Author Archives: chief editor

৬২৭ স্কুল নিয়ে সংকট পঞ্চম শ্রেণিতেই থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা,

নিজস্ব প্রতিবেদক ,৮ জুন : শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারিত হওয়ায় তা কার্যকরের উদ্যোগের মধ্যেই এ অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার। আগের মতোই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকের স্তর ঠিক রেখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয় ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাইলটিং হিসেবে সারা দেশে ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়া যায়নি। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছর আগে মৌখিকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় দালিলিকভাবে তা হস্তান্তর করতে পারছে না। এ অবস্থায় এখনই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ ঠিক হবে কিনা সে সম্পর্কে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এর বাস্তবতা রয়েছে কিনা, কিংবা এটার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে ভেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সায় মিলছে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সময় আসেনি বলে মত দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবে শিক্ষানীতির মূল এজেন্ডা প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার নীতি থেকে সরে আসছে সরকার। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অষ্টম শ্রেণি থেকে সরে আসার বিষয়টি পরিষ্কার করবে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষানীতি থেকে সরকার সরে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে না এটা নিয়ে চূড়ান্তভাবে বলার সময় এখনো আসেনি। কমিটি কাজ করছে। তাদের মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হোক। কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরার। আমাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি ছাড়াও অতিরিক্ত সচিব, দুজন মহাপরিচালক আছেন। তাদের নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব চিত্রটা খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইলটিং হিসেবে ২০১৩ সালে ৫০৩টি এবং ২০১৪ সালে ১২৪টি, মোট ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হয়। ওইসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এর মধ্যে গত বছর ৩৮টি বিদ্যালয়ে জেএসসিতে পাসের হার ৫০ শতাংশের কম ছিল। গত বছর প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে গড় পাস করে ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি স্কুলগুলোর রিপোর্ট সংগ্রহ করছে কমিটি। সেই স্কুলগুলোর ফল ৬০%-এর নিচে। এসব স্কুলে ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ এখানে ন্যূনতম অবকাঠামো ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নেই।
অন্যদিকে মাধ্যমিকে এখনো ৭১ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাননি। সম্প্রতি সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিদ। মাধ্যমিক শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষকের অভাব খুবই প্রকট। এ স্তরে শিক্ষার মান বেশ নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করলে জটিলতা আরো বাড়বে। ভেঙে পড়বে দুই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার মান হতাশাজনক হওয়ার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ মে : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩৪তম বিসিএস ৮৯৮ জন নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কাজ চুড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর । জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) সাফায়েত হোসেন । তিনি বলেন যে কোন সময় তাদের নিয়োগ কার্ড ইস্যু হবে।

সুত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) হাতে চলে গেছে। তাই গত মার্চে ৫ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছিল। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর, আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা রয়েছে, কিন্তু নন-ক্যাডার বিধিমালায় কোনো পোষ্য কোটা নেই।
সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে ।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৪৩ হাজার ও প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। নীতিমালা নিয়ে পিএসসির জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমরা জবাব দিয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা আপনাদের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমাদের শিক্ষক দরকার।
প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসির হাতে। পিএসসি এবং অধিদপ্তরের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে বিসিএস থেকে নিয়োগকৃতদের ১০ম গ্রেড দেবার চিন্তাভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফল প্রকাশ

রোববার প্রকাশিত এ ফলে পাশের হার ৮১ দশমিক ০৮।

এ পরীক্ষায় এক লাখ ১৯ হাজার ৩২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯৮ হাজার ১২৪ জন।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় চলে যাওয়া সাতটি কলেজের ১৫ হাজারের মত পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বদরুজ্জামান।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় চলে যাওয়ার আগে ওই কলেজগুলোর পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তারা ব্যবহারিক এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি।

“এতে করে তাদের ফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশও করা হয়নি।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ফল প্রকাশ করবে কি না; করলে কবে প্রকাশ করবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম জানান, ফল যেকোনো মোবাইল থেকে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd এবং  www.nubd.info থেকে জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
hit counter