জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ মে : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩৪তম বিসিএস ৮৯৮ জন নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কাজ চুড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর । জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) সাফায়েত হোসেন । তিনি বলেন যে কোন সময় তাদের নিয়োগ কার্ড ইস্যু হবে।

সুত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) হাতে চলে গেছে। তাই গত মার্চে ৫ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছিল। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর, আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা রয়েছে, কিন্তু নন-ক্যাডার বিধিমালায় কোনো পোষ্য কোটা নেই।
সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে ।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৪৩ হাজার ও প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। নীতিমালা নিয়ে পিএসসির জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমরা জবাব দিয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা আপনাদের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমাদের শিক্ষক দরকার।
প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসির হাতে। পিএসসি এবং অধিদপ্তরের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে বিসিএস থেকে নিয়োগকৃতদের ১০ম গ্রেড দেবার চিন্তাভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*