Author Archives: chief editor

শিক্ষার্থী শূন্য ১৩৫ কলেজ মাদরাসা : বন্ধের শঙ্কায় ১৫শ প্রতিষ্ঠান

শিক্ষার মান ভালো না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে : অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে অনেকেই

স্টাফ রিপোর্টার: এবার উচ্চ মাধ্যমিকে সারা দেশের ১৩৫টি কলেজ-মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। আরও ১ হাজার ৩৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দু-একজন করে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। এ তালিকায় শহরের চটকদার ও বাহারি নামের বেশকিছু বেসরকারি কলেজও আছে। শিক্ষার মান আশানুরূপ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে না। অথচ এই দেড় সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বেতন-ভাতা নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কিছু কলেজ ‘অবৈধ’ ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। ভর্তিকৃতরা শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন না পেয়ে বিপদে পড়তে পারে। কিন্তু সে দিকটি থাকছে উপেক্ষিত। দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শূন্য ভর্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে সরকারিভাবেও কাজ চলছে। এ ব্যাপারে তথ্য পাঠাতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘শিক্ষার মান নিশ্চিত করে না বলেই এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আগ্রহী নয়। যেসব কলেজে কেউ ভর্তি হয় না বা দু-চারজন ভর্তি হয়, সে ধরনের প্রতিষ্ঠান রেখে কোনো লাভ নেই। এসব কলেজের ব্যাপারে একটাই সিদ্ধান্ত- তা হলো, বন্ধ করে দেয়া। গত বছরও আমরা এ ধরনের কলেজ বন্ধ করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন,‘এটা পরিষ্কার যে, এসব কলেজে সরকার যে এমপিও দেয়, তা অপচয়ের শামিল। আর যেসব এমপিওভুক্ত নয়, সেগুলো টিকিয়ে রাখলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদেরই ক্ষতি। কেননা তাদের ইস্টাবলিশমেন্ট ব্যয় আছে। তারা বরং অন্যত্র নিজেদের সময় ও শক্তি ব্যয় করুক। এতে তাদের ও দেশের লাভ হবে।’ সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিযোগ্য কলেজ-মাদরাসা ৯ হাজার ১৫৮টি। এর মধ্যে শিক্ষার্থী আকর্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় উল্লিখিত ১ হাজার ৫১৮টি প্রতিষ্ঠান প্রকারান্তরে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি কলেজ বা মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হতে সর্বনিম্ন ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকার কথা। এখন উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকও যদি এমপিওভুক্ত হয় তবে এগুলোর পেছনে বছরে ব্যয় ১২৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর প্রায় পুরোটাই পানিতে যাচ্ছে। বিপরীত দিকে চিহ্নিত শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বসে বসে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। অথচ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য এখনও ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্কট আছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দের কলেজ না পেয়ে অন্যত্র ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শূন্য ভর্তি ও পাস প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বছর আমরা এ ধরনের ৭৯টি কলেজ বন্ধ করে দিয়েছি।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পর কলেজগুলোর আসল রূপ বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কলেজ-মাদরাসার দুর্দিন নেমে এসেছে। আগে নানা প্রলোভন আর নজরকাড়া মিথ্যা বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করাত। কয়েক বছর ধরে তা বন্ধ হয়েছে। সারা দেশে কলেজ ও মাদরাসায় বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির চিত্রও পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, চলতি বছর যে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিত কোনো ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়নি, সেগুলোর মধ্যে ৬৬টিই মাদরাসা। ২৬টিতে ছাত্র-ছাত্রী ৫ জনেরও কম। আরও ৭৩ কলেজ মাদরাসায় সব বিভাগ মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন। ৫৮০টি কলেজ ও মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থী শূন্য। এ ক্ষেত্রে কোনোটিতে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষার্থী শূন্য। আবার কোনোটির মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ বা অন্য বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এছাড়া আরও ৭৩০টি কলেজ-মাদরাসা পাওয়া গেছে, যেখানে এসব বিভাগে এক থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। হাতেগোনা কয়েক জনকে নিয়েই টিকে আছে এসব প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও ঢাকা বোর্ডের সাবেক কলেজ পরিদর্শক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বলেন, ‘সাধারণত একটি কলেজকে স্বীকৃতি-এমপিও পেতে হলে ন্যূনতম ২৫ জন ছাত্রছাত্রী থাকতে হয়। পাশাপাশি দুই কলেজের মধ্যে দূরত্ব থাকতে হয় ন্যূনতম ৬ কিলোমিটার। তবে জনসংখ্যার ঘনত্বসহ বিশেষ বিবেচনায় অনেক সময়ে এ শর্ত শিথিল করা হয়ে থাকে। যা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।

অভিযোগ আছে, উল্লিখিত ‘বিশেষ বিবেচনা’র সুযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ফ্ল্যাটবাড়িতে বাহারি নামের কলেজ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী মোটাঅঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করছে। গত বছর থেকে বন্ধ এবং এবার কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি এমন কলেজের অধিকাংশই বিশেষ বিবেচনায় বা নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা বোর্ডে ১৯টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। আরও ১৮টিতে সর্বোচ্চ ৫ জন আবেদন করলেও ২-১ জন করে ভর্তি হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি মিরপুরের প্রাইম স্কলার্স কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩শ’ আসন আছে। কিন্তু একজনও ভর্তি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় নারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমে অনলাইন প্রক্রিয়ায় কেউ ভর্তি হয়নি। পরে আমরা ২০-২৫ জন পেয়েছি। ম্যানুয়ালি তাদের রেজিস্ট্রেশন হবে। খিলগাঁওয়ের লিবার্টি কলেজে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশে না করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বলেন, ১০-১২ জন ভর্তি হয়েছে। যদিও বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানেও একজন ভর্তি হলেও পরে সে রেজিস্ট্রেশন করেনি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন বলেন, অনলাইনের বাইরে এখন পর্যন্ত কাউকে ভর্তি করার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি কেউ তা করে থাকেন তাহলে অনিয়ম করেছেন। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা বোর্ডে আরও ১০৮টি কলেজ আছে যেগুলোর এক বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও অন্য বিভাগে একজনও ভর্তি হয়নি। এ তালিকায় বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নামও আছে। দেশের বাইরের কলেজগুলো পরিচালিত হয় ঢাকা বোর্ডের অধীন। এবার মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি কলেজ শিক্ষার্থী পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এবার যেসব কলেজ শিক্ষার্থী পায়নি বা কম ভর্তি হয়েছে, গত বছরের তালিকায়ও ওইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি আছে। গত বছর সেগুলো কেন বন্ধ হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছিলাম। সেটা সন্তোষজনক ছিলো। তবে গত বছর যে কারণে মাফ পেয়েছিলো, এবার হয়তো সেই সুযোগ আর কেউ পাবে না।

সূত্র জানায়, কুমিল্লা শহরে একটি কলেজে ১৫০টি আসন আছে। এবার প্রতিষ্ঠানটিতে কেউ ভর্তি হয়নি। একই বোর্ডে আরও ২৬টি কলেজে এক বা একাধিক বিভাগ আছে শিক্ষার্থীশূন্য। রাজশাহী বোর্ডের ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে সর্বনিম্ন ৫ জন আবেদন করেছে। এগুলোর মধ্যে ৩১টিতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। বাকি ১৪টির দুটিতে ১ জন করে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহী ও নওগাঁয় ঢাকার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শাখা আছে। রাজশাহীর শাখায় বিজনেস স্টাডিজ এবং মানবিক বিভাগে কেউ ভর্তি হয়নি। নওগাঁ শাখায় মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষার্থী শূন্য। দুটির মতো রাজশাহী বোর্ডে মোট ৭৪টি প্রতিষ্ঠান আছে। ওইসব কলেজে এক বা একাধিক বিভাগ ছাত্র-ছাত্রী শূন্য। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ সরকার থেকে এমপিও নিচ্ছে। যশোর বোর্ডে ১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫ জনের কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এ বোর্ডে একজনও ভর্তি না হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে মোট ৫টি। আরও ৯১টি কলেজের বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থী পায়নি। চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতায় একটি কলেজে কেউ ভর্তি হয়নি। আরও ১১টি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে কেউ ভর্তি হয়নি। বরিশাল বোর্ডে ৬টি কলেজ শিক্ষার্থী শূন্য। এসব কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এগুলোর মধ্যে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায়ই আছে ৩টি প্রতিষ্ঠান। এ বোর্ডে আরও ২০টি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সিলেট বোর্ডে দুটি কলেজের দশা করুণ। এরা কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। এ ছাড়া আরও ২৪টির বিভিন্ন বিভাগ কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। দিনাজপুর বোর্ডে ৯টি কলেজের অবস্থা বেহাল। ৫টিতে কেউ ভর্তি হয়নি। অথচ এগুলোয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৪শ করে আসন দিয়েছে বোর্ড। বাকি ৪টির মধ্যে ২টিতে ২ জন করে এবং একটিতে ৩ ও অপরটিতে ৪ জন ভর্তি হয়েছে। আরও ১৪৪টির বিভিন্ন বিভাগ কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। সারা দেশে ২৬টি মাদরাসায় সর্বোচ্চ ৫ জন ভর্তি হয়েছে। ৬৬টিতে কেউ ভর্তি হয়নি। ৮৫টির বিভিন্ন বিভাগ কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। চিহ্নিত এসব মাদরাসার বেশিরভাগ এমপিওভুক্ত বলে জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের এক দফা দাবিতে আল্টিমেটাম

২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশণে যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকেরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনশণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক মহাজোট। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল বাড়লেও সহকারী শিক্ষকেরা এখনো আগের অবস্থায়ই আছেন। সহকারী শিক্ষকেরা এখন প্রধান শিক্ষকদের তিন ধাপ নিচে বেতন পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকদের বেতন আরেক ধাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি জানান, এমনটা হলে তাদের সাথে বেতনবৈষম্য চার ধাপ বৃদ্ধি পাবে।  ফলে সহকারী শিক্ষকরা এ পেশায় থাকতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আমরা সহকারি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের শুধু আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। তাই সহকারি শিক্ষকরা দাবি আদায়ে আমরণ অনশনে যাচ্ছে।

শিক্ষক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,  সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর গণশুনানিতে ডিপিইর মহাপরিচালকের কাছে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে কি না জানতে চান। কিন্তু ডিপিইর ডিজি এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকেরা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা ভোগ করছেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষকেরা এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর স্তরে রয়ে গেছেন।

অথচ কিছু দিন আগেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা সমমর্যাদার (তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী) ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের শুরু থেকেই সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে ছিল। ২৯ আগস্ট ২০০৬ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের দুই ধাপ নিচে নির্ধারণ করা হয়। এ ধারা এখনো বিরাজমান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম ও সর্বশেষ পে-স্কেলেও এ ধাপ বজায় রাখা হয়।

গত ৪ বছর ধরে বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের জন্য অব্যাহত আন্দোলন করার পরও মন্ত্রণালয় এবং ডিপিইর কোনো ধরনের উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর এবং পয়লা ডিসেম্বর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ঢাকায়। এমন পরিস্থিতিতে সহকারী শিক্ষকদের সব কয়টি সংগঠন প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে জোটবদ্ধ হয়ে আগামী ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি দিয়েছেন।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রাথমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করা হবে। বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারাবিশ্ব প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ গাড়ি হবে চালকবিহীন। প্রযুক্তির এ সুফল বাংলাদেশও পেতে চায়। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে সরকার।

জয় বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তির ব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে।

প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। কনফারেন্সে ভুটান, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়াসহ পাঁচ দেশের মন্ত্রী ও সাত দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) উত্ত্যক্ত ও পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া (২০) নামে এক যুবককে তিনমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রওনক জাহান এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত উজ্জ্বল মিয়া খোলাহাটি ইউনিয়নের উত্তর খোলাহাটী গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উজ্জ্বল মিয়া ওই ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে আসছিল। এতে মেয়েটি রাজী না হওয়ায় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উজ্জ্বল তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে উজ্জ্বল তাকে থামানোর চেষ্টা করে। পরে মেয়েটি বাধা পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে গিয়ে তাকে গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় মেরে পালিয়ে যায় উজ্জ্বল।

পরে এক ইউপি সদস্যের সাহায্যে উজ্জ্বলকে ধরে ওই বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক সদর থানা পুলিশের ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উজ্জ্বলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার  বলেন, প্রেমে রাজি না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরীক্ষা কার্যক্রমে ১০ বছর নিষিদ্ধ রাবির দুই শিক্ষক

রাবি প্রতিনিধি:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ে দুই শিক্ষককে ১০ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান সিন্ডিকিটে সদস্য মো. মামুন আব্দুল কাইয়ূম।

ওই দুই শিক্ষক হলেন- চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান।

সিন্ডিকিটে সদস্য মামুন আব্দুল কাইয়ূম জানান, ডিনের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য আইনগত কোনো বাধা যদি না থাকে, তাহলে অধ্যাপক মোস্তাফিজুরকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া শিক্ষক জিল্লুর রহমান ‘সহযোগী অধ্যাপক’ পদে পদন্নোতি পাবেন নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর পর।

এর আগে ২৫ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ দুটি প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৪১ ও ৭৬ নং প্রশ্নে এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

ওই প্রশ্ন দুটি একটি হলো, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কী?’ এই প্রশ্নের চারটি অপশন ছিল- ক. পবিত্র কুরআন শরীফ খ. পবিত্র বাইবেল গ. পবিত্র ইঞ্জিল ঘ. গীতা। অন্য প্রশ্নটি হলো ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধধর্মালম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?’ যার চারটি অপশন ছিল- ক. ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ গ. ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ঘ. ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭।

এ ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর উপ-উপার্চায অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আরও ছিলেন- ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ, ফলতি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল ও রসায়ন বভিাগরে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই সিন্ডিকেটে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডাচ বাংলা ব্যাংকের সকল কার্যক্রম দুই দিন বন্ধ থাকবে

নিউজ ডেস্ক : বেসরকারি ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথসহ পিওএস এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সকল কার্যক্রম বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকরা কোন শাখাতেও লেনদেন করতে পারবেন না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সোফিয়াকে নিয়ে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যন্ত্রমানবী সোফিয়া।

বুধবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) তিনি এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনের বিশেষ অতিথি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নারী রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা-যোগ্যতার বলে তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের তরুণরা দেশকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তারা দেশের মর্যাদা বাড়িয়ে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

‘রেডি ফর টুমরো’ বলে আগামীর জন্য তৈরি হতে নতুন প্রজন্মের তরুণদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

‘প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি ডিজিটাল বাংলাদেশ’। অথচ দশম সংসদের নির্বাচনের পর আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ইশতেহার নিয়ে অনেকে ঠাট্টা করেছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা।

উদ্বোধনের পর লেজার লাইট শোয়ের আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে রোবট সোফিয়াও এই শো উপভোগ করেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সক্ষমতা তুলে ধরতেই এ আয়োজন। আয়োজন করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। এ ছাড়াও আয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে রয়েছে- বাক্য, বিসিএস, ই-ক্যাব, বিআইজেএফ, বিবিআইটি, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম এবং সিটিও ফোরাম।

আজ থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে প্রদর্শনী চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মাস্টার্স প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশন শুরু ১০ ডিসেম্বর

গাজীপুর:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের মাস্টার্স (প্রাইভেট) রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী রোববার (১০ ডিসেম্বর)। চলবে ১৮ ডিসেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, ২০১৬ সালের মাস্টার্স (প্রাইভেট) রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনলাইন আবেদন শুরু আগামী ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত চলবে।

বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট www.admissions.nu.edu.bd অথবা nu.edu.bd/admissions থেকে জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মাধ্যমিক পাশ করেই স্নাতক, তার পরেই স্নাতকোত্তর। সব শেষে উচ্চমাধ্যমিক

ডেস্ক: মাধ্যমিক পাশ করেই স্নাতক, তার পরেই স্নাতকোত্তর। সব শেষে উচ্চমাধ্যমিক। অন্তত খাতায়-কলমে এই অসাধ্য সাধনটি করেছেন নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শঙ্কর চৌধরি। মোদির দেওয়া টিকিটে যিনি ফের লড়ছেন বিধানসভা ভোটে।
গুজরাতের ভাভ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর ভোটে লড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা যাচ্ছে, তিনি মাধ্যমিক পাশ করেছেন ১৯৮৭ সালে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ২০০৭ সালে, স্নাতকোত্তর ২০০৯ সালে। আর উচ্চমাধ্যমিক ২০১১ সালে! গুজরাতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দু’টি হলফনামা রয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। প্রথমটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও সাল লেখা ছিল না। কিন্তু চার দিন পরের হলফনামাটিতে সাল লিখতেই তোলপাড় গুজরাত।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে। হাইকোর্টেও মামলা ঠুকেছে। নির্বাচন প্রচারে ব্যস্ত শঙ্করকে অবশ্য ফোনে ধরা যায়নি। কিন্তু দিল্লিতে বিজেপির এক নেতার কথায়, যদি সাল লিখতে কোনও ভুল হয়ে থাকে, সেটি শুধরে নেওয়া হবে। কিন্তু কংগ্রেস তাদের প্রচার উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়ে বলছে, এর আগে খোদ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকী, মোদির প্রাক্তন মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কম হল্লা হয়নি। সে ক্ষেত্রেও এই নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। একমাত্র মোদি জমানাতেই এমন ‘বিচিত্র’ ঘটনা ঘটতে পারে বলে কটাক্ষ করছে কংগ্রেস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সাভার: সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাভার শাখার উদ্যোগে বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশ এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম।
সমাবেশে এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ বেড়ে গেছে। সরকারের উচিত ধর্ষণকারীদের দ্রুত আইনে বিচার করা। তাহলে দেশে ধর্ষণ কমে আসবে। ধর্ষণকারীরা দেশ ও জাতির শক্রু। এরা কখনো মানুষ হতে পারে না। তাই ধর্ষণকারীদের রাজনৈতিক সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয় প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। এছাড়া সারাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে আহবান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
সমাবেশে এ সময় বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মহিলা পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুদক তালিকার শিক্ষক ফারহানার রমরমা কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ রাজধানীর স্বনামধন্য আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।এরপরও ভিকারুননিসার অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. ফারহানার কোচিং ব্যবসা থেমে নেই। সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বৈগর গলির একটি বাসায় চলছে তার কোচিং সেন্টার। মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ কোচিং বাণিজ্যে জড়িত ৯৭ শিক্ষকের কর্মস্থল রাজধানীর আটটি স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের কাছে তালিকা পাঠায় দুদক।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সকালে প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গেলে নিরাপত্তারক্ষী একটি ফরম ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এখানে নাম-ঠিকানা পূরণ করতে হবে। কী কারণে প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে চান সেটিও উল্লেখ করতে হবে।’ তবে ফরম পূরণ করেও প্রিন্সিপাল সাক্ষাতের সুযোগ দেননি। ওই নিরাপত্তারক্ষী ফিরে এসে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ম্যাডাম এখন ব্যস্ত আছেন। আপনার কার্ড দিয়ে যান, পরে তিনি ফোন করে কথা বলবেন।’  কিন্তু বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলেও তিনি এ প্রতিবেদককে ফোন করেননি।

