Author Archives: chief editor

প্রেস কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁস করত : সিআইডি

ঢাকা: ঢাকার ইন্দিরা রোডের একটি প্রেসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে আসছিল। এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এই প্রেসে ছাপা হতো ভর্তির প্রশ্ন।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, তিনজন রিমান্ডে এবং দুজন গ্রেপ্তার আছেন।

আজ রাজধানীর মালিবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

মোল্যা নজরুল জানান, সর্বশেষ গতকাল বুধবার জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাইফুল ইসলামকে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খান বাহাদুরকে। তিনি এই প্রেসের কর্মচারী। যার মাধ্যমে মূলত প্রশ্ন ফাঁসের সূত্রপাত।

তিনি বলেন, খান বাহাদুররে সঙ্গে পরিচয় ছিল সাইফুল ইসলামের। সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় ছিল রকিবুল হাসান নামের আরেকজনের। মূলত এই তিনজনের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিভিন্ন জায়গায় ছড়ায়। এই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আর চলতি বছর এই পরীক্ষা নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ থেকে ৭ লাখ টাকার লেনদেন হতো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নিয়ে লেকহেড স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ

ঢাকা: হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে নিয়ে রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও সেনাবাহিনীর শিক্ষা কোর থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
জঙ্গি মদদের অভিযোগে গত ৬ই নভেম্বর স্কুলটি বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরদিন স্কুলটি সিলগালা করে দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ধানমন্ডি ও গুলশানে অবস্থিত লেকহেড গ্রামার স্কুলের কার্যক্রম বন্ধের আদেশের বিররুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন দায়ের করা হলে সিভিল পিটিশনের রায় অনুযায়ী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।
উক্ত আদেশে লেকহেড গ্রামার স্কুলের সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল কর্তৃক মনোনিত একজন সদস্যকে ম্যানেজিং কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেনাবাহিনীর শিক্ষা কোর থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নির্বাচিত নারী ডিন সাদেকা হালিম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৯৬ বছরের ইতিহাসে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অনুষদটিতে এর আগে কোন নারী ডিন হিসেবে নির্বাচিত হয়নি।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ডিন হিসেবে অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সমর্থন দেয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সমর্থনে এই প্রথম সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নেতৃত্বে আসল একজন নারী ডিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ২৭(৫) ধারা এবং অধ্যাদেশের (২য় খ-) নির্বাচন সংক্রান্ত ১৮ নং অধ্যায়ে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সকল-শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বয়স বিভ্রান্তিতে সরকারি স্কুলে ভর্তি

ডেস্ক : এবার স্কুলে ভর্তি ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে শিশুর বয়স ৬+ বছর হতে হবে। এই হিসাব করে অন্য শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। জানুয়ারিতে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে ১১+ বছর। অন্যদিকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নেয়া শিশুদের বয়স ১০+ বছর। আর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েছে। এ অবস্থায় সন্তানের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাখ লাখ অভিভাবক। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।

অভিভাবকরা বলছেন, এ বছর হঠাৎ করেই ভর্তির বয়সসীমা এক বছর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স ন্যূনতম ৬ বছর (লটারি), তৃতীয় শ্রেণির জন্য ৮ বছর এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবে তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীর বয়স যথাক্রমে ৭ এবং ১০ বছরের বেশি, কিন্তু ৮ ও ১১ বছরের কম। অন্য বছর ৭+ এবং ১০+ বছরের শিক্ষার্থীরাই এ দুটি শ্রেণিতে ভর্তি হতো। তারা বলেন, হঠাৎ বয়স বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তে বেশি অসুবিধায় পড়েছে পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী দেয়া শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো. মোস্তফা কামাল মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, অন্য শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পূর্বের নিয়ম বিদ্যমান রয়েছে।

১ ডিসেম্বর থেকে দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানীর ৩৫টি সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। অনলাইনে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন চলবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ল্যাবরেটরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরেবাংলা নগর গভ. বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, মতিঝিল গভ. বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরেবাংলা নগর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

গতবারের মতো ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মহানগরের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোকে ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১২টি ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১২টি স্কুল রয়েছে। লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২০ ডিসেম্বর এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ভর্তি পরীক্ষা ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।

‘এ’ গ্রুপের স্কুল হচ্ছে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, রূপনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরখান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ জামাল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ফিডার শাখা)।

‘বি’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গভ. মুসলিম হাই স্কুল, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুল, ধানমণ্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী এম এ গফুর সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, বঙ্গমাতা শেখ ফাজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জুরাইন শেখ কামাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল (ফিডার শাখা)।

‘সি’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টিকাটুলী কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, ও গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ শেখ রাসেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ভাসানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ফিডার শাখা)।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দুদকের ৩৯ সুপারিশ

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, এমপিওভুক্তি ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নসহ শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের জন্য ৩৯টি সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানের পর সরকারের কাছে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর প্রেরণ করেছেন দুদক সচিব ড. ম. শামসুল আরেফিন।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা একটার দিকে রাজধানীর দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুদক সচিব ড. ম. শামসুল আরেফিন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে কোনভাবেই বাণিজ্য হিসেবে দেখতে চায় না দুদক। বিগত ছয় মাস শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছে কমিশন। টোটাল প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমাধানের জন্য এ সুপারিশ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, কমিশনের প্রতিবেদনে দুর্নীতির উৎস, দুদকের আইনি ম্যান্ডেট এবং এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে দুদকের বিশেষ টিমের সদস্যরা। এই প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নোট/গাইড ও কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, নিয়োগ ও বদলিসহ বিভিন্ন প্রকারের দুর্নীতির উৎস এবং তা বন্ধের জন্য ৩৯ টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানিক টিম’ এর প্রধান ছিলেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন। দুই সদস্যের এই টিমের অপর সদস্য ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

banglatribune

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করণ হচ্ছে আরো ৩৭ হাইস্কুল

ঢাকা: জাতীয়করণ করা হচ্ছে আরো ৩৭টি হাইস্কুল। উপজেলা পর্যায় থেকে এ হাইস্কুলগুলোকে বাছাই করা হবে বলে জানা গেছে।
এসব স্কুল জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনার চিঠি মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩৭টি হাইস্কুল জাতীয়করণ করতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।
স্কুলগুলো হলো, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার শহীদ আসাদ কলেজিয়েট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সখীপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কক্সবাজার পেকুপা উপজেলার পেকুয়া মডেল জিএসসি ইনস্টিটিউশন, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার পরশুরাম মডেল পাইলট হাইস্কুল, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চান্দিনা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, নালঙ্গকোট উপজেলার নাঙ্গলকোট এআর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল বহুমুখী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনোহরগঞ্জ উপজেলার মনোহরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শাহারাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দেবগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বিজয়নগর উপজেলার দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কমলনগর উপজেলার হাজীরহাট মিল্লাত একাডেমী, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মঙ্গচণ্ডী নিশিকান্ত মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দুপচাঁচিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শাহজাদপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার শাহজাদপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া উপজেলার তেতুঁলিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনার তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেংগা ফজলুল হক মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোরের চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা শাহাদাৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিকরগাছার ঝিকরগাছা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর উপজেলার কেশবপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শার্শা উপজেলার শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কোটচাঁদপুর মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহেশপুর উপজেলার মহেশপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাখেরগঞ্জ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গৌরনদী উপজেলার গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরগুনার তালতলী উপজেলার তালতলী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পটুয়াখালীর রাঙ্গবালী উপজেলার মৌডুবী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাটোরের লালপুর উপজেলার করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
মাউশিকে দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি স্কুল-কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের ধারাবাহিকতায় ৩৭টি স্কুল জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিপ্রাপ্ত ৩৭টি স্কুল দ্রুত পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে এসব স্কুলে সব ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্মতি হস্তান্তরে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, স্কুলগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাব। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্মতি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুখ ফেরাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বিদেশিদের ভর্তি সংখ্যা গত কয়েক বছর থেকে হ্রাস পাচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেদিকে ছুটছেন। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যা কমলেও বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সূত্র মতে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৬ এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে মাত্র ৩৫৫ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেছে। অন্যদিকে দেশের চলমান ৯০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে ১৯২৭ বিদেশি শিক্ষার্থী ।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১০ সালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২১০ জনে, আবার ২০১২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ জনে, ২০১৩ সালে আবারও প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী কমে দাঁড়ায় ৩২৬ জনে, ২০১৪ সালে একশ বেড়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩২ জনে, ২০১৫ সালেও অন্তত দেড়শ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯৩ জন এবং সর্বশেষ ২০১৬ তে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ জনে। অর্থাৎ ছয় বছর আগে ২০১০ সালে যা ছিল তার চেয়ে চারজন কম শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেছে ২০১৬ সালে।

এদিকে, ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১৫৪৮ জন। ২০১৬ সালে ৩৭৯ শিক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯২৭ জনে।

২০১৬ সালে সব থেকে বেশি অন্তত ৩৪ শিক্ষার্থী এসেছে মিসর থেকে। তারা ৩৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এছাড়া ইউনাইটেড আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৩২, ফিলিপাইনের ৩১, মিয়ানমারের ৩০ জন।

এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, গিরিসন, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ভরত থেকেও পড়াশোনা করতে দেশে এসেছে শিক্ষার্থীরা। সব থেকে কম শিক্ষার্থী মাত্র একজন এসেছে ভারত থেকে।

ইউজিসির প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, প্রতিবছরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ বর্তমানে দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষার কোর্স-কারিকুলাম, সিলেবাস ইত্যাদি দেখে বাংলাদেশে পড়তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ  (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, কানাডা, ইত্যাদি) থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে এসেছে। সে কারণে বর্হিবিশ্বে একদিকে যেমন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে অপরদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমন আগ্রহের পেছনে চারটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ কম, আফ্রিকান দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া-পরিবেশ অনেক ভালো, শিক্ষার গুণগতমান ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা এবং উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম জা‌গো নিউজকে‌ বলেন, পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ভ‌র্তি পরীক্ষায় অ‌নেক জ‌টিল প্র‌তি‌যো‌গিতায় সফল হ‌ওয়া ক‌ঠিন বিষয়, অথচ সহজেই অ‌নেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যা‌চ্ছে। ফ‌লেই এমন প‌রি‌স্থি‌তি সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে। ‌বি‌দেশি শিক্ষার্থীরা সেসব বিশ্ব‌বিদ্যালয় থে‌কে সহ‌জেই ডি‌গ্রিও পে‌য়ে যা‌চ্ছে।

‌তি‌নি আ‌রও ব‌লেন, বিশ্বের বি‌ভিন্ন দেশে ভ‌র্তিসংক্রান্ত ক্যাম্পেইন করে বেসরকা‌রি বিশ্ব‌বিদ্যালয়, যেটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে সম্ভব হয় না। এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সু‌যোগ-সুবিধার অভাব র‌য়ে‌ছে, যা বেসরকা‌রি‌তে মিল‌ছে। এ কার‌ণে পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে বি‌দেশি শিক্ষার্থীদের ভ‌র্তি কম‌ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী না বাড়ার কারণ হচ্ছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য তেমন প্রচার প্রচারণা করে না। তাছাড়া যেসব দেশে এক সময় উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না সেসব দেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ফলে ওইসব দেশ থেকে শিক্ষার্থী তেমন আসে না। যেমন, ভুটান, নেপাল, মালায়শিয়াতে এক সময় উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। এখন তারা অনেক উন্নত। আবার বেশিরভাগ দেশে উচ্চশিক্ষার চেয়ে কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি জোর দিয়েছে। এ কারণেও তারা উচ্চশিক্ষা নিতে বাংলাদেশে আসে না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি না নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের কোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি বা পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলেও আদেশ দেন আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। আদালত বলেন, শুধু অতিরিক্ত ফি না দেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দিলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ‘ফাঁসে’ নয়জন আটক, ১১৩ প্রাথমিকে পরীক্ষা স্থগিত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদরে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকার মেসে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।

আটকরা হচ্ছেন- মো. কাজিম, রফিকুল ইসলাম, রতন মিয়া, আব্দুর রহিম, মো. কামরুল, মোস্তাফিজুর রহমান, রিয়াজ মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন ও জাকির হোসেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বুধবার সদরের ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি শ্রেণির সকল বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে প্রশাসন।

বিদ্যালয়গুলোর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান ও ধর্ম পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। এতে বুধবার পূর্ব-নির্ধারিত ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রাথমিকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সকল বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রাথমিক ওই তিন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নিয়ে অর্থ বিভাগের নভেম্বর ১৫’র ‘গোঁজামিলের আদেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই আদেশকে ‘অস্পষ্ট’ ‘অসম্পূর্ণ’ ও ‘গোঁজামিলের’ আদেশ বলে আখ্যায়িত করেছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রধান শিক্ষকেরা। আদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরাই শুধু লাভবান হয়েছেন। দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানান প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নেতারা। শিক্ষক নেতারা বলেন, ওই আদেশে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
১৫ নভেম্বরের আদেশের ফলে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডেই রয়ে গেছেন। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা তিনটি টাইম স্কেল পেয়ে অষ্টম গ্রেডে বেতন পাবেন। জাতীয়করণকৃতরাও একই সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।যদিও নিয়ম অনুযাযী তারা পাবেন না। কারন জাতীয়করনকৃত প্রধান শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি হয় ২০০৮ সালে। অর্থাৎ ২০০৮ সালে সবাই পদ্দোন্নতীপ্রাপ্ত। সেই হিসাবে জাতীয়করনদের পাবার কথা নয়। কিন্তু শিক্ষা অফিস এবং হিসাব বিভাগ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে তাদের উন্নীত স্কেল দেবার সম্ভাবনা খুব বেশি।

প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা কি সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে ওপরের গ্রেডে বেতন পাবেন? সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আবার ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্তরা অষ্টম গ্রেড পাচ্ছেন না। বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে টাইম স্কেল পাওয়া-না-পাওয়া নিয়ে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা জানান, ৯ মার্চ ২০১৪’র পর যারা টাইস স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫’র পর যারা টাইম স্কেল প্রাপ্য হয়েছেন, তারাও ১৫ নভেম্বরের আদেশে ক্ষুব্ধ।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বঞ্চনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ১৫ নভেম্বরের আদেশে দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা উন্নীত স্কেলের বেতন নির্ধারণী সুবিধা পচ্ছেন না। তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদার ঘোষণা দেয়া হলেও তা পাননি, বেতন স্কেলের সুবিধাও তাদের কপালে জুটল না। এটা মানতে নারাজ প্রধান শিক্ষকেরা। তিনি বলেন, বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে অর্জিত সরকারি সুবিধা শুধু যেন ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া না হলে, হিতে বিপরীত হবে।
বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়  প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক  স্বরুপ দাস বলেন, ১৫ নভেম্বরের আদেশে ৯ মার্চ ২০১৪’র থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫’ পর‌্যন্ত  যারা টাইস স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন  তাদের ব্যাপারে সুনিদিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত নেই। ফলে তারা কি করবেন তা নিয়ে পড়েছেন দিধাদ্বন্দতে । এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পযায় থেকে আসেনি কোন সিদ্ধা্ত।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা না হলে, বেতন নির্ধারণের সব ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এটিকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৬০১। এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৫০ হাজারের মতো। অন্য সব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ ৫০ হাজারের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৫ হাজার ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১০ হাজারের কাছাকাছি।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল দুই ধাপ উন্নীত করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায় তিন বছরের দাবি-আন্দোলন, দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠকের পর গত ১৫ নভেম্বর যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ অংশই বাদ পড়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ফলে উন্নীত বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার নি¤œরূপ নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ক) বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার পূর্বে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ যিনি যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত পূর্বে তার সর্বশেষ আহরিত/প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ঐ ধাপে, ধাপে না মিললে বি.এস.আর. ১ম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নি¤œধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পি.পি. হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত পি.পি (চবৎংড়হধষ চধু) পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে সমন্বয়যোগ্য হবে।
খ) বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার পূর্বে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে যিনি যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত পূর্বে তার সর্বশেষ আহরিত/প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ঐ ধাপে, ধাপে না মিললে বি.এস.আর. ১ম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নি¤œধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পি.পি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত পি.পি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।
গ) উক্ত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণকালে মাঝখানে কোনো বেতন স্কেল/গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ লাখ টাকা ঘুষ দাবি স্কুল সভাপতির

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু শাখারীদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক ভাবে প্রভাবশালী দুই পক্ষের দ্বন্ধের জেরে এক পর্যায়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের অবসর জনিত কারণে পদটি শূন্য হয়। তাই প্রধান শিক্ষক ও একই সাথে পিয়ন পদে বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়। প্রধান শিক্ষক পদে ১০ জন ও পিয়ন পদে ৯ জন আবেদন করেন। রেজুলেশন করে নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য তোড়জড়ের মুহুর্তে প্রধান শিক্ষক পদে ১৮ লাখ ও পিয়ন পদে ৯ লাখ টাকার দর ওঠে। টাকা ভাগাভাগী ও যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ নিয়ে ঠান্ডা লড়াই শুরু হলে স্কুল সভাপতি শেফালী খাতুন ও এলাকার মানুষ জেলা শিক্ষা অফিসার মকছেদুল ইসলামের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। এরপর এলাকায় ফিরে গিয়ে সভাপতির পক্ষের লোকজন জোর পুর্বক নিয়োগ বোর্ড গঠনের রেজুলেশন করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বিপাকে পড়েন।

প্রধান শিক্ষক প্রার্থী পয়িানপুর গ্রামের আব্দুল আলীম জানান, তার কাছে সভাপতি ও তার ছেলে ১৮ লাখ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে নিয়োগ দেয়া হবে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শাখারীদহ গ্রামের মসিউর রহমানও টাকা দাবি করার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

স্কুলের বিদ্যুৎসাহি সদস্য মওলা বক্স জানান, প্রধান শিক্ষক ও পিয়ন পদে টাকা দাবি করছেন সভাপতির ছেলে ড্যানী আহম্মেদ। তাদের কারণে এলাকায় অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে অভিভাবক সদস্য শরিফুল ইসলাম তার জামাই আব্দুল লতিফকে পিয়ন পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ৯ লাখ টাকা নিয়ে ঘুরছেন এমন অভিযোগও করেন কেও কেও।

বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, আমি শুনেছি পদ কেনা বেচা হচ্ছে। এ অবস্থায় নিয়োগ বোর্ড গঠিত হলে খুনোখুনি হতে পারে। তিনি এই মুহুর্তে নিয়োগ বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার মকছেদুল ইসলাম জানান, নিজেরা সমঝোতায় না আসলে নিয়োগ বোর্ডের অনুমতি দেয়া হবে না। তবে যোগ্য শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, উচ্চ আদালতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ প্রত্যাশি চার জনের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে দুটি পদে আপাতত নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে স্কুল সভাপতি শেফালী খাতুনের পক্ষে তার ছেলে ড্যনি আহম্মেদ জানান, আমরা আদালতের কোন নির্দেশনা পায়নি। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি তার মায়ের বিরুদ্ধে পদ বিক্রি ও টাকা দাবি করার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবনে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে বলে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী জানান।

রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এবার ভোটার ছিলেন মোট দুই হাজার ১০ জন। গণনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের ১৫টি পদে এ নির্বাচনে বরাবরের মতই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থক শিক্ষকদের দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বামপন্থি শিক্ষকদের গোলাপী দল গতবছর আলাদা প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তারা প্রার্থী দেয়নি।

এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাব চত্বর এলাকা সকাল থেকেই শিক্ষকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। ভিসি চত্বর থেকে নীলক্ষেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তোরণ পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার দুইধারে ভোট দিতে আসা শিক্ষকদের গাড়ির ভিড় দেখা যায়।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থক নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

আর বিএনপি সমর্থক সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পরিসংখ্যান বিভাগের  অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

নীল দলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক মাকসুদ কামাল মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যাংকিং এন্ড ইনসুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য।

সাদা দলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সিনেট সদস্য। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য।

গত কয়েক বছর ধরে এই শিক্ষক সমিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্যানেল জয়ী হয়ে আসছে। তার আগে টানা কয়েকবার বিএনপি সমর্থকরা এই সমিতির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

নীল দলের সভাপতি প্রার্থী অধ‌্যাপক মাকসুদ কামাল নিবার্চন চলাকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষকরা আমাদের ভোটের মাধ্যমে জয়ী করবেন- এটা প্রত্যাশা করি, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসাবে আমাদের প্যানেল শিক্ষকদের দাবি পূরণে অব্যাহতভাবে অবদান রেখে আসছে।

“২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন সামনে রেখে আমরা যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছি, তাতে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষকরা আমাদের জয়যুক্ত করবে, এটাই আশা করি।”

সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যদি জিততে পারি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই, তাহলে শিক্ষক সমিতির ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করব। শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন সচল রাখব।”

তিনি বলেন, “শিক্ষকরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনয় রেখে ভোট দেবেন এবং আমাদের বিজয়ী করবেন বলেই আমরা আশা রাখি।”

নীল প্যানেলের প্রার্থী

সহ-সভাপতি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. ইমদাদুল হক; যুগ্ম-সম্পাদক  ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী; কোষাধ্যক্ষ একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন  আহমেদ।

সদস্য প্রার্থীরা হলেন- গণিত বিভাগের অধ্যাপক  চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জিনাত হুদা, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মাদ সামাদ, লেদার এন্ড টেকনোলজি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিউটিটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখ, ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান,খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন  অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান,ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুদ্দিন ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর দে।

সাদা প্যানেলের প্রার্থী

সহ-সভাপতি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, যুগ্ম-সম্পাদক ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন; কোষাধ্যক্ষ মার্কেটিং বিভাগ অধ্যাপক  এ বি এম শহিদুল ইসলাম।

সদস্য প্রার্থীরা হলেন- প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মাদ জসীম উদ্দিন, জিন প্রকৌশল  ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মাদ নাজমুল আহসান, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের মো. ইসরাফিল প্রাং , ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী বিভাগের অধ্যাপক মো. হাসানুজ্জামান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জরুরি প্রয়োজনে ‘৯৯৯’ কাল চালু হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার \ নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে উন্নত দেশগুলোর মতো জাতীয় ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ‘৯৯৯’ নম্বরের সম্প্রসারিত ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার।

সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি কল করে জরুরি পুলিশি সেবা, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। কেউ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহায়তা চাইলে সার্ভিসের প্রশিক্ষিত এজেন্টরা জরুরি মুহূর্তে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন।

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে কল সেন্টারটি সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ৯৯৯-এর ব্যবহার, প্রচার ও কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ারনেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রথম ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ‘৯৯৯’ এর কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে। ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সার্ভিসটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২ টাকায় খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব

পোস্ট অফিসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ব্যাংকিং সুবিধার (আন ব্যাংকড) আওতায় আনতে ডাক টাকা চালু করেছে ডাক বিভাগ। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ‘ডাক টাকায় উদ্বোধন করেন। ডাক ও টেলিযোগযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘ডাক টাকা’ হচ্ছে একটি ডিডজটাল ওয়ালেট। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে উক্ত ওয়ালেটটি ব্যবহার করা যাবে এবং এর মাধ্যমে মাচেন্ট ও খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ডিজিটাল ইকোসিমেস্টমের সাথে যুক্ত হওয়া যাবে। ‘ডাক টাকা’ এর মাধ্যমে কার্ড, অ্যাপ ও এমপিওএসসহ বিভিন্ন চ্যানেলে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে (কেনাকাটা-লেনদেন)। নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) এবং কিউআর (কুইক রেসপন্স ) কোড সুবিধা রাখা হয়েছে।

জয় বলেন, ডাক বিভাগের টেকনিক্যাল পার্টনার অয়েনমেন্ট সুইচ প্রোভাইডার (আইটিসিএল) এবং এই সেবা প্রদানকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ডি-মানি এর মাধ্যমে খুব সহজেই ডাক টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে পোষ্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট করা যাবে। নামমাত্র ব্যালেন্স জমা করার মাধ্যমে নাগরিকরা বিনামূল্যে ডাক টাকা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। দেশের পোষ্ট অফিসগুলো এভাবেই যাত্রা শুরু করেছে ‘ডিজিটাল ইকোনোমি’র দিকে ।

তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের এ সেবা উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি আরও আনন্দিত যে, সর্বনিম্ন দুই টাকা রেখে এ অ্যাকউন্ট খোলা যাবে। এছাড়াও অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে দুই টাকা ব্যালেন্স রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ৫ টাকা দিয়ে।

তিনি জানান, এছাড়াও বিপিও এর সকল ডিজিটাল সার্ভিস একীভ’ত করার মাধ্যমে বিপিও এর সেবা প্রদানের ধারা অব্যাহত রাখবে ডাক টাকা। আর ডাক টাকা ব্যবাহারকারীরা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে লেনদেন করতে পারবেন। আজ ডাক টাকা প্লাটফর্ম এর উদ্বোধন করা হলো। তিন মাসের মধ্যে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে তিন কোটি আনব্যাংকট জনগোষ্ঠীকে এই ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনাই ডাক টাকার লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ বিভাগ ও এর অধীস্ত দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ওজন বৃদ্ধি পেলে হবে ক্যানসার!

শরীরে জমতে থাকা মেদ যদি একবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তাহলেই যত বিপদ-আপত্তি! কী বিপদ সেই প্রশ্ন জাগছে মনে, তাই তো? সম্প্রতি একটি স্টাডি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে ডায়াবেটিস রোগ বাসা বাঁধার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, আর এক সময়ে গিয়ে ডায়াবেটিস ডেকে আনে ক্যান্সার রোগকে!

কথাটা শুনে যতই অবাক হন না কেন, দা ল্যান্সেট ডায়াবেটিস অ্যান্টি এন্ডোক্রিনোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত এক স্টাডি অনুসারে ওজন বৃদ্ধি, সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস যদি সঙ্গী হয় তাহলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। তাই তো গবেষকরা “বি এম আই” বা বডি মাস ইনডেক্স সব সময় ২৫ এর নিচে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে বি এম আই এর থেকে উপরে গেলেই বিপদ!

প্রসঙ্গত, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন নামক সংস্থা “ভাইটাল সাইন” নামক একটি রিপোর্চ প্রকাশ করেছে। তাতে যা লেখা রয়েছে তা শুধু কপালে ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং ভয়ঙ্করও বটে! কী লেখা রয়েছে সেই রিপোর্টে জানেন?

ধাপে ধাপে একাধিক কেস স্টাডিকে তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন যে ওজন বৃদ্ধির কারণে ক্যান্সার রোগ কিভাবে শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে। এই বক্তব্যটা যে বেজায় ফেলনা নয়, তা আমেরিকায় হওয়া একটি সমীক্ষাতেও প্রমাণিত হয়েছে। সেদেশ ওবেসিটির শিকার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের শরীরেই ক্যান্সার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার পিছনে অতিরিক্ত ওজনকেই দায়ি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার নামক সংস্থার করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিশেষ ধরনের কিছু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে অন্যতম হল মাল্টিপাল মাইলোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা, থাইরয়েড ক্যান্সার, পোস্ট মেনোপোজাল ব্রেস্ট ক্যান্সার, গলব্লাডার, স্টমাক, লিভার, কিডনি, ওভারি, ইউটেরাস এবং কলোরেকটাল ক্যান্সার প্রভৃতি।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ করা বেশ কিছু রিপোর্টে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এদেশে যুবসমাজের সিংহভাগই ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে। আর এর পিছনে মূল কারণ হল অনিয়ন্ত্রিত জীবন এবং জাঙ্ক ফুডের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা। এমন অবস্থায় আমাদের দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যত যে বেজায় অন্ধকারে, তা বলা যেতেই পারে। কোনও ভাবেই কি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব! তবে তার জন্য ওজন কমানোটা একমাত্র উপায়।

তবে এক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যাও দেখা দিচ্ছে আজকাল। কী সেই সমস্যা? স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে অনেকেই ওজন কমাতে তো চাইছেন, কিন্তু প্রতিদিন জিমে যাওয়ার সময় করে উঠতে পারছেন না। ফলে যে তিমিরে থাকার সেই তিমিরেই রয়ে যাচ্ছেন!

এক্ষেত্রে জিমে না গিয়েও আরেকভাবে ওজন কমানো যেতে পারে। তবে তার জন্য ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। গবেষকদের মতে বাড়িতে নিয়মিত হাল্কা চালে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি প্রতিদিন যদি কয়েকটি সবজি খাওয়া যায়, তাহলে ওজন কমতে পারে চোখে পরার মতো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
hit counter