Author Archives: editor

মডেল শিক্ষক : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের বিরোধিতায় শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ আগষ্ট:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘মডেল শিক্ষক’ নির্বাচনকে ভালোভাবে দেখছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা। তারা বলছেন, মডেল শিক্ষক হওয়ার জন্য লবিং এমনকি ঘুষ লেনদেন শুরু হবে। নতুন এক গজব হিসেবে দেখা দেবে মডেল শিক্ষকের ধারণা।


জানা যায়, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মডেল শিক্ষকদের দিয়ে সংশ্নিষ্ট উপজেলার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোর দুর্বল শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। বিশেষ করে নজর দেওয়া হবে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের ওপরে। এ সিদ্ধান্তের ফলে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সরকার।
এ ছাড়া গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুই হাজার মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এটি করা হবে। এ জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি সই হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ফলের দিক দিয়ে সেরা স্কুলগুলোর শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে ‘মডেল শিক্ষক’। এই মডেল শিক্ষকদের দিয়ে ওই উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ের ফল ভালো নয়, সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সুপারিশ করেছে এই মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়কে তাগাদাও দেওয়া হয় বৈঠক থেকে।

এরপর মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খান মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চাইলেও ‘মডেল শিক্ষক’ নিয়োগ করার বিষয়ে ‘ধীরে চলো নীতি’ অনুসরণ করছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনেকে মনে করেন, এতে ভালো স্কুলগুলোর ক্ষতি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতা হাবিবুর রহমান দৈনিক শিক্ষা বা্র্তাকে বলেন, মডেল প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগটি ভালো। তবে সঠিক মানদ নির্ধারণ না করে মডেল শিক্ষক নিয়োগ দিলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ঝালকাঠীর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিরীন সুলতানা বলেন, মডেল প্রাথমিক শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন আদৌ আছে বলে আমি মনে করি না। বরং অগ্রগামী বিদ্যালয়গুলোতে অনগ্রসর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পালাক্রমে ডেপুটেশন দিলে বাস্তবে তা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে। তারা অন্তত তিন মাস অগ্রগামী বিদ্যালয়ে কাজ করলে হাতেকলমে অনেক কাজ শিখতে পারবেন এবং নিজের বিদ্যালয়ে তা প্রয়োগ করতে পারবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মডেল স্কুলের সব ভালো শিক্ষককে ক্লাস করাতে অন্যত্র নিয়ে গেলে সেইসব স্কুল চলবে কী করে? তাই আপাতত আমরা মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলেছি, উপজেলার ভালো স্কুলগুলো ভিজিট করে তাদের ‘গুড প্র্যাকটিস’গুলো নিয়ে দুর্বল স্কুলগুলোতে কাজে লাগাতে। আর মডেল শিক্ষক না হলেও ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ নির্বাচনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু আছে।

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি ও টাইম স্কেল

এ এম জিয়াউর রহমান।।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত বিষয় হচ্ছে ২০১৪ সালে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়েছেন বিধায় তারা আর ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাবেন না। কিন্তু যাবতীয় চিঠিপত্র, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র বিশ্লেষণ করে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তারা পদোন্নতি পায়নি এবং অর্থবিভাগের পত্র মোতাবেক দ্বিতীয় শ্রেণিও নয়। সুতরাং তাদের টাইমস্কেল প্রাপ্তিতে কোন বাধা নেই।


চলতি মাসে বড় সুখবর পাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা
অতিরিক্ত সচিব মহোদয় দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছেন যে, প্রধান শিক্ষকেরা পদোন্নতি পেয়েছেন। সুতরাং তারা টাইমস্কেল পাবেন না। কিন্তু আমরা জানি, কোন পদে কোন ব্যক্তি পদোন্নতি পেলে তার একটা গেজেট হয় এবং নতুন পদে তিনি যোগদান করেন। গেজেট ও যোগদান ছাড়া পদোন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকগণ ০৮/০৩/২০১৪ তারিখেও প্রধান শিক্ষক ছিলেন ১০/০৩/২০১৪ তারিখেও ছিলেন, এখনো প্রধান শিক্ষক পদে বহাল আছেন, পদোন্নতি পেয়ে এটিইও হননি। সুতরাং পদোন্নতি পাবার প্রশ্নই উঠে না। অবশেষে তিনি আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাঁচে ফেলতে চাচ্ছেন।

আমরা সবাই জানি দ্বিতীয় শ্রেণি বলতে ১০ম গ্রেড বুঝায়, কোনক্রমেই ১১ তম গ্রেড নয়। কিন্তু আমাদেরকে ১১তম গ্রেড দিয়ে নন গেজেটেড দ্বিতীয় শ্রেণি করা হয়েছে যেটা আমাদের সাথে সুবিচার করা হয়নি। সেই সাথে অর্থবিভাগ ১১তম গ্রেডকে দ্বিতীয় শ্রেণি বলে স্বীকার করে না। তারা ১৫/১০/২০১৬ তারিখে পত্র (স্মারক নং–২০১০–৭৫২) দ্বারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন ১১তম গ্রেড থেকে ২০ তম গ্রেড পর্যন্ত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আর কোন কথা বা যুক্তির প্রয়োজন নেই। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চিঠি থেকে এটা সুস্পষ্ট যে ১১ তম গ্রেডকে ৩য় শ্রেণি হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।

এছাড়া মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগও তাদের রায়ে ১১ তম গ্রেডের উপরে করেস্পন্ডিং স্কেল নির্ধারণের আদেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে ১১ তম গ্রেড ২য় শ্রেণির আওতাভুক্ত নয়। সুতরাং যে যুক্তিতেই হোক ১৪/১২/২০১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর ন্যায় টাইমস্কেল পাবেন, বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই। আর আমরা বঞ্চিতরা যদি টাইমস্কেল আদায় করতে পারি তাহলে ২০০৮ সালের পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাপ্তিতেও আর কোন বাঁধা থাকবে না। তা না হলে ২০২৪ সালের আগে কেউ আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।

তাই আসুন সকলে মিলে একতা গড়ি, ন্যায্য পাওনা আদায় করি। ইতিপূর্বে আমরা ২০০৬ সালেও দুই গ্রেড উন্নিত হয়েছি। তখন আমরা টাইমস্কেল পেয়েছিলাম এবং ২০১৪ সালে সহকারী শিক্ষকদেরও গ্রেড উন্নিত হলেও তারা টাইমস্কেল পেয়েছে। বর্তমানে শ্রেণি প্রথা তুলে দেয়ার পরও বারবার আলোচনায় ‘শ্রেণি’ কে আনয়ন করার বিষয়টাও বোধগম্য নয়।

তাই, হাজার হাজার টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেড বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আবেদন, আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবেন না। জাতির বিবেক শিক্ষকদেরকে জ্ঞানহীন ভাববেন না, আমাদের কর্মকালকে মূল্যায়ন করুণ, আমাদের পাওনা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন। আমরা স্কুল ছেড়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে চাইনা।

লেখক

সহ-সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি)

বাসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক সমিতি।

ডেঙ্গু এতিম করলো ভিকারুননিসার দুই ছাত্রীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৫ আগস্ট ২০১৯ :
স্বপ্ন ছিল দুই মেয়েকে অনেক বড় মানুষ করে গড়ে তুলবেন। এ কারণে উচ্চশিক্ষিত হয়েও নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটেননি মা শিরিন আক্তার (৩৮)। মেয়েদের পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। দুই মেয়েকে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করান। মায়ের প্রচেষ্টায় দুই মেয়ে ক্লাসে বরাবর প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ডেঙ্গু জ্বর সেই মাকে কেড়ে নিয়েছে বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় মেয়ে রায়না জেরিন।


ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোড প্রধান শাখার একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রায়না জেরিন। একই শাখায় তার ছোট বোন সুমাইদা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তাদের বাসা বনশ্রীর তিতাস রোডে। মা শিরিন আক্তার ও বাবা আনিসুল আমিন মিলে একটি সুখের সংসার ছিল তাদের।

বাবা ব্যবসা করেন। মা উচ্চশিক্ষিত হলেও নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটেননি। দুই মেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেই মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। দিনভর বিলাপ করে দিন পার হচ্ছে দুই বোনের।

স্বজনরা জানান, দুই মেয়েকে অনেক বড় মানুষ করে গড়াই ছিল শিরিনের স্বপ্ন। এ কারণে মেয়েদের নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। মেয়েরা কী খাবে, কী করবে, কোনটা তাদের জন্য ভালো হবে- এসব ছিল তার একমাত্র ভাবনা।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২৮ জুলাই শিরিন আক্তারকে পান্থপথ বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাতদিন তার চিকিৎসা চলে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

বড় মেয়ে রায়না জেরিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মা ছাড়া আমরা অসহায় হয়ে গেছি। বাবা সারাদিন কাজে বাইরে থাকেন, মায়ের স্নেহে আমরা বড় হয়েছি। মায়ের চেষ্টায় আমরা দুই বোন শুরু থেকে ক্লাসে প্রথম স্থান অর্জন করে আসছি। সেই মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, আমাদের আর কোনো অবলম্বন রইলো না।’

মায়ের মৃত্যুতে দুই বোন এখন শোকে পাথর। স্বজনরা নানাভাবে অসহায় মেয়েদের সান্ত্বনা দেয়ার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনোভাবেই শোকার্ত এ পরিবারকে শান্ত করা যাচ্ছে না।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীর মা ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুবরণ করায় তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে স্কুল শাখায় বিকেলে কলেজ শাখায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম।

এই অভিভাবকের অকাল মৃত্যুতে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সেই প্রাথমিক শিক্ষিকার বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ আগষ্ট: ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নারগিস সুলতানা ছবিকে ডিপিইও ঝিনাইদহ মহোদয় কর্তৃক অবৈধ বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে স্বউদ্যোগে হাইকোর্টে রীটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন গরীবের আইনজীবীখ্যাত হাইকোর্টের সম্মানিত আইনজীবী জনাব এডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।



চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারেনি এ কারণে সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করেছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত ঐ বরখাস্তের চিঠিতেই রয়েছে ২২টি ভুল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে বিষয়টি নজরে এসেছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে ওই শিক্ষিকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারে না এ কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য তাকে সময় দিতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটাও তার অপরাধ এবং অদক্ষতা। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য গত ৩০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান। তিনি চতুর্থ শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বইয়ের একটি চ্যাপ্টার থেকে রিডিং পড়তে বলেন। কিন্তু ছাত্ররা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারেনি। এ কারণে জেলা শিক্ষা অফিসার ঐ শ্রেণিতে যিনি ইংরেজি পড়ান তাকে দায়ী করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার অফিসে ফিরেই সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানাকে বরখাস্ত করেন।

ঐ বরখাস্তের আদেশের অনুলিপি দেন মহাপরিচালক, বিভাগীয় উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও। আদেশ কার্যকর হয় বৃহস্পতিবার থেকেই। কিন্তু তিনি যে বরখাস্তের চিঠি দিয়েছেন তাতে রয়েছে ২২টি ভুল। যে ইংরেজি বই পড়তে না পারার কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে সেই ইংরেজি বানানেও ভুল করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার। chapter লিখতে গিয়ে লিখেছেন cahpter। ‘শ্রেণি’ বানানের ক্ষেত্রে কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণি’, আবার কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণী’। অসদাচরণ বানান লিখতে গিয়ে ভুল করেছেন। এমন অন্তত ২২টি ভুল করেছেন তিনি। সরকারি চিঠিতে এমন ভুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। জেলা শিক্ষা অফিসারদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীও যদি রিডিং পড়তে পারত আমি ক্ষমা করতে পারতাম। একটি বাচ্চাও রিডিং পড়তে পারেনি। যার রোল নম্বর ২ সেও পারল না। যার রোল নম্বর ৩ সেও পারল না। শিক্ষকও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও ভুল করেছে তাহলে আমার কী করণীয়? জাতি আর কত সময় দেবে। আমি বরখাস্ত করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করব। ভুল বানানের বিষয় তিনি বলেন, আমার বয়স ৫০-এর বেশি। আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। মুখে বলে দিয়েছি প্রধান সহকারী লিখেছেন। চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে সই করে দিয়েছি। বানান ভুল হয়ে গেছে। পরে যখন জেনেছি তখন আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছি।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু,আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট ফ্লাইওভারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার এক শিক্ষিকা। আহত হয়েছেন ২জন শিক্ষিকা।তারা তিনজনই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। নিহত যিনি হলেন ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা আমেনা বেগম।আহত হন একই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা_খানম ও সহকারি শিক্ষিকা সোমা ঘোষ। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।



স্কুল শেষে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় সিএনজি অটোরিকশায় ফিরছিলেন তারা। যাওয়ার পথে নগরীর বহদ্দার হাট ফ্লাইওভারে তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে কাভার্ড ট্রাক। ট্রাকটির সামনের চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা মারে বলে জানা যায়।এতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে গণিত বিষয়ের প্রশিক্ষক আমেনা বেগম এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রশিক্ষক সোমা ঘোষ ও প্রধান শিক্ষক জোবেদা খানম এর জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে আইসিউতে থাকায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষন। প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান

আড়াই মাসের অন্তসত্মা এখন কে বিয়ে করবে আমাকে?
প্রতিনিধি পঞ্চগড়:

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডুডুমারি গ্রামে কলেজ পড়–য়া ছাত্রী একই গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিয়ে ও পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে অনশন করেছে। এ নিয়ে ঐ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঐ অন্তসত্মা প্রেমিকাকে বাড়িতে রেখে প্রেমিক ও তার পরিবার বাড়ি থেকে উধাও হয়েছে। কলেজ পড়–য়া ছাত্রী সাংবাদিকদের জানান আমি গত সাত বছর পূর্ব হতে আমার প্রতিবেশি জহিরুল ইসলাম এর ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু (২৫)এর সাথে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েছিলাম , গত দুই বছর হতে সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকদফা দৈহিক মেলামেশা হয়েছে।

আমি ২০১৮ সালে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করেছি। আমার পরিবার আমাকে যখনই বিয়ে দিতে চায় তখনই মিন্টু আমাকে বলে আমি একটা চাকুরি পেলে তোমাকে বিয়ে করবে। গত এক বছর হতে আমাকে বহুবার বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েছে । এরই মধ্যে শুনতে পাই সে একটি বেসরকারি চাকুরি পেয়ে এখন অন্য মেয়ের সাথে বিবাহ করবে। একথা শুনে আমি আমার সর্ম্পকের কথা প্রতিবেশি ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম কে জানাই । কিন্তু কিছুতেই মিন্টু বিয়েতে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি মিন্টুর বাসায় এসেছি ।

মিন্টুর বাসায় আসার পরক্ষনেই তার পরিবার আমাকে বাশের লাঠি দিয়ে রক্তাক্ত করে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমার আড়াই মাসের সন্তান গর্ভে এখন আমাকে বিয়ে করবে কে? প্রেমিক মিন্টুর পিতা জহিরুল সাংবাদিকদের জানান মেয়েটির স্বাস্থ্য পরিক্ষার পর যদি প্রমান হয় আমার ছেলের কারনেই মেয়েটি অন্তসতœা তবেই আমি মিন্টুর সাথে বিয়ে দিবো। এদিকে প্রেমিকার বাবা এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করেছে এখন আমার সেই মেয়েকে মিন্টু বিয়ে না করলে মেয়েটিকে ফেরত নিয়ে কি করবো ? আমার মেয়ে অন্তসত্মা আমি নজরুল মেম্বারকে সব জানিয়েছি আমি ন্যায়বিচার এর জন্য আইনের আশ্রয় নিবো যদি মিন্টু বিয়ে না করে। সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নজরুল এর সাথে সাংবাদিকরা কথা বললে তিনি বলেন আমি এবং আমার ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে গতকাল ছেলে ও মেয়ের পরিবার কে নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেস্টা করেছি কিন্তু দুপক্ষই তাদের দাবীতে অনড় থাকায় সম্ভব হয়নি। পঞ্চগড় সদর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম এর সাথে ঘটনার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি নিয়ে পরিষদে মিমাংসার চেস্টা করা হলে মিন্টু সেই মেয়েকে বিয়ে করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয় এজন্য দুপক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।

ফের শ্রেণি-শাখার বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ আগস্ট , ২০১৯
ফের তেরো এগারোর পর শ্রেণি, শাখা ও স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এর আগের ২২৮ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির পর আবারও অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।


তাই, এমপিওভুক্ত বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বরের পর শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব শিক্ষকের তালিকা ও কাগজপত্র অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি জানিয়ে গত ৩১ জুলাই সব এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়।

জানা গেছে, চিঠির সাথে শিক্ষকদের কাগজপত্রের বিবরণী ও তথ্য ছক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। Excell ফরমেটে Nikos ফন্টে তথ্য ছক পূরণ করে সফট কপি ও হার্ড কপি ৩০ আগস্টের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এমপিও শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধান দের।

কারিগরি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বন্ধ হয় শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি। কিন্তু ৫ বছর পর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ নভেম্বর শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া ২২৮ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তিতে সম্মতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। এ তালিকায়, ভোকেশনালের ৪১ জন ও বিএম শাখার ১৮৭ জন শিক্ষক ছিলেন।

সূত্র আরও জানায়, শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া যেসব শিক্ষক এখন এমপিওভুক্ত হতে পারেননি, তাদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে।

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিতে বিলম্ব কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৩ আগস্ট , ২০১৯

আমার এ দেশটি পরাধীনতা হতে মুক্ত। আমরা এখন গর্বিত জাতি। এই জাতি গঠনে সবচেয়ে বড় অবদান একজন শিক্ষকের। হাতে হাত ধরে অ আ শেখানো শিক্ষকরা আজও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের উচ্চ বেতন ও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়। আমাদের দেশের শিক্ষকরা তো উচ্চ বেতন বা ভিআইপি মর্যাদা চায়নি। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা একটু সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়। এটা কি অন্যায়?


মানসম্মত শিক্ষা অর্জন সম্ভব। তার আগে শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তন হয়েছে। এখন সহকারী শিক্ষকের যোগ্যতা লাগে স্নাতক পাস। স্নাতক পাসে ১৫তম গ্রেড বেমানান। যেখানে অন্যান্য বিভাগে ডিপ্লোমাসহ এইচএসসি পাস ১০ম গ্রেডে বেতন, সেখানে প্রাথমিক শিক্ষকরা বেতন পান ১৫তম গ্রেডে। এটা চরম বৈষম্য।

এই বৈষম্য কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে আসছেন এবং বৈষম্য নিরসনের কথা বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভয়েস কলে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বেতন বৈষম্য দূরীকরণে আশ্বাস দিয়েছেন। সচিব স্যার প্রায় প্রতিটি সেমিনারে বেতনবৈষম্যের অবসানের কথা বলছেন। বিভিন্নভাবে ১১তম গ্রেড প্রাপ্তির কথা বলছেন। অথচ বাস্তবে কিছুই নয়। আর কত দেরি?

মানসম্মত শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষকদের ভূমিকা শতভাগ। অথচ নুন আনতে পান্তা ফুরানো সহকারী শিক্ষকবৃন্দ আজও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও নিম্ন বেতন স্কেল। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার শতভাগ যৌক্তিকতা সত্ত্বেও লুকোচুরি হচ্ছে। আশ্বাস দিয়ে ১১তম গ্রেড দেওয়া হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু সুনজর দিলে আমাদের অধিকার ১১তম গ্রেড পেয়ে যেতাম। কিন্তু ১১তম গ্রেড যেন একটা স্বপ্ন। বারবার ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি ১১তম গ্রেডের।

প্রধানশিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এর গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড প্রদানই মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: শিক্ষক

ছাত্র ইংরেজি না পারায় শিক্ষক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ আগস্ট , ২০১৯
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারে না। বিষয়টি নজরে এসেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের। তাই স্কুলের ইংরেজি নার্গিস সুলতানা ছবিকে বরখাস্ত করেছেন তিনি। গত ৩১ জুলাই শিক্ষকে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবি মল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করেননা বলেও জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান। এ সময় বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছিলেন তিনি। কিন্তু এসময় কোন শিক্ষার্থী পাঠ্যবইয়ের একটি চ্যাপ্টার সবলীলভাবে পগতে পারেনি। এছাড়া স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবি আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করেন না। যা কর্তব্য পালনে অবহেলা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বরে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

তাই, ৩১ জুলাই ওই স্কুল ইংরেজির সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের। বৃহস্পতিবার থেকে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে।

কিন্তু ছাত্র ইংরেজি না পারায় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে জারি করা চিঠির ২২ জায়গায় ভুল করেছেন খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো.আক্তারুজ্জামান। কিন্তু ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সেই চিঠিতেই রয়েছে ২২টি ভুল। এ নিয়ে ঝিনাইদহের শিক্ষক মহলে একদিকে যেমন চলছে সমালোচনা। অন্যদিকে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসিয়াল চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মন্তব্যে সরগরম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

বিষয়টি দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান।চিঠিতে ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি দৈনিকশিক্ষা বার্তা ডটকমকে বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমি ভুলে ভরা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলাম। বৃহস্পতিবার সেটি সংশোধন করে স্মারক নম্বর ঠিক রেখে নির্ভুল চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডিপিওর এক আদেশে ২২ ভুল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ০২ আগস্ট , ২০১৯:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারে না। বিষয়টি নজরে এসেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের। তাই স্কুলের ইংরেজি নার্গিস সুলতানা ছবিকে বরখাস্ত করেছেন তিনি। কিন্তু শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে জারি করা চিঠির ২২ জায়গায় ভুল করেছেন খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামান।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান। এ সময় বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারে না। তাই, অফিসে ফিরে তিনি ৩১ জুলাই ওই স্কুল ইংরেজির সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবিকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বৃহস্পতিবার থেকে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে।

কিন্তু ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সেই চিঠিতেই রয়েছে ২২টি ভুল। এ নিয়ে ঝিনাইদহের শিক্ষক মহলে একদিকে যেমন চলছে সমালোচনা। অন্যদিকে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসিয়াল চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মন্তব্যে সরগরম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

অনেক শিক্ষক বরখাস্ত করার চিঠি ফেসবুকে পোষ্ট করে লিখেছেন “বিচারপতির বিচার কে করবে?”। কামরুল হাসান নামে এক শিক্ষক লিখেছেন “যে ইংরেজির জন্য শিক্ষককে বরখাস্ত করা হলো, সেই ইংরেজির একটি শব্দের বানান বরখাস্তকারী কর্মকর্তাও তার চিঠিতে ভুল লিখেছেন। এমনকি চিঠিতে অনেক বাংলা শব্দের বানান ভুল আছে। বানান শুদ্ধ না করে চিঠি স্বাক্ষর কি কর্তব্য অবহেলা নয়? এজন্য ওই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত? জেলা শিক্ষা অফিসারের পাঠানো চিঠিতে দেখা গেছে ইংরেজিতে chapter বানানটি লেখা হয়েছে ‘cahpter’। চিঠিতে ‘এরূপ’ বানান ‘এরুপ’, সত্ত্বেও বানান সত্তেও, ইংরেজি বানান ইংরেজী, আপিল বানান আপীল, অসদাচরণ বানান অসাদাচরণ, শ্রেণি বানান শ্রেণী, বরখাস্তকালীন বানান বরখাস্তকালনীনসহ ২২টি বানান ভুল লেখা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান Chapter বানানটিই ভুল লিখেছেন। অথচ শিক্ষার্থীরা ইংরেজি না পাড়ায় শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। চিঠি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তাতে মারাত্মক ভুল আছে ৫টি। এ ছাড়া ব্যাকরণগত ও মাত্রাগত ভুল রয়েছে ১৭টি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান চিঠিতে ভুলের কথা স্বীকার করে দৈনিকশিক্ষা বার্তা ডটকমকে বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমি ভুলে ভরা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলাম। বৃহস্পতিবার সেটি সংশোধন করে স্মারক নম্বর ঠিক রেখে নির্ভুল চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষককে অবৈধভাবে বরখাস্ত! প্রধান শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২ আগষ্ট : ঝিনাইদহ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক একজন সহকারি শিক্ষককে বিগত ৩১/ ৭/২০১৯ তারিখে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি পড়া না পাড়ার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সমিতি মনে করে ঐ শিক্ষককে আত্ম পক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেয়া হয়নি এবং কোন কৈফিয়ত তলব করা হয়নি। ফলে ঐ শিক্ষক অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এভাবে কোন সরকারি কর্মচারিকে সাময়িক বরখাস্ত করা যায় না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম এ প্রতিবাদ দেন।



তিনি আরও বলেন আমরা আশা করি ঐ শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।যদি দ্রুত প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে সকল শিক্ষকদের নিয়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা যখন মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি ,তখন এ ধরনের সাময়িক বরখাস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য যে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাময়িক বরখাস্তের আদেশে ২২টি ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। এধরনের ভুলের জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরখাস্তের দাবি জানাই। প্রধান শিক্ষক সমিতি ,এ ব্যাপারে জাতির জনকের সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক,২ আগষ্ট : বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস প্রদান করা হয়েছে। ১৬টি চেকের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকে এ অর্থ জমা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বলা হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জুলাই মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাসের অর্থ ব্যাংকে জমা হয়েছে। বেতনের অর্থ নির্ধারিত অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের শাখায় ৮টি চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে এ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।


তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের আপত্তি থাকলেও এবারও অবসর ও কল্যাণ ফান্ড বাবদ বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন করে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া একই দিনে আরও ৮টি চেকের মাধ্যমে ঈদুল আজহার বোনাসের অর্থও নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যংকের শাখায় এ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। ঈদ বোনাসের অর্থ আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে উত্তোলন করতে বলা হয়েছে। মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মো. রুহুল মমিন সাক্ষরিত এ দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদেরও জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাসের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) অনুদান বণ্টনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকে এ বেতন-বোনাসের চেক পাঠানো হয়েছে। ৬ আগস্ট পর্যন্ত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা তুলতে পারবেন তারা।

তবে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত করে মাদরাসা শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতন ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই দিনে মাদরাসা শিক্ষকদের ঈদ বোনাসের চেক নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে।


চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ১২ আগস্ট

ডেস্ক,২ আগষ্ট : বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১২ আগস্ট (সোমবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।



ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ জেলায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, আবহাওয়াবিদ ও মসজিদের ঈমামরা চাঁদ দেখার কথা জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জিলহজ মাস। আর ১২ আগস্ট উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম সচিব আনিসুর রহমান, শোলাকিয়া ঈদগাহের ঈমাম মাসউদসহ রাজধানীর একাধিক মসজিদের পেশ ঈমাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলমানরা তাদের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবে পশু কোরবানি দেন, যার মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের কলুষতাকে বর্জন এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভই ইসলামের শিক্ষা।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সেখানে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ১১ আগস্ট; আর তার আগের দিন হবে হজ।

সারা বিশ্ব থেকে হজ করতে সৌদি আরবে জড়ো হওয়া লাখো মানুষ সেদিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। ঈদের সকালে কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাদের হজের আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার মানুষ হজ করার কথা রয়েছে।

এবার ঈদে ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে। গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছাড়বেন অসংখ্য মানুষ। এতে ফাঁকা হয়ে পড়বে ঢাকা।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভারত ভ্রমনে যে সমস্যা!

জুগাল মজুমদার:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক তীর্থ ভ্রমণ যেমন -গয়া, কাশী বা আজমির শরীফ মাজার জিয়ারত কিংবা চিকিৎসার নিমিত্তে ভারত গমন করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দেশে ফেরার পর ছুটি ভোগ করা দিনগুলোর অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা হয়।



এ জন্য শিক্ষকগণ ভারত গমণের জন্য বিদ্যালয় খোলা থাকা দিনগুলোই বেছে নেন। যদি বিদ্যালয় ছুটির দিন গুলোতে ভারত গমন করলে অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা না হতো, তাহলে শিক্ষকগণ পবিত্র রমজান মাস,ঈদ উল আযহা, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, দূর্গাপূজার ছুটি থাকা দিনগুলোতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা কিংবা তীর্থ ভ্রমনের জন্য ভারত গমন করতে পারতেন।এতে পাঠদানে কোনো প্রকার চাপ হতো না।এছাড়া ভ্রমন ট্যাক্স বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যেতো।এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ উপকৃত হবে,শিক্ষকগণ সহজেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, ভ্রমণ হেতু একঘেয়েমি দূর হবে।এ বিষয়ে সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করছি।

যে পরিচয়ে হোয়াইট হাউসে যান সেই প্রিয়া সাহা

অনলাইন ডেস্ক,২০ জুলাই:

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের নাগরিক প্রিয়া সাহা। ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ একেবারেই তার নিজস্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত।



জানা গেছে, সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে যেখানে তার নাম নেই। কিন্তু ওই সম্মেলনে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের একজন জেনারেল সেক্রেটারি পরিচয়েই গিয়েছেন প্রিয়া সাহা।

মার্কিন গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফ্রিডম হাউস ২৭ প্রতিনিধির তালিকা তুলে ধরেছেন। তালিকার ১৮ নম্বরে প্রিয়া বিশ্বাস সাহার নাম রয়েছে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, তার সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল। তারা হলেন, পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী

তিনি বলেন, এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তিনি জেনেছেন শুক্রবার গণমাধ্যম থেকে।

এদিকে প্রিয়া সাহার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। তার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

ফেসবুকে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও আসার পর প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় আলোচনার ঝড়। অনেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের ২৭ প্রতিনিধির সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা।

যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি শীর্ষক তিন দিনের ওই সম্মেলনের সমাপনীতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও বক্তব্য দেন।

তার আগে বুধবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হোয়াইট হাউসে যান।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদসহ ওই প্রতিনিধি দলের অনেকেই নিজের দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন।

প্রিয়া সাহার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।

ট্রাম্পকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না

তিনি বলেন, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি।

তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে চান- কারা তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। জবাবে প্রিয়া বলেন, তারা মুসলিম মৌলবাদী, তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

hit counter