ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাঁশফুলের বাণিজ্যিক চাষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ১৪ সেপ্টেম্বর: যতদূর চোখ যায় দিগšত জোড়া আমনের সবুজ খেত। এরই মাঝখানে কাশ ফুলে ফুলে সাদা। ঠিক যেন শরতের সাদা মেঘের সাথে করেছে মিতালী। এমন মনোরম সৌন্দয্যের সৃষ্টি হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর মাঠের একটি কাঁশফুলের খেতে।

কৃষক আব্দুল হক তারেে ত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন কাঁশফুলের। তিনি ওই গ্রামের মৃত গোলাম সরোয়ার বিশ্বাসের পুত্র।

কৃষক আব্দুল হক জানান, তার বাবা যখন কৃষি কাজ করতেন তখন থেকেই এ জমিতে কাঁশগাছের চাষ হতো। এখন তিনি চাষ করে পয়সা রোজগার করছেন। ফসলি খেতে জন্মানো এ অঞ্চলের ভাষায় ঝাটি গাছই হলো কাশ গাছ। তিনি বাবার মুখে শুনেছেন ৫২ শতকের এ জমিটিতে অতীতে অন্য ফসলের চাষ করলেও তার মধ্যে ঝাটি গাছ আগাছা হিসেবে গজিয়ে উঠতো। এ গাছের মূল চলে যেত মাটির গভীরে। বেশ কয়েকবার কোদাল দিয়ে গভীর করে খুঁড়ে মূল উঠিয়ে দিয়েছেন, কিšতু কিছুদিন পরেই আবার আগাছা হিসেবে দেখা দিত। এক পর্যায়ে দমনে ব্যর্থ হয়ে খেতটিতে অন্য ফসল চাষ বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই জমিটিতে চাষ হচ্ছে ঝাটি বা কাশগাছে, যা প্রতিবছর বিক্রি করে বেশ পয়সা পাচ্ছেন।

আব্দুল হক আরো জানান, এক সময়ে খেতের আগাছা এখন পরিণত হয়েছে ফসলে। এ চাষে তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে এ গাছের চারা গজিয়ে উঠলে গাছ শক্ত রাখতে ফসফেটের সাথে কিছু পটাশ দিতে হয়। আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তা দ্রত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর শীত মৌসুমে জমি থেকে কেটে ভাল করে শুকিয়ে রাখলে তা থেকেই বরজ মালিকেরা কিনে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে এ জমিতে অন্য কোন ফসলের চাষ করা হয় না। জমিটি আলাদাভাবে রেখে দেয়া হয়েছে কাঁশ ও খড়ের জন্য। অন্য ফসল চাষ করলে উৎপাদন খরচ বাদে যে লাভ পাওয়া যেত তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাচ্ছেন তিনি।

তিনি জানান, গত বছরও এ জমির কাশগাছ ও খড় বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এ বছর আরো বেশি টাকা আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

একাধিক কৃষক জানান, কাঁশ খেতে কাশগাছ ছাড়াও পাওয়া যায় চিকন জাতের খড় বা ছন। যে খড় ঘরের ছাউনি ও বরজের পানের পট বাঁধার জন্য কাজে লাগে। এছাড়াও উভয় গাছই পানের বরজের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়। গ্রামাঞ্চাল থেকে কাঁশগাছ ও খড় আজ বিলীনের পথে। কিšতু দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে পানের বরজ। ফলে যতটুকু পাওয়া যায় কাশগাছ ও খড় বিক্রি হয়ে থাকে চড়া দামে।

পানচাষি উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সুশীল দাস জানান, পানের বরজে খড় ও কাঁশগাছের কোন বিকল্প নেই। আগে গ্রামাঞ্চলের ভিটে বা বন বাদাড়ে পাওয়া যেত। এখন সব জমি আবাদি হয়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি, যে কারণে এখন আর কাশগাছ ও খড় তেমন একটা পাওয়া যায় না। অল্প স্বল্প পাওয়া গেলেও আকাশ ছোঁয়া দাম। তারপরও বরজের কাজের জুড়ি নেই।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিকে চালু হচ্ছে নার্সারি

শিক্ষকরা বললেন সময় কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে। শিশির চক্রবর্তী: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির আগে নার্সারি শ্রেণি চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ...

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রশ্নবিদ্ধ

সাব্বির নেওয়াজ ও ফসিহ উদ্দীন মাহতাব: মোছা. রাবেয়া সুলতানা ,যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণ বেরি নায়াণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামীও খুলনা মহানগরীতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল ...

কোচিং বাণিজ্য যেমন চলছিল, তেমনি চলছে

ড. ফ. র. মাহমুদ হাসান : গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘এ দেশের কোচিং ব্যবসা’ পড়লাম। ভোরে হাঁটা আমার অভ্যাস। যেখানেই যাই না কেন, ভোরে হাঁটতে গিয়ে এখনও ...

নিয়োগ বিধি ।প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে

ডেস্ক,১০এপ্রিলঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ প্রকাশ হবার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধে ্য নানা মত দেখা দিয়েছে।ফেসবুকের শালিক আহমেদের পোষ্ট থেকে হুবুহ তুলে ধরা হল। উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে ...

hit counter