Home » টপ খবর (page 2)

টপ খবর

জাল সনদ: এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ

ডেস্ক,২৯ সেপ্টেম্বর:
জাতীয়করণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সনদ যাচাইয়ে জাল চিহ্নিত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ১০টি প্রতিবেদনে ২০ জন শিক্ষকের জাল শিক্ষা সনদ চিহ্নিত করা হয়। মূল সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করে এসব জাল সনদ তৈরি করা হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। আর কয়েকটি সনদের রোল নম্বর যাচাই করে ফলাফলের তালিকায় তা পাওয়া যায়নি।
এই সনদ জালিয়াতির ঘটনায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই জালিয়াতি নিয়ে শিক্ষকদের অভিমত, শুধু শিক্ষকরাই জড়িত নন, জালিয়াতির সঙ্গে এক শ্রেণির এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াত চক্রের অনুসন্ধান করে তাদের দোষীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির ঘটনায় এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাল শিক্ষক সনদ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিঁয়াজো ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনুসন্ধান করতে হবে কিভাবে তারা জাল সনদ সংগ্রহ করলেন? কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছেন? সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এই জাল সনদের সঙ্গে জড়িত। নিরীহ শিক্ষকদের বেকায়দা বুঝে জাল সনদের ব্যবস্থা করেছে একটি চক্র। সনদ জালের উৎসে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জানতে চাইলে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার উত্তর মেরামতপুর স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সনদ জালিয়াতির সঙ্গে এনটিআরসিএ-এর এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাছ থেকে দালালদের মাধ্যমে শিক্ষকরা সনদ কিনেছেন টাকা দিয়ে। দেশে ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন। এ জন্য এনটিআরসিএ দায়ী। ২০০৫ সালের আগে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন কিন্তু নিয়োগপত্র পেয়েছেন পরে তাদের অনেকেই এমপিওভুক্তির জন্য জাল সনদ কিনেছেন। শিক্ষকতার জন্য জরুরিভিত্তিতে সনদের প্রয়োজনে শিক্ষকরা যখন দিশেহারা, তখন সনদ কিনতে পাওয়া গেছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়।’

মো. মোখলেসুর আরও রহমান বলেন, ‘রংপুরের জাল সনদে দূরের জেলার অন্য বিষয়ের সনদের রোল নম্বর হুবহু মিলিয়ে শিক্ষকরা জাল সনদ তৈরি করতে পারবেন না। এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত না থাকলে সম্ভব নয়। জাল চক্র খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এনটিআরসিএ প্রকাশিত চলতি সেপ্টেম্বরের ১০টি প্রতিবেদনে ২০টি জাল সনদ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয়করণ করা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সরকারি শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজের আট জন প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া বা জাল। শিক্ষক আত্তীকরণে সনদ যাচাই করলে ভুয়া বলে প্রমাণ পায় এনটিআরসিএ। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে একই কলেজের আরও একজন শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত হয়।

কলেজটির আটজন শিক্ষকের মধ্যে সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক সুরাইয়া বেগমের জমা দেওয়া সনদে রুজিনা আক্তার নামের অন্য এক জনের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মোসা. হাসিনা আক্তারের জমা দেওয়া সনদের জাহাঙ্গীর আলম নামের অন্য এক জনের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজের ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক দিল রওশন আরার জমা দেওয়া সনদে বদরুল আমিনের সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বরের অন্য একটি প্রতিবেদনে আরও দুই জন শিক্ষকের সনদ জাল চিহ্নিত করা হয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. লতিফুজ্জামান ও মনিকা রানী রায়ের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। মো. লতিফুজ্জামানের জমা দেওয়া সনদটি সাইফুল ইসলাম নামের এক জনের সনদ জাল করা হয়েছে। আর মনিকা রানী রায়ের জমা দেওয়া সনদটি মিজানুর রহমান নামের একজনের সনদ জাল করে করা হয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয়করণ করা রংপুরের বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনের সনদটি রাজবাড়ী জেলার ভূগোল বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের সনদ জাল করে করা হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয়করণ করা নওগাঁর নিয়ামত সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. আসাদ আলীর জমা দেওয়া সনদে মো. আব্দুল খালেকের সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আরেক প্রভাষক সুরুজ কুমারের জমা দেওয়া সনদে আব্দুস সালামের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বরের আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাসের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের জমা দেওয়া সনদে আব্দুল লতিফের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এই সব সনদ জালিয়াতির ঘটনায় জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন শিক্ষকরা। কারণ এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ জড়িত থাকলেও এতদিন পর তা প্রমাণ করার সুযোগ নেই।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিগগিরই খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে স্কুল-কলেজ কবে নাগাদ খোলা হবে এবং পরীক্ষা কবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত ‘খুব শিগগিরই’ আসছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
মঙ্গলবার ঢাকার সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে- জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “স্কুল কবে খুলবে, পরীক্ষা কবে হবে, সেটা আপনাদের খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

“আগামীকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা মতবিনিময় সভা হবে। সেখানে আমি আপনাদের যে প্রশ্ন থাকবে, সেগুলোর জবাব দেব।”
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটি বাড়তে বাড়তে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষণা করা আছে।

পিইসি, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও এখনও ঝুলে আছে এইচএসসি পরীক্ষা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি এখনও হয়নি বলে সম্প্রতি মত জানিয়েছিল কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

তবে এক সপ্তাহ আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিগগিরই ক্লাস শুরুর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কলেজ ক্যাম্পাসে ‘বিনা প্রয়োজনে’ ঢুকতে মানা

ডেস্ক,২৯ সেপ্টেম্বর:
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের প্রেক্ষাপটে দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে বিনা প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ঢুকতে মানা করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কলেজগুলোর ছাত্রাবাস বন্ধ রেখে সেগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব কলেজের অধ্যক্ষদের মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সেই চিঠিতে একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “কলেজ ক্যাম্পাসে বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।”

সারাদেশেই কলেজগুলোতে মুক্ত হাওয়ায় ঘুরতে যান স্থানীয়রা। এক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা কখনও ছিল না।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন স্থানীয় এক নববধূ।

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কয়েক কর্মীর এই ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে সারাদেশে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

এর মধ্যেই মাউশির নির্দেশনা এল; যাতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ এই পদক্ষেপ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ থেকে অদ্যাবধি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়টি তুল ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, “প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাফায় ফলে কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ কলেজের সকল সরকারি সম্পদ ও সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে সচেষ্ট থাকতে হবে।”

অধ্যক্ষদের নয় দফা নির্দেশনা দিয়ে জরুরিভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের জন্য ‘বিশেষভাবে’ অনুরোধ জানিয়েছে মাউশি।

জনসাধারণকে ঢুকতে বারণ করা ছাড়া অন্য নির্দেশনাগুলো হল-

>> ছাত্রাবাসসমূহ বন্ধ রাখতে হবে এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

>> স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করতে হবে।

>> প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকসহ সকল প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিয়োজিত রাখতে হবে।

>> প্রতিষ্ঠানে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

>> অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখতে হবে এবং আঞ্চলিক পরিচালককে নেওয়ার তথ্য দিতে হবে।

>> শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ মনিটরিং এবং অভিভাবকের সঙ্গে সংযোগ সাধন করতে হবে।

>> শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

>> কলেজের বিজ্ঞানাগার ল্যাব, আইসিটি ল্যাব, লাইব্রেরিসহ সার্বিক সরকারি সম্পত্তি ও নথি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাচ্ছেন না জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষকরা

‌নিজস্ব প্রতি‌বেদক,২৯ সে‌প্টেম্বরঃ
সরকারি হওয়ার দিন থেকেই চাকরিকাল গণনা ধরেই টাইম স্কেল দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। ফলে চাকরির শুরু থেকে পঞ্চাশ শতাংশ চাকরিকাল হিসেবে কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না নব্য জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর যারা ৫০ শতাংশ চাকরিকাল ধরে টাইম স্কেল নিয়েছেন তাদের অতিরিক্ত টাকাও ফেরত দিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠি হিসাব মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময় তিন দফায় ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। প্রথম দফায় ২০১৩ সালে এবং আরও দুই ধাপে ২০১৪ সালের মধ্যে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আত্তীকৃত প্রাথমিক শিক্ষকরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির শুরুর সময় থেকে চাকরিকাল অর্ধেক গণনা করে টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড দাবি করে আসছিলেন।

২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী চাকরির ১০ বছরে এবং পরবর্তী ৮ বছরের উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণ করে সরকার। সেই হিসেবে জাতীয়করণের পর থেকে কোনও শিক্ষকের ১০ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে চাকরির শুরু থেকে চাকরিকাল গণনা না করলে সিলেকশন গ্রেড পাবেন না কোনও শিক্ষক। এই কারণে জাতীয়করণের আগে চাকরির শুরু সময় থেকে চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড দাবি করেন শিক্ষকরা। এই দাবিতে উচ্চ আদালতে অনেকগুলো মামলাও করেছেন তারা। মামলাগুলো চলমান রয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপ-সচিব রওনক আফরোজা সুমা স্বাক্ষরিত গত ২৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের আগের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড প্রদানের কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। অর্থ বিভাগের ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ১৫৫ নম্বর স্মারকের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। ফলে এ সংক্রান্ত পত্রালাপে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। অর্থ বিভাগের জারি করা গত ১২ আগস্টের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে। বিধায় সেই অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

অর্থ বিভাগের গত ১২ আগস্টের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩ -এর বিধি ২(গ) উল্লেখিত ‘কার্যকর চাকরিকাল’ একই বিধিমালার বিধি ১০-এ উল্লিখিত শুধু পেনশন গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ না করে উল্লিখিত বিধিমালার ২(গ), ৯ এবং ১০ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ৫ জুন জারি করা পরিপত্রের টাইম স্কেল গণনা সংক্রান্ত ৩.০১ অনুচ্ছেদ বিধিসম্মত নয়। বিধায় এ সংক্রান্ত মঞ্জুর আদেশ সংশোধনপূর্বক অতিরিক্ত প্রদানকৃত অর্থ কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিষয়ে আর্থিক সংশ্লেষ ছিল বিধায় অর্থ বিভাগের সম্মতি ছাড়া হিসাবরক্ষণ অফিসগুলো টাইম স্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিল পাস করা জিএফআর বিধি ৫০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধায় মহা হিসাব নিয়ন্ত্রককে দায়ী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিশোধিত বিধি মোতাবেক আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমসি কলেজে ধর্ষণ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

‌বি‌ডি নিউজ:
স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যেরর ওই কমিটি গঠন করে সোমবার আদেশ জারি করেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

মাউশির সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালককে (কলেজ) সদস্য এবং মাউশির সহকারী পরিচালককে (কলেজ-১) সদস্য সচিব করা হয়েছে ওই কমিটিতে।

আদেশে বলা হয়েছে, “এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না তা সরেজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দায় দায়িত্ব নিরুপণ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে হবে।”

কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

‌ডেস্ক,২৭ সে‌প্টেম্বরঃ

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেছেন। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মুত্যু হয়।

বাবার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের ছেলে সুমন মাহবুব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

এর আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে অবশ্য তিনি করোনামুক্ত হন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল জ্বর অনুভব করেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। একইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাতিল

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক,২৭ সে‌প্টেম্বরঃ জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাতিল ও এ বাবদ গৃহিত অতিরিক্ত টাকা ফেরতের বিষয়টি পূনর্বিবেচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিলো অর্থ মন্ত্রণালয়।

 

মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব রওনক আফরোজা সুমা স্বাক্ষরিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি পূণর্বিবেচনার প্রস্তাব নাকচ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিগত ১২ আগষ্ট তারিখের পত্রে জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহিত টাইমস্কেল বিধিসম্মত নয় বলে এ বাবদ গৃহিত অর্থ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনা পূনর্বিবেচনা করে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ( চাকরীর শর্তাদি নির্ধারণ ) বিধিমালা ২০১৩ এর ২ (গ ) ৯ এর ( ১,২,৩ ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮৮৯ নং পত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫৫ নং পত্রের আলোকে সহকারী শিক্ষকদের টাইমস্কেল এবং প্রধান শিক্ষকদের উভয় পদের সমষ্টির ভিত্তিতে দেয় টাইমস্কেল বৈধ মর্মে মতামত প্রদান করে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরন করা হয়। অতিরিক্ত মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ফাতেমা ইয়াসমিন এর ৬ সেপ্টেম্বর তারিখের পত্রে এ মত প্রদান করা হয়।

অর্থ মন্ত্রনালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখের পত্রে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয় হতে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বা সিলেকশনগ্রেড প্রদানের জন্য কোন পত্র প্রদান করা হয়নি৷ এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ১৫৫ নং পত্রটি বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পত্রে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পত্রালাপে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল।

এ পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের ১২ আগস্ট তারিখের ৯২ নং পত্রের আলোকে জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহিত টাইমস্কেল বাতিল ও এ বাবদ গৃহিত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাবস্থা গ্রহনের আদেশটি বহাল রইল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘সম্মানিত সহজ সরল নবজাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে,আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকারি প্রচলিত আইন ও বিধির বাইরে টাইমস্কেল নেয়ানো এবং পদোন্নতি ও জৈষ্ঠতা নিয়ে ৫০% সিনিয়রিটি কাউন্ট করার বিষয়ে কিছু নবজাতীয়করণকৃত নেতৃবৃন্দ শতশত মামলা করে নিরীহ শিক্ষকদের অনেক ক্ষতি করেছেন,বিভিন্ন অফিসে দেয়ার নামে বিধিবর্হিভূতভাবে শিক্ষকদের অর্থ নিয়ে কিছু কর্মকর্তাদের লাভবান করেছেন এবং তারা নিজেরা লাভবান হয়েছেন,সাধারণ শিক্ষকদের বিপদের মধ্যে ফেলেছেন।যা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা অবশ্যই প্রচলিত আইন এবং বিধি মোতাবেক তাদের দাবী ও অধিকারের সাথে একমত।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি হচ্ছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত!

ডেস্ক,২৭ সেপ্টেম্বর:
করোনা সংক্রমণরোধে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ১৭ মার্চ থেকে কয়েক ধাপে বাড়িয়ে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ ছুটি চলমান রয়েছে। তবে নতুন করে জানা গেছে, আবারও বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি।

আরো খবর

প্র্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন করে আরো কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘোষণা দেয়া হবে বলে।

তবে সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরো ১৫ দিনের মতো ছুটি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, সেই হিসেবে ছুটি ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হবে। তবে এটি একমাসও বৃদ্ধি করা হতে পারে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আগামী ৩ অক্টোবরের আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কতদিন বাড়ানো হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি, টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি বাড়ানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শতভাগ করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কতটা সফলতা আসছে সে বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের সকল প্রতিষ্ঠান সচল হয়েছে। তাই শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে কি না সেটিও আমাদের ভাবতে হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, করোনার বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে কয়েক ধাপে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ রয়েছে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এইচএসসি পরীক্ষা হবে প্রশ্ন-উত্তরপত্র তৈরি

ঢাকা,২৬ সেপ্টেম্বর : করোনার প্রভাবে থমকে আছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বাতিল হয়েছে পিইসি, জেএসসিসহ সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু থমকে আছে এইচএসসি পরীক্ষা। কবে হবে পরীক্ষা? শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও মিটিংয়ে বসেছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরীক্ষা হবে এটা বলা হলেও কবে হচ্ছে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না কেউই।

গত বৃহস্পতিবারের বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষা হবে না এই মর্মে সরকার কোনো রকমের সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরীক্ষার্থীদের বারবার বলা হচ্ছে তারা যেন লেখাপড়া চালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ জানতে উদ্বিগ্ন প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী।
গত বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানদের বৈঠকের আগে বলা হয় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সভা শেষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে এই সভার মূল এজেন্ডা ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও পরবর্তী ক্লাসে কীভাবে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করবে। এটি করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এজন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেটি অনুসরণ করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রশ্ন ও উত্তরপত্র প্রস্তুত রয়েছে। কবে পরীক্ষা নেয়া হবে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আমরা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, এখন পাবলিক পরীক্ষা আগের মতো নেয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক বেঞ্চে একজন বা দুজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সব শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

১৭ই মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণার পর কয়েক দফা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত। করোনার সেকেন্ড ওয়েবের শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে শীতে।

সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক কিছুদিন আগে বলেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়াও এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার বিষয়ে মত দেন শিক্ষাবিদরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনায় সঙ্গত কারণেই পৃথিবীর অনেক দেশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেহেতু ভাবছে অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের শিক্ষার্থী ছিলাম আমাদের এমন কোনো ক্ষতি হয়ে যায়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে খুললে কী হবে? বিশ্বের অনেক দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর অনেক হারে শিক্ষার্থী সংক্রমিত হয়েছে। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তবে এটাও ঠিক এইচএসসি পরীক্ষাই সবকিছু নয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ: বিক্ষোভে উত্তাল সিলেটের এমসি কলেজ

সিলেট: ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাস। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন সিলেট-তামাবিল সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এসময় তারা ধর্ষকদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকার কলেজটির ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ওই তরুণীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহ পরান থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মী ও অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সাইফুর রহমান (২৮), রবিউল ইসলাম (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫) ও তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮)। এদের মধ্যে অর্জুন ও তারেক (২৮) বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুরের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের দিরাইয়ে, মাছুমের কানাইঘাটে, অর্জুনের জকিগঞ্জে, রনির হবিগঞ্জে এবং তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ৯৭ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জনপ্রশাসনের ৯৭ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার পদোন্নতির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পদোন্নতির পর এদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

জনপ্রশাসনে বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা রয়েছে ১৩০টি। নতুন ৯৭ জনকে নিয়ে এখন অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১১ জন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ডিপিএড শিক্ষকদের বেতন জটিলতার সমাধান শিগগিরই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেছেন, অন্যান্য সমস্যার মতো ডিপিএড প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষকদের বেতনের সমস্যাটিও শিগগিরই সমাধান হবে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (বিদ্যালয়) এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ শিক্ষকদের অন্যান্য সমস্যার মতো এটাও দ্রুতই সমাধান করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ৩ দিন দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রামের সচেতন হিন্দু সমাজ। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এ কর্মসূচিতে ১৫টির বেশি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন হিন্দু সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া আগামী ৮ অক্টোবর বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন অভিমুখে সত্যাগ্রহ পদযাত্রা (লংমার্চ) কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আরো খবর

প্র্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ সুবিধার বিধান থাকা সত্ত্বেও এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় সে সুযোগ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপুজা। সারাবছর তারা এ উৎসবের দিকে চেয়ে থাকে। পরিবারের সবাই এই ধর্মীয় উৎসবেই একত্রিত হওয়ার জন্য উন্মুখ থাকে; অথচ শুধু পূজার শেষের দিন অর্থাৎ বিজয়া দশমীর ১ দিন সরকারি ছুটি থাকায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন। তাই এদেশের হিন্দু স¤প্রদায় সবসময় সরকারের কাছে দুর্গাপূজায় ৩ দিনের সরকারি ছুটি দাবির জানিয়ে আসছে। বক্তারা আসন্ন দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতেরও দাবি জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সচেতন হিন্দু সমাজের আহ্বায়ক রিপম দাশ শেখর। টিটু শীল অর্পের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চমিকের কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন, পুলক খাস্তগীর, রুমকি সেনগুপ্ত, রমনা কালী মন্দিরের উপদেষ্টা মিলন শর্মা, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, ডা. কথক দাশ, সুজিত সরকার, প্রিতম দেবনাথ, রুবেল কান্তি দে, বিশ্বজিৎ সরকার, বাপ্পীদেব বর্মণ, লিংকন তালুকদার, অশোক চক্রবর্তী, অমিত ধর, রুবেল কান্তি দেবনাথ, বিকাশ কান্তি দাশ, উত্তম কুমার দে, মিন্টু দেবনাথ, নেপাল শীল, কমলেন্দু শীল, গোপাল দাশ টিপু, লিপ্টন দেবনাথ, রিপন দাশ, ছোটন চৌধুরী রয়েল, রিপন ঘোষ, রাজু দাশ, রবিন পাল, অভিজিৎ দেবনাথ প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শুরু হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, বাড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজ করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে গত তিন সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে, অর্ধেকে নেমে এসেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। পরীক্ষার সংখ্যা অনেক কম হলেও পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হারও নেমে এসেছে দৈনিক ১০% এর কাছাকাছিতে।

আরো পড়ুন
প্র্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

খোঁজে জানা গেছে, করোনা মহামারীর মধ্যে এখন পর্যন্ত যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এর অন্যতম হলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। মহামারীর কারণে ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা। আটকে আছে এইচএসসি পরীক্ষাও। সার্বিক বিবেচনায় এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেই মনে করছেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের অনেকে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আবারও বাড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে।

এর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ থেকেও । গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩৯ দিনের জন্য প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সে সেময় গণমাধ্যমকে জানান, ‘‘অক্টোবর ও নভেম্বরকে দুটো টার্গেট করে দুটি লেসন প্ল্যান তৈরি করেছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নভেম্বর থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অক্টোবরে খোলার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই। পরিস্থিতি উন্নতি হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি নভেম্বরে স্কুল খোলা না যায় তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের অটো পাস ছাড়া উপায় নেই।’’

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া প্রজ্ঞার পরিচায়ক হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যারা আছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলতে পারবেন। তবে আমরা যেটা মনে করি যে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি যতদিন উচ্চমাত্রায় থাকবে ততদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। কারণ, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্পদ। তাদেরকে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান আছে যেমন:- জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, এগুলো খোলার আগে আরেকটু সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সেক্ষেত্রে শুধু নিজেদের দেশের নয় বরং আশেপাশের দেশগুলো বিশেষ করে যেসব দেশে সংক্রমণের মাত্র অনেত বেশি তারা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেটাও দেখার দরকার আছে। অর্থাৎ, করোনা পরিস্থিতি আমাদেরকে যে অবস্থায় নিয়ে এসছে সেটি নিয়ে আমাদেরকে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়াটা বাঞ্ছনীয়।

তিনি আরো বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সেটিকেও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ শীত আসন্ন। শীতের সময় সর্দি, কাশি এগুলো আরো বেড়ে যায়। যদি সেগুলো বেড়ে যায় আর করোনার সংক্রমণও থাকে তাহলে পরিস্থিতিতে যে জটিলতার দিকে যাবে সেটি সহজেই বোঝা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদেরকেও জীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে বিভিন্ন অবস্থান থেকে হল বা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার মতো বিভিন্ন দাবি তারা তোলে। এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা। তাদের সাথে সাথে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যও সংশ্লিষ্ট। এখনও আমরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পুরো মাত্রায় অর্জনের পথে আছি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শেষমেষ দুর্ভোগ-ভোগান্তি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের উপরেই বড় আকারে বর্তায়। এ বিষয়সহ আরো অনেক কিছু ভেবেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শীতে করোনার সম্ভাব্য প্রকপের বিষয়ে গুরাত্বারোপ করে ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ইউরোপ আমেরিকার শীতের সাথে আমাদের শীতের বিশেষ পার্থক্য থাকলেও শীতের বিষয়ে জীববিজ্ঞানী, ভাইরাসবিশেষজ্ঞরা যেটি বলেছেন সেটিকেও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

শীতকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আরো কঠিন হয়ে পড়ে উল্লেখ তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তনের জায়গাটি, সেটিকে আমাদের উপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এ সময় পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে সংসদ টিভি এবং বেতারে ক্লাস পরিচালনা ছাড়াও অনলাইনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলছে অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়া।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমি‌কের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

৮০% জোষ্ঠতা ও ২০% সরাসরি নিয়োগেরে মাধ্যেমে
নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারো প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে করে প্রধান শিক্ষকদের পরবর্তী পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে উপজেলা/থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির পাওয়ার বদ্ধ দ্বার খোলার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর আগে ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে পদোন্নতি দেয়া হলেও বাকি ২০ শতাংশ বাইরে থেকে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়ার খসড়া করা হয়েছে। এ জন্য দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন বন্ধ করা হয়, তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেটি আবার চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত চাকরিবিধিমালা তৈরির মাধ্যমে আবারও সেটি চালু করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের ৮০ শতাংশ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক উন্নয়ন সচিব কমিটিতে এটি যাবে। সেখানে খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

খসড়া নীতিমালায় সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। এ প্রসঙ্গে আকরাম আল হোসেন বলেন, কেউ কোনো ব্লক পোস্টে আটকে থাকুক, সেটি চাই না। এতে কোনো প্রণোদনা থাকে না। শিক্ষকরাও ধাপে ধাপে উপরের পদে পদোন্নতি পাবেন। এজন্য পদোন্নতির সোপান তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে দুটি শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দিতে পারেন। শর্ত দুটি হলো- শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এভাবে অতীতে অনেক শিক্ষকই সুযোগ পেয়েছেন কর্মকর্তা হওয়ার। ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক, পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ ছিল। ১৯৯৪ সালে নিয়োগবিধি সংশোধনের পর শিক্ষকদের এভাবে কর্মকর্তা হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’। বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন
এতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছে। এতদিন প্রধান শিক্ষকরা ব্লক পোষ্টে চাকুরি করত।

তিনি আরো বলেন, ‘ শুধু সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি চালু ছিল। এবার প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদোন্নতি চালু হলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন সাধিত হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বয়সের বাধা সেখানে না থাকে। প্রধান শিক্ষক হিসাবে যেন ৫৮ বছর বয়সেও পদোন্নতি দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সব পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলে আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে যাবে। সকলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘আগে প্রধান শিক্ষকদের সব পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করায় সেই পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে একই পদে থেকে চাকরিজীবন শেষ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ৪৫ বছর জুড়ে দেয়ায় থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার পর তাদের অবসরে চলে যেতে হবে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

এদিকে খসড়া নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দুই হাজার ৫৮৯টি পদে নিয়োগে ৮০ শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ২০ শতাংশ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বোঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter