Author Archives: editor

ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেসি কলেজ ছাত্রাবাস, শিক্ষক ও শ্রেণী সংকটে

আহমেদ নাসিম আনসারী,ঝিনাইদহ, ৩০: ঝিনাইদহ জেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) মহাবিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষ সংকট, কলেজ অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ, ক্যান্টিন ও ছাত্রাবাসসহ নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছেন।

প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছে ৭২ জন। ৮৪টি পদের মধ্যে ইতিহাস, ইংরেজি, একাউন্টিং ও পদার্থ বিজ্ঞানসহ ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।

তবে এনাম কমিটির নীতিমালা অনুসারে কেসি কলেজে ২২২ জন শিক্ষক দরকার। জানা গেছে ১৯৬০ সালের ১৭ মার্চ ঝিনাইদহের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কেশব চন্দ্র পালের দান করা ১২ একর জমিতে তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক এমকে আনোয়ার কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাছিত মিঞা জানান, কেসি কলেজে ১৪টি বিষয়ে সম্মান এবং ৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর রয়েছে। আরো ৯টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরো জানান, কলেজে ৬ কোটি টাকার দুইটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ভবন দুটি নির্মিত হলে আপাতত শ্রেণী কক্ষের সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কলেজ অডিটোরিয়ামের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের ধারণ ক্ষমতা খুবই কম। স্বল্প পরিসরের ক্যাম্পাসে ১০ হাজার ছেলে মেয়ে চলাফেরা করতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপরও রয়েছে ছাত্রাবাস ও খেলার মাঠের সংকট। তবে তিনি কলেজে যে শিক্ষক আছে তাতে সমস্যা নেই বলে জানান। কলেজের লাইব্রেরীতে ১৬ হাজার ৪৯৫টি বই থাকলেও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিভাগে সেমিনারে বই সংকট রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

সরকারি কেসি কলেজের ব্যবস্থ্পনা বিভাগের ছাত্র সেলিম রেজা বলেন, অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে ক্যান্টিন। ক্যান্টিন না থাকায় দূর-দুরান্তের শিক্ষার্থীরা প্রায় অভুক্ত থাকেন। তিনি আরো জানান, কলেজের বাথরুমগুলো ব্যবহার অনুপোযোগী। এছাড়া ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে কোন সংগঠন এগিয়ে আসে না।

আবারও এক পরিমল-পান্না মাস্টার!

বরগুনা: ঢাকার আলোচিত পরিমল আর কুষ্টিয়ার পান্না মাস্টারের পর দেখা মিলেছিল দিনাজপুরের শিক্ষক তসলিম উদ্দিনের। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট ও কোচিং পড়ানোর সুযোগে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যৌন সম্পর্কের ভিডিও চিত্রধারণ করে ছাত্রীদের জিম্মি করে দিনের পর সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন। অনেক শিক্ষক অশ্লীলচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ায় ওই ছাত্রীদের পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার।

পরিমল আর মাস্টারদের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার শিক্ষক হানিফ সরদার (৪৫)। রাতের বেলা কোচিং সেন্টার খুলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশুছাত্রীদের যৌন হয়রানী করে আসছিলেন।

অবশেষে ১৩ ছাত্রীর অভিযোগ ও এক অভিভাবকের দায়ের করা মামলায় মো. হানিফ সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ভূক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ ওই শিক্ষককে উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাকে বরগুনা জেলা আদালতে সোপর্দ করলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

হানিফ সরদার উপজেলার রামনা ইউনিয়নের পশ্চিম গোলাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি গোলাঘাটা গ্রামের মৃত কুদ্দুস সরদারের ছেলে।

রোববার রাতে বিদ্যালয়ের ভূক্তভোগী এক ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে বামনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভূক্তভোগী আরও ১২ ছাত্রীকে সাক্ষি করা হয়েছে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক হানিফ সরদার দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়তি শিক্ষাদানের নামে একটি কোচিং বাণিজ্য চালু করেন। গত দুই মাস ধরে তিনি রাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে এ কোচিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ ওঠে হানিফ মাস্টার নানা ছলছুতায় ছাত্রীদের শারীরিক হয়রানি করে আসছেন। যৌন হয়রাণির শিকার শিশুরা যাতে অভিভাবকদের না জানায় এজন্য ভাল ফলাফল, এমনকি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালান। রোববার কোচিং বাণিজ্যের আড়ালে শিশুদের ওপর ওই শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনা অনুসন্ধান চালাতে রোববার দুপুরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে যৌন হয়রানির শিকার ১৩ স্কুল ছাত্রী হানিফের অনৈতিক কার্যাকলাপের অভিযোগ তোলে। বিকেলে উপজেলা প্রশাসনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভূক্তভোগী শিশুরা ও পরিবারের সদস্যরা যৌন হয়রাণির অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতিমা বেগম বলেন, ১৩ স্কুল ছাত্রী স্কুলের সহকারী শিক্ষকরে বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দিয়েছে, যা অনৈতিক। আমি আজই এ অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি শিক্ষা অফিসে অবহিত করার উদ্যোগ নেয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, গত এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুছাত্রীদের সাথে অনৈতিক আচরণ করে আসছেন। তিনি রাতে কোচিং চালু করে এসব করছেন। বিষয়টি রোববার স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়ে গেলে ভূক্তভোগী বহু ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

মোহাম্মদ উল্লাহ আরও জানান, ছয় মাস আগে স্কুলের এক ছাত্রীর সাথে ওই শিক্ষক অনৈতিক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডাকে। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক দোষ স্বীকার করে সভায় ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ১৩ ছাত্রীর ওপর ওই শিক্ষকের যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিব্রত।

এ ব্যাপারে বামানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যৌনহয়রানির শিকার এক ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যৌনহয়রানির শিকার আরও ১২ ছাত্রীকে সাক্ষি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক পরিমল জয়ধর স্টাইলে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করে গোপন ক্যামেরায় ভিডিওচিত্র ধারণ করে ছাত্রীদের জিম্মি করেছিলেন কুষ্টিয়া শহরতলীর স্কুল শিক্ষক হেলাল উদ্দিন পান্না ওরফে পান্না মাস্টার। লোকচক্ষুর অন্তরালে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে আসার এক পর্যায়ে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের ১৪ জুন শিক্ষকের অপকর্মের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা পান্না মাস্টারকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

একই রকম ঘটনায় নির্যাতিত এক ছাত্রীর দায়ের করা মামলায় গত ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক তসলিম উদ্দিনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তিনিও ছাত্রীদের জিম্মি করে যৌনসম্পর্ক করেন। পরে তা ভিডিওচিত্রে ধারণ করে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন।

বৃহস্পতিবার সারা দেশে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সব ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি দিয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত ওষুধ ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে রোববার দিনভর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড রোডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে প্রায় দিনভর বিক্ষোভ করেন। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং জব্দ করা ওষুধ ফেরত না দেয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তারা। তবে দোকান খুলতে আজ সম্মত হয়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, জব্দ করা ওষুধ ফেরত এবং সরকার আলোচনায় না বসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব ওষুধের দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গত শনিবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার নয়টি মার্কেটে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করে র্যা ব। তাদের মধ্যে ২০ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৮৩ জনকে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ২৮টি ওষুধের দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়। একই দিন রাতে ৮২ জন ওষুধ ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রায় সোয়া কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান। রোববার রফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ।

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা : দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারের আশ্বাসে তাদের আন্দোলন ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

সোমবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।

এর আগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগদানের সময় সুপারভাইজার নন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে জানানো হয়। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ যৌথসভা শেষে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও গৃহয়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এ বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গেজট প্রকাশ করা হবে।

গৃহায়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, “একটা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আমরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সবাইকে বলতে চাই কোনোভাবেই আমরা সুপারভাইজার পদ তৈরি করিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, চাকরিতে যোগদানের সময় তাদের পদ হবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী।”

শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “আশা করি শিক্ষার্থরা এখন তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।”

তিনি আরো বলেন, “আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব পরীক্ষা বর্জন করেছেন সে বিষয়ে দ্রুই সিদ্ধান্ত হবে।”

সভায় উপস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, “সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত অবিশ্বাস থেকে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিকালে ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষাসচিবদের বৈঠকের কথা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, পেশাগত বৈষম্য নিরসন ও সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনসহ দুই দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। রোববার এ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ছাত্ররা গতকাল ক্যাম্পাসসহ অনেক স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ও সড়ক অবরোধ করেন। এসব ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় আড়াইশ’ ব্যক্তি আহত ও ৬৪ জন আটক হন। সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশলীর সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ সালের বিতর্কিত গেজেট সংশোধন এবং ছাত্রদের বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

সচিন, ধোনিকে পিছনে ফেলে শীর্ষে কোহলি

স্পোষ্টর্স ডেস্ক: শুধু কিংবদন্তী সচিন নন, তাঁর দাপটে পিছিয়ে পড়লেন দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ মহেন্দ্র সিংহ ধোনিও। মাঠের বাইরে কোহলি এবার অনেকটাই এগিয়ে গেলেন তাঁর অধিনায়ক ও প্রবীণ সতীর্থের থেকে। বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে টাকার চুক্তিতে একচেটিয়াভাবে প্রথম স্থান দখলে ছিল সচিনের। তাঁর সঙ্গে নাম লেখান ধোনিও। এবার তাঁদের থেকে এক কদম এগিয়ে বার্ষিক দশ কোটি টাকার বিরাট অঙ্কের চুক্তি করলেন দিল্লির মোস্ট এলিজেবল সুদর্শন ব্যাচেলার কোহলি। ওই অঙ্কে তিন বছরের জন্য তিনি গাঁটছড়া বাঁধলেন বহুজাতিক ক্রীড়াসরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাডিডাসের সঙ্গে। এছাড়াও একটি বহুজাতিক টায়ার কোম্পানির সঙ্গে বার্ষিক প্রায় সাত কোটি টাকার চুক্তিও করেছেন তিনি। ফলে বার্ষিক মোট চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা। যা এককথায় নজিরবিহীন।

খবরে প্রকাশ গত এক বছরে বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় করেছেন কোহলি। আগামী দিনে ভারতীয় অধিনায়কের মুকুট চড়তে পারে কোহলির মাথায়। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী ভালই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ইয়ং আইকনের। ব্যাটেও যথেষ্ট সফল। চলতি বছরে তাঁর নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছে দল। সবমিলে কোহলির সাফল্যের সূচক উর্ধ্বমুখী। ফলে বহু কোম্পানি তাঁদের বাজির ঘোড়া হিসাবে প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখছেন কোহলিকে। শুধু তাই নয়, কোহলি এখন ১৩টি সংস্থার পণ্যের বিপণন দূত হিসেবে কাজ করছেন।

অভিন্ন-মানসম্মত হোক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রশ্নপত্র

সাহিদ সুমন: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahidsumon@yahoo.com

দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী থাকেন।

 

কিন্তু শিক্ষার্থী তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুব সামান্য। ফলে আগ্রহী প্রত্যেককেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া অসম্ভব। তাছাড়া দেশের সকল কর্মক্ষেত্রে লোকের যোগান দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যও নয়।

ফলে যেসব ক্ষেত্রের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষক বা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত লোক তৈরি করবে, সে ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যায়নে আগ্রহী ও অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সারা দেশ থেকে বেছে বের করে পড়াশুনার সুযোগ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ। সে কারণেই ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে সেটা ঠিকমতো নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পাবলিকের অসুবিধা করছে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে অসংখ্য পরিবার প্রতিবছর অর্থ ব্যয় করছেন, শিকার হচ্ছেন নানা ভোগান্তির।

ক্ষতি যে শুধু অভিভাবকদেরই হচ্ছে তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবীরা যোগ্য জায়গায় যেতে পারছেন না। হয়তো চট্টগ্রামের একজন তুখোড় মেধাবী ফোকলোরে বিশেষ আগ্রহী, কিন্তু দূরত্ব, অর্থসঙ্কট ইত্যাদি কারণে অভিভাবকদের নিরুৎসাহে সে রাজশাহীতে (যেখানে সমৃদ্ধ ফোকলোর বিভাগ আছে) পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। অথবা ঢাবিতে অল্পের জন্যে মনোবিজ্ঞান পায়নি এমন শিক্ষার্থী হয়তো চট্টগ্রামে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে সেখানে মনোবিজ্ঞানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতো।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জন্যে যদি অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগই আগের তুলনায় অধিকতর মেধাবীদের পাবে। কারণ, সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে সহজে পরীক্ষা দিতে পারার কারণে একই আসনের জন্যে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী চেষ্টা করবে। ঢাকার বাসিন্দা সুযোগ পাবে, অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চগড়ের বাসিন্দা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না এমনটি কম ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একত্রে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে এবিষয়ে যদি ঐক্যমতে পৌঁছা যায় তাহলে তার পরের সমস্যাটি দাঁড়ায় পরীক্ষা অনুষদভিত্তিক, গুচ্ছভিত্তিক নাকি বিষয়ভিত্তিক হবে।

ঢাকা ও জগন্নাথে অনুষদভিত্তিক পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হয় গুচ্ছভিত্তিক। অর্থাৎ কয়েকটি কাছাকাছি ধরনের বিষয় নিয়ে একটি গুচ্ছ (cluster) বানিয়ে সে-গুচ্ছের জন্যে একটি পরীক্ষা হয়। জাহাঙ্গীরনগরে গত বছর একটি অনুষদে (কলা ও মানবিকী) বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

 

এর কারণ বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার জন্যে এই অনুষদের বিভাগগুলো থেকে শিক্ষকরা জোর দাবি তুলেছেন। এমনিতে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে এমসিকিউ করার কারণে জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষার্থীদের গড় মানের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

অনুষদভিত্তিক এমসিকিউ পরীক্ষা হলে বিভাগগুলোতে আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থী আরো অপ্রতুল হয়ে উঠবে। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিটি বিভাগের জন্যে আলাদা পরীক্ষা নেওয়া গেলে। এর আয়োজনে ঝঞ্ঝাট যদি বেশি হয় তাহলে কিছু কিছু বিষয়কে একত্র করে গুচ্ছ বানানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

 

কারণ, এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে কোনো গুচ্ছে ফেলা মুশকিল (যেমন, চারুকলা, দর্শন)। এ ধরনের বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারের সব উদ্যোগই বৃথা যাবে যদি প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা না হয়। প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে ভর্তি পরীক্ষা হয় তা আসলে শিক্ষার্থীদের গাইড মুখস্থ করার দক্ষতার পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা গাইড কেনা, কোচিং সেন্টারে যাওয়া এসব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুঁটিয়ে পড়লে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো তৈরি হয় নিতান্ত দায়সারাভাবে। কোনো কোনো প্রশ্ন  শুধু বাজারের গাইডবই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। অথচ এই প্রশ্নপত্রই হচ্ছে সেই ছাঁকনি যা দিয়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্তদের তুলে আনা সম্ভব।

আমেরিকার প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্রেডে ভর্তির জন্যে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয় না। আমেরিকান বা অ-আমেরিকান যে কোনো শিক্ষার্থী আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে তাকে স্যাট (SAT) পরীক্ষা দিতে হবে। তার মানে, এদেশে আমরা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে সাধারণ যে পরীক্ষার কথা চিন্তা করছি তা নতুন কিছু নয়।

ইউরোপের অনেক দেশে অবশ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে এটা সম্ভব তার কারণ, আমাদের মতো মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যক-সাধারণ নিয়ে ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার গুণগত মান তারা নিশ্চিত করতে পেরেছেন (সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে আমাদের আরো সময় লাগবে)।

তাছাড়া ওসব দেশে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের জন্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে। স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস, জিআরই ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘাঁটলে বোঝা যায়, বহু লোকের বহু বছরের গবেষণা ও চিন্তাভাবনা রয়েছে এগুলোর পেছনে। অথচ আমাদের দেশে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় পরীক্ষার অল্প ক’দিন আগে, খুব তড়িঘড়ি করে এবং যথোপযুক্ত মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা ছাড়াই।

ভর্তি পরীক্ষার ধরন নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুধু পরীক্ষার আগের সময়টাতে নয়, সারা বছর ধরেই চলতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটি প্রশ্ন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন শিক্ষার্থীর বিশেষ কয়েকটি যোগ্যতা যাচাই হয়। এগুলো হচ্ছে বাঙলা ও ইংরেজি ভাষায় দখল, যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নপত্রেই বাংলা-ইংরেজি অংশ থাকে।

বাংলা অংশে সাধারণত ‘কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?’ বা ‘কবি সুধীন্দ্রনাথের জন্মস্থান কোনটি?’ এ জাতীয় প্রশ্ন থাকে। কিন্তু এসব মুখস্থনির্ভর, গাইডমুখী প্রশ্নের সাহায্যে বাংলা ভাষায় শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই হয় না। তাই ভালো বাংলা বই থেকে অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে কিংবা নতুন অনুচ্ছেদ রচনা করে তার উপর প্রশ্ন তৈরি করতে হবে।

 

ইংরেজি অংশেরও অনেকটা জুড়ে থাকা উচিত এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ (passage) ও সেগুলোর উপর প্রশ্ন।

 

এতে শিক্ষার্থীর পঠন দক্ষতা (reading skill) যাচাই হবে চমৎকারভাবে। একজন শিক্ষার্থী গাইড নাকি ভালো বই পড়ে অভ্যস্ত তাও ধরা পড়বে অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে। এছাড়া বাঙলা ও ইংরেজি অংশে অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণকরণ (sentence completion), শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বাক্য চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন রাখতে হবে।

যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই করতে হলে প্রাথমিক গণিতের কিছু প্রশ্ন রাখতে হবে। এটা করতে হবে এমনকি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার জন্যেও। .

 

এছাড়া লজিকের নানা সমস্যা, একাধিক বাক্যের মধ্যকার সঙ্গতি-অসঙ্গতি নির্ণয়মূলক, এবং সবল ও দুর্বল যুক্তির পার্থক্য নির্ধারণের প্রশ্ন রাখতে হবে। বিভিন্ন আইকিউ টেস্টের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা যাবে।

শিক্ষার্থী যে বিভাগেই ভর্তির সুযোগ পাক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত নানা গ্রন্থ ও প্রবন্ধাদি পড়তে হবে, চিন্তা করে বুঝতে হবে, প্রশ্নোত্তর, অভিসন্দর্ভ ইত্যাদি লিখতে হবে। সেজন্যেই ভাষায় দখল এবং যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই (অর্থাৎ বুদ্ধি যাচাই) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়ই একটি সাধারণ জ্ঞান অংশ থাকে। কিন্তু এ অংশটি শিক্ষার্থীর ঠিক কোন যোগ্যতা যাচাই করে তা স্পষ্ট নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-২০১১ সালের কলা অনুষদের প্রশ্নপত্রের সাধারণ জ্ঞান  অংশে প্রশ্ন ছিল – বাংলাদেশ কোন সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সদস্য পদ লাভ করে? একই বছর আরেকটি প্রশ্ন ছিল – কোন পাখি পাথর ও লোহার টুকরা খায়? এ জাতীয় প্রশ্নগুলোকে কেন “সাধারণ” জ্ঞান এর প্রশ্ন বলা হয় তা এক রহস্য। কেননা কোনো সাধারণ উপায়ে, যেমন পত্রপত্রিকা পড়ে, টিভির খবর দেখে, বই পড়ে, অভিজ্ঞ লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে যে-জ্ঞান হয় তা এরকম তথ্যমূলক জ্ঞান নয়।

এরকম জ্ঞান কেবল “অসাধারণ” উপায়েই, অর্থাৎ গাইড মুখস্থ করে অর্জন করা সম্ভব। মোদ্দাকথা, যাদের সত্যিকার অর্থে সাধারণ জ্ঞান আছে ভর্তি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশ তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দেয় না। বরং যারা না-বুঝে মুখস্থ করে তাদেরকেই সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য প্রশ্নের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটাতে যে শিক্ষার্থী অনুসন্ধিৎসু এবং নিজের কৌত‍ূহলেই দেশ-বিদেশের খোঁজখবর রাখে অথচ না বুঝে কোনোকিছু মুখস্থ করতে অনাগ্রহী সে পিছিয়ে পড়বে। আর এগিয়ে যাবে চিন্তাবিমুখ, মুখস্থবিদ শিক্ষার্থীরা।

তাই সাধারণ জ্ঞান অংশটি প্রশ্নপত্রে যদি রাখতেই হয় তাহলে এর পরিমাণ শতকরা দশ ভাগের বেশি হওয়া ঠিক হবে না। আর ওই দশ ভাগ প্রশ্নও শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তি নয়, সত্যিকার সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের উপযোগী হতে হবে। অর্থাৎ এতে তথ্যমূলক প্রশ্ন খুব কম থাকবে। বেশি থাকবে ধারণামূলক (conceptual) প্রশ্ন, যেমন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী, এসবের কার্য (effect) বা কারণ (cause), কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণার (concept) ব্যাখ্যা ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, প্রয়োজন মতো গুচ্ছভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্রের উচ্চমান নিশ্চিত করা গেলে আশা করা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের পাবে।

আর এ শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিকাশ ঘটাবে নিজেদের সম্ভাবনার।

 

ঝিনাইদহে শারদীয়া দুর্গাপূজা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভীর্যের সাথে উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ২৯সেপ্টেম্বর: গতকাল বিকালে ঝিনাইদহের সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শারদীয়া দুর্গাপূজা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভীর্যের সাথে উদযাপন উপলক্ষে উপজেলার ৮১টি মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে সভায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) কামরুল হাসান,আনসার ভিডিপি অফিসের প্রশিক্ষক নজরুল ইসলাম,জেলা হিন্দু.বৌদ্ধ.খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস,সহ-সভাপতি অজিত কুমার বিশ্বাস, পদ্মাকর ইউপি চেয়ারম্যান বিকাস বিশ্বাস,এ্যাড: কানন কুমার দাস,হামদহ কালিতলা দুর্গাপূজা কমিটি সাধারন সম্পাদক প্রবির কুমার ঘোষ,বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি পলাশ বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক  প্রসেনজিত ঘোষ শিপন ,সদর উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফুল¬্য কুমার সরকার প্রমূখ।

চায়ের দোকানে অস্বাস্থ্যকর খাবারের সয়লাব।

অসীম দাশ:কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:মহেশখালী উপজেলার পৌরসভাস্থ গোরকঘাটা বাজার সহ আশেপাশের চায়ের দোকান গুলোতে স্থানীয় ও উপজেলার বাইর থেকে আগন্তুক  জনসাধারণকে অস্বাস্থকর খাবার পরিবেশন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত দোকান গুলোতে বিক্রিত এ খাবার গুলো কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা ও থানা এলাকায় নাম নেই ,সাইনবোড নেই,এখানে নিম্ন আয়ের মানুষ ,স্কুল পড়–য়া ছাত্র-চাত্রী,অফিস আদালতে কর্মরত শিক্ষিত লোকজন এসব খাবার পরিবেশন করছে। কিনে খাচ্ছে প্রতিদিন চনা,পেয়াজু,সিনকারা,ছমুছা সহ কয়েক ধরনের পিঠা। আর এসব খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে জনসাধারণ।এ সব খাবার পরীক্ষা-নিরিক্ষার দায়িত্ব নিয়োজিত স্যানেটারী পরিদর্শক আইন গত ব্যবস্থা না নেওয়ায়,চায়ের দোকানে ও পুটপাতের ব্যবসায়িরা অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করছে। দেশের জনগোষ্টির একটা বড় অংশ দারিদ্র সীমার নিছে বসবাস করেন। আর তাদের খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য প্রয়োজনিয় বিষয় গুলো নির্ভর করে আর্থিক স্বচ্ছলতার ওপর। ফুটপাত থেকে শুরু করে গোরকঘাটা বাজার , আদালত রোডে ও জিপ এষ্টেশনে দোকান গুলোতে চনা,পেয়াজু,হোটেলের তরিতরকারী এবং ভাত সব সময় ডাকনা না দিয়ে খোলা রাখে । প্লেট,গ্লাস এবং প্রয়োজনীয়  সব কিছুই অপরিষ্কার ও অপরিছন্ন। হাসপালের একজন ডা:এর সাথে এসব পুটপাতের খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ফুটপাতের কোন খাবারই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। আর এসব খাবার খেলে ফুটপাতজনিত রোগ হয়,যেমন-ডায়রিয়া,ডিসেনট্রি ও ক্রিমি হতে পারে। এছাড়াও বহু রকমের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা । এসব পঁছা বাসি খাবার যাতে জনসাধারণকে পরিবেশন করাতে না পারে সে দিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে। আর উপজেলা এলাকার চায়ের দোকান গুলোতে পুকুরের পানি দিয়ে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে চা। পুকুরের পানির চা খেয়ে স্বর্দি,কাশি সহ নানান রোগ দেখাদিচ্ছে জনসাধারনের মাঝে। এসব জেনে ও পুকুরের পানির চা পরিবেশন করছে অফিস আদালতের কর্মচারি ও স্থানীয় বসবাস কারীরা। পুকুরের চা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বন্দ করতে, সচেতন মহল  ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের দাবি জানান।

দামুড়হুদা সীমান্ত থেকে বিজিবি ২ লাখ টাকার ভারতের মালামাল উদ্ধার

দামুড়হুদা সংবাদাতা,২৮ সেপ্টেম্বর:  বিজিবি আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়নগর ও নাস্তিপুর সীমান্ত থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পন্য উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে, ৩ হাজার পিস কার্বন ফিল্ম, ৩শ’ পিস টিভির ক্যাপাসিটর, ২ শ’ পিস টিভি বাল্ব, ৫৯ বোতল ফেনসিডিল ও ১৮ বোতল মদ। উদ্ধারকৃত মালামাল দর্শনা কস্টমস গুদামে জামা দিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গাস্থ-৬ ব্যাটালিয়নের নিমতলা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মহসিন আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দামুড়হুদার জয়নগর সীমান্তের একটি আখক্ষেতে ওঁৎ পেতে থাকেন। কিছু পর ৭/৮ জন চোরাকারবারী ৬টি চটের বস্তা বোঝায় মালামাল নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশে করে। এ সময় দলটি চোরাকারবারীদের ধাওয়া করলে বস্তা ফেলে পালিয়ে যা। বস্তাগুলো তল্লাশি করে উপরিউক্ত মালামালগুলো পায়া যায়। উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ১০ টাকা।

এছাড়াও ভোর ৪ টায় নাস্তিপুর ৭৯ নং মেইন পিলারের ৩ জন চোরাচালানীকে দেখে ধাওয়া করলে তাদের কাছে থাকা ৫৯ বোতল ফেনসিডিল ফেলে পালিয়ে যায়। যার মূল্য ২৩ হাজার ৬ শ’ টাকা।

বিয়ের পর তৃতীয় বছরটা সবচেয়ে সুখের, পঞ্চম বছরটা সবচেয়ে কঠিন!

বিয়ের পর সবচেয়ে কোন সময়টা সবচেয়ে সুখের হয়! কোন সময়টাই বা সবচেয়ে কঠিন হয়! চায়ের কাপে ঝড় তোলার মত বিতর্ক এটা। সেই প্রশ্নটার একটা আপাত বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিল এক সমীক্ষা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০০০ বিবাহিত মানুষদের বিভিন্ন রকম প্রশ্নের পর জানানো হল এক তথ্য।

যাতে বলা হল বিয়ের পর তৃতীয় বছরটা নাকি সবচেয়ে সুখের হয়। আর সবচেয়ে কঠিন সময়টা হল বিয়ের পর পঞ্চম বছরটা। আবার বলা হল দেখা যাচ্ছে সাতটা বছর একসঙ্গে কাটিয়ে দিতে পারলেই ডিভোর্সের ভূত নাকি তাড়ানো অনেক সহজতর হয়।

এ বার দেখে নেওয়া যাক কেন তৃতীয় বছরটাকে সবচেয়ে বেশি সুখের সময় বলেছেন বিবাহিতরা। দু হাজার জনের মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগ বলেছেন, প্রথম বছরটা কেটে যায় নতুন একটা সম্পর্ককে বুঝতে, তার পরিববারকে বুঝতে, এমনকী সেই মানুষটা বুঝতে। দ্বিতীয় বছরটা যায় সব কিছু বুঝে পছন্দের মানুষটার সঙ্গে, আর তার পরিবারকে বুঝে চলে পদক্ষেপ নিতে। আর ঠিক তৃতীয় বছরে পাওয়া যায় সেরা ভালবাসা, উজাড় করে দেওয়া যায় নিজেকে। কারণ তৃতীয় বছরেই নাকি সম্পর্ক আর ভালবাসার শুরুটা হয়।
তবে দু বছর পরের সময়টাকেই সবচেয়ে কঠিন বলছেন সমীক্ষা করা ২০০০ বিবাহিতরা। যুক্তি হিসাবে তারা বলছেন, ওই বছরটা কাটানো সবচেয়ে কঠিন কারণ অদ্ভূত এক ক্লান্তি আর অবসাদ নাকি তখন গ্রাস করে বসে।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ৫০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বিয়ের দিনটাই তাদের কাছে সবচেয়ে সুখের। ২০ শতাংশ বলেছেন তারা ঠিক বুঝতে পারেননি বিয়েটা এতটা কঠিন একটা ব্যাপার। অনেকেই বলেছেন, বিয়ের পরদিন থেকে ভালবাসা অনেক কমে যায়।সূত্র : জিনিউজ

২ দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ২৮ সেপ্টেম্বরঃডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন-বৈষম্য, পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ দুই দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে পলিটেনিকের সামনে মহাসড়কে এক হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে।
সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় উপর বেঞ্চ নিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। তারা আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া সকল সেমিস্টার পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পরে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে দেশের সব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বন্ধের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা ।
এদিকে সড়ক অবরোধের ফরে রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা,২৮ সেপ্টেম্বর: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উকতো গ্রামে বজ্রপাতে একলাস আলী (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল সাড় ৩টায় একলাস ওই গ্রামের রামাচরা মাঠে কপিক্ষেতে পানি দিতে গিয়েছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলে কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা

চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর : নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউসিসি কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কোচিং সেন্টারের পরীক্ষার নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ।

তবে ইউসিসি পরিচালক আব্দুর রব সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেছি।

গত বছরের ২০ জুন সরকার ‘কোচিং বানিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ প্রণয়ন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টা থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মডেল টেস্ট নেয় ইউসিসি কোচিং সেন্টার। এতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিস্ময় প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আমরা নীতিমালা করেছি, আইন প্রণয়ন করছি, সেখানে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমে সরকারি বিদ্যালয় ব্যবহারের সুযোগ নেই।

কোচিং বাণিজ্যের হোতারা নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী ও নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী বলে পরিচয় দেন।

আজ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু ভারত থেকে

কুষ্টিয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর : ভারত থেকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এই বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গিয়ে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

অন্যদিকে ভারতে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি ভারত থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এর আগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ মাসের মধ্যেই সিস্টেমের পরীক্ষা শেষ হবে। শুরুতে কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অক্টোবরের শেষ নাগাদ আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। নভেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে নভেম্বরে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলে লোডশেডিং অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি ভারতের বিদ্যুৎ এলে ডিসেম্বরে সেচ মৌসুম শুরু হলেও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লক্ষ্যে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার লিমিটেডের (এনটিপিসি) সঙ্গে গত সপ্তাহে একটি সম্পূরক চুক্তি করেছে পিডিবি।

ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নতুন নতুন কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নেয়।

প্রথম পর্যায়ে ভারতের সরকারি খাত থেকে আড়াইশ’ মেগাওয়াট এবং পরে বেসরকারি খাত থেকে আরও আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১১ সালে উভয় দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়।

কক্সবাজার জেলায় পার্চিং পদ্বতিতে আমন ফসলের চাষ

অসীম দাশ,২৮ সেপ্টেম্বর:কক্সবাজার জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর এর উদ্যেগে আমন ফসলের বাম্পার ফলনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো পাচিং পদ্ধতি, সারিতে ধান রোপণ, সুষম সার ব্যবহার, গুটি ইউরিয়ার প্রয়োগ ইত্যাদি। জেলার ৮টি উপজেলায় এসব কার্যক্রম রয়েছে চোখে পড়ার মতো। যার সুফল ইতিমধ্যে কৃষকরা ভোগ করেছেন। তবে বেশিরভাগ উপজেলায় পার্চিং পদ্বতি ব্যবহার হচ্ছে। পাচিং এর আভিধানিক অর্থ হলো ধানের জমিতে খুটি স্থাপন করে পাখিঁর মাধ্যমে পোকাঁ নিধন। খুটিঁ থেকে খুটিঁর দুরত্ব ২৫-৩০ ফুট। কক্সবাজার জেলায় রামু ও মহেশখালীতে পাচিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পাচিং করলে কীটনাশক ব্যবহার কম হয়, ধানের ফলন ও ভাল হয়। পাচিং এর কারণে বিগত দুই বছরের চেয়ে এই বারে জেলায় কীটনাশক ব্যবহার কম হয়েছে। বলতে গেলে এটা এক ধরনের আধুনিক চাষাবাদ পদ্বতি। মহেশখালীর হোয়ানক ইউপি চেয়ারম্যান জনাব এনামুল করিম চৌধুরি জানান “পুরো উপজেলাসহ তার ইউনিয়নে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর রের্কড পরিমাণ পার্চিং, সুষম সার ব্যবহার হয়েছে। তিনি আরও জানান স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সরেজমিনে পার্চিং করার জন্য কৃষক ভাইদের উদ্বুদ্ব করেছেন। এই জন্য তিনি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।”
সুতরাং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামুতে আমনের বাম্পার ফলন হবে।

hit counter