টপ খবর

সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ

ডেস্ক,১০ জুন : সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেটা মিমাংসা না করেই জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ করল সরকার। বিভিন্ন সময়ে মেধা কোটা বাড়ানোর দাবি উঠলেও এবার সেদিকে না গিয়ে শুধুমাত্র জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মেধার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েও তর্ক আছে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। কিন্তু প্রশাসনিক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে সেক্ষেত্রে পদ শূন্য রাখা হয়। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মেধা বা অন্যান্য কোটায় অগ্রগামীদের মধ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে জেলার কোটা পুনঃনির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত আদেশ তিনি পাননি। তবে এখন পর্যন্ত ২০০১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে করা জেলা কোটা অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জনসংখ্যা কোথাও হ্রাস বা বৃদ্ধি হতে পারে। সে বিবেচনায় সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস হওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে এখন মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০, জেলা ১০, নারী ১০ এবং উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ। ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। সাধারণত সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি কোটা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান  বলেন, ২০১১ সালে আদমশুমারির নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া, বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং নতুন করে দুটি বিভাগ সৃষ্টি হওয়ায় জেলাওয়ারি পদ বিতরণের শতকরা হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশ জারি হওয়ায় আগের জেলা কোটার হার বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন আদেশে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ঢাকা জেলার জন্য সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলার জন্য সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক কোটার হার

ঢাকা বিভাগ:  ঢাকা জেলা ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, গাজীপুর ২ দশমিক ৩৬, মানিকগঞ্জ শূন্য দশমিক ৯৭, মুন্সীগঞ্জ এক শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ ২ দশমিক ০৫, নরসিংদী ১ দশমিক ৫৪, ফরিদপুর ১ দশমিক ৩৩, গোপালগঞ্জ শূন্য দশমিক ৮১, মাদারীপুর শূন্য দশমিক ৮১, রাজবাড়ী শূন্য দশমিক ৭৩, শরিয়তপুর শূন্য দশমিক ৮০, কিশোরগঞ্জ ২ দশমিক ০২ এবং টাঙ্গাইল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জনসংখ্যা অনুযায়ী ময়মনসিংহ ৩ দশমিক ৫৫, জামালপুর ১ দশমিক ৫৯, নেত্রকোণা ১ দশমিক ৫৫ এবং শেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ কোটা  পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম ৫ দশমিক ২৯, বান্দরবান শূন্য দশমিক ২৭, কক্সবাজার ১ দশমিক ৫৯, ব্রাহ্মবাড়িয়া ১ দশমিক ৯৭, চাঁদপুর ১ দশমিক ৬৮, কুমিল্লা ৩ দশমিক ৭৪, খাগড়াছড়ি শূন্য দশমিক ৪৩, ফেনী এক শতাংশ, লক্ষ্মীপুর ১ দশমিক ২০, নোয়াখালী ২ দশমিক ১৬ এবং রাঙ্গামাটি জেলায় শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ১ দশমিক ৮০, জয়পুরহাট শূন্য দশমিক ৬৩, পাবনা ১ দশমিক ৭৫, সিরাজগঞ্জ ২ দশমিক ১৫, নওগাঁ ১ দশমিক ৮১, নাটোর ১ দশমিক ১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ দশমিক ১৪ এবং বগুড়া জেলা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

রংপুর বিভাগ: রংপুর জেলা ২ শতাংশ, দিনাজপুর ২ দশমিক ০৮, গাইবান্ধা ১ দশমিক ৬৫, কুড়িগ্রাম ১ দশমিক ৪৪, লালমনিরহাট শূন্য দশমিক ৮৭, নীলফামারী ১ দশমিক ২৭, পঞ্চগড় শূন্য দশমিক ৬৯ ও ঠাকুরগাঁওয়ের কোটা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

খুলনা বিভাগ: খুলনা ১ দশমিক ৬১, যশোর ১ দশমিক ৯২, ঝিনাইদহ ১ দশমিক ২৩, মাগুরা শূন্য দশমিক ৬৪, নড়াইল শূন্য দশমিক ৫০, বাগেরহাট ১ দশমিক ০২, সাতক্ষীরা ১ দশমিক ৩৮, চুয়াডাঙ্গা শূন্য দশমিক ৭৮, কুষ্টিয়া ১ দশমিক ৩৫ এবং মেহেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ১ দশমিক ৬১, ভোলা ১ দশমিক ২৩, ঝালকাঠি শূন্য দশমিক ৪৭, পিরোজপুর শূন্য দশমিক ৭৭, বরগুনা শূন্য দশমিক ৬২ এবং পটুয়াখালী ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

সিলেট বিভাগ: সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সিলেটে ২ দশমিক ৩৮, মৌলভীবাজারে ১ দশমিক ৩৩, সুনামগঞ্জে ১ দশমিক ৭১ এবং হবিগঞ্জের জন্য ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ জেলা কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বিসিএস নয়

অনলাইন রিপোর্টার ॥ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এখন থেকে কেউ আর বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না। ৩৮তম বিসিএস থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, ৩৮তম বিসিএসের অনলাইনে আবেদন করতে বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডি নম্বর লাগবে। কারও এনআইডি না থাকলে তিনি পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না।

কারো এনআইডি না থাকলে কি হবে- এমন প্রশ্নে সাদিক বলেন, ‘যার এনআইডি নেই আমি তার পরীক্ষা নিতে পারবো না। দুই হাজার একশ পদে নিয়োগ দিতে এ মাসেই ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে সাদিক বলেন, ৩৮তম বিসিএস থেকেই পরীক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৬২৭ স্কুল নিয়ে সংকট পঞ্চম শ্রেণিতেই থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা,

নিজস্ব প্রতিবেদক ,৮ জুন : শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারিত হওয়ায় তা কার্যকরের উদ্যোগের মধ্যেই এ অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার। আগের মতোই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকের স্তর ঠিক রেখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয় ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাইলটিং হিসেবে সারা দেশে ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়া যায়নি। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছর আগে মৌখিকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় দালিলিকভাবে তা হস্তান্তর করতে পারছে না। এ অবস্থায় এখনই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ ঠিক হবে কিনা সে সম্পর্কে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এর বাস্তবতা রয়েছে কিনা, কিংবা এটার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে ভেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সায় মিলছে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সময় আসেনি বলে মত দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবে শিক্ষানীতির মূল এজেন্ডা প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার নীতি থেকে সরে আসছে সরকার। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অষ্টম শ্রেণি থেকে সরে আসার বিষয়টি পরিষ্কার করবে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষানীতি থেকে সরকার সরে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে না এটা নিয়ে চূড়ান্তভাবে বলার সময় এখনো আসেনি। কমিটি কাজ করছে। তাদের মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হোক। কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরার। আমাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি ছাড়াও অতিরিক্ত সচিব, দুজন মহাপরিচালক আছেন। তাদের নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব চিত্রটা খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইলটিং হিসেবে ২০১৩ সালে ৫০৩টি এবং ২০১৪ সালে ১২৪টি, মোট ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হয়। ওইসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এর মধ্যে গত বছর ৩৮টি বিদ্যালয়ে জেএসসিতে পাসের হার ৫০ শতাংশের কম ছিল। গত বছর প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে গড় পাস করে ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি স্কুলগুলোর রিপোর্ট সংগ্রহ করছে কমিটি। সেই স্কুলগুলোর ফল ৬০%-এর নিচে। এসব স্কুলে ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ এখানে ন্যূনতম অবকাঠামো ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নেই।
অন্যদিকে মাধ্যমিকে এখনো ৭১ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাননি। সম্প্রতি সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিদ। মাধ্যমিক শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষকের অভাব খুবই প্রকট। এ স্তরে শিক্ষার মান বেশ নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করলে জটিলতা আরো বাড়বে। ভেঙে পড়বে দুই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার মান হতাশাজনক হওয়ার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৮ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

ডেস্ক:      জাতীয় সংসদে বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পুরক বাজেট কন্ঠভোটে পাস হয়েছে। ৬ জুন মঙ্গলবার এ বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে সংসদ ২৬ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অতিরিক্ত ১৮ হাজার ৩৭০ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করার অনুমতি দিয়েছে। এই অর্থ অনুমোদনের জন্য ২৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে ৪টি দাবির ওপর আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে প্রদান করা হয়।

অবশ্য সব ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোই কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্টকরণ (সম্পুরক) বিল ২০১৭ উত্থাপন করলে কন্ঠভোটে পাস হয়। গত অর্থ বছর শেষে ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবলমাত্র তাদের বরাদ্দই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এরই প্রেক্ষিত্রে গতকাল সংসদে এই সম্পুরক বাজেট পাস হয়।

সম্পুরক বাজেটের ওপর মোট ২৬টি দাবির বিপরীতে মোট ১৪৯টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। ব্যয় বরাদ্দের বিরোধীতা করে ছাঁটাই প্রস্তাব এনে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম ওমর ও নূরুল ইসলাম মিলন। সম্পুরক বাজেটের আওতায় ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে ১৮ হাজার ৩৭০ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক ৪ হাজার ৭৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ খাতে বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। সবচেয়ে কম ৭০ লাখ ৪৩ হাজার বরাদ্দ অনুমোদন পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া বেশি বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১৪৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার টাকা,প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক হাজার ৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনুকূলে এক হাজার ১৬৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এদিকে বাজেট পাসের সময় এক মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অন্য মন্ত্রীর প্রস্তাব উপস্থাপনের কড়া সমালোচনা করেন ছাঁটাই প্রস্তাব দেয়া এমপিরা।

তারা বলেন, এখানে বাজেট পাস হচ্ছে। খুবই গুরুত্বপুর্ন বিষয়। অথচ অনেক মন্ত্রীকে দেখা যাচ্ছে অনুপস্থিত। এক মন্ত্রীর পরিবর্তে অন্য মন্ত্রী তার প্রস্তাব তুলে ধরছেন। এটা দু:খজনক। এদিকে সম্পুরক বাজেট পাসের আগে এ নিয়ে আলোচনা করেন সরকারি ও বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা। তারা অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কড়া সমালোচনা করেন।এমপিরা বলেন, যখন বাজেট করা হয় তখন কোন হিসাব করে করা হয়েছিলো। কারা সেসময় বাজেট তৈরি করেছিলেন।

জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের জন্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যখন বাজেট তৈরি করা হয় তখন কি এ নিয়ে হিসাব করা হয়নি। অন্যদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তাদের বাজেটের প্রায় সম-পরিমাণ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এসব কেন? সম্পুরক বাজেটের ওপর দুই দিনে ১৫ জন এমপি বক্তব্য রাখেন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মুল বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিরোধীতা
এ মন্ত্রণালয় খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দে ছাঁটাই প্রস্তাব করেন ৬ এমপি। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম ওমর ও নূরুল ইসলাম মিলন। পরে কাজী ফিরোজ রশীদ ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে অপরাগতার কথা জানান।

এমপিরা বলেন, প্রতিবছর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু এসব অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়, সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না- তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয় না। জনগণের অধিকার রয়েছে এই খাতে বরাদ্দের টাকা স্বচ্ছভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না।
তারা বলেন, প্রতিরক্ষা খাত হচ্ছে জনগণের খাত। এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই। বক্তব্যে তারা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেন, মন্ত্রণালয় ব্যর্থ না হলে অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন হতো না। প্রতি বছরই এ মন্ত্রনালয় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দাবি করে। অথচ তাদের খরচের খাত সুনির্দিষ্ট।

জবাবে সংসদকার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের জন্য যে টাকা চাওযা হওয়া তা অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কি কাজ করছেন,তাদেও জন্য কি কি কেনা হচ্ছে তা এরইমধ্যে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে। এখন কেউ যদি জেনেও না জানার ভান করেন তাহলে আমার কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের জন্য যে সম্মান বইয়ে আনছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। তাই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রসঙ্গত এ খাতের জন্য এক হাজার ৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাতে বরাদ্দের বিরোধীতা
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ খাতে টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব উত্থাপন করলে তার বিরোধীতা করে ছাঁটাই প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন,রুস্তম আলী ফরাজী, ফখরুল ইমাম,নূরুল ইসলাম মিলন, ও নুরুল ইসলাম ওমর। এমপিরা বলেন, সাড়ে তিন বছরে কোন এমপিকে রাজধানীতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ অর্থমন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন প্লট বরাদ্দ দেবেন। এর মধ্যেই আমাদের সামনে এত বিপুল অংকের টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের সেবা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। মানুষকে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমপিরা বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসনের সুবিধাই এ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করতে পারেনি। মন্ত্রীরা সংসদে এসে জানতে পারেন যে তার মন্ত্রণালয়ে এই অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। তারা আসলে নিজেরাও বলতে পারবেন না কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে। রাজউকের মাধ্যমে এ মন্ত্রণালয় অনেক কাজ করে। আসলে রাজউক হচ্ছে দূর্নীতির আখড়া। দুর্ণীতির দায়ে কেউ কেউ এখন জেলও কাটছেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,সবার বক্তব্যে একটা গুরুত্বপুর্ন বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে, ঢাকায় এমপিদের প্লট দেয়া হয়নি। পাশাপাশি তারা বলেছেন, সারাদেশে আবাসন সমস্যার সমাধান করা। আমরা এরইমধ্যে সারা দেশে আবাসন সমস্যার সমাধানে কাজ করছি। আবাসন খাতে সরকার সামান্য ভূমিকা পালন করে। বেসরকারি খাত মুল ভূমিকা পালন করে। তারা এদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। তিনি বলেন,দেশের আবাসন সমস্যা একটা বিরাট সমস্যা। এ সমস্যা সমাধান শুধু সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতেরও সহযোগিতা লাগবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ৯২৭ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দের বিরোধীতা করে ছাঁটাই প্রস্তাবকারী ৬ এমপি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন একটি মন্ত্রণালয় এটা। অনেক অঞ্চলে দেখা যায় ৪/৫টা প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, এসব প্রকল্পের কাজ হয় না। যোগাযোগ করলে বলা হয় হবে হবে হবে। তারা বলেন, অতিরিক্ত যে টাকা নেয়া হয়েছে তার ব্যয় যেনো সঠিকভাবে হয় সে বিষয়ে মন্ত্রীকে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

জবাবে এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,এটা একটি উন্নয়নমুখি বিভাগ। প্রতিনিয়ত সড়কের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে। সুপেয় পানির জন্যসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনও আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পুর্ন হতে পারেনি। দেশের জনগণ ও জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ খাতে বরাদ্দের বিরোধীতা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ চাওয়া ৪ হাজার ৭৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দের বিরোধীতা করে ছাঁটাই প্রস্তাব দেন ৬ এমপি। এসময় তারা বলেন, এটি একটি নতুন সৃষ্ট বিভাগ। এখানে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা স্বাভাবিক। কিন্তু কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগকে কিভাবে এক করা হলো? দুটি তো ভিন্ন বিষয়। কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। তাই এটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তারা বলেন, কোন কোন প্রকল্পর জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়েছে তা বলা হয়নি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে কারিগরি ও মাদরাসাকে একটি বিভাগে আনা হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্ত নেই। এই দুটি শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সরকার কাজ করছে বলেই বেশি টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। যার কারনে আজ সম্পুরক বাজেট পাস করানো হচ্ছে। যারা বলছেন, মন্ত্রীরা জানেন না কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। একটি প্রকল্প তৈরি করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অনেক ধাপ পার হয়ে একটি প্রকল্প পাস হয়। তাই প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রীরা জানেন না এটা সঠিক নয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ মে : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩৪তম বিসিএস ৮৯৮ জন নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কাজ চুড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর । জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) সাফায়েত হোসেন । তিনি বলেন যে কোন সময় তাদের নিয়োগ কার্ড ইস্যু হবে।

সুত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) হাতে চলে গেছে। তাই গত মার্চে ৫ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছিল। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর, আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা রয়েছে, কিন্তু নন-ক্যাডার বিধিমালায় কোনো পোষ্য কোটা নেই।
সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে ।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৪৩ হাজার ও প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। নীতিমালা নিয়ে পিএসসির জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমরা জবাব দিয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা আপনাদের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমাদের শিক্ষক দরকার।
প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসির হাতে। পিএসসি এবং অধিদপ্তরের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে বিসিএস থেকে নিয়োগকৃতদের ১০ম গ্রেড দেবার চিন্তাভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাত ১ টার মধ্যেই সাফাত-সাকিফকে ঢাকায় আনা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১১ মে : বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সিলেট জেলা পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক দল যৌথ অভিযান চালিয়ে সাফাত ও সাদমান সাকিবকে গ্রেপ্তার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায সিলেট শহরের একটি বাড়ি থেকে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রাত ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যেই তাদের ঢাকায় হাজির করা হতে পারে।

গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর আসামি সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে নেয়া হয় ওই দুই ছাত্রীকে। এরপর রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত তাদের আটকে রাখে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ করার সময় আসামি সাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।

ধর্ষণের অভিযোগে গত ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রী। মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, দুই ছাত্রীর বন্ধু সাদমান সাকিব, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী সাকিফ।

মামলার প্রধান আসামি সাফাতকে ধরতে পুলিশ তাদের গুলশানের বাসায় দুই দফা অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

মামলার পর ওই শিক্ষার্থীদের পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার তাদের সেখান থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আদালতে আজ জবানবন্দি দিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরীক্ষায় পাসের হারে এবারও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ৪ মে : বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১০টি বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৭৮ শতাংশ; অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ৭৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সার্বিকভাবে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

>> দশ বোর্ডে এবার মোট ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন।

>> পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৩ জন, আর ৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৯ জন ছাত্রী।

>> তাদের মধ্যে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ৪ হাজার ৩৪ জন ছাত্রী পাস করেছে।

>> ছাত্রদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৪৮৮ জন এবং ৫১ হাজার ২৭৩ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

> জিপিএ-৫ প্রাপ্তির পাল্লায় দুই পক্ষই সমান। উত্তীর্ণ ছাত্র ও ছাত্রীদের ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করে পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে।

পাসের হারের দিক দিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও কুমিল্লা, সিলেট ও মাদ্রাসা বোর্ডে পিছিয়ে আছে।

কোন বোর্ডের কী চিত্র

ছাত্রীদের পাসের হার (%)

বোর্ড

ছাত্রদের পাসের হার (%)

৮৭.০৬

ঢাকা

৮৫.৭৩

৯১.৪৪

রাজশাহী

৯০.০১

৮২.১৪

যশোর

৭৮.০১

৮৪.০০

চট্টগ্রাম

৮৩.৯৮

৭৯.৮২

বরিশাল

৭৪.৭৩

৮৫.৭৬

দিনাজপুর

৮২.৩০

৫৮.৬৩

কুমিল্লা

৫৯.৫১

৭৯.৭৯

সিলেট

৮০.৮৫

৭৫.১৭

মাদ্রাসা

৭৭.১৮

৮২.০৬

কারিগরি

৭৭.৫৫

৮০.৭৮

মোট

৭৯.৯৩

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গাজীপু‌রে প্রধান শিক্ষক‌কে লা‌ঞ্চিত ক‌রে পুরস্কার পে‌লেন উপ‌জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

সারা দেশের শিক্ষক সমাজ ক্ষুদ্ধ। দ্রুত বরখাস্ত বাতিলের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক,১মে১৭ঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা শামীম আহমেদ হাতে  প্রধান শিক্ষক  লাঞ্ছিতের হয়েও সেই শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাময়ীক বরখাস্ত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব স্বাক্ষরিত সাময়ীক বরখাস্তের একটি চিঠি উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে পৌঁছেছে। গত শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন।
এ‌দি‌কে প্রধান শিক্ষক‌কে লা‌ঞ্চিত ক‌রে পুরস্কার পে‌লেন সেই উপ‌জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তা‌র আ‌বেদ‌নের প্রে‌ক্ষি‌তে তি‌নি অন্য উপ‌জেলায় বদলী হ‌লেন।

