হাজার ৩৬ জন, কুমিল্লায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৫ জন, যশোরের এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৯৪ জন, বরিশালে ৭৭ হাজার ৪২০ জন, সিলেটে ৮০ হাজার ১৬২ জন, দিনাজপুরে এক লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৮ জন, ময়মনসিংহে ৯৬ হাজার ৫৪৩ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে এক লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে আবেদন করেছে।

এদিকে, সম্প্রতি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৬ জুলাই ভর্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা নূন্যতম জিপিএ থাকা সাপেক্ষে কলেজে ম্যানুয়াল ভর্তির আবেদন জমা দিবে। আবেদনগুলো বিবেচনা করে আগামী ১৮ জুলাই শূন্য আসনের ভিত্তিতে কলেজ ভর্তিযোগ্যদের মেধাভিত্তিক তলিকা প্রকাশ করবে। আগামী ২০ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই কলেজগুলো শূন্য আসনে ভর্তি গ্রহণ করবে। আর ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজগুলোকে বোর্ডে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী তালিকা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ম্যানুয়াল ভর্তির ফি ৪৪৫ টাকা। এর মধ্যে আবেদন ফি ১৫০ টাকা, রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য ফি ১৯৫ টাকা এবং ডাটা এন্ট্রি ফি ১০০ টাকা। ভর্তির সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করবে। কলেজগুলোর শূন্য আসনের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে।

এমপিও না দেয়ার শর্তে ২ নতুন কলেজ স্থাপনের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ জুলাই, ২০১৯:

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সুপারিশে আরও ২টি নতুন কলেজ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে, কলেজ পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠার সাথে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ না রাখার শর্তে কলেজগুলো স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এসব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও দাবি করতে পারবেন না। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়।
কলেজ দুটি হলো, কক্সবাজার সদর উপজেলায় কক্সবাজার ডিসি কলেজ এবং পার্বত্য খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি কলেজ।



জানা গেছে, পাঠদানের অনুমতি চাওয়ার আগেই অধ্যক্ষসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ, জমি ক্রয় এবং অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষা উপকরণ তৈরির শর্তে কলেজগুলো স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া কলেজ ব্যাক্তির নামে হলে নামকরণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ১৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়েছে। কলেজ পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠার সাথে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ থাকবে না বলেও বলা হয়েছে কলেজগুলোকে।

বর্তমানে ৫ হাজারের বেশি ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওর অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কয়েক দফায় এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

এমপিও শিক্ষকদের জুনের চেক ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুলাই, ২০১৯:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুন (২০১৯) মাসের এমপিওর চেক মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ছাড় হয়েছে। বেতনের আটটি চেক নির্ধারিত অনুদান বণ্টনকারী চারটি ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন। স্মারক নম্বর ৩৭.০২.০০০০.১০২.৩৭.০০৪.২০১৯/৫৯৪৯/০৪।

আত্তীকরণে ধীরগতিতে শঙ্কায় শিক্ষক-কর্মীরা

শরীফুল আলম সুমন,১০ জুলাই ২০১৯  :

টাঙ্গাইলের মধুপুর কলেজ জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি লাভ করে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট। এরপর জাতীয়করণের গেজেট জারি হয় গত বছরের ১২ আগস্ট। জাতীয়করণের কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি অবসরে যাবেন চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ হওয়ার সুযোগ খুবই কম। ফলে কলেজ জাতীয়করণের পর এর সুবিধা না নিয়েই অবসরে যেতে হবে রফিকুল ইসলামকে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে তিনি মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন।


রফিকুল ইসলামের মতো এমন সমস্যায় ভুগছেন প্রায় আট হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। চাকরি আত্তীকরণের আগে যাঁরা অবসরে যাবেন তাঁরা জাতীয়করণের কোনো সুবিধা পাবেন না। এমনকি সরকারি শিক্ষক হিসেবেও পরিচয় দিতে পারবেন না। অথচ কলেজ জাতীয়করণের পর থেকে সবাই তাঁদের সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবেই জানে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সব কলেজের জাতীয়করণের গেজেট জারি হয়। এরপর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও একটি কলেজেরও শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারীকরণ হয়নি। অথচ একই সময়ে জাতীয়করণ হওয়া শতাধিক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারীকরণের কাজ শেষ হওয়ার পথে।

সূত্র মতে, খুবই ধীরগতিতে চলছে কলেজ জাতীয়করণের কাজ। এতে সরকারীকরণের সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষক-কর্মচারী খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী চাকরি করছেন, তাঁরাও দ্বিধায় ভুগছেন।

জানা যায়, জাতীয়করণের বিষয়ে সম্মতির পরই নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ২৯৯ কলেজে। তখন ওই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষক ১২ হাজার ৩৫৬ জন এবং কর্মচারী প্রায় চার হাজার। তবে যে গতিতে আত্তীকরণের কাজ চলছে, তাতে সব কলেজের কাজ শেষ করতে চার-পাঁচ বছর লেগে যাবে। আর ওই সময়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে যাবেন।

জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল হক বলেন, ‘২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর আমাদের কলেজগুলোতে নিয়োগ বন্ধ। কিন্তু এর মধ্যেই দুই হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন। আর আত্তীকরণে যদি পাঁচ বছর লাগে, তাহলে মোট শিক্ষক-কর্মচারীর ৬০ শতাংশই অবসরে চলে যাবে। সেই সংখ্যা হবে আট হাজারের ওপরে। আমরা আত্তীকরণপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এখন স্থানীয় সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি দিচ্ছি। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব। এতে অবস্থার উন্নতি না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। কারণ জাতীয়করণ হওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে অবসরে যাওয়া যে কতটা কষ্টের, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না।’

এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মো. মাহমুদ-উল-হক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু কলেজের দিক থেকে সমস্যা হচ্ছে। নিয়োগ, এমপিওসহ নানা কাগজ দিতে তারা দেরি করছে। আর সব কাগজ পাওয়ার পরও অনেক প্রসেস শেষ করতে হয়। মাউশি অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে পাঠাবে। আমরা জনপ্রশাসনে পাঠাব। তারা কাজ শেষ করে আমাদের ফেরত পাঠালে পরিপত্র জারি হবে। তবে দ্রুত আত্তীকরণের কাজ শেষ করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’

আত্তীকরণের আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাপারে মাহমুদ-উল-হক বলেন, ‘আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ীই সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। যাঁরা আত্তীকরণ হওয়ার আগেই অবসের যাবেন তাঁরা সরকারীকরণের সুবিধা পাবেন না। তাঁরা এমপিওভুক্তির অবসরের যেসব সুবিধা রয়েছে, সেগুলো পাবেন। আর যাঁরা অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন তাঁরাও বিধিমালা অনুযায়ী আত্তীকৃত হতে পারবেন না।’

জানা যায়, ২৯৯ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের কোন প্রক্রিয়ায় আত্তীকরণ বা সরকারীকরণ করা হবে সে সিদ্ধান্ত নিতেই শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ সময় চলে যায়। সব কলেজে সমন্বিত পদ সৃজন করার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ঢাকার চারটি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে সভা করে। সভায় কলেজগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণে ১৫ দফা তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, যুগ্ম সচিব বা অতিরিক্ত সচিবের প্রত্যয়নসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখে ১৮টি করে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য মাউশি অধিদপ্তরকে পাঠাতে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাউশি অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওই চার কলেজকে মডেল হিসেবে ধরে কাজ এগোতে পারছে না অধিদপ্তর। তাদের প্রত্যেক শিক্ষকের সব ধরনের তথ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হচ্ছে। কিন্তু কলেজ উইংয়ে মাত্র তিনজন সহকারী পরিচালকের পক্ষে এত বড় কাজ গুছিয়ে আনা কঠিন। এ জন্য এই কাজে আরো ৯ জন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা সর্বশেষ ২০টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও নানা সমস্যায় তা ফেরত পাঠানো হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে আত্তীকরণের কাজ শেষ হতে দীর্ঘদিন লেগে যাবে।

জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না বা প্রাপ্যতা সঠিক আছে কি না, এসব যাচাই করে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডিসি বা ইউএনও সব কাগজপত্র মাউশিতে পাঠাচ্ছেন। মাউশি ১৫ দফা তথ্য যাচাই করে সার্টিফায়েড কপি পাঠাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এরপর মন্ত্রণালয় তা যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। তারা প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে অনুমোদন দেবে। এরপর তা পাঠানো হবে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বাস্তবায়ন অনুবিভাগ ও প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায়। সেখান থেকে ফিরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারা আত্তীকরণের পরিপত্র জারি করবে।

মাউশি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তারা একটি কলেজের সব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে। তবে প্যাটার্ন অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের ঐচ্ছিক প্রতিটি বিষয়ের জন্য একজন, ডিগ্রির ঐচ্ছিক প্রতিটি বিষয়ের জন্য দুজন, অনার্স কলেজের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সাতজন এবং মাস্টার্স থাকলে ১২ জন শিক্ষকসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীর আত্তীকরণ হওয়ার সুযোগ আছে। তবে অনেক কলেজেই শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় অস্থায়ী অথবা খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেমন সাভার কলেজে প্যাটার্নের বাইরে ২৬ জন অস্থায়ী শিক্ষক থাকার তথ্য পেয়েছে মাউশি অধিদপ্তর। সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ওই শিক্ষকরা আত্তীকরণপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরন অনশন।।

নিজস্ব প্রতিবেদক,৮জুলাই:
নেত্রকোনা সদরের শালজান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে থেকে শিক্ষকতা করছেন অকিল পাল। ২৬ বছর শিক্ষকতা করে কোনো বেতন-ভাতা না পেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়িয়ে, কখনও-সখনও অন্যের কৃষিজমিতে রোজ খেটে তার সংসার চলে। আর দুই বছর পর অবসরে যাবেন তিনি।


সোমবার (৮ জুলাই) অকিল পালের সঙ্গে দেখা হয় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। তার মতো কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষিকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন। জাতীয়করণ হলে তারা বেতন-ভাতা পাবেন।

২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা তারা। ২৩ দিন ধরে টানা তারা আন্দোলন করে আসছেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তারা আন্দোলন করছেন। সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন জানান, খোলা আকাশের নিচে এভাবে আন্দোলন করতে গিয়ে গত ২২ দিনে ১৮১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষকরা জানান, গত ১৬ জুন তারা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ২৮ জুন পর্যন্ত টানা ১৩ দিন অবস্থান ধর্মঘট করেন। দাবি-দাওয়া না মানায় ২৯ জুন প্রতীকী অনশন করেন। তাতেও কাজ না হলে ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত অনশন করেন তারা। তারপরও দাবি না মানায় ৩ জুলাই থেকে আজ (সোমবার) পর্যন্ত আমরণ অনশন করে চলেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকরা। প্রতীকী অনশন ছাড়া তারা মোট ৯ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন।

আমরণ অনশনের পাশাপাশি তারা সেখানে স্লোগানও দিচ্ছেন। স্লোগানে শিক্ষকরা বলছেন, ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে; চাকরি আছে বেতন নাই, এমন কোনো দেশ নাই; এক দেশে দুই নীতি, তা হবে না, তা হবে না; কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না, তা হবে না।’

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নিয়ে হাইকোর্টের রুল

সমিতির মহাসচিব কামাল হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ৯১৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয় সরকার। সিদ্ধান্ত হয়, তিন ধাপে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওই সময় কিছু কর্মকর্তার কর্মস্থলে না থাকা এবং কিছু কর্মকর্তার অবহেলার কারণে তৃতীয় ধাপ থেকে কিছু বেসরকারি বিদ্যালয় বাদ পড়ে।’

বাদপড়া এসব বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ এর বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক,৮ জুলাই:
পিএসসি থেকে সংগৃহীত ৩৫ তম, ৩৬ তম এবং ৩৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনটি বিসিএসে দেখা গেছে যারা বেশি বয়সী তাঁদের পাশের হার খুবই কম।



আজ সোমবার গণভবনে চীন সফরের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সী ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়া হবে না। কারণ আন্দোলন করলে তারা অন্তত রাজনীতিটা শিখতে পারবে।

তিনি বলেন, এখন জন্ম নিবন্ধন হয়। নিয়মিত পড়াশোনা করলে ১৬ বছরে এসএসসি পাশ করে। এরপর দুই বছরে এইচএসসি। এরপর চার বছরে অনার্স ও এক বছরে মাস্টার্স করলে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৫ তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পাশের হার ৪০.৭ ভাগ, ২৫-২৭ বছরের মধ্যে পাশের হার ৩০.২৯, ২৭-২৯ বয়সে ১৩.১৭ শতাংশ প্রার্থী পাশ করেছেন এছাড়া ২৯ বছরের বেশি বয়স যেসব প্রার্থীর ৩.৪৫ ভাগ পাশ করেছেন।

৩৬ তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পাশের হার ৩৭.৪৫ ভাগ, ২৫-২৭ বছরের মধ্যে পাশের হার ৩৪.৭৮, ২৭- ২৯ বয়সে ১৯.৮৯ শতাংশ প্রার্থী পাশ করেছেন এছাড়া ২৯ বছরের বেশি বয়স যেসব প্রার্থীর ৩.২৩ ভাগ পাশ করেছেন।

এছাড়া ৩৭ তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পাশের হার ৪৩.৬৫ ভাগ, ২৫-২৭ বছরের মধ্যে পাশের হার ২৩.৩৫, ২৭-২৯ বয়সে ৭.২০ শতাংশ প্রার্থী পাশ করেছেন এছাড়া ২৯ বছরের বেশি বয়স যেসব প্রার্থীর ০.৬১ ভাগ পাশ করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করে বলেন, এখন ৩৫ বছর হলে অবস্থা টা কী দাঁড়াবে বুঝিয়ে বলেন?

তিনি বলেন, তখন তো বিয়ে-শাদি হবে, ছেলে-মেয়ে হবে, বউ সামলাতে হবে, ঘর সামলাতে হবে আর পরীক্ষা দিতে হবে। তখন তো আরো করুণ অবস্থা হবে!

তিনি বলেন, কাজ করার একটা সময় বা এনার্জি থাকে। এখন দাবি তোলার জন্য যদি তোলা হয়, তবে আমার কিছু বলার নেই। তারা নিশ্চয় কোনো জায়গা থেকে প্রেরণা পাচ্ছে। কিন্তু তার পরিণতিটা কী দাঁড়াবে?

শেখ হাসিনা বলেন, আর ৩৫ বছর বয়সে পরীক্ষা দিলে, এরপর ফল, পরে প্রশিক্ষণ। এসব শেষ হতে আরও দুই বছর লাগবে, তাহলে ৩৭ বছর হয়ে গেল, এই বয়সে চাকরিতে ঢুকলে তখন ২৫ বছর পূর্ণ না হলে ফুল পেনশন পাবে না। ঠিক আছে পেনশন না পেল, একটা সরকার তাহলে কাদের দিয়ে চালাবেন?

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলি, যারা যুবক, যারা মেধাবী, যাদের কর্মক্ষমতা ভালো, তাদেরকে দিয়েই দেশের উন্নয়নের কাজটা করতে হবে। তবে বয়স বাড়লে কাজের গতি ধীর হয়, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আমি কেবল হিসাব দিলাম, এখন দেশবাসী বিচার করুক, আপনারা বিচার করেন।

তিনি বলেন, যখন আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা তখনকার হিসাব। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, পার্লামেন্টে এরকম একটা প্রস্তাব এসেছিল, ঠিক এই বিষয়গুলো তখন বিবেচনায় নেয়া হয়।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নিয়ে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ জুলাই:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৪তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন কেন ১১তম গ্রেডে প্রদান করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।



রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ.আর. এম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

এই রুল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের জন্য প্রযোজ্য হবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া এবং তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম রাহুল ও অ্যাডভোকেট সোহরাওয়ার্দী সাদ্দাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ গেজেট জারি করা হয়েছিল।

১২১ স্কুলে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনায় অনিয়ম

বগুড়া প্রতিনিধি | ০৭ জুলাই, ২০১৯:

বগুড়া সদর উপজেলার ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল ওই যন্ত্রটি নিজ নিজ স্কুল কর্তৃপক্ষের কেনার কথা থাকলেও স্থানীয় উপজেলা পরিষদ এবং শিক্ষা অফিস তাতে বাদ সেধেছে। বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের অভিযোগ, স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের নির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো বেশি দামে কিনতে বাধ্য করছেন।



অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাতে অন্য কোনো স্থান থেকে বায়োমেট্রিক মেশিন কেউ কিনতে না পারে সেজন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের কাছে পছন্দের সেই প্রতিষ্ঠানের বিল ভাউচারও সরবরাহ করা হয়। এমনকি মেশিন সরবরাহের আগেই বিলের সঙ্গে সেই ভাউচারগুলোও জমা নেয়া হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সারাদেশে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যন্ত্রটি কেনার জন্য বিদ্যালয়গুলোর নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের ‘স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ বা ‘স্লিপ কমিটি’র নামে সরকারিভাবে বার্ষিক যে বরাদ্দ দেয়া হয় তার পরিমাণও বাড়ানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু কেনাকাটার এখতিয়ার শুধু ওই স্লিপ কমিটির হলেও বগুড়ায় তা মানা হয়নি। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় অবস্থিত ‘সফটোনিক আইটি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিল ভাউচার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়। বিদ্যালয়ের নাম ও ঠিকানার জায়গা ফাঁকা রেখে বায়োমেট্রিক মেশিন, কেবল, সফটওয়্যার সাপোর্টিং সরঞ্জামের সঙ্গে সার্ভিস চার্জ এবং ভ্যাট, অন্যান্য করসহ সেই প্রতিষ্ঠানের ভাউচারে প্রতিটি যন্ত্রের দাম দেখানো হয় ২১ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শুধু পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি স্কুলেই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে বিল-ভাউচার দাখিল করা হয়েছে সব বিদ্যালয়ের নামে।

গত মঙ্গলবার পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকদের কক্ষে ওই হাজিরা মেশিন যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষকরা জানান, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ৩০ জুন ওই মেশিন সংযোজন করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, মেশিনটি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তাদের দেয়া হয়েছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আপেল মাহমুদ জানান, বিল-ভাউচারে মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা দেখানো হলেও তারা বাজারে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন মেশিনটির প্রকৃত দাম ১৬ হাজার টাকা। এদিকে বগুড়া সদর উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বিদ্যালয়ে ওই মেশিন এখন পর্যন্ত সংযোজন করা না হলেও তার মূল্য বাবদ ‘সফটোনিক আইটি’ নামে এক প্রতিষ্ঠানের নামে ২১ হাজার টাকার ভাউচার শিক্ষা অফিসে দাখিল করতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে সফটোনিক আইটির সিইও সাখাওয়াত হোসেন জানান, বগুড়া সদর উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য তাদের কাছ থেকেই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, তারা যে মেশিন সরবরাহ করছেন তার দাম ১৬ হাজার টাকা। তবে তার দাবি, ওই মেশিনের সঙ্গে অনলাইন ডিভাইস সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সার্ভিসিং সুবিধা দিতে হবে বলেই পাঁচ হাজার টাকা বেশি রাখা হয়েছে।

বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনগুলো দোকানের পরিবর্তে কেন উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে- জানতে চাইলে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন গিয়েই মেশিন স্কুলে সংযোজন করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভাউচার নিচ্ছি।’ ১২১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে মেশিন সরবরাহ করা হলেও সবগুলোর বিল-ভাউচার জমা নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে হিসাব দাখিলের বাধ্যবাধকতার কারণেই এটি করতে হয়েছে।

বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোতে হস্তক্ষেপ এবং পছন্দের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তা কিনতে বাধ্য করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক। তিনি বলেন, শুধু মেশিন কেনা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং সেটির সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপন এবং পাঁচ বছর ধরে সার্ভিসিং সুবিধা যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্যই একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে স্বচ্ছতার প্রশ্নটি হয়তো অমূলক হবে না, কিন্তু আমরা যা করেছি সেটা সবার ভালোর জন্যই করেছি।’

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে এড়াল ভারত, ম্যাঞ্চেস্টারে যুদ্ধ কিউয়িদের বিরুদ্ধে

আনন্দবাজার,৭ জুলাই:
সেমিফাইনালের রাস্তাটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু শেষ চারের যুদ্ধটা কাদের সঙ্গে হবে তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। শনিবার লিডসে শ্রীলঙ্কাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে, সেমিফাইনালের লাইন আপটা ঠিক করে ফেলল ভারত। আগামী মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নামছেন কোহালিরা। বৃহস্পতিবার বার্মিংহামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড।



সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি কারা হবে— এই প্রশ্নটার উত্তর পেতে শনিবার মাঠে নেমেছিল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। হিসাবটা ছিল খুবই সহজ, ভারতকে জিততেই হবে এবং অবশ্যই অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। মালিঙ্গাদের হারানোর কাজটা খুব সহজেই করে ফেলেছিলেন রোহিত-রাহুলরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ডুপ্লেসির দাপটে অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ায়, লিগ তালিকায় ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে শেষ করল ভারত। অন্য দিকে, ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দু’নম্বরে শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

কোনও সন্দেহ নেই যে ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল। মর্গ্যানদের টিমে ১০ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান। বোলিংয়ে বিভাগেও রয়েছে বহু বৈচিত্র্য। মাঝখানে দু’-একটি ম্যাচে খারাপ খেললেও, তারা কী করতে পারে বোঝা গিয়েছিল ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচে। তাই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে এড়িয়ে যেতে চাইছিল ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া—এই দুই দলই। শনিবার সেটাই নিশ্চিত করলেন রোহিত-ডুপ্লেসিরা।

তবে নিউজিল্যান্ডও অত্যন্ত কঠিন ঠাঁই। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচটি ভেস্তে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। প্রস্তুতি ম্যাচেও বিধ্বংসী বোল্টের সুইংয়ে ধরাশায়ী হয়েছিল কোহালি ব্রিগেড। ফলে নিউজিল্যান্ডকে ভাল করে ‘মাপা’ হয়ে ওঠেনি টিম ইন্ডিয়ার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন গাপ্টিল। ফর্মের শিখরে রয়েছেন কেন উইলিয়ামসন। ব্যাটে-বলে প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছেন অল রাউন্ডার গ্র্যান্ডহোম। বোলিং বিভাগে বোল্ট-ফার্গুসনরা তো রয়েইছেন। ফলে ম্যাঞ্চেস্টারে লড়াইটা যে কোনওভাবেই সহজ হবে না সহজ হবে না, এ কথা বলাই যায়।

শ্রেণিকক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীর ভিডিও ভাইরাল!

ডেস্ক,৭ জুলাই:

ক্লাসরুমে খুবই ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিল দুই ছাত্র-ছাত্রী। তা ভিডি‌ও করছিল ক্লাসের কয়েকজন। পরে কে বা কারা ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর তা ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় ওই স্কুলে।


ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মগরার একটি স্কুলে। ইটিভি ভারত নামের গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া সংবাদে আরও বলা হয়েছে, দুই ছাত্র-ছাত্রী খুবই ঘনিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছে। সেই দৃশ্য ভিডিও করছে আরও কয়েকজন। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও চোখে পড়ে সেটা। গতকাল সকালে অভিভাবকরা একজোট হয়ে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্ত ছাত্র-ছাত্রীকে বহিষ্কার করারও দাবি তোলা হয়।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, ওই দুই শিক্ষার্থীকে এরইমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেবল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে তাদের। ক্লাস করতে দেওয়া হবে না।

প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুল যথেষ্ট ঐতিহ্যবাহী। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ মানা যায় না। প্রত্যেক ক্লাসরুমের বাইরে সিসিটিভি আছে। এবার আমরা ক্লাসরুমের ভেতরেও সিসিটিভি লাগানোর ব্যবস্থা করব।

স্কুলে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কেউ মোবাইল নিয়ে ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের কথায়, আমরাও পড়াশোনা করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরাও পড়ছে। এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় চমকে যাচ্ছি। স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে।

নিজ সন্তানের এ কেমন বর্বরতা!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মা বাড়িতে থাকার কারণে তার ঘরের দখল নেয়া যাচ্ছিল না। তাই বৃদ্ধা মাকে মেরে গুরুতর আহত করে হাসপাতালেই পাঠিয়ে দিয়েছে সন্তান। এমন বর্বর নির্যাতনের ঘটনাই ঘটেছে পঞ্চগড়ের কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহা ফুলপাড়া এলাকায়। গতকাল শনিবার দুপুরে বৃদ্ধা মা হাফেজা খাতুনকে মেরে হাসপাতালে পাঠায় ছেলে ফারুক।
হাফেজা খাতুনের প্রতিবেশীরা জানান, ফারুক আর তার স্ত্রী ইনসানা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ঘরটা আরেকটু বড় করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু পাশেই ছিল মায়ের ঝুপড়ি ঘর। এই ঝুপড়ির জন্যই দিনের পর দিন মাকে অত্যাচার করে গেছেন তারা। মায়ের বদনার পানিতে মরিচের গুড়া মেশানো, টয়লেটে যাওয়ার রাস্তায় আবর্জনা জমা করে রাখা, ঝুপড়ির একাংশ ভেঙে দেওয়াসহ এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি।


হাফেজা খাতুনের স্বামী সালাউদ্দিন মারা গেছেন ১১/১২ বছর আগে। ছেলেমেয়ে ১০ জন। পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। মেয়েদের সবাইকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় দুই ছেলে পঞ্চগড় শহরে বাড়ি করে থাকেন। বাকি তিন ছেলে বাবার ভিটেতেই আছে। বাড়িতে থাকা তিন ছেলের মধ্যে রয়েছেন নুরু মিয়া, শফিউল্লাহ ও ফারুক। যে যার আলাদা ঘর করে সংসার পেতেছে। ছোট ছেলে ফারুকের ঘর ঘেঁষে একটি বেড়া চাটাই দিয়ে তৈরি ঝুপড়িতে তিনি থাকেন। খাওয়া-দাওয়া করেন আরেক ছেলের বাড়িতে। স্বামীর ভিটে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে রাজি নন তিনি। কিন্তু ছোটো ছেলে ফারুক সেই চেষ্টাই চালিয়ে আসছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার দুপুরে টয়লেটে যাওয়ার রাস্তায় আবর্জনা জড়ো করে রাখে ফারুকের স্ত্রী ইনসানা। বৃদ্ধা হাফিজা সেই আবর্জনা একটু সরিয়ে টয়লেটে যাওয়ার সময় ইনসানা তার হাত থেকে পানি ভর্তি বদনা নিয়ে ভেঙে ফেলে। পরে ছেলে ফারুক মাকে গালাগালি করতে থাকে। মাকে টয়লেটেও যেতে দেয়নি সে। এর প্রতিবাদ করলে ফারুক আর তার স্ত্রী ইনসানা মিলে বৃদ্ধাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় তার চিৎকারে অপর ছেলে শফিউল্লাহ এসে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে বৃদ্ধা মা পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মায়ের ভিটে দখল করতে সন্তানের এমন বর্বরতার কথা শুনে আঁতকে উঠছেন সবাই। বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করছেন অনেকে। পাশাপাশি সবাই এটাও বলছেন যে, এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত। অন্যথায় নিজের মায়ের সঙ্গে নৃশংসতার এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

শিক্ষকদের জুনের বেতন দেরিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক,২জুলাই:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জুন মাসের বেতন-ভাতার চেক ছাড়ে আরও দেরি হতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, জুন মাসের এমপিওর প্রস্তাব এখনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বাজেট ঘোষণার কারণে প্রতিবছরই জুন মাসে এমপিওর চেক ছাড় করতে কিছুটা দেরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

এদিকে মাদরসা শিক্ষা অধিপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এখনো মাদরাসা অধিদপ্তরের হিসাব এসে পৌঁছায়নি। তাদের হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেনি অধিদপ্তর।

এদিকে সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কবে চেক ছাড় হবে, কবে বেতন তুলতে পারবেন, সেই অপেক্ষায় আছেন।

এইচএসসির ফল প্রকাশ জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০, ২১ বা ২২ জুলাই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে এই তিন দিনের যেকোনো এক দিন ফল প্রকাশের অনুমোদন চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই তারিখগুলোর মধ্যে যেদিন প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দেবেন, সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে।


মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter