Author Archives: chief editor

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না হৃদয় সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এক মা প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে নিয়ে কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাড়া জাগানো এই ছবিটি হয়তো আপনাকে মুগ্ধ করেছে।

যেখানে ফুটে উঠে এক অদম্য মায়ের তার প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, সেই সন্তানের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, বিধির কারণে সেখানে পড়া আটকে গেছে সেই ছেলেটির- হৃদয় সরকারের।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের খ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়ে হৃদয়ের সিরিয়াল ৩ হাজার ৭৪০। যদিও এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ২ হাজার ৩৮৩টি। সেখানে প্রতিবন্ধী কোটার আসন খালি রয়েছে।

প্রতিবন্ধী হিসাবে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে তালিকাভুক্তির সনদ গ্রহণ করেছেন ‘সেরিব্রালপালসি’তে আক্রান্ত হৃদয় সরকার, যিনি ছোটবেলা থেকেই হাটতে বা চলাফেরা করতে পারেন না।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটার ফর্ম সংগ্রহ করতে গেলে তাকে জানানো হয়, তিনি ওই কোটার মধ্যে পড়েন না।

হৃদয় সরকার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, আমার বাবা-মা যখন ফর্ম আনতে গেলেন, তখন তাদের বলা হয়েছে, আমি নাকি কোটার মধ্যে পড়িনা। এরপরে আমরা ডীন স্যার আর ভিসি স্যারের কাছেও গেলাম। তারাও বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির কারণে আমার কোটায় ভর্তির সুযোগ নেই।”

মা সীমা সরকারের স্বপ্ন ছিল, তার প্রতিবন্ধী সন্তান একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে
মা সীমা সরকারের স্বপ্ন ছিল, তার প্রতিবন্ধী সন্তান একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পরে হৃদয় সরকারের মা বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, সে ভর্তি হলে তারা স্বপরিবারে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় চলে আসবেন।

”তাকে নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবো। যেন আমি বেঁচে না থাকলেও তার চলতে কষ্ট না হয়।” তিনি বলেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে প্রতিবন্ধী কোটায় শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী-এই তিন ধরণের প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কোটা প্রযোজ্য হবে। এখানে শারিরিক বা অন্য কোন ধরণের প্রতিবন্ধীরা কোটায় ভর্তি হতে পারবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন ও ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক আবু মো দেলোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। কিন্তু কোটায় ভর্তি হতে পারেন শুধুমাত্র বাক, শ্রবণ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। এর বাইরের প্রতিবন্ধীদের আমাদের নেয়ার সুযোগ নেই।”

হৃদয় সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” তার সঙ্গে আমাদের তো কোন বিরোধ নেই। কিন্তু বিধির কারণেই সে কোটার আওতায় পড়ছে না।”

গত ২১শে সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ওই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যাতে ৩৩হাজার ৮৯৭জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৭৪৭জন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

তার স্বজনরা জানান, আজ সকালে ধানমন্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাচ্চুর সংগীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠের প্রথম গান- ‘হারানো বিকেলের গল্প’। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তার জীবনে সফলতা বয়ে না আনলেও ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ তার জীবনে সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ড গঠনের পর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়।

১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে।

একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়।

‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ তার বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনও প্রকাশিত। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।

ছয় বছর পর ২০১৫ সালে তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প বাজারে আসে।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স ও জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। ঢাকার মগবাজারে ‘এবি কিচেন’ নামে তার নিজস্ব একটি মিউজিক স্টুডিও রয়েছে।

আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে যে কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তার মধ্যে এই গানটি অন্যতম। লিখেছেন জনপ্রিয় গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী।

এ ছাড়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ‘সেই তুমি’, ‘সে তারা ভরা রাতে’, ‘সুখের পৃথিবী’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘আমি বারো মাস তোমার আশাই আছি’, ‘মেয়ে’, ‘আম্মাজান’।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরি পদে নিয়োগ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরি পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর উপসচিব নাজমা শেখ স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ আদেম জারী করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিশ্ব জুড়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিপর্যস্ত হতে পারে ইন্টারনেট পরিষেবা!

সংবাদ সংস্থা,নয়াদিল্লি|১২ অক্টোবর:

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হবে। কি ডোমেন সার্ভারের রুটিন মেরামতের কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে বলে এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে রাশিয়া টুডে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে ওয়েব পেজ খোলায় সমস্যা হবে, ব্যাহত হতে পারে ইন্টারনেটের সঙ্গে জড়িত সমস্ত রকম লেনদেনও। এমনকি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধও হয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

রাশিয়া টুডে-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দি ইন্টারনেট কর্পোরেশন অব অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন) এই মেরামতির কাজ করবে। ইন্টারনেটের অ্যাড্রেস বুক বা ডোমেন নেম সিস্টেম(ডিএনএস)-কে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কি’ রয়েছে তা বদলানোর কাজ চলবে এই সময়ে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত?

আইসিএএনএন জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে ভাবে সাইবার হানা বাড়ছে, হ্যাকারদের কবল থেকে ইন্টারনেটকে সুরক্ষিত রাখতেই এই ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কি’ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিউনিকেশনস রেগুলেটরি অথরিটি(সিআরএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিএনএস-কে আরও সুরক্ষিত করতে এই সময়ের জন্য বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। সিআরএ আরও জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক অপারেটরস বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার-রা (আইএসপি) যদি এই অবস্থার জন্য প্রস্তুতি না নেয় তা হলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তবে সিস্টেম সিকিউরিটি এক্সটেনশন-কে যদি যথাযথ ভাবে সক্রিয় রাখা যায়, তা হলে কিছুটা হলেও এর প্রভাব আটকানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সিআরএ। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। শাট ডাউন মানেই যে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এনজিওর ঋণ পরিশোধে সন্তান বিক্রি

মো. দ্বীন ইসলাম। পেশায় জেলে। স্ত্রী কুলছুমা বেগম ও ৪ মেয়েকে নিয়ে থাকেন চাঁদপুরের মাদ্রাসা রোড এলাকায়। হতদরিদ্র ওই দম্পতি এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। উপায় না পেয়ে গত সোমবার তাদের নবজাতক কন্যা সন্তান হাফসাকে বিক্রি করে দেন মাত্র ৩০ হাজার টাকায়। এদিকে একই এলাকার নিঃসন্তান দম্পতি সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম হাফসাকে পেয়ে বেজায় খুশি। তারা নতুন করে শিশুটির নাম রেখেছেন মরিয়ম আকতার ফাতিমা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় চতুর্থ কন্যা সন্তান জন্ম দেন কুলছুমা বেগম। নাম রাখেন হাফসা। চতুর্থবার কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী দ্বীন ইসলাম খুশি ছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন। একদিকে চার কন্যা সন্তান অপর দিকে ঋণের ৭০ হাজার টাকা। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন কুলছুমা ও দ্বীন ইসলাম দম্পতির কাছে। বোনকে বিক্রির কথা স্বীকার করে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া বড় বোন লাবনী আক্তার বলে, ‘আর বইনেরে দিয়া দিছে। এক কাগজে নাম লিখে আর বাপ-মা, নানু ও মামা দিয়া দিছে। আর তারা আমাগোরে ত্রিশ হাজার টাকা দিছে।’ বিষয়টি স্বীকার করেছেন লাবনীর মা কুলছুমা বেগম। তিনি জানান, যেহেতু সন্তান মানুষ করার সাধ্য নেই; অন্তত সন্তান বেঁচে থাকুক এমন আশা থেকেই বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু টাকাও পেয়েছি। কী করব? এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। ঘরে তিন মেয়ে আছে। এনজিও ‘আশা’ থেকে ৭০ হাজার টাকা লোন নিয়েছি। সব মিলিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই দিয়ে দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে নবজাতক মেয়েটির নতুন মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার নিজের সন্তান নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক কেনার চেষ্টা করছিলাম। নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করবেন বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানকে অবগত করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঠান্ডা-সর্দি দূরে রাখার ৫ উপায়

আবহাওয়া বদলের বিষয়টি নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন। এর সঙ্গে ঠান্ডা ও সর্দির প্রকোপ বেড়ে যায়। ঠান্ডা লাগা ও সর্দি থেকে দূরে থাকতে আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে। অনেকের ধারণা, বেশিক্ষণ ঠান্ডায় থাকলে বা পানিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগে, সর্দি হয়। যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস, তথাপি বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে ভাইরাসের আক্রমণকে সহজ করে। ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশির শুরুতে গলা ব্যথা করে, গলায় খুসখুস ভাব দেখা দেয়, নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি আসে। ক্রমান্বয়ে মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। হালকা জ্বর ও শুকনা কাশিও হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৫টি নিয়ম মানলে সর্দি-কাশি আপনার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না। জেনে নিন উপায়গুলো:

প্রচুর ভিটামিন ডি
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ভিটামিন ডির অভাব হয়, তাদের সর্দি-কাশিতে কাবু করে বেশি। শরীরে ভিটামিন ডি থাকলে তা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। অনেক সময় শুধু খাবার থেকে যথেষ্ট ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত। এর বাইরে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে থাকা লাগতে পারে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন কেউ যদি অন্তত ৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যালোক গায়ে মাখে, তবে তা যথেষ্ট।

হাত পরিষ্কার রাখুন
আপনি অনেক সময় মুখে হাত দেন। ২০১৬ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৬ বার মুখে হাত দেন। মুখে হাত দেওয়ার পাশাপাশি হাতে অনেক জিনিস ধরা হয়। এতে হাত থেকে মুখে সহজেই ভাইরাস যেতে পারে। সেখান থেকে মুখে বা শরীরে ভাইরাস যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাই পরিষ্কার করে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান ব্যবহার করে নিয়মিত হাত ধুয়ে নেবেন। তাহলে ঠান্ডা লাগা কমবে।

ফোন পরিষ্কার রাখুন
এখন প্রায় সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে। একবার চিন্তা করে দেখুন, আপনার ফোন কোথায় কোথায় রাখেন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, টয়লেট সিটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি জীবাণু থাকে মোবাইল ফোনে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের পর্দায় থাকা এসব জীবাণু ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এসব জীবাণু থেকে সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

জিংক গ্রহণ করুন
শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে ভাইরাসের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাই শরীরে জিংকের ঘাটতি হতে দেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে জিংক ট্যাব খেতে পারেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ মো. শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, আমাদের শরীরে তিন শর বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। গরু ও ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য, শিমজাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ও ঝিনুকে জিংক পাওয়া যায়।

দই খান
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দরকারি কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ইন স্পোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, যেসব রাগবি খেলোয়াড় সম্পূরক খাবার হিসেবে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় কম সর্দি–কাশি ও পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে দই দারুণ কার্যকর। প্রোবায়োটিকস গ্রহণকারীদের সর্দি-কাশি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না বলেই গবেষণায় দেখা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিন্ন রেজিস্ট্রেশনে সব বোর্ড পরীক্ষা

সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একজন শিক্ষার্থীর একটিমাত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে। প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত সব বোর্ড পরীক্ষায় থাকবে এই একই নম্বর। আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ সফটওয়্যার। এতে প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে সংশ্নিষ্ট শিক্ষার্থীর বিস্তারিত একাডেমিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, অভিন্ন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা গেলে স্কুল-কলেজে অনিয়ম কমবে। সরকারি বৃত্তি পেতে অথবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা কমে যাবে। আবার দুর্নীতি-অনিয়ম করে আসনের বেশি ভর্তি করিয়ে সরকারি কাগজপত্রে শিক্ষার্থী কম দেখানোর সুযোগও কমে যাবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর রেজিস্ট্রেশন রিপ্লেস জালিয়াতিও চিরতরে বন্ধ হবে। পাশাপাশি জানা যাবে, বিভিন্ন স্তরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা।

২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই এ পদ্ধতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানুয়ারিতে ভর্তি শেষ হওয়ার পর পঞ্চম, অষ্টম, নবম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই অভিন্ন রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। সরকারি হিসেবে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থী হবে চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার। নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর করতে এরই মধ্যে একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে এ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো’কে (ব্যানবেইস) এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে ভিন্ন ভিন্ন রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এতে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন এবং রোল নম্বরও ভিন্ন হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত তথ্য বের করা জটিল হয়ে পড়ে। নতুন পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সমাপনীর রেজিস্ট্রশন নম্বর তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে সব পরীক্ষায় অংশ নেবে ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উপযুক্ত একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে ব্যানবেইস।

এ বিষয়ে ব্যানবেইসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফসিউল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘আগামী ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব পরীক্ষা একটিমাত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত বৃত্তির টাকা, তাদের জন্য সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ- এর সবই হবে এই একটি মাত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘একজন ছাত্র ও ছাত্রীকে ‘ডিজিটালি’ চেনা হবে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে। এ জন্য ব্যানবেইসে একটি ডাটাবেস গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর ফলে কোন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে চলে গেল, কে ঝরে গেল, কে মাদ্রাসায় ভর্তি হলো, কে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হলো, কে পরীক্ষা ড্রপ করল, সবই রেজিস্ট্রেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যাবে। শিক্ষার্থীর একাডেমিক পারফরম্যান্সের সব তথ্য এ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতেই পাওয়া যাবে।’

ব্যানবেইস সূত্র জানায়, কেবল ছাত্রছাত্রীদের জন্য নয়, শিক্ষকদের জন্যও একটি পৃথক তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেস) গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জন্য পৃথক আরেকটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে এই তথ্যভাণ্ডারের ‘ইন্টিগ্রিটি কানেকটিভিটি’ থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের দাপ্তরিক প্রয়োজনে এই তথ্যভাণ্ডারের তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার সমকালকে বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে সব শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে একটি ‘ইন্টিগ্রিটি কানেটিভিটি’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে কোনো শিক্ষকের সনদ জাল কি-না, ডিআইএ তা সহজেই যাচাই করতে পারবেন। এ ছাড়া সংশ্নিষ্ট শিক্ষকের নিয়োগ সংশ্নিষ্ট তথ্যাদি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, এমপিওভুক্তিজনিত বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি সব একসঙ্গে এক জায়গায় পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আগে এসব যাচাই করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি করতে হতো। নতুন এ প্রক্রিয়ায় যে কোনো তদন্ত ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমবে।

সরকারের নতুন এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সমকালকে বলেন- কিশোর, তরুণ-তরুণী সবার সব একাডেমিক তথ্য একটিমাত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রেস করে এক জায়গায় পাওয়া যাবে- এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে পরামর্শ হলো, এ প্রক্রিয়ার কারিগরি ত্রুটির দিকে যেন গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখা হয় এবং ডাটাবেইসে সঠিক তথ্য সন্নিবেশ করতে যেন আন্তরিকতা দেখানো হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করণ হলো আরো ১৯ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১অক্টোবর:   নতুন করে আরো ১৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণের আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

সর্বশেষ ৯ অক্টোবর ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। এ নিয়ে সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়ে গেলো।

বৃহস্পতিবার সরকারি হওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রানীনগর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, একই জেলার মান্দা উপজেলার গোটহাড়ী শহীদ মামুন হাই স্কুল ও কলেজ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের শাহজাদপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

এছাড়া বরগুনার বামনা উপজেলার সারওয়ার জান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া বিহারী লাল পাইলট (মডেল) উচ্চ বিদ্যালয়, শেরপুরের নকলা উপজেলার নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, একই জেলার ঝিনাইাগাতী উপজেলার ঝিনাইগাতী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পিরোজপুরের নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠী) স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া পাইলট মডেল হাইস্কুল।

দিনাজপুরের বেচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পাইলট মডেল উচ্চ হাইস্কুল, টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার সখীপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মনোহরদী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সিংগাইর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী হাবিবুলাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর পিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি হওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অন্য স্থানে বদলি হতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৯ অক্টোবর ২৫টি, ২৭ সেপ্টেম্বর ২৫টি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৪৩টি, ১৬ সেপ্টেম্বর একটি, গত ১৪ মে ৪৪টি, ২৮ আগস্ট ১২টি, ৭ মে ১২টি, ২১ মে ২৪টি, গত ১১ এপ্রিল ২১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অক্টোবরে হচ্ছে না প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১ অক্টোবর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রেকর্ড সংখ্যক আবেদন হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষার আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, পরীক্ষার সময়সূচি, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আসন বিন্যাসের পদ্ধতি উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হলেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।

সভায় উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মনজুর কাদির বুধবার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু এবার ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছে, সেহেতু আমাদের বড় ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পূর্বের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা। এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকবেন। পরীক্ষার পরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়াতে এবার উপজেলা সদরের পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র বৃদ্ধি ও পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সময় নির্ধারণ করবে। এরপর নিয়োগ পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে যদি সব জেলায় একসঙ্গে কেন্দ্র খালি না পাওয়া যায় তবে, কয়েকটি জেলায় সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে বলেও জানান মনজুর কাদির।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও প্রশ্নফাঁস রোধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি-৪) আওতাভুক্ত ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। সারাদেশ থেকে মোট ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন এসেছে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই

ডেস্ক,১০ অক্টোবর:দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণের প্রতীক্ষার পালা। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে যাবে আর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে ঝকঝকে নতুন পাঠ্যবই নিয়ে। আগামী শিক্ষা বছরের জন্য ৩৫ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ১১ কোটি বই ছাপা হয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে গেছে। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার বইয়ের মুদ্রণ কাজ এগিয়ে আনা হয়েছে। বই ছাপানোর সর্বশেষ দিন ধরা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মাতুয়াইলে ৩টি প্রেসে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম পরিদর্শন বরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে। ২০১০ সাল থেকে নববর্ষের উপহার হিসেবে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নতুন বই দেয়া হচ্ছে। এবারো এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, ৩৫ কোটির বেশি পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। প্রায় ১১ কোটি বই ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই জেলা-উপজেলায় বই পাঠানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে। এবার ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই এবং ৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজ ভাষায় বই ছাপা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার বইয়ের ছাপার মান অনেক ভালো হয়েছে। বইয়ের মান প্রতি বছরই উন্নত হচ্ছে। ছাপার কাজ বাকি নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বছর সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে বই পাবে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সদস্য ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যবই। প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৬ লাখ ১ হাজার ৫২১ কপি বই ছাপিয়ে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ২০ কপি। প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৯ কপি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বই ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৪ কপি, ইবতেদায়ির ২ কোটি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ২৮৩ কপি এবং দাখিলের ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৪ কপি বই।

মাধ্যমিক (বাংলা সংস্করণের) স্তরের ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ১২২ কপি এবং একই স্তরের ইংরেজি ভার্সনের ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬ কপি বই ছাপা হচ্ছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা স্তরের ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৮ কপি, এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৫ কপি, ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ৫ হাজার ৮৫৭ কপি এবং সম্পূরক কৃষি (ষষ্ঠ-নবম) স্তরের ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ কপি বই ছাপা হচ্ছে।

এসব বই ছাপাতে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০০ ছাপাখানার সঙ্গে চুক্তি করে কার্যাদেশ দিয়েছে এনসিটিবি। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ২টি ভারতের ‘কৃষ্ণা ট্রেডার্স’ ও ‘স্বপ্না প্রিন্টার্স’। বাকিগুলো সবই দেশের। ঢাকা ছাড়াও এবার পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে বগুড়া, রংপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর ছাপাখানা থেকে। সারাদেশের প্রায় ৪শ’ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে (প্রিন্টিং প্রেস) পাঠ্যবই ছাপা, কাটিং ও বাইন্ডিংয়ের কাজে ব্যস্ত ৯৮ হাজার মানুষ।

মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ) এবং এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করতে কাগজ ছাড়া ৩৪০টি লটে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ, ইবতেদায়ি, দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য কাগজসহ ৩২০টি লটে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

এবার ৩৫ কোটি ২২ লাখ কপি বই ছাপাতে প্রায় ৮৫ হাজার টন কাগজ ব্যবহƒত হচ্ছে। এর মধ্যে এনসিটিবি কিনে দিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টন কাগজ। বাকি কাগজ মুদ্রণকারীরা বাজার থেকে কিনে বই ছাপিয়ে সরবরাহ করছেন। এসব বই ছাপার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ১৬ হাজার ৪০০টি ট্রাক।
এনসিটিবির নিয়োগ করা ২টি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা বইয়ের মান যাচাই করছেন। প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের মান যাচাই করছে ‘কন্টিনেন্টাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের মান যাচাই করছে অপর একটি প্রতিষ্ঠান ‘ব্যুরো ভেরী টাচ’।

দেশজুড়ে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও পরিবহন কাজের তদারকি করছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ২২টি টিমের ৬৬ জন কর্মকর্তা। এর বাইরেও এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম, এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম মিলিয়ে আরো ২১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন নভেম্বরে

ঢাকা : সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। প্রথম-নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য যথাক্রমে লটারি, পরীক্ষা ও জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য সব প্রক্রিয়া ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। সে হিসেবে নভেম্বরের শেষে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। খুব শিগগিরই এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হবে। মাউশি সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিও শিটে নাম না আসায় শিক্ষকের আত্মহত্যা

সাতক্ষীরা,১০ অক্টোবর: সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় এমপিও শিটে নাম না আসায় লোকলজ্জার ভয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বিধান চন্দ্র ঘোষ (৪২) নামে এক শিক্ষক।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিষপান করলে তাকে ভর্তি করা হয়।
বিধান চন্দ্র ঘোষ তালার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাঁতী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) এবং দৌলতপুর গ্রামের মৃণাল কান্তি ঘোষের ছেলে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, বিধান চন্দ্র ঘোষ ২০০২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের মিনিস্ট্রি অডিটের সময় তার সনদ সংক্রান্ত ত্রুটি দেখা যায়। তিনি নিয়মিত বেতনও উত্তোলন করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও শিটে তার নাম না থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে লোকলজ্জার ভয়ে তিনি বিষপান করেন।

তিনি জানান, পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ডেস্ক,৭ অক্টোবর: চলতি বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে সরকারি ৩৬টি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৮জন পরীক্ষার্থী। অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে ৫০০ জনকে।

১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ৮৭ ও সর্বনিম্ন ৫৭।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) আজ (রোববার) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

৫ অক্টোবর সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীসহ সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ২৭টি ভেন্যুর ৮১৪টি কক্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী ৬৫ হাজার ৯১৯ জনের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ২৬ জন।

উল্লেখ্য, ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে নেয়া পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। ৪০ নম্বর পেয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২৪ হাজার ৯৬৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে ফল স্বল্পতম সময়ে পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে ফল জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ পুলিশের

ডেস্ক: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা সুবিধা বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের এডিসি আজিমুল হক নিজে শাহবাগে এসে এ অনুরোধ করেন। এর আগে বুধবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ৬ দফা দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমতে থাকে।রাত আড়াইটায় ভিড় কমে যায় ও ভোর ৪টার প্রায় খালি হয়ে যায়। তবে সকাল হতে হতে জনসমাগম বাড়বে বলেও জানান নেতারা।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের এডিসি আজিমুল হক শাহবাগে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বলেন, ‘রাত বলে কোনও বাঁধা দেওয়া হয়নি। দিনের বেলা রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না। ওপরের নির্দেশে এখানে আমি ছুটে এসেছি। দিনের বেলা রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না।’

এডিসির কথার জবাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা রাজপথেই থাকব। কোটা বাতিলের আন্দোলনেও রাস্তা অবরুদ্ধ ছিল।’

মেহেদীর এই কথার জবাবে এডিসির পাশে থাকা শাহবাগ থানার একজন এসআই বলেন, ‘তাহলে তাদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়েছে, আপনাদের ক্ষেত্রেও তাই হবে।’

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরি থেকে সব ধরনের কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগদান করে। রাত ৯টায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ৬ দফা দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- (১) সামাজিক মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। (২) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। (৩) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করতে হবে। (৪) মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। (৫) স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও বংশধরদের চিহ্নিত করে সরকারি সব চাকরি থেকে বহিষ্কার, নাগরিকত্ব বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত নিতে হবে। (৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বরের বেতন ছাড়

শিশির দাস,৪ অক্টোবর:বেসরকারি স্কুল ও কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ছাড় দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা ছাড় দেয়া হয়েছে। সরকারি অংশের আটটি চেকের মাধ্যমে বণ্টনকারী নির্ধারিত চারটি ব্যাংকে তা জমা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে চেকগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

৯ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক হতে বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ উত্তোলন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail