সর্বনাশের ষোলকলা : নবজাতকদের দলে আনবেন কবে?

হাসান হামিদ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার, আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি দেশের কোন রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করি। আমি সেদিন মাথা নাড়িয়ে না বলেছিলাম। আমি খুব ছোট বেলা থেকেই দেখছি, ক্লাসের যে ছেলেটি টেনেটুনে পাশ করে কিংবা একই ক্লাসে অনেক দিন ধরে পড়ে, সেই ছেলেটি রাজনৈতিক দলের সে পর্যায়ের কর্ণধার এবং অবিভাবকমহল ধরেই নিয়েছেন তাদের গুণ্ডা মার্কা ছেলেটি ধীরে ধীরে নেতা হয়ে উঠবে। আর তারপর অনেক দূর।

পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দেশের মতো রাজনীতি করে ছাত্ররা? কখনোই না। তাহলে আমাদের দেশে যারা বলেন, ছাত্ররাজনীতি দরকার তারা কী ভেবে বলেন? ছাত্র রাজনীতি দরকার, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়। আসলে আমাদের বড় বড় রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থে ও ক্ষমতার মোহে ছাত্রদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত; লজ্জাজনক সেশনজট লেগেই আছে; যে কোন মুহূর্তে আপন সন্তান লাশ হয়ে ঘরে ফেরার অজানা আশংকায় অভিভাবকরা প্রহর গুণেন। কত মেধাবী ছাত্র অকালে ঝরে পড়েছে তার হিসাব রাখে কে?
বর্তমানের ছাত্র রাজনীতি আমাদের যা দিয়েছে, নিয়েছে তার শতগুণ। আমাদের মনে আছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার মেধাবী ছাত্র আবু বকরের লাশ পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মৃত্যুর পর তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। বেঁচে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা দেশের ভালো কাজ করার অংশীদার হতে পারতেন তিনি। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিলেও কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭৪জন ছাত্র। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কোন না কোন ছাত্র সংগঠনের দখলে।
এদেশে ভর্তি বানিজ্য, সীট দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এখন লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতির স্বাতন্ত্র্যিক বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল আরেক দলের সঙ্গে অথবা একই দলের দু’গ্রুপের মধ্যে যেভাবে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় এবং যে ভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র, দা, চাইনিজ কুড়াল, কাটা রাইফেল, চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়ে, সে দৃশ্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করে। চিহ্নিত ক্রিমিনালদের লালন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেশি সংখ্যায় ক্রিমিনালদের সংগঠনে রাখতেই হবে। নিরীহ ছাত্রদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোন উন্নত দেশেতো নেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নেই। কংগ্রেস, বিজেপি, ও সি. পি. এম-এর মতো দলের নেতারা ছাত্রদের রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহারকে রীতিমত পাপ ও গর্হিত কাজ মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ পৃথিবীর বহু দেশে কোন সেশনজট নেই। নির্দিষ্ট সময়ে সেমিষ্টার শেষ করা বাধ্যতামুলক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের ছেলে মেয়েদের বিদেশী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান যাতে দুলাল-দুলালীরা নিরাপদে থাকতে পারে। হত দরিদ্র, প্রান্তিক কৃষক, ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা দলীয় রাজনীতির বলি, কারণ তাদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পড়া লেখা করা সম্ভব নয়। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্র। তাঁরা মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতেন ও যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতেন। এ ঐতিহ্য এখন আর নেই। এখন সব ধরণের নিয়োগ হয় দলীয় বিবেচনায়। ডীন, ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রভোস্ট নিয়োগে শিক্ষকদের ভোটের প্রভাব আছে। তাই শিক্ষক নিয়োগের চাইতে ভোটার নিয়োগের প্রয়াস প্রাধান্য পায়। দল নিরপেক্ষ অথবা প্রতিপক্ষ দলের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্র-ছাত্রীকে ফার্ষ্ট ক্লাস না দিয়ে নিজের দলের ক্যান্ডিডেইডকে ফার্ষ্ট ক্লাস দেওয়ার নজীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুরি ভুরি। এভাবে ফার্ষ্ট ক্লাস পাওয়া ছাত্ররাই দলীয় ছত্র ছায়ার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। এ অবস্থা বেশী দিন চলতে দেয়া যায় না। এ কলংকজনক প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। সরকার বা বিরোধীদল ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে, কারণ তাদেরকে দলীয় স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হবে। ক্ষমতায় আরোহনের সিঁড়ি হচ্ছে তাঁদের কাছে ছাত্র রাজনীতি।
আমাদের সবার মনে রাখা দরকার যে, দেশের ছাত্র জনগোষ্ঠী আমাদের সন্তান, ভাই ও আপনজন। তাদের জীবন নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। মানব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। জ্ঞানার্জনের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ছাড়া ছাত্রজীবন অর্থহীন। অর্জিত জ্ঞানের আলো নিয়েই তাকে সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ছাত্র ভবিষ্যত জীবনে কি ধরনের ব্যক্তি রূপে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার প্রস্তুতির উপর। আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলার সাধনা চলে ছাত্রজীবনে। অধ্যয়ন ও নিয়মানুবর্তিতা ছাত্র জীবনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। রীতিমত অধ্যয়ন, সৎগুণাবলী অর্জন ও কর্তব্যনিষ্ঠা ছাড়া মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তাই আমাদের উচিৎ ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে নেয়া এবং অধ্যয়নে মনোযোগী করা।
কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে কেনো রাজনৈতিক দল করবে আমি বুঝি না। একেক জন একেক ভাবে কেনো বিভক্ত হবে, আমি বুঝি না। জাতীয় কোন স্বার্থ নিয়ে এরা একসাথে আন্দোলনে নামবে, দেশের জন্য, সাধারণের দাবির জন্য সবাই এক হয়ে শ্লোগান দেবে, একসাথে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখবে, এটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দল করার নামে ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে এরা যখন একেক জন মস্ত তেলবাজ হয়, তখন এটা ভেবে আমার খারাপ লাগে খুব। মায়া হয় এদের জন্য। এরা হয়তো জানে না ইতিহাস এদের একদিন কোন জায়গায় ঠাই দেবে। সবচেয়ে বড় কথা- আমাদের জীবন খুব ছোট, এর জন্য আমাদের সত্যিকারের পথেই হাঁটা উচিত। যে পথ কারো আঁতেল বানিয়ে রাখে, নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন করে দেয়, হাস্যকর সেই নেতাগিরি বা নটিপনার জীবন একজন শিক্ষিত মার্জিত তরুণের কাছে প্রত্যাশিত নয়, কখনোই নয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০০৮ এর সংশোধন ও সংযোজন করে বর্তমান সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০০৯ পাশ করেছে তাতে নতুন ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে: “কোন ছাত্র, পেশাজীবী ও অন্যঅঙ্গ সংগঠন থাকতে পারবে না” রাখা হয়েছে। এটা একদিক দিয়ে একটা ইতিবাচক আইন বলে মনে হচ্ছে আপাত দৃষ্টিতে। যদিও এই আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতি কতটুকু প্রয়োজন সেটা চিন্তা করে দেখার প্রয়োজন এসেছে। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, অতীতের অনেক অনেক সংগ্রাম, প্রতিবাদ সর্বপ্রথমে করেছে এদেশের সচেতন ছাত্র সমাজ। সেখান থেকেই একটা প্রতিবাদী কণ্ঠ এসেছে। যেটার নিকট অতীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। তখন পুরো ছাত্রসমাজ একলক্ষ্য নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। আর স্বাধীনতার আগের প্রতিটি আন্দোলন যে ছাত্ররাই আগে শুরু করেছিল সেগুলো এখন শুধু ইতিহাস।
এখনকার ছাত্ররানীতির গুণাবলীর কাছে সেগুলো চাপা পড়েছে। আগে ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন ছিল। যার ফলে দেশের ক্রান্তিকালে তারা সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে পেরেছে। কিন্তু এখনকার চিত্র পুরোপুরি আলাদা। এখন ছাত্রনেতা মনেই হলো দুই থেকে তিন সন্তানের বাবা, বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, পেশীশক্তি, অস্ত্র-কালো টাকার ছড়াছড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। পড়াশোনার বালাই নেই। দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর আজ বেহাল দশা। যার মূলে রয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। সেটা এখন নোংরা। হল দখল, মারামারি, খুন করাই এখন তাদের কাজ। দ্বিমুখী-ত্রিমুখী গণ্ডগোলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছে। সেশনজট বাড়ছে। আরও যা হচ্ছে তা তো সবারই জানা। এই নোংরা রাজনীতি আমাদের কি দিচ্ছে? কি প্রয়োজন এটার? দেশের বৃহৎ দলের নেতারা ভেবে দেখুন, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই ছাত্ররাজনীতি (!) আমাদের কন্টিনিউ করা কি উচিত? শিক্ষাঙ্গনে এই রাজনীতির কি কোন অবদান রাখছে?
সম্প্রতি দেশের সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। আর স্কুল কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়া হয় সংগঠনটির স্কুল-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীনকে। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে সকল সাংগঠনিক ইউনিটের অন্তর্গত মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। খবরের কাগজ পড়ে জেনেছি, শুধু ছাত্রলীগ নয়— ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্কুল পর্যায়ের কমিটি আছে। আর এ রীতি চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই স্কুল কমিটি করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। কী ভয়াবহ ব্যাপার!
এটা খুব সাধারণ কথা যে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়া করা, খেলাধুলা, বিতর্ক বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা করা। এখানে তাদের রাজনীতি শেখানোর কোনো দরকার আছে? এ সিদ্ধান্তটা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য অশনিসংকেত! এই বয়স ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশের সময়, তারা রাজনীতির কি বুঝবে? পড়াশোনা বাদ দিয়ে পড়ার টেবিলে না বসে দলবাজি করবে, উচ্ছৃঙ্খল হবে, সামান্য বিষয় নিয়ে মানসিক পরিপক্কতার অভাবে মারামারি করবে, স্লোগান দিবে, ইভটিজিং করবে, না পড়েই পরীক্ষা পাশের প্রচেষ্টা চালাবে, চাঁদাবাজি করতে শিখবে, মাস্তানি করে ঘুরে বেড়াবে, সিনিয়রদের ফলো করতে গিয়ে বখে যাবে; এরকম হাজারটা নেতিবাচক দিক ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে! আর আমাদের অভিভাবকরা বসে কপাল চাপড়াবে! তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় না কোন অভিভাবক বা কেউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এরকম কোন কমিটিতে শিক্ষার্থীদের দেখতে চান।
আর রাজনীতির নামে এসব কোমলমতি ছেলেমেয়েদের অপব্যবহার করা হবে, তা বলার দরকার নেই; এটা সবাই বুঝে। এরা রাজনীতির নামে চামচামি করে এরা দেশের কি উন্নতিটা করবে তা সবাই জানে। সবগুলা তো শিখবে গুন্ডামী, ভন্ডামী আর জোচচুরি। আসলে এই দেশকে সেইসব রাজনীতিবিদরা এগিয়ে নিতে পারবেন, যারা দক্ষতা ও সততা নিয়ে একেবারে মানুষের পাশে চলে যাবেন, আর এর আগে তারা নিজেকে তৈরি করে নেবেন সব দিক দিয়ে। অবশ্যই তারা মেধাবী আর শিক্ষিত হবেন, রাজনীতি বিজ্ঞান বুঝবেন, রাষ্ট্র আর পররাষ্ট্রনীতি জানবেন, দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এরপর নিজেকে মেলে ধরবেন। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্ত বিষয়ক শিক্ষা এবং তার প্রয়োগ। বর্তমান রাজনীতি হচ্ছে একটি ভন্ড পেশা কিংবা অবৈধভাবে টাকা উপার্জন এর একটি পন্থা। রাজনীতির নামে এইসব বন্ধ হোক। তবে সত্যি কথা বলার নেতা যদি হতে পারো, তেল মেরে দলের বড়বাবুদের খুশি নয় বরং ব্যক্তিত্ব ঠিকঠাক রেখে যদি জাতীর স্বার্থে কাজ করার সাহস থাকে, তবে রাজনীতি করো, আর তবেই তুমি নেতা। নয়তো তোমার নটিপনা একদিন তোমাকেই তাড়া করবে, হয়তো মৃত্যুর আগ মুহূর্তে। সবশেষে মনে হবে জীবন কোন পথে গেছে!

হাসান হামিদ
মোবাইল ০১৭১০৬৫০০১০
গবেষক ও সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা ।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*