শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই

আগস্ট ৩০, ২০১৭:

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গুণী এই শিল্পীর ছেলে বাবু জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বাবার মৃত্যু হয়।

শনিবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে ছিলেন। তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবব্রত বণিক জানিয়েছিলেন, শনিবার রাত থেকেই আবদুল জব্বার সংজ্ঞাহীন হয়ে কোমায় আছেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার রক্তচাপ দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। শরীরের অন্য অর্গানগুলোও কাজ করছে না। তাই অবস্থা একদমই ভালো নয়।

শিল্পী আবদুল জব্বার বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের ৬২০ নম্বর কক্ষে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। চলতি বছরের ৩১ মে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখছ কভু জীবনের পরাজয়’সহ ছয় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আবদুল জব্বার। তিনি বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পদকে (১৯৯৬) ভূষিত হয়েছেন। আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালে ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাইতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভিতে (তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন) নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতে পথে-প্রান্তরে বিভিন্ন স্থানে সংগীত পরিবেশন করে যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ওই সময়ে এভাবে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশি শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পগুলোতে গান শুনিয়ে তাদের উজ্জীবিত করেছিলেন আবদুল জব্বার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*