দুদকের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার চৌধুরী (ইংরেজি ভার্সন), ড. ফারহানা (পদার্থবিজ্ঞান), সুরাইয়া নাসরিন (ইংরেজি), লক্ষ্মী রানী, ফেরদৌসী ও নুশরাত জাহানের নাম রয়েছে। মঙ্গলবার ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর মাধ্যমে বার্তা পাঠালেও তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ভিকারুননিসার পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. ফারহানা রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বৈগর গলির ৬৪ নম্বর বাসার প্রথম তলায় দুটি কক্ষ নিয়ে কোচিং পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে যায়, কোচিং সেন্টারটির বাইরে কোনও সাইনবোর্ড নেই। তবে সেন্টারটির বাইরের দরজার ওপরে সাইনবোর্ড থাকলেও সেটি যে খুলে ফেলা হয়েছে তার ছাপও চোখে পড়ে।

সেখানে গিয়ে দরজায় টোকা দিতেই বের হয়ে আসেন দুই নারী। তারা নিজেদের নাম না বলে শুধু কোচিং সহকারী বলে পরিচয় দেন। দরজা দিয়ে ভেতরে দেখা যায়, কক্ষ দুটিতে সারি সারি বেঞ্চে বসে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে সেখানে শিক্ষক ফারহানাকে পাওয়া যায়নি।

কোচিং সহকারী দুজনই পরীক্ষা তদারকি করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা বলেন, ‘ম্যাডাম আমাদের রেখেছেন কাজের জন্য। তাই কাজ করি। এছাড়া আর কিছু জানি না।‘ তারা আরও বলেন, ‘ম্যাডাম সকাল থেকে কোচিংয়ে আসেননি,  আজ সারাদিনেও আসবেন না।’ ড. ফারহানার ফোন নম্বরও দেননি তারা। এরপর তারা তড়িঘড়ি করে দরজা লাগিয়ে দেন।

পরে কোচিং শেষে কয়েকজন ছাত্রী বের হয়ে এলে তাদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা বলে, ফারহানা ম্যাম অনেক ভালো পড়ান, তাই তার কাছে পড়ি। ড. ফারহানা নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই কোচিংয়ে পড়ান বলেও জানান ওই ছাত্রীরা।

এসময় ফরিদা পারভিন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা অভিভাবকরা কোচিংয়ের পক্ষে। কারণ, স্কুলের একটা শ্রেণিকক্ষে অন্তত দেড়শ শিক্ষার্থীকে বসিয়ে ক্লাস নিতে হয় শিক্ষকদের। ক্লাসও হয় অল্প সময়। এত শিক্ষার্থীর মধ্যে কিভাবে একজন শিক্ষক সবাইকে ধরে ধরে বোঝাবেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ আছে। এখনকার পড়াশোনা অনেক কঠিন। তার ওপর অনেক প্রতিযোগিতা। এখানে টিকে থাকতে হলে কোচিং ছাড়া কোনও উপায় তো খোলা নেই।’

এই অভিভাবক বলেন, ‘একজন শিক্ষককে বাসায় রেখে পড়াতে মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা লাগে। এত টাকা দিয়ে শিক্ষক রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার স্কুলেও ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না, কিন্তু এর দোষ তো শিক্ষকদের নয়। শিক্ষার্থী বেশি, প্রতিযোগিতা বেশি, পড়াশোনা কঠিন। ফলে কারোরই কিছু করার নেই। সরকারকেই এর সুষ্ঠ সমাধান বের করতে হবে।’

কিভাবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে এক সঙ্গে বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে পড়াতে বাধ্য হন শিক্ষকরা। কারণ, শিক্ষক সংকট এমনকি শ্রেণিকক্ষ সংকটও থাকে। এ সংকট দূর করতে হবে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে কয়েকটি গ্রুপে ক্লাস নিতে হবে। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। এছাড়া, পড়াশোনাও একটু সহজ করতে হবে। এগুলো হলেই আমি মনে করি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে।’

ড. ফারহানার সঙ্গে কথা বলতে আবারও ভিকারুননিসা স্কুলে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে ভিজিটিং কার্ড পাঠালে তিনি ফিরে এসে জানান, ‘ম্যাডাম ব্যস্ত আছেন। কথা বলতে পারবেন না।’

বাংলা টিব্রিউন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিভাগ থাকছে না আর মাধ্যমিকে

মাধ্যমিক স্তরের পড়ালেখায় আর বিভাগ থাকছে না। নতুন শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে। ফলে এখন থেকে আর নবম শ্রেণিতে থাকবে না বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শাখার আলাদা বিভাগ।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয় নির্বাচন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ইচ্ছামতো বিষয় নির্বাচনের মাধ্যমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করবে। এইচএসসি স্তরে গিয়ে বিষয় নির্বাচন করে পড়তে হবে।

এই প্রস্তাব মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের। তারা জেএসসি ও এসএসসিতে পরীক্ষার বিষয় কমানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) চৌধুরী মুফাত আহমেদ বলেন, শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শিক্ষাবিদরা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষাবিদদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে অনেকগুলো বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা কমবে। শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় গত বছর। কমিটির সদস্যদের নিয়ে গত বছর ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারে দুই দিনের আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশ কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাব-কমিটি আট দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেছেন। তাতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাক্রমের বিষয়বস্তু গুরুত্ব অনুসারে তিন গুচ্ছে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ‘ক’গুচ্ছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। ‘খ’ গুচ্ছে বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ (ইতিহাস, পৌরনীতি ও ভূগোল)। ‘ক’ ও ‘খ’ গুচ্ছ বাধ্যতামূলক। আর ‘গ’গুচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি, চারু-কারু কলা, শরীরচর্চা ও খেলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি ও গার্হস্থ্য, নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি।

এ গুচ্ছে প্রকৌশল প্রযুক্তি (বিদ্যুৎ, যন্ত্র, কাঠ, ধাতু ইত্যাদির ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রয়োগ) যুক্ত করার মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় চারু ও কারুকলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শরীরচর্চা ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়গুলো বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১০টি বিষয় থেকে তিনটি কমবে। সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ‘গ’গুচ্ছের বিষয়ে জ্ঞান ও তত্ত্বের চেয়ে চর্চা, আগ্রহ বৃদ্ধি, মনোভাবের পরিবর্তন ও সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং প্রায়োগিক দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। এসব বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যালয়ভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও এর সঙ্গে যুক্ত সুচিন্তিত সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির নিবিড় যোগ স্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ধারণা দিতে নির্দেশিকা তৈরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভবিষ্যতের কর্ম ও পেশা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নবম ও দশম শ্রেণিতে আগের শ্রেণির গুচ্ছের সঙ্গে ‘ঘ’গুচ্ছ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ গুচ্ছে পদার্থ, রসায়ন, জৈব বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, হিসাব, বিপণন, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি। ‘ঘ’গুচ্ছ থেকে যেকোনো দুটি বিষয় শিক্ষার্থীরা নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলে ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে ঐচ্ছিকভাবে আরও একটি বিষয় নিতে পারবে। তবে বাধ্যবাধকতা নেই।

কমিটির সদস্যরা জানান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয় বাধ্যতামূলক ও দুটি ঐচ্ছিক বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা না নিলে একটি বিশেষ শ্রেণি ক্ষুব্ধ হতে পারে। সে বিবেচনায় ধর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক বিষয় করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐচ্ছিক বিষয় একটি কমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণিতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয় ছাড়া ‘গ’গুচ্ছ থেকে দুটি ও ‘ঘ’গুচ্ছ থেকে দুটি বা তিনটি বিষয় নিতে হবে। এর ফলে এসএসসিতে ১৪টি বিষয় থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা কমবে। অর্থাৎ ঐচ্ছিক বিষয়সহ মোট ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।

প্রসঙ্গত, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১৩টি বিষয় থেকে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা কমিয়ে ফেলেছে। সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে ধারবাহিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা বাদ দেয়া হয়েছে।

আগামী বছর থেকে এই দুই বিষয়ে পরীক্ষা হবে না। তবে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে পাঠাতে হবে। মূল মার্কসিটে এসব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ থাকবে। তবে পরীক্ষার ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য জানান, পাঠ্য বইয়ের তত্ত্ব ও তথ্য আয়ত্ত হলো কিনা যাচাই করতে পাবলিক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। পাঠ্যপুস্তকের বিষয় জানা মূলত স্কুলভিত্তিক অর্ধ বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা ও ধারাবাহিক গাঠনিক মূল্যায়নের ক্ষেত্র। শিক্ষণ-শিখনের সময় বাড়াতে পাবলিক পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন করে স্বল্প সময়ে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলো প্রতিটি বিষয়ের একপত্রের তিন ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়ার জন্য মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। এটি বাস্তবায়ন করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ ও অশান্তি লাঘব হবে। মাসব্যাপী পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের ব্যস্ত থাকতে হবে না। শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবে না।
কমিটির সদস্যরা শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় বাড়িয়ে অন্তত এক ঘণ্টা করার প্রস্তাব করেছেন। আবশ্যিক বিষয়ের জন্য যথেষ্ট সময় নির্ধারণ করে সাপ্তাহিক ও বার্ষিক সময় বিন্যাস, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময় কমিয়ে বছরব্যাপী পাঠদানের সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটি ১৮ জেলার ৮৬ জন শিক্ষকের মতামত, ১১টি সভা, ছয়টি কনফারেন্স, দুটি স্কুলের ১০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফডিজি), ২১ জন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞের মতামতের আলোকে এসব প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

সূত্র আরও জানায়, সভায় শিক্ষাক্রম পরিমার্জন কমিটির সুপারিশ উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সভায় উপস্থিত কমিটির প্রায় সকল সদস্য প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন। শুধু কিছুটা ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিভাগ তুলে দিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করলে বিজ্ঞান বিষয়ের গুণগতমান কমে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের সঙ্গে তাল মিলাতে পারবে না। কারণ বর্তমানে নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের বিষয়ের বইগুলোতে যেসব কন্টেন্ট আছে তা মানসম্মত না। নতুন পদ্ধতি চালু করলে যেন কোনোভাবেই বিজ্ঞানের বইয়ের মান কমে না যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। মান ঠিক রেখে নতুন পদ্ধতি চালু করতে তার আপত্তি নেই। তা না হলে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে নামবেন।

বৈঠকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকে এক বিভাগ থেকে পাস করে উচ্চ শিক্ষা নেয় অন্য বিষয়ে। শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকে বিভাগ নির্বাচনে সঠিক সিদ্বান্ত নিতে পারে না। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত তিনি গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতি চালুর মত দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক স্তরে বিভাগভিত্তিক পড়াশুনার পরিবর্তে গুচ্ছভিত্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সকল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগ পছন্দ করে ভর্তি হবে।
আমেরিকায় এ পদ্ধতি চালু আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বিষয়ে দক্ষতা যাছাই করতে পাবলিক পরীক্ষা নয়। ব্যাকরণ লিখতে, পড়তে ও বলতে জানা চর্চার বিষয়, মুখস্ত করার বিষয় না। মুখস্তবিদ্যা ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুর্গাপুরে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত ‘

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) ॥ দুর্গাপুর এম,কে,সি,এম সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত এবং পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০মিঃ এম,কে,সি এম সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৭ম শ্রেণীর ৫৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এসেও অনিবার্য কারণ বশতঃ পরীক্ষা স্থগিত এবং পরীক্ষাটি আগামী ১১ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের নোটিশ দেখে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ গফুর  জানান, ঘটনাটি সত্য। সেই সময় একই স্কুলেন প্রশ্নপত্র তৈরী কমিটির আহবায়ক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আলমগীর হাসান(গনিত) উপস্থিত ছিলেন । তিনি বলেন, ৪ ডিসেম্বর এই স্কুলের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ১ম এবং ২য় রোল নং এর ছাত্র রাফি এবং রায়হান আঃ রাজ্জাক স্যারের হাতে লেখা প্রশ্নটি প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে এই দুজন শিক্ষকের সামনে উপস্থাপন করেন । যে পরীক্ষাটি ৫ডিসেম্বর মঙ্গলবার হওয়ার কথা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন লক্ষীপুরের সেই সিভিল সার্জন

লক্ষীপুরে ভ্রাম্যামাণ আদালতে ৩ মাসের সাজা আদেশের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফ।

মঙ্গলবার ( ০৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় লক্ষীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন ৫ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে কারাগার থেকে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

এসময় সাবেক সিভিল সার্জন তার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং সিনিয়র চিকিৎসক যেন অসম্মানিত ও অপমানিত না হন এ জন্য জোর দাবী জানাই। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের নামে যে তৎপরতা চালানো হচ্ছে অবশ্যই এটি বন্ধ করা সহ যারা এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, ডা. নিজাম উদ্দিন, ডা. জাকির হোসেন, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা. হামিদ প্রমুখ।

সালাউদ্দিনের আইনজীবি রাসেল মাহমুদ মান্না জানান. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ডা. সালাউদ্দিন শরীফের জামিন আবেদন করলে আদালত ৫ হাজার টাকার মুচলেকা দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বড় ছেলে মিনহাজের সঙ্গে বাক বিতন্ডা হয়। এসময় ডা. সালাহ উদ্দিন এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। কিন্তু এডিসি পরিচয় না দিয়ে তার সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে এডিসিকে থাপ্পড় মারেন ডাক্তার।

বাবা ছেলে ও এডিসি’র মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ডেকে ডাক্তারকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় ডাক্তারকে।

খবর পেয়ে জেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যান। বিক্ষুব্ধ অবস্থায় চিকিৎসকরা প্রশাসনের সকল সেবা কার্যক্রম ও সকল হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে নিঃশর্তভাবে ওই চিকিৎসকের মুক্তি দাবিকরেন।

জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগমের সঙ্গে প্রায় আধা ঘন্টার মতো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন তারা। তবে বৈঠকে চিকিৎসকরা তড়ি ঘড়ি করে সাজা দেয়ার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসককের কাছে প্রশ্ন তোলেন। এসময় জেলা প্রশাসক আপিল করলে সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আত্তীকৃতদের ক্যাডারের মর্যাদা দেয়া হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক: আত্তীকৃত সরকারি কলেজের শিক্ষকরা এখন আর বিসিএস ক্যাডারের মর্যাদা পাচ্ছেন না। তবে এই শিক্ষকরা ক্যাডারের মর্যাদাই চায়। অন্যদিকে বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকরা বলছেন, আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের কোন ভাবেই ক্যাডার র্মযাদা দেয়া যাবে না। এর জন্য তারা আন্দলোনের পাশাপাশি আলোচনা করতেও রাজি । এদিকে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আত্তীকৃত শিক্ষকরা বিসিএস মার্যদা পাবেন না। এ জন্য আইন পরির্বতন করা হবে।

চার দশক ধরে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যুক্ত হয়ে আসছেন সরকারকৃত কলেজ শিক্ষকরা। এবার যখন একযোগে ২৮৫ কলেজে ১২ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি হতে যাচ্ছে তখন তার বিরোধিতা করছেন বিসিএস পরিক্ষা দিয়ে আসা শিক্ষকরা। কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা না দেয়ার দাবিতে মহাসমাবেশ সহ কর্মসূচি পালন করেছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি । এদিকে আগামী জানুয়ারি মাসেও তিনদিনের কর্মবিরতি ঘোষণা দেয়া আছে। পাশাপাশি একটি রিট আবেদনের উপর শুনানি চলছে হাই কোর্টে ।

এ সম্পর্কে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘কলেজগুলো জাতীয়করণ হবে এবং শিক্ষকগণ ওই কলেজেই থাকবেন। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জাতীয়করণ তখনই সম্ভব যদি সেই শিক্ষকগুলোকে ক্যাডারের বাহিরে থাকে এবং এর জন্য মন্ত্রীমহাদ্বয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন , ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকরা বিসিএস ক্যাডারের মর্যাদা পাবেন না। আর এর জন্য আইন পরিবর্তনের কাজ চলছে।’

এদিকে বিসিএস ক্যাডারের মর্যাদার দাবি পূরণ না হলে আদালোতে যাবেন আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকরা। এ সম্পর্কে সরকারিকরণকৃত কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সময় ক্যাডার মর্যাদা দিয়েছে। সরকারি করণের একই প্রক্রিয়ায় দুইরকম হলে শিক্ষা ব্যবসায়ায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।’

২০১০ সালে উন্নিত জাতীয় শিক্ষানীতিতে বিসিএস ক্যাডারদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হযেছে। এমনকি পৃথক একটি নীতিমালা তৈরী করে কলেজ সরকারিকরণের কথা বলা হয়েছে।
সূত্র : যমুনা টিভি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail