শারদীয় দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি

শারদীয় দূর্গাপূজা আমাদের অন্তরে এমন একটা স্থান অধিকার করে নিয়েছে, যার ফলে এ পূজার নেপথ্য কাহিনী আজ কারো অজানা নয়। মা দূর্গার অন্তনির্হীত মাহাত্ম্য সপ্তশতী থেকে বিবৃত করলাম।

অসুরদের রাজা মহিষাসুর স্বর্গ আক্রমন করেছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে তার তীব্র লড়ায় চলতে লাগল এবং পরিশেষে স্বর্গের সিংহাসনচ্যুত করলেন। ইন্দ্রসহ সকল দেবতারা ছুটে গেলেন সবচেয়ে প্রাজ্ঞ্য ও জ্ঞানী,  সৃষ্টির অধিপতি ব্রহ্মার নিকট। তারা তাঁর নিকট প্রার্থনা জানালেন কেন তারা এ যুদ্ধে হারলেন তা জানতে। সাথে অসুররাজ মহিষাসুরকে কিভাবে দমন করা যায় তার পথ বাতলে দিতে অনুরোধ জানাল। ব্রহ্মার পাশেই ছিলেন প্রলয়ের অধিপতি শিব এবং পালনের অধিপতি বিষ্ণু, তারা দেবগনের এ দূরাবস্থার কথা জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। সকলের রাগের সম্মিলিত রূপ দেবী দূর্গা। সব দেবতারা তাদের অস্ত্র দেবীকে দান করলেন এবং অসুররাজকে দমনের জন্য প্রার্থনা জানালেন।

মহিষাসুরের সাথে দেবী দূর্গার তুমুল লড়ায় হল এবং যেখানে তার প্রাথমিক ছদ্মরূপ ছিল মহিষ। কিন্তু দেবীর উপর্যপুরি হামলায় টিকতে না পেরে অসুররাজ তার স্বরুপে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। স্বরুপে ফিরে আসা মাত্রই দেবী ত্রিশূল তার বুকে গেঁথে দিয়ে তাকে হত্যা করলেন।

এই প্রবল আসুরিক শক্তি ধ্বংসের পর দেবরাজ ইন্দ্র তার হারানো সিংহাসন ফিরে পেল এবং দেবতারা তাদের অসীম সাধনার স্থানে ফেরত আসল। তারা মিলিত হয়ে দেবী দূর্গার নিকট প্রার্থনা জানাল যেন তিনি সদাই তাদের সাথে থাকেন এবং সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

এরূপেই দেবী অসুরমর্দিনী হিসেবে পূজিত হন, যেখানে সিংহের পিঠে অধিষ্ঠিতা দেবী ত্রিশুল দিয়ে হত্যা করছেন মহিষরূপ থেকে স্বমূর্তিতে ফেরা অসুরকে। দেবীর সাথে আরো পূজিত হন গনপতি (গনেশ), কার্তিক, দেবী লক্ষ্মী ও স্বরসতী।

বর্তমান সভ্য মানব সমাজে দূর্গাপূজার উপরোক্ত অর্ন্তনিহিত সত্য তুলে ধরা অতীব প্রয়োজনীয়।  এটাই একমাত্র পথ যা একটি জাতিকে সফলতার চরম শিখড়ে পৌছাতে পারে।

আধুনিক চলচ্ছিত্র ও অ্যালবামের গান না বাজিয়ে, দূর্গা পূজার সুখময় সময় উদ্যাপনের সময়টাই সেই পরম সত্যই গানে বাজানো উচিত, নাটকরূপে মঞ্চায়নে ও  নৃত্যরূপে উপস্থাপন করা উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও পূজার সত্যিকার দর্শন অনুধাবন করতে পারে। তবেই দেবীদূর্গার দূর্গতিনাশিনী নাম ও পূজার সার্থকতা।

অসিম দাস

লেখক- গণ্যমাধ্যম কর্মী
কক্সবাজার

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিকে চালু হচ্ছে নার্সারি

শিক্ষকরা বললেন সময় কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে। শিশির চক্রবর্তী: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির আগে নার্সারি শ্রেণি চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ...

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রশ্নবিদ্ধ

সাব্বির নেওয়াজ ও ফসিহ উদ্দীন মাহতাব: মোছা. রাবেয়া সুলতানা ,যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণ বেরি নায়াণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামীও খুলনা মহানগরীতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল ...

কোচিং বাণিজ্য যেমন চলছিল, তেমনি চলছে

ড. ফ. র. মাহমুদ হাসান : গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘এ দেশের কোচিং ব্যবসা’ পড়লাম। ভোরে হাঁটা আমার অভ্যাস। যেখানেই যাই না কেন, ভোরে হাঁটতে গিয়ে এখনও ...

নিয়োগ বিধি ।প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে

ডেস্ক,১০এপ্রিলঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ প্রকাশ হবার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধে ্য নানা মত দেখা দিয়েছে।ফেসবুকের শালিক আহমেদের পোষ্ট থেকে হুবুহ তুলে ধরা হল। উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে ...

hit counter