ক্যাম্পাস

পুলিশি পাহারায় শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক,৩ জুন:

কঠোর নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের চাপ এবং সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে জিরো টলারেন্স জারি করেছে।

রোববার ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল মিটিং, বহিরাগতের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বিহীন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগ ও আইসিটি সেলে মোট ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড শুরু হয়।

এদিকে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা তাদের চাকরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হতে দেবে না বলে ঘোষণা দেন। একই দাবিতে শনিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় ক্যাম্পাসে ইবি থানা ও কুষ্টিয়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ অ্যাকশনে যাবার প্রস্তুতি নিলে সকাল ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যায় চাকরি প্রত্যাশীরা। এর আগে গত ৭ মে চাকরি প্রত্যাশীদের বাধার মুখে ওই বিভাগগুলোর নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগে ৩১ জন শিক্ষক এবং আইটি সেলে ৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ড শুরু হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের  ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড শুরু হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ৩১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত এ নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে।

 

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, ‘নিয়োগ বোর্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান জানান, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। নিয়োগ বোর্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোচিং ফির শীর্ষে ইউসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা হয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু! এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি। অনেকে ভর্তিও হয়ে গেছেন বিভিন্ন কোচিংয়ে। এ সুযোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সেখানে আরও লাগাম ছাড়া ইউনিভার্সিটি কোচিং সেন্টার (ইউসিসি)।

 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফি নিচ্ছে ইউসিসি। বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতিসহ না অভিযোগ থাকলেও প্রাচীন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে কোচিং সেন্টারটি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অর্থাৎ গ ইউনিটে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউসিসি নিচ্ছে ১৭ হাজার টাকা, ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার টাকা, প্যারাগন কোচিং সেন্টারে ১৬ হাজার টাকা, সাইফুরস’ কোচিং সেন্টারে ১৪ হাজার টাকা এবং আইকন কোচিং সেন্টার নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা।ইউসিসির কোচিং ফিকলা কিংবা মানবিকী অনুষদে খ ইউনিটের জন্য ইউসিসি নিচ্ছে ১৫ হাজার টাকা, ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার টাকা, প্যারাগন কোচিং সেন্টারে ১৩ হাজার টাকা, সাইফুরস’ কোচিং সেন্টারে ১২ হাজার টাকা। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের জন্য ১৬ হাজার টাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি করছে ইউসিসি। আর ইউনিএইড সাড়ে ১৩ হাজার, প্যারাগন কোচিং সেন্টার ১৪ হাজার এবং সাইফুরস’ কোচিং সেন্টার নিচ্ছে ১৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে এই তিনটি বিভাগের সঙ্গে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিট যোগ করে ২০ হাজারের বেশি কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘গ’ ইউনিট, ‘ঘ’ ইউনিট ও ‘ক’ ইউনিট এবং ‘ঘ’ ইউনিট যোগ করে ইউসিসি নিচ্ছে ২৬ হাজার টাকা করে। যা প্যারাগনে ২৩ হাজার ও ১৯ হাজার এবং সাইফুরস’ নিচ্ছে ১৮ হাজার টাকা করে।

শুধু কোচিং ফি বেশি রাখা নয়,  ইউসিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকারও। এ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি জালিয়াতি করে মেধা তলিকায় প্রথম সারিতে থাকা অভিযুক্তদের অধিকাংশই ইউসিসি থেকে কোচিং করা। যাদের ছবি ইউসিসি প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্টারেও রয়েছে।

ফার্মগেটে ইউসিসি কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিকের ব্যাচগুলোতে ভর্তি হতে দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আসছেন। কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন, প্রসপেক্টাস দেখছেন তারা। ফি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে নানা অফারের কথাও বলছেন কোচিং সেন্টারে কর্মরতরা।

কোর্স ফি বেশি দেখে ভর্তি হননি কিশোরগঞ্জ থেকে আসা সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া আবু নাঈম। জানতে চাইলে  তিনি বলেন, ফার্মগেটে এসে যত কোচিংয়ে গেলাম সবচেয়ে বেশি টাকা রাখছে ইউসিসি। কোথায় ভর্তি হবো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসিসির পরিচালক কামাল উদ্দীন পাটোয়ারী  বলেন, একেক কোচিংয়ে একেক রকম ফি। আমাদের এই ফি বেশি নয়। এখন গ্যাস-বাসা ভাড়া সবকিছুই বেশি। এসব বিষয় সমন্বয় করেই এই নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে গত ২৬ ডিসেম্বর অবৈধভাবে পোস্টার লাগানোর দায়ে ইউসিসিসহ ছয় কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরপরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার পোস্টার টানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে কোচিং সেন্টারটি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই বাতিল হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্তদের ছবি ছাপিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কোচিং করেছিল বলেও প্রচারণা করেছে ইউসিসি। ব্যবসার জন্যেই কোচিং সেন্টারটি এ ধরনের কাজ করছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে কামাল পাটোয়ারী বলেন, একজন ছাত্র একাধিক জায়গায় কোচিং করতে পারে। একদিনও কোচিং করে থাকে অনেকে। আমাদের ছাত্রদেরই ছবি ছাপানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগটি প্রমাণ হয়নি বলে দাবি করেন কোচিং সেন্টারটির পরিচালক।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবির উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক সামাদ

ডেস্ক,২৭মেঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ লাভ করলেন প্রতিষ্ঠানটির সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

আজ রবিবার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডিগ্রি পাস ১ম বর্ষ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি

ডেস্ক,২৭মেঃ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুন হতে ৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন ১:৩০টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

 

পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এসব পরীক্ষা আগামী ২ জুন হতে ১৩ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশতঃ সময়সূচীসমূহ পরিবর্তন করা হয়েছে।

 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd থেকে জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মাস্টার্সে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ ১০ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামের ভর্তি কার্যক্রমে রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা ১০ মে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে।

ওই ফল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে SMS-এর মাধ্যমে nuatmfroll লিখে 16222 নম্বরে Send করে এবং রাত ৯টায় ওয়েবসাইট (www. admissions.nu.edu.bd) থেকে ফল পাওয়া যাবে।

বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.edu.bd অথবা www.nubd.info) থেকে জানা যাবে।

মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক পরীক্ষার খাতা নিয়ে হলে, ছাত্ররা আসেনি

জবি প্রতিনিধি: পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই মোতাবেক পরীক্ষার হলে শিক্ষক উত্তরপত্র নিয়ে উপস্থিত হলেও শিক্ষার্থীরা প্রবেশ না করার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগে।

আজ সোমবার সকালে ওই বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একটি কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। তারা একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির আহমেদকে চাকরীচ্যুত করার প্রতিবাদে এই পরীক্ষা বর্জন করেছে। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার খবর পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে নাসির আহমেদকে স্বপদে বহালের দাবিতে মিছিল করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এদিকে ইংরেজি বিভাগসহ বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান পরীক্ষা বর্জন করে কলা ভবন চত্বরে অবস্থান নিয়েছে। এ বিক্ষোভের ফলে কলা ভবনের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চবি ক্যাম্পাস ও ট্রেনে স্থানীয়দের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

চবি করেসপন্ডেন্ট: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় গ্রামবাসীদের অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলছে। ক্যাম্পাসে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, মারধর, ছিনতাই, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা তাদের রুটিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ শনিবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের একটি পুকুর ঘাট থেকে দর্শন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাজ্জাদ হোসেন শাওন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে তার মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এঘটনায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। এর জের ধরে শিক্ষার্থীরা প্রায় ২০ মিনিট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে দেয় এবং শাটল ট্রেন অবরোধ করে রাখে। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু গত দুই মাসে এ ধরনের হামলা, ছিনতাই, চুরির ঘটনা অন্তত ১০টি ঘটেছে। গত ২৪ এপ্রিল কলা অনুষদের একটি টয়লেট থেকে বাংলা বিভাগের শারমিন নামের এক মেয়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল চুরি হয়। গত ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের পাশে আনিস ফটোকপি নামক একটি দোকান থেকে নাহিদা আক্তার নামের এক মেয়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল চুরি হয়। এসময় তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বহিরাগত নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন। ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেইট এলাকায় আরাফাত কটেজ নামক একটি কটেজ থেকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মিজানুর রহমান টিটু নামের এক শিক্ষার্থীর রুম থেকে মোবাইল, টেবিল ফ্যান, পাওয়ার ব্যাংক, মোবাইলের চার্জার, চার্জার লাইট এবং তার পাশের রুম থেকে আর পাশের রুম থেকে ক্যাশ ৩ হাজার টাকা, একটা মোবাইল সেট চুরি হয়। ওই মোবাইলের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা ছিল।

এ ঘটনার কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দোকানের সামনে সাদাফ নামের আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বেদড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জড়িত বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এসব ঘটনার কথা প্রশাসনকে জানালে তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। ফলে এসব ঘটনা বেড়েই চলছে। আমরা ক্যাম্পাসে স্থানীয় ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ করা বন্ধ চাই।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনেও স্থানীয় ও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বেশ লক্ষণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ট্রেনের মধ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীরা প্রভাব খাটিয়ে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী তুলনায় বগি ও আসন সংখ্যা অপ্রতুল হলেও স্থানীয় ও বহিরাগতরা শাটলের সিটে বসে যাতায়ত করে। এসময় তারা বড় বড় বস্তা, লাকড়ি, টিন ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন ভারী জিনিসপত্রও নিয়ে ট্রেনে বহন করে।

এবিষয়ে আরবি বিভাগের ১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শাফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘চবির শিক্ষার্থী হিসেবে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের নিজদের শাটলে বহিরাগত কর্তৃক হয়রানির শিকার হতে হয়। আমরা আমাদের নিরাপত্তার জন্য শাটলে পর্যাপ্ত পুলিশ চাই।’

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র  বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে মোটরবাইক, বিনা প্রয়োজনে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এদের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে থাকি। পুলিশ ফাঁড়ি, আমাদের নিরাপত্তা দপ্তরের নিরাপত্তা রক্ষীরা সব সময় থাকে, এরপরও আমরা কঠোর অবস্থানে যাবো।’

এসময় তিনি সন্ধ্যার পরে নির্জন এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সীমানা প্রাচীরের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। যার কারণে ১৭৫৪ একরের পাহাড় ও সমতলের বিশাল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফাক-ফোকর দিয়ে আশপাশের মাঠে যারা কাজ করে তারা অথবা বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ঘাপটি মেরে থাকে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাবিতে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের ভিসি কার্যালয় ঘেরাও

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী আওয়ামী পন্থী শিক্ষকরা।

গত ১৭ এপ্রিল আওয়ামী পন্থীদের আরেক পক্ষ উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় ‘লাঞ্ছনার’ বিচারসহ চারদফা দাবিতে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

শিক্ষকদের উপর হামলা, অবৈধভাবে ডিন-প্রভোস্ট অপসারণ ও নিয়োগের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে উপাচার্য প্যানেল ও জাকসু নির্বাচনসহ একাধিক দবিতে সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য অফিস ঘেরাও করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। দুপুর একটা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।

কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমরা বরাবর চেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে অধ্যাদেশ অনুসারে গণতান্ত্রিক পন্থায়। কিন্তু ন্যায্য এ দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে গেলে তারা আমাদের লাঞ্ছিত করেন।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখেননি। তারা থেকে থেকে শিক্ষার্থী-প্রশাসনকে জিম্মি করছেন। আমি আহ্বান জানাই তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলের জন্য ধর্মঘট, ঘেরাও এসব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবহন ডিপোতে তালা দিতে গেলে উপাচার্য সমর্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি এ ঘটনায় তাদের ৬ শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত : প্রজ্ঞাপন দাবি

ডেস্ক,১২ এপ্রিল : জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের ঘোষণার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে কোটা বাতিলের ঘোষণা আইন আকারে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন তা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবেন। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, সারাদেশে কোটা সংস্কারের দাবি প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলন করতে গিয়ে নানা ঘটনা জন্ম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আমরা আস্থা রাখছি। তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন তা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে বলে আশা করছি।

হাসান আল মামুন আরও বলেন, পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশে যেসব আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভাই-বোনকে আটক করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দিতে হবে। যারা আহত হয়েছেন তাদের সরকারি খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দুই মাস ধরে চলা আন্দোলন সফল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের ‘হামলার’ জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানোসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে বাস্তবায়ন, আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, মামলা প্রত্যাহার, কোনো প্রকার হয়রানি না করা।

এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, সংহতি জানানো শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

ভিডিও দেখুন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটাব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এস দাস : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বর্তমান কোটাব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

কোটব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। সর্বশেষ রোববার তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। গভীর রাত পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে।

কোটা সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোটা নিয়ে আসলে তো কোনো সমস্যা নেই। এখন যে কোটাব্যবস্থা এক্সিসটিং (বহাল) রয়েছে সেখানে মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা ৫ শতাংশ, ক্ষেত্রবিশেষে জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধা বা অন্যান্য কোটাগুলো যদি পূরণ করা সম্ভব না হয় তবে তা মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হবে। সেটা পূরণ করা হয়েছে।’

৩৩তম বিসিএসে মেধাকোটায় পূর্ণ হয়েছে ৭৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩৫তম বিসিএসে ৬৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ মেধা তালিকা থেকে এসেছে। ৩৬তম বিসিএসে ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ মেধাকোটায় নিয়োগ পেয়েছেন বলেও জানান শফিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘কোটার মাধ্যমে মেধা অবহেলিত হয়নি। কোটার ক্ষেত্রেও যারা মেধাতালিকায় ভালো তারা আসছেন। এমন না যে মেধাতালিকায় যারা আছেন তারা অবহেলিত আছেন, পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। কোটার দ্বারা কারও মেধা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’

বিভিন্ন কোটায় প্রার্থী পাওয়া যায় না, তাহলে কোটা সংস্কারে সমস্যা কোথায় জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যেটা মোডিফাই করা হয়েছে অর্থাৎ পদ পাওয়া না গেলে মেধাতালিকার শীর্ষে যারা আছেন তাদের দিয়ে পূরণ করা হবে। এটাই তো একটা সংস্কার।’

‘কোটা হচ্ছে একটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এর মাধ্যমে অনগ্রসর যারা আছেন তাদের সামনে আনা হয়।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যা আলোচনা হয়েছে তা জানিয়েছি তো। কোটার কারণে যারা মেধাবী তারা খুব বেশি বঞ্চিত হয়নি। আপনাদের তো তিনটা বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে দিলাম।’

কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে তা পূরণের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদের ক্ষেত্রে কোনো কোটা পূরণ না হলে অন্যান্য কোটা দিয়ে পূরণ করতে হবে। এ জন্য আন্দোলন হচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।’

কোট সংস্কারের বিষয়ে আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, ‘না আজকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় আছে। অনির্ধারিত আলোচনা তো এরকম কিছু হয়ই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হলো এটার স্টেক হোল্ডার। তারা এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। দেখে অবহিত করবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পরীক্ষার-নিরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ‘ইনফরমাল আলোচনা তো, ইনফরমালভাবেই….ধরেন….।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবি ক্যাম্পাসে রড লাঠি নিয়ে ছাত্রলীগের অবস্থান

এস দাস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের মল চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অধিকাংশের হাতে রয়েছে রাম দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মল চত্বরে শতাধিক মোটরসাইকেলে করে জড়ো হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মল চত্বরের দিকে আসছে। তাদের অধিকাংশের হাতেই লোহার রড।

এদিকে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা। তাদের হাতে ইট ও লাঠি দেখা যায়। এরইমধ্যে ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় মল চত্বরে শতাধিক মোটরসাইকেল, দেশীয় অস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাত পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের অবস্থান ছিল। রাত ৮টার দিকে নীলক্ষেত মোড় থেকে হেলমেট পরা আরো বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী মল চত্বরে আসে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে ছিল রড, রাম দা, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র।
জানা যায়, মল চত্বরে অবস্থানকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৫৬% কোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক: জাবি উপাচার্য

ডেস্ক রিপোর্ট : ৫৬% কোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন রাস্তায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা।

তিনি বলেন, ‘৫৬% কোটা আসলেই একটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে, আমরা তোমাদের পাশে আছি। প্রয়োজন হলে তোমাদের সাথে আমরা একসাথে আন্দোলন করব।’

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ যতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি তাদের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তাদের বলেছি, এটা এভাবে সমাধান করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হতে পারে। তার জন্য টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, লাঠিপেটা করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। আমরা কেন এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়লাম। আমি এর জবাব চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি যৌক্তিক দাবি। পুলিশি হামলা চালিয়ে এ আন্দোলন দমানো যাবে না। এ দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু সরকার তা না করে শিক্ষার্থীদের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। আমরা আর রক্তপাত চাই না। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর কবির নানককে বিষয়টি জানিয়েছি। কেন আমার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ হামলা করে রক্তাক্ত করল, আমি তার জবাব চেয়েছি।’

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় হাজার খানেক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও জলকামান মেরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় ৭০ জনকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন।

সূত্র : পরিবর্তন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আন্দোলন দেখেছি কিন্তু এমন তাণ্ডব দেখিনি : ঢাবি ভিসি

অনলাইন ডেস্ক,৯ এপ্রিল:   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে ভিসি’র বাসভবনের কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। সব কিছুই তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে নির্বাক হয়ে গেছেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীরা ছাত্র হতে পারে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না, মুখোশধারী-বহিরাগত। আর কারা হামলা করেছে, তা আপনারা জানেন, দেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক আন্দোলন দেখেছি। কিন্তু এমন তাণ্ডব দেখিনি। হত্যার পরিকল্পনাই ছিল হয়ত। নইলে বেডরুমে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ওপরে এভাবে হামলা হতে পারে না। ওরা কিছুই আর অবশিষ্ট রাখেনি। ঘরে পা রাখারও উপায় নেই।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ার। আমরা এখানে কিই-বা করতে পারি। এই ঘটনার দুঃখ জানানোর ভাষা নেই।

এদিকে মধ্যরাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে টিএসসির ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে র‌্যাব এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আন্দোলনের উত্তেজনার পর থমথমে ঢাবি

পূর্ব ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার দুপুর দেড়টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিলে মিছিলে কর্মসূচিস্থলে আসতে শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল- কোটা বিলুপ্ত নয় যৌক্তিক সংস্কার।

দুপুর মোটামুটি ৩টার পর শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করে ফেলেন আন্দোলনকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেককে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ লাঠিসোটা, টিয়ারসেল নিয়ে অবস্থান নেয়।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শাহবাগ থানার সামনে একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) প্রস্তুত রাখে পুলিশ। যানটি শাহবাগ থানার পাশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি আসতেই শিক্ষার্থীরা মাটিতে শুয়ে পড়ে। তাদের ওপর দিয়ে সাঁজোয়া যান চালাতে বলে। শিক্ষার্থীদের সড়কে শুয়ে থাকতে দেখে পেছনে নেয়া হয় সাঁজোয়া যানটি।

দুপুরের দিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করে এক বছর ধরে চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোনোভাবেই হচ্ছে না। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেসময়কার বাস্তবতা বিবেচনায় ৫৬ শতাংশ কোটা রেখেছিলেন। তবে এখন আর এতো কোটার প্রয়োজন নেই। সরকার এটাকে বহাল রেখে মেধাবীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেয়া হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

এদিকে ঢাকার পাশপাশি রোববার বিকেলেরে মধ্যে আন্দোলন ছড়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি)। রাবির প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়। এতে সড়কের দু’পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

শাহবাগ যখন কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে উত্তাল তখন সেখানকার ফুল ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে তাদের দোকান বন্ধ করে দেন। একজন বিক্রেতা বলেন, আমাদের কষ্ট কেউ দেখার নেই। আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা আর দোকান বন্ধ আমাদের। দোকান বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নানা বক্তৃতা দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। ‘সেভ মেরিট সেভ নেশন, রিডিউস কোটা অনার-’ প্ল্যাকার্ডে এমন লেখাও ছিল আন্দোলনকারীদের।

সেখান থেকে একজন বক্তা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে করজোড়ে অনুরোধ দয়া করে মাত্র পাঁচ বছরের জন্য এই মেধাবীদের নিয়োগ দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিন। এ সময়ের মধ্যে এ মেধাবীরা দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করে দেখাবে।’

বক্তব্যের পাশাপাশি শাহবাগে তখন চলছিল দেশাত্মবোধক গানও। এভাবেই আন্দোলন চাঙা রাখছিলেন তারা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবি বিজয় একাত্তর হল ক্যান্টিন মালিককে অবাঞ্চিত ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ক্যান্টিনের খাবারের নিন্মমান ও পুষ্টিহীন বলে অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন করতে ব্যার্থ হওয়ায় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে হল প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হল বিজয় একাত্তর প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে হল প্রশাসন থেকে একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে লেখা হয়েছে- ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ০১ (এক) দিন দুই বেলা ক্যান্টিন বন্ধ রাখা, ক্যান্টিনের খাবারের মান যথার্থ না হওয়া এবং নির্ধারিত মূল্য তালিকার অধিক মূল্যে খাবার পরিবেশন করার কারণে বিজয় একাত্তর হল ক্যান্টিন ম্যানেজার ইসমাঈল হোসেনকে বিজয় একাত্তর হল প্রাঙ্গণে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর তাকে হল প্রাঙ্গণে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিন ম্যানেজার হলেন- মো. ইসমাঈল হোসেন। ক্যান্টিনে অত্যন্ত নিন্মমান ও পুষ্টিহীন খাবার পরিবেশন করার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি নজরে আসার পরপর হল প্রাধ্যক্ষ ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া ওই ক্যান্টিন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free