Author Archives: chief editor

সর্বনাশের ষোলকলা : নবজাতকদের দলে আনবেন কবে?

হাসান হামিদ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার, আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি দেশের কোন রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করি। আমি সেদিন মাথা নাড়িয়ে না বলেছিলাম। আমি খুব ছোট বেলা থেকেই দেখছি, ক্লাসের যে ছেলেটি টেনেটুনে পাশ করে কিংবা একই ক্লাসে অনেক দিন ধরে পড়ে, সেই ছেলেটি রাজনৈতিক দলের সে পর্যায়ের কর্ণধার এবং অবিভাবকমহল ধরেই নিয়েছেন তাদের গুণ্ডা মার্কা ছেলেটি ধীরে ধীরে নেতা হয়ে উঠবে। আর তারপর অনেক দূর।

পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দেশের মতো রাজনীতি করে ছাত্ররা? কখনোই না। তাহলে আমাদের দেশে যারা বলেন, ছাত্ররাজনীতি দরকার তারা কী ভেবে বলেন? ছাত্র রাজনীতি দরকার, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়। আসলে আমাদের বড় বড় রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থে ও ক্ষমতার মোহে ছাত্রদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত; লজ্জাজনক সেশনজট লেগেই আছে; যে কোন মুহূর্তে আপন সন্তান লাশ হয়ে ঘরে ফেরার অজানা আশংকায় অভিভাবকরা প্রহর গুণেন। কত মেধাবী ছাত্র অকালে ঝরে পড়েছে তার হিসাব রাখে কে?
বর্তমানের ছাত্র রাজনীতি আমাদের যা দিয়েছে, নিয়েছে তার শতগুণ। আমাদের মনে আছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার মেধাবী ছাত্র আবু বকরের লাশ পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মৃত্যুর পর তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। বেঁচে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা দেশের ভালো কাজ করার অংশীদার হতে পারতেন তিনি। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিলেও কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭৪জন ছাত্র। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কোন না কোন ছাত্র সংগঠনের দখলে।
এদেশে ভর্তি বানিজ্য, সীট দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এখন লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতির স্বাতন্ত্র্যিক বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল আরেক দলের সঙ্গে অথবা একই দলের দু’গ্রুপের মধ্যে যেভাবে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় এবং যে ভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র, দা, চাইনিজ কুড়াল, কাটা রাইফেল, চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়ে, সে দৃশ্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করে। চিহ্নিত ক্রিমিনালদের লালন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেশি সংখ্যায় ক্রিমিনালদের সংগঠনে রাখতেই হবে। নিরীহ ছাত্রদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোন উন্নত দেশেতো নেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নেই। কংগ্রেস, বিজেপি, ও সি. পি. এম-এর মতো দলের নেতারা ছাত্রদের রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহারকে রীতিমত পাপ ও গর্হিত কাজ মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ পৃথিবীর বহু দেশে কোন সেশনজট নেই। নির্দিষ্ট সময়ে সেমিষ্টার শেষ করা বাধ্যতামুলক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের ছেলে মেয়েদের বিদেশী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান যাতে দুলাল-দুলালীরা নিরাপদে থাকতে পারে। হত দরিদ্র, প্রান্তিক কৃষক, ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা দলীয় রাজনীতির বলি, কারণ তাদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পড়া লেখা করা সম্ভব নয়। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্র। তাঁরা মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতেন ও যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতেন। এ ঐতিহ্য এখন আর নেই। এখন সব ধরণের নিয়োগ হয় দলীয় বিবেচনায়। ডীন, ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রভোস্ট নিয়োগে শিক্ষকদের ভোটের প্রভাব আছে। তাই শিক্ষক নিয়োগের চাইতে ভোটার নিয়োগের প্রয়াস প্রাধান্য পায়। দল নিরপেক্ষ অথবা প্রতিপক্ষ দলের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্র-ছাত্রীকে ফার্ষ্ট ক্লাস না দিয়ে নিজের দলের ক্যান্ডিডেইডকে ফার্ষ্ট ক্লাস দেওয়ার নজীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুরি ভুরি। এভাবে ফার্ষ্ট ক্লাস পাওয়া ছাত্ররাই দলীয় ছত্র ছায়ার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। এ অবস্থা বেশী দিন চলতে দেয়া যায় না। এ কলংকজনক প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। সরকার বা বিরোধীদল ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে, কারণ তাদেরকে দলীয় স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হবে। ক্ষমতায় আরোহনের সিঁড়ি হচ্ছে তাঁদের কাছে ছাত্র রাজনীতি।
আমাদের সবার মনে রাখা দরকার যে, দেশের ছাত্র জনগোষ্ঠী আমাদের সন্তান, ভাই ও আপনজন। তাদের জীবন নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। মানব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। জ্ঞানার্জনের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ছাড়া ছাত্রজীবন অর্থহীন। অর্জিত জ্ঞানের আলো নিয়েই তাকে সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ছাত্র ভবিষ্যত জীবনে কি ধরনের ব্যক্তি রূপে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার প্রস্তুতির উপর। আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলার সাধনা চলে ছাত্রজীবনে। অধ্যয়ন ও নিয়মানুবর্তিতা ছাত্র জীবনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। রীতিমত অধ্যয়ন, সৎগুণাবলী অর্জন ও কর্তব্যনিষ্ঠা ছাড়া মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তাই আমাদের উচিৎ ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে নেয়া এবং অধ্যয়নে মনোযোগী করা।
কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে কেনো রাজনৈতিক দল করবে আমি বুঝি না। একেক জন একেক ভাবে কেনো বিভক্ত হবে, আমি বুঝি না। জাতীয় কোন স্বার্থ নিয়ে এরা একসাথে আন্দোলনে নামবে, দেশের জন্য, সাধারণের দাবির জন্য সবাই এক হয়ে শ্লোগান দেবে, একসাথে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখবে, এটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দল করার নামে ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে এরা যখন একেক জন মস্ত তেলবাজ হয়, তখন এটা ভেবে আমার খারাপ লাগে খুব। মায়া হয় এদের জন্য। এরা হয়তো জানে না ইতিহাস এদের একদিন কোন জায়গায় ঠাই দেবে। সবচেয়ে বড় কথা- আমাদের জীবন খুব ছোট, এর জন্য আমাদের সত্যিকারের পথেই হাঁটা উচিত। যে পথ কারো আঁতেল বানিয়ে রাখে, নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন করে দেয়, হাস্যকর সেই নেতাগিরি বা নটিপনার জীবন একজন শিক্ষিত মার্জিত তরুণের কাছে প্রত্যাশিত নয়, কখনোই নয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০০৮ এর সংশোধন ও সংযোজন করে বর্তমান সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০০৯ পাশ করেছে তাতে নতুন ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে: “কোন ছাত্র, পেশাজীবী ও অন্যঅঙ্গ সংগঠন থাকতে পারবে না” রাখা হয়েছে। এটা একদিক দিয়ে একটা ইতিবাচক আইন বলে মনে হচ্ছে আপাত দৃষ্টিতে। যদিও এই আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতি কতটুকু প্রয়োজন সেটা চিন্তা করে দেখার প্রয়োজন এসেছে। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, অতীতের অনেক অনেক সংগ্রাম, প্রতিবাদ সর্বপ্রথমে করেছে এদেশের সচেতন ছাত্র সমাজ। সেখান থেকেই একটা প্রতিবাদী কণ্ঠ এসেছে। যেটার নিকট অতীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। তখন পুরো ছাত্রসমাজ একলক্ষ্য নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। আর স্বাধীনতার আগের প্রতিটি আন্দোলন যে ছাত্ররাই আগে শুরু করেছিল সেগুলো এখন শুধু ইতিহাস।
এখনকার ছাত্ররানীতির গুণাবলীর কাছে সেগুলো চাপা পড়েছে। আগে ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন ছিল। যার ফলে দেশের ক্রান্তিকালে তারা সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে পেরেছে। কিন্তু এখনকার চিত্র পুরোপুরি আলাদা। এখন ছাত্রনেতা মনেই হলো দুই থেকে তিন সন্তানের বাবা, বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, পেশীশক্তি, অস্ত্র-কালো টাকার ছড়াছড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। পড়াশোনার বালাই নেই। দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর আজ বেহাল দশা। যার মূলে রয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। সেটা এখন নোংরা। হল দখল, মারামারি, খুন করাই এখন তাদের কাজ। দ্বিমুখী-ত্রিমুখী গণ্ডগোলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছে। সেশনজট বাড়ছে। আরও যা হচ্ছে তা তো সবারই জানা। এই নোংরা রাজনীতি আমাদের কি দিচ্ছে? কি প্রয়োজন এটার? দেশের বৃহৎ দলের নেতারা ভেবে দেখুন, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই ছাত্ররাজনীতি (!) আমাদের কন্টিনিউ করা কি উচিত? শিক্ষাঙ্গনে এই রাজনীতির কি কোন অবদান রাখছে?
সম্প্রতি দেশের সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। আর স্কুল কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়া হয় সংগঠনটির স্কুল-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীনকে। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে সকল সাংগঠনিক ইউনিটের অন্তর্গত মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। খবরের কাগজ পড়ে জেনেছি, শুধু ছাত্রলীগ নয়— ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্কুল পর্যায়ের কমিটি আছে। আর এ রীতি চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই স্কুল কমিটি করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। কী ভয়াবহ ব্যাপার!
এটা খুব সাধারণ কথা যে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়া করা, খেলাধুলা, বিতর্ক বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা করা। এখানে তাদের রাজনীতি শেখানোর কোনো দরকার আছে? এ সিদ্ধান্তটা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য অশনিসংকেত! এই বয়স ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশের সময়, তারা রাজনীতির কি বুঝবে? পড়াশোনা বাদ দিয়ে পড়ার টেবিলে না বসে দলবাজি করবে, উচ্ছৃঙ্খল হবে, সামান্য বিষয় নিয়ে মানসিক পরিপক্কতার অভাবে মারামারি করবে, স্লোগান দিবে, ইভটিজিং করবে, না পড়েই পরীক্ষা পাশের প্রচেষ্টা চালাবে, চাঁদাবাজি করতে শিখবে, মাস্তানি করে ঘুরে বেড়াবে, সিনিয়রদের ফলো করতে গিয়ে বখে যাবে; এরকম হাজারটা নেতিবাচক দিক ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে! আর আমাদের অভিভাবকরা বসে কপাল চাপড়াবে! তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় না কোন অভিভাবক বা কেউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এরকম কোন কমিটিতে শিক্ষার্থীদের দেখতে চান।
আর রাজনীতির নামে এসব কোমলমতি ছেলেমেয়েদের অপব্যবহার করা হবে, তা বলার দরকার নেই; এটা সবাই বুঝে। এরা রাজনীতির নামে চামচামি করে এরা দেশের কি উন্নতিটা করবে তা সবাই জানে। সবগুলা তো শিখবে গুন্ডামী, ভন্ডামী আর জোচচুরি। আসলে এই দেশকে সেইসব রাজনীতিবিদরা এগিয়ে নিতে পারবেন, যারা দক্ষতা ও সততা নিয়ে একেবারে মানুষের পাশে চলে যাবেন, আর এর আগে তারা নিজেকে তৈরি করে নেবেন সব দিক দিয়ে। অবশ্যই তারা মেধাবী আর শিক্ষিত হবেন, রাজনীতি বিজ্ঞান বুঝবেন, রাষ্ট্র আর পররাষ্ট্রনীতি জানবেন, দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এরপর নিজেকে মেলে ধরবেন। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্ত বিষয়ক শিক্ষা এবং তার প্রয়োগ। বর্তমান রাজনীতি হচ্ছে একটি ভন্ড পেশা কিংবা অবৈধভাবে টাকা উপার্জন এর একটি পন্থা। রাজনীতির নামে এইসব বন্ধ হোক। তবে সত্যি কথা বলার নেতা যদি হতে পারো, তেল মেরে দলের বড়বাবুদের খুশি নয় বরং ব্যক্তিত্ব ঠিকঠাক রেখে যদি জাতীর স্বার্থে কাজ করার সাহস থাকে, তবে রাজনীতি করো, আর তবেই তুমি নেতা। নয়তো তোমার নটিপনা একদিন তোমাকেই তাড়া করবে, হয়তো মৃত্যুর আগ মুহূর্তে। সবশেষে মনে হবে জীবন কোন পথে গেছে!

হাসান হামিদ
মোবাইল ০১৭১০৬৫০০১০
গবেষক ও সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা ।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করন শিক্ষকরা কি উন্নিত বেতন স্কেলের সুবিধা পাচ্ছেন?

মুরাদ হোসেন,ঢাকা,২৭ নভেম্বর: সদ্য জাতীয়করণকৃত (রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলোনা।

শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিলো| ১৪-৭-২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ ( অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (জাতীয়কর) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।

সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২/৫/২০১০ স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮এ-১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত ( সদ্য জাতীয়করণকৃত) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে (৫৫০০-১২০৯৫/-) এমপিও ভুক্তকরণ করেছিলেন|

অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে তাদেরকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে গননা করা শুরু করলে কারও টাইমস্কেল পাবার কথা নয়। কিন্তু এক শ্রেণির সরকারী কর্মকর্তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে জাতীয়করনকৃত শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে তারা

(খ) চাকুরীকাল গণনার ক্ষেত্রে পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেলায় সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক উভয়ের সমষ্টির ভিত্তিতে চাকুরীকাল গণনা করতে বলায় (যদিও শর্তটি কেবলমাত্র চাকুরি গণনা ও ইনক্রিমেন্ট সুবিধার প্রয়োজনে ) তবুও এ নির্দশনাকে নিজেদের সুবিধার মানসে ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৮.০০০৭. ০১৫.০০০.০৩.০০.২০১৩.৮১১০৫ তারিখঃ ০৯ নভেম্বর ২০১৪ এর টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান অনুসরনের নির্দেশনাকে গোপনে রেখে (উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিধি ও নিয়ম বর্হিভূত ভাবে (১৪/৭/২০০৮ তারিখের পরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির পরে ১/২/৩ বছরের সময় ব্যবধানে ) ১/২/৩ টি টাইমস্কেল সুবিধা প্রদান করেছেন।

শূধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন নির্ধারণ চিঠি ইস্যু হয়েছে । ১৫ নভেম্বর ২০১৭ সংক্রান্ত একটি জিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনু বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে যার নং ০৭.০০.০০০০ .১৬১.৩৮.০০.০০১.১৭.২৩১ । এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদের উন্নীত স্কেলে বেতন পাবেন।

এটি ৯ মার্চ ২০১৪ থেকেই কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে। অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনু বিভাগের সহকারি সচিব মো: সামীম আহসান স্বাক্ষরিত সরকারি ওই আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ফলে উন্নীত বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার নিন্মরৃপ নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার আগে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা যিনি যে সংখ্যক টাইমস্কেল পেয়েছেন বা প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের ওপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত আগে তার সর্বশেষ আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ওই ধাপে, ধাপে না মিললে বিএসআর প্রথম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পিপি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং ওই পিপি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

বেতনস্কেল উন্নীত হওয়ার আগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষক পদে যিনি যে-সংখ্যক টাইমস্কেল পেয়েছেন বা প্রাপ্য হয়েছেন, উন্নীত বেতন স্কেলের উপরে সেই সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে বেতন স্কেল উন্নীত করার অব্যবহিত আগে তার সর্বশেষ আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের তারিখে সরাসরি নির্ণীত সর্বশেষ স্কেলের কোন ধাপে মিললে ওই ধাপে, ধাপে না মিললে বিএসআর প্রথম খণ্ডের ৪২(১)(২) বিধি অনুসরণে নিন্মধাপে বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট টাকা পিপি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং ওই পিপি পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

গ) ওই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণকালে মাঝখানে কোন বেতনস্কেল বা গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দু’ধাপ উন্নীত করে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ মর্যাদা ঘোষণা দেন। সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ মর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে   প্রধানশিক্ষক সমিতির  দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের দাবি ও আন্দোলন এবং দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নেতাদের বৈঠকের প্রেক্ষিতেই এ আদেশ জারি হয়েছে।
পূর্বের প্রায় সাড় ৩৭০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১২০০০ বিদ্যালয়ে দায়িত্বপালন করছেন সিনিয়র সহকারি শিক্ষকবৃন্দ, আবার ২০০৯,২০১০,২০১৩ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৪৫০০ শিক্ষকবৃন্দ ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মরত প্রায় ১৭০০০ প্রধান শিক্ষক বাদ দিলে মাত্র সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ ৪৫০০ থেকে ৫০০০ প্রধান শিক্ষক ক্রস্পন্ডিং সুবিধা পাবেন।

অথচ সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের নেতারা প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করে চলেছেন ৩২০০০ প্রধান শিক্ষক ক্রস্পন্ডিং সুবিধা পাবেন। সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকদের প্রায় ১০০০০ প্রধান শিক্ষক ২/৩ টি

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন করেছে ।

অনিয়মতান্ত্রিক টাইমস্কেলে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করায় এখনিই প্রতি শিক্ষক প্রতিমাসে প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করে আসছেন। তার উপরে সেই অবৈধ টাইমস্কেলগুলো গণনা করে যদি ক্রস্পন্ডিং সুবিধা নেয় তা হলে ঐ সকল প্রধান শিক্ষকের প্রতি মাসে প্রতিজনে প্রায় ১২০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা বেতন ভাতাদিসহ অতিরিক্ত উত্তোলিত হবে।

সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকেরা সেই অনিয়তান্ত্রিক সুবিধাদি নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে  জোর তদবির করে যাচ্ছেন।তাদের টাকার লোভে অনেক সৎ কর্মকর্তারা জরিয়ে পড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সচিব বরাবর আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকগণের টাইমস্কেল সুবিধা নেয়া কোন ভাবে বিধিসম্মত নয় তবে যেহেতু অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ টাইমস্কেলগুলো মঞ্জুর করেছেন সেহেতু সেই কর্তৃপক্ষকেই এটি বাতিল করে পুণঃ বেতন নির্ধারণের আদেশ দিতে হবে । আর তবেই তাদের কর্তৃক অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। এখন জনমনে প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অর্থ লোপাটের দায় কার ? শিক্ষা বিভাগের নাকি , হিসাব রক্ষণ অফিসের ?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ নভেম্বর ২০১৭: প্রাথমিক শিক্ষাকে একমূখী , বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত

শিক্ষা নিশ্চিকরণের লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাছিনা বিগত ০৯ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিঃ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে ঐতিহাসিক ঘোষনার মাধ্যমে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনয়নের ফলে ০১/০১/২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে তা কার্যকর।

সদ্য জাতীয়করণকৃত ( রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলনা। শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক ) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

১৪-৭ -২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ (অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (সদ্য জাতীয়করণকৃত) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০২/০৫/২০১০ তারিখের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮জি- ১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০,২০১১,২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ ( সদ্য জাতীয়করণকৃত ) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে ৫৫০০ -১২০৯৫/- এমপিও ভুক্তকরণ করে কার্যকরের তারিখ উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকগণকে পত্র প্রদান করেছিলেন।

তাছাড়া জাতীয়করনকৃত বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে সরাসরি কোন প্রধান শিক্ষক নেই। কারন সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ নিতে হলে মাষ্টার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। যা বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকের নেই।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও বাস্তবায়ন বিভাগের ১/১২/১৯৮৪ তারিখের স্মারকের অনুচ্ছেদ -৩ ও ২২/৩/১৯৯৫ অনুযায়ী সরকারি চাকুরি জীবিগণের টাইমস্কেল সুবিধা প্রাপ্তির বিধি অনুযায়ী ৩য় শ্রেণিভূক্ত কর্মচারি ( শিক্ষক ) গণ একই পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ০৮ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সুসম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১ম টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন। একই নিয়মে ১২ ও ১৫ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে ২য় ও ৩য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তেমনি ভাবে একজন ২য় শ্রেণিভূক্ত কর্মকর্তা (প্রধান শিক্ষক) একই পদে অথবা সম পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এক নাগাড়ে ৪ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পর সিলেকশান গ্রেড প্রাপ্য হবেন। ঠিক একই নিয়মে ৮ ও ১২ বছর চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে তিনি ১ম ও ২য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

সরকারি কর্মচারি, কর্মকর্তাবৃন্দের বেতন নির্ধারন সম্পর্কিত নির্দশনা যে কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ০১-১২-১৯৮৪ তারিখেরর স্মারকের গ এর নির্দেশনা মোতাবেক টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে একাধিক পদে চাকুরির ক্ষেত্রে পদ গুলী পরস্পর বদলীযোগ্য এবং একই স্কেলভূক্ত হলে তবেই সকল পদের চাকুরির দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ( চাকুরির সমষ্টি গণনা) টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া টাইমস্কেল প্রাপ্তির বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই।

Read More »

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বদ্যিনাথপুর নামক স্থানে ট্রাকের ধাক্কায় এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত সেই মাদ্রাসাছাত্রীর নাম সুখি খাতুন (১১)।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত সুখী খাতুন উপজেলার হাসাদহ গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং হাসাদহ দাখিল মাদরাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে সুখী খাতুন বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে পাখি-ভ্যান যোগে জীবননগরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে বদ্যিনাথপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়।

জীবননগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলে তিন মার্কিনি

জাহিদ হাসান : চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন তিন মার্কিন। তারা হলেন জেফরি সি হল, মাইকেল রসবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে সোমবার এ কথা জানানো হয়।

দেহঘড়ির আণবিক সূত্র উদ্‌ঘাটন করে তিন বিজ্ঞানী এ পুরস্কার পেয়েছেন।

সুইডেনের কালোনিসকা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে জানা যায় মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীরা কিভাবে জৈবিক ছন্দে অভ্যস্ত হয় এবং তার মাধ্যমে কিভাবে পৃথিবীর বিপ্লব ঘটেছে।’

তাদেরকে সম্মানি হিসেবে ১১ লাখ মার্কিন ডলারও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর মেডিসিনেই প্রথম নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে ১০৮বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে চিকিৎসায় নোবেল জিতেছিলেন জাপানের নাগরিক ইয়োশিনোরি ওহসুমি।

সূত্র : এএফপি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সারা রাত ফোন চার্জ দিলে যে ক্ষতি হয়

ডেস্ক: সময়ের অভাবে অনেকে রাতে ফোনটি চার্জে রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চার্জিং পয়েন্ট থেকে মোবাইলটি আলাদা করেন। এভাবে ফোনে সারা রাত চার্জ দেয়ার কারণে অনেকগুলো ক্ষতি ডেকে আনছেন।

সারা রাত মোবাইলে চার্জ দিয়ে, ফোনের ক্ষমতাকে নিজের অজান্তেই একটু একটু করে নষ্ট করছেন আপনি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে , যারা নিজের স্মার্টফোন রাতে চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তারা গড়ে বছরে তিন থেকে চার মাস মোবাইল চার্জে ব্যয় করেন। এতে একদিকে যেমন ইলেকট্রিক বিল বাড়ছে, অন্যদিকে মেয়াদ কমছে ফোনেরও।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, মোবাইল ফোনের চার্জ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে গেলেই চার্জ দিতে হবে। এর থেকে বেশি চার্জ থাকলে মোবাইলে চার্জ দেয়ার প্রয়োজন নেই।

মোবাইলের আয়ু বাড়াতে মোবাইল ফোনকে ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রা থেকে যতটা সম্ভব স্মার্টফোনকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়, ততটাই মঙ্গল।

তাই কখনই দরকারের চেয়ে বেশি সময় ধরে ফোন চার্জে বসিয়ে রাখা উচিত নয়। তাই যাদের মধ্যে সারা রাত মোবাইল চার্জে বসিয়ে রাখার প্রবণতা রয়েছে, তারা এখনই বদলে ফেলুন এই অভ্যাস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গলার কাঁটা বের করার কিছু পদ্ধতি

ডা: এস কে দাস: বাজারে ইলিশ মাছ ভরপুর ৷ আর আপনিও রোজ ভাতের পাতে ইলিশের রসনায় ডুব দিচ্ছেন৷ আর ঠিক এমন সময়ই গলায় আটকে গেল কাঁটা ! তারপর তা নিয়ে নানা অস্বস্তি৷ গলা থেকে কাঁটা বের করতে কত না হুজ্জতি৷ কলা খেলেন, শুকনো ভাত খেলেন ৷ কিন্তু লাভ কিছুই হল না ৷ বলি কি নিচে লেখা উপায় গুলো একবার ট্রাই করুন ৷ দেখবেন গলায় আটকানো মাছের কাঁটা দিব্যি দূর হবে!

গলায় আটকে যাওয়া কাঁটা নামানোর আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে কোল্ডড্রিঙ্ক। গলায় কাঁটা আটকার সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্ক পান করলে তা নরম হয়ে নেমে যায়।

গলায় আটকে যাওয়া মাছের কাঁটা সাদা ভাত খেয়ে খুব সহজে নামানো যায়। এ জন্য আপনাকে ভাতকে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিতে হবে। তারপর জল দিয়ে গিলে ফেলতে হবে। এতে সহজে গলায় আটকা মাছের কাঁটা নেমে যাবে। মনে রাখবেন, শুধু ভাত খেলে কিন্তু কাঁটা নামবে না।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে জল পান করুন। পারলে হালকা গরম জলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ নুন মিশিয়ে পান করুন। এতে গলায় আটকা মাছের কাঁটা নরম হয়ে নেমে যায়।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে এক টুকরা লেবু নিন। তাতে একটু নুন মাখিয়ে চুষে চুষে এর রস খান। দেখবেন কাঁটা নরম হয়ে নিমিষেই নেমে যাবে।

গলায় কাঁটা বিঁধেছে? তাহলে মোটেই দেরি না করে একটু অলিভ অয়েল খান। এতে কাঁটা পিছলে গলা থেকে নেমে যাবে।

জলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে গলায় আটকা মাছের কাঁটা খুব সহজে নেমে যায়। এটি ঠিক লেবুর মতো কাজ করে।

ডাঃ এস কে দাস
এমএসসি,ডিএইচএম এস(ঢাকা)
০১৮১১৮৯৮০৬১

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ৬ অক্টোবর

প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান দিবেন না, পরীক্ষা দিয়েই পাস করতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আনিসুর রহমান তপন : আগামী ৬ অক্টোবর সারাদেশে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মেডিকেল পরীক্ষার আইন সৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

সভায় আরো জানানো হয় এ বছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য সারাদেশ থেকে ৮২ হাজার 8শ ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। সারা দেশের মোট ২০ টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫টা কেন্দ্র ঢাকায় ও ১৫ টি ঢাকার দেশের বিভিন্ন জেলায়। মোট ৯ হাজার ৩৪৩ টি আসনের বিপরীতে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সরকারী মেডিকেল কলেজ ৩ হাজার ৩১৮টি ও বেসরকারী ৬ হাজার ২৫ টি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র তৈরী করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেন্দ্রে নেয়ার কাজটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে করা হয়। এবছর শতভাগ স্বচ্ছভাবে প্রশ্নপত্র তৈরী হয়েছে এবং শতভাগ স্বচ্ছভাবেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে জানিয়ে কেউ যদি অন্যায় কোন প্রস্তাব দেয় তাহলে সেই ফোন নাম্বার ও প্রস্তাবকারী সম্পর্কে অভিভাবকরা যতটুকু জানতে পারেন ততটুকুই আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

কোন গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন। ছাত্রছাত্রীদের হাতে এখনও ৮ দিন সময় আছে ভালমত লেখাপড়া করুন। কারণ পরীক্ষা দিয়ে মেধা এবং যোগ্যতা দিয়েই ভর্তি হতে হবে এবং ডাক্তার হতে হবে। এটা হচ্ছে মেধার লড়াই। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন গুজবে কান দিলে এর মাশূল আপনাকেই দিকে হবে। কারণ কোন গুজবে কাজ হবে না। পরীক্ষা দিয়েই মেডিকেলে স্থান পেতে হবে।

সভায় রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কি ধরনের প্রস্তুতি আছে, অল্প জায়গায় অনেক মানুষ এমনিতেই তারা অবর্ননীয় কষ্টের মধ্যে রয়েছে এইখানে যে মহামারী হবে না এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে আমরা এটুকু আস্বস্ত করতে পারি যে আমাদের পুরো প্রস্তুতি হয়েছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও অষুধ সেখানে পাঠিয়েছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশো মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান চলছে জোড়াতালি দিয়ে

  • অব্যবস্থাপনাসহ নানা সঙ্কটের চিত্র মাউশির রিপোর্টে

বিভাষ বাড়ৈ ॥ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সফল বলে কর্মকর্তারা সব সময় দাবি করলেও সরকারী পরিদর্শন প্রতিবেদনেই বেরিয়ে এলো অব্যবস্থাপনাসহ নানা সঙ্কটের চিত্র। মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান পদ্ধতি চলছে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে। বেশির ভাগ শিক্ষক ডিজিটাল পাঠদানে কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহই দেখাচ্ছেন না। এক শ্রেণীর শিক্ষক রয়েছেন যারা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতেও আগ্রহী নন। কারণ তারা আইসিটি শিক্ষাসামগ্রী পরিচালনায় অদক্ষ। আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকও নেই অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মফস্বলের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট ও লোডশেডিং সমস্যাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সফলতার পথে একটি বড় বাধা।

সরকারী এ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এমন নানা সমস্যার কথা। পরিদর্শন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি ভালভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চললেও অনেক ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে অব্যবস্থাপনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের স্বল্পতা, মফস্বলের প্রান্তিক স্কুলগুলোতে ধীরগতির ইন্টারনেট, লোডশেডিং, ভৌত অবকাঠামো, জনবল সঙ্কট এবং পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের অভাবের কারণে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে নামকাওয়াস্তে চলছে গুরুত্বপূর্ণ ‘আইসিটি ফর এডুকেশন ইন সেকেন্ডারি এ্যান্ড হায়ার সেকেন্ডারি লেভেল প্রজেক্ট’ নামের এ উদ্যোগ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। প্রকল্পটি মনিটরিং ও তদারকি করছে মাউশির একটি ইউনিট। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডিজিটাল ক্লাসরুম’ চালু করে সরকার। প্রকল্পের অধীনে প্রতি বিদ্যালয়ে একটি করে ল্যাপটপ, স্পীকার, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্ক্রিন সরবরাহ করা হয়। যাতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি সমন্বয়ের লক্ষ্যে ২০১২ সালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কনটেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদারকি আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে আশানুরূপভাবে কার্যকর হয়নি ডিজিটাল ক্লাসরুম পাঠদান পদ্ধতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় শিক্ষকদের। ফলে প্রশিক্ষণের পর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালভাবে পাঠদান করতে পারেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনটেন্ট তৈরিতে রয়েছে শিক্ষকদের অনাগ্রহ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে শিক্ষকদের পাঠদানে আগ্রহের ঘাটতি, আইসিটি সামগ্রী পরিচালনায় অদক্ষতা। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সংখ্যা অপ্রতুল। আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সমস্যা, বিশেষ করে ধীরগতি, লোডশেডিং, ভৌত অবকাঠামোগত ও ক্লাসরুম সঙ্কট, কনটেন্ট তৈরি ও মাল্টিমিডিয়ার ওপর দেয়া প্রশিক্ষণের মেয়াদ পর্যাপ্ত ছিল না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটুআই প্রকল্প ছাড়াও মাউশির অধীন বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলছিলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং ও টেকসই করতে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেশের সকল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেটের ধীরগতি, লোডশেডিং বা সোলার প্যানেল নষ্টসহ কিছু বাস্তব সমস্যা দেখেছি মাঠপর্যায়ের স্কুলে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের বিষয়টিতে হয়তো আশানুরূপ ফল আমরা পাচ্ছি না। অনেক কিছুই রাতারাতি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে আমরা সুফল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। সরকারীভাবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতিবছর কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে।

পরিদর্শন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাউশির কর্মকর্তারা প্রায় সকলেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সংখ্যা অপ্রতুল। আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন শাখার উপ-পরিচালক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলছিলেন, হ্যাঁ কিছু সমস্যাত আছেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি মাত্র ক্লাসরুমে এ ব্যবস্থা থাকায় সকলের জন্য এ সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা একটি বড় সমস্যা। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা আছে। তবে সফলতাও আছে। সমস্যাগুলো উত্তরণ করতে পারলে অনেক বড় একটা কাজ হবে।

মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাসরুম সক্রিয় হচ্ছে কিনা বা পাঠদান হচ্ছে কিনা- তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অনলাইনে ড্যাসবোর্ডের মাধ্যমে তথ্যগ্রহণ করা হয়। প্রতিদিন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কতটি ডিজিটাল পদ্ধতির পাঠদান করে তার তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই (ড্যাসবোর্ডে) আপলোড করতে হয়। সে তথ্য থানা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষা অফিস পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার মধ্যে জোড়াতালি আর ফাঁকিবাজির দিক প্রবল বলেই বলছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও ড্যাসবোর্ডের তথ্য আপলোড করেন। তাই মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান পদ্ধতি যতটা কার্যকর হওয়ার কথা ততটা হচ্ছে না। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অলস পড়ে আছে সরবরাহ করা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম। আবার কোথাও ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে এসব মূল্যবান উপকরণ। তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে-বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বা বস্তাবন্দী করে রাখার মতো ঘটনাও আছে। অনেকে ক্লাস না নিয়েও ড্যাসবোর্ডে ক্লাস নেয়ার মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তারা এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা পেয়েছেন।

এদিকে মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরাই বলছেন সরকারের এ উদ্যোগে বাধা আসলে কোথায়? ভোলার বোরহানউদ্দিন সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহব্বত হোসেন বলেন, প্রধান সমস্যা শিক্ষকরা কনটেন্ট তৈরি করতে চায় না। আমার স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক কোনরকম ক্লাস নেন। বাকি শিক্ষকরা একবারেই অনীহা দেখায়। কম্পিউটার শিক্ষক ছাড়া অন্য কোন শিক্ষক মাল্টিমিডিয়ার পাঠদানের প্রশিক্ষণ পায়নি। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে দু’একটি ক্লাস নেয়া হয়, তাও জোরপূর্বক।

রাজধানীর বুয়েট গার্লস স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আশুতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শিক্ষক ডিজিটাল পাঠদান ও কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বাকিরা শিখে নিয়েছেন। বুয়েটের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমরা হয়তো ফাঁকি দিতে পারি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ৪০ মিনিটের একটি ক্লাসের জন্য কনটেন্ট তৈরিতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এটা যেমনি শ্রমসাধ্য, তেমনি অধ্যয়নেরও বটে। এ কারণে শিক্ষকদের অনেকেই ডিজিটাল পাঠদানের চেয়ে কোচিং-টিউশনিতে বেশি আগ্রহী।

জনকন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বড় পরিবর্তন আসছে, আট সদস্যের কমিটি

  • অনুমোদন ছাড়া স্কুল-কলেজ নয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোন রকম অনুমোদন ছাড়া স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতিমালায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক সভায় নীতিমালা পরিবর্তনে আট সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। আগের মতো আর ১৩টি শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা নেয়া হবে না। নীতিমালা পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠান অনুমোদন করতে হবে আগে। পরে জমি নির্ধারণ, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ণয় করা হবে। এছাড়াও যারা অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনে ১৩টি শর্তজুড়ে দেয়া হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের আগেই পূরণ করতে হতো। তার মধ্যে জমি ক্রয়, ভবন তৈরি, অবকাঠামো নির্ণয়, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। অথচ এতসব করার পরও শর্তানুযায়ী প্রাপ্যতা না থাকায় যুগের পর যুগ কেটে গেলেও সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। উদ্যোক্তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্কুল-কলেজ স্থাপন করছেন।

আবার অনেকে কোন অনুমোদন ছাড়াই কোন মতে প্রতিষ্ঠান চালু করে শিক্ষা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে শিক্ষা বোর্ডে আসছেন অনুমোদনের জন্য। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই নিয়মের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরি মুফাত আহমেদকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এ কমিটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তিন মন্ত্রণালয়, সকল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব ছালমা জাহান বলেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতিমালা সংশোধনীর জন্য কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলছে অথচ অনুমোদন দেয়া হয়নি সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। নামধারী স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনে নানা জটিলতা রয়েছে। এ কারণে দেশের সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও তাদের অনুমোদন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে এ আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের পরে জমি নির্ধারণ, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ণয় করা হবে। জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন নীতি-১৯৯৭ অনুযায়ী নতুন স্কুল, মাধ্যমিক জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ অনুমোদন ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে।

জনসংখ্যা, প্রাপ্যতাসহ ১৩ শর্ত পূরণের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার প্রমাণ পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি দুদক পর্যন্ত গড়ায়। এরপর ২০১৫ সালে একটি আদেশ জারির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের সে ক্ষমতা শিথিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনে সে ক্ষমতা নেয়া হয়। নির্দেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপন, পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি দেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক কেরাণীগঞ্জের শাহিনুর আল-আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৭-এ শিক্ষক(পুরুষ) ক্যাটাগরিতে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কেরাণীগঞ্জের শিক্ষক জনাব শাহিনুর আল-আমীন। তিনি কেরাণীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভূক্ত গুণী কন্ঠশিল্পী, বাংলাদেশ টেলিভিশনেও মাঝে মাঝে তিনি গান পরিবেশন করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনাব শাহিনুর আল-আমীন ১৯৯৯ সালে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলাধীন খামার মাথাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন। কালিয়া উপজেলায় তিনি তার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন য়ে, তার বদলী ঠেকাতে বিদ্যালয় ও তার বাড়ি ঘেরাও হয়েছিল। একই সাথে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।
এবছর জনাব শাহিনুর আল-আমীন ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক(পুরুষ) নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। বিগত ৫/৮/২০১৭ তারিখে তিনি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমি শিশুদের স্বপ্ন দেখাই,ওদের নিয়ে নিজেও স্বপ্ন দেখি। আমার বাবাও একজন আদর্শিক শিক্ষক ছিলেন, শিক্ষকতা আমার রক্তে মিশে আছে। শিক্ষকতা আমার পেশা এবং নেশা দুটোই। আমি ঢাকা জেলা ও ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আমার সারাটা শিক্ষকতা জীবনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করি: করব। আমাকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে খুবই প্রিয়। তিনি মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষের বাইরে নিয়ে পাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেন, ফলে শিখন-শেখানো হয় আনন্দের। জনাব শাহিনুর আল-আমীন পাঠ্যসূচির বাইরেও কিছু নতুন বিষয়ের উপর পাঠ দান করে থাকেন, যেমন- প্রকৃতি পাঠ, সৌন্দর্যবোধ, স্বপ্ন চার্ট, লাইফ স্কিল ইত্যাদি। এসমস্ত কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে সহযোগিতা করেন। শিক্ষক শাহিনুর আল-আমীন বাংলা, ইংরেজি ও সংগীত বিষয়ের একজন দক্ষ মাস্টার ট্রেইনার। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর একজন স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে ডিপার্টমেন্ট এর সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন এবং ২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গমন করেন। তাছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নস’ এর এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে শ্রীলংকা ও ভারতের দিল্লী, হায়দারাবাদ, নালগোন্ডা, পাটনা, নাগপুর, গুজরাট ও ভুবনেশ্বর গমন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিসার্স ইউনিয়নস’্-এর দিল্লী সম্মেলনে সদস্য পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে রুরাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন প্রদত্ত ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি পদক পান এবং ২০১১ সালে ফটোজার্নালিস্ট প্রদত্ত স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হন । তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থণা করেছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জবির ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বিকেলে

জাবি প্রতিনিধি,১৫ সেপ্টেম্বর: ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি)’সি’ ইউনিটে (বিবিএ) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ (শুক্রবার) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবার একযোগে ৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত) ৪৬০টি আসনের বিপরীতে মোট ১৩ হাজার ৫৬ জন ভর্তির আবেদন করেছেন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে প্রায় ২৮ জন শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই প্রিন্টকৃত প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার আসনবিন্যাসসহ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট http://admission.jnu.ac.bd অথবা http://admissionjnu.info এই লিংকে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাঁচের বদলে চার অপশনে ক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি,১৫ সেপ্টেম্বর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে চারটি অপশন রাখা হয়েছে।

অথচ ইতোপূর্বে এই ইউনিটে প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে পাঁচটি করে অপশন রাখা হতো। আর প্রতিটি ভুল প্রশ্নের জন্য কাটা হতো ০.২৪ নম্বর। অথচ এবার অপশন কমিয়ে আনা হলেও ‘নেগেটিভ মার্ক’ আগের মতোই রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভুলের জন্য ০.৩০ নম্বর করে কাটা হয়। তারা প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে চারটি করে অপশন দিয়ে থাকে।

অপশন কমিয়ে আনা হলেও ‘নেগেটিভ মার্ক’ কেন আগের মতো রাখা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ‘গ’ ইউনিট ভর্তির কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এটাতো পরীক্ষার আগেই হয়েছে নতুন কিছু না। আর আমরা ০.৩০ কাটবো না ০.২৪ কাটবো তাতে কী আসে যায়। আগের নিয়ম কিংবা অন্য ইউনিটের সঙ্গে তুলনা করার তো কোনো প্রয়োজন নেই। এটার তো কোনো ‘রুলস’ নেই। আগে চারটা ছিল এবার পাঁচটা অপশন, এটা কোনো সমস্যা না।

এ দিকে প্রশ্নপত্রের মধ্যেও ছিল কয়েক জায়গায় সমস্যা। অনেক ভর্তিচ্ছু দাবি করেছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের দেয়া প্রশ্নপত্রের মধ্যে ম্যানেজমেন্ট অংশ ছিল না। পরে অবশ্য তা সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।

মাহবুবুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশ্নপত্রে যদি অপশন কমানো হয় তাহলে নেগেটিভ মার্কও অন্যান্য ইউনিটের মতো ০.৩০ করা উচিৎ ছিল। কারণ, আমি একটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলাম অথচ অন্য একজন ভুল উত্তর দিয়েও তার সঙ্গে আমার পার্থক্য বেশি হচ্ছে না; যা কর্তৃপক্ষের আগেই ভাবা উচিৎ ছিল।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে অন্য চারটি ইউনিটের ভর্তি নির্দেশিকা দেয়া থাকলেও ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি নির্দেশিকা দেয়া হয়নি।

অন্যান্য ইউনিট তাদের নির্দেশিকায় প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে কতটি অপশন থাকবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কত নম্বর কাটা যাবে তা স্পষ্ট করলেও ‘গ’ ইউনিট সেটি করেনি। তাই এটি নিয়েও রয়েছে ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে নানা মত।

এদিকে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সকলের সতর্কতার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। আর প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করায় জালিয়াত চক্র আরও ব্যর্থ হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকলের স্বপ্নের জায়গা। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চলছে। কেউ জালিয়াতি করতে চাইলে ধরা পড়বে। ভ্রামমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, গ-ইউনিটে ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ২৯ হাজার ৯৫৪ জন ভর্তিচ্ছু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চুমু খাওয়ার সময়ে মাথা ডান দিকে হেলে যায় কেন?

ডেস্ক:

চুমু খাওয়ার সময়ে আপনার মাথা কোন দিকে হেলে যায়? ভাবছেন, অ্যাঁ! এটা আবার কী ধরনের প্রশ্ন? গোটা বিষয়টাই তো আবেগের। চুমু খাওয়ার সময়ে কি আমাদের কারোরই মাথায় থাকে, আমাদের মাথা কোন দিকে হেলছে? কিন্তু ঠিক এই বিষয়টির উপরও গবেষণা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটেনের বাথ অ্যান্ড স্পা-র নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড কগনিটিভি সায়েন্সের গবেষকরা। তারা বলছেন, যারা চুমু খাচ্ছেন আর যাদের চুমু খাচ্ছেন, উভয়েরই মাথা ডান দিকে হেলে যায়। আর এর পিছনে একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও খাড়া করেছেন তারা।

বিষয়টি ঠিক কী?
সম্প্রতি এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৫১ টি বিবাহিত দম্পতির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছিল। তাদের প্রত্যেককেই আলাদা আলাদা ঘরে রাখা হয়েছিল। তাদের কিছুক্ষণ নিভৃতে সময় কাটানোর পর তাদের অভিজ্ঞতা রিপোর্ট আকারে লিখে রাখতে বলা হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৭৩.৮৬ শতাংশ জনেরই মাথা চুমু খাওয়ার সময়ে ডান দিকে হেলে গিয়েছে।

এর কারণ কী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রেনজিল করিম এবিষয়ে যা দাবি করেছেন, তা অত্যন্তই আকর্ষক। তার বক্তব্য, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ যখন বৃদ্ধি পায়, তখন থেকেই নাকি ডান দিকে মাথা হেলানোর প্রবণতা থাকে। অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি। কিংবা আমরা চলার সময়েও ডান পা-টাই আগে ফেলি। এটা আমাদের প্রত্যেকেরই জন্মগত প্রবণতা। নিউরোসায়েন্স ও সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা … ঠিক এই কারণেই চুমু খাওয়ার সময়েও মাথা ডান দিকে মাথা হেলিয়ে দিই।অন্য একটি ব্যাখ্যায় এক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি টোরেন্স জানিয়েছেন, আমাদের মস্তিষ্কের ডান দিকে হেলা ইতিবাচক অনুভূতির লক্ষণ। আর বাঁ দিকে হেলানো নেতিবাচক লক্ষণ। তাই চুমু খাওয়া যেহেতু একটি বিশেষ অনুভূতির বিষয়, তাই মাথা ডান দিকেই হেলে যায়।

গবেষণায় আরও একটি ব্যাখ্যা উঠে আসছে। তাতে বলা হচ্ছে, লিপি পাঠ বা লেখার বিধির উপরও এই বিষয়টি নির্ভর করে। ইংরাজি কিংবা বাংলা আমরা বাঁ দিক থেকে ডান দিকে লেখা বা পড়া হয়, অন্যদিকে আরবি ভাষা ডান দিক থেকে বাঁ দিকে লেখা বা পড়া হয়। এই ক্ষেত্রেও ওই বিষয়টি নির্ভর করে।সংবাদমাধ্যম

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ঢাবি প্রতিবেদক:

ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের অধীনে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়। চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত।

এবার ‘গ’ ইউনিটের এক হাজার দুই শত ৫০ আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৯ হাজার তিন শত ১১ জন, যা প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ২৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৫৩টি কেন্দ্রে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের অধীনে ১ম বর্ষ বিএফএ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদসহ ক্যাম্পাসের মোট ১১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। চ-ইউনিটে ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৭২।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail