Author Archives: chief editor

ঈদের দিন বেড়ানো হলো না ডিপ্লোমা পাস করা শিক্ষার্থী সানোয়ারের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি,২৬জুন: ঈদে ঘোরা হলো না সদ্য ডিপ্লোমা পাস করা শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেনের (২৬)। আজ সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন বন্ধু মহসিন আলীর মোটরসাইকেলে করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের অমরখানা সেতুর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন মহসিন। মহাসড়কের পাশের পিলারে ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলের। পেছনে থাকা সানোয়ার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত মহসিনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত সানোয়ার রংপুরের প্রাইম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করেছেন। তাঁর বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ঠুনঠুনিয়া এলাকায়।

অমরখানা সেতুর এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী আনিছুর রহমান জানান, সেতুর কাছে বাঁক নেওয়ার সময় মহাসড়কের পাশের পিলারে এসে ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলের। এ সময় তিনিসহ স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নরদেব রায় জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সানোয়ারের মৃত্যু হয়েছে। আহত মহসিনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শ্রীনগরে স্কুলে লুকিয়ে থাকা দুই জঙ্গি নিহত

ডেস্ক: ১৫ ঘণ্টার অপারেশন শেষে অবশেষে রবিবার দুপুরে শ্রীনগরের ডিপিএস স্কুলের ভেতর লুকিয়ে থাকা দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঘটনায় আহত দুই সেনা সদস্য। এখনও চলছে তল্লাশি অভিযান।

সিআরপিএফ সেনাদের ওপর শনিবারের হামলার পর শ্রীনগরের দিল্লি পাবলিক স্কুলে ঢুকে লুকিয়ে পড়ে জঙ্গিদের একটি দল। এরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার ভোর রাত তিনটে বেজে চল্লিশ মিনিট থেকে জঙ্গি ও নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।

জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি এস.পি বেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে স্কুলের কর্মী ও অন্যান্য লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সূত্র:এনটিভি।

কফির সাথে সাথে আপনি পান করছেন অসংখ্য পোকা!

অনলাইন ডেস্ক: কফিতেও থাকে পোকা! কী শুনে খুব অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ আমাদের চারপাশে অসংখ্য পোকামাকড় থাকে এটা আমরা জানি। এ কারণে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কিছু নির্দিষ্ট পোকা বা পোকার খন্ডকে খাবারের মধ্যে যোগ করার অনুমতি দিয়েছে। খাদ্যের অপরিহার্য ত্রুটি হিসেবেই তারা লেবেলে উল্লেখ থাকে এবং পিনাট বাটার, চকলেট এমনকি ফল ও সব্জিতেও পোকা থাকে প্রচুর পরিমাণে।

এফডিএ খাবারের মধ্যে কিছু সংখ্যক পোকা যোগ করার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনি এতোদিন পর্যন্ত যে খাবার খেয়েছেন তার যদি হিসাব করেন তাহলে এর সাথে সাথে আপনি প্রচুর পোকাও খেয়েছেন বলতে হয়।

পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের প্রতিষ্ঠান টেরো এই তথ্যের একটি তালিকা একত্র করেছে। তারা দেখেছে যে কত সংখ্যক ছারপোকা এবং পোকার খন্ড এফডিএ খাদ্যের সাথে প্যাকেটজাত করার অনুমতি দিয়েছে। এক বছরে একজন মানুষ কত সংখ্যক পোকা গ্রহণ করেন তার হিসাব করেছেন তারা। সবচেয়ে মজার তথ্যটি হচ্ছে আপনি আপনার সকালের এক কাপ কফির সাথে কী পরিমাণ পোকা গ্রহণ করছেন তা। এটি শুনলে আপনি হয়তো দাঁড়ানো থেকে বসে যেতে পারেন! এক বছর কফি পান করার ফলে আপনি ১,৩৬,০৮০ টি পোকার খন্ড গ্রহণ করছেন!

কফির মানের উপর কী পোকা প্রভাব ফেলছে? না আপনি এদের স্বাদ অনুভব করতে পারবেন না। বস্তুত অনেক মানুষই পোকামাকড় খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন কারণ এরা টেকসই প্রোটিনের উৎস এবং এদের যখন আবাদ করা হয় তখন তা পরিবেশের উপর খুবই কম প্রভাব ফেলে। খাদ্য পণ্য থেকে একজন আমেরিকান প্রতিদিন গড়ে কতটি পোকা গ্রহণ করেন তার তালিকাটি হচ্ছে –

ফ্রোজেন বা ক্যানড জাম জাতীয় ফলে থাকে ৮৪ টি পোকা

ফ্রোজেন ব্রোকলিতে থাকে ১,৬৬০ টি পোকা

ছোট বাঁধাকপি বা ব্রাসেলস স্প্রাউট এ থাকে ৫৪ টি পোকা

চকলেট এ থাকে ৫,৯৮৮ টি পোকার দেহ খন্ড

কফির বীজে থাকে ১,৩৬,০৮০ টি পোকার দেহ খন্ড

ম্যাকারনি বা নুডুলস এ থাকে ৭,০৩১ টি পোকার দেহ খন্ড

মাশরুমে থাকে ২৫৪ টি পোকা

পিনাট বাটারে থাকে ৪০৮ টি পোকার দেহ খন্ড

ময়দায় থাকে ৯১,৬৫০ টি পোকার দেহখন্ড

 

আরো ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আরো ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ হাজার চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সঠিকভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়েই গত ৩ বছরে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩তম বিসিএসে ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস

পরবর্তী অর্থমন্ত্রী ফরাসউদ্দিন!

অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের তীব্র সমালোচনা করছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সমালোচনা থেকে একধাপ এগিয়ে জাতীয় পার্টি। তাদের সমালোচনার কারণ আগামী বাজেটে আবগারি শুল্ক, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো এবং বাড়তি ভ্যাট কেন জনগণের ওপর চাপালেন অর্থমন্ত্রী। একদিকে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমালোচনা, অন্যদিকে বয়সের ভার সামলাতে কষ্ট হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর। ৮৪ বছর হয়েছে তার। অবশ্য তিনি নিজেও কিছুদিন আগে বলেছিলেন ২০১৮ সালে এ সরকারের শেষ বাজেট দিয়ে অবসর নেবেন। আগামী নির্বাচনও করবেন না। পরে আবার মত পাল্টিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন করবেন। এই যখন অবস্থা তখন পরবর্তী অর্থমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা।একটি সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো পরবর্তী অর্থমন্ত্রীও রাখা হতে পারে সিলেট বিভাগ থেকে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজে থেকে পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দিলে অথবা আগামী একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তার স্থলে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার মাধপুরে। এ সরকারের আমলে তাকে অর্থমন্ত্রী করা হলে টেকনোক্রেট কোটায় করতে হবে। কারণ তিনি নির্বাচিত এমপি নন। কেউ কেউ বলছেন ফরাসউদ্দিন যেমন একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ তেমনি আওয়ামী লীগের অনুগতও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন ড. ফরাসউদ্দিন।

তাই তিনি অর্থমন্ত্রী হলে ষোলকলা পূর্ণ হবে। দেশ যেমন পাবে দক্ষ অর্থমন্ত্রী, তেমনি সিলেট থেকেই অর্থমন্ত্রী হওয়ার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকল। ড. ফরাসউদ্দিন অর্থমন্ত্রী হতে পারেন-এমন আলোচনা বেশি হচ্ছে ঢাকায় বসবাসরত সিলেটের মানুষের মধ্যে। কিছু রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতবিদও এমন আলোচনা করছেন। একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও অর্থনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, ড. ফরাসউদ্দিনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক। তাছাড়া তার ব্যক্তিগত ইমেজও ক্লিন। গতবছর দেশের ইতিহাসে ব্যাংকিং খাতে সবথেকে আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্তভারও ছিল তার উপর এবং তিনি অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন সরকারের কাছে। এছাড়াও অর্থনীতি বিষয়ে বড় বিপর্যয় বা দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বে থাকেন ফরাসউদ্দিন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও দিগুণ হয়েছে তার প্রতিবেদনের আলোকে। তিনি পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন। তাছাড়া পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে তার বিকল্প আর কোনো অর্থনীতিবিদ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বড় বড় অর্থনীতিবিদ থাকলেও ফরাসউদ্দিনের মতো ততটা পরিচিত নন তারা। অনেকের ধারণা সিলেটের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও এম সাইফুর রহমানের বিকল্প হতে পারেন একমাত্র ড. ফরাসউদ্দিনই। জানা গেছে অর্থনীতি বিষয়ে অধিক যোগ্যতা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সিলেট এগিয়ে থাকার কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারই সিলেট থেকে অর্থমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন। অন্য জেলা থেকে খুব কমই অর্থমন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে। বিএনপির হয়ে দেশের ইতিহাসে বেশি বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান।

তবে একটানা বেশি বাজেট দিয়েছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি এরশাদ সরকারের আমলেও একাধিক বাজেট দিয়েছেন। বিশিষ্টজনরা বলছেন, এই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মতো ফরাসউদ্দিনেরও রয়েছে মেধা, অর্থনীতি বিষয়ে পা-িত্য ও বর্ণাঢ্য জীবন। ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল ফরাসউদ্দিনের জন্ম। অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যদিও এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।

ফরাসউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সোনালী ব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান (এই পদ থেকেই ড. ফখরুদ্দীন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছিলেন), জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর। এছাড়াও অনেক সংস্থা ও কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং আছেন। বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তিনি। ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য।

প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণে প্রধান শিক্ষক পদে দূর্ণীতি

অনলাইন ডেস্ক,২৪ জুন: প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণে প্রধান শিক্ষক পদে দূর্ণিতী ব্যপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাবার্তার একটি অনুসন্ধানি টিম কিভাবে প্রধান শিক্ষক পদ পেল তা নিয়ে কাজ করছে। মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব তাদের ফাইল নোটে জাতীয়করন শিক্ষকদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক হবার যোগ্যতা নেয় বলার পর কিভাবে তারা পেল তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান।

যাদের কাছে এ বিয়য়ে কোন তথ্য আছে তারা ‍  shikkhabarta@gmail.com এ তথ্য দেবার জন্য অনুরোধ রইল।

সরাসরি আমাদের কাছে জানাতে পারেন

সম্পাদক

০১৫৫৭৬৩১০৯৭

ছাত্র শিক্ষিকা অনৈতিক সম্পর্ক অতপরঃ যা হল

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষিকা আমিনা নাজম খান (৩৬)। বিবাহিতা। শিক্ষকতা করেন লন্ডনের ব্র্যাডফোর্ডের টং হাই স্কুলে। এখানেই সরাসরি তার এক ছাত্রকে ভালো লেগে যায়। বয়সে তার অর্ধেক হলেও ওই ছাত্রকে কাছে পেতে উতলা হয়ে পড়েন তিনি। আস্তে আস্তে তাকে নিজের ফর্মুলায় নিয়ে আসেন। তাকে উত্তেজিত করতে ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের নগ্ন ছবি ও রগরগে সব মেসেজ পাঠাতে থাকেন। ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। তাদের সম্পর্ক গড়িয়েছে বিছানায়। একবার দু’বার নয়, অনেকবার। ৯ মাস ধরে চলেছে তাদের অবাধ মেলামেশা। শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল।

এতে বলা হয়, শিক্ষিকা নাজম খান যে ছাত্রকে তার শিকারে পরিণত করেছিলেন তার বয়স ১৮ বছর। তিনি ভালোবেসে ওই ছাত্রের নাম দিয়েছিলেন ‘দ্য এ টিম’। আর নিজেকে নাজম খান নাম দেন ‘বেবি’। ব্র্যাডফোর্ডে সরাসরি তাকে পড়ানোর ফাঁকে এসব চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে চলে তাদের আদিম উন্মত্ততা। এ বিষয়টি নিয়ে আচরণগত প্যানেলের কাছে নালিশ গেছে। তারাই তদন্ত করে এসব তথ্য ফাঁস করেছেন মিডিয়ার কাছে। ঘটনায় মামলা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে নাজম খানের শিকার ছাত্রটির বয়স হয় ১৮ বছর। প্যানেল তদন্ত করে দেখেছে, নাজম খান ব্র্যাডফোর্ডের ওই স্কুলে ২০০৯ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি তার ‘দ্য এ টিম’কে অনেকবার হোটেল রুমে নিয়ে গিয়েছেন। এছাড়া দূরে রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছেন দুজনে। তবে কে সেই হোটেলের বিল দিয়েছেন তা পরিষ্কার নয়।

স্কুলের তদন্তকারীদের কাছে ওই ছাত্র বলেছেন, আমরা খাবার খেতে বাইরে বেরিয়ে যেতাম। তিনি (নাজম) কখনো আমাকে কোনো কিছুর বিল দিতে দিতেন না। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচিং অ্যান্ড লিডারশিপে এক শুনানিতে ওই ছাত্র আরো বলেছেন, একদিন আমরা একটি রেস্তরাঁয় খেতে যাই। তখন ওই রেস্তরাঁয় উপস্থিত ছিল আরো একজন ছাত্র। সে আমাদের দেখে ফেলে। এরপর চারদিকে ছড়ায় কাহিনী।
ছাত্র-শিক্ষিকার এই অনৈতিক প্রেম চলতে থাকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে একদিন ওই স্কুলের একজন কর্মকর্তার কাছে একটি ই-মেইল যায়। তাতে চলমান এসব ঘটনার বর্ণনা ছিল। কিন্তু শিক্ষিকা নাজম মিথ্যা কথা বলে অভিযোগ ঢাকার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। নাজম তার প্রেমিকের সঙ্গ ত্যাগ করেন। তিনি একদিন ওই ছাত্রকে মেসেজ পাঠান ‘এখন থেকে আমাদের সম্পর্কের কথা তুমি কারো সঙ্গে আলোচনা করবে না। আমি আরো তোমাকে অনুরোধ করছি আমার সব ছবি মুছে দাও। আমার দেয়া মেসেজগুলোও মুছে দিও। কারণ, আমি চাই না স্কুল কর্তৃপক্ষ এগুলো হাতে পেয়ে আমাদেরকে আরো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলুক’।
শুনানিতে তার প্রেমিক, ছাত্র কি বলেছে, তার একটি কপি চেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার আবেদন করেছেন নাজম খান। কিন্তু তাকে তা দেয়া হয় নি। ওদিকে প্রেমিকরূপী ছাত্র আরো বলেছেন, শিক্ষিকা নাজম খান তাকে উপহার দিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হুগো বস ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি, কনসার্টের টিকিট। তবে তার এসব দাবিকে আমলে নেয় নি ট্রাইব্যুনাল।

তারা বলেছে, ‘দ্য এ টিম’ নামধারী ওই ছাত্র এখন তার শিক্ষিকার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কারণে তার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এসব বলছে। তবে সবকিছু যাচাই বাছাই করে ওই শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে আর স্কুলে যান না শিক্ষিকা নাজম খান।

সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ২৩৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক:   প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ২৩৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত্র আলাদা আদেশ জারি করে।

সহকারী সচিব থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ২২৮ কর্মকর্তা আগের পদেই কর্মরত থাকবেন এবং শিক্ষা ছুটিতে থাকা পদোন্নতি পাওয়া ৫ কর্মকর্তা ছুটি শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করবেন।

সরকারি কর্মচারীদের আয়কর হতে অব্যাহতি প্রদান।

অনলাইন ডেস্ক,২৩ জুন:

সরকারি কর্মচারীদের আয়কর হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গত ২১ জুন রাষ্টপতির রাষ্ট্রপতির আদেশকমে, সিনিয়ার সচিব নজিবর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়

Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984) Gi section 44  Gi s ub-section (4) Gi  clause (b)তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার অত্র বিভাগের ১৬ আষাঢ়, ১৪২২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন এস,আর,ও নং ১৯৮-আইন/আয়কর/২০১৫ রহিত মে, সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, ব্যতীত অবসরকালে প্রদত্ত লাম্প গ্রান্টসহ সরকারি বেতন আদেশে উল্লিখিত অনা্্ন ভাতা ও সুবিধাদিকে প্রদেয় আয়কর হইতে এতদ্দারা অব্হতি প্রদান করিল।

প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার সঙ্গে প্রতারণা জাল-জালিয়াতি

বিশেষ প্রতিবেদক:

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা নিয়ে ব্যাপকহারে জাল-জালিয়াতি, দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তাও মানা হয়নি। ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩টি স্কুল জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে তালিকা অনুমোদন করেছেন সেটি চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তালিকার বাইরের অনেক স্কুল জাতীয়করণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে তালিকার মধ্যের অনেক স্কুলকে বাদ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার সঙ্গে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এসব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুল জাতীয়করণকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যাপকহারে ঘুষ লেনদেন হয়েছে। স্কুল জাতীয়করণ বাণিজ্যের সুবাদে একটি মহল হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। ঘুষের মাত্রা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনের তালিকায় স্কুলের নাম ঢুকেছে অথবা বাদ পড়েছে। যেসব স্কুলের তদবিরকারকরা টাকা দিতে পেরেছেন তাদের স্কুলকে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। অন্যদিকে যারা টাকা দেননি বা কম টাকা দিয়েছেন তাদের স্কুলকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এ বাণিজ্যের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ পর্যন্ত কতটি স্কুল জাতীয়করণ হয়েছে প্রজ্ঞাপনভিত্তিক সুনির্দিষ্ট হিসাব মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে মন্ত্রণালয়ের মৌখিক হিসাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩টি স্কুলের কোটা পূরণ হতে আর মাত্র ৩৪টি স্কুল বাকি আছে। অর্থাৎ (২৬,১৯৩-৩৪)=২৬,১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যে জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর তালিকার ৭৩টি স্কুল আছে যেগুলো এখন পর্যন্ত জাতীয়করণ করা হয়নি। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর তালিকার (৭৩-৩৪)= ৩৯টি স্কুল কীভাবে বাদ পড়ছে? এসব স্কুলের স্থলে নিশ্চয়ই অন্য নতুন স্কুল ঢুকে পড়েছে?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারছেন না। মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সঙ্গে এ নিয়ে সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বরাবরই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একাধিকবার সময় দিয়েও তিনি তা রক্ষা করেননি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শিক্ষক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রস্তুতি হিসেবে সারাদেশ থেকে তথ্য নিয়ে আগেই এই ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩ স্কুলের তালিকা তৈরি করা হয়েছিলো। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুশাসনও নেয়া হয়েছিলো।

জানা গেছে, স্কুলের ক্যাটাগরি অনুযায়ী শুরুতে সবগুলো স্কুলকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি ধাপের সব স্কুল এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয়করণ করার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে তৃতীয় ধাপের স্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো প্রজ্ঞাপনে। দেখা যাচ্ছে, কখনো কখনো অল্প বা গুটিকয়েক স্কুলকে জাতীয়করণের জন্যও আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিন্তু কেন এভাবে দফায় দফায় আলাদা প্রজ্ঞাপন করা হলো, এর কোনো জবাব নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩ স্কুলের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোথাও প্রমাণসাপেক্ষভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। আর তাই সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষেরও চ্যালেঞ্জ করার কোন সুযোগ ছিলো না। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মর্জির উপর নির্ভর করতে হয়েছে মানুষকে। কর্মকর্তারা যখন যা বলেছেন সেটিই মানুষকে মেনে নিতে হয়েছে। কর্মকর্তারা কখনো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় ‘ওমুক স্কুল’ আছে। আবার কখনো বলেছেন, ‘নেই’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর তালিকার কথা বলে শুধুই সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে। আদতে অনেক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর তালিকা অনুসরণই করা হয়নি। কর্মকর্তারা এ মুহূর্তে অফিসিয়ালি স্বীকার করছেন, প্রধানমন্ত্রীর তালিকার ৩৯টি স্কুল জাতীয়করণের বাইরে অতিরিক্ত রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ এগুলোর স্থলে অন্য স্কুল জাতীয়করণ হয়ে গেছে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাস্তবে শুধু ৩৯টিই নয়, প্রধানমন্ত্রীর তালিকার এরকমের শত শত স্কুল রয়ে গেছে যেগুলো জাতীয়করণ করা হয়নি। এসব স্কুলের পরিবর্তে কারসাজির মাধ্যমে অন্য স্কুল ঢোকানো জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপনে। এসব স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য অথবা শিক্ষকরা ঢাকায় এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধর্ণা দিচ্ছেন। তাদেরকে আগে এক সময় বলা হয়েছে তালিকায় নাম আছে। এখন বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় নাম নেই। কিন্তু তাদের কাছে এমন কোন প্রমাণও নেই যে তারা চ্যালেঞ্জ করবেন- তালিকায় নাম আছে কি নেই। শুধুই আফসোস করছেন, তখন চাহিদামতো টাকা দিলে স্কুল জাতীয়করণ হয়ে যেতো। এ সংকটে আর পড়তে হতো না।

স্কুল জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত সার-সংক্ষেপ এবং প্রজ্ঞাপনের কপি নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত থাকার কথা। অথচ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল জাতীয়করণের এই প্রজ্ঞাপনগুলো দেখাতে পারছে না। প্রজ্ঞাপন বিষয়ে এক ধরনের লুকোচুরি চলছে বলা যায়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায়ের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই প্রজ্ঞাপনগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছিল শীর্ষ কাগজের পক্ষ থেকে। গত ৭ মে রবীন্দ্রনাথ রায় এ তথ্যগুলো সরবরাহের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। কিন্তু, ১৬ মে পর্যন্ত তিনি এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। ১৬ মে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সঙ্গে তার দফতরে সাক্ষাত করে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী শুরুতে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেদিন তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরদিন সকাল ১১ টায় এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদক পরদিন সকাল ১১টায় তার দফতরে গিয়ে জানতে পারেন, মন্ত্রী অফিসে আসেননি এবং এদিন আর আসবেনই না। এরপর ২৮ মে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কথা বলতে চাইলে সেদিনও তিনি এড়িয়ে যান। ৩০ মে কথা বলবেন বলে আবারো সময় দেন। কিন্তু, ৩০মে তিনি অফিসেই আসেননি।

অগ্রণী ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষার ফলে ‘ভুল’?

ডেস্ক,২৩ জুন: অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার ফলাফলে ‘ভুল’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন হাজারো প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, বি সেটে যাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ৬৫ থেকে ৭৫ পর্যন্ত পেয়েও উত্তীর্ণ হননি। অথচ এ সেটে ৬০ থেকে ৬৫ পেয়েও অনেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রায় দুই লাখ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন। প্রথম দফায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল হওয়ার পর গত ৯ জুন ফের এই পরীক্ষা নেওয়া হয়।  বৃহস্পতিবার এই ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রকাশিত ফলে ৮ হাজার ১৯২ জন উত্তীর্ণ হন। ১৪ জুলাই লিখিত পরীক্ষা হবে।

তবে দুপুরে ফল প্রকাশের পর তিন থেকে চার শ প্রার্থী  কাছে অভিযোগ করেছেন ফল প্রকাশে কোথায় ভুল হয়েছে। তাঁরা শুনতে পাচ্ছেন ৫৮ কাট মার্কস। কিন্তু বি সেটে ৬০ থেকে ৭৫ পেয়েও অনেকের হয়নি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও তিন থেকে চার হাজার প্রার্থী এই ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক করা আশিক আহমেদ  বলেন, ‘আমি বি সেটে পরীক্ষা দিয়েছি। অন্তত ৮০-র মতো পাব। কিন্তু আমি টিকিনি। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, কোথাও কোনো ভুল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে সেই ভুল সংশোধনের অনুরোধ করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করা রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ৭৪-এর মতো পাবেন। কিন্তু সুযোগ পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রকিব হাসান  বলেছেন, বিজ্ঞানের ছাত্ররা সাধারণ অঙ্কে ভালো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বি সেটে পরীক্ষা দিয়ে একজনও টেকেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র নবিউল হক বলেছেন, তিনি ৬৫ পাবেন। সুযোগ পাননি।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থী রুমন প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র কৃষ্ণ সাহা, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবাজি বিশ্বাস, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মোস্তফা আজাদ, ঢাকা বিশ্বিবদ্যায়লের ফিন্যান্স বিভাগের সৌরভ চৌধুরীসহ আরও অন্তত ৩০০ জন  একই অভিযোগ করেছেন।

ফেসবুকে চাকরির বিভিন্ন গ্রুপে হাজারও প্রার্থী বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। তাদের সবার দাবি, পরীক্ষার্থীরা বলছেন, ওএমআর শিটে পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল দেখা হয়েছে কম্পিউটারে। সেখানে নিশ্চয়ই কোনো ভুল হয়েছে। বি সেটে যে উত্তর ধরে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাতে কোথাও ভুল হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ অগ্রণী ব্যাংকের এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল। এই ভুলের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বর্তমান ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার পরদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির কাছে ফল পাঠিয়ে দিয়েছে। তারাই কাট মার্কস নির্ধারণ করে ফল প্রকাশ করেছে। ওএমআর খাতা মূল্যায়ন করেছে কম্পিউটার। এমন ভুল হওয়ার কথা নয়। তবে ছেলেমেয়েদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তারা ম্যানুয়ালি খাতা মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারে।’

উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তার ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাসিক ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তার মাসিক ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে মাসিক ভ্রমণ ভাতা ৫০০ টাকার পরিবর্তে তিন হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, যেসব সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলো প্রমাণ অনুযায়ী পরিদর্শনে সমর্থ হবেন তারা মাসিক তিন হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা পাবেন। প্রমাণ অনুযায়ী পরিদর্শনে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট হারে ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ হার উল্লেখ করা হয়নি।

আরও বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো ভাতা সুবিধা পাবেন না। এছাড়া ছুটি চলাকালীন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রমাণ অর্জন সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র দেবে, যা বিলের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

লন্ডনে পূর্বপরিকল্পিত ভ্যান হামলাকারি কার্ডিফের ড্যারেন ওসবর্ন

রাশিদ রিয়াজ: ৪ সন্তানের জনক ৪৭ বছর বয়সী ড্যারেন ওসবর্ন ঠান্ডা মাথায় মুসলমানদের হত্যার কথা বলতেন,হুমকি দিতেন। ফিন্সবারি পার্ক এলাকায় মসজিদ থেকে আগত মুসল্লিদের ওপর হামলার একদিন আগে কার্ডিফের একটি পাবে ড্যারেন মদ্যপ অবস্থায় এধরনের হামলার প্রতিজ্ঞা করে হৈ চৈ করে বলেও ওই পাবের আরো পানীয় রসিকরা জানিয়েছেন। শনিবার ড্যারেন নিখোঁজ হন তারপর সাদা ভ্যানটি ভাড়া করে এ হামলা ঘটান। তবে ব্রিটিশ মিডিয়া ডেইলি মেইল তাকে মানসিক অসুস্থ বলে অভিহিত করছে। সিঙ্গাপুরে জন্মগ্রহণ করেন ড্যারেন। ব্রিটেনের সমারসেট এলাকার ওয়েসটন-সুপার-মেয়ার এলাকায় বেড়ে ওঠেন। সর্বশেষ কার্ডিফে বাস করতেন তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছে পুলিশ।
ফিন্সবারি পার্ক এলাকার মসজিদ থেকে রাতে তারাবির নামাজ পড়ে আসা মুসল্লিদের ওপর ভ্যান হামলা করার পরও ড্যারেন চিৎকার করে বলেন, আমি সব মুসলিমকে হত্যা করব। আমি তা করছি। হাসিমুখে তিনি আশেপাশের ভীতসন্ত্রস্ত্র মুসল্লিদের তিনি ইশারায় চুম্বন এঁকে তা বাতাসে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষিপ্ত মানুষ তার এই হামলার জন্যে তাকে পুলিশে সোপর্দ করার জন্যে আটক করে। মসজিদটির ইমাম তাকে নিজদায়িত্বে হেফাজতে রাখার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঝগড়াটে ও ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের কারণে ৬ মাস আগেই স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়। আকণ্ঠ মদে ডুবে থাকতেন ড্যারেন। পাবে মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই মুসলমানদের প্রতি খিস্তিখেউড় করতেন। অভিশাপ দিতেন। ভ্যান হামলার একদিন আগেও মুসলমানদের হুমকি দিয়ে কোনো ক্ষতি করার দৃঢ় অভিপ্রায় ঘোষণা করেছিলেন।

সুত্রঃআমাদের সময়

কলেজ ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ফাঁস করায় তিন বখাটে গ্রেফতার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি |  জুন ২০, ২০১৭

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে কিছু বখাটে ছেলে। পরে সেই ধারণ করা নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করায় তিন বখাটেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। সোমবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে বালিয়াকান্দি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলো- বালিয়াকান্দি উপজেলার বাউনী বনগ্রাম এলাকার মো. রেজাউল মণ্ডলের ছেলে মো. শাওন মণ্ডল (১৯), তার দুই বন্ধু পাইককান্দি গ্রামের মো. আমিন মণ্ডলের ছেলে মো. সজিব মণ্ডল (২১) এবং ঢোলজানি গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে মো. ফারুক আহমেদ (২২)।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানায় এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে মো. শাওন মণ্ডলের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। কোনও এক সময় শাওন গোপনে তাদের অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ভিডিও ধারণ করে। পরে শাওন তার বন্ধুরা ভিডিও ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে। র‌্যাব বালিয়াকান্দি থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত তিন বখাটেকে গ্রেফতার করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মোবাইল থেকে নগ্ন ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক যখন ছাত্রী-শিক্ষিকার প্রধান আতঙ্ক

ডেস্ক,১৭ জুন: নারী সহকর্মীর গায়ে হাত দেওয়া, যৌন নিপীড়ন, কিশোরী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো –কোন অভিযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে? তাঁর এক নারী সহকর্মী যেমন বললেন, ‘সে বলত, এই পোশাক ভালো না, চলো আমি তোমাকে পোশাক কিনে দেব, জুতা কিনে দেব। প্রায় দিনই সন্ধ্যায় সে আমাকে ফোন দিত। ফোন দিয়ে বলত, তোমাকে নিয়ে বলধা গার্ডেনে যাব, হাতিরঝিলে যাব, পার্কে যাব। তোমাকে ফোন দিলে তুমি চলে এসো। তার ফোন দেখলেই আমি আতঙ্কে থাকতাম।’

শুধু বলেই ক্ষান্ত নন তিনি। করেও দেখান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় ক্ষমতা খাটিয়ে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের অনেক কিছু করতে বাধ্য করেন।

আলোচিত এই শিক্ষকের নাম সরদার হেলাল উদ্দিন। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক শিক্ষিকা। এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের পাহাড়।

ওই শিক্ষিকা  বলেন, গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তিনি খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ওই সময় হিজাবসহ বোরকা পরতেন। কিন্তু স্কুলটিতে যোগদানের দিনই সরদার হেলাল উদ্দিন তাঁকে জানান, এই স্কুলে বোরকা পড়া যাবে না। তখন ওই নারী শিক্ষক খেয়াল করেন, স্কুলটির অন্য শিক্ষিকারাও বোরকা পরেন না। পরে তিনি বিষয়টি মেনে নেন এবং হিজাব-বোরকা ছাড়াই কাজ শুরু করেন।

স্কুল ছুটি হওয়ার পর ওই প্রধান শিক্ষক তিনজন শিক্ষিকাকে অকারণে বসিয়ে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কাজ ছাড়াই বসিয়ে রাখত। বলত, আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি, আমাকে দেখতে এমন লাগছে। আমি যতদূর সম্ভব স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। তাঁর আচরণ সম্পর্কে স্কুলের দুজন শিক্ষিকাকে অল্প অল্প কিছু বলেছিলাম।’

ওই নারী বলেন, ‘১৩ জুন সকাল ১০টার সময় প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিন আমাকে ফোন দিয়েছে। ফোন দিয়ে বলেছে তোমার টাকা জমা দেওয়ার বইটা নিয়ে বের হও, তোমাকে নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাব। কাজ শিখানোর জন্য বোর্ডে কীভাবে এসে কাজ করতে হয় তা শিখে যাও। শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পথে রিকশায় করে শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে যায়।’

তবে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষক রিকশার হুড তুলে দেন জানিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, ‘আমি তাকে বলি স্যার হুড ওঠানোর দরকার নাই, আমি এভাবে বসতে পারছি না। রোদ নেই তবে কেন হুড উঠিয়ে দিচ্ছেন? রিকশায় কিছু দূর যাওয়ার পর সে আমার সাথে…। অনেক বাজেভাবে অশালীন আচরণ করেছে। সে আমার মোবাইলটাও হাতে রাখতে দেয় নাই, আমাকে জোরে চেপে ধরে রেখেছে। এমন সব বাজে বাজে কাজ করছিল, যা বলা অসম্ভব। এ সময় আমি লোকলজ্জার ভয়ে কিছুই বলতে পারছিলাম না। রিকশা থেকে নামার পর সে আমাকে বলে শুক্রবার আমাকে ফোন দিলে যেন আমি বের হই, সে আমাকে নিয়ে গাজীপুর যাবে। সেখানে গিয়ে তাঁর সাথে আমাকে সময় কাটাতে হবে। সে বলে ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে আমাকে দিবে।’

রিকশা থেকে নেমে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে মামলার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে স্কুলের অনেক ছাত্রী বলেছে যে তার চরিত্র ভালো না। সব কিছু মিলিয়ে আমি ১৪ জুন মামলা দায়ের করেছি। এ সময় স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল আমার সাথে। পিটি করাতে গিয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া, পিঠে হাত দেওয়াসহ ক্লাস এর ভেতরেও সে অনেক খারাপ কাজ করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এগুলো আমাকে বলেছে এবং অনেক শিক্ষার্থী এই সব ঘটনার বিষয়ে থানাতেও অভিযোগ করেছে।’

ওই নারীর মা  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর দুই ছেলে এক মেয়ে। গত বছর তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একটি বুটিক শপে কাজ শুরু করেন। সেই সঙ্গে তাঁর বড় মেয়ে সংসার চালাতে অনেকগুলো টিউশনি করতে শুরু করেন। কয়েক মাস আগে এক ভাইয়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তাঁর মেয়েকে স্কুলটিতে যোগদান করতে বলেন সরদার হেলাল উদ্দিন। তবে সেখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর ওই শিক্ষকের কুনজর পড়ে বলেও জানান ওই মা।

শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরার প্রসঙ্গে ওই মা বলেন, ‘কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় সে রিকশায় উঠে আমার মেয়ের সাথে বাসায় আসার আগে পর্যন্ত যা ইচ্ছা করেছে। এমন আচরণ করেছে যা বলতে পারছি না, আবার বলে এমন হয় এতে মনে করার কিছুই নাই। আমার মেয়ে যখন বাসায় ঢুকছে তখন হতভম্ব হয়েছে এবং কান্নাকাটি করে বাসায় ঢুকেছে। আমি জিজ্ঞাস করেছি কী হয়েছে বল। বলে না শুধু কান্নাকাটি করে। অনেক পরে বলছে, হেলাল স্যার আমার সাথে আজ এই এই করেছে। এরপর আমি নিজে প্রধান শিক্ষককে ফোন দেই, ফোনে তাকে এত কিছু বলি কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয় না। ফোন কেটে দেয়, এরপর আমার ফোন আর ধরে না।’

ঘটনার পরের দিন ওই নারী শিক্ষকের মা স্কুলে গিয়ে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শুধু আমার মেয়ে নয়, স্কুলের অনেক ছাত্রীদের সাথেই তাঁর এমন আচরণ। তাঁর বিচার হোক যেন অন্য কারো সাথে আর এমন না করতে পারে।’

স্কুলের মেয়েদের বুক ডাউন

সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবার নতুন নয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে যখন তিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে কিছু শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ‘শারীরিক শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনে হেলাল স্যার আমাদের অত্যাচার করেছে। তিনি জানেন স্কুলের মেয়েরা বুক ডাউন দিতে পারে না, তাঁর পরেও তিনি মেয়েদের বুক ডাউন দিতে বাধ্য করেছেন। আমাদের এমন সব কাজ করিয়েছেন, তাতে ছয়জন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার সরদার হেলাল স্যারের কঠোর শাস্তির আবেদন করছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হেলাল উদ্দিন সব সময় ছাত্রদের বিভিন্ন অজুহাতে আতঙ্কের মধ্যে রাখেন। আর ছাত্রীদের নানা রকম অজুহাতে গায়ে হাত দেন। এমন অভিযোগ অনেকবার স্কুল কমিটির কাছে করা হয়েছে। সর্বশেষ খিলগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ

এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খিলগাঁওয়ের স্থানীয়দের অনেক রকম অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের পাশের একটি বাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা আমরা এলাকবাসী সবাই জানি। তাঁকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই তিনি কিছু মাস্তান দিয়ে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখাতেন।’

স্কুল কমিটি ও সহকর্মীদের  অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুল কমিটির একাধিক সদস্য কাছে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘সরদার হেলাল উদ্দিনের নানা রকম অপকর্মের জন্য তাকে অনেকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে, ২০০৯ সালে অনেক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালের জুলাই মাসে তাঁর বরখাস্ত প্রত্যাহার চেয়ে তিনি একটি আবেদন করেছিলেন। ২০১১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা একটি লিখিত আবেদন করেছিল সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।’

ছাত্রদের এমন অভিযোগের পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হেলাল উদ্দিনের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। এর জবাবে তিনি কমিটির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চান বলেও জানান ওই সদস্য।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ জুন সরদার হেলাল উদ্দিনের নামে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্কুলের অন্য ছাত্রছাত্রীদের দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘কয়েক জন ছাত্রছাত্রী থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব কিছু শুনে আমরা ওই শিক্ষিকার দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করেছি এবং সরদার হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

Share
Tweet
Share
hit counter