Author Archives: chief editor

কারিগরি শিক্ষকদের মে মাসের বেতনের চেক ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক |

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি(বিএম), এসএসি(ভোকেশনাল) এবং মাদ্রাসা (ভোকেশনাল ও বিএম) শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের এমপিওর (বেতন ভাতার সরকারি অংশ) চেক ছাড় হয়েছে। ১২ টি চেক অগ্রণী, জনতা, রুপালী ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয়ে/স্থানীয় কার্যালয় বৃহস্পতিবার ( ৩১ মে) হস্তান্তর করা হয়েছে। স্মারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০৯১.২০.০০৫.১৮-৪৮৩,৪৮৪,৪৮৫ ও ৪৮৬। ১৪ জুন পর্যন্ত শিক্ষকরা স্ব স্ব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন।

শিক্ষক-কর্মচারীগণ তাদের স্ব স্ব ব্যাংক একাউন্ট নম্বরের মাধ্যমে মার্চ মাসের বেতন ভাতা আগামী ১৪ জুন এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা থেকে উত্তোলন করতে পারবেন। যারা এপ্রিল মাসের বেতনের সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারেন নি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এপ্রিলের বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকায় ৩ বছরের বেশি থাকা শিক্ষকদের অন্যত্র বদলির ন‌ির্দেশ

ড‌েস্কঃ

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ঢাকার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষকেরা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন, তাদের অন্যত্র বদলি করে দিন।

 

আজ রবিবার কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর কয়েকটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বদলি সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

মামলার শুনানির একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, অনেক শিক্ষক ঢাকায় ১০-১২ বছর ধরে আছেন। এদের অনেকেই কোচিংবাণিজ্য করছেন।

 

তখন প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে বলেন, কেন? ৩ বছর পর পর তো বদলি করার কথা। তাহলে এর জন্য তো মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তর দায়ী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবির উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক সামাদ

ডেস্ক,২৭মেঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ লাভ করলেন প্রতিষ্ঠানটির সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

আজ রবিবার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডিগ্রি পাস ১ম বর্ষ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি

ডেস্ক,২৭মেঃ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুন হতে ৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন ১:৩০টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

 

পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এসব পরীক্ষা আগামী ২ জুন হতে ১৩ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশতঃ সময়সূচীসমূহ পরিবর্তন করা হয়েছে।

 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd থেকে জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা শিক্ষাবৃত্তি সঠিকভাবে বিতরণ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা,২৩ মে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শিক্ষা সহায়তা তহবিলের আওতায় সরকারের বৃত্তি ও অন্যান্য সুবিধা গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা সহায়তার সুবিধা অনলাইনে পায় সেজন্য ই-স্টাইপেন্ড ব্যবস্থা চালুর নিদের্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে তহবিলের কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা এবং ২০১৮ সালের বৃত্তি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তহবিলের সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

সম্প্রতি স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১’র সফল উৎক্ষেপণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানান তহবিলের সদস্যরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্ত হচ্ছে মাদ্রাসার ১২২৮ শিক্ষক

ডেস্ক,২৩ মে:

মাদ্রাসার আইসিটি এবং বিজ্ঞান বিষয়ের এক হাজার ২২৮ শিক্ষক এমপিওভুক্ত হচ্ছে। আজ বুধবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বৈধভাবে মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত এক হাজার ২২৮ শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়। চার শর্তে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক এবং ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বরের পরে অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা বা বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের পরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (দালিখ ও আলিম) ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ও কর্মরত এমপিওবিহীন সহকারী শিক্ষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (কম্পিটার), সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) এবং প্রভাষক (বিজ্ঞান) আলিম স্তরের শিক্ষকদের একটি তালিকা করেছে।ওই তালিকা অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহাকারী শিক্ষক এক হাজার ৫ জন, বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক ১১০ জন ও প্রভাষক (বিজ্ঞান) ১১৩ জনকে এমপিওভুক্ত করবে অধিদপ্তর। তবে তাদেরকে বকেয়া বেতনভাতা দেওয়া হবে না। এমপিওভুক্তির জন্য এসব শিক্ষককে আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর সহ্য করব না: প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কলাপাড়ায় দক্ষিণ দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালী জেলাধীন কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দক্ষিন দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১১ঘটিকায় এ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে মো.মিলন মৃধা ১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ইউপি সদস্য মো.মহিউদ্দিন বাচ্চু মোল্লা ০৩ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচন পরিচালনা করেন ধানখালী এম ইউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শাহ-আলম।
অভিভাবক সদস্য, দাতা সদস্য সহ মোট ১১টি ভোটের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা.মেহেরুননেসা নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সাংবাদিকের কন্যা উর্মি এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে

লালমনিরহাটপ্রতিনিধি : নিউজবিজয়২৪.কম-এর প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক প্রত্যাসার জেলা প্রতিনিধি ফারুক হোসেনের একমাত্র মেয়ে ইশরাত জাহান উর্মি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সে ভবিষ্যতে বিশ্বমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে চায়। উর্মির বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামে।

উর্মি এবছর এসএসসি পরীক্ষায় হাতীবান্ধা এসএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায়ও গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। তার লক্ষ্য, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হয়ে সে অসহায় নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে । উর্মি অবসর সময়ে গল্পের বই পড়ে সময় কাটায়। উর্মি বড় হয়ে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার যে আকাঙ্ক্ষা লালন করে চলেছে- তা যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয় সেজন্য উর্মির বাবাও মা সকল শুভানুধ্যায়ীর দোয়া চেয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসুদাপয় অবলম্বনের অভিযোগে ৬ জনকে জেল

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা :  গোপালগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসুদাপয় অবলম্বনের অভিযোগে ৬ জনকে জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

 

শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২শ’টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ২১ টি কেন্দ্রে ১৪ হাজার ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

 

নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ স্বর্নকলি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে শংকর দাস, শিউলি মজুমদার, কনা মল্লিক, হামিদা আক্তার. মিম বালা ও তনুজা বিশ্বাসকে বহিস্কার করে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোহসিন উদ্দিন তাদেরকে উপরোক্ত সাজা প্রদান করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব হস্তান্তরে অস্বীকৃতি : নালিতাবাড়ীতে দুই সহকারী শিক্ষকসহ তিন প্রধান শিক্ষককে শোকজ, বেতন-ভাতা বন্ধ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর)প্রতিনিধি : সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শুন্যপদে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্ব হস্তান্তরে অস্বীকৃতি প্রদান করায় কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তিনটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।
জানা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে গত ১ এপ্রিল নালিতাবাড়ী উপজেলার মোট ৩৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শুন্যপদে ৩৪জন সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব প্রদান করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। ওই আদেশ মতে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে যোগদান করতে গেলে বেশকিছু বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানান। পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বেশকিছু বিদ্যালয়ে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে পিঠাপুনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামিরাকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ চলতি দায়িত্ব প্রাপ্তদের দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এমতাবস্থায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উল্লেখিত তিনটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান (সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত) শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলম, মোঃ আমিরুল ইসলাম ও মোখলেছুর রহমান লিটনকে শৃংখলা পরিপন্থি কাজের জন্যে ‘কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’ মর্মে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং তাদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ করা হয়। একইসঙ্গে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমআর (মাসিক প্রতিবেদন) শীটে স্বাক্ষর না করায় কালিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী দুই শিক্ষক মানিক মিয়া ও রফিকুল্লাহকে একইভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানসহ তাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা জানান, গত ৩ মে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
এছাড়াও তিনি জানান, এর আগে অনিয়ম, শৃংখলা ভঙ্গ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য পিঠাপুনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু তিনি সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে উল্টো হাস্যকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘ক্লাস পরীক্ষায় খারাপ করায় কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:     রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরী এলাকার একটি ভবন থেকে সৌরভ মণ্ডল (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে সংবাদ পেয়ে তেজগাঁও থানার পুলিশ গিয়ে ভবনের পঞ্চম তলা থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল হোসেন বলেন, ‘সৌরভ তেজগাঁও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাঁর বোন দীপিকা মণ্ডল পুলিশকে জানিয়েছেন, কলেজে ক্লাস পরীক্ষায় খারাপ করায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সৌরভ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাত ১১টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই।

সৌরভের বাবার নাম সুমন্ত মণ্ডল। মণিপুরী পাড়ার ওই ভবনের ছাদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দুই ভাইবোন থাকতো।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিশ্ব স্যাটেলাইট ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক: বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ প্রবেশ করতে যাচ্ছে গৌরবময় বিশ্ব স্যাটেলাইট ক্লাবে। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যে কোনো সময় মহাকাশের পথে যাত্রা শুরু করবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়ের।

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সানসাইন স্টেট ফ্লোরিডার বিনোদন শহর হিসেবে পরিচিত অরল্যান্ডো বাংলাদেশিদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। আনন্দের বন্যা বইছে এখানকার বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত বাংলাদেশি এখন অরল্যান্ডোমুখী। তারা সাক্ষী হতে চান সেই ইতিহাসের, যা তাদের কাছে ছিল শুধুই স্বপ্নের মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং (উদ্বোধন) স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ রওনা হওয়ার কথা আজ বৃহস্পতিবার (১০ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ফ্লোরিডা থেকে এই উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এর আগে পাঁচ দফা উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন করলেও গতকাল বুধবার রাতে উৎক্ষেপণের সর্বশেষ তারিখ ও সময় বহাল রয়েছে। স্পেসএক্সের টুইটার পেজে সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ১০ মে ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে লঞ্চিং প্যাড ৩৯এ থেকে যাত্রা শুরু করবে।

ফ্লোরিডায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার সঙ্গে থাকবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উদযাপনে ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের তারিখ গতকাল বুধবার পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। সূত্র জানায়, ১০ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে ১৩ অথবা ১৪ মে ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপন অনুষ্ঠান হতে পারে। তবে তারিখ চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি সাপেক্ষে। প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন।

দীর্ঘ পথপরিক্রমা :২০০৮ সালে এ প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। দু’বছর পর ২০১০ সালে প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পায়। এ সময় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এবং বাকি টাকা সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে। তবে প্রকল্প শেষে প্রকল্প ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ ভাড়া নিতে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বাংলাদেশ কক্ষপথ বরাদ্দ পায়। যদিও আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের বরাদ্দ অনুযায়ী বাংলাদেশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে সেটি পায়নি বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চাইলে আপত্তি দেয় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। পরে ১১৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশই বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়। ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ বরাদ্দ নিতে খরচ হয় দুই কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২২৪ কোটি টাকা।

এর পরই শুরু হয় ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া। এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস, চীনের গ্রেট ওয়াল করপোরেশন, কানাডার এমডিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অরবিটাল কেটিএ। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় কানাডার এমডিএ। তবে সার্বিক কারিগরি মূল্যায়নে চূড়ান্ত করা হয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে।

একই সময়ে ফ্রান্সের থ্যালেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে চুক্তি করে ফ্রান্সেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান অ্যারিয়েন স্পেসের সঙ্গে। কিন্তু ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এরিয়েন স্পেস বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয়, তাদের পক্ষে বাংলাদেশের এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তারা জানায়, এরিয়েন স্পেস দোতলা লঞ্চিং স্টেশন থেকে একসঙ্গে দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে নিচতলায় কম ওজনের স্যাটেলাইট এবং দোতলায় বেশি ওজনের স্যাটেলাইট রাখা হয়। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট কম ওজনের হওয়ার কারণে সেটি নিচতলায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপরতলার জন্য বেশি ওজনের আর একটি স্যাটেলাইট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে এরিয়েন স্পেস এককভাবে শুধু বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। ফলে উৎক্ষেপণের জন্য নতুন কোম্পানি খুঁজতে হয় বাংলাদেশকে।

পরে ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৮০ কোটি টাকা।

যা পাবে বাংলাদেশ :বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে।

গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এর মধ্যে গাজীপুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এবং বেতবুনিয়া বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ব্যত হবে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রই। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে পৃথক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিবছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হাইকোর্টের নির্দেশে খুশি সদ্যপ্রয়াত কলেজছাত্র রাজীবের পরিবার ॥

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥
রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া পটুয়াখালীর বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়নের কৃতিসন্ত্রান ঢাকা তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের পরিবারকে ১কোটি টাকা ক্ষতিপূরন দেয়ার হাইকোর্টের নির্দেশে খুশি রাজিবের পরিবার। রায় ঘোষনার পর মঙ্গলবার দুপরে উপজেলার দাশপাড়া গ্রামের বাড়ীতে ছোট মামা মিরাজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আদালতের রায়ের আমরা খুশী।
তবে এসময়ে রাজীবের মামা মিরাজ আক্ষেপ করে বলেন, জেলা প্রশাসক থেকে চল্লিশ হাজার টাকার চেক পেয়েছে রাজীবের ছোট দুই ভাই। এরপর থেকে আর কোন সহযোগিতা করা হয়নি। এমনকি যারা অনেক কিছু প্রতিশ্রতি দিয়েছিল তাদেরকেও এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়না। রাজীবের পরিবারের পাশে এখন আর কেই নেই। বাড়ীতে দুই ভাইয়ের মাথা গোজার মতো কোন ঠাই না খাকায় রাজীবের দুই ছোট ভাইয়ের স্থান এখন ঢাকা একটি হাফেজি মাদরাসায় এতিম খানা। মাঝে মাঝে খালা জাহানারা পারভীনের বাসায় আশ্রায় নিয়ে থাকেন। ক্ষতিপুরনের এই অর্থ পেলে এতিম অসহায় ছোট দুই ভাইকে নিয়ে রাজীব যে স্বপ্ন দেখেছিল তা পুরন হবে।
উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল দুই বাস চালকের বেপরোয়া গাড়ী চালানো শিকার হন রাজীব। দুই বাসের চাপে হাতকাটা পড়ে রাজীবের। মাথায় প্রচন্ড রক্তক্ষনের ফলে ১৬ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাতে রাজীব মারা যান। মঙ্গলবার (৮মে) হাইকোটের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায়ের সময় আদালতে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ এবং তাদের খালা জাহানারা পারভীন ও মামা জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহঋণ পাবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক,০৮ মে ২০১৮:

সরকারি চাকরিজীবীরা মাত্র ৫ শতাংশ সরল সুদে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন। উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদা বা জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা ২০ বছর মেয়াদি এই ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। তবে সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে।

১০ শতাংশ সরল সুদে রাষ্ট্রায়ত্ত যেকোনো ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন থেকে এই ঋণ নেওয়া যাবে। এই ১০ শতাংশ সুদের মধ্যে ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবে সরকার। বাকি ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবেন ঋণগ্রহীতা চাকরিজীবী। নতুন এই ঋণ সুবিধা ২০১৮-১৯ অর্থবছর (আগামী ১ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সংশ্লিষ্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০১৮’-এর খসড়াটি সামান্য পরিবর্তন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে অর্থ বিভাগ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের বিধান রেখে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর নীতিমালাটি অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য তার কাছে পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণে ঋণের মাধ্যমে অর্থের জোগান দিতে এই নীতিমালা করা হলেও সরকারের আওতাধীন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও কার্যালয়গুলোতে স্থায়ী পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত বেসামরিক কর্মচারীরাও এ সুবিধা পাবেন। সামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মচারীরা এ নীতিমালার আওতাভুক্ত হবেন না। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে এ ধরনের গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এ হিসাবে সরকারের প্রায় ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা পাবেন। তারা এককভাবে এই ঋণ নিতে পারবেন। আবাসিক বাড়ি করার জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণও নেওয়া যাবে। ফ্ল্যাট কেনার জন্যও এই ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ফ্ল্যাট হতে হবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অর্থাৎ রেডি ফ্ল্যাট। অবশ্য সরকারি সংস্থার নির্মাণ করা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রেডি ফ্ল্যাটের শর্ত শিথিল করা যাবে।

নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন স্কেল ৪৩ হাজার বা এর বেশি তাঁরা প্রত্যেকে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে এর পরিমাণ হবে ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা। বেতন স্কেলের নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বা যাঁদের মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, তাঁরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৫৫ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন বা দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৪০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১৪তম থেকে ১৭তম গ্রেড বা ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা বেতন স্কেলে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৪০ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। আর ১৮তম থেকে ২০তম গ্রেড বা আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে আট হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পান, এমন কর্মচারীরা ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন ৩৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে এটি হবে ২৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য পাবেন ২০ লাখ টাকা।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নীতিমালার ৩ ধারায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতভুক্ত স্থায়ী পদে কর্মরত হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম কর্মকাল পাঁচ বছর হতে হবে। সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৮ বছর। তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু বা দুর্নীতি মামলার ক্ষেত্রে চার্জশিট দাখিল হলে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ এই ঋণ সুবিধা পাবেন না।

ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ সম্পর্কে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেতন স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ যে সিলিং সরকার নির্ধারণ করে দেবে, সেটিও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের যথাযথ পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা নির্ধারণ করবে, তার মধ্যে যেটি কম, সে পরিমাণ ঋণ পাবেন। ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার জন্য ডেট ইক্যুইটি রেশিও হবে ৯০ঃ১০। অর্থাৎ ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য কেউ নিজস্ব উদ্যোগে ১০ টাকা খরচ করলে তিনি ৯০ টাকা ঋণ পাবেন। ঋণের সুদ সম্পর্কে খসড়া নীতিমালার ৭(ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এটি হবে সরল সুদ এবং সুদের ওপর কোনো সুদ আদায় করা হবে না। ঋণগ্রহীতা কর্মচারী ব্যাংক রেটের সমহারে (বর্তমানে যা ৫ শতাংশ) সুদ পরিশোধ করবেন। সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।’

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সরকার সময়ে সময়ে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে সুদের হার পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে পুনর্নির্ধারিত সুদহার কেবল নতুন ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ঋণগ্রহীতাকে গৃহনির্মাণ ঋণ পাওয়ার জন্য প্রসেসিং ফি বা আগাম ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।

৪ ধারায় ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, এই নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো এলাকায় গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ভবনের নকশা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হতে হবে। যে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা হবে, তা সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে হবে। ঋণদানকারী ব্যাংক বা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ব্যাংকে আবেদনকারীর একটি হিসাব থাকবে। ওই হিসাবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন-ভাতা, পেনশন এবং গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয় ঋণ বিতরণ ও আদায়ের পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রেডি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের পুরো অর্থ এক কিস্তিতে ছাড় করবে ব্যাংক। গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণের টাকা চার কিস্তিতে ছাড় করা যাবে।

‘বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান’ বলতে খসড়া নীতিমালা বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মালিকানাধীন তফসিলি ব্যাংকসমূহ এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রমটি পরিচালনা করবে।’ সরকার অন্য যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার আগে যে সম্পত্তিতে ঋণ দেওয়া হবে, তা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বরাবর রেজিস্টার্ড দলিলমূলে বন্ধক রাখতে হবে। বাস্তুভিটায় বাড়ি করার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার মালিকানাধীন অন্য কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখা যাবে।

এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ২০ বছর। গৃহনির্মাণের প্রথম কিস্তি ঋণের অর্থ পাওয়ার এক বছর পর, ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ পাওয়ার ছয় মাস পর থেকে ঋণগ্রহীতা মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ শুরু করবেন। কোনো কারণে মাসিক কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে বিলম্বের জন্য আরোপযোগ্য সুদ শেষ কিস্তির সঙ্গে যুক্ত হবে। যে ব্যাংক ঋণ দেবে, সেই ব্যাংকে তাঁর মাসিক বেতনের হিসাব খুলতে হবে। তাঁর বেতন-ভাতা ওই হিসাবে জমা হবে। ব্যাংক সেখান থেকে প্রথমে মাসিক ভিত্তিতে কিস্তির টাকা কেটে নেবে। পরে ঋণগ্রহীতা বেতন-ভাতার বাকি অর্থ হিসাব থেকে তুলতে পারবেন। ঋণগ্রহীতা অন্যত্র বদলি হলে তার হিসাবও সেখানে একই ব্যাংকের কোনো শাখায় স্থানান্তর করে নেবেন। ঋণগ্রহীতা অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পিআরএল সময়কাল পর্যন্ত সরকারের দেওয়া সুদ বাবদ ভর্তুকি পাবেন। অবসর গ্রহণের পর সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। পিআরএলে যাওয়া পর্যন্ত ঋণের কিস্তি অপরিশোধিত থাকলে সুদের হার ১০ শতাংশ বহাল রেখে অবশিষ্ট ঋণ পুনর্গঠন করে নিতে পারবেন। অবসরে যাওয়ার পরও যাতে ঋণের কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ হয়, সে জন্য ঋণগ্রহীতার মাসিক পেনশনের টাকা পূর্বনির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

খসড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী ঋণ নেওয়ার পর স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লে বা বাধ্যতামূলক অবসর, বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত হলে আদেশ জারির তারিখ থেকে ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সুদ বাবদ সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। এ ক্ষেত্রে ঋণের অপরিশোধিত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পেনশন সুবিধা বা আনুতোষিক সুবিধা থেকে আদায় করা হবে। ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে তাঁর পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা থেকে যতটুকু সম্ভব ঋণ পরিশোধ করা হবে। এর পরও ঋণ পাওনা থাকলে উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে তা আদায় করা হবে।

নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত গঠিত কমিটির একজন সদস্য জানান, ১৯৮২ সালে প্রথম সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা চালু করা হয়। চাকরিজীবীদের তখনকার মূল বেতনের ৪৮ মাসের সমপরিমাণ হিসাব করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছিল, যা ৪৮টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। এরপর চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও এই ঋণসীমা বাড়েনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এটি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
hit counter