টপ খবর

প্রশ্নপত্র ফাঁস ॥ শিক্ষা খাতে ক্যান্সার

  • এই অশুভ ঘটনায় সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান
  • অটোমোশন পদ্ধতি চালু করে চিরতরে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
  • জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
  • হোতা শনাক্তে তৎপর গোয়েন্দারা
বিভাষ বাড়ৈ/গাফফার খান চৌধুরী ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষা খাতের ক্যান্সার হয়ে দেখা দিয়েছে। এই অশুভ ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান করে দিয়েছে। সম্প্রতি অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এতে শুধু সরকারই বিব্রত হয়নি, বিপাকে পড়েছে লাখো শিক্ষার্থী। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য চলছে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা। এই পদ্ধতিতে পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্নপত্র সরাসরি ছাপার জন্য প্লেট আকারে তৈরি হয়ে যাবে। কয়েক ধাপে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রয়োজন হবে না। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত কার্যকরের নানাদিক নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে। সেইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি বিজি প্রেসসহ সরকারী ছাপাখানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র হস্তান্তরের পরই ফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর এবং বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হালনাগাদ অন্তত ৮৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ১৯৭৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রথম ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় প্রথম তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়। হালনাগাদ বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অন্তত ৩৩ বার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি যথারীতি রিপোর্টও দিয়েছে। কিন্তু সেসব রিপোর্টে কমিটির সুপারিশ অধিকাংশই কার্যকর হয়নি।
সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণীর গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে উপজেলাটির ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। তবে আগের মতো আর ঢালাওভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে না।
২০১০ সালের ৮ জুলাই রংপুরে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ভুয়া পরীক্ষার্থীর কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেটিই ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা ভিন্নজগত নামে একটি বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্রের তিনটি কক্ষ ভাড়া নেয়। সেখানে পরীক্ষার্থীদের আগাম পরীক্ষা নেয়ার সময় ৫ দালালসহ ১৬৭ জন পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন পরীক্ষার্থী ছাড়াও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী হামিদুল হক, বিজি প্রেসের কর্মচারী, কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান ও পটুয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশারসহ বিজি প্রেসের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় গবর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও বিজি প্রেসের বাইন্ডার লাবণী বেগম, পিএসসির (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এ রউফ।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, বিজি প্রেসের ভেতর থেকে ট্রাঙ্কে রাখা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দেয়া ২৮ লাখ টাকাসহ বিজি প্রেসের কর্মচারী আব্দুল জলিল গ্রেফতার হয়। ঘটনার দীর্ঘ তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গোপনীয় শাখাসহ পুরো বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ত্রুটির চিত্র উঠে আসে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনেও জানানো হয়, বিজি প্রেসের প্রধান ফটক ও গোপনীয় শাখায় প্রবেশ ও বহির্গমনে কোন তল্লাশি না থাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই একজন কর্মচারী অনায়াসে একটি ট্রাঙ্কে করে ২৮ লাখ টাকা নিয়ে বিজি প্রেসে ঢুকতে সমর্থ হয়েছিলেন। বিজি ও জিপি প্রেসের চক্রটিই সব সময় প্রশ্ন বের করে আনা-নেয়ার দায়িত্ব পালন করে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে পিএসসি ও বিজি প্রেসের অন্তত ১০ কর্মকর্তা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমল থেকেই এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পিএসসির বিতর্কিত সদস্য ড. মাহফুজুর রহমান ও তাঁর দুই ভাগ্নেসহ কয়েক পরিচালক কাজ করছিলেন। তাঁদের যোগসাজশেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য বিজি প্রেসের সার্বিক নিরাপত্তায় এপিবিএন’র (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ৬২ সদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠনসহ বিজি প্রেসের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেয়া হয়েছিল ওই বিশেষ প্রতিবেদনে।
বিজি প্রেস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পেপার ডিটেক্টর। গোপনীয় শাখার মুদ্রিত প্রশ্নপত্র সিলগালা করে রাখতে নতুন স্ট্রংরুম তৈরি করা হয়েছে। ছাপাকৃত সকল প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে রাখা হচ্ছে। বিজি প্রেসের মনিটরিং সেলের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র স্ট্রংরুমে সিলগালা করা হয়ে থাকে। মূল গেট বন্ধের পর সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা রয়েছে। পুরো বিজি প্রেস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে গোপনীয় শাখার কার্যক্রম। গোপনীয় শাখায় কর্মরতদের পুরো শরীর তল্লাশি করে ঢুকতে দেয়া হয়। বের হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় পুরো শরীর তল্লাশি করা হবে। তাদের কোন অন্তর্বাস ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। পকেটহীন নীল রঙ্গের পোশাক ব্যবহার করতে হয়। ট্রাউজারে কোন বেল্ট বা পকেট থাকে না।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ২০১০ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে কঠোর নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশের পরই বিজি প্রেসের প্রশ্নপত্র শাখাকে অন্য মুদ্রণ শাখা থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলা হয়। এমনকি প্রশ্নপত্র ছাপার গোপনীয় শাখা পুরোপুরি মূল প্রেস ভবন থেকেই আলাদা করা হয়। প্রশ্নপত্র শাখায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর, পেপার ডিটেক্টর, ভল্ট ডোর, ক্যামকোর্ডার, গোপন ক্যামেরা আর পর্যাপ্ত সিসিটিভি। গোপনীয় ইউনিটের প্রবেশপথ ও বিজি প্রেসের সাধারণ শাখার আলাদা আলাদা প্রবেশপথও তৈরি করা হয়।
বিজি প্রেসের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত প্রতিবেদন মোতাবেক বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে ২০১০ সালের পর হালনাগাদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। ৩২টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে প্রশ্নপত্র ছাপার গোপন শাখা সব সময় মনিটরিং করা হয়। প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর জেলা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের আর কোন দায়িত্ব থাকে না। সেখান থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা বেশি থাকে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত থাকেন। এসব প্রক্রিয়ায় জড়িতদের মাধ্যমেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এতে করে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হবে। অনেক শিক্ষক বা প্রশ্নপত্র প্রণেতা বা অন্যদের অংশগ্রহণ কমে আসবে। পা-ুলিপি থেকে নির্বাচিত প্রশ্ন সরাসরি অটোমেশন পদ্ধতিতে প্লেট আকারে তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এতে গোপনীয়তা রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। কয়েক হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরির জটিলতা থাকবে না। যত হাত ঘুরে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা তত বেশি থাকে। তাই অটোমেশন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা বা থানা থেকে প্রশ্নপত্রগুলো সরবরাহ করার প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতার বিষয় নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠিত হয়নি। তবে মিরপুর পুলিশ লাইন ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ৬০ সদস্যের একটি দল নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
এরপর ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও সরকারী চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিদর্শক মফিজুর রহমান মফিজ (৩৫) ১০ সহযোগীসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি আবারও ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। সহযোগীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় অত্যাধুনিক ঘড়ি সদৃশ ২০ মোবাইল ফোন ঘড়ি। গ্রেফতারকৃত চক্রটির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে প্রকাশ পায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হালে প্রশ্নপত্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাধ্যমে মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটছে। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্রের বান্ডেল খোলা হয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বা কর্মচারীর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মোবাইল ফোন দিয়ে প্রশ্নপত্র স্ক্যান করা হয়। এরপর স্ক্যান করা প্রশ্নপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের অপর সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। তারা ভাল ছাত্রদের দিয়ে প্রশ্নের সমাধান করে। এরপর সমাধান করা উত্তর এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিশেষ ডিভাইসযুক্ত হাতঘড়ি সদৃশ মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয়া হতো।
ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিটি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, সরকারী তিতুমীর কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁস সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সিন্ডিকেটটি ২০০৯ সাল থেকে সক্রিয়। চক্রটির হাত ধরে সরকারী চাকরি পেয়েছেন অন্তত ৫ হাজার। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধু প্রশ্নপত্র আনা-নেয়ার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। আনা- নেয়ার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন আশঙ্কা নেই। তারপরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। কিন্তু সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে না। যেসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঢালাওভাবে ফাঁস হয় শুধু সেসব খবরই প্রকাশ পায়। একটি প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে বহু লোক জড়িত থাকেন। অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে থাকে। প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত একাধিক কমিটি রয়েছে। প্রথমে প্রশ্নের খসড়া তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে জমা হয় অধিদফতরে।
তিনি বলেন, হয়তো কোন প্রশ্নপ্রণেতা দশটি প্রশ্নের প্রস্তাব করেন। তার মধ্যে হয়তো একটি প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রে জায়গা পায়। এভাবেই একেকটি প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। সমস্ত প্রশ্নপত্র এসে জমা হলে তা আলাদ স্ট্রংরুমে রাখা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নপত্রগুলো নানা বিষয় অনুযায়ী পৃথক করে সিলগালা করা হয়। পরে তা রাখা হয় স্ট্রংরুমে। এরপর ছাপার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণেই একাধিক প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করা হয়ে থাকে।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক একেএম মঞ্জুরুল হক প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালের পর প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিদফতরের তরফ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। ২০১০ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেসের আর কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্রুত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা জাতির মেরুদ- দুর্বল করে দিচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এরা দেশদ্রোহী। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। অন্যথায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আস্তে আস্তে ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিক্যাল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ প্রায় ৩০ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ ওঠে। প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বেআইনী বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-সহ অর্থদ-ের বিধান রয়েছে।
যদিও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে কাজ চলছে।
তথ্যসুত্র: জনকন্ঠ
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাক-প্রাথমিকে ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আরও প্রায় ১৬ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে ১২ জানুয়ারি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বরীন্দ্রনাথ রায় জানান, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য এবার প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে।

দেশের ৩৭ হাজার ৬৭২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর জন্য একজন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। কয়েক ধাপে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই দফা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, আবেদনের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি এবং নারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক।

নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ১৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা এবং ৫ নম্বরের একাডেমিক অর্থাৎ প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

যেভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে

প্রার্থীদের http://dpe.teletalk.com.bd Ges www.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর আবেদনকারীতে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন ফি নেওয়া হবে। কেবল ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা এ সময়ের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত আবেদন ফি দিতে পারবেন। পরীক্ষার ফি ১৬৬ টাকা ৫০ পয়সা টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে। তখন ছয় হাজার ৯৩৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল।

২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের সব সরকারি বিদ্যালয়ে ‘শিশু শ্রেণী’ নামে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু বাধ্যতামূলক করা হয়। শিশুদের বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, ভর্তির হার বাড়ানো ও ঝরে পড়া রোধে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সময়মতো স্মার্টকার্ড পাচ্ছে না নাগরিকরা

জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতির ঘট333-300x184না রোধে এবং নাগরিকদের তথ্য আরও সুরক্ষিত রাখতে জাতীয় পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। ১৬ ডিসেম্বর থেকেই নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এই কার্ড। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এই কার্ড করার কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। আগামী বছরের মার্চে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হতে পারে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিলকিছ ইরানী

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু নকল করা সহজ বলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে অহরহ। এই সমস্যা সমাধান ও নাগরিকদের তথ্য আরও সুরক্ষিত রাখতে জাতীয় পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
১৬ ডিসেম্বর থেকেই নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এই কার্ড। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এই কার্ড করার কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না সেটা এখন নিশ্চিত প্রায়। আগামী বছরের মার্চে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হতে পারে বলে ইসি জানায়।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ এই সময়কে বলেন, ‘স্মার্টকার্ডের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের জন্য অনেক আগেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন আসেনি। অনুমোদন না আসা পর্যন্ত এখনো কাজে হাতও দিতে পারছি না।’
নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহান্সড অ্যাক্সেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে। তবে ডিসেম্বরে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও পাইলটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের পর যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে ২০১৫ সালের মার্চের যেকোনো সময় স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হতে পারে।’
বর্তমানে সারা দেশে ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। হালনাগাদে বেড়েছে আরো প্রায় ৪৭ লাখ ২৬ হাজার।
প্রতি কার্ডে এক থেকে দুই ডলার খরচ হতে পারে বলে জাতীয় পরিচয় অণুবিভাগের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এই সময়কে জানান। তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড করার এক মাস আগে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল সংশোধনের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ প্রায় দেড় কোটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল রয়েছে। আর ভুল সংশোধন আগে না করলে স্মার্টকার্ডেও ভুল থেকে যাবে। এছাড়া একটি আইডি কার্ড তৈরি করতে যেহেতু এক থেকে দুই ডলার করে খরচ পড়বে তাই স্মার্টকার্ড সংশোধন করতে হলে নির্দিষ্ট হারে ফি জমা দিতে হবে ভোটারকে।
স্মার্টকার্ডের প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। প্রতি মাসে ৬০ লাখ করে কার্ড বিতরণের চিন্তা আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম। প্রথমে বিনামূল্যে সব পরিচয়পত্রধারীকে স্মার্টকার্ড দেওয়া হলেও এটা সংশোধন বা হারিয়ে গেলে নতুন কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গুনতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশনের জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) কাজও এখনো শেষ হয়নি। আগামী মাসেই সার্ভার স্টেশনগুলোর সরঞ্জাম কেনা হবে বলে ইসি সূত্রে জানা যায়। কমিশনের কেন্দ্রীয় স্টেশনের সঙ্গে উপজেলায় স্থাপিত সার্ভার স্টেশনগুলোর সংযোগ স্থাপন করা গেলে সহজেই নাগরিকরা ভোটার হতে পারবে।
এ বিষয়ে এনআইডির মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই সার্ভার স্টেশনগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। সার্ভার স্টেশনগুলোর যন্ত্রপাতি এবং সংযোগ স্থাপন সংক্রান্ত ভিপিএন কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উপজেলায় সার্ভার স্টেশনের সংযোগ চালু হলে সহজেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন, হারিয়ে যাওয়া কার্ড তোলা যাবে।’

স্মার্টকার্ড কি?
জালিয়াতি রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রকে আধুনিকভাবে তৈরি, যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রকেই স্মার্টকার্ড বলে। একে ভোটার আইডি বলেও অভিহিত করা হয়। বর্তমানে যে পরিচয়পত্র বা কার্ড চালু রয়েছে তা সাধারণ পাতলা কাগজে প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করা। যার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ ও আইডি নম্বর এবং অপর পৃষ্ঠায় ঠিকানা দেওয়া। ফলে এই কার্ডটি সহজেই নকল করা সম্ভব। অসাধু ব্যক্তিরা এটি সহজেই নকল করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। ফলে নাগরিক ভোগান্তি ও হয়রানি বাড়ছে। এটি রোধ করতেই স্মার্টকার্ড তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইসি।
এটি যন্ত্রে পাঠযোগ্য। অসাধু ব্যক্তিরা সহজেই নকল করতে পারবে না। ভোটারের বা পরিচয়পত্রধারীর আইডি নম্বর ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য এই আইডিতে সংরক্ষিত থাকবে। শুধুমাত্র যন্ত্রের সাহায্যে এসব তথ্য পাঠ করা যাবে। টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা সাধারণভাবে স্মার্টকার্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে।

স্মার্টকার্ডের গুরুত্ব বাড়াতে ফি
ব্যয়বহুল হওয়ায় স্মার্টকার্ড কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব নাগরিকদের কাছে বাড়াতে এবার ‘ফি’ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। পরিচয়পত্র হারানো, সংশোধন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো ফি না লাগলেও আগামীতে এনআইডি পেতে ‘ফি’ বাধ্যতামূলক করা হবে।
কমিশনের নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে এ সেবা নিতে হবে ভোটারদের। এক্ষেত্রে এনআইডি কর্তৃপক্ষের পছন্দ ‘ট্রাস্ট ব্যাংক’ এমনকি অনলাইনেও এটা করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
তবে প্রথমবারের জন্য বিনামূল্যে স্মার্টকার্ডের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক প্রণীত জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৪ এ বিধান রাখা হয়েছে।
বিধিমালা ও প্রবিধিমালায়-২০১৪তে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংশোধনী আনা হচ্ছে। সংশোধনে সংযোজন করা হচ্ছে ‘কমিশন যেদিন থেকে চাইবে, ওইদিন থেকে ফি বলবৎ হবে।’ কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখা বর্তমানে আইনের ত্রুটি খতিয়ে দেখছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, পরিচয়পত্র হারানো, সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তরে বর্তমানে কমিশন কোনো ‘ফি’ নেয় না। তাই দেখা যাচ্ছে পরিচয়পত্রের গুরুত্ব পরিচয়পত্রধারীরা উপলব্ধি করতে পারেন না। যেখানে- সেখানে ফেলে রাখেন পরিচয়পত্র। ফলে প্রয়োজনের সময় আর খুঁজে পান না। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে এর কপি এনআইডি অফিসে জমা দিয়ে বিনামূল্যে নতুন আরেকটি পরিচয়পত্র তুলে নেন। একই ব্যক্তির একাধিকবার কার্ড হারানোর নজির আছে।
তাই বারবার আইডি হারানোতে লাগাম টানতে এবার ‘ফি’ নির্ধারণ করা হচ্ছে। যতবার হারাবেন ততবার উত্তোলন করার সময় অর্থ জরিমানার পরিমাণ বাড়তি গুনতে হবে পরিচয়পত্রধারীকে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ১০০ টাকা, জরুরি ১৫০ টাকা, হারানো বা কোনো কারণে নষ্ট হলে প্রথমবারের জন্য ২০০ টাকা, জরুরি ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা, জরুরি ৫০০ টাকা এবং পরে যে কোনো বারের জন্য সাধারণ ৫০০ টাকা এবং জরুরি ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হবে।
জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে ৭ কার্যদিবস এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদন করার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ এই সময়কে বলেন, এই কার্ড যন্ত্রে পাঠযোগ্য হওয়ায় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতি কমে যাবে। তাছাড়া অর্থ আদায় বড় বিষয় নয়, নাগরিকরা পরিচয়পত্রটি হাতে পেয়ে যাতে যতœসহকারে ব্যবহার করেন সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি কার্ড তৈরিতে যে খরচ হচ্ছে, সে তুলনায় ফি ধরা হয়েছে খুবই কম। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করতেই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনলাইনেও থাকছে ভুল সংশোধনের সুযোগ
কমিশন যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালার খসড়া করেছে তাতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এমনকি যারা ভোটার তালিকাভুক্ত নন, তারাও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
ভোটারদের দুর্ভোগ কমাতে নাগরিকদের হাতে স্মার্টকার্ড দেওয়ার আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনলাইনে বিশেষ সফ্টওয়ারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে কমিশন। এ জন্য একটি সফ্টওয়ার তৈরি করা হয়েছে। সংশোধনের ক্ষেত্রে যাতে হ্যাকার বা অন্য কেউ তথ্য নষ্ট করতে না পারে সে দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই অনলাইনে ভোটারদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও যদি কোনো কারণে তথ্য চুরি বা নষ্ট হয় তাহলে বিকল্প সার্ভার ব্যবহার করবে ইসি। যাতে নাগরিকদের মূল্যবান তথ্যের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সারা দেশে নতুন ভোটার ৪৭ লাখ
সারা দেশে ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদে ধারণার চেয়েও বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদে ৪৬ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হবে বলে ধারণা করেছিল। বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সারা দেশে এ পর্যন্ত ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ভোটার নাম তালিকাভুক্ত করেছে।
গত ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই হালনাগাদের কার্যক্রম গত ১৫ নভেম্বর তিনটি ভিন্ন ধাপে শেষ করে ইসি। তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কোন এলাকায় কতজন ভোটার তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছে তার একটি রিপোর্ট বিভিন্ন উপজেলা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগে এসেছে। কিন্তু নিবন্ধনকৃত সব ভোটারের যাবতীয় তথ্য এখনো পৌঁছেনি বলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগ থেকে জানানো হয়।

স্মার্টকার্ডের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের জন্য অনেক আগেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন আসেনি। অনুমোদন না আসা পর্যন্ত এখনো কাজে হাতও দিতে পারছি না।
মো. শাহনেওয়াজ
নির্বাচন কমিশনার
২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহান্সড অ্যাক্সেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে। তবে ডিসেম্বরে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও পাইলটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের পর যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে ২০১৫ সালের মার্চের যেকোনো সময় স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হতে পারে।
সিরাজুল ইসলাম
সচিব, নির্বাচন কমিশন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 6_185789সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বেতন ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিু ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে রাখা হয়েছে ১৬টি গ্রেড। এছাড়া বাড়িভাড়া, গৃহনির্মাণ, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও থাকছে।
বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রস্তাব করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবীমা ও এককালীন চিকিৎসা খরচ দেয়ার সুবিধা। বীমা সুবিধা পরিবারের সদস্যরাও পাবেন। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্বাস্থ্যকার্ড ইস্যু করার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
চলতি সপ্তাহেই বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অসংখ্য সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। বীমা সুবিধা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য সুপারিশ থাকবে। অন্য সুবিধাগুলো বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে যৌক্তিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর নতুন বেতন স্কেলে গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬টি।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের অষ্টম জাতীয় চাকরি ও বেতন কমিশন গঠন করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর।
কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা এবং সর্বনিু ৪ হাজার ১শ’ টাকা নির্ধারণ করা আছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শ্রান্তি বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুগোপযোগী করার প্রস্তাব থাকছে। কমিশনের সুপারিশে কোনো ভাতাই বাতিল করা হচ্ছে না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণের মিল নেই। এসব অসামঞ্জস্যতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে বেতন কমিশনে প্রতিবেদনে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবেলায় সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার সুপারিশ থাকছে। বর্তমানে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। নতুন বেতন স্কেলে বাড়ি নির্মাণ বা কেনা বাবদ ঋণের পরিমাণ ৪০ মাসের মূল বেতনের সমান করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এ ঋণ হবে সুদযুক্ত। সুদের হার হতে পারে ৫ শতাংশ।
সংবিধানে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার অধিকার এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদেও বীমা সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করা হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে। তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সুবিধা পাবেন। কমিশনের নতুন সুপারিশে বেতন বা স্বাস্থ্যভাতা থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে রাখা হবে। এর বিনিময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করবে কমিশন। তবে কেউ মারা গেলে অথবা দুর্ঘটনার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে আলাদাভাবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, বীমা সুবিধার জন্য প্রিমিয়াম বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে। এই অর্থসংস্থানের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব থাকছে বেতন কমিশনের সুপারিশে। এক্ষেত্রে পুরো বীমার অর্থ সরকারের কাছ থেকে নেয়া অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেয়ার প্রস্তাব থাকছে। এছাড়া বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে প্রিমিয়ামের টাকা সরকার ও চাকরিজীবী- উভয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে। বিকল্প প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে সেখান থেকে প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেয়া।
এছাড়া চাকরিজীবীদের নামে পাঁচ বছরের জন্য একটি স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে। এ কার্ড প্রদর্শন করে সরকারি এবং মাঝারি মানের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।
বেতন কমিশনের রিপোর্টের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সুপারিশ পেলে এটি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর আইনি প্রক্রিয়ায় এটি চূড়ান্ত আকারে পাস করা হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে আগামী ২০১৫ সালের পহেলা জুলাই থেকে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত আরও ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক সদস্য জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হলে তাদের আকর্ষণীয় বেতন দিতে হবে। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই উপকৃত হবেন। সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্ঘটনার শিকার হলে যাতে আর্থিক সুবিধা পান, সে জন্য বীমা সুবিধা দেয়ারও সুপারিশ করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এ মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। যখন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে তখন মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এবার প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাস হওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত করা damurhuda-math-question-1হয়েছে। শিশুদের অভিভাবকরা জানায়, শনিবার রাতে এক শ্রেণির কুচক্রি মহল ইংরেজি ও গনিত প্রশ্ন ফাঁস করে। যা দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার ফটোকপির দোকান গুলোতে পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের শিশুরা তা ফটোকপি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রোববার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা ( এনএসআই) কার্যালয় হতে ২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফটোকপি জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে ই-মেইলে পাঠানো হয়। এরপর তিনি দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টির তদন্তের জন্য পাঠান। তারপর তিনি এ ব্যাপারে আর খোঁজখবর নেননি। এরপর প্রশ্নপত্র হুবহ মিল থাকার পরও ইংরেজি পরীক্ষা নেয়া হয়।

এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসা গোলাম নবী সোমবারের গণিত পরীক্ষা স্থগিত করে এবং ইংরেজি পরীক্ষা বাতিল করবে বলে জানান।

এ বিষয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বলেন, আমাকে এনএসআই’র উপ-পরিচালক ফাঁস হওয়া ইংরেজি ও গণিতের দু’ সেট প্রশ্নপত্র ই-মেইলে আমার কার্যালয়ে পাঠায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ফটোকপি সকালে পেলে তা আমি দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরজাহান বেগমকে তদন্ত করতে দিই। বিকালে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে জানালে গণিত পরীক্ষা স্থগিত ও ইংরেজি পরীক্ষা বাতিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরজাহান বেগম জানান, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পত্রের সাথে চলতি প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষার প্রশ্ন হুবহু মিলে যাওয়ায় সোমবারের অংক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তার আগের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘ তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকেই শুনেছেন। এ ব্যাপারে জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী আমাকে কিছুই জানাননি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডিএনএ কপি করে উদ্ভিদের পুনর্জন্ম

07এনামুল হক:কিছু কিছু লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে। তা হলো, আপনা থেকেই পুনর্জন্ম লাভ করা। এই বিস্ময়কর কাজটা তারা কিভাবে সম্পন্ন করে, বিজ্ঞানীরা এখন তা জানতে পেরেছেন। ওরা নিজেদের ডিএনএ-র প্রতিরূপ সৃষ্টি করে পুনর্জন্ম নেয়।

চারণরত প্রাণীরা যেমনÑ গরু, মহিষ বা মেষ লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের একাংশ হয়তো ছিঁড়ে খেয়ে নেয়। বাকি যে অংশ থাকে, সেটা এক সময় হয়তো মরে যায়। কিন্তু এ ধরনের কিছু উদ্ভিদ তার এই ক্ষতিটা মাত্রাতিরিক্তভাবে পুষিয়ে নেয়। তারা আরও বেশি পরিমাণে উদ্ভিদ পদার্থ তৈরি করে। এবং অন্য সময় যতটা উর্বর হতে পারত, তার চেয়ে বেশি উর্বর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে এরা আবার নতুন করে জন্মাতে থাকে। সেই পুনর্জন্মের রহস্যটা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন। তাদের এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ‘মলিকুলার ইকোলজি’ নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে যে, কাটছাঁট হবার পরও একটা উদ্ভিদের নাটকীয়ভাবে ফিরে আসার ক্ষমতাটা একটা প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, যাকে বলে জেনোম ডুপ্লিকেশন বা জিনের প্রতিরূপ সৃষ্টি। এক্ষেত্রে এক একটি কোষ তার মধ্যকার জিনেটিক উপাদানের সবগুলোর একাধিক প্রতিরূপ সৃষ্টি করতে পারে।
জেনোমের প্রতরিূপ সৃষ্টি বিজ্ঞানের কাছে নতুন কিছু নয়। গবেষকরা বেশ কয়েক দশক ধরে এই ব্যাপারটি জেনে এসেছেন। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই প্রতিরূপ সৃষ্টি করা হয়, তা নিয়ে খুব সামান্য ক’জনই মাথা ঘামিয়েছেন। আলোচ্য গবেষণাটি যিনি পরিচালনা করেছেন, তিনি ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক কেন পেইজ। তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদÑ আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে এ জাতীয় ৯০ ভাগ উদ্ভিদ তাদের জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে। কেন করে, তা নিয়ে ২০১১ সালে এক গবেষণায় পেইজ ও তার সহযোগী গবেষক ড্যানিয়েল স্কলেস দেখিয়েছেন যে, যেসব উদ্ভিদ দেদারসে জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে চলে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর আবার সবলদেহে ফিরে আসে। গবেষকদের ধারণা, জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উদ্ভিদরা সেই শক্তি লাভ করে থাকে, যা তাদের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন।
গবেষণায় এরাবিডোপসিস থালিয়ানা নামে সরিষা পরিবারের একটি উদ্ভিদের ওপর দৃষ্টি নিবন্ধ করা হয়। দেখা যায়, কিছু কিছু এরাবিডোপসিস উদ্ভিদ জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত থাকে, আবার অন্যগুলো থাকে না। যেগুলো থাকে, সেগুলো প্রতিটি কোষের মধ্যে তাদের সকল ক্রোমোজমের ডজনকে ডজন কপি সঞ্চিত করে রাখে। নতুন এক গবেষণায় স্কলেস এরাবিডোপসিস উদ্ভিদের মধ্যে যেগুলোর নিজেদের জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ক্ষমতা আছে এবং যেগুলোর তা নেই এই উভয় শ্রেণীর মধ্যে সঙ্কর প্রজনন ঘটায়। স্কলেস বলেন, ডিএনএর প্রতিরূপ সৃষ্টি এবং উদ্ভিদের পুনর্জন্মের মধ্যকার সম্পর্কটা যদি কাকতালীয় ব্যাপার হয়ে থাকত, তাহলে উভয়ের মধ্যকার সংস্রবটা তাদের বংশধরদের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেত। কিন্তু দেখা গেল যে, এই সম্পর্কটা বংশধরদের মধ্যেও বিরাজ করছে। অর্থাৎ, দুটো বৈশিষ্ট্য যে একে অপরকে প্রভাবিত করছে, এটা তার প্রথম প্রমাণ।
অনুমাননির্ভর এই ধারণাটি আরও পরীক্ষা করে দেখার জন্য স্কলেস পরীক্ষামূলকভাবে একটি এরাবিডোপসিস উদ্ভিদের জেনোম প্রতিরূপ তৈরির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন। তার জন্য তিনি সেটাকে এমন এক শ্রেণী থেকে বেছে নেন, যার জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ক্ষমতা নেই এবং চারণ হবার পর যার উর্বরতা বড় ধরনের হ্রাস পেয়েছে। তিনি যেমনটি প্রত্যাশা করেছিলেন ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল। দেখা গেল, রূপান্তরিত উদ্ভিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর আবার বলিষ্ঠভাবে ফিরে এসেছে বা জোরেশোরে পুনরুৎপাদিত হয়েছে। স্কলেস বলেন, জেনোমের প্রতিরূপ সৃষ্টির ফলে কোষগুলোর আকার বড় হয়ে যায় এবং একেকটি জিনের অনেকগুলো কপি ধারণ করার ক্ষমতা জন্মে। এতে করে কোষের বৃদ্ধির পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন ও অন্যান্য মলিকুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারী কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার, সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা

ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত স্থায়ী পে-কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হচ্ছে ১১ ডিসেম্বর। আর বিজয় দিবসের আগেই কর্মকর্তাদের সুখবর দিতে চায় সরকার। এ জন্য নিরন্তর কাজ করছেন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শান্তি বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যৌক্তিক করার প্রস্তাব থাকছে পে-কমিশনের প্রতিবেদনে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, জীবনবীমা ও দুর্ঘটনাজনিত অক্ষমতা বীমার সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন।
সূত্র জানায়, শতকরা হিসাবে বর্তমান কার্যকর থাকা মূল বেতনের (বেসিক) চেয়ে গড়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন। প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ। এখন শুধু ঘষামাজার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়গুলোও যুক্ত করা হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে। অর্থাৎ দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন বা সংস্কার কীভাবে করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন বেতন স্কেলে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে; যা বর্তমান কাঠামোয় রয়েছে ২০টি। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমানের চেয়ে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে খুব দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সর্বশেষ ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সূত্রমতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবিলায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও থাকছে কমিশনের সুপারিশে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। তাদের জন্য কম সুদে অগ্রিম ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত অঙ্কের ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। পরে মাসিক হারে প্রত্যেকের বেতন থেকে তা সমন্বয় করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে করা, যাতে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান কাঠামোয় সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৪০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ১ জুলাই, ২০১৩ থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।গত বছরের নভেম্বরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে পে কমিশন গঠন করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ওই মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে চাকরিতে সক্রিয় আছেন প্রায় ১১ লাখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি অফিসের ফাঁকিবাজদের বেতন কাটা হবে

সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কঠোর বিধান হচ্ছে। এখন থেকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পর পর দু’দিন ‘লেট লতিফ’ হলে একদিনের মূল বেতন, অফিস শেষের আগে চলে গেলে একদিনের মূল বেতন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে একদিনের বেতন কাটা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পুনরায় একই অপরাধ করলে সাত দিনের মূল বেতন কাটা হবে। এমন বিধান রেখে এবারই প্রথম সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) আইন-২০১৪-এর খসড়া তৈরি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই চিঠিটি অনুমোদনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শিক্ষাবার্তাকে বলেন, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাজকর্মে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল করতে আইনটি করা হচ্ছে। আইনটি প্রণয়ন হলে একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর অফিস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমবে। কাজকর্মে অগ্রগতি হবে।

সূত্র জানায়, সরকারি অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিতির বিষয়ে উদাসীনতা দেখা যায়। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারদের ক্ষেত্রে এ চিত্র বেশি। গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালে ডাক্তারদের অনুপস্থিতি যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া সচিবালয়সহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সরকারি অফিসে একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে সঠিক সময়ে উপস্থিতির বিষয়ে অনীহা থাকে। আবার একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরিতে অফিসে এলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের ম্যানেজ করে অফিস শেষ হওয়ার আগে বাসায় চলে যান। এতে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। কর্মস্থলে অবস্থান না করা ও অফিস ফাঁকি দেওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে কাজে আসা মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সূত্র জানায়, অফিসের উপস্থিতি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ১৪তম

বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই অবস্থান। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা জানান।

দুর্নীতির এই ধারণা সূচক অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্কে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯২ পেয়ে দেশটি সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ডেনমার্ক গত বছর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ হয়েছিল। এবার ৯১ নম্বর পেয়ে নিউজিল্যান্ড এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে।

মাত্র ৮ পেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে সুদান ও আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ পেয়েছে ২৫ নম্বর। একই নম্বর পেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ১৪তম অবস্থানে আরও আছে গিনি, কেনিয়া, লাওস ও পাপুয়া নিউগিনি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ১৪ যুগ্মসচিব বদলি

ডেস্ক: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার দুটি আদেশে প্রশাসনে ১৪ যুগ্মসচিব ও সমমর্যাদার পদে রদবদল আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ ইউসুফ হারুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আমজাদ আলীকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) যুগ্মসচিব (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষণরত) মোল্লা জালাল উদ্দিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে ১১ উচ্চ মাধ্যমিক মডেল বিদ্যালয় ও ছয়টি মহাবিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মানিক চন্দ্রদে-কে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই আদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল কাশেম মো. বদরুল মজিদকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব মানিক লাল বণিককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব, ওএসডি যুগ্মসচিব (অর্থ বিভাগে সংযুক্ত) মো. মহিউদ্দিন খানকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বদলির আদেশাধীন আবুল কালাম আজাদকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অপর আদেশে পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামকে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারন ইউনিটের মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক হরিপ্রসাদ পালকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক ও ওএসডি যুগ্মসচিব আনিস উল হক ভূইয়াকে বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক স্বপন চন্দ্র পালকে ‘ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে ১১ উচ্চ মাধ্যমিক মডেল বিদ্যালয় ও ছয়টি মহাবিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনীকে খাদ্য অধিদফতরের আইন উপদেষ্টা ও ওএসডি যুগ্মসচিব গোপাল কৃষ্ণ ভট্টচার্যকে মাল্টি পারপাস সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্ন ফাঁস: মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ‘পরীক্ষা না নিলে কী হয়’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও তথ্য বিভ্রাট বলার পর তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংবাদে জনমনে উদ্বেগ ও সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি অনুধাবন করে বুধবার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। ফেসবুকে প্রাপ্ত প্রশ্ন বা সাজেশন এবং এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পুংখানুপুংখভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে এ ধরনের ঘটনার উদ্ভব কিনা তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সার্বিক পর্যালোচনা শেষে প্রতীয়মান হয় যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নের সাথে সমাপনী পরীক্ষায় সরবরাহকৃত প্রশ্নের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

মন্ত্রণালয়লের এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


Anisul-Hoque

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সারাদেশে সকল সরকারী হাইস্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু ২ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে রাজধানীর ৩২টিসহ সারাদেশের সকল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম। ওই দিন রাজধানীর স্কুলগুলোতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ফরম বিতরণ ও জমা দানের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে রাজধানীর বাইরের স্কুলের ফরম বিক্রি, লটারি ও পরীক্ষা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে নিতে পারবে জেলা ও উপজেলা ভর্তি কমিটি। প্রথম শ্রেণীর ভর্তি এবারও হবে লটারির মাধ্যমে। দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে আগের নিয়মেই হবে ভর্তিপরীক্ষা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকোটাসহ অন্য সকল বিধান বহাল থাকলেও ফরম মূল্য এবার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো কম খরচ আর মানসম্মত শিক্ষাদানের বিবেচনায় এগিয়ে। তাই অভিভাবকদের কাছে আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। এ কারণে প্রতিবছর অভিভাবকরা অপেক্ষায় থাকেন কবে নাগাদ স্কুলগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) জানিয়েছে, নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে রাজধানীর ৩২টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য ২ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ শুরু হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই ফরম পূরণ করা যাবে। প্রতি শ্রেণীতেই ভর্তি ফরমের মূল্য ১৫০ টাকা এবং মূল্য বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ভর্তিসংক্রান্ত সকল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়ে আগামী শনিবার অথবা রবিবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেবে অধিদফতর। অনলাইনে ভর্তির এ প্রক্রিয়া কেবল রাজধানীর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। জানা গেছে, রাজধানীর স্কুলগুলোকে এবারও এলাকা ভিত্তিতে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’-এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপে ১০টি, ‘খ’ গ্রুপে ১১টি এবং ‘গ‘ গ্রুপে রাখা হয়েছে ১১টি স্কুলকে। ৩২টি স্কুলের মধ্যে ১৪টিতে প্রথম শ্রেণী রয়েছে। তিন ক্যাটাগরির এই স্কুলগুলোতে আগামী ২৭ ডিসেম্বর প্রথম শ্রেণীর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভর্তিপরীক্ষা গ্রুপ অনুসারে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, নিউ গবর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল, ইসলামিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দারুস সালাম সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ জামাল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ‘খ’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছেÑ মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল, গবর্নমেন্ট মুসলিম হাইস্কুল, বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধানম-ি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানম-ি কামরুন্নেসা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, ডেমরার আলহাজ হাজী গফুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তরখানের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জুরাইনে শেখ কামাল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
‘গ’ গ্রুপে রয়েছেÑ ধানম-ি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, টিকাটুলী কামরুন্নেসা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, আরমানিটোলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও তেজগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজারীবাগ শেখ রাসেল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাসানটেক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
প্রথম শ্রেণী আছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, তেজগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল এবং মোহাম্মদপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ধানম-ি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আজিমপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, একই গুচ্ছের একাধিক স্কুল থেকে ভর্তি ফরম কেউ কিনতে পারবে না। একজন শিক্ষার্থী তিনটি গুচ্ছের প্রতিটি থেকে একটি করে সর্বোচ্চ তিনটি ফরম কিনতে পারবে।
ভর্তি নীতিমালায় এবার সরকারী স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর ১ জানুয়ারিতে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সের মধ্যে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে গত বছরের মতোই ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ১০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা ১৫, ইংরেজী ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার এবং অন্যান্য শ্রেণীতে বাংলা ৩০, ইংরেজী ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর ॥ অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল 1415368189মুহিত জানিয়েছেন, সরকারী কর্মজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় যাবে। আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। বুধবার সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশন-এক) ওয়েনকাই ঝাং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এছাড়া ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পে-কমিশন নিয়ে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত খবর রাবিশ ও স্টুপিড রিপোর্টিং হয়েছে। ‘আমি শকড হয়েছি, স্টুপিড রিপোর্টিং করেছে। আমি বলব সে বাঙালী নয়। আই এম সরি টু সে, সে সাংবাদিক নয়। হি ইজ ওয়ার্থলেস।’ গত মঙ্গলবার একাধিক দৈনিকে পে-কমিশন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
পে-কমিশন নিয়ে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটা লিখিত বিষয়। তা যদি না ধরতে পারে তাহলে কীভাবে হয়। আমি বলেছি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে। এর পর আরও অনেক প্রক্রিয়া আছে। এটা কার্যকর হবে আগামী বছরের জুলাই নাগাদ। অথচ পত্রিকা কী লিখে দিল।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তারা বাংলাদেশে প্রকল্প আরও বাড়াতে চায়। আমরাও তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি। আমি তাদের জানিয়েছি, জাপান আগে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে বিনিয়োগ করত বছরে। এখন তারা আগামী তিন বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আমরা এডিবিকেও বলেছি আপনারা ঋণের পরিমাণ বাড়ান। কারণ বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকগুলোর খেলাপী ঋণ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংকই নেবে। কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণ বিষয়ে মুহিত বলেন, আমার মনে হয় তাদের ব্যবস্থাপনা দুর্বল। যেহেতু তারা ক্ষুদ্রঋণ দেয় তাই তাদের সুপারভিশনে জনবল বেশি লাগে। এজন্য এখন তারা এ্যাগ্রো বিজনেসে যাচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাঁচ বছর ধরে পিপিপি নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু এতদিনে মাত্র একটি প্রকল্প প্রস্তুত হয়েছে। নতুন বিষয় তাই প্রক্রিয়াটা বুঝতে সময় লাগছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন স্কেলে বর্তমানের ২০টির পরিবর্তে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে সরকার গঠিত পে কমিশন। নতুন বেতন স্কেলে বর্তমানের ২০টির পরিবর্তে ১৭টি গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত

পে কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন  বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হলে তাদের আকর্ষণীয় বেতন দিতে হবে।
কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই উপকৃত হবেন। পে কমিশনের অন্যতম সদস্য আবুল কাসেম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্ঘটনার শিকার হলে যাতে আর্থিক সুবিধা পান, সে জন্য বীমা সুবিধা দেওয়ারও সুপারিশ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বর্তমানে যে বেতন কাঠামো রয়েছে, মূল বেতনের (বেসিক) চেয়ে গড়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করছে পে কমিশন। নতুন কাঠামোতে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শান্তি, বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যৌক্তিক করার প্রস্তাব থাকছে পে কমিশনের সুপারিশে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবেলায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। তাদের জন্য কম সুদে অগ্রিম ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে কমিশন। যার যার বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মাসিক বেতন থেকে এ ঋণ সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বীমা, জীবন বীমা ও দুর্ঘটনাজনিত অক্ষমতা বীমার সুপারিশ করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে করা, যাতে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান কাঠামোতে সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৪০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত আছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। যখন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে তখন মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত অর্থবছরের বাজেটে পে কমিশনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত বছরের নভেম্বরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে পে কমিশন কার্যকর করা হয়। ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও বটে।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডিসেম্বরের মধ্যে পে-কমিশন রিপোর্ট ॥ অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘বেতন ও চাকরি কমিশন- ২০১৩’ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশনের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর যতদ্রুত সম্ভব পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। হাজী সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ব্যাংক রেট কমে যাওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের যৌক্তিকতা সরকার পরীক্ষা করে দেখছে।
কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে মোট তিন হাজার আট দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় (ডিসবার্সমেন্ট) করা হয়েছে।
যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগী দেশ/সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড়ের পরিমাণ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১Ñ১২ হতে ২০১৩Ñ১৪ এই তিন অর্থবছরে সর্বমোট প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) হয়েছে ১৬ হাজার ৪৬৪ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট (ছাড়) হয়েছে সাত হাজার ৯৪৬ দশমিক ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে কমিটমেন্ট হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৮৮ দশমিক শূন্য আট মিলিয়ন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট হয়েছে দুই হাজার ৬৪৮ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাজটি কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। এজন্য ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের আন্তরিক হতে হবে। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা যখন বিনিয়োগ করেন তখন সুদের হার কমাতে বলেন, আবার তাঁরাই যখন কোন ব্যাংকের মালিক বা পরিচালক হন তখন সুদের হার কমাতে চান না। এই দ্বৈততা বন্ধ হওয়া দরকার।
সরকারী দলের ফরিদুল হক খানের অপর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে অর্থপাচাররোধে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে বাংলাদেশ হতে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার তথ্য বিএফআইইউতে নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হলে অর্থপাচার সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter