জেলার খবর

জীবননগরের ঐতিহ্যবাহী আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম লাভলু ইন্তেকালঃ বিভিন্ন মহলে শোক।

জাহিদুল ইসলাম মামুন, আন্দুলবাড়ীয়া,প্রতিবেদক: 

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্দুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, কাশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক বিএসসি শিক্ষক,আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদের সাবেক সভাপতি, অত্যান্ত নম্র,ভদ্র,সদাহাস্যজ্বল,কবি,নাট্যকার,সুরকার,গীতিকার, চিএ শিল্পী, অএ জেলার সুপরিচিত মূখ ও সবার প্রিয় শিক্ষক, এবং তিনি ছিলেন বহুগুণে গুণানীত, শ্রদ্ধীয় শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ওরফে লাভলু ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন)


পারিবারিক সূএে জানাগেছে, তিনি গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে কাশীপুর গ্রামের ভাড়া বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুমের মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখার জন্য হাজার -হাজার সূধী,শিক্ষক,সাংবাদিক, ছাএ-ছাএী,অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বাড়ীতে ভীড় জমায়। Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

যশোরে প্রাথমিকের ৬ ছাত্রীকে টানা ধর্ষণ

যশোর প্রতিনিধি,৫মে:

যশোরের খড়কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে আমিনুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে অবৈধপথে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে শার্শার গাতিপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। রাতেই তাকে যশোর কোতোয়ালি থানায় আনা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে আটকের ব্যাপারে তৎপর ছিল। শুক্রবারও রাতভর তাকে আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে শনিবার দুপুরে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় সেখানে হানা দিয়ে তাকে ধরে ফেলে কোতোয়ালি পুলিশ।


যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আমিনুল ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হয়েছেন।

উল্লেখ্য, তিন সন্তানের জনক আমিনুর গত প্রায় একমাস ধরে শহরের খড়কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর উপর পর্যায়ক্রমে যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন।

ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর গত বুধবার এক শিক্ষার্থীর বোন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগেই পালিয়ে যান আমিনূর। তিনি ওই এলাকার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এবার শিক্ষা অফিসার দ্বারা শিক্ষিকা ধর্ষন!

মাদারীপুর প্রতিনিধি,১ মে: মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. তোফায়েল হোসেনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা  হলেও গ্রেফতার হয়নি সেই শিক্ষা অফিসার।


এদিকে মামলা করার কারণে শিক্ষিকার চাকুরি খেয়ে ফেলার হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার তোফায়েল।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে অফিসিয়াল কাজে যান ওই শিক্ষিকা। এসময় ওই শিক্ষিকার কয়েকটি ছবি তুলেন তোফায়েল। ছবি তোলার কারণ জিজ্ঞেস করলে তোফায়েল ওই শিক্ষিকাকে পাশের আরেকটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময় ওই ছবির সাথে অশালীন ছবি যুক্ত করে ইন্টারেনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। পরে জোরপূর্বক ওই শিক্ষিকার শালীলতাহানীর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তিতে শিক্ষিকার পরিধেয় বোখরা ছিড়ে যায়। এই ঘটনার পরে শিক্ষিকা চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেয়। Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ এপ্রিল:

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলছাত্রসহ দুজন নিহত হয়েছেন।

রোববার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর মোড়ে ও শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কোর্ট মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে শামসুল আলম শান্তি ও জেলা শহরের সবুজপাড়ার রাশেদ আহমেদের ছেলে স্কুলছাত্র রেদওয়ান আহমেদ। সে চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও এলাকাসূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে ছাত্র রেদওয়ান বাইসাইকেলযোগে শহরের সবুজপাড়া থেকে সিনেমা হলপাড়ায় যাচ্ছিল। কোর্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডা. সোনিয়া আহমেদ রেদওয়ানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে শামসুল হক শান্তি রোববার সকালে শ্বশুরবাড়ি দামুড়হুদার রামনগর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর মোড়ে পৌঁছালে মেহেরপুরগামী একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর সময় সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ খান যুগান্তরকে জানান, স্কুলছাত্র রেদওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষিকা নিহত

ঝিনাইদাহ প্রতিনিধি ,২৩ এপ্রিল: ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে সানজিদা মোস্তফা সুমি (৩২) নামে এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমি শৈলকুপা উপজেলার ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী ও ঝিনাইদহ বঙ্গবন্ধু কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, দুপুরে গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ আসছিলেন সুমি। ক্যাডেট কলেজের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি বাস হর্ন দিলে সুমি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দেন। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরতর আহত হন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গায় দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,২২ এপ্রিল:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে ২ স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত রবিবার বিকেলে দুজনকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।

ধর্ষিত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, মহেশপুরে ওই শিক্ষার্থী জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে গ্রাম্য চিকিৎসক সাইফুলের কাছে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে জ্বর একটু ভালো হলে রবিবার আবারো তাকে দেখা করতে বলে ওই চিকিৎসক সাইফুল। ঘটনার দিন গত রবিবার সকালে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী একাই চিকিৎসা নিতে গেলে ওই গ্রাম্য চিকিৎসক সাইফুল মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

এ সময় ধর্ষিতা ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গেলে সাইফুল পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর রবিবার রাতে অভিযুক্ত ধর্ষক ওই গ্রাম্য চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর শেখ গণি মিয়া জানান, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপহরণ করে একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শহীদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর বড় ভাই থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রবিবার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী সাখাওয়াত হোসেনকেও আটক করা হয়। অপহরণের পর ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলে ধর্ষিতা মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম কবীর জানান, রবিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুরের শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের কারণে ওই শিক্ষার্থীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, জীবননগরে ধর্ষণের শিকার হওয়া এলাকার নিশ্চিন্তপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

লালমনিরহাটে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

লালমনিরহাট, ১৮এপ্রিল: যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

 

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ইমেইলে পাওয়া রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে লুৎফর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই শিক্ষক পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার বিকেলে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে উপজেলা সদরের বুড়িরবাজার থেকে গ্রেফতার হন প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান(৫০)।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ, আটকে রেখে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া, ১৭ এপ্রিল ২০১৯:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও বিয়ে করে আটকে রেখে ‘ধর্ষণে’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা গতকাল মঙ্গলবার রাতে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরিপ্রেক্ষিতে নুর মোহাম্মদ বাবু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বড়িয়া গ্রামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাওয়া জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথে প্রতিবেশী অটোচালক নুর মোহাম্মাদ বাবু তাকে দেখে সেখানে দাঁড়ান। বান্ধবীর বাড়ি পৌঁছে দেবেন বলে তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের অটোতে তুলে নেন।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল জানেন?

ডেস্ক,১৩ এপ্রিল:

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল কারা? কারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিল? পরীক্ষা কেন্দ্র সংরক্ষিত এলাকা, সেখানে অপরিচিত কারও যাওয়া কি সম্ভব? এলাকাবাসীর মুখে মুখে এখন এসব প্রশ্ন। তাদের কথা পরিচিত বিধায় বোরকার ছদ্মবেশে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীরা। আর নিরাপদে তাদের মিশন শেষে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। এ সময় কেন্দ্রে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী কী করছিল? এসব বিষয় এলাকাবাসীকে যেমন ভাবিয়ে তুলেছে তেমন রহস্যেরও জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর কথা- যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রতিবাদ ও মামলা করায় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় নুসরাতের সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একই কথা।

 

স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার আগে পুরো বিষয়টি রেকি করা হয়েছে। আগ থেকে সতর্ক প্রস্তুতির কারণে এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে গেছে অপরাধীরা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ও জেলা পুলিশও বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘটনার মূল হোতাদের ধরতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরাধীদের পালিয়ে যেতে মাদ্রাসার ভেতরের কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সে বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দোলাহসহ আটজন ও আরো অজ্ঞাতনামা চার জনকে। এদের মধ্যে এজাহারভূক্ত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এখনো স্পষ্ট হয়নি নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছিল কারা? এমনকি দগ্ধ হবার পর নুসরাতের ডাইং ডিক্লারেশনে উল্লেখ করা আলোচিত শম্পা চরিত্রেরও কোন কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। কোন চার জন নুসরাতকে ডেকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গেছে এবং তারপর আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে তাদের নিয়ে জোর গুঞ্জণ আছে এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

অনেকে ধারণা করছেন এজাহারভূক্ত আসামিদের কয়েকজন নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যুক্ত রয়েছে। তবে রিমাণ্ডে আসামিরা কতটুকু কী বলেছে তাও ক্ষতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যান নুসরাত জাহান রাফি।

এসময় শুধু প্রবেশপত্র ও কলমসহ একটি ফাইল নিয়ে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় তাকে। তার ভাইকে কেন্দ্রের গেটে আটকে দেয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে কাগজপত্র নিয়ে নিজের আট নম্বর কক্ষে চলে যান নুসরাত। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাতটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দাখিল বিভাগের ক্লাস চলে মাদ্রাসাটিতে। সাড়ে নয়টার দিকে একদিকে আলীম পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরাও গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের ধারণা, এ সুযোগটি কাজে লাগায় সন্ত্রাসীরা। তারা বোরকার ছদ্মবেশ কাজে লাগিয়ে নিমিষেই মিশে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মিশনে অংশ নেয়া বোরকা, হাতমোজা ও চশমা পরা চারজনের কথা উল্লেখ করা আছে মামলার এজাহারে। এদের মধ্যে দুইজনকে নারী হিসেবে উল্লেখ করলেও আরো দু’জন পুরুষ নারীর ছদ্মবেশে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে নারী একজন নুসরাতকে ডেকে ভবনের ছাদে নিয়ে যান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বাক্ষী ও নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে জানান ওই নারী। এ খবর পেয়ে নিজের কাগজপত্র রেখে বান্ধবীকে বাঁচাতে তিনতলার ছাদে চলে যান নুসরাত। সেখানে গিয়ে বোরকা পরা চারজনকে দেখতে পান। এদের মধ্যে দুইজন নুসরাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এই দু’জন নারী ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নুসরাতের দুই হাত দড়ি দিয়ে পেছনে বেঁধে ফেলে চারজন। পরে কেরোসিন দিয়ে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। আগুন লাগানোর পর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে অপরাধীরা। বোরকা পরেই মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যান বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। ঘটনার পরে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে নূর উদ্দিন (২০) বাইরে বের হয়ে এসে ছাদে কেরোসিন ও ম্যাচ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান।

পাশাপাশি আগুনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। ঘটনার পর তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অসংলগ্ন উত্তরও দেন স্থানীয় অনেককে। এরপর থেকে গা ঢাকা দেন নুর উদ্দিন। ঘটনার দিন সকালে ও আগের দিন রাতে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকবার সন্দেহজনক ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে নুর উদ্দিনকে। মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দোলাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আগুনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। যৌন হয়রানির মামলায় সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে সংগ্রাম পরিষদও গড়ে তুলেছিলো নুর উদ্দিন। এছাড়া, ঘটনার আগের রাতে কেরোসিন ও ম্যাচ ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে বৈঠকও করা হয়েছে। মূলত পুরুষ অপরাধীরা ছদ্মবেশ নিতে বোরকা পরলেও পুরুষ হিসেবে শনাক্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে হাতমোজা ও চশমা পরেন। নুর উদ্দিন উচ্চতায় খুব লম্বা না হওয়ায় নারী হিসেবে ছদ্মবেশ নেয়ার সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি অজ্ঞাত তিনজনের বিষয়েও বিশদ জানা যেতে পারে বলে দাবি নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান সোহাগের।

২০১৭ সালে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাতকে চুনের পানি দিয়ে ঝলসে দেন শ্রমিক থেকে অধ্যক্ষের কাছের বনে যাওয়া নুর উদ্দিন। এছাড়া, মামলার আরেক আসামি শাহাদাত হোসেনও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে দাবি করেছেন নুসরাতের পরিবার। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনুমোদিত কোন কমিটি না থাকলেও শাহাদাত ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ ঘোষিত ছাত্রলীগ সভাপতি।

ঘটনার পর থেকে শাহাদাত হোসেনও পলাতক রয়েছে। ঘটনার দিন পরীক্ষার কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা থাকলেও এ দুজনের প্রবেশে বাধা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বোরকা পরা চারজনের সঙ্গে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতের যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা যখন-তখন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কক্ষে অবাধে যাতায়াত করতেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, ৫ এপ্রিল রাতে ও পরদিন সকালে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতকে মাদ্রাসার মূল ফটকে দেখা গেছে।

তবে ঘটনার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত একজন উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কেন্দ্রের মূল ফটক ছেড়ে সোনাগাজী জিরো পয়েন্ট এলাকায় সকালের নাশতা করতে যান বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুলিশ ঘটনার সময় সতর্ক অবস্থানে থাকলে কেউ এমন অপরাধ করে পালাতে পারতো না। দায়িত্বে অনেকটা গাফিলতি করায় আগুন লাগানোর পরও অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পেরেছে। একইভাবে ২৭ মার্চের ঘটনার পরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে এমনভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হতো না বলেও মন্তব্য ছিল প্রতিনিধি দলের।

তবে ঘটনার পর বোরকা পরে সন্দেহজনকভাবে কাউকে বের হতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সদস্যরা। সেক্ষেত্রে অপরাধীরা আগুন লাগানোর পর মাদ্রাসার ভেতরের কারো সহায়তা নিয়ে পোষাক বদল করে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে সহজে পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এজাহারভুক্ত চার জনসহ মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মূল কিলিংয়ে অংশ নেয়াদের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরো দুইজন গ্রেপ্তার

নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিনকে গতকাল ময়মনসিংহ থেকে ও মকসুদ আলম কাউন্সিলরকে বৃহস্পতিবার ঢাকার ফকিরাপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তবে মামলার অপর আসামি শাহাদাতকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নুসরাত অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম গা ঢাকা দেয়। শুরুর দিকে স্থানীয় পুলিশ এদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে বরং এটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বক্তব্য দিয়েছিল। সে সুযোগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ-প্রশাসনের গাফিলতি ছিল

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিষয়ক পরিচালক আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির বলেছেন, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড হলো সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সিরাজ উদ দৌলা। তার শুভাকাঙ্খী, সহযোগী ও দোসররা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ২৭ মার্চের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো। সেদিনের ঘটনার জেরেই ৬ এগ্রিলের ঘটনাটি ঘটেছে। নুসরাতের হত্যাকান্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

২৭ মার্চ ঘটনার পর যদি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন সক্রিয় থাকতো তাহলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সোহেল পারভেজ। নুসরাতের চাচা শামীম অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকে যৌন হয়রানী, চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে মানবধিকার কমিশনের কাছে জানান।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,১৩ এপ্রিল : চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেলার শীর্ষ মাদকব্যবসায়ী রুহুল আমীন (৪৮) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার উকতো গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শকসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, কয়েক রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে।

নিহত রুহুল আমীন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে জানা যায় একদল মাদক ব্যবসায়ী উকতো গ্রামের মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করবে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার একটি টহল দল ওই এলাকার একটি বাঁশ বাগানে অবস্থান নেয়। রাত দুইটার দিকে ৭/৮ জন মাদক ব্যবসায়ীর একটি দল মাথায় করে বস্তাভর্তি মাদক বহন করছে। এসময় তাদের চ্যালেঞ্জ করা হলে পুলিশের উপর অতর্কিত গুলি চালায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, নিজেদের রক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। প্রায় ১৫ মিনিট গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে মাদকব্যবসায়ীরা পিছু হটে। এসময় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রুহুল আমীন। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় মাদক ব্যবসায়দের গুলিতে আহত হয়েছেন উপ-পরিদর্শকসহ তিন পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, দু’টি ধারালো হাসুয়া ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) জানান, নিহত রুহুল জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৬টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

ব্রাহ্মবাড়িয়া প্রতিনিধি .১১ এপ্রিল : ব্রাহ্মবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারুক মিয়া (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফারুক ওই গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল স্কুল ছুটি হওয়ার পর ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ফারুক মিয়া তার দুই সহযোগী একই গ্রামের শাহরিয়া ও মিঠুর সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুক মিয়া ওই ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেন।

পরদিন ৮ এপ্রিল ফারুক ও তার সহযোগীরা চলন্ত অটোরিকশা থেকে ওই ছাত্রীকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যান। পরে ওই ছাত্রীর আর্তচিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে বাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় ৯ এপ্রিল ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কসবা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, গ্রেপ্তার ফারুক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাসেলকে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক ॥ বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার যে নির্দেশ হাই কোর্ট দিয়েছিল, তার মধ্যে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

বাকি ৪৫ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে রাসেলকে বুঝিয়ে দিতে গ্রীন লাইনের মালিককে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ। পা হারানো রাসেল ও গ্রীন লাইন পরিবহনের মালিক হাজী মো. আলাউদ্দিনের উপস্থিতিতে আদালত আজ বুধবার এই আদেশ দেয়। রাসেল সরকার এক সময় ছিলেন প্রাইভেট কারের চালক। গত বছর ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়।

তাকে বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছে চিকিৎসকরা। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পায়ের চিকিৎসার জন্যও গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।-

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

লাইফ সাপোর্টে রেখেই মাদ্রাসা ছাত্রীর অস্ত্রোপচার

ডেস্ক, ৯ এপ্রিলঃ নীর সোনাগাজীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর অস্ত্রোপচার হ‌য়ে‌ছে। আজ মঙ্গলবার এই অস্ত্রোপচার হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটির ফুসফুসকে স‌ক্রিয় করতে এই অস্ত্রোপচার করা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন চি‌কিৎস‌কেরা। তাঁরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে এই অস্ত্রোপচার হয়েছে। অস্ত্রোপচার শে‌ষে দুপু‌রের দি‌কে ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জের প‌রিচালক ব্রি‌গে‌ডিয়ার না‌সিরউদ্দীন এবং বার্ন ও প্লা‌স্টিক সার্জা‌রির বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম সাংবা‌দিক‌দের স‌ঙ্গে কথা ব‌লেন। মেয়েটিকে লাইফ সাপোর্টে রেখেই অস্ত্রোপচার করা হয় বলে জানান তিনি। ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জের প‌রিচালক না‌সিরউদ্দীন ব‌লেন, অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর শরী‌রে বেশ কিছু জ‌টিলতা দেখা দি‌য়ে‌ছে। রক্ত ও ফুসফুসে সংক্রমণ ছাড়াও তাঁর কিড‌নি‌তে কিছুটা সমস্যা দেখা দি‌য়ে‌ছে। মেয়েটিকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা কর‌ছেন তাঁরা । তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর জেনা‌রেল হাসপাতাল জা‌নি‌য়ে‌ছে রো‌গীর এখন যে অবস্থা তাতে এই মুহূ‌র্তে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য নি‌য়ে যাওয়া যা‌বে না। পরিচালক আরও ব‌লেন, ‘আমরা সবসময় প্রত্যাশা ক‌রি রো‌গী ফি‌রে আস‌বে। এক্ষে‌ত্রেও একই প্রত্যাশা ক‌রি। ‌এ রো‌গীর ক্ষে‌ত্রে বেশ কিছু জ‌টিলতা র‌য়ে‌ছে। ত‌বে অনেক কিছুই সম্ভব হয়, সৃ‌ষ্টিকর্তা সহায় থাক‌লে।’ তি‌নি দেশবাসী‌কে এই ছাত্রীর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার অনু‌রোধ জা‌নি‌য়ে‌ছেন। বার্ন ও প্লা‌স্টিক সার্জা‌রির বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম ব‌লেন, ফুসফুস‌কে স‌ক্রিয়তা দি‌তে যে অস্ত্রোপচার‌টি করা হ‌য়ে‌ছে, সে‌টি গতকালই করার কথা ছিল। কিন্তু রো‌গীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁরা আর অস্ত্রোপচা‌রে যান‌নি। আজ রো‌গী কিছুটা ভাল। সিঙ্গাপু‌রের চি‌কিৎসক‌দের পরাম‌র্শে তাঁরা অস্ত্রোপচার‌টি ক‌রে‌ছেন। তিন‌ি আরও জানান, পূর্ব‌নির্ধা‌রিত এক‌টি কর্মসূ‌চির অংশ হি‌সে‌বে সিঙ্গাপুর জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের চি‌কিৎসক‌দের ঢাকায় আসার কথা র‌য়ে‌ছে ১৪ এপ্রিল। তাঁরা এসে রো‌গী দেখ‌বেন। তাছাড়া সার্বক্ষ‌ণিক যোগা‌যোগ র‌য়ে‌ছে।

সুত্র ঃ প্রথম আল‌ো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর করিমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি বাবদ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

জানা গেছে, গোপালপুর করিমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত শনিবার থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়। ৫০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। ৫০ নম্বরের এই পরীক্ষায় এই ফি নেয়ায় অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিভাবক হায়দার হাওলাদার বলেন, উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দু’টি পরীক্ষা হয়। কিন্তু সরকারের এই নির্দেশনা অমান্য করে আমাদের বিদ্যালয়ে মডেল টেস্ট নাম দিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এই পরীক্ষায় ৩৩৮ জন ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষক হাতিয়ে নিয়েছেন। আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গরীব। এদের অনেকের এই টাকা দিতে কষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে আমি ছাত্র-ছাত্রীদের এই মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু করেছি। আমি পরীক্ষার ফির কোন অর্থ আত্মসাৎ করিনি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহবুব দিপু, মুকুল হাওলাদার, আবু সাইদ সিকদার বলেন, মডেল টেস্ট পরীক্ষার ব্যাপারে কমিটিতে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধান শিক্ষক তার একক সিদ্ধান্তে এই পরীক্ষা নিচ্ছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি কোন বিধান নেই। এই মডেল টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক যদি কোন অর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সেই খাদিজা


ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্বৃত্তের হামলায় আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সেই ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস (২৫) ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোসহ সবকিছুই নিজের মতো করে করতে পারছেন তিনি। দুই মাস আগে তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষাও দিয়েছেন, অপেক্ষা করছেন ফলের জন্য। তবে সবকিছুর পাশাপাশি চলছে চিকিৎসাও।

সোমবার (৮ এপ্রিল) খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের মেয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবকিছুই সে নিজের মতো করতে পারছে। প্রায় দুই মাস আগে খাদিজা ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষাও দিয়েছে। পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। এখন ফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। জীবনযুদ্ধে খাদিজা এতটাই এগিয়েছে, আমরা আশাবাদী, সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে।’

আবদুল কুদ্দুস জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে তার। সে এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে, তা একটু নিয়মের ভেতরে। অবসরে খাদিজা পরিবারকেও সময় দেয়। খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া ও তার বড় ভাই শাহীন আহমদ প্রবাসে। তারা প্রতিদিন খাদিজার সঙ্গে কথা বলেন, তার খোঁজখবর নেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর খাদিজা ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে বদরুল আলম নামের একজনের অতর্কিত চাপাতি হামলার শিকার হন। এরপর এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় বদরুলকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস। হামলার পাঁচ মাস পাঁচ দিন পর, ২০১৭ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রায় দেন সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক আকবর হোসেন মৃধা। রায়ে বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে খাদিজাসহ ৩৪ জন সাক্ষ্য দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছিলেন, খাদিজা অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া কিংবদন্তি নারী। মৃত্যুর কাছে হার না মানা খাদিজা বিজয়িনী, প্রতিবাদকারী। তখন বিচারক বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আসামির ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হাজার হাজার বদরুল ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং আমাদের নারী সমাজ সুরক্ষিত হবে।’

রায়ে আদালত আরও বলেন, ‘প্রেমের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা থাকতেই পারে। কিন্তু, তার জন্য এ ধরনের নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কাম্য হতে পারে না।’

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। ওই বছরের ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার এসআই (সাবেক) হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট গৃহীত হয়। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। ১৫ ডিসেম্বর বদরুলকে সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করা হয়। এদিন সাক্ষ্য দেন স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এএম রেজাউস সাত্তার। ১১ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষী দেন নার্গিসের মা-বাবা, বদরুলের জবানবন্দি গ্রহণকারী বিচারক ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৫ জন।
এর আগে ৫ ডিসেম্বর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার ১৭ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সবশেষে ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আদালতে সাক্ষ্য দেন খাদিজা। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলাটি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন ছিল। গত ১ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে নেওয়া হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter