Author Archives: chief editor

SLIP ফান্ডের অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২এপ্রিলঃ সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য প্রতিটি স্কুলে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- স্কুলের স্লিপ ফান্ডের অর্থ দিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি মেশিন কিনবে।

এতে বলা হয়েছে, চতুর্থ শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্লিপ ফান্ডের অর্থ দিয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিতের জন্য ডিভাইস ক্রয়ের বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক বিধান অনুসরণ পূর্বক স্লিপ ফান্ডের অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিতকরণসহ উক্ত খাতের অর্থে যথাযথভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো। p

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকে দুই শিক্ষিকার মারামারি! কি শিখবে শিশুরা

সিলেট  প্রতিনিধিঃ  সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় স্কুল চলাকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজনই আহত হয়েছেন।

ডেস্কঃ

বুধবার দুপুরে উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের ডিগ্রি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদেজা বেগম চৌধুরী ও সহকারী শিক্ষিকা হাসনা বেগমের মধ্যে বেশ কয়েক দিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয়ই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষিকা খাদেজা চৌধুরীর সঙ্গে সহকারী শিক্ষিকা হাসনা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে আহত হন দুজনই।

এসময় এলাকাবাসী দ্রুত জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রধান শিক্ষিকা খাদেজা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পাশাপাশি হাসনা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন।

সহকারী শিক্ষিকা হাসনা বেগম বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আগে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। তদন্তে আমার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বুধবার আমি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে হাজিরা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষিকা আমাকে হাজিরা দিতে দেননি। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারপিট করেন তিনি।’

প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা বেগম বলেন, সহকারী শিক্ষিকা হাসনা বেগম গত ১৭ এপ্রিল ছুটি ছাড়াই স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। ২৩ এপ্রিল একইভাবে অনুমতি না নিয়ে তিনি বিদ্যালয় ছুটির পূর্বেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। আমি শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার অনুপস্থিত দেই। বুধবার হাজিরা খাতায় হাসনা বেগম অনুপস্থিতি দেখে অফিস কক্ষের টেবিল থেকে আমার মোবাইলটি কেড়ে নেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে বেধড়ক মারপিট করেন।

এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সহকারী শিক্ষিকা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে নিজের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বিউটি পার্লারে সময় দেন সহকারী শিক্ষিকা।

জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মারামারির খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর আগেই মারামারি থেমে যায়। আহত দুই শিক্ষিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিরেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে টেলিফোনে মারামারির ঘটনাটি জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের দ্বন্দ্ব অপ্রত্যাশিত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এর প্রভাব পড়বে। বিষয়টি তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

অবশেষে মেনে নিলো সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি

নিজস্ব  প্রতিবেদকঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেছেন ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সকল শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয়েছে তাদের কিছু জটিলতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সাময়িক অসুবিধা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সকল বিষয়ের ফলাফল প্রকাশ করার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সকল বিষয়ে অধিক হারে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে আবেদনক্রমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, সাত কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনে স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিভুক্ত সাত কলেজের সেশনজট নিরসনকল্পে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাস্টার্স ২০১৬ অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হবে ২৮ এপ্রিল এবং পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ জুন । অনার্স ২য় বর্ষ ২০১৮ পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ মে। এছাড়া আগামী ২৮ এপ্রিল সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে উপাচার্যের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ফের কওমির প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্কঃ হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর নিয়ন্ত্রণাধীন কওমি মাদ্রাসাগুলোর সরকারি বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে চলমান দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফের ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দাওরায়ে হাদিস জামাতের বৃহস্পতিবারের আবু দাউদ শরিফের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

সনদের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুবার ফাঁস হওয়া নিয়ে হোঁচট খেল এ সংস্থাটি।

 

এদিকে প্রশ্নপত্র ফের ফাঁস হওয়া নিয়ে চলছে অনলাইনে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল কেন্দ্রীয় সদস্য ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দাওরায়ে হাদিস জামাতের আজকের (বৃহস্পতিবার) আবু দাউদ শরিফের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় কবে অনুষ্ঠিত হবে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, সে সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী বিষয়গুলোর পরীক্ষা ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা সে বিষয়ে আজ একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলইয়া অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