সুত্র জানায় কালীগঞ্জের ব্রাহ্মণগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি কী করেছেন? তার স্বীকারোক্তি নিম্নরূপ :’বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোনো তথ্য দিচ্ছিলেন না। তাই রাগ উঠে গিয়েছিল।’ রাগের মাথায় এই কর্মকর্তা কী করেছেন? গত ০৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষকের কাছে পরিদর্শক স্কুল সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য চান। এসব তথ্য প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষক একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেন। তথ্য প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল। তাতে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষা কর্মকর্তা। এ বিলম্ব ইচ্ছাকৃত হতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু বিষয় লুকাতে পারেন। বিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতিও থাকতে পারে। শিক্ষা কর্মকর্তা কাঙ্ক্ষিত তথ্য না পেলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে পারতেন। তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগও তার ছিল। ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও অভিযোগ জানানো যেত। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তার রাগ উঠে গিয়েছিল এবং তাতেই ঘটল বিপত্তি। তিনি টেবিলে থাকা স্ট্যাপলার ছুড়ে মারেন প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে; যার পরিণতিতে তাকে যেতে হয় হাসপাতালে। ওই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষকরা ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তারা বিচার চাইছেন। ওই কর্মকর্তা উপজেলায় থাকলে তারা ক্লাস নেবেন না, স্কুলে যাবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। তাদের ক্ষোভ যৌক্তিক এবং দ্রুত প্রতিকার কাম্য। কিন্তু বিদ্যালয়ে না গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে। সেটা কেন তারা ঘটতে দেবেন? তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে পেীছেছে। সেখানে প্রতিকার না মিললে আরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া যেতে পারে। গণমাধ্যম তাদের পাশে আছে। এ অবস্থায় কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি হয় এমন কিছু কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য ন্যায়ের পথে চলতে সমস্যা নেই। শিক্ষকদের কাছ থেকে এ নৈতিক শিক্ষা কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করতেই পারে।
যেখানে শাস্তি হবে ঐ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সেখানে শাস্তি পেল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। হায়রে প্রাথমিক বাংলার অভাগা শিক্ষক ।
এ ব্যাপারে ফেসবুকে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নাসির উদ্দিন নামে একজিন লিখেছেন ,কোনোমতেই এই ঘৃণ্য অপকর্ম মেনে নেওয়া যায় না……..নতুবা সহসায় এমন অাদেশ জারি করা হবে যে অামরা ফেবুতে (নেটে) বিভাগীয় কোন বিষয় তুলে ধরতে পারব না।অাশা করি সমিতি কার্যকর ব্যবস্থা নিবে……
আইয়ুব খান নামে একজন লিখেছেন,অন্যায় আদেশের জন্য ধিক্কার জানাই।
এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক   স্বরুপ দাস বলেন পুনরায় তদন্ত করে যে অপরাধী তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিনা কারনে একজন প্রধান শাস্তি পাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাময়ীক বরখাস্ত বাতিলের দাবীর  পাশাপাশি এ রকম অন্যায় আদেশ না করার জন্য অনুরোধ করছি।
চলবে।

 

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অষ্টমে প্রাথমিক স্তর উন্নীত করতে ৫টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক

ডেস্ক,২৮ এপ্রিল: অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার স্তর উন্নীত করার কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে। এর আগে ২০১৯ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীতে এই স্তর উন্নয়ন শুরু হবে। পরের বছর এটি সপ্তম শ্রেণীতে উন্নীত করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে এই স্তর উন্নয়নের কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে।
এ লক্ষ্যে বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। বুধবার এমনই একটি সভা ওই মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাতে অষ্টমে প্রাথমিক স্তর উন্নীত করতে ৫টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়। এগুলো হচ্ছে স্কুল ম্যাপিং, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি, যেসব স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু করা হবে সেগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানে সক্ষম যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ। বুধবার ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। তিনি  বলেন, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক স্তর উন্নয়ন একটি মৌলিক কাজ। শিক্ষায় নতুন স্তর বিন্যাসের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। সেগুলোর জন্য শিক্ষানীতিতেই অনেক ব্যয়ের কথা আছে। আমরা আপাতত তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিডিইপি-৩) অধীনে কাজ শুরু করব। পরে পিইডিপি-৪ এর অধীনে কাজ শেষ করা হবে।
জানা গেছে, কাজ বাস্তবায়নে সারা দেশে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মাধ্যমে স্কুল ম্যাপিং করা হবে। এর মাধ্যমে কোথায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বা মাদ্রাসা আছে তা শনাক্ত করা হবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে স্কুল ম্যাপিং শেষ হবে। এজন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। চলতি অর্থবছরে ৫ কোটি এবং পরবর্তী অর্থবছরে পরবর্তী ৫ কোটি টাকা প্রদান করা হবে ব্যানবেইসকে।
প্রাথমিক স্তরে পঞ্চম শ্রেণীতে পর্যন্ত বর্তমানে যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলাম আছে। ষষ্ঠ থেকে পরবর্তী স্তরে শিখনমূলক কারিকুলামে পড়ানো হয়। তাই অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক উন্নীত করা হলে যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলাম দরকার। তাই বিদ্যমান কারিকুলামে সংশোধন ও পরিবর্তনে কমিটি করা হবে। এবারের এই কাজ প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ই করতে চায়। দেশে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ৮০৭টি প্রাথমিক স্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু আছে। স্কুল ম্যাপিংয়ে যদি আরও কোনো স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু করতে হয়, তাহলে সেগুলোর অবকাঠামো বা ক্লাসরুম নির্মাণ করা হবে। এজন্য বাজেট প্রণয়ন করা হবে।
এদিকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের উপযোগী শিক্ষকের অভাব বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলে আছে বলে সূত্র জানিয়েছে। স্কুলে বর্তমানে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক বাড়ছে। কিন্তু অনেকেই বিসিএসসহ অন্য চাকরির ধান্দায় থাকেন। যে কারণে তাদের অনেকেই পাঠদানে মনোযোগী নন। তাছাড়া অষ্টম শ্রেণীর মতো স্তরের পাঠদানে স্থায়ীভাবে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক দরকার। এজন্য নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাও করতে হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় শিক্ষক-শিক্ষার ন্যূনতম ডিপ্লোমা ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা আছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আগামী ৪ মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ডেক্স : ২৬ এপ্রিল : আগামী ৪ মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সে দিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত-সচিব রুহী রহমান আজ (মঙ্গলবার) জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগামী ৪ মে এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন ফল প্রকাশের জন্য সময় দিয়েছেন।’

নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তাত্ত্বিক বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ।

এবার মোট পরীক্ষার্থী ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন। এরমধ্যে আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ চার হাজার ২১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মুক্তিপণ আদায় চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার,লিবিয়ায় অপহরণ দেশে মুক্তিপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৫ এপ্রিল:  লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপহরণ করে বাংলাদেশে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার দিবাগত রাতে মাদারীপুরের শিবচর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চক্রটি লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের অপহরণ করে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করত। এরপর তারা ওইসব পরিবারের কাছ থেকে ব্যাংক এবং বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা তুলে নিত। তাদের বিরুদ্ধে একটি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ দুপুর ১২টায় মালিবাগের সিআইডি সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আগামী কাল তিন পৌরসভা ও ১৪ ইউপিতে ভোট

৩টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)সাধারণ নির্বাচন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে ৬টি জেলা পরিষদ ও ২টি পৌরসভার বিভিন্ন পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। এ ছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বন্ধ ঘোষিত দুটি কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ হবে।

প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মালামালসহ ভোটগ্রহণে নিযুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, মেহেরপুর পৌরসভা, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে । টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার দুটি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ । এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করন হচ্ছে ২৮৫ কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২ি৩ এপ্রিল: সারা দেশের মোট ২৮৫টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করার জন্য চূড়ান্ত করেছে সরকার। এজন্য ওই সব কলেজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে জরুরি ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সচিবের বরাবর রেজিস্ট্রি করা দানপত্র দলিল (ডিড অব গিফট) পাঠাতে নির্দেশ দেয়। সব কলেজের অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব কলেজকে সরকারি করতে সম্মতি দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজ সরকারি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কলেজের আত্তীকৃত হওয়া শিক্ষকেরা আপাতত অন্য কলেজে বদলি হতে পারবেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি কলেজ ৩২৭টি। আরো ২৮৫টি কলেজ সরকারি হওয়ার পর মোট সংখ্যা হবে ছয় শতাধিক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পদোন্নতি পেলেন ২৬৭ জন উপসচিব পদে

প্রশাসনের ২৬৭ সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার।

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

পরে তালিকা দেওয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অষ্টমে যেতে পারছে না প্রাথমিক শিক্ষা!

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। ছয় বছর আগে শিক্ষানীতিতে তা বলা হলেও বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি নেই। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন কার্যক্রমে নেই সমন্বয়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ এগুচ্ছে খুব ধীরগতিতে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের অভিযোগও উঠছে। এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। এতে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার বোঝা খুদে শিক্ষার্থীদের কাঁধ থেকে কবে সরবে, এর উত্তর নেই প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার স্তর হলে পাঠ্যসূচি কেমন হবে, তা এখনো জানে না গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই ছাপানোর দায়িত্ব এখনো পায়নি। ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে পাঠ্যক্রম সাজানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও পাঠ্যবই বিতরণের দায়িত্ব হবে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ছাড়া শিক্ষানীতির ঘোষণা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে সারাদেশের ১১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবকাঠামো সংকট। গত চার বছরের মধ্যে মন্ত্রণালয় মাত্র সাড়ে সাতশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে। দেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১টি। বাকিগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কত সালের মধ্যে সম্ভব, এ প্রশ্নের উত্তর জানেন না মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

২০১৮ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত সময়ের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা। গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেলেও প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা যাচ্ছে না। মন্ত্রিসভার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বে থাকছে।’

তথ্যমতে, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করতে হবে। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, শুধু সেসব বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদন দেবে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কার্যক্রমেও গতি আনতে পারছে না মন্ত্রণালয়। ঢিমেতালে চলছে কার্যক্রমটি। গত চার বছরের মধ্যে মন্ত্রণালয় মাত্র ৭৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৪৯১টি, ২০১৪ সালে ১৯২টি, ২০১৫ সালে ৭৭টি ও ২০১৬ সালে ৪টি।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, চলতি শিক্ষা বছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৩ (পিইডিপি-৩) এর আওতায় সারাদেশে ২০০ বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অবকাঠামোগত কাজ চলছে। গত বছর তিন হাজার ২৪৬টি বিদ্যালয়ে বড় ধরনের মেরামত হয়েছে। ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৩১৮টি বিদ্যালয়ে বড় ধরনের মেরামত করা হবে। গত বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার ৪০৪টি কক্ষ নির্মিত হয়েছে। নির্মাণাধীন ছয় হাজার ৪০৭টি আর কার্যাদেশ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে পাঁচ হাজার ৩৫৯টি। এমন ধীরগতিতে কার্যক্রম চলতে থাকলে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ কখন শেষ হবে, এ প্রশ্নের ঠিক উত্তর প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও দিতে পারছেন না।

অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র ৫০০টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই পড়ানোর জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ পর্যন্ত কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। কোনো বিদ্যালয়েই নেই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক। নতুন শিক্ষক নিয়োগও দেওয়া হয়নি। সারাদেশের বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক সংকট। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে মান সম্পন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বিভিন্ন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দশটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি সময় থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বিদ্যালয়গুলো ৬৭৪ কোটি টাকা খরচে স্থাপন করা হবে বলে জানায় মন্ত্রণালয় সূত্র। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, এ প্রশ্নও উঠছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-১) সমীর কুমার বিশ্বাস জানান, ‘দশটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীর সুযোগ-সুবিধা থাকবে। নবীনগর, ইপিজেড, ধামরাই, পূর্বাচল, হেমায়েতপুর, জোয়ারসাহারা, সাইনবোর্ড, চিটাগাংরোড, শাহজাদপুর ও ঝিলমিল এলাকাগুলোতে দশটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’

শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে গত বছরের ১৮ মে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় শিক্ষামন্ত্রী ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে তা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। এরপর ২১ জুন গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে আর সমাপনী পরীক্ষা হবে না।’ মন্ত্রী এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি। গতবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথািমক শিক্ষার স্তর ঘোষিত হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণি শেষে সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। এ পরীক্ষা কবে বন্ধ হবে, তা এখনো বলতে পারছে না গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free