Author Archives: chief editor

সোয়া লাখ শিক্ষক কর্মচারীর পদ সৃষ্টি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাবার্তা ডটকম,২৭ মার্চ:
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট অবশেষে কেটে যাচ্ছে। সৃষ্টি করা হচ্ছে নতুন পদ। এতে ক্লাস রুমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটও দূর হবে। অন্তত সোয়া লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ উদ্যোগ নিয়েছে। আসছে বাজেটে নতুন করে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৮ ভাগ নিয়ন্ত্রণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা-সংশ্নিষ্টরা। নতুন এমপিওভুক্তির জন্য ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, ২০১২ সন থেকে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে আইসিটিসহ বেশকিছু নতুন বিষয় চালু হয়েছে। অথচ এমপিওভুক্তির জনবল কাঠামোয় ওইসব বিষয়ের শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এতে শিক্ষক সংকটের কারণে দেশব্যাপী মানসম্মত পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ও পড়াচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা গুণগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে নতুন জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, শিগগির নতুন জনবল কাঠামো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরিতে প্রবেশের নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই।  বয়সের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান জনবল কাঠামো অনুযায়ী, নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে একটি করে পদ রয়েছে। নতুন জনবল কাঠামোতে এ তিনটি পদ ছাড়াও কৃষি, গার্হস্থ্য, গণিত, ভৌত বিজ্ঞান, ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারু ও কারুকলার নতুন পদ সৃষ্টি হবে। কম্পিউটার ল্যাব থাকলে একজন ল্যাব অপারেটর নিয়োগ দেওয়া যাবে। এ ছাড়া অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নৈশপ্রহরী ও আয়াসহ (সহশিক্ষা ও বালিকা বিদ্যালয়) ১৯টি করে পদের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নয়টি করে পদ রয়েছে।
মাধ্যমিক স্কুলে বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের তিনজন শিক্ষকের এমপিওভুক্ত পদ রয়েছে। নতুন করে সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা (বিজ্ঞান বিভাগ চালু থাকলে) বিষয়ে আলাদা দুটি পদসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, গণিত, ভৌত বিজ্ঞান, ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য, চারু ও কারুকলা, জীব বিজ্ঞান (বিজ্ঞান বিভাগ চালু থাকলে) শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শারীরিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং চারু ও কারুকলা বিষয় চালু করেছে। এসব বিষয়ে নতুন পদ সৃষ্টি হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজে বিজ্ঞানের একজন শিক্ষকের পদ এমপিওভুক্ত রয়েছে। তিনি একাই পদার্থ, রসায়ন, জীববিদ্যা ও উচ্চতর গণিত পড়ান। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ভৌতবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ে আলাদা শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন। কৃষি ও গার্হস্থ্য আলাদা বিশেষায়িত বিষয়। কিন্তু এখন ক্লাসে একজন শিক্ষককে বিষয় দুটি পড়াতে হয়। নতুন জনবল কাঠামোতে এ দুটি বিষয়ে আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শরীরচর্চা শিক্ষক যারা ছিলেন তারা শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন। এ ছাড়া সহকারী গ্রন্থাগার কাম ক্যাটালগার, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটরের নতুন পদ সৃষ্টি হবে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয় ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে একজন প্রদর্শককে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজেও একই জনবল কাঠামো থাকবে। আর স্নাতক (পাস) স্তরে প্রতিটি বিষয়ে একজন করে ল্যাব সহকারী পদের এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সবস্তরেই ল্যাব বাধ্যতামূলক। প্রথমবারের মতো উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উপাধ্যক্ষ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা অনুমোদন দিলে সারাদেশে ২৬ হাজার ৯০টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আরও সোয়া লাখ শিক্ষক-কর্মচারী নতুন করে এমপিওভুক্ত হবেন।
অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা, বিষয় ও বিভাগ খোলার নিয়ম:  নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে অতিরিক্ত শাখা খোলা যাবে। নতুন শাখায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পরে প্রতিটি শাখা খুলতে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে। নতুন শাখায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, ভৌতবিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি/গার্হস্থ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিভাগ খুলতে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মাধ্যমিকে শাখা খুলতে নিম্নমাধ্যমিক স্তরের মতোই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিকে বিভাগ খুলতে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। নতুন বিষয় খুলতে ২৫ জন শিক্ষার্থীসহ ওই বিভাগে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্নাতক (পাস) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে নতুন বিষয় খুলতে হলে ২৫ জন শিক্ষার্থী ও বিভাগে ৭৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। শিফট খুলতে হলে শ্রেণিভিত্তিক দেড়শ’ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। নতুন শিফটে প্রতিটি শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী হলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে। মাধ্যমিক স্কুলে বিভিন্ন ধর্মের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে।
শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা:  নতুন নীতিমালায় শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগে কোনো বিধিনিষেধ নেই। নতুন নীতিমালায় সর্বশেষ ডিগ্রি ছাড়া শিক্ষা জীবনে একটি তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্তরা আবেদন করতে পারবেন। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে ৩০০ নম্বরের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। আগের নীতিমালায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। নতুন নীতিমালায় তা স্পষ্ট করা হয়েছে। স্নাতক (পাস) স্তরে তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের দাবি এবারও উপেক্ষিত হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুল কলেজে উন্নীত হলে প্রধান শিক্ষক স্বপদে সবেতনে বহাল থাকবেন। কলেজ স্তর এমপিওভুক্ত না হলে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হলে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তবে এমপিও হলে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া যাবে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বার্ষিক মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো এসিআর চালু হবে।
গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্তি:  ১০০ নম্বরের গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে এবার প্রায় দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতিতে ২৫ নম্বর (প্রতি দুই বছরের জন্য পাঁচ নম্বর। ১০ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ নম্বর)। শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর ২৫ নম্বর (নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্য ১৫ নম্বর। এরপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে পাঁচ নম্বর)। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার জন্য ২৫ নম্বর (নির্দিষ্ট সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫ ও পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য পাঁচ নম্বর)। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য ২৫ নম্বরের (নির্দিষ্ট হার অর্জনে ১৫ নম্বর ও পরবর্তী প্রতি ১০ শতাংশ পাসে পাঁচ নম্বর) গ্রেডিং করা হবে।
প্রভাষকদের এমপিওভুক্তিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে তা ১৫ জন করা হয়েছে। নতুন জনবল কাঠামোয় সৃষ্টপদের শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়া হবে না। তবে নতুন পদে এমপিওভুক্ত করা হবে। নতুন জনবল কাঠামোর বাইরে কর্মরত পদ শূন্য হলে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। যারা এমপিওভুক্ত নন; কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নতুন পদে পদায়ন করতে হবে।
শাখা বন্ধ:  নীতিমালা জারির পরে অনুমোদিত ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য ক্যাম্পাস ও শাখা (ব্রাঞ্চ) চালানো যাবে না। অনার্স-মাস্টার্স কলেজ, অনার্স ও কামিল মাদ্রাসা, সঙ্গীত কলেজ, শরীরচর্চা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ও নৈশকালীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নীতিমালায় আনা হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও বা সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন।
১৯৯৫ সনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও এবং জনবল কাঠামো নীতিমালাটি তৈরি করা হয়। এরপর ২০১০ এবং ২০১৩ সনে তা দুই দফায় সংশোধন করা হয়।

বিএড স্কেল পাচ্ছেন ৩১২ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ,
তিনশত বার জন শিক্ষককে বিএড স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। মার্চ মাসের এমপিওর সঙ্গেই তারা এই স্কেলের সুবিধা পাবেন। গত ২৪ মার্চ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো: মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দৈনিকশিক্ষাকে  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 আরও পড়ুন:
জানা যায়,  ৩১২ জন বিএড স্কেল পাবেন। তাদের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ২৬ জন, চট্টগ্রামের ৯, কুমিল্লায় ৯, ঢাকায় ২৫, খুলনায় ৬১, ময়মনসিংহে ৩২, রাজশাহী ৪৩, রংপুরে ৯০ ও সিলেটে ১৭ জন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে এমপিও কমিটির বৈঠকে ৪১৪ জনকে এমপিওর সঙ্গে বিএড স্কেলের সুবিধা দেয়া হয়েছিল।

২০০৮ সাল প্রধান শিক্ষক হিসাবে গণ্য জাতীয়করনকৃত প্রধান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৭ মার্চ : জাতীয়কনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল নেয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছে উপ হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। গত ৭ জানুয়ারি মিয়া মুহম্মদ মুজিবুল হক সাক্ষরিত এক পত্রে জাতীয়কৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা টাইমস্কেল পাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছেন। রংপুর বিভাগীয় নিয়ন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে উভয় পদের সমষ্টির ভিত্তিতে টাইমস্কেল প্রাপ্য নয় বলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। চিঠিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

২৯ মার্চ থেকে এইচএসসির কোচিংগুলো বন্ধ

একাধিক সূত্রমতে, শুধু দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিলো| ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (জাতীয়করণ) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর কাছে চুমুর আবদার অধ্যাপকের!

 

অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে তাদেরকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে গণ্য করা হয় এবং সেখান থেকে সবাই পদোন্নতিপ্রাপ্ত।সেই হিসাবে কেউ পাচ্ছেন না টাইমেস্কল।

দেশজুড়ে ২ হাজার মাদ্রাসায় নতুন ভবন

 

ঢাকা,২৭ মার্চ:

সারাদেশে দুই হাজার মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘দেশজুড়ে নির্বাচিত মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সারাদেশের প্রত্যেকটি সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি (এমপি) কমপক্ষে ছয়টি করে মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পাবেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হবে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে। প্রকল্পের ২ হাজার মাদ্রাসার মধ্যে সারাদেশের ৩০০ এমপি দায়িত্ব পাবেন কমপক্ষে ছয়টি করে মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণের। বাকি মাদ্রাসাগুলোর ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এমপিরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুযায়ী বাকি মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণের কাজ এমপিদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ভবনগুলোতে সব ধরনের আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হবে। তথ্য ও প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষা দানে প্রতিটি নতুন ভবনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ও কম্পিউটার ল্যাব থাকবে। প্রতিটা ভবন হবে পাঁচতলা। তবে ফাঁকা থাকবে নিচতলা। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে ভবনের আকার-আয়তন।

এরইমধ্যে মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর। এর সম্ভাব্যতা ও প্রযোজনীয়তা নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

পিইসি সভা প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের শিক্ষা উইংয়ের সহকারী প্রধান মুনিরা ইসলাম  বলেন, মাদ্রাসা ভবনের উন্নয়নে একটি প্রকল্পের বিষয়ে পিইসি সভা হয়েছে। সভায় প্রাথমিকভাবে এটা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ঠিক করে নিয়ে এলেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।

সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের জন্য ৩০০ এমপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) লেটার বা চাহিদাপত্র দেন। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার মাদ্রাসার দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণতার কথা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এ চাহিদাপত্র দিয়ে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে দুই হাজার মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রকল্পটির বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বিল্লাল হোসেন  বলেন, মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সারাদেশের সংসদ সদস্যরা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। তাদের চাহিদার আলোকেই মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তুত করেছি। চাহিদা অনুযায়ী এমপিরা বিদ্যমান মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ পাবেন।

এর আগে, দেশের ৩০০ সংসদীয় এলাকার প্রত্যেকটিতে ১০টি করে মোট ৩ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনায় একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ নামে ১০ হাজার ৬৪৯ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির আওতায় প্রত্যেক এমপি ১০টি করে স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ বরাদ্দ পান। ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

 

দিনাজপুরে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বে’ দুই ভাগে বিভক্ত শিক্ষকেরা

ডেস্ক: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বে’ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দল-সমর্থক শিক্ষকেরা। এ জন্য আলাদা সংগঠনও গড়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান উপাচার্যের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষকদের নতুন সংগঠনটি গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনভুক্ত শিক্ষকেরাই এখন সব ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছেন।

আর পুরোনো সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক উপাচার্য। শিক্ষকদের এই পক্ষ এখন বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভর্তিতে অনিয়ম, বিভিন্ন পদে রংপুর ও আশপাশের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন। এ ছাড়া তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠলেও বর্তমান প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষক  বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।

১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়টিতে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও ২৮৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

অবশ্য বর্তমান উপাচার্য মু. আবুল কাসেমের সঙ্গে দেখা করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ওই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষকদের একটি পক্ষকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং আঞ্চলিকতার অভিযোগ সত্য নয়। ভর্তি নিয়ে অভিযোগও ভিত্তিহীন। আর যাঁদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, তাঁর মধ্যে গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য নির্ধারিত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান উপাচার্য নিয়োগ পান। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর আগে উপাচার্য ছিলেন রুহুল আমিন। সাবেক উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষকদের চেষ্টা ও আশা ছিল, রুহুল আমিনই আবার উপাচার্য হবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবে শেষ পর্যন্ত তিনি উপাচার্য হতে পারেননি। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দিনাজপুরের স্থানীয় তিনজন সাংসদ পক্ষ-বিপক্ষে ভূমিকা নেন। এখনো এর প্রভাব কাজ করছে। রুহুল আমিন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সভাপতি, আর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের সময় রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক বলরাম রায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মূলত উপাচার্যের পদটি ঘিরেই ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ শুরু হয়। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষকদের আরেকটি অংশ তাঁর পক্ষ নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে তোলে। এই সংগঠনের সভাপতি মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের ধীরে ধীরে সরানো শুরু হয় এবং নতুন সংগঠনের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্বে পেতে থাকেন। তখন দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে থাকে।

নতুন সংগঠনটির একজন সহকারী অধ্যাপক  বলেন, এখন মনে হচ্ছে, এই সংগঠন মূলত উপাচার্যের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে এবং ক্ষমতা ভোগ করতে শুরু করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। একটি পক্ষ আগে ‘বিজনেস’ করেছে, এখন আরেক পক্ষ চেষ্টা করছে। এখানে রংপুর বনাম দিনাজপুরকেন্দ্রিক দুটি উপদল হয়ে গেছে। উপাচার্যের বাড়ি লালমনিরহাটে হওয়ায় তিনি রংপুর অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি মাস্টাররোলে ১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা না হলেও কিছু কিছু বিষয় দৃশ্যমান হচ্ছে। গত নভেম্বরে সংবাদ সম্মেলন করে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের অধ্যাপক এস এম হারুন উর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেয় বর্তমান প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ডাকা অবস্থানে উপাচার্যের সমর্থক একদল শিক্ষার্থী হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলরাম রায়  বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে যে লক্ষণ শুরু হয়েছে, সেটা ভালো মনে হচ্ছে না। যদিও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদ’-এর নেতা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দলাদলি সব বিশ্ববিদ্যালয়েই কমবেশি আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকায় উপাচার্যই সবকিছুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

যৌন হয়রানির যথাযথ বিচার হয় না

গত বছরের জুলাই মাসে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বিভাগের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওই বিভাগের এমএসের এক ছাত্রী যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ওই ছাত্রীর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। পরে তদন্ত কমিটির ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে সতর্ক করা হয় এবং এক বছর কোনো শিক্ষার্থীকে এমএস ডিগ্রির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একাধিক শিক্ষক  বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীও মামলা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে। এমন অবস্থায় তাঁর বিষয়ে গুরু পাপে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে প্রশাসন।

ফিশারিজ অনুষদের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলেও তাঁকে সম্প্রতি একটি আবাসিক হলের সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন, কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। কিন্তু তাঁকে রোভার স্কাউটের একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একাধিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকেও যৌন হয়রানিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হচ্ছে।

২৯ মার্চ থেকে এইচএসসির কোচিংগুলো বন্ধ

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেসব কোচিং সেন্টার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেগুলো ২৯ মার্চ থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার  এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন  জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আজ আদেশ জারি হবে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত জাতীয় তদারক কমিটির সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো আজ আদেশ আকারে জারি করা হবে। সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে—পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা, কেন্দ্রসচিব ছাড়া আর কেউ মোবাইল ফোন কেন্দ্রে নিতে পারবেন না। তবে কেন্দ্রসচিবও শুধু একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করবেন। এ ছাড়া এবার ট্রেজারি বা থানা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে নিতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগেই। এ ছাড়া কোন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, তার সেট নির্ধারণ করা হবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শেষ হবে ১৪ মে।

ছাত্রীর কাছে চুমুর আবদার অধ্যাপকের!

ডেস্ক  ২৭ মার্চ ২০১৮:

ভারতের মুম্বাইয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি কলেজের এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় বেশি নাম্বার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চুমুর আবদার করে গ্রেফতার হয়েছেন কলেজের অধ্যাপক।

গত ৮ মার্চ মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকায় ত্রিশ বছয় বয়সী অধ্যাপক এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীকে অধ্যাপক এ ধরনের প্রস্তাব দিলেও তা আলোচনায় এসেছে শনিবার।

১৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেছেন, কলেজের অধ্যাপক তাকে পরীক্ষায় বেশি নাম্বার দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে একটি চুমু চেয়েছিলেন। ওই শিক্ষার্থী তার পরিবারের কাছে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

কলেজ অধ্যাপকের এ ধরনের অনৈতিক আবদারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা পান্ত নগর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।

মুম্বাইয়ের পান্ত নগর পুলিশ স্টেশনের জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক রোহিনী কাইল বলেন, পরীক্ষায় নাম্বার বাড়িয়ে দেয়ার বিনিময়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক শিক্ষার্থীর কাছে চুমুর দাবি করেছিলেন। আমরা ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি এবং তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৯ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক; অবৈধ উপায়ে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৯ জন শিক্ষক। এমপিওভু্ক্তির বিধিমাফিক যোগ্যতা না থাকা এই ৯ জন হচ্ছেন জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের ছয়টি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক।
উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের দপ্তর ঘুরে ২৪ মার্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) কমিটির সভায় অন্যান্যের সঙ্গে এই ৯ জনকেও এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।  পদাধিকার বলে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো: মাহবুবুর রহমান এই কমিটির প্রধান। পূর্বে এমপিওভুক্ত অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের যখন মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবে, তখন এই ৯ জনও বেতন পাবেন।
 অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয় পরিদর্শকের সিন্ডিকেট ঘুষের বিনিময়ে এই অবৈধ এমপিও সুবিধা দেয়া হচ্ছে এসব শিক্ষককে। এতে প্রতিবছর সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্চা যাবে।
অবৈধ উপায়ে এমপিও পেতে যাওয়া শিক্ষকরা হচ্ছেন জামালপুর জেলার পচাকলো জয়তুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মো. সাঈদুজ্জামান। এই বিদ্যালয়টিতে মহিলা কোটা পূরণ নেই। টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর উপজেলার তেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক শওকত আলী। এ বিদ্যালয়ে মহিলা কোটা পূরণ নেই। ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল জেলার বরাটি আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী। এখানেও মহিলা কোটা পূরণ নেই।
শেরপুর সদরের কামারের চর ভাবনা খোশগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শাখা শিক্ষক মানিক মিয়া ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে চাকরিতে যোগ দেন। ওই বিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদন হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে। শেরপুর সদরের রামের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের শাখা শিক্ষক আজমেরি জান্নাত  নিয়োগ পান ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে। ওই বিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদন হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে।
 অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি মুক্তিযুদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় মজনু মিয়া ও নুরুজ্জামান বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন। যোগ দেন একই বছরের ১ জুলাই। শাখা অনুমোদন হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ আগস্ট। একই জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ইন্দিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জান্নাতুল নাঈম ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর নিয়োগ পেয়ে ২৪ ডিসেম্বর যোগ দেন। ওই বিদ্যালয়ে শাখা অনুমোদন হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ আগস্ট। একই উপজেলার কদিকাহোনিয়া সাউথপড়ুয়া উচ্চ বিদ্যালয় খন্দকার মো. দিদারুল ইসলাম ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে নিয়োগ পান। ওই বিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদন হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে।
ঘুষ নিয়ে ৯জন শিক্ষককে অবৈধভাবে এমপিও সুবিধা দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক  আকতারুজ্জামানের বক্তব্য জানতে দৈনিকশিক্ষা থেকে একাধিকবার তার মোবাইল ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। অনিয়ম ও ঘুষের বিষয়ে জানতে মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ প্রকল্পে কেনাকাটা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | :
দুর্নীতি ও পছন্দের ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ স্থাপন প্রকল্পের কেনাকাটা সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে সরকারের অগ্রাধিকারের এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুতেই হোঁচট খেল। প্রকল্প দলিল (ডিপিপি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দরপত্র আহ্বানের তৎপরতা চালানোর কারণে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সতর্কও করেছে শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রকল্প কর্মকর্তারা নিজের মতো করেই সব ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চান।
দেশের তিন হাজার ৩৪০টি হাই স্কুলে একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যার নাম ‘আইসিটি’র মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, সাউন্ডবক্স ও মডেম- ইত্যাদি শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
কিন্তু শিক্ষা উপকরণ ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকল্পের শুরুতেই দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে একটি চক্র। তারা উন্মুক্ত দরপত্রে কেনাকাটার চিন্তা বাদ দিয়ে ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পছন্দের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে চান। এতে চক্রটি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন তথা ‘অনৈতিক সুবিধা’ পাবে।
সম্প্রতি আইসিটি প্রকল্পের অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর আলোকেই গত ১৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মহিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা, প্রকল্প কর্মকর্তা ও মাউশির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই সভায় অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন খান আইসিটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছে ক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র ও নথি তলব করেন। একইসঙ্গে তিনি মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ক্রয় প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে চীন সফরে থাকায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন ওই সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিতের কথা শুনে চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। প্রকল্পের কেনাকাটা ফের চালু করতে তিনি এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অতিরিক্ত সচিবের বক্তব্যের আলোকেই প্রকল্পের কেনাকাটায় স্বেচ্ছাচারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন মাউশি মহাপরিচালক। তবে মহাপরিচালক প্রকাশ্য সভায় প্রকল্প কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিলেও তার পরামর্শেই ডিপিএম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে আইসিটি প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেসরকারি ‘স্মার্ট টেকনোলজি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি’র কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছে একটি বিশেষ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা। সিলেটের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও ডিপিএম’ প্রক্রিয়ায় ‘স্মার্ট টেকনোলজি’র মাধ্যমে কেনাকাটা করতে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। মাউশি মহাপরিচালকও চান ‘স্মার্ট টেকনোলজি’ কাজ পাক।
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, জটিল ও অনিবার্য কোন কারণ ছাড়া প্রকল্পের কেনাকাটায় ডিপিএম প্রক্রিয়া অনুসরণের কোন সুযোগ নেই। উন্মুক্ত দরপত্র বা ‘ই-জিপি’ (ইলেক্ট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) অর্থাৎ অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে হবে। প্রকল্পের দলিলেও তাই বলা হয়েছে।
এই প্রকল্পের কাজ পেতে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নানাভাবে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। এর মধ্যে ‘থেসিস’ ও ‘ডকইয়ার্ড’ নামের দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ‘ইউনিক’, ‘ওরিয়েন্টাল’ ও ‘গ্লোবাল’সহ আরও কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অন্যতম।
জানা গেছে, আইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজার ৩৪০টি স্কুলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা আরও প্রায় পাঁচ হাজার বেসরকারি হাই স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে; সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উদ্যোগে সোলার সিস্টেম (সৌর বিদ্যুৎ) স্থাপন করতে হবে।
আর কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি নিজস্ব উদ্যোগে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করে সে ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থায়নে ওই প্রতিষ্ঠানে ‘বোনাস’ হিসেবে আরেকটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করে দেবে সরকার।
‘আইসিটি’র মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। গড়ে একটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনে সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন নাগাদ।

সিডনিতে বাংলা স্কুলে স্বাধীনতা দিবস পালন

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে ৪৮৫ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ক্যাশ সহকারী পদে ৪৮৫ জন লোক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত।

► লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে

► মৌখিক পরীক্ষায় ব্যাংকিং খাত, অর্থনীতি, সমসাময়িক বিষয়, নিজ জেলা, নিজের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে

অনেকরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে ব্যাংক জব। ভালো বেতন কাঠামো ও সম্মান উভয়ই মেলে এ পেশায়। এইচএসসির পরই কাজের সুযোগ দিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। ৪৮৫ জন ক্যাশ সহকারী নেবে ব্যাংকটি। নিয়োগ দেওয়া হবে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ১৩ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়। অনলাইনে পাওয়া যাবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে (www.pallisanchaybank.gov.bd)। সরাসরি বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে drive.google.com/file/d/ 1IDnSs4cqI_SBLBOijhSk30R-5SUGoIOg/view ঠিকানায় ও goo.gl/HHAXCC লিংকে।

প্রত্যেকটি প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে একজন সুইপার নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | :
বিদ্যালয়ের টয়লেট পরিষ্কার রাখতে শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও বেতন বৃদ্ধির সংগ্রামের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিতে হবে শিক্ষক নেতাদের ।
রোববার (২৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ওয়াটারএইড আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে  অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সঠিকভাবে দেশে টাকা খরচ করার ব্যবস্থা চরম নাজুক। এতো কিছুর পরও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক  মো. সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, শেরেবাংলা সরকারি হাইস্কুলে  টয়লেট কার্যক্রম খুবই সন্তোষজনক। অথচ গ্রামের স্কুলগুলো  সেই তুলনায় নাজুক। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেট ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় খুবই ভাল। প্রত্যেকটি প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে একজন সুইপার নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়াটার এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. খায়রুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস ড. মনজুর আহমেদ।

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উপাধ্যক্ষ পদের প্রস্তাব

শফিকুল ইসলাম | : উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে (১১শ-১২শ) এতোদিন শুধু অধ্যক্ষ পদ ছিল। এমপিওর খসড়া নীতিমালায় উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের (১১শ-১২শ) নতুন করে উপাধ্যক্ষের একটি পদ সৃষ্টিসহ বিদ্যমান ১৫টি পদ থেকে  ৫টি পদ বৃদ্ধিসহ মোট ২০ জন জনবলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় একাদশ শ্রেনিতে মানবিক,বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি বিভাগ খোলার জন্য প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণত প্রতি বিভাগে চারটি বিষয় থাকবে। তবে ৫ম বা ততোধিক ঐচ্ছিক বিষয় খুলতে হলে ওই বিষয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে ন্যূনতম শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ জন থাকতে হবে।

প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) ১ জন,প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) ১ জন ,প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ১ জন,প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক(ঐচ্ছিক প্রতি বিষয়ে) ১ জন, শরীরচর্চা শিক্ষক ১জন, প্রদর্শক (পদার্থ,রসায়ন,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও উদ্ভিদবিজ্ঞান/প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে ল্যাব চালু থাকলে প্রতি বিষয়ে) ১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক/ক্যাটালগার ১ জন, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ২জন, গবেষণগার/ল্যাব সহকারী (পদার্থ, রসায়ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও উদ্ভিদবিজ্ঞান/প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে ল্যাব চালু থাকলে প্রতি বিষয়ে) ১ জন। তবে এখানে ১টি পদ প্রস্তাব করা হয়েছে। মালি ও পরিচ্ছন্ন কর্মি পদে বিদ্যমান ১টি পদের জায়গায় আরও একটি করে ২টি পদ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সহশিক্ষা চালু থাকলে মহিলা কলেজের জন্য ১ জন আয়া রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

উচ্চ মাধ্যমিক (১১শ-১২শ) স্তরে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের জনবল কাঠামোর বিষয়ে বলা হয়েছে, গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ চালু থাকলে প্রভাষক / সহকারী অধ্যাপক (গার্হস্থ্য অর্থনীতি  বিভাগে স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিষয়ের জন্য) ১ জন এবং (গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ল্যাবের জন্য) প্রদর্শক  থাকবে ১ জন।

উচ্চ মাধ্যমিক (১১শ-১২শ) স্তরে  সংগীত বিভাগের জনবলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে প্রভাষক / সহকারী অধ্যাপক ( স্বীকৃতি প্রাপ্ত ঐচ্ছিক বিষয়ের জন্য) ১জন, প্রদর্শক (তবলচি) ১ জন এবং অফিস সহায়ক ১ জন। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হলে লঘু সংগীত বিষয়ে ১জন ও উচ্চাংগ সংগীত বিষয়ে ১ জন প্রভাষক/ সহকারী অধ্যাপক প্রাপ্য হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে ১০০ নম্বরের মধ্যে দেয়া গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে। একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা এবং উত্তীর্ণের সংখ্যা- এ চারটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে দেয়া হবে। নীতিমালায় অসত্য তথ্য দিয়ে বা জালিয়াতি করে এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা কমিটি দায়ী থাকবেন বলে উল্লেখ আছে। এ ক্ষেত্রে ‘যথোপযুক্ত আইনানুগ’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও সেটা কী তা বলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্যতা, স্বীকৃতি/অধিভুক্তি, জনবলকাঠামোর আরোপিত শর্ত, কাম্য শিক্ষার্থী-ফলাফল, পরিচালনা কমিটি না থাকলে এমপিও দেয়া হবে না। এনটিআরসিএ’র মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এমপিও পাবেন না।

আরও পড়ুন:  দৈনিক ১ ঘন্টা কাজ করে মাসে ৫/১০ হাজার টাকা আয় করুন

নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বার্ষিক কাজের মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য রক্ষা করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষকের নিজ মূল বিষয়ের বাইরে আরও ২টি বিষয়ে পাঠদানের দক্ষতা থাকতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে শিফট চালু আছে, সেগুলোয় প্রতি শিফটের একেক শ্রেণীতে কমপক্ষে ১৫০ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকতে হবে। ১৫০ জন বা এর অধিক শিক্ষার্থী থাকলেই শুধু শিফট চালু থাকবে। এ নীতিমালা জারির পর কোনো প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শিফট খোলা যাবে না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদিত মূল ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোথাও ক্যাম্পাস বা ব্রাঞ্চ খুলতে পারবে না।

 

আরও পড়ুন: প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগকৃতদেরকে কেন ১০ গ্রেডে বেতন নয়: হাইকোর্ট

—————————————————————-

কোনো প্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করলে বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধার শতভাগ (প্রতিষ্ঠানকে) পরিশোধ করতে হবে। ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারী অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা গণনাযোগ্য হবে। তবে যোগদানের আগের বকেয়া প্রাপ্য হবেন না। ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রযোজ্য। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক পদে চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে শুধু একটি তৃতীয় বিভাগ/সমমান গ্রহণযোগ্য হবে। এ নীতিমালা জারির পর কেউ যদি বকেয়াপ্রাপ্য হন, সে ক্ষেত্রে তা পরিশোধ করা হবে না।শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মহিলা কোটা পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসরণ করতে হবে।

”কোচিংয়ের পর প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার রুমে নিয়ে তাদেরকে যৌন হয়রানি করে

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কোনভাবেই স্কুলে পাঠানো যাচ্ছিলোনা।

প্রায় এক সপ্তাহ এভাবে চলার পর অভিভাবকরা কথা বলে জানতে পারেন যে তারা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের কাছেই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

খবর পেয়ে এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির খবর পেয়ে ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি। তারা জানান, স্কুল ছুটির পর কোচিংয়ের পর প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার রুমে নিয়ে তাদেরকে যৌন হয়রানি করে”।

মিস্টার রহমান জানান তিনি পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকেও জানান।

দৈনিক ১ ঘন্টা কাজ করে মাসে ৫/১০ হাজার টাকা আয় করুন

দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ

শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে সাংবাদিকতায় কাজ করে নিজেকে তৈরী করুন।

শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র অনলাইন জাতীয় পত্রিকা দৈনিকশিক্ষাবার্তা  http://shikkhabarta.com সাংবাদিকতায় আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে। যারা শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিখতে, বলতে ও পড়তে পারেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ্যাকটিভ শুধু তাদেরকেই খুঁজছে দৈনিকশিক্ষাবার্তা পত্রিকা।

এর জন্য ঢাকা সহ সারাদেশে সাংবাদিক, ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি আবশ্যক । শিক্ষাগত যোগ্যতা নুন্যতম এইচ.এস.সি। শিক্ষকদের অগ্রাধিকার।

বেতন: মাসিক ৫০০০ টাকা ।

আবেদন পাঠানোর ইমেইল: info@shikkhabarta.com, shikkhabarta@gmail.com
সরাসরী আবেদন গ্রহন যোগ্য নই

যোগাযোগ : বরাবর, নির্বাহী সম্পাদক. “দৈনিক শিক্ষাবার্তা” ।
মোবাইলঃ ০১৫৫৭৬৩১০৯৭,

আবেদনের শেষ তারিখঃ 15/4/2018

 

hit counter