ক্যাম্পাস

প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে অনশনে ঢাবি ছাত্র

ডেস্ক: ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তিপ্রক্রিয়া বাতিলসহ চারটি দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আখতার হোসেন অনশনে বসেছেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তার এই অনশন শুরু হয়।

আমরণ অনশনে বসার কারণ হিসেবে আখতার জানান, ভর্তি-ইচ্ছুক ১৩ জন ছাত্রকে তিনি পড়াতেন। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ছাত্রদের একজনের প্রশ্ন ছিল, ‘স্যার, আমরা এত পড়াশোনা করলাম, কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় আমরা কি চান্স পাব? তাহলে কি আমরা দুর্নীতির কাছে হেরে গেলাম?’

ছাত্রের এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারাই ২০১৫-১৬ সেশনে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪তম হওয়া আখতার হোসেন আমরণ অনশনে বসেন।

প্রশ্ন ফাঁস: ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ফল স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৫ অক্টোবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফল প্রকাশ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্য দপ্তরের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসারের পাঠানো ভুল তথ্যের জন্য ‘মঙ্গলবার ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে’ মর্মে সোমবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। কিন্তু উপাচার্যের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফল প্রকাশের বিষয়ে যথাসময়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এদিকে ‘ঘ’ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগের দিন রাতে ফাঁস হয়েছে বলে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করা এক এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সকাল পর্যন্ত সেটি বিক্রি হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম কামরুল হাসান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২২(২), ৩৩(২) ধারা সহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ১৩/৪ ধারায় এ মামলা করেন।

ওই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, জাহিদুল ইসলাম (৪৫), ইনসান আলী ওরফে রকি (১৯), মো. মোস্তাকিম হোসেন (২০), মো: সাদমান সালিদ (২১), মো. তানভীর আহমেদ (২১), মো. আবু তালেব (১৯)। সবাই বগুড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তারা রিমান্ডে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার মধ্যেরাত থেকে পরীক্ষার দিন সকাল পর্যন্ত বগুড়ার রাহেমা কোচিং সেন্টারের সাব্বির ও গুগল এডমিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের লিমন ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে এবং পরে তিন লাখ টাকায় তা বিক্রি করা হয়।

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৭ শতাংশ

ঢাবি প্রতিনিধি,৩ অক্টোবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ ফেল করেছে। পাস করেছে ১৩ শতাংশ। ঢাবির উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।

পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল এবং ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (admission.eis.du.ac.bd) জানা যাবে। এ ছাড়া DU KA ও রোল নম্বর লিখে ১৬৩২১ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবেন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১ হাজার ৭৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ হাজার ১১৭। যা শতকরা হারে ১৩ দশমিক ০৪ ভাগ। এ বছর ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৯৬ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭ হাজার ৫৭২ শিক্ষার্থী।

পাসকৃত সকল শিক্ষার্থীকে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে বিস্তারিত এবং বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৮ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস হতে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করে ডিন অফিসে জমা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফল নিরীক্ষণের জন্য ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ৪ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ১ হাজার ৭৫০টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৯৬ জন।

যৌন নিপীড়ন বাধ্যতামূলক অবসরে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক |

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনের হাতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হন ওই বিভাগের তিন নারী শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে ওই তিন নারী শিক্ষক গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। দুই মেয়াদের পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

পরে গত ২২ সেপ্টেম্বরর সিন্ডিকেট সভায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক রুহুল আমিনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে অভিযোগ দেয়ার পর সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, ওই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হককে প্রধান করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম জাকির হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়াকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়ে ৮ কর্ম দিবসের সময় চেয়ে নেয় কমিটি।

সিলগালা করে রাখা তদন্ত প্রতিবেদনটি ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৬১তম সভায় খুলে দেখা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষক রুহুল আমিন অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী নৈতিক স্থলনের দায়ে ওই শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে শিক্ষক রুহুল আমিনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় সিন্ডিকেট বোর্ড।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবির জানান, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ওই শিক্ষককে অবগত করার জন্য বৃহস্পতিবার চিঠি ইস্যু করা হয়েছে

৬০ বছর বয়স হলেই দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বয়স ৬০ বছর হলেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে প্রধান শিক্ষকদের বাড়ী চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাবোর্ড। কোনও অজুহাতেই চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই। অনেক প্রধান শিক্ষক ৬০ বছর পূর্ণ হলেও দায়িত্ব হস্তান্তর করার মতো যোগ্য শিক্ষক খুঁজে না পাওয়ার অজুহাতে আরো কিছুদিন পদে আকড়ে থাকেন। তাদের জন্য রয়েছে বোর্ডের কড়া নির্দেশ।

ঢাকা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত ২৯ জুলাইয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে,“প্রধান শিক্ষকদের চাকুরীর মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হলে, সহকারি প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারি প্রধান শিক্ষক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের নিকট প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সেটি বিধিবর্হিভূত হিসেবে গণ্য হবে।”

এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০১৮ এর আলোকে শিক্ষাবোর্ড বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে চিঠির কপি পাঠিয়েছে।

যথেষ্ট হয়েছে, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও।’

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ আগষ্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘দুই সহপাঠী হারিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তা যৌক্তিক। কিন্তু এ কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। তা ছাড়া কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা (সাবোটাজ) ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমার অনুরোধ, যথেষ্ট হয়েছে, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও।’

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিও আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সাবোটাজ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আন্দোলন নিয়ে সুবিধাবাদীরা ষড়যন্ত্র করতে পারে। যদি কিছু ঘটে, তবে নিরাপত্তাবাহিনী এর দায় নিতে পারবে না। কেননা তারা দূরে দূরে থাকছে। এ কারণে কোনো একটা কিছু ঘটলে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়কে যে কাজ করছে, সেটা তাদের কাজ নয়। তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এটা করছে। তাই বলব, তোমাদের কাছে অনুরোধ করব, যথেষ্ট হয়েছে, এখন ফিরে যাও, যার যে কাজ তাকে সেই কাজ করতে দাও।’

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজধানী অচল হয়ে পড়েছে। গাড়ি চলছে না। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ভয়ে মালিকেরা গাড়ি বের করছেন না। ফলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ চলছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ, যেহেতু দাবি মানা হয়েছে এবং কিছু দাবি মানা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তাই তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও। কেননা তোমাদের এ আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা হতে পারে, সাবোটাজ হতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা দেখেছেন, আন্দোলনের মধ্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, কাফরুল থানায়, মিরপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০১৩ সালের ছবি পোস্ট করে বলছে পুলিশ শিক্ষার্থীদের মারধর করছে। এর পেছনে অনেকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও অভিলাষ রয়েছে।

ঢাবি বাসের ব্রেক ফেল, আহত ৩

ঢাবি প্রতিনিধি:  বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের বহন করা একটি বাস ব্রেক ফেল করে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বাসটি ওই সময় বাম পাশে হেলে গিয়ে ফ্লাইওভারের পাশে লাগানো লোহার জালে ধাক্কা খায়। দরজা-জানালায় ঝুলে থাকা ছাত্রদের তিনজন এ সময় বাস থেকে ছিটকে পড়েন। এতে একজনের মাথা ফেটে গেছে, দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তিন শিক্ষার্থী হলেন ফলিত রসায়ন বিভাগের মো. জাওয়াদ, তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের আমিনুল ইসলাম ও ফলিত গণিত বিভাগের আজিজুর রহমান। তাঁদের মধ্যে জাওয়াদের মাথা ফেটে গেছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘ইন্দ্রাকপুর’ নামের বাসটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুন্সিগঞ্জে যাতায়াত করে। ওই বাসে থাকা এক ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, অন্যদিনের তুলনায় আজ বাসে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ছিলেন। অনেকেই বাসের দরজায় ঝুলে ছিলেন, জানালার পাশে বসে ছিলেন। হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় একজন নামতে চাইলেও বাস দাঁড়াচ্ছিল না। বাসের চালক ‘ব্রেক ফেল’ হয়েছে বলতে থাকেন। এতে ঝুলে থাকা শিক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করে ভেতরে ঢুকতে চান। এ সময় বাসটি বাম পাশে কাত হয়ে ফ্লাইওভারের দেয়ালে বসানো লোহার খাঁচার সঙ্গে ধাক্কা খায়। ফলে দরজা-জানালায় ঝুলতে থাকা তিন-চারজন নিচে পড়ে যান। এর পরপরই চালক বাসটি থামাতে সক্ষম হন।

বাসের চালক রেজাউলের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাপক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ থেকে আসার পথে শনির আখড়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা বিআরটিসির কয়েকটি বাস চলমান আন্দোলনে আটকে যায়। ফলে সামনে থাকা এই বাসটিতে প্রায় তিন গাড়ির যাত্রী ছিল। বাসের দরজা-জানালায় অনেকেই ঝুলে ছিল। একপর্যায়ে ব্রেক ফেল করায় বাসটি একদিকে হেলে যায় বলে চালক ও সহকারীর ভাষ্য। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা আবদুল হালিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ  বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা। আমরা আহতদের খোঁজ নিয়েছি। তাঁরা শঙ্কামুক্ত। তারপরও এখানে কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে বাসের সংখ্যা কম হওয়াটা আমাদের মূল সমস্যা। শিক্ষার্থীরা বাদুড়ঝোলা হয়ে যাতায়াত করে। সেগুলোর সমাধান কীভাবে করা যায় আমরা দেখছি।’

প্রাথমিকসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১্আগষ্ট:  দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিছুক্ষণের মধ্যে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী শোকার্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শোক সংবরণ করে শান্ত থাকতে এবং ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষা পরিবারের সবাই শোকার্ত।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত আছে।
সভায় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যদের শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ভূমিকা রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ২০ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ জুলাই, ২০১৮: ১৯ জুলাই এইচএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে । ২০ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। আবেদনের শেষ সময় ২৬ জুলাই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার  এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে মুঠোফোন থেকে টেলিটক প্রিপেইড সিম ব্যবহার করে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে SMS  করতে হবে। যেমন RSCDha123456101 SMS করুন ১৬২২২।

ফিরতি SMS  এ একটি PIN নম্বর দেওয়া হবে। এরপর মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে দিয়ে YES লিখে দিয়ে PIN নম্বর লিখে দিয়ে যোগাযোগের জন্য যেকোন অপারেটরের মোবাইল নম্বর দিয়ে SMS  করতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। যেমন RSCYESPIN নম্বর মোবাইল নম্বর।

একই SMS এর মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের ও পত্রের আবেদন করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে Subject code পর্যায়ক্রমে কমা দিয়ে লিখতে হবে। যেমন 101,102,107,109।

পত্র প্রতি ফল পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে ঢাকা বোর্ড।

কিভাবে বাড়ল মাদ্রাসা বোর্ডের রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৯ জুলাই: মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। তবে জিপিএ-৫ কমেছে। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ। গতবারের চেয়ে বেড়েছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৪৪ জন শিক্ষার্থী। গতবার জিপিএ-৫ পয়েছিল ১ হাজার ৮১৫ জন। জিপিএ-৫ কমেছে ৫৭১টি।

মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী দিয়েছিল ১ লাখ ১২৭ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছে ৭৬ হাজার ৯৩২ জন

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তর করা হয়।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এরপর দুপুর ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেবেন।

দুপুর দেড়টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট    http://(http://www.educationboard.gov.bd)      থেকে ফল জানতে পারবে।

এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে।

এবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৮ দিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১২৭ জন।

কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ পরীক্ষার্থী ছিল।

যেভাবে জানা যাবে ফল

আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির ফল জানাতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

আলিমের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে।

এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ বছর বিজ্ঞানে ফল ভালো : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এ বছর এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ফল আগের বছরের তুলনায় অনেক ভালো। এ বছর এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। গেল বছরের চেয়ে এবছর বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ হাজার ৫৫১ জন পরীক্ষার্থী বেশি অংশগ্রহণ করেছে। এবছর বেশি পাস করেছে ১০ হাজার ৮৫৫ জন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিদেশ কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৮৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬৩ জন। ফেল করেছে ১৭জন। বিদেশে শতভাগ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১টি। সেখানে কেন্দ্র সংখ্যা ছিল ৭টি।

মন্ত্রী বলেন, এ বছর পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ২০ হাজার ৯৮৬ জন। গেল বছরের চেয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৫.৮৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ কমেছে ২১৩ জন।

তিন শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক বহিস্কার

জাককানইবি প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেছেন একই বিভাগের তিন নারী শিক্ষক।

ওই শিক্ষকের আচরণের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তার সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকেও বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সমালোচনার পর বুধবার দুপুরে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নাট্যকলা বিভাগের এক নারী শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি (রুহুল আমিন) আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তার অঙ্গভঙ্গিও নোংরা। প্রায় দেড় মাস আগে আমরা রেজাল্টের কাজ করছিলাম। তিনি (রুহুল আমিন) নম্বর বলছিলেন, আমি পোস্টিং দিচ্ছিলাম। তখন একজন ডেমনোস্ট্রেটরও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ তিনি আমার চুল ছুঁয়ে বলেন, ম্যাডাম চুলগুলো অনেক সুন্দর। তাৎক্ষণিক আমি তাকে সাবধান করি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে একাডেমিক সভা শেষে পরীক্ষা কমিটির কাজ করার সময় শিক্ষক রুহুল আমিন আমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে টিপ্পনি কাটেন। আমি সবার সামনেই এই ঘটনার প্রতিবাদ করি। তিনি ক্ষমা চান। এর কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষক বিষয়টি আপোস-মিমাংসা করতে এসে আমাকে বলেন, ‘আমি রিয়েলি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। এজন্যই বারবার এমন হয়ে যায়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় আমার ছবি এডিট করে কুরুচিপূর্ণভাবে পাঠান এবং অশ্লীল কথাবার্তা টেক্সট করেন।

তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গেও তিনি একই রকম কান্ড ঘটানোর পর আমরা তিন নারী শিক্ষক তার বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে মঙ্গলবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিনের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তিন নারী শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. হুমায়ুন কবির বলেন, তদন্তর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী স্থায়ীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও পতাকা মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক,১ জুলাই: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আগামীকাল সোমবার (২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও পতাকা মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া,  কোটা বিষয়ক প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

রবিবার বিকালে রাজধানীর পরীবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর নাহার নীলা ও শফিউল আলম।

লুৎফর নাহার নীলা বলেন, শনিবার ও রবিবার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। রাশেদসহ আমাদের তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল দশটায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও পতাকা মিছিল করা হবে। রাশেদসহ সবাইকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। নুরসহ যাদের মারধর করা হয়েছে তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করলে আমরা এ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াব। আর য‌দি প্রজ্ঞাপন জা‌রি করা না হয় তাহ‌লে পরবর্তী‌তে আরও কঠোর কর্মসূ‌চি দেওয়া হবে।

পুলিশি পাহারায় শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক,৩ জুন:

কঠোর নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের চাপ এবং সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে জিরো টলারেন্স জারি করেছে।

রোববার ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল মিটিং, বহিরাগতের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বিহীন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগ ও আইসিটি সেলে মোট ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড শুরু হয়।

এদিকে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা তাদের চাকরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হতে দেবে না বলে ঘোষণা দেন। একই দাবিতে শনিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় ক্যাম্পাসে ইবি থানা ও কুষ্টিয়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ অ্যাকশনে যাবার প্রস্তুতি নিলে সকাল ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যায় চাকরি প্রত্যাশীরা। এর আগে গত ৭ মে চাকরি প্রত্যাশীদের বাধার মুখে ওই বিভাগগুলোর নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগে ৩১ জন শিক্ষক এবং আইটি সেলে ৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ড শুরু হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের  ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড শুরু হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ৩১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত এ নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে।

 

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, ‘নিয়োগ বোর্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান জানান, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। নিয়োগ বোর্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’

কোচিং ফির শীর্ষে ইউসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা হয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু! এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি। অনেকে ভর্তিও হয়ে গেছেন বিভিন্ন কোচিংয়ে। এ সুযোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সেখানে আরও লাগাম ছাড়া ইউনিভার্সিটি কোচিং সেন্টার (ইউসিসি)।

 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফি নিচ্ছে ইউসিসি। বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতিসহ না অভিযোগ থাকলেও প্রাচীন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে কোচিং সেন্টারটি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অর্থাৎ গ ইউনিটে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউসিসি নিচ্ছে ১৭ হাজার টাকা, ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার টাকা, প্যারাগন কোচিং সেন্টারে ১৬ হাজার টাকা, সাইফুরস’ কোচিং সেন্টারে ১৪ হাজার টাকা এবং আইকন কোচিং সেন্টার নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা।ইউসিসির কোচিং ফিকলা কিংবা মানবিকী অনুষদে খ ইউনিটের জন্য ইউসিসি নিচ্ছে ১৫ হাজার টাকা, ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার টাকা, প্যারাগন কোচিং সেন্টারে ১৩ হাজার টাকা, সাইফুরস’ কোচিং সেন্টারে ১২ হাজার টাকা। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের জন্য ১৬ হাজার টাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি করছে ইউসিসি। আর ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার, প্যারাগন কোচিং সেন্টার ১৪ হাজার এবং সাইফুরস’ কোচিং সেন্টার নিচ্ছে ১৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে এই তিনটি বিভাগের সঙ্গে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিট যোগ করে ২০ হাজারের বেশি কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘গ’ ইউনিট, ‘ঘ’ ইউনিট ও ‘ক’ ইউনিট এবং ‘ঘ’ ইউনিট যোগ করে ইউসিসি নিচ্ছে ২৬ হাজার টাকা করে। যা প্যারাগনে ২৩ হাজার ও ১৯ হাজার এবং সাইফুরস’ নিচ্ছে ১৮ হাজার টাকা করে।

শুধু কোচিং ফি বেশি রাখা নয়,  ইউসিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকারও। এ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি জালিয়াতি করে মেধা তলিকায় প্রথম সারিতে থাকা অভিযুক্তদের অধিকাংশই ইউসিসি থেকে কোচিং করা। যাদের ছবি ইউসিসি প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্টারেও রয়েছে।

ফার্মগেটে ইউসিসি কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিকের ব্যাচগুলোতে ভর্তি হতে দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আসছেন। কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন, প্রসপেক্টাস দেখছেন তারা। ফি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে নানা অফারের কথাও বলছেন কোচিং সেন্টারে কর্মরতরা।

কোর্স ফি বেশি দেখে ভর্তি হননি কিশোরগঞ্জ থেকে আসা সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া আবু নাঈম। জানতে চাইলে  তিনি বলেন, ফার্মগেটে এসে যত কোচিংয়ে গেলাম সবচেয়ে বেশি টাকা রাখছে ইউসিসি। কোথায় ভর্তি হবো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসিসির পরিচালক কামাল উদ্দীন পাটোয়ারী  বলেন, একেক কোচিংয়ে একেক রকম ফি। আমাদের এই ফি বেশি নয়। এখন গ্যাস-বাসা ভাড়া সবকিছুই বেশি। এসব বিষয় সমন্বয় করেই এই নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে গত ২৬ ডিসেম্বর অবৈধভাবে পোস্টার লাগানোর দায়ে ইউসিসিসহ ছয় কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরপরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার পোস্টার টানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে কোচিং সেন্টারটি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই বাতিল হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্তদের ছবি ছাপিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কোচিং করেছিল বলেও প্রচারণা করেছে ইউসিসি। ব্যবসার জন্যেই কোচিং সেন্টারটি এ ধরনের কাজ করছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে কামাল পাটোয়ারী বলেন, একজন ছাত্র একাধিক জায়গায় কোচিং করতে পারে। একদিনও কোচিং করে থাকে অনেকে। আমাদের ছাত্রদেরই ছবি ছাপানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগটি প্রমাণ হয়নি বলে দাবি করেন কোচিং সেন্টারটির পরিচালক।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter