Author Archives: editor

ফায়ার সার্ভিসে ৪৮০ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। অগ্নিকাণ্ডসহ সব দুর্যোগ মোকাবেলা করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিটি www.fireservice.gov.bd এই ঠিকানায় পাওয়া যাবে। এখানে শুধুমাত্র অবিবাহিত বাংলাদেশি নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন
কোন পদে কতজন : বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী স্টেশন অফিসার পদে ৬২ জন। স্টাফ অফিসার পদে ২৪ জন। জুনিয়র প্রশিক্ষক পদে ১ জন। ফায়ারম্যান পদে ৩৮৭ জন। ডুবুরি পদে ১ জন এবং নার্সিং অ্যাটেন্ডেট পদে ৫ জনসহ মোট ৪৮০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।
আবেদনের যোগ্যতা : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী স্টেশন অফিসার, স্টাফ অফিসার ও জুনিয়র প্রশিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। ফায়ারম্যান, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেন্ডেট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে এসএসসি বা সমমানের পাস হতে হবে। এছাড়াও এই পদগুলোতে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর উচ্চতা হতে হবে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং বুকের মাপ ৩২ ইঞ্চি। ত্রুটিমুক্ত শরীরিক গঠনসহ ওজন হতে হবে ১১০ পাউন্ড। ফায়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
আবেদনকারীর বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১ মার্চ, ২০১৮ তারিখে ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। এক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
আবেদন প্রক্রিয়া: এই পদেগলোতে নিয়োগের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ জন্য প্রার্থীকে http://fscd.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণপূর্বক নির্দেশমতো ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোডের পর আবেদনপত্র সাবমিশন সম্পন্ন হলে কম্পিউটারে ছবিসহ Application Preview দেখা যাবে। নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র সাবমিট করা হলে প্রার্থী ইউজার আইডিসহ ছবি এবং স্বাক্ষরযুক্ত একটি অ্যাপ্লিকেন্টস কপি পাবেন। অ্যাপ্লিকেন্টস কপি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে। ইউজার আইডি নম্বরটি ব্যবহার করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটকের মাধ্যমে পরীক্ষা ফি বাবদ স্টেশন অফিসার, স্টাফ অফিসার ও জুনিয়র প্রশিক্ষক পদের জন্য ১০০ টাকা অন্যসব পদের জন্য ৫০ টাকা এসএমএস করে পাঠাতে হবে। এসএমএস পাঠাতে প্রথমে FSCD<স্পেস> UserID লিখে ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে। এরপর ফিরতি এসএমএসে তাকে একটি PIN নম্বর দেয়া হবে। সেই PIN নম্বর দিয়ে তাকে আরও একটি এসএমএস পাঠাতে হবে। এজন্য প্রার্থীকে FSCD <স্পেস> Yes <স্পেস> PIN লিখে আবার ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। পরে মোবাইল ব্যালেন্স থেকে ফি কেটে ফিরতি এসএমএসে UserID ও Password জানিয়ে দেয়া হবে। পরবর্তী ধাপের জন্য এটি সংরক্ষণ করতে হবে, যা দিয়ে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে।
আবেদন করতে পারবেন : ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ এপ্রিল, বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
বেতন ভাতা: প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন ভাতা পাবেন। এক্ষেত্রে স্টেশন অফিসার, স্টাফ অফিসার ও জুনিয়র প্রশিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্তরা ১১ হাজার টাকা থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা। ফায়ারম্যান, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেন্ডেট পদে নিয়োগ প্রাপ্তরা ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা হারে বেতন ভাতা পাবেন। এছাড়াও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা থাকবে।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নন-এমপিও শিক্ষকদের জন্য সুখবর নেই আগামী বাজেটে

ডেস্ক,৩০ মার্চ:

আগামী বাজেটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ চায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্যও সুনির্দিষ্ট কোনও প্রস্তাব নেই। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষক জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্য অর্থ চেয়েছিলাম, অর্থ মন্ত্রণালয় দেয়নি। এসব বরাদ্দসহ এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ ছাড় দিলে আমরা দিতে পারবো। থোক বরাদ্দের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ দেওয়া সম্ভব। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জাতীয়করণের জন্য বাজেট চাওয়া হলেও তা দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া, জাতীয় পে-স্কেল ঘোষিত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্য বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য জন্য যে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, তাতে শিক্ষকদের এ প্রাপ্য নিশ্চিত করতে পারবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারপরও নতুন সরকারিকরণের জন্য বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে মোট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ২৩২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এরমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩০ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য পাঁচ হাজার ৭৯৮ কোটি দুই লাখ টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য নির্ধারিত ব্যয়সীমা অনুযায়ী বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৪৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে পরিচালনা ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৩০ কোটি তিন লাখ টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে সাত হাজার ৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে চার হাজার ৯৭১ কোটি ৬০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অতিরিক্ত বরাদ্দসহ এ বিভাগের মোট চাহিদা ৩০ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে চলমান ৬২ প্রকল্পের জন্য চাওয়া হয়েছে তিন হাজার ৯৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর পরিচালনা ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। পরিচালনা ব্যয় বাবদ এই অর্থ চাওয়া হয়েছে নতুন সরকারি করা ৬২৬টি স্কুল ও কলেজের বেতনভাতাসহ আনুষঙ্গিক কাজে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত ব্যয়সীমার (সিলিং) মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও বরাদ্দ চাওয়া হয়নি এই প্রস্তাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতির জন্য মন্ত্রণালয় দায়ী নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত যে ব্যয়সীমা দেওয়া হয়েছে, তাতে নতুন করে একযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। সংশোধনী বাজেটে যদি অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়, তাহলে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রাপ্য পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতাও দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারিকরণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এমন ৩২৯টি বিদ্যালয় ও ২৯৯টি কলেজের সরকারিকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এ অর্থবছরে কোনও বাজেট রাখা হয়নি। ২০১৭ সালের ৮ মে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ প্রস্তাব করেও পায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরও নতুন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ৩২৭টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ (৬২৬টি প্রতিষ্ঠান) সরকারিকরণের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৬তম বিসিএস প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক ৩০৩ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩৬তম বিসিএসের নন–ক্যাডারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৯৮৫ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগের  মধ্যে     ৩০৩ জনকে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক হিসাবে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সরকাধেরি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) পিএসসির ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষক ঘেরাও, হুমকি ছাত্রছাত্রীদের

ডেস্ক | : কলকাতার দমদমের একটি স্কুল। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চিতে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক, দুই সহকারী জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং এক স্কুল পরিদর্শক তথা ওই স্কুলের প্রশাসক। তাঁদের ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। কিছুটা তফাতে স্কুলের অন্য শিক্ষকরা।
সামনের সারিতে ছাত্রীরা। তারা কখনও টেবিল চাপড়াচ্ছে! কখনও তর্জনী তুলে প্রধান শিক্ষকের উদ্দেশে চোখা চোখা শব্দ ছুড়ে দিচ্ছে! পেছনেই ছাত্রেরা। অভিভাবকেরাও কম যান না। তাঁদের কেউ কেউ ‘জিও জিও’ বলে উৎসাহ দিচ্ছেন। মাথার ওপর হাত তুলে চলছে করতালিও।
চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত সাদা কাগজে মুচলেকা লিখে দিতে হল প্রধান শিক্ষককে। সেই কাগজে সই করলেন স্কুল পরিদর্শকও। আর সেই সময়ে অভিভাবকেরা কেউ কেউ ফের হাততালি দিয়ে উঠলেন।
বৃহস্পতিবার এমন দৃশ্যই চোখে পড়ল দমদমের পূর্ব সিঁথি ভারতী বিদ্যামন্দিরে। সেখানে ছিল পঞ্চম থেকে দশম, সব ক্লাসের পড়ুয়ারাই। ছিল এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাও। তবে উঁচু ক্লাসের ছাত্রীরাই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
ক্লাসে বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয় জল, মিড-ডে মিল, ‘সবুজ সাথী’র সাইকেল, ‘শিক্ষাশ্রী’ ও ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার দাবিতে সোমবার গেট আটকে শিক্ষকদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি ওই স্কুলের পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার সে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা পরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসেবে তিন শিক্ষাকর্তা সেখানে যান। তাঁদের সামনে পেয়ে প্রধান শিক্ষক সমীর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় ছাত্রছাত্রীরা।
একটি ক্লাসঘরে তারা আটকে রাখে প্রধান শিক্ষক ও তিন শিক্ষাকর্তাকে। হাজির হন তাদের বাবা-মায়েরাও।
অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের দাবি ছিল, প্রধান শিক্ষককে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে মুচলেকা দিতে হবে। জেলা স্কুল প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরও লিখিত আশ্বাস দিতে হবে।
এক সময়ে মুচলেকা লিখে দিতে রাজি হন প্রধান শিক্ষক। তিনি কী লিখবেন, তা তর্জনী উঁচিয়ে বলতে থাকে ছাত্রীরাই। মুচলেকায় অবিলম্বে স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনার কথা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ‘কোনও স্টুডেন্টের গায়ে হাত দেব না, কথায় কথায় হুমকিও দেব না’র মতো প্রতিশ্রুতিও।
এই মুচলেকায় জেলা স্কুল প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সই করতে রাজি হননি। এক ছাত্রী বলে ওঠে, ‘‘আমরা যেমন ভাল, তেমন খারাপ! সই না করলে বেরোতে দেব না।’’
ঘেরাও শুরু হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টা পরে বিকেলে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্তী সেনশর্মা ও জেলার যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রাজু সেনশর্মা স্কুলে যান। তার পরে বেরোতে পারেন জেলা স্কুল প্রশাসনের কর্তারা।
ছেলেমেয়েদের এই আচরণে উৎসাহ দিলেন কী ভাবে? এক অভিভাবকের মন্তব্য, ‘‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। জেলা স্কুল প্রশাসনের কর্তারা আগেও এসেছিলেন। কোনও লাভ হয়নি। মুখের কথায় কী ভাবে আস্থা রাখব?’’
প্রধান শিক্ষক সমীর বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘‘সবটাই সংগঠিত, পরিকল্পিত।’’ জেলার যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রাজু অবশ্য
বলেন, ‘‘আমার চোখে বিক্ষোভের ধরনে অন্যায় নেই। অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’’
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের শিক্ষক অভিজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘‘এ কাজে যাঁরা উৎসাহ দিলেন, এটা তো তাঁদের সঙ্গেও ঘটতে পারে। আজ স্কুলে হচ্ছে, কাল পাড়ায়, পরশু ঘরে হবে। নিয়ম ভাঙার এই আনন্দ নৈরাজ্যেরই নামান্তর।’’
প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ অমল মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগগুলি ন্যায্য হলেও তাদের, বিশেষ করে অভিভাবকদের এমন আচরণ ক্ষমা করা যায় না। স্কুলে স্কুলে বিক্ষোভের এই সংস্কৃতি সামাজিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন।’’
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৫ বছরের পর শিক্ষকতা নয়, ৬০ বছরে অবসর বদলি করা যাবে

৩৫ বছরের বেশি বয়সী কাউকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬০ বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬০ বছর পূর্ণ করা কাউকে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান বা সাধারণ শিক্ষক পদে পুনঃনিয়োগ বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা যাবে না। এমপিওর নীতিমালায় এসব কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালা চূড়ান্ত হলেও চলতি অর্থবছরে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই। তবে আগামী অর্থবছরে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব  বলেন, ‘ নীতিমালার খসড়ার ওপর অনাপত্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, নীতিমালার ওপর তাদের কাজ শেষ হয়েছে। এটি ফেরত পাঠালেই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী অর্থবছরে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ পেলেই নতুন প্রতিষ্ঠান কেবল এমপিওভুক্ত করা সম্ভব।’

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণ শিক্ষা (স্কুল-কলেজ), মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার জন্য আলাদাভাবে তিনটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। খসড়াগুলোতে এমপিও এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বা জনবল কাঠামোর আলাদা দু’টি অংশ আছে। তিনটি নীতিমালাতেই এমপিও দেয়া, শিক্ষক নিয়োগ, প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের মৌলিক শর্তগুলো প্রায় অভিন্ন। এক্ষেত্রে নীতিমালাগুলোতে কেবলমাত্র ‘স্কুল বা কলেজ’, ‘মাদ্রাসা’ এবং ‘কারিগরি প্রতিষ্ঠান’ আলাদা যুক্ত হয়েছে। ২৫ পৃষ্ঠার নীতিমালায় শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগের স্বচ্ছতা, নিয়োগের প্রাথমিক বয়স, অবসরের বয়সসীমাসহ নানা দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আছে প্রতিষ্ঠান এমপিওভক্ত হওয়ার শর্ত। প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হলে শিক্ষকও এমপিওর জন্য বিবেচিত হবেন না।

নীতিমালায় প্রথমবারের মতো স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসায়ও অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীর পথ খোলা রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার জন্য প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে বলা হয়েছে, ‘মাদ্রাসায় প্রথম-দশম শ্রেণীতে কোনো একটি ধর্মের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ বা ততোধিক হলে সেই ধর্মের জন্য একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবে।’ বর্তমানে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় ভর্তি বা তাদের জন্য শিক্ষক এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নেই।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির বিধান রেখে নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনবোধ করলে নীতিমালার মাধ্যমে বদলির ব্যবস্থা করতে পারবে। বর্তমানে এ ধরনের কোনো বিধান কার্যকর নেই। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে সম বা উচ্চতর পদে আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিলে তিনি বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন। কেউ যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ত্যাগ করেন তাহলে সর্বোচ্চ ২ বছর তার ইনডেক্স (বেতন পাওয়ার কোড) নম্বর বহাল থাকবে। এর অধিক হলে তা ‘চাকরি বিরতি’ হিসেবে গণ্য হবে।

বেসরকারি শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা নির্ণয়ে তিনটি পন্থা উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়। সেগুলো হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট পদে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা নিরূপণে এমপিওভুক্তির তারিখ অনুযায়ী হবে। এমপিওভুক্তির তারিখ অভিন্ন হলে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতকরণের বিষয় থাকলে (নিয়মিতকরণের) তারিখই যোগদানের তারিখ বলে বিবেচিত হবে। এটিও অভিন্ন হলে ব্যক্তির বয়স অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা নিরূপণ করতে হবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি সরকারের আইন-নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিধান চালু করতে পারবে কিনা তা উল্লেখ নেই। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে ১০০ নম্বরের মধ্যে দেয়া গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে। একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা এবং উত্তীর্ণের সংখ্যা- এ চারটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে দেয়া হবে। নীতিমালায় অসত্য তথ্য দিয়ে বা জালিয়াতি করে এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা কমিটি দায়ী থাকবেন বলে উল্লেখ আছে। এ ক্ষেত্রে ‘যথোপযুক্ত আইনানুগ’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও সেটা কী তা বলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্যতা, স্বীকৃতি/অধিভুক্তি, জনবলকাঠামোর আরোপিত শর্ত, কাম্য শিক্ষার্থী-ফলাফল, পরিচালনা কমিটি না থাকলে এমপিও দেয়া হবে না। এনটিআরসিএ’র মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এমপিও পাবেন না।

নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বার্ষিক কাজের মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য রক্ষা করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষকের নিজ মূল বিষয়ের বাইরে আরও ২টি বিষয়ে পাঠদানের দক্ষতা থাকতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে শিফট চালু আছে, সেগুলোয় প্রতি শিফটের একেক শ্রেণীতে কমপক্ষে ১৫০ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকতে হবে। ১৫০ জন বা এর অধিক শিক্ষার্থী থাকলেই শুধু শিফট চালু থাকবে। এ নীতিমালা জারির পর কোনো প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শিফট খোলা যাবে না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদিত মূল ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোথাও ক্যাম্পাস বা ব্রাঞ্চ খুলতে পারবে না।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবল অর্থাৎ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে জনবল কাঠামোর শর্তের বাইরে এমপিওভুক্ত অতিরিক্ত শিক্ষক আছেন তারা ‘উদ্বৃত্ত’ হিসেবে কর্মরত থাকবেন। কিন্তু ওই শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর সেই পদে আর কাউকে নিয়োগ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের কোনো প্যাটার্নভুক্ত পদও যদি শূন্য হয়, তাহলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে উদ্বৃত্ত পদের শিক্ষককে সেই (শূন্যপদে) সমন্বয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত ‘উদ্বৃত্ত’ শিক্ষক আগে সমন্বয় হবে। এ ধরনের শিক্ষকের সমন্বয় হয়ে যাওয়ার পর যদি পদ শূন্য থাকে বা হয়, তাহলে ‘নন-এমপিও উদ্বৃত্ত’ শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সমন্বয় হবে। কিন্তু ‘উদ্বৃত্ত’ শিক্ষক-কর্মচারী থাকতে কিছুতেই নতুন নিয়োগ দেয়া যাবে না। তবে একই বিষয় বা পদভুক্ত ‘উদ্বৃত্ত’ না থাকলে নতুন নিয়োগ করা যাবে। সব ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলা কোটা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। ইনডেক্স নম্বর বা নিবন্ধন সনদ ছাড়া নিয়োগ পাওয়া যাবে না। নিয়োগে এনটিআরসিএ’র মেধাক্রম/মনোনয়ন/নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

নীতিমালার নির্ধারিত যোগ্যতা ছাড়া এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত প্রধান বা সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কী হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওই ধরনের শিক্ষকরা এক ধাপ নিচে বেতন-ভাতা পাবেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত যোগ্যতাবিহীন অসংখ্য প্রধান বা সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। নীতিমালায় ওইসব শিক্ষকের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে নির্ধারিত যোগ্যতা ছাড়া এসব পদে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষায় ডিগ্রি না থাকলে বা জাতীয় বেতন স্কেলে ১০ম গ্রেড না পেয়ে থাকলে কেউ উচ্চতর গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন না। নীতিমালায় পদোন্নতি, উচ্চতর স্কেল এবং টাইম স্কেলে বিধান রাখা হয়েছে।

 

কোনো প্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করলে বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধার শতভাগ (প্রতিষ্ঠানকে) পরিশোধ করতে হবে। ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারী অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা গণনাযোগ্য হবে। তবে যোগদানের আগের বকেয়া প্রাপ্য হবেন না। ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রযোজ্য। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক পদে চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে শুধু একটি তৃতীয় বিভাগ/সমমান গ্রহণযোগ্য হবে। এ নীতিমালা জারির পর কেউ যদি বকেয়াপ্রাপ্য হন, সে ক্ষেত্রে তা পরিশোধ করা হবে না।

বাড়তি শিক্ষক পাবে প্রতিষ্ঠান : নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি নিু মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিকবিজ্ঞান বিষয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যায়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইংরেজি বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে একজন শিক্ষক থাকবেন। বাকি দুই বিষয়ের জন্য আরও একজন নিয়োগের সুযোগ থাকবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন। বর্তমানে সামাজিক বিজ্ঞান ও ভৌত বিজ্ঞানে (রসায়ন ও জীববিজ্ঞান) একজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালায় প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মচারীর সংখ্যাও বাড়ানোর প্রস্তাব আছে। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক পদ বাড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২৭ হাজার ৮১০টি। এমপিও না পাওয়া প্রতিষ্ঠান আছে আরও প্রায় ১০ হাজার। সরকার সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছিল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাত্রীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করলেন শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | : আলমডাঙ্গার ঘোষবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অসুস্থ ছাত্রী তিথিকে দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করার ঘটনায় উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ক্লাসে সেই ছাত্রীকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ক্লাসের কোন শিক্ষার্থী তিথির সাথে কথা বলতে সাহস করছে না। বুধবার তিথিকে ডেকে স্কুলে আসতেও নিষেধ করে দেয়া হয়। পরে কাঁদতে কাঁদতে তিথি স্কুল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়।
মঙ্গলবার সকালে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তিথি এ্যাসেমব্লিতে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান পালানুযায়ী তিথিকে বাথরুম পরিষ্কার করে বাড়ি যেতে বলেন। তিথি স্যারকে জানায়, সে অসুস্থ। তারপরও ডাবলু রহমান জোরপূর্বক তিথিকে দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করিয়ে নেন। এতে ছাত্রীটি আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে তিথির বাবা মন্টু সাহা এর প্রতিবাদ করতে স্কুলে এলে প্রধান শিক্ষক সাদ আহমেদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান তার প্রতি মারমুখো হয়ে ওঠেন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সাদ আহমেদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমান উত্তেজিত হয়ে অভিভাবক মন্টু সাহার দিকে তেড়ে তেড়ে যাচ্ছেন। তারা শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করার বিষয়ে সরকারী বিধিমালা আছে তাও শোনাচ্ছেন। অসুস্থ তিথি অসহায় বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
মঙ্গলবার এ ঘটনার পর বুধবার তিথি যথারীতি স্কুলে যায়। গিয়ে দেখতে পায় ভিন্ন রকম পরিবেশ। ক্লাসের কেউ তার সাথে কথা বলছে না। তারা তিথিকে জানায়, ডাবলু স্যার তিথির সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছেন। যে কথা বলবে তার পরিস্থিতিও তিথির মতো হবে এরকম হুমকি দিয়েছেন তিনি। এ সময় ক্লাস থেকে তিথিকে ডেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ডাবলু রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তিথিকে স্কুলে আসতে নিষেধ করে দেন। এই অকল্পনীয় অপমানজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে তিথি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়।[inside-ad]
তিথির বাবা জামজামী গ্রামের মন্টু সাহা বলেন, সামনে মেয়ের পিইসি পরীক্ষা। ডাবলু মাস্টার সরাসরি তিথিকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে দিয়েছেন। স্কুলে গেলেও তাকে কোনকিছু পড়ানো হচ্ছে না। ক্লাসের মেয়েদের তিথির সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছে ডাবলু মাস্টার। এই পরিস্থিতিতে তিথিও লজ্জা আর অপমানে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, অত্যন্ত প্রভাবশালী সহকারী প্রধান শিক্ষকের বাড়ি স্কুলের পাশে ঘোষবিলা গ্রামে।
প্রধানশিক্ষক সাদ আহমেদ জানান, বাথরুম পরিষ্কারের অভিযোগ তিথির বাবা প্রথমে আমাদের বলতে পারতেন। তিনি তা না করে অন্যদের বলেছেন। এ জন্য তার সাথে রাগারাগির ঘটনা ঘটে।
ডাবলু রহমান বলেন, আমরা গ্রুপিং করে বাথরুম পরিষ্কার করাই। শিক্ষকরাও সেখানে তদারকি করি। তিথির বাবা মন্টু সাহা পরবর্তীতে স্কুলে এসে ক্ষমা চেয়ে গেছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি সাহানুর ইসলাম জানান, ঘটনা শুনেছি। শিক্ষক যা করেছেন তা করতে পারেন না। শনিবার আমি এর ব্যবস্থা নিব। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০৮ শিক্ষককের এমপিও প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায়।

ডেস্ক,২৩ মার্চ: বিভিন্ন জেলার বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০৮ শিক্ষককের এমপিও প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার একই সাথে ৩টি রীট পিটিশনের চুড়ান্ত শুনানি শেষে মাননীয় বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও মাননীয় বিচারপতি কে এম. কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া এবং রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটনি জেনারেল বশির আহমেদ।

আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, রীটকারীগণ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ইতিমধ্যে রীটকারীদের প্রতিষ্ঠানের সকলের বেতন সরকারী অংশ (এম.পি.ও) পেলেও তারা পাননি তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৮৫ জন অনার্স মাষ্টার্স প্রভাষক এবং ২৩ সহকারী শিক্ষকের দায়ের করা ৩টি রীটের চুড়ান্ত— শুনানী শেষে এম.পি.ও প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে এই রায় প্রদান করে মহামান্য হাইকোর্ট।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এক হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৫ মার্চ: সারাদেশে ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওর বাইরে থাকলেও আগামী বাজেটে মাত্র ১ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এমপিওভুক্তির জন্য বাজেটে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। শিগগিরই তা ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটা অভিযোগ রয়েছে যে জমির উদ্দিন সরকারের কৃপায় উত্তরবঙ্গে অনেক এলাকায় স্কুল আছে, ছাত্র নেই। আমরা অনেকগুলো এ ধরনের স্কুল বন্ধও করেছি। এগুলো আরো বন্ধ করা দরকার। এগুলো খামাখা বানানো হয়েছে। এগুলোর কোনো জাস্টিফিকেশন নেই। এগুলো খুব জোরেশোরে বন্ধ করব।’বুধবার (১৪ মার্চ) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকেদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে অংশ নেন জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফসারুল আমীন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি নুরুল মজিদ মাহমুদ প্রমুখ।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করন শিক্ষকতায় পিএসসি উত্তীর্ণ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৫ মার্চ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন থেকে যেসব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবে, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে হলে সরকারি কর্মকমিশন (পাবলিক সার্ভিস কমিশন-পিএসসি)পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও শিক্ষকরা পাবেন না।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত দলটির একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আন্দোলনের বিষয়টি সভার আলোচনা আসলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন এই ভয়-ভীতি দেখিয়ে অযৌক্তিক দাবি আদায় করা যাবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে দ্রুত লোক নিয়োগের তাগিদ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদ,১৫মার্চ:

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে দ্রুত লোকবল নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। শূন্যপদের কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে জানিয়ে এ নিয়োগের সুপারিশ করে কমিটি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে লোকবল নিয়োগ দেয়া প্রক্রিয়াধীন। বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত লোকবল নিয়োগের সুপারিশ করেছে কমিটি। মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির কার্যক্রম জোরদার, খাদ্যে ভেজালরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, গঠিত মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে নির্মণাধীন সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। নির্মাণাধীন সাইলো ও খাদ্য গুদামগুলোর নির্মাণ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অধিক পরিমান খাদ্য মজুদ রাখার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন, মো. হাসিবুর রহমান স্বপন, খন্দকার আবদুল বাতেন এবং বেগম শিরিন নাঈম।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্থানীয় সরকারে জাফর, মালেক তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেককে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ রদবদল করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) কবির বিন আনোয়ারকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বদলি করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. নুরুল আমিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কমিটির সভা

মেহেরপুর প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কমিটির   মেহেরপুর জেলা শাখার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টাই  মেহেরপুর বিএম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  মেহেরপুর জেলার সদর,মুজিবনগর ও গাঙনী উপজেলার  প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সভা অনুুষ্ঠিত হয়।

সভায় আবু জাহিদের সভাপতিত্বে  ও প্রধান শিক্ষক তালিমের  সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরুপ দাস, সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রিয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।সভায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও টাইমস্কেল পাবার জন্য জোর পদক্ষেপ নেবার জন্য অনুরোধ করেন বক্তারা। তারা সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আরো উপস্থিত ছিলেন অ‌তি‌থি কুতুব উ‌দ্দিন, ম‌হিদুল স্যার, তা‌লিম স্যার , নওগা জেলা মোজ্জা‌মেল স্যারসহ শতাধিক শিক্ষক।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড কেন নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক,৫ মার্চ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড কেন নয় তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ সোমবার (৫ মার্চ) শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

সোমবার (৫ মার্চ) রাতে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট চিত্রা মহালদার  শিক্ষাবার্তাকেএ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমিতির মুখপাত্র এসএম ছায়িদ উল্লা  জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা প্রদানের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। পিটিশন দায়ের করেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। আবেদনে স্বাক্ষর করেন রিয়াজ পারভেজ, রিট পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. নুরে আলম সিদ্দিকী, উদ্যোক্তা মো. আলাউদ্দিন মোল্লা, মো. নজরুল ইসলাম ও খায়রুল ইসলাম,স্বরুপ দাস,এসএম ছায়িদ উল্লা সহ ৪৫ জন।

এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘১০ম গ্রেড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার। এই অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি জন্মলগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সবশেষ আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আজকের এই রুল জারিকে একটি মাইলফলক হিসেবেই দেখছি।’

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ঘোষণার পর থেকেই ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।

সমিতির সদস্যরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তখন মন্ত্রণালয় কৌশলে প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করে ১১তম (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেডে (প্রশিক্ষণবিহীন)। অথচ নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে বেতন পান।

রিটে আরও দাবি করা হয়, বিদ্যমান প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করতে হবে। এছাড়াও রিটে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-বিল আহরণের জন্য সেলফ ড্রয়িং ক্ষমতা হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধান আয়-ব্যয় কর্মকর্তার ক্ষমতা পাওয়ার দাবি করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নতুন পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী : প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নতুন পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে রুল জারির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ সংক্রান্ত্র রুলের পর মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানতে চাইলে মো. সোহরাব হোসাইন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তনে আমি নিজে কাজ করছি। একটি উপায় আমরা অবশ্যই বের করবো এবং বিশেষজ্ঞদের এ কাজে সম্পৃক্ত করবো। নতুন পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যে পদ্ধতি নিয়ে জনমনে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না।’
এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব বলেন, ‘এমসিকিউর অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা কতটুকু ভালো উদ্যোগ সে বিষয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। এই পদ্ধতিটি খুবই ঝামেলা করছে। এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমি মনে করি, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে এমসিকিউ অনেকাংশে দায়ী।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোথা থেকে হয় তার মূলে আমরা এখনও পৌঁছাতে পারিনি। তদন্ত সংস্থার সদস্যরা সমস্যার মূলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা নিশ্চয়ই এর একটা সুরাহা বের করে ফেলবেন।’
সেসব বিষয়ে প্রশ্নফাঁস হয়েছে সেসব বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হবে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এখনই বাতিল নয়, যাচাই-বাছাই কমিটি যে প্রতিবেদন দেবে, সেই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে আরও একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে যে সুপারিশ করবে, সেই সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতের রুল জারির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আদালতকে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। আমরা আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন করবো।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের জন্য প্রশ্ন প্রণয়নে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’
প্রশ্নফাঁসের হোতাদের ধরতে এর মূলে পৌঁছানোর জন্য গোয়েন্দা বাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মো. সোহরাব হোসাইন।
এর আগে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সাংবাদিকদের বলেন, আমি যেটি বিশ্বাস করি, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। নতুন করে যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের প্রাচীন পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে অচল হতে পারে’।
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়ার মতো উপায় আছে জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক, এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এরকম ব্যবস্থা করতে পারি যে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারো পক্ষে প্রশ্ন ফাঁস করার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না’।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেওয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে সনাক্ত করা যায়, কিন্তু
ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি বা সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় প্রশ্ন ফাঁসকারীর তথ্য তাৎক্ষণিক না পাওয়ায় ক্ষতি হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার
মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, আশ্বস্ত করতে পারি, আমরা তিন দিক থেকে কাজ করছি। বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ এবং পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। আমরা এরইমধ্যে একটা সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যে অবস্থাটা যাচ্ছে এই অবস্থাটাকে যাতে প্রকৃত সমাধানের জায়গায়…এটা কেবল প্রশ্ন ফাঁসের নিরাপত্তার বিষয় নয়, বস্তুত পক্ষে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাটাকে নিরাপদ করা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসে গেলেই ব্যবস্থা : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী: কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক স্কুল সময়ে উপজেলা অফিসে আসলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন,শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের বাইরে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো, টেস্ট পরীক্ষায় কোনও বিষয়ে ফেল করলে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে পাস দেখানো, পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করা হবে।</p>
বৃহস্পতিবার (১৫ই ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা, দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি’ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইকবাল মাহমুদ বলেন,‘দুর্নীতিবাজরাই সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধ করাটাই এখন বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় দুর্নীতি হলে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মণ্ডল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবু সাহেদ সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান রানা, পৌর মেয়র মাহফুজুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী, ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার, ওসি শাহ আলম, ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ফারুকী, আবুল কালাম ভূঁইয়া প্রমুখ।
এরপর দুদক চেয়ারম্যান উপজেলার চরবড়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও হাঁসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী মতবিনিময় সভা করেন। তিনি শিক্ষকদের দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান সম্বলিত ছাতা এবং শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান সম্বলিত শিক্ষা উপকরণ দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail