Author Archives: chief editor

সিটিসেলকে বিটিআরসির বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ

ডেস্ক,৫ মার্চ: দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল অপারেটর সিটিসেলকে বিটিআরসির প্রাপ্ত বকেয়া ১২৮ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে সিটিসেলের পক্ষে করা মানহানি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, কামরুল হক সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও খন্দকার রেজা-ই রাকিব।

খন্দকার রেজা-ই রাকিব পরে  বলেন, আদালতের নির্দেশের পর সিটিসেলকে বিটিআরসির পাওনা ১২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পদোন্নতি পাচ্ছেন ১৭০ সহকারী শিক্ষক

শেরপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের (চলতি দায়িত্ব) পদে ১৭০ জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে এ তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আদেশ জারি হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন শেরপুর জেলার প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, শেরপুর জেলার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। এ জেলায় মোট ১৭০ জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। পদোন্নতি প্রাপ্তদের প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকা স্কুলগুলোতে পদায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে চলতি দায়িত্বে বসানোর কার্যক্রম চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, ভোলা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষকদের গ্রেডেশনের তালিকা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে পদায়ন করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের রিট খারিজ

ডেস্ক,৫ মার্চ: সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।সোমবার (৫ই মার্চ) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও দুই সাংবাদিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া এ রিট দায়ের করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পিএসসির চেয়ারম্যানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া জানান, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, বেসরকারি, প্রতিরক্ষা, আধা সরকারি এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য কোটা প্রবর্তন করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে কোটায় সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে কোটা যেমন, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাতি নাতনি ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ কোটা। সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান রয়েছে। এই কোটা প্রথা সংবিধানের ১৯, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিট আবেদনটি দায়ের করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিসুর রহমান মির, ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব দিদারুল আলম ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সিনিয়র সাব এডিটর আব্দুল ওদুদ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পেলেন ১৯৪ জন

ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে (চলতি দায়িত্ব) আরও ১৯৪ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ তালিকায় কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা রয়েছেন। রোববার(৪ মার্চ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কিশোরগঞ্জ জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক শূন্যপদে বসানো হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির  বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের তালিকভুক্ত শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। এ জেলার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত মোট ১৯৪ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক রয়েছেন।

তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে পদায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ফরিদপুর, ভোলা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষকদের গ্রেডেশনের তালিকা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরির নিয়‌োগে ক‌োটার আধ‌িপত্য

নাসিরুল ইসলাম:সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হয়েছিল চাকরিতে কোটা পদ্ধতি। তবে চাকরির নিয়োগে এখন কোটারই আধিপত্য। সম্প্রতি কোটা পদ্ধতির পক্ষে ও বিপক্ষে আন্দোলন চলছে রাজপথে। কয়েক বছর ধরেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কোট বাদ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তার ওপর কোটা পদ্ধতিতেই রয়েছে বৈষম্য। বৈষম্য দূর করতে ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতেই যে কোটা, তাতে যদি বৈষম্য থাকে তাহলে সংস্কার ছাড়া কোনও সমাধান হবে না। আর এ সংস্কার হতে হবে তথ্যভিত্তিক।

কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী নেতারাও বলছেন, যে কোটা পদ্ধতি প্রচলিত আছে তাতে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বৈষম্য দূর করতে সংস্কার জরুরি।

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তান/নাতি-নাতনি কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা পাঁচ শতাংশ। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৯৭২ সালে কোটা চালু করেছিলেন উপহার হিসেবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যার পর এই কোটা বাতিল করা হয়। পরবর্তী ২৪ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের এই কোটা দেওয়া হয়নি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য আবার কোটা চালু করেন। এছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়াদের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু আছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়।

সব দেশে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি তুলে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনও হয়নি। সমাজে বৈষম্য কমাতেই কোটা পদ্ধতি। তা যদি বৈষম্য তৈরি করে, তাহলে তা সংস্কার জরুরি। বর্তমানে তথ্যভিত্তিক একটি রিভিউ হতে পারে। কোন গোষ্ঠী কতটা এগিয়ে গেছে, কোন গোষ্ঠী কতটা পিছিয়ে রয়েছে এসব বিবেচনা করে কোটার অনুপাত কমিয়ে আনা যেতে পারে।’

কোটার অপব্যবহারের বিষয়ে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কোটার কতটা অপব্যবহার হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কত জনের সার্টিফিকেট ভুয়া তা দেখে একটা রিভিউ করা প্রয়োজন। এসব কারণে কোটা সংস্কার দরকার। প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা থাকতেই হবে। তা না হলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। নারীরা পিছিয়ে আছে, তাদের কোটা থাকতে হবে। তবে কত শতাংশ পাবে তা রিভিউ করতে হবে। কোটা পদ্ধতি থাকায় কিছু কর্মকর্তা, কিছু মানুষ অসৎভাবে এটির ব্যবহার করছে। তার জন্য কোটা পদ্ধতি দায়ী নয়। তবে সেটি দেখা উচিত।  তাই তথ্যভিত্তিক সংস্কার করতে হবে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহেদুল আনোয়ার লিয়ন  বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি সংস্কার না করায় আমরা নিষ্পেষিত হচ্ছি। কোটার অপব্যবহার হচ্ছে। বিগত সময়ে কোটা সংরক্ষণের কারণে ২৮তম বিসিএসে ৮১৩টি, ২৯তম বিসিএসে ৭৯২টি, ৩০তম বিসিএসে ৭৮৪টি, ৩১তম বিসিএসে ৭৭৩টি আর  ৩৫তম বিসিএসে ৩৩৮টি পদ খালিই থেকেছে। অথচ মেধাবী ছিল না তাতো নয়। আমি মনে করি, কোটা সংস্কার না হওয়ায় জনপ্রশাসন যোগ্য ও মেধাবী অনেক প্রার্থী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

শাহেদুল আনোয়ার লিয়ন আরও  বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কোটা রাখার পক্ষে সরকারের কাছে দাবি করেছি। সরকার যৌক্তিকভাবে এটি নিরূপণ করে সংস্কার করবে, আমরা সেই অপেক্ষায় রয়েছি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ পাস করা চাকরিপ্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি সংস্কার প্রয়োজন, কারণ এটার অপব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়া ৫৫ শতাংশ কোটার প্রয়োজন নেই। কোটার কারণে কিছু পদ ফাঁকা থাকলেও মেধাবীরা চাকরি পাচ্ছে না। এটি সংস্কার করে কোন কোটা কতটা থাকা প্রয়োজন তা বের করতে হবে। কোটা পদ্ধতিতে কোনও অনিয়ম করার সুযোগ থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এর সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা  বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযোদ্ধাদের এই কোটা বন্ধ করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্ন ফাস ঠেকাত‌ে সমাপন‌িতে আসস‌ে ৩ পর‌িবর্তন

১ মার্চ, ২০১৮ খ্রিঃ

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে তিনটি পরিবর্তন আনছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজি প্রেসে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। আগের চেয়ে দুই সেট বেশি প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে এবং এখন থেকে এ পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) থাকবে না। বর্তমানে পিইসি পরীক্ষার জন্য ৬ সেট প্রশ্ন ছাপানো হয় বলে জানা যায়।

২৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বরের শেষদিকে সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হয়। এ পরীক্ষা সামনে রেখে এবার ইতোমধ্যেই একটি নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে- এ বছর এই পরীক্ষার ৬টি বিষয়ের শতভাগ প্রশ্নই হবে কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে (সৃজনশীল)। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে অফিস আদেশ জারি করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এর আট দিনের মাথায় মন্ত্রণালয় পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত নিল।

সে অনুযায়ী আসন্ন পরীক্ষায় কোনো বিষয়েই এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে না। এর আগে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ২০, গণিতে ২৪, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ৫০, বিজ্ঞানে ৫০ এবং ধর্ম বিষয়ে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। এখন নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এমসিকিউয়ের পরিবর্তে সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের গোটা কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ  শিক্ষা বার্তাক‌ে  বলেন, এখনও পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটে। এছাড়া এমসিকিউ প্রশ্ন রাখা-না রাখার ব্যাপারে নানা আলোচনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নতুন এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হল। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রের নম্বর বিন্যাস ও অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেপ নেবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জীবননগর ডিগ্রী কলেজে দু’ছাত্রীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জীবননগর অফিস:
জীবননগর ডিগ্রী কলেজের দু’ছাত্রী প্রতিপক্ষ দ্বারা নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সকালে কলেজ চত্বরে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছেন। মানববন্ধনে নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করা হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনাটি গত শনিবার সকালে সংঘটিত হয়েছে।
জানা গেছে,জীবননগর পৌর এলাকার পুরাতন তেতুলিয়া গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থান কমিটি গঠন ও গোরস্থানে লাশ রাখা একটি টিনসেড নির্মাণের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দু’টি পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার দু’দফায় মারামারীর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী মধুমালা ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইসরাত জাহান বৃষ্টির ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। গ্রামের লোকজন তাদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রে ভর্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর ডিগ্রী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে হামলাকারী সাদ আহমেদ ও তার ছেলে প্রিন্সকে গ্রেফতার করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করা হয়েছে। মানববন্ধনে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান বিপ্লব তার বক্তব্যে বলেন,হামলাকারীরা বিএনপির মদদপুষ্ট। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
এ সময় জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন,ঘটনার ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহত ছাত্রী বৃষ্টির পিতা হাসানুজ্জামান বলেন,আমি শনিবার সকালে বৃষ্টিকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে তার প্রাইভেট শিক্ষকের নিকট পৌছে দিতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় সাদ আহমেদ ও তার ছেলে প্রিন্স আমাকে আমার মেয়ে বৃষ্টিকে মারপিট করে মারাত্মক ভাবে আহত করে। ঘটনায় সময় আমার নিকট থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ টাকাও তারা ছিনিয়ে নেয়। আবার এখন তারা উল্টা আমাদের নামেই মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৮তম বিসিএস: প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে এ কথা নিশ্চিত করেন।

পিএসসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ১৬ হাজার ২৮৬ জন ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁরা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

ফলাফল দেখতে ক্লিক করুন

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিসিএসের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

এর আগে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।

মোবাইলে ফলাফল পেতে PSC space 38 space রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে 16222 তে পাঠাতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের চেক ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ ফেব্রুয়ারী :স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি-২০১৮ মাসের এমপিওর (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) চেক মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছাড় হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের আটটি চেক নির্ধারিত অনুদান বন্টনকারী চারটি ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ ফেব্রুয়ারী : মিডওয়াইফ নেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং মৌলভীবাজার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা:
পদটিতে আবেদনের জন্য তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারী কোর্স উত্তীর্ণ এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারী কাউন্সিলের (বিএনএমসি) সার্টিফিকেটধারী হতে হবে। প্রার্থীকে কম্পিউটার পরিচালনা, ইমেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দক্ষ হতে হবে। ৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের পোষ্যদের সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম:  আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্র, হালনাগাদ বায়োডাটা এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি ইমেইল করতে হবে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মন্ত্রণালয়ের আকস্মিক সিদ্ধান্ত : প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ ফেব্রয়ারী : হঠাৎ করে কোনো গবেষেণা কিংবা শিক্ষাবিদদের পরামর্শ ছাড়াই প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধের অজুহাতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী অংশ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝিতে চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে পিইসি শুরুর মাত্র ৯ মাস আগে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের কথা বলছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাসিক সমন্বয় সভায় পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ বাদ দিয়ে রচনামূলক কি কি প্রশ্ন যুক্ত করা যায় সে বিষয়েও কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অথচ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চলতি বছরের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি থেকে (নেপ) চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার এমসিকিউসহ প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজের রূপরেখা সারা দেশের স্কুলগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এই আদেশ জারির মাত্র ৮ দিন পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ পদ্ধতিই বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এমন খবরে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তারা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, ৯ মাস পরে ঠিক কোন পদ্ধতিতে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ওই সভায় বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন তুলে দেয়া সমীচীন হবে এবং এ লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে বিজি প্রেসের বিকল্প আরেকটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়ে তিনি গুরুত্বরোপ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠকে পাবলিক পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ বাদ দেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ অংশ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ অংশ বাদ দেয়া হবে কিনা এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাংবাদিকের প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেয়, এটা তো জানা কথা। এখন সবার হাতে ফোন, কেউ ছবি তুলে দিতে পারে। কিন্তু আমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দেন, কেউ কি এটা দেখে উত্তর পড়ে লিখে দিতে পারবে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? তাহলে বলেন, টিক মার্কটা (এমসিকিউ) বন্ধ করে দেব? আপনারা লেখেন আমরা বন্ধ করে দেব। মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই কথাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশনা হিসেবে নিয়ে প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ অংশ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে এমসিকিউ অংশ তুলে দেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কায়কোবাদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে না পেরে এমসিকিউ পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি। সারা পৃথিবী যেখানে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয় সেখানে আমরা এটা পারছি না। কেন পারছি না? আমরা কি খারাপ জাতি? তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, এমসিকিউ বাতিলের মতো পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের দিকে গেলেও এটি নিয়ে কোনো গবেষণা কি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়? তার মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করতে হলে অনেক চিন্তাভাবনার প্রয়োজন। একটা বিষয়ে সমস্যা হলো, আর আমরা কোনো গবেষণা না করেই বাতিল করে দিলাম- এমন অস্থিরতা দিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করা যায় না। পরীক্ষা পদ্ধতি বদলাতে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২০১৯ সালের মার্চে ডাকসু নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে আমরা বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করছি। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য প্রাধ্যক্ষদের বলা হয়েছে। এ বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটিকে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটকেও মঙ্গলবার বলা হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে। হল ছাত্র সংসদ ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ করবো আমরা। এগুলো কতগুলো নিয়মনীতির মাধ্যমে হবে। সেগুলো সুশৃঙ্খলভাবে করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। সিন্ডিকেটও সম্মতি দিয়েছে। আমরাও এ বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে কাজ করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘দুশ্চিন্তার কারণ’ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি বছরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটি জানিয়েছে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো সুপারিশ করবে না তারা।

রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে কমিটির তৃতীয় এবং শেষ সভা শেষে কমিটির প্রধান সচিব মো. আলমগীর এ কথা জানিয়েছেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, গণমাধ্যমে যে সংবাদ এসেছে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। তার সমর্থনে যে কাগজপত্রগুলো দরকার সেগুলো সংগ্রহ করতে বোর্ড, বিটিআরসি এবং পুলিশকে বলেছিলাম। তারা কিছু কিছু কাগজপত্র আমাদের দেখিয়েছে। আরো কিছু কাগজ পুলিশের কাছে চেয়েছি। আজকেই শেষ মিটিং।

‘সুপারিশগুলো গোপনীয়, আপনারা জানেন- সুপারিশ সব সময় গোপন থাকে। আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ দেওয়ার পর তারা পর্যালোচনা করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।’

পরীক্ষা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই সুপারিশ করবো, সরকারও স্বার্থের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

‘এই শিক্ষার্থীরা কারা, এরা তো আমাদেরই সন্তান, আমাদের দেশের সন্তান। আমরা এমন কোনো সুপারিশ করবো না যেটা তাদের জন্য ক্ষতি হবে। আর সরকারও এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে তাদের জন্য কষ্ট হয়। সবারটাই দেখতে হবে।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সভা শেষে মো. আলমগীর বলেছিলেন, একটি বিষয়ের পুরোপুরি এবং কয়েকটি বিষয়ের আংশিক প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

ওই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যেটা দেখেছি কোনো পরীক্ষায় ডিটেইলস ফাঁস হয়নি। গণমাধ্যমে যেটা এসেছে, আমরা দেখেছি কিছু কিছু অবজেকটিভ হয়েছে। এছাড়া আর হয়নি।

পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনা আছে কিনা- এ বিষয়ে সচিব বলেন, এটা তো গোপন জিনিস। পরীক্ষা তো একটা না, ১২টা। অতএব ১২টির ১২ রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তবে তিনি বলেন, বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে, তবে কয়টার করা হবে তা এখন বলা যাবে না।

পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ থাকলো কিনা- এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, তাদের বলে দিই, তারা যেন কোনো উদ্বেগে না থাকে। তারা আমাদেরই সন্তান, তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমরা সুপারিশ করবো। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা জাতির স্বার্থে নেওয়া হবে।

‘ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাবেন, দুশ্চিন্তার কোন কারণ নাই। সরকার কিন্তু জনগণের সুখ-শান্তির জন্য, উদ্বেগর জন্য নয়। উদ্বিগ্ন রাখতে পারে অন্যরা।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাতিল হবে সেটাও বলবো না, হবে না সেটাও বলবো না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বিটিআরসি প্রতিনিধি, আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি কমিটি রয়েছেন।

আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে জানান সচিব মো. আলমগীর। তথ্যসূত্র : বাংলানিউজ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুলের দ্বিগুণ পাঠ্যবই মাদরাসায়

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর জন্য সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যবই তিনটি। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। অপর দিকে মাদরাসায় প্রথম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলের এ তিনটি পাঠ্যবই ছাড়াও আরো তিনটি বই পড়তে হচ্ছে। এগুলো হলো কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং আদ্ দুরুসুল আরাবিয়্যাহ্ বা আরবি শিক্ষা। অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর দ্বিগুণ পাঠ্যবইয়ের বোঝা বইতে হয় একজন খুদে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে।

তবে প্রথম শ্রেণীতে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের স্কুলের তুলনায় দ্বিগুণ বই পড়তে হলেও উপরের দিকে একটু কম। যেমন প্রাথমিকে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীতে সরকারি বাধ্যতামূলক বই মোট ছয়টি। অপর দিকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এসব শ্রেণীতে অধ্যয়ন করতে হয় আটটি করে বই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণীতে বাধ্যতামূলক বইগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। মাদরাসায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলের পাঁচটি বই বাধ্যতামূলক হিসেবে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। এর সাথে রয়েছে মাদরাসার তিনটি বই যথা কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং আরবি শিক্ষা।

মাদরাসায় কুরআন, হাদিস, আকাইদ, ফিকহ প্রভৃতি ধর্মীয় বিষয়ের পাশপাশি একসময় বাংলা ইংরেজি গণিতও পড়ানো হতো স্বল্প পরিসরে। তবে সেসব বই রচিত হতো ধর্মীয় আঙ্গিকে। কিন্তু ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে স্কুল ও মাদরাসায় বাধ্যতামূলক বিষয়গুলো হবে এক ও অভিন্ন। বর্তমানে স্কুলের যেসব বই মাদরাসায় বাধ্যতামূলক হিসেবে পাঠ্য করা হয়েছে সেসব বইয়ে পার্থক্য শুধু কিছু ছবিতে। যেমন স্কুলের বইয়ে ছেলেদের মাথায় টুপি নেই। মাদরাসার বইয়ে ছেলেদের মাথায় টুপি রয়েছে। এভাবে বইয়ের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে, নারী ও পুরুষের পোশাকের কিছু পার্থক্য ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই।

২০১০ সালে পাস হওয়া শিক্ষানীতিতে মাদরাসা শিক্ষার কৌশল বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে শিক্ষার অন্যান্য ধারার সাথে সমন্বয় রেখে ইবতেদায়ি পর্যায়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়গুলো অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, গণিত, নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সামাজিক পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা হবে। দাখিলপর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক থাকবে।

অন্যান্য ধারার মতো একই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির মাধ্যমে ইবতেদায়ি ও দাখিলপর্যায়ে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হবে।

মাদরাসার শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে এক সময় এক শ’ নম্বর করে বাংলা ও ইংরেজি ছিল। কিন্তু এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি হতে বাধা আরোপ করায় মাদরাসা বোর্ড এসএসসি ও এইসএসসিতে দুই শ’ নম্বর করে বাংলা ও ইংরেজি বিষয় বাধ্যতামূলক করতে বাধ্য হয়। এভাবেও মাদরাসায় বইয়ের সংখ্যা বাড়ে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদরাসায় প্রাথমিক স্তরে যেমন শ্রেণিভেদে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি বই পড়তে হয়, তেমনি ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে এইচএসসি পর্যন্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কলেজের তুলনায় চার-পাঁচটি করে বই বেশি পড়তে হয় শ্রেণিভেদে। যেমন এসএসসিতে বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে ১১শ’ ৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। অপর দিকে দাখিলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এক হাজার চারশ’ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়।

মাদরাসার শিক্ষার্থীদের এ অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন মাদরাসার অধ্যক্ষ, মাদরাসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ফোরামসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে উত্থাপন করে আসছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণীর মাদরাসার ছয় থেকে সাত বছর বয়সী একটি শিশুকে বোর্ডের ছয়টি বাধ্যতামূলক বিষয় অধ্যয়ন খুবই পীড়াদায়ক হিসেবে মনে করেন অনেকে। বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, কিন্ডার গার্টেনে সরকার নির্ধারিত তিনটি বইয়ের পাশাপাশি আরো বিভিন্ন বই পড়ানো হয়। তবে সাধারণত সে বইগলো হয় ছবি আঁকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক। কিন্তু মাদরাসায় প্রথম শ্রেণীতে বাধ্যতামূলক ছয়টি বইই বোর্ডের।

মাদরাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের নামে স্কুলের তথা সাধারণ শিক্ষার বিভিন্ন বই বাধ্যতামূলক করা, মাদরাসা শিক্ষার সংস্কারকরণ, মাদরাসায় ধর্মীয় বই কমিয়ে তার স্থলে সাধারণ শিক্ষার বই বাধ্যতামূলক করার নীতি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিতর্ক এবং সমালোচনা চলে আসছে। এসব প্রেক্ষাপটে আলিয়া মাদরাসার ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনেকে অনেক ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। অনেকের মতে মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাব কমিয়ে আনাই মূলত এসব সংস্কারের লক্ষ্য। অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন এক সময় সংস্কার করতে করতে নিউস্কিম মাদরাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। ফলে ১৯৫৭ সালে নিউস্কিম জুনিয়র ও হাই মাদরাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলে এবং ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলোকে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে রূপান্তর করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে আলিয়া মাদরাসায় সংস্কারের নামে যেভাবে সাধারণ শিক্ষার বিষয় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে তাতে একদিন আলিয়া মাদরাসারও ভবিষ্যৎ নিউস্কিম মাদরাসার মতো হতে পারে। অনেক শিক্ষকের মতে এক দিকে আলিয়া মাদরাসার ধর্মীয় পার্থক্য কমে আসছে, অপর দিকে বইয়ের বোঝা বাড়ছে দিন দিন। এতে করে অভিভাবকরা আলিয়া মাদরাসার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তবে এর বিপরীত মত দিয়ে অনেক শিক্ষক বলেছেন, ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি মাদরাসায় স্কুলের সাধারণ শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকায় অনেকের আবার আগ্রহ বাড়ছে। তা ছাড়া অধিক বিষয় পড়ার কারণে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকায় বারবার মাদরাসার শিক্ষার্থীদের স্থান করে নেয়া তার প্রমাণ। মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মাদরাসার শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য সত্ত্বেও আলিয়া মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা দূর হচ্ছে না অনেকের। বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন জাফরী বলেন, মাদরাসায় যখন ১০০ নম্বরের বাংলা ও ইংরেজি পড়ানো হতো তখনো তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ভালো বিষয়ে চান্স পেত স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে। তারা আগেও যোগ্য ছিল।

মাদরাসায় সাধারণ শিক্ষার অধিক বই পাঠ্য করা এবং মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয় এটা তো শিক্ষার অন্যতম বিষয়। কিন্তু তা মানা হচ্ছে কই? আমি সাধারণ শিক্ষার বিষয়ের বিরোধিতা না করেই বলছি এগুলো আমরা পাঠ্য করতে চাই। কিন্তু সেটা অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে হতে হবে। প্রথম শ্রেণীতে মাদরাসার তিনটি বই রয়েছে। তার সাথে স্কুলের তিনটি বই চাপিয়ে দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা শিশুদের জন্য মানসিক পীড়ার কারণ। এতে করে তারা ভেঙে পড়বে এবং মেধার বিকাশ হবে না। ফলে তারা ব্যর্থ হবে। মাদরাসার জন্য এর ফল ভালো হবে না।

তিনি বলেন, সমন্বয় করা উচিত চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করে। বিপরীতমুখী দুটি জিনিস জোর করে চাপিয়ে দেয়া সমন্বয় নয়। স্কুলের বই হুবহু চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এটা মেনে নেয়া যায় না। মাদরাসার বই মাদরাসার আঙ্গিকেই রচনা করা উচিত। কিন্তু তা না করে এখন আধুনিকায়নের নামে যা হচ্ছে তাতে সোনার পাথর বাটি হওয়ার অবস্থা হয়েছে।

মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য রক্ষার প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসার বই পুরোপুরি ঠিক রেখে শিশুদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার বিষয় সংযোজন করা দরকার। তা না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতির মুখে পড়বে মাদরাসা শিক্ষা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, মাদরাসায় স্কুলের বিষয় বাধ্যতামূলক করার পেছনে ধর্মের প্রভাব কমিয়ে আনার যে অভিযোগ এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে তার সাথে আমিও একমত। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যদি চায় বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনবে সে ক্ষেত্রে তো তারা স্কুলের বই কমাতে পারবে না, কমাবে মাদরাসার বই।
অনেকের মতে স্কুলের এত বই পড়তে গিয়ে সাধারণভাবে তারা ধর্মীয় বিষয়ে আর আগের মতো মনোযোগী হতে পারবে না। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন চাপে পড়েছে তেমনি অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে শিক্ষকদেরও।

২০০৯ সালের খসড়া শিক্ষানীতি ও মাদরাসা শিক্ষা : ২০০৯ সালে খসড়া শিক্ষানীতিতে মাদরাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের নামে মাদরাসার ধর্মীয় বিষয় ব্যাপকভাবে বাদ দিয়ে তার স্থলে সাধারণ শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়। এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নামেন সারা দেশের মাদরাসা শিক্ষকেরা।

মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কুরআন, হাদিস ও ফিকাহ বাধ্যতামূলক। খসড়ানীতিতে এসব বিষয় উঠিয়ে দিয়ে ৬০০ নম্বরের বাংলা, ইংরেজি , গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামলূক করা হয়। কুরআন ও তাজবিদ, আকাইদ ও ফিকাহ এবং আরবি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়।

তখন মাদরাসায় পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ৪০০ নম্বরের ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল। খসড়া নীতিতে প্রতি ক্লাসে ৩০০ নম্বর করে ইসলামি শিক্ষা কমিয়ে দেয়া হয়।

২০০৯ সালে যখন খসড়া শিক্ষানীতি প্রকাশ করা হয় তখন দাখিলে ৫০০ নম্বরের ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক । খসড়া নীতিতে রাখা হয় ৩০০ নম্বর। আলিমে মানবিক বিভাগে ৭০০ নম্বরের ইসলামি শিক্ষা বর্তমানে বাধ্যতামূলক ছিল। খসড়া নীতিতে রাখা হয় মাত্র ২০০ নম্বর। আলিমে বিজ্ঞান বিভাগে ৪০০ নম্বরের ইসলাম ধর্ম রয়েছে বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিতে আলিম বিজ্ঞান বিভাগে বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে মাত্র ২০০ নম্বর।

মাদরাসায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ২০০ নম্বরের আরবি পড়ানো হয়। খসড়া নীতিতে তা কমিয়ে ১০০ করা হয। মাদরাসায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক কুরআন, হাদিস ও ফিকাহ বাদ দিয়ে ৮০০ নম্বরের সাধারণ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে শিক্ষানীতিতে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সাধারণ বিজ্ঞান, কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা।

মাদরাসায় তখন বাংলা, ইংরেজি এবং অন্যান্য যেসব সাধারণ বিষয় পড়ানো হতো তা ধর্মীয় শিক্ষার সাথে মিল রেখে প্রণীত। স্কুলের বাংলা বইয়ের সাথে মাদরাসার বাংলার পার্থক্য ছিল ।
২০১০ সালে পাস হওয়া শিক্ষানীতির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে স্কুল ও মাদরাসায় বাধ্যতামূলক বিষয়গুলো হবে এক ও অভিন্ন।

এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পর ২০১০ সালে চূড়ান্ত শিক্ষানীতি প্রকাশের পর মাদরাসা শিক্ষা বিষয়ে রহস্য থেকে যায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মাদরাসার বিভিন্ন বিষয়ে মান বণ্টন অধ্যায়টি না থাকায় বিতর্কিত বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা অস্পষ্ট থেকে যায়।

খসড়া প্রতিবেদনে মাদরাসার পাঠ্যসূচি থেকে কুরআন, হাদিস, ফিকহ প্রভৃতি বিষয় কমিয়ে তার স্থলে স্কুলের সাধারণ পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসলামি শিক্ষা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু খসড়া প্রতিবেদনে স্কুলের যেসব সাধারণ বিষয় মাদরাসার সিলেবাসে বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব করা হয় সেগুলোর নাম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে।

১৭৮১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রতিষ্ঠা করে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা। এরপর ১৯১৪-১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করে নিউস্কিম মাদরাসা। এর অধীনে এক হাজার ৭৪টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা নিউস্কিম মাদরাসা নামে পরিচিত। অনেকের মতে এসব মাদরাসা সংস্কার করতে করতে এক সময় এমন অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যে, সাধারণ স্কুল-কলেজের সাথে এসব মাদরাসার পাঠ্য বিষয়ের তেমন কোনো পার্থক্য ছিল না। ফলে জুনিয়র ও হাই মাদরাসাগুলোকে স্কুল এবং ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট মাদরাসাকে এইচএসসি কলেজে পরিণত করা হয়। পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজ আজো তার সাক্ষ্য বহন করছে। এক সময় এর নাম ছিল ঢাকা হাই মাদরাসা। ১৮৭৪ সালে হাজী মুহম্মদ মুহসীন এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাদরাসায় অতিরিক্ত পাঠ্যবই নিয়ে শিশুদের কথা চিন্তা করে অনেকে যেমন মর্মাহত তেমনি অনেকে উদ্বিগ্ন মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কুলের প্রায় সব বই হুবহু চাপিয়ে দেয়ার কারণে। নয়াদিগন্ত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চিকিৎসকদের নামের পাশে এসব কিসের ডিগ্রি?

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ ফেব্রুয়ারী : দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে অনেককেই প্রেসক্রিপশন ও ভিজিটিং কার্ডে বিচিত্র সব ডিগ্রি লিখতে দেখা যায়। এর মধ্যে পিজিটি, বিএইচএস, এফআরসিপি, এফআরএইচএস, এফআইসিএ, এফআইসিএস, এফএএমএস, এফআইএজিপি’র মতো বিভিন্ন ডিগ্রি ও ট্রেনিং কোর্সও রয়েছে। এসব ডিগ্রি ও কোর্সকে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এসব ডিগ্রি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা বিএমডিসি স্বীকৃত নয়। আর এসব ডিগ্রিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ট্রেজারার ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

এর ধরনের ভুয়া ডিগ্রি রোধে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল  বিএমডিসি থেকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়ে, কোনও কোনও নিবন্ধিত চিকিৎসক/দন্তচিকিৎসক তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে পিজিটি, বিএইচএস, এফসিপিএস (পার্ট-১), (পার্ট-২), এমডি (ইনকোর্স) (পার্ট-১)-(পার্ট-২), (থিসিস পর্ব), (লাস্ট পার্ট), কোর্স কমপ্লিটেড (সিসি), এম (ইনকোর্স) (পার্ট-১)-(পার্ট-২), (থিসিস পর্ব) (লাস্ট পার্ট), কোর্স কমপ্লিটেড (সিসি) ইত্যাদি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ফেলোশিপ এবং ট্রেনিংসমূহ যেমন এফআরসিপি, এফআরএইচএস, এফআইসিএ, এফআইসিএস, এফএএমএস, এফআইএজিপি ইত্যাদি উল্লেখ করছেন, যা কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা শিক্ষাগত যোগ্যতা নয় এবং বিএমডিসি থেকে স্বীকৃত নয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি না থাকার পরও কেউ কেউ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাদের পরিচিতি দিয়ে তা প্রেসক্রিপশন প্যাড, সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করেন, যা জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণামূলক কাজ হিসেবে গণ্য। একইসঙ্গে সব নিবন্ধিত চিকিৎসক/দন্ত চিকিৎসককে বিএমডিসির স্বীকৃতিবহির্ভূত কোনও ডিগ্রি, পদবি, ফেলোশিপ, ট্রেনিং ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ স্বীকৃত পোস্ট গ্র্যাজুয়েশান ডিগ্রি না থাকার পরও নামের পর বিশেষজ্ঞ পদবি ব্যবহার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

বিএমডিসি সূত্র জানায়, বিএমডিসি স্বীকৃত দেশি ডিগ্রির বাইরে দেশের বাইরে থেকে যেসব চিকিৎসক বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রি এবং ফেলোশিপ নিয়ে আসেন, তাদের সেসব ডিগ্রি ২০১১ সাল থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এপ্রিল ও অক্টোবর দুবার এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বাইরে থেকে ফেলোশিপ করে আসা বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আসা কোনও চিকিৎসক প্রথমে তার ডিগ্রি অনুমোদনের জন্য বিএমডিসির কাছে আবেদন করেন। এরপর তার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমেই এই ডিগ্রি ব্যবহারের অনুমোদনে মেলে। বিএমডিসি নির্ধারিত ৫ সদস্যের কমিটি এই পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করে আসা চিকিৎসক পরীক্ষায় ফেল করলে তার ডিগ্রি বাতিল বলে গণ্য হয়।

বিএসএমএমইউ’র ট্রেজারার ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল বলেন, ‘বিএমডিসি স্বীকৃত ডিগ্রি দেখেই সত্যিকারের চিকিৎসক চেনা সম্ভব। বিএমডিসি এমবিবিএস এবং বিডিএস ডিগ্রিধারীদের জন্য বিএমডিসি এফসিপিএস, পিএইচডি, এমডি, এমএস, এমফিল, আর কিছু ডিপ্লোমাকে অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া যে ডিগ্রিগুলো চিকিৎসকরা তাদের নামের সঙ্গে ব্যবহার করেন, তা বেআইনি। একটা সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরাও বিডিএস আপার, লোয়ার এসব শব্দ ব্যবহার করত। এগুলো পুরোপুরি ভুয়া।’

অনুমোদসহীন ডিগ্রির ব্যবহার

 

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০-এর ২৯ (১) ধারায় ভুয়া পদবি, ডিগ্রি ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধের শাস্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোনও মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনও নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না, যার ফলে তার কোনও অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে বলে কেউ মনে করে, যদি না তা কোনও স্বীকৃত মেডিক্যাল চিকিৎসা শিক্ষাযোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা শিক্ষাযোগ্যতা হয়ে থাকে।

উপধারা (১)-এর এই বিধান কেউ লঙ্ঘন করলে তার শাস্তি হিসেবে উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি উপধারা (১)-এর বিধান লঙ্ঘন করলে, তা হবে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অপরাধ অব্যাহত থাকলে, প্রত্যেকবার পুনরাবৃত্তির জন্য কমপক্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা বর্ণিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসেবে দণ্ড পাবেন।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহেদুল হক বসুনিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশের চিকিৎসকরা তাদের নামের সঙ্গে যেসব ডিগ্রি লিখবেন, সেগুলো অবশ্যই বিএমডিসি থেকে স্বীকৃত হতে হবে। কেউ যেন অনুমোদনহীন কোনও ডিগ্রি ব্যবহার না করে এর জন্য আমরা সতর্ক করেছি। আমরা চিকিৎসকদের সচেতনতার ব্যাপারেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। অবশ্য এখন পর্যন্ত এর জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এখন নিজেদের নামের পাশে চিকিৎসকদের বাড়তি ডিগ্রি ব্যবহারের প্রবণতা অনেক কমে এসেছে। ঢাকা এবং সারাদেশের চিকিৎসকদের আমরা বিএমডিসির নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছি। কিছু সিনিয়র চিকিৎসক হয়তো এখনও এটা ব্যবহার করছেন। বহু দিনের অভ্যাস তো, বদলাতে সময় লাগে। তবে আমার বিশ্বাস, চিকিৎসকদের সচেতনতার কারণে বাড়তি ডিগ্রি আর ব্যবহৃত হবে না।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail