Author Archives: chief editor

ধাঁধার সমাধান করতে গিয়ে তোলপাড় হল টুইটার

অনলাইন ডেস্ক ॥ ছোট্ট একটা ধাঁধা। যা সমাধান করতে গিয়ে তোলপাড় হল টুইটার।

আপনিও এই ধাঁধার উত্তর ভাবতে শুরু করে দিলেন নাকি! এই ধাঁধার উত্তর খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে একটা টুইট। টুইটটিতে লাইক পড়েছে প্রায় তিন লক্ষ। শেয়ার হয়েছে ৯৫ হাজারেরও বেশি বার। আর সংখ্যাটা কিন্তু বেড়েই চলেছে।

৩ জানুয়ারি এই ধাঁধাটি টুইট করেন নিউ ইয়র্কের অ্যালবানির বাসিন্দা ব্রেট টার্নার। ব্রেট পেশায় একজন শিক্ষক। ব্রেট জানান, প্রথমে তাঁর ক্লাস ওয়ানে পড়া ছেলের কাছে এই ধাঁধার উত্তর জানতে চেয়েছিলেন। ছেলের উত্তর শুনে তাজ্জব বনে যান তিনি। কারণ, ছেলের উত্তর ছিল ‘মৃত্যু’। ‘সব কিছুর শুরু আর শেষ’ কী হতে পারে? বছর ছয়-সাতেকের সন্তানের কাছ থেকে এমন উত্তর পেলে বাবা-মা অবাক হবেন বইকি!

শিশুটির উত্তর এবং ধাঁধার প্রকৃত উত্তর নিয়ে এখনও জোর চর্চা চলছে টুইটারে। আপনি কি পারবেন এই ধাঁধার উত্তর দিতে?

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

সর্বত্র ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেবেন মোস্তফা জব্বার

হ্যাপী আক্তার : নবনিযুক্ত ডাক,টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বাংলাদেশের সর্বত্র ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াকেই সবার আগে অগ্রধিকার দেবেন তার কাজে। মোস্তফা জব্বার জিনি কম্পিউটারের বাংলা লেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার বিজয়ের উদ্ভাবক হিসেবেই বেশি পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় একটি সংগঠন বেসিসের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বের মেয়দ যখন আর মাত্র এক বছর সেখানে তিনি দায়িত্ব নিয়ে কতটুকু কি করতে পারবেন?

বিবিসি বাংলাকে এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, এক বছর যদি গণনা করা হয় তাহলে খুবই অল্প সময় এটি ঠিক। তবে তার কাছে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে ২০০৯-১৭ পর্যন্ত বর্তমান সময় কালে সরকার এবং তার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেশকে ডিজিটালে রুপান্তরের জন্য যেভাবে কাজ করে এসেছে এটাকে প্রাথমিক প্রস্তুতি না বলে মোটামুটি একটি ভালো প্রস্তুতির জায়গা করে দিয়েছে সরকার, তা বলা যায়। এর ফলে এক বছরে যে কাজটি করা হবে সেখানে ৯ বছরের কাজের ফলাফল এক বছরের কাজে জমা হবে। তাই এক বছরের সময় কম মনে করছেন না তিনি।

কাজের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট হচ্ছে মহাসড়ক, আর এই মহাসড়ক যদি প্রস্তুত আর মসৃন করা যায় তাহলে যে চলাচলের পথটি তৈরি হবে, তা হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির বড় অংশ। মোস্তফা জব্বারের আর একটি লক্ষ্য হচ্ছে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো এবং ইন্টারনেটকে সাশ্রয়ী করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরো বলেন, সরকারে যে ডিপ্লোমা পদ্ধতি আছে তাকে ডিজিটাল করতে চান তিনি। তার জন্য সরকার জনগণের কাছে কেমন করে সেবা দিতে পাওে, তার সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরকার পরিচালনা পদ্ধতি কেমন করে ডিজিটাল হতে পারে ইত্যাদি।

এর পরের অগ্রাধিকার হলো, শিক্ষাকে ডিজিটালে রুপান্তর, একই সাথে বাংলাদেশ ডিজিটাল ডিভাইজের ক্ষেত্রে আমদানিকারক নির্ভরশীল দেশ ছিল। সে জায়গাতে বাংলাদেশকে উৎপাদক না আমদানি-রফতানিকারক দেশ হিসেবে রুপান্তর করতে চান তিনি।

আন্তর্জাতিকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সব কাজ বাংলায় করতে নিদের্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। বাংলায় কাজ করার বিষয়টি কি বাস্তব সম্মত?

এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যদি যোগাযোগ করতে হয় তাহলে জাপানের সাথে যদি যোগাযোগ করতে জাপানি ভাষায় যোগাযোগ কর ভালো হবে। আবার যদি মধ্যপ্রাচ্যের সাথে যোগাযোগ করতে তাহলে তাদের সাথে আরবি ভাষায় যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্য দিকে ইংরেজিতে যদি যোগাযোগ করতে হয় সেখানে যে ইংরেজিতে যোগাযোগ করবো না সে কথা বলিনি। তবে যে লোকটি বাংলাদেশে থেকে ব্যবসা করবে অথচ বাংলায় চিঠি পাঠাবেন না, সেটা উচিত না। বাংলা শিখে বাংলাদেশে ব্যবসা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। আমি যখন জাপানে ব্যবসা করতে যাই, সেখানে জাপানি ভাষা শিখে ব্যবসা করতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, একটি বিষয় ভুলে যাওয়া ঠিক না বাঙালী একমাত্র জাতি যে নিজের রক্ত দিয়ে ভাষা রক্ষা করেছে। অনেকেই যদি মনে করেন যে বাংলা ভাষা মন্ত্রণালয়ে প্রচলনের কথা বলাতে এটি ভুল কিছু করেছি, এটা ঠিক না। সংবিধানকে মাথার ওপরে রাখি এবং বাংলাদেশের সংবিধানকে নিয়ে গর্ববোধ করি।

বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। বর্তমানে সেই মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সেখানে সার্থের সংঘাত যাতে না হয় তা কিভাবে নিশ্চিত করবেন?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনা করেছেন ১৪ বছর। এই ১৪ বছরের মধ্যে বর্তমান সরকারের সাথে তার প্রতিষ্ঠান কোন ধরণের ব্যবসা করেনি। সে জায়গা থেকে তিনি বলেন, আমার জন্য সার্থের সংঘাতের কোনো ধরণের ইস্যু নেই। তিনি আরো বলেন, আমার কোম্পানি যদিও ব্যবসা করে এবং পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে যদি ব্যবসা পায় তাহলে সেখানে আপত্তি করার মতো কিছুই থাকবে না।

দুই মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু

বিভাষ বাড়ৈ:

অর্থ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মতি অনুসারে নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। সব দিক মাথায় রেখেই কাজ শুরু হয়েছে। তবু অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় নন-এমপিও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অনশন করেছেন তারা। এ নিয়ে ১১ দিন ধরে সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীদের দাবি এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ছাড়া তারা যাবেন না। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চান।

প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে ‘নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনে’র ব্যানারে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে আসা দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ’ শিক্ষক গত রবিবার সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। তাদের অনশন ভাঙ্গাতে মঙ্গলবার সকাল এগারোটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনস্থলে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর ছাড়াও অর্থমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ও ডিআইএর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যাওয়ার আগে সকালেই শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে। অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে নীতিমালা অনুসারে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সম্মতি দেন অর্থমন্ত্রী। এরপর আন্দোলনকারীদের কাছে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক চেষ্টার পর তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পেরেছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমি কথা দিচ্ছি এমপিওভুক্তির দাবি পূরণ করে দেব। টাকা, পয়সা, অর্থের ব্যাপার আছে। অর্থমন্ত্রী রাজি হয়েছেন, আমরা কাজ এগিয়ে রেখেছি। গত কয়েক মাস ধরে আমি অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করার চেষ্টা করছি, বলেছি নীতিমালা করে দেন ওটা মেনেই কাজ করব। রোজ চাপ দিচ্ছি, রোজ দেখা করছি। নীতিমালা করে দিয়ে বলেছি এটা দিলাম, আপনারা দেখেন। আপনারা কষ্টে আছেন, আমিও কষ্ট পাচ্ছি। আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সম্মতি দিয়েছেন, এমপিওভুক্ত যারা হননি তাদের এমপিওর ব্যবস্থা করা হবে। এটা আমাদের বিজয়, প্রথম স্বীকৃতি। নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মতি অনুসারে ইতোমধ্যেই নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত এমপিও নীতিমালার খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন চাওয়া হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করা হবে। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি)।

কর্মকর্তারা বলেছেন, এ মুহূর্তে থোক বরাদ্দ পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। ছয় মাস পর ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে আরও আড়াই হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী ভাল ফল, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর আর কোন প্রতিষ্ঠান এমপিও হয়নি। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে আছে।

এমপিওসংক্রান্ত মাউশির করা প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সারাদেশের এমপিওবিহীন সাত হাজার ১৪২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা লাগবে। এর মধ্যে এক হাজার ২২৭ নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২১৯ কোটি ৭১ হাজার ৩০০ টাকা, এক হাজার ৮৯ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৬৮ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা, এমপিওভুক্ত তিন হাজার ২৭৫ নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাধ্যমিকে উন্নীত করে এমপিওভুক্ত করতে ৫২২ কোটি ৬০ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা।

৫১৮ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের জন্য ৩৫৭ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং এমপিওভুক্ত এক হাজার ৩৩ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজকে ডিগ্রী স্তরে উন্নীত করে এমপিওভুক্ত করতে ৭১৭ কোটি ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৫০ টাকা লাগবে। ডিগ্রী কলেজ এমপিওভুক্ত করতে বছরে লাগবে ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের জন্য লাগবে ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা, আর নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য লাগবে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ জানিয়েছেন, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণে আমরা প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের আশ্বাসে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসলে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সালমা জাহান বলেন, নতুন এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত মাউশি থেকে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে সারাদেশে এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করে অপেক্ষমাণ পাঁচ হাজার ২৪২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলোতে কর্মরত এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৭৫ হাজার। তাদের সবাইকে এক অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্ত করা কঠিন। এজন্য পর্যায়ক্রমে যোগ্য সবাইকে এমপিওভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে থোক বরাদ্দ পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। ছয় মাস পর ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে আরও আড়াই হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া সংশোধিত নীতিমালার খসড়ায় জনসংখ্যা অনুপাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমপিওর প্রাপ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েকটি শর্তজুড়ে দেয়া হয়েছে। এমপিওভুক্ত হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থাকতে হবে। ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। তবে নীতিমালা অনুসারে প্রাপ্য না হলেও দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকা, চা-বাগান, হাওড়, পার্বত্য এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রত্যেক উপজেলায় কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে।

মাউশির পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক শামছুল হুদা বলছিলেন, ২০১০ সালের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার সময় এমপিওভুক্ত না করার অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়। সে অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান সরকারী কোন এমপিও বা অনুদান পাওয়ার কথা নয়। নিজেদের ব্যয়ে এসব প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা ছিল। বর্তমান সরকার অনেক সহনীয়। এ কারণে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এসব পদক্ষেপেও আন্দোলন তুলতে রাজি নন শিক্ষকরা। তারা এখনই এমপিও বাস্তবায়ন চান। বৃহস্পতিবার কর্মসূচী থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগেও ওয়াদা দেয়া হয়েছে। এইবার আর ওয়াদা নয়। শিক্ষকরা বাস্তবায়ন চান।

অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লেও কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনও অটল শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এবার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা অথবা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে তারা বাড়ি ফিরে যাবেন না। শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মহাজোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন তারা।

মহাজোটের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে বলেন, শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক, শিল্প ব্যাংকের অর্থ লুটপাট হয়েছে। এত টাকা চুরি হয় আর শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বাবদ এক হাজার কোটি টাকা কেন ভর্তুকি দেবে না সরকার? তিনি বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনে কাজ করে যান। তাদের কথা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন।

দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য শিক্ষক বা সমাজের জন্য শোভনীয় নয়। শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই শিক্ষকদের দাবি পুনরায় বিবেচনা করুন। সূত্র:জনকন্ঠ

মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের মাস্টার্স এমএ/এমএসএস/এমবিএস/ এমএসসি ও এম মিউজ শেষ পর্ব (আইসিটিসহ নিয়মিত, অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট) পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের সময়সীমা আগামী ৮ হতে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও http://www.nu.edu.bd থেকে জানা যাবে।

দামুড়হুদার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যে

স্টাফ রিপোর্টার:কোচিং বাণিজ্য বন্ধে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, কোচিং সেন্টারের পরিচালক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভাও করেছেন জেলা প্রশাসক। সভায় বেশকয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ ও তা বাস্তবায়ন করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু তাতে কী? কোচিং লোভী শিক্ষকরা ঠিকই কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো মহাবিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পর চুয়াডাঙ্গায় এবার কোচিং বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই এলাকার সচেতন অভিভাবকরা ওই অভিযোগ করেন।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান এক যুগেরও বেশি সময় থেকে কালিয়াবকরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় প্রায় ৬ বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। সেই থেকেই তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস না করিয়ে কালিয়াবকরী গ্রামের ‘আশার আলো’ (তেঁতুলতলা) নামের একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের যেতে বাধ্য করেন। বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে অভিভাবকদের ডেকে ওই কোচিং সেন্টারে তাদের ছেলে-মেয়েকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। বিদ্যালয়ে এসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয়ভীতিও দেখান। সম্প্রতি বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার দিন অভিভাবকদের ডেকে আবারও ওই কোচিং সেন্টারে তাদের ছেলে-মেয়েকে পাঠানোর জন্য বলেন। সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ওই কোচিং সেন্টারের লোকজনকে সাথে নিয়ে প্রত্যেক অভিভাবকের বাড়ি গিয়ে ওই কোচিং সেন্টারে তাদের ছেলে-মেয়েকে পাঠানোর জন্য বলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সচেতন অভিভাবক জানান, একজন সরকারি চাকরিজীবী কিভাবে কোচিঙে যেতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন যেখানে সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে আইন তৈরি করছে? তাছাড়া জেলা প্রশাসক কোচিং বাণিজ্য বন্ধে পত্রিকায় প্রচার-প্রচারণা করছেন। কিন্তু তা তোয়াক্কা না করেই তিনি ওই কোচিঙে শিক্ষার্থীদের পাঠাচ্ছেন। ওই কোচিং সেন্টার থেকে বিকাশের মাধ্যমে মাসোহারা নিচ্ছেন বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে। শুধু তাই নয়, সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র দিতেও নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন এলাকার খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। এর আগে তিনি মোটা টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয় থেকে বয়স প্রমাণের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ পেতে সহযোগিতা করতেন। এতে এলাকায় বাল্যবিয়ের হার বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তলব করেন। সে দফায় ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান তিনি। এছাড়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় নকল ও অসাধু উপায় অবলম্বনে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে দফায়ও ক্ষমা চেয়ে পার পান তিনি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো জানান, অনেক অভিভাবক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার কাছে কোচিঙের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। পরে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিভাবকরা মিথ্যা কথা বলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে কোনো অভিভাবক জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই এলাকার সচেতন অভিভাবকরা।

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের টাইম‌স্কেল নিয়ে জ‌টিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩জানুয়ারী ২০১৮: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এই আদেশের ফলে ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত যা‌দের ১ম.২য় এবং ৩য় টাইম‌স্কেল ‌ডিউ হ‌য়ে‌ছে তারা টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রনালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৬০১। এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৫০ হাজারের মতো। অন্য সব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ ৫০ হাজারের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৫ হাজার ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১০ হাজারের কাছাকাছি।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল দুই ধাপ উন্নীত করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার ঘোষণা দেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠকের পর গত ১৫ নভেম্বর যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ অংশই বাদ পড়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় ৯/৩/১৪ – ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত কতজন টাইমস্কেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত আছে তার একটা খছড়া হিসাব চেয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে একটা খছড়া তালিকা তৈরি হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তালিকা মন্ত্রনালয়ে পৌছাবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। তারপরেই তারা অর্থমন্ত্রনালয়ে তালিকাসহ প্রস্তাব পাঠাবে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিয়ে আমরা মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে পারব।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষামন্ত্রনালয়ের সচিব আসিফ-উজ-জামান দৈনিক বর্তমানকে বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

প্রাথমিকে সুবিধামত বদলিতে লাগবে মেধা পরীক্ষা

প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা যোগ্যতার পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হলেই ঢাকায় সুবিধামত স্থানে বদলি হতে পারবেন। রাজধানীর সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে বদলির ক্ষেত্রে এমন বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের সংশোধিত বদলির নীতিমালা খসড়াতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বদলির আবেদন করা যাবে না। তবে বিশেষ কারণে যে কোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বদলির নীতিমালা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে স্কুল শিক্ষকদের যৌক্তিক কারণে বা প্রয়োজনে বদলি করা সম্ভব হয় না। চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে হলে স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যায় না। প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের স্কুলে যোগদান করতে হচ্ছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি নীতিমালা সংশোধনের কাজ শুরু করে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজধানীর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বদলির ক্ষেত্রে মেধা পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সে পরীক্ষায় উর্ত্তীণরাই শুধু এসব স্থানে বদলি হতে পারবেন। চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে, স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যেকোনো সময় বদলি হওয়া যাবে, দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ১০ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন, জাতীয়করণ অনেক শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা প্রেষণে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন। তবে, সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

জানা গেছে, আগের মতো শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন। আর দুই বছরের মধ্যেই নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে বিশেষ কারণে যেকোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে। ইতোমধ্যে বদলি সংশোধিত নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিজিই এ বিষয়ে সুপরিশ পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব মো আসিফুজামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঢাকায় বদলির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি অন্তভুক্ত করার পরামর্শ দেন সচিব। এছাড়াও শিক্ষক বদলিতে মন্ত্রণালয়ের কোনো হস্তক্ষেপ না রাখার বিষয়টি তিনি অন্তভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তী সভায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিক্ষক বদলি নীতিমালায় কিছু জটিলতা থাকার কারণে অনেক শিক্ষক নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। এসব কারণে বদলি নীতিমালায় সেসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় অনেকে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে আবার চাকরি ছেড়ে দেন বা ঝুঁকি নিয়েই চাকরিতে থাকছেন। এমন অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেই আলোকে আমরা বদলির নীতিমালা পরিবর্তনের কাজ করছি। এখন থেকে বিশেষ কারণে বছরের যেকোনো সময় শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে বদলি করা হবে। খসড়া তৈরি হয়েছে। সবার মতামত চাওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চান। এ কারণে সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে বদলিদের সুযোগ মেধাবী শিক্ষকদের দেয়া হবে।

আমরণ অনশনে শিক্ষক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা পাঁচ দিন অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা রোববার সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি চলছে।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। রাজপথেই তাদের থাকা-খাওয়া চলছে। সরকারের দায়িত্বশীল কেউ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এ কর্মসূচি চলছে। গত শুক্রবার ফেডারেশনের নেতারা বৈঠক করে আজ থেকে অনশন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন।

রোববার দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতের ওপর কাগজ, কাপড় বিছিয়ে শুয়ে রয়েছেন। এমপিওভুক্তি, সহকারী শিক্ষকদের মতো বেতন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়সহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন এবং প্লেটে ‘মা ভাত দাও’, ‘মা এমপিও চাই’, ‘করুণা নয় নিজেদের অধিকার চাই’ এমন নানা স্লোগান লিখে শিক্ষক-কর্মচারীরা অান্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন। এতে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। টানা পাঁচ দিন আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কেউ তাদের দেখছেন না। দাবি আদায়ে বাধ্য হয়েই তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও সময় প্রকাশ

ডেস্ক,২৪ ডিসেম্বর: ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও সময় প্রকাশ করা হয়েছে।

আসন্ন ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে পিএসসির এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়।

ওইদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পিএসসির ওয়েবসাইটে http://www.bpsc.gov.bd/ আসন বিন্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত ৩ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

গত ১০ আগস্ট এই বিসিএসে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। এতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

বিনিশার আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাকা: রাজধানীর ভাটারায় পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের নেপালি শিক্ষার্থী বিনিশার আত্মহত্যাকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত  অন্য নেপালি শিক্ষার্থীরা। আর এই রহস্য উদঘাটনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা।

ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজে জড়ো হয়ে এ  বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন  করছেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটন করে সঠিক বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে ২১ ডিসেম্বর একই দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন ডাক্তাররা।

শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষায় খারাপ কিংবা যে কোনো ভুলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করেন। এ আতঙ্কের কারণেই বিনিশা আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বিনা নোটিশে ফাইনাল অ্যাসেসমেন্টসহ সকল ধরণের পরীক্ষা এবং ক্লাশ বন্ধ করেছে। শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য করেছে।

গত ১৯ ডিসেম্বর টার্ম-২ পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় হল থেকে বেরিয়ে হোস্টেলের নিজ কক্ষে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বিনিশা। খবর পেয়ে ওই দিনই দুপুরে ঝুলন্ত অবস্থায় বিনিশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ণিল পুনর্মিলনী

জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি : পার্বত্য খাগড়াছড়ির প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এর পরপরই প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রবীন শিক্ষাবিদ অনন্ত বিহারী খীসা।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আলী আহমেদ খান, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা এবং খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সচিব শ্রীলা তালুকদারসহ প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘আর একটি বার আয়রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিদেশ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের প্রিয় প্রাঙ্গনের এ প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবে যোগ দিয়েছেন।

ডিএনসিসি এলাকায় চলছে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় সকাল থেকে চলছে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ১ হাজার ৪৯৯টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৬ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি মহাখালীর আমতলীতে এ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন।

ক্যাম্পেইনের অধীনে শনিবার ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের আওতাধীন ৩৬টি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৪৯৯টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬৮ হাজার ৭৬৯ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৬৭ হাজার শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রত্যেক শিশুর অভিভাবককে শিশুদের সুষম খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৯৯৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ১৮৩ জন প্রথম সারির এবং ১০৩ জন দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার কাজ করছেন।

সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছেন ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা।

ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করার জন্য প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান, অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেন প্রমুখ।

ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দরকার নেই : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৩ ডিসেম্বর: সম্প্রতি ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি করার ঘোষণার সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘স্কুল কমিটির ধারণাটা সঠিক হয়নি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকবে, থাকতে হবে। কিছু কিছু বিশৃঙ্খলা যা ঘটে সে ব্যাপারে ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকতে হবে। এটা নির্বাচনের বছর। যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। কেউ কেউ অপকর্ম করবে আর সেটার দায় নেবে দল? সেটা হয় না। তাই বলি স্কুল পর্যায়ের কমিটি করার দরকার নেই।’

শনিবার দুপুরে বাংলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা এখন দরকার নাই। এখন সমালোচনা ডেকে আনার দরকার নেই স্কুল কমিটি করে। ছেলে-মেয়েরা পিঠে বই পুস্তকের বোঝা নিয়ে যেন মরুভূমির পথ বেয়ে চলছে। বাচ্চাগুলোকে দেখলে এমনই মনে হয়। তারপর আবার রাজনীতির আরেক বোঝা! দরকার নেই এসবের।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আলোচনা সভাগুলো ঘরোয়া সেমিনার ধরনের না হওয়াই ভালো। এমন আলোচনা সভা বটতলায় হওয়া ভালো। কারণ, এমন মিলনায়তনে একটি হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটির নেতা-কর্মীদের স্থান সংকুলান হয় না। এছাড়া যারা প্রতিদিন একই কথা শুনে অভ্যস্থ, তাদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের প্রতি যেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হয়—সে জন্য বটতলায় এসব অনুষ্ঠান হলে ভালো।’

কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের গুণগত গভীরতা নিয়ে কিছু কিছু জায়গায় আমার প্রশ্ন আছে।’

বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময় বলে আসছে দেশে আইনের শাসন নাই। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অনেক ছাত্রলীগের ছেলে আছে এখন জেলে। কারো কারো যাবজ্জীবন জেল হয়েছে। কারো ফাঁসি পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু বিএনপির আমলে তাদের দলের কোনো নেতাকর্মীর বিচার হয়েছে?

তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকেরা অপকর্ম করে। সেই অপকর্মের ফলও ভোগ করতে হয়। একজন মন্ত্রীর ছেলে হয়ে জেলে। এমপি কারাগারে। আরেক এমপি আদালত থেকে জামিন নিয়ে আছেন। দুই মন্ত্রীকে দুদকের মামলায় কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। বিএনপির আমলে কি এসব কখনো হয়েছে? কোনো বিচার হয়নি। কিন্তু আমরা কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেব না।’

এ সময় রংপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা সংবাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কত রকমের লেখা-লেখি। কেউ কেউ আদা-জল খেয়ে রাজনীতিক কারণে নেমে পড়েছে আমাদের বিরুদ্ধে। সেটা আমরা বুঝি। আমরা বুঝি প্রথম পাতা শেষ পাতা সরকারের বিরুদ্ধে দিচ্ছে। সবই বুঝি।’

কাদের বলেন, কুমিল্লায় আমরা যখন ৩৫ হাজার ভোট আগের চেয়ে বেশি পেলাম সেটা কিন্তু কেউ লেখেনি। আবার নারায়ণগঞ্জে আমরা দেড়গুণ বেশি ভোট পেয়ে জিতেছি। সেটাও লিখেনি। এখন রংপুরের মেয়র আমরা হেরেছি। কাউন্সিলরে প্রথম হয়েছি। সেটাও কেউ বলেনি। আমরা হারলাম কোথায়?

নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি অনাস্থা প্রকাশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুমিল্লায় আস্থা ছিল। রংপুরে নেই। কেমনে আপনাদের টেনে তুলবে? আপনারা তো ২য়ও হন নাই। হয়ে গেলেন তৃতীয়। তৃতীয়ককে টেনে তুলবে কিভাবে। নির্বাচন কমিশনের কী এটা দায়িত্ব? তাহলে তো আগামী নির্বাচনে তিনশত আসনই আপনাদের দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

প্রশ্ন ফাঁসের উৎস ‘বাণিজ্যিক কোচিং’ বন্ধ চান শিক্ষকরা

ডেস্ক,২৩ ডিসেম্বর:  বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারগুলোকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম উৎস্যের জন্য দায়ী করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে দেশের শিক্ষক সংগঠনগুলো। শিক্ষক সংগঠনগুলোর মতে, কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থী টানতে সংক্ষিপ্ত সাজেশন আকারে প্রশ্ন ফাঁস করছে। প্রশ্ন ফাঁসে শুধু শিক্ষকদের দায়ী না করে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারগুলোকে বন্ধ করলে প্রশ্ন ফাঁস অনেকাংশে বন্ধ হবে। বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারগুলোকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ী করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি)।
শিক্ষকরা বলছেন, দেশব্যাপী বাণিজ্যিক কোচিং রমরমা। ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে পরিচালিত সারাদেশে এ ধরনের কত কোচিং সেন্টার আছে সে হিসাব কারো কাছে নেই। রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে উপজেলা সদর পর্যন্ত এ ধরনের কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের লোভনীয় অফার দিয়ে কোচিং সেন্টারে টানছে তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। একটি অসাদু চক্র এদের সাথে যুক্ত থাকে যার মাধ্যমেই প্রশ্ন ফাঁস হয়।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সেলিম উল্লা খন্দকার বলেন, শিক্ষকদের ঢালাওভাবে প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। দুর্নীতি দমন কমিশনও কোচিং সেন্টারসহ বিজিপ্রেসে অসাদু কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়ী করছে। আমি মনে করি, সরকার স্কুলে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে যেভাবে নীতিমালা জারি করছে একইভাবে বাণিজ্যিক কোচিং বন্ধের জন্য নীতিমালা থাকা দরকার। এভাবে চলতে পারে না।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির এক গ্রুপের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার বলেন, সবার আগে স্কুলের বাইরে যে সব কোচিং সেন্টার বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো বন্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার সেগুলো আগে না করে স্কুলে কোচিং সেন্টার বন্ধ করেছে। শুধু শিক্ষক সমাজ নয়, দুদকও কোচিং সেন্টারগুলোকে দায়ী করছে। তাই যত দ্রুত বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার বন্ধ করা যায়, ততই দেশের জন্য মঙ্গল হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির অন্য গ্রুপের সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে কোচিং সেন্টার জড়িত থাকে। তাই  বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার পুরোপুরি বন্ধের জন্য সরকারের কাছে অনেক আগেই দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও এসব কোচিং সেন্টার চলছে, যা দুঃখজনক। এগুলো এখনই বন্ধ করার জরুরি।
বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের মালিকদের সম্পদের খোঁজে রাজধানীর ফার্মগেট, পান্থপথ ও কলাবাগান এলাকায় বুধবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযানে অংশ নেন। এ সময় তারা উদ্ভাস, কনফিডেন্ট, রেটিনা, ইউসিসি, সাইফুরস ও ম্যাবসের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালায়। অবৈধ বাণিজ্যিক কোচিং, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়া পরীক্ষার্থী সরবরাহ ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মসহ নানা কৌশলে কোটি কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক এ অভিযান চালিয়েছিল।
প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে কোচিং সেন্টার রয়েছে তারও প্রমাণ পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি)। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে ২০১৫ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল সংস্থাটি।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, প্রশ্ন ফাঁস ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টারগুলো ফাঁসকৃত প্রশ্ন দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন ও বাণিজ্য অব্যাহত রাখার প্রয়াস পায়। কোচিং সেন্টারগুলো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও মডারেশনকারীদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিয়মিত প্রশ্ন ফাঁসে সম্পৃক্ত থাকে।
টিআইবি জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ অনুসারে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষকদের একাংশ কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অনেকেই কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো আইন বা নীতিমালা প্রণীত হয়নি।
অন্যদিকে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’র ৪ ধারা অনুসারে প্রশ্ন ফাঁসের ন্যায় অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। ১৯৯২ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ শাস্তি কমিয়ে চার বছর করা হয়। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনের আওতায় কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার উদাহরণ দেখা যায় না।
এ বিবেচনায় অবিলম্বে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ করার সুপারিশ করেছিল টিআইবি। কিন্তু টিআইবির ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই নেয়নি সরকার।সুত্র ইত্তেফাক

শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৩ ডিসেম্বর: প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।
এতে মহাজোটের বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এসেছেন অনশন কর্মসূচিতে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে।
জোটের নেতারা দাবি আদায়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, এখন থেকে বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরে যাব না।

দপ্তরের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায় থেকে বৈষম্য কমানোর আশ্বাস প্রদান করা হলেও দীর্ঘ চার বছরে বৈষম্য না কমিয়ে তাদেরকে চরম হতাশার মাঝে ফেলে রাখায় তাদের দাবী আদায়ের জন্য সহকারী শিক্ষকদের সব সংগঠন এক হয়ে মহা জোট গঠন করে অাজ ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়। সহকারী শিক্ষক সংগঠনের সাথে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি,প্রধান শিক্ষক সমিতি সহকারী সংগঠনগুলোর সাথে আন্দোলনে যোগ দিলে আজ শহীদ মিনার জনসমুদ্রে রুপ নেয়।

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরন অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানা যায়। অনশনে যোগ দেওয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও বনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিথুন আহমেদ বলেন আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত এখন অনশন চালিয়ে যাব।

অন্যদিকে অনশনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, আমরা প্রধান ও সহকারীদের মধ্যে এত ব্যবধান চাইনা,আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে আমাদের সহকারী ও প্রধানদের রেখে গেছেন আমরা সেভাবেই বেতন ব্যাবধান চাই, নইলে সহকারীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাদের বিদ্যালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করা দূরুহ হয়ে পড়বে।

hit counter