Author Archives: chief editor

রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসার অভাবে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর ॥ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য চিকিৎসককে বার বার ডাকার কারণে দায়িত্বরত চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির ভর্তিপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন বলে জানান স্বজনরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপালে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি ফাইল থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের মা হন সদরের বাহাদুরপাড়া এলাকার হাসান আলীর স্ত্রী রীনা বেগম। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে রেফার্ড করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই দম্পতি নবজাতককে হাসাপাতলের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করান।

মৃত ওই নবজাতকের স্বজন পারভীন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, আমরা যখন ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ছিলাম তখন শিশুটি ভালো ছিল। এখানে আসার পর ভর্তি হই। কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ খবর রাখেনি। রাতে চিকিৎসার জন্য বার বার ছোটছুটি করি কেউ সাড়া দেয়নি। নার্সদের ডাকা ডাকির পরও তারা আসেনি। দু’জন নার্স এলেও তারা বলেন, আমরা এই ওয়ার্ডে ভাড়ায় এসেছি। আমরা কিছু করতে পারব না। পরে তারাও চলে যায়।

চাঁদনী নামের আরেকজন স্বজন জানান, একজন ওয়ার্ড বয় আসে। তিনি এক’শ টাকা চান লেবুনেশন করার জন্য। সেই টাকা দেয়ার পর তিনি চেষ্টা করেও লেবুনেশন দিতে পারেন নি। এরপর তিনিও চলে যান। আমরা অসহায় হয়ে পড়ি।

নিহত ওই নবজাতকের বাবা আহসান আলী জানান, আমরা চিকিৎসকের জন্য ছুটাছুটি করি কেউ আসে না। এরপর রাত দশটার দিকে আমাদেরকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়া হয়। সকাল আটটায় দিয়ে দেখি আমার বাবু মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।

আহসান আলীর স্ত্রী রিনা আখতার বলেন, আমার বুক খালি হয়েছে। আমি আর কোন মায়ের বুক খালি হতে দেব না। আমি ওদের বিচার চাই।

নবজাতকের বাবা আহসান এর বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, একজন চিকিৎসক বিরক্ত হয়ে শিশুর ভর্তি ফরম ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর সেখানকার নার্সরাই তাদের হাসপাতাল থেকে বরে হয়ে যেতে বলেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কোন দেশ? সেখানে ডাক্তার নার্সরা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি ওই চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহফুজুল হক মানিক সাংবাদিকদের বলেন, আমি ওই সময় দায়িত্বে ছিলাম না। কিন্তু শিশুর বিষয়ে জানতাম। শিশুটি জন্মের পর বায়ুপথ ছিল না। আর তার বয়স অনুযায়ী অপরারেশন করার মত অবস্থাও ছিল না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এরপরেও কোন চিকিৎকের অবহেলা থাকলে কর্তৃপক্ষ বিসয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডা: মওদুদ বলেন, আমি রংপুরের বাইরে। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পেনশন সমর্পণকারীদের জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিদেক :

এখন থেকে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান চিকিৎসা ভাতা ও বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুর পর তাদের বিধবা স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা পাবেন। বিপত্নীক স্বামী সর্বাধিক ১৫ বছর (শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীর অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে মোট ১৫ বছর মেয়াদ পূর্তির কোনো সময় অবশিষ্ট থাকলে শুধু উক্ত সময় পূর্তি পর্যন্ত) মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন। এই সুবিধা গত ২০১৬ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

তবে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী এ সুবিধা পাবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীগণ শতভাগ পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ মাসিক নিট পেনশন পেতেন তার ভিত্তিতে উৎসব ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারির আগে কোনো চিকিৎসা ভাতা বা উৎসব ভাতা উত্তোলন করে থাকলে তা তাদের পরবর্তীকালে প্রাপ্য চিকিৎসা বা উৎসব ভাতা থেকে সমন্বয় করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আপনার শিশুকে দায়িত্ব নিতে শেখান

ডেস্ক: শিশু চায় উড়তে। শিশু চায় ঘুরতে। শিশু তার নিজের মতো খেলতে চায় সারাদিন। কিন্তু তার মাঝেই শিশুকে একটু একটু করে শেখাতে হয় দায়িত্ব। বুঝিয়ে দিতে হয় খেলাধুলা, পড়াশোনা, হাসি কান্নার বাইরেও জীবনের প্রয়োজনে জীবনের কিছু কর্তব্য থাকে।আজকে যে শিশু সে হয়তো বুঝবে না দায়, দায়িত্ব, কর্তব্য কি; কিন্তু আজ শিশুটি যা দেখল বা শুনল তা একদিন তার কানে বাজবে, চোখে ভাসবে। সবটুকু মনে না থাকলেও সামান্য হয়তো টুকে নেবে তার মন। আর সামান্য সামান্য হতে হতে বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে আদব কায়দায়, দায় দায়িত্বে একদিন হয়তো পূর্ণ হবে আজকের শিশুটি।

শিশুরা পরিবার থেকেই সবচেয়ে’ বেশি শেখে। পরিবারই শিশুর মস্তিষ্ক গড়ার প্রথম এবং প্রধান কারিগর। তাই পরিবারকেই জানতে হবে শিশুটির কী প্রয়োজন। শিশুটিকে কীভাবে বড় করা দরকার। সময়ের সঙ্গে আগামীর কথা ভেবে পরিবারকেই পাঠদান করাতে হবে সুষ্ঠু ও সচেতনভাবে। মনে রাখতে হবে অভিভাবক ও পরিবারই শিশুর স্কুল। তার বাইরে আর কিছু নেই। ভালো ভালো বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবিকার পথ বাতলে দেবে, পরিবারই দেবে জীবনের পথ নির্দেশনা। বলে দেবে তিল থেকে তাল হয়, ক থেকে হয় কোকিল।শিশুকে যা শেখাতে চান তা হয়তো একদিনে হবে না। একদিনে কোনোকিছুই হয় না। একটি চর্চার মধ্যদিয়ে একটু একটু করেই সমৃদ্ধ হয় পৃথিবীর সবাই। তাই অধৈর্য বা বিরক্ত না হয়ে শিশুকে যেন সময় দেই আমরা। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চোখ রাখি সে কী করছে, কী দেখছে ও কী শিখছে। প্রতিদিন একটি একটি বিষয় যদি তার সামনে আলোচনা করি, তাকে দেখাই সেখান থেকে একটু একটু করেই সে গ্রহণ করবে।

কীভাবে শিশুকে দায়িত্ব নিতে শেখাবেন? –

  • ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন। দেখুন শিশুটি কাজ করতে আগ্রহী কিনা।
  • তার কাজ তাকে দিয়ে করানোর চেষ্টা করুন।
  • কাজে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অনেক কাজে তাকে এগিয়ে দিন টেকনিক্যালি।

  • উপদেশ শিশুরা বেশি নিতে পারে না। উপদেশ বা মুখে মুখে শেখানোর চেয়ে প্র্যাকটিক্যালি শেখান, যেন সে বুঝতে না পারে যে আপনি তাকে শেখানোর চেষ্টা করছেন।
  • তার বই-খাতা স্কুল ব্যাগটি তাকে দিয়ে রেডি করান। গুছিয়ে রাখতে শেখান। ঘরের ছোট একটি কাজের দায়িত্ব তার কাছে দিয়ে দিন এবং তার কাছে বিষয়টির খোঁজ নিন প্রতিদিন। বিষয়টিতে যেন সে আনন্দ পায় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • বাসায় অতিথি আসলে তাকে এগিয়ে দিন রিসিভ করার জন্য। কোনো ত্রুটি থাকলে পরে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন।
  • অপরিচিতদের সঙ্গে তাকে পরিচয় ও কথা বলার সুযোগ দিন।
  • কোথাও বেড়াতে গেলে তার উপর একটি দায়িত্ব দিতে পারেন। প্রথম প্রথম ভুল কিছু হবেই। ভুল করতে করেতেই ঠিক হয়ে যাবে সে।
  • স্কুলে টিচারদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় করিয়ে দিলে এবং প্রতিদিন হায়-হ্যালো করতে শেখালে তার সংকোচ দূর হবে এবং বড় জায়গায় কথা বলার জড়তা কাটবে। সে অনায়াসে কাজ করতে পারবে।
  • বিদ্যালয়ের যে কোনো অনুষ্ঠানে তাকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করুন এবং সেখানে কিছু করার সুযোগ তৈরি করে দিন।
  • বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে দিন। গঠনমূলক কাজে এগিয়ে দিন ও সাহস জোগান।
  • পাঠ্যবইয়ের বাইরে প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন প্রসঙ্গের বই পড়তে অভ্যস্ত করে তুলন। একটি বই পারে একটি মানুষকে অনেক মানুষের চরিত্র সম্পর্কে জানাতে। পড়া ও জানার বিকল্প কিছু নেই।
  • নি এম
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষকেরই মান নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক: ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষকেরই মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে ডিপিই সূত্র জানায়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগেরই প্রশিক্ষণ নেই এবং চাকরি হয়েছে পরিচালনা পর্ষদকে টাকা দিয়ে। প্রাথমিকের চার লাখ শিক্ষকের মধ্যে এই জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা এক লাখের ওপরে। এ ছাড়া রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়ের জন্য ২০১২ সালে প্যানেল করা ২৮ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষের পথে। এসব শিক্ষকের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে মানের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষা।

জরিপেও প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের হতাশার চিত্র ধরা পড়েছে। গত বছর রিসার্চ ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব কমপ্লিট এডুকেশন (রেস) প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, ‘প্রাথমিকে ১৩ ভাগ শিক্ষক পুরোপুরি সৃজনশীল বা যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন বোঝেন না। ৪২ ভাগ সীমিত পরিসরে নিজেরা বুঝলেও ক্লাসে বোঝাতে পারেন না, বাকি ৪৫ ভাগ বোঝেন। সৃজনশীল না বোঝায় ৪৭ ভাগ শিক্ষক বাজারের গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করেন। ৩৫ ভাগ সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাকি ১৮ ভাগ নিজেদের ধ্যান-ধারণা থেকে পড়ান। ’

ইউনেসকোর এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল ব্যুরো ফর এডুকেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার মাত্র ৫৮ শতাংশ। অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের হার ৯০ শতাংশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ৮২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৭৮ শতাংশ এবং মিয়ানমারে শতভাগ শিক্ষকই প্রশিক্ষিত। আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অন্যতম পছন্দের চাকরিই প্রাথমিকের শিক্ষকতা। এই পেশায় আয় ও সামাজিক মর্যাদা দুটিই বেশি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন ৩০ হাজার টাকার ওপরে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কমিশন আছে। শ্রীলঙ্কায় প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি প্রথম শ্রেণির করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের অন্যতম মর্যাদায় বসানো হয়েছে। তবে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষিতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান না। ফলে বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই সব সময় শিক্ষকের পদ শূন্য থাকে। আর যাঁরা আছেন তাঁরা মান ও মর্যাদা দুটিতেই পিছিয়ে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া

এস কে দাস: সংকট থেকে বেরোতেই পারছে না প্রাথমিক শিক্ষা। ৬৪ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১ হাজারই চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জনকে সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই নিয়োগও  গত এক বছরে হয়নি। এদিকে একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে শ্রেণিকক্ষে সমস্যা হচ্ছে। ঊর্ধ্বধন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ধীরগতির মাসুল দিচ্ছে অল্প বয়সী শিশুরা। সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজার হাজার শিশু হয়ে পড়ছে নিরাপত্তাহীন। প্রশিক্ষিত, দক্ষ শিক্ষকের অভাব তো আছেই। মোট প্রায় ৬৪ হাজার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যাও প্রায় ৩০ হাজার। প্রধান শিক্ষক ছাড়া পরিচালিত ২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজ সাধারণত একজন সহকারী শিক্ষক চালিয়ে নেন। সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে কর্মঘণ্টার বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন প্রশাসনিক কাজে।

ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়। জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়ে ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ঝড়বৃষ্টি বা প্রচণ্ড রোদের মতো বৈরী আবহাওয়ার দিনগুলোতে বড় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করলেও শিগগির সেখান থেকে মুক্তির পথ নেই। কারণ এই পদটি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং এখন এই পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির দায়িত্ব পিএসসির। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের আগস্ট মাসে ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জনকে সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু অধিদপ্তর পদোন্নতির লক্ষ্যে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে পারেনি বলে পিএসসি নিয়োগ দিতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির বেশির ভাগ পদেই সরকারি কর্মকর্তারা দশম গ্রেডে বেতন পান। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। বিসিএস থেকে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হলে দশম গ্রেডেই দিতে হবে। কারণ একই সঙ্গে সুপারিশ পাওয়া অন্যান্য দপ্তরের  প্রার্থীরাও গ্রেডে বেতন পাবেন। এখন প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দিতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়াসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান  বলেন, ‘আগে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার। ২০১৩ সালে নতুন করে যোগ হয়েছে আরো ২৬ হাজার। এখন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য জ্যেষ্ঠতা গণনা করতে হলে সবাইকে নিয়েই করতে হবে। কিন্তু নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর জ্যেষ্ঠতা তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। ফলে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা হয়ে গেলেই আমরা পিএসসিতে পাঠিয়ে দেব। আর সরাসরি নিয়োগের পুরো দায়িত্বই পিএসসির। ’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্র জানায়, পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্য আসনের ৩৫ শতাংশ নিয়োগের বিধান রয়েছে। বাকি ৬৫ শতাংশ শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। পদটি তৃতীয় শ্রেণি থাকার সময় সরাসরি নিয়োগ দিত অধিদপ্তর। এখন দ্বিতীয় শ্রেণি হওয়ায় নিয়োগ দিতে হবে পিএসসিকে। কিন্তু তাদের পক্ষে কোনোভাবেই দ্রুততম সময়ে সাত হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াটাও পিএসসির পক্ষে দুরূহ ব্যাপার।

এসব ব্যাপারে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক  বলেন, ‘এখন আমরা যেমন চাহিদাপত্র পাই সেভাবে সুপারিশ করি। যদি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বড় রিক্যুইজিশন না দেয় তাহলে আমরা প্রার্থী দেব কিভাবে? আর পদোন্নতির কাগজ এলেও আমরা আটকে রাখব না। আমরা চাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হোক। তবে তাদের নিয়োগবিধিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। মূল উদ্যোগ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। আর ৩৪তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষক পদে যে সুপারিশ গেছে এটা আমরা দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে দিয়েছি। তবে তাঁরা কোন গ্রেডে বেতন পাবেন তা মন্ত্রণালয় ঠিক করবে। ’

জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দুটি জেলার সব বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে আরো সমস্যা দেখা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে দুই জেলার প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে একজন সহকারী শিক্ষক কমে গেছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পড়ালেখা।

লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ চররহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬২০। শিক্ষকের সাতটি পদ থাকলেও আছেন পাঁচজন। এর মধ্যে আবার প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষক মো. আবুল খায়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে চারজন শিক্ষক দিয়েই চলছে লেখাপড়া। এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজা আক্তারবলেন, ‘প্রথম শ্রেণিতে ১১১ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে দুই শাখা করা যাচ্ছে না। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি শাখা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। উপজেলা সদরে বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে হয়। ফলে আমরা অনেক কষ্ট করে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু একটি ক্লাসে যদি ১১১ জন শিক্ষার্থী থাকে, তাদের ৫০ মিনিটের ক্লাসে কী শেখানো যায়?’

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ১৪০ নম্বর মাখন নিগুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৬৫। তবে শিক্ষক তিনজন। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনজন শিক্ষকের মধ্যে জাকির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা সদরে বিভিন্ন মিটিংয়ে গেলে তাঁর পক্ষে আর ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। ক্লাসের সংখ্যা পাঁচটি, শিক্ষক দুজন। ফলে এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসে দৌড়াতে হয়। আমরা নিজেরাও সমস্যায় আছি। পড়ালেখাও ভালোভাবে হচ্ছে না। ’

দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই চারজন শিক্ষক, এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনারে অংশগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। আবার শিক্ষকদের ৬০ শতাংশ মহিলা হওয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানাভাবে একজনের ছুটি থাকে। অনেক সময় বাকি একজনকেই চালাতে হয় বিদ্যালয়। ফলে দু-তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একত্র করে পড়াচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাসের সময় আড়াই ঘণ্টা। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চারটি ক্লাস এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫ মিনিটের ছয়টি ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু দুজন শিক্ষকের পক্ষে এত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক বিদ্যালয়েই কোনো রকমে দু-একটি ক্লাস করেই ছুটি দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে সিলেবাস শেষ হচ্ছে না।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসেবেই ১০ হাজার জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা। বেরিয়ে এসেছে ছাদ ও বিমে মরীচিকা ধরা রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ থেকে চুইয়ে পানি পড়ে কক্ষে। আবার অনেক বিদ্যালয়েই টিনের ঘর। সেগুলো নড়বড়ে অবস্থায় টিকে আছে। এমন দুরবস্থার চিত্র মিলবে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায়।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সালে প্রকল্প নেওয়া হলেও জরাজীর্ণ সব ভবন পুনর্নির্মান করা সম্ভব হয়নি। এখন তো প্রকল্পের মেয়াদই ফুরিয়ে গেছে।   বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি প্রকল্প চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সম্প্রতি জানা যায়। সূত্র মতে, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর নাম নিয়ে তালিকা নিয়মিতই হালনাগাদ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে একযোগে প্রায় ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি ও এনজিও পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ভবনই হয়তো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। বর্তমানে জরাজীর্ণ ও জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল  বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে জরাজীর্ণ এক হাজার ৪০০ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু হবে। আর আগামী বছরের মধ্যে জরাজীর্ণ সব ভবনের নির্মাণকাজই শুরু হবে। আপাতত সংকট কাটাতে প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব পিএসসির। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে প্যানেল থেকে ২৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বাকি নিয়োগপ্রক্রিয়াও নিয়মিত চলছে। ’

সুত্র: কালের কন্ঠ

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রবি ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস বিশ্বমানবতায় রবীন্দ্রনাথ

এস কে দাস: মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। তিনি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শনের অন্বেষণেই ছিলেন ।তিনি আমাদের রবীন্দ্রনাথ।

তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গণে যে ছাপ রেখে গেছেন, তা মুছে যাবার নয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারত- দু’দেশের মানুষের প্রাণের কবি। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনা শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য নয়।  তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য লেখনী মানুষকে আজো সেই অন্বেষণের পথে, তার উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…` গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও তার লেখা।

আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সশরীরে না থাকলেও তিনি গানে, কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, ছবিতে প্রবলভাবে রয়েছেন আমাদের মাঝে।

তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন এভাবে- ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। মেঘবরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট! রক্ত কমলকর, রক্ত-অধরপুট, তাপ বিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান।’ রবীন্দ্রনাথ প্রয়াত হওয়ার আগেই প্রয়াণ উপলব্ধি করেছেন নানাভাবে। আমরা তার কাব্যে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি শুনেছি বারবার। প্রতিবারই মৃত্যুকে জয়ের এক আরাধনাপ্রতিম প্রয়াস ছিল তার।

তিনি মৃত্যুকে বড় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে প্রিয়তমা স্ত্রীর বিয়োগে। কবি যখন দূরে থাকতেন স্ত্রী মৃণালিণী দেবীকে ‘ভাই ছুটি’ সম্বোধন করে চিঠি লিখতেন। কবির সেই ‘ছুটি’ যখন সংসার জীবন থেকে সত্যিই একদিন ছুটি নিয়ে চলে গেলেন, তার বয়স তখন মাত্র ঊনত্রিশ। কিশোর বয়সে হারান বন্ধুপ্রতিম বৌদি কাদম্বরী দেবীকে।

কবি জীবনস্মৃতিতে লেখেন : ‘জগৎকে সম্পূর্ণ করিয়া এবং সুন্দর করিয়া দেখিবার জন্য যে দূরত্ব প্রয়োজন, মৃত্যু দূরত্ব ঘটাইয়া দিয়াছিল। আমি নির্লিপ্ত হইয়া দাঁড়াইয়া মরণের বৃহৎ পটভূমিকার উপর সংসারের ছবিটি দেখিলাম এবং জানিলাম, তাহা বডডো মনোহর।’ এভাবেই তিনি সাহসের সঙ্গে মৃত্যুশোককে জয় করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়।  ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী ’প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্প’র বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মত্যুর পর ৩৬ খন্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী ’ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া ১৯ খন্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্ম’র সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে।

বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথ ভক্তদের কাছে একটি বেদনাময় দিন। জীবনের শেষ নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তার কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ লেখাটি। তারও ক’দিন পর রোগশয্যায় শুয়েই লিখলেন ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভালো। মৃত্যুর মাত্র সাত দিন আগে পর্যন্তও কবি সৃষ্টিশীল ছিলেন। ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মৃত্যু পথযাত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ঘড়িতে বেলা ১২টা বেজে ১০ মিনিট। কবি চলে গেলেন অমৃত আলোকের নতুন দেশে।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ রোববার বিকেল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘পরিবেশ, নির্মাণসংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট স্থপতি, রবীন্দ্র গবেষক ও পরিবেশবিদ অরুণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জমান। পরে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, শিশু একাডেমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনিয়ম আর শিক্ষিকাদের সাজগোজের আখড়া

ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকতে হলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু ব্রিটিশ এবং অ্যামেরিকান কারিকুলামের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গুলোতে এখনও পর্যন্ত নিদৃস্ট কোন নীতিমালা না থাকার কারণে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে প্রায় সবকটি স্কুল। প্রতিনিয়ত ক্রম বর্ধমান বেতনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। বিনিময়ে স্বল্প বেতনের অভিজ্ঞতা এবং সম্পূর্ণ ট্রেনিং ছাড়া শিক্ষক। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের সামনে যে আদর্শ, অনুপ্রেরণা, দেশপ্রেম, মূল্যবোধ এবং স্বপ্ন থাকার কথা বর্তমান স্কুল কত্রিপক্ষ তা প্রদান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন। কারণ তাঁরা মুনাফার ব্যাপারে যতটা সচেতন শিক্ষার ব্যাপারে ঠিক ততোটাই অজ্ঞ এবং অসচেতন। কারণ একটাই কোন প্রকার জবাব দিহীতা নেই।

স্কুলের প্রারম্ভে অনেক সম্ভাবনার ফুলঝুরি থাকলেও বাস্তবিক অর্থে কথার সাথে কাজের মিল নেই। শুরুতে বাইরে থেকে যতটা নিয়ম-নীতি, ভেতরে ততোটাই অনিয়ম অসামঞ্জস্য। সুন্দরী শিক্ষিকারা তাঁদের সাঁজ গোঁজ যতটা ফ্যাশন সচেতন পড়াশুনা এবং শিশুদের হ্যান্ডেল করাতে ঠিক ততোটাই অপারদর্শী।

মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা শিক্ষায়, মহানুভবতা, দায়িত্বে-কর্তব্যে, আচার-আচরণে সর্বজন শ্রদ্ধেয় হয়ে কোমল মনে স্থায়ী ছাপ ফেলবে এবং তাঁদের জীবনে সুদূর প্রসারী কল্যাণ বয়ে আনবে, এমনটাই কাম্য সকলের। কিন্তু বর্তমান সময়ে নাম করা বেশীর ভাগ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গুলো বড় লোকের মেয়ে এবং স্ত্রীদের অবকাশ যাপন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব হাই সোসাইটির মহিলারা গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি করে দিনের বেলা ঘুম চোখে স্কুলে যেয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ওপর অন্যায় আচরণ করে। রাতের নানা পার্টিতে তারা কাছে থাকা সঙ্গির কাছ থেকে, রাতে চেনা মানুষদের কাছে যে স্তুতিবাক্য চান স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাই শোনে মুগ্ধ হতে চান। তাঁদের কাছে এটাই স্বাভাবিক কেননা তাঁদের কোন ট্রেনিং নেই, রাতের পার্টি এবং দিনের স্কুলের পার্থক্য করতে পারার মত জ্ঞানও নেই। কোমল মতি শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের সাথে কেমন ব্যাবহার করতে হয় তা সম্পূর্ণ অজানা তাঁদের। স্কুলে আসা এবং যাওয়া কেবলই বিনোদন, সমাজে পরিচয় এবং নিজের গুরুত্ব বাড়ানো বৈ আর কিছু নয়।

উন্নত দেশ গুলোতে শিক্ষক হতে হলে কষ্ট করে কয়েক বছর আলাদা ট্রেনিং নিতে হয়, জ্ঞান অর্জন করতে হয়, অভিজ্ঞতা অর্জন করে করে উপড়ে উঠতে বা প্রমোশন পেতে হয়। আমাদের এখানে এসবের বালাই নেই সমাজের ক্ষমতাবান কারো সাথে সম্পর্ক থাকলেই চলে। যার কারণে শিক্ষকদের মান দিনের পর দিন বিপর্যয়ের দিকেই যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে এতো অনিয়ম সত্ত্বেও নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গুলো কি ভাবে এতো ভাল রেজাল্ট করছে! উত্তর একটাই অসহায় অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে সন্তানদের স্বার্থে তাঁদের উন্নত ভবিষ্যতের আশায় হাজার হাজার টাকা দিয়ে বাসায় প্রাইভেট টিউটর রেখে প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করছেন।

এসব প্রতিশ্রুতিহীন শিক্ষকদের খারাপ ব্যাবহার কৈশোর মনে যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে, যন্ত্রণার ছাপ ফেলে তা থেকেই পরবর্তীতে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে ড্রাগে আসক্ত হয়। ২ বছর আগে হলি আরতিজেন হামলায় এমনই একটি নাম করা স্কুলের দুজন ছাত্রকে আমরা জঙ্গি হিসেবে নির্মম মৃত্যু মুখে পতিত হতেও দেখেছি। সমস্ত দায়ভার তাঁদের পরিবারের উপর এসে বর্তেছে অথচ দিনের বেশিরভাগ সময় যে স্কুলে কাটিয়েছে সে স্কুলের কোন দায়বদ্ধতা নেই, তাঁদের কোন উত্তর নেই, আক্ষেপ নেই, পরবর্তীতে তাঁদের কোন পদক্ষেপও নেই।

এখনই এইসব স্কুল এবং অপরিণামদর্শী শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা না গেলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পতিত হবে নিশ্চিত।

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেম!

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলাভবনের একটি বিভাগে শিক্ষকদের অফিসে ছিলেন ওই বিভাগেরই এক শিক্ষক ও শিক্ষিকা। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন ওই শিক্ষকের স্ত্রী। তাঁর দাবি, তাঁর স্বামী ও শিক্ষিকার মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্ক।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বামী ও ওই শিক্ষিকাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদের কাছে নিয়ে যান ওই নারী। সেখানে গিয়ে বিচার দাবি করেন তিনি।

আটক শিক্ষকের স্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রক্টর ড. আমজাদ বলেন, সহকর্মীর সঙ্গে স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে দীর্ঘদিন দিন ধরে সন্দেহ করছিলেন ওই নারী। সন্দেহের কারণেই আজ রাতে তিনি হঠাৎ হানা দেন বিভাগে শিক্ষকদের অফিসে। সেখানে দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পান। আটক শিক্ষিকার স্বামী গবেষণার কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন।

তবে ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকা সে সময় নিজ বিভাগের প্রজেক্টের কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রক্টর।

প্রক্টর ড. আমজাদ আরো বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টা পারিবারিক, তাই বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব বিভাগের চেয়ারপারসনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন।’

এ বিষয়ে কথা বলতে ওই বিভাগের চেয়ারপারসন ও ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকদের পাঠদান বহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধ হোক

মো: সিদ্দিকুর রহমান:

কুকুর দিয়ে এমন কামড়

দিল শিক্ষকের পায়

কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে

বিষ লেগে গেল তায়

বিষের জ্বালায় ভোটার তালিকা করা দায়।

ঘটনাটি ঘটেছিল খোদ রাজধানীর খিলগাঁও ৫৬০ সি চৌরাস্তার চারতলা একটি বাড়িতে।

জানা যায়, মালিক রোকসানা খানমের বাসগৃহে একত্রে বসবাস করতো একটি কুকুর। স্বাধীন দেশের নাগরিকের মতো কুকুরটিকে বেঁধে রাখতোনা। ভোটার তালিকা হালনাগাদে নিয়োজিত মানুষ গড়ার কারিগর তাহমিনা খাতুন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিদ্যালয় ছুটির পর ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজে তিনি উক্ত বাসায় যান। তাহমিনা যথারীতি চার তলায় দরজায় টোকা দেন। দরজায় টোকা দেয়ার পর একটি মেয়ে দরজা খুলে দেয়। দরজা খোলার সাথে সাথে মেয়েটির পাশ দিয়ে কুকুরটি তাঁকে আক্রমণ করে। প্রথমে দাঁত বসিয়ে তাহমিনার পায়ে কামড় দেয়। কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাত দিয়ে ছাড়াতে গেলে হাতেও কামড় দেয়। এরপর কুকুরটি তাঁর মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।

তাহমিনা খাতুনের চিৎকারে ও কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনেও তাৎক্ষণিকভাবে ঐ বাসার কেউ এগিয়ে আসেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ির মালিক এসেই বলল, আপনি অনুমতি না নিয়েই বাড়িতে প্রবেশ করছেন কেন? কান্নাজড়িত কন্ঠে রক্তাক্ত অবস্থায় তাহমিনা খাতুন বললেন, দরজায় শব্দ করার পর একটি মেয়ে দরজা খুলে দেয়। শিক্ষকের সারা শরীর রক্তাক্ত ভয়াবহ অবস্থায় বাসার মালিকের ছেলে এসে বলে, এ কিছু না। পাঁচটা ইনজেকশান দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তারপর বলে, আপনি কি মূর্খ? কাঁদছেন কেন? তাহমিনা খাতুন বললেন, আমি একজন মাস্টার্স পাস শিক্ষক। ব্যথার যন্ত্রণায় কাঁদছি। এরকম ভয়াবহ অবস্থায় আর কোন দিন পড়তে হয়নি। বাড়িতে কুকুর ছাড়া অবস্থায় কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে একটি মেয়ে বলল, আমাদের বাসার কুকুর কীভাবে রাখবো সেটা আমাদের ব্যাপার। বাসার সামনে কুকুর থেকে সাবধান বিষয়টি লিখে রাখা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তাহমিনা খাতুন। ফোন পেয়ে তাঁর স্বামী অনেকক্ষণ পর তাকে খিদমাহ্ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে হাস

পাতালে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতার পরিবর্তে বাড়ির মালিক বা তার পরিবারের সদস্যরা দাম্ভিকতা দেখিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।

কুকুরটি উক্ত বাড়িতে জিবু আক্তার নামে এক গৃহ শিক্ষককে কামড়িয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরের দিন তাঁকে মহাখালীর আইডিডিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি না করে স্বল্পসংখ্যক ভোটারের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কার্যালয়ে বা কোন স্কুলে কেন্দ্র করে নতুন ভোটার অন্তর্ভূক্তির কাজ করা যেত। সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক যথাক্রমে জেসমিন

সুলতানা ও রীনা আক্তার বিদ্যালয়ের পেছনের বাড়িতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে গিয়ে কুকুরের আক্রমণ থেকে দৌড়ে রক্ষা পায়। স্বাধীন দেশে সভ্য সমাজে কোন কোন বাড়িতে দরজা খুলে শিক্ষক পরিচয়ের পর বসতে দেওয়ার মানিসকতা জাগ্রত হয় না। সরকারের উচ্চ মহলের নিষ্ঠুর করুণায় প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মকা-। বেসরকারি, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি অন্যান্য পেশাজীবীর কারো ওপর এর কোনো বিন্দুমাত্র ছোঁয়া নেই। মহান সৃষ্টিকর্তার নির্দয় ভালবাসা যেন উপচে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর।

সে উপচে পড়া ভালবাসার কর্মকান্ডগুলো আলোকপাত করছি:

পাঠদান বহির্ভূত কাজ: ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালফিল করা, ভোট গ্রহণ শিশু জরিপ, কৃষি শুমারি, আদমশুমারি, উপবৃত্তি তালিকা প্রণয়ন ও প্রাপ্তিতে সহযোগিতা, খোলাবাজারে চাউল বিক্রি তদারকি, বিস্কুট খাওয়ানো ও হিসাব সংরক্ষণ, কাঁচা-পাকা ল্যাট্রিনের হিসাব তথ্য সংগ্রহ করা, কৃমির টেবলেট, ভিটামিন এ ক্যাপসুলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা প্রতিযোগিতায় ৪ থেকে ৫ দিন মাঠে অবস্থান রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দর্শকের সারিতে বসে থাকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রাথমিকের অনুষ্ঠান ব্যাতিরেকেও দর্শকের সারি পূরণ করার কাজ শিক্ষকদের দিয়ে করানো হয়। নিয়মিত ও বকেয়া বেতন, সমাপনী পরীক্ষার বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে উঠে শিক্ষক শূন্য, অফিস হয়ে ওঠে শিক্ষকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ। এছাড়াও অনেক কাজে প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষাদান সম্পর্কিত কাজ: প্রত্যেক মাসে ছাত্র হাজিরা খাতায় নাম উঠানো, দৈনন্দিন উপস্থিতি-অনুপস্থিতি হিসাব সংরক্ষণ, হোম ভিজিট, উপকরণ তৈরি, দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি তথ্য, প্রাথমিক শিক্ষক সমপানী সার্টিফিকেট লেখা, বছরে তিনটা পরীক্ষা ছাড়া মডেল টেস্ট, সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষার নির্ভুল তথ্য পূরণসহ বিশাল কাজ শিক্ষকদের করতে হয়। এছাড়াও প্রগতিপত্রের রেকর্ড হালফিল করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে অভিভাবকদের স্বাক্ষর নিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রতি মাসে সকল শিক্ষকের স্বাক্ষর সংবলিত তথ্য লিখে মাসকাবারা ফরম অফিসে দাখিল করতে হয়। ১ জানুয়ারির পূর্বে বিনামূল্যে বই সংগ্রহ করে সিল মেরে শিক্ষার্থীদের কাছে বিতরণ, মাস্টার রোল রাখা, মিলাদ মাহফিল, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছুটির দিনে জাতীয় দিবস ও বিশেষ দিবস কর্মকা- করা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, স্লিপ কমিটি, বিদ্যালয়ের কল্যাণ সমিতি, শিক্ষক অভিভাবক সমিতিসহ ১১ ধরনের কমিটির সভা আহ্বান ও যাবতীয় আনুসঙ্গিক কাজ করা, বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষাসহ সমাপনী, মডেল টেস্ট পরীক্ষার খাতা দেখে রাত্র জেগে স্বল্প সময়ে ফলাফল দেওয়া, মা সমাবেশ, উঠান বৈঠকসহ অসংখ্য ফাইল হালফিল রাখতে হয়। অফিসে তথ্য পাঠানো কাজে শিক্ষকদের এক পায়ের ওপর দাড়িয়ে কাজ করতে হয়। নানা কাজকর্মে ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বহু বাৎসরিক ছুটি তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। রাজারবাগ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিতা সাহা জানান, ‘স্যার, পুরো রমজানের ছুটিটা আমি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের তদারকি করে কাটিয়েছি, শিক্ষকদের শিক্ষাদান ছাড়া নানা কাজে ব্যস্ত রাখলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা প্রাণহীন হয়ে পড়বে। এ অবস্থার

নিরসনে কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করছি:

১. বিদ্যলয়কে শিক্ষক সংকটমুক্ত রাখতে হবে।
২. এক বা একাধিক অফিস সহকারি, অফিস সহযোগী, নাইটগার্ড, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

৩. জাতীয় দিবসসহ বিশেষ দিবস কর্মদিন দেখায়ে ৭৫ দিনের ছুটির তালিকা প্রণয়ন করা।

৪. নির্বাচন সংক্রান্ত কাজসহ সরকারি অন্যান্য কাজ সম্পাদনের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত অফিস     স্থাপন করে কর্মচারির মাধ্যমে কাজ করানো। কোন অবস্থায় শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজ করতে  দেওয়া সমীচীন নয়।

৫. মাসকাবারা ফরমে স্বাক্ষর ও তথ্য বাতিল করে প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়নের ক্ষমতা দিয়ে বিদ্যালয়ে  শিক্ষকদের মাসিক বেতনসহ নানা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে পাওনার জন্য শিক্ষকদের অফিসমুখী না হতে হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।

৬. পাবলিক পরীক্ষার মত সমাপনী পরক্ষার সকল কর্মযজ্ঞ বোর্ডের আওতায় আনা প্রয়োজন।

৭. বিদ্যালয়ের ১১ ধরনের কমিটি বাতিল করে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে দাতা, অভিভাবক সদস্য ও সকল শিক্ষককে নিয়ে কার্যকর বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতি গঠন করা।

৮. পরিদর্শককে বিদ্যালয় পরিদর্শন কালীন সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিতিতে আদর্শ পাঠ বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আদর্শ পাঠ অনুসরণ করা হয় কিনা তা পরবর্তী পরিদর্শনে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বিদ্যালয়ের বাহিরের সকল কাজের চাপ কমায়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা মানহীন হওয়া থেকে রক্ষা আজকের দিনে অতীব জরুরী। শিক্ষকদের প্রতি মর্যাদাবোধ সকলের মাঝে জাগ্রত হোক এ প্রত্যাশা।

মো. সিদ্দিকুর রহমান: আহবায়ক, প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরাম ও দৈনিক শিক্ষার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ফল পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট : কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশÑ প্রচলিত এ প্রবাদটি এখন মিলছে পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে টাকা গচ্চা দিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা, আর ব্যবসা বাড়ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের। কারণ তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের প্রবিধান যুগোপযোগী না হওয়ায় প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা। চ্যালেঞ্জ করেও মেলে না কাক্সিক্ষত ফল।
ফল পুনর্মূল্যায়ন কী, এ সম্পর্কে ধারণাই নেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শুধু জানা আছে, নিজের ফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তুষ্টি থাকলে তা দূর করতে ফল প্রকাশের পরদিন থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিপত্রের জন্য তাদের গুনতে হয় ১৫০ টাকা করে। অথচ আবেদনের পর বোর্ড কী করে তাদের ফল মূল্যায়ন করল তা শিক্ষার্থীরা জানলই না।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ড. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষার ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন করা হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র মূল্যায়ন হয়ে থাকে। অথচ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ অন্য পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিয়মটা পুরোপুরি উল্টো। তাই এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ বোর্ড উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে না। তারা মূলত উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে তুলতে ভুল হয়েছে কিনা কিংবা প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কিনাÑ এসব দেখে।

দশ বছরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার সর্বনিম্ন। এ বছর পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। পাস করেছেন ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ পরীক্ষার্থী। আর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এদের মধ্যে কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৬ শিক্ষার্থী। প্রায় তিন লাখ পত্রের বিপরীতে তারা বোর্ডগুলোকে দিয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা।

এদিকে ঢাকা বোর্ডে আবেদনকারী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শামসুন্নাহার বলেন, খাতা পুনর্মূল্যায়ন মানে উত্তরপত্র নতুন করে দেখা। কিন্তু আমি জানতে পেরেছি, বোর্ড থেকে যা করা হয় তা হলোÑ নম্বর গণনা কিংবা কোথাও নম্বর দিতে ভুলভ্রান্তি হয়েছে কিনা সেসব বিষয় মিলিয়ে দেখা। বিষয়টি জেনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতো অজস্র অভিভাবকেরও ধারণা, তাদের আবেদনের পর পুনর্মূল্যায়ন করা হয় উত্তরপত্র।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপকমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার বলেনÑ এখন পত্র এবং রচনামূলক, নৈর্ব্যত্তিক আলাদা আলাদা নম্বর প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী দুই এক নম্বরের জন্য কাক্সিক্ষত গ্রেড পাননি। এসব শিক্ষার্থীই ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছেন। কোনো একটি বা দুইটি বিষয়ে জিপিএ-৫ পাননি, সে বিষয়গুলোয় চ্যালেঞ্জ করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আর উচ্চমাধ্যমিকে এ সংখ্যা আরও বেশি হয়। কারণ এ ফলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি যুক্ত।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে ৪৭ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ পত্রের ফল পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজিতে। এ বিষয়ের দুটি পত্রের আবেদন পড়েছে ১২ হাজার ৩২৫টি। চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৪ হাজার ৯৪৯ পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এ বোর্ডেও ইংরেজি প্রথম পত্রে ৬ হাজার ৪৮৮টি আবেদন পড়েছে। সিলেট বোর্ডে ৬ হাজার ১২৬ পরীক্ষার্থী ১৭ হাজার ৬৯৪টি পত্রের ফল পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। বরিশাল বোর্ডে ৩৬ হাজার ৪১৩টি পত্রের জন্য আবেদন করেছেন ১২ হাজার ৩১৪ আবেদনকারী। রাজশাহীতে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১২ হাজার ২৭০ শিক্ষার্থী ৩১ হাজার ২৪৫টি পত্রের আবেদন করেছেন। যশোর বোর্ডে ১১ হাজার ২৩১ জন আবেদন করেছেন ২৩ হজার ৪৬৬টি পত্রের নম্বর বদলের জন্য। দিনাজপুর বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ হাজার ৪৬ পরিক্ষার্থী ২১ হাজার ২৬টি পত্রের বিপরীতে আবেদন করেছেন। এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করা কুমিল্লা বোর্ডেও আবেদনের হিড়িক পড়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এই বোর্ডে আবেদন করেছেন ১২ হাজার ৭০ শিক্ষার্থী। তারা ৩৩ হাজার ৭৩৩টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছেন। এই বোর্ডে ইংরেজিতে ফল খারাপের জন্য সার্বিক ফলাফলেও প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে আবেদন পড়েছে ১২ হাজার ৯৭০টি। আইসিটিতে আবেদন পড়েছে ২৮ হাজার ১৫টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৪ হাজার ৯১৭ শিক্ষার্থী ফল পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছেন ১০ হাজার ২৪৩ জন। দৈনিক আমাদের সময়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবশেষে বদলি হলেন শিক্ষা অধিদপ্তরের সেই পরিচালক

ডেস্ক: জুনিয়র সহকর্মীর দাপট সইতে না পেরে স্বেচ্ছায় বদলি হয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক ড. মো: শফিকুল ইসলাম তালুকদার। তিনি মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের  অধ্যক্ষ পদে বদলি হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২রা আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রমতে, বদলি হয়ে যাওয়ার আগে সেই ‘দুর্নীতিবাজ’ জুনিয়র সহকর্মী একই শাখার সহকারি পরিচালককে কারণ দর্শানোরে নোটিশ দিয়েছেন। গত বছর দেড়কোটি টাকার কেনাকাটার হিসেব দিতে পারেনি সহকারি পরিচালক মান্নান চৌধুরী।

তারা দুজনই বি সি এস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক।

সাবেক শিক্ষাসচিব মো: নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসনের অভাব দীর্ঘদিনের। এর অবসান না হলে সুশিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন করা দক্ষ প্রশাসকের কাজ।

দৈনিক শিক্ষা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাচ দফা দাবী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী পহেলা সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব প্রদানে কালক্ষেপণসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। দাবি না মানলে গণঅনশন করবেন তারা।

শুক্রবার (৪ই আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ। এসময় প্রধান শিক্ষকদের চলতি পদে দায়িত্ব প্রদানসহ এসব দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান শিক্ষকদের করস্পন্ডিং প্রদান পূর্বক ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটের মর্যাদা প্রদান এবং সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদান করা, সহকারি শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে পরিচালক পর্যন্ত সর্বস্তরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া, সমাপনী পরীক্ষা ব্যতীত বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন সকল পরীক্ষা পূর্বের ন্যায় বিদ্যালয় ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরীসহ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা, শিওরক্যাশসহ পাঠদান বহির্ভূত কাজ হতে শিক্ষকদের মুক্ত রাখা এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নতির ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা ও প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি নন ভেকেশনাল হিসেবে গণ্য করা।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব প্রদানে কালক্ষেপনসহ উল্লিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

দাবি মানা না হলে ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের পর ১৬ই আগস্ট থেকে ৩০শে আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে উপজেলা, জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের একত্রিত করে সভার আয়োজন করবে এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। ১৯শে সেপ্টেম্বর সারাদেশের শিক্ষকদের সমন্বয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এছাড়া ১৯শে অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সারাদেশের শিক্ষকদের সমন্বয়ে মহাসমাবেশ ও গণঅনশন কর্মসূচি দাবি মানা না পর্যন্ত পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, রাজশাহীতে শিক্ষার্থী গ্রেফতার

রাজশাহী সংবাদদাতা: তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের পর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আল-মামুন নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া আল-মামুন (২৪) নাটোরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে পুঠিয়া উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সমশের আলীর ছেলে।

এর আগে গত বুধবার নির্যাতিত ওই নারী নিজে বাদী হয়ে মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, স্বামী পরিত্যক্ত ওই নারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে তার ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার এজাহারে ২৩ বছর বয়সী ওই নারী বলেছেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর মামুন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হন।

এরপর বিয়ের কথা বলে গত ১৫ মে মামুন তাকে রাজশাহী শহরে নিয়ে যান। কিন্তু কাজী না থাকার অজুহাতে তিনি তাকে বিয়ে না করে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

শুধু তাই নয়, গোপনে ওই ঘটনার ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয়। এরপর মামুন ওই নারীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে এবং তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

কিন্তু ওই নারী এতে রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৫ জুলাই মামুন ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুঠিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রলয় কুমার প্রামানিক জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে মামুন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে নাটোর থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়। পরে দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালতে তার সাত দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

আদালত মামুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিদ্দিকুরের চোখের অপারেশন শুরু

জাহিদ হাসান : বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় সিদ্দিকুরের অপারেশন শুরু হয়েছে, বলে জানিয়েছেন সিদ্দিকুরের সহপাঠী ও বন্ধু শেখ ফরিদ। শুক্রবার বিকালে তিনি এ তথ্য জানান।

শেখ ফরিদ বলেন, ‘শংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসক লিঙ্গম গোপাল এই অপারেশন করবেন।’ বাংলাদেশ থেকে সিদ্দিকুরের সঙ্গে যাওয়া জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল এহসান মেনন তাদেরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিদ্দিকুরের বন্ধু শেখ ফরিদ বলেন, ‘সিদ্দিকুর মানসিকভাবে সুস্থ ও শক্ত আছেন ও সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

এর আগে, ২ আগস্ট সিদ্দিকুরের অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। বৃহস্পতিবার সেগুলোর রিপোর্ট পাওয়ার পর সবকিছু ঠিক থাকায় চিকিৎসক লিঙ্গম গোপাল শুক্রবার অপারেশনের দিন ঠিক করেছেন বলে জানিয়েছিলেন শেখ ফরিদ।

উল্লেখ্য, পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হওয়া নতুন সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে গুরুতর আহত হন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। পরে তার চোখের চিকিৎসার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসরা তাকে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান। বাংলা ট্রিবিউন অবলম্বনে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারি শিক্ষক

মেহেরপুর প্রতিনিধি |

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কে পেটালেন কম্পিউটারের সহকারি শিক্ষক আইউব আলী। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) মেহেরপুর সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২রা আগস্ট) কম্পিউটার শিক্ষক বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার হাজিরা খাতায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত দেখান। এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আল মামুন ও অফিস সহকারী আশিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ফরম পুরনের টাকা ব্যাংকে জমাদেন। এতে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আইউব আলী ক্ষিপ্ত হন। তিনি বিদালয়ে এসে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আশিকুর রহমানকে মারধর করে। এ সময় শিক্ষদের উত্তেজনা দেখে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করলে অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয় ছুটির ঘোষণা দেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, গত তিনদিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। গতকাল শিক্ষা অফিসার এসে কম্পিউটার শিক্ষককে বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখাতে বললে আমি তাকে অনুপস্থিত দেখাই। আজ বিদ্যালয়ে এসে রফিকুল ইসলাম হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন। আমার কাছে কারণ জানতে চান। এছাড়াও তার অনুমতি ছাড়া ফরম পুরনের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে কেন জানতে চেয়ে বকাবকি করতে থাকেন। এক পর্যায় তিনি আমাকে বিদ্যালয়ের চেয়ার তুলে পেটাতে থাকেন।

সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) আইউব আলী বলেন, ১৩ বছর চাকরি করছি বেতন পাইনা। বিদালয়ের সার্বিক প্রশানিক কাজ হেড মাস্টারকে নিয়ে আমি করে থাকি। বাকি যারা আছে তারা সবাই নিকট আত্মীয়। আমি যে কোন কাজ করলে তারা হিংসায় জ্বলে। আমি ১৫ দিনের জন্য নির্বাচনের ভোটার হালনাগাদ কাজে আছি। এ জন্য গতকাল বিদ্যালয়ে যাইনি। তারা আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছে। আবার হেড মাস্টার ফরম ফিলাপের দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে। কিন্তু এরা আমাকে বাদ দিয়ে ফরম ফিলাপ করেছে। এ ফরম  ফিলাপের ভুল হলে দায় দায়িত্ব কে নেবে। এ কারণে আমার রাগ হয়েছে তাই আমি চেয়ার তুলে টেবিলে মারলে চেয়ারটি ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া আমি কাউকে মারিনি।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ দিনের ছুটিতে বাইরে আছি। তবে রফিকুল ইসলামকে পিটানোর ঘটনাটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেনেছি। শনিবারে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে বসা হবে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা আফিসার হোসনে মোবারক বলেন, শিক্ষক আইউব আলী শিক্ষককে পিটিয়ে অন্যায় করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
hit counter