রমজানেই আন্দোলনে সহকারী শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রমজান মাসেই আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ১১তম গ্রেড প্রদানসহ কয়েকটি দাবিতে ফের আন্দোলনের নামতে তারা বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। রাজধানী ঢাকাতে এ কর্মসূচি পালন করবেন বলে সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

এদিকে শতভাগ পদোন্নতির দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা। এজন্য আগামী ১মে রাজধানীর উত্তরায় জরুরি সভায় বসছেন তারা। সেখানে শতভাগ পদোন্নতির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি চারটি ইস্যুতে তারা আলোচনা করবেন।

১১তম গ্রেড দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সরকারও তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো সে ব্যাপারে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা রমজানেই আন্দোলনে নামার ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দ্যা  বলেন, ‘১১তম গ্রেড নিয়ে এখনো কোন অগ্রগতি নেই। এ কারণে রমজানের ছুটিতে রাজধানী ঢাকায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের চেষ্টা চলছে। জেলা ও থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।’ তবে কি ধরণের কর্মসূচি পালন করবেন তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি পদোন্নতির না দিয়ে ৬৫ শতাংশ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রধান শিক্ষকরাও। এজন্য তারা শতভাগ পদোন্নতির দাবির বিষয়টি সরকারকে জানাতে চান। প্রাথমিকভাবে এটি জানানোর পর সরকার কোন সিদ্ধান্ত না জানালে পরবর্তীতে বড় কর্মসূচিতে যাবেন বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষকদের একটি সূত্র জানিয়েছেন, আগামী ১ মে বুধবার সকাল ১০টায় সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এক জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার উত্তরা ইউনাইটেড কলেজে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকল প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার জন অনুরোধ জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।

প্রধানশিক্ষকদের সর্ববৃহৎ সংগঠনের বাসপ্রাবিপ্রশি সমিতির একাধিকনেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা শিক্ষাবার্তাকে জানাই ১ মে বুধবার তারা এরকম কোন মিটিং ডাকেননি। তবে রমজানের ছুটিতে মিটিং আহবান করা হতে পারে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

৩৫ বিসিএস: নন-ক্যাডারে সরকারি মাধ্যমিকে ১০ শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,২১এপ্রিলঃ

৩৫ তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার পদে ১০ জনকে নিয়োগ প্রদান করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ ২১ এপ্রিল রবিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাদের বেতনস্কেল-২০১৫ অনুসারে ১০ তম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তাদের ২ বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। শিক্ষানবিশ কালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপোযোগী বলে বিবেচিত হন তবে তাকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণ করা যাবে।

আগামী ২৯ এপ্রিল তাদেরকে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগদান না করলে ধরে নেওয়া হবে তিনি চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন। এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গন্য হবে।

তালিকা:

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

৩৬ হাজার নিয়োগ:জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ডেস্কঃ  শিগগিরই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৩৬ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

অবিলম্বে খালি পদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনপত্র অনুমোদন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আশা করছি, আমরা খুব শিগগির খালি পদগুলো পূরণ করতে সক্ষম হব।

জনপ্রশাসনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের গতিশীলতা আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের দ্বারা মানুষ প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছে— এমন অভিযোগের ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, জনসাধারণের প্রশাসন গঠনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণকে দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমি দেখেছি যে, সাধারণ মানুষ সরকারি অফিসে যেতে পারেন না। এমনকি তাঁরা সরকারি অফিসে গেলেও যথাযথ সম্মান পান না। এ পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি ত্রুটি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জনসাধারণের কল্যাণভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই।

এসব ব্যাপারে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ। এ ছাড়া এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তৃণমূল কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ফরহাদ।

তিনি বলেন, আমরা মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি যে, জনগণ সব ক্ষমতার উৎস এবং প্রশাসনকে সেবা দেওয়ার জন্যই কাজ করতে হবে।

প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সেই নীতিই অনুসরণ করছি।

বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যকে স্মরণ করে ফরহাদ বলেন, যারা সেবা চান, তারা আমাদের ভাইবোনদের মতো, আমাদের আত্মীয়স্বজনদের মতো। তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। সরকার এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই কাজ বলে জানান ফরহাদ। জনসাধারণের সেবা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সমৃদ্ধ হতে চাই, পৃথকভাবে না বরং একসঙ্গে। আমরা জনপ্রশাসনকে জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতে এটি আন্তর্জাতিক মানের হবে। আমরা যদি দক্ষতার সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তাদেরকে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে মানুষ তাঁদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ফরহাদ হোসেন জানান, জনগণের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে সাপ্তাহিক শুনানি রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের পছন্দমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ফরহাদ আরো বলেন, সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে চায়। সুশাসন মানে জনগণের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং জনসাধারণের কর্মচারী হিসেবে তাদের মতো করে সেবা দেওয়া।

প্রতিমন্ত্রি ফরহাদ বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। নানা মহলে প্রতারনা!

ডেস্ক,২১এপ্রিলঃপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে কোন কোন মহল/ব্যক্তি নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারীগণকে প্রতারণামূলক তথ্য দিয়ে অবৈধ পন্থায় চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব/আশ্বাস দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, আবেদন যাচাই শেষে প্রার্থীদের নিকট অনলাইনে প্রবেশপত্র প্রেরণ, পরীক্ষা কেন্দ্রের সিট বিন্যাস, একাধিক সেট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ সহ বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে বা অনৈতিক ভাবে অর্থের বিনিময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ধরনের প্রতারণা বা প্রলোভন এর সাথে না জড়ানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হল।

এছাড়াও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারি সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

তিন শিক্ষার্থীকে আজীবন ও পাঁচজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার

ডেস্ক,২০ এপ্রিল: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে আজীবন ও পাঁচজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ৫৪ তম সভায় আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক।

আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হুমায়রা আজমিরা এরিন, একরামুল কবির দ্বীপ ও মো. রোকনুজ্জামান। এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী আসিফ আল মাহমুদ, মো. মোতাসসিন বিল্লাহ, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের মাহমুদুল হাসান শাকিব, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনীম ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হারুন অর রশীদ। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে অবস্থান করতে পারবেন না এবং তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজীবন বহিষ্কৃত হুমায়রা আজমিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত আসিফ আল মাহমুদ শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। অন্যরা ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ক্যাম্পাসে টাঙানো র‌্যাগিং–বিরোধী ফেস্টুন-পোস্টার ও নোটিশ ছিঁড়ে ফেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর প্রতি অবমাননা ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ড ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় রাহুত, শেখ শরীফ উদ্দীন, সুকান্ত কুমার রায়, মো. জাহিদ হাসান এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানাকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে যাঁদের চূড়ান্ত সতর্ক করা হয়েছে, তাঁদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজে সম্পৃক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বহিষ্কার করা হবে মর্মেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

গাছে বাঁধা এক কিশোরীর ছবি,নজরে পড়ল নজরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক,২০ এপ্রিল ২০১৯:

গাছে বাঁধা এক কিশোরীর ছবি ঘুরছে ফেসবুকে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করার এই চিত্রটি দেখে নিন্দার ঝড় তুলছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। বিষয়টি নজরে পড়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানতে চেয়েছেন, কিশোরীর নির্যাতনকারীর পরিচয়।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাহেরা বেগম জলি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই কিশোরীর ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘হে সভ্যতা শিহরিত হও’।

তাহেরা বেগম জলি আরও লেখেন, ‘গত ১০০ দিনে আমাদের দেশে ৩৯৬ জন নারী শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই খবরগুলো প্রকাশ্যে এসেছে। দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ লোচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। ইট-পাথরের কারাগারে তারপরও পরম সুখে আছি আমরা।’

এরপরই ছবিটি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। একপর্যায়ে শেয়ার পোস্টটি চোখে পড়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের। তিনি নির্যাতকারীর পরিচয় জানতে চেয়ে তার ফেসবুকে লেখেন,  ‘কোনো সভ্য সমাজে কি এমনটি ঘটতে পারে? একটি কিশোরীকে এভাবে অত্যাচার করার জন্য বেঁধে রাখাটাই কি কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে? অনুগ্রহ করে খুঁজে বের করুন—অপরাধী কে। লামায় কি কেউ নেই?’

ইমতিয়াজ কানন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওয়াল থেকে ছবিটি শেয়ার করেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান, উপজেলার ফাইচং এলাকায় গত বছর একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর একটি দল অপর দলের লোকজনকে পুনরায় মারপিটের জন্য এসে ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

গতবছরের ছবি নতুন করে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ফেসবুকে কারও ওয়াল থেকে হয়তো মেমোরিতে আসে ছবিটি। পরে তিনি হয়তো আবার শেয়ার দেন। লামায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান করা হবে। অপরাধীরা ছাড় পাবেন না বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্রে পর্ন তারকার নাম, বরখাস্ত সেই শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ এ্রপ্রিল:নবম শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুই পর্ন তারকা সানি লিওন ও মিয়া খলিফার নাম ছাপা হওয়ায় রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের শিক্ষক শংকর চক্রবর্তীকে বাধ্যতামূলক কর্মবিরতিতে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ঘটনার কারণ দর্শানোর জন্য তাকে পাঁচদিনের সময় দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়প্রকাশ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জয়প্রকাশ সরকার আরও জানান, রোববার (২১ এপ্রিল) রামকৃষ্ণ মিশনের পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসবেন। দায়িত্বে অবহেলায় ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হবে কি না ওইদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।।

এর আগে ১৭ এপ্রিল, বুধবার রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের বহু নির্বাচনি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী?’ এই প্রশ্নের সম্ভাব্য যে চারটি উত্তর দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ছিল পর্ন তারকা মিয়া খালিফার নাম! তবে তার নাম লেখা হয় ‘মিয়া কালিফা’।

এছাড়া বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস ‘আম-আঁটির-ভেঁপু’র (প্রশ্নে আঁটি বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই) রচয়িতার সম্ভাব্য নাম হিসেবে রাখা রয়েছে সাবেক পর্ন তারকা অভিনেত্রী সানি লিয়নের নাম! এমন অদ্ভুত প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেয় বিদ্যালয়টি।

প্রশ্নপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে পোস্ট দিয়েছেন। এবং যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পরে।

এ বিষয়ে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়প্রকাশ সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছি না।’

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

১৭৪ সহকারী শিক্ষককে ৪ জেলায় বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ এ্রপ্রিল: দেশের বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭৪ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পলিসি ও অপারেশন পরিচালক খান মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত আদেশটি শনিবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বদলির আদেশে বলা হয়, শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে চট্টগ্রামে ৫২ জন, খুলনায় ২৩ জন, গাজীপুরে ৩৬ জন এবং রংপুরে ৬৩ জন শিক্ষককে এসব জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হলো। ডিপিই মহাপরিচালকের অনুমোদনে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি হতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিপিইতে ভিড় করছেন শিক্ষকরা। বদলি প্রত্যাশী, দালালচক্র ও শিক্ষকদের স্বজনরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে মহাপরিচালকের রুমে ভিড় জমাচ্ছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে শুরু করে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের লিখিত তদবিরের পাহাড় জমেছে অধিদফতরে। সবচেয়ে বেশি তদবির ঢাকা জেলায় শিক্ষক বদলির জন্য।

ইতোমধ্যে ঢাকা জেলায় অর্ধশতেরও বেশি শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার আবেদন রয়েছে ঢাকায় বদলির জন্য। তবে খুব দ্রুত আরও অর্ধশত শিক্ষককে ঢাকায় বদলি আদেশ জারি করা হবে বলে অধিদফতর থেকে জানা গেছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ দিনে চিহ্নিত কিছু কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশনা দিলেও, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তার মধ্যে বিধি-বহির্ভূতভাবে ভ্রমণ ভাতা নেয়ার দায়ে চিহ্নিত ১২ কর্মকর্তাকে এবং বুধবার (১৭ এপ্রিল) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১২ জনকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে বদলি করা হয়নি। এ নির্দেশনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বির্তক উঠেছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, চার বছর আগের এক তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ২ এপ্রিল ১২ কর্মকর্তাকে তিনদিনের মধ্যে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ওই ১২ কর্মকর্তা ২০১৫ সালে ভুয়া ভ্রমণভাতা গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তখন বিষয়টি তদন্ত হয়।

জানা গেছে, ওই প্রতিবেদনে এমন ১২ কর্মকর্তাকে এই প্রক্রিয়ায় ভাতা গ্রহণের দায়ে চিহ্নিত করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন- তখনকার উপপরিচালক শেখ মো. রায়হান, ইফতেখার হোসেন ভুইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, সোনিয়া আক্তার, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, মাহফুজা বেগম, শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুননাহার, মো. মজিবুর রহমান, মাহফুজুর রহমান জুয়েল, সহ-শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে একই তারিখে সম্মানী, টিএ/ডিএ উত্তোলন করেছেন, যা তার প্রাপ্য অর্থের চেয়েও অধিক পরিমাণে বেশি। আবার বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরের জন্য একই পরিমাণে টিএ/ডিএ আদায় করেছেন। একইসঙ্গে একই পথে ভ্রমণের প্রত্যেক স্থান থেকে টিএ/ডিএ গ্রহণ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখিত স্থানে না গিয়েও ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ডিপিই’র কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু অভিযোগ আসে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে সহকারি বিদ্যালয়ে বদলিতে বাণিজ্য, ডিপিইতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়, বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে সিন্ডিকেট তৈরি, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্রে পর্নোতারকাদের নাম আসার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা

ডেস্ক,১৯ এপ্রিল: ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে পর্নোতারকাদের নাম আসার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শুক্রবার সকালে ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পরীক্ষা শুরুর আগেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল রাজধানীর তিতুমীর কলেজকেন্দ্র পরিদর্শনে যান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুলের প্রশ্নপত্রে পর্নোতারকাদের নাম আসাটা অন্যায়। এটি শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেই স্কুলের নামে এ অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এসএম আশফাক হুসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্রের বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্রে (এমসিকিউ) দুটি প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে দুই পর্নোতারকা মিয়া খলিফা ও সানি লিয়নের নাম এসেছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনা। অনেকেই নবম শ্রেণির ওই প্রশ্নপত্র ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়।

প্রশ্নপত্রের এমসিকিউ অংশের ৮ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, আম আটির ভেঁপু—কার রচিত? এর উত্তরে চারটি বিকল্পের একটি সানি লিওন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ নম্বর প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কি? এখানে চারটি সম্ভাব্য উত্তরের একটি বলা হয়েছে মিয়া খলিফা।

এ ছাড়া ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ঢাকার ‘বলধা’ গার্ডেনের পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘বলদা’ গার্ডেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

শীর্ষ কাগজডেস্কঃ  পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ১১ এপ্রিল দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন নুসরাত জাহান রাফি। এই একটি মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়ে গেছে পুরো দেশকে। যে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা সেখানে গিয়েই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নুসরাতকে।

নিচে স্ট্যাটাসটি হুবুহু উপস্থাপন করা হলো

আবার এসেছিল বৈশাখ, পাড়া প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে দেখছি আনন্দের বন্যা। আর আমাদের ছোট্টঘর নিকোষ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। অথচ গত বছরের এই সময় আমাদের এই সংসারে কতইনা আনন্দ ছিল। আজ আপুমণিকে হারিয়ে সকল উৎসব অশ্রুজলে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ঘাতকের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো আমাদের সোনালী সংসার।

কখনোও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের পোষাকধারী কিছু অসভ্য জন্তু-জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে কলিজার টুকরা আপুকে কখনোও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না। মানুষ কতটা নির্দয়-নির্মম হলে একজন মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে! কী অপরাধ ছিলো আমার আপুর ?

একজন লম্পটের যৌন নিপীড়ন রুখে দিতে প্রতিবাদী হয়েছিলো আমার আপু। সেই প্রতিবাদের মৃত্যু হয়েছে ১০৮ ঘন্টা বার্ণ ইউনিটে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) আপুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বাবা-মায়ের পর শিক্ষকরাই আমাদের বড় অভিভাবক। আর সেই অভিভাবক যখন একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, তখন মনে হয় এই সমাজ আর ভালো নেই। আবার লম্পটকে বাঁচানোর জন্য তার পক্ষে নিয়েছিল কিছু রাজনীতিবিদ ও মানুষরুপী লম্পট। লম্পটের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম ওসি সাহেবের কাছে। তিনি আমার আপুকে নিরাপত্তা না দিয়ে মানুষিক নির্যাতন করে ভিডিও করলেন। ওসি সাহেব যদি সচেতন হয়ে বিষয়টি তদন্ত করতেন কিংবা আমার আপুর নিরাপত্তা জোরদার করতেন, তাহলে আমার আপুকে পরপারে পাড়ি দিতে হতো না।

মনে পড়ছে আপুমণির আইসিউতে বলা শেষ কথাগুলো ‘রায়হান, আম্মা-আব্বার দিকে খেয়াল রাখিস। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করিস। আমাকে যারা পুড়িয়ে দিলো তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার আপুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লম্পটদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপুকে দেশের বাহিরে পাঠানোর জন্য ডাক্তারগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডাক্তারগণ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আপুকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকে তিনি একজন মমতাময়ী মায়ের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তার কাছে বলেছি, আমার আপুর হত্যাকারীদের যেন দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়। তিনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন, বিচারে কোন দুর্বলতা রাখা হবেনা। আসামীদের রেহাই দেয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিচার-প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে বলতে চাই, এই সকল জানোয়ারদের কঠিন শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন কোন ভাইয়ের বুক থেকে তার বোনকে কেড়ে নিতে না পারে।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় যখন বাড়ী ফিরে দেখি আপুর রুমটা খালি পড়ে আছে। যেই টেবিলে বসে পড়ালেখা করতো সেখানে বই খাতাগুলো ঠিকই আছে। আছে আপুর ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো। নেই শুধু আমার কলিজার টুকরা আপুটি। বিশ্বাস করুণ, একবুক চাঁপা কষ্ট, বেদনায় আমার ছোট্ট হৃদয়টি দুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়ে যায় আপুর কথা। ঘুমের ঘরে জেগে উঠি আপুর শেষ দিনগুলির নির্মম কষ্টের কথা স্বপ্নে দেখে। শেষ রাতে চোখে একফোঁটা ঘুম আসেনা আপুর কথা ভেবে।

 

আমাদের পরিবারের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ছিলো আপু। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সাথে তার ছিলো আন্তরিকতাপূর্ণ ভালোবাসার সম্পর্ক। শান্ত মেজাজের অধিকারী হওয়ায় পরিবারের সকল সমস্যা অত্যন্ত ধীরচিত্তে সমাধান করতো। আমাদের সাথে দূরের কথা পাড়া-প্রতিবেশীর কারও সাথে কোনদিন ঝগড়া-বিবাদে নিজেকে জড়ায়নি। আব্বুর অনেক আস্থাভাজন হওয়ার কারণে, আব্বু কোন দিন তার প্রিয় সন্তানের কোন চাহিদা অপূর্ণ রাখেননি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তার কোরআন তেলোয়াতের মধুর সুর এখনও আমার কানে বাজে।

 

বাড়ির সকল কাজে আম্মুকে সহযোগিতা করতো। আম্মু আমাদের নিয়ে টেনশন করলে, আপু অভয় দিয়ে বলতো আমরা এমন কোন কাজ করবো না যাতে আপনাদের সম্মান হানি হয়। বরং আমরা ৩ ভাইবোন পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে আপনাদের মুখ উজ্জল করবো। সেই উজ্জলতার প্রতিচ্ছবি ছিলো আমাদের সংসার। আপুর মতো ক্ষণজন্ম বোন আমাদের ছোট ঘরকে সবসময় আলোকিত করে রাখতো। যা আজ নিভে গিয়ে একমুঠো ছায়ায় পরিণত হয়েছে।

 

আজ সারাদেশে এমন কি দেশের বাহিরেও আমার আপুর হত্যাকান্ড মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে, তাতে আমার মনে পড়ে যাচ্ছে কবির বলে যাওয়া কথা…‘এমন জীবন করিবে গঠন / মরণে হাসিবে তুমি/ কাঁদিবে ভুবন’

 

আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আমার আপুকে যেন তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আর খুনিদের দুনিয়া ও আখেরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। (আমীন)

রায়হান

হতভাগা নুসরাতে ছোট ভাই

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
hit counter