জেলার খবর

ক্ষতিগ্রস্ত ২০ জনকে ১ কোটি করে টাকা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গায় চোখের ছানি অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ জনকে ১ কোটি করে টাকা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কুয়াকাটার চরচাপলীতে মাদ্রাসায় শিশুদের নির্মম নির্যাতন ।। হার মানিয়েছে বর্বরতাকে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সংলগ্ন ধুলাস্বর ইউনিয়নের চরচাপলী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় মাদ্রাসা শিক্ষার আড়ালে শিশুদের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছে। ওই মাদ্রসার শিক্ষকরা কোমলমতি শিশু কিশোরদের শাসনের নামে রশি দিয়ে হাত-পা বেধে মারধর করে এমন অভিযোগ করেন চরচাপলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইসমাইল ( ১৩) ও তার দিনমজুর বাবা আলমগীর। আহত শিশু ইসমাইল ও হাসানকে কুয়াকাটা ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন শিশু পুত্র ইসমাইলসহ শরীফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ২৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় এ প্রতিনিধির কাছে বর্বর এই নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। রশি দিয়ে বেধে নির্যাতনের কারনে ইসমাইলের দুই হাতের কব্জিতে কালো দাগ বসে গেছে। দুই রানে বিভিন্ন জায়গায় কালো হয়ে গেছে। এমন নির্যাতন থেকে বাঁচতে দুই শিশু মাদ্রসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে আসে।
শিশু ইসমাইল জানান, ২৫মার্চ দুপুরে কোন কারন ছাড়াই তাকে এবং একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে হাসানকে (১২) প্রথমে মাদ্রাসা ভবনের বাইরে মাদ্রাসার শিক্ষক আসাদুজ্জামান লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতেই থামেনি, মাদ্রসার অপর শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাদ্রসা ঘরের মধ্যে আড়ার সাথে টাঙিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধরক লাঠি পেঠা করা হয়। দুই শিশুর আকুতি মিনতি পাষন্ড ওই শিক্ষকের মন গলাতে পারেনি। শিশু ইসমাইল আরো জানান, ২২ মার্চ তাকে প্রথম দফায় বেধরক মারধর করা হয়। তখন এই মারধরের কথা ভয়ে কাউকে জানায়নি। নির্যাতিত শিশু ইসমাইল বর্ননা অনুযায়ী ওই মাদ্রাসায় প্রায় অবাধ্য শিশুদের এরকম নির্যাতন করা হয়।
এ নির্য়াতনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোনে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ওই মাদ্রসার পি্িরন্সপাল হাফেজ মাসুম বিল্লাহ মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনার সময় তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তবে তাকে ইসমাইলের বাবা জানিয়েছেন। ইসমাইলকে নিয়ে মাদ্রসার যাওয়ার জন্য বলে দিয়েছেন। এ মারধরের ঘটনাকে স্বাভাবিক শাসন বলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, দুষ্টমী করলে শাসন করা হয়। এমন বর্বর শাসনের বিষয়ে বলেন, ছাত্র ভর্তির সময় স্টাম্পে লিখিত দিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। সেই চুক্তিপত্রে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শাসনের অধিকার দিয়েছেন।
এমন নির্যাতনের বিষয়ে শরীফপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাও: মো: ওয়ালিউল্লাহ হানিফ বলেন, মাদ্রসায় কোরআন শিক্ষার আড়ালে শিশুদের এমন বর্বর নির্যাতন আদিম যুগকে হার মানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, হাফেজি মাদ্রসা গুলোতে শিক্ষা অধিদপ্তরের তদারকি না থাকায় এমন নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।
##
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কলাপাড়ায় স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

মো.মোয়াজ্জেম হোসেন,পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী  তুহিন (১৫)কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসী শাকিল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় দিকে কলাপাড়া মাছ বাজারের কসাইপট্টির টল সংলগ্ন এলাকায় সাকিল’র সাথে তুহিনের কথাকাটাটির একপর্যায়ে বাবুল কসাইর দোকান থেকে চাপাতি নিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে রাস্তার পার্শ্বে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিৎকিসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহতর বড় ভাই সাইফুল্লাহ শাহিন জানান, তুহিন নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার করতে মাছ বাজারে যায়, এসময় পৌর শহরের বাদুরতলী ৯নং ওর্য়াডের বাসিন্দা আফজাল কমান্ডার এর বড় ছেলে শাকিল তাকে কুপিয়ে জখম করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত কোন আভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা  নেয়া হবে
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

”কোচিংয়ের পর প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার রুমে নিয়ে তাদেরকে যৌন হয়রানি করে

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কোনভাবেই স্কুলে পাঠানো যাচ্ছিলোনা।

প্রায় এক সপ্তাহ এভাবে চলার পর অভিভাবকরা কথা বলে জানতে পারেন যে তারা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের কাছেই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

খবর পেয়ে এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির খবর পেয়ে ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি। তারা জানান, স্কুল ছুটির পর কোচিংয়ের পর প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার রুমে নিয়ে তাদেরকে যৌন হয়রানি করে”।

মিস্টার রহমান জানান তিনি পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকেও জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২৫শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির দাবিতে

পটুয়াখালীতে “যুদ্ধদলিল” র উদ্যোগে বিনামূল্যে গণহত্যার দলিলপত্র বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবীতে “যুদ্ধদলিল” নামক মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে ।  কর্মসূচির মধ্যে ছিল পটুয়াখালীতে গণহত্যার ঘটনা সম্বলিত পুস্তক বিতরণ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ও ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতির দাবীতে আলোচনাসভা । যুদ্ধদলিল প্রজেক্টের ৬৪ জেলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে এসকল কর্মসূচী পালিত হয় ।
পরিচয় একটাইঃ মুক্তিযুদ্ধ এই মূলমন্ত্র ধারণকারী সংগঠনটির স্লোগান হচ্ছে , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে , গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে । সংগঠনটি ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক কাজ করে আসছে । এরই মধ্যে বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের ১৫ খন্ড বাংলায় অনুবাদ করে ই-বুক আকারে ওয়েবসাইটে সর্বসাধরণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে । মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়াই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ।
বেলা ১২টায় পটুয়াখালী সরকারী জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে , আলোচনা সভা শুরু হয় । আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান হিমু  এবং  সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয় ।  যুদ্ধদলিল পটুয়াখালী জেলা কো-অর্ডিনেটর বিধান চন্দ্র সাহার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সেচ্ছাসেবী ডাঃ নিবেদিতা সাহা, তুষার দাস ও ইমরান আরেফিন শাওন । বেলা ১টায় সভাপতি মহোদয় আলোচনা সভার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এবং মঙ্গল কামনা করেন ।
আলোচনা সভা শেষে , শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুদ্ধদলিল এর পক্ষ হতে বিনামূল্যে পটুয়াখালী জেলার গণহত্যার দলিলপত্র বিতরণ করা হয় । সবশেষে সকলের জয় বাংলা ধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি ঘোষণা করা হয়
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাত্রীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করলেন শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | : আলমডাঙ্গার ঘোষবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অসুস্থ ছাত্রী তিথিকে দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করার ঘটনায় উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ক্লাসে সেই ছাত্রীকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ক্লাসের কোন শিক্ষার্থী তিথির সাথে কথা বলতে সাহস করছে না। বুধবার তিথিকে ডেকে স্কুলে আসতেও নিষেধ করে দেয়া হয়। পরে কাঁদতে কাঁদতে তিথি স্কুল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়।
মঙ্গলবার সকালে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তিথি এ্যাসেমব্লিতে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান পালানুযায়ী তিথিকে বাথরুম পরিষ্কার করে বাড়ি যেতে বলেন। তিথি স্যারকে জানায়, সে অসুস্থ। তারপরও ডাবলু রহমান জোরপূর্বক তিথিকে দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করিয়ে নেন। এতে ছাত্রীটি আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে তিথির বাবা মন্টু সাহা এর প্রতিবাদ করতে স্কুলে এলে প্রধান শিক্ষক সাদ আহমেদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান তার প্রতি মারমুখো হয়ে ওঠেন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সাদ আহমেদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান উত্তেজিত হয়ে অভিভাবক মন্টু সাহার দিকে তেড়ে তেড়ে যাচ্ছেন। তারা শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করার বিষয়ে সরকারী বিধিমালা আছে তাও শোনাচ্ছেন। অসুস্থ তিথি অসহায় বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
মঙ্গলবার এ ঘটনার পর বুধবার তিথি যথারীতি স্কুলে যায়। গিয়ে দেখতে পায় ভিন্ন রকম পরিবেশ। ক্লাসের কেউ তার সাথে কথা বলছে না। তারা তিথিকে জানায়, ডাবলু স্যার তিথির সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছেন। যে কথা বলবে তার পরিস্থিতিও তিথির মতো হবে এরকম হুমকি দিয়েছেন তিনি। এ সময় ক্লাস থেকে তিথিকে ডেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তিথিকে স্কুলে আসতে নিষেধ করে দেন। এই অকল্পনীয় অপমানজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে তিথি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়।[inside-ad]
তিথির বাবা জামজামী গ্রামের মন্টু সাহা বলেন, সামনে মেয়ের পিইসি পরীক্ষা। ডাবলু মাস্টার সরাসরি তিথিকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে দিয়েছেন। স্কুলে গেলেও তাকে কোনকিছু পড়ানো হচ্ছে না। ক্লাসের মেয়েদের তিথির সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছে ডাবলু মাস্টার। এই পরিস্থিতিতে তিথিও লজ্জা আর অপমানে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, অত্যন্ত প্রভাবশালী সহকারী প্রধান শিক্ষকের বাড়ি স্কুলের পাশে ঘোষবিলা গ্রামে।
প্রধানশিক্ষক সাদ আহমেদ জানান, বাথরুম পরিষ্কারের অভিযোগ তিথির বাবা প্রথমে আমাদের বলতে পারতেন। তিনি তা না করে অন্যদের বলেছেন। এ জন্য তার সাথে রাগারাগির ঘটনা ঘটে।
ডাবলু রহমান বলেন, আমরা গ্রুপিং করে বাথরুম পরিষ্কার করাই। শিক্ষকরাও সেখানে তদারকি করি। তিথির বাবা মন্টু সাহা পরবর্তীতে স্কুলে এসে ক্ষমা চেয়ে গেছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি সাহানুর ইসলাম জানান, ঘটনা শুনেছি। শিক্ষক যা করেছেন তা করতে পারেন না। শনিবার আমি এর ব্যবস্থা নিব। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আমতলী সরকারী কলেজে শিক্ষকদের অভ্যন্তরিন দ্বন্ধে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা ॥ বরগুনার আমতলী সরকারী কলেজে বে-সরকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। শিক্ষকদের অভ্যন্তরিন দ্বন্ধে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। ভেঙ্গে পরেছে প্রশাসনিক কাঠামো। শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দু’পক্ষের সহিংস ঘটনা।

জানাগেছে, ২০১৬ সালে ৭ এপ্রিল আমতলী ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। প্রজ্ঞাপনে কলেজ জাতীয়করণ হলেও ৫৪ শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ হয়নি। ওই বছর ৩০ জুন চাখার শের-ই বাংলা মহা বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রেজাকে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে প্রেষনে (সংযুক্ত) নিয়োগ দেয়। তিনি ১১ জুলাই কলেজে যোগদান করেছেন। এ অধ্যক্ষের (মাসুদ রেজা) পক্ষে দু’একজন শিক্ষক থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। শুরু হয় শিক্ষকদের অভ্যন্তরিন দ্বন্ধ। ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান সংযুক্ত অধ্যক্ষ মাসুদ রেজার সংযুক্ত আদেশ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (১১৭৪৯/২০১৬) দায়ের করেন। আদালত সংযুক্ত অধ্যক্ষ মাসুদ রেজার নিয়োগ আদেশ স্থগিত করে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমানকে বৈধ অধ্যক্ষ বলে আদেশ দেয়। এদিকে ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ রেজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সরকার , রাষ্ট্র বিরোধী ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক অভিযোগ এনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন বিশ্বাস আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে। আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২১ সেপ্টম্বর অধ্যক্ষ মাসুদ রেজা আবুল হোসেন বিশ্বাসকে অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কলেজ ত্যাগ করেন। আবুল হোসেন বিশ্বাস কলেজের দায়িত্ব নেয়ার পরে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন কোন্দল আরো ঘনিভুত হয়। শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেয় আবুল হোসেন বিশ্বাস এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেয় অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান। দিন দিন শিক্ষকদের দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করে। চার মাস অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্ব পালন শেষে সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন বিশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারী মজিবুর রহমানকে কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। এদিকে কলেজের শিক্ষক জাতীয়করনের জন্য আবুল হোসেন বিশ্বাসকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি শিক্ষক জাতীয়করন দ্রুত করার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। শিক্ষকদের অভিযোগ আদায়কৃত টাকা অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারী কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী (পিয়ন) মোঃ ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয়করনের নামে ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বর্তমানে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান জেল হাজতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন কলেজের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধে তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ভেঙ্গে পরেছে প্রশাসনিক কাঠামো।

কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র আরিফুর রহমান, মিরাজ ও নাঈম জানান, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধে ঠিকমত পাঠদান হচ্ছে না। তারা আরও জানান, শিক্ষার্থীরা কলেজে এসে যে যার মত চলে যায় কোন তদারিক নেই।

কলেজের একাদ্বশ শ্রেনীর ছাত্র আতিক, আল আমিন ও বায়েজিদ জানান, প্রকাশ্যে এক শিক্ষক অন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে অযাচিত ও অশ্লীল মন্তব্য করছে। নিজেদের দ্বন্ধে শিক্ষকরা ঠিকমত পাঠদান করাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষক অভ্যন্তরীন দ্বন্ধের কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত।এক পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, অপরপক্ষে নেতৃত্ব নিচ্ছেন আবুল হোসেন বিশ্বাস। দু’পক্ষের কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ। দিন দিন শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করেছে। এ অভ্যন্তরীন দ্বন্ধে কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষা পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। কলেজের সহকারী অধ্যপক আবুল হোসেন বিশ্বাস শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধের কথা অস্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান শিক্ষক জাতীয়করনে কিছু শিক্ষকের কাগজপত্র মন্ত্রনালয়ে পাঠাতে গড়িমসি করছে। তিনি ওই শিক্ষকদের কাগজপত্র দ্রুত মন্ত্রনালয়ে পাঠালে তার (অধ্যক্ষ) সকল কাজে আমরা সহযোগীতা করবে। তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ জেল হাজতে থাকায় প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পরেছে এবং পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কথা অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষক জাতীয়করনের সকল কাগজপত্র সহকারী অধ্যাপক হোসেন আহম্মেদ’র কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন,প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ঠিকমত চলছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কমিটির সভা

মেহেরপুর প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কমিটির   মেহেরপুর জেলা শাখার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টাই  মেহেরপুর বিএম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  মেহেরপুর জেলার সদর,মুজিবনগর ও গাঙনী উপজেলার  প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সভা অনুুষ্ঠিত হয়।

সভায় আবু জাহিদের সভাপতিত্বে  ও প্রধান শিক্ষক তালিমের  সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরুপ দাস, সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রিয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।সভায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও টাইমস্কেল পাবার জন্য জোর পদক্ষেপ নেবার জন্য অনুরোধ করেন বক্তারা। তারা সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আরো উপস্থিত ছিলেন অ‌তি‌থি কুতুব উ‌দ্দিন, ম‌হিদুল স্যার, তা‌লিম স্যার , নওগা জেলা মোজ্জা‌মেল স্যারসহ শতাধিক শিক্ষক।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অপহরণের ছয় দিন পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, আটক ১

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,১৩ মার্চ:.

চুয়াডাঙ্গা একাডেমী মোড় থেকে অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে ছয় দিন পর চট্টগ্রাম পাঁচলাইন থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকারী রুবেল হোসেনকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ১টার দিকে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক

উদ্ধারকৃত স্কুল ছাত্রী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী।

অপহৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ বিকালে ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরের একাডেমী মোড়ে এসে পৌঁছায়। এসময় যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে রুবেলসহ চার জন তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে  তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ৬ মার্চ দুপুরে অপহৃতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার জনের নামে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার দুপুরে সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম পাঁচ মাইল থানা পুলিশের সহযোগীতায় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক বলেন, গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জীবননগর ডিগ্রী কলেজে দু’ছাত্রীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জীবননগর অফিস:
জীবননগর ডিগ্রী কলেজের দু’ছাত্রী প্রতিপক্ষ দ্বারা নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সকালে কলেজ চত্বরে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছেন। মানববন্ধনে নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করা হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনাটি গত শনিবার সকালে সংঘটিত হয়েছে।
জানা গেছে,জীবননগর পৌর এলাকার পুরাতন তেতুলিয়া গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থান কমিটি গঠন ও গোরস্থানে লাশ রাখা একটি টিনসেড নির্মাণের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দু’টি পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার দু’দফায় মারামারীর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী মধুমালা ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইসরাত জাহান বৃষ্টির ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। গ্রামের লোকজন তাদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রে ভর্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর ডিগ্রী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে হামলাকারী সাদ আহমেদ ও তার ছেলে প্রিন্সকে গ্রেফতার করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করা হয়েছে। মানববন্ধনে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান বিপ্লব তার বক্তব্যে বলেন,হামলাকারীরা বিএনপির মদদপুষ্ট। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
এ সময় জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন,ঘটনার ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহত ছাত্রী বৃষ্টির পিতা হাসানুজ্জামান বলেন,আমি শনিবার সকালে বৃষ্টিকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে তার প্রাইভেট শিক্ষকের নিকট পৌছে দিতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় সাদ আহমেদ ও তার ছেলে প্রিন্স আমাকে আমার মেয়ে বৃষ্টিকে মারপিট করে মারাত্মক ভাবে আহত করে। ঘটনায় সময় আমার নিকট থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ টাকাও তারা ছিনিয়ে নেয়। আবার এখন তারা উল্টা আমাদের নামেই মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দর্শনায় ৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত অর্ধশত শিক্ষক

কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থী শোসন বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ

হারুন রাজু : সন্তানদের উচ্চ ও সুশিক্ষার আলোকে গড়ে তুলতে চায় সকল অভিভাবক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানেই মানুষ তৈরীর কারখানা। অথচ সে কারখানাগুলো কি হচ্ছে আজ ? মাত্র এক যুগ আগেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দেখা যেতোনা অর্থের লালসা। অকৃপ্রনভাবেই সন্তানের মতো করেই শিক্ষাদান করাতেন শিক্ষাকরা। সেকালের শিক্ষকদের শাসন, আদর ও ভালোবাসা আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠেছে কতশত শিক্ষার্থী। এখনো শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য যারা জনম জনম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আশুতোষ সেন গুপ্ত, আনিসুর রহমান, আরজ আলী, হোসেন আলী, সদর আলী, আগস্টিন হালসনা, মঈনুদ্দিন, নাহার উদ্দিন, ইলিয়াস হোসেন, আ. কুদ্দুস, আবু বকর, শহিদুল্লাহ, দাউদ আলী, জামাত আলী, আফতাব উদ্দিন সহ নাম না জানা আরো অনেক শিক্ষক।

সে সময় শিক্ষকরা অল্প বেতনে শিক্ষকতা করলেও তাদের মধ্যে ছিলোনা অর্থের মোহ। শ্রেনী কক্ষে শিক্ষার্থীরা পড়া না পারলে নিজের আগ্রহেই সেই শিক্ষার্থীকে বিনাপয়সায় পড়াতেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুজে বের করে তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বর্ণ শিখরে পৌছে দেয়ার প্রচেষ্টায় মেতে থাকতেন সেই সকল আদর্শিক শিক্ষকরা।

বর্তমান অবস্থার দিকে খেয়াল করলে মনে হয় পুরোটাই উল্টো। বর্তমান শিক্ষকরা শিক্ষাদান নয় টাকা উপর্জনের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিরক্ষর মুক্ত সমাজ, জাতী ও দেশ গড়ার লক্ষে শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানামুখি কর্মসূচি গ্রহন করেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দিয়ে সরকার সৃস্টি করেছে নতুন অধ্যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রে দূর্নিতি দুরিকরণে সরকারের যেমন আন্তরিকতার কমতি নেই, তেমনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো থেকে শুরু করে সব ধরণের উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেই আন্তরিকতার ঘাটতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আধুনিক দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর, আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষাদানের জন্য ব্যয় করছে প্রচুর অর্থ, শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়ানো সহ দেয়া হয়েছে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, ঠিক তখনি অর্থলোভি এক শ্রেনীর শিক্ষক হয়ে উঠেছে বেপরায়া। তারা শিক্ষা নয়, অর্থের লোভেই মেতে উঠেছে। শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর অর্থ, কলূষিত করছে শিক্ষাঙ্গনকে।

দর্শনার অভিভাবক মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কোচিং সেন্টার পরিচালিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে কোচিংয়ে পড়াতে না দেয়া হলে শ্রেনী কক্ষে রিতিমত অপমান সহ বিভিন্নভাবে ভৎসনা করা হয়ে থাকে শিক্ষার্থীকে। তাছাড়া পরীক্ষার খাতায় ভালো লিখলেও নাম্বার কম দেয়ার অভিযোগতো রয়েছেই।

সম্প্রতি সময়ে দর্শনার বেশ কয়েকজন শিক্ষক কোচিং বানিজ্য করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন। দালান-কোটা, জমিজমা, গাড়ি ক্রয় সহ ব্যাংক এ্যাকাউন্ডে নামে-বেনামে জমা রাখা হয়েছে প্রচুর অর্থ।

দর্শনার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণচাদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাশের নামে খোলা হয়েছে কোচিং বানিজ্য সেন্টার। সাধারণত কোন কোন শিক্ষার্থী ইংরেজি ও অংকে অল্প বুঝে থাকে। সেক্ষত্রে সরকার ইংরেজি ও অংকের জন্য অতিরিক্ত ক্লাশ করানোর ব্যবস্থা চালু করে। প্রতিটি বিষয়ে ১৫০ টাকা হারে দুটি বিষয়ে ৩০০ টাকা মাসে ১২ দিন ক্লাশ করানোর নিয়ম থাকলেও গোড়া থেকে চারাগাছ গজিয়ে তুলেছেন শিক্ষকরা।

অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত ক্লাশের টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করার নিয়ম ছিলো। অথচ সে টাকার চারআনাও রাখা হয়না বিদ্যালয়ের তহবিলে। পুরো টাকায় ঢুকছে শিক্ষকদের পকেটে। দর্শনায় কোচিং বানিজ্যের সাথে যেসকল শিক্ষকদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবিনা ইয়াসমিন, হাফিজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুন্নাহার, আ. কাদের, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলম, নাসরিন আক্তার শিলু, আরিফুল ইসলাম শান্ত, হাফিজুর রহমান, হাসান আলী, কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাছিমা আক্তার, আ. রহিম, ফারুক হোসেন,স্নেহময় বশাক নান্টু, নুরুল ইসলাম, আসমা খাতুন, আশরাফ হোসেন, ইকবাল রেজা, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী, আক্তারুজ্জামান সহ ৬/৭ জন।

এ ছাড়া রয়েছে আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রসাশক দায়িত্বভার গ্রহনের পরপরই শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। কোচিং বানিজ্যের ব্যাপারে তিনি কয়েকবার হুশিয়ার করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রসাশক জিয়াউদ্দিন আহমেদ। জেলা প্রশাসকের হুশিয়ারি অনেকটাই তোয়াক্কা না করেই দেদারছে কোচিং বানিজ্য চলছিলো অর্থলোভি শিক্ষকরা। দর্শনা কেরুজ হাই স্কুল, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় , মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছে।

মোটা অংকের বেতনে অনিচ্ছা সত্তেও সচ্চল পরিবারের সন্তানেরা কোচিংয়ে অংশ নিতে পারলেও বিপাকে পড়তে হয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরা। কোচিংয়ে ভর্তি না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ ও অপমান-অপদস্ত করতে দ্বিধাবোধ করেনি অভিযুক্ত অর্থলোভি শিক্ষকরা। বর্তমান সময়ে অনেকটাই কোচিং বানিজ্যের কারণে ঝড়ে পড়েছে বহু মেধাবি শিক্ষার্থী।

দর্শনার বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বন্ধ ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিভাবকদের দাবী বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। দেরিতে হলেও সময় উপযোগি পদক্ষেপ গ্রহন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। খানেকটা আকস্মিকভাবেই গত সোমবার বিকাল ৩ টার দিকে কোচিং চলাকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় দর্শনা কেরুজ হাই স্কুল ও মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। দুটি বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্য হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রতিনিধিদল। বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীকে কোচিংরত অবস্থায় পাওয়া গেলেও কেরুজ হাই স্কুলে পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থী।

এ সময় কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শোনেন নানাবিধ অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ শ্রেনী পর্যন্ত কোচিং বাধ্যতামূলক করেছে শিক্ষকরা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৬শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কোচিং ফি নিয়ে থাকেন। কোচিংয়ে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে ফরম পূরণের ব্যবস্থা ও অভিনব কৌশল। কোচিং ক্লাশ সহ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভিডিও ধারণ করেন কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে না আসার জন্য বলে দেন প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা। কোচিং বানিজ্যে কেরুজ হাই স্কুলের মিক্ষক নাছিমা খাতুন সহ বেশ কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা সুযোগ বুঝে সটকে পড়ার অভিযোগ উঠে। পরপরই কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের। অভিযুক্ত দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম হুমায়ন কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার শিলু, সহকারি শিক্ষক হাফিজুর রহমান হাফিজ, দর্শনা কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকবাল রেজা, আশরাফ হোসেন, স্নেহময়‡ বসাক নান্টু, ফারুক হোসেন, আসমা খাতুন অভিযান পরিচালনকারি কর্মকর্তাদের কোন প্রশ্নের সদত্তোর দিতে পারেননি। ফলে এ ৯ শিক্ষককের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমান সহ উপস্থাপন করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের নিকট। অভিযুক্ত ৯ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়া উদ্দিন আহমেদ। কেরুজ হাই স্কুলের কোচিংয়ের অর্থ আদায়কারি রুটো ব্যাবহারকারি শিক্ষক নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী তুলেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মোবাইলে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র, ৭ পরীক্ষার্থী আটক

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর:  দিনাজপুরের তিন উপজেলায় মোবাইলে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র রাখার অভিযোগে সাত এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর আগে বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ উপজেলা থেকে মোবাইলসহ তাদেরকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে বিরলের ধুকুরঝাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মূল গেটের বাইরে উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউপির ফরক্কাবাদ এন আই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ও মাঝাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে নুর ইসলাম নয়ন (রোল নং ২৫০৭০৩), মোহনা মঙ্গলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ও মঙ্গলপুর ইউপির ধনগ্রামের শাহীনুর ইসলামের ছেলে মাহফুজ আলম (রোল নং ২৫০৭৯২) ও মোহনপুর গ্রামের আনছারুল আজিমের ছেলে রিয়াদ উল ইসলাম (রোল নং ২৫০৮০০) মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ বি এম রওশন কবীর তাদেরকে মোবাইল ফোনসহ হাতেনাতে আটক করেন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবরাহের ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুকুরঝাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব বিমল চন্দ্র সরকার বলেন, পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টা খানেক আগে তারা স্কুলের সামনে ধুকুরঝাড়ী বাজারের মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র দেখার সময় ম্যাজিস্ট্রেট ওই তিন ছাত্রকে আটক করেন। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে না থাকায় আমি অনুপস্থিত দেখাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৈয়ব আলী জানান, তিনি বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখার সময় বোচাগঞ্জ উপজেলার আনোয়ারা ধদইর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ওমর ফারুককে (রোল নং- ২২১৭৪৯) উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম সারাওয়ার মোর্শেদ মোবাইলসহ ধরে কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরীক্ষা শুরু হলে প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়াও বিরামপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের জের ধরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় বিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান গেটের ফটক থেকে বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী কলেজ বাজার এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে নাজমুল সাকিব (১৭), শৌলাহার গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে শামীম আহমেদ সবুজ (১৬), মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উড়ুম্বা গ্রামের প্রেমদাস চন্দ্রের ছেলে বিজয় চন্দ্রকে (১৬) মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সার্চ করে দেখার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে হাতেনাতে আটক করে।

কেন্দ্র সচিব রইচ উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ২শ গজের মধ্যে আজকের পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনে নেটের মাধ্যমে সার্চ করে দেখার অপরাধে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি স্ক্রিনটাচ মোবাইল ফোন জব্দ করে থানায় জমা দেয়া হয়েছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরীক্ষা হলে প্রবেশের আগেই ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

টাঙ্গাইল,১২ ফেব্রুয়ারী: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এসএসসি পরীক্ষার জন্য হলে প্রবেশের আগেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও বহিরাগত একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ভূঞাপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের বাইরে থেকে তাদের বহিষ্কার ও আটক করা হয়।
আটককৃতের নাম- সিজেন খান ওরফে আব্দুল কাইয়ুম। সে উপজেলার অর্জুনা গ্রামের আইয়ুব খানের ছেলে। সিজেন খান ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। এসময় প্রশ্নফাঁসের জড়িত পাপ্পু নামে এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফ আহম্মেদ জানান, ভূঞাপুর পাইলট সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ না করে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন দেখছিল। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলে প্রশ্নফাঁসের মুলহোতা পাপ্পু পালিয়ে যায়। পরে এঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বহিরাগত সিজেন খানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেটে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সন্দেহে যুবক আটক

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত সন্দেহে দেলোয়ার হোসেন (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। শনিবার সকালে নগরের হাউসিং এস্টেট এলাকার আম্বরখানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক দেলোয়ার সিলেট মদন মোহন কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দর্শনায় আন্তঃ প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় হযবরল। দুপুর দুটাই বিদ্যালয় বন্ধ। তদন্তের দাবী

দর্শনা অফিসঃ দামুড়হুদা দর্শনার ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বরামনগরের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের খামখেয়ালির কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জানান শিক্ষকরা। রোববার সকাল ১০টায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্ভোধনকালে পতাকা উত্তেলনকে কেন্দ্র করে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে অমান্য করে দুপুর ২টায় পূর্বরামনগর সরকারী প্রাথমিক বন্ধ ঘোষনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এতে সাধারন শিক্ষকদের মধ্যে আরো ক্ষোভ দেখা যায়।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার আন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আজ ছিল উদ্ভোধন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র মতিয়ার রহমান। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুৃল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরু হওয়া কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের একগুয়েমির কারনে তা হয়নি। সে সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ করলে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কৌশলে অনুষ্ঠান কোনরকমে শুরু করে স্থান ত্যাগ করে। এমনকি সেমময় সহকারী উপজলো শিক্ষা অফিসারকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি।
এদিকে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাদে বাকীদের বিদ্যালয় অবস্থান করার কথা থাকলেও পূর্বরামনগর সরকারী প্র্থামিক বিদ্যালয় তা পালন করেনি। বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষকের দায়িত্ব থাকলেও বাকীরা ক্লাস না চালিয়ে মাঠে অবস্থান করে। বাকী ৯টি বিদ্যালয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাদে সবাই বিদ্যালয়ে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও পূর্ব রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর দুটাই বন্ধ করে দেয়।
এর পূর্বে তিনি মাইকে ঘোষনা দেন পরবর্তী দিন অথাৎ ৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় চালিয়ে ১টা পর মাঠে আসতে হবে। এতেও শিক্ষকরা তীব্র প্রতিবাদ করে। পরে পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সে সময় প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ স্বীকার করেন তিনি না বুঝে এরকম একটা স্ধিান্ত দিয়েছেন। আমাকে কেউ বলতে বলেনি।
এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, আগামীকাল কখন শিক্ষকরা মাঠে আসবে তা তার জানা নেই।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম বলেন, বিদ্যালয় পড়াশুনার স্বার্থে বিদ্যালয় খুলে রাখতে বলা হয়েছে। তবে আগামীকাল ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় থেকে মাঠে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষকদের মধ্যে। সাধারন শিক্ষকদের দাবী আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। পূর্ব রামনগর বিদ্যালয়ের এক আইন আর অন্য বিদ্যালয়ের জন্য আরেক আইন এটা কোনভাবে মেনে নেওয়া যাবে না। সাধারন শিক্ষকদের দাবী হারুন অর রশিদের কারনে দর্শনায় যত সমস্যার সৃষ্টি হয়।তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে ভাল হন। বিষয়টি সুস্থ তদন্তের দাবী জানিয়েছে শিক্ষকরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free