Author Archives: chief editor

সরকারী কর্মচারীদের স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে ॥ মুহিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞানের জগতও উন্মুক্ত। তাই জবাবদিহি করতে হবে বিষয়টি মাথায় রেখে সকল সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার বিকেল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘সরকারী কর্ম-প্রক্রিয়ায় শুদ্ধাচার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব ড. মোঃ শামসুল আরেফিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার) এএনএম জিয়াউল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রেজোয়ান হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সকল কাজ হতে হবে জনকল্যাণমূলক এবং গোষ্ঠী স্বার্থ থাকলে কোন কাজই জনকল্যাণমূলক হবে না এটাও মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে দেশের সরকারী কর্ম-প্রক্রিয়ায় অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর কেউ গোপনীয়তার সংস্কৃতি অনুসরণ করে না। এখন দেশে তথ্য অধিকারসহ বিভিন্ন আইন রয়েছে যার মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তি সরকারী কর্ম-প্রক্রিয়ার যে কোন পর্যায়ের তথ্য চাইতে পারে। তাই প্রত্যেককেই আইন অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি কাজেই স্ববিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আর এই স্ব-বিবেচনার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সচিবালয় নির্দেশমালা না মানা দুর্নীতির একটি উৎস হতে পারে। কালক্ষেপণই দুর্নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় নির্দেশমালা ২০১৪ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে বিষয় (মামলা) নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে বলেন। একইসঙ্গে সময়াবদ্ধ সময়ে বিষয় নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান। বিজনেস প্রসেস রিইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আহ্বান জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই দুর্নীতির অনেক উৎস বন্ধ করা যায়। দুদক চেয়ারম্যান, ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অথবা অধীন অধিদফতরের অন্তত একজন করে দুর্নীতির কুখ্যাতি রয়েছে এমন নোন টু বি করাপ্ট কর্মকর্তা চিহ্নিত করে তাদের তালিকা দুদকে প্রেরণ করুন। কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেফতার ৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষক ও একজন এ্যাডমিনসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা অবলীলায় স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে র‌্যাবের হাতেই গ্রেফতার হলেন ২৮ জন। সারাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অকাট্য প্রমাণাদি ও সাজ সরঞ্জাম। গ্রেফতারকৃতরা চার বছর ধরে একটানা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, সবই হতো প্রযুক্তির মাধ্যমে। গ্রেফতারকৃতরা অনলাইনে নানা ছদ্মনামে গ্রুপ খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন। এতে স্বাভাবিক কারণেই গ্রুপগুলো মানুষের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গ্রেফতারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নানা তথ্য।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে বলে সোমবার আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। ওইদিন থেকে শুরু করে শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট এগারোটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিষয়েরই বহুনির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হোয়াটস এ্যাপ, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমো, ফাইবার, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের নামে ফাঁস হয়। এমন ঘটনায় সারাদেশের প্রতিটি জায়গায়ই একই আলোচনা হচ্ছে। তা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। দেশে বিদেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রযুক্তির সুবিধা অসুবিধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র ও এর ফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের নীতি নৈতিক নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রকৃত রহস্য জানতে চায় হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিচার বিভাগীয় ও একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আর বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সাত দিনের মধ্যে কমিটি কাজ শুরু করবে। আর ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এর ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সারাদেশে রীতিমত অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোর চারটার দিকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানী ঢাকার উত্তরখানের কাচকুড়া ও গাজীপুরের বোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেফতার হয় চার শিক্ষকসহ একাধিক গ্রুপ তৈরি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের এক গডফাদার।

সোমবার বিকেলে কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই (২৯), সজীব মিয়া (২৬), মোঃ এনামুল হক (২৭), মোঃ ইব্রাহিম (২১) ও তানভীর হোসেন (২৯)। তানভীর হোসেন উত্তরখানের ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দ্রুত সমাধান করে দিতেন। গ্রেফতারকৃত অপর চারজনের মধ্যে সজীব মিয়া ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের এ্যাকাউন্টিং বিষয়ের শিক্ষক, মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ এনামুল হক সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

র‌্যাবে কর্মরত এই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জানান, হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ফেসবুক আইডির নাম রকি ভাই। প্রশ্নপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সে ফেসবুক গ্রুপের এ্যাডমিন। গত চার বছর ধরে রকি ভাই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। রকি ভাই পরীক্ষার শুরুর ২ মাস আগে থেকেই ফেসবুক, হোয়াটস এ্যাপ, ইমোতে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার নম্বর আইডি দিয়ে প্রচারণা চালাতো। প্রচারণায় লেখা থাকতো, যারা প্রশ্ন পেতে চায় তাদের দুই হাজার টাকার বিনিময়ে তার গ্রুপের সদস্য হতে হবে। পরীক্ষার দিন ভোরে রকি ভাই প্রশ্ন ফাঁস করতো। এরপর তা গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকদের দিয়ে সমাধান করাতো। সেই সমাধান পাঠানো হতো গ্রুপে যুক্ত থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে।

রকি ভাই ঘন ঘন গ্রুপের নাম পরিবর্তন করত। এমন সব নাম রাখত যা মানুষের মধ্যে কোন সন্দেহের সৃষ্টি করতে না পারে। এজন্য সে ব্লাড ডোনেশন-১, ২ ও ৩ নামে তিনটি গ্রুপ খুলেছিল। এতে করে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ট্যাবের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভেতরে এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার সকল বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।

প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য পৃথক পৃথক গ্রুপ খুলত। এবারের এসএসসি পরীক্ষার মজা নামে গণিতের প্রশ্নপত্র, আড্ডা নামে ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র ব্লাড ডোনেশন-১, ২ ও ৩ নামে গ্রুপ খুলে ফাঁস করেছিল। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে গ্রুপের নাম পরিবর্তন করে দিত। গ্রুপ থেকে মেম্বারদের পরিবর্তন করে ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা প্রাপ্তিসাপেক্ষে নতুন গ্রুপে মেম্বার করত। এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র গ্রেফতারকৃতরা দুই ঘণ্টা আগেই ছাত্রদের হাতে প্রশ্নের সমাধান করে দিয়ে দিয়েছে। সে হিসেব মনে অন্তত আড়াই ঘণ্টা আগে এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে সক্ষম হয়েছিল গ্রেফতারকৃতরা। এর নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক এমরানুল হাসানসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আরও জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, ছাত্রসহ নানা শ্রেণী পেশার অন্তত ২৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে খুুলনা মহানগর থেকে ৯ জন, নাটোর থেকে ১০ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৩ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১ জন ও বগুড়া থেকে একজনসহ মোট ২৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। সারাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতারে র‌্যাব প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনাই এসেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষাসচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন বলেন, এমসিকিউ পদ্ধতি চলমান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে সরকার ভাবছে। আগামী বছর থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি এমসিকিউ পদ্ধতির কথা বলেন। প্রয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি।

আক্কেলপুরে গ্রেফতার ১ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র বিক্রির সময় বিপুল হোসেন নামে এক ছাত্রকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটে। সোমবার এসএসসির জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিক্রির সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে জামালগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে ওই কেন্দ্রের সামনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করার সময় তাকে আটক করা হয়। সে উপজেলার পূর্ব মাতাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার আটক করা মোবাইলের ম্যাসেঞ্জার থেকে সরবরাহ প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

কেন্দ্র সচিব বহিষ্কার ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নাজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সেট পরিবর্তনের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলার সিরাজুল হক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহিদুল ইসলাম জানান, ওই দিন ওই কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ের ২৬৮ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের কারণে ওই দিনের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ‘ক’ সেটের পরিবর্তে ‘খ’ সেটের প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরীক্ষা শুরুর ২১ মিনিট পর কর্তৃপক্ষের চোখে ধরা পড়ে এবং ওই সেট দিয়েই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে পরীক্ষা শেষে ওই কেন্দ্রে গেলে কেন্দ্র সচিব উপজেলার সিরাজুল হক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাধব চন্দ্র দাস ও সহকারী কেন্দ্র সচিব উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউজেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ ম-লকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা জানান, এ অভিযোগে ওই কেন্দ্রের সচীব মাধব চন্দ্র দাসকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দর্শনায় কোচিং বানিজ্য চলাকালিন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান: ৯ শিক্ষক শোকজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কেরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবৈধ কোচিং বানিজ্য চলাকালিন সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন  ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই এর যৌথ অভিযানে ৯ জন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
জানাগেছে, গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে সাড়ে ৪ টা পযর্ন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দু’টি  স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের  ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে স্বিকারোক্তি মূলক জবান বন্ধীতে বলে তাদের নিকট থেকে শিক্ষকরা মাসে ৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। প্রায় শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ ম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাধ্যতামূলক কোচিং করিয়ে আসছেন।
আরোও জানা গেছে, এ ধরনের তথ্য পেয়ে  চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা মো: জসিম উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই উপ-পরিচালক আবু জাফর ইকবাল ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্যাট পাপিয়া আক্তার, ইফাত আরা জামান উম্মি, চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান যৌথ ভাবে অবৈধ কোচিং বানিজ্য’র বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। প্রথমে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে চারটি আলাদা কক্ষে অবৈধ ভাবে প্রায় ১০০ ছাত্রীদের কোচিং ক্লাস করানো হচ্ছিল। এ সময় ছাত্রীদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে জবান বন্দি নেওয়া হয়।
পরে দর্শনার কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে যেয়ে দেখেন স্কুলে ক্লাস চলছে এরকম পরিবেশ। প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অবৈধ কোচিং চালাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে কারোক্তি মূলক জবানবন্ধী নেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম পর্যন্ত মাসে ৭০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা কোচিং ফি নেয় শিক্ষকেরা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা মো: জসিম উদ্দিন  বলেন, অবৈধ কোচিং করানোর দায়ে দর্শনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হুমায়ন কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসমত আলী, সহকারী শিক্ষকা নাসরিন আক্তার শিলু, সহকারি শিক্ষক হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং দর্শনা কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকবাল রেজা, আশরাফ হোসেন, স্নেহময় বসাক নান্টু, ফারুক হোসেন, আসমা খাতুন। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে শোকজ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা সহ শিক্ষা মন্ত্রানলয়ে অভিযোগ করা হবে।

মার্চ থেকে পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি,  : পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে পুনর্নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্প্রতি স্থগিত করা হয়েছিল। পদটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ১০ হাজার লোকবল নিয়োগ দেয়া হবে। যার মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৫০০ জন ও ১ হাজার ৫০০ জন নারী কনস্টেবল রয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দেশের জেলায় জেলায় পুলিশ লাইনসে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নিজ জেলার সংশ্লিষ্ট পুলিশ লাইনসে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকতে হবে।

এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী : এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক এমপিও দালালদের একাধিক চক্র গড়ে উঠছিল। এই চক্রকে ঘুষ না দিলে এমপিওভুক্ত হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। এইসব চক্র তছনছ করে এমপিওভুক্তিতে ঘুষ দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এমপিওভুক্তি বিকেন্দ্রীকরণ ও অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে সরকার। কিন্তু সুফল মেলেনি। ঘুষের হার ও স্তর বেড়েছে।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুটি প্রতিবেদনে এমপিওভুক্তিতে কীভাবে দুর্নীতি হয়, কারা জড়িত, কারা ঘুষ দেয়, কারা ঘুষ দিয়েও স্বীকার করে না এসব তথ্য উঠে আসে। ঘুষ-দুর্নীতিরোধে কিছু মন্তব্য ও সুপারিশ করা হয়েছে সংস্থাটির প্রতিবেদন দুটিতে।

শুরুতেই ময়মনসিংহের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক;

টাঙ্গাইলের জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম ও একই অফিসের অফিস সহকারি আবদুল আজিজের কাহিনী।

কাগজ-পত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে ভুল ধরার চেষ্টা করা। জেলা শিক্ষা অফিস ও উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে ধাপে ধাপে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেও এমপিওভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চিতেশ্বরী এলাকার বংশাই স্কুল এন্ড কলেজের গণিত শিক্ষক সোহেল রানা গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

সংসদ সদস্যের সই জাল-১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন

গাজীপুর প্রতিনিধি,১৬ ফ্রেবুয়ারী : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে সংসদ সদস্যের সই জাল করা চাহিদাপত্রে (ডিও লেটার)। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা ডাকবাংলোতে দলের নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানান সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি নিজেই।

সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন আরো জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠির (স্মারক নম্বর ৩২২) মাধ্যমে তাঁকে বরাদ্দ অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। চিঠির মাধ্যমে জানতে পারেন যে ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনিসহ ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর করা একটি আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই আবেদনপত্রে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় বলে নেতাকর্মীদের জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, এটা জালিয়াতি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্যের ওই অভিযোগকালে নেতাকর্মী ছাড়াও সেখানে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকে ১১৫৬টি সিএইচসিপি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী : কমিউনিটি ক্লিনিকে সি এইচ সি পি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বামীকে ভালবাসার উপহার দিলেন কিডনি

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ নিয়ে কোনোদিনই তেমন মাতামাতি ছিল না তমাল-সুব্রতার জীবনে। লাল গোলাপ, নামী রেস্তোরাঁয় মৃদু আলোয় ‘ডিনারে’ ভালবাসার দিন উদযাপনও সেভাবে করতেন না। কিন্তু, মধ্য তিরিশের সুব্রতা স্বামী তমালকে গত বড়দিনের দুদিন আগে এমন উপহার দিয়েছেন যে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ তে সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছেন স্ত্রী। সেই উপহারই হারিয়ে দিয়েছে অন্য সব কিছুকে। ২৩ ডিসেম্বর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। আপাতত দুজনে হাসপাতালের কাছেই একটি ঘর ভাড়া করে রয়েছেন। অন্তত তিন মাস হাসপাতালের কাছাকাছি থেকে প্রতিস্থাপন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সামাল দিতেই এই ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার বিকেলে তমাল-সুব্রতা ২ বছরের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা-উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু, স্ত্রীর কথা উঠতেই তমাল যেন অন্য উদ্দীপনার জগতে চলে যান। তিনি বলেন, ‘‘জীবনে এর চেয়ে বড় কোনও উপহার কী হয়!’’ সুব্রতা মৃদুভাষী। তাঁর মন্তব্য, ‘‘ভালবাসার জন্যই আলাদা কোনও দিন হয় নাকি? রোজই তা অনুভব না করলে কীসের একসঙ্গে বেঁচে থাকা!’’

শিলিগুড়ি পুরসভার ঠিকাদার তমালের বাড়ি সুর্যনগর এলাকায়। সেখানকার সমাজকল্যাণ সংস্থার সক্রিয় সদস্যও তিনি। জলপাইগুড়ির মেয়ে সুব্রতাকে বিয়ে করেছেন বছর ১৫ আগে। ওঁদের মেয়ে তুলিকা এখন ক্লাস নাইনে পড়ছে। বছর দুয়েক আগে দেখা যায়, তমালের দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ভারত, দিল্লি ঘুরে কলকাতায় চিকিৎসা শুরু করান তিনি। কিন্তু, কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা হচ্ছিল না। কারণ, প্রচুর টাকা দরকার। দিনে দিনে শরীর খারাপ হচ্ছিল।

গত বছর স্ত্রী সুব্রতা কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসকদের জানিয়ে দেন, তাঁর একটি কিডনি তিনি দিতে চান। সুব্রতা রক্ত বি পজিটিভ। তমালের ও নেগেটিভ। তা হলে! বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দেন, বিশেষ পদ্ধতিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এর পরে ২৩ ডিসেম্বর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়।  তমাল জানান, তিনি সুস্থ থাকলেও তাঁর স্ত্রী কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। টানা চিকিৎসায় তিনি সেরে উঠেছেন।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় শুধু মন্ত্রণালয়ের উপর চাপানো সঙ্গত নয়-দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা: পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় শুধু মন্ত্রণালয়ের উপর চাপানো সঙ্গত নয় বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বুধবার চাঁদপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিশ বছর আগে যে লেখাপড়া হতো এখন তা হয় না। এ দায় কার? এ দায় শুধু শিক্ষা অফিসারক দিলে তো হবে না। এ দায় অভিভাবকদের, ছাত্রের।

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস; এ দায় কি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের? ইউ নিড টু আন্ডারস্ট্যান্ড যে কী করতে হবে। আসলে আমরা যাচ্ছি কোথায়? আমরা কি নদীর ভিতরে পড়ছি, নাকি নৌকায় উঠছি?’

চলমান এসএসসির যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে গেছে সবগুলোর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করা হয়। তারপরও প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে আপনাকে পারটিকুলার কথাটা বলতে হবে। এত বক্তৃতা দিয়ে কোনো লাভ নেই। অনেক বক্তৃতা এদেশে হয়ে গেছে। নাও টাইম হ্যাজ কাম ফর একশনস।আপনি কি মনে করেন না যে আমার বাচ্চারা শেষ হয়ে যাচ্ছে! আমাদের বাচ্চাদের কোনো লেখাপড়া হচ্ছে না! যত কথাই আপনারা বলেন না কেন সত্যকে সত্য বলতে হবে।’

এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডলসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের সঠিক সমাধান নয়: জাফর ইকবাল
ইন্টারনেট বন্ধ করে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঔপন্যাসিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও কোনো সঠিক সমাধান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেটের মিরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জনপ্রিয় এ লেখক।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রথমত যদি প্রশ্নফাঁস হয়, তো লেখাপড়া শেষ। প্রশ্নফাঁস যদি হয়, যতই আপনি চেষ্টা করেন, লেখাপড়ার কোনো গুরুত্ব নাই। যেই ছেলেটা এসএসসিতে একটা ভালো করেছে, আমি তো জানি না সে আসলেই ভালো করেছে নাকি প্রশ্নফাঁসের জন্য ভালো করেছে। কিংবা যে ছেলেটা ভালো করে নাই, কেননা প্রশ্নফাঁস দেখে নাই। তাই না? তাঁকে তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত করছি। কাজেই মোটামুটিভাবে বলা যায়, প্রশ্নফাঁস যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নাই। আমি বলতে পারবো না যে, শিক্ষা হচ্ছে। কাজেই সরকারকে এটা বন্ধ করতেই হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনো সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন,‘এখন এটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে গিয়েছে। জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে সাংসদরা বলেছেন যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এবং শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন পদত্যাগ করার জন্য। এটা এই পর্যায়ে গিয়েছে। স্বীকার করছেন না বললে এখন আর হবে না। অবশ্যই পদত্যাগ সমাধান না। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যাটাকে সিন্সিয়ারলি অ্যাড্রেস করাটা, এটা সমাধান। আমি তো প্রথম দিন থেকে বলে আসছি যে, আপনারা ঘোষণা দেন, যে যা হবার হয়েছে ভবিষ্যতে আর প্রশ্নফাঁস হবে না। কিন্তু উনারা সেই ঘোষণা দেন না। কারণ উনাদের সেই কনফিডেন্সটা নাই, বলবেন যে প্রশ্নফাঁস হবে না। আমি যদি ঘোষণা দেই যে, প্রশফাঁস হবে না তাহলে আমাকে কিন্তু যেভাবেই হোক প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হবে।’

প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জাফর ইকবাল বলেন,‘যখন নাকি ছাপানো হবে প্রশ্নটাকে তখনই এটা সেলফ সিকিউরড থাকতে হবে। যেন কোনোভাবে কারো হাতে না যেতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ করে এটা বন্ধ করা যাবে না। প্রশ্ন ফাঁসটা বন্ধ করতে হবে। প্রব্লেমটাকে অ্যাড্রেস করতে হইলে প্রথমত প্রব্লেমটাকে বুঝতে হবে। এ থেকে জেড পর্যন্ত প্রতিটা স্টেপ আমাকে জানতে হবে। ঠিক করে জানতে হবে, কোথায় এটা ফাঁস হয়েছে, কেন হয়েছে। তাঁর চেয়ে বড় কথা যারা এটা করছে তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে।’

এর আগেও প্রশ্নফাঁসের কথা বললেও কেউ স্বীকার করেননি বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমি বহুদিন আগে এই প্রশ্নফাস নিয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত বসে ছিলাম, বৃষ্টির ভেতরে। কেউ আমার কথা শুনে নাই। অলরাইট? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনো স্বীকার করে নাই যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এখন এটা শুরু হয়েছে, ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম ওরা বলছে, যে হ্যা প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করছেন, এটা বন্ধ করছেন, সেটা বন্ধ করছেন। মানে চেষ্টা করতেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় যে, এটা প্রশ্নটাকে ঠিকভাবে এপ্রোচ করা হয় নাই। উনাদের এপ্রোচটা হচ্ছে যে, প্রশ্নফাঁস হবেই, আমরা শুধুমাত্র যেন ডিস্ট্রিবিউশনটা না করতে পারি সেটা দেখাইতে হবে। বুঝেছেন তো, ডিস্ট্রিবিউশনটা যাতে না করতে পারে। প্রশ্নফাঁস হবেই উনারা ধরে নিয়েছেন। কেন প্রশ্নফাস হবে, এটা আমি মানতে রাজি না।’

লেখক আরো বলেন, ‘আমি কালকে একটা ই-মেইল পেয়েছি, যেখানে একজন বলেছে, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে সারাদিন ধরে বোর্ড অফিসে থেকেছে, সেখান থেকে প্রশ্ন বের করে নিয়ে আসছে। আমি সত্য মিথ্যা জানি না। কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আমি যদি বোর্ডে বসে থাকি সারাদিন ঐখান থেকে একটা প্রশ্নপত্র কেউ না কেউ আমাকে দিয়ে দেবে। আসলেই এটা হয়েছে কিনা জানি না। কিন্তু মানুষজন কেন এটা চিন্তা করবে বোর্ডে গেলে একটা প্রশ্নপত্র পেয়ে যাব?’

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে ১২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২৭ পরীক্ষার্থীকে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৯ জনকে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এবং তিনজনকে ফটিকছড়ি উপজেলা হেঁয়াকো বনানী স্কুল কেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের ঘণ্টাখানেক আগে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ৫০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র মুঠোফোনে দেখছিল। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী বাসটিতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখতে পান। পরে ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের আটক করার আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই নগরীর বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় একই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী স্কুল কেন্দ্র থেকেও গ্রেপ্তার করা হয় তিন শিক্ষার্থীকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি : বিকল্প চিন্তা সরকারের

ডেস্ক,১৪ ফেব্রুয়ারী: তীব্র সমালোচনার মুখেও গত আট বছরের ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে মূলধন সরবরাহে চলতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু একের পর এক অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি আর চরম অব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত সরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে বর্তমানে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। এ কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে এবার অর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প চিন্তাও করছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো জনগণকে যেসব সেবা ফ্রি দিচ্ছে সেসব সেবায় ন্যূনতম চার্জ আরোপের চিন্তা চলছে। এসব ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে এসব বিষয় আলোচিত হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ সরকারি খাতের বাণিজ্যিক তিন ব্যাংক- সোনালী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক এবং বিশেষায়িত তিন ব্যাংক- কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন (রাকাব) ও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের নিকট জানতে চাওয়া হয় তাদের ব্যাংকগুলোর মূলধনের অবস্থা এত খারাপ কেন?

এ বিষয়ে প্রতিনিধিরা জানান, বেসরকারি খাতের ব্যাংক যেসব সেবায় নির্দিষ্ট হারে ফি আদায় করে এমন ৪০টি সেবায় সরকারি ব্যাংকগুলো কোনো ফি নেয় না। এসব সেবায় ফি নেয়া হলে মূলধনের অবস্থা এতটা খারাপ হতো না। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘ওইসব সেবায় সর্বনিম্ন চার্জ ধরে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখতে বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিকে অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের নিকট অর্থ চাওয়া হয়েছে সে অর্থ পেলে তাদের কী সুবিধা হবে? তারা কতটুকু রিকভারি করতে পারবে অর্থাৎ তাদের টোটাল বিজনেস পলিসি প্রস্তুত করে পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ খাতে চলতি বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো তাদের টোটাল বিজনেস পলিসি পাঠালে সে অনুযায়ী দুই হাজার কোটি টাকা থেকে কিছু কিছু করে দেয়া হবে। সহায়তা পেতে অনেক বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনুসুর রহমান বলেন, আজকের বৈঠকে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হল-মার্ক, বিসমিল্লার মতো বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়া রাষ্ট্রমালিকানার ব্যাংকগুলোর কাঁধে আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের বোঝা। একই সঙ্গে এসব ব্যাংক বছরের পর বছর ভুগছে বড় আকারের মূলধন ঘাটতিতে। খুঁড়িয়ে চলা এসব ব্যাংককে গত আট বছরে বাজেট থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এরপরও সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বছরের পর বছর মূলধন জোগান দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার তীব্র সমালোচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলো করা হলেও এখন তা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্যাংকগুলোতে যা হয়েছে তা নিজেদের দোষে, তাদের দুর্নীতির কারণে। সব জায়গায় ছিল অব্যবস্থাপনা আর রাজনৈতিক প্রভাব। এখন যা হওয়া উচিত তা হলো ন্যারো ব্যাংকিং।

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যা আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে জনগণের করের টাকা না দিয়ে খেলাপি ঋণ আদায় করে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তাগিদ দেয়া উচিত।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলোকে সহায়তার মাধ্যমে অপচেষ্টা, চুরি এবং দিনে-দুপুরে ডাকাতিকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। খুব বেশি হলে একটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত মিলিয়ে সরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি সাত হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ঘাটতি আট হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। এ ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক প্রথমবারের মতো ঘাটতিতে পড়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি সাত হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ৭৪২ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও অগ্রণী ব্যাংকে কোনো মূলধন ঘাটতি নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অর্থাৎ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়।

জাতীয়করনকৃত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল নিয়ে অনুসন্ধান

ডেস্ক,১৪ ফেব্রয়ারী ২০১৮: প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণে প্রধান শিক্ষক পদে দূর্ণিতী ব্যাপক অভিযোগ পর এবার টাইমস্কেল নিয়ে ব্যপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাবার্তার একটি অনুসন্ধানি টিম কিভাবে প্রধান শিক্ষক পদ পেল এবং কিভাবে দুই পদ মিলে টাইমস্কেল পেল তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সিদ্দান্ত নিয়েছে।  যেসব উপজেলায় এরকম ঘটনা ঘটেছে তারা যোগাযোগ করুন।

যাদের কাছে এ বিয়য়ে কোন তথ্য আছে তারা ‍ shikkhabarta@gmail.com এ তথ্য দেবার জন্য অনুরোধ রইল।

সরাসরি আমাদের কাছে জানাতে পারেন

সম্পাদক

 

পুরুষের যে ৬টি যৌনভীতি দু:শ্চিন্তার কারন

একেবারেই ভাববেন না, পুরুষকুল যৌনতা নিয়ে ভীত নয়। এ ব্যাপারে কোনও কোনও পুরুষ নাকি মহিলাদেরও হারিয়ে দিতে পারেন। ভয়ের কারণে মিলনসুখেও চলে আসে নানাবিধ বাধা। যৌনজীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ, অসহ্য। যৌনতা নিয়ে পুরুষের কী কী ভয় কাজ করে জেনে নিন –

১] পুরুষত্বহীনতার ভয়

– পুরুষত্বহীনতা নিয়ে ভয় থাকে পুরুষের মনে। এবং জেনে রাখা ভালো, সেই ভয় থেকেই পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যৌন অক্ষমতার জন্য দায়ি একমাত্র ভয়। পুরোটাই মানসিক সমস্যা। কেবল ১০ শতাংশ পুরুষের মধ্যে সমস্যাটি জেনুুইন ও বায়োলজিক্যাল।

২] অতৃপ্ত নারীকে ভয়

– কোনও নারীর যৌন চাহিদা তুলনায় বেশি হলে, তাঁকে মনে মনে ভয় পেতে শুরু করেন পুরুষ। নারীকে তৃপ্ত না করতে পারার শঙ্কা তাঁকে যৌনভাবে দুর্বল করে তোলে। কিন্তু কোনও পুরুষ যদি যৌনভাবে অতিরিক্ত সক্রিয় হন, তাঁর মধ্যে সেই ভয় কাজ করে না। বরং সেরকম চার্জডআপ নারীকেই মনে মনে কামনা করেন তিনি।

৩] সংযম হারানোর ভয়

– বিবাহিত বা কমিটেড পুরুষের মনে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করে। স্ত্রী বা প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা থেকেই সেই ভয়ের উৎপত্তি। তিনি মনে করেন অতি সুন্দরী কোনও নারীকে দেখে যদি কাম জেগে যায়, তবে সেই ইচ্ছেকে দমন করবেন কী করে? আফটার অল মানুষ তো! যদি স্রোতের সঙ্গে ভেসে যান, তা হলে যে প্রিয়তমাও দূর দূর করবে। এমন ধাক্কা তিনি সামলাবেন কী করে? সেই চিন্তা থেকেই ভয়ের জন্ম। তাই আত্মসংযম ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চলে মনে মনে।

৪] প্রিয়তমার অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণে সবচেয়ে বেশি ভয়

– একটু ডমিনেটিং গোছের প্রেমিকের ক্ষেত্রে এই ভয় কাজ করে। তিনি মনে করেন প্রেমিকা তাঁর একার সম্পত্তি। অন্য কেউ তাকে প্রভাবিত করবে, এই চিন্তা তিনি কিছুতেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেন না। মনে হয়, প্রেমিকা তাঁকে ছেড়ে অন্য কোনও পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হলে, তিনি সেটা সহ্যই করতে পারবেন না। এই মানসিক সমস্যা কিন্তু সম্পর্কে ফাঁটলও ধরাতে পারে।

৫] স্বাভাবিক না হওয়ার ভয়

– কোনও কোনও পুরুষের মনে শঙ্কা থাকে, তিনি যে পদ্ধতিতে মিলত হন, বাকিরাও কি সেই পদ্ধতিতেই মিলনসুখে লিপ্ত হয়! নাকি তাঁর পদ্ধতিটাই এক্সক্লুসিভ। তেমনটা হলে ভালো। প্রেমিকা চট করে ছেড়ে যেতে চাইবে না। কিন্তু বিপরীতটা হলেই মুশকিল। মনে ভয়, আরও ভালো কোনও পার্টনার পেলে হয়তো প্রেমিকা হাতছাড়া হবে। কী উদ্ভট খেয়াল!

৬] পুরুষাঙ্গের আকার নিয়ে ভয়

– অধিকাংশ পুরুষ মনে করেন, তাঁর পুরুষাঙ্গটির আকার প্রয়োজনের চেয়ে ছোটো। হয়তো সেটি সঙ্গীকে পুরোপুরিভাবে তৃপ্ত করতে পারছে না। তা হলে জেনে রাখুন, পুরুষাঙ্গের উপর যৌনতৃপ্তি নির্ভর করে না। তৃপ্তি আসতে পারে মাঝারি বা ছোটো আকারের পুরুষাঙ্গ থেকেও। পুরোটাই নির্ভর করে পারফরম্যান্সের উপর।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের সঠিক সমাধান নয়: জাফর ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ ফেব্রয়ারী:
ঢাকা: ইন্টারনেট বন্ধ করে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঔপন্যাসিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও কোনো সঠিক সমাধান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেটের মিরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জনপ্রিয় এ লেখক।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রথমত যদি প্রশ্নফাঁস হয়, তো লেখাপড়া শেষ। প্রশ্নফাঁস যদি হয়, যতই আপনি চেষ্টা করেন, লেখাপড়ার কোনো গুরুত্ব নাই। যেই ছেলেটা এসএসসিতে একটা ভালো করেছে, আমি তো জানি না সে আসলেই ভালো করেছে নাকি প্রশ্নফাঁসের জন্য ভালো করেছে। কিংবা যে ছেলেটা ভালো করে নাই, কেননা প্রশ্নফাঁস দেখে নাই। তাই না? তাঁকে তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত করছি। কাজেই মোটামুটিভাবে বলা যায়, প্রশ্নফাঁস যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নাই। আমি বলতে পারবো না যে, শিক্ষা হচ্ছে। কাজেই সরকারকে এটা বন্ধ করতেই হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনো সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন,‘এখন এটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে গিয়েছে। জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে সাংসদরা বলেছেন যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এবং শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন পদত্যাগ করার জন্য। এটা এই পর্যায়ে গিয়েছে। স্বীকার করছেন না বললে এখন আর হবে না। অবশ্যই পদত্যাগ সমাধান না। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যাটাকে সিন্সিয়ারলি অ্যাড্রেস করাটা, এটা সমাধান। আমি তো প্রথম দিন থেকে বলে আসছি যে, আপনারা ঘোষণা দেন, যে যা হবার হয়েছে ভবিষ্যতে আর প্রশ্নফাঁস হবে না। কিন্তু উনারা সেই ঘোষণা দেন না। কারণ উনাদের সেই কনফিডেন্সটা নাই, বলবেন যে প্রশ্নফাঁস হবে না। আমি যদি ঘোষণা দেই যে, প্রশফাঁস হবে না তাহলে আমাকে কিন্তু যেভাবেই হোক প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হবে।’

প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘যখন নাকি ছাপানো হবে প্রশ্নটাকে তখনই এটা সেলফ সিকিউরড থাকতে হবে। যেন কোনোভাবে কারো হাতে না যেতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ করে এটা বন্ধ করা যাবে না। প্রশ্ন ফাঁসটা বন্ধ করতে হবে। প্রব্লেমটাকে অ্যাড্রেস করতে হইলে প্রথমত প্রব্লেমটাকে বুঝতে হবে। এ থেকে জেড পর্যন্ত প্রতিটা স্টেপ আমাকে জানতে হবে। ঠিক করে জানতে হবে, কোথায় এটা ফাঁস হয়েছে, কেন হয়েছে। তাঁর চেয়ে বড় কথা যারা এটা করছে তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে।’

এর আগেও প্রশ্নফাঁসের কথা বললেও কেউ স্বীকার করেননি বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমি বহুদিন আগে এই প্রশ্নফাস নিয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত বসে ছিলাম, বৃষ্টির ভেতরে। কেউ আমার কথা শুনে নাই। অলরাইট? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনো স্বীকার করে নাই যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এখন এটা শুরু হয়েছে, ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম ওরা বলছে, যে হ্যা প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করছেন, এটা বন্ধ করছেন, সেটা বন্ধ করছেন। মানে চেষ্টা করতেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় যে, এটা প্রশ্নটাকে ঠিকভাবে এপ্রোচ করা হয় নাই। উনাদের এপ্রোচটা হচ্ছে যে, প্রশ্নফাঁস হবেই, আমরা শুধুমাত্র যেন ডিস্ট্রিবিউশনটা না করতে পারি সেটা দেখাইতে হবে। বুঝেছেন তো, ডিস্ট্রিবিউশনটা যাতে না করতে পারে। প্রশ্নফাঁস হবেই উনারা ধরে নিয়েছেন। কেন প্রশ্নফাস হবে, এটা আমি মানতে রাজি না।’

লেখক আরো বলেন, ‘আমি কালকে একটা ই-মেইল পেয়েছি, যেখানে একজন বলেছে, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে সারাদিন ধরে বোর্ড অফিসে থেকেছে, সেখান থেকে প্রশ্ন বের করে নিয়ে আসছে। আমি সত্য মিথ্যা জানি না। কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আমি যদি বোর্ডে বসে থাকি সারাদিন ঐখান থেকে একটা প্রশ্নপত্র কেউ না কেউ আমাকে দিয়ে দেবে। আসলেই এটা হয়েছে কিনা জানি না। কিন্তু মানুষজন কেন এটা চিন্তা করবে বোর্ডে গেলে একটা প্রশ্নপত্র পেয়ে যাব?’

পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ মিটারে মোবাইল ফোনসহ পেলে গ্রেপ্তার

সচিবালয় প্রতিবেদক :

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

এ ছাড়া পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ না করলে তাকে আর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে।

‘জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণসংক্রান্ত’ এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি), সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের রোববার ওই নির্দেশ পাঠানো হয়।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কেবল কেন্দ্রসচিব সাধারণ একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না। তবে ওই ফোনটিও কেন্দ্রসচিবের কক্ষে রেখে ব্যবহার করার নিয়ম।

এবার এসএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষার প্রশ্নই পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফাঁস হয়েছে, সেই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে। এই অবস্থায় আরো কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

hit counter